Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    July 25, 2026

    বর্ষায় – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (গল্পগ্রন্থ)

    July 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বর্ষায় – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (গল্পগ্রন্থ)

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প191 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রায়ট – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রায়ট

    একটা রায়ট হইয়া গেল।

    ‘রায়ট’ কথাটাই ব্যবহার করিলাম। ‘দাঙ্গা’য় জিনিসটার বিষাক্ততা, জিনিসটার ক্রূরতা ঠিক প্রকাশ পায় না। ‘মারামারি’ কথাটা তো একেবারে অচল। ‘রায়টে’র সামনে ‘মারামারি’ নিছক বাবুয়ানি—একটা বিলাসিতা।

    ‘রায়ট’ কথাটায় হিন্দু-মুসলমানের যৌথজীবনের চরম দুঃখের ইতিহাসটি গাঁথা আছে। একদিন- যে শুভদিনে ভ্রাতৃ-আহবের শ্রান্তির পর দুইটা জাত শান্তি খুঁজিবে সেই দিন এই রক্তে-লেখা কথাটার প্রয়োজন হইবে। সেদিন ভারতবাসী—তখন বোধ হয় হিন্দুও নয় মুসলমানও নয়—অতীতের কবর থেকে সেই ক্ষুদ্র, নীচ স্বার্থকে টানিয়া বাহির করিবে, দুইটি ভাইয়ের রক্ত-মসী দিয়া যে আজ কথাটা লিখিয়া রাখিল।…বিচার করিবে।

    কেন হইল রায়ট, সে প্রশ্নের প্রয়োজন নাই; সে প্রশ্ন অযথা, কোনো রায়টের সম্বন্ধেই ও প্রশ্নটার সঠিক উত্তর এ পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। অবশ্য উত্তর খোঁজায় একটু ভুল বরাবরই হয়। দুর্গাগড় কিংবা ইসলামপুরে রায়ট হইলে দুর্গাগড় এবং ইসলামপুরেই তাহার মূল অনুসন্ধান করিতে যায় লোকে। মূল সে সাগর পারের কোথাও, কিংবা খুব নিকটে হইলেও বোম্বাই, কলিকাতা বা দিল্লির কোন বিলাসকক্ষে—এই কথাটা থাকে অজ্ঞাত।

    কিন্তু সে কথা থাক আপাতত।

    এই চারদিন আগে পর্যন্ত বেশ ছিল। কর্মে কোলাহলে, জীবনের শতধারার কলস্বনে জায়গাটা ছিল মুখর। তাহার পর হঠাৎ আকাশে-বাতাসে একটা কুটিল সন্দিগ্ধতা ছাইয়া গেল। একটা রব উঠিল—ধর্ম আর থাকিবে না। যাহারা শত শত বৎসর ধরিয়া বুক দিয়া পরস্পরের ধর্মকে আগুলাইয়া আসিয়াছে—মুসলমান দিয়াছে দুর্গাপূজার জোগান, হিন্দু দিয়াছে মহরমের তাজিয়ায় কাঁধ পাতিয়া— তাহারা এক মুহূর্তেই আশ্চর্য হইয়া উঠিল, এমন প্রচ্ছন্ন শত্রু পাশে—ধর্ম তাহাদের ঢেঁকিল কি করিয়া! এ বিষ বায়ুর বিশিষ্টতাই এই—ধর্ম যে ঢেঁকিয়া আছে এ সত্যে সান্ত্বনা দেয় না, ঢেঁকিল যে কি করিয়া এই পরম বিস্ময়েই ক্ষিপ্ত করিয়া তোলে।

    যেমন হিন্দুর ধর্ম আছে, তেমন মুসলমানের ধর্ম আছে, রায়টেরও সেইরকম একটা ধর্ম আছে—তার মূল তত্ত্ব এই বিভ্রম। সংসারে উত্থান-পতন তো সব জিনিসেরই আছে? এখন চলিতেছে রায়টের বৃহস্পতির দশা,—দলে দলে লোক তাহার ধর্ম অবলম্বন করিতেছে।…লং লিভ রেভলিউশ্যন—বিপ্লবঃ সহস্রং জীবতু!—যে বিপ্লব ছোটে মরণ-ঢেউয়ের শীর্ষে পা ফেলিয়া—যে বিপ্লবের প্রথম সন্তান রায়ট।

    হাওয়া বিষাক্ত, ছোট কথা বড় হইয়া উঠিতেছে। অনেক ক্ষেত্রে বড় করিবার লোক জুটিতেছে অদ্ভুত ভাবে। অনেক ক্ষেত্রে তিল আপনি-আপনিই তাল হইয়া উঠিতেছে। শহরের শেখপুরা পল্লীতে কয়েকজন মুসলমান সান্ধ্য নামাজ পড়িয়া বাহির হইতেছিল, ফাটকের কাছে দীর্ঘ আলখাল্লা এবং লুঙ্গিপরা একজন মাঝবয়সী লোক খুব নম্রভাবে অভিবাদন করিল, “সেলাম ওয়ালেকুম।” সকলে প্রত্যভিবাদন করিল এবং চিনিবার চেষ্টা করিয়া তাহার মুখের উপর দৃষ্টি ন্যস্ত করিল।

    লোকটা মুসলমানী কেতায় আর একবার সেলাম করিয়া বলিল, “আমি বিদেশী, নামাজের সময় হয়ে এল দেখে মসজিদে ঢুকছিলাম হঠাৎ একটা বাধা পেয়ে আর প্রবেশ করা হল না।”

    সকলে প্রায় একসঙ্গেই প্রশ্ন করিয়া উঠিল “কি বাধা আপনার!… বলুন।”

    লোকটা একটু মৌন রহিল—কথাটা বলা ঠিক হইবে কি না চিন্তা করিল যেন—তাহার পর দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে বলিল, “না, তেমন কিছু নয়—এই হঠাৎ কয়েক জায়গায় শাঁখ বেজে উঠল কি না…ঠিক এই সময়টিতে ওদের শাঁখ না বাজালেও চলে না…

    কয়েকজন যুবক একেবারে উত্তপ্ত হইয়া বলিয়া উঠিল, “সত্যি? —শাঁখ বেজেছিল না কি?…”

    একজন শুভ্রকেশশ্মশ্রু বৃদ্ধ ছিল। কথাবার্তার গতিটা তাহার তেমন ভালো লাগিল না, বলিল, “ও আর কি করা যাবে? ওদেরও সাঁঝের পূজো—আর খোদার ওপর সমস্ত মনটা দিতে পারলে শোনা যায় না ও সব শব্দ।”

    যুবক কয়টি আরো উত্তপ্ত হইয়া উঠিল, বলিল, “শোনা যায় না কি বললেন আপনি! কান ঝালাপালা হতে থাকলে আল্লার ওপর মন বসানো যায়! আপনাদেরই আশকারায় অবস্থাটা হয়ে পড়েছে এত সঙ্গীন।” আরো অনেকে সমর্থন করিল। বৃদ্ধ ভালোলোক গোছের, যুবকদের প্রশ্ন হইতেই যে টের পাওয়া গেছে কানে ঝালাপালা লাগে নাই, আর তার কারণ এই যে নামাজটা বেশ নিবিড় মনোনিবেশের সঙ্গেই সম্পন্ন হইয়াছে, এটা সে আর বলিতে পারিল না।

    আগন্তুক শান্ত করিবার জন্য বলিল, “থাক, এর জন্যে আর রক্ত গরম করে কাজ নেই…জবানীর তাজা খুন—বিশেষ করে ধর্মের কথা, এখুনি বোধ হয় সব জান কবুল করে বসবে–থাক, এসব কথার আর চর্চা করে কাজ নেই। আচ্ছা, তাহলে আসি, সেলাম ওয়ালেকুম।”

    শহরের অন্য এক প্রান্তে প্রায় এইরকম সময়েই আর একটা ঘটিল। এদিকটা হিন্দুপ্রধান, একজন মুসলমান একটা বলদ হাঁকাইয়া লইয়া যাইতেছিল। রাস্তার ধারে একটি টিউবওয়েলের নিকট জলের জন্য দাঁড়াইল। একটি মাড়োয়ারির দোকানে একজন প্রৌঢ় হিন্দু কাপড় কিনিতেছিল। রাস্তার দিকে মুখ ফিরাইতে হঠাৎ নজর পড়ায় প্রশ্ন করিল, “কত দিয়ে হল খাঁ সাহেব?”

    যাহাকে প্রশ্ন করিল তাহার মধ্যে খাঁ সাহেবের কিছুই ছিল না–খালি গা, খালি পা, পরিধানে একটা সস্তা লুঙ্গি, কাঁধে গামছার মতো একটা মুসলমানী রুমাল। লোকটা উত্তর করিল, “সতেরো টাকায় হল, সাহেব।”

    প্রশ্নকর্তা ঘুরিয়া বসিল, বলিল, “আমি আঠারোটা টাকা দিচ্চি, দিয়ে দাও।”

    দোকানের আরো দু’একজন ঘুরিয়া বসিল, দোকানী একটা থান মাপিতেছিল, গজ হাতে রাস্তার লোকটার পানে চাহিয়া রহিল। লোকটা বলিল, “আজ্ঞে না, আমার গাড়ির জন্যে কেনা বলদ, জোড়া মিলিয়ে কেনা; বেচব না।”

    প্রশ্নকর্তা বলিল, “না দাও সে আলাদা কথা; কিন্তু তোমার যে ব্যবসা কি এবং কি উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্চ বেচারি বলদকে, সে সম্বন্ধে আর ঠকাবার চেষ্টা করতে হবে না আমাদের।”—বলিয়া সবার দিকে, বিশেষ করিয়া মাড়োয়ারি দোকানীর দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টিতে চাহিল। দোকানী বলিল, “আচ্ছা, উনিশ টাকা আমি দিচ্চি।”

    “আজ্ঞে না, মাফ করবেন।”

    “কুড়ি টাকা?”

    “মাফ করবেন।”

    “বাইশ টাকা?…পঁচিশ টাকা?… তিরিশ …”

    দোকানের সবাই উঠিয়া বাহিরে আসিয়াছে, রাস্তায়ও লোক জড়ো হইয়াছে। গরম গরম অভিমত আরম্ভ হইয়া গিয়াছে।—সতেরো টাকার বলদ তিরিশ টাকায় দিতে চায় না—এ জিদের মানে কি?

    মেলার মধ্য হইতে একটি লোক আসিয়া বলদের দড়ি ধরিয়া বলিল, “এ বলদ এখান থেকে নড়বে না; টাকা নাও ভালোই; না হয় অমনি ছেড়ে যাও।”

    একজন পুলিশ আসিয়া পড়ায় লোকটা অব্যাহতি পাইল। তাড়াতাড়ি বলদ হাঁকাইয়া সরিয়া পড়িল।

    পরদিন সকালের প্রথম খবর—শেখপুরার কতকগুলি লোক একজন মুসলমানের বলদ ছিনাইয়া তাহাকে উত্তম মধ্যম কয়েক ঘা দিয়াছে।

    সমস্ত দিন শহরের আকাশটা থমথমে হইয়া রহিল। সন্ধ্যার ছায়া নামিতেই ‘রায়ট’ শহরের রাস্তায় পা বাড়াইল। অন্ধকারকে আগে করিয়া—প্রথমে সঙ্কীর্ণ গলিতে, তারপর অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত গলিতে, তাহার পর, অন্ধকার ঘন হইলে একেবারে সদর রাস্তায়।

    রায়ট নিশাচর, অন্ধকারে তাহার গতির আরম্ভ, তাহার পর যখন খুব রক্তপুষ্ট হয় তখন নিজেই অন্ধকারের সৃষ্টি করে,—দিবাকেও করিয়া তোলে নিশীথ রজনী—স্তব্ধ, ভীত, ক্বচিৎ বিকট ধ্বনিতে উচ্চকিত! আক্রোশের প্রথম চোটটা অবশ্য গিয়া পড়িল ধর্মের উপর। মন্দির-মসজিদ কলুষিত হইল। মানুষের পূর্বে হিন্দু মুসলমান স্বয়ং ঈশ্বরকে প্রথমে দ্বিখণ্ডিত করিল—বিভক্ত করিল। তাহার পর তাঁহার খণ্ডিত শরীরকে লাঞ্ছিত করিল। ভগবানেরও পাপ-পুণ্য আছে। এবং তজ্জনিত ‘অদৃষ্ট’ আছে; মানুষ সৃষ্টি করিবার পাপের জন্য তাঁহাকে সাজা লইতে হয়—আর অদৃষ্টের এমন পরিহাস, সাজা লইতে হয় সেই মানুষেরই হাতে! খুব উঁচু থেকে—একেবারে দেবতার স্থান থেকে তাঁর সৃষ্টির দিকে নামে বলিয়া রায়টের গতি হয় দুর্বার, প্রমত্ত। তিন দিন মনুষ্যমেধ যজ্ঞ চলিল, সমানে; না, সমানে নয়—হয়, বেগ প্রতিদিনই উন্মত্ততর হইতে লাগিল। মানুষের মনের মুখ্য অনুভূতি হইয়া উঠিল ঘৃণা—সে আহার ভুলিল, বিশ্রাম ভুলিল, সারাজীবনের অভ্যাসগত দৈনন্দিন কাজ ভুলিল –খুনের নেশায় মাতিল—তাহার শ্রেষ্ঠ, তাহার একমাত্র বিলাস হইল গুপ্ত ছোরা।… জীয়ন্ত তাজা মানুষ অতর্কিত আঘাতে মুহূর্তেই ধরাশায়ী হইয়া সৃষ্টি হইতে বিদায় লইল–যে সৃষ্টিকে এত ভালোবাসিয়াছিল তাহাকে শেষ দান দিয়া গেল তার বিদ্বেষ-বিষাক্ত শেষ নিঃশ্বাস। যাহারা সদ্য মরিল না তাহারা হাসপাতালে গিয়া ভিড় করিয়া উঠিল। হাসপাতাল মরণযাত্রীর পান্থশালা—পথ চলিতে চলিতে যেন একটু দম লইয়া লওয়া।

    তিন দিন গেল। প্রথমে প্রধানত যুবকরাই নামিল, তাহার পর প্রৌঢ়েরা, তাহার পর দু’একজন বৃদ্ধকেও দেখা গেল, বোধ হয় এরা সব হারাইয়া বয়সের জ্ঞান হারাইয়াছে। অথবা নিছক খুনের আনন্দ।…বার্ধক্যে মানুষ দেবতার পানে এগোয়, এরা রক্ত-পঙ্কিল পথে পিছলাইয়া কিরকম পিছাইয়া গিয়াছে।

    নীচের দিকে বিদ্বেষ প্রায় শিশু পর্যন্ত নামিয়াছে। শিশুরা খেলাঘরে মন্দির গড়িতেছে, মসজিদ গড়িতেছে, মা কালীর নাম লইয়া অথবা আল্লাকে সাক্ষী রাখিয়া — আবার মাটিতে মিলাইয়া দিতেছে!

    জীবনে যে পাঠ পড়িতে হইবে তাহার জন্য হাতেখড়ি!

    হিন্দুপল্লীর শেষের দিকে একটি মসজিদ; আজ তিন দিন তাহাতে আজানের পবিত্র রব ওঠে নাই, নামাজে মন্ত্র উচ্চারিত হয় নাই। শুনা যাইতেছে কাল এই মহাযজ্ঞের পূর্ণ আহুতি, জোগাড়যন্ত্র চলিতেছে, এই মসজিদটি ধূলিসাৎ হইবে। কয়েকটা মন্দির সম্বন্ধেও এইরকম গুজব উঠিয়াছে। সমারোহ পড়িয়া গেছে।

    মসজিদটি খুব কারুকার্যময়। এর ইমাম একটু শৌখিন লোক। মসজিদের ভিতরে বেষ্টনী প্রাচীরের পাশে পাশে খানিকটা জায়গা পরিষ্কার করিয়া কয়েকরকম পাতা বাহার আর ফুলের গাছ মিলাইয়া একটা বাগান গোছের করিয়াছে। দেওয়াল আর মসজিদ গৃহ যেখানটা মিলিয়াছে সেখানটা একটা মার্সেলনীল গোলাপের লতা। তাহার গোটাকতক ডাল দেওয়াল বাহিয়া বাহিরে আসিয়া পড়িয়াছে, তাহাদের প্রান্তে থোকা থোকা একরাশ ফুল।…দেবগৃহ হইলে উছলিয়া দেবতার আশীর্বাদ বাহিরে আসিয়া পড়িয়াছে।

    জায়গাটা নির্জন। একটি ছেলে পাশের একটি বাড়ি হইতে বাহির হইয়া সেইখানে আসিয়া দাঁড়াইল। প্রায় সবই হিন্দু এদিকটায়, মুসলমান যে কয় ঘর ছিল, চলিয়া গিয়াছে। ছেলেটি হিন্দু।

    বয়স আট-নয় বৎসর হইবে। শহরে যে সংহার কাণ্ড চলিয়াছে সে সম্বন্ধে বিশেষ কিছু না বুঝিলেও এইটুকু বুঝিয়াছে যে সমস্ত মুসলমান রাতারাতি শত্রু হইয়া গিয়াছে, এবং যদিও খুব সঙ্গোপনে মা কালীর নিকট প্রার্থনা জানাইয়াছে—তাহার খেলার সাথী আবদুলের যেন কোনো বিপদ না হয়, তবুও আবদুলের আর সব মুসলমানের ক্ষতির জন্য তাহার কিশোর ধমনীতেও নেশার আমেজ ধরিয়াছে। কিছু একটা ক্ষতি, যা হয় কিছু একটা।…

    দুরে একটা উৎকট রব উঠিল। হিন্দুর কি মুসলমানের বোঝা গেল না। গা-টা একটু ছমছম করিয়া উঠিল। যেদিক হইতে শব্দটা আসিল সেদিকটা ঘুরিতেই নজর পড়িল গোলাপ গাছের উপর।

    বালক স্থিরদৃষ্টিতে পুষ্পস্তবকের দিকে চাহিয়া রহিল—অনেকক্ষণ। প্রথমে একটা উল্লাস- সুন্দরকে একসঙ্গে, এত বেশি করিয়া পাওয়ার একটা অহেতুক আনন্দ—কিছুক্ষণ গেল একটা নিবিড় আত্মবিস্মৃতির মধ্যে।… তাহার পর লোভ—তাহার পর ধীরে ধীরে অস্তরবির রাগরঞ্জিত, স্বর্গের পারিজাতের মতো সেই পুষ্পস্তবক বালকের মনে কুটিল হিংসার আগুন ধরাইল।…সৌন্দর্য আগুন ধরায় না?—ধরায় বৈকি,—এই তো ধর্মই আজ বুকে বুকে প্রদাহ জ্বালিয়াছে,—ধর্মের চেয়ে আর সুন্দর কি? —মসজিদের গায়ে লতাইয়া-পড়া গাছ থেকে ওই পুষ্পরাশি তুলিতে হইবে। এর তুল্য তার ক্ষতি হইতে পারে না, কেননা বালকের চক্ষে পুষ্পই শ্রেষ্ঠ সম্পদ।…বালক থাকে স্বর্গের কাছাকাছি—তাহার মনে স্বর্গের পারিজাতের স্মৃতি বোধ হয় তখনো সজাগ থাকে কতকটা।

    গা ছমছম করে, তবুও একটা অবোধ নেশা।…ওদিকে শহর থেকে মাঝে মাঝে তীক্ষ্ণ ধ্বনি উঠিয়া সান্ধ্য আকাশ মথিত করিয়া তুলিতেছে।

    বালক চোরের মতো অগ্রসর হইল।

    ফুলগুলা তাহার হাতের একটু উপরে। নিকট হইতে খানকতক ইট উপরে উপরে সাজাইয়া- তাহার উপর দাঁড়াইল। তাহার পর তাড়াতাড়ি যতগুলি পারিল ফুল তুলিয়া নামিয়া পড়িল।… নেশা কাটিল কতকটা।

    নেশা কাটিলে ভয় হয়। বালক কোঁচড়ে ফুল ভরিয়া একরকম দৌড়াইয়াই নিজের বাড়ির দরজায় ছুটিয়া আসিয়া হাঁপাইতে লাগিল।

    ভয়টা কতকটা কাটিতে আবার নেশা।—আরো কিছু ক্ষতি করা যায় না? ওদের ভগবানের আরো কিছু অপকার? এ-প্রশ্নের উত্তর দিলেন স্বয়ং ভগবানই।—বালকের দৃষ্টি হঠাৎ অদুরে শিবালয়ের চূড়া গিয়া নিবদ্ধ হইল। অস্তগামী সূর্যের শেষ রশ্মিতে ঝলমল করিতেছে।

    বালক স্থির করিল—ওরা আমাদের যে-ভগবানকে লাঞ্ছনা করিতেছে তাঁহারই মাথায় ওদের ভগবানের সৃষ্ট পুষ্প উৎসর্গ করিয়া দিতে হইবে। এই উপযুক্ত প্রতিহিংসা, এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কল্পনায় আসে না।

    বালক মন্দিরের পানে চলিল, কোঁচড়ে ফুল। বেশি দূরত্ব নয়, ওদিকটা হিন্দুর ছেলের বিপদও নাই। রাস্তায় অনেক সঙ্গীও জুটিল, মন্দিরে পূজার একটু ধুম পড়িয়াছে।

    মন্দিরে প্রবেশ করিল। দু’একজন জিজ্ঞাসা করিতে বলিল, “মা পূজার জন্য ফুল পাঠাইয়া দিয়াছেন।” দেবতার পূজার সমারোহ আজ সব গণ্ডি অতিক্রম করিয়া গেছে,–কেহ বড় একটা আশ্চর্য হইল না। সে তাহার পর অগ্রসর হইয়া শিবমূর্তির উপর কোঁচড়ের সমস্ত ফুল উজাড় করিয়া দিল।

    বালক সব সম্প্রদায়ের উপরে, ওর মনের যেটাকে কালিমা ভাবি সেটা আসলে ওর কলুষিত পারিপার্শ্বিকের ছায়া মাত্র। বালক নিঃসম্প্রদায়, তাই কি ওর হাত দিয়া ভগবান নিজের অখণ্ড রূপের পূজা লইলেন?—পুষ্পরূপ পাষাণরূপ এক হইল?

    ***

    যাহাই হোক, মরণযজ্ঞে পূর্ণাহুতি পড়িল না। কেহ বলিল, সেই রাত্রি থেকে আরম্ভ করিয়া তিনদিন ব্যাপী যে তুমুল বৃষ্টিধারা নামিল তাহাই আসল কারণ; অমন বৃষ্টি বহুদিন যাবৎ কেহ দেখে নাই। কেহ বলিল, স্থানীয় লীডারদের চেষ্টা, কেহ বলিল, গভর্নমেন্টের সুবন্দোবস্ত। ফলকথা, রায়ট শান্ত হইল।

    মতিস্থির হইলে সকলে দুইটি লোককে খুঁজিল—মসজিদ-দ্বারের সেই মুসলমানকে এবং মাড়োয়াড়ির দোকানের সেই হিন্দুকে। কোনো সন্ধানই পাওয়া গেল না তাহাদের। তাহারা কোথাকার? —কলিকাতার—বোম্বাইয়ের—না দিল্লির?

    একেবার গোড়ার এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগজনবীর দেশ থেকে সোমনাথের পথে
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026
    Our Picks

    তবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 25, 2026

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    July 25, 2026

    বর্ষায় – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (গল্পগ্রন্থ)

    July 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }