Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    July 25, 2026

    বর্ষায় – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (গল্পগ্রন্থ)

    July 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বর্ষায় – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (গল্পগ্রন্থ)

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প191 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ল্যান্সডাউন ও বিপিন পাল – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    ল্যান্সডাউন ও বিপিন পাল

    কলিকাতা কংগ্রেসী কর্পোরেশনের মতিচ্ছন্ন ধরিয়াছে। গুরু লঘু জ্ঞান হারানো মতিচ্ছন্ন ধরারই লক্ষণ বৈকি, আর ল্যান্সডাউন-বিপিন পালের প্রভেদ না বোঝা গুরুলঘুভেদজ্ঞানের অভাব বলিব না তো কি বলিব?

    ল্যান্সডাউন কে ছিল? –ও প্রশ্ন তুলিয়া আর ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিবেন না। কথাটা জিহ্বাগ্রে লইয়া একবার মুখের মধ্যে নাড়াচাড়া করুন দেখি—একবার টাগরায় ফেলুন, একবার এ-গালে নিন, একবার ও-গালে…কেমন—আভিজাত্যের রসে মুখটা ভরিয়া উঠিতেছে না?—’ল্যান্সডাউন’ ওই জিনিস! ইট স্ট্যান্ডস ফর ডিগনিটি, ইট স্ট্যান্ডস ফর অ্যারিস্টোক্র্যাসি; ল্যান্সডাউন ইজ ল্যান্সডাউন, অ্যান্ড ইজ নট টু বি কাপল্ড, উইথ ইওর বিপিন পলস্ অর্ ভোপেন বোসেস্। (it stands for dignity, it stands for aristocracy; Lansdowne is Lansdowne and is not to be coupled with your Bepin Pauls or Bhopen Boses. —ল্যান্সডাউন মহত্ত্ব আর আভিজাত্যের প্রতীক; ল্যান্সডাউন ল্যান্সডাউনই—ওর সঙ্গে তোমাদের ওই বিপিন পাল কি ভূপেন বোসকে মিশ খাওয়াতে গেলে চলবে না।)

    বাক্যগুলা আমার নয়, একজন অ্যারিস্টোক্র্যাটেরই। ব্যারিস্টার বিরাজশঙ্কর মৌলিক (B. S Molek) শ্বশুরের পয়সায় বৈঠকখানা রোড থেকে বিলাত যান। সেখানে মনে যে সব উচ্চাশা জন্মগ্রহণ করে তাহার মধ্যে ল্যান্সডাউন রোড ছিল একটি। বহুদিন ঠাঁই হয় নাই, সম্প্রতি কর্পোরেশন রাস্তাটি একটু বাড়াইয়া দেওয়ায় একটি ছোটখাটো বাড়ি তুলিয়াছেন। বনেদী ল্যান্সডাউনে হইল না—আহা, তবুও তো ল্যান্সডাউনই?—নয়াপুরানোর প্রভেদ ঘুচিতে কতদিন লাগিবে?

    এমন সময় খবর পাওয়া গেল কংগ্রেসী কর্পোরেশনের মতিচ্ছন্ন ধরিয়াছে,—কথা উঠিয়াছে নূতন রাস্তাটির নামকরণ হইবে বিপিনচন্দ্র পাল রোড।

    মৌলিক বার-লাইব্রেরিতে একটু উষ্ণ গুঞ্জন তুলিবার চেষ্টা করিল। তাহার বিলাতের সঙ্গী রঞ্জন বোসের কাঁধে হাতটা চাপিয়া প্রশ্ন করিল— “শুনচ হ্যা, ল্যান্সডাউন এক্সটেনশন যেটাকে বলচি আমরা এখন, কর্পোরেশন সেটার নাম করেচে বিপিনচন্দ্র পাল রোড!”

    রঞ্জন বনেদী ল্যান্সডাউনের বাসিন্দা; ঘুরিয়া পাঁশনেটা নাক থেকে সরাইয়া প্রশ্ন করিল—“ইউ রিয়েলি ডোন্ট মীন দ্যাট!” (You really don’t mean that! তাই নাকি? ঠাট্টা নয় তো?)

    –“আই মীন নাথিং লেস; সী” (I mean nothing less; see — মোটেই নয়, দেখো বরং)—বলিয়া মৌলিক হাতের সংবাদপত্রটার একটা স্থানে নখ টিপিয়া রঞ্জনের সামনে ধরিল। রঞ্জন চশমাটা আবার যথাস্থানে বসাইয়া ভীতভাবে বলিল—“আই ওয়ান্ডার হোয়াট দে আর আপ টু নেক্সট উইথ দেয়ার খ্যাডার মেন্টালিটি।” (I wonder what they are up to next with their khaddhar mentality—ওদের এই খদ্দরি মন নিয়ে ওরা এর পরে যে আরো কি করে বসবে তাই ভাবি!) একটা মোকদ্দমায় নথি ঘাঁটিতেছিল, ঘুরিয়া আবার মনঃসংযোগ করিল।

    মৌলিক মনের উত্তেজনায় একজন প্রবীণ সাহেব ব্যারিস্ট্যারকে বলিল দুঃসংবাদটা। সাহেব মৃদু হাসিয়া তাহার কাঁধে লঘু আঘাত করিয়া বলিল—“সোব চরখা হৈয়া যাবে মি. মোলেক; আই উইল লিভ টু সী দ্যাট…” (I will live to see that—মরব না—দেখে যাব।)…হাঃ, হাঃ, হাঃ,…”

    প্রাচীন অ্যাডভোকেট মিস্টার রয়চৌধুরীও নুতন রাস্তায় বাড়ি করিয়াছেন, উৎসাহভরে মৌলিক তাঁহাকেও খুঁজিয়া বাহির করিল। ব্যস্ত ছিলেন, বলিলেন—“সত্যি নাকি? একটু ভালো করে খোঁজ নাও তো। আমিও পালের নামটা সেদিন সাজেস্ট করেছিলাম একজন কাউন্সিলারের কাছে….নামটা মনে আসছে না…”

    একজন ছোকরা ব্যারিস্টার আলোচনাটা শুনিতেছিল। মিস্টার রায়চৌধুরী চলিয়া গেলে মৌলিক অবজ্ঞাভরে বলিল—“দ্যাটস্ হোয়াট আই কল ভার্নাকুলার মেন্টালিটি;” (Thats what I call vernacular mentality!)—একেই নিছক দেবী মনোভাব বলি।

    কোর্টে তেমন জমিল না, জমিবার কথাও নয়। বাড়ি আসিয়া কিন্তু মৌলিক সদ্য সদ্য এক তুমুল আন্দোলন শুরু করিয়া দিল; রাস্তার দুধারে যাহারা বাড়ি তুলিয়াছে তাহাদের অনেকের সহিতই সেই দিনই দেখা করিয়া ফেলিল, এবং বিপদের কথাটা জানাইল। উকিল, ব্যারিস্টার, ডাক্তার, ব্যবসাদার, নানারকমের লোক। অনেকে জানিত, তাহার মধ্যে কয়েকজন মনে মনে একটু নিরাশও হইয়াছিল, কিন্তু মনের ভাব প্রকাশ করিবার সুযোগ বা যৌক্তিকতা খুঁজিয়া পাইতেছিল না, সঙ্গী পাইয়া তাঁহারা স্পষ্টভাবে নৈরাশ্য জানাইল এবং চটিল। যাহারা গায়ে মাখে নাই, উদাসীন ছিল—অর্থাৎ যাহাদের ল্যান্সডাউন, কি বিপিন পাল কি সওদাগর মুন্সি—যে কোনো একটা নাম হইলেই চলিত তাহারাও আভিজাত্যের নেশার মাতিয়া উঠিল। দু’একজন সাহেব — আর্মেনিয়ান আছে, তাহারা তো যোগ দিলই। একটু পিছনে থাকিয়া, একজন মাড়োয়ারি খানিকটা জমি লইয়া খানকয়েক বাড়ি তুলিতেছে, বলিল—“হামি ও সব অ্যারিস্টোকেসিফেসি সমঝে না; মকানকা ভ্যালুয়েশন ঘটনেসে ড্যামিজস্যুট লে আবেগা!”

    আন্দোলনটা কয়েকদিনের মধ্যেই বেশ ঘোরাল হইয়া উঠিল। কিন্তু বেশ কেন্দ্রীভূত না করিয়া ফেলা পর্যন্ত লাগসই হইতেছে না। মৌলিক প্রমুখ কয়েকজন খুব মাথা ঘামাইতে লাগিল এবং তাহাদের ঘর্মাক্ত মস্তকের উষ্ণতায় সমস্ত আবহাওয়াটা উষ্ণতায় উত্তপ্ত করিয়া তুলিল।

    রঞ্জন এর মধ্যে ছিল, বলিল—“আই হ্যাভ, এ ব্রেন ওয়েভ, বিরাজ, লেট আস টেক এ লীফ আউট অব দি হাক মিনিস্ট্রিজ বুক” (I have a brain wave, Biraj, let us take a leaf out of the Huq ministry’s book; –আমার মাথায় একটা মতলব এসেছে, বিরাজ;–এসো, হক মিনিস্ট্রির পন্থা অবলম্বন করা যাক)—“মানে, কর্পোরেশনের ইউরোপীয়ান গ্রুপকে ভাঙাও, হোয়াট আর দে দেয়ার ফর ইফ নট টু হেল্প আস আউট অব স্যচ স্ক্রেপ্স (What are they there for, if not to help us out of such scraps—এই রকম সব বিপদ থেকে ওরা যদি আমাদের টেনে না তুলতে পারে তো আছে কি করতে?”

    মৌলিক বিপুল বিস্ময়ে তাহার মুখের পানে চাহিয়া বলিল—“ইউ আর এ ব্রিক রঞ্জন!” (You are a brick Ranjan –তুমি একখানি রত্ন।) “কিন্তু কথা হচ্ছে হাউ টু ডু ইট” (How to do it?—ওটা ঘটানো যায় কি করে? )

    রঞ্জন বুড়া আঙুলের নখ দাঁতে খুঁটিতে খুঁটিতে গূঢ় সঙ্কেতের সহিত বলিল—“ভাবা হয়ে গেছে— ডিনার,—ল্যান্সডাউন ডিনার!” Dinner – Lansdowne Dinner! —ল্যান্সডাউন ভোজ। মৌলিক বিস্ময়ে, প্রশংসায় হর্ষে খানিকক্ষণ একেবারে নির্বাক হইয়া রহিল, তারপর একটু নিরুৎসাহ হইয়া বলিল—“কিন্তু টাকা!”

    —“তাও ভেবে রেখেচি,—ফাদার-ইন-ল—পরমপূজনীয় শ্বশুরঠাকুর গৌরীসেনকল্পেষু…”— বলিয়া সামনে পিছনে দুলিয়া দুলিয়া হো-হো করিয়া হাসিয়া উঠিল।

    মৌলিক একটু হাসিল, তারপর ডাইনে-বাঁয়ে মাথা নাড়িয়া বলিল—“নো গো (No go– হবার নয়।) তবে দাঁড়াও—হয়েছে—আমার প্রতিভাও এবার জেগে উঠেছে—শেঠজিকে ধরা যাক— সেন্টিমেন্টের ধার ধারে না—যদি হিসাব খতিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া যায় ডিনারের দামটা শেষ পর্যন্ত বাড়ির ভ্যালুয়েশনকে পুষ্ট করবে—শেঠজি ঠিক নেমে পড়বে। দিব্যি প্ল্যান-ল্যান্সডাউন ডিনার!— স্পীচেস-ল্যান্সডাউন জিন্দাবাদ!—ডাউন উইথ বিপিন পাল!…কিন্তু তোমার প্ল্যানটাকে আরো মডিফায়েড করতে হবে।—ইউরোপীয়ান গ্রুপকে সোজাসুজি ধরলে হবে না, খরচও অনেক। হিয়ার দি অরিজিনাল জিনিয়াস অব দি মৌলিক ব্র্যান্ড কম্‌স্ ইন। (Here the original Genius of the Maulik brand comes in,–এইখানে মৌলিক মার্কা আদি মুল প্রতিভার আবির্ভাব)। মৌলিক মানে, —অরিজিনাল, জানোই। আমি লোকও ঠিক করে ফেলেচি মনে মনে,—ম্যাকার্থি হে, তোমার শ্বশুরের বাড়ির সামনেই প্রকাণ্ড কম্পাউন্ডওয়ালা বাড়ি। মস্ত বড় মার্চেন্ট আর ইউরোপীয়ান মহলে হিউজ ইনফ্লুয়েন্স, আর এবভ্ অল—স্কচ, বাঙাল; ডাণ্ডীতে (Dundee), বাড়ি, সে হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বাঙাল বলতে পারো; মাথায় একটা আইডিয়া ঢুকিয়ে দিলে না করে ছাড়বে না। ফাদার-ইন-ল’র সঙ্গে খুব দহরম-মহরম—আমাকেও চেনে, ধরা সহজ হবে।”

    ল্যান্সডাউন ডিনার—গেস্ট অব অনার স্যর অমুক ম্যাকার্থি, কে. টি. এটসেটরা—ওর ক্রিশ্চান নেম আর ডেররেশনগুলো জেনে নিতে হবে…সিভিয়ার কনডেমননেশ্যন অব কংগ্রেস কর্পোরেশন মেথড্রস। (কংগ্রেস কার্যপদ্ধতির তীব্র নিন্দা)… বোল্ড হেডলাইন দিয়ে স্টেটসম্যানে বেরুবে। কর্পোরেশনের একেবারে গোড়া পর্যন্ত নেড়ে ছেড়ে দেব; মিস্টার জাকেরিয়া উইল সিমপ্লি হ্যাভ টু শেক ইন হিজ শুজ।…বিপিন পাল, ইনডীড!… (Mr. Zakaria will simply have to shake in his shoes. Bepin Paul, indeed!) মি. জাকেরিয়ার থরহরি কম্প লাগিয়ে দেবে। বিপিন পাল—বটে!

    সকলের পরামর্শে তাহাই ঠিক হইল। একজন ইউরোপীয়ানকে খাওয়াইয়া যদি ইউরোপীয়ান যজ্ঞের ফল পাওয়া যায় তো সেই ভালো; তাহা ভিন্ন গোড়া হইতে সব ইউরোপীয়ানদের ডাকিয়া একটা হল্লা করিয়া ফেলা সমীচীন নয়। এদিকে ডিনারের সুবিধাও অনেক, সব মাথাকে একত্রিত করিতে হইলে সব রসনাকে লুব্ধ করার চেয়ে ভালো ফন্দি আর নাই। শেঠজি বাঙালির বাচ্ছা মৌলিক রঞ্জনের চেয়ে হিসাব জিনিসটা ঢের বেশি বোঝে, ফাঁকা আওয়াজের ওপর সমস্ত ডিনারের খরচটা গছিয়া লইবার পাত্রই নয়, তবুও একটা মোটা চাঁদা দিল, বাকি টাকাটা নিজেদের মধ্যেই তুলিতে হইল, বৈঠকখানা রোডের যে ভদ্রলোকটি মৌলিকের হস্তে কন্যা সমর্পণ করিয়াছিলেন প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ তাহারও কিছু খসিল।

    ম্যাকার্থির ভাবটা মৌলিক নিজে লইল এবং শ্বশুরের একটা চিঠি লইয়া গিয়া একদিন বাসায় দেখা করিল। লোকটা বুড়ো ঘাঘি, তেত্রিশ বৎসর যাবৎ কত বিচিত্র ঘটনা সংঘাতের মধ্য দিয়া অটুট একাগ্রতার সঙ্গে এদেশের মাটির রস শোষণ করিয়া আসিয়াছে। অনেক অভিজ্ঞতা।…খুব সহানুভূতি দেখাইল। বলিল —“ইয়ং ম্যান, তোমাদের মধ্যে এরকম সিভিক সেন্স (নাগরিক মনোবৃত্তি) দেখে আমি আবার ভারতবর্ষ সম্বন্ধে আশান্বিত হচ্ছি। আমার সাহায্যের ওপর তোমরা পূর্ণভাবেই নির্ভর করতে পারো— ইউরোপীয়ান গ্রুপ যে শেষ রেখা পর্যন্ত লড়বে এ একরকম আমি কথাই দিচ্ছি তোমায়—তাদের না জিজ্ঞেস করেই।…ল্যান্সডাউন ডিনারে অধ্যক্ষতা করতে বলবার জন্যে ধন্যবাদ; আর কে কে আসবেন? “ মৌলিক নাম করিতে লাগিল। গোটা চার-পাঁচ শুনিয়া সাহেব বলিল —“না, কোনো ইউরোপীয়ান ভদ্রলোক আছেন কিনা?”

    মৌলিক একটু আমতা আমতা করিয়া বলিল—“না, তাঁদের যোগ্যতম প্রতিনিধি হিসাবে আপনাকেই ডেকেছি আমরা। প্রথম বারেই সবাইকে ডেকে একটা তুলকালাম করা সবার মত হল না।” সাহেবের মুখটায় একটু ছায়া উঠিয়াই মিলাইয়া গেল;—মৌলিক বোধ হয় লক্ষ করিবারও সময় পাইল না। বলিল—“বেশ তা আমি নিশ্চয় যাব, আর আমার সহানুভূতির কথা বললামই—একচুলও নড়চড় হবে না…ধন্যবাদ মিস্টার মোলেক রাইট-ইও; তোমার শ্বশুরকে আমার অভিবাদন জানিয়ো।”

    ঘরের বাহির পর্যন্ত আসিয়া উষ্ণ করমর্দনের সঙ্গে বিদায় দিল। মৌলিক আসিয়া বলিল—“কেল্লা ফতে।”

    ডিনার হইল মৌলিকের বাড়িতে। একটু খুঁত থাকিয়া গেল, ম্যাকার্থি সাহেব আসিতে পারিল না, একটা চিঠি লিখিয়া জানাইল সে হঠাৎ একটু অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছে, তাহাকে ক্ষমা করিতে হইবে।

    ডিনার কিন্তু নিতান্ত অসফল হইল না। খুব চোখা চোখা স্পীচ ম্যাকার্থি থাকিলে বোধ হয় একজন সাহেবের সামনেই যাহারা তাহার মাতৃভাষার কোরবানি করিতে কুণ্ঠিত হইত তাহারা পর্যন্ত প্রাণ খুলিয়া বক্তৃতা করিল। ঠিক হইল রাস্তা তো বিপিন পালের নাম দিয়া কলুষিত করিতে দেওয়া হইবেই না; অধিকন্তু আশেপাশে ল্যান্সডাউন রোডের সংলগ্ন কোণকান যেখানে যা আছে সমস্তগুলাকে যোগ্যতা অনুযায়ী ল্যান্সডাউন স্পার (Lansdowne spar), ল্যান্সডাউন ক্রিসেন্ট (Lansdowne cresent), ল্যান্সডাউন কর্নার (Lansdowne corner) প্রভৃতি উপযুক্ত নাম দিয়া আভিজাত্য-গৌরবমণ্ডিত করিতে হইবে। কংগ্রেসী কর্পোরেশন উত্তর কলিকাতা তাহাদের ঘোষ বোস- মিত্তির-পালে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলুক, পূর্বে দক্ষিণেও তাহাদের ঔদ্ধত্য চরিতার্থ করিবার অনন্ত পথ খোলা আছে; কিন্তু তাহারা যদি ল্যান্সডাউন রোডের পবিত্র গণ্ডির মধ্যে পা বাড়াইতে যায় তো তাহাদের অপরিণামদর্শিতার জন্য পরিতাপের আর অন্ত থাকিবে না। বুঝিয়া-সুঝিয়া, ভাবিয়া-চিন্তিয়া অগ্রসর হোক!… ইউরোপীয় গ্রুপের সহানুভূতি জ্ঞাপনের জন্য ম্যাকার্থিকে ধন্যবাদ দেওয়া হইল। তিনি অসুস্থ হইয়া পড়ার জন্য সকলেই বিশেষ দুঃখিত। স্থির হইল এই দুঃখের কথা এবং সমবেত মণ্ডলীর আন্তরিক ধন্যবাদ মিস্টার মৌলিক গিয়া স্বয়ং ম্যাকার্থি সাহেবকে জানাইবেন এবং এও বলিবেন তিনি শারীরিক অনুপস্থিত থাকিলেও তাঁহার আশাময়ী বাণী ল্যান্সডাউন ডিনারের সাফল্যে পূর্ণভাবেই সাহায্য করিয়াছে।

    পরদিন সকালেই মৌলিক হাজিরা দিল। সাহেব বিশেষ দুঃখ প্রকাশ করিল,–একেবারে শেষমুহূর্তে তাহার শরীরটা একটু অসুস্থ হইয়া পড়িল।…কিন্তু মিস্টার মৌলিক এবং বিপিন পাল-বিরোধী মহোদয়েরা যেন জানেন ইউরোপীয়ান গ্রুপের সাহায্য সম্বন্ধে তিনি যে কথা দিয়াছেন তাহার নড়চড় হইবে না। একটু সুযোগও সামনে আছে, — সামনের শনিবারে পেলিটিতে তাহাদের ডান্ডী ডিনার, (Dundee dinner)। কর্পোরেশনের ইউরোপীয়ান কাউন্সিলারদের অনেকেই উপস্থিত থাকিবেন—কথাটা সেইখানেই পাড়িবেন।

    কাচপোকার কবলে পড়িয়া আরশোলা কাচপোকা হইয়া যায়।—ইচ্ছায় হয়, কি অনিচ্ছায় হয় জানি না, তবে নাকি হয়। মানব সমাজের একপ্রান্তে অনুরূপ একটা ঘটনা ঘটে। সাহেবের সংসর্গে আসিলে বাঙালি সাহেব হইয়া যায়,—ঠিক হইয়া যায় বলিতে পারি না, তবে ভাবে—হইয়া গিয়াছি। সাহেব কাচপোকাকে আয়াস করিতে হয় না,—দু’বার একটু দেখা করা, দুটা মিষ্ট কথা—বারদুয়েক করমর্দন—এইতেই রূপান্তরের পালা আরম্ভ হইয়া যায়।…

    ‘পেলিটি’তে ‘ডাণ্ডী ডিনার’! —কী সম্মোহন শব্দটার মধ্যে!… মৌলিক একটু মাথাটা নীচু করিল, তাহার পর অন্তরের লালসা চাপিতে না পারিয়া মুখটা তুলিয়া একটু অপ্রতিভভাবে বলিয়া ফেলিল— “সেখানে—ইয়ে—আমার নিজের তাঁদের অনুরোধ করবার সুবিধা হতে পারে না, স্যার?”…

    ম্যাকার্থির মুখে ছায়াটা যেন এবার একটু বেশি গাঢ় হইয়া পড়িল কিন্তু তখনই সামলাইয়া লইয়া উৎসাহের সহিত বলিল—“ও ইয়েস, টু বি স্যুয়র মিস্টার মোলেক, ইউ উইল হ্যাভ এ কার্ড; ইন ফ্যাক্ট, উই উড ফীল অনার্ড। (Oh, yes, to be sure Mr. molek, you will have a card; in fact, we would feel honoured.—হ্যাঁ, নিশ্চয় তুমিও একটি নিমন্ত্রণ পত্র পাবে; আসলে তুমি উপস্থিত হলে আমরা গৌরবান্বিতই হব।)

    আবার ঘরের বাহির পর্যন্ত আসিয়া করমর্দন করিয়া বিদায় দিল।

    .

    শনিবার রাত্রি। ডিনার হলের দরজার সামনে নিখুঁত ডিনার সুট পরা একটি বাঙালি যুবক উপস্থিত হইল। বেয়ারা আসিয়া সামনে দাঁড়াইয়া একটু বিস্মিতভাবে সেলাম করিয়া বলিল —“সাহেব লোগকা ডিনার হ্যায় হুজুর।” যুবক পকেট হইতে কার্ড বাহির করিয়া হাতে দিল। বেয়ারা আর একটা সেলাম করিয়া বলিল—“তব্ ভি, সাহেব নেহি হোনেসে মানা হ্যায় হুজুর।”

    মৌলিকের ভ্রূজোড়া অধৈর্যতায় কুঞ্চিত হইয়া উঠিল। কয়েক জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের হাতে অতিরিক্ত রকম বাধা পাইয়া তাহার দেরি হইয়া গিয়াছিল। একটু চিন্তা করিল, পকেট হইতে একটা পাঁচ টাকার নোট বেয়ারার হাতে দিয়া বলিল—“কার্ডঠো ম্যাকার্থি সাহেবকো দেও। হাম ইয়া ঠাড়া হ্যায়।”

    ম্যাকার্থির চোখে, গালে তখন রঙ ধরিতে শুরু হইয়াছে। কার্ডটা হাতে লইয়া একবারে দাঁতে দাঁতে চাপিয়া ইংরাজি—অথবা খাঁটি স্কচ ভাষায় কি একটা বলিল, তাহার পর বেয়ারার দিকে চাহিয়া হিন্দিতেই বলিল—“বেঙ্গলী বাবুকো বোলো-খালি হিন্দুস্টানীকা ডিনারমে আলি সাহেব লোগ নেহি যাটা, ইসিবাস্টে হামারা বেমারি হুয়াঠা; অওর, আলি সাহেবলোগকা ডিনারমে হিন্দুস্টানী নেহি আ সাটা–বাবুকা ভি বিমারি কা চিঠি আনা চাহটা ঠা। যাও।” (বাঙালি বাবুকে বলো যে খাঁটি হিন্দুস্থানীদের ভোজে সাহেবরা যেতে পারে না, সেই জন্যই আমার অসুখ হয়েছিল, তেমনি খাঁটি সাহেবদের ভোজেও হিন্দুস্থানীদের প্রবেশ নিষেধ, বাবুরও অসুখের চিঠি আসা উচিত ছিল)।

    আবার ঘুরিয়া ডাকিয়া বলিল—“ইউ! শুনো,—বাবুকো বোলো—সাহেবলোগ হেল্প করেগা, মডট্ করেগা, ইস্ বাস্টে কে—আলি সাহেব ল্যান্সডাউকে সাঠ কোই কালা আডমিকা নাম নেহি মিল সাটা। যাও,—গেট্‌ অ্যাওয়ে।”

    আবার একটা খাঁটি স্কচ্ গালাগাল দাঁতে পিষিয়া ঘুরিয়া ডিনারে প্রবৃত্ত হইল।”*

    —

    * কাহিনীটির ভূমিকা ১৩৪৫-এর ভাদ্র সংখ্যা প্রবাসীর বিবিধ প্রসঙ্গে পাওয়া যাইবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগজনবীর দেশ থেকে সোমনাথের পথে
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026
    Our Picks

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    July 25, 2026

    বর্ষায় – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (গল্পগ্রন্থ)

    July 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }