Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প214 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ন্যায় বিচার

    প্রচণ্ড শকে মানুষের যেটা হয়, জিনার সেটা হল, সেটা আত্মপরিচয়লোপ। পাগলের মতো নয়। ঠিক তার আগেকার বিভ্রান্ত অবস্থা। হাত-পাগুলোর দিকে সে অপাঙ্গে তাকিয়ে থাকে, এ কার হাত? কার পা? এগুলো তো সে চেনে না। সে কি একটা স্বপ্নের মধ্যে বাস করছে? এই যে মানুষটার ছায়া পড়ে রোজ আয়নায়, লাল ব্লাউজ কালো তাঁত, নীল ব্লাউজ সবুজ ছাপ। গুচ্ছ গুচ্ছ চুল ঘাড়ে পিঠে কাঁধের পাশে, চোখের তলায় কালি, নাকটা জেগে আছে,—এই মানুষটা কে? একে যেন কত জন্ম আগে কোন আলাদা গ্রহে চিনত সে—এ কোথা থেকে এল? ‘জিনা জিনা’ বলে কাকে ডাকছে ওই লক্ষ্মীশ্রী মুখ! ও-ই বা কে?

    —হ্যালো…ও মাসিমা? হ্যাঁ আমি মল্লিকা বলছি। জিনা? জিনা তো বাথরুমে। বেরোতে একটু দেরি আছে। কিছু বলব মাসিমা?

    —না, খোঁজ নিচ্ছিলাম। ভাল তো সব?

    ভাল নয়। কিন্তু ভাল-ই বলতে হয়।—হ্যাঁ সবাই ভাল। হ্যাঁ বাবা একটা লাঠি নিয়ে; হ্যাঁ তেপায়া মতো লাঠি…। হিল দিয়েছে একটা। একটু তো দেরি হবেই।

    ভারী নিশ্চিন্তে আছে দমদম।

    —জিনা একটু খেয়ে নে…

    —চিবোতে পারছি না…অবশেষে সে বলে।

    মল্লিকা তরল খাবার আনে। খেয়ে নেয় জিনা। কল্যাণবাবুর পরামর্শে ওষুধ দেয় মল্লিকা, জিনা চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ে।

    তৃতীয় দিনও নিখিল বাড়ি এল না। বিমান বলল, এবার তো একটা খোঁজ নিতে হয়। অফিসে খোঁজ নেব?

    কল্যাণবাবু বললেন, তোমার দরকার থাকে নাও, আমার দরকার নেই।

    ডাক্তার এনেছে মুকুট, সঙ্গে ঋত্বিক। পরীক্ষা করলেন। কঠিন খাবার গিলতে পারছে না জিনা। সব শুনেছেন ডাক্তার। ইশারায় সবাইকে সরে যেতে বললেন। তারপর সামনে বসে বললেন, আমার দিকে তাকান তো দেখি একবার। হ্যাঁ, দেখি! চোখের মণির মধ্যে আলো ফেলে কী দেখলেন তিনিই জানেন, বললেন, কিছু মনে করবেন না মিসেস সরকার, কার জন্যে জীবনপাত করছেন! এরা কি আপনার মন খারাপের যোগ্য? খুব বেঁচে গেছেন এ লোকের সন্তানের জন্ম আপনাকে দিতে হয়নি। লোকটাকে ঝেড়ে ফেলে দিন মন থেকে, মনখারাপও ঝরে পড়ে যাবে। নতুন করে জীবন শুরু করুন। এত সুন্দর স্বাস্থ্য, এত সুন্দর একটা জীবন আপনার…

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    বইয়ের তালিকা
    বুক শেল্ফ
    অনলাইন বুকস্টোর
    নতুন বই
    পিডিএফ
    লাইব্রেরি
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    অনলাইনে বই
    গ্রন্থাগার

     

    শ্লেষে জিনার ঠোঁট বেঁকে গেল। উনি বললেন, আরে নতুন করে জীবন শুরু করা সহজ নয় আমি কি জানি না? কিন্তু কতটুকু বয়স আপনার? উঠুন, খাওয়া দাওয়া করুন, জীবন আপনিই শুরু হয়ে যাবে।

    খুব শকে মানুষের যেটা প্রথম হয় সেটা হল আত্মপরিচয় লোপ। কিন্তু তারপর যেটা হয় সেটা হল নতুন একটা আত্মপরিচয় লাভ। আস্তে আস্তে তার মনে হতে লাগল সে যা-যা জানত তার সবই ভুল। নিজেকে সে যা ভেবেছিল তা-ও ভুল, তা হলে সে কে? একদিন উঠে সে চান করতে গেল নিজে নিজেই। খুব ভাল করে আয়নায় দেখতে লাগল নিজের মুখ। যদি কোথাও কোনও অভিজ্ঞান পাওয়া যায়। ওই প্রতিচ্ছবিরই ভুরুতে, কানের লতিতে, চিবুকের ভাঁজে, সেই আসল জিনাকে খুঁজতে থাকে সে অনেক অনেক ক্ষণ ধরে।

    মল্লিকা একদিন দেখল তার প্রিয় সাদা সালোয়ার-কামিজ পরে বেরিয়ে এসেছে জিনা। ড্রেসিং টেবলের ড্রয়ার থেকে কী একটা স্প্রে বার করে সারা শরীরে সুগন্ধ ছড়াল। চুলগুলো পুরো ভেজায়নি। পেছনে একটা চিমটে মতো ক্লিপ দিয়ে আটকে রেখেছে। আলমারি থেকে এক থাক শাড়ি-পোশাক বার করল, ড্রেসিং টেব্‌ল থেকে প্রসাধনের জিনিস, ড্রয়ার থেকে সম্ভবত তার নিজের উপার্জনের টাকা, সব একটা সুটকেসে ভরতে লাগল।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    লাইব্রেরি
    ডিকশনারি
    Library
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    মল্লিকা ভয়ে ভয়ে বলল, কোথায় যাচ্ছিস, জিনা?

    —কদিন থাকতে দেবে?—

    —সে কী? থাকতে দেব মানে?

    —ঝুম্পাদের ঘরে, জায়গা হবে?

    —কেন হবে না? আয়।

    সে বলল, আমি এখন একটু বেরোব। কিছু খেতে দেবে?

    —আমার সব রান্না হয়ে গেছে। তুই আয় না!

    খেতে বসে খাপছাড়াভাবে জিনা বলে উঠল, তোমরা আমার কাছ থেকে কী আশা কর? এখন?

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বুক শেল্ফ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাইশে শ্রাবণ
    ডিজিটাল বই
    ই-বই পড়ুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই

     

    —তুই কি আমাদের ছেড়ে চলে যাবি?

    —‘দের’টা কে?

    —কেন আমি, আমার মেয়েরা, বাবা…

    —জানি না। সময়ের নিয়মে সব ক্ষীণ হয়ে যায় তো যাবে। গেলে কিছু করার থাকবে না।

    —এখন কোথায় যাচ্ছিস?

    —ঠিক করিনি। আমায় একটু ভাবতে হবে। এখানে ভাবতে পারছি না।

    —আমি সঙ্গে যাই না!

    —পাতাল রেলে ঝাঁপিয়ে পড়ব, ভাবছ! ওসব করছি না।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    বইয়ের
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা সাহিত্য
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    লাইব্রেরি
    স্বাস্থ্য টিপস
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা অডিওবুক
    কৌতুক সংগ্রহ

     

    এইসময়ে সিঁড়ির মাথায় কল্যাণবাবুর স্বর শোনা গেল। লাঠি ঠুকে ঠুকে তিনি মাঝের দরজা দিয়ে এদিকে চলে এসেছেন জিনার খোঁজে।

    —জিনা কি খাচ্ছে? বউমা?

    —হ্যাঁ বাবা, বেরোবে।

    —আচ্ছা, বেরোবার আগে ওকে একবার একটু ওপরে আসতে বলো।

    জিনা বিরক্ত গলায় বলল, কী বলবার আছে আর এ-বাড়ির কারুর? আমাকে?

    খাওয়া শেষ করে সে অনিচ্ছুক কঠিন মুখে ওপরে উঠে গেল।

    বাইরে খুব উজ্জ্বল রোদ উঠেছে আজ। এখনও গায়ে বিঁধছে না ঠিক। কিন্তু শিগরিরই প্রবল হয়ে উঠবে জানান দিচ্ছে। শীতশেষের রোদের এই আসন্ন প্রখরতা, তীক্ষ্ণতা এসব সাপেদের, ভালুকদের, আরও নানা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীদের ঘুম ভাঙাচ্ছে। প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে অনাগত প্রাণহীন শরীরে। ভেতরে কেমন একটা অজানা অচেনা স্পন্দন। পাতাল রেলের কামরায় বসে বসে জিনা নিজেকে বলতে লাগল—জীবনের প্রথম ত্রিশটা বছর আমার কেটে গেল শীতঘুমে। বেঁচে ছিলাম অথচ চেতনা ছিল না। ওইরকম নিশ্চৈতন্য সুখের ভাতঘুম আমাকে বছরের পর বছর শিখিয়েছিল আমার পরিবার। কেউ একবারও ভাবেনি, চাকরি ছাড়াও মানুষের কাজ থাকে, প্রজনন ও সন্তানপালন ছাড়াও ভিন্নতর দায় থাকে। ভাবেনি বলেই কি নাগচৌধুরী পরিবারের ক্যাপসুলে-মানুষ মেয়ের জীবনে মহাজাগতিক অন্ধকার নেমে আসে? সে অন্ধকার কেমন করে পার হতে হয় পরিবার তো তাকে শেখাতে পারবে না! কী লজ্জা! উঃ জিনার বিয়েটা এমন দাঁড়াল! ছিঃ জামাই এরকম! কী দুর্দৈব! কারুর বেলা হয় না তো এমন! জিনাটারই ভাগ্য খারাপ! আস্তে আস্তে আদরে ময়লা ধরবে, পেতলে-ভরনে কলঙ্ক পড়ার মতো। তারপর জিনাকে নিয়ে বিব্রত হতে থাকবে সবাই। কত সহজে জেঠু এক একটা মেয়ের বিয়ে স্থির করেন! একটা মেয়েকে একটা লোকের সঙ্গে জুড়ে দিলেই হল। গাঁটছড়া একটা। ভাল চাকরি করে? বাড়ি আছে? পরিবারে সব বেঁচে-বর্তে আছেন তো? পড়শিরা কী বলছেন? নাঃ কোনও বদখেয়াল নেই। দাম্পত্য জীবনের যেসব তালিকা তাদের মেয়েমহলে আলোচিত হত, তার মধ্যে শাশুড়ি-ননদ প্রবলভাবে ছিল। কিন্তু বেশ্যা? কখনও শোনেনি। কারও সঙ্গে কারও বনল না, প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য কারণে। বিচ্ছেদ হয়ে গেল। কেউ বা অপরকে ভালবাসল, বিচ্ছেদ হয়ে গেল। এমনটা আকছার শোনা যাচ্ছে আজকাল। যদিও তাদের পরিবারের চৌহদ্দির মধ্যে এমন জিনিস ঘটেনি। কিন্তু তাকে বলতে হবে তার বিবাহিত স্বামী বিবাহের প্রথম দিনটি থেকেই তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, আর সে এতই বোকা যে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি তার স্বামী বেশ্যাসক্ত। সেই জিনার স্বামী, যে জিনা সম্পর্কে পাঁচজনের ধারণা এ মেয়েকে নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না, কারণ এর ভেতরে অফুরন্ত আনন্দের উৎস আছে, মানিয়ে নিতে তার জুড়ি নেই, রূপ-গুণ সবই দেখবার মতো। সারারাত তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে উলটেপালটে সম্ভোগ করে, লোকটা আবার সন্ধেবেলায় চলে যেত ওই নোংরা গলির পানের পিক লাগা সিঁড়ি বেয়ে, নোংরা ভাষা গন্ধ স্পর্শের মধ্য দিয়ে একটি অতি সাধারণ নিম্নশ্রেণীর মেয়ের কাছে যে নাকি ন’ বছর বয়স থেকে দেহ-বিক্রি করছে? কী অপমান! কী ভীষণ ঘেন্না! নিজের শরীরটাকেই তার নোংরা কাপড়ের মতো ছেড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    গল্প, কবিতা
    বইয়ের
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা কৌতুক বই

     

    দিন দুয়েক এরকম রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াল সে। পাতাল রেলের টিকিট কাটে অফিস-টাইমটার পরে। এ-মুড়ো ও-মুড়ো বার বার যায় আসে, যায় আসে। ইচ্ছে হলে কামরা বদল করে, নয়তো এক জায়গাতেই বসে থাকে অনড়। এইভাবেই ইতিকর্তব্য স্থির করে ফেলে। পাতাল থেকে উঠে আসে একদিন। সারা দিন নানান কাজে ঘোরাঘুরি করে। ফোনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে। পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় ডাকে কোনও কোনও দরকারি মানুষকে। চলেও যায় কারও কারও প্রাইভেট চেম্বারে, পরামর্শ নেয়।

    এইজন্যেই মুকুটদের সঙ্গে মেলামেশায় বড্ড আপত্তি ছিল লোকটার। যদি জেনে ফেলে? এইজন্যেই মুকুটকে, ঋত্বিককে এত গালাগাল! ভাবতেও পারেনি ওর অগোচরে ইতিমধ্যেই জিনা পৌঁছে গেছে পাপের অন্দরমহলে ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ নিয়ে। কিচ্ছু জানত না। জিনা কখনও ঘরের ঘেরাটোপ থেকে বেরোতে পারে? অমন সিল্কের পরদা দেওয়া রুপোলি খাঁচার ঘেরাটোপ! বয়স্ক-শিক্ষা! শখ হয়েছে দুদিন শখ করে হয়তো বস্তিটস্তিতে যাবে। যেমন তার খ্যাপা বাবা গিয়ে থাকেন। তারপর আর ভাল লাগবে না। ফিরে এসে নিজের ছেলেভোলানো খেলাঘর নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকবে। বাজার করবে, রান্না করবে ভাল ভাল, পার্টি জমাবে, সারা সন্ধে টিভি দেখবে, আড্ডা মারবে, আর সারা রাত্তির তাকে ‘খুশি’ করতে পারবে না!

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    পিডিএফ
    অনলাইন বুকস্টোর
    Books
    বাংলা বই
    বই
    Library
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

     

    সন্ধের বেশ পরে জিনা ডাফ স্ট্রিটের বাড়িতে ফিরে এল। মল্লিকা জানলায় ছিল, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ঝুম্পা কফি নিয়ে এল। মাম্পি—তিনটে প্লেটে তিনটে ধোসা। মল্লিকাকে দেখা যাচ্ছে না। সে আড়াল থেকে এইসব উদাসীনতা-ভেদী তির পাঠাচ্ছে। স্নেহ কাড়া মুখের মাম্পি। নিষ্পাপ, সদ্য কৈশোরের অকলঙ্ক সৌরভ তার গায়ে। ঝুম্পা, যে বুদ্ধি আর বৌদ্ধিক জগতের আকর্ষণে একদম আলাদা, সম্পর্কের জটিলতা, মানবীয় সমাজ-সংসারের পাপের দিকে যার দৃষ্টি এখনও পড়েইনি। শুধু এই সঙ্গটুকুই জিনাকে ভোলাবে, ভোলাতে পারবে, অন্তত কিছুক্ষণের জন্যেও সে সহজ হবে।

    কফি আর ধোসা শেষ করে জিনা ঝুপ করে শুয়ে পড়ল মাম্পির বিছানায়। তার হাতে মাম্পির একটা টেক্সট বুক, ইকোলজির চ্যাপ্টারটা উলটেপালটে খুলে আলগা চোখে আলগা মনে পড়ছে, বলল, রাত্তিরে আর খেতে পারব না। ঘুমিয়ে পড়লে ডাকিসনি। তোরা যতক্ষণ খুশি আলো জ্বেলে পড়। খালি বেশি চেঁচাসনি।

    বাইরে সাদা মাতিজ এসে থামল। একটা হর্ন দেয়, তারপর ঘষ্‌ষ্‌ করে একটা আওয়াজ তুলে গ্যারাজে ঢুকতে থাকে গাড়িটা। শুধু জিনা নয়, বাড়িসুদ্ধু সবারই মুখস্থ এই শব্দ পরম্পরা। মাম্পি ঝুম্পার দিকে তাকাল। ঝুম্পা বইয়ের ওপর উপুড় হয়ে পড়ল। লজ্জাশৌচ শেষ হল নিখিলবাবুর।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    অনলাইন বুকস্টোর
    Library
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    ডিকশনারি
    PDF
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের তালিকা

     

    রাত দশটা নাগাদ থালা-বাটিতে নিখিলের খাবার সাজিয়ে মল্লিকা এ ঘরে এল। নিচু গলায় বলল, দিয়ে আয়।

    ঝুম্পা বলল, আমি না। মাম্পি তুই যা।

    কী আর করা। মাম্পি থালাটা নিয়ে চলে গেল। ঠিক কী হয়েছে ওরা জানে না। এ বাড়িতে ছোটরা ছোটদের মতোই থাকে। কেননা এটা ছোট্ট ফ্ল্যাটের সংসার নয়। ছোটদের আর বড়দের মাঝখানে আড়াল রাখার জায়গা এখানে অনেক। ঝুম্পার উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যন্ত টিভি থাকত শুধু কল্যাণবাবুর ঘরে। ঝুম্পা অনুমান করেছে ব্যাপারটা নারীঘটিত! মাম্পি শুধু বোঝে সাঙ্ঘাতিক কোনও মনোমালিন্য হয়েছে দুজনের মধ্যে। দু-একবার দিদিকে বা মাকে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে ধমক খেয়েছে শুধু।

    —কে পাঠাল? খাবার দেখে কাকা জিজ্ঞেস করল।

    —মা।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    গল্প, কবিতা
    Books
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    পিডিএফ
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ

     

    —কাকিমা কোথায়?

    —ঘুমোচ্ছে।

    যাক, তবে সব ঠিক আছে।

    দিন তিনেক সময়মতো খাবারদাবারের সরবরাহ পাবার পর নিখিল সন্ধেরাত্তিরে মাঝের দরজা খুলে দাঁড়াল। এখন সে সকাল সকাল বাড়ি ফিরছে।

    —জিনা! জিনা কি এখানে আছে?

    কেউ উত্তর দিল না।

    পঞ্চম দিনে সে সোজা বাবার ঘরে চলে গেল।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    লাইব্রেরি
    রেসিপি বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    পিডিএফ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বই পড়ুন
    নতুন বই
    বাংলা ই-বুক রিডার

     

    —বাবা?

    চোখ তুলে তাকালেন কল্যাণবাবু।

    —আপনি ওকে একবার ডেকে পাঠান। আমার কতকগুলো কথা বলবার আছে।

    —আমি ডাকলেই সে আসবে কেন? —বইয়ের পাতায় চোখ নামিয়ে নিলেন তিনি।

    —আমার সিরিয়াস কিছু কথা আছে। বাবা আপনি একবার…

    হাতের কাছে বেলটা একবার বাজালেন কল্যাণবাবু।

    ডলি এসে দাঁড়াল। তিনি বললেন, জিনাকে একবার ডেকে দাও তো! জিনা বউদি, ছোট বউদি এসব সম্পর্কবাচক শব্দ আর তিনি ব্যবহার করছেন না।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    পিডিএফ
    বাংলা কৌতুক বই
    বই পড়ুন
    PDF বই
    অনলাইনে বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    গ্রন্থাগার
    ডিকশনারি

     

    একটু পরে জিনা এসে ঢুকল। এই কদিনে সে এতটাই বদলে গেছে যে চমকে যেতে হয়। বেশ কয়েক কে.জি. ওজন কমে গেছে। গায়ের রং রোদ-পোড়া। কিন্তু সবচেয়ে পরিবর্তন তার চোখ এবং ঠোঁটের চেহারায়। এইগুলো সব সময়ে হাসত। এখন কঠিন ভাবহীনতা সেখানে। নিখিলকে দেখেই সে চলে যাচ্ছিল।

    কয়েক পা এগিয়ে নিখিল তার পথ আটকাল। চাপা গলায় বলল, আমায় মাফ করো জিনা। এই দেখো আমি নাক-কান মলছি। এ একটা বিশ্রী অভ্যেস। বাজে। তুমি প্লিজ আমায়… আর কখনও এমন হবে না। আমি তোমাকে ভালবাসি। বাবা…ওকে একটু বুঝিয়ে বলুন। আমি অনুতপ্ত, আমার ভুল হয়ে গেছে।

    জিনার দেয়ালে পিঠ। সে সামনের দেয়ালের দিকে চেয়ে রয়েছে।

    —একটা বাজে অভ্যেস। স্বীকার করছি জিনা। এর জন্যে তুমি আমায় যে শাস্তি দাও যা করতে বলো—ক’মাস পরেই আমরা ইয়োরোপে ঘুরতে যাব।

    তুমি প্যারিস দেখতে চেয়েছিলে! সব ঠিক হয়ে যাবে। একবার, একবারটির মতো…।

     

    আরও দেখুন
    ফ্যামিলি গেম
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    ডিজিটাল বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    Books
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বই

     

    —আপনি বনমালা রাহাকে শাস্ত্রমতে হোক, রেজিস্ট্রি করে হোক বিয়ে করুন।

    —কী-ই? —চিরে গেল নিখিলের রুষ্ট কণ্ঠস্বর।

    —বেশ্যাকে বিয়ে? বাজারের বেশ্যাকে? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?

    —করতে আপনাকে হবেই। আপত্তি করলে শুনব না। আমি এক্ষুনি ডিভোর্স দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু শর্ত বনমালা রাহাকে বিয়ে করে স্বীকার করতে হবে, সে আপনার স্ত্রী। তার ছেলে আপনার ছেলে।

    —কে কার ছেলে? মুখ ভেংচিয়ে উঠল নিখিল, ওই বেশ্যা মাগিটার ছেলে আমার?

    —না হলেও ওকে অ্যাকসেপ্ট করতে হত। কিন্তু ও আপনার, সেটা আপনিও জানেন।

    —সোনাগাছির বেবুশ্যে একটা! থুঃ! লাথি মারি আমি অমন বিয়ের মুখে।

    কল্যাণবাবু বললেন, এ ঘর থেকে তুমি বেরিয়ে যাও।

    পায়ের কাছে একটা মোড়ায় লাথি মেরে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে গেল নিখিল।

    জিনা নীরস গলায় বলল, আমি ওর অফিসে সব খোঁজ নিয়েছি। পুরো ঘটনা জানিয়ে দিয়েছি। ওর বস, কোম্পানি ওর ওপর সন্তুষ্ট নয়। উনি ডিসিশন নিচ্ছেন শিগগির ওকে ভি.আর.এস. নিতে বলবেন। বেশি পাওনা ওর হবে না, যা শুনলাম জলের মতো দেনা করেছে। আমার ওপর নির্ভর করছে ওর চাকরি। ভাল করে ওকে বুঝিয়ে দেবেন ব্যাপারটা। সে ঘর ছেড়ে চলে গেল।

    এইবার কল্যাণবাবু পুরোপুরি বুঝতে পারলেন জিনাকে। সে একই সঙ্গে শাস্তি এবং সুবিচার দুটোই দিতে চাইছে। তেমন করে হয়তো সে জানে না কিন্তু জিনা নিজেই একটা নতুন সামাজিক শক্তি। একা সে দাঁড়িয়েছে একটা দীর্ঘদিন চলে-আসা পাপাচরণের বিরুদ্ধে। তার সংস্থা নেই, প্রতিষ্ঠান নেই, ট্রেনিং নেই, অভিজ্ঞতা নেই, আছে খালি প্রবল ন্যায়বোধ আর ইচ্ছাশক্তি। এবং পৌরুষ, যদি এই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে পৌরুষ বলা যায়। জিনা একা। আজ হয়তো একা। কিন্তু সে একা যে প্রশ্ন তুলেছে অচিরে সেই প্রশ্ন যুগ-মানসে অনন্য দৃঢ়তায় খাড়া হয়ে যাবে। এভাবেই সব বিপ্লবের শুরু হয়। জনমানসে নয়, ব্যক্তিমানসে।

    যুগের পর যুগ অসহায় নারীকে বহুভোগ্যা করেছে বহুলোভী কামুক। ভোগ করে উচ্ছিষ্ট ভাঁড়ের মতো ফেলে দিয়েছে। সমাজ-বেষ্টনীর ভেতরে স্ত্রী, বাইরে গণিকা। কাউকেই তার প্রাপ্য দেয়নি অথচ নিয়ে গেছে তাদের কাছ থেকে সমস্ত সুখ। সুসজ্জিত শৃঙ্খলাবদ্ধ বিধিবদ্ধ সামাজিক জীবনের সুখ-শান্তি-জৌলুস, আবার স্বৈরাচারের নিষ্ঠুর মজা। সন্তান উৎপাদন করেছে গণিকালয়ে, তারপর নামহীন, পরিচয়হীন তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে পৃথিবীর আঁস্তাকুড়ে। এর জন্য অনেক করুণার অশ্রু বর্ষিত হয়েছে, আহা-উহুতে ভরে গেছে পৃথিবী। কিন্তু বিচারের কথা কেউ কখনও ভাবেনি। ব্যভিচারী নারীকে অক্লেশে শাস্তি দিয়ে গেছে সমাজ। ব্যভিচারী পুরুষের জন্যে ক্ষমা, ভয়, প্রশ্রয়, বড় জোর একটু ঘৃণা। পুরুষরা তো বহুচারী হয়েই থাকে। আহা! প্রকৃতিই এমন করে তৈরি করেছে এই বেচারা শক্তিমানদের।

    প্রকৃতি একা পুরুষকেই এভাবে সৃষ্টি করেছে এ কথা কি সত্যি? কল্যাণবাবু ভাবেন নানা দেশের প্রচলিত শাস্ত্রে-সাহিত্যে মেয়েদের সম্পর্কে প্রচুর কটুক্তি আছে। নারীরা বহুগামী, স্বৈরাচারী, স্বভাব শিথিল…অনেক অনেক। কেন এত কটূক্তি? এ সবই কি কপোলকল্পিত? না-ও তো হতে পারে? প্রথম যুগগুলোতে সকলেই তো ছিল স্বেচ্ছাগামী! বহু যুগের ওপার থেকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন সেইসব সুন্দরীদের, যারা স্বেচ্ছাবিহার করত। বসন্তোৎসবের নামে কুঞ্জ বনে বনে অবাধ যৌনলীলায় মেতে উঠত। পরিবারের প্রয়োজনে, সন্তান পালন, গৃহ ও সমাজকে ধারণ করবার জন্য এক দিক থেকে শেকল পরানো হতে লাগল তাদের ওপর। আর এক দিক থেকে চলল নীতিশিক্ষা বর্ষণ—পরপুরুষ গমন পাপ, না জেনেও তা করে অহল্যা পাষাণ হয়েছিলেন, এক পুরুষের প্রতি অনুগত থাকাই পুণ্য, তাতে অক্ষয় স্বর্গলাভ হয়, এইভাবে চলতে চলতে একদিন মৃত পুরুষের চিতায় তাদের তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হল সমাজ। এই পলিসি-মেকিং-এর রাশ যদি সে সময়ে নারীর হাতে থাকত তা হলে? তা হলে হয়তো আজ যাকে বেশ্যাপল্লি বলা হচ্ছে সেইরকমই হত নারীমহলের অন্দরের চেহারা। মেয়েরাও ইচ্ছামতো বিহার করত, তারপর ফিরে যেত ঘরের সুখ, শান্তি, স্বস্তির মধ্যে, নিশ্চিন্ততার জন্যে যেমন আজকের স্বেচ্ছাচারী পুরুষ যায়। সমাজ-ব্যবস্থার মূল ভিত যদি হয় পরিবার, যদি সে পরিবার-প্রথাকে মান্য করতে হয়, তা হলে তো সবাইকেই তা করতে হবে! মেয়েদের মধ্যে যদি নিষ্ঠা দীর্ঘদিনের ট্রেনিং-এ ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়ে থাকে তা হলে পুরুষদের ক্ষেত্রেই বা তা হবে না কেন? ব্যতিক্রম চিরকাল ছিল, থাকবে। কিন্তু এক যাত্রায় পৃথক ফলের নীতি থাকবে কেন?

    জিনা পরিবারকে স্বীকার করার পুরো অর্থ সহজ বুদ্ধিতে এখন বুঝেছে— সমস্তটা নেব আর এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ মাত্র ফেরত দেব এ হয় না। পারিবারিক মর্যাদা ছাড়া নারীকে ব্যবহার করা মানে পরিবার-সিসটেমকে অগ্রাহ্য করা। নারীর অমর্যাদা তো বটেই, এই কোণ থেকে মুকুটরা সমস্যাটাকে দেখেনি। তারা ভাবে—আর্থিক অবস্থা তৃতীয় পৃথিবীর যা, তাতে করে এইসব মেয়ের অন্নসংস্থানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। সুতরাং যতই খারাপ হোক, ব্যাপারটা চলুক। বরং যদি মেয়েগুলোর দুর্দশা একটু কমানো যায়। এভাবে আপসমুখী চিন্তা করে কোনও সভ্যতা বাঁচতে পারে না। প্র্যাগম্যাটিক হও। কিন্তু লক্ষ্যটাকে অন্তত ঘোষণা করো, বাঁচিয়ে রাখো, যাতে জমি তৈরি হলেই আসল কাজ শুরু করতে পার। মুকুটরা যা ছ-সাত বছরে সম্ভব করতে পারেনি, জিনা তা পেরেছে মাত্র দেড় বছর সময়ে। মুক্তির ইচ্ছা জাগিয়েছে। মুক্তি সম্ভব করেছে একজনের। আর এক জনেরটা করার দিকে পা বাড়িয়েছে। অথচ জিনার কোনও ট্রেনিং নেই।

    বনমালাকে পুত্রবধূ ভাবতে তাঁর নিজের ভেতর থেকে প্রচণ্ড প্রতিরোধ আসছে। তিনি অস্বীকার করছেন না। এর ফলে হয়তো নিখিল, তাঁর নিজের পুরো পরিবার সামাজিক দিক থেকে ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু পরিবারের একজন যদি রত্নাকর হয় অন্যদের তার পাপের ভাগ তো নিতেই হয়। তারা চাক বা না চাক। এবং এটাই সুবিচার। একবার যদি জিনিসটা সম্ভব করতে পারেন, একটা কাজের কাজ হয়। কী আর হবে? আগেকার মতো ধোপা-নাপিত তো আর বন্ধ করে দিতে পারবে না কেউ। মল্লিকার মেয়েদের দরকার হলে বিদেশে পাঠিয়ে দেবেন, এখানকার গণ্ডি থেকে দূরে। নিজেরা বুঝেশুনে বিয়ে করবে। জিনা অনায়াসেই সরে যেতে পারত নিজের পরিত্রাণ নিয়ে। কিন্তু সে জিনিসটাকে যতটা তার নিজের ওপর অবিচার হিসেবে দেখছে, ঠিক ততটাই দেখছে বনমালার প্রতি অবিচার হিসেবে। ‘ফ্রেশ মাইন্ড’ সজীব নতুন মন না হলে এ ভাবনা সম্ভব হত না।

    সারাদিন ঘুরেফিরে একটা কথাই তাঁকে কুরে কুরে খেতে লাগল, নিখিল কেন এ কাজ করল! তার জীবনে জিনার আয়ু আর বনমালার আয়ু তো মোটের ওপর একই দেখা যাচ্ছে। ঠিক আছে কুসঙ্গে পড়ে যদি এ মতি তার হয়েই ছিল, জিনার মতো একটি মেয়েকে সে বিয়ে করতে গেল কেন? আবার করলই যদি কেন ফিরে আসতে পারল না? এখন তো দেখা যাচ্ছে, জিনাকে ছাড়তেও সে রাজি নয়?

    অনেকটা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি পরদিন নিখিলকে ডেকে পাঠালেন। সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ বাড়ি ফিরেছে নিখিল। ডলি কল্যাণবাবুর ঘরে দুজনের কফি দিয়ে গেল।

    টাইটা খুলে ফেলেছে নিখিল। শার্টটা কোমরের কাছে মুচড়ে মুচড়ে আছে। পায়জামাটা নোংরা। ঘরে ঢুকে রুক্ষ স্বরে বলল, বিছানাটা ঘাঁটা, কেউ পরিষ্কার পর্যন্ত করেনি, জামাকাপড় কাচা হয়নি, সকালবেলায় এক কাপ চা পেলাম না। রাত্তিরে লঙ্গরখানার ভিক্ষে খেতে হচ্ছে, এভাবে আর ক’দিন চলবে?

    একজনের জীবনটাই ঘেঁটে দিলে, আর সামান্য বিছানা ঘাঁটা নিয়ে নালিশ করছ, বাপধন? —কল্যাণবাবু ভাবলেন। মুখে বললেন, তুমি বরং একজন লোক রেখে দাও।

    —আপনিও সমানে আশকারা দিয়ে যাচ্ছেন, নইলে বাড়ির বউয়ের এত সাহস হয়? ভদ্রবাড়ির মেয়ে, ভদ্রবাড়ির বউ হয়ে খারাপ পাড়ায় যেতে লজ্জা করেনি ওর? কে বলতে পারে সেখান থেকে নষ্ট হয়ে এসেছে কিনা! ওসব এন জি ও ফি-ও অনেক দেখা আছে আমার।

    কল্যাণবাবু এত অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে কথার মাঝখানে বাধা দিতে পারেননি। এখন শুধু বলতে পারলেন, তোমার স্পর্ধা তো কম নয়!

    —বুড়ো বয়সে ভিমরতি ধরেছে আপনার। কার বাবা আপনি? আমার না ওর? দিনের পর দিন যে মেয়ে সোনাগাছি যায়..তার আর…

    —তুমি অনাচার করতে যেতে পার আর অন্যের সেবার জন্যে গেলে গালি দিচ্ছ?

    নিখিলের মুখে একটা বিচিত্র হাসি উঁকি দিয়েই মিলিয়ে গেল। সে বলল, আপনি নিজেও তো পুরুষ মানুষ না কী?

    —তোমরা যেমন সন্তানই হও, আমি তোমাদের বাবা…

    —তা হলে বোঝেন না কেন যাই?

    —না বুঝি না।

    —তা হলে আপনাকে বোঝানো আমার কর্ম না। পুরুষ হলে তার দরকার হয়।

    —পুরুষের তো অনেক কিছুই দরকার হয়। বিড়ি-সিগারেট-মদ-ভাঙ-চরস-কোকেন-এল.এস.ভি-মরফিন-সাপের বিষ। আরও কিছু নতুন বস্তু উঠলে সেগুলোও দরকার হতে থাকবে। কেমন, কিনা?

    —সেক্স হল বেসিক নিড।

    —তো তারই জন্যে তো মানুষ বিবাহাদি করে!

    —আপনি বুঝবেন না বিবাহিত স্ত্রী আর এইসব স্ত্রীলোকে অনেক তফাত!

    —তা বেশ তো! আমি বুঝেছি তোমার কথা। ওই মেয়েটিকে তুমি নিয়ে এসো শাস্ত্রমতে। জিনা যেমন বলছে। ও তোমার স্ত্রীলোকের প্রয়োজন মেটাচ্ছে। আর আমি যদ্দূর বুঝেছি স্ত্রী হতেও ওর তেমন অসুবিধে নেই। আমাদের সমপর্যায়ের নয়। তো কী করা যাবে? তুমি ওকে শিখিয়ে-পড়িয়ে নিজের সমাজের যোগ্য করে নাও। মেয়েরা খুব তাড়াতাড়ি শেখে। আমার কথা যদি বল তো বনমালা মেয়েটিকে অ্যাক্‌সেপ্ট করতে আমার কোনও অসুবিধে হবে না!

    —আমার হবে—নিখিল গরম হয়ে বলল, অ্যাবসার্ড টু দা পাওয়ার ইনফিনিটি। একটা বারোভাতারি মা…

    —শোনো নিখিল, খারাপ কথা, গালিগালাজ দিতে হলে যেসব জায়গায় এসব চলে সেখানে যাও। আমি বুঝতে পারছি না, তোমার মতো বেয়াড়া ছেলে আমার হল কী করে!

    —হয়তো আমি তা হলে আপনার ছেলে নই! —বিশ্রী হেসে উঠল নিখিল।

    পাশ থেকে লাঠিটা তুলে নিলেন কল্যাণবাবু। তারপর সপাটে মারলেন এক বাড়ি। —জাহান্নামে যাও। এখানে তোমার স্থান নেই। এ বাড়ি আমি জিনাকে দিয়ে যাব, আর ওই কুটুসকে, যদি সৎভাবে মানুষ হয়ে ও একটা ভদ্রস্থ সুনাগরিক হয়ে উঠতে পারে। যা—ও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোহানা – বাণী বসু
    Next Article খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }