Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আগল

    প্লেনটা টেক-অফফ করেছে। মাত্র মিনিট দশেক ডিলেড ছিল ফ্লাইট। ইণ্ডিয়ান এয়ার লাইন্স-এর পক্ষে এ বড়ো কম কৃতিত্ব নয়। এখন সিট-বেল্ট বেঁধে রাখার আলোও নিভে গেছে!

    জুতোটা খুলে, পা দুটো ছড়িয়ে দিলেন সেনসাহেব।

    জুতোটা অবশ্য প্লেনে ওঠামাত্রই খুলতে পারতেন। কিন্তু কোনো দিনই খোলেন না। ভাবেন, অ্যাক্সিডেন্টের অধিকাংশই তো হয় টেক-অফফ করার বা ল্যাণ্ডিং-এর কিছুক্ষণ পরে অথবা আগে। তাই, যদি কিছু হয়ই এবং দৈবক্রমে প্রাণে বেঁচে যান, জুতোটা পরা থাকলে প্রাণ বাঁচিয়ে হেঁটে বা দৌড়ে যেতে সুবিধে হবে।

    নিজেও কখনো-কখনো যে হাসেন না, এই কথা মনে করে, মনে মনে; এমনও নয়। প্লেন যদি পড়েই নীচে তবে বাঁচলেও পেছনের দিকে ইকনমি ক্লাসের যাত্রীদের মধ্যেই কেউ কেউ বেঁচে যেতে পারেন দৈবক্রমে। কিন্তু একেবারে সামনের এগজিকিউটিভ ক্লাসের যাত্রীদের মৃত্যু অনিবার্য। যদি না অবশ্য মিরাকল কিছু ঘটে। সেনসাহেবের গভীর বিশ্বাস আছে যে, এয়ারবাস (তিন-শো) ভেঙে পড়লেও নিজে তিনি অক্ষত থাকবেনই। কারণ, এখনও তাঁর অনেক লড়াই জেতা বাকি। অনেক ঔদ্ধত্য, অন্যায় এবং ইতরামির জবাব দেওয়া হয়ে ওঠেনি এখনও। সেইসবের জন্যই তাঁকে আরও কিছুদিন বাঁচতে হবেই।

    বেঁচে থাকার বড়োই ইচ্ছে সেনসাহেবের। এই ইচ্ছেটা অন্য দশজন মানুষের তুলনায় কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। ভালো-খাওয়া, ভালো-পরা, অর্থ-যশ-প্রতিপত্তি এইসবের কামনা বা প্রার্থনাতে তাঁর বাঁচতে চাওয়া নয়, বাঁচতে চাওয়া আরও অনেক বড়ো কিছুর জন্য। তিনি যে তিনিই— তা প্রমাণ করার জন্যে। এই প্রমাণটি অন্য কারোকেই দেওয়ার জন্য যতখানি নয়, তার চেয়ে অনেকই বেশি নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণিত করার জন্যে।

    তাঁর এই মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছিলেন পচাদা এবং পাঁচুও।

    একটু একলা হলেই ভাবেন সেনসাহেব। ভাবনার ক্ষমতা তো মানুষ ছাড়া অন্য কোনো জীবকেই দেননি বিধাতা। ‘টাইম-কিল’ করার জন্যে পেপার-ব্যাক পড়েন না। হাতে ক্যালকুলেটর বা কম্পিউটার নিয়ে নিজের বিত্ত অথবা পান্ডিত্যচর্চা বা প্রসারের প্রচেষ্টাও চালান না। উনি মানুষটা একটু অদ্ভুত ধরনের। এবং সেইজন্যেই কারো সঙ্গেই তাঁর বিশেষ মিল এবং ঘনিষ্ঠতা নেই। কোনো দলেই ভিড়তে পারেননি জীবনে। দলবদ্ধ জানোয়ার হয়ে কোনো যূথপতির তাঁবেদারি করাই তাঁর চরিত্রানুগ নয়। একাই থাকেন এবং একা থাকতেই ভালোবাসেন। সাধারণত্বর সাধনা তাঁর কোনো দিনই ছিল না।

    প্লেনে বসে এলোমেলো ভাবনা ভাবতে ভাবতেই মনে ফিরে এল আবারও কথাটা। পাঁচুর কথাটাই। ভবানীপুরের, তাঁর ছেলেবেলার বন্ধু পাঁচু। অখ্যাত, আধুনিক কবি পাঁচু। যদিও কুড়িখানি কাব্যগ্রন্থ তাঁর। তবে কবি পাঁচুর চেয়ে ‘বন্ধু পাঁচু’ সেনসাহেবের কাছে অনেক বেশি প্রিয় ছিলেন।

    কবিতা লিখলে বা কবিতার বই থাকলেই শুধুমাত্র সে কারণেই কেউ কবি হয়ে ওঠে না। সেনসাহেবের বন্ধু প্রায় নেই-ই বলতে গেলে। সময় না দিলে, নষ্ট করার মতো সময় না থাকলে, বন্ধুবান্ধব বেশি থাকে না মানুষের। বন্ধুবান্ধব, আড্ডাবাজি এসব সাধারণের জন্যে। তাই, বন্ধু বলতে তাঁর শুধুমাত্র একজনই ছিল।

    একমাসও হয়নি পাঁচু গেছে। ভাবছিলেন সেনসাহেব। সেই শেষদেখার দুঃখময় স্মৃতিটি মনে এলেই মনের মধ্যে ধুলোর ঝড় ওঠে। চোখ জ্বালা করে।

    এবারে টাইয়ের নটটা আলগা করলেন উনি। মোজা-পরা পা দুটো আরও ছড়িয়ে দিলেন সামনের সিটের নীচে।

    একটু পরই রোগশয্যায় শায়ীন পাঁচুর যন্ত্রণাকাতর মুখখানির স্মৃতিকে ছুঁয়ে এসেই আবার অন্য ভাবনাতে ফিরে গেলেন। উনি, মানুষটা ওইরকমই। ওঁর মনটা একটি একক অর্কেস্ট্রা। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে ‘দক্ষিণী’-র রবীন্দ্রজন্মোৎবের অনুষ্ঠানের মহড়াতে সুনীলদা, সুনীল রায়; রবীন্দ্রনাথের একটি গান শিখিয়েছিলেন। সেই গানটির কথা হঠাৎই মনে পড়ে গেল। এমনই মনে পড়ে সব ভুলে-যাওয়া, ফেলে-আসা গান হঠাৎ হঠাৎ, সেনসাহেবকে চমকে দিয়ে।

    তুই কেবল থাকিস সরে সরে
    তাই পাসনে কিছুই হৃদয় ভরে
    আনন্দ ভান্ডারের থেকে দূত যে তোরে গেল ডেকে
    তুই কোণে বসে সব খোয়ালি এমনি করে…
    তুই কেবল থাকিস সরে সরে…

    বড়ো সুরেলা গলা ছিল সুনীলদার। কিন্তু, আজ সুনীলদার কথা যতটা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি মনে পড়ছিল গানটির বাণীর কথা।

    সেই সময়ের গানের স্কুলের ছেলে-মেয়েরা আজ কে কোথায় চলে গেছে ছিটকে-ছাটকে। অনেকদিন আগের কথা। তাদের সকলেরই আজ বয়েস হয়েছে নিশ্চয়ই। তবু মনের আয়নাতে এখনও একরাশ চঞ্চল, উজ্জ্বল, যুবক-যুবতীর ছবিই রয়ে গেছে; রোদ-ঝলমল আকাশে একঝাঁক বহুবর্ণ পায়রার উড়াল ছবিরই মতো। বুকের মধ্যে যৌবনের ছবি রাখাই পছন্দ করেন সেনসাহেব।

    নিজের এবং অন্য সকলেরও।

    শিক্ষকদের মধ্যেও বোধ হয় সুবিনয়দা ছাড়া আর কেউ আজ নেই। প্রসাদদা আছেন, প্রসাদ সেন। হয়তো শ্যামলদাও আছেন, কে জানে! শ্যামল মুখোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরে থাকতেন। সেখান থেকে আসতেন। রবীন্দ্রসংগীত তো গাইতেনই ‘ভূশন্ডীর মাঠ’-ও জব্বর গাইতেন। সম্ভবত ‘আশ্রমিক সংঘ’র হয়ে গাইতেন।

    শ্যামলদার তেমন নাম-টাম হল না। ছেলে-মেয়েদের কাছে কিন্তু খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। গুণপনার সঙ্গে নাম-টামের, স্বীকৃতির সাযুজ্য তখন যদি-বা কিছু ছিল, জীবনের কোনো নিভৃত শিল্পক্ষেত্রেই আজ আর তা একেবারেই নেই। এখন নিজেই নিজের ঢাক ‘হুম-হুম’ করে পিটিয়ে না বেড়ালে হুলোবেড়াল হয়ে ওঠা আদৌ যায় না। সর্বক্ষেত্রেই হুলোদেরই রাজত্ব চলছে এখন। সবাই বেড়াল। বাঘেরা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। গেছে। কালো, ধলো, রোগা-মোটা। চুরি-করে খাওয়া দুধের দাগ তাদের অধিকাংশরই গোঁফে।

    আজ অবধি সুবিনয়দাকে সংগীত-নাটক অ্যাকাডেমির পুরস্কারও দেওয়া হল না। সব পুরস্কারই এখন প্রহসন হয়ে গেছে। তবে উনি শ্রোতার সম্মান অবশ্যই পেয়েছেন। এর চেয়ে বড়ো সম্মান আর কী-ই বা আছে! অন্যসব প্রাতিষ্ঠানিক, ধর-পাকড়ের, তেল-দেওয়ার, বিনিময়ের সম্মানের দাম তাৎক্ষণিক।

    সেইসব সম্মান থাকেও না।

    এসব দেখেশুনে আজকাল আর রাগতও হন না সেনসাহেব. দুঃখিত তো হনই না। তবে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংবলিত এই জীবদের প্রতি, যারা মানুষ বলেই চলে যাচ্ছে শুধু নয়, ইদানীং রীতিমতো দাপিয়েও বেড়াচ্ছে মেদিনী, তাদের প্রতি অসূয়া নয়, এক ধরনের অনুকম্পা বোধ করেন উনি। সম্ভবত পি জি উডহাউসেরই কোনো লেখায় পড়েছিলেন, When there was enough material to make a perfect ass. I don’t know why did God make an imperfect human being of him—! এই উক্তিটি মনে পড়ে যায় সেনসাহেবের। এদের অনেককে দেখেই। হয়তো হুবহু মনে নেই। তবে বাকিটা অনেকটা এইরকমই ছিল এবং লেখাটা অবশ্যই পি জি উডহাউসেরই।

    যাকগে যাক। যা ভাবছিলেন। বাঁচা অথবা মরার প্রসঙ্গেই মনে পড়ে গেল ওঁর। এই ‘বাঁচার ব্যাপারটা’ ভারি অন্যরকম করে বলতেন পচাদা। জীবন সম্বন্ধে একটি ওরিজিনাল পয়েন্ট অব ভিউ ছিল পচাদার।

    সেনসাহেবের ডাক নাম ফুচু। ওঁদের পুরোনো পাড়ার ক্লাবের নাটকের পরিচালক পচাদা প্রায়ই অভিনয়ের মহড়ার মধ্যে মধ্যে ওঁকে, পাঁচুকে এবং আর এক বাল্যবন্ধু গবাকে বলতেন, হ্যাঁরে, তোরা ‘বাঁচা’ শব্দটার মানে জানিস কি কেউই?

    গবা একদিন পচাদার এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল, তুমি রোজ রোজ এমন হেঁয়ালি কেন করো বলো তো, পচাদা? ‘বাঁচার’ মানে কে আর না জানে! নাক দিয়ে নি:শ্বাস যার পড়ে, সে-ই বাঁচে। তাকেই বাঁচা বলে, মানে, সে-ই জীবিত।

    পচাদা কাঁচি সিগারেটটা বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মধ্যে গাঁজার কলকের মতো ধরে জোরে একটান মেরে সেদিন অত্যন্ত বিদ্রূপভরা গলাতে বলেছিলেন, তুই একটা লম্বকর্ণ। মানুষ নি:শ্বাস নেয় না, নি:শ্বাস ফেলে। প্রশ্বাস নেয়। শিখে রাখ কথাটা। কিন্তু ‘বাঁচা’ কথাটা তা নয়। ‘বাঁচা’ কথাটা অত সোজা নয়। এবাঁচা, অন্য বাঁচা। প্রশ্বাস নেওয়া, নি:শ্বাস ফেলা আর বাঁচা—কোনো দিনই সমার্থক ছিল না।

    বাঁচা; বাঁচা। মরার উলটোটাই বাঁচা। তার আবার অন্য, পর কী?

    গবা নয়, পাঁচু একদিন বলেছিল, পচাদার মুখের ওপরই।

    পচাদা আস্তে আস্তে একদিন বলেছিলেন, আছে রে আছে। প্রশ্বাস নেয় ও নি:শ্বাস ফেলে তো সকলেই কিন্তু অধিকাংশই বাঁচে আগল তুলে, আর অতিস্বল্পজনে বাঁচে আগল খুলে। আগল তুলে অন্ধকার জীবের মতো বাঁচাকে ‘বাঁচা’ বলে না। আগল-খুলে বাঁচিস তোরা, আগল-খুলে বাঁচিস রে। পার্ট যখন বলবি, তখনও আগল খুলেই বলবি। এ, তোদের দোরের আগল নয়; মনের আগল। বুঝলি কিছু? পাঁচু, ফুচু, গবা? তোদের শিখিয়ে গেলাম বাঁচার গুপ্তমন্ত্রটা। আরে, সকলেই ভাবে যে, তারা বেঁচে আছে কিন্তু বাঁচা কি অত সোজা রে? সে যে ভারি কঠিন ব্যাপার।

    সিগারেটটা শেষ করে পাঁচুদা বলেছিলেন, আমি আর ক-দিন আছি? আমি পারিনি। তোরা চেষ্টা করিস। তোরা তো আমার তুলনাতে বয়েসে চুনোপুঁটি। তোদের এখনও অনেকই সময় আছে হাতে। বাঁচার কায়দা জানা সত্ত্বেও একেবারেই বেকায়দায় কাটিয়ে গেলাম আমি নিজে, নিজের জীবনটা। তোরা সব…

    পাঁচু তো গতমাসে চলেই গেল। সবরকম বাঁচার অন্য পারে। ওর সামান্য করণিকের চাকরি, সেই চাকরিটাও কর্তব্যজ্ঞানহীনতা, অনিয়মানুবর্তিতা ও আত্মসম্মানজ্ঞানহীনতা দিয়ে সামান্যতর করে তুলেছিল ও নিজেই। এবং সে-সম্বন্ধে ও পুরোপুরি অবহিত ছিল বলেই হয়তো লজ্জিতও হত। লজ্জাবোধটাও যে খেয়ে বসেনি এই ঢের!

    কবি হিসেবেও সে যে তেমন স্বীকৃতি পেয়ে যেতে পারল না পাঠক-পাঠিকার কাছে, সেই দুঃখটা পাঁচুকে বড়োই বিঁধত। সেনসাহেব জানেন না যে, পাঁচু সত্যটা বুঝত কি না যে, ‘চেষ্টা’ করলে ভালো করণিক, ভালো উকিল, বা ভালো ডাক্তার, ভালো রাজনীতিকও হয়তো হওয়া যায়, কিন্তু ভালো ‘কবি’ হওয়াটা শুধুমাত্রই চেষ্টা-সাপেক্ষ নয়। রাজারাজড়া বা তাদের চেয়ে ক্ষমতাশালী কোনো মিডিয়াও যে নিজ-গুণেকবি নয়, তাকে কবি বানিয়ে দিতে পারে না। একই কারণে পাঁচুর পার্টিও পাঁচুকে কবি বানাতে পারেনি।

    তবে বাল্যবন্ধুর কোনো অপারগতার জন্যেই ব্যক্তিগতভাবে ফুচু সেন পাঁচুকে কোনোদিনও দায়ী করেননি।

    পাঁচু হাসপাতালের বিছানাতে শুয়ে শুয়ে ব্যথাতুর মুখটা বালিশের ওপরে দু-পাশে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলেছিল, পচাদার কথা তোর মনে আছে রে ফুচু? শেষজীবনে পাগল হয়ে গেছিল পচাদা। বেঁচে গেছিল। মানসিকভাবে সুস্থ মানুষদের আজকাল বড়োই কষ্ট। তুই তো আর পুরোনো পাড়াতে থাকিস না, তাই হয়তো খোঁজ রাখতিস না। কিন্তু, পচাদার সেই ‘আগল খুলে বাঁচা’র কথাটা আমার প্রাই মনে পড়ত। এখনও পড়ে। পচাদার মতো আমিও পারলাম না রে ফুচু। আমারও চলা শেষ। মন্ত্রটা পেয়েও কাজে লাগাতে পারলাম না রে ফুচু! পারলে, তুই অমন বাঁচা বাঁচিস। যদি পারিস! চেষ্টা করিস অন্তত।

    শেষনি:শ্বাস ফেলার সময়েও পাঁচু বাল্যবন্ধু ফুচু সেনের হাতে হাতটি রেখে বলেছিল, বাঁচার মতো বাঁচা হল না রে ফুচু। কিছুই করা হল না। সবই বৃথা হল। মিথ্যা আদর্শ, ভুল পথ, বৃথা জীবন। চললাম রে!

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সেনসাহেব।

    কোথায় চলে গেল পাঁচুটা।

    পাঁচুর ইদানীং খুব ‘পাহাড়-পাহাড়’ বাতিক হয়েছিল। পার্টি থেকে মন সরে গিয়েছিল। পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াত। গাড়োয়াল হিমালয়, কুমায়ুন হিমালয়, মহাকাল রেঞ্জ, বিন্ধ্য রেঞ্জ এসবের কথাও বলত সাম্প্রতিক অতীতে সবসময়ই। বলত, একবার চল আমার সঙ্গে ফুচু। আমাদের ট্রেকিং টিম-এর সঙ্গে। একবার গেলে আর এই ফেরেববাজদের শহরে ফিরতেই ইচ্ছে করবে না তোর। আঃ। ভগবানের জায়গা রে। দেবভূমি।

    ভগবান-টগবান কী বলছিস তুই, চুপ কর। চুপ কর। তোর পার্টির দাদারা, কলকাতার আঁতেলরা শুনতে পেলে কী হবে?

    সেনসাহেব বলেছিলেন।

    যাওয়ার আগে শেষমুহূর্তের, শেষকথা বলেছিল অবিবাহিত পাঁচু, ‘আগল খুলে বাঁচিস রে ফুচু।

    ডিনার সার্ভ করে দিয়েছে। কফিও। তার পর বাসনপত্র সব নিয়ে-টিয়েও গেছে এয়ার হস্টেস এসে। সকলেরই একটু ঘুম ঘুম ভাব। দু-ঘণ্টা কুড়ি মিনিট বা আড়াই ঘণ্টার ফ্লাইট। তারমধ্যে আধাআধি পেরোনো গেছে। নাগপুরও পেছনে ফেলে এসেছে প্লেন।

    কিছুক্ষণ পরেই প্লেনটা হঠাৎ অসম্ভব ঝাঁকাতে আরম্ভ করল সকলের চোখের ঘুম ঘুম ভাব চটকে দিয়ে। মনে হল, ইঞ্জিনের মধ্যে যেন কোনো পাথরের চাঙড় বা লোহার পিন্ডই ঢুকে গেছে। কী যেন গুঁড়িয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনটাও। সিট-বেল্ট বাঁধার সাইনটা জ্বলে উঠেছে আগেই।

    আশ্চর্য একটা শব্দ করতে লাগল প্লেনটা। সপ্তাহে গড়ে চার বার প্লেনে-চড়া সেনসাহেবেরও এমন অভিজ্ঞতা কখনোই হয়নি। প্রথমে মনে হচ্ছিল, এয়ারবাসের ইঞ্জিন নয়, দার্জিলিং-হিমালয়ান-লাইট রেলওয়ের ইঞ্জিনই কথা বলছে। পাহাড়ে চড়ছে ছোটো ট্রেন। একটা সমান ব্যবধানের, সমান ডেসিবেল-এর ‘ধস ধস’ শব্দ।

    ক্রমশই সেই শব্দটা জোর হতে লাগল। এমনভাবে থরথর করে, সড়সড় শব্দ করে কাঁপতে লাগল প্লেনটা যে, মনে হতে লাগল, ওভারহেড লকারগুলো সব ভেঙে মাথার ওপরেই পড়বে। তার পরই একটা মুহূর্ত এল যখন স্টারবোর্ড ইঞ্জিনের মধ্যে থেকে তীব্র একঝলক আগুন লাফিয়ে উঠল এবং তার পরেই মনে হল যে, প্লেনটা ভেঙেই পড়বে এক্ষুনি নীচে। সব শেষ। এবং সঙ্গে সঙ্গে প্লেনের আলোগুলোও হঠাৎ নিভে গিয়ে অন্ধকার হয়ে গেল পুরো প্লেনটা এবং যে এয়ার-ডাক্ট দিয়ে বাইরের টাটকা বাতাস ঢোকে তা দিয়ে কালো ধোঁয়া আসতে লাগল। সঙ্গে পেট্রোলের গন্ধ। বিভিন্নগ্রামে কান্নাকাটির ও হা-হুতাশের আওয়াজে ভরে গেল প্লেনের মাথা থেকে ল্যাজ পর্যন্ত।

    এয়ার হোস্টেস বা স্টুয়ার্টদেরও দেখা গেল না। তাঁরাও কি কাঁদছেন? এমনিই অন্ধকারে অন্ধকারতর সন্দেহে ও আতঙ্কে কাটল সকলেরই আরও মিনিট পাঁচেক। কিন্তু সেই পাথর আর লোহা গুঁড়োনো শব্দটা যেন, হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল স্টারবোর্ড সাইডের ইঞ্জিন থেকে। আগুনও আর দেখা গেল না।

    প্রতিটি যাত্রীর মনেই তখন বাঁচার ইচ্ছেটা তীব্রভাবে ফিরে এল হঠাৎই আবার। এতক্ষণ, মরতে যে হবেই, এটাই সকলে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাতে মেনে নিয়েছিলেন।

    ‘জে’ক্লাসের ফার্স্ট রো-র ‘এ’ সিটে একজন মন্ত্রী যাচ্ছিলেন আর ওয়ান ‘এইচ’-এ একজন বামপন্থী সাংসদ। প্লেনে উঠে চোখাচোখি হতেই নমস্কার বিনিময়ও হয়েছিল দুজনের মধ্যে। লক্ষ করেছিলেন সেনসাহেব। তবে একজন ডানপন্থী অন্যজন বামপন্থী। একটু আগেই দুজনেই মৃত্যুপথযাত্রী ছিলেন।

    এমন সময়ে ইন্টারকম-এ ক্যাপ্টেনের গলা ভেসে এল। উনি বললেন, প্লিজ, আপনারা কান্নাকাটি করবেন না। উত্তেজিত হবেন না। প্লেনের ডান দিকের ইঞ্জিনে আগুন যে ধরে গেছিল তা ঠিকই। কিন্তু ইঞ্জিনের মধ্যেই বিল্ট-ইন-ডিভাইস থাকে। তা দিয়ে আগুন আমরা নিভিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এখন প্লেন উড়ছে একটা ইঞ্জিনেই মাত্র। পোর্ট-সাইড অর্থাৎ বাঁ-দিকের সে ইঞ্জিনটিও যে খারাপ হবে এমন আশঙ্কা করার কোনো কারণ নেই। তবে ল্যাণ্ডিং-এর সময়ে আমাদের কিছু অসুবিধে হতে পারে। বম্বের আকাশের ওপরে ঘুরে ঘুরে সব ফয়েল পুড়িয়ে ফেলে, হোপফুলি, হয়তো ভোর দেড়টা-দুটো নাগাদ আমরা ল্যাণ্ড করব সান্টাক্রুজ-এ। একইঞ্জিনেই। পাওয়ার বাঁচাবার জন্যই আলো সব নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনারা রিল্যাক্স করুন। হ্যাপি ল্যাণ্ডিং।

    সঙ্গে সঙ্গে একটা জোর গুঞ্জন উঠল প্লেনময়। মৃত্যু থেকে জীবনে ফিরে এলেন আপাতত প্রত্যেকটি যাত্রী। গরিব থেকে বড়োলোক, পুরুষ থেকে নারী, ‘ইকনমি’ ক্লাস ও ‘জে’ ক্লাসের প্রত্যেক প্যাসেঞ্জার। সিট-বেল্ট সাইন তখনও অফফ হয়নি, হয়তো হবেও না। কারণ, বাঁচাটা এখনও সুনিশ্চিত হয়নি। যদি মরতে হয়, তবে মরার ক্ষণকেও বিলম্বিত করা গেল কিছুটা। এতেই যেন সকলে খুশি। ল্যাণ্ডিং-এর সময়ে কী হবে না হবে তখনই দেখা যাবে।

    ফর্সা, বেঁটে মন্ত্রী নিজের সিট ছেড়ে উঠে গিয়ে কালো, লম্বা সাংসদকে ডান হাত বাড়িয়ে বললেন, কনগ্র্যাচুলেশনস!

    সাংসদও বাঁ-হাত বাড়ালেন। হেসে বললেন, কিস লিয়ে জি?

    মওত কো হটানে কে লিয়ে জি, দুবারা জিনে কি লিয়ে। যুগ যুগ জি জিন্দাগি।

    অন্যজনও বললেন, জিন্দাগি মুবারক হো। মুবারক।

    হা:। হা:। হা: করে দু-তরফেরই হাসি শোনা গেল। এবং সেই যুগ্ম দেশসেবকদের হাসিতে যোগ দিলেন ‘জে’ ক্লাসের প্রায় সব যাত্রীই। জীবনের হাসির হররাতে ক্রমশ ভরে যেতে লাগল অত বড়ো প্লেনের আনাচ-কানাচ। দীর্ঘরাতের শেষে ভোরের শব্দের মতন। ধীরে ধীরে।

    বেঁচে থাকাটা যে কত্ত সুখের!…আঃ।

    ফুচু সেন বাইরে চেয়ে দেখলেন, তারা-ভরা কৃষ্ণপক্ষের ব্রহ্মান্ড। প্লেনটা একত্রিশ হাজার ফিট ওপর দিয়ে যাচ্ছে। এভারেস্টের উচ্চতা যেন কত? উনত্রিশ হাজার দু-ফিট?

    সবচেয়ে কাছে যে-তারাটা সেটা কত দূরে? কে জানে! আলোর গতি যেন কত? এক সেকেণ্ডে একলক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল? তবে ওই জ্বলজ্বল-করা তারাটা? কত দূরে? কে জানে!

    এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল সেনসাহেবের জীবনের জমে-থাকা সব ভাবনাই। জীবনের ঘর থেকে মৃত্যুর ঘরে হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে ফিরে এলে বোধ হয় এমনিই ঘটে। আগে তো কখনো হয়নি এমন অভিজ্ঞতা!

    সেনসাহেব মনে মনে বললেন, তুমি শুধু শুধু বাজে কথা বলতে পচাদা। বাগাড়ম্বর। কথারই কথা। যাঁরা মৃত্যুর কাছাকাছিও একবার গিয়ে পৌঁছেছেন তাঁরাই জানেন, বেঁচে থাকাটা কত্ত সুখের। শুধুমাত্র বেঁচে থাকাটাই, প্রশ্বাস নেওয়া আর নি:শ্বাস ফেলাটাই—গবা তোমাকে যেমন বলেছিল।

    মানুষ মরে কোথায় যায়, কে জানে? আদৌ কি যায় কোথাওই? একদল জোরের সঙ্গে বলেন, মৃত্যুই শেষকথা। সবই থেমে যায় সেখানে পৌঁছে। অন্যদল বলেন, ভুল, ভুল।

    হিন্দুদের স্বর্গ-নরক আছে। শুধু একরকমেরই নয়। বহুরকমের। মুসলমানদেরও তাই। ‘পরলোক’ সম্বন্ধে বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী দু-দলের মধ্যে কোন দল ঠিক, তা কে জানে! তবে ফুচু সেনের মতো এইমুহূর্তে আর কেউই জানেন না যে, দল-মত-জাত-ধর্মনির্বিশেষে এই প্লেনের প্রত্যেকটি মানুষ এইমুহূর্তে নি:শর্তে মানেন যে, জীবনের চেয়ে, বেঁচে থাকার চেয়ে, বড়ো প্রার্থনার আর কিছুই নেই।

    সত্যি।

    ভাবা যায় না, এই মরতে মরতে বেঁচে যাওয়ার ব্যাপারটা।

    কিন্তু ল্যাণ্ডিং-এর সময়ে কী হবে?

    অন্ধকার থেকে ওঁর মৃত বন্ধু পাঁচু যেন হাতছানি দিল সেনসাহেবকে, বাইরের অন্ধকার কিন্তু তারা-ঝলমল ব্রহ্মান্ড থেকে। বলল, দুস। দুস ফুচ। একে বাঁচা বলে রে? তোরা যেমন বাঁচছিস, আমি যেমন বেঁচে ছিলাম? ছ্যা: ছ্যা:! আগল খুলে বাঁচ রে, আগল খুলে বাঁচতে শেখ। এখনও শেখ। আগল তুলে বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়াতে কোনো তফাত নেই। আমি বলছি। জীবন আর মৃত্যু দুই-ই আমার দেখা আছে বলেই বলছি। বাঁচ রে ফুচু। বাঁচার মতো বাঁচ। জীবিকার জন্য বাঁচিস না, জীবনের জন্যে বাঁচ।

    বিপদের সময়ে কখন যে রিফ্লেক্স-অ্যাকশনে জুতোটা পরে ফেলেছিলেন ফুচু সেন তা নিজেও খেয়াল করেননি। লজ্জিত হলেন। সত্যিই সত্যিই বাঁচার বড়োই ইচ্ছে ফুচু সেনের। শুধু ওঁর একারই বা কেন? হয়তো সব মানুষেরই। চোখের সামনেই তো দেখলেন প্রত্যেককে। বাঁচার ইচ্ছে কার নেই? এমনকী যেমন-তেমন করে বাঁচার ইচ্ছেও। এখন আবার জুতোটা খুলে ফেলে, মোজা-পরা ‘টেনসড-হয়ে থাকা’ পা দু-খানিকে পুরোপুরি ছড়িয়ে দিয়ে চোখ বুজে ফেললেন। আঃ। নিশ্চিন্ত। আপাতত। ল্যাণ্ডিং-এর আগে পর্যন্ত।

    ওঁর কানের কাছে কারা যেন সমানে বলে যেতে লাগল, এবার যেন শুধু পাঁচুরই নয়, পচাদার গলাও পেলেন; একে বাঁচা বলে না রে ইডিয়ট। বাঁচ! বাঁচ। আগল-খুলে বাঁচ। অমন বাঁচা গোরু-ছাগলেরা আর ফেরেববাজেরাই বাঁচে। বাঁচ রে ফুচু। বাঁচ।

    কল-বাটন টিপলেন সেনসাহেব। হোস্টেসের কাছে তুলো চাইবেন ভাবলেন কানে গোঁজার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারলেন এই স্বরক্ষরণটা হচ্ছে তাঁর নিজের মস্তিষ্কেরই মধ্য থেকে, শব্দহীন রক্তক্ষরণেরই মতন।

    তুলোর সাধ্য কী তা…

    পাঁচু ও পচাদারা একটা ধাঁধার মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছেন ফুচু সেনকে, সারাজীবনেরই মতো। মানে, যতটুকু আর বাকি আছে। তাঁর জীবনটাও প্রায় চলে যেতে যেতে বুমেরাং হয়েই ফিরে এল তাঁর আপাতসুখী, সংসারী, তথাকথিত কৃতী কিন্তু অন্তঃসার শূন্য জীবনের মধ্যে, অন্য একটা জীবন হয়ে। ফুলের মধ্যে ফুলের মতন, পাতার মধ্যে পাতা। নতুন জীবনের বাণী বয়ে। এতাবৎ সম্পূর্ণই অচেনা একটা চেহারা নিয়ে। হঠাৎ।

    অর্ণবী সেদিন একটা ফোটো পাঠিয়েছিল তার চিঠির সঙ্গে। বীরভূমে তাদের দেশের গ্রামের। আহা! কী সুন্দর লালমাটির পথ! গোরুর গাড়ি চলছে। চাপ চাপ সবুজ ঘাস। সবুজ, সবুজ; চারিদিকেই সবুজ। একটা সাদা গোরু আর একটা কালো গোরু চরছে পথের দু-পাশে। দু-দিকেই ঝাঁকড়া, বড়ো বড়ো গাছ। কচি কলাপাতা-সবুজ। সুরুলের খুব কাছেই নাকি জায়গাটা। ঠিক যে কোথায়, তা কে জানে? সব তো জানায়নি।

    ফুচু সেনের স্ত্রী নলিনী যাই বলুন, তিনি থাকুন তাঁর চাকরবাকর, সাজানো-গোছানো ঘরবাড়ি, গাড়ি-ড্রাইভার এবং তাঁর ‘সাহেব’ ছেলেকে নিয়ে কলকাতাতে এইসব ‘ভদ্র’, ‘সভ্য’, ‘শিক্ষিত’, শহুরে মানুষদের সঙ্গে।

    ফুচু সেন অবশ্যই চলে যাবেন। সেই গ্রামে। নামটা মনে পড়ছে না, এ-মুহূর্তে। জানিয়েছিল কি? অর্ণবী ওঁকে সিরিয়াসলি নেয়নি। নিলে, ওঁর চিঠির আর্তিটা বুঝতে পেত। মনে হয়, কেউই ওঁকে সিরিয়াসলি নেয় না। নামও জানেন না জায়গাটার, অর্ণবীদের দেশের, গাঁয়ের—।

    ফোটোটা পাওয়ার পর থেকেই অর্ণবীদের গ্রাম নিয়ে অনেকই স্বপ্ন দেখেছেন ফুচু সেন। যদি জমি পেতেন একটু অথবা একটি ভাড়া বাড়িও! মাটির বাড়ি হলেও চলে যেত। বই-পত্তর, রেকর্ড-টেকর্ড, রং-তুলি সব নিয়ে বাকিজীবনটা ওখানেই কাটিয়ে দিতেন তাহলে।

    সত্যিই সত্যিই মনটা আজ বড়োই উচাটন হয়েছে বাঁচার জন্যে। আগল খুলে বাঁচার জন্যে। বিশেষ করে পাঁচুটা অকালে চলে যাওয়ার পর থেকে। এবং আজকের ওই দুর্ঘটনা অথবা ঘটনা…

    এই পুরোনো রাতের শেষে অথবা অনাগত নতুন দিনের শুরুতে যদি প্লেনটা তেল-টেল ফুরিয়ে নিয়ে একইঞ্জিনে অবশেষে সত্যিই নামতে পারে নিরাপদে তবে আর কারো গোলামিই তিনি আর একদিনও করবেন না। সত্যি সত্যিই সমস্ত ভার-মুক্ত, এক নতুন মানুষ হয়ে যাবেন এই জীবনের মতন। আগলটা দু-হাতে খুলে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেবেন। ভোরের পাখি হয়ে যাবেন। আনন্দে গান গাইবেন। যদি অর্ণবীদের দেশে না-যাওয়াও হয়, যদি ওরা নাও চায় ওঁকে, তবে উনি চলে যাবেন পাঁচুর শেষজীবনের গল্পে গল্পে নেশা ধরে-যাওয়া গাড়োয়াল হিমালয়ে—অলকানন্দার ধারে—বা মন্দাকিনীর পারে কোনো ছবির চেয়েও সুন্দর গ্রামে। গিয়ে, এই অপ্রয়োজনের প্রয়োজনের ভারে ন্যুব্জ, এই ইট-চাপা ঘাসের ফ্যাকাশে বিস্বাদ জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন তিনি। ‘চুকোর’ আর ময়ূরের ডাকে ভোর করবেন প্রতিটি দুঃস্বপ্নের রাত, উত্তর-বাহিনী হাওয়ার মধ্যে।

    ফুচু সেন বুঝতে পারছেন যে, পাঁচুর চলে-যাওয়াটা আর একটু আগের প্রায় হঠাৎ-মৃত্যুর ছোঁয়াটা তাঁকে জীবনের এক নতুন মানে খোঁজাতে আপ্রাণ উদবুদ্ধ করেছে।

    বড়োই ঝামেলাতে ফেলে গেছে পাঁচু তাঁকে যাওয়ার সময়ে। এবং বহুদিন আগে চলে যাওয়া পচাদাও।

    প্লেনটা নানা-রঙা আলো ঝলমল দিগন্ত-বিস্তৃত বম্বে শহরের ওপরে এসে ক্রমাগত ঘুরতেই লাগল। একটা এয়ারবাস তিন-শোতে ঠিক কতখানি অ্যাভিয়েশন ফুয়েল থাকে, কে জানে? কলকাতা থেকে বম্বে পাড়ি দেওয়ার পরও কতখানি তেল থাকে?

    এবার ক্রমশ উচ্চতা হারাচ্ছে প্লেনটা তবে বাঁ-দিকের ইঞ্জিন ঠিকই কাজ করছে। নামছে, নামছে, নামছে।

    পৃথিবী ডাকছে, আয়! আয়! আয়! নাকি পাঁচু ডাকছে? পচাদা?

    সকাল প্রায় পৌনে দুটোর সময়ে অবশেষে টালমাটাল পায়ে আত্মভোলা শিশুর মতন একইঞ্জিনে কোনোক্রমে নেমে পড়ল এত বড়ো এয়ারবাসটা মস্ত একটা হার্টফেল করানো ঝাঁকি দিয়ে। ‘টারম্যাক’-এর শেষপ্রান্তে, মানে যেখানে প্লেন ল্যাণ্ড করে, তারই দু-পাশে পরম উদবেগের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা ফায়ার-ব্রিগেড আর অ্যাম্বুলেন্স-এর গাড়িগুলো যেন প্লেনটাকে ধাওয়া করে ছুটে আসতে লাগল পেছন পেছন হেডলাইট জ্বেলে। কিন্তু কোনো অঘটনই ঘটল না। এবারের মতো বেঁচে গেলেন ফুচু সেন, ফর্সা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কালো সাংসদ এবং প্লেন-ভরতি অগণ্য নারী-পুরুষের দল, যাঁদের অধিকাংশেরই জীবনে বেঁচে থাকার কোনো বিশেষ সার্থকতা নেই। যাঁরা ‘আগল-খুলে বাঁচা’ কাকে বলে, তা জানেন না পর্যন্ত। ধোপার গাধা বা চাষের বলদের চেয়ে অন্য বা ভিন্ন কোনো পরিচয়ই নেই যাদের ফুচু সেনেরই মতন।

    তবুও, তাঁরাও সকলেই আবারও জীবন পেলেন।

    সঙ্গে সঙ্গেই গত একঘণ্টা ধরে নতুন নতুন উৎকন্ঠায় শুকিয়ে-যাওয়া গলা নিয়ে বসে থাকা যাত্রীরা দ্বিতীয় বার বেঁচে ওঠার আনন্দে যেন মেঘলা ভোরের ময়ূরের মতো নৃত্য করে উঠলেন। এক সুন্দরী বিবাহিতা বাঙালি বললেন, তাঁর স্বামীকে; ‘ক্যাপ্টেনকে চুমু খাব আমি।’ স্বামী আনন্দে গদগদ হয়ে বললেন, ‘ককওনা, কাও’। সঙ্গে সঙ্গেই একজন সাড়ে ছ-ফিট শালপ্রাংশু সর্দারজি বললেন, ‘আমিও খাব, কো-পাইলটকে’।

    বেচারা কো-পাইলট!

    এই জীবন ফেরত পেয়ে ট্যাঁকস্থ করার হইচই-এর মধ্যেই ফুচু সেন টাইয়ের নটটা ঠিক করে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, আজকের ভোরের আলো আসবে আমার মুক্তি নিয়ে, পচাদা, পাঁচু, আপনারা, তোরা, দেখবেন; দেখিস। জীবনের যে ক-টা দিন আর বাকি আছে, আর একজনেরও গোলামি করব না। না কোনো অশিক্ষিত, উদ্ধত মালিকের; না বউ এর, না ছেলের, না অন্য কারোরই। আগল খুলে বাঁচা কাকে বলে, তা দেখিয়ে দেব।

    চেরিয়ান জর্জ, মক্কেলের কোম্পানির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার, নিতে এসেছিলেন সেনসাহেবকে। প্লেন ল্যাণ্ড করার কথা ছিল রাত সাড়ে দশটাতে কিন্তু নামল সকাল দুটোতে। অপেক্ষার কষ্টের চেয়েও উৎকন্ঠার কষ্টটা অনেকই বেশি ছিল জর্জসাহেবের। সেনসাহেবকে জড়িয়ে ধরে তিনি চুমু খেলেন। সিগারেটের গন্ধে আর থুতুতে মুখময় মাখামাখি হয়ে গেল সেনসাহেবের। তবু ভারি খুশি হলেন। জর্জসাহেব বললেন, কনগ্র্যাটস স্যার। ফর দ্য সেকেণ্ড লাইফ।

    তাজমহল হোটেলে যখন পৌঁছোলেন ওঁরা, তখন পৌনে তিনটে সকাল। জর্জকে তখনই যেতে দিলেন না ফুচু সেন। সোজা তাঁর হাত ধরে ‘শামিয়ানা’-তে ঢুকে বললেন, হোয়াটস দ্য বেস্ট স্কচ ইউ হ্যাভ?

    জনি ওয়াকার ব্লু লেবেল স্যার।

    স্টুয়ার্ট বললেন।

    ব্রিং আস ফোর লার্জ প্লিজ।

    উইথ সোডা অর ওয়াটার স্যার?

    উইথ সোডা। অ্যাণ্ড প্লেন্টি অব আইস প্লিজ।

    হুইস্কি আসার পর ফুচু সেনের হাতে হাত ঠেকিয়ে, গ্লাসে গ্লাস ঠেকিয়ে জর্জসাহেব বললেন, ট্যু ইউ স্যার। অ্যাণ্ড টু লাইফ।

    ট্যু আগল-খোলা লাইফ।

    মনে মনে বললেন, সেনসাহেব।

    চলে যাওয়ার সময়ে জর্জসাহেব বললেন, আওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইজ অ্যাট ইলেভেন থার্টি স্যার। ইলেভেন থার্টি শার্প।

    হোয়াট?

    স্বপ্নোত্থিতের মতন বললেন সেনসাহেব।

    বললেন, উইথ হুম?

    উইথ দ্য চিফ কমিশনার স্যার। মি. এস ইনামদার।

    ওঃ ইয়েস। ইয়েস, ইয়েস! আই সি। কীজন্যে মুম্বই আসা সেটাই ভুলে গেছিলেন।ডানা-কাটা অ্যালবাট্রস পাখির মতন বললেন তিনি।

    আর কিছু বলার আগেই জর্জ বলল, আই উইল কাম টু পিক ইউ আপ অ্যাট ইলেভেন শার্প। হ্যাভ সাম স্লিপ। ভেরি গুড মর্নিং স্যার।

    গুড মর্নিং।

    যন্ত্রচালিতের মতো বললেন সেনসাহেব। জর্জসাহেবের স্টিল-গ্রে মারুতি ওয়ান থাউজ্যাণ্ড চলে গেল।

    সেনসাহেব তখনও তাজমহল হোটেলের লবির বাইরের সিঁড়িতেই দাঁড়িয়েছিলেন জর্জসাহেবকে সি অফ করে।

    সর্দারজি গেটম্যান বলল, শ্যাল আই কল ইয়োর কার স্যার?

    বেল-ক্যাপ্টেনের ডেস্ক-এর সামনে বেল-বয় তাঁর ব্যাগটি ট্রলিতে বসিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    সেনসাহেব ঘোর ভেঙে বললেন, ‘নো। থ্যাঙ্ক ইউ।’

    বলেই, কাচের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে রিসেপশনে গিয়ে, সই করে দিয়েই, (এ হোটেলের ওঁকে সকলেই চেনে); ধীরে ধীরে বাঁ-দিকে ঘুরে ওল্ড উইং-এ যাওয়ার লিফট-এর দিকে হেঁটে চললেন। পাশে পাশে চাবি আর ছাপানো লেটারহেড নিয়ে গেস্টস-রিলেশন-এর সুন্দরী মেয়েটি কী যেন বলতে বলতে যেতে লাগল। শুনতে পেলেন না সেনসাহেব। যেন, খোঁড়া-গোরু।

    বেল-বয় সার্ভিস লিফট দিয়ে ওঁর ব্যাগ নিয়ে আসবে।

    ফুচু সেন জানেন, কাল সকাল পৌনে এগারোটাতে যে-মুখটি তিনি দেখতে চান না, যে-মুখটিকে তিনি ভালোবাসেন না, সেই মুখটি, সেই ফুচু সেনের ক্লান্ত বিরক্ত মুখটিই তিনি দেখতে পাবেন আয়নাতে। দেখতে পাবেন, মনোযোগ দিয়ে টাই বাঁধছেন তিনি। আবারও আর একটি গোলামির দিন শুরু করতে হবে। ঘরের দরজা থাকবে ডাবল-লক করা। বাইরে লাল আলো জ্বলবে। ‘প্লিজ ডু নট ডিস্টার্ব।’ কিন্তু যে তাঁকে ডিস্টার্ব করে অনুক্ষণ সে তো আছে ঘরের ভেতরেই, আয়নায় যার মুখ আঁকা।

    মুক্তি নেই; মুক্তি নেই। অর্ণবী তুমি একজন হতভাগা মানুষের সবুজের স্বপ্ন সিরিয়াসলি নিলে না। মুক্তির ইচ্ছের তীব্রতাটা বুঝলে না একটুও।

    যে আগলের কথা পচাদা বলেছিলেন, পাঁচু প্রায়ই বলত, সেই আগল তো চোখে দেখার নয়, হাতেও ছোঁওয়ার নয়।

    টাইটা বাঁধা হয়ে গেলে, ওয়াড্রোব থেকে জ্যাকেটটা বের করে পরলেন। তার পর প্লাস্টিক জ্যাকেটের মধ্যে ভরা ব্রিফটা তুলে নিয়ে ঘরের দরজাটা খুলতেই হঠাৎ কোনো নিরুদ্দেশ থেকে আবার রবি ঠাকুরেরই একটি গানের কলি, যাঁর গানের সঙ্গে অধিকাংশ শিক্ষিত বাঙালির বাঁচা-মরা সব জড়িয়ে-মড়িয়ে গেছে অদৃশ্য ভাইরাসেরই মতন, ফিরে এল:

    আকাশে তোর তেমনি আছে ছুটি
    অলস যেন না রয় ডানা দুটি
    ওরে পাখি ঘন বনের তলে
    বাসা তোরে ভুলিয়ে রাখে ছলে
    রাত্রি তোরে মিথ্যে করে বলে
    শিথিল কভু হবে না তার মুঠি
    ….আকাশে তোর তেমনি আছে ছুটি।

    ‘তাজমহল’ হোটেলের তিনতলায় ঝকঝকে বারান্দা দিয়ে লিফটের দিকে খুব আস্তে আস্তে হেঁটে যেতে যেতে সেনসাহেব অস্ফুটে বললেন, পাঁচু, পারিনি রে। পারলাম না। সেনসাহেবের জল-ভরা চোখ দুকটি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ হোটেলের সর্বত্র হন্তদন্ত হয়ে টাকা, ক্ষমতা, প্রতিযোগিতা আর প্রতিপত্তির ফেরে দিন-রাত ছুটে বেড়ানো মানুষদের একজনেরও চোখে পড়ল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }