Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পাখি

    আজ সকাল থেকে রুমনির ওপর দিয়ে যেন একটি ঝড় বয়ে গেল। ঝড়ের পরের ডালপালা ভাঙা গাছের মতোই অবস্থা তার। এখন পর্যন্ত এককাপ চা খাওয়ারও অবকাশ হয়নি। পটলাটাও ছুটি নিয়ে তিন দিনের জন্যে পাথরপ্রতিমাতে তার দেশে গেছে। একমাত্র মামার বিয়ে। সজনেখালিতে বরযাত্রী যাবে। অবশ্য ছুটিছাটা নেয়ই না বলতে গেলে। ও ছেলেমানুষ। তাই ছুটি চাইলে ‘না’ করা যায় না।

    রুমনির মেজোছেলের সমবয়েসি পটলা। ওদের পরিবারে বাড়ির ছেলের মতোই থাকে, হাসিঠাট্টা খুনসুটি করে ছেলেদের সঙ্গে, ছেলেবেলাতে মা মারা গেছে। মামাবাড়িতেই মানুষ। রুমনির স্বামী গগনেন্দ্রও পুত্রস্নেহে দেখে পটলাকে। পটলাও গগনেন্দ্রের পা টিপে দেয়, ভুঁড়িতে হাত বুলিয়ে দেয়।

    গগনেন্দ্র বলে, ময়দানে গিয়ে গরিবের প্রতি দরদে গলা ফাটিয়ে লাল ঝাণ্ডা উড়িয়ে বক্তৃতা করার চেয়ে নিজের নিজের বাড়ির কাজের লোকেদের ভালো করে দেখাশোনা করাটা আসল সোশ্যালিজম।

    কথাটা হয়তো ঠিকই বলে গগনেন্দ্র।

    রুমনি ভাবে, পটলার প্রতি গগনেন্দ্রর যতটুকু দরদ আছে, তা তার বিনি মাইনের স্ত্রীর প্রতি নেই। রুমনিরা তো স্বামীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারে না। তাদের কপালকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায়ই বা কী? দশ বছরের বিবাহিতজীবনে একটি অ্যাবর্শান নিয়ে চার বার সন্তানধারণ করেছে। সূর্যোদয় থেকে গভীর রাত অবধি রুমনির কাজ। কতরকমের যে কাজ।

    গগনেন্দ্র মানুষটি বড়ো আত্মকেন্দ্রিক। সোজা করে বললে বলতে হয় স্বার্থপর। নিজের পছন্দসই খাওয়া ছাড়া আর কোনোই শখ নেই। যদিও অভাব তেমন নেই। অর্থ যথেষ্ট উপার্জন করে। সরকারি চাকরির সামান্য আয়ে এত সচ্ছলতা সম্ভব নয়। রুমনির ঘোর সন্দেহ হয় যে, গগনেন্দ্র ঘুস খায়। ভয়েই কখনো জিজ্ঞেস করতে পারেনি স্বামীকে। হয়তো ঘেন্নাতেও।

    রুমনির বাবা রীতিমতো আদর্শবান কমিউনিস্ট ছিলেন। প্রমোদ দাশগুপ্তের স্নেহধন্য। আজকাল সেই ধরনের কমিউনিস্ট বেশি দেখতেই পায় না রুমনি। গগনেন্দ্রর বাবা ছিলেন, কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। রুমনির বাবার সহপাঠী। দুজনে ভিন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী হলেও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তখনকার দিনের রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে একে অন্যের প্রতি, কোনো অসূয়া ছিল না। ছিল না বলেই দুই পরিবারের মধ্যে এমন মেরু-মিলন সম্ভব হয়েছিল।

    পটলাটা থাকলে এতক্ষণে এককাপ চা করে দিত রুমনিকে। বেশি করে দুধ চিনি দিয়ে এবং একটু আদা দিয়ে। ছেলেটারই যা একটু মায়াদয়া আছে রুমনির ওপরে।

    রুমনির সারাদিনে এই একটু অবকাশ, এই সময়টুকুতেই পাখিটার সঙ্গে একটু কথা বলে, তাকে দানা আর জল খেতে দেয় নিজের হাতে আর জানালার সামনে তার প্রিয় চেয়ারটি পেতে বসে বাইরে উদ্দেশ্যহীনভাবে চেয়ে থাকে চা খেতে খেতে। চোখে যা আসে তাই দেখে, বিশেষ কিছু দেখবে বলে চোখ মেলে না।

    খুব ভোরে উঠে, পটলা নেই বলে, ডাঁই জামাকাপড় বিছানার চাদর কেচে ছাদে মেলে দিয়েছে। সেগুলো উঠিয়ে নেওয়ার সময় হল। রোদ বেশ কড়া আজ।

    সাদামাটা রংচটা সরকারি ফ্ল্যাটবাড়িটা ‘L’ শেপ-এর। নীচে এক চিলতে মাঠমতো। ওপরে বড়ো ছাদ। কমন লন। বড়োলোকের বাড়ির ‘লন’-এর মতো সাজানো-গোছানো নয়। একটা জারুল গাছ আছে। বছরের এই সময়টাতে বেগনে-রঙা ফুলে ভরে যায়। একটি অমলতাস গাছও আছে। এখন হলুদ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। কোনো সরকারি কর্মচারী যে কবে লাগিয়েছিলেন কে জানে? উলটো দিকের দেওয়ালের পাশে লাগানো, একটা বারোমেসে জবা গাছ, একসার করবী দেওয়ালের গায়ে গায়ে।

    এইসব মানুষকে প্রণাম করতে ইচ্ছে করে রুমনির। মানুষটি কবে চলে গেছেন ফ্ল্যাট ছেড়ে, হয়তো অবসরও নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু গাছ যখন লাগিয়েছিলেন তখন ফুল ফুটবে বলেই লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সে-ফুলের শোভা নিজে দেখতে পাবেন না তাও জানতেন হয়তো। এমন উদার পরোপকারী মানুষ এখনও সংসারে কিছু আছেন বলে পৃথিবীটা গোসাপের মতো বুকে হেঁটে ধীরে ধীরে চলেছে।

    এ-বাড়ির হাতাতে একটা পাগলা কোকিল আছে। যে, থেকে থেকেই ডেকে ওঠে। যদিও বসন্ত চলে গেছে বহুদিন। বসন্ত কখন যে আসে এই কেজোপাড়ায় তা এখন বোঝা পর্যন্ত যায় না। কোকিলের ডাকে বুকের মধ্যেটা হু-হু করে ওঠে। কৈশোরে ফিরে যায় রুমনি—যখন শেষরাতে নরম নরম বেগুনি ফুলের মতো রাশ রাশ স্বপ্ন দেখত অনেক। যেমন সব কিশোরীই দেখে। জীবনটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কবিতাও লিখত তখন। একটি উজ্জ্বল উষ্ণ ডিমের মতো সেই বেগুনি স্বপ্নের জীবনটা কখনো যে তার হাত থেকে পথের ধুলোয় হঠাৎ পড়ে গিয়ে এমন করে ভেঙে যাবে, থোড়-বড়ি-খাড়া-খাড়া-বড়ি-থোড়ের হয়ে যাবে, তা কখনো ভাবেনি রুমনি।

    আসলে, নিজের জীবনটাকে শক্ত করে ধরার সুযোগই হয়নি ওর। বড়োই আলতো করে ধরেছিল হয়তো। এখন কখনো কখনো মনে হয়।

    গগনেন্দ্র মানুষটার মধ্যে অন্য অধিকাংশ পুরুষেরই মতো একটুও রোমান্টিকতা নেই। রুমনির মাঝে মাঝে মনে হয়, সপ্তাহে দু-তিন দিন আধো-অন্ধকার শোয়ার ঘরের খাটে শুয়ে শায়াসুদ্ধু শাড়ি তোলা আর সাত দিন হাঁড়ি ঠেলা ছাড়া তার জীবনে আর অন্য কিছুই নেই। জীবনটা পুরোপুরিই বৈচিত্র্যহীন হয়ে গেছে। তার সুন্দর প্রত্যাশী শরীরটির ছিদ্রপথে রোমশ ইঁদুরের মতো দ্রুত প্রবেশ ও প্রস্থান করেই ফুরিয়ে যায় গগনেন্দ্র। রুমনির শরীরে যে আরও অনেক আনন্দের ঝরনার উৎসমুখ আছে সেসবের খোঁজ রাখেনি কোনোদিনই। গগনেন্দ্রর হঠকারী বেসুরো solo কোনোদিনও সুরেলা বৃন্দগান হয়ে ওঠেনি। সেইসব বোধ তার ভাবনারও বাইরে। ‘স্ত্রী’ মানে দাসী, রাঁধুনি, সন্তান উৎপাদনকারী এক প্রাণী যদিও মনুষ্যজাতিরই অন্তর্ভুক্ত, এই কথাই গর্বভরে জেনেছে। তার এই জানার মধ্যে কখনো কোনো দ্বিধাও ছিল না। নিজেকে গলিয়ে তড়িঘড়ি ছিদ্রপথে ডাবুতে ঢেলে দিয়ে গগনেন্দ্র কোলবালিশ জড়িয়ে পাশ ফিরে শুয়েছে অন্য দশজন পুরুষেরই মতো।

    কোকিলটা আবারও ডাকল। কোথা থেকে ডাকছে দেখা যাচ্ছে না। টিয়ার খাঁচাটা দানা ও জল দেওয়ার জন্যে একটু আগেই খুলেছিল যে, তা ভুলেই গেছিল রুমনি। হঠাৎই ওকে চমকে দিয়ে ‘ফরফর’ করে ডানা মেলে পাখিটা উড়ে জানলা দিয়ে বেরিয়ে গেল। বেরিয়ে গেল তো গেল আকাশে উড়ে না গিয়ে তাদের তিনতলার ফ্ল্যাটের কোনাকুনি যে ছোট্টফ্ল্যাটটা আছে, যে-ফ্ল্যাটে মাঝবয়েসি এক পুরুষ একা থাকেন মাস দুয়েক হল, সেই ফ্ল্যাটেরই জানলা দিয়ে তারমধ্যে সেঁধিয়ে গেল।

    চা খাওয়া মাথায় উঠল রুমনির। কী করবে ও এখন, আগে মনু জোয়ারদার থাকতেন অ্যানিম্যাল হ্যাসব্যান্ড্রি ডিপার্ট-এর। পটলার কাছেই শুনছে যে, ভদ্রলোক একা থাকেন সবসময়ে। লেখাপড়া নিয়েই। উনি সরকারি কর্মচারী নন। কোনো আত্মীয়র ফাঁকা ফ্ল্যাটে থাকেন। উনি নাকি লেখক। তবে গল্প, উপন্যাস লেখেন না বোধ হয়। লিখলে,গত ছ-মাসের মধ্যে অন্যান্য ফ্ল্যাটের সাহিত্যভক্ত মহিলাদের কাছে তাঁর নাম নিশ্চয়ই শুনত।

    এখন পাখি খুঁজতে অজানা অচেনা ভদ্রলোকের ফ্ল্যাটে সে একা অসময়ে যায়ই বা কী করে? পটলা থাকলে তাকেই পাঠিয়ে দিত। অথবা পটলাকে সঙ্গে করে যেত, এই পাখিটি বাড়ির সকলেরই খুব প্রিয়। রুমনির বড়োছেলে তাকে একটি ছড়া শিখিয়েছে। গগনেন্দ্ররা তিন পুরুষের কংগ্রেসি। নেহরু পরিবারের খুব ভক্ত। সেইসূত্রে বড়ো-দু-ছেলেও ভক্ত। ছড়াটি হল:

    নেড়ু নেড়ু নেড়ু, বাবা কত্তে যাবে বেড়ু?
    চিংকি কাকা চুষনি দেবে রুশি মামা ভেড়ু
    বাবা কত্তে যাবে বেড়ু?

    ২

    আজকে রাহুল গান্ধি আসছেন। ময়দানে সেজন্যে মস্ত মিটিং। একে রবিবার, ছুটির দিন, তায় দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীর আগমন বলে কথা। ভিড়ে—ভিড়াক্কার। পুলিশ, কম্যাণ্ডো, অ্যাম্বুলেন্স এবং ক্যাডারে ছয়লাপ। আলুকাবলি, বুড়ির চুল, মোগলাই পরোটার চলমান দোকানিদেরও ভিড় লেগে গেছে। কংগ্রেসের পতাকাতে ছেয়ে গেছে চারদিক। যত লাফাঙ্গা, ভ্যাগাবণ্ড, পকেটমার, চোর, বদমাশ সব শামিল হয়েছে এই ভিড়ে। শুধু কংগ্রেস বলেই নয়, সব পার্টির জমায়েতেই এখন এমনই হয়।

    আদর্শর কারণে কেউ আজকাল আর রাজনীতি করে না। টু-পাইস কামাবার ধান্দাতেই করে। দুঃখ হয় গগনেন্দ্রর। তার বাবা, কি রুমনির বাবারাও অন্যরকম ছিলেন।

    গগনেন্দ্রর ছোটোছেলে হুব্বার বয়স চার। সে তার লম্বাচওড়া বাবার কাঁধে চড়ে চলেছে পুণ্যভূমির দিকে। তার অনর্গল প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে চলেছে গগনেন্দ্র, বাগবাজার থেকে এসে চৌরঙ্গির মোড়ে মিনিবাস থেকে নেমে।

    রাহুল গান্ধি কে বাবা?—প্রশ্ন করল হুব্বা।

    রাজীব গান্ধির ছেলে।

    রাজীব গান্ধি কে বাবা?

    ইন্দিরা গান্ধির ছেলে। বড়োছেলে।

    অ। তা ইন্দিরা গান্ধি কে বাবা?

    আঃ। পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর মেয়ে। একমাত্র সন্তান।

    পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু কে ছিলেন বাবা?

    আঃ। তাও জানিস না? তোদের স্কুলে শেখায়টা কী? ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ব্যারিস্টার।

    জওহরলাল যদি নেহরু হয় তাহলে মেয়ের পদবি ‘গান্ধি’ হবে কেন বাবা?

    গগনেন্দ্রর মেজোছেলে ডাব্বু প্রশ্ন করল।

    পশ্চিমবঙ্গের সব বাড়ির মেজোগুলোই বেশি বুদ্ধি ধরে এবং পরে ‘মেজোকর্তা’ হয়। লক্ষ করেছে গগনেন্দ্র।

    আঃ! গান্ধির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল, তাই।

    মহাত্মা গান্ধির ছেলের সঙ্গে?

    উঃ। না রে বাবা। ফিরোজ গান্ধির সঙ্গে। ফিরোজ পার্সি আর মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি ছিলেন গুজরাটি। ও গান্ধির সঙ্গে এই গান্ধির কোনো সম্পর্ক নেই।

    তিনি কোথায় থাকতেন? মানে ফিরোজ গান্ধি?

    তিনিও লোকসভার সদস্য ছিলেন। খুব ভালো বক্তৃতা করতেন। তাঁর দাম্ভিক শ্বশুরের সঙ্গে তাঁর পটত না। তিনি অত্যন্তই স্বাধীনচেতা ছিলেন। লোকসভাতে পর্যন্ত শ্বশুরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হত, তার পর ফিরোজ রাগ করে কাশ্মীরে চলে যান এবং সেখানেই অকালে মারা যান।

    ছোটো বলল, যাচ্চলে। ফুরিয়েই গেল।

    ডাব্বু বলল, এই ইন্দিরা গান্ধিই না দাদুর বহরমপুরের জমিদারি লোপ করে দিয়েছিলেন?

    হ্যাঁ। শুধু তাঁরই কেন? ভারতের সব রাজা ও জমিদারদেরই সর্বস্বান্ত করে ছেড়েছিলেন।

    কেন?

    জনগণের ভালোর জন্য। আরও কত কী করেছিলেন। ব্যাঙ্কে, কয়লাখনিতে আরও সব কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত করেছিলেন।

    আর তাঁর নাতিই মহারাজা হবে ভারতবর্ষের?

    হ্যাঁ। সেটাই সত্যি। তাঁর নাতিই শুধু কেন? তিনি নিজে, তাঁর বড়োছেলে রাজীব, রাজীবের বিদেশি বউ সোনিয়া এবং তাদের আদরের ছেলে রাহুলও এখন রাজা হতে চলেছে।

    এই রাজার প্রজা করা হবে?

    কেন আমরা?

    বলেই বলল, এবার ঘাড় থেকে নাম রে বাবা, ঘাড় টনটন করছে।

    ডাব্বু বলল, হুব্বাকে নামাবে কিন্তু রাজা তো আর নামছে না। ক-পুরুষ হল বাবা?

    তা চার পুরুষ হল।

    নামলে, ফুচকা খাওয়াবে তো বাবা? হুব্বা বলল।

    খাওয়াব। একটু পরে। এই তো একঘণ্টাও হয়নি ডিমসেদ্ধ, পটলসেদ্ধ দিয়ে ফ্যানাভাত খেয়ে এলি।

    ঠি আছে।

    আজকাল ছেলে-মেয়েদের সময়ের ভীষণই দাম। তারা ‘ঠিক আছে’ বলে সময়ের অপব্যবহার করে না। বলে ঠি আছে।

    ডাব্বু বলল, রাহুল গান্ধির বয়েস কত বাবা? মা বলছিল, আমাদের ফ্ল্যাটবাড়ির জমাদার গিরিডির পাপ্পু কাহারেরই সমান।

    ওরকমই হবে।

    ওই বয়েসেই রাহুল গান্ধির অত বুদ্ধি? এত বড়ো দেশ শাসন করবে? পড়াশুনোতে খুব ভালো বুঝি?

    তা জানিনে বাবা। ওসব ছেলেপুলে বুদ্ধির ঝুড়ি নিয়েই জন্মায়। ফটাফট ইংরেজি বলতে পারে। আর ইংরেজি বলতে পারা আর বুদ্ধি থাকা তো একই জিনিস।

    তাই বুঝি?

    ডাব্বু বলল, তালে যারা ইংরেজি বলতে পারে না, তারা সবাই বুদ্ধু? জার্মানরা, জাপানিরা, চিনেরা—সবাই বুদ্ধু?

    গগনেন্দ্র বিরক্ত হয়ে বলল, এসেছিস কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে, তার বক্তৃতা শুনতে, তারমধ্যে অত কথা কীসের? সর্বভারতীয় সব তাবড় তাবড় বাঙালি নেতারা একবাক্যে তাঁকে রাজা বলে মেনে নিতে যাচ্ছেন, সে কি এমনি এমনি? তাঁদেরও কি বুদ্ধি নেই নাকি?

    তাও তো বটে।

    ডাব্বু বলল।

    এই অকাট্য যুক্তির পরে আর কেউ কথা বলল না। হুব্বা ঘাড় থেকে নেমেই ফুচকাওয়ালার খোঁজ করতে লাগল। এদিকে আকাশে একটি কালো শকুনের মতো রাহুল গান্ধির হেলিকপ্টার দেখা গেল অনেক দূরে। আকাশে একটু মেঘ মেঘ করেছে। ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বাঙালি জনতা যারা দোকানে দোকানে বাংলা ভাষাতে সাইনবোর্ড টাঙাবার জন্যে আন্দোলন করেন, মিছিল করেন নিয়মিত, তারাই সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন : রাহুল গান্ধি কি জয় হো। রাহুল গান্ধি কি জয়। মুবারক হো। ছোটেসরকার যুগ যুগ জিয়ো।

    ৩

    না:। আর দেরি করা যাবে না। উঠল রুমনি। বাইরের দরজার চাবিটা আয়নার সামনে থাকে। সেটি তুলে নিতে নিতে আয়নাতে একঝলক দেখে নিল নিজেকে। তাড়াতাড়ি হাউসকোটটা বদলে নিল। এটা বাঁ-বগলের কাছে ছিঁড়ে গেছে অনেকটা। চুলে একটু চিরুনি বুলিয়ে নিল। মুখে পাউডারের পাফটা হালকা করে বোলাল। তাকে যে কেমন দেখতে ভুলেই গেছে রুমনি।

    বাড়ি থেকেও কোথাওই বেরোয় না বলতে গেলে। তার আর রূপচিন্তা কীসের? মুহূর্তের জন্যে হলেও বহুদিন বাদে নিজেকে মনোযোগের সঙ্গে দেখল ও। দেখে খুশিই হল। মাঝ তিরিশে পৌঁছে এই যত্নহীন, প্রেমহীন, ধন্যবাদহীন, হাড়ভাঙা পরিশ্রমের জীবনে তার পরমদয়ালু যৌবন এখনও তাকে ছেড়ে যায়নি। ড্রয়ার থেকে বার করে পারফিউমের শিশিটা তুলে একবার চকিতে স্প্রে করল বগলতলিতে স্তনসন্ধিতে। পুজোর সময়ে তার দুবাইবাসী নন্দাই তাকে এনে দিয়েছিল। এত কিছু করল পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে। তার পর দরজা টেনে দিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। মোবাইল ফোন আছে একটা কিন্তু সেটা গগনেন্দ্রর কাছেই থাকে।

    ফ্ল্যাটটার সামনে পৌঁছে দরজার বেল টিপল রুমনি। প্রথমবার কোনো সাড়া এল না। দ্বিতীয় বার টেপার পরে চটি ফটফট করে বন্ধ দরজার দিকে কারো এগিয়ে আসার আওয়াজ পেল। দরজাটা খুলেই একজন সম্ভ্রান্ত সুদর্শন ভদ্রলোক হেসে বললেন, আজ আমার দিন খুব ভালো কাটবে।

    রুমনি পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা লম্বা ও দোহারা কাঁচা-পাকা চুলের ভদ্রলোককে অপলকে দেখতে লাগল। এমনটা বহুদিন হয়নি। বাকরোধ হয়ে গেল ওর। সংবিৎ ফিরে পেয়ে বলল, বড়ো বিপদে পড়ে এলাম।

    ভদ্রলোক বললেন, আপনার বিপদটাই আমার সম্পদ।

    আমার পাখিটা আপনার ফ্ল্যাটে উড়ে এসেছে। এখনও কি আছে? না আবার অন্য কোথাও উড়ে গেল?

    আছে। সে এখন পপকর্ন খাচ্ছে।

    পপকর্ন? বাড়িতে ছিল?

    হ্যাঁ। গতকাল আমার এক বন্ধুর ছেলে এসেছিল। তার জন্যে নিয়ে এসেছিলাম।

    তার পর একটু চুপ করে থেকে ভদ্রলোক বললেন, পাখির নাম কী?

    পাখি।

    বা:। সুন্দর নাম তো।

    টিয়া না চন্দনা?

    ওই হবে দুটোর একটা।

    পাখি পাবেন। এখন একটু বসুন। এসেছেনই যখন কষ্ট করে। যতদিন ধরে এই ফ্ল্যাটে এসেছি ততদিন ধরেই আপনাকে চোরের মতো দেখি।

    কী করে?

    আপনি তো রোজই সকালে এই সময়টা জানলার সামনে বসেন এসে। তারিয়ে তারিয়ে চা খান। মাঝে মাঝে গানও গান। দূর থেকে গান শোনা যায় না কিন্তু বোঝা যায় যে গান গাইছেন।

    তার পর ভদ্রলোক বললেন, জানেন, আপনি যে অমলতাস গাছটার দিকে চেয়ে গান করেন আমিও সেই গাছটা রোজই দেখি। কালিদাসের লেখাতেও এই অমলতাসের কথা আছে। একবার মধ্যপ্রদেশের ধার জেলাতে মান্ডুর দুর্গে গেছিলাম। রুপমতী আর রাজহাবাদুরের মান্ডু। ভারি সুন্দর সেই দুর্গ। সেখানে অনেক অমলতাস দেখেছিলাম। বাওবাব গাছও দেখেছিলাম আফ্রিকাতে। ইংরেজরা যে গাছকে বলে Upside down tree। পূর্ব আফ্রিকাতে সে গাছ অনেকই আছে। মান্ডুতেও আছে। স্থানীয় মানুষেরা তাদের বলে ‘বিলাইতি ইমলি’।

    আপনি অনেক দেশ ঘুরেছেন না?

    নিজের এই সুন্দর দেশটাকেই তো পুরোপুরি দেখে উঠতে পারলাম না। এমন দেশ সত্যিই আর কোথাও নেই। কত বৈচিত্র্য এই দেশে।

    আপনার আসল দেশ কোথায়?

    ভারতবর্ষে।

    না, না, আসল দেশ।

    বললামই তো। ভারতবর্ষই আমার দেশ।

    কোথায় থিতু হবেন?

    সেইটেই তো ঠিক করা হয়নি আজ অবধি। আমিও একটি পাখিই। বলতে পারেন পরিযায়ী পাখি। যদি তেমন সুযোগ-সুবিধে হয়, তবে এই ফ্ল্যাটেই থেকে যেতে পারি বাকি জীবন।

    আপনার স্ত্রী এবং সন্তানেরা কি এই এক-কামরার ফ্ল্যাটে আঁটবেন?

    স্ত্রী, সন্তান আমার নেই, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

    সে আবার কী কথা?

    সকলেই যা করে, তা করব না বলেই ঠিক করেছিলাম আমি ছেলেবেলা থেকে।

    কেন? এমন ধনুক-ভাঙা পণ?

    আমি এরকমই।

    কীরকম?

    অন্যরকম। আপনার ভালো লাগে না অন্যরকম হতে?

    আমি নিরুপায়। আমার অন্যরকম হওয়ার উপায় নেই। এই জীবনকে আমার ভালো লাগাতেই হবে। রুমনি বলল।

    হঠাৎই পাখিটা বলে উঠল ডাব্বু উঠে পড়ো। স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

    ভদ্রলোক চমকে উঠলেন আর রুমনি হেসে উঠল।

    ডাব্বু কে?

    আমার মেজোছেলে।

    আপনার ক-ছেলে-মেয়ে?

    তিন ছেলে।

    মেয়ে নেই?

    না:।

    এই না:-এর মধ্যে একটু দুঃখ ঝরে পড়ল যেন। সেটা কান এড়াল না ভদ্রলোকের। একটিও মেয়ে না থাকার দুঃখ সব মায়েরাই বোঝে। আশ্চর্য। পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও যেন সেই দুঃখের রকমটা বুঝলেন ভদ্রলোক।

    একটু চা করি? এই প্রথম আমার কাছে এলেন।

    চা-ই তো খাচ্ছিলাম এতক্ষণ। কী দরকার?

    সে তো আপনার চা, আমার চা তো নয়। দুধ, চিনি আলাদা দিচ্ছি। পাঁচ মিনিটও লাগবে না। ‘কুরকুরে’ খাবেন চা-এর সঙ্গে? ‘বিস্কফার্ম’-এর ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কিট?

    না না কিচ্ছু না। চা-ও না হলে চলত। পাখিকে খাঁচায় রেখে আমার ছাদে যেতে হবে। অনেক জামাকাপড় মেলা আছে। মনে হচ্ছে, ঝড়বৃষ্টি আসবে। আকাশ ক্রমশ কালো করে আসছে, দেখছেন না?

    তাহলে চা-টা খেয়ে আগেই জামাকাপড়গুলো তুলে ফেললে হত।

    পাখি যদি উড়ে যায়। আপনার তো খাঁচা নেই।

    না। আমার খাঁচা নেই। কিন্তু পাখিরা তো ওড়বার জন্যেই।

    কিছু পাখি থাকে খাঁচাতেই জীবন কাটাবার জন্যে। তারা উড়তে পারে না। তা ছাড়া উড়ে যাবেই বা কোথায়?

    সাহস করে উড়ে যেতে পারলে থাকার অভাব কি হয়? তা ছাড়া, খাঁচায় থাকার দরকারও তো তখন আর থাকে না।

    তা ঠিক। একটুক্ষণ চুপ করে থেকে রুমনি বলল।

    গ্যাস-এর উনুনের পরে ছোটো কেটলিটা চাপিয়ে দিয়ে ভদ্রলোক বললেন, আজ তো রবিবার। আজ তো সকালে আপনার একা থাকার কথা নয়।

    বাড়িসুদ্ধু সবাই রাহুল গান্ধির মিটিং-এ গেছে।

    তাই? ভদ্রলোকের গলায় যেন কৌতুক ঝরে পড়ল।

    গণতন্ত্রে প্রত্যেক মানুষের পছন্দও আলাদা আলাদা। কেউ কংগ্রেসি, কেউ কমিউনিস্ট, কেউ বিজেপি, কেউ বা অন্য কোনো দলের।

    বলেই বলল, আপনার কোন দল?

    আমি নির্দল। পছন্দ করার মতো দল পাইনি তাই। ভদ্রলোক বললেন।

    আপনি কি লেখক?

    লেখক বলতে আপনি যা-বোঝেন আমি তেমন লেখক নই। আমি লেখক অবশ্যই তবে কোনো এস্টাবলিশমেন্টের লেখক নই। আমার গলায় বকলস-এর দাগ নেই। আমি এই সুন্দর দেশটাকে আরও সুন্দর দেখতে চাই। সব রাজনৈতিক নেতাদেরই খতম করতে চাই।

    রুমনির মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। বলল, আপনি নকশাল?

    আমি অ্যাক্টিভিস্ট নই, থিয়োরেটিশিয়ান।

    তার পর বললেন, কথাটা কি বুঝলেন?

    লেখাপড়া তো বেশি করিনি। উচ্চমাধ্যমিক পাস আমি। বেশি বুঝব কী করে?

    বেশি না বোঝাই ভালো। এটুকু বুঝলেই হবে যে, কোনো রাজনৈতিক দলই আমাকে পছন্দ করে না। তাই আমি একলা থাকি, একলা পড়ি, একলা ভাবি, একলা লিখি।

    তার পরই বললেন, দেখুন, আপনাকে নিজের সম্বন্ধে অনেক কথা বলে ফেললাম। যা আমার পক্ষে বিপজ্জনক। কিন্তু সংসারে আপনার মতো মানুষ থাকেন, সংখ্যাতে যদিও তাঁরা খুবই কম, যাঁদের বিশ্বাস করা যায়।

    বিশ্বাস করে কখনো ঠকেননি জীবনে?

    বার বার ঠকেছি। কিন্তু ওই ….

    ওই কী?

    ওই একটা রোগ। কিছু মানুষের ওই রোগ থাকে। বারে বারে শিকার হওয়ার পরও বিশ্বাস করা তারা ছাড়তে পারে না।

    রুমনি উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল। ভদ্রলোক একটি লেসঢাকা ট্রেতে চারটি ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কিটে পাতলা করে মাখন লাগিয়ে লিকারের পট, এবং চিনির পট আলাদা করে এনে রুমনির চেয়ারের সামনের টি-পয়ে রাখলেন।

    আপনি তো খুব সংসারী।

    তাই? যার সংসার নেই সে-ই হয়তো সংসারী হয়। এটাকে ট্র্যাজেডিও বলতে পারেন, কমেডিও।

    রুমনি বলল, আপনার ক-চামচ চিনি?

    চার চামচ।

    চার চামচ? অবাক হয়ে তাকাল রুমনি ভদ্রলোকের মুখে। আশ্চর্য! আজকাল প্রায় কেউ চিনি খান না।

    হ্যাঁ। আজকালকার ফ্যাশন। আমি খাই। আমার জীবনে মিষ্টত্ব বলতে তো শুধুমাত্র এই চিনিই।

    আপনি কিন্তু খুব সুগৃহিণী। আপনার মতো গোছানো কোনো পুরুষমানুষ আমি আগে দেখিনি।

    কী করব! বহুদিন যে বিদেশে ছিলাম। সেখানে সব কাজই তো নিজেকেই করতে হত। অনেকদিন নানা দেশে থেকে শিখেছি যে, ওদের সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা হল স্বাবলম্বনের শিক্ষা এবং অন্যের প্রাইভেসিকে সম্মান করার শিক্ষা। অথচ আমাদের মধ্যে যাঁরা পশ্চিমি দেশে থাকি ফিরে এসে এই দুই শিক্ষাকে পুরোপুরি ভুলে যাই।

    বা:। খুব সুন্দর চা তো। কী চা এটা?

    অরেঞ্জ পিকো। দার্জিলিং থেকে আমার এক ছাত্রী প্রতি দু-মাস অন্তর পাঠায় যেখানেই থাকি না কেন। দু-তিন প্যাকেট জমে গেছে আপনি নেবেন একপ্যাকেট?

    ভয়ার্ত গলায় রুমনি বলল, না না, আমার স্বামীকে কী বলব? আপনার ঘরে এতক্ষণ ছিলাম, চা খেয়েছিলাম জানলেই তো কুরুক্ষেত্র হবে। তার ওপর যদি চা নিয়ে যাই……

    তাই? আপনার নামটা তো বললেন না।

    আমার নাম রুমনি।

    ভালোনাম?

    ভালো খারাপ দুই-ই।

    আপনার নাম দিলাম পাখি।

    আর আপনার নাম?

    আমার নাম বীরু মজুমদার। কারোকেই আমার নামটা বলার দরকার নেই। এ-বাড়ির যাঁরা আমাকে চেনেন, মায় আপনার পটলা পর্যন্ত, আমাকে বুড়োবাবু বলেই জানে।

    বুড়োবাবু মানে? আপনি কি বুড়ো?

    বুড়ো নই? বয়েস প্রায় ষাটের কাছাকাছি হল। মনে না হলেও শরীরে বুড়োই।

    তাই মনে হয়?

    রুমনি কিছু বলার আগেই দড়াম করে খোলা জানালার একটা পাল্লা পড়ল উতল হাওয়ায়। রুমনি চিন্তার গলাতে বলল, দেখলেন ঝড় উঠল। আমার এবারে যেতেই হবে কাপড়গুলো তুলতে।

    আমিও যাব আপনার সঙ্গে সাহায্য করতে। চা-টা আর অন্তত দুটো বিস্কিট খেয়ে নিন। আর দেখা হয় কি না হয়! না খেলে,আমার খারাপ লাগবে।

    দেখা হবে না কেন? আপনি কি চলে যাবেন এখান থেকে?

    থাকা না-থাকা কি আমার নিজের হাতে? আমি আপনার ওই পাখিরই মতো। উড়ে গেলেই হল ফুড়ুৎ করে। তার পর কার খাঁচায় থাকতে হবে কে জানে! আপনার কখনো উড়তে ইচ্ছে করে না?

    উড়ব কী করে? আমার দু-পায়েই যে শিকল।

    তার পর বলল, আপনি মানুষটা ভীষণ রহস্যে ঘেরা।

    রহস্যহীন জীবন কি জীবন? তবে দুর্ভেদ্য রহস্য নেই কিছু। তেমন করে কেউ চাইলে রহস্য উদঘাটিত হতেই পারে। বলেই, বুড়োবাবু উঠে জানালাগুলো বন্ধ করে দিলেন।

    বললেন, ভয় কি আর একটা? ঝড় ঘরে ঢুকে পড়ার ভয়, ঘরের বাইরে পাখি উড়ে যাওয়ার ভয়। কী বলেন?

    রুমনি ভাবল, দরজা-জানালা বন্ধঘরে আরও কত ভয়। কতরকম ভয়।

    ও উঠে পড়ে বলল, ধন্যবাদ।

    কেন? ধন্যবাদের কী করলাম?

    বা:, আমার পাখিকে ধরে দিলেন, লপচু চা আর বিস্কিট খাওয়ালেন।

    এবারে যাই। চায়ের কাপটা নামিয়ে রেখে রুমনি উঠে দাঁড়াল।

    চলুন। ভদ্রলোক বললেন।

    বলেই, রুমনির সঙ্গে উনিও উঠে তেতলার সিঁড়ি ধরে ছাদে গিয়ে পৌঁছোলেন। ওরা উঠতে উঠতে ঝড় উঠে গেছে পুরোপুরি। ছাদের লম্বা তারের সঙ্গে ক্লিপ দিয়ে আটকানো জামা-কাপড়গুলো উথালিপাথালি করছে। দু-জনে তাড়াতাড়িতে দু-হাত দিয়ে জামাকাপড়গুলোখুলতে যেতেই শুকোতে দেওয়া রুমনির ম্যাক্সিতে জড়িয়ে গেল দুজনেই। জড়িয়ে যেতেই বুড়োবাবু রুমনিকে জড়িয়ে ধরে প্রথমে ওর দু-চোখে, তার পর কপালে, তারও পরে ঠোঁটে এবং স্তনসন্ধিতে চুমু খেলেন। সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনার অভিঘাতে বিবশ হয়ে গেল রুমনি। তার দু-হাঁটুর সব জোর অন্তর্হিত হল। দু-হাত দিয়ে ও বীরু মজুমদারকে এমন নির্ভরতাতে জড়িয়ে ধরল যে, অত জোরে গগনেন্দ্রকেও সে জড়িয়ে ধরেনি কোনোদিন। প্রথম বার কনসিভ করার পরে যখন ওর অ্যাবর্শন হয়েছিল পাঁচ মাসের মাথায়, তখনও নয়।

    তার পর দুজনে দুজনকে ছেড়ে দিয়ে বাকি জামাকাপড়গুলি তুলে নিয়ে যখন নীচে নামল ছাদ থেকে তখন বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টিও পড়তে আরম্ভ করেছে।

    সিঁড়ি দিয়ে জামাকাপড়ে আবৃত হয়ে নামতে নামতে বীরু মজুমদার অস্ফুটে বললেন, রাহুল গান্ধির প্রথম মিটিংটা জলেই গেল।

    ওঁর ঘরের সামনে এসে ভদ্রলোক বললেন, আগে কি জামাকাপড়গুলো নিয়ে যাবে, না পাখিটা? এতগুলো জামাকাপড় একা নেবেই বা কী করে? একটু থেমে বললেন, তোমাকে তুমিই বলছি। প্রথমত, বয়েসে তুমি অনেকই ছোটো। তা ছাড়া যাকে চুমু খাওয়া যায়, সেই জোরেই তাকে তুমি বলাই যায়। রুমনি তখনও একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। জবাবে কিছুই বলল না। তার জীবনে আজকের দিনটি একটি বিশেষ দিন, দিন বিশেষ। কথা ঘুরিয়ে রুমনি বলল, একাই তো মেলতে গিয়েছিলাম। একাই কেচেছি।

    না:। তুমি স্বছন্দে বিদেশে থাকতে পারতে। স্বয়ম্ভরতার বক্তৃতা তোমাকে দেওয়া আমার ঠিক হয়নি।

    বলেই বলল, আমি যাই তোমার সঙ্গে। জামাকাপড়গুলো শুকিয়ে যে ফুলে গেছে।

    ভয়ার্ত গলাতে রুমনি বলল, না, না,আপনি আসবেন না। কেউ দেখে ফেললে! উলটো দিকের ফ্ল্যাটের মিসেস ব্যানার্জি আছেন—সাংঘাতিক মহিলা। আমার স্বামী ফেরামাত্র রিপোর্ট করবেন।

    তাহলে তুমি এগুলো নিয়ে যাও। একটু পরে আমিই তোমার পাখিকে নিয়ে যাব। পাখি আমার ফ্ল্যাটে উড়ে এসেছিল আমি তো তাকে তোমার জিম্মাতে দিতে যেতেই পারি। পাখি তোমার নীড়ের পাখি।

    দরজার চাবি খুলতে খুলতে বীরু মজুমদার বললেন, একবার ভেতরে আসতে হবে রুমনি। তোমাকে বড়ো করে একবার ছোটো আদর করব। আর আমি যদি এখানে থাকি এবং এমন হঠাৎ করে কোনো সুযোগ ঘটে যায় তাহলে তোমাকে একদিন বড়ো আদরও করব। যার স্মৃতি আমার বাকি জীবনের সর্বক্ষণের সঙ্গী হবে।

    রুমনি উত্তর না দিয়ে বুড়োবাবুর ঘরের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে ঢুকে গেল।

    উত্তেজনা এবং ভালো লাগায় বিবশ রুমনি পাঁচ মিনিট পরে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে একটি ‘রুহ খসস’ আতরের ছোটো শিশি দিলেন ভদ্রলোক। বললেন, তোমার স্বামী তোমাকে আদর করার আগে তোমার স্তনসন্ধিতে মেখো, আমার কথা মনে পড়বে। সুগন্ধি চা নিয়ে গেলে উনি হয়তো বুঝতে পারতেন। রুহ খসস-এর গন্ধ উনি বুঝতে পারবেন না। সব পুরুষে সব সুগন্ধর খোঁজ রাখেন না।

    রুমনি বাইরের দরজার লক খুলে একডাঁই কাপড়জামা নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই বীরু মজুমদার রুমনির পাখিকে একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে নিয়ে এলেন। রুমনি পাখিকে খাঁচাতে ভরে দিতেই পাখি বলল, সব দেখেছি, হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব।

    বীরু মজুমদার হেসে উঠলেন। বললেন, ভাঙগে যা।

    তার পর যাওয়ার আগে রুমনির গ্রীবাতে একটি চুমু খেয়ে বললেন, ভালো থেকো, সুখে থেকো। মেয়েদের গ্রীবাও যে চুমু খাওয়ার একটি জায়গা একথা বিবাহিতজীবনের এতগুলো বছরেও কখনো জানেনি রুমনি।

    ৪

    এখন রাত হয়েছে প্রায় এগারোটা। গগনেন্দ্র এবং ছেলেরা শুয়ে পড়েছে। কাল সকালে ওঠা নেই। ছেলেদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি গরমের জন্যে একসপ্তাহ বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। গগনেন্দ্র এমনিতেই সাড়ে এগারোটা নাগাদ বেরোয় ধীরেসুস্থে—ওর বছরে দু-একদিনই তাড়া থাকে। আজ রাতে বিছানাতেও ডিউটি নেই রুমনির। পটলা থাকলে খুব নীচু ভলিউমে বাংলা সিরিয়াল দেখে বারোটা সাড়ে-বারোটা অবধি। মাঝে মাঝে রুমনিকেও ডেকে নেয় ভালো সিরিয়াল থাকলে। আজ সেও নেই। ছেলেদের ঘরে এবং তাদের শোয়ার ঘরে ঘুম নেমেছে এখন। জানলার পাশে চেয়ার পেতে বসে আছে রুমনি। আজ সারাটাদিন ঘোরের মধ্যে কেটেছে। রাতেও ঘোর কাটেনি। ওর চেয়ারে বসে বীরু মজুমদারের জানলা-খোলা ফ্ল্যাটের দিকে চেয়েছিল রুমনি। ঝড়বৃষ্টি হওয়াতে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হয়েছে একটু। একটা ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। নীচের মাঠটার এককোনাতে একটি কাঁঠালি চাঁপা গাছে অজস্র ফুল ফুটেছে। রাতের বেলা ফুলের গন্ধ যেন জোর হয়। বীরু মজুমদার টেবিল-এর সামনে বসে টেবিললাইট জ্বেলে কী যেন লিখছে। বড়োরাস্তা দিয়ে ট্রাম এবং বাস যাওয়ার আওয়াজ হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন ওদের ফ্ল্যাটবাড়ির সামনে দিয়েই যাচ্ছে। দু-তিনটি নেড়িকুকুর একটা বেড়াল দেখে ‘ভুক ভুক’ করে তাকে তাড়া করল। বীরু মজুমদার কি দেখতে পাচ্ছে যে, রুমনি জানলার পাশে বসে তার ঘরের দিকে চেয়ে আছে? আজ বিকেলে গা ধুয়ে উঠে স্তনসন্ধিতে একটু ‘রুহ খসস’ লাগিয়েছিল রুমনি। গন্ধটা খুব গাঢ় কিন্তু তীব্র নয়। নবাব আর বেগমেরা এসব ব্যবহার করেন। এই গন্ধ অচেনা রুমনির কাছে। ওর গ্রীবাতেও সামান্য একটু লাগিয়েছে, যেখানে বীরু মজুমদার ওকে চুমু খেয়েছিল।

    এমন সময় নীচে দুটি পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়াল। একটি জিপ এবং একটি ভ্যান। ভ্যান থেকে জনা চারেক পুলিশ রাইফেল নিয়ে নামল। জিপ থেকে দুজন অফিসার নামলেন। তাঁদের কোমরে রিভলবার গোঁজা। দুজন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ফ্ল্যাটে ঢুকে গেলেন। একটু পরে বীরু মজুমদারের ঘরের বড়ো আলোটা জ্বলে উঠল। একটি গেরুয়া-রঙা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পরে বীরু মজুমদার গিয়ে দরজা খুললেন। তার একটুক্ষণ পরে পুলিশ অফিসাররা তাঁকে নিয়ে ঘরের বাইরে এলেন। রুমনি জানলা দিয়ে মুখ বের করে গলা বাড়িয়ে নীচে তাকিয়ে রইল। ওর বুকটা ভয়ে কাঁপতে লাগল। একটু পরেই বীরু মজুমদারকে নিয়ে তাঁরা ভ্যানটার পেছনে গেলেন। ওঁকে উঠতে বললেন বোধ হয়। একটু পরেই বীরু মজুমদার ওপরে রুমনির জানলার দিকে তাকালেন। রুমনি তো তাকিয়েই ছিল। তার পরই বীরু মজুমদারকে নিয়ে ভ্যানের মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যানের দরজা বন্ধ করে দিল পুলিশেরা। যে দুজন পুলিশ নেমেছিল তারাও উঠল। অফিসারেরা জিপে গিয়ে উঠলেন। বাড়ির লিফটম্যানও বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। তার ডিউটি রাত বারোটা অবধি। বারোটোর থেকে সকাল ছ-টা অবধি লিফট অটোম্যাটিক থাকে। পটলাটা থাকলে কাল সকালে লিফটম্যানের কাছ থেকে বিস্তারিত খবর পাওয়া যেত।

    পাগলা কোকিলটা কৃষ্ণচূড়ার ডাল থেকে ‘কুহু কুহু’ ডেকে উঠল। মানুষটা রুমনিকে পাখি বলে ডেকেছিল। কিন্তু রুমনি-পাখি তো ডাকতে জানে না। শুধু কাঁদতে জানে। রুমনির বুক চোখের জলে ভিজে গেল। সেই জলের জন্যে ‘রুহ খসস’ আতরের গন্ধটা আরও তীব্র হল যেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }