Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    স্বাহা

    শরীরটা ক-দিন হল বড়োই খারাপ যাচ্ছে। আজ সকালে টেনিস খেলতে গিয়েই মাথা ঘুরে গেল। বাড়ি ফিরে ডাক্তার গুহকে ডাকতেই তিনি বললেন, প্রেশার ভীষণ নেমে গেছে। অফিস যাওয়া চলবে না দিনকতক। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করুন। কোনো চিন্তাভাবনা নয়। একেবারে চুপচাপ ঘুমোন। রিল্যাক্স করুন। লেখা-টেখাও ক-দিন একদম বন্ধ। মনে করবেন আপনি একটি নিটোল ভ্যাগাবণ্ড।

    ‘নিটোল ভ্যাগাবণ্ড’ কথাটা ডাক্তার বড়ো ভালো বলেছেন।

    কিন্তু ডাক্তার বোধ হয় জানেন না যে, যাঁদের মস্তিষ্ক আছে এবং মস্তিষ্কে কিঞ্চিৎ পরিমাণ ধূসর পদার্থও আছে তারা শরীরের বিশ্রাম নিলেও নিতে পারে, কিন্তু মনের বিশ্রাম নেওয়া তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।

    শিশুকাল থেকে মস্তিষ্ক চালু হবার পর তারমধ্যে নিরন্তর কত না কত ভাবনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভাঙচুর। শরীর নিষ্কর্মা থাকলেও মনকে শরীরের সঙ্গে শবাসনে যুক্ত করা আমার মতো সাধারণ লোকের কর্ম নয়। বরং শরীর যখন কাজবিহীন মস্তিষ্ক তখনই সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। মস্তিষ্কের বিশ্রাম একমাত্র সেদিনই ঘটবে যেদিন চিতার আগুনে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা দুঃখ-আনন্দের সমস্ত ভারসমেত মাথার খুলি একটা তীক্ষ্ণ সংক্ষিপ্ত আওয়াজ করে ফেটে যাবে।

    তবু খাওয়া-দাওয়ার পর, ডাক্তারের পরামর্শানুযায়ী শুলাম একটু। শীতের দুপুর। নিস্তেজ রোদ বাঁকা হয়ে পড়েছে শিউলি আর চেরিগাছের চুল বেয়ে। একজোড়া ঘুঘু ডাকছে লনে। কেরালার নারকোল গাছের ডালে বসে দাঁড়কাক কা-কা করে ক খ শিখছে। ফিরিওয়ালা হেঁকে যাচ্ছে দূরের রাস্তায়। একটা দুটো গাড়ি যাচ্ছে যান্ত্রিক ঝর ঝর শব্দ করে।

    ঘুম এসে গেছিল। এমন সময় ফোনটা বাজল।

    টেলিফোনের আওয়াজকে বড়ো ঘেন্না করতে শুরু করেছি আমি আজকাল। বাথরুমে চান করতে গিয়ে, ঘুমের মধ্যে; গাড়ি চালাতে চালাতে, আমি আজকাল মাথার মধ্যে ফোন বাজছে শুনি সবসময়। এমন ধাতব, ন্যক্কারজনক, ঘৃণিত শব্দ আর দুটি নেই। শুধু কাজ; শুধু কর্তব্য; শুধু দাবির কথা শোনায় টেলিফোন।

    একদিন ছিল, যেদিন টেলিফোনের আওয়াজ পথ দেখিয়ে আনত কত মিষ্টি সুখপ্রদ সব ঘটনা। কারো কারো গলার স্বরের রিনিরিনি শুনতে পেতাম ওই যান্ত্রিক শব্দেরই মধ্যে। এমনও সময় গেছে যখন ফোন করে দু-তিন ঘণ্টার আগে ফোন ছাড়িনি।

    তখন আমি ছোটো ছিলাম, ভাবুক ছিলাম; প্রেমিক ছিলাম। তাবৎ জগৎ তখন আমার কাছে এক অনাবিল রহস্যভরা সুগন্ধময় অনুভূতির ছিল। পৃথিবীর হালচাল, দুঃখ-কষ্ট, ছল-চাতুরি কোনো কিছু সম্বন্ধেই অবহিত ছিলাম না তখন।

    প্রত্যেক মানুষই বয়েসের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়। কাল যে-জানাকে অমোঘ বলে জানে আজ সেই জানাকে মিথ্যা অলীক বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়। আবার আজ যে-জানাকে জানল সে, যে-বিশ্বাসে ভর করে জীবনের পথে পা বাড়াল আগামী কালই নির্দ্বিধায় সেই জানা ও বিশ্বাসকে পদদলিত করে অন্য কোনো নতুন জানা ও বিশ্বাসকে আঁকড়ে এই অবিশ্বাসী, খল দুনিয়ার উথাল-পাথাল ঢেউয়ে কোনোক্রমে জীবনের হাল ধরে বেঁচে থাকতে চায়।

    সব মানুষেরই মতো একজন লেখকও বদলান। তিনি বদলে যান, তাঁর লেখা বদলে যায়; প্রতিদিন নিজেকে নিজে অতিক্রম করে, নয়তো নিজের ফেলে-আসা পথ মাড়িয়ে পিছিয়ে যান। মাথা হেঁট করে। পেছন ফিরে তাঁর পুরোনো খোলসটার দিকে চেয়ে এক মিশ্র অনুভূতিভরা অনুকম্পায় ভরে ওঠেন। প্রত্যেক মানুষই বোধ হয় সাপের মতো। কখনো না কখনো, কোনো অস্থির অনির্দিষ্ট সময়ে, সে তার খোলস ছাড়েই। নতুন খোলস পরে। সাপের মতো বুকে হেঁটে জীবনের পথে এগোয়। ব্যাং খায়, ইঁদুর খায়, নেউলের সঙ্গে লড়াই করে, সুন্দরী ময়ূরের প্রেমে পড়ে, তার কাছে এগিয়ে গিয়ে তার তীক্ষ্ণ নখের ও চঞ্চুর আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়। কখনো বা মৃত।

    এই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষিবোধ প্রেমে কি অপ্রেমে, বন্ধুত্ব বা শত্রুতায় বড়োই বক্র ও জটিল। গভীর ছায়াচ্ছন্ন দুঃখশীতল মৃত্যুহিম পথে আমার মতো প্রাপ্তবয়স্ক, প্রাপ্তমনস্ক মানুষ চুপি চুপি পা ফেলে চলাফেরা করে। মাঝে মাঝে সে নিজের পায়ের শব্দে নিজেই চমকে ওঠে।

    টেলিফোনটা বেজেই চলেছে। থামছে না।

    বড়ো রাগ হল। তবুও হাত বাড়িয়ে রিসিভারটা নিলাম।

    ওপাশ থেকে, যেন কতদূর, বহু যুগের ওপার থেকে এক কিশোরী বা সদ্যযুবতী দেবদূতীর কন্ঠস্বর ভেসে এল। বড়ো ক্ষীণ সে কন্ঠ। কিন্তু এত মিষ্টি, কোমল ও নরম যে মন বলছিল, সে কেন আরও জোরে কথা বলছে না?

    আমি আমার নাম্বার বললাম যন্ত্রের মতো।

    ঘুমভাঙানিয়া বলল, বুদ্ধদেব গুহ?

    আমি বললাম, কে?

    আমি সাহা।

    সাহা কে?

    সাহা আমি। তুমি বুদ্ধদেব গুহ?

    আমি বললাম, বলছি।

    অচেনা, অজানা মানুষ কে আমাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করছে বুঝলাম না।

    বললাম, কী চাই আপনার?

    চাই না কিছু। তোমার বই পড়ে ভালো লেগেছে বলে ফোন করলাম।

    একটা সময় ছিল, যখন এসব কথা ভালো লাগত শুনতে। আজকাল কি আমি দাম্ভিক হয়ে গেছি? না, না দম্ভ নয়, ক্লান্তি; একঘেয়েমি।

    ভালোলাগার; ভালোবাসার; স্তুতির; প্রশংসার সব কিছুরই একটা ক্লান্তি আছে। কোনো কিছুই বাড়াবাড়ি হলে, বেশি হলে, তা মনের কোণ উপছে পড়ে যায়। তখন সেই প্রশস্তির যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়ে ওঠে না। ধন্যবাদ দিতেও ক্লান্তি লাগে।

    অথবা আমি কি ধরেই নিয়েছি যে অনেক স্তুতি, অনেক প্রশংসা আমার স্বাভাবিক পাওনা? ছি: ছি: কখনো কি এত দম্ভের বা মূর্খামির শিকার হব?

    গলার স্বরে বয়েস অনুমান করে বললাম আমি, আমার কী বই পড়েছ তুমি?

    বললাম, কারণ অনেকে ভালোলাগা জানান, বই না পড়েই। কেন, তা তাঁরাই জানেন। অনেকের বিখ্যাত লোকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলাটা একটা রোগ। যাঁরা কিছুমাত্র না পড়েই শূন্যকুম্ভ ভালোলাগা জানান তাঁদের ওপর স্বভাবতই রাগ হয় লেখকমাত্ররই।

    সেই স্বর বলল, আমি বাংলা ভাষা জানি না। মাত্র তিনটে বই পড়েছি।

    আমি তবুও কঠিন গলায় বললাম, কী কী বই?

    যেন পাঠিকাকে তার আন্তরিকতার পরীক্ষায় বসাচ্ছি আমি।

    ও তিনটে বইয়ের নাম করল। দুটি বই পনেরো বছর আগে প্রকাশিত। একটি সাম্প্রতিক।

    প্রথম পরীক্ষায় যখন সে পাস করল তখন বললাম, আমার এই টেলিফোন নাম্বার তো ডাইরেক্টরিতে নেই। এ তো আনলিস্টেড। তুমি আমার নম্বর পেলে কোথায়?

    আমাকে আমার এক বন্ধু দিয়েছে। বন্ধু নয়, দিদি বলি; কিন্তু বন্ধুই।

    নাম কী তার?

    শিখা। শিখা রায়।

    কী করে সে?

    যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ে।

    শিখা বলে কাউকে আমি চিনি না। আমার এক বন্ধু-পত্নীর নাম শিখা। সে আর্কিটেক্ট। যাদবপুরে কখনোই পড়েনি।

    আমি বুঝলাম না এই শিখা কে?

    বললাম, তুমি কী পড়ো?

    আমি? আমি কলেজে পড়ি। মুম্বাইতে। এখানে এসেছি আমার দিদার বাড়িতে।

    তোমার দিদার বাড়ি কোথায়?

    বালিগঞ্জে।

    বালিগঞ্জে কোথায়?

    কী জানি? আমাকে নিয়ে এসেছে। ছাদ থেকে মিলিটারি ক্যাম্প দেখা যায়। আমি এখানে থাকব না, চলে যাব; আমার ভালো লাগে না।

    কোথায় চলে যাবে?

    যেখানে হয়। আমি ওদের বাড়ির লিফটম্যানকে বলে রেখেছি যে, একদিন আমি একা-একা নেমে এসে হারিয়ে যাব।

    কোথায় হারিয়ে যাবে?

    যেখানে হয়। তুমি দেখো, ঠিক হারিয়ে যাব।

    আমার মনে হল মেয়েটির মাথায় গোলমাল আছে। কিন্তু ওর গলার স্বর এমন পবিত্র, আন্তরিক, এত নির্ভরতার প্রত্যাশায় ভরা যে, ও যে পাগল একথা বিশ্বাস করতেও ইচ্ছে করছিল না।

    বললাম, তোমার মা-বাবা কোথায় থাকেন?

    বাবা এখন স্টেটস-এ গেছেন। আমার মা পোলিশ। বাবা বাঙালি।

    তার পর আমাকে আর কিছু বলবার সুযোগ না দিয়ে বলল, জানো, আমি আর আমার মা যখন জুহুবিচের সামনে রোজ বিকেলে হাঁটি, যখন ফেনায় ভরে যায় সমুদ্র; তখন আমার মা বলেন আমি ওই ফেনা থেকে এসেছি।

    জানো?

    আমি অবাক হলাম। কলেজে পড়া মেয়ে, সারসের গল্প, ফেনার গল্প এখনও বিশ্বাস করে বলে। নাকি, কেউ বোকা লেখককে নিয়ে রসিকতা করছে?

    ও আবার বলল, জানো, আমাদের মুম্বাইয়ের বাড়ির বসার ঘরে ইনগ্রেসের একটা ছবি আছে, কী সুন্দর! নিউড। মা বলেন, ওই যে ভগবান।

    একটু চুপ করে থেকে বলল, ভগবান খুব সুন্দর, না?

    আবার বলল, মা তো পোলিশ। মা আমাকে ডাকেন তানিয়া বলে। তানিয়া একটা পোলিশ ফুলের নাম। ভালো না?

    আমি বললাম, ভালো।

    ওর বাংলাটা একটু আড়ষ্ট। বাংলা যে খুব ভালো জানে না, বুঝতে পারছিলাম। কেন জানি না, এই আশ্চর্য অপরিণত অথচ অত্যন্ত সুরেলা কন্ঠের মেয়েটির প্রতি, ওর কথা বলার ধরন ও বক্তব্যতে ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে উঠছিলাম। ওর গলার স্বরটি কোনো ফুলে ফুলে ভরা সবুজ উপত্যকার ছোট্ট চিকন পাখির মতো। শুধু গলার স্বর শুনেই মনে হচ্ছিল ও কোনো সাধারণ মেয়ে নয়; ও কোনো বিশেষ মেয়ে।

    ও বলল জানো, আমি ফুল খুব ভালোবাসি। আমি আর আমার মা দুজনে মিলে গার্ডেনিং করি। মা বলেন, ‘আম্মো রোজাম।’ ল্যাটিন মানে জানো?

    আমি বললাম, না।

    মানে, আমি ফুল ভালোবাসি। তুমি ফুল ভালোবাসো? তোমাকে ফুল পাঠাব রোজ রোজ মুম্বই থেকে। আমি মায়ের সঙ্গে পোল্যাণ্ড চলে যাব। জানো, আমার মা আর বাবার ঝগড়া। তাই মা বলে, বাবাকে ছেড়ে আমাকে নিয়ে পোল্যাণ্ডে চলে যাবে।

    একটু চুপ করে থেকে তার পর বলল ও, পোল্যাণ্ড থেকে তোমার জন্যে প্রেজেন্ট নিয়ে আসব।

    তার পরই বলল, তুমি কত বড়ো?

    আমি বললাম, আমি বুড়ো।

    কক্ষনো না। তুমি বুড়ো হতেই পারো না। আমি বলছি, তুমি কক্ষনো বুড়ো হবে না। মা বলেন কেউ কোনোদিনই বুড়ো হয় না যদি যদি…

    যদি কী?

    যদি তুমি যখন খুব রেগে যাও তখন যদি খুব হেসে ওঠো, খুব হাসো; তাহলে তুমি কক্ষনো বুড়ো হবে না। তুমি তাই করবে তো? কক্ষনো রাগবে না। আর যদি রাগোও তাহলে খুব হাসবে। তুমি মোটেই বুড়ো নয়। বুড়ো হলে বুঝি আমি…

    তুমি কী?

    না থাক।

    বলো না।

    আমি কি তাহলে তোমাকে ফোন করি? তুমি আমার প্রিন্স চার্মিং।

    লাইনটা হঠাৎ ক্রস কানেকশান হয়ে কেটে গেল। কেটে যাওয়ার আগে আমি ওকে শুধোলাম তোমার নাম বললে সাহা, সাহা তো সারনেম তোমার ইনিশিয়ালস কী?

    ও বলল, আমার নাম স্বাহা।

    তার পর আস্তে আস্তে, কেটে কেটে: ইংরিজিতে বানান করে বলল, SWAHA সংস্কৃত। মা আমাকে সংস্কৃত শিখতে বলেন।

    লাইনটা কেটে গেল।

    তন্দ্রাবিষ্ট যুবক—আমি যৌবনের ক্ষয়িষ্ণুতার কথা ভাবছিলাম অবচেতনে। সব যুবাই একদিন প্রৌঢ় হয়, সব প্রৌঢ়ই একদিন বৃদ্ধ। এই নিয়মে দুঃখজনকভাবে অভ্যস্ত হতে হবেই একদিন তাই-ই ভেবেছিলাম। ঠিক সেইমুহূর্তে কোন যৌবনের দেবদূতী এসে আমাকে জাগিয়ে গেল? কোন স্বরে, কানে আমার কোন মন্ত্র দিয়ে গেল সে?

    বলল, রাগ হলে খুব হাসতে হবে। বলল, ‘আম্মো রোজাম’। বলল, ফুল পাঠাবে, ভালোবাসার ফুল। লাল গোলাপ। ইনগ্রেসের নিউড ছবির কথা বলল।

    আমি খুব খারাপ হয়ে গেলাম মুহূর্তের জন্যে। আমি ভগবান নই; মানুষ। বিবসনা ইনগ্রেসের ছবির ওপর অদেখা স্বাহার কল্পিত চেহারাটা বসিয়ে ফেললাম মনে মনে।

    যার গলার স্বর এত ভালো সে না জানি কত বিধুর সুন্দরী। কে জানে কেমন তার চোখ, তার ভুরু, তার চোখের পাতা, তার ঠোঁটের গড়ন? সে কি বেণী বাঁধে? না কোমর সমান চুল তার? চুলে কোন তেল মাখে সে? কেমন তার বাস? নাকি তার চুল বব করা? কেমন তার চুলের রং? হাসলে কি তার গালে টোল পড়ে? তার দাঁতের সারি কি সমান? উজ্জ্বল সাদা? কেমন সাদা?

    আমার প্রেশার বেড়ে গেল। কিংবা জানি না, হয়তো নেমে গেল। আমি উঠে পড়ে জানলার পাশের ইজিচেয়ারে বসে পাইপ ধরালাম।

    বাইরে শীতের দিন ছুটি নিচ্ছিল। বড়ো বিষণ্ণতা চারদিকে। কেমন এক ম্লান; ক্লিষ্ট সৌন্দর্য। একটা মৌটুসি পাখি এসে আঙুরের লতায় বসল। তার পর আঙুর ঠুকরে, টক দেখে উড়ে গেল। উড়ে যাবার আগে একবার সংক্ষিপ্তস্বরে রেশমি চাবুকের মতো হঠাৎ ডেকে গেল। স্বাহার গলার স্বরের মতো। উদাস করে গেল আমাকে। আমি ভাবছিলাম, কে এই স্বাহা? ও কি স্বপ্ন? না সত্যি?

    ওর গলার স্বরে কী জানি কেমন এক অপার্থিবতা ছিল, এত ক্ষীণ গলায় ও কথা বলছিল কেন? যেন কত দূর থেকে—এমন কোথাও থেকে, যেখানে পৃথিবীর কোনো কলুষ পৌঁছোয়নি। ছল, চাতুরি, ভন্ডামি, ভড়ং, পরশ্রীকাতরতা, ঈর্ষা, ডিজেলের ধোঁয়া কিছুই যেখানে নেই এমন কোনো জায়গা থেকে। কী আন্তরিক, পবিত্র, গা-শিউরানো ওর গলার স্বর!

    ভাবছিলাম, আমি কি পাগল হলাম? আমি কি এই শেষযৌবনে এসে অদেখা, অচেনা, অজানা এক দেবদূতীর কন্ঠস্বর শুনেই তার প্রেমে পড়লাম। ছি: ছি:।

    কিন্তু ও যে বলে গেল আমি কোনোদিনও বুড়ো হব না। এমন করে কেউই বলেনি। ও যে বলে গেল শুধু হাসতে। রাগলেই হেসে উঠতে।

    সেই আশ্চর্য, কোমল সজীব মধুর কন্ঠের পরি আমাকে বলে গেল একটু আগেই যে যৌবন বা বার্ধক্য কোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থা নয়। ‘আম্মো রোজাম’ বলতে পারার মতো কোনো মানসিক অবস্থাকেই যৌবন বলে।

    ২

    কাল রাতে জ্বর হয়েছে আমার। দুপুরবেলা একা ঘরে জ্বরের ঘোরে কোথায় যেন ভেসে চলেছি আমি। কারা যেন কথা কইছে কানের কাছে ফিসফিস করে। তাদের কথার মানে বুঝি না, কিন্তু তাদের ফিসফিসানি কত কী অস্পষ্ট স্মৃতি এবং কল্পনা বয়ে আনে মনে।

    কিন্তু একা থাকলে, অসুস্থ থাকলে তো বটেই; জানলা দিয়ে যমদূত হাতছানি দেয়। আজকাল প্রায়ই আসে সে। সে খুব সুন্দর। সে মোটেই খারাপ দেখতে নয়। কী উজ্জ্বল তার চেহারা! কী শান্ত তার মুখের ও চোখের ভাব। সেই-ই শাশ্বত। সে-ই আদি এবং অনন্ত। জীবনের ক্ষণস্থায়ী ক্ষুদ্রতাকে সেই-ই তো অসীমতা দান করে, মুক্ত করে পাখিকে, উদার আকাশে। সে যে মুক্তির দূত। তার সঙ্গে আমার কথা হয়। কত কথা।

    আমি বলি, তাড়াতাড়ি করো। যে-পারে আমার আসল আবাস নয়, সে-পারে বেশিদিন থেকে সময় নষ্ট করে লাভ কী? আমার ওই পারেই ভরসা বেশি। এই পারেতেই ভয়।

    ও হাসে, আর বলে, জয়! অজানার জয়!

    আমি নিরুচ্চারে গান গাই: ‘দু-দিন দিয়ে ঘেরা ঘরে, তাইতে যদি এতই ধরে! চিরদিনের আবাসখানা সেই কি শূন্যময়?’

    ও হাসে, আর বলে, জয়! অজানার জয়!

    ফোনটা আবার বাজল।

    স্বাহা।

    স্বাহা বলল, কী করছ তুমি?

    বললাম, শুয়ে আছি, জ্বর।

    খুব জ্বর?

    দেখিনি কত জ্বর?

    ও বলল, অসুখ মানে কী? তুমি জানো?

    আমি বললাম, অসুখ।

    তুমি বোকা। সুখের অভাবকেই অসুখ বলে।

    বললাম, ঠিক বলেছ।

    কী খেয়েছ? তুমি?

    খাইনি কিছু। কিছু একটা খাব।

    ওমা:, এখনও খাওনি? দুটো বাজে। তুমি কেমন মানুষ গো? তোমাকে দেখার কেউ নেই?

    কাউকে দেখারই কি কেউ থাকে? নিজেকেই নিজের দেখতে হয়। আমরা সকলেই তো একা। একা আসা; একা যাওয়া। মিছিমিছি আমার অনেকে আছে বলে ভুল ভাবা কি ভালো? কারোরই কেউ থাকে না। এক ভগবান ছাড়া। আমরা সকলেই একা। বড়ো একা।

    ও বলল, বেচারি! আমি যাই তোমার কাছে? ফুল নিয়ে যাই? আমি ফ্রায়েড এগস বানাতে পারি। জানো? তোমাকে খিচুড়ি আর ফ্রায়েড এগস বানিয়ে দেব। সামনে বসে খাওয়াব তোমাকে। কত যত্ন করে খাওয়াব। দেখো তুমি।

    আমি বললাম, অন্য কথা বলো। তুমি কেমন আছ?

    ও হঠাৎ বলল, লিউকোমিয়া কী গো?

    আমার বুকটা ধ্বক করে উঠল। বললাম, জানি না।

    ও বলল, আই হ্যাভ ওভারহার্ড মাই পেরেন্টস। বাবা আমার রক্ত নিয়ে স্টেটস-এ গেছে। ওটা কী অসুখ গো?

    বললাম, যে অসুখই হোক, তোমার তা হয়নি।

    আমার বুকের মধ্যে সেই অদেখা মেয়ের জন্যে কী যেন করে উঠল। আমি মনে মনে বার বার বলতে লাগলাম যে, তুমি তোমার সব অসুখ আমাকে দিয়ে দাও স্বাহা। আমি তোমার সব অসুখ শুষে নেব তোমার মুখ থেকে, রক্ত থেকে। তুমি এসব খারাপ অসুখের নাম মুখেও এনো না।

    ও বলল, তুমি জানো কী করে? যে হয়নি?

    আমি বললাম, নিশ্চয়ই জানি।

    তুমি বলছ?

    আমি বলছি।

    তুমি কী ভালো গো। তুমি যেমন করে কথা বলো, তেমন করে সকলে বলে না কেন বলো তো? তোমার মতো যদি সকলে হত!

    তার পরই বলল, আমি ভালো?

    খু-উ-উব।

    আমি বললাম।

    তার পর বললাম, তুমি Sweety Pie!

    তুমি পরি।

    পরি কী গো?

    পরি মানে Fairy!

    তাই-ই!

    তার পর একটু চুপ করে বলল থ্যাঙ্ক উ্য!

    স্বাহা বলল, তুমি গান গাইতে পারো?

    পারি। একটু একটু।

    শোনাবে?

    তুমি আগে বলো, তুমি নিজে গাইতে পারো কি না?

    পারি। কিন্তু বাংলা গান আমি জানি না। সব ইংরিজি গান।

    তাই-ই শোনাও।

    আমি খুব আস্তে গাইব কিন্তু! আমার কথা বলতে কষ্ট হয়। হাঁফিয়ে যাই।

    বললাম, ঠিক আছে। আস্তেই গাও।

    তার পরই ও গাইতে আরম্ভ করল।

    এমন গান কখনো শুনিনি। কী সুন্দর সুরে-বসা গলা। কী দরদ! আবেগ! কী আশ্চর্য অস্পষ্ট স্পষ্টতা।

    মনে হল, স্বর্গ থেকে কোনো পরিই গাইছে বুঝি!

    Why are the stars so bright

    Why is my heart so light

    Why is the sky so blue.

    Since the hour I met you!

    Flowers are smilling bright

    Smiling for all delight

    Smiling so tenderly

    For the world, you and me!

    বললাম, কার গাওয়া গান এটা?

    ও বলল, তুমি কী গো? আমার!

    না, না, কার গান?

    ও বলল, পেটুলা ক্লার্ক!

    আরেকবার গাও তো, লক্ষ্মীটি! আমি টেপ করব।

    টেপ রেকর্ডারটা নিয়ে এলাম। রিসিভারের সঙ্গে মাউথপিসটাকে লাগিয়ে দিলাম। বললাম, গাও।

    ও গাইতে লাগল। রিসিভারের কাছে কান নিয়ে ওর গান শুনতে লাগলাম আমি।

    গান টেপ হয়ে গেলে ও রিনরিনে ফিসফিসে গলায় কত কথা বলতে লাগল। মোহাবিষ্টের মতো আমি ওর কথা শুনতে লাগলাম। কত সব শিশুসুলভ এলোমেলো অথচ কী আন্তরিক সব কথা।

    একবার বলল, তুমি খাবে না?

    আমি বললাম, তোমার কথা শুনে এত ভালো লেগেছে যে, খিদে নেই আর। জ্বরও বোধ হয় নেই।

    ও বলল, জানো, এখানে কী ঝাল রান্না! আমি খেতে পারি না। আমার দিদা আমাকে খুব ভালোবাসে। দিদা আমাকে ডাকে ফুলটুসি বলে। ফুলটুসি মানে কী?

    একটা পাখির নাম।

    এরকম নাম কেন?

    ফুলে টুসকি দিয়ে মধু খায় বলে।

    ওঃ কী ভালো! বা:, আমিও তো ফুল ভালোবাসি।

    তার পর বলল, আমি হাত দিয়ে খেতে পারি না তাই সকলে আমাকে বকে। আমি হাত দিয়ে খেলে ডান হাত বাঁ-হাত লাগাই তাতেই সকলে বকে। আজকে না, আমি আমার বাঁ-হাতটা পেছনে রেখে শুধু ডান হাত দিয়ে খেয়েছি।

    তার পর বলল, আমার গলায় বোনস ফুটে গেছিল। জানো?

    আমি বললাম, ইশশ! কাঁটা? এখন বেরিয়ে গেছে তো?

    হ্যাঁ। কীরকম বাঁকা বাঁকা বোনস।

    বোনস নয়। বলে কাঁটা।

    ও বলল, তাই বুঝি? কাওয়াই মাছে এত কাঁটা?

    কাওয়াই নয়; কই।

    ও বলল, থ্যাঙ্ক ইউ। তুমি কত কী শেখালে আমাকে! তুমি ভীষণ ভালো।

    হঠাৎ বলল, লিউকোমিয়া কী অসুখ গো?

    আবার আমার বুকের মধ্যেটা ধ্বক করে উঠল।

    বললাম, হবে কোনো অসুখ। অসুখের কথা এখন থাক। তার চেয়ে সুখের কথা বলো।

    ও বলল, তোমার হলুদবসন্ত বইয়ের প্রথমে তুমি এই কবিতাটি লিখেছ?

    কোন কবিতা?

    সুখ নেইকো মনে,নাকছাবিটি হারিয়ে গেছেহলুদ বনে বনে

    বললাম, আমার কবিতা না। ওটা কোটেশান।

    যাই-ই হোক। কী ভালো কবিতাটা! আমার খুব ভালো লাগে।

    তার পর বলল, তুমি গান শোনালে না?

    আমি আমার প্রিয় গায়ক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটা গানের দু-লাইন ওকে শোনালাম—

    তুমি অবসর যদি পাওআমার দুয়ারে ক্ষণিকের তরেবারেক এসে দাঁড়াও।

    ও বলল, লাভলি। কী ভালো গাও তুমি!

    তুমি তো আমার সবই ভালো দেখছ!

    দেখছিই তো!

    তার পর বলল, জানো! আমি এখান থেকে পালিয়ে তোমার কাছে চলে যাব।

    বললাম, বেশ তো!

    তোমার তাহলে কী মজা হবে বলো? ফুলও তোমার, মালিও তোমার। আমি গার্ডেনিং করব, তোমাকে ফ্রায়েড এগস রেঁধে খাওয়াব।

    তার পর একটু চুপ করে থেকে যেন অন্য জগৎ থেকে বলল, হঠাৎই; আমাকে ভালোবাসবে তো তুমি?

    বললাম, খুব বাসব। খু-উ-ব।

    সেদিন তুমি বলেছিলে, ভগবান চাঁদে আছে, পাখিতে আছে, ফুলে আছে, কথাটা খুউব ভালো লেগেছিল? আচ্ছা ফুলটুসি যদি পাখি হয় তাহলে আমি তানিয়া, ফুল আর পাখিও? ফুল আর পাখি দুই-ই আমি! কী মজা?

    আমি বললাম, তুমি তাই-ই তো!

    ও কিছুতেই ওর টেলিফোন নাম্বার ওর দাদু-দিদার নাম, বাড়ির ঠিকানা আমাকে দিল না। প্রথম দিনও দেয়নি। লিউকোমিয়ার কথা শুনেই আমার বুকে ওর জন্যে বড়ো আশঙ্কা আর ভয় জমে উঠেছিল। ও যে ইচ্ছে করে দিল না তা মনে হল না। মনে হল, ও জানে না, অথবা ওর দেওয়ার উপায় নেই। মনে হচ্ছিল ও যেন কোনো বন্দিনী পরি। মর্ত্যে এসে ওর ডানা গেছে কাটা। কোনো উঁচু বাড়ির কোনো বন্ধ ঘরে ওর পবিত্র মন-শরীর সমেত বন্দিদশায় ও যেন বড়োই কষ্ট পাচ্ছে।

    ও বলল, কথা বললে আমার বড়ো কষ্ট হয় গো! হাঁফিয়ে যাই আমি। দিদা আর কাকিমা যদি জানে আমি তোমাকে ফোন করেছি, এত কথা বলেছি; তাহলে খুব বকবে আমাকে। কিন্তু তোমার সঙ্গে কথা বলতে কী ভালো লাগে আমার। যা কিছু ভালো লাগে, তা এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় কেন বলো তো?

    আমি একটু চুপ করে থাকলাম।

    ভারি খারাপ লাগছিল আমার।

    ও বলল, চুপ করে আছ কেন? কথা বলো না?

    তার পরই আবার বলল, যা কিছু ভালো লাগে তাই-ই এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় কেন গো?

    না-ফুরোলে আবার ভালো লাগায় ভরবে কী করে?

    ঠিক বলেছ। তুমি কী ভালো। বলেছি না, তুমি আমার প্রিন্স চার্মিং! তোমার বুদ্ধিই আলাদা!

    ছাড়ছি। পরে ফোন করলে আমার সঙ্গে কথা বলবে তো? প্রমিস? প্রমিস করতে হবে কিন্তু!

    আমি বললাম, প্রমিস।

    স্বাহা ফোন ছেড়ে দেওয়ার পরই টেপ রেকর্ডারটাকে রি-ওয়াইণ্ড করে বাজালাম ওর সেই গানটা শুনব বলে। আশ্চর্য! ওর গান রেকর্ডই হয়নি? কীসব বিশ্রী আওয়াজ! কোনো কর্কশ পাখির ডাক। কত সব অজাগতিক শব্দ। পৃথিবীর অনেক পাখির ডাকই আমি চিনি কিন্তু এ কোনো পৃথিবীর পাখির ডাক নয়। পৃথিবীর কোনো পরিচিত আওয়াজের সঙ্গেই ওর গানের বদলে যা রেকর্ডেড হয়েছে তার সঙ্গে মেলানো যায় না একটুও; একটি কথাও ওঠেনি ওর গানের!

    আমি কম্বল ফেলে দিয়ে বিছানাতে উঠে বসলাম। টেপটাতে চাইকোভস্কির একটা বিখ্যাত কম্পোজিশন ছিল। আগে পরে তা-ই আছে। শুধু যেখান থেকে স্বাহার গান টেপ করেছিলাম, সেইখান থেকে কিছুটা জায়গায় ওইসব শব্দ।

    স্বাহা কি পৃথিবীর নয়? ওর গলার আশ্চর্য অপার্থিব মধুর স্বর, ওর ইনোসেন্ট, পিওর ব্যক্তিত্ব আমাকে মোহাবিষ্ট, আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। ও কি অশরীরী?

    ৩

    আর কোনো দিনও স্বাহা ফোন করেনি। উদগ্রীব হয়েছিলাম, থাকতাম; প্রতিদিন। না: আর একদিনও ফোন এল না।

    ওর শেষ ফোন আসার মাসখানেক বাদে অফিস থেকে ফিরছি একদিন, রাত সাড়ে সাতটা বাজে। পার্ক স্ট্রিট আর ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মোড়ে ট্র্যাফিক সিগন্যালে গাড়ি থেমেছে, হঠাৎ আমার গাড়ির পাশের একটা সাদারঙা ভোক্সওয়ান গাড়ির পেছনের সিটে চোখ পড়ল। উজ্জ্বল চোখসম্পন্ন একটি অল্পবয়েসি মেয়ে কাঁধ এলিয়ে পেছনের সিটে বসে আছে। তার বব করা চুল, তার চোখের দৃষ্টির সমস্ত ঔজ্জ্বল্য সত্ত্বেও সে যেন কত দূরে পৃথিবীর সব দিগন্তরেখার ওপারে চেয়ে আছে।

    আমি ভাবলাম, এই কি স্বাহা?

    কে যেন আমার মাথার মধ্যে বলে উঠল, এই স্বাহা।

    উর্দিপরা ড্রাইভার সেই গাড়ি চালাচ্ছিল।

    আলো সবুজ হতেই গাড়িটার পেছন পেছন যেতে লাগলাম গাড়ি চালিয়ে। আমাকে যেন নিশিতে ডেকেছিল। গাড়িটা গুরুসদয় রোডের একটা মাল্টিস্টোরিড বাড়িতে ঢুকল। আমিও গাড়িকে ঢোকালাম। আমার গাড়ি ওই গাড়ির পাশে দাঁড় করালাম।

    মেয়েটি নামল, নেমে ড্রাইভারকে হিন্দিতে কী যেন বলল।

    আমি বুঝলাম এ স্বাহা নয়; হতেই পারে না। এ নিজেকে আবিষ্কার করে ফেলেছে। নিজের সৌন্দর্য সম্বন্ধেও সচেতন। ও সচেতন নিজের পরিবেশ সম্বন্ধে। ও এই পৃথিবীরই অন্য কোনো আবিল সাধারণ; সতর্ক মেয়ে। ও আমার স্বাহা কখনোই নয়!

    বড়ো মনমরা হয়ে আমি ফিরে এলাম।

    আরও মাসখানেক পরে রাসবিহারী অ্যাভিন্যু ধরে ছুটির দিন সকালে হেঁটে যাচ্ছি। একটা দোতলা বাড়ির চওড়া বারান্দায় শীতের রোদ পোয়াচ্ছিল শাড়ি পরা একটি অল্পবয়েসি মেয়ে, ইজিচেয়ারে বসে, তার কোলের ওপরে রাখা ছিল কোনো বই।

    আমার বই কি?

    মেয়েটির মুখ রাস্তা থেকে দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু তার বসার ভঙ্গির মধ্যে বড়ো একটা অসহায় আতুর ভাব ছিল। মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীর ডিজেলের গন্ধ-ভরা নি:শ্বাস নিতে ওর কষ্ট হচ্ছে।

    আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম।

    মেয়েটি হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে রেলিং-এ ভর দিয়ে কাকে যেন কর্কশ গলায় চেঁচিয়ে বলল, ঠাকুর, বাজার থেকে ফেরার সময় আমার জন্যে গুপ্ত ব্রাদার্স থেকে দহি-কচুরি এনো।

    আমি বুঝলাম, এও স্বাহা নয়। এ স্বাহা হতেই পারে না।

    যদি স্বাহার সত্যিই লিউকোমিয়া হয়ে থাকে? আমার কি কিছুই করণীয় নেই?

    স্বাহা যদি পৃথিবীর মেয়ে হয় তাহলে আমি কি রোজ অফিস-ফেরত ওর জন্যে লাল গোলাপ নিয়ে গিয়ে বসতে পারতাম না ওর পায়ের কাছে? ওকে বলতে পারতাম না যে, মৃত্যু তোমার জন্যে নয়, আমি থাকতে মৃত্যু তোমাকে নিতে পারবে না। ওর সব অসুখ শুষে নিয়ে আমি কি ওকে বাঁচাতে পারতাম না?

    ওই-ই তো বলেছিল, অসুখ মানে জানো? সুখের অভাব।

    ওর মা-বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাদের অসহায়তার ভার কি একটুও লাঘব করতে পারতাম না আমি? এই অসহায় লেখক?

    কত কী যে বলার ছিল স্বাহাকে আমার। আমার ঘুমভাঙানিয়া, সুখজাগানিয়া; দুখজাগানিয়াকে কত যে গুন গুন গান শোনাবার ছিল। কিছুই তো হল না।

    কাল মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠে জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। অন্ধকার আকাশে কত গ্রহনক্ষত্র। কত বিচিত্র তাদের অয়নপথ। কত বিচিত্র লীলাখেলা চলেছে সৃষ্টির আদি থেকে এই রহস্যময় পুরোনো কিন্তু চিরনতুন অসম ব্রহ্মান্ডে। কত কোটি যোজন দূরে মিটমিট করছে কত নাম-জানা ও নাম-না-জানা তারারা।

    স্বাহা কি কোনো তারা? তারার নামেই তার নাম?

    আমার বুকের মধ্যে বড়ো কষ্ট। আমি বললাম, স্বাহা!

    ঠিক সেই মুহূর্তে কে যেন বলল, ফিসফিস করে, তোমাকে আমৃত্যু খুঁজেই বেড়াতে হবে তাকে। তুমি শান্তি পাবে না, বিশ্রাম পাবে না, ঘুম কেড়ে নেব আমি তোমার চোখ থেকে। পরির অভিশাপ লেগেছে তোমার।

    আমি নিরুচ্চারে বললাম, তা লাগুক। শুধু আমি যদি জানতে পারতাম যে, স্বাহা ভালো আছে। তার লিউকোমিয়া হয়নি। এবং যদি কেউ একজনও আমাকে বলতে পারত যে, অনেক দূরের সুন্দর অধরা স্বর্গের পরি নয় সে কোনো। স্বাহা এই ধূলিধূসরিত ব্যবহারমলিন আমার পুরোনো পরিচিত পৃথিবীর দোষে-গুণে—মেশা একজন রক্তমাংসের মেয়ে! বড়ো ভালো মেয়ে!

    আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, যতদিন বাঁচব, ততদিন ও আমার সঙ্গে সঙ্গেই থাকবে। আমি এও জানি যে, আমার নিজের রক্তেও এক সাংঘাতিক দুরারোগ্য অসুখ এসে বাসা বেঁধেছে।

    আমার শ্বেত ও লোহিত রক্ত কণিকাগুলোর প্রত্যেকটির রং ডালিয়া ফুল আর ফুলটুসি পাখির রহস্যময় মিশ্ররঙে রাঙিয়ে দিয়ে গেছে সেই পরি।

    আমার এই মৃত্যুবাহী অসুখের নামও স্বাহা।

    লেখকের নিবেদন:

    [যদি কোনো পাঠক-পাঠিকা স্বাহার খোঁজ বা খবর জানতে পারেন তো অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব। এই ঘটনাটি পুরোপুরিই সত্যি!]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }