Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সীমান্তবাসী

    চাঢ্ঢাসাহেব বহুদিন হলই বলছেন, একবার তাঁর কারখানায় বেড়িয়ে আসতে। দিল খুশ হয়ে যাবে।

    কোনো কারখানায়ই কেউ বেড়াতে যায় না। কিন্তু এ-কারখানার বিশেষত্ব আছে। গভীর জঙ্গলের মধ্যে আদিবাসী এলাকাতে ‘শেল্যাক’-এর কারখানা। বন-বনান্তর থেকে আদিবাসীরা পলাশ ফুল আর কুসুম গাছ থেকে কেটে নিয়ে আসে স্টিক-ল্যাক। তা থেকেই এই কারখানাতে তৈরি হয় সিড-ল্যাক। আর শেল্যাক। চাঢ্ঢাসাহেব বহুবারই বলেছেন, খুবই শান্তির জায়গা, একবার ঘুরে আসুন সেনসাহেব।

    টিনার পার্ট-ওয়ান পরীক্ষা শেষ হল এই সেদিন। দুর্যোগের মধ্যে কোনোরকমে দিল পরীক্ষা। এবারে ব্যাপার যে কী তা বোঝা যাচ্ছে না। শ্রাবণের প্রথমে আকাশের দিকে চেয়ে যখনই দেখছি বৃষ্টি আসছে না এবং আকাশ নির্মেঘ, মনে হচ্ছে আশ্বিনই এসে গেছে বুঝি। কী বৃষ্টি কী বৃষ্টি।

    টিনার পরীক্ষা হতেই রিনা আর টিনা বম্বে চলে গেছে। সেনসাহেবের বড়ো সম্বন্ধী বম্বেতে আছেন। মার্কেনটাইল ফার্মের নাম্বার ওয়ান। বিরাট ফ্ল্যাট, নেপিয়ান সি রোডে। সাদা-রঙা এয়ার-কণ্ডিশানড-ভলভো গাড়ি। পার্টি, নাচ, গান; নেমন্তন্ন। বম্বে যেতে পারলে রিনা এবং মেয়ে টিনা আর কিছুই চায় না। অতএব, তাদের ‘গীতাঞ্জলি’তে তুলে দিয়েছেন সেনসাহেব।

    ভেবেছিলেন, ফাঁকা বাড়িতে স্ত্রী-বর্জিত কষ্টলব্ধ স্বাধীনতা সেলিব্রেট করবেন, পুরোনো বন্ধু-বান্ধবদের ডেকে বাড়িতে হই হই করে। রিনা বাড়িতে ড্রিঙ্ক-টিঙ্ক করা একেবারেই পছন্দ করে না। এই-ই সুযোগ। যত মোদো-মাতাল কিন্তু তালে-ঠিক বন্ধু-বান্ধব আছে, তাদের এই বেলা একটা গুড-ট্রিট দেবেন ভাবলেন। ইতিমধ্যেই একটা শুক্রবার বনধ-এর কারণে উটকো ছুটিও পাওয়া গেল। কলকাতায় আবার বনধ কী? প্রতিদিনই তো কিছু না কিছু বন্ধ থাকে। মিটিমিটি আধবোজা এখানে জীবনযাত্রা। কাজ ছাড়া এখানে আর সব কিছুই হয়।

     

     

    বনধটি ঘোষিত হবার পরই হঠাৎ মনে হল চাঢ্ঢাসাহেবের কথা। সেনসাহেব ফোন করলেন একটা।

    নো প্রবলেম। আই অ্যাম অনার্ড স্যার। কতদিন থেকে বলছি একবার যাবার কথা।

    হ্যাঁ, কোন ট্রেনের টিকিট কাটব? ট্রেন কখন?

    আপনার কিছুই ভাবতে হবে না স্যার। টিকিট আমি পৌঁছে দেব। মেমসাহেবের আর মেয়ের নামটা বলুন। আর বয়েস। আজকাল তো আবার বয়েস লাগে রিজার্ভেশন করতে।

    ওরা কেউই যাবেন না। ইনফ্যাক্ট কেউই নেই এখানে। সবাই বম্বেতে। আমি একাই যাব।

    একা? ওই জঙ্গুলে জায়গাতে বোর হয়ে যাবেন স্যার।

    আমার একা থাকতেই ভালো লাগে।

    আমি কি যাব আপনার সঙ্গে স্যার? টু কিপ ইউ কোম্পানি? তাস খেলব, বিয়ার খাব। যদিও আমার এ সপ্তাহে একটু চায়না, মানে বেজিং-এ যাবার কথা ছিল।

     

     

    সেনসাহেব মনে মনে বললেন, সর্বনাশ হয়েছে। চাঢ্ঢা সঙ্গে গেলে তো হয়েই গেল। এই লোকটি শুধু টাকাই বোঝে। টাকা, সাফল্য, চিৎকার, শোরগোল। ওর জীবনে কোনো একটিও মুহূর্ত নেই, যা শূন্য। মানে, এমন একটিও মুহূর্তও নেই যা কোনো পূর্ণতার প্রত্যাশাতেই শূন্য থাকে অন্তত কিছুক্ষণ। পৃথিবীর সব পাওয়াই তার পাওয়া হয়ে গেছে। জীবনের সব চাওয়া তার হিপ-পকেটে রাখা ফোলা কোলাব্যাঙের মতো মোটা পার্স-এর মধ্যে বন্দি আছে। পার্সটা শুধু খুললেই হল।

    কী হল? যাব নাকি? আমি? স্যার?

    চাঢ্ঢা আবার বলল, তার হাসকি, সেক্সি গলায়, ফোনে।

    না, না।

    সেনসাহেব বললেন, আমি একটু একাই থাকতে চাই।

    ও কে ফাইন। পরশু পৌনে ন-টায় তৈরি হয়ে থাকবেন রাতে, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দেব। আপনাকে তুলে নিয়ে আমার একজন লোক গাড়িতে তুলে দিয়ে আসবে।

     

     

    কেন? আমি কি শিশু নাকি? না ইনভ্যালিড?

    না স্যার; আপনি ভি আই পি। আপনারা শিশুর চেয়েও বেশি যত্ন পেয়ে থাকেন তো। আমারই বা নম্বর কাটা যায় কেন? আমার নিজেরই স্বার্থেই সবসময় আপনার দেখভাল করি আমি। পৃথিবীতে স্বার্থ ছাড়া একটা মাছিও ওড়ে না স্যার।

    ফোনটা ছেড়ে দিয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকালেন সেনসাহেব। সিএমডি-এর কাজ হচ্ছে মোড়ে। মাত্র দুজন কুলি গাঁইতি হাতে কাজ করছে। একটু কাজ করেই বসে বিড়ি খাচ্ছে। ততোধিক কুঁড়ে একজন সুপারভাইজার মাঝে মাঝে এসে তাদের কাজের তদারকি করে যাচ্ছে। ওই মোড়টুকুতে রাস্তার সারফেস-এর কাজ শেষ হয়নি বলে প্রতিমুহূর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং হাজার হাজার যানবাহনের কী অশেষ দুর্গতি! কলকাতায় বাস করেন এবং নিজে বাঙালি বলেই বড়ো লজ্জাবোধ করেন আজকাল সেনসাহেব। এই রাজ্য কীভাবে চলছে তা জানতে সরকারি বিজ্ঞাপন বা বিরোধীদের প্রতিবাদ পড়ার দরকার হয় না সেনসাহেবের। চোখ খুলে চাইলেই তা বোঝা যায়। এই অবস্থা সত্ত্বেও নির্লজ্জ নেতাদের কদর্য আস্ফালনে বমি পেয়ে যায়। সবাই কি ঘুমোয় কলকাতায়?

    তাঁর বন্ধু শ্যামল তাঁকে বলছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা শহরটুকু নিয়েই নয়। হয়তো তা নয়। কিন্তু সারারাজ্যের মস্তিষ্ক, নার্ভ-সেন্টার তো এই কলকাতাই! তা ছাড়া, গ্রামেও তো সেনসাহেবকে মাঝে মাঝে যেতে হয়। গ্রামবাংলার অবস্থাও তাঁর নিজচোখেই দেখা!

     

     

    একটা সিগারেট ধরালেন। চ্যাটার্জি দিয়ে গিয়েছিল একপ্যাকেট ভালো বিলিতি সিগারেট। যখন ওর কাছে আসে, তখনই ইচ্ছে করেই নতুন একটা প্যাকেট খুলে একটা সিগারেট নিজে নিয়ে, প্যাকেটটা যেন ভুল করেই রেখে যায় রোজ টেবিলে। এগুলোকে ঘুস বলে মনে করেন না সেনসাহেব। তিনি ঘুস খান না। খেলে, তাঁর অনেক কলিগ-এরই মতো তাঁরও বাড়ি গাড়ি থাকত। তবে এইসব ছোটোখাটো ব্যাপারে ‘না’ করেন না। অতিসতীপনা নেই তাঁর। বিবেকের দিক থেকে পরিষ্কার উনি। সরকারকে ঠকিয়ে কাউকে কোনো ফেভার দেন না। কাউকেই হ্যারাসও করেন না বলেই সকলে তাঁকে ভালোবাসে। সৎ বলেই টাকা অফার করার সাহস না পেয়ে এমনি করে গুড-হিউমারে রাখতে চায় সকলেই তাঁকে। বোঝেন। যা বোঝার! এই সব ছোটোখাটো ফেভারে তাই ‘না’ করেন না।

    ২

    অনেক দিন পর রাঁচি এলেন সেনসাহেব। গাড়ি পৌঁছোবার কথা আটটা পঁচিশে। আরও চল্লিশ মিনিট লেট ছিল।

    চাঢ্ঢার লোক হাওড়াতে এসে এয়ারকণ্ডিশানড কোচ-এ তুলে দিয়ে গিয়েছিল এয়ারকণ্ডিশানড কন্টেসা গাড়ি করে। রাঁচিতেও চাঢ্ঢার লোক এসেছিল। সেনসাহেব ট্রেন থেকে নামার আগেই কোচ অ্যাটেন্ড্যান্ট-এর কাছে নাম জিজ্ঞেস করে কোচ-এউঠে, রিসিভ করে নিয়ে গিয়েছিল গাড়িতে, একজন অল্পবয়েসি ছেলে। তার পর বি এন আর-এ গিয়ে চান সেরে, ব্রেকফাস্ট খেয়ে; গাড়িতে উঠে পেছনে বাঁ-দিকে আরাম করে বসেছিলেন।

     

     

    গাড়ি ছুটে চলল ফাঁকা পথ দিয়ে, শহর পেরুবার পরই। দু-পাশে চাপ-চাপ সবুজ। চাঁইবাসার পথ এটা। অঝোরধারে বৃষ্টি হয়ে চলেছে। সঙ্গে ঝোড়ো, দমকা হাওয়া। খুঁটি, মুরহু, টেবো ঘাট হয়ে চক্রধরপুর চলে গেছে এই রাস্তা। সেখান থেকে চাঁইবাসাও। বীরসা মুন্ডার উলগুলানের পটভূমির ওপর দিয়ে চলে গেছে পথ।

    ঘণ্টা দুয়েক চলার পর চাঢ্ঢাসাহেবের বাংলোতে এসে পৌঁছোলেন। কারখানার লাগোয়া বাংলো। ছোট্ট, কিন্তু সুন্দর। সঙ্গের ছেলেটি ডাকল, হনসো।

    একটি মুণ্ডা মেয়ে এসে দাঁড়াল। বয়েস বাইশ-তেইশ হবে বেশি হলে। যেমন সুন্দর ফিগার তেমনই চোখের ও মুখের ভাব।

    হনসো বলল, বাবু!

    সাহাবকা দেখভাল করে গা।

    এই মেয়েটিই বাংলোর কেয়ারটেকার স্যার। আমরা কারখানা থেকে মাঝে মাঝেই এসে খোঁজ নিয়ে যাব। চৌকিদারও আসবে মাঝে মাঝে। লোডশেডিং এদিকে খুব। কলকাতার চেয়ে আমরা এ বাবদ পেছিয়ে নেই। তবে আমাদের চারটি জেনারেটর আছে। সঙ্গে সঙ্গে টেকওভার করে নেয়। হ্যাভ আ নাইস স্টে স্যার।

     

     

    ছেলেটি চলে গেল। বেডরুমের পাশে বাগান। ড্রয়িং রুমের সামনেও তাই। নানারকম শৌখিন গাছ লাগানো। ড্রয়িং রুমের লাগোয়া একটি বারান্দা। তার সামনে মস্ত একটি কাঠটগরের গাছ। পাতাবাহার; লালপাতিয়া, পেছনে করবীর বেড়া, সোনাঝুরি, পেয়ারা, আম, লিচু সব দাঁড়িয়ে আছে সারে সারে আর পাগলা হাওয়ায় মাথা দোলাচ্ছে, হাত পা নাড়াচ্ছে পাগলের মতো। দু-হাত তুলে জংলির মতো চুমু-খাওয়া বৃষ্টিকে বলছে, এই না, না; আর নয়। অসভ্য। থামো এবার!

    সাহাব!

    কে?

    চমকে উঠলেন সেনসাহেব।

    হনসো।

    পিনেকা পানি। বলে, বেডসাইড টেবিলের ওপর ঝকঝকে স্টেইনলেস স্টিলের জাগ এবং গ্লাস রেখে গেল হনসো, স্টেইনলেস স্টিলের ট্রের ওপর।

     

     

    এয়ারকণ্ডিশানার ছিল। সেটা বোধ হয় ভোল্টেজে গন্ডগোলের কারণে খুলে নেওয়া হয়েছে। প্রেসমেশিনে গোলগোল করে কাটা একটা লোহার জাল দিয়ে সিমেন্ট গেঁথে দেওয়া হয়েছে সেই শূন্যে। জল, হাওয়া, আলো, চাঁদ সবই আসে।

    সেনসাহেবের খুবই ভালো লাগতে লাগল। অনেকদিন এমন ভালো লাগেনি। এই পরিবেশ, শান্তি, নির্জনতা, এই আবহাওয়া।

    কাঠটগরের গাছে বড়ো বড়ো সাদা ফুল ধরেছে। বৃষ্টিতে আর হাওয়াতে ফুলগুলোকেকাগজের ফুল বলে মনে হচ্ছে। একটি মুণ্ডা মেয়ে এরইমধ্যে কলসি কাঁখে চলে যাচ্ছে ঘন গাছগাছালির মাঝে মাঝের সুঁড়িপথে। তাকেও আবছা দেখাচ্ছে, নরম, গলে-যাওয়া কালচে—লাল লাক্ষারই মতো। কাগজের নারী।

    কিছুই করবেন না এখানে সেনসাহেব। শুধু খাবেন, ঘুমোবেন, আর চুপ করে এই নির্জন প্রকৃতির রস নিজের কোষে কোষে ভরে নেবেন। দু-একটি কবিতা লেখার চেষ্টা করলেও করতে পারেন। আত্মরতি এবং কবিতা এই দুটি বদভ্যাসই বহুদিন হল পেছনে ফেলে এসেছেন। মাঝে মাঝে বদ হওয়া ভালো। ভাবলেন সেনসাহেব। তাতে ভালোত্বটা ওয়াটার-প্রুফিং পুডিংয়ের প্রলেপের মতো সুরক্ষিত হয়।

     

     

    সাহাব!

    কে?

    আবার চমকে উঠলেন সেনসাহেব।

    হনসো!

    হনসো তাঁর শরীরের একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে। মুখে সরল, নিষ্পাপ, স্নিগ্ধ হাসি।

    হনসো বলল, সাব, দোপহরমে খানা ক্যা বনে গা?

    সেনসাহেব, হনসোর ওই নৈকট্য সহ্য করতে পারছিলেন না। বৃষ্টি-ভেজা কাঠটগর গাছের মতো টাটকা সতেজ যৌবন। তার উদ্ধত অথচ স্বাভাবিক শান্ত বুক, তার দীর্ঘ মরালী গ্রীবা, তার কালো চোখের নির্লোভ চাউনি। এই পরিবেশে, এমন বাদলা, মেঘলা দিনে, এমন নিরিবিলিতে সাহেবের বয়েসটাকে দামাল গ্রীষ্ম-দুপুরে খসে-যাওয়া সোনাঝুরি পাতার মতো এক-ফুৎকারে উড়িয়ে নিয়ে গেল যেন। সেনসাহেবের কষ্ট হতে লাগল। যেসব কষ্টবোধ কলেজে-পড়া মেয়ের বাবা, স্ত্রীর প্রৌঢ় স্বামী এবং ভারিক্কি সরকারি অফিসারের দামি মোড়কে এতদিন ঢাকা ছিল, যেসব কষ্ট আদৌ এখনও আছে বলেও জানা যায়নি, সেইসব কষ্টগুলোই একইসঙ্গে নকশাল ছেলেদের অসংখ্য ছোরার মতো তাঁর বুকে-পেটে-চোখে-মাথায় আঘাত করল। হুঁশ হারিয়ে ফেলার মতো হল তাঁর। সোফায় বসে পড়ে বললেন, তুমি যা বানাবে তাই-ই!

     

     

    তার পরেই হুঁশ ফিরে পেয়ে বললেন, তুমি কোথায় থাকো?

    গ্রামে।

    গ্রামে?

    ও! হ্যাঁ। তা তো হবেই। গ্রামীণ মানুষ তো গ্রামেই থাকবে।

    প্রশ্নটাই বোকার মতো হল। ভাবলেন সেনসাহেব।

    কোন গ্রামে?

    হাসসা।

    তোমার কে কে আছে?

     

     

    সবাই। বাবা, মা, ভাই, বোন।

    বর?

    হনসো হেসে বলল, না:।

    সে কী? তোমার বর নেই? বিয়ে হয়নি এখনও?

    না:।

    এই বাংলোয় কে থাকে আর? রাতে?

    আমি।

    তুমি একা?

     

     

    হ্যাঁ। তবে মেহমান থাকলে। কেউ না থাকলে, গ্রামে চলে যাই।

    ও। তা বেশ। তুমি যখন বিয়ে করোনি তখন…। তুমি বিয়ে করবে তো?

    হাসল হনসো। বলল, কে জানে?

    তোমাদের বিয়েতে বরের কী দিতে হয়? গোরু? দুটো গোরু?

    না:। টাকা, শাড়ি গয়না।

    তা বেশ!

    হেসে বললেন, সেনসাহেব।

    সেনসাহেব হেসেই বললেন তাকে, আমিই তবে বিয়ে করব তোমাকে।

    হনসো মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হাসল।

    তুমি রাতে থাকবে এইখানে! বেশ! তাহলে তো ভালোই!

    কী ভালো এবং কেন ভালো তা আর বললেন না।

    হনসোও কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেল।

    আবার জোর বৃষ্টি নামল। কী জোরে বৃষ্টি হচ্ছে! এবারে সত্যিই ডিল্যুজ হবে। ঘোর কলি তো! ন্যুহ সাহেবের নৌকো ভাসাবার সময় হল আবার। এত পাপ, এত অবিচার পৃথিবীর আর বোধ হয় সইছে না।

    পাপ! পাপ কাকে বলে? হনসোকে এই হঠাৎ চাওয়া কি পাপ? তাঁর কৃপাপ্রার্থী চাঢ্ঢার অতিথি হয়ে আসা কি অন্যায়? বোগাস। সব ব্যাপারই রিলেটিভ। এই চাঢ্ঢা ইচ্ছে করে সেনসাহেবকে ফাঁসাবার জন্যে হনসোর কাছে এই ফাঁকা বাংলোতে ভিড়িয়ে দিয়েছে কি তাঁকে? হতেও পারে। সেনসাহেব ভাবলেন। নতুন রিলে স্টেশান হবে অনেকগুলো। কয়েক কোটি টাকার কাজ। টেণ্ডার পড়লেও, টেণ্ডার কমিটি বসলেও, আসল ক্ষমতা সেনসাহেবেরই। বোর্ডও জানে সেনসাহেব ঘুসখোর নন। সেনসাহেবের ‘ভেটো পাওয়ারই’ এ ব্যাপারে শেষকথা। মেজরিটি উল্টো দিকে গেলেও তাঁর ডিসিশানই বহাল থাকবে।

    রিলে স্টেশান, চাঢ্ঢা, হনসো, নির্জন জঙ্গলের মধ্যে বাংলো! সেনসাহেব এই বৃত্তর মধ্যে পড়ে কি ফেঁসে যাবেন? চাঢ্ঢা আর কী চায়? এমনিতেই তো সব কাজই তাঁকে দেন উনি। কাজ দেন, কারণ চাঢ্ঢার অনেক লোকজন আছে। পয়সার জোর আছে। টার্গেট ডেটের অনেক আগেই কাজ কমপ্লিট করে দেয়। তবু, তাঁকে এই পরীক্ষাতে ফেলার দরকার কী ছিল তার? এই পরীক্ষায় পাস কি তিনি করবেন আজ?

    ভয় হচ্ছে সেনসাহেবের।

    দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর ঘুম লাগালেন একটা। ট্রেনে ভালো ঘুম হয় না, সে যে ক্লাসেই ট্রাভেল করা যাক না কেন!

    বিকেলে উঠে ড্রইং রুমে বসলেন। আবহাওয়ার কোনোই উন্নতি হয়নি। ‘শাঙন গগনে ঘোর ঘনঘটা নিশীথ যামিনীরে! কুঞ্জপথে সখী কৈসে যাওব অবলা কামিনী রে’!

    কোন দিক দিয়ে আসবে হনসো? বেডরুমের সঙ্গে একটা দরজা আছে, যেটা বাইরের বারান্দাতে খোলে। রাতের অতিথি সেই পথ দিয়ে আসতে পারে। খাওয়া-দাওয়ার পর খাওয়ার ঘর দিয়েও আসতে পারে। একথা ভাবতেই সোফায় বসে দুটি হাঁটুই থরথর করে কাঁপতে লাগল সেনসাহেবের।

    বলবেন কী করে? কী বলবেন?

    ভাবলেন, একটা পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে বলবেন, তুমি কাপড় কিনে নিয়ো। বলবেন কি? ফিসফিস করে? রাতে এসো।

    যদি চেঁচামেচি করে। চাঢ্ঢা একবার বলেছিল যে, মুণ্ডারা তাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া দূরে থাক, একবার খারাপ চোখে তাকালেও তির ছুঁড়ে দেয় পিরিং করে। তাকানো শেষ। বিষের তির। প্রাণ এবং ইজ্জত সঙ্গে সঙ্গে খালাস।

    তবে?

    বলতে হবে না কিছু। চাঢ্ঢা কি আর এমন নির্জনে একলা মেয়েকে চৌকিদার এমনিই রেখেছে? অতিথিদের খাতির-টাতিরই করতে। এইসব নইলে নাকি আজকাল বড়ো ব্যাবসা চালানোই যায় না। তা ছাড়া মেয়েটার ন্যাকা ন্যাকা ভাবই তার প্রমাণ। ন্যাকা মেয়েগুলো সাধারণত হারামজাদিই হয়।

    ভেবেছিলেন, বিকেলে হাঁটবেন একটু। বৃষ্টি ধরল না। সেনসাহেব রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে নার্ভাস বোধ করতে লাগলেন। সমস্ত শরীরে যেমন রোমাঞ্চ হতে লাগল তেমনই ভয়ে আবার তাঁর শিরদাঁড়া সরু হয়ে গিরগিটির শিরদাঁড়া হয়ে যেতে লাগল। এমন করা কি উচিত হবে সেনসাহেবের? তাঁর মেয়ে টিনা জানতে পেলে? রিনা জানতে পেলে? ছি: ছি:।

    এমন সময় কে যেন ভেতর থেকে বলে উঠল, হিন্দু বিধবার মতো সবটাতেই ছি: ছি: ছি: ছি: কোরো না ইডিয়ট। চুরিবিদ্যা বড়ো বিদ্যা যদি না পড়ো ধরা। একটাই জীবন ইডিয়ট। একটু মজা করো, লাইফ এনজয় করো, থোর-বড়ি-খাড়া, খাড়া-বড়ি-থোর না খেয়ে, মাঝেমধ্যে একটু দু-পেয়ে মুরগি-টুরগি খাও ইয়ার। আফটার অল, ইউ ওনলি হ্যাভ ওয়ান লাইফ টু লিভ। বুয়েচো!

    কে বলল?

    অ্যান্টি-বিবেক?

    কী জ্বালা!

    রাতের খাওয়ার সময় সেনসাহেব মুখ তুলে তাকাতেই পারলেন না হনসোর মুখের দিকে। মস্ত বড়ো জোড়া বিছানাতে দুটি বালিশ ছিল। বিছানা করতে এসে হনসো দুটি বালিশ দু-পাশে দিল, দুজনের শোবার জন্যে, বিছানাতে চাঁপা ফুল ছড়িয়ে দিয়ে গেল। প্রকান্ড মশারি টাঙিয়ে দিয়ে গেল। দুই বালিশের মধ্যে লাল কোলবালিশ। রমণীরমণ ব্যাপার স্যাপার।

    সেনসাহেব লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পারছেন না। যেন নিজেরই নববধূ! তাঁর মাথার মধ্যে তাঁর স্কুলের বকা সহপাঠী ফড়িং, চেঁচিয়ে উঠল, মা—ন্তু!

    খাওয়া শেষ হতে হতে হঠাৎই ঝড় উঠল একটা। এবং আকাশের সব মেঘ উড়ে গেল যেন মন্ত্রবলে। নিষ্কলঙ্ক ঝকমকে কালো আকাশে তারা ফুটল। জ্বল জ্বল করে। আঃ।

    হনসোর গলার স্বরের সঙ্গে আরও দু-একজনের গলার স্বর শুনলেন সেনসাহেব। তবে কি বিপদ অনুমান করে হনসো অন্য লোকদের ডেকে নিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে? পাঁজরে একটি বিষের তির। উঃ। লাগুক লাগুক। তবু। এসে অবধি কামনার অসংখ্য তিরে তিনি বিদ্ধ। রক্তাক্ত। শুধু পুরুষই জানে পুরুষের কষ্টর কথা; তার অসহায়তার কথা। এটা ভালো খারাপের প্রশ্ন নয়। আদৌ নয়। পুরুষমাত্রই হতভাগা। বিধাতা তাকে বড়ো দুর্বল করে গড়েছেন। বড়োই দুর্বল! নইলে, সেনসাহেবের মতো অক্সফোর্ডের এম এ, এতবড়ো সরকারি কর্মচারী; রাশভারী মানুষ হনসো নাম্নী এক অশিক্ষিতা প্রলেতারিয়েতের তিরে এমন করে ভূলুন্ঠিত হন! ছো:! ছো:!

    খাওয়া-দাওয়ার পর হনসো বলল, দরওয়াজা অন্দরসে বনধ কর দিজিয়েগা সাহাব!

    ছেনালি! দরজা, অন্দরবাসী কে আর কবে বাইরে থেকে বন্ধ করেছে রে শালি!

    পা কাঁপতে লাগল আবার।

    দরজা বন্ধ করলেন সেনসাহেব। ভাবলেন, সঙ্গের লোকজনকে বিদায় করেই আসবে হনসো। শরীরের মধ্যে একদল টাকা-কেন্নো লাল-লাল, লক্ষ-লক্ষ পা-ওয়ালা; হেঁটে বেড়াচ্ছে। দরজাটা বন্ধ করলেন শব্দ করেই। ভাবলেন, এই হঠাৎ শব্দে তাঁর ভেতরের হঠাৎ-আসা কাম-পোকাটা যদি ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়! বিছানাতে শুয়ে ওই ঠাণ্ডাতেও গরম লাগল তাঁর। অথচ এমনই ঠাণ্ডা এখন এখানে যে, কম্বল দিয়েছে হনসো পায়ের কাছে। রসিকতা! যুবতীশরীর থাকতে কে আর কবে কম্বলে মুড়েছে নিজেকে?

    ঘুম এল না। উঠে পড়লেন। দরজা খুলে, ভেতরের উঠোনে রান্নাঘরের সামনে পায়চারি করতে লাগলেন।

    হনসো এবং আরও দুটি মেয়ে কাজ করছে। এরা আবার কারা? এল কোত্থেকে? ওয়ান ভার্সাস থ্রি? যা:! উনি কি পারবেন?

    একজন পুরুষের গলা। একটি শিশুর। খাচ্ছে বোধ হয়। খেয়ে খেয়েই ভারতবর্ষ গেল। সময় নেই, অসময় নেই; কেবল গেলা। গব-গব।

    কিছুক্ষণ পর সেনসাহেব আবার বন্ধ করলেন দরজা। ফিরে এসে। জোরে শব্দ করে। ভাবখানা এমন, যেন হনসোকে বলতে চাইছেন; পরে পস্তিয়ো না। বন্ধ দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে হনসোকে ডাকলেন। অন্যদের চেহারা দেখাতে চান না।

    হনসো দরজার কাছে এলে, সবাইকে শুনিয়ে জোরে বললেন, দরওয়াজা বনধ কর দেতা।

    বলেই, গলা নামিয়ে ফিসফিস করে হনসোকে বললেন, উধারসে আও।

    হনসোর কাছে থেকে কোনোই উত্তর পাওয়া গেল না।

    সেনসাহেব ভাবলেন, ইডিয়ট। এসব কথার কি উত্তর হয়? অন্যরা শুনতে পাবে না! ঠিকই আসবে।

    ঘরে গিয়ে, মশারির মধ্যে ঢুকে ভূতের মতো বসে রইলেন কান খাড়া করে। পঁচিশ বছর আগে কৃষ্ণনগরের নেদেরপাড়ার এক বিয়েবাড়িতে মশা ভন ভন বাসরঘরে মশারির মধ্যে যেমন করে নববধূর অপেক্ষাতে ছিলেন; তেমন করে। এই দ্বিতীয়বার। দশ মিনিট, পনেরো মিনিট, আধঘণ্টা, একঘণ্টা। ওদের খেজুরে আলাপ শেষই হয় না। কারখানার পেটাঘড়িতে এগারোটা বাজল। এবার লোকজন চলে যাওয়ার শব্দ শোনা গেল। আপদেরা বিদেয় হল। ওদের ভাষায় কী যেন বলে, হনসো উঠোনের দরজা বন্ধ করল ভেতর থেকে।

    এখন ওপরে তারা-ভরা আকাশ, বৃষ্টিভেজা। হাসনুহানা, মাধবীলতা আর জুঁইলতা ঘেরা মার্বেলের সাদা উঠোন আর হনসো। আর সেনসাহেব। আঃ!

    সেনসাহেব তাড়াতাড়ি এসে দরজা খুললেন ভেতর থেকে।

    উঠোনে কেউই নেই। থামে-জড়ানো লতাগুলো দুলছে উথাল-পাথাল হাওয়ায়। তাদের ছায়া নড়ছে। উঠোনের লাগোয়া একটা বটগাছ। দামাল ঠাণ্ডা ভেজা হাওয়াটা তাদের পাতাদের হাতে হাতে ধরে হাততালি বাজাতে বাধ্য করছে। কীসের এই হাততালি? অভিনন্দন, না কৌতুক? নির্জন বাদলা রাতে, উদলা আকাশের নীচে সেই হাততালিকে কেমন ভূতুড়ে বলে মনে হচ্ছিল।

    হনসো! সে কোথায়?

    সেনসাহেব দেখলেন, ফ্রস্টেড কাচে ঘেরা একটি ঘরের মধ্যে আলো জ্বলছে। মধ্যে একটি নারীমূর্তি। স্পষ্ট তো আর দেখা যায় না। ফিগার দেখে বুঝলেন যে, হনসো। শাড়ি ছাড়ছে। সারাদিন পর কাজের শাড়ি, বার বার বৃষ্টিতে-ভেজা শাড়ি ছেড়ে, এবার বোধ হয় আদর-খাওয়ার শাড়ি পরে আসবে। খোলবার জন্যেই তো পরা। হে:! হে:!

    অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন ওখানে সেনসাহেব। ফ্রস্টেড কাচের মধ্যে দিয়ে হনসোকে দেখতে দেখতে শিহরন বোধ করছিলেন তিনি। সারাশরীরে। প্রায় অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যে এখনও এমন ফার্স্টক্লাস রয়েছে একথা ভেবে নিজেই চমৎকৃত বোধ করলেন। ফিরে এলেন। এসে দরজাটা ভেজিয়ে রাখলেন। বন্ধ করলেন না। শোবার ঘরের বাইরের দিকের দরজাও ওইরকম করে ভেজিয়ে রাখলেন।

    চোরের বা ভূতের ভয় নেই সেনসাহেবের। ভাবলেন, আহা হনসোরও তো প্রস্তুতিতে সময় লাগবে একটু। এত খাটা-খাটনি গেছে সারাদিন। আফটার অল, সেক্স ইজ নাইন্টি পার্সেন্ট সাইকোলজিকাল, টেন পার্সেন্ট ফিজিক্যাল!

    মশারির মধ্যে একটি রাজহাঁসের মতো হিসহিস করতে লাগলেন সেনসাহেব নিখাদ কামে। এই কামে কোনো ভেজাল নেই। একটুও প্রেম নেই। দয়া নেই; করুণা নেই, ক্ষোভ নেই, লোভ নেই, ঘৃণা নেই, রাগ নেই; অনুশোচনা নেই। এ একেবারে শতকরা এক-শো ভাগ কাম। একপার্সেন্ট ভয় হয়তো আছে। সেটা নেসেসারি ইভিল। পরকীয়া প্রেমে থাকেই।

    হাঁস হিসহিস করতে লাগল অথচ অন্য হনসো বা হাঁসির দেখা নেই।

    রাত গভীর হতে লাগল। পেটাঘড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেজে যেতে লাগল।

    ঘন অন্ধকার রাতে অন্ধকারতর কালো চকচকে পেশির মুণ্ডা যুবকেরা সেনসাহেবকে মাটিতে ফেলে তাঁর শরীরের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁকে ঘেন্নার তির মারতে লাগল। অন্ধকার ভিজে হাওয়াটা দমকে দমকে উড়ে এসে তাঁর ঘাড়ে গলায় থাপ্পড় মারতে লাগল। মশারির মধ্যে বারংবার পাশ ফেরার কারণে লাল মখমলের কোলবালিশ নিপীড়িত হল, চাঁপাফুলের সোনা গলে গেল বিছানার সাদা চাদরে। বড়ো কষ্ট। বড়ো দ্বিধা। গিয়ে কি হনসোর দরজায় ধাক্কা দেবেন? যদি চেঁচায়? মি. বি এন সেন। ছি:। ছি:। যদি জানাজানি হয়ে যায়?

    ইশশ।

    রাত চলে যায় রাতের মনে।

    কারও কাম চরিতার্থ হয়। কারো হয় না। কারো পরীক্ষায় প্রশ্ন কমোন আসে, কারো আসে না। রাত বড়ো টেঁটিয়া; নির্দয়। তার মন বোঝা দায়। প্রোষিতভর্তিৃকাকে কোলবালিশ জড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখেও রাতের করুণা হয় না। সেনসাহেবকে লাল কোলবালিশ জড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখেও হল না।

    রাত চলে যায়, রাতের মনে।

    সে রাতও গেল। হাড়ে কালি মাখিয়ে দিয়ে গেল সেনসাহেবের।

    ৩

    কে যেন ডাকছিল সেনসাহেবকে।

    সেনসাহেবের মৃত মা কি? না, রিনা? সেনসাহেবের স্ত্রী? না কি টিনা? সেনসাহেবের মেয়ে?

    কে যেন ডাকছে দূর থেকে। মাথার মধ্যে কাঁপন তুলছে সেই ডাক।

    সাহাব! চায়ে লায়া, সাহাব!

    সেনসাহেব ধড়মড় করে উঠে বসলেন।

    পায়জামার দড়িটা খোলা ছিল। রাতের অন্ধকারে এই দড়িই খোলার জন্যে অধীর উৎকট আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। আলোয়-ভরা সকালে সেই দড়ি বাঁধার জন্যেই ছটফট করতে লাগলেন। মশারি থেকে বেরিয়ে দেখলেন, হনসো দাঁড়িয়ে আছে চা নিয়ে। মুখে, সেই নিষ্পাপ সরল হাসি। চোখে, কোনো পাপ নেই, আবিলতা নেই। শুধু বনহরিণীর মতো সরল বিশ্বাস আছে।

    মনে পড়ল, কাল রাতে দরজাটা ভেজিয়ে রেখেছিলেন। বন্ধ করেননি।

    চা-টা হাতে নিয়ে বসবার ঘরে এসে বসলেন সেনসাহেব।

    চা ঠাণ্ডা হয়ে যেতে লাগল। সেনসাহেব বসেই রইলেন।

    বড়ো লজ্জা হল! কিন্তু পরমুহূর্তেই ঝকঝকে রোদে ঝলমলে টগর গাছটার দিকে চেয়ে এক দারুণ ভালোলাগায় ভরে উঠল তাঁর মন। কী লজ্জা। কী বিপদ। কী অপমানের হাত থেকে বেঁচে গেছেন তিনি গতরাতে। একথা ভেবে মা বগলামুখীকে ধন্যবাদ দিতে লাগলেন। বর্ষার রাত বড়ো খারাপ। অন্ধকার খারাপ। মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোবড়ো প্রশ্রয় পায় সেই সময়ে। কাল যা ঘটলে খুবই খুশি হতেন বলে ভেবেছিলেন, তা সত্যিই ঘটলে আজ কি হনসোর চোখে তিনি তাকাতে পারতেন? না, হনসোই পারত তাঁর চোখে চাইতে?

    জীবনে, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই বোধ হয় কিছু কিছু চাওয়া থাকে, যা পাওয়ায় পর্যবসিত না হলেই এক গভীর আনন্দ বেঁচে থাকে বুকে। যে আনন্দ, মানুষ হওয়ার আনন্দ। অমানুষ হয়ে যেতে যেতেও মানুষ হয়ে থেকে যাওয়ার আনন্দ।

    সেনসাহেব, গলা ছেড়ে, নি:সংকোচে ডাকলেন, হনসো।

    হনসো উত্তর দিল মিষ্টি করে, হানজী!

    ঔর এককাপ চায়ে লাও। বেগর চিনি। জাদা দুধ।

    লা রহা হ্যায় সাহাব!

    উঠোনে এসে দাঁড়ালেন সেনসাহেব। বটগাছের পাতায় পাতায় রোদ ঝিলমিল করছে। কী পরিষ্কার আকাশ! কী নিটোল সবুজ পরিবেশ! তাঁর মনের মধ্যেও এক সুস্থ পরিচ্ছন্নতা গভীরভাবে অনুভব করতে লাগলেন তিনি। তিনি যে শিক্ষিত, ভদ্রলোক, এই জানাটা জেনে খুশি হলেন নতুন করে।

    বটগাছের পাতাদের দিকে চেয়ে নিরুচ্চারে বললেন, খারাপ-ভালোর কোনো সুচিন্তিত সীমারেখা বোধ হয় নেই। প্রত্যেক মানুষেরই প্রান্তসীমাতেই বসবাস। কেউ না জেনে গন্ডি পেরোয়। কেউ ইচ্ছে করে পেরোতে চেয়েও অপারগ হয়।

    ঘটনা, এটাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }