Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত প্রবন্ধ – আবুল ফজল

    লেখক এক পাতা গল্প339 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাহিত্যের সঙ্কট

    এ যুগের সাহিত্যিক-শিল্পীরা কালের ও রাষ্ট্রের যুপকাষ্ঠের এক রকম বলি বললেই চলে। শহীদ তাঁরা নন। শহীদ কথাটা আরো অর্থপূর্ণ, সঙ্গে সার্থকতার রয়েছে সংযোগ–আদর্শনিষ্ঠা ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত আত্মদানের গৌরব। সাহিত্যিক-শিল্পীরা আজ তা নন–তারা আজ হাড়িকাঠের বলি। স্বাধীনতার পর দেশের যা অবস্থা হয়েছে, সেই অবস্থার যুপকাষ্ঠে সাহিত্যিক-শিল্পীরাই হচ্ছে নির্ভেজাল বলি।

    পাকিস্তান হওয়ায় পর ভাষার ওপর চলেছে এক উৎপাত–যে ভাষা হচ্ছে। সহিত্যিকদের আত্মপ্রকাশের প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। যে আবেগ ও প্রেরণা মহৎ রচনার প্রাণ, যা সাহিত্য-শিল্পীকে রচনায় করে তোলে উদ্বুদ্ধ, যা নিয়ে আসে এক অনির্বচনীয় তন্ময়তা তা আজ অনুপস্থিত–দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য সেই আবেগ ও প্রেরণা আজ রুদ্ধগতি। দেশ বা জাতির কোনো চেহারাই আজ আমাদের মানসপটে ফুটে ওঠে না। আবেগ ও প্রেরণার দেশগত ও জাতিগত ঐক্য-বোধ আজ নিশ্চিহ্ন। ফলে আমাদের বাইরে ও ভেতরে সর্বত্র এক নৈরাজ্য। এ অবস্থা সাহিত্য শিল্পের অনুকূল অবস্থা মোটেও নয়–না সাহিত্য-সৃষ্টির, না সাহিত্য-উপভোগের।

    সাহিত্যের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের ভূমিকা আলোচনা করতে গিয়ে বিখ্যাত আইরিশ কবি W. B, Yeats ‘Popular memory’ ও ‘ancient imagination’-এর প্রয়োজনের কথা বলেছেন। এসব দেশের ভূগোল ইতিহাস কিংবদন্তি কেচ্ছাকাহিনী ও রূপকথা ইত্যাদি অবলম্বন করে, বংশানুক্রমে জাতির স্মৃতি ও কল্পনায় মিশে, ঐতিহ্য হয়ে শিল্পীর আবেগ। ও প্রেরণার উপকরণ হয়ে ওঠে। popular memory ও ancient imagination কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ধর্ম-ভিত্তিকও হতে পারে কিন্তু তার ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ। দেশ ও দেশের ঐতিহ্যভিত্তিক স্মৃতি ও কল্পনার ক্ষেত্র আরো ব্যাপক, সামগ্রিক ও সার্বজনীন। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ তাঁর ‘মোহরম’ থেকে অনেক উচ্চাঙ্গের কবিতা, তার কাব্যগত আবেদনও অনেক বেশি ও ব্যাপকতর। ‘বিদ্রোহী’তে কবির বাণী-মূর্তির সঙ্গে popular memory ও ancient imagination-এর এক চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে। কোনো কোনো স্তবক গঠনে ক্রটি ও ভাবের অসঙ্গতি সত্ত্বেও এ কবিতার আবেগ ও ব্যক্তিত্ব যে নির্বিশেষ ও অপ্রতিরোধ্য এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

    আজ আমাদের popular memory ও ancient imagination খণ্ডিত শিল্পীর মন মানস বিপর্যস্ত, ছিন্নমূল ও নোঙরহীন। এ অবস্থায় উচ্চাঙ্গের সাহিত্য হতে পারে কিনা জিজ্ঞাস্য।

    আমাদের যা কিছু উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি বা রচনা সবই আমরা যখন বাঙালি ছিলাম তখনকার–বিষাদ সিন্ধু, উন্নত জীবন, মহৎ জীবন, পারস্য প্রতিভা, মানব মুকুট, শান্তিধারা, আবদুল্লাহ, মোমেনের জবানবন্দী, নকসী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ইত্যাদি। নজরুলের রচনার উল্লেখ নাই বা করলাম। তথাকথিত এ স্বাধীনতার পর আমাদের প্রবীণরা যেমন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন নি, তেমনি পারেন নি তরুণরাও। এমন কি জয়নুল আবেদিনেরও যা কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি তাও সব স্বাধীনতার আগেই আঁকা। সাহিত্য যতখানি জীবনের সঙ্গে, পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ছবি ততখানি নয়। ‘ব্যক্তি’র প্রাধান্য ছবিতে অনেক বেশি। তাই মনে হয়, বর্তমান পরিবেশে ছবির ভবিষ্যৎ কিছুটা উজ্জ্বল হলেও সাহিত্যের মোটেও নয়। জাতির পুরনো ঐতিহ্য, প্রবহমান স্মৃতি ও কল্পনা ছবির ক্ষেত্রেও যে কতখানি প্রেরণার উৎস হতে পারে অবনীন্দ্রনাথ, নন্দলাল প্রভৃতি শিল্পীর বহু নামকরা ছবিই তার দৃষ্টান্ত। পুরনো স্মৃতি ও কল্পনা অবলম্বন করে আবদুর রহমান চাঘতাই বহু স্মরণীয় ছবি এঁকেছেন। কিন্তু চাঘতাইর জন্য যা স্বাভাবিক জয়নুল আবেদিনের জন্য তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে। উভয়ের ‘স্মৃতি’ ও ‘কল্পনার’ ঐতিহ্য এক নয়, তার ওপর নন উভয়ে এক স্কুলের শিল্পী,–দুইয়ের মন-মানস ও ধ্যান-ধারণার পটভূমিও ভিন্নতর। তাই উভয়ের ছবি সম্পূর্ণ আলাদা জাতের ও আলাদা জগতের।

    আমরা কী লিখলে, কেমন করে লিখলে শাসকদের বিষনজরে পড়ব না তাও আমাদের এক মহা দুশ্চিন্তা। ফলে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, বিনা আবেগ ও বিনা প্রেরণায় আমরা সাহিত্যিকরাও বহু শ্লোগান আউড়িয়েছি এই কবছর ধরে। তা সত্ত্বেও সাহিত্যের অগ্রগতির চেয়ে পশ্চাদগতিই হয়েছে বেশি। বরং যারা এসব বেশি করে আউড়িয়েছেন তাঁদের পদক্ষেপ সামনের চেয়ে পেছনের দিকেই হয়েছে দ্রুততর। কারণ, পেশাগত তথা অর্থকরী আবেগ ও প্রেরণা ছাড়া এসবের পেছনে আন্তরিকতার লেশমাত্রও ছিল না। যে আন্তরিকতা হচ্ছে সাহিত্য-শিল্পের প্রাথমিক শর্ত। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আমাদের মনের আন্তরিকতাকে শুধু যে অঙ্কুরিত হতে দেয় নি তা নয়, যা ছিল সহজাত তাকেও অনেকখানি বিনষ্ট করে ছেড়েছে। আর বলেছি আমাদের নতুন ‘স্মৃতি’ ও ‘কল্পনা’ ঐতিহ্যে পরিণত হয়ে, আবেগ ও প্রেরণায় অনুরঞ্জিত হয়ে, সাহিত্যের উপকরণ হয়ে উঠতে বেশ সুদীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। জাতির মন-মানস স্থিরতা পেতে ও স্থির হয়ে যা আত্মস্থ করার তা আত্মস্থ করতে, যা বর্জন করার তা বর্জন করতে বেশ সময় নিয়ে থাকে। এভাবে ‘গ্রহণ’ ও ‘বর্জনের’ ফলে জাতীয় ‘স্মৃতি’ ও ‘কল্পনা’ স্থিতি লাভ করে। দেশ যেমন আমাদের ছোট হয়ে গেছে, আমাদের আবেগ, প্রেরণা ও উপকরণের ক্ষেত্রও হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র, এমন কি পাঠকও হয়ে পড়েছে শোচনীয় রূপে সীমিত। ভাল ছাত্র ও বড় ক্লাস যেমন অধ্যাপককে ভাল অধ্যাপক হওয়ার ও পঠনীয় বিষয় সম্বন্ধে সর্বাঙ্গিন প্রস্তুতির তাগিদ দিয়ে থাকে, তেমনি ভাল তথা সমজদার পাঠকও বহু সাহিত্যিককে রচনার মান উন্নয়নের প্রেরণা জুগিয়ে থাকে। ইংরেজি সাহিত্য এর বড় দৃষ্টান্ত। আমাদের মনের সামনে, চোখের সামনে পাকিস্তান বলে কোনো দেশ নেই, আছে পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান। সমগ্র পাকিস্তানের পটভূমিতে, তার ঐতিহ্য ও মানুষের জীবন নিয়ে কিছু লেখা আজ কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। মন-মানসে আমরা আজ হয় পূর্ব পাকিস্তানি না হয় পশ্চিম পাকিস্তানি, এ সত্যকে অস্বীকার করা রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হতে পারে কিন্তু বাস্তববোধের পরিচায়ক নয়। আমরা হয় পূর্ব পাকিস্তানের সাহিত্যিক, না হয় পশ্চিম পাকিস্তানের সাহিত্যিক। সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের সাহিত্যিক আমরা কেউই নই। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সাহিত্যের শুধু যে ভাষা পৃথক তা নয়–তার মন-মেজাজ, জীবন-জিজ্ঞাসা, এমনকি দৃষ্টিভঙ্গি আর শিল্পরূপও পৃথক। পাকিস্তানের দুই অংশের ইতিহাস ভূগোল ও ঐতিহ্য সম্পূর্ণ আলাদা। দুই অংশের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব এত দুস্তর যে কল্পনায়ও সাধারণ নাগরিক একটার সঙ্গে আর একটার যোগসাজস করতে অক্ষম। এই দূরত্ব প্রাকৃতিক বলেই দুর্লঙ্ঘ্য। ইংরেজের সঙ্গে। আমেরিকাবাসীর যতখানি মিল আমাদের ততখানি মিলও নেই। ওদের বংশ এক, ধর্ম এক, ভাষা এক; আচার-বিচার, পোশাক-পরিচ্ছদ পর্যন্ত প্রায় এক। তবুও ওরা এক রাষ্ট্র বা এক জাতি হতে পারে নি। আমাদের এক ধর্ম ছাড়া সব ব্যাপারেই গরমিল। একমাত্র ধর্মই যদি রাষ্ট্র বা জাতির মূলভিত্তি হয় তাহলে আফগানিস্তান আর পাকিস্তান এক রাষ্ট্র বা এক জাতি নয় কেন? ইংরেজ আর ফরাসিই বা নয় কেন? অথচ ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের মাঝখানে একটি মাত্র খালের ব্যবধান, যে খাল পূর্ব পাকিস্তানের ব্রজেন দাসও সতরে পার হতে পারে।

    পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শুধু ইতিহাস-ভূগোলে যে পার্থক্য তা নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা এবং ধ্যান-ধারণায়ও রয়েছে আসমান-জমিন ফারাক। পশ্চিম পাকিস্তান পুরোপুরিই সামন্ততান্ত্রিক–পূর্ব পাকিস্তান তার ঠিক উল্টো, একদম সাধারণ মানুষের দেশ এটা। সামন্ততান্ত্রিক অবস্থার প্রধান গলদ তা মর্মান্তিকভাবেই ব্যক্তিগত স্বার্থকেন্দ্রিক।

    এত সব বৈষম্য রয়েছে বলেই তো পাকিস্তানের রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিছুতেই স্থিতিশীলতা আসছে না। কেন্দ্রে রাজনৈতিক ব্যারোমিটার ওঠা-নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রদেশের রাজনৈতিক ব্যারোমিটারও বিনা কারণে ওঠানামা করে, করতে বাধ্য হয়; ফলে কোথাও স্থিতিশীলতা ও আর্থিক নিরাপত্তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। সাহিত্যিক শিল্পীদের সামনে এই তো আজ দেশের রাষ্ট্র-রূপ। এই রূপ সাহিত্য রচনার অনুকূল কিছুতেই নয়।

    ব্যক্তিগত প্রতিভার বিচ্ছিন্ন ও খুচরো কিছু কিছু ফসল যে এ অবস্থায় ফলে না তা নয়। কিছু ভাল গল্প-কবিতা এখানে ওখানে হয়ত লেখা হতে পারে, হচ্ছেও। কিন্তু বৃহত্তম পরিধিতে ব্যাপকতর ছকে মহত্তর সাহিত্য–যে সাহিত্য দেশ ও জাতির জীবন জিজ্ঞাসা ও আত্মোপলব্ধি রূপায়িত হয়ে ওঠে, জাতির মন-মানস ও আত্মা প্রতিফলিত হয়, তা কিছুতেই সম্ভব নয়। যে কোনো বড় সৃষ্টির জন্য আর তার সমজদারি তথা appreciation–এর জন্য যে অনুকূল পরিবেশ দরকার তা আজ কোথায়? গুণ-গ্রাহিতার কোনো লক্ষণ আজ কোথাও পরিলক্ষিত হচ্ছে কি? প্রেসিডেন্টের পুরস্কার বড়, বয়স্ক ও veteran-দের জন্যে তোলা থাক। আমি সাধারণ, মাঝারি ও তরুণ লেখকদের কথা বলছি–এঁদের জন্য অনুকূল পরিবেশ চাই। প্রকাশক, ক্রেতা ও সাধারণ পাঠকের আনুকূল্য ছাড়া এসব লেখক লেখক হিসেবে বাঁচতে পারেন না। এঁদের লেখায় আসতে পারে না ক্রমোন্নতি। বলা বাহুল্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিভিন্ন বিষয়ে এঁরাই একাগ্র সাধনায় সাহিত্যের সমৃদ্ধি ও প্রসার বাড়িয়ে থাকেন। শেপিয়র বা রবীন্দ্রনাথ আর কয়টা? সংখ্যাতীত মাঝারি লেখকরাই পৃথিবীব্যাপী সাহিত্যকে গড়ে তুলেছেন ও দিয়েছেন বৈচিত্র্য। আমাদেরও এই মাঝারিদের সাধনা-নিষ্ঠার ওপর নির্ভর করতে হবে। জীবন ও জীবনের সমস্যা সম্বন্ধে যে যে মতই পোষণ করুক, অথবা রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা যার যেমন হোক–দল মত নির্বিশেষে সব লেখককে লেখার স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার জন্য বিশেষ করে পাকিস্তানের দুই অংশে দৃষ্টিভঙ্গির যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে, তার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের লেখকরা কিছুতেই দ্বিধামুক্ত হতে পারছে না। এমন কি দক্ষিণপন্থী মন্ত্রীসভা কায়েম হলে বামপন্থী লেখকদের বুক দুরু দুরু করতে থাকে আবার বামপন্থী মন্ত্রীদল গঠিত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিলে দক্ষিণপন্থী লেখকদের মুখ কালো হয়ে যায়।

    সাহিত্যের মূল্য ও ভূমিকা বুঝতে হলে সাহিত্যকে সাহিত্য হিসেবে দেখার একটা নির্লিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি অত্যাবশ্যক। রাজনৈতিক দল ও সুবিধা সন্ধানীরা এই দৃষ্টিভঙ্গি আয়ত্ত করতে পারছে না বলে আজ সাহিত্যিক, সাহিত্য-প্রতিষ্ঠান ও সাহিত্য সম্পর্কিত অনুষ্ঠানাদি এক অবাঞ্ছিত শিকারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছে। ফলে জাত লেখক ও সাহিত্য-সেবীরা আজ অনেকটা দিশেহারা। সব দেশের মতো আমাদের দেশেরও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয়তার সুষ্ঠু রূপ গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। এ যদ্দিন না হচ্ছে তদ্দিন সাহিত্য সাহিত্যিকের দুর্গতির অবসান ঘটবে না। বর্তমানে যারা প্রগতিশীল বলে পরিচিত, যারা লেখায় কিছুটা তেল-নুন-লাকড়ির কথা বলেন, তাঁদের পক্ষে কোনো সাহিত্যানুষ্ঠানে যোগ দেওয়া পর্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, কাগমারিতে যে কয়টা বড় আকারের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে, যদিও এর কোনোটাই নিছক বামপন্থীদের অনুষ্ঠান ছিল না, তবুও এর প্রত্যেকটির বিরুদ্ধে পাকিস্তান বিরোধিতার ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে ঢাকার কোনো কোনো দৈনিক প্রায় আর্তনাদ করে ওঠেন। তারপর দিনের পর দিন চলতে থাকে নিন্দার খেউড়! এ হচ্ছে এই অভিযোগের প্যাটার্ন! এঁদের চোখা নিন্দা হচ্ছে, ‘ওরা কমিউনিস্ট, ভারতের দালাল অথবা যুক্তবঙ্গের সমর্থক। কোনো যুক্তি নেই, কোনো প্রমাণ নেই–একটা rational উক্তি পর্যন্ত নেই। শুধু কটুক্তি। এদের মনে এ প্রশ্ন উদয় হয় না যে, আমাদের অত বড় গোয়েন্দা বিভাগ কী করতে আছে? এ সব তাদের কাজ। অতগুলি ভারতের দালাল আর কমিউনিস্ট এখানে অত বড় বড় সভা করে বেড়াচ্ছেন আর তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমুচ্ছেন–এটা তাদের পক্ষে কিছুমাত্র প্রশংসার কথা নয়! আশ্চর্যের বিষয়–যুক্তবঙ্গের ধুয়া আজ পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণপন্থীদের হাতে একটা মোটা লাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সুযোগ-সুবিধা মতো তাঁরা বামপন্থী লেখক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাথায় ভাঙতে কিছুমাত্র দ্বিধা করেন না। স্বয়ং শহীদ সোহরাওয়ার্দীও এই লাঠির ঘা থেকে বাঁচতে পারেন নি। অথচ বামপন্থী রাজনৈতিক মতবাদের তার চেয়ে বড় দুশমন বোধ করি আর দ্বিতীয়টি নেই। মুশকিল হচ্ছে, সুবিধাবাদী রাজনীতি ন্যায় ও সত্য ধর্ম কিছুরই তোয়াক্কা করে না। ফলে ‘ইসলাম’ ও ‘পাকিস্তান’ শব্দ দুটিও আজ এদের সুবিধা হাসিলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

    এক মন্ত্রিসভার পতনের পর কেন্দ্রে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন উপলক্ষে আমাদের এক অতি প্রবীণ জননায়ক যখন করাচি যাওয়ার সংকল্প করেন তখন তিনি কাগজে এই মর্মে এক বিবৃতি দেন যে, শুধু ইসলামের জন্যই তিনি করাচি যাচ্ছেন। কিন্তু তার যাত্রার আগেই মন্ত্রীসভা গঠিত হয়ে যাওয়ায় তিনি আর করাচি যান নি। লজিক অনুসারে, আর একটা বিবৃতি দিয়ে ইসলামের জন্যই তিনি যাওয়ায় সংকল্প ত্যাগ করেছেন–একথা বলা উচিত ছিল, বোধ করি চক্ষু-লজ্জার খাতিরে বলেন নি। বাঘের রাজনীতিতে যেমন কোনো লজিক নেই, তেমনি সুবিধাবাদী রাজনীতিতেও লজিকের বালাই নেই। থাকলেও সেই লজিক জঙ্গলের লজিক। অর্থাৎ শেরে পাকিস্তান আর শেরে জঙ্গলিস্থান একই লজিকের ম্যাজিসিয়ান–এঁরা নিজস্ব লজিক দিয়ে ম্যাজিক দেখান–কেউ মেষশাবককে, কেউ আমাদের মত বাঙালকে, তাই এ দুটি শব্দকে নিজেদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার দিকে চোখ রেখে ইচ্ছামতো বাকানো হচ্ছে, মোচড়ানো হচ্ছে, ব্যবহার করা হচ্ছে। যাক এ সবই রাজনীতির কথা। আমি সাহিত্যের সঙ্কট নিয়েই আলোচনা শুরু করেছিলাম। তার জের টেনেই এই আলোচনা শেষ করা যাক। দেশের রাষ্ট্ররূপ স্থিতিশীল ও সুস্থভাবে গড়ে উঠছে না বলে সাহিত্যিকরাও আজ সাহিত্য-সৃষ্টির অনুকুল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। নিকট ভবিষ্যতেও অনুকূল পরিবেশের কোনো রকম আভাস দেখতে পাচ্ছেন না বলে এক সর্বাঙ্গীণ হতাশার মধ্যে তার জীবন্ত অবস্থায় কোনো রকমে বেঁচে আছেন শুধু। সাহিত্যকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আশা আজ পাকিস্তানে রীতিমত দুরাশাই। ফলে প্রবীণরা আজ হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের অনেকে অনন্যোপায় হয়ে এমন সব চাকুরিতে ঢুকে পড়ছেন, যে চাকুরির সঙ্গে সাহিত্যের প্রায় অহি-নকুল সম্পর্ক।

    তরুণ-প্রবীণ সকলের মুখে আজ এক কথা–কেন লিখব? কার জন্য লিখব? কে ছাপবে? কে পড়বে?

    এসব প্রশ্নের কি কোনো উত্তর নেই? নিশ্চয়ই আছে। তবে সেই উত্তরের অনুকূল পরিবেশ রচনার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের। বিশেষ করে রাষ্ট্রের কারণ রাষ্ট্রের–আদর্শেই সমাজ রূপায়িত হয়ে ওঠে।

    আর একটা কথা। পাকিস্তান আন্দোলন ও তার অভাবিত সাফল্য কী মাহেন্দ্র মুহূর্তই না নিয়ে এসেছিল আমাদের সামনে। কিন্তু তার সদ্ব্যবহার আমরা করতে পারি নি। সুদীর্ঘকালে বহু ঝড়-ঝঞ্ঝায় টিকে থাকা একই রাষ্ট্রীয় কাঠোমো ভেঙে দু-দুটা স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে।

    এই জন্ম-বেদনার বেদীমূলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে, বাস্তুহারা হয়েছে। অনেকে সর্বহারা হয়ে পথের ভিখিরিতে পরিণত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কিছু সংখ্যক সরু সরু আঙুল যে ফুলে কলাগাছ হয় নি তা নয়। তবে বৃহত্তর জনসংখ্যার তুলনায় তা নগণ্য। লক্ষ লক্ষ মানুষ সীমান্তের এপার থেকে ওপারে, ওপার থেকে এপারে ছিন্নমূল হয়ে ভেসে গেছে, ভেসে এসেছে। দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, আমরা এক স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকারী হয়েছি, এ যেমন অভাবিত আনন্দ-উল্লাসের বস্তু–তেমনি, অগণিত বাস্তুহারার বেদনামথিত চোখের জলে দেশের আকাশ-বাতাস হয়েছে আলোড়িত ও বিক্ষুব্ধ। সীমান্তের দুই পারেই লাঞ্ছিত মানবতার বহু মর্মন্তুদ দৃশ্যই সাহিত্যিক-শিল্পীদের চোখের সামনে অভিনীত হয়েছে। মানুষের বেদনাহত চিত্তের এই গভীর সুখ-দুঃখ ও হাসি অশ্রুর বিচিত্র কাহিনীই তো যুগে যুগে মহৎ শিল্পের প্রেরণা জুগিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য, এসব এখনো আমাদের কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা হয় নি, কোনো কবির কণ্ঠে সংগীত হয়ে ঝরে পড়ে নি, কোনো সাহিত্যিকের লেখনীতে রূপ নেয় নি। আমাদের সাহিত্যিকরা কেউ অল কোয়াইট বা ঝড় কী নবম তরঙ্গ লিখতে পারেন নি। অথচ হাতের কাছে চোখের সামনে লেখার যথেষ্ট উপকরণ ছিল। এমন কি কাণ্ডারি হুঁশিয়ারের মত একটা জাতীয় সংগীতও আমাদের কবিরা দেশকে দিতে পারেন নি। যার সুর ও বাণী-রূপ দেশের আপামর জন-চিত্তে বর্ষার বন্যা-বেগ সঞ্চার করে দিতে পারে। বলা বাহুল্য, আন্তর্জাতিকতার আগে জাতীয়তা। জাতীয় সাহিত্য গড়ে তোলার পরই আন্তর্জাতিক সাহিত্যে বিচরণ সহজ ও সম্ভব। যে মানুষ পুকুরে সাঁতার কাটতে অক্ষম তার পক্ষে সমুদ্র সন্তরণের বুলি না আওড়ানোই ভাল।

    পাকিস্তান আন্দোলন ও তার সাফল্য কী জানি কেন আমাদের প্রতিভাবান সাহিত্যিক শিল্পীদের মন-মানসে কোনো নতুন জোয়ার আনতে পারে নি, অন্তরের অন্তঃস্থলকে গভীরভাবে নাড়া দেয় নি কারো, খুলে যায় নি তাদের চোখের সামনে সাহিত্য-শিল্পের কোনো নতুন দিগন্তরেখা। স্বাধীনতার অরুণোদয়ে কারো মন-মানস হয় নি মুখর–নতুন আবেগে আরো উদাত্ত-কণ্ঠ হয়ে ওঠে নি উচ্ছ্বসিত। কবি-চিত্তের উল্লাস কতখানি উচ্ছ্বসিত ও কল-মুখর হতে পারে তার নিদর্শন নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’।

    আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের বেশ কিছুটা সাদৃশ্য আছে। নৃতত্ত্ব ও ভৌগোলিক ঐতিহ্যের দিক থেকে ইংরেজ ও আইরিশে বিশেষ পার্থক্য ছিল না। সব বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদেরও তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ইংল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন না হলে আয়ারল্যান্ড চিরকাল সংখ্যালঘু হয়েই থাকতো–জাতি হতে পারতো না কখনো। সেই যুগেও ইংল্যান্ডের হাউস অব কমন্সে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধি ছিল। কিন্তু নিরঙ্কুশ মেজরিটির কাছে সেই প্রতিনিধিত্বের কোনো কার্যকরী মূল্য ছিল না। গণতান্ত্রিক নিয়মানুসারে তাদের চিরকাল মেজরিটির মুখপেক্ষী হয়েই থাকতে হতো। আমাদেরও অবস্থা ছিল অবিকল তাই। পাকিস্তান না হলে আমাদেরও চিরকাল থাকতে হতো মেজরিটির মুখাপেক্ষী হয়েই। আর থাকতে হত। ভারতের বহু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সম্প্রদায় হয়েই–জাতি হতে পারতাম না আমরা কখনো। হতে হলে নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু জিনিস ত্যাগ করে বৃহত্তর ভারতীয় জীবন-ধারার সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে যেতে হতো। তাই স্বতন্ত্র জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আয়ারল্যান্ডকে যেমন বৃহত্তর ও সর্বগ্রাসী ইংল্যান্ডের অধীনতাপাশ ছিন্ন করে স্বাধীন হওয়ার আন্দোলন করতে হয়েছিল, তেমনি আমাদেরও বৃহত্তর ও সর্বগ্রাসী ভারতীয় প্রভুত্বের বাইরে স্বতন্ত্র জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পাকিস্তান আন্দোলন না করে উপায় ছিল না।

    সাহিত্য ও শিল্পের ক্ষেত্রে আইরিশ আন্দোলনের ব্যর্থতা দেখে সেই আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা বিশ্ববিখ্যাত কবি W. B. Yeats দুঃখ করে লিখেছেন : Ireland’s great moments had passed, and she had filled no roomy vessels with strong sweet wine where we have filled our porcelain jars against the coming winter.’ ইয়েটস স্বয়ং জাত কবি ও জাত শিল্পী। তাই কাকতালীয় সাহিত্যের ফাঁকি তার চোখে ধরা পড়তে দেরি লাগে নি। এই ব্যর্থতার কারণও তিনি নির্দেশ করেছেন: Immediate victory, immediate utility, became everything…। এই মনোভাব কখনো সাহিত্য শিল্পের অনুকূল নয়। আমাদের দশাও কি আজ তাই নয়? আমাদেরও পাকিস্তান আন্দোলন ও তার সাফল্যের great moment হারিয়ে গেছে, সাহিত্যের সুধাভাণ্ডে তা থেকে আমরা কিছুই সঞ্চয় করতে পারি নি যা দুর্দিনে ও সঙ্কটে আমাদের মন-মানসের পাথেয় হতে পারে। স্বাধীনতার পর আমরাও কি নগদ লাভ ও সদ্য সুবিধা আদায়ে মেতে উঠি নি? জনসাধারণের মত সাহিত্যিক-শিল্পীদেরও এই কি একমাত্র মোক্ষ হয় নি? শিল্পীর জন্য Cause বড় কথা নয়, Cause-কে কেন্দ্র করে যে জীবন আবর্তিত হচ্ছে, সেই নগ্ন। জীবন ও তার সুখ-দুঃখই শিল্পীর উপজীব্য।…’Life is greater than the cause and artists are the servants not of any cause but of more naked life, and above all of that in its nobler forms, where joy and sorrow are one, artificers of the great moment…’ পাকিস্তান আন্দোলন সেই দুর্লভ Great moment অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের জীবনে নিয়ে এসেছিল, কিন্তু সস্তা নগদ লাভের প্রলোভনে দিশেহারা হয়ে আমরা সেই Moment-এর সদ্ব্যবহার করতে পারি নি।

    আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা ও পরিবেশের যে আভাস এই প্রবন্ধে আমি দিতে চেয়েছি তাতে শিল্পীর পক্ষে আত্মস্থ হওয়ার সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় যে কোনো great moment হারিয়ে যাওয়ারই কথা। জীবিকার প্রাথমিক স্বাধীনতাটুকুও যদি না থাকে শিল্পী আত্মস্থ হবেন কী করে? কী করে হবেন। বেপরোয়া? সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে শিল্পী বায়রনের দৃষ্টান্ত টেনে আনার দরকার নেই–বাংলা সাহিত্যে সেই দৃষ্টান্তের কিছুমাত্র অভাব নেই। বলা বাহুল্য, জাতশিল্পী মাত্রই বেপরোয়া। মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুল সবাই শিল্পীর এই recklessness তথা বেপরোয়া মনোভাবের অধিকারী ছিলেন। তার জন্য দুঃখ এঁরা পেয়েছেন–বিশেষ করে মধুসূদন ও নজরুল। কিন্তু বেপরোয়া জীবনের যে সূর্য-স্বেদ তা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হন নি। ব্যবহারিক জীবনে বেপরোয়া হওয়া হয়তো বড় কথা নয়– বড় কথা ভাবে, কল্পনায়, কল্প-বস্তু গ্রহণে ও নির্মাণে বেপরোয়া হওয়ার অধিকার সব বড় শিল্পীরই এই এক বড় গুণ ও এক বড় অধিকার। বেপরোয়া হওয়ার স্বাধীনতা ছিল বলেই তো মধুসূদনের পক্ষে অমন করে রাবণ চরিত্র আঁকা সম্ভব হয়েছে–যা চরিত্র হিসেবে রামকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর সমগ্র রবীন্দ্র-সাহিত্যই তো এক জাগ্রতচিত্ত শিল্পীর বেপরোয়া বিবেকেরই নিদর্শন। আজকের দিনে বিসর্জন, চোখের বালি বা ঘরে বাইরে যে সেদিনে কতখানি দুঃসাহসিক ব্যাপার ছিল তা হয়তো অনেকেই অনুমান করতে পারবে না। উগ্র স্বাদেশিকতা, অন্ধ জাতীয়তা, ধর্মীয় গোঁড়ামি রবীন্দ্রনাথের বেপরোয়া কলমের খোঁচা থেকে কিছুই রেহাই পায় নি। মুসলমানের মনে স্বতন্ত্র অস্তিত্ববোধ জাগ্রত হওয়ার বহু আগেই, সেই স্বদেশীযুগের বোমা-পিস্তলের আদি পর্বে তিনি তার ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসে সন্ত্রাসবাদ সম্বন্ধে শুধু নয়–‘বন্দেমাতরম’ সংগীতের যথার্থ সম্বন্ধেও প্রশ্ন তুলে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এই মহাকবি অসংখ্য কবিতা, গানে ও নাটকে যে বেপরোয়া মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন তা ভাবলে অবাক হতে হয়। শরৎচন্দ্র ছাড়া শরশ্চন্দ্রের কালে বইয়ের নাম চরিত্রহীন রাখা কেউ কি কল্পনা। করতে পারতো? এক বিখ্যাত মাসিক তো শুধু এ-নামের জন্যই এই লেখা ছাপতে অস্বীকার করেছিল। অমন বেপরোয়া ছিলেন বলেই তো তার পক্ষে রাজলক্ষ্মীর মত। মেয়েকে, বাসার ঝি সাবিত্রীকে বাংলা সাহিত্যে এক অভাবিত মর্যাদাপূর্ণ স্থান দান সম্ভব হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্রও কি কম বেপরোয়া ছিলেন? না হয় সেই যুগে ‘রোহিণী’ চরিত্র আঁকা সম্ভব হত কি? ভাবুন, কতখানি বেপরোয়া হতে পারলে ‘বিদ্রোহী’র মত কবিতা লেখা যায়? নজরুল ছাড়া ‘বারাঙ্গনা’ নিয়ে অমন জোরালো কবিতা আর কে লিখতে পারতো? এখন তো অমন কবিতা লিখতে পারার কথা ভাবাই যায় না। বেপরোয়া মনোভাবের উত্তরাধিকারী ছাড়া বড় সাহিত্য, মহৎ সাহিত্য রচিত হতে পারে কি না এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বলা বাহুল্য, অনুকূল পরিবেশই তেমন মনোভাবের জন্ম দিতে পারে।

    (আয়ুব আমলে এ প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য ‘সমকালের’ ওই সংখ্যা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল)

    [‘সাহিত্যের সংকট’ প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় সমকাল পত্রিকার মাঘ ১৩৬৫ সংখ্যায়। সমকালের ঐ সংখ্যা সে সময়ে পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করে। লেখাটি সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থে সংকলিত হয়ে পুনরায় প্রকাশিত হয় ১৯৮০-তে।]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমানবতন্ত্র – আবুল ফজল
    Next Article শেখ মুজিব : তাঁকে যেমন দেখেছি – আবুল ফজল

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }