Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রথমাদের জন্য

    হাজারিবাগ রোড স্টেশনে শীতের রাতের বম্বে মেল দাঁড়িয়েছিল।

    সব ক-টা জানালার খড়খড়ি ওঠানো। দু-একজন অধ্যবসায়ী চা-ওয়ালা ভাঁড় ভরতি ট্রে নিয়ে ‘চায়ে—চায়ে গরম। গরম চা—য়ে!’ বলে প্ল্যাটফর্মের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত হেঁটে যাচ্ছিল। ওভারব্রিজের নীচে চায়ের স্টলের পাশে আগুনের ধারে কুন্ডলী পাকিয়ে দুটো কুকুর শুয়েছিল। একজন টহলদারি পুলিশ, খাকি ওভারকোটের কভারটা কান অবধি তুলে দিয়ে রাইফেলটা ওভারব্রিজে হেলান দিয়ে দাঁড় করিয়ে দু-হাতের পাতা ঘষে নিল। তার পর একটা বিড়ি ধরাল।

    অরু ট্রেন থেকে নেমে শালটা ভালো করে জহরকোটের ওপরে মুড়ে নিল। ডাকল, কুলি। আওয়াজ বেরোবার আগে মুখ দিয়ে একরাশ ধোঁয়া বেরোল। ঠাণ্ডাটা এবার বড়ো জোর পড়েছে এ অঞ্চলে। অবশ্য অরু বোধ হয় দশ বছর বাদে হাজারিবাগে এল। সেই আগে যখন শিকারে আসত ছাত্রাবস্থায় ও চাকরিতে ঢোকার পর প্রথম প্রথম। তার পর আর আসা হয়নি এদিকে। পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে এসে বড়ো ভুল করেছে।

    হাজারিবাগ শহরের বাসটা স্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়েছিল। কুলি না থাকায় স্যুটকেসটা হাতে নিয়ে অরু ওভারব্রিজ পেরিয়ে এসে বাসে উঠল। তার পর নেমে গিয়ে চায়ের স্টলে দাঁড়িয়ে পর পর দু-কাপ চা খেল।

    ইতিমধ্যে বম্বে মেলের পেছনের লাল আলো স্টেশন ছেড়ে বাইরের অন্ধকারে মিশে গেল।

    চায়ের স্টলে ওরা গল্প করছিল যে সারিয়াতে গতকাল দুজন লোক মারা গেছে ঠাণ্ডায়। গয়াতে নাকি পাঁচজন লোক মারা গেছে এ সপ্তাহে।

    অনেকক্ষণ অরু আগুনে হাত সেঁকল।

    দেখতে দেখতে গোমোর দিক থেকে কী একটা ডাউনের গাড়ি এসে গেল। ঘুমন্ত প্ল্যাটফর্ম আবার জেগে উঠল। সে গাড়ির প্যাসেঞ্জাররা ওভারব্রিজ বেয়ে নামতে না নামতে বাসের ড্রাইভার ও কনডাক্টর গিয়ে বাসে উঠল। একটু পরেই প্যাসেঞ্জার ও মালে বোঝাই করা বাস শীতের শেষরাতের নির্জন নিষ্ঠুর রাস্তায় হেডলাইট জ্বেলে ছুটে চলল।

    বাইরের শীতার্ত অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না। কিছু শোনাও যায় না। বাসের ভেতরটাও অন্ধকার। যাত্রীরা বেশিরভাগ মোটা কম্বল মুড়ে সিটের ওপর পা তুলে ঘুমে বিভোর। পেছনের সিট থেকে একটা দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা মাঝে মাঝে ককিয়ে কেঁদে উঠতে লাগল।

    অরু ড্রাইভারের পেছনে বসেছিল। উইণ্ডস্ক্রিন দিয়ে আলোকিত রাস্তার যতটুকু দেখা যায় সেদিকে চেয়ে বসে অরু নানান কথা ভাবতে লাগল। মন হয়তো অনেক সময় ভাবতে চায়, কিন্তু পরিবেশ তাকে ভাবতে দেয় না। কখনো হয়তো পরিবেশ মনকে ভাবুক করে তোলে, কিন্তু মন তখন এত ক্লান্ত ও বিক্ষিপ্ত থাকে যে ভাবা যায় না। এখন ভাবার সময়। শুধু ভাবার সময়।

    রুদ্র অরুকে হাওড়ায় তুলে দিতে এসেছিল। একথা-সেকথার পর, যখন হলুদ বাতি জ্বলে গেছে তখন রুদ্র বলল, কেন যাচ্ছিস? গিয়ে কি তুই কিছু ফিরে পাবি? যা হারিয়ে যায়, তার কিছুমাত্র?

    অরু মুখ ফিরিয়ে বলেছিল, জানি না রে, সত্যি জানি না কেন যাচ্ছি।

    রুদ্র বলেছিল, ও যেতে বলেছিল বলেই কি যাচ্ছিস?

    অরু এবার হেসে বলেছিল, বিশ্বাস কর, তোকে সত্যিই বললাম, আমি জানি না কেন যাচ্ছি। আসলে অরু এখনও জানে না ও কেন যাচ্ছে প্রথমার কাছে। ওর এতদিন পরে হঠাৎ এই আসার কোনো মানে ও নিজেই খুঁজে পায়নি নিজের কাছে। প্রথমা তো ক-বারই বলেছে, একবার আসবেন, সত্যি একবার আসবেন। খুব খুশি হব, দেখবেন কত আদর করব আপনাকে।

    আর কেউ না জানুক, অরু জানে যে জীবনে যা হারিয়ে যায় সে আর ফিরে পাওয়া যায় না। হয়তো কেউই চায় না তবু বেদনা জেগে থাকে যাদের হৃদয় থাকে তাদের হৃদয়ে। সমস্ত কিছু পেয়েও একজনকে না-পাওয়ার বেদনা, সমস্ত প্রাপ্তিকে মিথ্যা করে অনুক্ষণ তার সমস্ত হৃদয় আচ্ছন্ন করে থাকে। একজন পুরুষের সব যশ, সব অর্থ, সব সাম্রাজ্য ম্লান করে তার সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরের ওপরের আকাশে একজনের মুখ, একজনের হাসি, একজনের চোখের উজ্জ্বলতা ঝিলিক মেরে যায়। তখন কেন জানি না, মনে হয় সব মিথ্যা, সব ফাঁকি, সব পাওয়া তার বৃথা হয়ে গেল।

    এ ভাবনা শুধু পুরুষের জন্যে। মেয়েরা এ ভাবনার কোনো দাম দেয় না। ওরা এমন গভীরভাবে ভাবতে শেখেনি। জীবনের একটা সময় অবধি ওরা দু-হাত দিয়ে শরীরটাকে আড়াল করে রাখে, শরীরে হাত ছোঁওয়াতে গেলে বলে, না, না, না। তার পর সমাজ এবং সংস্কারের বশে সে যাকে পতিরূপে বরণ করে, তাকে তার অদেয় যা ছিল তা উজাড় করে দেয়। একদিন যা দুর্মূল্য ছিল তা সেদিন সস্তা হয়ে যায়। একদিন যা মহার্ঘ ছিল, দৈনন্দিনতার কলুষ পরশে তা অতিবাজে ও মূল্যহীন হয়ে যায়। বিয়ের পর মেয়েরা তাদের ঘর, তাদের চুল বাঁধার আয়না, তাদের স্বামী, তাদের শ্বশুর-শাশুড়ি দেওর-ননদ, তার স্বামীর কুকুর, এসবের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। শরীর ও শারীরিক সম্পর্কের দেওয়াল পেরিয়ে দূরে—অনেক দূরে পালিয়ে এসে তারা কখনো নিজেদের, নিজেদের পুরোনো পরিবেশ, নিজেদের অবিবাহিত দিনের স্বাধীন বোধগুলিকে যাচাই করে দেখতে পায় না, বা দেখে না। তারা যেমন করে তাদের পুরোনো জীবন, তাদের পুরোনো ভালোবাসা, তাদের ভালোলাগা, খারাপলাগাকে হারিয়ে ফেলে—তেমন করে কোনো পুরুষ কখনো তা হারায় না।

    সত্যিকারের কোনো পুরুষ কোনো মেয়েকে সত্যিকারের ভালোবাসলে তাকে কখনো ভোলে না, তাকে কখনো ভুলতে পারে না। আর পারে না বলেই, এত ফিরে ফিরে আসা। কিছু পাওয়ার নেই, কিছু চাইবার নেই, কিছু বলার নেই জেনেও স্ত্রীর কাছ থেকে পালিয়ে ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে পালিয়ে নিজের কাছ থেকেও পালিয়ে এসে একজনকে শুধু একবার দেখার জন্যে, তার চোখে চোখ রেখে শুধু কিছুক্ষণ নি:সঙ্গে বসে থাকার জন্যে এতদূর এই শীতের নিষ্ঠুর রাতে আসা।

    রুদ্র বলেছিল কাজটা ভালো করলি না। প্রথমার স্বামী হাজারিবাগ শহরের খুব বড়ো পুলিশ অফিসার। পুলিশের বড়োকর্তার স্ত্রীর প্রেমিক হলে, সে প্রেমিকের যথেষ্ট দুঃসাহসী হওয়া দরকার।

    অরু কথাটা শুনে হেসেছিল। বলেছিল, আমি তো তার ঘরে চুরি করতে যাচ্ছি না। সে যদি মানুষ হয়, তবে অন্য একজন মানুষকে বুঝবে। তা ছাড়া তার কোনো সুখে তো বিঘ্ন ঘটাতে যাচ্ছি না আমি। বিঘ্ন ঘটাতে পারত একমাত্র প্রথমা। কিন্তু প্রথমারা কখনো তাদের স্বামীদের সুখে বিঘ্ন ঘটায় না। তারা চার দেওয়ালের মধ্যে নিদারুণ সুখে আবদ্ধ দ্বিপদ প্রাণী। সুখের ঘরের বাইরে, স্বামীর সোহাগের বাইরে তাদের আর কিছু চাইবার নেই। স্বামীর বাড়ি গাড়ি বেয়ারা আর্দালির সম্মানই তাদের একমাত্র সম্মান। এর বাইরের সমস্ত সম্মান, সমস্ত চাওয়া তাদের কাছে মূল্যহীন। তাদের সুখের স্বার্থপরতার গন্ডি ছেড়ে বাইরে এসে তারা কাউকে কখনো কিছু দেয়নি প্রতিদানে। তা কেবল ছেলেরাই দিতে পারে। যত ত্যাগ যত দুঃখ—সব ছেলেরাই সহ্য করে।

    এই বাবদে ওরা, প্রথমারা, বরাবর অরুদের কাছে হেরে গেছে। বোধ হয়, বরাবর হেরে যাবে।

    বাসটা দেখতে দেখতে জি টি রোডে এসে পড়ল, সারিয়ায়। তখনও রাত্তির। দোকান-টোকান তখনও বন্ধ। হেডলাইট জ্বেলে দোতলা বাড়ির সমান উঁচু ট্রাকগুলো তখনও সারি বেঁধে চলেছে তাদের দূরের যাত্রায়।

    কনডাক্টর দু-বার চেঁচাল—সারিয়া, সারিয়া!

    একজন প্যাসেঞ্জার কম্বল থেকে মুখ বের করে কান খাড়া করে নিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। সারিয়ায় কেউ নামার নেই।

    বাসটা আর একটু পরই হাজারিবাগের লালমাটি সবুজ শালবনের আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে ছুটে যাবে হাজারিবাগ শহরের দিকে।

    পুবের আকাশে একটু একটু করে লালের ছোপ ধরছে। কুয়াশা কেটে গেছে। ধীরে ধীরে শিশিরেভেজা জঙ্গল আর লালমাটি পথের কালো পিচের দু-পাশে পরিষ্কার হচ্ছে।

    মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে বাসটা এসে টাটিঝারিয়ায় দাঁড়াল। পন্ডিতজির দোকানে। কালোজাম, নিমকি এবং চা এখানে সকলে খায়। তার পর পাশের দোকান থেকে পান।

    ততক্ষণে সূর্য উঠে গেছে। সূর্য ওঠা যে কী দারুণ ব্যাপার তা আমরা রোজ বুঝতে পারি না। অন্ধকার রাতের যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তার গ্লানি, অবিশ্বাসের দম-বন্ধ কষ্ট, সমস্ত মিথ্যা করে দিয়ে সূর্যটা এমনভাবে চরাচর উদ্ভাসিত করে, সমস্ত বিশ্ব হাজার পাখির চিকন ডাকে ভরে দিয়ে, মানুষ-মানুষীর মিষ্টি গলার স্বর রিনরিন করে বাজিয়ে কী করে যে ওঠে, অরু ভেবে পায় না।

    সূর্যোদয়ের আগেই ও রোজ কেন ঘুম থেকে ওঠে না?

    এখন আর ওর মনে কোনো ভয় নেই; কোনো দ্বিধা নেই। অরু জানে যে ও এক দারুণ তীর্থযাত্রায় চলেছে; চলেছে এক আনন্দ সংগমে। এই নিরানন্দময় জীবনে, রোজকার একঘেয়েমি জীবনে, একজনের মুখ, একজনের চোখ, একজনের নরম হাত যে কী দারুণ এক সূর্যালোকিত প্রাপ্তির পরশ আনে, তা যে জানে, সে-ই জানে।

    অরুর ভীষণ খুশি খুশি লাগল। কলকাতা থেকে আসার সময়ে প্রথমা যা যা খাবার খেতে ভালোবাসত ও সঙ্গে নিয়ে এসেছে। ফ্লুরির চিজ স্ট্রট, গিরীশ ঘোষের সন্দেশ এবং এম্পায়ার স্টোর্স থেকে নেওয়া সসেজ। ও জানে, এতদিন বাদে ওকে দেখে প্রথমা দারুণ খুশি হবে, বলবে, আপনি ভারি খারাপ, একটা খবর দিয়ে এলেন না। স্টেশনে গাড়ি পাঠাতাম। এই ঠাণ্ডায় শীতের রাতে এতখানি পথ বাসে এলেন?

    অরু জবাবে কী বলবে মনে মনে তাও ভেবে নিল। বলবে, যখন তোমার কাছে থাকি না, তখন তোমার জন্যে যে কত কষ্ট তার খোঁজ রাখো? তোমার জন্যে প্রতিমুহূর্তে কত কষ্ট পাই, তার তুমি কী জানো! যখন কাছে এলাম, তখনই বুঝি সামান্য সামান্য কষ্টগুলোচোখে পড়ে তোমার?

    এর জবাবে ব্যক্তিত্ব-সম্পন্না স্বল্পভাষী প্রথমা হয়তো কিছু বলবে না। হয়তো চুপ করে থাকবে মুখ নীচু করে। হয়তো বলবে, আমার বিরুদ্ধে যা বক্তব্য, যা অভিযোগ, সব শুনব। আগে চান করতে চলুন। রাত জেগে এতদূর পথ এসেছেন।

    কথার পর কথা, তার পরে আরও যন্ত্রণার কথা। অরু শালগাছতলায় দাঁড়িয়ে এখন উষ্ণ রোদে পিঠ দিয়ে মনে মনে বহুবছর পরে প্রথমার সঙ্গে অনেক কথা বলছিল। এমন সময়ে পন্ডিতজির দোকানের ছেলেটা এসে বলল, চায়ে সাহাব। হাত বাড়িয়ে চা ও শালপাতায় মোড়া নিমকি নিল অরু। তার পর চা খেতে খেতে আবার প্রথমার সঙ্গে কথা বলতে লাগল মনে মনে। এমন সময়ে ওর মাথা থেকে একটা লম্বা রুপোলি চুল খসে শালপাতার ঠোঙায় পড়ল। চমকে উঠল অরু। আজ ভোরের সূর্য নতুন হলেও ওর জীবনের সূর্য দ্বিপ্রহরে—হঠাৎ মনে পড়ে গেল অরুর। আজ আট-ন-বছর হয়ে গেছে প্রথমার বিয়ে হয়েছে। ওর বিয়েও প্রায় বছর পাঁচেক হল। কী এক পাগলামিতে ভর করে মাথাময় রুপোলি চুলের রেশ নিয়ে আজ কেন যে এমন করে ও প্রথমার কাছে আসতে গেল, ও ভেবে পেল না। কিছুতেই ভেবে পেল না। একটু আগে সূর্য ওঠায় ওর খুব ভালো লাগছিল। এখন এক-আকাশ আলোর নীচে দাঁড়িয়ে ওর ভীষণ লজ্জা করতে লাগল।

    কিন্তু এখন আপাতত ভাবার আর সময় নেই। বাসটা ছাড়বে। ওর স্যুটকেস বাসের মাথায় আছে। ও তাড়াতাড়ি আবার নিজের সিটে বসে একটা সিগারেট ধরাল। সিগারেট ধরিয়ে আবার ভাবনার লাটাই ধরে প্রচন্ড হাওয়ার মুখে দু-হাতে সুতো ছাড়তে লাগল।

    একসময়ে বাসটা সত্যি সত্যিই হাজারিবাগ শহরে ঢুকল। অরু বাস-স্ট্যাণ্ডে না গিয়ে কোররার মোড়ে নেমে পড়ল। প্রথমার চিঠিতে জেনেছিল যে, সাহেবের বাংলো সার্কিট হাউসের কাছাকাছি। কোররার মোড় থেকে একটা রিকশা নিয়ে ক্যানহারী পাহাড়ের কোল ঘেঁষে জাস্টিস মল্লিকের বাড়ির পাশ বেয়ে যে নির্জন পথটা সার্কিট হাউসের দিকে চলে গেছে, সেই পথে রোদ্দুর পোয়াতে পোয়াতে সাইকেলরিকশায় চেপে চলে যাবে বলে মনস্থ করল অরু।

    দু-ধারে খোয়াই। লাল মাটি। ডান দিকে ক্যানহারি পাহাড়ের চড়াই ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে গেছে। শালের চারাগাছ। দূরে দূরে বাড়ির সীমানার মধ্যে ইউক্যালিপটাস গাছের চিকন শরীর আর উজ্জ্বল পাতা সকালের রোদে ঝিলমিল করছে। একঝাঁক টিয়াপাখি মাথার ওপর দিয়ে চেঁচামেচি করতে করতে উড়ে গেল।

    বেশ লাগছে অরুর। প্রথমার সঙ্গে এ রাস্তায় আসন্ন সন্ধ্যায় পাশাপাশি অনেক হেঁটেছিল অরু। তখন জীবনে এত স্বেচ্ছাকৃত ও মূল্যহীন দায় ও দায়িত্ব ছিল না। পাখির ডাক, রোদের গন্ধ, আকাশের রং এবং যে পাশে ছিল, তার চোখের গভীরে তাকাবার মতো অনেক অলস অবসর ছিল। তখন তাদের কারোরই বিয়ে হয়নি। পরস্ত্রীকে ভালোবাসার মতো কোনো হাস্যকর পাপবোধ তার মনকে সেদিন আচ্ছন্ন করেনি। তারা সেদিন মুক্ত ছিল। সমাজের সাঁড়াশি এমনভাবে দৈব প্রক্রিয়ায় তাদের ওপর চেপে বসেনি। তখনও ভারি ভালো ছিল দিনগুলো ; সেসব দিন।

    দূর থেকে সাহেবের বাংলোটা দেখা যাচ্ছিল। বাংলোর গেটে একজন রাইফেলধারী পুলিশ। ভেতরে একটি জিপ দাঁড়িয়ে আছে। সামনের কম্পাউণ্ডে একটি তাঁবু খাটানো—শামিয়ানার মতো। সাহেব শীতের দুপুরে বসে টুকিটাকি কাজ করেন বোধ হয়।

    গেটের পুলিশ, বাঙালিবাবু দেখে জিজ্ঞাসা না করেই ছেড়ে দিল। তা ছাড়া অরুর চেহারাতে এমন অভদ্রতা বা অকৌলীন্যের কোনো ছাপ ছিল না যে গেটের পুলিশ আটকে দেবে তাকে। সাইকেলরিকশাটা পোর্টিকোতে ঢুকতেই অরুর ভীষণ অস্বস্তি লাগতে লাগল। প্রথমার স্বামীর সঙ্গে প্রথম দেখা হলে কী বলে ও পরিচয় দেবে? প্রথমার কাছে ওর কথা কি শুনে থাকবেন এবং বছরে একটি দুটি চিঠি উনি নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন। ভদ্রলোকের কি গোঁফ আছে? ভদ্রলোক কি কলকাতার পুলিশ কমিশনার রঞ্জিত গুপ্তের মতো পাইপ খান? ভদ্রলোককে কখনো দেখেনি অরু, ওঁর ডেজিগনেশানও ঠিক জানে না, তবে শুনেছে যে, পুলিশ অথচ এমন ভদ্রলোক নাকি আর হয় না। অরু মনে মনে ঠিক করে ফেলল, সে বেশ সপ্রতিভভাবেই ভদ্রলোককে বলবে, কেমন আছেন? প্রথমা কোথায়?

    ভদ্রলোক বলবেন, আপনাকে তো ঠিক…

    অরু বলবে, আমি অরু, অরিন্দম বোস, হিন্দুস্থান পার্কের।

    পরক্ষণেই ভদ্রলোক—আরে, আসুন আসুন, এমনভাবে না বলে-কয়ে, কোনো মানে হয়! ইত্যাদি বলে অরুকে ভেতরে নিয়ে যাবেন।

    মফসসলের পুলিশ সাহেবের বাড়ি, সুতরাং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ফার্নিচার এবং কার্পেটের সমারোহ নিশ্চয়ই থাকবে। অরু গিয়ে মোটা নরম সোফায় বসবে।

    প্রথমাকে খবর দেওয়া হবে।

    ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করবেন, কোন গাড়িতে এল অরু, কোনো কাজে এসেছে কি না, তার পর চা আনতে বলবেন খুব তাড়াতাড়ি। তার পর প্রথমাকে আসবার জন্যে তাড়া দেবেন। প্রথমা আসবে। এসে বলবে, ওমা, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। অরুদা আপনি? আমার কী সৌভাগ্য!

    অরু লজ্জার হাসি হাসবে, বলবে, এই তোমাদের দেখতে এলাম, গয়াতে এসেছিলাম একটা কাজে (মিথ্যা কথা বলবে), আজই চলে যাব।

    প্রথমা বলবে, ইশ ছাড়ছি আর কী? এসেছেন যখন সাত দিন থেকে যেতে হবে।

    অরু বুঝতে পারল না কেন, কিন্তু ওর মন বলল, হয়তো সত্যিই সাতদিন থেকে যেতে হবে। অরুকে খুব যত্ন করবে প্রথমা, ওর স্ত্রীর ছেলে-মেয়ের খবর জিজ্ঞেস করবে, ও যা যা খেতে ভালোবাসে সব রেঁধে খাওয়াবে, হাজারিবাগের সিনেমায় ‘যব যব পেয়ার মিলে’ দেখতে নিয়ে যাবে, ওর ছেলের পেটের অসুখের বিস্তৃত ব্যাখ্যা করবে, ওর স্বামীর দারুণ খাটুনির কথা উদাহরণ দিয়ে বোঝাবে—কিন্তু কখনো একবারও চুপ করে হয়তো অরুর সামনে একমিনিটের জন্যেও বসবে না। ভুল করেও অরুর হাতে আগের মতো তার নরম উষ্ণ হাত রাখবে না। পাছে তার স্বামী-নিবেদিত পবিত্র শরীর অপবিত্র হয়ে যায়। যদি বা রাখেও, হাতে অচল আধুলি রাখলে যেমন মনে হয়, অরুর হয়তো আজ তেমন মনে হবে।

    কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে যে এত কথা ভাবা যায় এর আগে অরু কখনো জানত না। রিকশায় ও যে বসেছিল তো বসেই রইল। প্রথমার স্বামী ওকে রিসিভ করতে এলেন না, প্রথমা দৌড়ে এল না, শুধু ওর পেছনে কাঁকরের ওপর একটা বুটের শব্দ শুনে ওর স্বপ্ন ভাঙল।

    গেটের প্রহরীটিই এসে বলল, সাব, মেমসাব তো পাঁচবাজি চলা গ্যয়ে।

    কাঁহা? অরু ঘাড় ঘুরিয়ে শুধোল।

    ঝুমরিতিলাইয়া।

    কব লোটেঙ্গে?

    আজহি লোটেঙ্গে সামকো।

    বাংলোর ওপাশ থেকে একটি বর্ষীয়সী আয়া প্যারাম্বুলেটর ঠেলতে ঠেলতে এদিকে এসেই অরুকে দেখতে পেয়ে বলল ওমা অরুদাদাবাবু না?

    অরু সাইকেলরিকশা থেকে নামল। মীনাদি অনেক বুড়ো হয়ে গেছে। প্রথমার ছোটোবেলা থেকে ও প্রথমার সঙ্গে। অরু বলল, কেমন আছ মীনাদি?

    মীনাদি ফোকলা দাঁতে হাসল। বলল, তোমারই যদি চুলে পাক ধরে তো কেমন থাকতে পারি বুঝতেই পারছ। তা তুমি দাঁড়িয়ে রইলে কেন দাদাবাবু, চলো, ভেতরে চলো।

    অরু ইতস্তত করল একটু—বলল, ওরা কেউ নেই?

    আরে ওরা কেউ নেই, আমি তো আছি। চলো চলো, ভেতরে চলো। ওরা এসে যাবে সন্ধের মধ্যে।

    অরু বলল, তুমি এগোও, আমি স্যুটকেসটা নিয়ে আসছি।

    রিকশাওয়ালাকে পয়সা দেওয়ার সময়ে অরু তাকে জিজ্ঞেস করল, কলকাতায় ফেরার গাড়ি কখন কখন আছে? সে বলল শিয়ালদা-পাঠানকোট ধরার বাস একটু পরে ছেড়ে যাবে। ট্যাক্সি করে গেলে ঘণ্টা দুয়েক পরে বেরোলে হবে। আবার সেই রাতের গাড়ি আছে।

    অরু কী ভাবল একটু। তার পর বলল, আমার শিয়ালদা-পাঠানকোটই ধরতে হবে, তুমি ঘণ্টা দুয়েক পরে ঘুরে এসো।

    মীনাদি অরুকে গেস্টরুমের মতো একটা ঘরে নিয়ে গেল। বলল, অতিথি এলে এ-ঘরেই তাঁদের থাকার বন্দোবস্ত হয়। তুমি আরাম করো, আমি চা-টার কথা বলছি।

    অরু বলল, মীনাদি, আমি কিন্তু বেশিক্ষণ থাকব না।

    ওমা, সে কী কথা?

    না, আমি গয়াতে এসেছিলাম একটা কাজে, ভাবলাম প্রথমাকে অনেকদিন দেখিনি, দেখে যাই।

    তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু এসেই চলে যাবে? প্রথমা এসে যে আমার ওপর রাগ করবে, বলবে তোমাকে জোর করলাম না কেন?

    অরু হাসল। বলল, সেজন্য ভেবো না, প্রমা নিজে জোর করলেও বোধ হয় থাকা সম্ভব হত না। আমি চিঠি লিখে রেখে যাব যে, তুমি আদরের ত্রুটি করোনি।

    হাত-মুখ ধুয়ে চা খেয়ে অরু বলল, বলো মীনাদি, তোমার দিদিমণির সব গল্প বলো। এইটি কি ছোটোছেলে? মুখটা বুঝি বাবার মতো হয়েছে?

    মীনাদি বলল, হ্যাঁ, দু-ছেলের মুখই বাবার মতো।

    অরু মনে মনে প্রথমার দুটি ছেলের প্রতিই বিরক্ত হল। তার চেয়ে ওর যদি একটি মেয়ে থাকত—যার মুখ প্রথমার মতো, যার চাউনি প্রথমার মতো, তবে তাকে একটু কোলে নিত, আদর করত। এ জীবনে প্রথমাকে হারাতে হল বলে অন্তত প্রথমার সেই নরম ছোটো বুদবুদতোলা আধো-আধো কথা-বলা টুকুরোটুকুকে নিয়ে ক্ষণিকের জন্যে খুশি হত।

    অরুকে চুপ করে থাকতে দেখে মীনাদি বলল, চলো, দাদাবাবু, তোমাকে বাড়িটা দেখিয়ে আনি।

    অরু বলল, চলো।

    এই হচ্ছে জামাইবাবুর অফিস-ঘর, বসবার ঘরটাও এবারে চলো ভালো করে দেখাই। বসবার ঘরে প্রথমার এবং প্রথমার স্বামীর বড়ো ছবি। একটি আলাদা ছবি ওর স্বামীর—একপাশে গলায় পুলিশ মেডেল ঝুলিয়ে—জিপগাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে আছে। ইদানীংকার কোনো ছবি নেই প্রথমার। মীনাদি শোবার ঘর ঘুরিয়ে দেখাল। শোবার ঘরের সঙ্গে অ্যাটাচড বাথ। মীনাদি বলল, এ বাড়ির বাথরুমগুলো দারুণ—দেখবে একটা? বলেই সম্পূর্ণ নির্দোষ আনন্দে মীনাদি বাথরুমের দরজা খুলে অরুকে সগর্বে তাতে ঢোকাল। অরু দেখল, যাবার আগে ওরা চান করে গেছে। প্রথমার ছাড়া শাড়ি, শায়া, ভেতরের জামা—সব একপাশে ডার্টি-লিনেন বক্সের ওপরে জমা করা। গিজারটা থেকে তখনও টুপ টুপ করে গরম জল পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা। প্রথমার সদ্য ছেড়ে-যাওয়া, তার শরীরের উষ্ণতায় এখনও উষ্ণ সেই স্তূপীকৃত শাড়ি-জামার দিকে তাকিয়ে অরু তার পুরোনো প্রথমার একমাত্র উষ্ণ স্মৃতি দেখতে পেল।

    মীনাদি বলল, জামাইবাবু খুব হই-হই করতে ভালোবাসে। সপ্তাহে দুটি করে হিন্দি ছবি দেখে, খুব পান খেতে ভালোবাসে; খাওয়াতেও। দিদিমণি তো একেবারে বদলে গেছে—কী হই-হই যে করে। এই অবধি বলে মীনাদি বলল, চলো দাদাবাবু, তোমাকে রান্নাঘরটা দেখিয়ে আনি।

    রান্নাঘরে ঢুকেই অরুর চোখ রান্নাঘরের জানালায় একটা পরিচিত জিনিসে থমকে গেল। চমকে উঠল। মীনাদিকে শুধোল, ওটা ওখানে কী মীনাদি?

    মীনাদি এগিয়ে গিয়ে ধুলো-মাখা আধছেঁড়া বইটা তুলে নিয়ে বলল, কেন বলো তো? এ তো একটা বই। সেদিন বিকেলে কারেন্ট ফেল করেছিল, জামাইবাবুর চায়ের সময় উতরে গেল—দিদিমণি-জামাইবাবুর খুব শখ, রোজ সকাল-বিকেল চা-টা ওই মাঠের তাঁবুতে চেয়ার-টেবলে খান। দিদিমণির খাটের নীচে এই বইটা অনেকদিন থেকে ধুলোয় পড়েছিল। তাই আমি এইটে জ্বালিয়ে তাড়াতাড়ি চায়ের জল করতে বলে দিলাম বাবুর্চিকে। কাঠের উনুন তো চট করে ধরবে না।

    অরু আধছেঁড়া ধুলো-পড়া বইটা হাতে তুলে নিল। অরুর চশমাটা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে গেল।

    মীনাদি বলল, কী হল দাদাবাবু? এটা কি কোনো দামি বই? তাড়াতাড়ি কি ভুল করে এটা জ্বালাতে বললাম? দামি হলে দিদিমণি অমন করে ধুলোয় ফেলে রাখল কেন?

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    অরু হাসল, হেসে বইটা আবার জানালার তাকে রেখে দিল। বলল, না না, দামি বই নয়। এর কোনোই দাম নেই। তা ছাড়া দিদিমণিও ধুলোতেই ফেলে রেখেছিলেন।

    মীনাদির পেছন পেছন যে-ঘরে ওর স্যুটকেস ছিল সে-ঘরে ফিরে আসতে আসতে অরু পাঞ্জাবির কোনা দিয়ে চশমাটা এবার মুছল।

    যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তখন লেখক বলে অরুর বেশ একটু নাম হয়েছিল। এইটেই ওর প্রথম বই। এ বই প্রথমাকে ও উৎসর্গ করেছিল। এর জন্যে তার স্ত্রী তাকে আজও খোঁটা দেয়, বলে আমরা তো প্রথমা হতে পারলাম না তোমার কাছে। বরাবর যেমন নামে দ্বিতীয়া তেমন দ্বিতীয়াই রয়ে গেলাম। বইটির পাঁচ কপি প্রথমার বিয়ের সময়ে অরু প্রথমাকে দিয়েছিল।

    প্রথমাই বলেছিল, একটা বই যদি হারিয়ে ফেলি—আপনি আমাকে পাঁচটা বই দেবেন। বুড়োবয়েস অবধি যত্ন করে রাখব। পুরোনো দিনের স্মৃতি। দিন হয়তো পুরোনো হবে, কিন্তু দেখবেন, স্মৃতি কখনো পুরোনো হবে না।

    অরু হেসেছিল। বলেছিল, দেখব।

    ও এখানে কেন এল? অরুর খুব হাসি পেল। মনে পড়ে গেল আজ ওর মেজোশালির বিয়ের সম্বন্ধের জন্যে কয়েকজন ভদ্রমহিলা-ভদ্রলোক ওর শ্বশুর-বাড়িতে আসবেন। ওর স্ত্রী দ্বিতীয়া বার বার কাল বলেছিল, আজ তোমার কি না-গেলেই নয়? অরু গম্ভীর মুখে বলেছিল, না:, যেতেই হবে, অফিসের কাজ—বোঝো না কেন? দিন সাতেকের আগে ফিরতে পারব না। গয়ায় যখন যাচ্ছিই, তোমার মামার পিন্ডিটাও দিয়ে আসব।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    দ্বিতীয়া রাগ করে বলেছিল, আমার পিন্ডি দিতে যেয়ো। আমার মামা তোমার পিন্ডিদানের অপেক্ষায় বেলগাছে বসে নেই। তা ছাড়া তুমি পিন্ডি দেবার কে? পিসতুতো জামাই কখনো কারো পিন্ডি দেয়, এমন তো শুনিনি।

    অরু নীরবে এই বেফাঁস মিথ্যা কথার তিরস্কার সহ্য করেছিল।

    এখন পুরো ব্যাপারটা ভেবেই কেমন একটা শূন্যতা লাগছে। দুঃখও লাগছে। প্রথমাকে একবার দেখতে আসার এই হঠাৎ অদম্য কৌতূহলটাকে নিবৃত্ত করতে পারলে প্রথমা চিরদিনের মতো তার জীবন থেকে এমন করে হারিয়ে যেত না। এমন ঘৃণার মধ্যে হারাত না।

    ঘরে পৌঁছে, অরু স্যুটকেস খুলে প্রথমার জন্যে যা যা এনেছিল, সব মীনাদির হাতে তুলে দিল। তার পর কলম বের করে, কাগজ চেয়ে নিয়ে লিখল:

    হাজারিবাগ,

    ১২। ১২

    প্রথমা,

    তোমাকে এবং তোমাদের দেখতে এসেছিলাম। আসলে তোমাকে দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করছিল। তোমার অবর্তমানে মীনাদির হাত ধরে তোমাকে দেখে গেলাম। তোমার সুখের সংসার দেখে গেলাম।

    তুমি আমার প্রীতি জেনো। তোমার অদেখা স্বামীকে নমস্কার জানিয়ো।

    ইতি—অরিন্দম।

    রিকশাওয়ালা সময়মতো এসেছিল।

    এখন রিকশাটা ট্যাক্সি-স্ট্যাণ্ডের দিকে চলেছে। কাছারির মধ্যের রাস্তাটা দারুণ। দু-ধারে বড়ো বড়ো গাছ। মধ্যে কাঁচা কিন্তু সমান লালমাটির রাস্তা। শীতের সকালের রোদ গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে চলমান অরুর গায়ে এসে পড়ছে।

    শেয়ারের ট্যাক্সি। ট্যাক্সিতে উঠতে যাবে এমন সময়ে একটি বাইশ-তেইশ বছরের ছেলে এবং সতেরো-আঠেরো বছরের ছিপছিপে সুন্দরী মেয়ে এসে ড্রাইভারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সামনের সিটে বসল। ওরা তিনজনের টিকিট কাটল—যাতে ওরা সামনে নিরিবিলিতে দুজনের গায়ে গায়ে লেগে বসতে পারে।

    ছেলেটির হাতে দুটি কবিতার বই, কাঁধে শান্তিনিকেতনি ঝোলা—মেয়েটির হাতেও কীসব বই-খাতা।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    ট্যাক্সিটা ছেড়ে দিল। সামনের ছেলে-মেয়ে দুটি যে পাশাপাশি বসে আছে, পাশাপাশি বসে দু-ঘণ্টার পথ যাবে—এই আনন্দেই ওরা শিউরে শিউরে উঠছিল। অরু ওদের কথা শুনে বুঝল যে, ওরা হাজারিবাগ রোড স্টেশনে কাউকে আনতে যাচ্ছে।

    হাওয়াতে মেয়েটির চুল উড়ছিল। ছেলেটি ফিসফিস করে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে কী যেন বলছিল। ওদের দেখে অরুর ওর নিজের আর প্রথমার ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল বার বার—আর ভীষণ খারাপ লাগছিল।

    দ্রুত-ধাবমান ট্যাক্সিতে বসে নিজের কাঁচা-পাকা চুলে হাত দিয়ে বিলি কাটতে কাটতে অরু ঝকঝকে রোদভরা আকাশে তাকিয়ে নিজেকে শুধোল—আমাদের সব সুগন্ধি সম্পর্ক এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় কেন? আমাদের ফুরিয়ে না গিয়ে উপায় নেই বলে, না আমরা আমাদের নতুন রাখতে জানি না বলে?

    এরা সবাই-ই কি প্রথমা, নাকি দ্বিতীয়া?

    নাকি অদ্বিতীয়ারাও আছে? আছে কি?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }