Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পাক্কিটাডাও চোকরা

    রিং-টাং চা-বাগানের ম্যানেজার গিলিগান উদোম হয়ে বাথরুমের লাগোয়া ঘরে, দুটি পা ইজিচেয়ারের লম্বা কাঠের হাতলে তুলে দিয়ে বসেছিল। আর গিলিগানের খিদমদগার, ব্যক্তিগত বেয়ারা অনামা, ইটালিয়ান জলপাই-তেল মাখাচ্ছিল তার সাঁতরাগাছির ওল-এর মতো শরীরে।

    পার্সেলে ডেইলি টেলিগ্রাফের বাণ্ডিল, আর্মি-নেভি স্টোরস-এর প্রি-ক্রিসমাস ক্যাটালগ সব এসেছে আজ। কবে পার্সেল আসে সেই অপেক্ষায় হাঁ করে থাকে ‘হ্যারো-ইটনের’ লালমুখো ছাত্ররা।

    কাগজ মেলে বসে, গিলিগান গভীর মনোযোগের সঙ্গে ‘হোম’-এর খবর পড়ছিল আর অনামা, সাহেবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে, প্রতি রোমকূপে রোমকূপে মালিশ করে করে পরতে পরতে তেল বসাচ্ছিল তার শরীরে।

    একটু পরই অন্য বেয়ারারা কেরোসিনের টিনে গরম জল বয়ে নিয়ে এসে বাথটাবে ঢেলে দেবে। জল গরম হচ্ছে বাংলোর পেছনে বাবুর্চিখানার সামনের নিমগাছতলায়। একটি পেল্লায় কাঠের উনুনে।

    ভালো করে চান করার পর বাথটাব থেকে বেরোলে, অনামা তাকে তোয়ালে দিয়ে মুছে জামাকাপড় পরিয়ে দেবে। তার পর সার সার ফুলের টব-বসানো চওড়া বারান্দায় সাদা-রঙা বেতের চেয়ারে বসে আজ বিয়ার খাবে গিলিগান ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার ম্যাক-আর্থারের সঙ্গে।

    ম্যাক-আর্থার স্কটসম্যান। কয়েক দিনের ছুটিতে জঙ্গল ছেড়ে এসেছে। গিলিগানরা জংলি সাহেবদের বলে ‘জাঙ্গল-ওয়ালা’। যারা ব্যাবসা করে বা বানিয়া, সেইসব সাহেবদেরও ছোটো চোখে দেখে আর্মির এবং সিভিল সার্ভিস-এর সাহেবরা। ওদের ঠাট্টা করে বলে, ‘বক্সওয়ালা’।

    কলকাতার মিসেস উড, মেমসাহেবদের জন্যে জামাকাপড় বানিয়ে লোক মারফত পাঠাতেন সাহেবদের বাংলোতে বাংলোতে। লোকগুলো তাদের বাক্স বিছিয়ে বসত বারান্দায়। সেই থেকেই বানিয়াদের নাম হয়েছে ‘বক্সওয়ালা’।

    গিলিগানের একজোড়া ঝুপড়ি নস্যি-রঙা পুরুষ্ট গোঁফ ছিল। ম্যাক-আর্থারের মুখময় রুপোলি-রঙা দাড়ি গোঁফ। জাঙ্গল-ওয়ালারা হাজামতদের সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল, বলেই দাড়ি কামানো বা গোঁফ ছাঁটার বিলাসিতা বিশেষ থাকত না। বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক, বুনো মোষ আর বাইসনের চামড়াতে মোড়া থাকত তাদের বাংলো। হাতির দাঁত ও পা-ও থাকত। প্রত্যেক ফরেস্ট বাংলোর একটি ঘর তাদের জন্যে রিজার্ভ করা থাকত তখনকার দিনে।

    স্কটল্যাণ্ডের উৎসব ‘হ্যাগেস’। হ্যাগেস-এর সময়ে কার্ড পাঠাত ম্যাক আর্থার সব সাহেবদের। লেখা থাকত ‘ইউ আর ইনভাইটেড টু সি দ্য হ্যাগেস’। স্কটিশ-কিল্ট পরে ধুমসো সাহেবরা নাচানাচি করত। বিলিতি ব্যাণ্ড বাজত। তা দেখে এবং শুনে, আমাদের মতো নেটিভরা ধন্য বোধ করত নিজেদের। খিদমদগারির মধ্যে, পরের পদসেবা ও পদলেহনের মধ্যে, পরম আত্মসম্মানজ্ঞানহীনতার মধ্যেও বেঁচে থাকার তালিম আমরা বহু বছর আগেই নিয়েছিলাম। শুধু তাই-ই নয়, এই আত্মাবমাননার মধ্যে আমরা চিরদিন এক পরমশ্লাঘাও বোধ করে এসেছি।

    মাঝে মাঝেই বাংলোতে বড়া-খানার আয়োজন হত। অনেক সাহেব-মেম আসতেন ঘোড়ায় চড়ে। তখন গাড়ি সবে এসেছে ভারতবর্ষে; তবে ওইরকম জংলি জায়গার সাহেবদের কাছে মোটর গাড়ি ছিল না। মোটর চলার মতো রাস্তাও তখনও বিশেষ হয়নি। হুইস্কি বইত জলের মতো। তার পর ডিনার সার্ভড হলে তার সঙ্গে শেরি আর পোর্ট। ডিনারের পর লিডিং-লেডি অন্যান্য মেমসাহেবদের নিয়ে বসবার ঘরে এসে বসতেন। সাহেবরা খাবার ঘরে গুলতানি করতেন। তার পর সকলে বসবার ঘরে এলে যে সবচেয়ে বাঘা সাহেব তাঁর মেমসাহেব বলতেন এবার আমরা উঠব।

    তাঁরা চলে গেলে তবেই অন্যরা যেতে পারতেন। প্রোটোকল এইরকমই ছিল।

    তখনকার দিনে ওইসব জংলি জায়গায় খুব কম মেমসাহেবই আসতেন। ব্যাচেলার সাহেবদের বাংলোর আউট-হাউসে একজন করে নেটিভ রক্ষিতা থাকত। গিলিগানেরও ছিল। অনামারই বউ সে। নাম কুজাতা। সেই আউট-হাউসকে বলা হত ‘বিবিখানা’।

    সাহেব রাতে অনামার নিজেরই স্ত্রীকে সম্ভোগ করবে বলে ভালো করে সাহেবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জলপাই-তেল লাগিয়েছিল অনামা। আলেকজাণ্ডার এমনি এমনি বলে যাননি: সত্যিই সেলুকাস। বিচিত্র এদেশ।

    ঘুঘুডাকা, ছায়াঢাকা, পাতা-ফিসফিস দুপুরে অনামা তার বউ কুজাতার কাছে যেত। বউকে আদর করতে করতে শুধোত তোকে কে বেশি আনন্দ দেয়? সাহেব, না আমি? সাহেব কি আমার থেকেও ভালো?

    অনামার নির্লোম বুকে মাথা নামিয়ে হারামজাদি মার্জারির মতো কুজাতা বলত মিটিমিটি হেসে, দুজনে দুরকম। দুজন পুরুষ কখনো একরকম হয় নাকি? কুজাতা বলত, সাহেবের গায়ে পচা টক-দইয়ের গন্ধ। আরও বলত, নস্যি-রঙা চুলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাহেবের পুরুষাঙ্গটি দেখলেই তার নাকি বুনো-বেজির কথা মনে হত। মস্ত একটা বেজি।

    অনামা বলত, আর আমারটা?

    তোরটা দিশি সাপ। বাদামি সাপ। ফণা নেই, ছোবল নেই। হেলে সাপ। এলেবেলে।

    অনামা গর্বে আনন্দে সাহেবের বেজির স্তুতিতে হি-হি করে দাঁত বের করে হেসে বলত, তাই-ই তো বেজির হাতে মরল সাপ এ-জন্মে। বল? সাপ কি পারে বেজির সঙ্গে কখনো?

    গিলিগানের ঔরসে কুজাতার গর্ভে যে-ছেলেটি জন্মেছিল তার বয়েস এখন বারো। তার রং সাহেবদেরই মতো। চুলও নস্যিরঙা। বড়ো হলে সেও হয়তো বেজি পুষবে একটা। যে-বেজি খেলে বেড়াবে যুবতীদের পেলব কোমল ঊরুমূলের দূর্বাঘাসে।

    গিলিগান সাহেবের দয়ার শরীর। ক্লাবে ছেলেটাকে একটা কাজও জুটিয়ে দিয়েছেন। অদ্ভুত কাজ। একমাত্র এদেশে এবং হয়তো আফ্রিকার কোনো কোনো জায়গায় এই চাকরিতে বহাল হয় ছোঁড়ারা। ছোঁড়ার ডেজিগনেশান ‘পাক্কিটাডাও চোকরা।’

    সাহেবরা যখন ক্লাবের লনে বসে গল্প করেন, পান করেন, খান-দান; তখন নানারকম পাখি এসে তাঁদের বিরক্ত করে। যদিও মস্ত মস্ত রঙিন সব গার্ডেন-আমব্রেলা পোঁতা থাকে। ফিশফ্রাই নিয়ে বেয়ারা আসছে, হঠাৎ কাকে-চিলে ছোঁ মেরে ফ্রাই হাওয়া করে দিল। পড়ে রইল শুধু আলু ভাজা।

    এই ছোঁড়াদের কাজই ছিল পাখি-তাড়িয়ে বেড়ানো। লাল-রঙা শর্টস আর নীল-রঙা শার্ট পরে হাতে ডাণ্ডা নিয়ে তারা তাদের বাপেদের রক্ষা করত পাখিজনিত বিরক্তি থেকে। তাই-ই নাম ছিল, ‘পাক্কিটাডাও চোকরা।’

    ছোঁড়া মাইনে পেত পাঁচ টাকা। ছোঁড়া তার মা-বাপের হদিশ জানত না। জন্মের পরই অন্য বাগানের কুলি-লাইনে তাকে চালান করে দিয়েছিল গিলিগান। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, কালাজ্বর, সাপ, বিছে—ওসব কিছুর হাত থেকেই যখন বেঁচে উঠল ছোঁড়া, ভক্ত পেল্লাদের মতো, তখন দয়াময় বে-বাপ তাকে ক্লাবে এই চাকরি জুটিয়ে দিয়েছিল।

    ২

    ক্লাবে এক বুড়ো বেয়ারা ছিল। যারা অল্প বয়েসেই আত্মসম্মান খোয়ায় জীবনে, তারা বুড়ো হলে বেজন্মা শেয়ালের মতো হয়ে ওঠে। সেই বিহারি বুড়ো আর বাঙালি ক্যাশিয়ারবাবু মিলে পরামর্শ করে একদিন ছোঁড়াকে বলল: তোর বাপ কে? তা তুই জানিস?

    ‘পাক্কিটাডাও চোকরা’ বলল, আমার বাপ পল্টনে আছে। যুদ্ধ করছে পেশোয়ারে। মাও গেছে বাপের সঙ্গে।

    তোর মুন্ডু। সে যুদ্ধ করছে, ‘বিবিখানায়’। তোর মায়ের সঙ্গে। অন্যরকম যুদ্ধ। ওই দেখ, তোর বাপ। ওই যে গিলিগান সাহেব।

    গিলিগানের পাশে উইক-এণ্ডে গলফ খেলতে-আসা পুলিশসাহেব রবার্টসন বসেছিলেন। ছোঁড়ার মাথা গুলিয়ে গেল। কোনটা তার বাপ বুঝতে পারল না। বুড়ো বেয়ারা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল, গুঁফো গিলিগান।

    কথাটা শুনে ছোঁড়ার মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। কিন্তু কী করবে বুঝতে পারল না। ভাবতে লাগল। ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ল সে-রাতে। ভেবে কূল পেল না।

    শুধু পাখিই নয়। ক্লাবের এলাকার মধ্যে যা-কিছু ঢুকে পড়ে, সবই তাড়াতে হয় ছোকরাকে। ভুটান পাহাড় থেকে কখনো হাতির দল নেমে আসে। বাঘ বা চিতার তাড়া খেয়ে দৌড়ে আসে বার্কিংডিয়ার। অথবা, মাদি শম্বর; বাচ্চা নিয়ে। ছোকরা কাক তাড়ায়, চিল তাড়ায়; ছাতারে তাড়ায়। সাপ তাড়ায়, বেজি তাড়ায়; শুধু নিজের বে-বাপকে তাড়াতে পারে না। দৌড়ে বেড়ায় ছোঁড়া। তার লাল শর্টস আর নীল শার্টে রোদের মধ্যে তাকে একটা মস্ত রঙিন পাখি বলে মনে হয়। পাখির মতো উড়ে বেড়ায় ‘পাক্কিটাডাও চোকরা।’

    হ্যারো-ইটনে পড়া সাহেবরা যা কিছুই করে তারমধ্যে একটা ক্লাস থাকে। ক্লাব খুব পছন্দ করে তারা। রংচঙে ছাতার নীচে বসে, ঝলমলে পোশাক পরে, হলুদ বুড়বুড়ি-ওঠা বিয়ার খেতে খেতে তাদের ঔরসের টুকরো-টাকরাদের রোদে ঝকমক করতে দেখে খুব খুশি হয় তারা। ‘পাক্কিটাডাও চোকরার’ গতিস্মানতার মধ্যে এই হতভাগা দেশের অনেক দুঃখ গ্লানি এবং আত্মসম্মানজ্ঞানহীনতা প্রস্তরীভূত হয়ে থাকে। তাজমহলের এবং কোনারকের গর্বের মতোই পাক্কিটাডাও চোকরাদের অপমানের ও লজ্জার ইতিহাস পাশাপাশি লেখা থাকার কথা। যদি এই দেশে কখনো সৎ ও স্বাধীন ইতিহাস লেখা হয় ভবিষ্যতে। দেশের ইতিহাস।

    এক সন্ধ্যায় গিলিগান বাংলোর বারান্দায় বসে হুইস্কি-পানি খাচ্ছিল। পায়ের কাছে শুয়ে-থাকা তার অ্যালসেশিয়ান কুকুর হঠাৎ ঘাউ-ঘাউ করে উঠল। সাহেব চমকে চেয়ে দেখলেন বাঙালি ক্যাশিয়ারবাবু।

    বাবু, হুমড়ি খেয়ে পড়লেন সাহেবের পায়ে। কুকুরটার পায়েই এসে পড়ল তাঁর মাথাটা। কুকুরটা, মানুষটাকে সারমেয়রও অধম ভেবে লজ্জা পেল। পা সরিয়ে নিল।

    কোই হ্যায়?

    সাহেব বললেন।

    তার পরও বললেন, কোই হ্যায়?

    ডেক্কোটো কেয়া মাংতা বাবু? হোয়াটস দ্য ম্যাটার?

    বাবু সাহেবের পা দু-হাতে জড়িয়ে ধরে বলল, ইয়োর লাইফ ইজ ইন ডেনজার স্যার। ‘পাক্কিটাডাও চোকরা’ সাহেবকে খুন করবে বলে মতলব করেছে।

    গিলিগান অনামাকে শুনিয়ে, গলা তুলে বলল: কিন্তু কেন? হোয়াই?

    বাবু বলল, তা জানি না সাহেব। কিন্তু জানি যে, খুন সে করবেই।

    তার পাখি তাড়ানো ডাণ্ডার মধ্যে সরু ছুঁচোলো লোহার শিক ভরে নিয়ে একদিন সে আপনার বুকে ঢুকিয়ে বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেবে।

    গিলিগান বলল, বাবু, ইউ ইণ্ডিয়ানস আর আনগ্রেটফুলস।

    বাবু ফিসফিস করে কী যেন বললেন সাহেবকে।

    সাহেব সব খিদমদগার, বেয়ারাদের চলে যেতে বললেন। এলাকা ফাঁকা হলে মিরজাফরের জাতের একজন মানুষ ফিসফিস করে অনেক কথা বললেন সাহেবের কানে।

    গিলিগান রেগে আরও লাল হয়ে গেলেন। তক্ষুনি পুলিশের রবার্টসনের কাছে একটি চিঠি পাঠালেন ঘোড়সওয়ার দিয়ে। ব্যাপারটা তো সোজা নয়। রাজাকে মারার ষড়যন্ত্র, অর্থাৎ বিদ্রোহ। রিং-টাং-এর ইতিহাস থেকে ছোঁড়ার অস্তিত্ব, ছোঁড়ার নাম মুছে ফেলতে হবে। এক্ষুনি।

    বাবু হাতজোড় করে দাঁড়িয়েই ছিলেন। কুকুরটাও বসল। কিন্তু বাবু দাঁড়িয়েই থাকলেন।

    এবার গিলিগান একটু কাশলেন। বললেন, নাউ টেল মি। হোয়াটস দ্য ডিল। ডোন্ট টেল মি দ্যাট ইউ হ্যাভ কাম হিয়ার টু ওয়ার্ন মি উইদাউট এনি মোটিভ।

    বাবু হাত কচলালেন না:। বাবুর বিশেষ বড়ো কিছু চাইবার ছিল না। না, না, সেরকম বড়ো কিছুই নয়।

    আসলে এ ঘটনা যে সময়ে ঘটেছিল, সেই সময়ের শিক্ষিত, স্বাধীন অধিকাংশ মানুষ; নিজেদের আজ যতখানি নীচে নামাতে পারেন, ততখানি নীচে নামিয়ে আনতে পারতেন না। ক্যাশিয়ারবাবু তো ছিলেনই। চিরদিনই ছিলেন। কিন্তু উঁচুতলার অধিকাংশ মানুষেরাই তখনও মানুষই ছিলেন। কুকুর কিংবা চড়ুই পাখি হয়ে ওঠেননি।

    বাবু বললেন, হাত-কচলে; পঞ্চাশ টাকা মাইনে বাড়াতে হবে। আর এক্সটেনশান চাই আরও দু-বছর।

    সাহেব ক্লাবের অনারারি সেক্রেটারি। রিং-টাং-এ তাঁর যে-ক্ষমতা, তার সঙ্গে যেকোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার তুলনা করা চলে।

    সাহেব একমুহূর্ত কী ভাবলেন।

    তার পর বললেন, ডান।

    ৩

    বাবু চলে গেলেন, গিলিগান হাঁক ছাড়লেন, বললেন, কোই হ্যায়? এক বড়ড়া পেগ। হুইস্কি অ্যাণ্ড পানি।

    অনামা দৌড়ে গেল হুকুম তালিম করতে। তার বউ তখন বিবিখানায় চান করে উঠে ‘রুহ-খস’ আতর মাখছিল সারাশরীরে ঘষে-ঘষে। গিলিগান আতরের গন্ধ বড়ো ভালোবাসেন।

    একটা ‘ব্রেইন-ফিভার’ পাখি বাইরের অন্ধকারে চমকে চমকে ডাকছিল। গিলিগান একবার বাইরের অন্ধকারে তাকালেন। এমন অন্ধকার, যেন মনে হয় মুখে থাপ্পড় মারছে। এমন অন্ধকারেই বাবুদের মুখ লুকোতে সুবিধে হয়।

    তার পর হুইস্কির গ্লাস তুলে নিয়ে গিলিগান ভাবতে লাগলেন যে, ভারতে ব্রিটিশ-রাজ তার নিজের জোরে টিকে নেই। কখনোই ছিল না। এই ক্যাশিয়ার বাবুদের মতো লোকগুলোই,যে-ক্ষমতা তাদের নয়, সেই ক্ষমতা নির্লজ্জের মতো, আত্মসম্মানহীনতায় তুলে দিয়েছে শাসকদের হাতে। চাবুক হাতে করে এদের সামনে দাঁড়ালেই হল। চাবুক মারা পর্যন্ত অপেক্ষা করার মতো সময়েরও দরকার নেই এদের। হাওয়াতে সপাং-সপাং শব্দ শুনেই কেঁই-কেঁই করে কুকুরের মতো পায়ে পড়ে। এরা। এই মহান ভারতের মানুষ।

    হুইস্কিতে একটা চুমুক দিয়ে নিরুচ্চারে গিলিগান বললেন: ‘গড সেভ দ্য কিং’।

    ৪

    গিলিগান-এর এবং কুজাতার জারজ সন্তান লাল টুকটুকে ছেলেটা ক্লাবের প্যান্ট্রির মেঝেতে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল। ক্যাশিয়ারবাবুর সঙ্গে আসা চারজন ঘোড়সওয়ার পুলিশ ওকে পেটে লাথি মেরে ঘুম থেকে তুলল। ক্লাবের ক্যাশবাক্স থেকে এক-শো টাকা চুরি গেছে। টাকাটা দেওয়ালে ঝোলানো ছোঁড়ার জামার পকেট থেকেই বেরুল। হাতে-নাতে চোর ধরা পড়ল। এখনকার মতো তখনও আইন একটা প্রচন্ড তামাশাই ছিল।

    তখন অবশ্য দিনকাল, রীতি-নীতি অন্যরকম ছিল। আজকের দিনের গিলিগান আর ক্যাশিয়ারবাবুরা নিজেদের উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্যে এ-ধরনের অনেক নতুন নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করেন। তখনকার দিনের ব্যাপার-স্যাপার বড়ো সোজাসুজি এবং ক্রুড ছিল। ভন্ডামি কম ছিল অনেক। অস্ত্রশস্ত্রও আজকালকার মতো এত বিধ্বংসী ও কুটিল ছিল না। ইনকাম-ট্যাক্স, কাস্টমস, ফেরা অ্যাক্ট ইত্যাদি কত অস্ত্র আছে এখন দিশি স্বৈরাচারীদের হাতে। দিশি স্বৈরাচারী!

    ছোঁড়াকে হাত-কড়া পরিয়ে ঘোড়ার পিঠে পিছমোড়া করে বেঁধে সদরে নিয়ে গেল। ঘোড়সওয়ার পুলিশেরা।

    ওরা চলে যেতেই ক্যাশিয়ারবাবু এক-শো টাকার নোটটা বুড়ো বেয়ারাকে দিয়ে বলল, তুমি পঞ্চাশ নিয়ে আমাকে পঞ্চাশ দিয়ো।

    চার দিন পর এস পি রবার্টসন ছোঁড়াটাকে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিল।

    বলল, যা:, তোর ছুটি। রবার্টসনরা আর পুলিশের ইনফর্মার এবং দালালরা তখনও ছিল। এখনও আছে। একই ট্র্যাডিশান সমানে চলেছে। বদলায়নি কিছুই।

    কোমরে-বাঁধা হোলস্টার থেকে আস্তে করে ওয়েবলি-স্কটের রিভলবারটা বের করে নির্ভুল নিশানায় ‘পাক্কিটাডাও চোকরার’ হৃদয় যাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তেমন করে একটি গুলি করল পেছন থেকে রবার্টসন। ছোঁড়া এই দেশের সোঁদা-গন্ধ মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। দমকে দমকে রক্ত বেরুতে থাকল টুকটুকে মুখটি থেকে। কাতরাতে কাতরাতে ছোঁড়া বলল, আঃ, মা! আঃ, বাবা!

    মরার সময় ওর মনে হল যে, এই দেশটা শুধু গিলিগানের নয়, ক্যাশিয়ারবাবুর নয়; বুড়ো বেয়ারাটারও নয়। দেশটা তার, তার কুজাতা মায়ের, তার অনামা বাবার এবং কোটি কোটি মানুষের, যারা এখনও কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে আছে; সারমেয়র মতো ল্যাজ নাড়ছে। যতদিন ওরা গিলিগানদের মদত জোগাবে, ততদিন গিলিগানরাই মসনদে বসে থাকবে। বংশপরম্পরায়।

    পুলিশের ডায়েরিতে লেখা হল, যেমন পরে বহুবার হয়েছে। ডায়েরিতে লেখা হল: ‘শট, হোয়াইল ট্রায়িং টু এস্কেপ ফ্রম পোলিস কাস্টডি।’

    রিভলবারের আওয়াজে নির্জন জঙ্গলের মধ্যে শয়ে-শয়ে পাখি উল্লাসে কাকলিমুখর হয়ে উঠল পাক্কিটাডাও চোকরাটির মৃত্যুতে। যে-পাখিদের সে তাড়িয়ে বেড়াত, সেই ছোট্ট ছোট্ট পাখি, ছোট্ট ছোট্ট সুখের সব পাখিরা সবাই আনন্দে মাতল।

    রিভলবারটি হোলস্টারে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে রবার্টসন নিরুচ্চারে বলল, ‘গড সেভ দ্য কিং।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }