Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুর্গম পথের যাত্রী – আসাদ বিন হাফিজ

    লেখক এক পাতা গল্প267 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুর্গম পথের যাত্রী – ৪

    ৪

    মদিনাবাসী যখন উল্লাস করছিল, মদিনার বাইরে বনু কুরায়জার সরদারের ঘরে তখন চলছিল ভিন্ন এক তৎপরতা, অন্য এক আয়োজন। বনু কুরায়জার প্রভাবশালী নেতারা বসা ছিল কাব বিন আসাদের বৈঠকখানায়। কাব বিন আসাদ বলছিল—’নইম যদিও কুরাইশ বংশের, কিন্তু তার পরামর্শের কারণেই আমরা বেঁচে গেলাম এক অনিবার্য ধ্বংসের হাত থেকে। কুরাইশদের সাথে সন্ধি ছিন্ন না করলে আজ মহা বিপদে পড়ে যেতাম। ভাগ্য ভালো যে, আমরা কুরাইশদের সাথে মিলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিইনি।’

    এক ইহুদি বলল—’কে বলল নইম কুরাইশ?’ নইম এখন মুহাম্মদের শিষ্য হয়ে গেছে। কুরাইশরা চলে যাওয়ার পর তাকে মদিনায় দেখে এক মুসলমানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নইমের ঘটনাটা কী? সে বলল—’নইম আগেই মুসলমান হয়েছিল, কিন্তু মহানবি (সাঃ) এ কথা তাকে প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিলেন।’ সে কারণেই ঘটনাটা এতদিন জানাজানি হয়নি। এখন কুরাইশরা মক্কার পথ ধরায় তাঁর পরিচয় গোপন করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে, তাই সে মক্কা না গিয়ে এখানেই রয়ে গেছে।’

    ‘তার মানে সে যুদ্ধের সময় মুসলমানদের গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করছিল!’ কাব বিন আসাদের কণ্ঠে বিস্ময়।

    ‘তবে আর বলছি কি! মুহাম্মদের চর কুরাইশ, গাতফান এমনকী আমাদের মাঝেও থাকা অসম্ভব নয়। আর সে জন্যই মুসলমানরা তাদের বিরুদ্ধে যখন যেখানে যা-ই ঘটুক, সঙ্গে সঙ্গে সব খবর পেয়ে যায়।’

    এক বৃদ্ধ ইহুদি বলল—’কাব, মুসলমানদের সংখ্যা যেভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমার কিন্তু ভালো লাগছে না। এ সয়লাব এক্ষুনি ঠেকাতে না পারলে আরবের সব ধর্মমত তাদের মতবাদের কাছে ভেসে যাবে। প্রভু সহায় হোন, একটা কিছু করো।’

    ‘কী করব, কী করতে পারি আমরা?’ আক্ষেপের সুরে বলল কাব বিন আসাদ।

    সেই বুড়ো ইহুদি রায় ঘোষণার মতো করে বলল—’মুহাম্মাদকে হত্যা করতে হবে। এ ছাড়া পরিত্রাণের আর কোনো পথ নেই। বিষবৃক্ষের শিকড় উপড়ে না ফেললে নতুন করে আবার চারা গজাবে।’

    কাব আরও বিস্মিত হয়ে বলল—’কী বললে তুমি! মুহাম্মাদকে হত্যা করতে হবে! কিন্তু কে করবে এ কাজ? কার এত বড়ো বুকের পাটা যে উদীয়মান সূর্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়?’

    বুড়ো ইহুদি বলল—’সে জন্য তোমার ভাবতে হবে না। এ জন্য লোক তৈরি হয়েই আছে।’

    এবার কাবের বিস্ময়ের মাত্রা আরও বাড়ল। বলল—’আমি তোমাদের গোত্রপ্রধান, অথচ এমন একটি বিস্ময়কর ঘটনার খবর আমার জানা নেই?’

    বুড়ো ইহুদি বলল—’তোমার যখন জানার সময় হবে তখন অবশ্যই জানবে, এই যেমন এখন জানতে পারছ। কাজ সে-ই করবে, তোমার শুধু ইশারা দরকার।’

    ‘কিন্তু তুমি বললেই আমি ইশারা করব—এমনটি কেন মনে হলো তোমার? কে সেই লোক, এ কাজে কতটা দক্ষ আর আন্তরিক, অভিযান সফল করার কতটুকু নিশ্চয়তা আছে, এসব না জেনেই এমন সিদ্ধান্তে সায় দেবো আমি? কক্ষনোই না। বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা সরদার হওয়ার জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এই যে এত বড়ো ঘটনা ঘটে গেল, যদি বুদ্ধিমত্তার সাথে এর মোকাবিলা না করতাম, তবে আমরা এতক্ষণে মুসলমানদের শত্রু বলে গণ্য হয়ে যেতাম। মুসলমানরা আমাদের সাথে সেই ব্যবহারই করত, যেমনটি করেছিল বনু নাজির গোত্রের সাথে। এতক্ষণে তারা আমাদের মেরে-কেটে সাফ করে ফেলত, আর নাহয় আমাদের পালিয়ে যেতে হতো অজানা গন্তব্যে। এমন কিছুর অনুমতি আমি দেবো না, যাতে আমাদের তাদের বিরাগভাজন হতে হয়। বন্ধুত্বের বিনিময়ে শত্রুতা কেউ বরদাশত করবে না। মুসলমানরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা দিচ্ছে, রুটি-রুজির নিরাপত্তা দিচ্ছে, ধর্ম-কর্মের নিশ্চয়তা দিচ্ছে, সব ধরনের স্বাধীনতা দিচ্ছে, এর বিনিময়ে বলতে গেলে আমাদের কিছুই দিতে হচ্ছে না। কথায় বলে না, সুখে থাকলে ভূতে কিলায়। তোমাদের হয়েছে সেই অবস্থা। খবরদার! এমন কিছু করবে না, যা মুসলমানদের ক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে। অন্যান্য ইহুদি গোত্রের মতো আমাদের যে পালিয়ে যেতে হয়নি, তার অন্যতম কারণ বিশ্বস্ততা। নিশ্চিত না হয়ে এই বিশ্বস্ততার দেয়াল আমি ভাঙতে চাই না।’ বলল কাব।

    বুড়ো ইহুদি বলল—’তোমাকে আমাদের সরদার করেছি কি মুসলমানদের গুণগান করার জন্য? কুরাইশদের সাথে সন্ধি ছিন্ন করে তুমি যে ভুল করেছ, তার জন্যই মুসলমানরা ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেছে। এখন আঁবার তাদের পক্ষে সাফাই গাইছ?’

    ‘যা বোঝো না তা নিয়ে কথা বলতে যেয়ো না। আমাদের কয়েকজন সৈন্য কুরাইশদের সাথে শরিক হলেই কুরাইশরা জিতে যেত—এমনটা কেবল কোনো আহাম্মকই বলতে পারে। আরবের দশ হাজার সৈন্য যাদের কিছুই করতে পারেনি, আমার কয়েকজন সৈন্য শামিল হলে তারা জিতে যেত—এমনটা তুমি ভাবলে কী করে? শোনো, আমি তাদের কপালের পরাজয় লেখা পড়তে পেরেছিলাম, তাই উপযুক্ত সময়ে তাদের সাথে চুক্তি ছিন্ন করে তোমাদের রক্ষা করতে পেরেছি, নইলে এতক্ষণে এখানে তোমাদের লাশ জমে যেত। এসব বড়ো বড়ো কথা বলার মওকা পেতে না।’ রাগের স্বরে বলল কাব

    বুড়ো কিছুটা কুণ্ঠিত কণ্ঠে বলল-’সরদার! মুসলমানরা এত বড়ো বিপদ কাটিয়ে উঠছে দেখে আমার বুদ্ধি বিগড়ে গেছে। কিন্তু এটা তো ঠিক, মুসলমানদের এই অব্যাহত অগ্রযাত্রা থামাতে না পারলে আমাদের ধর্ম মহাসংকটে পড়ে যাবে। আর এই আপদ থেকে বাঁচার একমাত্র পথ মুহাম্মাদকে হত্যা করা। সেজন্যই আমার এ পেরেশানি।’

    বৈঠকখানায় বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ইহুদি ছাড়াও উপস্থিত ছিল এক ইহুদি যুবতি, নাম ইউহাদা। যেমন রূপসী তেমনি বুদ্ধিমতী। পুরুষ মানুষ তার কাছে তৃষ্ণার্ত ভেড়ার পাল। সারা জীবন তাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানো যায়। মেয়েটির চোখের তারায় জড়িয়ে ছিল সম্মোহনী জাদু। মেয়েটি সেই জাদুমাখা দৃষ্টি নিয়ে তাকাল বুড়োর দিকে। বুড়ো ইউহাদার দিকে তাকিয়ে বলল— ‘ইউহাদা, সব কথা সরদারকে খুলে বলো।’

    ‘আমি এ কথা জাদুসম্রাট লায়েস বিন মোশানের সামনে বলতে চাই। আমার কথার গুরুত্ব সে বুঝতে পারবে, আর আপনারাও তার কথায় গুরুত্ব দেবেন। ইউহাদা বলল।

    কাব বিন আসাদ বলল—’কিন্তু সেই জবরদস্ত জাদুকরকে আমি কোথায় পাব? তার মতো গুণী ব্যক্তি তো আর পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায় না যে যখন-তখন যাকে—তাকে ধরে আনলেই সে লায়েস বিন মোশান হয়ে যাবে! তুমি বলো! তোমার কথা আমার মনে ধরলেই চলবে।’

    বুড়ো ইহুদি বলল—’এটা নিয়ে আপনি ভাববেন না। আমি সে ব্যবস্থা করেই এসেছি। লায়েস বিন মোশান এখন ঘরের বাইরে অপেক্ষা করছে। আপনার অনুমতি পেলেই সে আপনার সামনে হাজির হয়ে যাবে।’

    এ কথা শুনে কাব বিন আসাদ বিস্ময় ও অস্বস্তির কারণে কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না। বুঝতে পারল, এই বুড়ো সবদিক আঁটঘাট বেঁধেই এখানে এসেছে, নইলে এই আসরে ইউহাদারও থাকার কথা নয়। ইউহাদার উপস্থিতির কারণে এমনিতেই তার মনে খটকা লেগেছিল, এবার লায়েস বিন মোশানের বিষয় জানতে পেরে সেই খটকা আশঙ্কায় পরিণত হলো।

    কাব বিন আসাদ বিস্মিত কণ্ঠে বলল—’কী বলছ তুমি! লায়েস বিন মোশান এখানে? ভেতরে না এনে তাকে তোমরা ঘরের বাইরে বসিয়ে রেখে এসেছ? জলদি যাও, তাকে সসম্মানে এখানে নিয়ে এসো।’

    বুড়ো ইহুদি তার এক সঙ্গীকে ইশারা করলে সে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলো। বুড়ো বলল—’তার সাথে আরও এক লোক আছে, তাকেও নিয়ে আসবে।’ তারপর কাব বিন আসাদের দিকে ফিরে বলল—’যে লোক মুহাম্মাদকে হত্যা করবে, তাকেও আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। আপনি তাদের দেখুন, তাদের সাথে আলাপ করুন, তাদের পরিকল্পনা শুনুন। যদি মনে করেন পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনা দরকার, তবে তা-ও তাদের খুলে বলুন। মোটকথা মুহাম্মাদকে হত্যার পরিকল্পনা আজই চূড়ান্ত করুন।’

    বুড়োর কথা শেষ হওয়ার আগেই সঙ্গীকে নিয়ে কামরায় প্রবেশ করল লায়েস বিন মোশান। লোকটির বয়স আশির বেশি। থাকেন মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী এক গ্রামে। মাথার চুল ও দাড়ি ফকফকে সাদা। চেহারা থেকে ঠিকরে পড়ছে ব্যক্তিত্বের আভা। বয়সের তুলনায় শরীর যথেষ্ট মজবুত। চোখে অন্তর্ভেদী দৃষ্টি। হাতে তার জাদুর লাঠি। লাঠিটিতে তেল দিয়ে এমন চকচকে করা হয়েছে যে, লাঠিতে চোখ দিলে নিজের চেহারা দেখা যায়। লাঠিটি কোমরের একটু ওপরে উঠে সাপের মতোই তোই বেঁকে গেছে। একটি নয়, দুটি নয়; সেই লাঠির মাথায় ফণা তোলা সাপের তিন-তিনটি মাথা। সেই সাপের মাথার ফাঁক দিয়ে তিনি ঢুকিয়ে দিয়েছেন তার ডান হাতের পাঁচটি আঙুল। তিন সাপের ছোট্ট লেজের ওপর তার হাতের তালু।

    লাঠিতে ভর দিয়ে কামরায় ঢুকলেন তিনি। সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল কাব বিন আসাদ ও কামরার অন্যান্যরা। সহাস্যে কাব বলল—’সম্মানিত জাদুসম্রাট লায়েস! আপনাকে এখানে ডেকে আনার অধিকার এখানকার কারও নেই। এটা শুধু দুঃসাহস নয়; বেয়াদবিও। এরা আপনাকে এখানে ডেকে এনে যে বেয়াদবি করেছে, সেজন্য সত্যি আমি লজ্জিত। আসুন, বসুন।’

    মিষ্টি করে হাসলেন লায়েস বিন মোশান। বললেন—’না না, এতে বেয়াদবির কিছু নেই, আপনার লজ্জিত হওয়ারও কিছু নেই। আপনি, আমি, আমরা সবাই একই ধর্মের অনুসারী। আপনি ইহুদি সম্প্রদায়ের অত্যন্ত সম্মানিত গোত্র বনু কুরায়জার গোত্রপ্রধান। প্রভুর সন্তানদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আপনার। আমিও ধর্মের এক নগন্য খাদেম। ধর্মের জন্য আমি যা খুশি তা করতে পারি, যেখানে দরকার সেখানেই যেতে পারি। আমি এখানে এসেছি ধর্মের পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে।’

    বলল কাব বিন আসাদ—’কিন্তু সম্মানিত জাদুসম্রাট! এক বিপদজনক মিশন নিয়ে আপনি এখানে এসেছেন। মুহাম্মাদকে হত্যা করা মুখের কথা নয়। এতে বিফল হলে কি পরিণতি হবে ভেবে দেখেছেন?’

    ‘আপনাকে আমি বীরপুরুষ বলেই জানতাম।’ লায়েস বিন মোশান বলল— ‘কিন্তু এখন কথা বলছেন ভীতুদের মতো। মুহাম্মাদ (সাঃ) খোদা নয় যে তাকে হত্যা করা যাবে না। যদি কুরাইশরা মুসলমানদের পরাজিত এবং তাঁকে হত্যা করতে পারত, তবে আমাদের আর জটিল পথে পা বাড়াতে হতো না। কিন্তু তারা বিশাল বাহিনী নিয়ে এসে কাপুরুষের মতো বসে রইল, কোনো আক্রমণই করল না। আফসোস! তারা মাথা নিচু করে আবার মক্কায় ফিরে গেছে। এখন যা কিছু করার আমাদেরই করতে হবে।’

    লায়েস বিন মোশান সম্পর্কে আরব ভূখণ্ডে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত ছিল। জাদুবিদ্যায় তিনি ছিলেন অসম্ভব পারদর্শী। তিনি জীবিত মানুষকে সবার সামনে দুই টুকরা করে আবার তাদের জোড়া লাগিয়ে দিতে পারতেন। মৃত মানুষকে কিছু সময়ের জন্য হলেও জীবিত করতে পারতেন। স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য হলে মন্ত্রবলে তাদের বিবাদ মিটিয়ে দিতে পারতেন। হাতের লাঠিকে সাপ বানিয়ে ফেলতে পারতেন। এ রকম আরও নানা চমকপ্রদ কাহিনির নায়ক তিনি।

    ‘সম্মানিত জাদুসম্রাট! জানি, আপনি জাদুবলে অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারেন। কিন্তু মুহাম্মদের নিজেরও কিছু জাদু আছে। যদি আপনার জাদু তাঁর কাছে হেরে যায়? যদি তিনি বেঁচে যান? যদি জানতে পারেন তাকে আমরা হত্যার চেষ্টা করেছিলাম? তার পরিণাম কত ভয়াবহ হবে আপনি কি তা আন্দাজ করতে পারছেন?’ বলল কাব বিন আসাদ।

    ‘সরদার কাব! আপনি অযথাই এত ভয় পাচ্ছেন। আমার জাদু কখনো ব্যর্থ হয় না। আর এবারের জাদুর জন্য আমি বেছে নিয়েছি আসেম ও ইউহাদাকে। ইউহাদা নিজেই একটি মারাত্মক মারণাস্ত্র। আপনি যদি একশো ঘোড়া আর একশো উট একপাশে রাখেন আর অন্যপাশে রাখেন ইউহাদাকে, শতকরা একজন লোকও পাবেন না, যে ইউহাদাকে রেখে উট ও ঘোড়ার দিকে হাত বাড়াবে। তা ছাড়া আমি তাকে জাদুবিদ্যার ট্রেনিং দিয়েছি। হাজারও লোকের মাঝখান থেকে সে বেমালুম গায়েব হয়ে যাবে, কেউ তাকে খুঁজেও পাবে না।’

    ‘কিন্তু মুহাম্মাদকে কীভাবে তোমরা হত্যা করতে চাও?’ বুড়ো ইহুদির দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন কাব।

    বুড়ো ইহুদি বলল—’সেটা আপনাকে বলবেন জাদুসম্রাট লায়েস। তবে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আছে, অভয় দিলে বলতে পারি।’

    ‘বলো।’ অভয় দিয়ে বললেন কাব।

    ‘ইউহাদা কোনো মশহুর মুসলিম যোদ্ধাকে বিয়ে করবে। কিছুদিন খাঁটি মুসলমানের মতো জীবনযাপন করবে। একদিন মুহাম্মাদকে দাওয়াত দেবে তাদের বাসায়। খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে সেই খানা খাওয়াবে মুহাম্মাদকে। তারপর পালিয়ে আসবে সেখান থেকে।

    এবার ইউহাদার দিকে তাকালেন বনু কুরায়জার গোত্রের প্রধান কাব বিন আসাদ। বললেন—’তুমি কী বলো?’

    ইউহাদা তার পটলচেরা চোখ তুলে তাকাল সরদারের দিকে। বলল—’পরিকল্পনা আপনারা নেবেন। আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, নিষ্ঠার সাথে পালন করব। তবে পুরুষ ঘায়েল করার বিদ্যা আমার ভালোই জানা আছে। আমার বিদ্যা কতটা কার্যকর, তা পরখ করার জন্য একবার আমি আবু সুফিয়ানকে টার্গেট করেছিলাম। প্রথম আঘাতেই ধরাশায়ী হয়ে যায় আবু সুফিয়ান। আমার সামান্য চোখের বাণও সে সহ্য করতে পারেনি। আরেকবার খালিদ বিন ওয়ালিদকে টার্গেট করেছিলাম। খালিদ একটা ভীতুর ডিম। আমার বাণে আহত হওয়ার ভয়ে সে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। আমি বলতে চাচ্ছি, কাউকে টার্গেট করলে বিফল হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই আমার।’

    ‘কিন্তু এ তো অনৈতিক কাজ, পাপের পথ। জেনে-শুনে জাতির এক কন্যাকে কী করে আমি এই পথে ঠেলে দিই?’ বললেন কাব।

    এবার মুখ খুললেন লায়েস বিন মোশান। বললেন—’আমি কেবল জাদুকর নই; একজন ধর্মগুরুও বটে। আমি আপনাকে বলছি, পাপ আর পুণ্য নির্ধারিত হয় কাজের উদ্দেশ্য দেখে। একটা খারাপ কাজও পুণ্যের হতে পারে, যদি তার উদ্দেশ্য হয় মহৎ। আবার একটা ভালো কাজও পাপের হতে পারে, যদি তার উদ্দেশ্য থাকে খারাপ। ইউহাদা যা করছে, তা জাতির এক মহান স্বার্থের জন্যই করছে। অতএব, এখানে পাপের কোনো প্রশ্নই আসে না; বরং এ এক মহাপুণ্যের কাজ। এমন পুণ্যময় কাজ থেকে আপনি তাকে বিরত রাখতে পারেন না।’

    কাব নিজেও জানে, তার চরিত্রে অনেক দোষ আছে। কিন্তু এমন প্রকাশ্য নির্লজ্জতার কথা তিনি ভাবতে পারেন না। তিনি নিজেকে সংযত করে বললেন—’গুরুজি, আপনি আসলে কাজটি কীভাবে করার কথা ভাবছেন জানি না। আপনি কি আপনার পরিকল্পনাটা আমাকে বলবেন?’

    লায়েস বিন মোশান বলল—’অবশ্যই বলব। তবে তার আগে আপনাকে একটি গল্প শোনাতে চাই। এই যে ইউহাদাকে দেখছেন, তার জীবনের ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। আমার মনে হয় গল্পটা আমি না বলে ইউহাদা বললেই বেশি ভালো হবে। কি বলো ইউহাদা?’

    ইউহাদা মুচকি হাসল। বলল—’আপনার যেমন মর্জি।’

    ‘তাহলে শুরু করো।’ বলল লায়েস বিন মোশান।

    ইউহাদা স্বপ্নে দেখা ঘটনাটি বলতে শুরু করল। এই গল্প কয়েক মাস আগে মক্কা থেকে শুরু হয়েছিল। ইউহাদা তার রূপ ও যৌবন দিয়ে বাঁধতে চেয়েছিল আবু সুফিয়ান, খালিদ ও আকরামাকে। ইচ্ছে ছিল তাদের একজনকে দিয়ে আরেকজনকে ঘায়েল করা। কিন্তু যখন সে শুনল, এই তিনজনই মুসলমানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সে এই পরিকল্পনা বাতিল করে দিলো।

    ইউহাদা গল্প বলছে। বলল—’একদিন মক্কা থেকে চার-পাঁচ মাইল দূরের এক গ্রামে গিয়েছিলাম বিশেষ একটি কাজে। দিন শেষে সেখান থেকে ফিরে আসার সময় আমার সাথে আরও দুটি মেয়ে ছিল। আমাদের তিনজনের সাথে ছিল তিন পুরুষ। আমরা সবাই ছিলাম ইহুদি। ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে পথ চলছিলাম আমরা। যখন আমরা অর্ধেক পথ পেরিয়েছি, তখন হঠাৎ করেই মরু ঝড়ের কবলে পড়লাম। সেই ঝড়ের বর্ণনা করার সাধ্য আমার নেই। চারদিক নিকষ আঁধারে ছেয়ে গেল। তিরের বেগে বালুর কণা এসে বিধঁছিল গায়ে। মনে হচ্ছিল শরীরে সুঁই ফোটাচ্ছে কেউ। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। বালুর পাহাড়গুলো দেখতে দেখতে সমতল হয়ে যাচ্ছিল সমতল জায়গায় মুহূর্তেই সৃষ্টি হচ্ছিল পাহাড়ের অবয়ব। এমন ভয়ংকর মরু সাইমুম আমি আর জীবনে কোনোদিন দেখিনি। আগেই সঙ্গীদের হারিয়ে ছিলাম। সামনে-পেছনে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। প্রাণ বাঁচানোর আশায় চোখ বন্ধ করে ঘোড়ার পিঠের সাথে লেপটে ছিলাম। ঘোড়ার ওপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ঘোড়া ছুটছিল পাগলের মতো। তার দুরন্ত ছুটে চলা আর উলটা-পালটা ডিগবাজির ফলে একসময় ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়লাম আমি। ঘোড়ার ওপর বালু জমে দেখতে দেখতে একটি টিলা তৈরি হয়ে গেল সেখানে। বালি চাপা পড়ে মারা গেল ঘোড়া। আমার বেঁচে যাওয়াটা এক অলৌকিক ব্যাপার। ঝড় আমাকে উড়িয়ে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানি না। কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। একসময় টের পেলাম, ঝড় আমাকে কোনো দেয়ালের গায়ে আছড়ে ফেলেছে। অবাক হলাম আমি।

    এই মরুভূমিতে এমন নিরেট দেয়াল এলো কোত্থেকে? আমি দেয়াল হাতড়ে একটু একটু করে এগোচ্ছিলাম। আমার চোখ-মুখ পুরোটাই কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। এ ছাড়া বালির ঝাপটা থেকে বাঁচার কোনো উপায় ছিল না। কখনো এক পা, দুই পা এগোতাম, ঝড়ের ঝাপটা এলে দেয়াল আকড়ে স্থির হয়ে থাকতাম। ঝড়ের তাণ্ডবে কান স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তার মাঝেই আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম কোনো উটের ডাক। পাহাড়ের গায়ে ঝড়ের দাপট আছড়ে পড়ার কারণে বিচিত্র রকমের শব্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কোনো অসুর দানব হুংকার দিচ্ছে। কখনো মনে হতো—একদল ভূত তারস্বরে চিৎকার করছে।

    আমি নিজেকে খুব সাহসী মনে করতাম, কিন্তু ঝড়ে আমার সব সাহস যেন কোথায় উড়িয়ে নিয়ে গেল। একসময় ঝড়ে থামল, কিন্তু আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সাহস আর কোথাও খুঁজে পেলাম না। ভয় এসে যেন আমাকে জাপটে ধরেছে। রাত হয়ে গিয়েছিল। চারদিকে নেমে এসেছে নিকষকালো আঁধার। ভয়ের স্রোত যেন বয়ে চলেছে আমার ওপর দিয়ে।

    প্রথমে মনে জাগল মরু শিয়ালের ভয়। এরা অসম্ভব রকমের হিংস্র প্রাণী। একবার ওদের পাল্লায় পড়লে আর বাঁচার আশা নেই। দ্বিতীয় ভয় ছিল নিঃসঙ্গতা। সঙ্গীরা কে কোথায় জানা নেই আমার। বেঁচে আছে না সবাই মারা গেছে, তা-ও জানি না। আশপাশে কোনো জনমানবের চিহ্নও কোথাও নেই। তখন আমার মনে পড়ল, মানুষ থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। এখন কোনো মরু বেদুইন আমাকে পেলে সে কিছুতেই আমাকে নিজের ঘরে ফিরতে দেবে না। সে আমাকে নিয়ে যাবে তার ডেরায়। সেখানে সে আমাকে ভোগ করবে যতক্ষণ তার মন চায়। লোকটি ভালো হলে আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে ভোগের স্বার্থে, নইলে মেরে ফেলবে। সবচেয়ে বড়ো ভয়, ঝড় মরুভূমির রাস্তা-ঘাটের সব চিহ্ন মুছে দিয়ে গেছে। কোনদিকে মক্কা বোঝারও উপায় নেই। এখন পথচলা মানে অনিশ্চিত বিপদে ঝাপিয়ে পড়া। যদি দিক ভুল করে হাঁটতে থাকি, তবে দেখা যাবে—মক্কা না গিয়ে মরুভূমির আরও গভীরে চলে গেছি। এমন চক্করে পড়ে গেছি যে, লোকালয়ে আর কোনোদিন যাওয়া হবে না।

    দেয়াল ধরে একটু একটু করে এগোচ্ছি আমি। অন্ধকারের জন্য দেখতে পাচ্ছি না কিছু। মনে হচ্ছিল, অনন্তকাল ধরে এভাবে পথ চলছি আমি। একসময় মনে হলো—দেয়াল বেঁকে গেছে। বাঁক ঘুরে আরও একটু এগিয়ে গেলাম। এ সময় আমার কানে এলো উটের ডাক। আমি এটাকে ভাবলাম স্মৃতির বিভ্রম। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি দাঁড়িয়ে কান খাঁড়া করলাম। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না, আবারও ডেকে উঠল উট। আমি বুঝলাম, এটা কোনো বিভ্রম নয়, সত্যি সত্যি উটের ডাক। আমি আবারও চলতে শুরু করলাম।

    অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে এগোচ্ছিলাম আমি। হঠাৎ খুব কাছেই আবারও উটের ডাক শুনলাম। ভয়ে জমে গেলাম আমি।’

    ইহুদিকন্যা ইউহাদা এক ভয়ংকর ও অবিশ্বাস্য গল্প বলে চলেছে। সে বলল— ‘তার রাগ হলো নিজের সঙ্গীর ওপর। লোকটা মরার আর সময় পেল না। উট নিশ্চয়ই একা নেই; এক বা একাধিক আরোহী আছে তার সঙ্গে। এখন যদি তারা তার সন্ধান পায়, তবে কী ঘটতে পারে তা ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠল ইউহাদা। সে লোকগুলোর হাত থেকে বাঁচার জন্য ওখান থেকে পালাতে চাইল, কিন্তু তার পা যেন আটকে আছে মাটির সাথে। পালাতে চাইলেও পালাতে পারছে না সে। আর যাবেই-বা কোন দিকে? উট কোনদিকে, কোনদিকে তার আরোহী—অন্ধকারের কারণে কিছুই সে দেখতে পাচ্ছে না। পালাতে গিয়েও আবার ঠায় দাঁড়িয়ে পড়ল ইউহাদা। আবার সব সুনসান। উটের ডাক আর শোনা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আবার সে দেয়াল হাতড়ে চলতে লাগল। কিছুদূর যাওয়ার পর মনে হলো-সামনে একটি উট দাঁড়িয়ে আছে। থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল ইউহাদা। উটটি দেয়ালের সাথেই বাঁধা। এরপর আর দেয়াল নেই। সামনে একটি গুহামুখ। একবার ভাবল ভেতরে ঢুকবে, কিন্তু গুহার ভেতর জমাট অন্ধকার দেখে সেখানে ঢোকার সাহস করল না। গুহামুখের কাছে দাঁড়িয়ে ভাবছিল-এখন কী করবে। এ সময় গুহার ভেতর থেকে কেউ তাকে ডাক দিলো—’কে ওখানে, ভেতরে এসো।’

    এ ডাক আবারও তার শরীরে ভয়ের শিহরন বইয়ে দিলো। লোকটি আবার ডাকল— ‘কই, ভেতরে এসো।’ ইউহাদার কী মনে হলো, সে ধীর পায়ে গুহার মুখে গিয়ে দাঁড়াল। লোকটি ভেতর থেকে বলল—’আরে, এ যে দেখছি মেয়ে মানুষ! ‘

    ইউহাদার মনে হলো—সে এখান থেকে পালিয়ে যায়, কিন্তু তার পা জমে যাওয়ায় পালানোর চেষ্টা ত্যাগ করতে হলো তাকে। লোকটি ভেতর থেকে বাইরে এসে হাত ধরল ইউহাদার।

    ‘তুমি একা?’

    ‘না, আমার সাথে আরও চারজন আছে। তাদের সাথে ঘোড়া আছে, তলোয়ার আছে।’

    ‘কোথায় তারা? কাউকে দেখছি না যে!’

    ‘ঝড়ের কারণে তাদের হারিয়ে ফেলেছি।’ সত্যি কথাই বলল ইউহাদা।

    ইউহাদা বলে চলেছে—’লোকটি আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বলল—’চলো।’ এটুকু বলেই সে গুহার ভেতর ঢুকে গেল। আমি তার পেছনে চলতে লাগলাম। অল্প একটু গিয়েই গুহাটি বামদিকে মোড় নিয়েছে। সেখানে জ্বলছে আলোর শিখা। জায়গাটা বড়োসড়ো কামরার মতো। লোকটির পিছে পিছে আমিও সে কামরায় ঢুকে গেলাম।

    এখানে ঝড়ের কোনো আলামত নেই। সব কেমন পরিপাটি, গোছানো। কামরায় ঢুকে লোকটি ফিরল আমার দিকে। বলল—’বসো। আমার নাম জারিদ’। তোমাকে আমি কী সাহায্য করতে পারি?’

    কামরার চারদিকে তাকালাম আমি। এমন ভয়ংকর জায়গা জীবনে দেখিনি আমি। কামরায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বেশ কটি নরকঙ্কাল। কঙ্কালের দাঁতগুলো আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে, যেন তারা বলতে চাইছে—দেখ হে রূপের গরবিনী, বয়স গেলে এই হয় জীবনের পরিণতি! কামরায় ঢুকে ভয় ও আতঙ্কে আমি চিৎকার করে উঠলাম। লোকটি এগিয়ে এসে আমার কাঁধে হাত রাখল। বলল—’ভয় পাচ্ছ? ভয়ের কিছু নেই। এটাই মানুষের স্বাভাবিক পরিণতি। জীবনের লেনদেন শেষ করে এই বেশই পরতে হয় সবাইকে। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের এই পরিণতি হয়েছে, এখন যারা জীবিত আছে এবং যারা আগামীতে দুনিয়ায় আসবে, মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে তাদেরও। মানুষের সব দম্ভ-অহমিকা এভাবেই একদিন কঙ্কাল হয়ে যায়। কঙ্কাল হয়ে যায় ক্ষমতার দাপট, যৌবনের উন্মাদনা।’

    আমি ছুটে কামরা থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলাম। লোকটি আমাকে ধরে ফেলল আর বলল—’কোথায় পালাবে নারী, এই অন্ধকারে পালিয়ে তুমি যাবে কোথায়?’

    আমি থেমে গেলাম। জারিদকে খুলে বললাম সব কথা। বললাম—’আমি মক্কা যেতে চাই। এই কামরায় থাকলে আমি মরে যাব। তুমি আমাকে মক্কা পৌঁছে দাও, বিনিময়ে যা চাও তা-ই পাবে।’

    জারিদ খানিক ভেবে নিয়ে বলল—’ঠিক আছে, আমি তোমাকে মক্কা পৌঁছে দেবো।’

    খানিক পর। উটের পিঠে চড়ে বসল জারিদ। আমাকে তার পেছনে বসাল। আমি জারিদের কোমর জড়িয়ে ধরলাম। আমার ভয় একটু একটু করে কমতে লাগল। সেখানে এসে আসন নিল সাহস।

    অনেক দূর চলে এসেছি আমরা। তারার আলোয় মরুভূমির অন্ধকার কিছুটা ফিঁকে হয়ে এসেছিল। জারিদ এখন আমার রক্ষক। আমার দিক থেকে তার ভয়ের কিছু ছিল না। সে হয়তো ভাবছিল, আমি এক অবলা নারী। শুধু অবলা নয়; এক পথহারা অসহায় মুসাফির। জারিদ যখন এসব ভাবছিল, আমার মনে তখন খেলা করছিল এক অশুভ চিন্তা। আমি ভাবছিলাম, জারিদের এই ভালোমানুষির পেছনে লুকিয়ে আছে তার লালসা। আমি তার লালসা চিরতরে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে খুন করার শপথ নিলাম।

    একসময় দূর-দিগন্তে ভেসে উঠল আলোর রেখা। বুঝলাম, আমরা মক্কার সন্নিকটে চলে এসেছি। আমি কোমর থেকে খঞ্জর বের করলাম। জারিদ পথ চলছিল আর গুনগুন করে গান গাইছিল। সে ভাবতেও পারেনি—পৃথিবীর রূপ-রস উপভোগের যখন সুবর্ণ সময়, তখন তাকে ছেড়ে যেতে হবে পৃথিবীর সব বন্ধন। মক্কা কাছে চলে এসেছিল। আমি সর্বশক্তি দিয়ে আমার হাতের খঞ্জর জারিদের পিঠে বসিয়ে দিলাম। এরপর সে কিছু বুঝে উঠার আগেই ধাক্কা দিয়ে তাকে উট থেকে ফেলে দিলাম।’

    ইউহাদা বলল—’এই ঘটনাবৃত্তান্ত যখন জাদুসম্রাট লায়েস বিন মোশানকে বললাম, তিনি বললেন—’তুমি এক যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হয়েছ, ইউহাদা। তুমি জাতির খুব বড়ো খেদমত করবে। তুমি যে ঝড়ের কথা বলেছ, সেটা হচ্ছে ইসলাম। ইসলামের এই ঝড় আরব ভূখণ্ডকে তছনছ করে ফেলবে। তুমি বাধ্য হবে তাদের আশ্রয়ে যেতে। তারপর তুমি ইসলামের প্রবর্তককে হত্যা করবে, এই হচ্ছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা।’

    এবার কথা বললেন লায়েস বিন মোশান—’ইউহাদার ঘটনাবৃত্তান্ত শুনে আমি চমকৃত না হয়ে পারলাম না। ইহুদি ধর্মের বিরুদ্ধে মুহাম্মাদের নেতৃত্বে যে প্রবল শক্তি মাথা তুলছিল, সেটা নিয়ে আমরা গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ইউহাদার কথা শুনে বুঝলাম, মহান প্রভু এবার আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। যে সমস্যা আমাদের মাথাব্যথার কারণ ছিল, তার সমাধানের জন্য খোদা বেছে নিয়েছেন এক নারীকে। আর ইউহাদাই সেই নারী।

    আমি তার বাপের সাথে দেখা করলাম। তার পিতা একজন কট্টর ইহুদি। তাকে বললাম, ধর্মের সেবার জন্য আপনার কন্যাকে আমাদের দরকার। তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিলেন।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতাসমগ্র – আসাদ চৌধুরী
    Next Article ক্রুসেড-১ : গাজী সালাহউদ্দীনের দুঃসাহসিক অভিযান

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }