Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুচন্দ্রিমা

    জিপের ড্রাইভার বলল, জিপ থামিয়ে, স্যার। একটা বড়ো পুরুষ গণ্ডারকে পূর্ণিমার রাতে ওই ময়না গাছটার নীচে চরে বেড়াতে দেখা যায় অথচ কোনো ফরেস্ট গার্ডই গণ্ডারটাকে চেনে না।

    বলো কী?

    বনবিভাগের প্রিন্সিপাল চিফ কনসার্ভেটর থাপলিওয়াল সাহেব বললেন।

    তার পর, বললেন, প্রতিপূর্ণিমাতেই দেখা যায়?

    না। কখনো-কখনো।

    সঙ্গে জলদাপাড়ার রেঞ্জার সাহেবও ছিলেন। বললেন, কথাটা ঠিক স্যার।

    বলেই বললেন, গণ্ডারটাকে দেখতে অনেকটা আমাদের মধুর মতো।

    মধু! মধু তো কবেই মারা গেছে।

    থাপলিওয়াল সাহেব বললেন।

    রেঞ্জার সাহেব বললেন, সেইজন্যেই তো স্যার। কথাটা তো সকলে বলাবলি করে। সেইজন্যেই।

    বুলশিট!

    থাপলিওয়াল সাহেব বললেন। যত্ত গাঁজাখুরি গপ্পো তোমাদের।

    বনে-জঙ্গলে কত কী ঘটে যায় স্যার। এ কি আর শহর কলকাতা?

    স্টপ ইট।

    থাপলিওয়াল সাহেব বললেন।

    ২

    একটা জোর দীর্ঘশ্বাস ফেলল মধু। নাকের সামনের ঘাসপাতা নড়ে উঠল। মধু ওপরে তাকাল। বৈশাখ মাস। কিন্তু মেঘ করে আছে। ঠাসা মেঘ নয়। ছেঁড়া ছেঁড়া। আর তার মাঝে চাঁদটা মুখ দেখাচ্ছে আধখানা যদিও তার আকার তখন থালারই মতো প্রায়। দিন তিন-চার পরই পূর্ণিমা।

    সামনেই একটা মস্ত ময়না গাছ। তার নীচে একজোড়া শঙ্খচূড়ের বাস। মধু কখনো সাপের কামড় খেয়ে দেখেনি। খাবার পরও বাঁচবে কি না জানে না। তবে সাপেরাও তাকে এড়িয়ে চলে। তার গতরখানা যা, তাতে দুজনে মিলে একসঙ্গে কামড়াতে হবে। তা ছাড়া মধুর গায়ের চামড়াখানাও যে-প্রকার পুরু, তাতে দাঁত বসালেও দাঁত আদৌ বসবে কি না সন্দেহ।

    বাঁ-দিকে কতগুলো চিকরাশি গাছ, আকাতরু, ওদাল। কালো গায়ের বাকরা শিরীষ। প্রথম প্রথম এই জলদাপাড়াতে এসে মনে হত অন্য দেশেই এসেছে, দু-পেয়ে মানুষদের মনে, প্রথম বার বিলেতে বা আমেরিকায় গিয়ে যেমন হয় আর কী!

    একজোড়া ইয়ালো ওয়াটেলড ল্যাপউইঙ্গ হট্টিটি-হুট, হট্টিটি হুট, ডাকতে ডাকতে তার লোহার জালের বেড়া দেওয়া এলাকার বাইরে দিয়ে চলে গেল। একজোড়া প্যাঁচা রোজই আসে বেড়া পেরিয়ে মধ্যিখানে। প্রথম রাতে আর শেষ রাতে।

    ধীরে ধীরে মধু এই অনুষঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তবে সে খুশি নয়—সে যে বুনো। কোন বুনোর আর জালে-ঘেরা বিচরণভূমিতে বাঁচতে ইচ্ছে করে? সে বুনো জানোয়ারই হোক কি মানুষ।

    ওর জন্ম হয়েছিল কত বছর আগে, তা ও নিজেই জানে না কিন্তু একথা ও জানে যে, তার জন্ম হয়েছিল কাজিরাঙার পেলিক্যান কাঠোনির কাছে। সেখান থেকে মিহিমুখ বিল দেখা যায়। মায়ের পেছনের দু-পায়ের মধ্যে মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে মায়ের দুধ খেতে খেতে মধু মিহিমুখ বিল-এর গন্ধ, কাদার গন্ধ পেত নাকে। বেঙ্গল ফ্লোরিকান পাখি সাদাটে কালচে ঝিলিক তুলে উঠে যেত, ডাকতে ডাকতে। হুলালপথ নদীর আপাতস্থির কিন্তু তীব্র গতিষ্মান জলে নিশুতি রাতে মস্ত মস্ত চিতল মাছ ঘাই মারত। কাজিরাঙার গাছগাছালি, পাখপাখালি সবই অন্যরকম ছিল। পশ্চিমবঙ্গের এদিকে তিস্তা, তোরসা, রাইডাক, মূর্তি এসব নদী আছে, কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নেই। ব্রহ্মপুত্র, ব্রহ্মপুত্রই। এমন বৈশাখ মাসের রাতে হাওয়ার দমকে ব্রহ্মপুত্রের গায়ের গন্ধ ভেসে আসত। এজারম নামে একরকমের গাছ হয় কাজিরাঙায়, বৈশাখ মাসে সুন্দর গোলাপি-রঙা ফুল ফোটে। আর শিমুল রে! কী শিমুল! শিমুলের বীজফাটা সাদা তুলোর স্বপ্নিল সাদা আঁশগুলো যখন দিকে দিকে উড়ে যায় নাচতে নাচতে ছন্নমতি হাওয়াতে ভর করে, তখন মনের মধ্যে যে কেমন করে তা যে জানে, সে-ই জানে। সে জানোয়ার হোক কি মানুষ!

    মধু যুবক হতেই তাকে একদিন ঘুমপাড়ানি ওষুধভরা গুলি মেরে ঘুম পাড়িয়ে মস্ত ট্রাকে করে পশ্চিমবঙ্গের বনবিভাগ অসমের বনবিভাগ থেকে অনেক টাকা দিয়ে কিনে এই জলদাপাড়াতে নিয়ে আসে। যাতে, গণ্ডারের বংশবৃদ্ধি হয় পশ্চিমবঙ্গে।

    মধুর মাঝে মাঝেই এখন মনে হয়, অনেক মানুষের বুদ্ধি গণ্ডারের চেয়েও বুঝি কম এবং গায়ের চামড়া গণ্ডারদের গায়ের চামড়ার চেয়েও মোটা। অনেক মানুষ দেখল তার শৈশব থেকে। ট্যুরিস্ট, পুলিশ, বনবিভাগের কর্মী, সবাইকে দেখে এসব মনে হয়।

    এখানের পুরুষগণ্ডারেরা কি তাদের এই অপমান সহ্য করতে পারে? মানুষ হলেও কি পারত? যে যত বড়ো অক্ষম ওইসব ব্যাপারে, তার জাঁক তত বেশি। এখানের গণ্ডারেরাও ব্যতিক্রম নয়। তখন জলদাপাড়ারই মধ্যে একটি মস্ত এলাকাতে জালের বেড়া দিয়ে তারমধ্যে মধুকে রেখে দেওয়া হয়। আস্তে আস্তে তার শরীরের আঘাতের ঘা শুকিয়ে আসে। তাকে ঘুম পাড়িয়ে নানা ওষুধপত্রও দেওয়া হয়। মানুষডাক্তার ডাক্তারি করে তার ওপরে। শারীরিকভাবে সে ক্রমশই সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু শরীরের এবং মনের মধ্যেও অনেক শরীর এবং মন থাকে। বাহ্যিক আঘাতই একমাত্র আঘাত নয়, বাহ্যিক শান্তিই একমাত্র শান্তি নয়। সে পূর্ণযুবক হয়ে ওঠার পর তার শরীরের নানা চাহিদা জাগে। কথা পর্যন্ত বলবে যে এমন একটিও গণ্ডার নেই তার কাছে। দূর থেকে ভেসে আসা বাসন্তী হাওয়াতে সে যুবতী গণ্ডারের গন্ধ পায়, ছটফট করে। এখানের ঘাসপাতাও তার মুখে রোচে না। অথচ গণ্ডারের খাদ্য তো ঘাসপাতাই।

    মাসের পর মাস যায়, বছরের পর বছর, মধুর বয়েস বাড়ে কিন্তু সেই বেড়া-দেওয়া জায়গাটুকুর মধ্যেই ও বাস করে। বেড়াটা অবশ্য দেওয়া হয়েছিল অনেক টাকা খরচ করে তার ভালোর জন্যই, তাকে অন্য পুরুষগণ্ডাররা যাতে আর মারতে না পারে। সেই মারের হাত থেকে সে বেঁচেছে নিশ্চয়ই কিন্তু অন্য অনেক মার সে নীরবে হজম করে। সেইসব মারের রকম কী, তা পুরুষগণ্ডারের মতো পুরুষমানুষও জানে নিশ্চয়ই, জানেন বনবিভাগের কর্তারাও। কিন্তু বোঝেন না। মানে,অমন ঘেরাটোপের মধ্যে ওকে রাখা হয় ওর নিজেরই ভালোর জন্যে। কিন্তু ভালোর যে অনেকরকম হয় তা তাঁরা বোঝেন না।

    তাকে একবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে সে আবার বুনো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যারা প্রকৃত বুনো তারা বুনো হয়ে যাওয়া কারোকে আর গ্রহণ করে না। মধু নিজেই ফিরে এসেছিল তার নিরাপদ বেড়াজালে। বড়ো মার মেরেছিল বুনোরা তাকে প্রথম বার দলবেঁধে। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি সে আর চায় না।

    তার নাম নাকি বন্যপ্রাণীদের জন্য যে-উপদেষ্টা বোর্ড আছে তার মিটিং-এর এজেণ্ডাতে প্রায়ই থাকে। ‘মধু’। মধুকে নিয়ে কী করা উচিত, তা নিয়ে বাঘা বাঘা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মাথা ঘামান সেইসব মিটিংয়ে। কিন্তু মধুর জীবন যেমন একাকী ও নির্জন তেমনই থাকে। তার মনের দুঃখ, শরীরের জ্বালা বাড়তেই থাকে।

    ইতিমধ্যে আর এক কান্ড ঘটেছে। একটা বাচ্চা-গণ্ডারকে এখানে বাঘে ধরে। সব জায়গার বাঘই হাতির আর গণ্ডারের বাচ্চা খেতে খুব ভালোবাসে।

    বন্যপ্রাণীদের জীবনটাই খেয়োখেয়ির—এ ওকে খাচ্ছে আর ও, অন্যকে। ওরা, এই তৃণভোজী প্রাণীরাই শুধু ঘাসপাতা খেয়ে বাঁচে। অন্য কোনো প্রাণীকে মেরে খেয়ে বাঁচে না। অবশ্য গাছপাতারও নাকি প্রাণ আছে। মধুর বাবা, কাজিরাঙার মাস্তান পটকান গণ্ডার বলেছিল তাকে। মধুকেও ওর শৈশবাবস্থাতে একটি বাঘে ধরেছিল। মধুর মা মামণি এসে বাঘকে খড়গ দিয়ে এমন মেরেছিল যে বাবার নাম করতে করতে বাঘ মধুকে ছেড়ে পালিয়েছিল।

    জলদাপাড়ার সেই আহত বাচ্চা গণ্ডারটাকে বনবিভাগের লোকেরা উদ্ধার করে নিয়ে এসে মধুর থাকার জায়গার পাশেই একটি খাঁচামতো বানিয়ে তাতে রেখে তার চিকিৎসা করেছে। চারজন লোক আছে তার দেখাশোনার জন্য। চিকিৎসা ও শুশ্রূষা এখনও চলছে। জলদাপাড়া থেকে ভেট সাহেব এসে মাঝে মাঝেই দেখে যান তাকে। ওষুধপত্র, ইঞ্জেকশন দিয়ে যান। বাচ্চাটা বাঁচবে কি না কে জানে? বাঁচলেও সে পঙ্গু হয়ে থাকবে। মধু যেমন মনে পঙ্গু ও শরীরে পঙ্গু হয়ে থাকবে। এর চেয়ে না বাঁচাই ভালো।

    মধুকে তো জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছিলেনই বনবিভাগের কর্তারা কিন্তু মধুই তো নিজে ফিরে এসেছিল বেড়ার মধ্যে। ভয়ে। আবারও মার খাওয়ার ভয়ে। তা ছাড়া বনবিভাগের কর্মীরা তার দেখভাল করেন। বেড়ার মধ্যে খাওয়া-দাওয়ারও অভাব নেই। বস্তা বস্তা নুনও এনে ফেলে দেন কর্মীরা। বাঁচতে মধুর কোনো শারীরিক কষ্ট নেই শুধু মনটা কষ্টে থাকে। মাঝে মাঝেই শরীরটা রিকিঝিকি করে। ব্রহ্মপুত্রের পারে বিস্তীর্ণ আদিগন্ত তৃণভূমি কাজিরাঙার জন্যেও কষ্ট হয়।

    বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডের মিটিং আবার বসছে। এবারে উত্তরবঙ্গের মূর্তিতে। নতুন ঝিং চ্যাক বাংলো বানানো হয়েছে কিছুদিন হল মূর্তি নদীর ওপারে। এখানেই গৌরীপুরের লালজি হস্তী-কন্যা পার্বতী বড়ুয়ার বাবা প্রকৃতীশচন্দ্র বড়ুয়া ক্যাম্প করেছিলেন বেশ কিছুদিন তার দুটি হাতি নিয়ে, বুনোহাতি খেদাবার জন্যে। একটি হাতি ছিল গণেশ। মস্ত গণেশ—বাঁ-দাঁতি। রাতের বেলা গোরুমারার গণ্ডাররা চরতে চরতে চলে আসত শুখার বা শীতের দিনে নদীরেখা ধরে মূর্তি-বাংলোর একেবারে সামনে। গাছে বাঁধা গণেশ ভয় পেত। এসব কথা মধু শুনেছে, বনবিভাগের কর্মীদের কথাবার্তাতেই। এই মিটিংয়েও নাকি মধুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। এজেণ্ডাতে মধু আছেই। আগেও যেরকম ছিল, প্রায় পার্মানেন্ট ফিচার হয়ে।

    এখন রাত কত কে জানে! পেটের মধ্যে একটা বেদনা বোধ করছে সে, বহুদিন হল। কাজিরাঙার মধ্যে ও যতরকম ঘাসপাতা পেত তা এখানে নেই, তা ছাড়া এদের রকমও অন্য। নাকি মুখ বদলাবার জন্যে বেশি নুন খেয়েই হল। এখন মধু প্রমাণমাপের। কিন্তু প্রকান্ড শরীরের প্রাপ্তবয়স্ক গণ্ডারও মানুষের শিশুদেরই মতো। পেটে ব্যথা হলে বলতে পারে না। কোথায় ব্যথা তাও। শুধু কাঁদে, কিন্তু সে কান্নায় আওয়াজ থাকে না। নীরবে কাঁদে। গণ্ডারদের বা হাতিদের বিধাতা কাঁদতেও শেখাননি, কাঁদবার ক্ষমতা দেননি। তীব্র যন্ত্রণা হলে দু-চোখের কোণে জল এসে জমে শুধু। তার পরে গড়িয়ে পড়ে নীচে। ফিসফিসে শিশিরের মতো।

    এবারের মিটিংয়ে নাকি মধুর একটা হেস্তনেস্ত হবেই। ওঁরা যা-ই করেছেন সবই মধুর এবং বনবিভাগের ভালোরই জন্যে। কিন্তু মানুষের ভালো আর জানোয়ারের ভালোর মধ্যে যে অনেকই তফাত। দুজনে যে দুজনের ভাব বোঝে না।

    সেই প্যাঁচা দুটো ঝগড়া করতে করতে আবার রোজ রাতেরই মতো আজও এল শেষরাতে। ঝিরঝিরে হাওয়া দিচ্ছে একটা এই বসন্ত-শেষে। শিমুল-পলাশ-অশোক এসব ফোটা শেষ। এখানের জঙ্গলে এই সময়ে মাদারের লাল আর জারুলের বেগুনির বাহারও প্রকৃতিকে সুন্দর করে। পাগলের মতো কোকিল ডাকে। সারারাত পিউ কাঁহা ডাকে চাঁদভাসি আকাশে। আর দীর্ঘশ্বাস পড়ে মধুর। দূরে হলং নদীর ধারে বড়ো বাঘ ডাকে, গণ্ডারেরা ঢংক ঢংক করে ওঠে। টাঁউ টাঁউ করে চিতল হরিণেরা বাঘের খবর পেয়ে ব্বাক ব্বাক করে, মানুষদের কুকুরের মতো ডাকে। সংক্ষিপ্ত এবং পৌনঃপুনিক ডাক ডাকে বার্কিং-ডিয়ার বা কোটরারা। রাত ঢলে পড়ে দিনের দিকে। মধুর পেটের ব্যথাটা তীব্র হয়। বেড়ার মধ্যেও খোলামতো জায়গাটাতে পৌঁছে সে, জলের পাশে বসে পড়ে জল খায়। পেটের যন্ত্রণাটা এমনই তীব্র হয় যে, মধুর আর উঠে দাঁড়াবার অবস্থা থাকে না।

    ৩

    মূর্তিতে বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডের মিটিং চলছে। বনবিভাগের নানা বিষয় নিয়েই আলোচনা হয় সে-মিটিংয়ে, শুধুই যে বন্যপ্রাণী নিয়ে হয় তা নয়। ম্যারাথন মিটিং। বনমন্ত্রী, রাষ্ট্রমন্ত্রী, ফরেস্ট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল চিফ কনসার্ভেটর। চিফ কনসার্ভেটরেরা, কনসার্ভেটর এবং ডি এফ ও-রা, সভাধিপতিরা, পুলিশের এবং প্রশাসনের বড়ো বড়ো আমলারা। এবং আমন্ত্রিত দুজন বেসরকারি সভ্যও উপদেষ্টা বোর্ডের। চার ঘন্টা ধরে চলল সেই মিটিং। মধুর ব্যাপারে স্থিরীকৃত হয় যে মধুর বেড়া দেওয়া এলাকার মধ্যে মধুর চেয়ে ছোটো একটি মেয়ে গণ্ডারকে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে যাতে মধু পুরো স্বাভাবিক না হলেও প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এই প্রস্তাবে খুশির গুঞ্জন উঠেছিল মিটিংয়ে। মধুর জন্য কিছু একটা করতে পেরে সকলেই খুশি।

    ৪

    খবরটা যখন জলদাপাড়ার রেঞ্জ অফিসে এল, ওয়্যারলেসে তখন রেঞ্জ অফিসের সকলেই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। ডি এফ ও কল্যাণ দাসকে ফোনে খবর দেওয়া হল জলপাইগুড়িতে, কনসার্ভেটর উজ্জ্বল ভট্টাচার্যকেও। তখন চিফ কনসার্ভেটর ওয়াইল্ড লাইফ উদয়ন দাশগুপ্তও পশ্চিমবঙ্গের সর্বজ্ঞ গভর্নর অনারেবল হিজ এক্সেলেন্সি ভীরেন জে শা-কে জঙ্গলে খাতির করার জন্যে এসেছিলেন। ভেট চলে এসেছিলেন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জলদাপাড়ার হেড কোয়ার্টার থেকে। পোস্টমর্টেম না করলে তো মৃত্যুর কারণ জানা যাবে না। সাপের কামড়েই মারা গেল, না কী হল? কোথায় মধু মধুচন্দ্রিমা যাপন করবে নতুন স্ত্রীর সঙ্গে আর মৃত্যু কিনা এসে তখনই থাবা বসাল তার জীবনে। ‘হোয়াট আ ট্রাজিক হ্যাপেনিং’। বনবিভাগের প্রত্যেকেই মধুর মৃত্যুতে আত্মীয় বিয়োগের যন্ত্রণা পেলেন। বাইরের মানুষে সেই যন্ত্রণার কথা ঠিক বুঝতে পারবেন না।

    ভেট বললেন, সিরোসিস অফ লিভার।

    দাশগুপ্ত সাহেব বললেন, সেকী। মদ খান আমার দাদা পিপে পিপে আর সিরোসিস অফ লিভার হল মধুর!

    ডি এফ ও কল্যাণ দাস বললেন, স্যার, হাতি হলেও না-হয় বোঝা যেত, হাঁড়িয়ার গন্ধ পেলেই শুঁড় তুলে সেদিকে দৌড়োয় তারা। কিন্তু আমাদের টি-টোটালার মধু।

    ভেট বললেন, অকৃতদার সুরেশ মজুমদারও সিরোসিস অফ লিভারে মারা গেছিলেন অথচ জীবনে মদ ছোঁননি। বেশি ফল খেয়ে খেয়ে সিরোসিস অফ লিভার হয়েছিল।

    মধুর মৃতদেহকে কবর দেওয়া হবে সেই খোলামতো জায়গাতেই যেখানে সে বসেছিল, আর উঠতে পারেনি, সেখানেই। মাটি কোপানো শুরু হয়ে গেছে। শকুনেরা এ-গাছে ও-গাছের মাথাতে এসে জড়ো হয়েছে। মন্দভাগ্য ওদের। মধু ওদের ভোজ্য হবে না। মন্দভাগ্য মধুরও। মন্দভাগ্য সেই ছটফটে যুবতী গণ্ডারটিরও যার সঙ্গে বনবিভাগের কর্তারা তার বিয়ে দেবেন বলে মনস্থ করেছিলেন। যুবতীর অভাব নেই এখানে। সবল পুরুষেরই অভাব ছিল। সে কারণেই মধুকে আনা হয় কাজিরাঙা থেকে। একভোগ্যা হয়ে থাকত মধুর সঙ্গে তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে হত, জলদাপাড়ার গণ্ডারের সংখ্যা আরও বাড়ত। ট্যুরিস্টরা দেখে খুশি হত। কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক।

    মধু এখন কোথায় কে জানে! অশরীরী সে কি জলদাপাড়াতেই আছে নাকি কাজিরাঙাতেই ফিরে গেল ব্রহ্মপুত্রের গায়ের গন্ধের কাছে তার বাল্যকালের কোনো সঙ্গীরই কাছে? মধুকে বনবিভাগের সকলেই জানতেন, তাকে ভালোও বেসেছিলেন কিন্তু… বড়ো দেরি হয়ে গেছিল বোধ হয়…..

    বনবিভাগের নানা কর্মচারী, যাঁরা দিনে-রাতে এই অভয়ারণ্যে ডিউটি করেন তাঁরা চাঁদনি রাতে প্রায়ই নাকি আজও দেখতে পান যে, সেই ময়না গাছটার নীচে তার পাহাড়ের মতো বিরাট শরীরটা নিয়ে একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছে জলদাপাড়ার ঘাসবনে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }