Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অবেলায় ফুলকলি

    অসময়ে বৃষ্টি হল, দিনের অসময়ে তো বটেই বছরেরও অসময়ে। হোটেল থেকে বেরোতে দেরিও হয়ে গেছিল। রায়পুর এখন মস্ত শহর। ছত্রিশগড়ের রাজধানী হওয়ার পর থেকে তো রমরমা ক্রমান্বয়েই বাড়ছে। সরকারি অফিস-কাছারিও বেড়েছে। সকালে নারায়ণপুর থেকে বেরিয়ে অনেকখানি পথ গাড়িতে এসে মাঝদুপুরে রায়পুরের হোটেলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য এসে উঠেছিল অনি। প্রদীপরা আজ মাঝরাতের গাড়ি ধরে নাগপুরে ফিরে যাবে। নাগপুর থেকে ওরা সদলবলে এসেছিল অনিকে বস্তার ঘুরিয়ে দেখাবে বলে। চারটে রাত আর পাঁচটা দিন যেন ঘোরের মতো কেটে গেল। জগদলপুর, দেবী দন্ত্যেশ্বরীর মন্দির, ইন্দ্রাবতী নদী, তার পর নারায়ণপুর। নারায়ণপুর থেকেই বাইসন-হর্ন মারিয়াদের অবুঝমারে যেতে হয়। অবুঝমারের প্রবেশপথের ওপরেই ছোটি ডোংরি নামের একটি বনবাংলোতে সালফি খেয়ে পরে একটি পরিত্যক্ত ঘোটুলে মারিয়াদের নাচ দেখা হল। অনেকে রণপা-তে চড়ে নাচল। ঘোটুলের সামনের হাতায়, যার পুরোটাই কাঠের টুকরোর বেড়া দিয়ে ঘেরা, হ্যাজাকের আলোতে, বর্ণাঢ্য পোশাকে সাজা নারী-পুরুষের নাচ দেখা হল। ওরা এক রকমের লাঠি নিয়ে নাচে যেগুলো নাড়লে-চাড়লে তাদের মধ্যে থেকে বাঁশির মতো আওয়াজ বের হয়। গতরাতেই সেই নাচ দেখেছিল ওরা, এখনও স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। প্রদীপ গাঙ্গুলি, প্রদীপ মৈত্র, তাপস সাহা এবং সঞ্জীব গাঙ্গুলি সস্ত্রীক অনিকে ট্রেনে তুলে দিতে এসেছে।

    এখানের সকলেই বলে মেইল। এখন অনেক গাড়ি হয়েছে বটে। আগে নাগপুর, রায়পুর, ভিলাই, জব্বলপুর, বিলাসপুর ইত্যাদির বাঙালিদের কলকাতা যেতে-আসতে বম্বে-হাওড়া আর হাওড়া-বম্বে মেইল ভায়া নাগপুরই ভরসা ছিল। পুরোনো অভ্যেস বলে ওরা এখনও মেইল-ই বলে বম্বে মেলকে।

    ভাগ্যিস ট্রেনটা প্রায় আধ ঘণ্টা খানেক লেট ছিল, নইলে ট্রেন ফেল করত আজ। ওভারব্রিজ পেরিয়ে প্ল্যাটফর্ম-এ যখন দাঁড়াল তখন বেশ গরম লাগছিল। ওরা সকলে একটা পাখার নীচে দাঁড়াল। ফার্স্ট ক্লাস এ সি কম্পার্টমেন্ট কোথায় দাঁড়াবে তা, কুলিকে ওরা জিজ্ঞেস করে নিয়েছিল। অনির ফার্স্ট এ সি-তে চড়ার সামর্থ্য নেই। ওরাই তার জন্যে এই বিলাসিতার বন্দোবস্ত করেছে। তবে বয়েস হওয়াতে চেহারা ভারী হয়ে গেছে। শারীরিক কষ্ট আর সহ্য করতে পারে না। আরাম করে যে এসেছে এবং আরাম করেই ফিরবে তা জেনে স্বস্তি হয়। ট্রেনে একবার উঠে পড়তে পারলে আর চিন্তা নেই কোনো। ভিড়ের প্ল্যাটফর্মে ধাক্কাধাক্কি করে ওঠাই যা ঝামেলা।

    ওরা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গল্প করবার সময়েও সঞ্জীবের ক্যামেরার বিশ্রাম মিলল না। সে সমানে ছবি তুলে যেতে লাগল। অনি ভাবছিল, যখন যৌবন ছিল, চেহারাও সুন্দর ছিল তখন কেউ ছবি তোলেনি আর আজ এই বৃদ্ধর ছবি তোলে কত মানুষ। সাহিত্যিক হয়ে অগণিত মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা পেল তাদের মধ্যে অধিকাংশই অপরিচিত, তা বলার নয়, ভোলারও নয়। মন ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। সঙ্গে সঞ্জীবের স্ত্রী সুচিত্রাও ছিল। সে-ই ওদের দলে একমাত্র মহিলা। মেয়েকে এক বোনের কাছে রায়পুরে রেখে দ্বিতীয় মধুচন্দ্রিমাতে বেরিয়েছিল ওরা। বসেও ছিল মুখোমুখি টাটাসুমোর পেছনের সিটে। কী প্রেম। কী প্রেম! ওদের দেখে ভারি ভালো লেগেছে ওই চার-পাঁচ দিন অনির।

    নিধুবাবুর একটা গান আছে—

    ‘প্রণয় পরম রত্ন যত্ন করে রেখো তারে, বিচ্ছেদ তস্করে আসি যেন, কোনোরূপে নাহি হরে। অনেক প্রতিবাদী তার হারালে আর পাওয়া ভার, কখন যে সে হয় কার, কে-বা বলিতে পারে।’

    সত্যিকথা। ‘প্রেম’-কে নিরন্তর সেবা-যত্ন, সোহাগে উজ্জ্বল করে না রাখতে পারলে, প্রেম অন্যঢালে গড়িয়ে যায়।

    প্ল্যাটফর্মে একটা শোরগোল উঠল। ঘুমন্ত অজগর জেগে উঠলে যেমন হয় তেমন দুলে উঠল জনারণ্যের বুক। ট্রেনটা এসে গেল। প্রদীপরা অনিকে নিয়ে কোচে উঠে কম্পার্টমেন্টে বসিয়ে দিল। রিজার্ভেশন চার্ট থাকে না মাঝ-স্টেশনে। গাড়ি ছাড়লে কণ্ডাক্টর গার্ড যাকে, যেখানে যেতে বলবেন তাই যেতে হবে। অনিকে যে-কামরাতে ওঠাল প্রদীপেরা সেটা একটা ফোর বার্থ কম্পার্টমেন্ট। এক ভদ্রলোক বোধ হয় দুপুরে ভদকা বা জিন খেয়ে সব পর্দা-টর্দা টেনে দিয়ে লম্বা ঘুম লাগিয়েছিলেন। রায়পুর স্টেশনের গন্ডগোল এবং আগন্তুকদের আগমনে তিনি ব্যাজারমুখে উঠে বসে আগন্তুকদের দেখতে লাগলেন। অনি ঢোকার একটু পরেই এক অপরূপ সুন্দরী মহিলা, তাঁর বয়েস হবে মাঝ-চল্লিশ, একটি ছাই-রঙা সিল্কের শাড়ি পরে এসে উঠলেন। আর তাঁর সঙ্গে একজন স্টেনগানধারী অলিভগ্রিন পোশাকপরা প্রহরী। একজন সুদর্শন ভদ্রলোকও উঠে এসেছিলেন। মহিলার সঙ্গে অনেক মালপত্র, বড়ো বড়ো স্যুটকেস। ভদ্রলোক বাঙালি কণ্ডাক্টর গার্ডকে ধমকে বললেন হিন্দিতে, সেই মহিলাকে দেখিয়ে, আজেবাজে লোকের সঙ্গে ওঁকে এক কম্পার্টমেন্টে দেবেন না, একলাও দেবেন না ক্যুপেতে। ওঁর কোনো অসুবিধে হলে আপনার চাকরি চলে যাবে।

    অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং কণ্ডাক্টর-গার্ড দুজনেই না স্যার, না স্যার, কোনো চিন্তা করবেন না স্যার বলে যেতে লাগলেন দু-হাত জোড়া করে।

    ট্রেন প্রায় ছেড়ে দেয়, মিনিট চারেকের স্টপেজ বোধ হয়, অনি শুনল, দুই প্রদীপও তাঁদের ডেকে শাসাচ্ছে, বাংলার বড়ো লেখক যাচ্ছেন, বলেই অনির নামটা বলে বললেন, ওঁর যেন কোনো অসুবিধে না হয়। বুঝতেই পারছেন, কলকাতার এমন কোনো কাগজ নেই যারা ওঁর কথা মানে না।

    না না স্যার, কী বলছেন স্যার। একথাও দু-হাত জোড়া করে বলতে বলতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। ভদ্রমহিলার সঙ্গে এত মাল ছিল করিডর জ্যাম করে রাখা যে, ট্রেন ছাড়বার সময়ে অনি গিয়ে ওদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে পারল না।

    ট্রেন ছেড়ে দিলে কণ্ডাক্টর গার্ড এবং অ্যাটেন্ড্যান্ট এসে মহিলাকে বললেন, বলুন, মা আপনার জন্য কী করতে পারি?

    তারপর, অনিকে দেখিয়ে বললেন, আপনাকে এবং ওঁকে একটি ফোর-বার্থ কম্পার্টমেন্ট দিয়ে দেব। দেখব যাতে, রাতে কোনো প্যাসেঞ্জার আপনাদের কম্পার্টমেন্টে না ওঠে।

    ওঁরা মহিলার সঙ্গে হিন্দিতেই কথা বলছিলেন তবে সে হিন্দি যথার্থ হিন্দিভাষীর বোধগম্য হওয়ার মতো নয়।

    ভদ্রমহিলা কিছু বলার আগেই ওঁরা বললেন অনিকে দেখিয়ে, ইনোনে বুজুর্গ আদমি হ্যায় অউর বঙ্গাল কি বহত ভারি রাইটার ভি হে। বলেই অনির নামও বলল, অনিকেত সেন।

    ভদ্রমহিলার মাথাতে ঘোমটা ছিল না কিন্তু চোখের দৃষ্টিতে এমন কিছু ছিল যা, ঘোমটারই মতন—আব্রুর দ্যোতক।

    উনি চোখ দুটো নীচে নামিয়ে বললেন, ওঁর সঙ্গে এক কামরাতে যেতে আমার আপত্তি নেই। এত বড়ো বরমাল্য, ইজ্জত, অনি, বহুদিন পায়নি।

    সেও চোখ নামিয়ে বলল, ধন্যবাদ।

    ওঁরা বললেন, আপনারা ম্যাডাম ও স্যার ‘বি’ কম্পার্টমেন্টে চলে যান। আপনাদের সব মালপত্র আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। স্টেনগানধারী গার্ডও তাই বলল। বলল, আপ বে-ফিক্কর যাইয়ে মা।

    তখন সেই মহিলা আর অনি গিয়ে ‘বি’ কম্পার্টমেন্টে উঠল। ট্রেনটা গতি বাড়িয়েছে। দুলছে কামরা। প্রথম দশ মিনিট কেউই কোনো কথা বললেন না। অনিরই একটু অস্বস্তি লাগছিল। সারাটা রাত একজন অপরিচিতা মহিলা শুধু নন, অত্যন্ত সুন্দরী মহিলার সঙ্গে এককামরাতে যাবেন—এই কথাটা মনের মধ্যে নানারকম উথালপাথাল করছিল। অনির বয়েস হয়েছে অনেক কিন্তু ও বড়ো হয়নি। ওর মধ্যে একটা ছেলেমানুষ চিরদিনের জন্য মৌরসিপাট্টা গেড়েছে সতেরো বছর বয়েস থেকে যে এখনও তেমনই প্রেমিক আছে, তেমনই অবুঝ, তেমনই ভাবাবেগসম্পন্ন হঠকারী। ও, নিজেকে যতখানি ভয় পায়, পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুকেই অত ভয় পায় না।

    অনি বলল, সঙ্গে স্টেনগানধারী সিকিউরিটি কেন? আপনার স্বামী কি আর্মিতে আছেন?

    ইংরেজিতেই বলল।

    ভদ্রমহিলা বললেন, পরিষ্কার বাংলাতে, আমাকে চিনতে পারলেন না, অনিদা? আমি তোমাদের লেক রোডের পাড়ার নমু।

    নমু। তুমি।

    অনি কী বলবে ভেবে পেল না।

    বলল, স্টেনগান? নমু হেসে বলল, আমার শ্বশুরমশাই মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী ছিলেন। ছত্তিশগড়ে এমন সি সি-র তান্ডব চলেছে, তাই সিকিউরিটি। আমি তাঁর বড়োছেলের স্ত্রী।

    হঠাৎ মধ্যপ্রদেশের রহিস পরিবারের ছেলের, মিনিস্টারের এমন মতি?

    আমার শ্বশুরমশায় অচ্যুদানন্দ শর্মা বাংলা সাহিত্য, বাংলা গান, রবীন্দ্রনাথ এবং বাঙালিদের খুবই পছন্দ করেন। তাই ভালো খানদান থেকে, গ্র্যাজুয়েশন করা সুন্দরী বাঙালি মেয়ে, যদিও তুমি আমাকে পেঁচি বলে ডাকতে, পছন্দ করে নিজের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। তবে পারিবারিক কৌলীন্যটাই বেশি করে দেখেছিলেন। তুমি তো জানো মেদিনীপুর জেলাতে আমাদের মস্ত জমিদারি ছিল এবং আমার ঠাকুরদার রাজা পদবিও ছিল। যদিও তুমি যখন আমাকে দেখেছিলে, তখন বাবা লেক রোডে বাড়ি করে কলকাতাতে আসেন। কিন্তু মেদিনীপুরে আমাদের প্রাসাদ এখনও আছে এবং আমার ছোটোকাকা সেখানে শুধু থাকেনই না, আমাদের অবস্থাও ফিরিয়েছিলেন। ও-পাড়া ছেড়ে আমাদের আলিপুরের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর। ছোটোকাকাও খুব পড়াশোনা করতেন। গান-বাজনার শখ ছিল, ভালো শিকারি ছিলেন। তুমি তো দেখোনি ছোটোকাকাকে।

    দেখব না কেন? তিনি তো আসতেন কলকাতাতে মাঝে মাঝে।

    ও, দেখেছিলে?

    আমার শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে বিহারের চৌপারনে এক শিকারের ক্যাম্পে দেখা হয়েছিল ছোটোকাকার। তার পর ছোটোকাকার নিমন্ত্রণে তিনি যখন অনন্তপুরে আসেন, তখনই আমাকে দেখে ভারি পছন্দ হয়। ছোটোকাকাকে বলেন, আমার বড়োব্যাটা পড়াশোনা শেষ করলেই, একে আমি বহুরানি করে নিয়ে যাব। ইজাজত দিন।

    তার পর একটু চুপ করে থেকে বলল, এই তো আমার কথা। আমি এখন কেমন, চোস্ত হিন্দি বলি দেখলে তো। বাড়ির বড়ো বহুরানি হয়ে সকলের মন জুগিয়ে চলি। আমার শ্বশুরমশাইয়ের তো আমাকে না-হলে এক মিনিটও চলে না। এমনকী এজন্য শাশুড়ি-মা অনুযোগ পর্যন্ত করেন।

    তাই? সত্যি! গল্পের মতো শোনাচ্ছে না? সিনেমার গল্পের মতো।

    তার পর বলল, তোমরা সত্যিই জলের মতো। যে-পাত্রে তোমাদের ঢালা হয় তোমরা সেইরকম হয়ে যাও। মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তোমাদের অসীম।

    এখনকার মেয়েরা অন্য রকম। ওদের যে আর্থিক স্বাধীনতা আছে।

    তার পরই বলল, এবারে তোমার কথা বলো। বিয়ে তো করেছ নিশ্চয়ই, ছেলে-মেয়ে কী?

    তুমি তো জানো নমু। কোনো দিনও সকলে যা করে আমি তা করিনি। করলে, তোমাকে ভালোবেসে ফেলার অপরাধে, তোমার বাবা যখন আমাকে খুন করিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করেছিলেন, তখনও আমি তোমাকে না ভালোবেসে পারিনি। রাজা-রাজড়াদের রকমটাই এরকম। তুমি একরকম ছিলে, আমি অন্যরকম। আমরা প্রত্যেক মানুষই এক একরকম। পৃথিবীটা তাই হয়তো এত ইন্টারেস্টিং এখনও। তুমি তোমার বাবারই মতো খানদানি হতে চেয়েছিলে, বড়োলোকের মেয়ে রাজার বহুরানি হতে চেয়েছিলে। তাই হয়েছ। এ-সংসারে, যে-যা চায় তাই হয়তো পায়। যদিও সকলেই যে পায়, এমন নয়। তবে অনেকেই পায়। সম্ভবত অধিকাংশ মেয়েই তোমারই মতো। একজন চালচুলোহীন ছেলে, সে যতই মেধাবী ও ভালো হোক না কেন, তোমার যোগ্য সে কোনোদিক দিয়েই ছিল না।

    সেটা বাবার কথা। আমার কথা ছিল না, তুমি ভালো করেই জানো তো। কিন্তু এতদিন পরে আবার বাবাকে নিয়ে পড়লে কেন অনিদা? বাবা তো চলে গেছেন আমার বিয়ের পরই।

    তাই? মা? মা আছেন?

    হ্যাঁ। মায়ের কাছেই তো যাচ্ছি। এখন মা পাকাপাকিভাবেই অনন্তপুরেই থাকেন তবে, ন-মাসে ছ-মাসে আসেনও কলকাতাতে।

    তোমার মা ভারি অন্যরকম ছিলেন। তোমাদের পরিবারের সব আড়ম্বর, ভারি ভারি সেকেলে সোনার গহনার মধ্যে একটি ছোট্ট কিন্তু উজ্জ্বল হিরের নাকছাবির মতো। তুমি তোমার বাবার মতো হয়েছিলে। মায়ের মতো হতে পারোনি।

    আমার প্রশ্নের উত্তরটা কিন্তু এখনও পাইনি।

    নমিতা বলল।

    পুরো কম্পার্টমেন্ট ওর মহার্ঘ পারফিউমের গন্ধে ভরে ছিল।

    কোন প্রশ্নের?

    অনি শুধোল।

    ছেলে-মেয়ে কী? বউদি কোথাকার মেয়ে?

    আমি বিয়ে করিনি। করলে, অনন্তপুর রাজবাড়ির নমিতাকেই করতাম। যাকে-তাকে নিয়ে আমার চলত না। তবে আমি যাকে চেয়েছিলাম, তার সঙ্গে আজকের তোমার কতখানি মিল আছে জানি না। মিল থাক আর নাই থাক, আমার মনে মনে, তুমি যেমন ছিলে তেমনই আছ। আমার নমু।

    নমিতা গম্ভীর হয়ে গেল। মুখ নামিয়ে বলল, এত লেখাপড়া শিখেও তুমি সেন্টিমেন্টাল ফুল রয়ে গেলে কী করে? আজকাল কেউ কি দেবদাস হয়? সে তো পরমমূর্খামি। আমি কেমন ছিলাম? আমার মধ্যে কী ছিল যা অন্য কোনো মেয়ের মধ্যে ছিল না?

    অনি হাসল। বলল, অঙ্গপ্রত্যঙ্গর কথা বলছ? সে তো সব মেয়েরই কম-বেশি সমানই।

    শাড়ি খুলে তো তোমাকে দেখতে পাইনি এবং কখনো চাইনি। শরীর ছাড়াও একজন মেয়ের অনেক কিছু থাকে, পৃথকীকরণের চিহ্ণ হিসেবে।

    তা কী? মানে, সেসব কী?

    তা বলার নয়। পুরুষেরাই সেটা জানে। তোমাকে বোঝাতে পারব না, আর এত বছর পরে তা বলার দরকারই বা কী? লাভ তো নেই-ই।

    তুমি কি কলকাতাতে ফিরছ নাকি অন্য কোথাও নামবে পথে?

    আমি খড়গপুরে পড়াই আই আই টি-তে। খড়গপুরেই নামব।

    তাই? আমিও নামব খড়গপুরে। তার পর ওখান থেকে গাড়িতে অনন্তপুর।

    অনন্তপুরে ক-দিন থাকবে?

    দিন পনেরো তো বটেই। কেন? তুমি কি আসবে?

    না:।

    কেন? না কেন?

    আমার অনেক কাজ। ক্লাস তো থাকেই, ক্লাসের পরে পড়াশোনা থাকে, ছেলে-মেয়েরা অনেকে বাড়িতে পড়তে আসে। একটি মেয়ে আসে, তার নাম নমিতা। দেখতেও সে প্রায় তোমারই মতো। ওকে দেখে আমার, তোমার কথা মনে হয়।

    তুমি কী বিষয় পড়াও?

    আর্কিটেকচার। স্থাপত্য।

    ও।

    তার পর বলল, তোমার কপালের পাশে চুলে পাক ধরাতে তুমি আরও সুন্দর হয়েছ।

    যৌবন যখন ছুটি চায়, তখন এইসব কনসোলেশন প্রাইজ দিয়ে যায়, যাওয়ার সময়ে।

    অনি বলল, হেসে।

    তার পর বলল, তুমি আরও সুন্দরী হয়েছ, অন্য রকম। বহুরানির আভিজাত্য এসেছে তোমার মধ্যে। আচ্ছা তোমার স্বামী কি তোমার সঙ্গে বাংলাতে কথা বলেন?

    না, না হিন্দিতেই বলেন।

    অসুবিধে হয় না তোমার?

    প্রথম প্রথম হত, এখন হয় না। তবে আমার শ্বশুরমশাই সুন্দর বাংলা বলেন, রবীন্দ্রনাথের খুব ভক্ত।

    আমার কোনো বই পড়েছেন উনি?

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    জানি না, জিজ্ঞেস করব। তুমি যে লেখক হয়েছ তা পশ্চিমবাংলাতে এলে লোকমুখে শুনি। উনিও সে-কারণেই পড়েননি হয়তো। বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর ইত্যাদির অনেক বই আছে ওঁর কাছে। পরের প্রজন্মের কারোকেই জানেন না বোধ হয়।

    তুমি আমার কোনো বই পড়েছ?

    লজ্জিত হয়ে নমিতা বলল, না এখানে এই রায়পুরে বাংলা বই পাই কোথায়? বাংলা কাগজ হয়তো আসে কিন্তু আমাদের বাড়িতে তো রাখা হয় না। তার পরে লজ্জিত গলাতে বলল, আদত ছুট গ্যয়ি।

    হাসল অনি। বলল, তুমি বুঝি এইরকম বাংলা বলো আজকাল?

    বুঝতে পারলে তো। তাহলেই হল।

    হেসে বলল, নমিতা। তার পরে বলল, তুমি সময় পাও কী করে নিজের চাকরি করে?

    সময় আমাদের সকলেরই অনেক। সময় নষ্ট না করলে সময়ের অভাব কী?

    তার পরেই বলল, ছেলে-মেয়ে কী?

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    দুই ছেলে। বড়োটার বয়েস বছর বারো হল। ইচ্ছে আছে বাঙালি বউ আনার। আমার শ্বশুরমশাইয়েরও তাই ইচ্ছে। গরিবের ঘরের মোটামুটি লেখাপড়া শেখা, খুবই সুন্দরী কোনো মেয়ে যদি তোমার নজরে থাকে তো দেখো-না একটু আমার ছেলের জন্যে। এখন থেকেই সাগাই করে রাখব। ছেলের বয়েস কুড়ি হলেই বিয়ে দিয়ে দেব।

    ছেলে রোজগার করার আগে?

    বাবার ব্যাবসাতে বসবে। রোজগারের জন্য চাকরি তো করতে হবে না। বি এ টা করলেই হল। আমার শ্বশুর আর স্বামীর তো অনেকরকম ব্যাবসা—ব্যাবসা এখন স্বামীই দেখেন। শ্বশুরমশাই রাজনীতি নিয়েই থাকেন আর পড়াশুনো।

    গরিবঘরের বাঙালি মেয়ে নিয়ে, সে তাকেও সোনার পায়জোর আর চুটকি আর হিরের নথ পরিয়ে পোষাপাখি করবে তো, তোমাকে যেমন করেছেন শ্বশুরমশাই? সেও তো বাংলা ভুলে গিয়ে তোমারই মতো বলবে আদত ছুট গ্যয়ি? এমন কুকর্ম আমার দ্বারা হবে না।

    ওরকম করে বলছ কেন? আমি কি সুখী হইনি?

    হয়েছ বুঝি? আসলে সুখ কাকে বলে তাই তুমি ঐশ্বর্যের মধ্যে ডুবে থেকে ভুলে গেছ। আরাম এককথা, সুখ আর-এক।

    নমিতা একটু দুঃখ পেল।

    বলল, তাই বুঝি?

    তাই তো।

    আর তুমি সুখী হয়েছ?

    আমি কী করে সুখী হব? সেই লেক রোডের নমিতাকে যে এখনও ভুলতে পারিনি। সুখী আমার আর এ জীবনে হওয়া হবে না। আমার যে-ছাত্রীটির কথা বললাম, যে একেবারে তোমারই মতো, ওর মধ্যেই আমি তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছি।

    তারপর দুজনেই অনেকক্ষণ চুপ করে রইল দুজনে দুজনের চোখে চেয়ে। নমিতার গর্বিত ও আদুরে মুখখানির দিকে চেয়ে ভারি ইচ্ছে করছিল অনির যে ওকে একটা চুমু খেয়ে দেয়, অ্যাটেন্ড্যান্ট-এর কামরাতে হাতে স্টেনগান নিয়ে বডিগার্ড থাকলেও। একটি চুমু খেলে নমিতা খুশিই হবে। অথবা কে জানে, ওর মধ্যপ্রদেশীয় শ্বশুরবাড়ির পরিবেশে থেকে থেকে ও হয়তো খুবই রক্ষণশীল হয়ে উঠেছে। থাক। কী দরকার।

    এ সি কোচ-এর জানলা দিয়ে রাতের বেলা কিছুই দেখা যায় না। বিরক্তিকর। ট্রেনটা দাঁড়াল কোনো স্টেশনে। দুর্গ হবে হয়তো। একটু পরেই ছেড়ে দিল।

    নমিতা চুপ করেই রইল। দু-চোখে ভারি অভিমান নিয়ে।

    অনির মনে পড়ে গেল, আগা শাহির তহলবীর একটি শের—

    লোর, হম বঁতায়ে গুঁচা-ও-গুল সে ফরক কেয়া?এক বাত হ্যায় কহি-হুয়ি, এত বে-কহি হুয়া।

    মানে, ফুলের এবং ফুলকলির মধ্যে তফাত আমি ভালোই জানি।

    ‘ফুল’ হল বলে ফেলা কথা আর ফুলকলি হল, যে-কথা বলা হয়নি, তা।

    ট্রেনটা দুলে উঠতেই দুজনের চোখ দুজনের চোখে পড়তেই হঠাৎই দুজনই একসঙ্গে হেসে উঠল নি:শব্দে।

    অনি বলল, দরজাটা তো লক করাই আছে। আমার একটু কাছে এসো তো নমু।

    নমিতা কথা না বলে, নীচে রাখা নরম চামড়ার চটিতে পা গলাবার চেষ্টা করতে লাগল। অনি দেখল, নমুর সুন্দর ফর্সা সাদা বাঁশপাতি মাছের মতো পায়ের পাতা দুটি অন্যায় করার উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছে। কে জানে, কতক্ষণ নেবে নমু, অনির কাছে আসতে। অনি নমুর পায়ের দিকে চেয়ে বসে রইল। ভাবল, যতক্ষণ লাগে লাগুক। প্রায় কুড়িটা বছর পেরিয়ে আসতে সময় তো একটু লাগবেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }