Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অনিকেত

    কলিং বেল টেপাতে যতীন ঘরে এল। ঋত্বিক বলল, যতীন পরিতোষবাবুকে জিজ্ঞেস করো তো ধরবাবুর টাইপটা হল কি না। একপাতার একটা চিঠি কতক্ষণ লাগে টাইপ করতে? তিনি ইন্টারকম-এর রিসিভারই বা তুলছেন না কেন?

    একটু পরই ধরবাবু ঘরে ঢুকলেন এসে। মুখে উদবেগ, যেমন সবসময়েই থাকে, বললেন, একটু দেরি হয়ে গেল স্যার।

    এ আর নতুন কথা কী? একপাতা টাইপ করতে লাগান আধঘণ্টা তাও কতগুলো ভুল থাকবে কে জানে! বলেই, টাইপড ম্যাটারটা নিয়ে বলল, বসুন।

    ম্যাটারটা তার পরই পড়তে পড়তে ভুরু কঁচকে বলল, Media শব্দটা প্লুরাল, Medium সিঙ্গুলার। যেমন DATA আর DATUM আপনি কোন গ্রামার পড়েছিলেন ইংরেজির?

    সে কি আর আজকের কথা স্যার! আমি নাইনটিন ফিফটির ম্যাট্রিকুলেট।

    তা তো বুঝলাম কিন্তু কার ইংলিশ গ্রামার পড়েছিলেন?

    নেসফিল্ড সাহেবের।

    অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রিপোজিশান চ্যাপটারটা পড়েছিলেন কি ভালো করে?

    খুব ভালো করে পড়েছিলাম স্যার আর সেজন্যেই তো গোলমালে পড়ি। চাড্ডাসাহেব কোন স্কুলে পড়েছিলেন জানি না। উনি বোধ হয় অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রিপোজিশানের চ্যাপটারটা পড়েননি আদৌ। আমি কারেক্ট ইংলিশ লিখলে উনি কেটে দেন।

    আপনি তো একটাও ইংরেজি কাগজ পড়েন না—স্টেনোগ্রাফারের কাজ করবেন কী করে?

    পড়ে কী লাভ হবে স্যার? আজকালকার একটা কাগজও কি শুদ্ধ ইংরেজি লেখে? তাও ‘THE STATESMAN’ আছে কিছুটা পদের। অন্য কাগজগুলো পড়লে যা কষ্ট করে শিখেছিলাম তাও ভুলে যাব। হ্যাঁ ইংরেজি জানতেন ব্যানার্জিসাহেব। সেইন্ট জেভিয়ার্স-এ পড়াশুনো করেছিলেন, স্কুলে এবং কলেজে। তিনি আমাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করতেন।

    চাড্ডাসাহেব ‘ডুন’ স্কুলের ছাত্র ছিলেন, তা কি জানেন আপনি?

    জানি স্যার। সে তো রাহুল গান্ধি, রাজীব গান্ধিও ওই স্কুলেই পড়েছিলেন। ওই স্কুল থেকে অনেক ছাগল বেরিয়েছে। দাদু ইংল্যাণ্ডের হ্যারো বা ইটন-এ পড়লেই কি নাতিও আপসে পন্ডিত হয়ে যায়?

    আস্তে বলুন। আপনি আমার চাকরিটাই খাবেন দেখছি। জানেন না? রাহুল গান্ধি তাঁর শালার জিগরি দোস্ত। তার পর চিঠিটা কারেক্ট করে দিয়ে ঋত্বিক বলল, বহুবছর হয়ে গেল ধরবাবু, এবারে কিন্তু আপনাকে আর এক্সটেনশান দেওয়া যাবে না। তা ছাড়া, আপনি তো কম্পিউটারে বসতেই রাজি নন। আপনি ড্রাফট করবেন আর সেটি ঘোষবাবু কম্পিউটারে টাইপ করবেন, এভাবে কি চলে? পৃথিবীটা বদলে গেছে। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে পারলেন না আপনি।

    ধরবাবু চুপ করে থাকলেন কিছুক্ষণ। তার পর বললেন, ঠিকই বলেছেন। আমিও রিটায়ার করতে চাই কিন্তু খাব কী? ছেলেটা তো বি কম পাস করেই প্রেম করছে। সে কিন্তু কম্পিউটার শিখেছে। সে তার বাপের মতো অশিক্ষিত নয়। তার একটা কিছু করা যায় না স্যার? সে আমার মতো হাবাও নয়। ফটাফট ইংরেজি বলতে পারে। তার প্রেমিকাও তাই। সে একটি কল-সেন্টারে চাকরি করে। আমার দু-গুণ মাইনে পায়। ছেলের একটা গতি হলেই এরা বিয়েটা করতে পারে। বিয়ে করলেই অবশ্য আলাদা হয়ে যাবে।

    ঋত্বিক বলল, আমি চাড্ডাসাহেবকে বলেছিলাম একবার। উনি বললেন, আপনার ছেলেকে নিলে ব্যাড প্রিসিডেন্ট হবে। যারাই রিটায়ার করবেন বা করেছেন তাঁরা সকলেই ছেলেকে ঢোকাতে চাইবেন। তবু আরও একবার বলে দেখব। আপনি অনেক দিনের এমপ্লয়ি।

    দেখুন আর একবার বলে। যাই স্যার?

    আসুন।

    ধরবাবু চলে গেলে ঋত্বিক ভাবছিল ওঁর কথা। ও যখন এই কোম্পানিতে ঢোকে আজ থেকে পনেরো বছর আগে তখন ধরবাবু বড়োসাহেবের পি এ। কী দাপট ছিল তখন, কিন্তু সকলের সঙ্গেই ভালো ব্যবহার করতেন—ওর মতো নবাগন্তুকদের নানাভাবে সাহায্য করতেন। এ কোম্পানিতে পেনশান নেই। প্রভিডেন্ট ফাণ্ড-এর টাকা হয়তো কবেই খরচ হয়ে গেছে। ছেলেটিকে ভালো স্কুল ও কলেজে পড়িয়েছিলেন অনেক কষ্ট করে। ধরবাবু বলছিলেন, ছেলে নাকি বিয়ের পরেই আলাদা হয়ে যাবে। জামাইটি সেলস ট্যাক্সে কাজ করে। সম্ভবত উপরি আয় আছে কিছু। সে-ই যতটুকু পারে তাঁদের সাহায্য করে। কত মানুষের কত কষ্ট, কত অসুবিধে। ভাবতেও খারাপ লাগে ঋত্বিকের। কিন্তু ক-জনের কষ্টই বা লাঘব করার ক্ষমতা রাখে সে? লাঘব করতে পারে না বলেই সবসময়ে পীড়িত থাকে। মাঝে মাঝেই ভাবে, লটারির টিকিট কাটবে। একটা লেগে গেলে খুবই ভালো হয়। কত টাকা পেলে কাকে কাকে কত টাকা দেবে তার লিস্ট করে মাঝে মাঝেই অবসরে বসে কিন্তু ও জানে যে, ওর কপালে বিনাশ্রমে একপয়সাও রোজগার লেখা নেই। যতটুকু পারে মা ও বোনের জন্যে করে। বাবা তিন বছর আগে গত হওয়ার পর থেকে তার দায়িত্বও বেড়ে গেছে অনেক। বছরে একবার করে মা এবং বোনকে নিয়ে বেড়াতেও যায়। মা বিয়ের কথা বলেন প্রায়ই কিন্তু স্ত্রী এলে তার জীবনের এই ইকুয়েশান যদি বদলে যায়, সেই ভয়ে বিয়ের কথা ও নিজে ভাবে না। তা ছাড়া, বোনের বিয়ে না দিয়ে বিয়ে করাটা সম্ভবও নয়। বোন দীপিকা আজকালকার মেয়েদের মতো চালাকচতুরও নয়। শাড়ি ছাড়া কিছু পরে না। সম্বন্ধ করেই তার বিয়ে দিতে হবে। প্রেম-টেম হবে না ওর মনে হয়। মায়ের হাঁটু নড়বড়ে হয়ে গেছে। আর বেশি দিন হয়তো বেড়াতে যেতেও পারবেন না, হাঁটুর অপারেশন না করিয়ে। তাই মা যতদিন স্বচ্ছন্দে চলতে ফিরতে পারেন ততদিন মায়ের জন্যে যতটুকু পারে করতে চায়। বাবা, মাকে যতখানি সম্ভব আরাম আদরেই রেখেছিলেন। ও তার ব্যত্যয় ঘটাতে চায় না।

    ধরবাবু থাকেন উত্তর কলকাতার এক অন্ধগলিতে। গতচল্লিশ বছর ভাড়া আছেন। জরাজীর্ণ বাড়ি। বাইরের দিকে অশ্বত্থর চারা গজিয়েছে। বাড়িওয়ালা থাকেন দোতলাতে। বয়েস তাঁর আশি হয়েছে। এক সলিসিটারের অফিসের টাইপিস্ট ছিলেন। ওই বাড়িটা তাঁর পৈত্রিক বাড়ি। তিনি আর তাঁর স্ত্রী থাকেন। ছেলে-মেয়ে নেই।

    ধরবাবু তিরিশ টাকা ভাড়াতে এবাড়িতে ঢুকেছিলেন। এখন বেড়ে বেড়ে ভাড়া সোয়া দু-শো টাকা হয়েছে।

    বাড়িওয়ালা সত্য চাটুজ্জ্যের সামান্য কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ও কোম্পানি-কাগজ আছে। বাড়িভাড়া আর ওইসব থেকে যা রোজগার তাতেই কায়ক্লেশে চলে। যেমনভাবে চলে, তাকে চলা বলে না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই হাঁটুর সমস্যা আছে। বাড়ির বাইরে বড়ো একটা বেরোন না। কখনো-কখনো ছাদে যান। টবে কিছু ফুলের গাছ আছে। যৌবনে চাঁদনি রাতে, ওই ছাদে স্ত্রী চারুমতীকে নিয়ে বসন্তে ও গ্রীষ্মে মাদুর পেতে শুয়ে থাকতেন সারারাত ফুলের গন্ধের মধ্যে। চারুমতী হিমাংশু দত্তর গান গাইতেন। চাঁদ ও চামেলির গান। সেসব বড়ো সুখের দিন ছিল। এখন সেইসব সুখের দিনের কথা ভাবেন।

    এক ভাগনে আছে, এল আই সি-তে কাজ করে। সে মাঝে মাঝে আসে খোঁজখবর করতে। কিন্তু সত্যবাবুর মনে হয়, সে খোঁজ করতে আসে কবে সত্যবাবু পটল তুলবেন। তার ধারণা, মামা মরলে, বাড়িটা মামা তাকেই দিয়ে যাবেন। বাড়িটা পেয়ে গেলে সেখানে মাল্টিস্টোরিড বাড়ি বানাবে। একদিন বলে ফেলেছিল যে, ঠিকাদারের সঙ্গে কথাও হয়ে আছে। সাড়ে চার কাঠা জমির ওপর বাড়ি। ভাড়াটে—ধরবাবুকে কিছু টাকা থোক দিয়ে উঠিয়ে দেবে—তিনি কোনো বস্তি-টস্তিতে ঘর দেখে নেবেন।

    সত্যবাবু বোঝেন যে, তাঁর ভাগনে আর শকুনের মধ্যে তফাত বিশেষ নেই। মৃতপ্রায় মানুষকে গাছের ডালে বসে শকুন যেমন নজর করে সত্যবাবুকেও তেমনই নজর করে ভাগনে। ভাবেন, তিনি তো মরে বাঁচবেন কিন্তু চারুমতীর কী হবে? তারপর নিজেকেই বলেন, যা হওয়ার তা হবে।

    সত্যবাবু ঠিক করেছেন যে, ভাড়াটে ধরবাবুকেই বলে যাবেন চারুমতীর দেখাশোনা করতে। ধরবাবুর ছেলে বিয়ের পরে আলাদা হয়ে গেলে সত্যবাবুর অবর্তমানে চারুমতী ধরবাবুর সঙ্গেই থাকতে পারেন। গতদীর্ঘ চল্লিশ বছরে তাঁদের সম্পর্কটা বাড়িওয়ালা-ভাড়াটের সম্পর্ক আর নেই। বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে গেছে। তা ছাড়া, সত্যবাবু প্রথম দিন থেকেই ধরবাবুর স্ত্রী কুমুদিনীকে বেশ পছন্দ করেন এবং ধরবাবুও করেন চারুমতীকে। এই সম্পর্ক আচারের মতো। ডাল-ভাত খেয়ে খেয়ে যে একঘেয়েমি আসে তা যেমন আচার খেলে কেটে যায় তেমনই আর কী! এই বয়েসে, যখন শরীর ঘুমিয়ে পড়ে, তখন মন বোধ হয় আরও সজাগ হয়। বয়েস হলেও কাম মরে না, যদিও দুজনের বাঘই এখন গুহাবাসী। সত্যবাবুর আবার ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিসের রোগীদের কামভাবও অন্তর্হিত হয়। সে বড়ো দুঃখের সময়। যাঁরা জানেন, তাঁরাই জানেন। দুজনেই টাইপিস্ট ছিলেন বলে দুজনের মধ্যে এক পেশাগত বন্ধুত্বও জন্মেছে। ধরবাবু অবশ্য স্টেনোগ্রাফার ছিলেন। তাই, মাইনে সত্যবাবুর চেয়ে অনেকই বেশি পেতেন এবং এখনও পান। তা ছাড়া তিনি অফিস থেকে ফেরার সময়ে ডালহাউসি পাড়া থেকে প্রতিদিনই হেঁটে বাড়ি ফেরেন তাই এত বয়েসেও যথেষ্টই ফিট আছেন। হাঁটুর কোনো সমস্যা নেই। জিনস আর টপস পরা তরুণীদের সামনে থেকে তো বটেই, পেছন থেকে দেখেও শরীরে এখনও রিকিঝিকি ওঠে। সে এক দারুণ পরিণতিহীন উত্তেজনা। পাকা ফোড়াতে আঙুল বোলানোর মতো একধরনের সুখানুভূতি।

    বাড়ি ফিরে বহুদিনের পুরোনো সাইমা হাতঘড়িটি দেওয়ালের পেরেকে ঝুলিয়ে দিয়ে চান করতে গেলেন উনি। কলঘরটি উঠোনের এককোণে। এ-বাড়িতে অ্যাটাচড বাথরুম নেই। নিমসাবান দিয়ে চান করে হাতকাটা গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে ওপরে গেলেন।

    আজ শনিবার। জামাই নগেন পাঁঠার মাংস পাঠিয়েছে কলেজ স্ট্রিটের বাঙালি পাঁঠার দোকান থেকে কিনে। কুমুদিনী মাংস রান্না করছেন। মাংসের গরমমশলার গন্ধে পুরো একতলা মম করছে। প্রায় এককেজি মাংস। ধরবাবুর দাঁতও ঠিক আছে। মাংস খেতে অসুবিধে হয় না। কুমুদিনী বলেছেন, কিছুটা সত্যদা আর চারুমতী বউদির জন্যে পাঠিয়ে দেবেন।

    মাংস রান্নার গন্ধ নাকে যেতেই তাঁর সেই মেয়েটির কথা মনে পড়ল। তাঁদের অফিসেই নতুন ঢুকেছে। জিনস এর প্যান্ট-এর ঊরুমুখে একটা ভাঁজ আছে। ঊরুসন্ধি তাতে প্রকট হয়। মাংসের গন্ধর সঙ্গে সেই মেয়েটির কথা মনে হতেই শরীরে রিকিঝিকি উঠল।

    ধরবাবু কুমুদিনীকে বললেন, আমি ওপরে যাচ্ছি। তুমিই কি নিয়ে আসবে? না, আমি নেমে আসব?

    তুমি যাও, আমিই নিয়ে যাব। ওঁদের বোলো মাংসের কথা। মাংস রান্নার গন্ধ দোতলাতেও পৌঁছেছে নিশ্চয়ই তবে ওঁদের জন্যে যে পাঠানো হবে সেকথা তো ওঁরা জানেন না।

    ঠিক আছে। আমি গিয়ে বলছি।

    তার পর বললেন, পুনুর জন্যে মেটে রেখো। ও মেটে খেতে ভালোবাসে।

    পুনুর আজ পার্টি আছে ন্যাপাদের বাড়ি। আজ ন্যাপার জন্মদিন।

    নেমন্তন্ন?

    হ্যাঁ। আজকাল নেমন্তন্নকেই ‘পার্টি’ বলে।

    ও।

    দোতলাতে উঠে দেখলেন চারুমতী শোয়ার ঘরে। আয়নার সামনে টুলে বসে চুল আঁচড়াচ্ছেন গা ধুয়ে উঠে।

    বউদি কোথায়?

    চারুমতীকে দেখেও, না দেখার ভান করে ধরবাবু বললেন।

    বসুন ঠাকুরপো। আমি আসছি।

    সতুদা কোথায়?

    ছাদে। আপনি ছাদেই যান-না। আমি আসছি এখুনি।

    বেশ।

    তার পর বললেন, কুমুদিনী একটু পরে পাঁঠার মাংস নিয়ে আসবে আপনাদের দুজনের জন্যে।

    মাংস রান্নার গন্ধ তো গা ধুতে ধুতেই পেয়েছি। কিন্তু আমাদের পাঠানো কেন?

    জামাই মাংস কিনে পাঠিয়েছে। আপনারা কত কিছু পাঠান। আমরা আর কীই-বা দিতে পারি।

    পাঁঠার মাংস ছাড়াও তো অনেক কিছুই দেন ঠাকুরপো, বিশেষ করে আপনি। তার দাম কি কিছু নেই? বিশেষ করে আমার কাছে?

    আমি জানি যে সেসবের দাম আপনি বোঝেন। কুমুদিনীও অনেক কিছু দেয় আপনার সতুদাকে। সেও সেসবের দাম বোঝে। সেসবের তুলনায় পাঁঠার মাংসর কোনো দামই নেই। সেসবই তো অমূল্য।

    তা ঠিক।

    তার পর একটু চুপ করে থেকে বললেন, আমি চললাম ওপরে। একটা টিপ পরে আসবেন কিন্তু।

    বুড়ি হয়ে গেছি এখন আর সাজগোজ কি মানায়?

    যদি তা দেখার লোক থাকে এবং তার দেখার চোখ থাকে তাহলে অবশ্যই মানায়।

    আপনি সব সময়েই টিপ পরতে বলেন কেন?

    আপনার অমন সুন্দর ফর্সা চওড়া কপাল—টিপ না পরলে খালি খালি লাগে।

    চওড়া কপালই বটে। না হলে কি আর ৩২/৪/৯ গুলু খানসামা লেন-এ জীবন কাটে।

    আজকে একটা গান শুনব আপনার। রবিবাবুর গান।

    আমি তো রবিবাবুর গান কমই জানি।

    ওই যে, সেই গানটা।

    কোন গান? ওই যে, ‘মানে না মানা, আঁখি ফিরাইলে বলে, না, না, না’।

    ঠিক আছে। ওপরে যাই আগে।

    ছাদে উঠে ধরবাবু দেখলেন ধুতি আর ফতুয়া পরে সতুদা মাদুরে শুয়ে আছেন। কানের কাছে একটা ট্রানজিস্টর। গান শুনছেন।

    কী দাদা? ঘুমিয়ে পড়লেন নাকি?

    হাড় মটমটিয়ে উঠে বসে সতুবাবু বললেন, ও, ধনু? এসো এসো। আজকাল তো আসোই না। কী করে যে দিনরাত কেটে যায়। তার ওপরে টিভি। কিছুই দেখার থাকে না অথচ বাধা অনেক। সামনে বসলে আর নড়া যায় না। আমি অবশ্য ইংরেজি চ্যানেলগুলোই দেখতে চাই কিন্তু তোমার প্রিয় বান্ধবীর তো অখাদ্য বাংলা সিরিয়াল ছাড়া কিছুই রোচে না।

    তা আর কী করা যাবে? ভিন্ন রুচি লোকা:।

    আপনার জন্যে পাঁঠার মাংস রান্না করে নিয়ে আসছে সে গা ধুয়ে।

    পাঁঠার মাংস কেন, কোনো মাংসই যে খেতে পারি না আজকাল। পাঁঠার মাংসের চেয়েও ভালো মাংসও তো অনেক আছে।

    দাদার রস একটুও কমেনি।

    থাকার মতো আর তো কিছুই নেই। একটু রসও যদি না থাকে তাহলে বেঁচে লাভ কী? তা ছাড়া, বাঁচার সময়ও তো শেষ হয়ে এল। রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ-শব্দময় এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার তো সময় হয়ে গেছে অনেকদিন। টিকিটও কাটা। রিজার্ভেশনই এখনও হয়নি। এইযা।

    এমন সময়ে বিডন স্ট্রিট দিয়ে একটা মৃতদেহ নিয়ে গেল কারা যেন, ‘বল্লহরি, হরি বোল’ করতে করতে। এরা দুজনেই উৎকর্ণ হয়ে শুনলেন। আগে মধ্যরাতে এই উল্লসিত চিৎকারে বুক ছ্যাঁৎ করে উঠত। চমকে বিছানাতে উঠে বসে দু-হাত জড়ো করে অদেখা অচেনা মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেন। আজকাল অধিকাংশ মৃতদেহই, বিশেষ করে অবস্থাপন্নদের, কাচের গাড়ি করে যায়। গেল যে, তা বোঝা পর্যন্ত যায় না। তবে অনেক মৃতদেহ, বিশেষ করে উত্তর কলকাতাতে এখনও কাঁধে করেও নিয়ে যায়, কেউ কেউ টেম্পো বা ছোটো লরিতেও নিয়ে যায়।

    সতুবাবু প্রণাম করলেন। ধরবাবু প্রণাম করলেন না। সেটা লক্ষ করে সতুবাবু বললেন, ধনু ভায়া, তুমি কি মৃতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নও?

    ধরবাবুর ভালো নাম ধনুর্ধর। কানাছেলের নাম পদ্মলোচন হয়। ধনুহীন অবস্থাতেই জীবন কাটালেন, কারোকেই তির মেরে ধরাশায়ী করতে পারলেন না অথচ ওইরকম হাস্যকর নামের বোঝা বয়ে জীবন শেষ করে আনলেন। ধরবাবু ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন, সতুবাবুর প্রশ্নের উত্তরে বললেন,

    Every death diminishes me.

    For whom the bell tolls

    the bell tolls for thee

    আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কী একটা উপন্যাসের মুখবন্ধে আছে। নামটাই ভুলে গেছেন। এখন প্রায়ই এরকম হয়।

    সতুবাবু চুপ করে রইলেন। কিছু বললেন না।

    ছাদে টবে হাসনুহানা, জুঁইলতা, বনসাই চাঁপা ইত্যাদি গাছ করেছেন কুমুদিনী। ওঁরই বেশি শখ ফুলের। বাসন্তী হাওয়ায় গন্ধ উড়ছে।

    ধরবাবু বললেন, সতুদা, আপনার তো ডেঞ্চার আছে। মাংস খেতে অসুবিধা কীসের?

    আরে ডেঞ্চারে মাড়িতে ব্যথা করে শক্ত কিছু খেতে। তাই খাই না। শরীর এখন বাইরের কিছুকে গ্রহণ করে না। এমনকী হাতঘড়ি পর্যন্ত পরতে ইচ্ছে করে না। কালেভদ্রে কোথাও গেলে একটা রুপোর ট্যাঁকঘড়ি আছে, সেটাই ব্যবহার করি। বাবা ব্যবহার করতেন। এখন বেঁচে আছি বটে—কিন্তু তা শুধুই প্রশ্বাস নেওয়া আর নিশ্বাস ফেলা। একে বাঁচা বলে না। ওই যে মৃতদেহটি চলে গেল বিডন স্ট্রিট দিয়ে তার সঙ্গে আমার তফাত বিশেষ নেই। বাড়ি আছে কিন্তু তাতে বাস করি না।

    চারুমতী উঠে এলেন একটি ট্রেতে দু-গ্লাস আমপোড়া শরবত নিয়ে। গা ধুয়ে একটি বাড়িতে কাচা তাঁতের শাড়ি পরেছেন। পয়লা বৈশাখের জন্যে ননদ, ছেলের হাতে অগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। দু-তিন দিন পরা হয়ে গেছে।

    শরবতটা নিতে নিতে চান করে ওঠা চারুমতীর গায়ের গন্ধে এবং গলার ও বুকের পাউডারের গন্ধে আমোদিত হলেন ধরবাবু। বললেন, আপনারটা কই?

    আমি খেয়ে এসেছি।

    একটু পরে কুমুদিনী আসবে মাংস নিয়ে।

    তাই?—আমিষ আজকাল ভালো লাগে না।

    চুমু খেতেও?

    চুমু আর খাচ্ছে কে?

    অনুমতি দিলে খাবার লোকের অভাব আছে?

    চুমু কি অনুমতি নিয়ে খায়? চুমু জোর করেই খেতে হয়। সেই জোরটুকুই চুমুর সব।

    ধরবাবু বললেন, সতুদা, তুমি কি বউদিকে চুমু খাবার সময়েও ডেঞ্চার পরেই খাও?

    সতুবাবু হেসে বললেন, কতদিন এসব পাট চুকিয়ে দিয়েছি। তা ছাড়া, ডেঞ্চার তো একটি কাচের বাটিতে জলে ডোবানোই থাকে। বাইরে গেলে পরি নইলে কথা বলার সময়ে থুথু ছিটকোয়।

    ধরবাবু শরবত-এ চুমুক দিয়ে বললেন, দারুণ হয়েছে। আপনার হাতের গুণই আলাদা।

    আপনি যার ভালো দেখেন তার সবই ভালো দেখেন।

    তা দেখি।

    তার পর বললেন, একটা গান শোনানইনা বউদি।

    আজকাল আমাদের গান তো তামাদি হয়ে গেছে। এখন শুধু ব্যাণ্ডের গান।

    না, না, আমাদের ওইসব পুরোনো গানই ভালো লাগে। গান একটা রবিবাবুর গান।

    চারুমতী ধরে দিলেন, ‘ও-গান আর গাসনে, গাসনে। যে-দিন গিয়েছে চলে সে আর ফিরিবে না, তবে ও-গান গাসনে…’

    গান শেষ হতেই কুমুদিনী ছাদে উঠে এলেন। বললেন, তোমার দরজা ‘হাঁ’ করে খোলা দিদি।

    চারুমতী বললেন, তবুও কেউ ঢোকে না, সে-দরজা দিয়ে। এখন ঘরদোর সবই আছে কিন্তু বাড়ি নেই কুমু।

    ওরা সকলেই সেই কথাতে চুপ করে রইলেন। পুরোনো জরাজীর্ণ বাড়ির কার্নিশে কবুতরেরা অস্ফুটে বকম বকম করছিল। কবুতর সোহাগে সম্ভাষণ করছিল কবুতরিকে।

    ধরবাবু ভাবছিলেন, এজন্ম তো প্রায় শেষই করে এনেছেন। পরের জন্মে কবুতর-কবুতরি হয়ে জন্মাবেন, যদি পরজন্ম থাকে। জীবনের এই শেষ অঙ্কে পৌঁছে নানা প্রশ্নই মনে জাগে। এর পরের বাড়ি সম্বন্ধে কোনো ধারণা তো নেই। পাড়া সম্বন্ধেও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }