Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এজমালি

    জোর এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে একটু আগেই। দোকানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে একবার দেখল সূর্য। না:। আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেছে একেবারে।

    দশ ট্রাক জ্বালানি-কাঠ ঢেনকানল থেকে এনে আজই গোলার হাতার মধ্যে আনলোড করেছে হরজিৎ সিং ট্রাকওয়ালা। সেগুলো শেড-এর নীচে নেওয়া গেল না কুলিরা সব পরবের জন্যে ছুটি নিয়ে চলে গেল বলে। কাঠগুলো সব ভিজে একসা হয়ে গেল। দু-তিন দিনের কড়া রোদ পেলে তবেই শুকোবে না-শুকোলে শেড-এর নীচে তোলাও যাবে না। ফরেস্ট কর্পোরেশনের কাঠগুলোও এসে যাবে মনে হয় কালকের মতোই। এদিকে বৃষ্টিরও ছাড় নেই। কতদিন পরে যে আকাশ আজ পরিষ্কার হল! আবার কখন নামবে কে জানে!

    চালান করে মালগুলো পারিজাবাবুর আর শশধরবাবুর করাত-কলে পাঠাতে হবে পরশু-তরশুর মধ্যেই। কতরকম যে কাজ থাকে তা বলার নয়। দিনের শেষে নিজেকে মনে হয় ঝড়ের মধ্যে-পড়া ডানা-ভাঙা কোনো পাখি।

    মেজোভাই চাঁদ চলে গেছে পাঁচটার সময়ে। পুজোর নাটকের মহড়া শুরু হয়ে গেছে ওদের ক্লাবের। বাখরাবাদ ক্লাব এবারে ভদ্রক থেকে খুব ভালো যাত্রা আনছে। চাঁদরা ‘ছত্রপতি শিবাজি’ করবে। এখন থেকেই রোজই বিকেল পাঁচটাতেই চলে যাবে চাঁদ। পুজোর মাত্র দেড়মাস বাকি। সবচেয়ে ছোটোভাই তারা তো রোজ আসেই না। খুশি হলে আসে, নইলে নয়। যেদিন আসে সেদিন দুজনেই খেতে যায় বাড়িতে বারোটা নাগাদ। ঘুমিয়ে-টুমিয়ে ফেরে তিনটে নাগাদ।

    দোকানের দরজা বন্ধ করে তালাগুলো সব লাগাল সূর্য। তার পর তালাগুলোর ওপরে পাকানো-কাগজে আগুন জ্বেলে আরতির মতো করল। বাবা ব্রহ্মা সেন হাতে ধরে তাকে শিখিয়ে দিয়ে গেছিলেন। এই রিচুয়াল। বিশ্বাস করে কি না জানে না নিজেই, তবু করে আসছে তিরিশ বছরের চেয়ে বেশি। কৃপাসিন্ধু আর বাইধর তালাগুলোটেনেটুনে দেখে নিল ঠিকমতো আটকেছে কি না। চাবির তোড়াটা থলেতে পুরে সাইকেলের ক্যারিয়ারের স্প্রিং-লাগানো ঢাকনার নীচে রাখল। তার পর বলল, কাল সকাল আটটার সময়ে আসব রে বাইধর।

    কৃপাসিন্ধু বলল, আমিও চলে আসব আটটারই মধ্যে। কেন্দ্রাপাড়া আর নুয়াগড় থেকে মালও যে আসবে কাল সকাল আটটা নাগাদ।

    ক-ট্রাক? আগে তা বলোনি কৃপাসিন্ধু!

    সূর্য শুধোল।

    বলব কী বড়োবাবু! আপনার কি নি:শ্বাস ফেলার সময় ছিল?

    কেন্দ্রাপাড়া থেকে দু-ট্রাক আর নুয়াগড় থেকে তিন ট্রাক।

    কী কাঠ রে?

    ভালো কাঠ আর কোথায় আছে বাবু দেশে? সরু সরু শাল আর কিছু রসসি আসবে কেন্দ্রাপাড়া থেকে। মিটকুনিয়া, সাহাজ আর বুনো আম আসতে পারে নুয়াগড় থেকে।

    হুঁ।

    সূর্য স্বগতোক্তি করল। মাঝে মাঝে ওর মনে হয় প্রকৃতির দেবতা বোধ হয় কোনোদিন তাদের পুরো পরিবারকেই সাংঘাতিক শাস্তি দেবেন নিবিড় অরণ্যকে দুই পুরুষ ধরে এমনভাবে নষ্ট করার জন্যে! নষ্ট এমনিতেই হত। ওরা নিমিত্তমাত্র। মানুষের লোভ আর মানুষের সংখ্যাই সুন্দর সব কিছুকেই একেবারেই নষ্ট করে দেবে যে, সে বিষয়ে সূর্যর কোনোই সন্দেহ নেই।

    সাইকেলে উঠল সূর্য। ওরাও যার যার সাইকেলে উঠল। কাঠগোলা প্রায় সবই বন্ধ হয়ে গেছে। ওই মহল্লা ছাড়িয়ে এসে অন্য মহল্লাতে পড়ল। সেখানেরও প্রায় সব দোকানই বন্ধ হয়ে গেছে। পথে বেশি লোকজনও নেই। কাঠজুরি নদীর পারের রাস্তায় কিছু লোক আর ফেরিওয়ালা আছে। বেশিই কলেজের ছেলে-মেয়ে। নদীপারের চওড়া রাস্তা ছেড়ে দিয়ে ওদের পাড়ার কাঁচারাস্তাতে ঢুকতেই নদীর জলের আর নদীর পারের রাস্তার মিশ্র কলরোল আর কোলাহল থেমে গেল।

    নায়েকবাবুর বড়োমেয়ে সরস্বতী রোজকার মতো আজও রিয়াজ করছে। পাশ দিয়ে যেতে যেতে মনে হল কাফি ঠাটের কোনো রাগ। এখন আর তেমন ধরতে পারে না সূর্য। সুনন্দা পট্টনায়েকের কাছে নাড়া বেঁধেছে সরস্বতী।

    রোজই দোকান বন্ধ করে ফেরার সময় যখন নায়েকবাবুর বাড়ির সামনে আসে তখনই ওর মনটা খারাপ হয়ে যায়। ও নিজেও ক্লাসিক্যাল গান শিখত একসময়। র‌্যাভেনশও কলেজে পড়াশোনাও করত। পড়াশুনোতে কিছু খারাপও ছিল না। বাবার একবার ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া হল। তখনই কলেজ ছাড়িয়ে ওকে ব্যাবসাতে ঢোকালেন উনি। বাবা, ব্রহ্মা সেন বলতেন, ব্যাবসারদের ছেলেরা বেশি পড়াশুনো করলে তাদের গুমোর হয়ে যায়। আর গুমোর হলেই ব্যাবসা মাটি। বেশি বিদ্বান ছেলেরা কি আর দোকানে বসতে চায়?

    ফলে, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাটা পর্যন্ত দেওয়া হল না সূর্যর। গান-বাজনা করা তো দূরের কথা। বাবা বলতেন, ব্যাটাছেলে আবার গান গাইবে কী? গান তো গায় বাইজিরা! সেই ব্রহ্মা সেনেরই অনেক পরিবর্তন এসেছিল পরবর্তী জীবনে।

    মেজোভাই চাঁদ ওই কলেজ থেকেই বি এ করেছিল। কটকের নামকরা কলেজ। আর ছোটোভাই ওই কলেজ থেকেই বি এ করে ইউনিভার্সিটি থেকে পোলিটিক্যাল সায়ান্স-এ এম এ করেছিল।

    চাঁদ ও তারা যে বড়োভাই সূর্যর থেকে বেশি পড়াশুনো করেছে এ কারণে মাঝে মাঝে সূর্যকে অপ্রস্তুত হতে হয়। ভাইয়েরা কিছু বলে না কিন্তু ভায়েদের স্ত্রীদের কথাবার্তায় মাঝেমধ্যে তা প্রকাশ হয়ে পড়ে। সূর্যর স্ত্রী সাবিত্রী স্কুল-ফাইনাল পাস। উত্তর কলকাতার এক ভালো বংশের পড়ে-যাওয়া-অবস্থার বাড়ির মেয়ে সে। মেজোভাই চাঁদের বউ ঝুমরিদের বাড়ি ভুবনেশ্বরে। ঝুমরির বাবা ভুবনেশ্বরের একজন বড়ো ঠিকাদার। বেশ পয়সাওয়ালা পরিবার। ঝুমরি নিজেও বি এ পাস। ঝুমরির বাবা অনেকই দিয়ে থুয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন বলে ঝুমরির দেমাকও খুব। একটি ফিয়াট গাড়িও দিয়েছিলেন। সেটি বিক্রি করে দিয়েছে চাঁদ ক-দিন হল। মারুতি বুক করেছিল, অ্যালটমেন্টের চিঠি পেয়ে গেছে।

    ছোটোভাই তারার স্ত্রী চুমকি দক্ষিণ কলকাতার মেয়ে। সেখানকার কলেজেই পড়া। রবীন্দ্রসংগীতের স্কুলের ডিপ্লোমাও আছে। তার পয়সার দেমাক নেই কিন্তু সংস্কৃতি এবং আধুনিকতার দেমাক আছে। ওড়িশাপ্রবাসী এই কাঠ-ব্যবসায়ী পরিবারে চুমকি যেন দয়া করেই এসেছে বউ হয়ে এমনই একটা ভাব।

    ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

    সূর্য, নারায়ণের কাছ থেকে দুটি পান নিয়ে প্রায় জোর করেই গগনবাবুকে খাওয়াল। গুন্ডির পিক ফেলে বলল আরে, ওরা আজকালকার ছেলে, ওরকমই! যাইহোক, আমিই ওর কাছে ক্ষমা চাইছি। মার্জনা করে দেবেন। আমি তো আপনাকে কখনো অপমান করিনি।

    আরে, আপনার কথা কে বলছে? আমি তো আমার ছোটোভায়েদের বলি সবসময়ই!

    কী বলেন?

    বলি, আমাদের এই কারবারে মানুষ ওই একটাই আছে। সততা আর বিনয় আর কথার দামের আরেক নামই তো ব্যাবসা! না কি? সেই যে সেবার পারাদীপের অত বড়ো সাপ্লাইয়ে কয়েক লাখ টাকা লোকসান দিলেন সে তো কথার দামেরই জন্যে, না কি? সবসময়ই বলি!

    সূর্য হেসে বলল, কীসের লোকসান গগনবাবু? যে-সাপ্লাইয়ে লাভের কথা থাকে তাতে হয়ে যায় লোকসান আর যাতে লোকসানের কথা, তাতে লাভ। ডানহাতের তর্জনী তুলে ওপরে দেখিয়ে সূর্য বলল, দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ওই ওপরে একজন যে বসে থাকেন, খতিয়ান মেলে; উনিই হরেদরে রেওয়া ঠিকই মিল করে দেন। ওঁর ওপরে ভরসা রাখুন গগনবাবু, চিন্তাভাবনা ওঁর ওপরে ছেড়ে দিন। নিজের বোঝা হালকা লাগবে। আমাদের নিজেদের হাতে কতটুকু আছে?

    পান খেতে খেতে গগনবাবু বললেন, ছোটোভাই তারাও কি আলাদা ফার্ম করল নাকি? তারাও শুনি প্রায়ই জাজপুরে যায়। জাজপুরে আমার শ্বশুরবাড়ি তো! ও-ও ওখানে একটা ধান্দা করছে মনে হয়। আপনি কি জানেন এসব? একটু খোঁজখবর রাখবেন সূর্যবাবু। দশটা গাধা মরে একটা বড়োছেলে হয়। আমাকে দেখে শিখুন। কী করলাম সংসারের জন্যে আর কী পেলাম!

    সূর্য অনেকখানি গুন্ডির পিক একেবারেই গিলে ফেলল। বলল, আরে, গগনবাবু আমিই তো ওদের পাঠাই। একঝুড়িতে সব ক-টি ডিম রাখা কি ভালো? তা ছাড়া, ওরা তো আমার মতো পুরোনো আমলের লোক নয়। ওদের ভাবনাচিন্তা আলাদা; মডার্ন। তারাটা তো বলেছিল, কম্পিউটারের এজেন্সি নেবে। বিজনেস অফ দ্য ফিউচার। আমি না হয় তেমন লেখাপড়া শিখিনি, ইংরেজি বলতে পারি না ফটাফট করে, খালপাড়ের এই কাঠগোলায় পড়ে থাকা ছাড়া আমার না হয় আর কোনোই উপায় নেই, তা বলে ওরা অন্য কিছু নতুন করবে না কেন! ওদের বুদ্ধিসুদ্ধিই আলাদা!

    গগনবাবু সূর্যর কথাতে একটু মনমরা হয়ে গেলেন। ভেবেছিলেন, ভায়েদের এই স্বার্থপরতাতে সূর্য আহত হবে। দু-চার কথা বলেও দেবে ভায়েদের নামে।

    বললেন, ও। আপনি তাহলে জানেনই সব! তাহলে তো ভালোই। খুবই ভালো! খুবই ভালো! ডাইভার্সিফাই করা তো ভালোই।

    গগনবাবুর জিপ চলে গেলে সূর্য সাইকেলে উঠল। মনটা ভারী খারাপ হয়ে গেল। এসব কোনো কিছুই সূর্য জানত না। ভাইয়েরা পারিবারিক ব্যবসায়ে তাকে সাহায্য না করে, ব্যাবসাতে ঢুকতে না ঢুকতেই নিজেদের আলাদা রোজগারের ধান্দা করতে শুরু করেছে অথচ ব্রহ্মা সেনের কারবারে তিনজনেরই সমান অংশ। কী করবে! বাবা বেঁচে থাকলে অভিমান করে বাবাকে কিছু বলতে পারত। কিন্তু বলেও লাভ বোধ হয় হত না। স্নেহ চিরদিনই নিম্নগামী। বাবা থাকাকালীনই সেকথা সূর্য বুঝতে পেত। ছোটোভায়েদের ব্রহ্মা সেন আলাদা চোখে দেখতেন। মাঝে মাঝেই সূর্যর মনে হত ও বোধ হয় বাবার সৎ ছেলে।

    ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

    মা ও বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের সিন্দুকে কী ছিল না ছিল তা ভায়েরা সূর্যকে কেউই কিছু বলেনি। সূর্যর জানবার কোনো ঔৎসুক্যও হয়নি কখনো। বাবার মৃত্যুর পরে বলেছিল, মায়ের বাপের বাড়ি সম্বলপুর থেকে বাবাকে লেখা মায়ের কিছু চিঠি ছাড়া বাবার আলমারিতে আর কিছুই ছিল না। মায়ের অসংখ্য দামি গয়না ছিল, মা সাবিত্রীকে দেখিয়ে রেখেছিলেন, এই যে সাবু এইটে আর এইগুলো তোমার, আর এইগুলো হল আমার বড়োছেলের মেয়ের, আমার ছায়া নাতনির! কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর চাঁদ ও তারা বলেছিল, মায়ের কোনো গয়নাই ছিল না। যতটুকু ছিল তা তো একমাত্র বোন দরিয়ার বিয়ের সময়েই সব দিয়ে-থুয়েই গেছেন। ইনকামট্যাক্সের উকিল পাণিগ্রাহীবাবুকে দিয়ে সাফাই গাইয়েছিল।

    ‘মিসেস সেন-এর ওয়েলথ ট্যাক্স এর রিটার্ন-এ তো কোনো জুয়েলারি দেখানো ছিল না কোনোদিনও। গয়না থাকলে তো দেখানোই হত।’

    সূর্য একটিও কথা বলেনি। মনে মনে হেসেছিল। কিন্তু যারা চোখের পাতা একটুও না-কাঁপিয়ে ডাহা মিথ্যে বলতে পারে তাদের কাছে সত্য নিয়ে তর্ক করার মতো নোংরামির মধ্যে সূর্য যায়নি।

    সাবিত্রী বিস্ময়ের চোখে চেয়েছিল সূর্যর দিকে, মায়ের কাজের সময়ে। সূর্য চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।

    সম্পত্তি, জমিজমা, দলিলপত্র ইত্যাদি কোনো বিষয়েই ব্রহ্মা সেন কোনোদিনও বড়োছেলের সঙ্গে পরামর্শ বা আলোচনা করেননি। সবই ছোটোদের সঙ্গে। শুধু ব্যাবসাটার পুরো ভারটা তার কাঁধে চাপিয়ে তাঁকে প্রথমযৌবন থেকেই ন্যুব্জ করে রেখেছিলেন। সেই বোঝার ভার আজও লাঘব হয়নি।

    গগনবাবুরই মতন বহু পরিচিত মানুষই বলেছেন সূর্যকে, জমি-বাড়ির দলিল চোখে দেখেননি? আশ্চর্য! অথচ আপনি বড়োছেলে! আপনি আলাদা হয়ে নিজের কারবার করছেন না কেন? আপনিই তো সব!

    সূর্য হেসে বলত, আমিই কেন সব হতে যাব? এজমালি ব্যাবসা। আমি বড়োভাই, তাই ঝক্কিটা আমার বেশি। অনেক পরিবারে এই ঝক্কি মেজোভাই বা ছোটোভাইকেও পোহাতে হয়। তা ছাড়া সত্যি বলতে কী, আমার মোটা বুদ্ধিতে এই ব্যাবসাটুকুই আমি বুঝি। বাবার মতো বুদ্ধিমান মানুষ কমই দেখেছি। বাবা ভালো মনে করেছিলেন বলেই ছোটোভায়েদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। মায়ের পেটের ভাইয়েরা কি আমাকে ঠকাবে? তা ছাড়া ওদের বিষয়বুদ্ধি আমার চেয়ে অনেকই বেশি। কাজেরও ওরা অনেক। ছোটোবোন দরিয়ার বিয়ের সময় বিয়ের নিমন্ত্রণের চিঠি ছাপা থেকে, প্যাণ্ডেল বাঁধা থেকে, রসুই ভিয়েন সব কিছু তো ওরাই সামলেছে। সূর্য তো শুধু করেছে আসুন-বসুন। ওরাই তো সব কিছু করে, সবসময়ই। তার পরই ওপরে আঙুল দেখিয়ে তাদের প্রত্যেককেই বলেছে, ওপরওয়ালা আছেন। কারো কপাল তো কেউ নিতে পারে না মশাই। নিতেও পারে না, দিতেও পারে না। ওখানে যেটুকু পাওয়ার কথা লেখা আছে শুধু ওটুকুই আমার বরাদ্দ।

    ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

    কিন্তু আজকে গগনবাবুর কথা শুনে মনটা সত্যিই খারাপ হয়ে গেছিল সূর্যর। সেই আগের সূর্য তো আর নেই! অস্তমিত হবার সময় ক্রমশ এগিয়ে আসছে। রক্তের তেমন তেজও আর নেই। নিজের কোনো ছেলেও নেই। একটিমাত্র মেয়ে, ছায়া, তাও বিয়ের বহুদিন পরে হয়েছে। তার বয়েস এখন বারো। মাঝে মাঝে এখন মনে হয় যে তার, সাবিত্রীর এবং ছায়ার ভবিষ্যতের কথা একটু ভাবা হয়তো উচিত এখন।

    এইসব ভাবতে ভাবতেই বাড়ি পৌঁছোল সূর্য। গেট দিয়ে ঢুকেই সাইকেলের ঘণ্টা বাজাল কিরিং-কিরিং করে। চাঁদ-এর ছেলে জ্যোৎস্না আর তারার মেয়ে দ্যুতি দৌড়ে এল ‘জেটু’! ‘জেটু’! করতে করতে। সাইকেলটা রেখে সূর্য তাদের দু-কাঁধে তুলে নিয়ে চকোলেট বার করে দিল।

    চাঁদের ছেলে জ্যোৎস্না বলল, জেটু! বাবার মারুতি গাড়ি আসবে সোমবারে।

    বা:। তাই না কি? কী রং-এর রে?

    সাদা। মা পছন্দ করেছে।

    বা:।

    ছোটোভাই তারার মেয়ে দ্যুতি বলল, আমাল বাবা মোটলথাইকেল কিনেতে দেতু। দেকবে? দেকো, দেকো! তলো আমাল থঙ্গে তলো। বলেই সূর্যের শার্ট-এর কোনা ধরে টেনে নিয়ে গেল ভাইঝি।

    সূর্য দেখল, বাবার আমলে যেখানে বাবার বেবি-অস্টিন গাড়িটা থাকত সেই চালাঘরের নীচে ঝকঝকে জোড়া সাইলেন্সার লাগানো নীল-রঙা হণ্ডা মোটোরবাইক দাঁড়িয়ে আছে।

    জ্যোৎস্না বলল, কটকচন্ডী দেবীর কাছে পুজো দিয়ে নিয়ে এসেছে কাকু। ওই দেখো না, জবাফুলের মালা!

    আবাল হেলমেট আতে বাবাল!

    দ্যুতি বলল।

    তাই? বা: কী মজা! আমাদের একটা সাইকেল, একটা মোটরসাইকেল আর একটা মারুতি গাড়ি হল।

    দ্যুতি বলল, তোমাল ভাঙা থাইকেলটা ফেলে দাও জেতু।

    সূর্য হাসতে হাসতে বলল, দেব রে দেব। নিজেকেও ফেলে দেব এবারে। সাইকেলটার মতো আমিও তো বুড়ো হয়েছি, ভেঙে গেছি।

    সূর্যর মেয়ে ছায়া বসবার ঘরে বসে স্কুলের পড়া করছিল। সে একবার ওদের দিকে মুখ তুলে চাইল। মেয়েটার মুখটা বড়ো করুণ দেখাল সূর্যর চোখে।

    সাবিত্রীর ওপরেই রান্নাঘরের সব ভার। যদিও রাঁধুনি ও চাকর আছে। মা কোনোদিনই পছন্দ করতেন না যে ছেলেরা রাঁধুনি ও চাকরের রান্না খাক। ডাল-ভাত হয়তো তারা নামিয়ে দিত কিন্তু ভালো পদ এবং ছুটির দিনে শৌখিন পদ মা নিজে রাঁধতেন। বড়োবউ হিসেবে সাবিত্রীকেও অনেক রান্না শিখিয়েছিলেন। সাবিত্রীও শিখে নিয়েছে। আর তো কোনো গুণ নেই বড়োবউ-এর।

    ঝুমরি গিটার বাজায়, গাড়ি চালাতে জানে, ইংরিজি গান গায়। চুমকি রবিঠাকুর, হিন্দি ছবি ও বাংলা সাহিত্য গুলে খেয়েছে। কলকাতার অনেক লেখকের সঙ্গেই তার আলাপ আছে। কলকাতায় গেলেই সে তাঁদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করে। শুনেও তাজ্জব হয়ে যায় সূর্য। কলকাতার বাঘা বাঘা সাহিত্যিক এবং চিড়িয়াখানার গণ্ডার তার কাছে সমান বিস্ময়ের। এপর্যন্ত দুয়ের একটিও দেখা হয়নি তার। দেখার সাহস এবং সুযোগও নেই। ‘রবিঠাকুর’ও গুলে খেয়েছে ও। ওদের ‘ক্লাস’-ই আলাদা। সূর্য আর সাবিত্রীরা সম্পূর্ণ অন্য ‘ক্লাসের’।

    ঘরে এসে শার্টটা হ্যাঙ্গারে টাঙিয়ে রেখে, ধুতিটা কুঁচিয়ে তুলে রাখতে যাবে এমন সময় সাবিত্রী এসে ঘরে ঢুকল। সূর্য বাড়ি ফেরার আগেই সাবিত্রী গা ধুয়ে নেয়, বাড়িতে কাচা ইস্তিরিবিহীন টাটকা শাড়ি পরে। চুল বাঁধে। সিঁদুরের টিপ পরে, বড়ো করে। সূর্য ছাড়া, সাবিত্রীর যে অন্য কোনো গুণ নেই, অবলম্বন নেই, প্রত্যাশা নেই, সেই কথাটাই তার মস্তবড়ো সিঁদুরের টিপ-এর মধ্য দিয়ে প্রচন্ড ঔজ্জ্বল্যের সঙ্গে প্রতিভাত হয়, নীরব বিদ্রোহের মতো।

    এই নাও তোমার পান।

    সূর্য বলল।

    খাব না।

    কেন? কী হল!

    তুমি কী গো?

    কীসের কী?

    সেই সাতসকালে আধসেদ্ধ দুটি মুখে দিয়ে দোকানে দৌড়োও সাইকেল ঠেঙিয়ে আর এই আটটা সাড়ে-আটটাতে ফিরে আসো, আর তোমার ছোটোভায়েরা…

    সূর্য বলল, আরে ওরা তো ছোটো। ছোটো বলেই না…

    কাজের বেলায় তুমি, আর…

    আরে, কাউকে তো কাজ করতে হবে। বাবার দোকান নইলে যে উঠে যাবে।

    উঠলে তোমার কী ক্ষতি? থেকেই বা তোমার কী লাভ? পাশের বাড়ির ময়নাদি বলেন, তোমার যে ওই বন্ধুরা, ওই হরেনবাবু আর জগদীশবাবু তাঁরাও তো বাবার বড়োছেলে। ব্যাবসাতে তো ছোটোভাইদের একটি চেয়ারও দেয়নি তাতে। তেমন করলেই বোধ হয় ভালো করতে তুমিও।

    সূর্য একটু বিরক্তিমাখা গলায় বলল, আমার ভালো নিয়ে তুমি মাথা ঘামিয়ো না। হরেন আর জগদীশ আমার বাল্যবন্ধু হতে পারে কিন্তু ওরা ওদের ছোটোভাইদের প্রতি যে ব্যবহার করেছে তার জন্যে ঈশ্বরের কাছে তাদের শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

    ঈশ্বরের সঙ্গে কি তোমার কথা হয় নাকি?

    শুধু আমার সঙ্গেই কেন, যাদেরই বিশ্বাস গভীর তাদের সকলের সঙ্গেই হয়। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া জীবনের কোনো প্রাপ্তিই থাকে না সাবিত্রী। এটা ঘোর কলি। ধূর্ত-ধাউড়ে-কুচক্রীতে পৃথিবী ছেয়ে গেছে। কিন্তু তারা কতদূর যায় তুমি এই জীবনেই দেখে নিয়ো। ঈশ্বর-বিশ্বাসের চেয়ে বড়ো সম্পত্তি আর কিছুই হতে পারে না।

    তুমি যে কী, তা তুমিই জানো! কটকচন্ডীর মন্দিরে প্রতিসপ্তাহে আমি যাই না?

    নিশ্চয়ই যাও। কিন্তু তোমার দৌড় মন্দির অবধিই। কটকচন্ডীর কাছে পৌঁছোনো তোমার হবে কি না জানা নেই। কথাটা বললাম বলে রাগ কোরো না। চানে যাব এবারে। লুঙ্গি-ফতুয়া-গামছা দিয়েছ তো?

    দেওয়া আছে।

    চান সেরে এসে বারান্দার ইজিচেয়ারে বসল সূর্য। রোজই বসে। খুব খিদে পেলেও, অফিস থেকে ফিরে চান করে একটু কিছু খেয়ে নেয় ও। তার পর ভায়েদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাবে বলে অপেক্ষা করে।

    কিন্তু আজকাল বেশিরভাগ দিনই ছোটোভাই তারা আর চুমকি, হয় নিজেদের ঘরে খায়, নয় বাইরে কোথাও না কোথাও তাদের নেমন্তন্ন থাকে। ওরা আজকাল ঘরে বসে, খাওয়ার আগে একটু ড্রিঙ্ক করে। চুমকিও খায়। দ্যুতি একদিন বলে দিয়েছিল সূর্যকে। শিশুরা সব ঈশ্বর-ঈশ্বরী। কোনো কোনো দিন হাওয়াটা এইদিকে মোচড় দিলে বারান্দায় বসে গন্ধও পাওয়া যায়।

    ওরা খেলে থাক। ওরা মডার্ন, উচ্চশিক্ষিত, ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলে পড়া। চুয়ান্ন বছরের বুড়ো, অশিক্ষিত সূর্য কী বলবে ওদের?

    চাঁদ আর ঝুমরিও আজকাল হয় আগে-আগেই খেয়ে নেয়, নয়তো সূর্যর খাওয়া হয়ে গেলে তার পর খায়। যতক্ষণ না সকলে খাচ্ছে ততক্ষণ সাবিত্রীর ডিউটি শেষ হয় না। কোনো কোনো দিন সব কাজ সেরে ঘরে আসতে রাত এগারোটা বেজে যায় তার।

    সূর্য তাই কিছুদিন হলই ভাবছে যে ওদের সঙ্গে খাবে বলে খিদে-পেটে বসে না-থেকে, ও-ও দোকান থেকে ফিরেই চান করে খেয়ে নেবে। দুপুরের খাবার তো থাকেই। রাতের রান্না না হলেও তাতেই চলে যাবে।

    কিন্তু ভাবছেই। পারে না। ওরা আসুক খাওয়ার ঘরে আর নাই বসুক, এ বাড়ির একতলার এই রান্নাঘরের লাগোয়া এই খাওয়ার ঘরের বড়ো বড়ো পিঁড়িতে, ব্রহ্মা সেনের আমলে যেমন ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় রাত সাড়ে ন-টার সময় বাড়ির সব পুরুষেরা, বাবা ব্রহ্মা সেন, সূর্য, চাঁদ, তারা, গোমস্তা গিরিমশায়, বড়ো বড়ো কাঁটালকাঠের পিঁড়িতে একসঙ্গে খেতে বসতেন, আজও সূর্য তেমনি কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে ন-টার সময়েই এসে বসে। ফাঁকা, খাওয়ার ঘরে। বাচ্চারা ন-টার সময়েই খেয়ে নেয়। সূর্য সেন একা বসে খায়। সাবিত্রী, সাবিত্রীরই মতো সামনে বসে থাকে। বামুনদি খাবার এনে দেয়। সাদা বেড়ালটা খাওয়ার ঘরের দরজায় বাঘের মতো বুক ফুলিয়ে বসে পাহারা দেয়। ব্রহ্মা সেনের আমলেও এর পূর্বপুরুষেরা, কালো-ধলো-কি-বাদামি, এমনি করেই বসে থাকত। পুরোনো কথা মনে পড়ে যায় সূর্যর খেতে খেতে। বাবার আমলে খাবার সময়ে খাওয়ার ঘর, রান্নাঘর গমগম করত। বাবা, তিন ছেলে, গিরিবাবু খেতেন আর মা, সাবিত্রী, ঠাকুর, চাকরেরা তত্ত্বাবধান করত! এখন বাইরের উঠোনের পেঁপে গাছে তক্ষক ডাকে। বলে ঠিক। ঠিক। ঠিক। নি:শব্দ খাওয়ার ঘরে তক্ষকের ডাকটা ঠিকরে আসে। সূর্য যখন খায়, তখন কোনোদিন চাঁদের ঘর থেকে ক্যাসেট প্লেয়ারে ইংরিজি গান ভেসে আসে। কোনো কোনোদিন ভি সি আর-এ ছবি দেখে ওরা। কোনো কোনো দিন দরজা-জানালা বন্ধ করে জ্যোৎস্নাকে সাবিত্রীর জিম্মায় পাঠিয়ে দিয়ে দেখে। কী ছবি, কে জানে!

    চুমকি আর তারার ঘর থেকে বিখ্যাত কবিদের স্বরচিত কবিতার আবৃত্তি ভেসে আসে। ক্যাসেটের মাধ্যমে। কোনো কোনো দিন বাণী ঠাকুর বা গীতা ঘটকের রবীন্দ্রসংগীত।

    সাবিত্রী বলল, কিছু একটা করা উচিত তোমার। পেছোতে পেছোতে, দাম বইতে বইতে তুমি তো একেবারে দেওয়ালে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়েছ। তোমাদের দোকানের লাভের অংশ তো সকলেরই সমান কিন্তু তোমাকে দেখে মনে হয়, তুমি অন্যদের চাকর। এটা আমার কথা নয় পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সকলেই এই কথা বলে।

    সব পরিবারেই কাউকে চাকর হতে হয় সাবিত্রী, প্রত্যেক যৌথ-পরিবারেই। নইলে কারবার থাকে না। নিজেকে চাকর ভাবলেই চাকর, আর মালিক, ভাবলেই মালিক! এ তো ভাবাভাবিরই ব্যাপার।

    আচ্ছা, আমি না হয় বাঁদি, আমার জায়েদের ঝি! কিন্তু তুমিও কি কেউ নও? তোমার কি মানুষের মতো বাঁচতে ইচ্ছে করে না একদিনের জন্যে? ধুতি-জামা, তাও দু-দিন পরা চাই। বাহন, সেই মান্ধাতার আমলের ভাঙা সাইকেল। পায়ে তালি-মারা কাবলি-জুতো। বয়েস যার দশ।

    সূর্য হেসে বলল, বাবা কী বলতেন জানো? বলতেন, ‘আ রুপি সেভড ইজ আ রুপি আর্নড।’ বুঝেছ? যতক্ষণ জুতো পা থেকে খুলে না পড়ে যায় ততক্ষণ বদলাতে যাব কোন দুঃখে? তা ছাড়া ‘আমার আমার’ করো কেন? সব তো আমাদেরই। মোটরসাইকেল, গাড়ি সবই তো আছে আমাদের বাড়িতে। এটা ব্রহ্মা সেনের বাড়ি। তাঁর ব্যাবসা, তাঁর জমিজমা থেকেই সবকিছু হয়েছে এটা ভুলে যেয়ো না।

    ঠিক আছে। আমাদেরই যদি সব তবে সে গাড়িতে একদিনও কি আমি তুমি চড়েছি? আমার দরকারও নেই। তোমার মতো নই আমি। আমার আত্মসম্মান আছে।

    আমার কথা ছাড়ো, তোমার মেয়ের কী হবে? এরা যেরকম স্বার্থপর দেখছি, মেয়েটার যে বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারব না। তুমি যদি হঠাৎ চলে যাও, আমার যে কী হবে!

    সূর্য হাসল। বলল, হঠাৎ? শুধু আমি কেন? সকলকেই তো হঠাৎই চলে যেতে হবে। বলে কয়ে আর ক-জন যেতে পারে বলো? তবে তোমার মেয়ের কথা? এই শুনে নাও সাবিত্রী। তোমার মেয়েকে বাড়ি বয়ে এসে খুবই ভালো পরিবারের ছেলে উপযাচক হয়ে নিয়ে যাবে। দেনা-পাওনার কথা তুলবে পর্যন্ত না। কোনো চিন্তা কোরো না। তোমার কীসের অভাব? তোমার কী নেই যে, আমার ছোটোভায়েদের তুমি ঈর্ষা করো?

    ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

    ঈর্ষা করি? ছি:। আমার কী আছে? আমার জায়েদের তো পা থেকে মাথা পর্যন্ত গয়নায় মোড়া। এত গয়না তারা পেল কোথায়? পায় কোথায়? আর আমি, তোমার স্ত্রী!

    গয়না? গয়না একটা ঈর্ষা করার জিনিস হল সাবিত্রী? গয়না নিয়ে গর্ব করে শুধু নির্গুণ আর অশিক্ষিতরা! ছি:!

    বেশি শিক্ষা দেখিয়ো না। নিজে তো ইন্টারমিডিয়েটও পাস না করে কলেজ ছেড়েছিলে। আমি স্কুল ফাইনাল! আমার চেয়ে তুমি বেশি কী?

    সাবিত্রী খুবই রেগে গিয়ে বলল।

    অবশ্য নীচু গলায়।

    কিছুক্ষণ আকাশের দিকে চেয়ে থেকে সূর্য বলল, শিক্ষার অনেকই রকম হয়। এক ধরনের শিক্ষা মানুষ প্রতিষ্ঠান থেকে; মানে, ভালো স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পায় আর অন্য এক ধরনের শিক্ষা নিজের ভেতরে ভেতরে গড়ে নেয়। পাঁচটা পাস দিয়েও মানুষ অশিক্ষিত থাকতে পারে আবার একটাও পাস না দিয়েও উচ্চশিক্ষিত হতে পারে। শিক্ষা আর ডিগ্রির পাকানো কাগজ এককথা নয়। বিশেষ করে, এই দেশে।

    তোমার সঙ্গে আমি তর্ক করতে চাই না।

    তোমার মন আজ ভালো নেই, কোনো কারণে। এসো সাবু, আমার পাশে এসে বোসো, মোড়াটা নিয়ে। কী সুন্দর দেখাচ্ছে, দেখো, আকাশটা। মনে হচ্ছে, পুজো বুঝি এসেই গেছে। কী নীল আকাশ! চাঁদ ছমছম করছে পেঁজা-তুলোর মতো সাদা মেঘে মেঘে। ও ভালোকথা। পুজোর লিস্টিটা বানিয়ে ফেলো। আর তো দেড়মাসও বাকি নেই। চাকর-বাকর, দোকানের কর্মচারীরা, আত্মীয়স্বজন, কেউই যেন বাদ না যায়। এ বছর তোমাকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি দেব।

    সাবিত্রী বলল, তোমাকে বলব বলব করে বলা হয়নি, ঝুমরি আর চুমকি বলেছে যে ওদের পুজোর টাকা আলাদা করে দিতে। মানে স্বামীদের অংশ। ওদের বাপের বাড়ির লোকজন, বন্ধুবান্ধব, চাকরবাকর সব ওরা নিজেরাই নিজেদের হিসেবমতো দেবে। বলেছে, তা ছাড়া রুচিরও একটা ব্যাপার আছে। আমি যা কিনি তা প্রায় কারোরই পছন্দ হয় না।

    সূর্য চেয়ারে উঠে বসল। বলল, তাই! তা হবে। মানে, হতেই পারে। রুচি ব্যাপারটা তো নিশ্চয়ই নিজস্ব। আমাদেরই উচিত ছিল এই ব্যাপারটার কথা ভাবা অনেক আগে। তা ছাড়া ওরাও তো বড়ো হয়েছে। সত্যিই তো! এবারে তাই দিয়ো। ওদের টাকাটা আলাদা করেই ধরে নিয়ো। ভালোই হল, তোমার ঝক্কি কমে গেল।

    তোমার বোন দরিয়াও রাগ করে চিঠি দিয়েছে যে দাদা কাজে এতই কি ব্যস্ত থাকে যে মাঝে মাঝে চিঠি লিখে খোঁজ নিতেও পারে না। টাকাই সব নয় সংসারে। পয়লা বৈশাখে, আর পুজোয় আর ভাইফোঁটায় টাকা পাঠালেই ভালোবাসা দেখানো হয় না। টাকা পাঠাতে তোমাকে মানা করেছে দরিয়া।

    সূর্যর গলা এবারে গম্ভীর শোনাল। বলল, তাই বলেছে। দরিয়া? চিঠি লেখার অভ্যেসই যে নেই আমার। কাউকেই তো লিখি না। যাক। টাকা ওকে আর কারা পাঠায়? টাকা বুঝি কষ্ট করে রোজগার করতে হয় না? কাউকে কিছু দেওয়া মানেই নিজেকে কিছু থেকে বঞ্চিত করা। নিজেকে; নিজের পরিবারকে।

    তার পর স্বগতোক্তির মতো বলল সূর্য, সংসারে অনেকেরই অনেক থাকে হয়তো কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেরই অন্যকে স্বার্থহীনভাবে দেওয়ার মন থাকে না। এ তো জানাই ছিল। আজকে জানলাম, এ সংসারে নেওয়ার মন নিয়েও কম লোকই আসে। হৃদয়ের অতটুকু ঔদার্যও যে কেন বিধাতা তাঁদের দেন না। ভারি মজার জায়গা কিন্তু এই পৃথিবী!

    সাবিত্রী বলল, তোমার ভায়েরা বলেছে যে, দোকানের কর্মচারীদের আলাদা করে কিছু দেওয়ার রেওয়াজটাও আদিখ্যেতা। ওরা তো বোনাস পায়ই!

    হা:। সে আর ক-টা টাকা! এই বাজারে! কিন্তু ওরা বলেছে একথা? কবে?

    পরশু।

    ঠিক আছে। ওদের টাকা আলাদা করে দিয়ে দেব। আমি আমার একার অংশ থেকেই দোকানের কর্মচারীদের দেব পুজোতে। এতদিন দিয়ে এসেছি, আর…

    বাবার আমলেও নাকি এইসব কোনোদিনও দেওয়া হয়নি? তুমিই বা কেন…

    সূর্য অবাক হল। বলল, একথাও বলেছে ওরা তোমাকে? একথাটা ভুল বলেনি। বাবার আমলে দেওয়া হয়নি যে তা ঠিকই। কিন্তু এটা যে আমারই আমল সাবিত্রী!

    আর হাসিয়ো না। তোমার আমল! যেন কোনো সাম্রাজ্যের মহারাজ তুমি! তুমি তো বান্দা! তুমি অন্ধ। তুমি কী…তুমি কি মানুষ? না ভগবান? না, তুমি ভূত?

    সূর্য হো হো করে হেসে উঠল জোরে।

    তার পর পাশে-বসা অবাক-হওয়া স্ত্রীর হাতের ওপর নিজের হাতটি রেখে বলল, সাবিত্রী, আমি দাদা! আমি দাদা যে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }