Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবিষ্কার

    আর কতক্ষণ দাঁড়াব, বাবা? ছোট্ট মিনু বিরক্তিমাখা মুখে বলল। রণেন বলল, দাঁড়াও দাঁড়াও, আর একটু দাঁড়াও, ট্রেনটা এসে যাবে।

    সুমিতা ফোড়ন কেটে রণেনকে চটাবার জন্যে বলল, আর এসেছে!

    ওরা বাতাসিয়া লুপের ওপর দাঁড়িয়েছিল। ‘ঘুম’ স্টেশন থেকে ট্রেনটা অনেকক্ষণ ছেড়েছে। ট্রেনটাকে রওনা হতে দেখেই ওরা ট্যাক্সি করে এসে এখানে নেমে গেছিল। রণেন ঝুলিটা কাঁধে তুলে নিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের হাত ধরে উঁচু টিলায় উঠেছিল।

    এই বাতাসিয়া লুপ।

    মিনু নীচের উজ্জ্বল অথচ মেঘাচ্ছন্ন উপত্যকার দিকে চেয়ে বলল, ওইখানে নীল ওটা কী বাবা? রণেন অন্যমনস্ক গলায় বলল, বর্ধমানের মহারাজার বাড়ির চুড়ো। তার পাশেই তো আমাদের বাড়ি। দেখতে পাচ্ছ না?

    মিনু আবার বলল, চুড়োটা নীল করেছে কেন বাবা?

    রণেন ভালো করে শুনলও না মিনু কী বলল—ও যেন কীসের ঘোরে ছিল।

    মাথা নেড়ে অন্যমনে বলল, এমনিই।

    মিনু রেললাইনের আরও বাইরের দিকে গিয়ে নীচে তাকিয়ে রইল।

    সুমিতা থার্মোফ্লাস্কের গ্লাসটা দু-হাতে ধরে আরাম করে শেষচুমুক দিচ্ছিল চায়ে। রণেনের পাশেই ছোটো শতরঞ্চির ওপর ও বসেছিল। এই শেষবিকেলে রণেনের খুব ভালো লাগছিল। শেষমুহূর্তে রণেন সুখের শীর্ষে অধিষ্ঠান করছিল।

    পাহাড়ে পাহাড়ে মেঘেরা হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াচ্ছিল। রোদটা মাঝে মাঝে একমুহূর্তের জন্যে বাইরে এসে আবার একলাফে আড়ালে চলে গিয়ে ‘কুমির কুমির’ খেলছিল মেঘগুলোরসঙ্গে। রণেন এইমুহূর্তে যেন মিনুর চেয়েও ছোটো হয়ে গেছিল। ঘাসের ওপর ফুটে থাকা ছোটো ছোটো ব্যাঙের ছাতার মতো রঙিন ফুলগুলোতে হাত বোলাতে বোলাতে মোহাবিষ্টের মতো রণেন অনেক কথা ভাবছিল।

    ও কি কখনোও ভেবেছিল যে ও এমনভাবে কোনোদিন ছুটি কাটাবে? এত সুখে?

    একটা সময় ছিল যখন দু-বেলা পেট ভরে খেতে পাবে যে এমন কথাও জোর করে ভাবতে পারেনি।

    রাত জেগে পড়াশুনো করেছে। দুপুরে ইউনিভার্সিটি এবং সকাল-বিকেল টিউশনি। আর কিছু রণেন তখন ভাবতে পারেনি; ভাবতে চায়নি। শুধু একটা ভদ্রগোছের চাকরি চেয়েছিল—যাতে অন্য দশজন মধ্যবিত্তর মতো ভদ্রভাবে ডাল-ভাত খেয়ে চলে যায়।

    তার পর আশাতীতভাবে অনেক কিছু এসেছে রণেনের জীবনে। একে একে এসেছে। সরকারি চাকরিতে এক্কা-দোক্কা খেলার মতো এক-এক পা করে অনেক উঁচুতে উঠে এসেছে ও ক-বছরের মধ্যে। কী করে যে এমন হল তা ও নিজেও জানে না। এমনি করে—এমনকী বিয়েও করে ফেলেছে একদিন। একটি ছিপছিপে সুন্দরী মেয়ে তার সমস্ত শরীর ও মিঠুয়া মন নিয়ে সম্পূর্ণভাবে তার একার হয়ে গেছে। কলকাতার দক্ষিণাঞ্চলেভালো ফ্ল্যাট নিয়েছে রণেন—যদিও ছোট্ট। মেয়েকে ভালো স্কুলে ভরতি করেছে। সব মিলিয়ে রণেন খুব সুখে আছে। তার সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও সে সুমিতাকে সুখে রেখেছে। সুমিতার জন্যে রান্নার লোক রেখে দিয়েছে। একটা ছোকরা চাকর আছে। রবীন্দ্রসংগীতের স্কুলে ভরতি করিয়ে দিয়েছে সুমিতাকে। যদিও সুমিতার গলার স্বরটা পাতিহাঁসের মতো ফ্যাঁসফেসে—তবু সুমিতা যখন ওর নতুন শেখা গানগুলি রণেনকে কাঁপা-কাঁপা গলায় শোনায় তখন রণেনের বেশ লাগে।

    সব মিলিয়ে এইমুহূর্তে রণেনের ভীষণ ভালো লাগছে।

    প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কখনো কখনো এমন ভীষণ ভীষণ ভালো-লাগা হঠাৎ এসে ভীরু বৃষ্টির মতো মনের জানলায় করাঘাত করে—সেইসব মুহূর্তে সে যে কোনোদিনও অসুখী ছিল, কোনোদিন অসুখী হতে পারে—এসব ভয়ের ভাবনা একবারও মনে আসে না।

    ঠাণ্ডা হাওয়া এসে মাঝে মাঝে ওর চুল এলোমেলো করে দিচ্ছিল। বাতাসিয়া লুপে দূরাগত ছোট্ট রেলগাড়ির অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ রণেন আধশোয়া ভঙ্গিতে বসে সুমিতার দিকে চেয়ে ভালোলাগায় একটি বেগুনি প্রজাপতির মতো কেঁপে কেঁপে উঠছিল।

    সুমিতা বলল, কী দেখছ আমার দিকে? অসভ্যর মতো?

    কেন? অসভ্যর মতো কেন?

    ওরকম করে তাকাচ্ছ কেন? আমাকে কি আগে দেখোনি?

    দেখব না কেন? এমন করে হয়তো দেখিনি।

    কেমন করে?

    অত জানি না।

    এমন সময় পুপ-পুপ-পুপ-পুপ করে রেলগাড়ির আসার আওয়াজ শোনা গেল।

    মিনু দৌড়ে এল লাইন পেরিয়ে, চেঁচিয়ে বলল, মা! বাবা, ওই যে আসছে।

    ওরা তিনজনেই উঠে দাঁড়াল। রণেন ঝোলানো ব্যাগে থার্মোফ্লাস্ক এবং শতরঞ্চিটা পুরে ফেলল।

    এমন সময়ে ট্রেনটা লুপের প্রান্তে দেখা দিল।

    পুপ-পুপ-পুপ-পুপ করে ঘুরে ঘুরে খয়েরি ট্রেনটা ধোঁয়ার নিশ্বাস ফোঁস ফোঁস করতে করতে একটা মেটে গোখরো সাপের মতো এঁকে বেঁকে লুপের এপাশ থেকে ওপাশে ঘুরে এল। তার পর দম নিতে নিতে নীচ দিয়ে আবার ঘুরে গেল।

    মিনু চটা-চট করে দু-তিনবার হাততালি দিয়ে ফেলল।

    দেখতে দেখতে ট্রেনটা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে পাক খেয়ে নীচে নেমে আবার দার্জিলিং-এর দিকে মুখ করে মোটরগাড়ির রাস্তার পাশ পাশে চলতে লাগল।

    ওরা তিনজনে একদৃষ্টে চেয়ে রইল অপস্রিয়মাণ রেলগাড়িটার দিকে।

    গাড়িটা যখন আর দেখা গেল না তখন রণেন একটা সিগারেট ধরাল, বলল, চলো, এবার ফেরা যাক।

    সুমিতা শাড়িটা হাত দিয়ে সমান করতে করতে বলল, চলুন স্যার আমি রেডি।

    রণেন বলল, ঢং হচ্ছে!

    মিনু কাছে এসে বলল, কী হয়েছে বাবা?

    রণেন হাসল, বলল, দেখো না, তোমার মায়ের বেশি বেশি আনন্দ হয়েছে।

    সুমিতাও হাসল, বলল, বেশ। হয়েছে তো হয়েছে।

    এই সুন্দর বিকেলে স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে এমন সুন্দর জায়গায় বেড়াতে এসে ওর যে আনন্দ হয়েছে, একথা সুমিতা গোপন করল না। গোপন করার প্রয়োজনও বোধ করল না।

    তার পর ধীরে ধীরে ওরা তিনজন বাতাসিয়া লুপ থেকে নেমে এসে কার্ট রোডে পৌঁছোল। রাস্তায় পৌঁছোতে দেখল দূর থেকে একটি ট্যাক্সি আসছে। ‘ঘুম’ থেকে আসছে—দার্জিলিং যাবে। অন্য সওয়ারিও ছিল দু-একজন—ভাগের ট্যাক্সি।

    রণেন বলল, ধরব নাকি ট্যাক্সিটা? না হেঁটেই যাবে?

    সুমিতা প্রথমে কোনো কথা বলল না। তার পর বলল, জানি না। যা ভালো বোঝো।

    ওরা এইসব বলাবলি করতে করতে ট্যাক্সিটা ওদের পেছনে ফেলে চলে গেল ফুল স্পিডে।

    কিছুক্ষণ অপস্রিয়মাণ ট্যাক্সিটার দিকে চেয়ে থেকে ওরা কার্ট রোড ধরে হাঁটতে লাগল।

    আকাশটা বেশ অন্ধকার হয়ে আসছে। ইদানীং প্রায়ই সন্ধের দিকে বৃষ্টি হচ্ছে।

    কিন্তু বড়ো বড়ো পা ফেলে ফেলে এমন ছবির মতো নির্জন রাস্তায় হাঁটতে ভারি ভালো লাগে রণেনের। সেই ছোটোবেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। কেষ্টনগরে ঘূর্ণি থেকে যখন কলেজে আসত। বড়ো বড়ো পা ফেলে হাঁটত। হাওয়াটা কৃষ্ণচূড়ার ডাল কাঁপিয়ে নিমগাছের ফুল ঝরিয়ে, একরাশ লালচে ধুলো উড়িয়ে আগে আগে দৌড়ে যেত। বাতাসে আম কাঁঠালের গন্ধ ম ম করত—গির্জার পেটাঘড়িতে ঢং ঢং করে বাজত—পিকু মল্লিকাদের বাড়ির ঝাঁকড়া কাঠটগরের ডাল থেকে অসময়ে, রসিক কোকিল বুকের মধ্যে উহুউহু ভাব জাগিয়ে কুহু কুহু করে ডেকে উঠত। আহা! সেই সবদিন। এইরকম একলা পথে হাঁটলেই রণেনের সেইসব পুরোনো—খোলামেলা বাধাবন্ধনহীন দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। ওদের চরম দারিদ্র্য সেইসব দিনগুলোরভরন্ত ভালোলাগাকে একটুও বিকৃত করতে পারত না।

    রণেন আকাশের দিকে একবার তাকাল। হয়তো বৃষ্টি আসবে। এলেই বা? সঙ্গে দুটি ছাতা আছে। একটি প্রমাণ মাপের অন্যটি মিনুর। বৃষ্টি যদি আসেই—তাহলে সুমিতা আর ও—দুজনে বড়ো ছাতাটার আড়ালে হাঁটবে—ছোটো ছাতাটা মিনুকে খুলে দেবে।

    একটা বাঁক নিতেই উলটোদিক থেকে একটি ল্যাণ্ডরোভার গাড়ি আসতে দেখা গেল। গাড়িটা কাছে আসতেই সুমিতা চেঁচিয়ে বলল, অ্যাই দেখো, দেখো, চলে গেল। দেখছ?

    রণেন অবাক হয়ে বলল, কী?

    ইশ! দেবানন্দ! চলে গেল।

    তুমি দেখলে?

    হ্যাঁ একটা কমলা-রঙা জামা পরা—মাথায় স্ট্র হ্যাট—শুটিং করে ফিরল, কি কোথাও যাচ্ছে বোধ হয়।

    রণেন কিছু বলল, না, হয়তো সত্যিই দেখে থাকবে সুমিতা, কারণ কাল ম্যালে শুনেছিল যে দেবানন্দ, ওয়াহিদা রেহমান সব মাউন্ট এভারেস্ট হোটেলে উঠেছেন। কী একটা বইয়ের শুটিং হচ্ছে নাকি এখন বিজন-বাড়িতে।

    রণেন কিছু বলল না দেখে সুমিতা বলল, কী? কিছু বলছ না যে?

    রণেন হাসিমুখে বলল, কী বলব?

    সুমিতা বলল, খুব ডাঁট হয়েছে না? দেবানন্দ, হয়তো তোমাকে দেখে ভাবল, এ আবার কোন হিরো?

    রণেন আবার হাসল। বলল, ইয়ার্কি হচ্ছে!

    সুমিতা হাঁটতে হাঁটতে ওর গায়ের সঙ্গে লেগে গেল—বলল, ইয়ার্কি কেন? তুমি কি খারাপ দেখতে—তুমি তো হ্যাণ্ডসাম—তুমি টপ দেখতে—

    রণেন মোটা কোট পরে থাকা সত্ত্বেও—সুমিতার কার্ডিগান পরা নরম লতানো শরীরের ছোঁওয়া ওর শরীরে বিদ্যুৎ খেলিয়ে দিল। রণেন ফিস ফিস করে চোখ নাচিয়ে বলল, খুউব? চলো আজ বাড়িতে। তোমাকে কী করি।

    সুমিতা কল কল করে হাসতে হাসতে সরে গিয়ে বলল, ভালো হবে না বলছি! জংলি।

    তার পর দুজনেই লজ্জা পেয়ে সামনে তাকাল—দেখল—না—মিনু ওদের দিকে ভ্রূক্ষেপই করছে না—নিজের মনে স্কুলে নতুন শেখা ইংরিজি গান গাইতে গাইতে হাত দুলিয়ে অনেক আগে আগে চলেছে।

    মিনু ওদের কথা বা সান্নিধ্য শোনেনি বা দেখেনি।

    সুমিতা চেঁচিয়ে বলল, মিনু বাঁ-দিক ঘেঁষে চলো—গাড়ি আসছে।

    বলতে বলতেই আর একটা ফাঁকা ট্যাক্সি হুস করে চলে গেল ওদের পাশ কাটিয়ে হাওয়ার দোলা লাগিয়ে দার্জিলিং-এর দিকে।

    রণেন বলল, কী হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে নাকি? পথ তো কম নয়।

    সুমিতা বলল, আমার জন্যে কী? মিনুটা সকালে অনেক হেঁটেছে—পাশের বাড়ির অশোকাদির মেয়েদের সঙ্গে ম্যালে গেছিল—ওরই কষ্ট হবে। আমার কোনো কষ্টই হয় না তুমি পাশে থাকলে।

    রণেন আরেকটা সিগারেট ধরাল, বলল, বাবা, এত ভালোবাসা?

    সুমিতা বলল, আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার।

    তার পর আরও অনেকখানি পথ চুপচাপ হাঁটল ওরা তিনজনে।

    জীবনে ও যে সুখী হয়েছে, সুখী আছে একথা ভাবতে ভাবতে মনে মনে, হাসতে হাসতে রণেন সুমিতার গা ঘেঁষে পথ চলছিল, এমন সময়ে সুমিতা বলল, আমার গায়ে পড়ল একফোঁটা।

    চমকে উঠে রণেন বলল, কী?

    বৃষ্টি।

    মিনু চেঁচিয়ে উঠল—‘যা বৃষ্টি ধরে যা লেবুপাতায় করমচা’—

    সুমিতা ধমকে উঠল—কী হচ্ছে মিনু রাস্তার মধ্যে?

    তার পর নিজের মনে নীচু গলায় বলল, পথ তো কম বাকি নেই। এখন বৃষ্টি নামলে কী হবে? সুমিতার গলাটা একটু বিরক্ত শোনাল।

    রণেন অত গা করল না, আকাশের দিকে একবার তাকাল। বলল, হলে হবে। ভয়ের কী? মজাই তো হবে।

    সুমিতা উত্তর দিল না কথার।

    এবার বেশ জোরে জোরে নানারকম অর্কিড এবং কুয়াশার গন্ধমাখা কনকনে হাওয়া বইতে শুরু করল। বাতাসিয়ার হাওয়াটা ওদের পেছন থেকে ধাক্কা দিতে লাগল।

    রণেন বলল, জানো সুমিতা, পাহাড়ি পথে চলার একটা নিয়ম আছে, আমাদের অফিসে এক বুড়ো পাহাড়ি দারোয়ান আছে, সে শিখিয়েছে।

    সুমিতা কোনো উত্তর দিল না!

    রণেন তবুও বলল, শুনবে? চড়হাই মে বুড্ডা, উতরাইমে জোয়ান।

    এমন সময়ে এমন একটা দমকা হাওয়া এল যে, সুমিতার হাত থেকে মিনুর ছাতাটা হাত ফসকে উড়ে গিয়ে পড়ল।

    শব্দ শুনে মিনু পেছন ফিরে ছাতাটা কুড়োতে যাবে এমন সময়ে একটা ট্রাক প্রায় মিনুর গা ঘেঁষে চলে গেল।

    রণেন আর সুমিতা দুজনেই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল, ‘মিনু’!

    অনেকক্ষণ পর সুমিতা কথা বলল। বলল, ঢং না করে মেয়েটার হাত ধরে চললেই তো হয়।

    রণেনের মনেও এই কথাটা জেগেছিল, কিন্তু ঠিক ওইভাবে সুমিতা কথা না বললেও পারত।

    রণেন কিছু না বলে এগিয়ে গিয়ে মিনুর হাত ধরল। এতক্ষণের খুশির মচমচে উষ্ণতাটা হঠাৎ কেমন ভিজে কুয়াশার মতো স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেল।

    ওরা ভাগ্যকুল হাউসের কাছে পৌঁছেছে ততক্ষণে; কিন্তু ততক্ষণে অন্ধকারও হয়ে গেছে। পথের বাঁ-দিকের খাদের ওপরের আকাশে হালকা ছাই-রঙা আলোটুকু পুরোপুরি মুছে যাবার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি নামল। সঙ্গে সঙ্গে দমকে দমকে দামাল হাওয়া। পথের বাতিগুলো ঠিক সেই মুহূর্তেই নিভে গেল।

    মিনু ‘বাবা’, ‘বাবা’, বলে হঠাৎ অন্ধকারে ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠল।

    রণেন তাড়াতাড়ি সুমিতার হাত থেকে মিনুর ছাতাটা নিয়ে সেটা খুলে মিনুর হাতে দিয়ে বলল, দু-হাতে ধরে থাকো মিনু, বুকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকো।

    পেছন থেকে সুমিতা অত্যন্ত বিরক্তিমাখা গলায় বলল—আমি তো ভিজে গেলাম!

    রণেন, এই যে, এই যে, বলে তাড়াতাড়ি বড়ো ছাতাটা খুলে সুমিতাকে দিল।

    মনে মনে বলল, বেচারি।

    তার পর দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে মিনুর ওভারকোটের কলারটা বাঁ-হাতে চেপে ধরল—যাতে অন্ধকারে ও পড়ে না যায়—বাঁ-দিকের নীচু দেওয়ালে হোঁচট খেয়ে হঠাৎ পড়ে গেলে—নীচের অন্ধকারে হারিয়ে যাবে মিনু—। আর খুঁজে পাওয়া যাবে না এই মিনুকে।

    লোকে কুকুরের কলার ধরে যেমন করে কুকুরকে বেড়াতে নিয়ে যায় মিনুকে তেমনি করে ধরে রণেন বড়ো বড়ো পা ফেলে হাঁটতে লাগল।

    সামনের কিছুই প্রায় দেখা যাচ্ছে না—মাঝে মাঝে পথের পাশের বাড়ির বন্ধ কাচের জানালা থেকে যতটুকু আলো বৃষ্টির ঝালর বেয়ে পথে এসে পড়েছে তাতেই পথ চলতে হচ্ছে। যত জোরে পারে রণেন পা চালাল মিনুকে নিয়ে। একবার মিনু হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবার মতো হল। একবার ওর ছাতাটা হাওয়ায় উলটে গেল।

    সুমিতা ছাতা মাথায় পেছন পেছন আসছিল—মাঝে মাঝেই তীক্ষ্ণ গলায় রাতের পাখির মতো কী যেন বলতে বলতে।

    এই ব্যাপারটার জন্যে রণেন মনে মনে একেবারে অপ্রস্তুত ছিল। হঠাৎ এমন বিশ্রী বৃষ্টির জন্যে এবং এই হঠাৎ বৃষ্টির মতো সুমিতার হঠাৎ রূঢ় ব্যবহারের জন্যে।

    সুমিতা একবারও রণেনকে ডাকল না তার ছাতার নীচে এসে মাথা বাঁচানোর জন্যে। কিছু বললও না।

    দেখতে দেখতে রণেনের মাথা একেবারে ভিজে গেল। অনেকক্ষণ মোটা কোট ভেদ করে জল ঢুকতে পারেনি—এখন জল ভেতরেও ঢুকতে লাগল। গরম প্যান্ট থাকা সত্ত্বেও হাঁটু অবধি ভিজে গেল। রণেন তবু ভাবল—যাক সুমিতা আর মিনুর মাথায় তো ছাতা আছে। ওদের মাথাটা তো বাঁচছে অন্তত—। দার্জিলিং-এ এমন করে বৃষ্টিতে ভিজলে নিউমোনিয়া হওয়াও বিচিত্র নয়।

    এই দুর্যোগের ওপর আবার সরু পথের পাশ বেয়ে সাঁ সাঁ করে ঘন ঘন ট্রাকগুলোচলে যেতে লাগল—তাতে পথের ভয়াবহতা আরও বেড়ে গেল।

    ওরা তিনজনেই প্রাণপণে, প্রায় দৌড়োতে দৌড়োতে অন্ধকারে, এলোপাথাড়ি সাঁতার দিতে দিতে বাড়ির দিকে এগোতে লাগল।

    সুমিতা দৌড়োতে দৌড়োতে বলল—কিপটে অনেক দেখেছি। কিন্তু তিনটাকা ট্যাক্সি ভাড়া বাঁচাবার জন্য এমনভাবে কষ্ট দিতে কারুকে দেখিনি।

    মিনু কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, বাবা, আর কতদূর আছে বাড়ি পৌঁছোতে?

    রণেন বলল, এই তো এসে গেছি বাবা। আর অল্প একটু।

    ততক্ষণে প্রলয় শুরু হয়ে গেছে। ছাতাটাও মিনু আর ঠিক করে ধরে রাখতে পারছে না—অতটুকু মেয়ে কি ওইভাবে ছাতা রাখতে পারে? তখন রণেন একহাতে ছাতাটা মিনুর মাথার ওপর শক্ত হাতে ধরে অন্য হাতে ওর কলারের পেছন ধরে হাঁটতে লাগল।

    সুমিতা দাঁত চেপে বলল, আর কোনোদিন তোমার মতো ছোটো মন, কৃপণের সঙ্গে কোথাও আসব না। এই আমার শেষ বাইরে আসা। তোমার সঙ্গে।

    এই সময়ে মোড় ঘুরতেই বাড়িটা দেখা গেল। ঘরে ঘরে বাতি জ্বলছে।

    দরজায় গিয়ে পৌঁছোতেই কাঞ্চা দৌড়ে এসে দরজা খুলল।

    ততক্ষণে রণেনের জামাকাপড় ও শরীরের কোনো অংশই শুকনো নেই। সুমিতাও ভিজেছে। মিনুও ভিজেছে। তবে ওরা যা ভিজেছে তা জলের ছাটে।—মাথায় ছাতা থাকাতে রণেনের মতো সম্পূর্ণভাবে অসহায়ের মতো ভেজেনি।

    রণেন ঘরে পা দিয়েই কাঞ্চাকে বলল, কফি বানাও।—খুব গরম কফি।

    রণেন ভেবেছিল, সুমিতা মিনুকে আগে সামলাবে—গা-মাথা মোছাবে—কিন্তু কিছু না করে সে দৌড়ে গিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ল এবং সেখান থেকে মিনুর নাম ধরে চিৎকার করতে লাগল।

    মিনু দৌড়ে গেল—এবং সুমিতার কথামতো আলনা থেকে একটি শুকনো শায়া নিয়ে মাকে দিতে ছুটল। সুমিতা শায়াটা হাত বাড়িয়ে নিল, তারপর রণেনের প্রায় মুখের ওপর দড়াম করে দরজাটা বন্ধ করল। ভিজে গায়ে মিনুটা বার বার কেঁপে উঠল।

    মিনু বলল, বাবা বড়ো শীত কচ্ছে।

    রণেন এসব কাজ কখনো করে না—করতে পারেও না, কিন্তু তখন মিনুর অবস্থা দেখে না করে উপায় রইল না। ও মিনুর ভেজা জামাকাপড় ছাড়িয়ে ওকে পাশের ঘরের বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ওর পা-হাত ভালো করে ধুইয়ে কোলে করে এনে বিছানায় তুলে দিল—বলল, এক্ষুনি লেপের নীচে ঢোকো।

    মিনু হি-হি করে কাঁপতে কাঁপতে লেপের নীচে চলে গিয়ে দুটি উজ্জ্বল কালো চোখে রণেনের দিকে চেয়ে রইল।

    রণেনের প্যান্ট-কোট গড়িয়ে জল নামছিল। মিনু ফিসফিস করে মার চেঁচামেচিতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ভয় ভয় গলায় বলল, বাবা তোমার শীত করছে না?

    শীত করছিল যে না, তা নয়, কিন্তু রণেনের নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল।

    ও ভাবছিল, দার্জিলিং-এর মতো জায়গায় মে মাসের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়াটা কিছুমাত্র অস্বাভাবিক নয়। জেনেশুনে সে ট্যাক্সি না নিয়ে সত্যিই ভুল করেছে। ওর মূর্খামির জন্যেই সুমিতা ও বেচারি মিনুর এমন দুরবস্থা হল। মনে মনে রণেন নিজেকে গালাগালি দিচ্ছিল।

    কিছুক্ষণ বোকার মতো দাঁড়িয়ে থেকে রণেন বসবার ঘরে গিয়ে জুতো খুলতে লাগল। জুতোটা একেবারেই ভিজে গেছে। ভিজে ভারী হয়ে গেছে। একটা জুতো খুলেছে—এমন সময়ে কাঞ্চা এসে বলল, সাব কফি হো গ্যয়া।

    কাঞ্চা ট্রেতে করে দু-কাপ কফি এবং এক-কাপ গরম দুধ নিয়ে এল।

    কী ভেবে রণেন বলল, আমাকেই দাও—মেমসাহেব কাপড় বদলাচ্ছেন। এই বলে ট্রেটা হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকল রণেন—ওই একপাটি জুতো পরা অবস্থায়ই—ভাবল, সুমিতাকে গরম কফি খাইয়ে নিজের অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করবে।

    সুমিতা বাথরুম থেকে বেরিয়ে শাড়িটা ভালো করে জড়াচ্ছিল—কফি হাতে রণেনকে ঢুকতে দেখেই ওকে আক্রমণ করে বলল, ন্যাকামি অন্য জায়গায় কোরো—তোমার অনেক ভালোবাসার লোক আছে—তাদের কাছে—তার কাছে কোরো—এখানে নয়। আমার কাছে নয়। যার একটা ট্যাক্সি করার মুরোদ নেই, যার একটা জুতো কিনে দেবার সামর্থ্য নেই, সে আবার হাতে করে কফি আনে। হুঁ:! না এলেই হত! অসভ্য স্বার্থপর। এই চটি পায়ে জল-কাদায় হেঁটে আমার সারাশাড়িতে রাস্তার নোংরা কাদা উঠে এসেছে। বলতে বলতে শেষের দিকে সুমিতা কেঁদে ফেলল—একটুখানি ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদলও—তার পর বলল, এক জায়গায় বেড়াতে এনে আমাকে খাটিয়ে মারছ—হাঁটিয়ে মারছ—লজ্জা করে না? যার সামর্থ্য নেই তার বেড়াতে আসার দরকার কী? ফেলে দাও এ কফি। ভালোবাসা দেখাতে এসেছ তুমি!

    রণেন এত কথার পরও সেদিন কিছু বলল না। অন্যদিন হলে হয়তো বোঝাবার চেষ্টা করত যে ও একথা বলে অন্যায় করেছে। আজকাল সুমিতার এইরকম ব্যবহারে ও নিথর হয়ে যায়—উলটো ঝগড়া করার মতো জোর পায় না।

    রণেন হাতে-ধরা ট্রেটার দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলল, কফিটা খেয়ে নাও। বেশ ভিজে গেছ তুমি। কফি খেলে ভালো লাগবে।

    সুমিতা বলল, আমার ভালো তোমার দেখতে হবে না। আমি খাব না কফি। তুমি এ ঘর থেকে বেরোও।

    রণেন একটা নিশ্বাস ফেলল, তার পর মিনুকে বলল, মিনু, তুমি এই দুধটুকু খেয়ে ফেলো।

    বলার সঙ্গে সঙ্গে সুমিতা ছোঁ মেরে কাপটা মিনুর হাত থেকে ছিনিয়ে নিল। যত রাগ মিনুর ওপর পড়ল,—বলল, অসভ্য মেয়ে—এক্ষুনি ভাত খাবে? তবে এখন যে দুধ খাচ্ছ? সারাসকাল ধরে ঘরে বসে রান্না করলাম—একটুও কনসিডারেশান নেই কারো। বলেই রণেনের ওপর রাগটা—মিনুর নরম গালে ঠাস করে একচড় মেরে প্রকাশ করল।

    শীতে-কাঁপা বেচারি মেয়েটা কেঁদে উঠল। ভয়ে ওর মুখ নীল হয়ে গেল।

    সুমিতা কাঞ্চাকে বলল—দুধ লে যাও। বাবা আভি দুধ নেহি পিয়েগী।

    কফি কারুরই খাওয়া হল না।

    রণেন বসবার ঘরে ফিরে গিয়ে জুতো খুলতে খুলতে ভাবছিল যে, যে-কথাগুলোসুমিতা বলল, সেগুলো সত্যিও বটে আবার নোংরা মিথ্যাও বটে। ট্যাক্সি নেয়নি সত্যি, কিন্তু পয়সা বাঁচাবার জন্যে যে নেয়নি তা নয়।

    এখানে এসে অবধি সুমিতাকে বহুদিন ম্যালে উঠতে নামতে বাটার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একটা জুতো কিনতে বলেছে।

    সুমিতা নাক কুঁচকে বলেছে, আমার ওরকম জুতো ভালো লাগে না। চটিই ভালো। গরম জামাকাপড় সুমিতার যথেষ্ট আছে, কিন্তু তার বেশিরভাগই সুমিতার ‘অপছন্দের’—।

    আসবার আগে রণেন বার বার করে বলেছিল দুটি গরম ব্লাউজ বানিয়ে নিতে, তাও বানায়নি সুমিতা। তার সামান্য সামর্থ্যর সবটুকু দিয়ে সে সুমিতাকে সুখী করতে চেয়েছে সর্বতোভাবে, কিন্তু তবু সুমিতা সুখী নয়। সুমিতা ওকে বোঝে না, ওকে ভালোবাসে না; ওর জন্যে একটুও কষ্ট অনুভব করে না।

    ভাবতে ভাবতে মুখটা বিস্বাদ হয়ে গেল রণেনের।

    ওঘর থেকে মাঝে মাঝেই আহত বাঘিনির মতো চাপা গর্জন করছিল সুমিতা।

    তার পর আরও অনেক কিছু হয়েছিল। রণেনের মনে নেই সব। এক সময়ে সে ভিজে জামাকাপড় ছেড়ে বাথরুমে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে লেপের তলায় গিয়ে শুয়ে পড়েছিল। ভীষণ ক্লান্তি লাগছিল রণেনের। শরীরে ও মনে।

    সেদিন সকালে ও নিজে বাজারে গেছিল। ইলিশ মাছ কিনে এনেছিল। শুয়ে শুয়ে ভাবছিল রণেন। কাটিহার থেকে চমৎকার স্বাদের ইলিশ চালান আসে দার্জিলিং-এ। সুমিতা ইলিশ মাছভাজা করবে বলেছিল—সবাই মিলে মাছভাজা-তেল দিয়ে এক এক থালা ভাত খাবে ভেবেছিল। আর কাঁচালঙ্কা-কালোজিরে দিয়ে ইলিশের ঝোলও করেছিল সুমিতা—।

    কিছুক্ষণ পর কাঞ্চা এসে ডাকল রণেনকে।

    রণেন বলল, খাব না।

    কাঞ্চা কাঁচুমাচু মুখে আরও একবার এসে অনুনয় করে বলল—কুছ তো খানাই হ্যায় হুজৌর।

    কাঞ্চার মুখ দেখে হঠাৎ রণেনের মনে হল এ লোকটার বোধ হয় রণেনকে দেখে খুব করুণা হচ্ছে—নইলে রণেন খাবে না শুনে লোকটার মুখে এমন বেদনার ছায়া কেন? কথাটা ভেবেই রণেনের হাসি পেল। ভাবল, কাঞ্চাকে যাবার সময়ে ভালো করে বকশিশ দেবে। ভালোবাসে যখন, তখন টাকা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে তো তার ভালোবাসা ফেরত দেওয়া যাবে না। ভালোবাসে! ফু:, ভালোবাসে! ভাবল রণেন।

    উত্তরে শুয়ে শুয়েই রণেন বলল, না: খাব না।

    তার পর একা ঘরে শুয়ে শুয়ে বাইরের পাইন বনের পাহাড়ি ঝিঁঝির ট্যাক-ট্যাক ট্যাক-ট্যাক আওয়াজ শুনতে শুনতে অবসন্ন রণেনের খুব ঘুম পেল।

    খাওয়ার ঘর থেকে ইলিশমাছভাজা-তেলের গন্ধ আসছিল। রণেন লেপ থেকে নাক বের করে একবার হাওয়া শুঁকল। শেয়ালের মতো। বাড়ির পাশের ঝরনার নীচের জঙ্গল থেকে সত্যি শেয়ালও ডাকছিল। শেয়ালের ডাক শুনতে শুনতে একসময়ে রণেন ঘুমিয়ে পড়ল।

    রাত কত হবে?

    অনুমান করার চেষ্টা করল রণেন।

    মিউনিসিপ্যালিটির সীমানার শেষ আলো জ্বলছে রাস্তায়। মোটা পর্দার ছাঁকনির মধ্যে দিয়ে আলো এসে ঘরের মধ্যে একটা কমলা-রঙা ছায়া সৃষ্টি করেছে।

    রণেন একটা হাই তুলল।

    একটু আগেই ও স্বপ্ন দেখছিল। বোধ হয় খিদের জন্যেই স্বপ্নটা ভেঙে গেল। স্বপ্নটা তখনও চোখে লেগেছিল।

    ছোটোবেলায় কেষ্টনগর রাজবাড়িতে ও বারোশিবের মেলায় গেছে! নাগরদোলা উড়ছে আকাশে, পাঁপর-ভাজার গন্ধে আকাশ ভারী, গোরুর গলার ঘণ্টা বাজছে ডুঙডুঙিয়ে—আর বুড়ির চুল খাচ্ছে রণেন। গোলাপি-রঙা একতাল হালকা বুড়ির চুল—মুখে দিতেই চুপসে গেছে—জল হয়ে গেছে।

    মেলায় কত দোকান, কত খেলনা, কত কী, কত কী—কিন্তু রণেনের হাতে যা পয়সা ছিল—একটি আনি—তা দিয়ে ও বুড়ির চুল খেয়ে ফেলছে। তার পর খালিহাতে একা-একা, একা-একা ও বারোশিবের মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর কিছু কিনবে যে, সে উপায় নেই।

    পাশ ফিরে শুল রণেন। মিনুটা লেপের মধ্যে ডুবে গেছে। ওকে দেখা যাচ্ছে না। মার গা-ঘেঁষে ও শুয়ে আছে। মেয়েটাও ওকে ভালোবাসে না—। মা যা বলে তাই শোনে—মার পায়ে পায়ে ঘোরে। রণেনকে কেউই ভালোবাসে না। অথচ জীবনে যদি সে সত্যি কিছু চেয়ে থাকে—কতদিন, তা শুধু নি:স্বার্থ ভালোবাসা—। টাকা নয়, যশ নয়, কিছু নয়, শুধু ভালোবাসা।

    ভাবতে ভাবতে ভীষণ বিপন্ন হয়ে পড়ল রণেন। এক অসীম শূন্যতা ওর টনসিলের চারপাশে লেত্তির মতো পাক খেয়ে ফুলে-ফেঁপে ওর গলাটা সম্পূর্ণ বুজিয়ে দিল। রণেনের মনে হল, ওর দম বন্ধ হয়ে যাবে। রণেন অস্বস্তিতে খাটে উঠে বসল।

    মিনুর পাশে সুমিতা রণেনের দিকে পেছন ফিরে শুয়ে আছে। লেপটা ওর ঢেউ খেলানো শরীরের ওপর গড়িয়ে গেছে। খোঁপাটা এলিয়ে আছে। কী বিশ্রী নাক ডাকছে সুমিতা। সুন্দরী মেয়েদেরও নাক ডাকে?

    এই সুমিতার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রণেনের চেনা—সমস্ত তিল, তিল-তিল করে জানা। ওদের মধ্যে গোপনীয় বলতে কিছুই নেই। ওরা এক—ওরা অঙ্গাঙ্গি।

    ফোঁত-ফোঁত-ঘোঁত-ঘোঁত করে সুমিতার নাক ডাকছে—নিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে সুমিতার সুডৌল বুক উঠছে নামছে।

    সায়ান্ধকারে সুমিতার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে ওর শ্রুতিকটু নাকডাকানি শুনতে শুনতে—প্রতিটি নি:শ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে রণেনের বুকের ভেতর থেকে একটা দূষিত শ্লেষ্মার মতো ঘৃণা পিছলে পিছলে উঠে আসতে লাগল।

    রণেনের খুব ইচ্ছা হল—এই প্রবাসী রাতের অন্ধকারে সুমিতার গলা টিপে ধরে—ওর বুকের ওপর চেপে বসে ওকে গলা টিপে মেরে ফেলে—কিংবা ওর ঘুম ভাঙিয়ে ওকে আদর করার অছিলায় ওর গলার খাঁজে হঠাৎ কনুই দিয়ে চাপ দেয়। সুমিতাকে ও যে কেন ভালোবাসবেই, ওর সঙ্গেই থাকবে ; তার কোনো যুক্তি খুঁজে পেল না রণেন—অনেক ভেবেও। ওকে ছেড়ে না-যাবার কোনো কারণ খুঁজে পেল না।

    রণেন একটা বালিশ নিজের কোলে টেনে নিয়ে সোজা হয়ে বসল! তার পর আবার বালিশটা সরিয়ে দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গিয়ে সুমিতার মুখের কাছে মুখ নিয়ে ভালো করে ওকে দেখল। সুমিতার সুন্দর মুখটাকে ঘৃণার মোম জ্বালিয়ে অনেকক্ষণ ধরে কাছ থেকে দেখল। তার পর মোমটা নিভে গেলে ও নিজেও মিইয়ে গেল।

    ফিরে এসে নিজের জায়গায় আবার পা-টান টান করে শুল। শুয়ে শুয়ে ভাবল ও একটা ইডিয়ট। ওর বাবা ইডিয়ট ওর ঠাকুরদা ইডিয়ট। যারা বিয়ে করে, করেছে, সবাই ইডিয়ট। স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সংসার এ সমস্ত বুজরুকি—বোকা লোকদের ঠকানোর জন্যে, সস্তা ফটাফট মেশিন।

    এই ভাবনা ভাবতে ভাবতে নিজেকে এবং নিজের বোকা পূর্বপুরুষদের গালাগালি দিতে দিতে বোধ হয় ঘুমিয়েই পড়েছিল রণেন, এমন সময়ে হঠাৎ ভয় পেয়ে মিনু চিৎকার করে উঠল।

    রণেন ধড়মড়িয়ে উঠে বসতে না বসতে মিনু অসহায় গলায় বলল, বাবা, তুমি কোথায় বাবা?

    সুমিতা গাঢ় ঘুমের মধ্যে অস্ফুটে কী একটা বলে পাশ ফিরে শুল।

    রণেনের বুকের মধ্যে কোথায়-না-জানি লুকিয়ে থাকা এক-শো অ্যালার্ম বেল একসঙ্গে ঝমঝমিয়ে বেজে উঠল।

    রণেন উঠে বসে বলল, কী হয়েছে? কী হয়েছে মিনু?

    মিনু ঘুম জড়ানো করুণ গলায় বলল, ভুঁড়োশেয়াল।

    ভুঁড়োশেয়াল? কোথায়?

    একটু আগেই আমার মুখের দিকে তাকিয়েছিল বাবা জানালা দিয়ে।

    রণেন ওর গায়ে হাত রেখে বলল, দুর বোকা। জানালা তো সব বন্ধ।

    মিনু তবুও বলল, না বাবা, এসেছিল।

    তার পরই উঠে বসে ওর দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, আমি তোমার কাছে শোব বাবা। আমি তোমার কাছে শোব।

    রণেন বলল, এসো এসো, বলে মিনুকে হাত বাড়িয়ে বুকে জড়িয়ে নিজের বালিশে, নিজের লেপে নিয়ে শুল।

    মিনুর ছোট্ট পাখির মতো নরম উষ্ণ শরীরটা কুঁকড়ে—পরমনিশ্চিন্তিতে তার বাবার গায়ের সঙ্গে লেপটে রইল। মিনুকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরল রণেন—এবং ঠিক সেই সময়ে, সেই সময়ে—মিনুর গলার কাছে মিনুর হাতের পাতায় রণেন ওর নিজের গায়ের গন্ধ পেল। একেবারে ওর নিজের গায়ের গন্ধ।

    মিনুকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে সেই আবছায়ায় হঠাৎ রণেন বুঝতে পারল যে, এই বিষাদ এবং আনন্দ, এই ঘৃণা এবং ভালোবাসা, এই জ্বালা এবং শান্তি—এই সব কিছুই ভাগাভাগি করে সুমিতার সঙ্গে ওকে একসঙ্গে বেঁচে থাকতে হবে।

    কাল অথবা পরশু অথবা বরাবর হয়তো আজকের মতোই লড়াই হবে, ভুল বোঝাবুঝি হবে। হয়তো হবেই। কিন্তু তবু পালাবার পথ ওদের দুজনেরই বন্ধ।

    কবে যেন এক গর্বিণী রজনিগন্ধা-রাতে আজকের এই বুকে-জড়ানো মিনু মেয়েকে ওরা ওদের প্রিয় শরীরের সুগন্ধ সমান ভাগে ভাগ করে সৃষ্টি করেছিল। সেই সুগন্ধি-সৃষ্টির মুহূর্তে ওরা একে অন্যের কাছে নি:শর্তে ও নিরুপায়ে চিরদিনের জন্যে বিক্রিত হয়ে গেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }