Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাঙা বারান্দা

    ছোটগল্প সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প10 Mins Read0

    ভাঙা বারান্দা

    এমন নয় যে এই বারান্দাটায় দাঁড়ালেই সুন্দর কোনও দৃশ্য দেখা যায়। তবু তো বারান্দা। জানলার থেকে অনেকখানি বেশি। জানলার গরাদে মুখ রাখলে কয়েদীর মতন লাগে, আর বারান্দা মানে মুক্তি।

    বারান্দা একটা আছে, কিন্তু সেখানে দাঁড়াবার উপায় নেই।

    যতদিন ছেলেটা ছোট ছিল, ততদিন বারান্দার দিকে দরজাটা বন্ধ করে রাখতে হত সব সময়। এখন ছেলে ইস্কুলে গেলে অসীমা দরজাটা খোলে, উদাস মুখ করে তাকিয়ে থাকে বাইরের দিকে, কিন্তু বাইরে পা বাড়াতে পারে না।

    বারান্দাটার রেলিং ভেঙে পড়েছিল আট বছর আগে। তাতেও এমন কিছু ক্ষতি ছিল না, বয়স্ক লোকরা সাবধানে বারান্দায় দাঁড়িয়ে নীচের ফেরিওয়ালাদের ডাকতে পারত। কিন্তু একদিন দেখা গেল বারান্দাটার মাঝখান থেকে ফেটে অনেকখানি হাঁ হয়ে গেছে। ওপরের সিমেন্ট চুরচুরে। মাঝে-মাঝেই সুরকি খসে পড়ে নীচে। ওই বারান্দা এখন আর একজন মানুষের ভারও সহ্য করতে পারবে না। তবু সুদর্শন সাহস করে একদিন পা দিতেই বেঁকে গিয়েছিল।

    সেই আট বছর আগেই ওই বারান্দা নিয়ে বাড়িওয়ালার সঙ্গে ঝগড়া করেছিল সুদর্শন। তখন। সুদর্শনের চেহারা ছিল রোগা পাতলা, ডায়াবিটিস ধরেনি। মেজাজটাও ছিল তেড়িয়া। কিন্তু উগ্র স্বভাবের মানুষরাও চুনীলাল শীলের মতন বাড়িওয়ালার সঙ্গে কোনও সুবিধে করতে পারে না। কোনও গালাগালিই চুনীলাল শীলের গায়ে লাগত না। ঠান্ডা গলায় বলত, বারান্দা সারাব, সে পয়সা পাব কোথায়! দেখছেন না স্ত্রী পুত্র নিয়ে ডুবতে বসেছি। আপনার না পোয় আপনি বাড়ি ছেড়ে দিন।

    পাশের ঘরে থাকতেন গুরুসদয়বাবুরা। বারান্দাটায় তাঁদেরও কিছুটা অংশ ছিল। গুরুসদয়বাবুর স্ত্রীকে অসীমা কাকিমা বলে ডাকত। বেশ ভাব ছিল দুটি পরিবারে। অসীমা অবশ্য জানে না যে ওই গুরুসদয়বাবুর মেয়ে বুলা একসময় সুদর্শনকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিল। সুদর্শন রাজি না হয়ে দু-পক্ষেরই বাবা-মায়েদের খুশি করেছিল। বিয়ে করার মতন কোনও যোগ্যতাই ছিল না তার।

    গুরুসদয়বাবু সুদর্শনকে ওই বারান্দা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বুঝলে থোকন, ভাড়াটে হিসেবে কি আমাদের কোনও অধিকার নেই? বারান্দা সমেত ঘর ভাড়া দিয়েছে, এখন সেই বারান্দা যদি। ভেঙে পড়ে, বাড়িওয়ালা তা সারাতে বাধ্য নয়? থানায় খবর দিতে হবে, দরকার হলে আমরা কেস করব?

    সে বছরই সুদর্শনের বাবা মারা গেলেন, পয়সা-কড়ির অবস্থা খুবই খারাপ, মামলা মোকদ্দমার নামে তার ভয় হয়েছিল। সে তো অনেক টাকার ব্যাপার, সে আর গা করেনি।

    বাড়ি ফিরতে সুদর্শনের বেশ রাত হয়। তাদের এ-পাড়াটা বিশেষ ভালো নয়, কাছেই পোস্তার। বাজার, সারাদিনরাত যেখানে অনেক টাকার কারবার চলে সেখানে গুন্ডা বদমাসরাও সবসময়

    ঘুরঘুর করে। রাত্তিরের দিকে ছিনতাই আর ছুরি চালাচালি লেগেই আছে। অবশ্য এ-পাড়ায় সবাই সুদর্শনকে চেনে। এ-পাড়াতেই তার জন্ম। সে একটা সাধারণ হেঁজিপেজি মানুষ। গুন্ডা বদমাসরা তাকে ছোঁবে কেন?

    অসীমা তবু ভয় পায়। সুদর্শন ফেরার আগে রাস্তায় কোনও একটা গোলমাল হলেই সে বারান্দার দিকের দরজাটা খোলে, কিন্তু বাইরে কী ঘটছে তা দেখবার উপায় নেই।

    এক-একদিন সুদর্শনের ওপর রাগ করে অসীমার ইচ্ছে করে ওই রেলিং ছাড়া বারান্দাটাতেই গিয়ে দাঁড়াতে। ভেঙে পড়ে তো পড়ুক।

    সুদর্শন ফিরলেই সে ঝাঁঝের সঙ্গে বলে ওঠে, আমি আর একদিনও এ-বাড়িতে থাকতে চাই না। তোমার দোকানের কাছাকাছি একটা বাড়ি নিতে পারো না?

    ম্লান হাসি ছাড়া এ কথার কোনও উত্তর নেই। দোকানের কাছাকাছি বাড়ি, অসীমা বোঝেই না, কত ধানে কত চাল! বর্ধমানের গ্রামের মেয়ে অসীমা, তাই মনটা এখনও সাদা!

    কারখানায় যখন লক আউট চলছিল তখন কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে মিলে কালীঘাটের মোড়ে রাস্তার ওপর ছিট কাপড়ের দোকান খুলেছিল সুদর্শন। সে কারখানা আর কোনওদিন খুললই না। অন্য চাকরির চেষ্টা না করে সুদর্শন এ-দোকান নিয়েই লেগে রইল। মোটামুটি বেশ চলে যাচ্ছিল। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এই পাতাল রেলের জন্য রাস্তা খুঁড়ছে ওই দিকে, এখন শোনা যাচ্ছে, যে-কোনওদিন ফুটপাথের দোকানগুলি সব তুলে দেওয়া হবে। তখন আবার জায়গা পাওয়া যাবে কোথায়?

    আর বাড়ি পালটানো? সুদর্শনের বাবা ছত্রিশ বছর আগে এ বাড়িতে দেড় খানা ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। ভাড়া বাড়তে-বাড়তে এখন দাঁড়িয়েছে চুয়াত্তর টাকা। এই ঘর ছেড়ে অন্য যে কোনও জায়গায় এরকম দেড়খানা ঘর ভাড়া নিতে গেলে অন্তত সাড়ে তিনশো, চারশো টাকা লেগে যাবে।

    অসীমা ভাত বেড়ে দেয়। অসীমার দিকে তাকিয়ে সুদর্শনের বড় মায়া লাগে। সারাদিন তার দোকানে অনেক রকম মেয়েছেলে আসে, তাদের কত রকমের চেহারা, কেউ-কেউ তো বেশ সুন্দরী, তবু রাত্তিরবেলা বাড়ি ফিরে নিজের বউকে দেখতেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে সুদর্শনের। তার কোনও উঁচু আকাঙ্ক্ষা নেই। সারাদিন খাটাখাটনির পর যদি বিক্রিবাটা মোটামুটি ভালো হয় তাতেই সে খুশি আর রাত্তিরে বাড়ি ফিরে বউয়ের সঙ্গে একটু গল্প করা।

    কিন্তু প্রত্যেকদিনই অসীমার অনেক অভিযোগ জমা থাকে।

    সুদর্শন বলে, দাঁড়াও না, আগে একটা পাকা দোকান ঘরের ব্যবস্থা করি, তারপর বাড়ি পালটাব ঠিকই। একটা সুন্দর বারান্দা থাকবে, বেশ পার্কের পাশে, ছেলেটা খেলতে পারবে।

    পাশের ছোট ঘরটা থেকে গোঙানির শব্দ পাওয়া যায়। সুদর্শনের মায়ের বয়েস হয়েছে অনেক, শরীরে শক্তি নেই, এখন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা। কিন্তু এইসব মানুষের মৃত্যু সহজে আসে না। কোনও রাত্তিরেই মায়ের সঙ্গে দেখা করে না সুদর্শন। বাড়ি ফেরার পথে এক-একদিন তার আশা হয়, ফিরেই হয়তো মায়ের মৃত্যু-সংবাদ শুনতে পাবে!

    এ-বাড়ির বাড়িওয়ালার সঙ্গে ঝগড়াটা হঠাৎ একদিন থেমে গেল। কারণ বাড়িওয়ালা বলে কেউ রইলই না। চুনীলাল শীলের ব্যাবসা বেশ খারাপ চলছিল, অনেক মামলা মোকদ্দমাতেও জড়িয়ে। পড়েছিল, হঠাৎ একদিন বিক্রি করে দিল সেই বাড়িটা। নতুন বাড়িওয়ালা যে কে হল তা বোঝাই গেল না। কানাঘুষোয় জানা গেল বটে তা কোনও মাড়োয়ারি কিনেছে, কিন্তু তাকে চোখে দেখা যায়নি একদিনও। এ-পাড়ার সব বাড়িই একে-একে মাড়োয়ারিদের দখলে চলে যাচ্ছে, কেউ বাড়ি বিক্রি করলে তা কোনও মাড়োয়ারি যে কিনবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে এই চারতলা বাড়িটার পুরোটাই ভাড়া, সবাই পুরোনো আমলের। এত ভাড়াটে শুষ্টু বাড়ি কিনে মাড়োয়ারীর কী লাভ হবে?

    এক রবিবার সকালে সব ভাড়াটে মিলে একটা মিটিং করল। যে বাড়িওয়ালাকে দেখা যায় না, সে অতি বিপজ্জনক। মাড়োয়ারি যখন বাড়ি কিনেছে তখন ভাড়াটে তোলার চেষ্টা করবেই সে।

    কোনদিক থেকে বিপদ আসবে কেউ জানে না। এ সময় সকলকে এককাট্টা হয়ে থাকতে হবে। ভাড়া বাকি পড়লে বাড়িওয়ালা সুযোগ পাবে, সুতরাং সকলেরই উচিত নিয়মিত রেন্ট কন্ট্রোলে ভাড়া পাঠানো।

    খুব ভালো-ভালো কথা হল। যদিও সব ভাড়াটেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখির সম্পর্ক নেই। মিটিং এর পর থেকে আবার ঝগড়াঝাঁটি চলতে লাগল যথা নিয়মে।

    কয়েক মাস বাদে সুদর্শন শুনতে পেল বাড়িওয়ালার এক দালাল নাকি বিভিন্ন ভাড়াটেকে টাকার লোভ দেখিয়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এক একজনকে পাঁচ-দশ হাজার টাকা দেবে।

    কিন্তু সুদর্শনকে তো কেউ কিছু বলেনি? আবার সুদর্শন বেরিয়ে যায় সকাল সাড়ে আটটায় আর ফেরে সেই রাত নটার পর। তার দেখা পাবে কী করে?

    অসীমাকে সে জিগ্যেস করে, তুমি কিছু শুনেছ? বাড়িওয়ালা নাকি টাকা দিতে চাইছে?

    অসীমার গর্ভে আবার সন্তান এসেছে। তার মুখ ভার। ছেলে আজ বল খেলতে-খেলতে বারান্দায় চলে গিয়েছিল, এমন ভাবে ঝুঁকেছিল যে রাস্তার লোক হইহই করে উঠেছে। আর-একটু হলেই নীচে পড়ে যেত।

    অসীমা বলল, তুমি আর কাকাবাবুরা মিলে বারান্দাটা সারিয়ে নিতে পার না? আমাদের যখন এখানেই থাকতে হবে…

    সুদর্শন অবাক হয়ে বলল, কার বাড়ি তার ঠিক নেই, আমরা পয়সা খরচ করে বারান্দা সারাব?

    অসীমা বলল, সব সময় ভয়ে-ভয়ে থাকতে হয়। টুকুন তো ছোট, ওকে আর দোষ দেব কী! তোমার মা-ই সকালবেলা ভুল করে বারান্দায় চলে যাচ্ছিলেন। কিছু একটা হলে আমার দোষ হত!

    পাশের ঘরে মায়ের কাশির আওয়াজ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে! মা আজকাল চোখে প্রায় কিছুই দেখতে পান না। সুদর্শন সত্যিই তার মায়ের মৃত্যু চায়। কিন্তু বারান্দা ভেঙে পড়ে মরলে লোকে সত্যিই অসীমার নামে বদনাম দেবে।

    অসীমা বলল, আমার দু-গাছা চুড়ি বেচে যদি কোনওরকমে বারান্দাটা মেরামত করতে পার, তাতেও আমি রাজি আছি।

    সুদর্শন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অসীমার চুড়ি দু-গাছার কথা সে কদিন ধরেই ভাবছে।

    কালীঘাটের মোড়ে ফুটপাতের ওপরে দোকান আর রাখা যাবে না। রাস্তা ভাঙতে-ভাঙতে তার দোকানের দিকে এগিয়ে আসছে। এ তো আর হকার উচ্ছেদ নয় যে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে পার। পাওয়া যাবে? ফুটপাতই যদি না থাকে! অন্য জায়গায় আবার দোকান বসাতে গেলে টাকা খরচ করতে হবে! জায়গা পাওয়াই দারুণ শক্ত ব্যাপার। তখন অসীমার চুড়ি দু-গাছা ছাড়া আর উপায় নেই। দোকানই যদি না থাকে তাহলে বারান্দা দিয়ে কী হবে?

    ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই সুদর্শন দেখল গুরুসদয়বাবুদের বাড়ির মালপত্র তোলা হচ্ছে একটা লরিতে।

    দারুণ অবাক হয়ে সে জিগ্যেস করল, কাকা, আপনারা চলে যাচ্ছেন?

    গুরুসদয়বাবু গলায় খাঁকারি দিয়ে বললেন, হ্যাঁ,…আজ না হয় কাল তো যেতেই হবে… বাড়িওয়ালা এ-বাড়ি ভেঙে ফেলে দশতলা বাড়ি তুলবে শুনছি।

    —আমাদের না তুলে কী করে বাড়ি ভাঙবে?

    —ভাঙতে শুরু করলে আমাদের যেতেই হবে। সল্টলেকে বাড়ি করেছি একটা, কেন আর এখানে কষ্ট করে থাকা! তোমার কাকিমা বললেন এ পাড়াটাই আর ভালো লাগছে না। এ-পাড়ায় আর। বাঙালিরা থাকতে পারবে না!

    সুদর্শনের ভুরু কুঁচকে গেল। গুরুসদয়বাবু সল্টলেকের জমিতে ভিত খুঁড়ে অনেকদিন ফেলে রেখেছিলেন। ওঁর বড় ছেলে আলাদা হয়ে গেছে। টাকা পয়সার নাকি খুব টানাটানি যাচ্ছিল। ইদানীং। তবে কী করে বাড়ি শেষ করলেন? হঠাৎ টাকা এল কোথা থেকে?

    সুদর্শনের সন্দেহ হল। উনি বাড়িওয়ালার কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন। নইলে এত সস্তার বাড়ি কেউ ছেড়ে চলে যায়! অন্য ভাড়াটে বসিয়ে দিলেও ভোলাভ। কিন্তু উনি একেবারে ছেড়ে দিচ্ছেন।

    আস্তে-আস্তে অন্য ভাড়াটেও উঠে যেতে লাগল একজন দুজন করে। বাড়িওয়ালা নিজে আসে না। কিন্তু তার একজন দালাল ইদানীং ঘোরাঘুরি করে। টাকা দিয়েই ভাড়াটে তুলছে নির্ঘাৎ। অনেক জায়গাতেই এরকম শোনা যায়। কিন্তু সুদর্শনকে কেউ কিছু বলছে না কেন?

    সন্ধের পর এ-বাড়িতে ঢুকতে এখন গা ছমছম করে। অনেক ঘরই অন্ধকার, সিঁড়ির আলো নেই। জলও মাঝে-মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। সুদর্শন দেরি করে ফেরে, ফিরে তাকে অসীমার বিমর্ষ মুখ দেখতে হয়। আজকাল কোনও কথাই সে বলে না।

    একদিন সকালবেলা সুদর্শন আবিষ্কার করল, অসীমা ওই ভাঙা বারান্দাতেই একটা ফুলের টব রেখেছে। তাতে কী যেন ফুলও ফুটেছে। বারান্দায় পা দেয় না, দরজার কাছে দাঁড়িয়েই অসীমা টবে জল দেয়।

    দু-দিন ধরে সুদর্শনের দোকান উঠে গেছে। সে কথা সে অসীমাকে বলতে পারেনি। সে মুগ্ধভাবে নতুন ফোঁটা ফুলগুলো দেখে। তারপর চা মুড়ি খেয়ে বেরিয়ে পড়ে। নতুন জায়গা খুঁজে দোকান আবার চালু করতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে পরের মাসে। দোকানের ক্যাপিটাল তার নিজস্ব নয়, সবই ধার।

    সন্ধেবেলা পাড়ার দুটো মস্তান ছেলে তাকে ধরল। দুজনকেই চেনে সুদর্শন। এরা পোস্তা বাজারে গুন্ডামি করে। এদের মধ্যে হাবু তার সঙ্গে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছিল স্কুলে। এখন তাকে দাদা-দাদা বলে।

    হাবু বলল, খোকনদা, শোনো, তোমার সঙ্গে একটা প্রাইভেট কথা আছে।

    —কী রে হাবু, কী ব্যাপার?

    বেশি সময় নষ্ট করে না হাবু। সুদর্শনের চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে বলে, তুমি এবারে পাড়া বদলাও। এ পাড়ায় তোমার মতন কমদামি মানুষদের আর জায়গা হবে না।

    —বলিস কি রে, হাবু! বাড়ি ছাড়লে আমি যাব কোথায়? জানিস তো আমার অবস্থা। নতুন করে ঘর ভাড়া নেওয়ার কি আমার সামর্থ আছে?

    –কালীঘাটের দিকে কোনও বস্তিতে ঘর খুঁজে নাও!

    —এতকাল এ পাড়ায় আছি। তোদের কোনও ক্ষতি করেছি কখনও? হরেন মার্ডার হওয়ার পর পুলিশ আমাকে সাক্ষী দিতে বলেছিল, তখন দিয়েছি আমি?

    —ওসব জানি না। তুমি পাততাড়ি গুটোও। তুমি এখানে আর থাকতে পারবে না।

    সুদর্শন ব্যাকুলভাবে হাবুর হাত জড়িয়ে ধরে বলল, তোরা আমার সঙ্গে এমন কচ্ছিস? দ্যাখ এ পাড়ায় বাঙালিদের সব বাড়িগুলো একে-একে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। বাঙালির কোনও জায়গা থাকবে না? তুই নিজে বাঙালি হয়ে আমাকে তাড়াতে চাস?

    হাবু বলল, ও সব বাঙালি-ফাঙালি আমি বুঝি না। বাঙালিদের পয়সার মুরোদ আছে? আমাদের যে পয়সা দেবে আমরা তার দিকে টানব। বাঙালি নাম কি ধুয়ে খাব? তোমাকে ভালো কথা বলে দিচ্ছি—

    সুদর্শনের বুকটা একেবারে খালি হয়ে গেল। বাড়িওয়ালা তাকে নেহাত চুনোপুটি জ্ঞান করে টাকা দিয়েও তুলতে চায়নি। হাবুদের দলকে কিছু টাকা দিয়েছে, ওরাই এখন ভয় দেখিয়ে বাকি ভাড়াটেদের তুলে দেবে। কিন্তু সুদর্শন এখন যাবে কোথায়?

    অসীমার সঙ্গে এ-সম্পর্কে কিছুই আলোচনা করা যায় না। অসীমা এখন বারান্দায় তিনটে টব বসিয়েছে। সাহস করে সে আজকাল ওই বারান্দাতেও গিয়ে দাঁড়ায়। সুদর্শন নিষেধ করলেও শোনে না! কী যেন হয়েছে অসীমার।

    বাড়িতে ঢোকার আগে সুদর্শন কিছুক্ষণ দেওয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে কাঁদে।

    হাবুর চোখ দেখেই সুদর্শন বুঝতে পেরেছে, ওরা সহজে ছাড়বে না তাকে। ওরা পয়সার লোভ পেয়েছে। সুদর্শন যখন বাড়িতে থাকবে না তখন অসীমার ওপরে হামলা করতে পারে। এ পাড়াতে কেউ অন্যের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় না।

    কালীঘাটে দোকান খোলার জন্য অন্য একটা জায়গা কোনওক্রমে খুঁজে পেয়েছিল সুদর্শন। সেখানেও পাড়ার মাস্তানরা এসে বাধা দিয়েছে। ও জায়গাটা এমনি-এমনি কেউ পাবে না। ওদের উপস্থিতিতে নিলাম হবে, যে বেশি টাকা দিতে পারবে সে পাবে। পাঁচ-ছহাজারের কমে কথাই নেই!

    পাতাল রেলের মজুররা আজ সুদর্শনের দোকান যেখানে ছিল, সেই জায়গাটা ভাঙল। সুদর্শন। নিজে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে দেখেছে। পাতাল রেল তাকেও পাতালের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    বাড়ি ফিরে অসীমার সঙ্গে বেদম ঝগড়া হয়ে গেল সুদর্শনের। সাধারণত তার মাথা ঠান্ডা থাকে, কিন্তু আজ অসীমার একটা গায়ে বেঁধানো কথাই সে সহ্য করতে পারল না। প্রচন্ড জোরে চেঁচিয়ে বলল, মাগি তুই চুপ করবি!

    অসীমা জ্বলন্ত চোখে সুদর্শনের দিকে তাকিয়ে খট করে দরজা খুলে চলে গেল বারান্দায়।

    সুদর্শনের মনে হল, ও বুঝি ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছে নীচে। সে বাধা দেওয়ার জন্য এগিয়ে গিয়েও থমকে গেল। দুজনে একসঙ্গে দাঁড়ালে আর দেখতে হবে না। ভাঙা রেলিং-এর ওপর ঝুঁকে আছে অসীমা। কাঁদছে নিশ্চয়ই, তবে তা বোঝা যাচ্ছে না। তিনটে টবের গাছেই ফুল ফুটেছে। সে দিকে নির্নিমেষে তাকিয়ে রইল সুদর্শন। কী সুন্দর দেখাচ্ছে সব মিলিয়ে।

    সুদর্শন যেন একটা শব্দ শুনতে পাচ্ছে, ভেঙে পড়ার শব্দ, কিন্তু ভাঙছে না। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে অসীমা। সুদর্শনের মনে হল, সত্যি একটা বারান্দা না থাকলে বাড়ির মেয়েদের বড় কষ্ট।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবুড়োর দোকান
    Next Article ভালোবাসা

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী ছোটগল্প

    আসল বেনারসী ল্যাংড়া

    April 5, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    অসাধারণ | Ashadharon

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }