Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাবুর জমি

    এবছরে বৃষ্টি যখন হওয়ার কথা তখন বৃষ্টি হয়নি। এখন সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকে অবশ্য প্রায় রোজই বৃষ্টি হচ্ছে। এ-অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে কি হচ্ছে না, তা বোঝা যায়, হাওড়া থেকে ট্রেনটা গুসকরা স্টেশনের কাছাকাছি এলেই।

    খালটাতে এত জল হয় যে, পুরো এলাকাই প্লাবিত হয়ে যায়। মনে হয়, বন্যা হয়েছে। চাষের মাঠ-টাঠ কিছুই আর গোচরে আসে না। কিন্তু এবছরে খালটা এখনও ভরেনি অথচ প্রায় মহালয়া এসে গেল। এই মহালয়াতেই নাকি তর্পণও করতে হয়। তার মানে, শরৎকাল এসে গেল অথচ লেটলতিফ বৃষ্টির এখন টনক নড়ল।

    গাদুবাবুদের নানারকম ব্যাবসা। মস্ত বড়োলোক তাঁরা। এবং প্রতিদিনই আরও বড়োলোক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ওঁদের লাইনে ওঁরা প্রায় মনোপলিস্ট। আর অন্য কেউ মাথা তুলতে গেলেই মাথায় ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দেন। প্রতিযোগীর ইউনিয়নকে টাকা খাইয়ে স্ট্রাইক করিয়ে দেন, দামে আণ্ডারকাট করেন। মানে নিজেদের একাধিপত্য বজায় রাখতে সব কিছুই করেন। ওর বাবা নাদুবাবু ওকে বলে গেছিলেন একটি সারকথা : Lack of expansion means decay কথাটাকে লাখকথার এককথা মনে করে ব্যাবসা করে যাচ্ছেন গাদুবাবুরা পাঁচ ভাই।

    ওঁর বাবা আরও বলতেন, সুস্থ প্রতিযোগিতা বলে কোনো কথা নেই। প্রতিযোগিতা সবসময়েই অসুস্থ।

    গাদুবাবু মেজোকর্তা। পশ্চিমবঙ্গীয় বড়ো ব্যবসায়ীদের পরিবারে সচরাচর দেখা যায় যে, মেজোকর্তারাই পরিবারের লিডার। দু-একটা পরিবারে যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়। কোথাও বড়োকর্তা বা ছোটোকর্তাই লিডার। তবে সব ব্যবসায়েই একজন লিডার অবশ্যই দরকার। যে-প্রতিষ্ঠানে কোনো লিডার নেই, সে-প্রতিষ্ঠান লাটে উঠে যায়। গাদুবাবুদের পরিবারে তেমন কোনো দুর্বিপাকের সম্ভাবনা নেই। নাদুবাবুর মৃত্যুর পরে গাদুবাবু শক্তহাতে হাল ধরেছেন এবং বাবার ব্যাবসা যত বড়ো ছিল এই দু-যুগের মধ্যে ব্যাবসা তার দশগুণ বড়ো করেছেন।

    ট্রেনটা গতি কমাল। সামনে সম্ভবত অন্য কোনো ট্রেন যাচ্ছে তাই আজ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস টিকির টিকির করে যাচ্ছে। পিচকুড়ির ঢাল-এ এসে ট্রেনটা দাঁড়িয়ে গেল। বিরক্তি বাড়ছিল গাদুবাবুর। নানা কারণে বিরক্তি। প্রথমত ট্রেনে করে শান্তিনিকেতনে যাওয়া-আসা একেবারেই পছন্দ করেন না তিনি। কালেভদ্রে এলে, গাড়িতেই আসেন। সময় পান কোথায় আসার? সময় কোথা, সময় নষ্ট করবার? তা ছাড়া, এই এসি চেয়ারকারে কলকাতার যত উঠতি বড়োলোক সব মাছির মতো থিকথিক করে। বনেদি বড়োলোক বলে গাদুবাবুর মনে এক চাপা গর্ব আছে। তাঁরা সব কিছু পুরোনো ব্যাপারেরই ধারক ও বাহক। তবে নিন্দুকেরা বলে যে, গাদুবাবুদের ‘বনেদিয়ানা’র বয়েস পঞ্চাশ বছরও নয়। নাদুবাবু ছিলেন হ্যারি কিংসটনের স্টেনোগ্রাফার। কাছাখোলা স্বভাবের কিংসটন সাহেবের অসুস্থতার সময় কাগজপত্রে কারচুপি করে অত বড়ো সায়েবকোম্পানির মালিক বনে যান। কিন্তু সেসব কথা জানেন অতিঅল্প লোকে এবং সেই অতীত এখন তামাদি হয়ে গেছে। তা ছাড়া ‘নাথিং সাকসিডস লাইক সাকসেস’। কী করে যে সেই সাকসেস এল, সেকথা কেউ সাকসেসফুল হওয়ার পরে অন্যেরা কনভিনিয়েন্টলি ভুলে যান।

    গাদুবাবু সাধারণের সঙ্গে মেশাটা একেবারেই পছন্দ করেন না বলেই, এই সেকেণ্ড ক্লাস এসি কম্পার্টমেন্টে ট্রাভেল করতে তাঁর ইজ্জতে লাগে। তা ছাড়া, রাজ্যের মানুষে আমড়াগাছি করতে আসে তাঁকে দেখতে পেলেই। অসহ্য লাগে গাদুবাবুর।

    তাঁর বিরক্তি বাড়ছে, আরও নানা কারণে। ট্রেনটা সাড়ে বারোটা নাগাদ শান্তিনিকেতনে পৌঁছোবার কথা। আড়াইটের সময় তাঁর ছোটোছেলে আমেরিকা থেকে ফোন করবে। সে একটি আমেরিকান মেয়েকে বিয়ে করতে চায়। আর তাই যদি করে, তাহলে সে তো আর বাগবাজারেরর গলির সাবেক বাড়িতে থাকবে না। দেশের পারিবারিক ব্যাবসাতেও আসবে না। বড়োছেলে তো অস্ট্রেলিয়াতে চলেই গেছে এক জাপানি মেয়ে বিয়ে করে। বছরে একবার আসে। তাও অনিয়মিত। ভরসা ছিল ছোটোটারই ওপর। সেও তো এখন খরচের খাতাতে। প্রয়োজনে তাকে দু-ঘণ্টা ধরে বোঝাবেন গাদুবাবু যদি ভবি ভোলে। আসলে, বিদেশে পড়তে পাঠানোটাই ভুল হয়েছে। ‘যতীন আঢ্য হায়ার সেকেণ্ডারি’ স্কুলে পড়িয়েই ব্যাবসাতে বসিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। মেধা, বিদেশের ডিগ্রি এসব যাদের আছে ব্যাবসায়ীরা তাদের চাকর রাখে, তাদের নিজেদের মেধা আর ডিগ্রির দরকার কী?

    ব্যারিস্টার বাপি সেন বাথরুম থেকে ফেরার সময়ে পাক্কা পাঁচ মিনিট কথা বলে গেলেন গাদুবাবুর সঙ্গে। ক্যালকাটা ক্লাবে যান না কেন গাদু রায়? বেঙ্গল ক্লাবেও কেন দেখা যায় না তাঁকে? এইসব বোকার মতো সব কথা। আসলে এসব কোচসুদ্ধু মানুষকে শোনানোর জন্যে যে, গাদু রায়ের সঙ্গে বাপি সেনের কীরকম ঘন পরিচয়। ফু: ব্রিফলেস ব্যরিস্টার। শান্তিনিকেতনে বাড়ি করে জাতে উঠেছে।

    আজকাল এই এক হয়েছে। শান্তিনিকেতনে বাড়ি না করলে স্ট্যাটাস থাকছে না কারোরই। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথের ছেলে না শালা তা না জানলেও, কাদম্বরী দেবী রবীন্দ্রনাথের মেজোপিসিমা না ছোটোপিসিমা, তা না জানলেও শান্তিনিকেতনে একটা বাড়ি করাটা বিশেষই দরকার। রবীন্দ্রনাথকে সবরকম অপমান অসম্মান যাঁরা করেন তাঁদেরও দরকার, নইলে বসন্তোৎসবে আর পৌষোৎসবে টিভির ক্যামেরার সামনে হিরো হবেন কী করে? বসন্তোৎসবে ধুমসো ধুমসো বুড়ির হাঁটুর ওপরে শাড়ি তুলে বাচ্চা মেয়েদের সঙ্গে ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে’ অথবা ‘বসন্তে ফুল গাঁথল’ নেচে নচে মেদিনী কাঁপিয়ে না দিলে আর নিজেদের ‘‘কেলচার’’ ফোটানো হয় না।

    গাদুবাবু মনে মনে হাসেন। ভারতবর্ষের সব শহরে, আমেরিকাতে এবং সুইজারল্যাণ্ডেও যে তাঁর বাড়ি আছে একথা এই পাতিদের কাছে জানিয়ে কী আর হবে? ওঁর, ওঁদের লেভেলই আলাদা!

    না: গাদুবাবুর চিন্তা বড়ো বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ট্রেনটা সময়ে না গেলে কেতো হয়তো বসে থেকে থেকে চলে যাবে। সিউড়ি থেকে বাসে চেপে আসবে সে। ইদানীং সি পি এম করে, খুব তেল বেড়েছে। ইলেকশনের পরে আরও রংবাজ হয়েছে। যদিও সব পার্টির সব দাদাকেই গাদুবাবু ইলেকশনের আগে তোলা দেন কিন্তু ছোটো ছোটো তোলাবাজদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেন না। তবে কেতো অবশ্য আজকে আসবে অন্য ব্যাপারে। গাদুবাবুদের বাড়ি আছে পূর্বপল্লিতে। গাদুবাবুর দু-বিঘাতে চলে না। দু-বিঘা জমি তো রবিঠাকুরের উপেনেরও ছিল। উনি তাঁর ডান পাশে বাঁ-পাশে যত বাড়ি আছে সবই একে একে কিনে নিতে চান। তিনটি বাড়ি ইতিমধ্যেই নিয়ে নিয়েছেন। চতুর্থটি সম্বন্ধেই কথা বলতে আসবে কেতো। জমি-বাড়ির দালালি করে গত পনেরো বছরে কেতো লাখ বিশেক কামিয়ে নিয়েছে। শান্তিনিকেতনে সে তার শালা মদনার মাধ্যমে অপারেট করে। এই বাড়িটি হয়ে গেলেই একলপ্তে দশ বিঘা জমি হয়ে যায় গাদুবাবুর। ভবিষ্যতে তিনি তাঁর বাড়ির আম্রকুঞ্জেই বসন্তোৎসব করবেন। খেতে হলকর্ষণ উৎসব করবেন আর পৌষমেলাও করবেন। কলকাতার যত নামি ডাক্তার, মোক্তার, ব্যারিস্টার, সলিসিটর সকলকে এক করে দেবেন স্কচ-এর ফোয়ারা ফুটিয়ে আর সঙ্গে থাকবে কিছু স্থানীয় রিটায়ার্ড বুড়ো-হাবড়ারা, যাদের চোখ জুলজুল করে স্কচের নামেই। আরও ডাকবেন কিছু দুর্বুদ্ধিজীবীদের। পশ্চিমবঙ্গীয় দুর্বুদ্ধিজীবী। তাঁর বাবা নাদুবাবু বলতেন, ‘দ্য ওনলি স্পেসিস ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। ইউনিক ইন দেয়ার অপারচুনিজম অ্যাণ্ড মিননেস।’

    দু-বিঘা জমিওয়ালা চতুর্থ বাড়িটা আজই কিনে ফেলতে পারলে গাদুবাবু নিশ্চিন্ত হন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে গা-ঘেঁষাঘেষি তাঁর পছন্দ নয় বলেই তিনি একটু Breathing space চান। এই ডিলটা হয়ে গেলেই সেটা সম্ভব হবে। তার পরে আর্কিটেক্ট, গার্ডেন প্ল্যানার, হর্টিকালচারিস্ট সকলকে পাঠাবেন একে একে এবং তাঁর সুন্দরী সফিসটিকেটেড স্ত্রী মৃত্তিকা দেবী সব অ্যাপ্রুভ করে দিলেই তিনি ফাণ্ড-এর বন্দোবস্ত করে দেবেন।

    অবশেষে ট্রেনটা ইন করল শান্তিনিকেতন স্টেশনে। বাড়ির ম্যানেজার রাধু এসেছিল ড্রাইভারকে নিয়ে। আজকাল শান্তিনিকেতন কলকাতা হয়ে উঠেছে। গাড়ির ভিড়ে নড়াচড়া করা যায় না। আগে সাইকেল-রিকশাই বেশি ছিল। নাদুবাবু তখন কতিপয় বাবুদের সঙ্গে গাড়িচড়ার বিলাসিতা উপভোগ করতেন। গাড়ি-চড়া মানুষকে পথচারী,সাইকেল-রিকশাওয়ালা, দোকানদারেরা সমীহ করত। আজকাল শান্তিনিকেতনে শান্তিও নেই, শ্রদ্ধাও নেই। হেঁজিপেঁজি সকলেরই এখন গাড়ি আছে। আর কীসব ছারপোকার মতো গাড়ি বেরিয়েছে গুচ্ছের। গাড়িতে গাড়িতে ছয়লাপ।

    পূর্বপল্লি, স্টেশান থেকে কাছেই। বড়ো রাস্তাটাতেই যা-গ্যাঞ্জাম। তার পরে ফাঁকাতে পড়ে বাড়ি পৌঁছে গেলেন।

    মস্ত বড়ো লোহার ফটক। চারখানা হাতি অথবা মার্সিডিজ ট্রাক পাশাপাশি ঢুকে যেতে পারে। পাগড়ি-পরা দারোয়ান গেট খুলে সেলাম করল। তার বাবাও গাদুবাবুর বাবার আমলে দারোয়ানি করে গেছে। বিহারের মধুবনি জেলার লোক, এরা সব বংশপরম্পরায় কর্মচারী। গাড়ি গিয়ে পর্চ-এ দাঁড়াল। দশথাক সিঁড়ি উঠে প্রকান্ড ল্যাণ্ডিং, ইটালিয়ান মার্বেল-এর। ড্রইং রুমে ঢুকতেই নাদুবাবুর একটি প্রকান্ড পোট্রেট। থ্রি পিস পিন-স্ট্রাইপ স্যুট পরা। মাথায় বাউলার হ্যাট। কোটের বুকপকেটে ‘ডু পঁ’ কলম। যদিও চেকবই আর দু-নম্বর টাকার হিসেব রাখা ছাড়া, যে-কলম দিয়ে আর কোনো কর্মই ইহজগতে করেননি তিনি। সোনার চেন লাগানো রোলেক্স পকেট-ঘড়ি।

    গাদুবাবু ভক্তিভরে বাবার ছবিতে প্রণাম করে তবে বাড়িতে ঢুকলেন। এই একটা ব্যাপারে সাধু, বিদ্বান, চোর, ডাকাত, খুনি বা পকেটমারের মধ্যে কোনোই তফাত নেই। সকলেই যার যার বাবাকে ভক্তি করে। বাবাকে ভক্তি করার অধিকার সকলেরই আছে কিন্তু ছেলে তাকে ভক্তি করলেই চোর বা ডাকাত বা ফোরটোয়েন্টি কিছু সাধু হয়ে যান না।—এইকথাটা তাঁর পুরোনো ক্যাশিয়ার একদিন বলেছিলেন গাদুবাবুকে। তার পর থেকে নাদুবাবুর ছবিতে প্রণাম করার সময়ে প্রতিবারই সেই কথাটা মনে পড়ে। মনে মনে বললেন, বাবা, ও বাবা। তুমি কি সাধু ছিলে? না অসাধু? বলাবাহুল্য নাদুবাবুর অয়েল পেন্টিং উত্তর দেয় না। রিমলেস চশমার ফাঁক দিয়ে সেই তেল-রঙের তিনি দুষ্টুমিষ্টিB চাউনিতে মেজোছেলে গাদুর দিকে নীরবে চেয়ে থাকেন।

    কেতো এসে বসেছিল টাইমমতোই কিন্তু ছোটোছেলে ঝিন্টু আমেরিকা থেকে ফোন করল না। অগ্যতা তিনিই ফোন করলেন ছেলের মোবাইলে। মোবাইলও অফ করা আছে। তখন ল্যাণ্ড-লাইনে ফোন করে ভয়েসমেইল-এ মেসেজ দিলেন, ঝিন্টু, আমি শান্তিনিকেতনে এসেছি। কাল শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসে ফিরে যাব। তুমি পারলে আমায় ফোন কোরো।

    আর কীই বা বলবেন। এ তো আর তাঁদের সময় নয়, যে, এম এ পাস ছেলেও বাবা বললেই দেওয়ালে হাত দিয়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকবে। সেইসব স্বর্ণযুগ চলে গেছে।

    কেতোর সঙ্গে কথা হল। ডিল হল বটে কিন্তু দামটা অনেকই বেশি পড়ে গেল। ব্যাটা সেনগুপ্ত একটা বাজে লোক। সে জানত যে, গাদুবাবুর ইচ্ছে বলে কথা! নেবেন যখন বলেছেন তখন নেবেনই। দামের ভয়ে পিছপা হওয়ার মানুষ তিনি নন। আসলে এই নতুন বড়োলোকরা শান্তিনিকেতনে হামলে পড়াতেই জমি-বাড়ির দাম এমন চড়চড় করে বেড়ে গেল। যাকগে। গাদু রায় যা জেদ করে, তাই করে। এবার সব জমি একসঙ্গে হয়ে গেল। একটা আলাদা এলাকাই হয়ে যাবে। রায় পরিবারের। সত্যিকারের শান্তিনিকেতন। দু-এক বিঘা জমিতে কি গাদু রায়কে মানায়? সবই ভালো কিন্তু ঝিন্ট যদি দেশে না ফিরতে চায়? ব্যাবসাতে না আসতে চায়? কিছুই ভালো লাগে না গাদুবাবুর। বয়েস বাষট্টি হল। বুকের কাছটা প্রায়ই চিনচিন করে ওঠে। মৃত্তিকা প্রায়ই বলে, লেটস গো নাউ টু হুস্টন। ইউ শুড হ্যাভ আ থরো চেক আপ বাই ডা. ডেন্টন কুলি। কিন্তু কী করে বোঝাবেন গাদুবাবু মৃত্তিকাকে? জীবনে যখন আর সব কিছুই হাতের মুঠোতে চলে আসে তখন সময় হাতের বাইরে চলে যায়, নিজের থেকেই, এমনই ম্যানেজমেন্ট তাঁর, ঘানিতে যে-শব্দ ওঠে সেই শব্দটাও ওঠে না তাঁর ব্যাবসাতে, কিন্তু তবুও ব্যাবসা যেন আঠা। তা ছাড়া বড়োকর্তা সেজোকর্তা ছোটোকর্তারাও আছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কে কোন কাঠি করে দেয় কে জানে!

    কিছু ঘটে গেলে, মানে তিনি হঠাৎ দেহ রাখলে কী হবে? তাঁর বাবা নাদুবাবুর বডি পিসহ্যাভেনে রাখা ছিল।

    ঝিন্টু স্টেটস থেকে আসবে আজ। রিন্টু আসবে অস্ট্রেলিয়া থেকে। তবে রিন্টু সম্ভবত আসতে পারবে না। সে আর তার জাপানি স্ত্রী আলাস্কাতে গেছে সি-ক্রুজ-এ।

    গতকাল শান্তিনিকেতন থেকে বিকেলে শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসে এসে স্টেশান থেকে বাড়িতে ফেরার পথেই গাড়িতেই হার্ট অ্যাটাক হয়। গাদুবাবুর পার্সোনাল ড্রাইভার স্মার্ট সর্দারজি টারলোচন সিং সোজা বেলভিউতে নিয়ে যায়। গাড়ি থেকেই মোবাইলে খবর দিয়ে দেয় বাড়িতে আর গাদুবাবুর পি এ মিসেস লালওয়ানিকে।

    তার পর তো ইতিহাস। ডাক্তারেরা আই সি সি ইউতে গাদুবাবুর অতিকায় একটি সাদা ব্যাডির মতো শরীরটাকে উলঙ্গ করে সবরকম চেষ্টাই করলেন, রেসপিরেটর দিয়েও। তার পর ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিলেন—ডেথ বাই লেফট ভেন্ট্রাকুলার ফেইলিয়োর।—ব্রট ডেড টু আই সি সি ইউ। ঝিন্টু এল আজ স্টেটস থেকে বম্বে হয়ে রাতের ফ্লাইটে। বাড়ি আসতে আসতে রাত ন-টা।

    বাড়ির অন্যান্যরা চেয়েছিলেন মেজোবাবুকে সেগুন কাঠের নতুন পালঙ্কে শুইয়ে কীর্তন গাইতে গাইতে খই-এর সঙ্গে ব্যাঙ্ক থেকে বন্দোবস্ত করে আনানো চকচকে নতুন পাঁচ টাকার কয়েন ছড়াতে ছড়াতে কাশী মিত্র ঘাটে নিয়ে যাবেন। কিন্তু মেজোমা মৃত্তিকা দেবী বলেছেন, হিন্দু সৎকার সমিতির কাচের গাড়িতে করেই নিয়ে যাওয়া হবে। ওসব প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার-স্যাপার চলবে না। অতএব তাই করা হল।

    আজ কাশী মিত্র ঘাটে খুবই ভিড়। কাচের গাড়ি থেকে নামিয়ে গাদুবাবুকে শোয়ানো হয়েছে একটি বাঁশের চালির ওপরে। উলঙ্গ শরীরের ওপর কোরা চাদর ফেলা। চালিটি চওড়াতে তিন ফিট, লম্বাতে-ছ-ফিট। গাদুবাবুর পা দুটি বেরিয়ে আছে বাইরে। সকলের জন্যেই ওই মাপ। নইলে ইলেকট্রিক চুল্লিতে ঢুকবে না। বড়োলোক-গরিব, কমিউনিস্ট-ক্যাপিটালিস্ট, মালিক-কর্মচারীতে কোনো তফাত নেই। ‘পেরকিতো’ সোশ্যালিজম এদেশে শুধুমাত্র শ্মশানেই আছে।

    সাত নম্বর বডি। প্রবল প্রতাপান্বিত গাদুবাবুর এই এখন পরিচয় ‘বডি নম্বর সাত’ তাঁর ঠিক আগেই পাড়ার মুচি দুখু সিং-এর বডি। তারও আগে পোস্ট অফিসের জুনিয়র কেরানি নবীন সুরের বডি। তারও আগে অচেনা সব ডেডবডি।

    শ্মশান ভরে গেছে গাদুবাবুর কুকুর-মেকুরে। দুঃখ হোক আর নাই হোক দুঃখ দুঃখ মুখ করে তাঁরা বিভিন্ন ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। প্রায় শ-খানেক গাড়িই এসেছে। দুঃখের বিষয় গাদুবাবু জানতেও পারছেন না, তাঁর কোন কোন কর্মচারী তাঁকে শেষবিদায় জানাতে এসেছে। তাঁরা সকলেই এসেছে নাম প্রেজেন্ট করতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোনো অ্যাটেনড্যান্স রেজিস্টার নেই সেখানে। নেই কোনো টাইম মেশিন যে, কে কখন এলেন বা গেলেন তা পাঞ্চ করবে। একটা পাগল চুল্লু খেয়ে ঘুরে ঘুরে গান গাইছে—

    গোবু, তুমি মনে মনে ভাবো, তোমার মতোবাবু নাই।একদিন না হয় দু-দিন বাদে চড়বেচার বেহারার কাঁধেবাবু, তুমি মনে মনে ভাবো, তোমার মতোবাবু নাই।

    তিন ফিট বাই ছ-ফিট ইকুয়ালটু আঠেরো বর্গফিট। মাত্র এইটুকু জমির মালিকানা নিয়ে রাত দেড়টার সময়ে গাদুবাবু ইলেকট্রিক চুল্লির গনগনে আগুনের মধ্যে বাঁশের চালিতে চড়ে গড়গড়িয়ে চুল্লির মধ্যে ঢুকে গেলেন। সমস্ত টাকাপয়সা, বৈভব, সম্পত্তি, একনম্বর, দু-নম্বর টাকা, মানুষের ক্ষতি করার ক্ষমতা, অযোগ্য ও অসৎকে তোল্লাই দেওয়ার ক্ষমতা এবং শান্তিনিকেতনের দশ বিঘা জমি সবই পড়ে রইল এখানে। শেষপর্যন্ত সাধারণের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষিও ঠেকাতে পারলেন না গাদুবাবু।

    যাঁরাই কর্তা তাঁরা সবাই সব কতৃত্ব নিয়ে একদিন, এমনি করেই ইলেকট্রিক চুল্লিতে ঢুকে যাবেন নাদুবাবু-গাদুবাবুদেরই মতন। সকলেরই শুধু প্রয়োজন একটি বাঁশের চালি, একটা কোরা থান আর শুধুমাত্র আঠেরো বর্গফুট জমি। তাও ঘন্টা-দু-ঘণ্টারই জন্যে, যতক্ষণ-না ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন। আর সবই বাহুল্য।

    এই সারকথাটাই দেশ-বিদেশের নাদুবাবু-গাদুবাবুর মতো অগণ্য দন্ডমুন্ডের কর্তারা জীবদ্দশাতে বুঝতে পারেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }