Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভগলু

    একটু আগে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। চৈত্রের শেষ। বৃষ্টিতে ঝরা পাতা, ঝরা ফুল জঙ্গলময় ছড়ানো। মাটি থেকে একটা সোঁদা গন্ধ উঠছে। গুহার সামনে একটা উপত্যকা। তার মধ্য দিয়ে বোষ্টমনালা নামে একটি পাহাড়ি নদী বয়ে গেছে। নানা পাখি ডাকছে বৃষ্টির পরে। নানা পোকামাকড় উড়ছে। আর সেই পোকামাকড় ধরে খাবার জন্যে নানারকম ফ্ল্যাই-ক্ল্যাচার পাখি ঘুরে ঘুরে উড়ছে আর পোকা ধরে খাচ্ছে।

    আমার আশেপাশের সেরা রেস্টুরেন্ট

    বাঘটার সঙ্গে আমার শেষবার দেখা হয়েছিল মাস ছয়েক আগে। বাঘেদের আয়ু হিসেবে সে প্রায় বুড়ো হয়ে এসেছে। এখন তার বয়েস বারো কি তেরো বছর। বাঘটাকে এই অঞ্চলের জঙ্গলের মানুষেরা ‘ভগলু’ বলে ডাকে। সে পুরুষ বাঘ। যৌবন আসার পরে সে বার চারেক বাঘিনির সঙ্গে সহবাস করেছে। বাঘ আর বাঘিনি তো একসঙ্গে থাকে না! মানুষদের মতো মশারি টাঙানো, পাখা চালানো এসব তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাঘ-বাঘিনির মধ্যে কখনো মতভেদ হয় না। এই জানোয়ারের মতো জানোয়ার পৃথিবীতে আর নেই। সারাজীবনের আটানব্বই ভাগ সময় বাঘ ও বাঘিনি একা থাকে। তারা একেবারেই পরনির্ভর নয়। সংগমেচ্ছা তীব্র হলে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর জন্যে বন-পাহাড় কাঁপিয়ে ডাকাডাকি করে এবং বাঘের ডাক যারা জঙ্গলে শুনেছে তারা জানে সে ডাকের কী মহিমা। দু-তিন মাইল দূর থেকে সে ডাক শোনা যায়। সমস্ত পাহাড়, জঙ্গল, গাছগাছালি সে ডাকে শিহরিত হয়ে ওঠে। সঙ্গী বা সঙ্গিনী কাছে এলে তারা একসঙ্গে দিন দশ-পনেরো থাকে এবং আশ্চর্যের কথা এরকম পরাক্রমশালী জানোয়ার পৌনঃপুনিকভাবে সংগম করে এবং এক এক বারের সংগমে হয়তো একবিন্দু রেতস্খলন হয়। বাঘেদের প্রেমে কামড়া কামড়ি, মারামারি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে, জঙ্গলের সব পশুপাখি সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে। সংগমের সময় বিরক্ত হলে তারা মেজাজ হারিয়ে ফেলে এবং সঙ্গী বা সঙ্গিনীটিকে দেখাবার জন্যে অপ্রয়োজনেও অনেক গৃহপালিত পশুকে মেরে দেয়।

    আমি বেরিয়েছিলাম মুরগি মারার জন্য। রাতে খাবার কিছু ছিল না। আমার খিদমদগার শিব্ব তাই বলেছিল, পারলে কিছু মুরগি মেরে আনুন। ভালো করে বানিয়ে দেব। আমড়ার আচার আছে। কাঁচা পেঁয়াজ কেটে দেব। কাঁচালঙ্কাও আছে যথেষ্ট।

    বৃষ্টির পরে একটা কুড়ি বোরের টলির বন্দুক আর দুটি চার নম্বর ছররা নিয়ে বেরিয়েছিলাম মুরগির খোঁজে। একটু পরেই সন্ধে হয়ে যাবে। কিন্তু ভগলুর সঙ্গে যে দেখা হয়ে যাবে তা জানা ছিল না। বৃষ্টি থামার পর ভগলু গুহা থেকে বেরিয়ে, গুহার সামনে মস্ত বড়ো কালো পাথরের চাটানে বসেছিল দূরের জঙ্গলের দিকে চেয়ে। আমার পায়ে রাবার সোলের জুতো ছিল। এবং বহুদিনের অভ্যেসে জঙ্গলের মধ্যে নি:শব্দে চলাফেরাতে আমি অভ্যস্থ ছিলাম। তা ছাড়া চোখের দৃষ্টিও ছিল এক-শো আশি ডিগ্রি। চোখের মণি সোজা তাকিয়ে থাকলেও দু-পাশের কিছুর সামান্য নড়াচড়াও চোখের দৃষ্টি এড়াত না। এর আগে যখন ভগলুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখন সে হাতিগির্জা পাহাড়ের ওপরে একটা গুহাতে থাকত। বোষ্টমনালার পাশে প্রায় সমতলে অবস্থিত এই গুহাতে যে সে আস্তানা গেড়েছে তা আমার জানা ছিল না। আমরা দুজনেই দুজনকে দেখে চমকে গিয়েছিলাম। ভগলু তার শরীরটিকে ছোটো করে নিয়ে আমার দিকে সন্দিগ্ধ চোখে তাকিয়েছিল। তার দু-চোখের দৃষ্টি স্থির ছিল। আমিও তাকে দেখে স্থাণুর মতো নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। আমি বাঘ শিকারে যাইনি। সঙ্গে শুধু পাখি মারা ছররা গুলি। ভগলুও আমাকে সেখানে প্রত্যাশা করেনি। অনেকদিন পর দুই বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে যেমন করে আমরা হ্যালো বলি, তেমনি না বলা সম্ভাষণে আমরা দুজনে দুজনকে সম্ভাষিত করলাম। আমাকে দেখে ভগলু তার গুহার ভেতরে ঢুকে গেল। এবং আমিও যে সুঁড়িপথ দিয়ে হেঁটে এসেছিলাম সেই পথ দিয়েই জঙ্গলের নীচে যে উপত্যকা তাতে নেমে গেলাম মুরগির খোঁজে।

    আমার আশেপাশের সেরা রেস্টুরেন্ট

    একটা কোটরা হরিণ আমাকে এবং হয়তো ভগলুকেও দেখে তীব্র আর্তস্বরে বাক, বাক, বাক করে ডাকতে ডাকতে জঙ্গলের গভীরে দৌড়ে গেল। তার লাল-রঙা শরীরের ঝিলিক উঠল চৈত্রশেষের হলুদ এবং সবুজ জঙ্গলে।

    ২

    সেদিন বিকেলে কপাল মন্দ ছিল তাই কোনো শিকারই জুটল না খাবার জন্যে। ফুটুদাদের কাঠকাটা মুহুরি নারান বাসে করে টিকরপাড়ায় গেছিল কোনো কাজে। সেখান থেকে ফেরার সময় সে মহানদীর নাকে নোলক পরা লাল মহাশোল মাছ এনেছিল আমার জন্যে। যদিও ক্যাম্পে ফ্রিজ ছিল না, কিন্তু তখনও জঙ্গলে বেশ ঠাণ্ডা ছিল এবং বৃষ্টি হওয়াতে সে ঠাণ্ডা বেড়েছিল। তাই দু-তিন দিন সে মাছ অক্ষত রাখার কোনো অসুবিধে ছিল না। ক্যাম্পে ফিরতেই আমার খিদমদগার শিব্ব মাছের বড়ো বড়ো চাকা ভেজে দিল, কফির সঙ্গে খাওয়ার জন্যে। নারানও হাত-মুখ ধুয়ে ক্যাম্পে লণ্ঠনটা জ্বালিয়ে আমার সামনে এসে বসল। ওকেও শিব্ব কফি দিল। কফি খেতে খেতে আমরা দুজনে গল্পে মাতলাম। নারান এখানকার জঙ্গলের সব খবরই রাখে। কোথায় কোন হাতি গুণ্ডা হয়ে গেছে, কোথায় কোন চিতা গোরু-বাছুর ধরছে আর কোথায় কোন বাঘ হঠাৎ মানুষ মেরেছে সে সমস্ত খবর ওর নখদর্পণে। নারানকে ভগলুর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা বলতে, সে সখেদে আমাকে বলল, কিছুদিন আগেই এলাকা নিয়ে যুদ্ধ হওয়াতে হাতিগির্জা পাহাড় থেকে নেমে আসা একটা অতিকায় বাঘ ওকে সাংঘাতিকভাবে আহত করেছে। ওর ডান পা-টা প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। ভালো করে চলাফেরাও করতে পারে না। আপনি ভগলুকে ভালো করে দেখলে দেখতে পেতেন সে আগের থেকে অনেক রোগা হয়ে গেছে। বন্যপ্রাণী শিকার করতে ওর ভারি অসুবিধে হয়। সাম্প্রতিক অতীত থেকে সে বাঁদর, ময়ূর, এমনকী খরগোশ অথবা গুরাণ্ডি হরিণ (মাউস ডিয়ার) ধরে খেয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তি করছে। আরও একটা বড়ো বিপদ হয়েছে যে, ও গতকাল পুরুনাকোট গ্রাম থেকে চরতে আসা গোরু-বাছুরদের মধ্যে একটি ছোটো গোরুকে ধরে কিছুটা খেয়েছিল এবং কাঠের ঠিকাদার বিশু মহাপাত্রর বড়োছেলে পিসু ভগলুকে মারার জন্যে একটা মিটকুনিয়া গাছের ওপরে মাচা বেঁধে তার নীচে গোরুর অবশিষ্টাংশকে শক্ত দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছে। এবং সেই মাচার ওপরে সে আজ শেষবিকেলে বসবে। ভগলু যদি গোরুর মড়িতে আসে তবে সে রাতে তাকে মারবার চেষ্টা করবে।

    আমার আশেপাশের সেরা রেস্টুরেন্ট

    খবরটা শুনে আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেল। ঠিক করলাম, নারানকে সঙ্গে নিয়ে এবং জিপ নিয়ে সেই মিটকুনিয়া গাছের কাছে পৌঁছোব এবং যাতে পিসু মহাপাত্র ভগলুকে গুলি করতে না পারে তা দেখব। বন্দুক কিনলেই কেউ শিকারি হয়ে যায় না। বিশেষত বাঘশিকারি। বাঘ মারার ইচ্ছা থাকে অনেকেরই। কিন্তু বাঘ দেখলে অনভিজ্ঞ মানুষের যে অবস্থা হয়, তাতে বাঘের দিকে বন্দুক তোলার ক্ষমতাও তাদের অধিকাংশেরই থাকে না। বাঘ এমনই এক জানোয়ার যে সে কারো চোখে চাইলে, যার চোখে চাইল তার মনে হয় বাঘ তার হৃদয়ের অন্তঃস্থল পর্যন্ত সব দেখে ফেলল। সে প্রথম কখন কাকে প্রেম নিবেদন করেছিল অথবা শেষ পরীক্ষায় সে কেমন ফল করেছিল তা বাঘ বুঝে ফেলে। বাঘের দৃষ্টির মতো অন্তর্ভেদী দৃষ্টি খুব কম জানোয়ারেরই আছে। তাই পিসু মহাপাত্র বন্দুক নিয়ে মাচায় বসলেই ভগলুকে মারতে পারবে তার সম্ভাবনা খুবই কম। যদি যথেষ্ট সাহস দেখিয়ে সে ভগলুর দিকে গুলি ছুড়তেও পারে তাতেও বিপদের আশঙ্কা বেশি। কারণ সে গুলি যে ভগলুর শরীরের কোথায় লাগবে সে সম্বন্ধে কোনো স্থিরতা নেই। বাঘকে বাইরে থেকে দেখে মনে হয় তুলতুলে চামড়ামোড়া একটি জানোয়ার যাকে দেখলে তার গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু যদি কেউ বাঘ মারার পর তার চামড়া ছাড়ানো চেহারাটা দেখে থাকে তবে সে-ই জানে বাঘ কী অসীম শক্তিশালী জানোয়ার। পেট ছাড়া তার শরীর দড়ির মতো মাংসপেশিতে মোড়া এবং মেদ বলতে প্রায় কোথাও কিছু থাকে না। যে কারণে বাঘ তার চেয়ে অনেক বড়ো প্রাণী যেমন বড়ো গোরু কি মোষ অথবা সম্বর মেরে, তার টুঁটি ধরে অথবা তাকে পিঠে নিয়ে বহুদূর জঙ্গলে, পাহাড়ে চলে যায় এবং নিরিবিলি জায়গা দেখে সেখানে তাকে খায়। খাবার সময়ে কোনোরকম উপদ্রব বাঘের আদৌ পছন্দ নয়। এবং যে ছোটো গোরুটি ভগলু মেরেছিল এবং সেটিকে যে সেখানেই বসে খেয়েছিল তার কারণ এখন বুঝতে পারছি যে, তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল না।

    নারান বলল, পিসু মহাপাত্র নতুন বন্দুক কিনেছে কটকের দোকান থেকে। এবং বন্দুক কিনেই তার শখ হয়েছে বাঘ মারার। যোগাযোগও একটা ঘটে গেছে কারণ সে আসার পরই ভগলু এই গোরুটিকে মারে। অতএব আজ সন্ধ্যায় কী ঘটন বা অঘটন ঘটবে তা কেউ জানে না।

    আমার আশেপাশের সেরা রেস্টুরেন্ট

    কফি খাওয়ার পরে শিব্বকে মুগের ডালের খিচুড়ি চাপাতে বলে আমি আর নারান জিপ নিয়ে, নারানের নির্দেশমতো পথ ছেড়ে জঙ্গলের ভেতরে বেশ কিছুটা চলে গেলাম। সঙ্গে আমার প্রিয় রাইফেলটি নিয়েছিলাম। ৩৬৬ ম্যানলিকার শুনার। অস্ট্রিয়ান রাইফেল। বাবা অস্ট্রিয়া থেকে ইম্পোর্ট করিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন আমার জন্মদিনের উপহার হিসেবে। এই রাইফেলে আমি একটি গুলিও কোনোদিন ফসকাইনি। জিপ নিয়ে যতদূর যাওয়া যায় আমরা গেলাম। তার পর জিপ থেকে নেমে নারানের নির্দেশমতো আমরা হেঁটে শ-খানেক গজ যেতেই নারানের পাঁচ ব্যাটারি টর্চের আলোতে মাচাটিকে দেখতে পেলাম এবং মাচার ওপরে পিসু মহাপাত্র এবং তার দুজন অনুচর বসে আছে তাও দেখতে পেলাম। আমাদের দেখে পিসু হকচকিয়ে গেল এবং নারানের ওপর চোটপাট করে বলল, ‘তমে এটি কাঁই আসিল্বা’।

    পিসু অন্ধকারে আমাকে দেখতে পায়নি। অথবা পেলেও চিনতে পারেনি। আমাকে দেখেই সে একটু ঘাবড়ে গেল। নারানকে সে তম্বি করে বলল, বাঘ আসার আগেই তুমি এখানে চলে এলে! আর কি বাঘ এখানে আসবে!

    নারান বলল, ভগলু এমনিতেই চোট পেয়েছে। প্রায় চলচ্ছক্তিহীন। এই বাঘকে বেজায়গায় গুলি করে তুমি নিজে নিজের সাংঘাতিক বিপদ ডেকে এনো না। সবে দু-মাস হল তোমার বিয়ে হয়েছে। বউকে বিধবা করার ইচ্ছা যদি না থাকে তাহলে মাচা থেকে নেমে এসো। আমাদের সঙ্গে জিপ আছে। চলো তোমাকে তোমাদের ডেরায় নিরাপদে পৌঁছে দিচ্ছি।

    এই কথাতে পিসু খুব অপমানিত বোধ করল এবং বলল, আমাদের চিন্তা তোমাদের করতে হবে না। তুমি বাবুকে নিয়ে ফিরে যাও।

    ভগলু যদি কাছাকাছিও এসে থাকে তাহলেও যাতে মাচার কাছে না আসে সেজন্যে আমি কাঁধ থেকে রাইফেলটি নামিয়ে শূন্যে একটি গুলি করলাম। শুধু আওয়াজ করার জন্যেই। সেই গুলির আওয়াজ শুনেই ভগলু ফিরে যাবে এই আশায়। সঙ্গে আমি থাকাতে নারানকে তখনকার মতো আর কিছু বলল না সে। তবে বুঝলাম, এই অপরাধের জন্য সে নারানকে ক্ষমা করবে না। কিন্তু আমার যা করার করা হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি আর সেখানে না থেকে নারানকে বললাম, চলো ফিরে যাই।

    আমরা যখন জিপের দিকে যাচ্ছি, তখন আমাদের বাঁ-পাশে কতগুলি আর্গুন ঝোপের মধ্যে আমরা ভগলুর চোখ চমকাতে দেখলাম নারানের টর্চের আলোয়। চোখে আলো পড়তেই সে শরীরটাকে ছোটো করে নিয়ে আর্গুন ঝোপের আড়ালে শরীরটাকে লুকিয়ে ফেলল। বাঘ যদিও মস্ত বড়ো জানোয়ার কিন্তু এত অল্প আড়ালে সে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে পারে যে যাদের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের পক্ষে ধারণা করা মুশকিল। আমি রাইফেলটি কাঁধ থেকে নামিয়ে রেডি পজিশনে ধরে, ভগলু যেদিকে লুকিয়ে ছিল সেই জায়গাটি পেরিয়ে জিপের দিকে এগিয়ে গেলাম। যেতে যেতে ভাবলাম সাংঘাতিকভাবে আহত ভগলুকে যদি সত্যি পিসু মহাপাত্র গুলি করে তবে হয়তো সে বেচারির পক্ষে বাঁচাই মুশকিল হবে। কিন্তু রঙ্গমঞ্চে ভগলুর উপস্থিতি ঘটলে যে কী ঘটবে তা এখনই বলা মুশকিল।

    আমরা যখন জিপে উঠে জিপ ঘুরিয়ে আমাদের ক্যাম্পের দিকে এগোলাম তখন মনের মধ্যে একরাশ দুশ্চিন্তা জমে উঠল। ক্যাম্পে পৌঁছে জামাকাপড় ছেড়ে, রাইফেল রেখে, পাজামা-পাঞ্জাবি পরে যখন ক্যাম্পের বারান্দায় ইজিচেয়ারে এসে বসলাম, তখন খুব বেশি হলে রাত আটটা হবে। নারান ফিরে গেল রান্নার তদারকি করতে। এমন সময় বন্দুকের পর পর দুটি গুলির আওয়াজ ভেসে এল। বন্দুকের গুলি যদি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তাহলে জঙ্গলে তার আওয়াজ অন্যরকম হয়। আওয়াজ শুনে মনে হল গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তখন তো কল্পনা করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পরে আমরা খেতে বসলাম। খাওয়া যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে তখন ক্যাম্পের বাইরে ‘নারানদা, নারানদা’ বলে কেউ উত্তেজিত কন্ঠে ডাকল এবং নারান এঁটোহাতেই উঠে গেল। সামান্যক্ষণ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে সে আবার ফিরে এল।

    ওকে জিজ্ঞেস করলাম, কী হল?

    নারান বলল, ভগলু মাচার কাছে গেছিল। মনে হয় খুব ক্ষুধার্ত ছিল ও এবং খাওয়া শুরু করার আগেই পিসু এক অনুচরের টর্চের আলোতে ওর বন্দুকের দু-ব্যারেলের দুটি গুলি ভগলুর দিকে তাক করে চালিয়ে দিয়েছিল। গুলি করার পরে ভগলু পড়ে গেছিল। কিন্তু পড়ে গিয়েই খোঁড়াতে খোঁড়াতে জায়গা ছেড়ে ফিরে গেছিল। কোনো আওয়াজ করেনি। তাই পিসু বুঝতে পারেনি দুটি গুলির একটিও লাগল কি না। কিছুক্ষণ মাচায় অপেক্ষা করে ওরা মাচা থেকে নেমে সোজা আমাদের ক্যাম্পে পৌঁছেছিল।

    বড়ো বাঘকে গুলি করার পর বাঘ যদি আহত হয় তবে মাচা থেকে নামাটা আত্মহত্যা করার শামিল। বিখ্যাত শিকারি এবং ব্যারিস্টার কুমুদ চৌধুরি তাঁর বইতে একথা লিখে গেছেন। অথচ সেই তিনি ওড়িশার কালাহাণ্ডির জঙ্গলে দিনের বেলায় হাঁকোয়া শিকারে বাঘকে মাচা থেকে গুলি করে আহত করার পর মাচা থেকে নেমে সেই বাঘের হাতে প্রাণ খুইয়েছিলেন। পিসু মহাপাত্রের উৎসাহ যতখানি ছিল অভিজ্ঞতা ততখানি ছিল না। সেইজন্য এই সাংঘাতিক বিপজ্জনক কাজটি সে করেছিল।

    নারান বলল, এবারে কী হবে?

    আমি বললাম, কাল সকালে ভোরে উঠে, মানে সকালের আলো ফুটলেই চলো আমরা যে গুহাতে ভগলুকে দেখেছিলাম সেখানে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করি। তার আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

    ৩

    ভোরের প্রথম আলো ফোটার আগেই র‌্যাকেট টেইলড ড্রঙ্গোর ডাকাডাকিতে আমরা বিছানা ছেড়ে উঠে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তখনও বন-মুরগিরা ডাকাডাকি শুরু করেনি। আমার রাইফেলটি সঙ্গে নিলাম। যখন সেই গুহার কাছে গিয়ে পৌঁছোলাম, দেখলাম ভগলু একটি কালো পাথরের চাটানের ওপরে শুয়ে আছে রক্তে মাখামাখি হয়ে। একটু পরেই শকুন পড়ে যাবে ওর ওপরে এবং এই মহান প্রাণীটিকে তারা ঠোঁটে, নখে ছিঁড়ে খাবে। তার সুন্দর চামড়া ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। আশ্চর্যের কথা এই যে, পিসু মহাপাত্রের দুটি গুলিই লেগেছিল ভগলুর গায়ে। যেখানে গুলি লেগেছিল সেখানে মাংস কালচে হয়েছিল এবং চোখ বন্ধ করে ভগলু শুয়েছিল। ভোরের প্রথম আলো এবং সেই চৈত্র সকালের হাজারও পাখির ডাকাডাকির মধ্যে পরমস্বস্তিতে ভগলু ঘুমিয়েছিল। শেষ ঘুম।

    কী আশ্চর্য মৃত্যু! কোনো ডাক্তার ডাকতে হয়নি, অক্সিজেন সিলিণ্ডার ছিল না, অ্যান্টি টিটেনাস ইঞ্জেকশন দিতে হয়নি, ই সি জি করতে হয়নি, এম আর আই করতে হয়নি, আই সি ইউ-তে ভরতি করতে হয়নি, ভেন্টিলেটরে থাকতে হয়নি তাকে। একজন আধুনিক মানুষকে মৃত্যুর আগে বিভিন্ন ডাক্তার এবং নার্সিংহোম বা হাসপাতালে যে পরমযন্ত্রণা ও হেনস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তার কিছুই ভগলুকে করতে হয়নি। একদিন এই জঙ্গলের মাটিতে সে যেমন স্বাভাবিকভাবে জন্মেছিল আজকেও সেরকমই জঙ্গলের মধ্যেই প্রস্তরাসনে তার শেষনিশ্বাস পড়ল। দুঃখের কথা এই যে, তার জীবন শেষ হল পিসু মহাপাত্র নামক একজন অর্বাচীন ও আনাড়ি শিকারির হাতে। যে তাকে অশেষ যন্ত্রণা দিয়ে পরলোকে পাঠাল।

    তখনও সূর্যটা ওঠেনি। ভগলু যদি বেঁচে থাকত তাহলে তার ডান হাতের থাবা দিয়ে থাবড়া মেরে লাল বলের মতো সূর্যটাকে কাছে নামিয়ে আনার চেষ্টা করত। কিন্তু সে সুযোগও সে পেল না।

    একটি উর্দু কবিতার কথা আমার মনে পড়ে গেল ভগলুকে দেখে—

    অব তো শোনে দো চ্যয়ন সেপঢ়োঁ না তলকিঁ লহদ সে যাও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }