Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অ্যান্টিকুয়ারিয়ান

    ভারতীয় নানা আদিবাসীদের এথনো-বায়োলজির ওপরে তখন প্রফেসর দিলুগুনের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছিলাম। সেই সুবাদে কত পন্ডিতজনের সঙ্গে যে আলাপিত হবার সুযোগ ঘটেছিল, তা বলার নয়।

    অবশ্য এ বিষয়ে যাঁরা দিকপাল তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ মৃত। ইংরেজ, বেলজিয়ান, জার্মান, স্ক্যাণ্ডিনেভিয়ান সব মিশনারি সাহেবরা এই দেশের জঙ্গল-পাহাড়ের গভীরের গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন আদিবাসীদের অতিকাছ থেকে দেখে, তাদের ভাষা শিখে, তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক সমস্ত জগৎ সম্বন্ধে কতরকম আলোকপাতই যে করে গেছেন তা জানলে ও পড়লে ভারতীয় হিসেবে লজ্জিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

    অবশ্য শরৎচন্দ্র রায় এবং অধুনা ড. দিনেশ্বর প্রসাদ, ড. কে সুরেশ সিং, পি দাশ শর্মা, ড. রামদয়াল মুণ্ডা এবং আরও অনেকেই খুব ভালো কাজ করেছেন।

    অ্যানথ্রোপলজিকাল বা এথনো-বায়োলজিকাল কাজ করার পথে আমার প্রধান অসুবিধে দাঁড়িয়েছিল পূর্বসূরিদের বই ও বিভিন্ন রচনার হদিশ না-পাওয়া। কলকাতায় থাকলে, ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে গিয়ে হয়তো কিছু সুবিধে করা যেত। কিন্তু ভালুমারের জঙ্গলে থেকে ন্যাশানাল লাইব্রেরির স্বপ্ন দেখে লাভ ছিল না কোনো। তবুও চিঠি মারফত ন্যাশনাল লাইব্রেরির দুই লেখকবন্ধু অনেক সাহায্য করেছিলেন।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    ফাদার পি পনেট, ফাদার হফম্যানের দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত করে আমাকে নানা রেফারেন্সের এক লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই লিস্ট নিয়ে পাগলের মতো ঘোরাঘুরি করছি, এমন সময় একদিন অচিন্ত্যর সঙ্গে দেখা। রাঁচির অনন্তপুরের অচিন্ত্য গঙ্গোপাধ্যায়। অচিন্ত্য কাজ করত অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের বিহারের অফিসে। কিন্তু এরকম বহুমুখী উৎসাহসম্পন্ন সাংবাদিকসুলভ ঔৎসুক্য-জরজর ছেলে কমই দেখা যায়। বিহারের বিভিন্ন আদিবাসীদের সম্বন্ধে ওর অনেক পড়াশুনো ছিল। সবচেয়ে বড়ো কথা, ভালোবাসা ছিল। পড়াশুনোর চেয়েও ভালোবাসা অনেকই দামি। ড. মুণ্ডার সঙ্গেও ওর নাকি আলাপ ছিল। ড. মুণ্ডা সবে আমেরিকা থেকে ফিরেছিলেন। উনি এম এ করেছিলেন অ্যানথ্রোপলজিতে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এবং তারপর চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিঙ্গুইস্টিকস-এও ডক্টরেট করেছিলেন।

    অচিন্ত্য একদিন রাঁচির মেইন রোডে, এক চা-ফুলুরির দোকানে বসে চা খেতে-খেতে বলল, দিন-দুয়েকের জন্যে পাটনা যেতে পারেন দাদা?

    পাটনা? কেন?

    একজনের নাম ঠিকানা দিতে পারি। তাঁকে গিয়ে ধরতে যদি পারেন, তাহলে আপনার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

    একটু ভেবে বললাম, যাব। কিন্তু, সমস্যার সমাধান কী করে হবে?

    হবে। বলছি তো হবে। হালিম স্যার হচ্ছেন একজন পুরোনো বইয়ের রহিস দোকানদার। গজাধর মন্ডীতে তাঁর বাড়ি। বাড়িতেই দোকান শুনেছি। আদিবাসীদের ওপর এ হেন আধুনিক গবেষক নেই, যাঁকে ওঁর শরণাপন্ন হতে না হয়েছে।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    ২

    এক শনিবার রাঁচি থেকে ট্রেন ধরে পৌঁছোলাম গিয়ে পাটনা। একেবারে শীতের চুড়োয়। গঙ্গা থেকে হিম-করা বাতাস বইছে। বেজায় শীত। রোদ ঝকঝক আকাশ, তবু খদ্দরের জওহর কোটের ওপর খাদি গ্রামোদ্যোগের কম্বলের মতো আলোয়ান চাপিয়েও শীত যায় না।

    পাটনা স্টেশনের পাশেই অনেক তিলের রেউড়ির দোকান। হাঁক-ডাক, শোরগোল, দেহাত থেকে আসা মানুষদের জন্যে অনেকই প্রলোভন। স্টেশনের ওয়েটিং-রুমে চান-টান সেরে নিয়ে বাইরে এসে পুরী আর আলুর চোকা, আমলার আচার দিয়ে গরমাগরম খেয়ে তারপর আদা ও এলাচ দেওয়া একভাঁড় জবরদস্ত চা গলায় ঢেলে যথাসম্ভব গরম হয়ে সাইকেলরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম গজাধর মন্ডীর উদ্দেশে।

    গজাধর-মন্ডী এলাকাতে রিকশা ছেড়ে দিয়ে যখন পায়ে হেঁটে ঠিকানা এবং হালিম সাব-এর নাম সম্বল করে এদিক-ওদিক ঘোরা শুরু করলাম, তখনও জানতাম না যে, কপালে এত হয়রানি আছে। যাকেই বলি, হালিমসাব, বইয়ের দোকানদার? সেই-ই মাথা নেড়ে বলে, ‘পাত্তা জরুর গলদ হ্যায়।’

    যে-নম্বরে তাঁর থাকার কথা অনেক ঘুরে সেই নম্বরের একটা জরাজীর্ণ বাড়ির দেখাও পেলাম। জাহাঙ্গির অথবা বাহাদুর শা, কার আমলের বানানো বাড়ি যে, তা বোঝা গেল না। সে বাড়িতে যে, কোনো লোক থাকে বা থাকতে পারে তাও মনে হল না বাড়ির অবস্থা দেখে।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    বাইরে একটি মরচে-পড়া মান্ধাতার আমলের ডিজাইনের নোনা-ধরা লোহার গেট। সেই গেটের ভেতরে ঢুকে একটি দরজা দেখা গেল। তা দিয়ে কোনোক্রমে একজন মানুষই ঢুকতে পারে। দরজা অবধি গিয়ে, ভেতরে উঁকি মেরে দেখলাম, অন্ধকার। ঝকঝকে রোদ-ওঠা মাঘের সকালেও অন্ধকার। এবং মৃত্যুর নিস্তব্ধতা।

    ঝটপট আওয়াজ করে কতগুলো পায়রা অদৃশ্যভাবে উড়ে, চোখের আড়ালেই আবার বসে প্রমাণ করার চেষ্টা করল যে, আমি যা ভাবছি, তা নয়; প্রাণ আছে। সে বাড়িতেও প্রাণ আছে!

    কোই হ্যায়? হালিমসাব? হালিমসাব?

    বহু বার ডেকেও কোনো সাড়া পেলাম না। ওই দরজা দিয়ে ঢুকতেও সাহস হল না। যদি কেউ খুনও করে রেখে দেয়; কিছুই বলার নেই। কেউ জানতেও পারবে না। গতসপ্তাহেই সবে নতুন এইচএমটি হাতঘড়িটি কিনেছি।

    কী করব, ভেবে না পেয়ে, আবার বাইরেই ফিরে এলাম। ওই বাড়িটির লাগোয়া দু-পাশের এবং উলটোদিকের দোকানে খোঁজ করলাম। না:। কেউ কখনো শোনেইনি অমন ভূতুড়ে বইয়ের-দোকানের কথা।

    অচিন্ত্যর তো কোনো ক্ষতি করিনি আমি? জেনেশুনে এমন প্র্যাকটিক্যাল জোক করল কেন ও আমার সঙ্গে?

    একটি অল্পবয়েসি ছেলে আমার হাতের চিরকুটের ঠিকানা পড়ে নিয়ে, পিচিক করে পানের পিক ফেলে হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞেস করল, আপ কাঁহাকা রহনেওয়ালা?

    রাঁচিকা!

    রাঁচি মতলব? কাঁকে রোডকা?

    বলেই, মিচকে হেসে বলল, হুমম। মেরি আন্দাজ তব তো বিলকুল ঠিকই নিকলা।

    এমন সময়, নোংরা ধুতি ও পাঞ্জাবি-পরা একজন বৃদ্ধ, হাতে লাঠি, মুখে লেগে-থাকা আশ্চর্য বিধুর এক হাসি নিয়ে পথ চলতে চলতে, ছেলেটির কথা শুনেই দাঁড়িয়ে পড়ে ছেলেটিকে শ্লেষমিশ্রিত গলায় বললেন: তুমলোগোঁনে পটনামে রহকে স্রিফ শত্রুঘন সিনহাকা খিদমদগারি জানতে হো। হালিমসাব ইস জমানেকে তমদদ্দুনকে লায়েক নেহি না হ্যায়!

    ছেলেটি জিভের সমস্ত জোর জড়ো করে পিচিক করে বৃদ্ধর প্রায় মুখের ওপরই পিক ফেলল আরেকবার। ফেলে বলল, আজ সুব্বে সুব্বেই দুনিয়াকা সব মানহুস ইনসানোসে ভেট হো গ্যয়া। ইয়ে দিনকা নতীজা বহতই খরাব নিকলেগা হামারা লিয়ে।

    বৃদ্ধ যুবকটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলেন, যেমন করে একমাত্র গর্বিত, বিজ্ঞ, বৃদ্ধরাই করতে পারেন। সামান্য ফিরে, একটু ঝুঁকে, লোহা-বসানো ছুঁচোলো লাঠিটি তুলে যে-দরজা দিয়ে আমি একটু আগেই বেরিয়ে এলাম, সেদিকেই নির্দেশ করে চোখ দিয়ে ইশারা করলেন আমায়।

    ওঁকে বলতে যাচ্ছিলাম…

    আমাকে থামিয়ে দিয়েই উনি বললেন, জারা আন্ধারি পার হোকে দেখিয়ে না জনাব, সামনামে বড়া উজালা হ্যায়! আপ ক্যা শোচেথে যো, হালিমসাব গজাধর-মন্ডীকা শড়ক-পর বৈঠকে ফিলম গানাকা কিতাঁবো…

    আমি লজ্জিত হয়ে, ওঁকে ধন্যবাদ দিয়ে আবার সাহস করে সেই সুড়ঙ্গের মতো দরজার মুখে গিয়ে দাঁড়ালাম।

    সঙ্গে সঙ্গে রোদ মরে গেল। আবার শোনা গেল চোখের আড়ালে পায়রার ডানার ঝটপটানি। মনে হল, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমানকে অনেকদিন আগেই কে বা কারা এখানে অন্ধকারে গলা-টিপে খুন করে রেখে গেছে, অতীতের রাজত্বকে চিরদিন কায়েম করে রাখার জন্যে।

    এক সময় বাঘের গুহাতেও সাহস করে ঢুকেছি, তাই অপ্রয়োজনের ফেলে-দেওয়া পুরোনো সাহসকে মনের, ওয়েস্ট-পেপার বক্স থেকে তুলে নিয়ে আর একটু এগোলাম। এবার অন্ধকার সুড়ঙ্গ পেরুনোর পর স্পষ্ট চোখে পড়ল একটি মস্ত উঠোন। চারকোনা। একতলাতে প্রাচীন কারুকার্যময় রেলিং-দেওয়া চারকোনা বারান্দা। চারদিকে ঘোরানো। দোতলাতেও তাই। উঠোনের একপাশে শীতের জাফরান-রঙা রোদ এসে নিস্তেজ পোষা-কুকুরের মতো শুয়ে আছে।

    কী ধুলো!

    কতদিনের ধুলো চারদিকে।

    ধুলোগুলো কোথাও কোথাও জড়ো করে স্তূপাকার করা আছে। মনে হচ্ছিল, ধুলো নয়; কালো বারুদ। দেশলাই ঠুকে দিলেই, জ্বলে উঠবে দপ করে। পায়রাদের ডানার ঝটপট আর তাদের অস্ফুট স্বগতোক্তি ছাড়া আর কোনোই শব্দ নেই। ধুলোর বারুদও নিস্তব্ধ।

    আবারও ওপরে তাকিয়েই চোখে পড়ল একটি বহুমূল্য কিন্তু শতচ্ছিন্ন পারসিয়ান গালিচা দোতলার রেলিঙের ওপর মেলে দেওয়া হয়েছে। রোদ এসে তাতে বসবে; সেই আশায়।

    গলা চড়িয়ে, হালিমসাব! বলে ডাকতে যাব, ঠিক এমন সময় সারেঙ্গির মিষ্টি আওয়াজ ভেসে এল দোতলা থেকে। হরিণের খুরের আওয়াজের মতো ছন্দবদ্ধ তবলার আওয়াজও যেন শুনলাম মনে হল। এক তরুণীর গলার স্বর। স্বর শুনেই, কেন জানি না, মনে হল, কন্ঠস্বরের মালকিন খুবই সুন্দরী। সারেঙ্গির সুরের সঙ্গে স্বর মিলিয়ে প্রথম ভোরের পরিযায়ী পাখির চিকন ডাকের মতো নিষ্কলুষ, নিক্কণিত সুরেলা গলায় কে যেন হঠাৎ ধরল: ‘তুয়া চরণকমলপর মন ভ্রমর ভালভান যাঁউ চন্দ্র চকোর।’

    আঃ! সব কিছু গোলমাল হয়ে গেল আমার সেই মুখরা শুনে। মনে পড়ে গেল, যশোয়ন্ত-এর সঙ্গে একবার গাড়োয়ান জঙ্গলের শিকারের ক্যাম্পে আজ থেকে তিরিশ বছর আগে এক মির্জাপুরি বাইজি, রুকনি বাইয়ের মুখে শুনেছিলাম এই বিখ্যাত গানটি।

    গান শুনতে শুনতে আমি কেন যে পাটনাতে এসেছি আজ সকালে, কেন যে গজাধর মন্ডীর এই আশ্চর্য প্রাগৈতিহাসিক আলো-আঁধারের উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছি; সবই ভুলে গেলাম। যাকে আত্মবিস্মরণ বলে, পুরোপুরিই তাই হল আমার।

    আশাবরির এই পদটি ধ্রপদের মতোই গাইতে শুনেছিলাম গাড়োয়াতে সেই বাইজিকে। মন্ত্রমুগ্ধর মতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেই বুঝলাম, ধ্রপদ নয়; গায়িকা খেয়ালের ঢং-এই গাইছেন। অজানিতে, নিয়ম ভেঙে, অথবা ভুল করে কি, জানি না।

    গায়িকা ধীরে ধীরে নিজেকে ফুলের মতো ফুটিয়ে তুলছিলেন! আর ঢং-এর সামান্য এদিক-ওদিক হয়ে যাওয়াতে ভৈরবী এবং জৌনপুরিও ছোঁয়া লাগছিল এসে। ব্যাকরণ হয়তো তাতে অশুদ্ধ হচ্ছিল। কিন্তু হলই বা!

    পুরোনো বইয়ের খোঁজে এসে আজ সকালে যে অসামান্য অতীতের অন্ধকার পর্দা ফুঁড়ে সত্যিই এক অনন্তকালের আলোর মধ্যে অভাবনীয়ভাবে এসে পড়লাম, সেকথা মনে করেও আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    ওই সুর-সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক অথবা প্রাগৈতিহাসিক পরিবেশে ডাকাডাকি চেঁচামেচি একেবারেই করা সম্ভব ছিল না।

    কতক্ষণ যে ওইভাবেই দাঁড়িয়েছিলাম বলতে পারব না। পনেরো মিনিটও হতে পারে, তিন ঘণ্টাও হতে পারে। নিস্তেজ কুকুরের মতো উঠোনের কোনায় কোনাকুনি শুয়ে থাকা-রোদ এক সময় কখন যে নি:শব্দে উঠে চলে গেল তা খেয়াল পর্যন্ত করিনি। দোতলার বারান্দা থেকে তখনও রাশি রাশি নরম জুঁই ফুলের মতো, পাখির তলপেটের মসৃণ রেশমি পালকের মতো সুর ঝরছিল।

    ঝরছে তো ঝরছেই। ভৈরবী ও জৌনপুরি মিশিয়ে দেওয়া আশাবরির তান শুনতে শুনতে আমি যেন সেই বহু যুগ আগের গাড়োয়ার জঙ্গলের সকালেই চলে গেছিলাম। যশোয়ন্ত যেন আমাকে ঠেলা মেরে বলছিল, ক্যা লালসাব? হালত খারাব?

    হঠাৎই স্বপ্নভঙ্গ হল। কে যেন আমাকে প্রায় পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েই পাশে এসে দাঁড়াল। অসভ্যর মতো।

    বলল, কওন হ্যায় আপ?

    চমক ভেঙে ও সবিনয়ে আমার তারিফ পেশ করে দিয়ে বললাম যে, আমি হালিম সাব-এর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। রাঁচি থেকে আসছি।

    ছেলেটি অল্পবয়েসি। তার পরনে ঘন লাল রঙের জিনস। গায়ে লাল এবং কালো রঙের চেক-চেক নাইলনের গেঞ্জি। পায়ে, সোনার জলের কাজ-করা চটি। শরীরে, সস্তা পাউডারের অশালীন গন্ধ। আমার দিকে এবং দোতলার দিকে একইসঙ্গে চেয়ে সে অদ্ভুত এক উপেক্ষা ও ঘেন্নামেশা হাসি হাসল।

    তার পর বিদ্রূপাত্মক গলায় বলল, আপনি দাঁড়ান। আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি বুড়োকে। সকাল সকালই আজ গান চেগেছে। ম্যয়ফিল বসে গেছে। যেমন দোকান, তেমন দোকানদার, আর…তেমনই সব খদ্দের!

    বলেই, আমার দিকে একবার অপাঙ্গে চেয়েই জাফরি-লাগানো সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত উঠে গেল সে ওপরে।

    কিন্তু ছেলেটি ওপরে যাওয়ার আগেই দোতলার বারান্দাতে এক বৃদ্ধ এসে দাঁড়ালেন। চেহারা দেখে, বয়েস আন্দাজ করা যায় না। পোশাকেও না। তবে মনে হল যে, আমরা যখন ছোটো ছিলাম, তখনও হয়তো উনি বৃদ্ধই ছিলেন।

    উনি আমার দিকে চেয়ে, নিজের ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে চুপ করে থাকতে বললেন।

    গান যেমন চলছিল; তেমনই চলছিল। বোধ হয় অমন কোমল স্বরের ছড়াছড়ির মধ্যে হঠাৎ বেসুরো ছেলেটির কর্কশ উচ্চকিত স্বরে বিরক্ত হয়েই উনি বারান্দাতে উঠে এসেছিলেন।

    ছেলেটি নিশ্চয়ই ওঁকে বলে থাকবে, আমি কেন এবং কোথা থেকে আসছি। একটু পরই হালিম সাব নেমে এসে, উঠোনের অন্য কোণে আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকলেন। কালো ধুলোর পাহাড়, উপত্যকা, সব সাবধানে পেরিয়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছোতেই ধুলোর বাঁধ-দেওয়া একটি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে লম্বা পেতলের চাবি বের করে অদ্ভুত দর্শন একটা তালা খুললেন। কী কাঠের দরজা, তা বোঝা গেল না। কিন্তু এমন কারুকার্যময় দরজা কখনো কোনো রাজারাজড়ার বাড়িতেও দেখেছি বলে মনে পড়ল না। যদিও সব কারুকাজই তখন ধুলোয় ঢাকা।

    আগে নিজে ঢুকে, আমাকে বললেন, আইয়ে অন্দর। পাধারিয়ে।

    চমকে উঠলাম আমি। আশ্চর্য তারুণ্য গলার স্বরে। কে বলবে যে, ইনি বৃদ্ধ!

    ঘরটাতে ঢুকতে আমার ভয় করছিল। ছোট্ট ঘর। চারদিকে বইয়ের পাহাড়। পাহাড় না বলে, উইয়ের ঢিপিই বলা ভালো। কারণ, কোটি কোটি উইপোকার বাস সেখানে এবং কয়েক টন কালো ধুলো।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    একটি চেয়ারে উনি নিজে বসে, আমাকে অন্য একটি চেয়ারে বসতে দিলেন। চেয়ারের চেহারা দেখেও মনে হল কলকাতার লেজারার্স কোম্পানির প্রথম আমলের চেয়ার।

    হালিমসাহেবের পরনে মলিন চুড়িদার পাজামা। ওপরে কুর্তা। তার ওপরে জমকালো, কিন্তু ছেঁড়া একখানা শাল। শালটির ওজন হয়তো নতুন অবস্থায় শ-গ্রাম ছিল। এমন কারুকার্যময় পাতলা শালও আমি আগে দেখিনি। হালিম সাব-এর গা দিয়ে হালকা অম্বর আতরের গন্ধ বেরুচ্ছিল। এবং মুখ দিয়ে, অচেনা কোনো মদ-এর।

    একটি কারুকাজ-করা জানালা খুলে দিলেন তিনি। কোথা থেকে যে আলো আসতে লাগল, বুঝলাম না। রোদ নয়; শুধু একটু আলো। সেই স্বপ্নালোকিত ঘরে বসে বহু যুগ আগে ক্ষরিত জমাটবাঁধা রক্তের মতো লাল আর সরষেফুলের মতো হলুদ রঙে-মেশা শাল গায়ে-দেওয়া চেস্ট-নাট রঙের বৃদ্ধর দিকে আমি অবাকচোখে চেয়েছিলাম।

    আমি ওঁকে দেখছিলাম। উনিও আমাকে।

    উনি যে-চেয়ারে বসে আছেন তার সামনে একটি রাইটিং-ব্যুরো। তাতে অসংখ্য পিজন-হোলস। তারমধ্যে হাজার হাজার চিঠি। চিঠিগুলোও ধুলোর বারুদে ঢাকা। একটি ওষুধের শিশি। হাকিমি-দাওয়াখানার রতিশক্তি-বর্ধক বটিকা। আরও নানা দাওয়াই। গ্লাসের মধ্যে ল্যাজ গজানো একমুঠো ছোলা—জলের ভেতর। রাইটিংব্যুরোর ওপরেই একটি সুইস টেবল-ক্লক। বন্ধ। তাতে বারোটা বাজতে একমিনিট দেখাচ্ছে সময়। অনেকক্ষণ পর সময়ের কথা মনে পড়াতে নিজের ঘড়ির দিকে দেখলাম, এগারোটা বেজেছে।

    রাইটিং-ব্যুরোর ওপরের দেওয়ালে একটি ক্যালেণ্ডার। সেই ক্যালেণ্ডারে একজন খাইখাই চেহারার ইংরেজ মেয়ে ফরাসীয় ক্যান-ক্যান ডান্সারের মতো ফোলানো গাউন পরে, ছাতা মাথায় গাছতলায় দাঁড়িয়ে আছে ছবি হয়ে। ডিসেম্বর মাসের পাতা ঝুলছে। উনিশ-শো উনত্রিশ সালের। সে-বছরের চব্বিশে ডিসেম্বর তারিখের নীচে কালি দিয়ে কী যেন কী লেখাও আছে।

    উৎসুক হয়ে দাঁড়িয়ে উঠে, পড়তে গেলাম আমি।

    হালিমসাব হাসলেন। বললেন, লেখা মুছে যায়; শুধু ব্যথা আর স্মৃতি থাকে।

    ইংরেজিতে যখনই কথা বলছিলেন, তখনই একেবারে অক্সোনিয়ান অ্যাকসেন্টে। এখনকার দিশি সাহেবদের মতো নয়। যাঁরা প্রথম দেড় মিনিট অক্সোনিয়ান অ্যাকসেন্টে কথা বলার পরই হয় হরিয়ানা, নয় তামিলনাড়ু, নয়তো রাজস্থানি, নয়তো নিউ মার্কেটের সিন্ধি দোকানদারদের অ্যাকসেন্টে ফিরে যান।

    ইংরেজ মেয়েটির জন্যে ভারি কষ্ট হল। নাইনটিন টোয়েন্টি নাইনের ডিসেম্বর মাস থেকে প্রেমিক আসবে বলে সে সটান দাঁড়িয়ে আছে এই ছবিতে। প্যারাসোল খুলে, ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে।

    এবার কাজের কথায় এলেন হালিমসাব। বললেন, আপনার ইন্টারেস্ট কী? হো, মুণ্ডা, সাঁওতাল, বীরহোর, চেরো, খড়িয়া, খাঁরওয়ার, খন্দ, অসুর, কোন আদিবাসীদের সম্বন্ধে? এবং কী নিয়ে কাজ করছেন আপনি? অ্যানথ্রোপলজি, এথনোলজি, সোশিয়ো-ইকনমিক ডেভলাপমেন্ট, স্পিরিচ্যুয়ালিটি, রিলিজন, ফোক-লোরস, উ্যন্সেজেস অ্যাণ্ড কাস্টমস? সংগস অ্যাণ্ড পোয়েমস? কী নিয়ে?

    আমি ওঁকে বললাম, যা বলার; সংক্ষেপে।

    আপনি বাঙালি? তা, শরৎ রায়ের নাম শোনেননি? শরৎবাবু নিজে উকিল ছিলেন, আদিবাসীদের হয়ে মামলা লড়তে লড়তে কখন যে তাদের ভালোবেসে ফেলেছিলেন, তা তিনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেননি। ওই উকিল ভদ্রলোক যা করে গেছেন অনেক ডিগ্রিধারী অ্যানথ্রোপলজিস্টও তা করেননি। শরৎ রায় আপনার রাঁচিতেই মারা গেলেন। এই তো সেদিন।

    সেদিন? কই? কাগজে কিছু পড়িনি তো? আমি তো জানি উনি—

    তিরিশে এপ্রিল। তারিখটাও মনে আছে আমার।

    আর বছরটা?

    হ্যাঁ। মনে থাকবে না? মাত্র সেদিনের তো কথা! নাইনটিন ফরটি টু!

    তার পর বললেন, কী কী বই দরকার? তার লিস্ট করে এনেছেন?

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    আপনি কী কী সাজেস্ট করেন? কী কী পাব এখানে তা না জানলে! জানব কী করে।

    মুণ্ডাদের সম্বন্ধে জানতে চান তো ভালো করে হফম্যানকে পড়ুন।

    হালিমসাহেব বললেন।

    কুড়ি বছরের জার্মান ছোকরা আঠারো-শো সাতাত্তর সনে এদেশে এসে নেমেছিল। উনিশ-শো পনেরোতে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড-ওয়ারের সময়ে তাকে ইংরেজরা ফেরত পাঠাল জার্মানিতে। ফাদার হফম্যানকে। কিন্তু জার্মান জাতটার মতোই ইংরেজ জাতটারও অনেকই গুণ ছিল। অনেকই গুণ!

    বলেই বললেন, এশিয়াটিক সোসাইটি অফ লানডানের জার্নালের ব্যাক কপি চাই? নাইনটিন টোয়েন্টি ফাইভ থেকে? রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের সব ব্যাক নাম্বারও আছে। এই ধরুন, পি ও বডিং-এর ‘হাউ দ্য সান্টালস লিভ’, ভলিউম টেন, নাম্বার থ্রি। আজকালকার ছোকরা বলতে, মানে, যারা মুণ্ডাদের নিয়ে ভালো কাজ করেছে—যেমন পনেট, ফাকস, ভ্যান অ্যাক্সাম; জে ডিনি। এরা ছাড়াও অনেক দিশি ছোকরাও নিশ্চয়ই আছে।

    চারধারের স্তূপীকৃত উইয়ে-কাটা, ধুলোভরা বইয়ের দিকে তাকিয়ে হাঁ করে বসেছিলাম আমি।

    একটা মোটা বই দেখিয়ে বললাম, ওটা কী বই? ইশ। উইয়ে তো একেবারে—

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    উনি হাসলেন। বললেন, উইয়ে তো শুধু বই-ই কাটে! আর আমরা? আমরা যে সবকিছুই কাটি? সততা, স্মৃতি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি যা কিছু ভালো; সবই কাটি!

    বলেই বললেন, এই নিন! লুথারসাহেবের আঠারো-শো সাতাশ সনে চায়নাতে বাঘ শিকারের অ্যাডভেঞ্চার। শিকারে ইন্টারেস্টেড লোকেরা এ বইয়ের দাম দেবেন হাজার টাকা!

    আমি বললাম, আমার কাছে দু-শো টাকা আছে। এতে কী কী বই হবে?

    উনি হাসলেন।

    তবে, অবজ্ঞা করে নয়।

    বললেন, ওই টাকায় তো কোনো বই-ই হবে না জনাব। তবে, এক কাজ করতে পারেন। বিবলোগ্রাফি নিয়ে যান। পরে আমাকে লিখলে আমি ভি পি-তে পাঠিয়ে দেব এক এক করে।

    তার পর প্রবোধ দিয়ে বললেন, এসব বইয়ের তো দাম হয় না। মানে, দামে দাম হয় না। তা ছাড়া, আমার দোকানে মাসে হয়তো একজন খদ্দের আসেন। এ তো দোকান নয়। নিভৃত কবরখানা।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    বিবলোগ্রাফই নিলাম একটি। চটি বই। রং হলুদ হয়ে গেছে। অর্ধেক উইয়ে কাটা।

    উনি বললেন, পোকার জন্যে চিন্তা নেই। কেরোসিন তেলের মধ্যে ন্যাপথলিনের বড়ি ফেলে ডিসলভ করে নিয়ে ন্যাকড়াতে তা ভিজিয়ে সেই ন্যাকড়া দিয়ে মুছে নেবেন বইয়ের পাতাগুলো। সব উই মরে যাবে।

    এবার উঠতে হবে। কী বলব ভেবে না পেয়ে, হঠাৎ বললাম, ভারি ভালো গান।

    হালিমসাহেব চমকে উঠলেন। বললেন, গান? এ গান আপনার ভালো লাগে?

    জবাব না দিয়ে বললাম, কে গাইছিলেন?

    আমার পাঁচ-নম্বরি বিবি।

    আর যে ছেলেটি আমার আসার খবর নিয়ে ঢুকল, সে কে?

    ছেলে? ওহো! আমারই ছেলে। তিন নম্বর বিবির চার নম্বর ছেলে।

    কী করেন উনি? নিশ্চয়ই আপনার এই ব্যাবসা দেখেন না?

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    উনি? করেন অনেক কিছুই। সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করেন। নেপাল থেকে স্মাগলিং করে জিনিস আনেন। প্রয়োজনে, চাকু-বোমা চালান।

    গানও ভালোবাসেন না মনে হল।

    ওদের কি ধৈর্য আছে? ধৈর্যই ভালোবাসাকে গভীর করে। যে-কোনো ভালোবাসা। এসব গান ওদের জন্যে নয়।

    কথা ঘুরিয়ে বললাম, হালিমসাহেব, আপনার বয়েস কত হল?

    বলেই বললাম; কিছু মনে করবেন না।

    আমার বয়েস?

    বলে, হালিমসাহেব, যে জানালা দিয়ে আলোর আভাস আসছিল সেই দিকে অনেকক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে চেয়ে থাকলেন। অনেকদিন বোধ হয় এমন প্রশ্ন ওঁকে কেউ করেনি।

    তার পর, আমার দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, আমার মনের বয়েস কুড়ি। শরীরের বয়েসের হিসেব রাখি না। গাছ কি ঝরাপাতার হিসেব রাখে? তবে, নব্বই, এক-শো তো হবেই।

    আপনার কি কোনো মন্ত্র-গুপ্তি জানা আছে হালিমসাহেব? এই বয়েসেও আশ্চর্য তরুণ আপনি!

    আছে আছে!

    বলে হেসে উঠলেন হালিমসাহেব।

    তার পর বললেন, জওয়ান লেড়কিঁয়া। যারা আপনার চেয়ে কম করে কুড়ি বছরের ছোটো এমন যুবতীদের নজদিঁকিয়া। সৎসঙ্গ। এবং সৎসুরা। এই তিন মন্ত্র আমার। আনন্দে থাকাটাই মন্ত্র। আনন্দের দ্বার খুলে রাখার আর এক নামই বেঁচে থাকা। আনন্দের দ্বার যেই রুদ্ধ করবেন, মৃত্যু তখুনি সেই বন্ধ দরজায় এসে টোকা মারবে।

    আমি উঠে দাঁড়ালাম।

    বললাম, চলি এবার।

    হালিমসাহেবও উঠলেন। বললেন, খুদা হাফিজ, হরওয়াক্ত মজেমে রহিয়ে। ইস বেহেতরিন দুনিয়ামে হরওয়াক্ত খুশি ঔর ইনায়েত কি খুশবু ডালতে রহিয়ে ঔর উসসিমে ডুবকে রহিয়ে।

    হালিমসাহেব একটা কার্ড দিলেন আমাকে। বললেন, প্রয়োজনে চিঠি লিখবেন। আসতে হবে না। হয় উর্দু, নয় ইংরেজিতে। আপনাদের হিন্দি-ফিন্দি আমি জানি না। শুনেছি, হিন্দি হিন্দুস্থানের রাষ্ট্র ভাষা হয়েছে!

    কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখলাম, সেটাও ঘি-রঙা হয়ে গেছে।

    নাইনটিন ফর্টি-ফাইভে শেষ ছেপেছিলাম পাঁচ-শো কার্ড। এখনও তিন-শো রয়ে গেছে।

    পড়ে দেখলাম, লেখা আছে, জনাব মহম্মদ হালিম বাহাদুর। অ্যান্টিকুয়ারিয়ান বুক সেলার। গজাধর মন্ডী। পাটনা।

    কালো বারুদের মতো ধুলোর প্রাচীর তুলে তার ভেতরে বসে আছেন জনাব মহম্মদ হালিম খাঁ বাহাদুর। শান্তির নিভৃত ছোট্ট দ্বীপ গড়ে; এই অশান্ত সময়ের সমুদ্রে। নিজের নাতনির চেয়েও বয়েসে ছোটো কোনো গন্ধরাজিলেবু-নারীর শরীরে, সুরায় এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতে বুঁদ হয়ে। ইতিহাসকে কৌটো-বন্দি করে রেখে দিয়েছেন। প্রেমিকার অপেক্ষায় ক্যান-ক্যান গাউন-পরে দাঁড়িয়ে থাকা নাইনটিন টোয়েন্টি-নাইনের ক্যালেণ্ডারের ছবির মেমসাহেবের মতো, বারোটা বাজতে একমিনিটে বন্ধ করে-রাখা ঘড়ির মতো; মৃত্যুকে, জরাকে দূরে সরিয়ে তাঁর সমকালীন সমস্ত কিছু সুন্দর মোহময়তাকে কৌটো-বন্দি করেই রেখে দিয়েছেন ওই অন্ধকারের ধুলোর বারুদ-কালো আব্রুর মধ্যে। ‘ওয়াক্ত কা সাঁপ কি নিগাহ’ এড়াবার জন্যে, ওয়াক্তকেই থামিয়ে রেখেছেন উনি।

    বাইরে বেরিয়ে, লোক-গিস-গিস, আওয়াজ-ঘর্ঘর নব্য পাটনার পথে পা দিয়েই, আলোতে চোখ ধেঁধে গেল। অনেক আলো। কিন্তু এ আলো অন্যরকম আলো।

    পথিক বৃদ্ধ তীক্ষ্ণ লাঠি তুলে পথ নির্দেশ করে আমাকে ঠিকই বলেছিলেন

    ‘জারা আন্ধার পার হোকে দেখিয়ে না জনাব, বড়া উজালা হ্যায়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }