Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুষ্পমঞ্জরি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প780 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পরিসর

    সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। ভোরবেলা থেকে আকাশটা মেঘলা। ভেজা হাওয়ায় ডালপালা উথাল-পাথাল করছে। চারিদিকের গাছগাছালিতে বৃষ্টি-থামা আকাশে সারারাত ডালে-ভেজা পাখিগুলো এখন লাফিয়েঝাঁপিয়ে ডানা শুকোচ্ছে।

    জায়গাটা ভারতবর্ষ আর বার্মার সীমান্তবর্তী একটি ছোটো গ্রাম। নাম ‘মোরে’। মোরের পাহাড়ের ওপরের ডাকবাংলোর বারান্দায় বসে আছি। দু-পেয়ালা চা খাওয়া হয়ে গেছে, এক্ষুনি চান করতে যাব এমন সময় চোখে পড়ল নীচ থেকে পাহাড়-ঘেরা রাস্তা বেয়ে কালো শাড়ি-পরা এক মহিলা ডাকবাংলোর দিকে উঠে আসছেন।

    একজন মহিলার আজ সকালে আমার কাছে আসার কথা ছিল। তবে, এত সকালে নয়।

    ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং। ইন্টারেস্টিং মানে, কলকাতায় আমি এক মহিলার কাছ থেকে একটি চিঠি পাই কিছুদিন আগে। মনে করা যাক, তাঁর নাম শ্রীমতী। শ্রীমতী খুব রাগের সঙ্গে লিখেছিলেন যে, আপনারা লেখকরা বড়োই নিষ্ঠুর। আপনাদের লেখায় প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় বিবাহিতা মহিলারা তাঁদের প্রেমিকদের সঙ্গে কত সহজে মেলামেশা করেন, কত সহজে তাঁরা স্বামীর কাছ থেকে যা পাননি তা আনন্দের সঙ্গে পেতে পারেন অন্য করো কাছ থেকে। অথচ বাস্তবজীবনে আমাদের স্বামীরা কোনো সময়েই ঘুমিয়ে থাকেন না। আমাদের মনের মতো কেউ কাছে এলেই চোখ বড়ো বড়ো করে জেগে থাকেন। কিন্তু, কেন? কেন আমরা বাস্তবে স্বামী ছাড়া মন খুলে কথা বলার মতো একজন লোকও জীবনে পাই না? পাই না এমন কাউকেই, যাকে হয়তো আমি ভীষণভাবে চাই। বাস্তবে আপনাদের গল্প সত্যি হয় না কেন?

    এ চিঠির মধ্যে আমার ‘কোয়েলের কাছে’ উপন্যাসের একটি বিশেষ মুহূর্তের কথার উল্লেখ ছিল। শ্রীমতী ক্রোধের সঙ্গে জানতে চেয়েছিলেন যে, এমন এমন মুহূর্ত জীবনে আসে না কেন? যদি আসেই না, তবে এ নিয়ে লেখালেখি কেন?

    চিঠি অনেকেই লেখেন প্রিয় লেখককে। কোনো লেখক উত্তর দেন, কোনো লেখক বা দেন না। কিন্তু সেসব চিঠিতে লেখকের লেখার কথা অথবা লেখকের প্রশংসা ছাড়া কিছু থাকে না। এ চিঠিটি ব্যতিক্রম ছিল। শ্রীমতী লেখক হিসেবে আমার বাস্তবতাকে কটাক্ষ করেছিলেন।

    তাই অফিসের কাজে যখন মোরেতে যাচ্ছিলামই, যাওয়ার আগে একটি চিঠি লিখেছিলাম শ্রীমতীকে। বলেছিলাম, আমি সাত তারিখে (জুলাইয়ের) মোরে পৌঁছোব এবং আট তারিখ সকালে উনি যেন আমার সঙ্গে ডাকবাংলোয় দেখা করেন।

    ততক্ষণে শ্রীমতী ডাকবাংলোর কাছে এসে হাজির।

    হাতে একটি লেডিজ ছাতা। গায়ের রং কালো। বুদ্ধিমতী মুখ। বয়েস বোধ হয় তিরিশ-একত্রিশ হবে। বর্ষাবিধুর সকালের উথাল-পাথাল পটভূমিতে কালো শাড়ির এই বিক্ষুব্ধ মহিলাকে ভারি শান্ত দেখাচ্ছিল।

    আমি উঠে দাঁড়িয়ে আপ্যায়ন করলাম।

    মহিলা অত্যন্ত সপ্রতিভ। আপ্যায়ন অগ্রাহ্য করে বললেন, আপনার সঙ্গে ঝগড়া করতে এলাম।

    বললাম, আড়াল থেকে মেঘনাদ বধ বাণ ছাড়ার চেয়ে সম্মুখ-সমর ভালো। অন্তত অনেক সৎ। বলুন, আমার ওপরে এত রাগ কেন?

    রাগ, কারণ আপনি বানিয়ে বানিয়ে গল্প লেখেন।

    সব গল্পই তো বানিয়েই লেখা হয়, যদিও কোথাও না কোথাও তার সত্য একটু থাকে, কষ্ট করে লুকিয়ে রাখা, চোখের-জলের মতো। কিন্তু বানিয়ে না লিখতে পারলে, লেখক কি হওয়া যায়?

    আমি বলছি, মানে…।

    এইটুকু বলেই, মহিলা নার্ভাস হাতে ওঁর কালো হাতব্যাগটার ওপর হাত বোলাতে লাগলেন যেন, খুব লজ্জা পাচ্ছেন এবং যা বলতে চাইছেন তা বলবেন কি না ভাবছেন।

    আমি ওঁর সিঁথির সিঁদুরের দিকে তাকিয়ে রইলাম এবং ওঁকে বোঝবার চেষ্টা করতে লাগলাম।

    উনি বললেন, আমার আপনাকে অনেক কথা বলার ছিল। আমি কোনো মনোমতো লোক পাই না বলার। পাইনি কখনোই। যদি বা কখনো পেয়েছি, বা বলেছি; তারা বোঝেওনি আমার কথা। যদি কোনো সুক্ষণে এমন লোকের দেখা পেয়েওছি, যে আমার কথা বুঝবে, তার আবার শোনার সময় হয়নি। আমি জানি, আপনি হয়তো বুঝবেন আমার কথা। কারণ, আপনারা, সাইকো-অ্যানালিস্টদেরই মতো। মানুষের মনে যখন ঝড় ওঠে, সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়; তখন আপনাদের কাছে এলে বোধ হয় শান্তি পাওয়া যায়। কারণ, আপনারা মানুষকে বোঝেন। মানুষই আপনাদের লেখার বিষয়। কিন্তু…।

    একটু থেমে গিয়ে বললেন, আপনার কি শোনার মতো সময় হবে?

    আমি বললাম, আজ তো রবিবার, আজ আমার ছুটি। ডাকবাংলোয় বসেই থাকতাম। নয়তো পড়তাম। কাজ কিছুই নেই আজ।— আপনি স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন কী বলার আছে আপনার।

    শ্রীমতী একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, আপনার জন্যে খুব ভালো করে হরিণের মাংস রান্না করেছি। আমি গিয়েই পাঠিয়ে দেব। খাবেন।

    আমি হাসলাম, বললাম, বেশ। কিন্তু এ কি কথা শোনার পারিশ্রমিক?

    শ্রীমতী হাসলেন। বললেন, ঠিক তা নয়। এটা প্রণামি। সাধু সন্দর্শনে এসেছি তো!

    আমি সাধু কখনোই ছিলাম না, হতেও চাই না কোনোদিন। কিন্তু অসাধুও নই। তবে হরিণের মাংস খুব রেলিশ করে খাব। আমরা বড়ো আজেবাজে কথা বলছি, এবার আপনি আপনার কথা বলুন।

    শ্রীমতী গলার মটরমালায় একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে বললেন, কী দিয়ে যে আরম্ভ করি বুঝতে পারছি না। সব যে এলোমেলো হয়ে আছে, সমস্ত কথাগুলিই আমার বুকের মধ্যে; এই সকালেরই মতন।

    আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স মাত্র পনেরো বছর। তখন সেক্স সম্বন্ধে আমার কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। জানতাম, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা কী, তবে সেই কী-টা কীরকম তা জানতাম না। বিয়ের পরই আমার স্বামী আমার অল্প বয়েস, আমার কচি মন এসব কিছুর কথা ভুলে গিয়ে আমার ওপর সেক্সটা এমনভাবে চাপিয়ে দিলেন যে, এই ষোলো বছরের বিবাহিত জীবনে কোনোদিন তাঁকে সম্মানের চোখে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব হল না। ওই ব্যাপারে আমিও যে একজন অংশীদার, আমার মন বা আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছারও যে একটা ভূমিকা আছে, এটা সেই ফুলশয্যার রাতে যেমন, আজও তেমনই; কোনোদিনও বুঝতে চাননি তিনি। কখনো বুঝতে চাননি যে, স্ত্রীকে খাওয়ালে পরালেই বা প্রতিরাতে তার শরীরের কাছে এলেই স্ত্রীকে ভালোবাসা হয় না।

    কিন্তু তিনি দেখতে শুনতে ভালো। বিদ্বান। বুদ্ধিমান। ভালো চাকরি করেন। ভালো পরিবারের মানুষ।

    এই ভীষণ কষ্ট ছাড়া, যে কষ্টর কথা কাউকে বলা যায় না; আমার আর কোনো কষ্ট নেই। তাই…

    এ সময়ে আমি বাধা দিয়ে বললাম, আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, আপনার স্বামী আপনাকে ভালোবাসেন না।

    শ্রীমতী হাসলেন। বললেন, পুরুষের অভিধানে ‘ভালোবাসা’র অর্থবাহী একটাই শব্দ আছে। সে শব্দটা বড়ো জ্বলন্ত। কিছু মনে করবেন না, খুব কম পুরুষই জানেন ভালোবাসা বলতে কী বোঝায়!

    একটু থেমে বললেন, অথচ উনি যে আমাকে ভালোবাসেন না একথা ওঁকে বিশ্বাস করানো যাবে না। কারণ আমরা একসংসারে ষোলো বছর ধরে রয়েছি, মেয়েটিকে মানুষ করলাম ও এখনও করছি। এখনও বড়ো ডাবল-বেড খাটে নীল আলো জ্বালানো বেডরুমে শুচ্ছি—তবুও কী করে বলি যে আমরা একে অন্যকে ভালোবাসি না? মিস্টার অ্যাণ্ড মিসেস অমুক হয়ে নেমন্তন্নে যাচ্ছি। লোকের সামনে ভালোবাসার অভিনয় করছি। তার পর প্রতিরাতে ফিরে এসে কড়িকাঠ বা ঘুরন্ত সিলিংফ্যান বা দেওয়ালের স্থির টিকটিকির দিকে চেয়ে একটি মৃতদেহ সমর্পণ করছি আমার স্বামীকে। কারণ, এতে তাঁর অবিসংবাদী অধিকার। পাঁচ-শো লোক খাইয়ে, বাজনা বাজিয়ে, খাজনা দিয়ে তিনি আমার শরীরের জবরদখল নিয়েছিলেন আজ থেকে বহু বছর আগে। তাঁর ‘মহাল’ তিনি ভোগ করবেন, এ অধিকার যা দিয়ে রুখতে পারি এমন লাঠিয়াল আমার তো নেই!

    এই অবধি বলে, শ্রীমতী চুপ করে গেলেন।

    আমিও অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম। তার পর চৌকিদারকে ওঁর জন্যে চা আনতে বললাম। বললাম, আপনার যদি এতই অভিযোগ আপনার স্বামী সম্বন্ধে, তো তাঁর সঙ্গে থাকেন কেন? ডিভোর্স করলেই পারেন!

    ভদ্রমহিলা চমকে মুখ তুলে চাইলেন। তার পর খুব অসহায় মুখে বললেন, তার পর? কী করে বাঁচব? আমাকে খাওয়াবে কে? আমি কলকাতার এক অখ্যাত স্কুল থেকে স্কুল-ফাইনাল পাস করেছিলাম। কী আমার যোগ্যতা? কে আমাকে চাকরি দেবে? কী করে চলবে? যাইহোক, তবু তো এই ঘরের আশ্রয়টা আছে। আছে মেয়েকে মানুষ করার দায়িত্বর ঘুমপাড়ানি ওষুধ। তবু এখন শুধু একজনকেই অনিচ্ছুক শরীর সমর্পণ করছি। তখন শুধুমাত্র বেঁচে থাকবার জন্যে কী কী যে করতে হবে তা তো আমার অজানা।

    আমি হঠাৎ প্রশ্ন করলাম, আপনার স্বামী ছাড়া জীবনে আর কেউ আপনার কাছাকাছি আসেননি?

    শ্রীমতীর চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বললেন, এসেছিলেন; এসেছিল। সেই স্মৃতিটুকু নেড়েচেড়েই তো দিন কাটাই।

    কে সেই ভদ্রলোক? আপনার বিয়ের আগে দেখা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? না বিয়ের পরে?

    পনেরো বছর বয়েসেই বিয়ে হয়েছিল আমার, তাই বিয়ের আগের প্রাপ্তবয়স্ক জীবন বলতে আমার সামান্যই ছিল। বিয়ের পরেই দেখা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে।

    হঠাৎই ভদ্রমহিলার চোখে-মুখে কী যেন এক আশ্চর্য নরম মহিমা আরোপিত হয়ে গেল। অনেকগুলো আলো যেন তাঁর বুকের অন্ধকার ঠাণ্ডা ঘরটাতে দপ করে জ্বলে উঠল। ভালোবাসা বা ভালোবাসার স্মৃতি যেমন করে আমাদের সকলের বুকের মধ্যেই জ্বলে ওঠে।

    স্বগতোক্তির মতো উনি বললেন, তখন আমরা দার্জিলিংয়ে—উনি সেখানেই পোস্টেড। ভদ্রলোক ওঁরই নীচে কাজ করতেন। ওঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে জীবনে ভালোবাসা যে কত বড়ো পাওয়া তা বুঝতে পারিনি।

    কী করে আপনাকে বোঝাব যে, উনি আমার সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করতেন। আমার বাঁ-হাতে একটা ব্যথা হত আর্থরাইটিসের তখন। অথচ তখন আমার একমাত্র মেয়ে আড়াই বছরের ছিল। ওকে কোলে-কাঁখে করে দার্জিলিংয়ের উঁচু নীচু পথে আমার স্বামীর সঙ্গে আমাকে যেতে হত এখানে-ওখানে। কোনোদিনও আমার স্বামী আমাকে বলেননি যে, খুকুকে আমার কোলে দাও। তোমার কষ্ট হচ্ছে। অথচ উনি দেখতে পেলেই দৌড়ে আসতেন। আমার কোল থেকে কেড়ে নিয়ে খুকুকে কোলে নিতেন। বলতেন, বউদি! আপনার কষ্ট হচ্ছে; আমাকে দিন।

    কোথাও কখনো একসঙ্গে খেতে বসে উনি সব সময়ে চোখ রাখতেন, আমি খাচ্ছি কি না? আমার জন্যে খাবার আছে কি না? মানে, আমার স্বামী কখনো যা আমাকে দেননি বা দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে বুঝতেও পারেননি সেইসব সামান্য অথচ অসামান্য দানে উনি আমাকে সবসময়ই ভরিয়ে রাখতেন। মন আমার সবসময় কৃতজ্ঞতায়, ভালো লাগায় ওঁর প্রতি নুয়ে আসত। উনি আমাদের বাড়ি এলে, ওঁর জন্যে চা এনে ওঁর সামনে দশ মিনিট বসে থাকলে মনে হত যেন এক দারুণ পাওয়া পেলাম। তাঁর গলার স্বর, তাঁর চোখ-চাওয়া, সব যেন আমার কাছে দারুণ রোমান্টিক লাগত। মনে হত একেই বুঝি ভালোবাসা বলে।

    বললাম, এবার চা-টা খান। ঠাণ্ডা হয়ে যাবে একেবারে।

    তার পর শুধোলাম, আপনি কখনো সেই ভদ্রলোকের শরীর চাননি? শুধু কি মনই চেয়েছিলেন?

    শ্রীমতী হঠাৎ চমকে উঠলেন। পেয়ালা-ধরা হাতটা যেন একবার কেঁপে গেল।

    বললেন, মিথ্যা বলব না আপনাকে। চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি খুব লাজুক ছিলেন। কখনো আমার কাছে শারীরিক কিছু দাবি করেননি। ইচ্ছে হয়তো ওঁর ছিল। কিন্তু সে ইচ্ছে কখনো প্রকাশ করেননি। মনে পড়ে, একবার আমার স্বামী ট্যুরে গেছিলেন। আমি খুকুকে নিয়ে একা ছিলাম। উনি আমাদের পাশের বাংলোয় থাকতেন। সে সময়ে আমরা দুজনে দুজনের মনের খুব কাছাকাছি এসেছিলাম। কিন্তু শরীরের নয়। উনি ব্যাচেলার ছিলেন এবং স্বভাবত ভদ্রলোক ও রুচিসম্পন্ন বলে শরীরের চেয়ে মনকেই বোধ হয় বেশি দাম দিতেন।

    আমি চুপ করে রইলাম কিছুক্ষণ। তার পর শুধোলাম, আপনার স্বামী আপনাকে আমার সঙ্গে দেখা করতে দিলেন?

    উনি হাসলেন। বললেন, উনি এখানে নেই। নইলে একা নিশ্চয়ই আমাকে আসতে দিতেন না। সঙ্গে আসতেন।

    আমি হেসে বসলাম, কেন? সাহিত্যিকরা বুঝি খুব খারাপ লোক হন?

    উনিও হাসলেন। বললেন, না, তা নয়। তবে উনি কখনোই আমাকে একা কোথাও যেতে দেন না। ওঁর নিজের প্রয়োজন ছাড়া। উনি কাল গেছেন ইম্ফলে। অফিসের কাজে। তাই এত কথা একা একা বলতে পারলাম আপনাকে।

    আমি বললাম, তা তো হল কিন্তু আমার ওপর রাগের কারণটা যে এখনও বোঝা গেল না।

    শ্রীমতী বললেন, হয়তো আমি বুঝিয়ে বলতে পারলাম না। তা ছাড়া, এ হয়তো রাগ নয়; অভিমান। তার পর হঠাৎই বললেন, এবার আপনি আমাকে কিছু বলুন। আমার জীবনের এই অতৃপ্তি, এই অশান্তি সম্বন্ধে একজন লেখকের কী বলার থাকতে পারে তা আমি শুনতে চাই। বলুন, প্লিজ।

    আমার কী মনে হয় জানেন? সমস্ত বিবাহিত মহিলারাই ‘কোয়েলের কাছে’র বউদিরই ছায়া। যদি কোনো বিবাহিতা মহিলা আমাকে বলেন, মানে, এমন মহিলা, যাঁদের অন্তত পাঁচ বছর বিয়ে হয়ে গেছে; যে স্বামী ছাড়া অন্য কেউই তাঁদের মনে দাগ কাটেননি, তাঁরা মিথ্যে কথা বলেন; শারীরিক সম্পর্কটা বড়ো কথা নয়। শরীর, আমার মনে হয়, চিরদিনই ইনসিডেন্টাল ছিল; এবং চিরদিনই থাকবে। আসল হল মন। মানুষের মনের মতো দামি জিনিস তার তো আর কিছুই নেই। মনে মনে যাকে সব কিছু দেওয়া যায়, তাকে শরীরটা দেওয়া তো কিছুই নয়। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই শরীরের বাধা ছাড়িয়ে মনকে দেখতে পাই না। আমাদের চোখ, বিশেষ করে পুরুষের চোখ; শরীরেই থেমে থাকে। শরীর পেরিয়ে শরীরের চেয়ে বহুগুণ দামি মনে পৌঁছোয়ই না।

    উনি বললেন, তার পর?

    আসলে কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার কোনো ঝগড়াই নেই। যে স্বামীরা চিরদিন জেগে থাকতে চান, পাহারা বসিয়ে স্ত্রীর শরীর ও মনের জমিদারির মালিকানা বজায় রাখতে চান, তাঁরা জানেন না যে, লখিন্দরের বাসরঘরের লোহার ঘরেও সূক্ষ্ম শরীরে সাপের মতো প্রেমের প্রবেশ সম্ভব। জোর করতে গেলে, বাধা দিলে; সেই সূক্ষ্ম প্রেমকে শুধু ত্বরান্বিতই, ব্যাপ্তই করা হয়। আমার তো মনে হয়, আপনার উচিত আপনার স্বামীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকা। কারণ তাঁর ব্যবহারই আপনার জীবনে অন্য কাউকে জানতে দিয়েছিল, কাছে আসতে দিয়েছিল মনের।

    আরও বলুন। খুব ভালো লাগছে শুনতে।

    উনি বললেন।

    আপনি বোধ হয় জানেন না বা খোঁজ রাখেন না যে, জীবনের যেকোনো সম্পর্কেই অভ্যাস ও দস্তুরটাই বড়ো। সব সম্পর্ক পুরোনো হলে, একঘেয়ে হলে, তাতে ক্লান্তি ও বিরক্তি আসেই। খুব কম লোকই জানেন, সম্পর্ক নতুন রাখতে। এবং ‘সম্পর্ক’ কথাটার মানেটা কী?

    অথচ পৃথিবীটাই এরকম! এরমধ্যেই আমাকে, আপনাকে, আমাদের সবাইকেই বাঁচতে হবে। তাই পথ চলতে যতটুকু ভালোবাসা, ভালো ব্যবহার পাওয়া যায়, তাই মনের কোণে জমিয়ে রাখতে হয়। এমন কোনো বর্ষার দিনে, একা জানলায় বসে, ঘরের ভেতরের অন্ধকারকে ভুলে গিয়ে ঘরের বাইরের একখানি আলোকিত বারান্দার দিকে চেয়ে কেয়াফুলের গন্ধভরা বাতাসে মুখ তুলে জীবনের গ্লানিকে ভুলতে চেষ্টা করতে হয়।

    আপনাদের সাহিত্যিকদের জীবনও কি সেরকমই?

    আমাদের প্রত্যেকের জীবনই, সাহিত্যিকের জীবনও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্ধকার ঘরটাই বাস্তব। তারমধ্যেই বছরের সব দিন গোনা। তবু আবার প্রত্যেক নারী ও পুরুষের জীবনেই একটি করে আলোকিত বারান্দাও থাকে। সে বারান্দার স্বপ্ন দেখেই আমাদের প্রত্যেকেরই দিন কাটে। কখনো কখনো বা আমরা প্রত্যেকে মহুয়ার গন্ধ-ভরা কোনো সুন্দর চাঁদনি রাতে বা স্তব্ধ শীতের সোনালি দুপুরে পা টিপে-টিপে সেই বাসমতী বারান্দায় এসে দাঁড়াই। সেখানে এসে দাঁড়ালেই আমাদের বুকের মধ্যে তোলপাড় করে। ইচ্ছে করে, সমস্ত জীবন এই বারান্দাতেই আনমনে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু তা তো হয় না!

    কেন হয় না? হয় না কেন?

    হঠাৎ কোনো দাঁড়কাক কর্কশ গলায় ডেকে ওঠে। কোনো দানবীয় দোতলা বাস ডিজেলের ধোঁয়া ছড়িয়ে কুৎসিত গর্জন করে মাথার মধ্যের সব মিষ্টি-দুষ্টু ইচ্ছেগুলোকেপিষে দিয়ে চলে যায়। ঘরের মধ্যে থেকে স্বামী বা স্ত্রী বা ছেলে-মেয়েরা সেই একঘেয়ে, পুরোনো সামাজিক চাহিদা বা কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভিতরপানে ডাক দেয়। আমরা সকলে এবং প্রত্যেকেই তাড়াতাড়ি আবার ঘরের অন্ধকারে ফিরে আসি। অভ্যেসে, একঘেয়েমিতে; সংসারের জাঁতাকলে। আমরা প্রত্যেকেই চোখের আড়ালে কান্না লুকিয়ে বেড়াই, হাসিখুশি আমরা প্রত্যেক বিবাহিত স্ত্রী ও পুরুষ। কখনো-সখনো, ন-মাসে ছ-মাসে, ঘুমে বা স্বপ্নে বা জাগরণে যখনই সেই আলোকিত বারান্দায় এসে দাঁড়াই একা একা; তখনই সেই শুকিয়ে-রাখা চোখের জল বাইরে আসে। চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।

    আমি জানি না, আপনাকে বোঝাতে পারলাম কি না যে, আপনার জীবনে, আমার জীবনে; ঘর এবং বারান্দা দুটোই সত্যি। দুটোই অবিচ্ছেদ্য। ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন ঘরের মধ্যে নি:শ্বাস নিই। এবং প্রশ্বাস ফেলি। এবং সেই একফালি স্বপ্নের আলোকিত ও বা’য় বারান্দাটুকুর জন্যেই বেঁচে থাকি। আপনি বাঁচেন, আমি বাঁচি; আমরা সকলে বাঁচি।

    শ্রীমতী চুপ করে উদাস চোখে বাইরের দিকে চেয়ে রইলেন।

    হঠাৎ আমার মনে হল, এত কথা বললাম, বানিয়ে বললাম না তো? এ কি আমার মনের কথা? এ কি সত্যি কথা? কথাগুলো কি বাইরের পাগল হাওয়ার সঙ্গে ভেসে গেল? না ওঁর মনে পৌঁছোল?

    শ্রীমতী আমার দিকে মুখ ফেরালেন। দেখলাম, তাঁর দু-চোখে জল টলটল করছে। উনি বিদায়-সম্ভাষণ পর্যন্ত জানালেন না।

    উঠে দাঁড়িয়ে, হাতটা জড়ো করলেন বুকের কাছে।

    বারান্দা পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাবার সময়ে, মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন, ঘরে ফেরার সময় হল।

    দেখলাম, ওঁর জল-ভেজা মুখে এক আশ্চর্য প্রসন্ন হাসির আভাস ফুটে উঠেছে।

    আমি বারান্দাতেই বসে রইলাম।

    ঘরটা বড়ো অন্ধকার; বড়ো স্যাঁতসেঁতে।

    আমি বারান্দাতেই বসে রইলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রত্যানীত – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }