Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মা – আনিসুল হক

    লেখক এক পাতা গল্প410 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. মা

    ১১
    আজাদ আইএ পড়ার জন্যে ভর্তি হয় সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ৷ কলেজে পড়ে, নাজ কিংবা গুলিস্তান হলে ছবি দেখে, বন্ধুদের সাঙ্গে আড্ডা দেয় ৷ সে খুবই ভক্ত এলভিস প্রিসলির ৷ ছোটবেলা থেকেই খুব কমিকস পড়ে ৷ বড় হতে হতে সাহিত্যের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে ৷ প্রচুর উপন্যাস পড়েছে, বাংলা উপন্যাস, ইংরেজি উপন্যাস ৷ এর মধ্যে মিলস অ্যান্ড বুন থেকে শুরু করে পেঙ্গুইন ক্লাসিক্স ৷ লরেন্স থেকে টলস্টয়-ডস্টয়ভস্কি পর্যন্ত ৷ বঙ্কিম থেকে শরৎচন্দ্র-রবীন্দ্রনাথ ৷
    সিনেমা দেখতে গেলে তার সঙ্গী হয় জায়েদ ৷ অন্য বন্ধুরাও হয় কখনও কখনও ৷ তবে তার আশ্চর্য লাগে বড়লোক বন্ধুদের ৷ আজাদরা ফরাশগঞ্জের বাড়িতে চলে আসার পর তার অনেক বড়লোকের ছেলে বন্ধু তাকে এড়িয়ে চলে ৷ যেন তার সঙ্গে মিশলে তাদের জাত চলে যাবে ৷ আশ্চর্য তো ৷
    জায়েদের মা নাই ৷ তারা পাঁচ-পাঁচটা বাচ্চা এ বাড়িতেই থাকে ৷ সাফিয়া বেগমকেই সব দেখাশোনা করতে হয় ৷ তাদের খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনার খরচের ব্যাপার আছে ৷ সাফিয়া বেগমকে একটু একটু করে গয়না ভাঙিয়ে টাকা-পয়সা জোগাড় করতে হয় ৷
    এর মধ্যে আজাদ বাবার কাছ থেকে তার মাসোহারা পায় ৷ মাসে মাসে টাকাটা ওঠাতে যায় জায়েদ ৷ জায়েদও স্কুলে যায় ৷ লেখাপড়া করে ৷ তবে পড়াশোনার দিকে তার তেমন মনোযোগ নাই ৷
    একদিনের ঘটনা ৷ বাসায় চাল নাই ৷ হঠাৎ রাতে চাল শেষ হয়ে গেছে ৷ রাতের বেলা আজাদের আরেক খালা এসেছে, আরো অতিথি এসেছে ৷ অতিরিক্ত রাঁধা হয়ে গেছে ৷ সকালবেলা চাল কিনতে হবে ৷ রেশনের দোকানে যেতে হবে ৷ আজাদের মায়ের কাছে নগদ টাকা নাই ৷ রেশনটা না তুললে আবার দোকান থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে ৷ নাহলে দুপুরে আজকে হাঁড়ি উঠবে না চুলায় ৷
    আজাদের মা বলেন, ‘জায়েদ, কী করি, বল তো!’
    জায়েদ বলে, ‘আমার কাছে কিছু টাকা জমানো আছে ৷ আমি রেশন নিয়া আসি ৷ আপনি পরে দিয়েন আম্মা ৷’
    ‘তাহলে তাই কর ৷’
    জায়েদের কিন্তু ভরসা আজাদ ৷ আজাদের কাছে হাতখরচের টাকা থাকে ৷ সেখান থেকে ধার নিতে হবে ৷ তবে সেটা আম্মাকে জানানো যাবে না ৷ চৌধুরীর টাকা শুনলে আম্মা সেই টাকায় কেনা অন্ন স্পর্শ করবেন না ৷
    জায়েদ গিয়ে ধরে আজাদকে ৷ ‘দাদা, কিছু টাকা ধার দ্যাও তো ৷’
    ‘কত ?’
    ‘দ্যাও না ৷’
    ‘কী করবি ? সিনেমা দেখবি ?’
    ‘না ৷ বাজার সদাই করব ৷’
    ‘আচ্ছা চল ৷ এক জায়গায় টাকা পাই ৷ তুলে আনি ৷’
    আজাদ আর জায়েদ বের হয় ৷ আলী নামে এক লোকের কাছে আজাদের মাসোহারার টাকা থাকে ৷ সেখান থেকে কিস্তিতে কিস্তিতে টাকাটা তোলা হয় ৷ তবে এ মাসের শেষ কিস্তির টাকাটা আলী ঠিকমতো দেয়নি ৷ জায়েদকে অযথা ঘোরাচ্ছে ৷
    আলী বসেছিল গদিতে ৷ আজাদকে দেখে তটস্থ হয়-’এই, চেয়ার দে ৷ আরে মুছে দে ৷ ভাইয়া বসেন ৷ কী খাবেন ? চা আনাই ৷ লেমনেড খাবেন ?’
    ‘টাকাটা দাও ৷ যাইগা’-আজাদ দাঁড়িয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলে ৷
    ১০০ টাকা পাওয়া যায় ৷ তাই নিয়ে আজাদ আর জায়েদ বের হয় ৷ সদরঘাট থেকে বাংলাবাজার ৷ বটগাছটার নিচে একটা বড় বইয়ের দোকান ৷ হিউবার্ট নামে এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এটা চালান ৷ আজাদকে দেখেই তিনি গুড মর্নিং বলে ওঠেন ৷
    আজাদও গুড মর্নিং বলে সম্ভাষণের জবাব দেয় ৷
    ‘নয়া বই আসিয়াছে স্যার’-হিউবার্ট বলেন ৷
    আজাদ বই দেখায় মগ্ন ৷ কী সব ইংরেজি বই ৷ জায়েদ বইগুলোতে কোনো মজা পায় না ৷ সে খানিকক্ষণ হিউবার্টের দিকে তাকিয়ে থাকে ৷ লোকটার গায়ের রঙ ফরসা, তবে চামড়ায় বুটি বুটি দাগ, ভুরুগুলো বড় বড় আর শাদা, চুলও শাদা, গায়ে কোট, পরনে প্যান্ট ৷ লোকটা কথা বলছে হয় ইংরেজিতে, নয়তো বইয়ের বাংলায় ৷ আর বটগাছ থেকে পাখির বর্জ্য পড়ছে টুপটাপ ৷ জায়েদ লক্ষ্য করে, বটের ফল খেয়ে পাখিগুলো যা ত্যাগ করে, তাও আসলে ফল, তাই মাথায় পড়লেও কেউ ব্যাপারটা গায়ে মাখছে না, গায়ে লাগছেও না ৷ জায়েদ এদিক-ওদিক তাকিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, দাদা, যাইবা না, চলো ৷
    আজাদ বই থেকে মুখ না তুলে বলে, ‘যা, তুই ওই হোটেলে মাটন কাটলেট ভাজছে, খেয়ে আয় যা ৷ নে, টাকা নে ৷’
    জায়েদ তো খুশিতে লাফাতে লাফাতে বাতাসের আগে আগে ছুটে যায় ৷
    এদিকে আজাদ বইয়ের মধ্যে মজা পেয়ে গেছে ৷ সে একটার পরে একটা বই নামাচ্ছে ৷ একটা মোটা ছবিঅলা বই পেয়ে সে পাগলের মতো খুশি হয় ৷ দেখেন তো এই কয়টার দাম কত হয় ?
    দাম একশ টাকা ছাড়িয়ে যায় ৷
    ‘আচ্ছা তাহলে এটা বাদ দ্যান ৷ এখন দেখেন’-আজাদ একটা বই বাদ দিয়ে বাকিগুলো এগিয়ে দেয় ৷
    ‘ওয়ান হান্ড্রেড ফোর’-হিউবার্ট বলেন ৷
    আজাদ পকেট হাতড়ে খুচরো বের করে দাম মিটিয়ে দেয় ৷
    জায়েদ আসে ৷
    আজাদ তার হাতে বইয়ের বোঝা ধরিয়ে দিয়ে বলে, ‘নে ৷ যাইগা ৷ দেরি হয়ে যাচ্ছে ৷’
    তারা বাসায় ফেরে রিকশায় ৷ জায়েদ বইগুলো দাদার ঘরে নামিয়ে দেয় ৷ তারপর বলে, ‘টাকা দ্যাও ৷’
    ‘কিসের টাকা ?’
    ‘রেশন আনুম না ?’
    ‘ও ৷ রেশনের টাকা ৷ কত লাগে ?’
    ‘৫০ টাকা দ্যাও ৷’
    ‘অত টাকা তো এখন নাই ৷’
    ‘আরি এখনই না পাইলা!’
    ‘হাতে করে কী আনলি!’
    ‘বই ৷’
    ‘বই কিনতে টাকা লাগে না ?’
    ‘এত টাকার বই তুমি আনলা!’
    ‘তুই-ই তো বেটা বয়ে আনলি ৷ দেখলি না কত ভারী ৷’
    ‘অহন ৷ আইজকা রেশন না আনলে তো ল্যাপ্স হইয়া যাইব ৷’
    ‘আরে কিসের ল্যাপস হইব ৷ কালকে আনিস ৷’
    ‘আজকা খাইবা কী! চাউল নাই ৷’
    ‘দোকান থেকে দুই সের চাউল কিনে আন ৷ টেবিল ক্লথটার নিচে দ্যাখ খুচরা পয়সা আছে ৷ ঝাড় ঝাড় ৷ দেখলি ৷ নে ৷ আজকার দিনটা পার কর ৷ কালকের চিন্তা কাল ৷’
    খুচরা পয়সা একসঙ্গে করে কম টাকা হয় না ৷ জায়েদ বলে, ‘চলব ৷ কিন্তু তোমার মতন পাগল দেখি নাই ৷ চাউল কেনার টাকা জোগাড় কইরা কেউ বই কিনে ?’
    আজাদ হাসে ৷ ‘আর তুই কী করেছিস ৷ চাউল কেনার টাকা দিয়ে কাটলেট খেয়েছিস ৷ ছি ৷’
    জায়েদ লজ্জা পায় ৷ সে দোকানের দিকে দৌড় ধরে ৷ আজাদ হাসে ৷ কিন্তু তার বুকের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম বেদনাও যেন সুচের মতো ফুটছে ৷ আজকে মাকে চাউল কেনার টাকার কথাও ভাবতে হচ্ছে ৷ অথচ মায়ের নামে এই ফরাশগঞ্জের বাড়িটা, ওই ইস্কাটনের বাড়িটা ৷ পৃথিবীটা কি একটা নাগরদোলা ? মানুষ আজ ওপরে তো কাল নিচে! নিয়তির হাতের পুতুল মাত্র! তাদের ম্যাট্রিকের বাংলা ব্যাকরণে একটা সমাস পড়তে হয়েছে ৷ রাজভিখিরি ৷ যিনি রাজা তিনিই ভিখিরি ৷ বা রাজা হইয়াও যিনি ভিখিরি ৷ তার মা কি তাই ? যিনিই রানী তিনিই ভিখিরিনী!
    এইসব হতাশা থেকেই বোধকরি আজাদ সিগারেটটা মজবুত-মতো ধরে ফেলে ৷ তবে সে খায় সবচেয়ে দামি সিগারেট, বিদেশী ব্রান্ডের সিগারেট ৷ চৌধুরী সাহেবের রক্তের ধারা আর যাবে কোথায় ? আজাদ সিগারেট কেনার জন্যে স্টেডিয়ামে মোহামেডান ক্লাবের উল্টো দিকে রহমত মিয়ার বিখ্যাত দোকানে যায়, বিদেশী সিগারেট কেবল ওই দোকানেই পাওয়া যায় ঢাকায় ৷ আড়াই টাকা দামের এক প্যাকেট সিগারেট কেনার জন্যে আড়াই টাকার ট্যাক্সিভাড়া দিতে তার কার্পণ্য নাই ৷
    সিদ্ধেশ্বরী কলেজ থেকে আজাদ আইএ পরীক্ষা দেয় ৷ সেকেন্ড ডিভিশনে পাসও করে ৷ এবার সে পড়বে কোথায় ?
    ঢাকার পরিস্থিতি বেশি সুবিধার নয় ৷ ছাত্ররা নানা রাজনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত ৷ তারা এখন তৎপর সর্বজনীন ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে ৷ সারা দেশে হরতাল পালিত হচ্ছে ৷ শোভাযাত্রা-সমাবেশ এসব তো আছেই ৷ তার ওপর বছরের শুরুতেই ঢাকায় সংঘটিত হয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ৷ এখন আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্ররা আবার সংগঠিত হচ্ছে ৷ তাদের স্মৃতি থেকে দু বছর আগে ১৭ সেপ্টেম্বরে শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে হরতাল, মিছিলে গুলি, টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ, একজনের শাহাদত বরণ-এসব মুছে যায়নি ৷
    আজাদ একদিন আড্ডা দিতে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৷ কাদের যেন কর্মসূচি ছিল সেদিন, ওরা জানত না ৷ মিছিল হচ্ছে, হঠাৎই শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি ৷ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ৷ পালাতে গিয়ে একটা ড্রেনের মধ্যে পড়ে পা মচকে যায় আজাদের ৷ সে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ফিরে আসে বাসায় ৷
    জায়েদ এসে বলে, ‘দাদা, পা টিপা দিমু ৷’
    ‘আরে না ৷ মাথা খারাপ ৷ তুলা দিয়ে নাড়লেও মরে যাব ৷ উফ্, কী ব্যথা রে!’
    ‘দাদা, এক কাম করি, কাইলকা যাই ইস্কাটনে, চৌধুরী সাবরে কই দাদার পাও ভাইঙা গেছে, ট্রিটমেন্ট করান লাগব, মালপানি ছাড়েন ৷’
    ‘ভালো বুদ্ধি বের করেছিস তো ৷ হ্যাঁ ৷ কালকে যাবি ৷’
    জায়েদ পরের দিন গিয়ে হাজির ইস্কাটনের বাসায় ৷ দারোয়ান পথ আটকে দাঁড়ায়-’কই যাইবেন ?’
    ‘চৌধুরী সাবের লগে দেখা করুম’-জায়েদ বলে ৷
    ‘ক্যান ?’
    ‘ছোট সাবে পাঠাইছে ৷ হের পা ভাইঙা গেছে ৷ হেই খবর দিতে হইব ৷’
    দারোয়ান গেইট ছাড়ে ৷ ভেতরে গিয়ে সে দাঁড়ায় চৌধুরী সাহেবের কাছে ৷
    ‘সালামালেকুম খালু ৷’
    ‘ওয়ালাইকুম ৷ ক্যান আইছ ?’
    ‘আজাদ দাদা পাঠাইছে ৷ হের পাও ভাঙছে ৷’
    ‘পা ভেঙেছে ৷ কী করে ভাঙল ?’
    ‘ইউনিভার্সিটিতে গেছল ৷ গণ্ডগোল লাগছে ৷ হে বেকায়দায় পইড়া পাও ভাইঙা ফেলাইছে ৷’
    চৌধুরী সাহেবের ফরসা মুখটা সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে যায় ৷ কিছুক্ষণ ভেবে তিনি বলেন, ‘আজাদরে বলো এই বাসায় এসে থাকতে!’
    ‘কমুনে ৷ আইব না ৷ আপনেরে টাকা দিবার কইছে ৷’
    চৌধুরী সাহেব ভেতরে যান ৷ জায়েদ বৈঠকখানায় দাঁড়িয়েই থাকে ৷ টমি এসে তার গা শোঁকে ৷ পরিচিত গন্ধ পেয়ে লেজ নাড়ে ৷ একটু পরে কদম আলী এসে হাত বাড়িয়ে দেয় ৷ তার হাতে টাকা ৷
    জায়েদ জিজ্ঞেস করে, ‘কত ?’
    ‘এক হাজার ৷ গইনা লও ৷’
    জায়েদ টাকাটা গোনে ৷ তারপর খুশি মনে বেরিয়ে যায় ৷ আজাদ দাদার কাছ থেকে আজ মোটা অঙ্কের ভেট আদায় করা যাবে ৷ অন্তত চার দিন সিনেমা দেখা যাবে ডিসিতে ৷
    রাত্রিবেলা ঢাকা ক্লাবে আবার ইউনুস চৌধুরীর প্রথম পত্নীর জন্যে শোক উথলে ওঠে ৷ তিনি গেলাসের পরে গেলাস উজাড় করতে করতে সামনে বসা এআই খানকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আচ্ছা বলেন তো, সাফিয়া বেগম কবে আমার পায়ের কাছে এসে পড়বে ?’
    এআই খানের অবস্থাও তখন খারাপ ৷ তিনি বলেন, ‘পায়ের কাছে কেন পড়বে ? হোয়াই অ্যাট দি ফিট ৷ নো ৷ ইউ হ্যাভ গট হার হেভেন আন্ডার ইয়োর ফিট ৷ ইউ শুড নট অ্যালাউ হার এনটারিং ইন টু দি হেভেন সো ইজিলি ৷’
    ‘সে তো কিছুতেই আমার কাছে আসছে না ৷ একটা মহিলার কেন এত তেজ ? কেন ? আমি কী দেইনি তাকে ? বাড়ি তার ৷ ছেলে তার!’
    এআই খান বুদ্ধি দেন, ‘শোনেন, তার ছেলেকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন ৷ সেন্ড হিম টু করাচি ৷ মেক হার আইসোলেটেড ৷ দেন শি উইল গিভ ইন ৷ শি মাস্ট ৷’
    এরই মধ্যে আজাদের মায়ের কোল থেকে দু বছর বয়সী জায়েদের ছোট্ট ভাই লিমনকে এক রকম প্রায় কেড়েই নিয়ে গেছেন জায়েদের বাবা ৷ বাচ্চাটাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে ৷ সেই বাচ্চা মারা গেছে ৷ সেই শোকে জায়েদ ও তার ভাইবোন আর আজাদের মা খুবই ভেঙে পড়েছে ৷ একটা বাচ্চা যখন বাড়িতে থাকে, সে পুরোটা বাড়ি জুড়ে থাকে ৷ এই বাড়িতেও লিমন ছিল সবার কোলজুড়ে ৷ সে চলে যাওয়ার পরই সবার মন ছিল খারাপ ৷ তার ওপর সে মারা গেছে, এই খবর শুনে সবাই স্তব্ধ হয়ে যায় ৷ বাসার ঠিকে ঝিটা পর্যন্ত কেঁদে কেঁদে ওঠে, ‘বাচ্চাটারে এইখান থাইকা নিয়া গিয়াই মাইরা ফেলল ৷ কেমন পাষাণ বাবা রে ৷’
    আজাদকে ঢাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বুদ্ধিটা চৌধুরী সাহেবের মাথায় খেলে যায় ৷ আজাদকে ঢাকায় রাখা যাবে না ৷ ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়ার পরিবেশ নাই ৷ সক্ষম লোকের ছেলেমেয়ে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে ? আজাদকে করাচি পাঠাতে হবে ৷ তাতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে ৷ ছেলেটার ভালো হবে ৷ এই গণ্ডগোলের বাইরে থেকে সে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারবে ৷ তার জীবনের নিরাপত্তা থাকবে ৷ আবার মায়ের কাছ থেকে ছেলেকে আলাদা করা যাবে ৷ তখন দেখা যাবে, মা কী করে একা ঢাকায় থাকে ৷ এখন আমি আজাদকে যে মাসোহারা দেই, সেটা নিশ্চয়ই আজাদ তার মা আর তার খালাতো ভাইবোন পঙ্গপালের পেছনে ব্যয় করে ৷ এটাও বন্ধ হবে ৷ ছেলেকে করাচিতে যে খরচ পাঠাব, সেটা নিশ্চয় সে আর মায়ের পেছনে ব্যয় করতে পারবে না ৷
    চৌধুরী সাহেব আজাদের এক মামাকে ফোন করে আনান ৷ তাঁকে আজাদ ডাকে পাতলা মামা বলে ৷ বিক্রমপুরে যেহেতু বেশির ভাগ বিয়েই আত্মীয়দের মধ্যে হতো, কাজেই পাতলা মামা আবার পাতলা চাচাও হয় ৷ চৌধুরী সাহেব আজাদের মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন এই পাতলা মামাকে ৷
    পাতলা মামা হাজির হন ফরাশগঞ্জের বাসায় ৷ দেখা করেন সাফিয়া বেগমের সঙ্গে ৷ তাঁকে বলেন, ‘বুবু, ছেলে তো শুনছি আইএ পাস করছে ৷ খুব খুশির খবর ৷ আলহামদুলিল্লাহ ৷ এবার ছেলেকে পড়াবা কই ?’
    সাফিয়া বেগম বলেন, ‘আজাদ তো বলে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়বে ৷ সে তো সারা দিন ওই দিকে ঘুরঘুর করে ৷’
    পাতলা মামা বলেন, ‘না না না না ৷ এইখানে আজাদের থাকাটা ঠিক হবে না ৷ বিশেষ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়া একদম অনুচিত হবে ৷ দেশের পরিস্থিতি ভালো না ৷ আরো খারাপ হবে ৷ ভদ্রলোকের ছেলেরা তো ঢাকায় পড়ে না ৷’
    ‘তাহলে তারা কই কই পড়ে ?’ আজাদের মার চোখেমুখে উদ্বেগ!
    পাতলা মামা একটা পানের খিলি মুখে পুরে বুড়ো আঙুলে চুন লাগিয়ে সেটা নিজের জিভে লাগান ৷ তারপর আঙুলে লেগে থাকা চুনের অবশিষ্টটা গোপনে টেবিলের নিচে মুছতে মুছতে বলেন, ‘করাচি ৷ ভদ্রলোকের ছেলেরা পড়ে করাচিতে ৷’
    সাফিয়া বেগমের মুখটা সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার হয়ে পড়ে ৷ এই কথা তাঁর প্রতি একটা চ্যালেঞ্জ ৷ করাচিতে ছেলেকে পাঠিয়ে তিনি একা একা কী করে থাকবেন! আর খরচই বা আসবে কোত্থেকে ?
    পাতলা মামা বলে চলেন, ‘করাচিতে পড়ার খরচ যা লাগে, তা তো আজাদের বাবার কাছ থাইকাই আদায় করা যাবে ৷ আপনি আজাদের বাবার কাছ থাইকা দূরে সইরা আসছেন, তাই বইলা তো বাবার ওপর থাইকা আজাদের হক চইলা যায় না ৷ আর মাসের হাতখরচ অর বাবা অরে যা দেয়, তা একটু বাড়ায়া দিলেই তো আজাদের করাচির খরচ হইয়া যায় ৷’
    আজাদের মা তাঁর ভাইয়ের এ প্রস্তাবটা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন ৷ আসলেই এখানে থাকলে আজাদের লেখাপড়া হবে না ৷ এমনিতে তার বন্ধুবান্ধব বেশি ৷ তাদের সবার স্বভাব-চরিত্র যে এক রকম তা নয় ৷ তার ওপর আবার দেশের যা পরিস্থিতি ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগি্নগর্ভ হয়ে আছে ৷ ছেলেকে করাচি পাঠানোই ভালো ৷ তিনি বলেন, ‘পাঠাতে পারলে তো খারাপ হতো না ৷ কিন্তু আমার পক্ষে কারো কাছে কোনো সাহায্য চাওয়া সম্ভব না ৷’
    ‘তাইলে আমি অ্যারেঞ্জ করি’-পাতলা মামা বলেন, ‘চৌধুরী এতে আপত্তি করবে বইলা মনে হয় না ৷’
    পাতলা মামা আজাদের করাচি যাওয়ার সব ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত করে ফেলেন ৷
    রাত্রিবেলা ৷ ফরাশগঞ্জের বাসার ডাইনিং টেবিলটা সেগুনকাঠের ৷ অনেক বড় ৷ তবে ওপরের রেঙ্েিনর টেবিল-ঢাকনিটা পুরনো হয়ে গেছে ৷ একপাশটা সামান্য ছেঁড়া ৷ আজাদের পাতে ভাত তুলে দিচ্ছেন মা ৷ আজাদ ভাতের দলা ভাঙছে ৷
    মা টেবিল-ঢাকনিটার ছেঁড়া অংশটায় নখ খুঁটতে খুঁটতে বলেন, ‘দুপুরে খেয়েছিস কই ?’
    ‘খেয়েছি ৷ পপুলার হোটেলে ৷’
    ‘হোটেলে মোটেলে খেয়ে পেটে গ্যাস্ট্রিক বানাবি ?’ তিনি ছেলের পাতে শাক তুলে দিতে দিতে বলেন ৷
    ‘না ৷ রোজ খাই না তো!’
    ‘লেবু দিয়ে শাক দিয়ে ভাতটা মেখে খা ৷ শাকের মরিচটা একটু ডলে নে ৷’
    ‘ঝাল খেতে পারি না ৷’
    ‘তাহলে ৷ হোটেলের লাল ঝোল খাস কেমন করে ?’
    ছেলে খায় ৷ মা তাকিয়ে তাকিয়ে তার খাওয়া দেখেন ৷ টমেটো দিয়ে ধনে পাতা দিয়ে রুই মাছের ঝোল করেছেন ৷ ছেলের পাতে তুলে দিতে দিতে বলেন, ‘শোন, তোর করাচি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা আমি করে ফেলেছি ৷ তোকে ১০/১৫ দিনের মধ্যে রওনা হতে হবে ৷’
    ‘বলো কি তুমি! তোমাকে ছেড়ে আমি যেতে পারব না’-আজাদ বলে ৷
    ‘কয় কী পাগলে! তোকে যেতেই হবে ৷ তুই ওখানে বিএ-এমএ পড়বি, ডিগ্রি নিবি, দেশে ফিরে এসে চাকরি করবি, নাহলে ব্যবসা করবি, তখন আমার মনে শান্তি আসবে ৷ আমি বেঁচে আছি তো তোকে মানুষ দেখে যাব বলে ৷ আরেকটু ভাত দেই ?’
    ‘কেন, এইখানে আর লোকের ছেলেমেয়ে পড়ছে না ?’
    ‘পড়ুক ৷ লোকের কথা আর আমার কথা এক না ৷ লোকের কি আর আমার মতন একটা মাত্র ছেলে ? আর কেউ নাই! জামাই নাই ৷ ভাই নাই ৷ বাপ নাই ৷ মা নাই!’
    ‘সেই জন্যেই তো আমি যেতে চাই না ৷’
    ‘সেই জন্যেই তোকে তাড়াতাড়ি পাঠাতে চাই ৷ এইখানে ইউনিভার্সিটি গিয়ে কেমন পা ভেঙে এসেছিস ৷ আর না ৷ ভাত খাওয়ার মধ্যে আবার পানি খাস কেন ? খাওয়া শেষ করে খা ৷’
    মায়ের জেদের কাছে পরাভব মানতে হয় আজাদকে ৷
    পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের টিকেট তার জন্যে কেনা হয় ৷
    দাদা চলে যাচ্ছে ৷ জায়েদের খুব মন খারাপ ৷ সে আজ আর স্কুলে যাবে না ৷ সে দাদার সঙ্গে সঙ্গে থাকবে ৷ আম্মা সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার সময় জায়েদের কোনো তৎপরতা না দেখে জিজ্ঞেস করেন, ‘কিরে, তুই ঢিলা মেরে বসে আছিস কেন ? স্কুল তো লেট হয়ে যাবি ৷’
    ‘স্কুল যামু না ৷’ জায়েদ বলে ৷
    ‘কেন, যাবি না কেন ?’
    ‘দাদার লগে লগে থাকুম ৷’
    ‘দাদা কি সকালে যাচ্ছে নাকি! তুই স্কুল থেকে এসেও তো দাদার সঙ্গে থাকতে পারবি! যা, স্কুল যা ৷’
    ‘দাদা আমারে যাইতে নিষেধ করছে ৷’
    করাচি যাওয়ার জন্যে দাদা ব্যাগ গোছাচ্ছে ৷ জায়েদ তাকে জিনিসপত্র এগিয়ে দিতে থাকে ৷ কাপড়-চোপড় ৷ শেভিং ক্রিম, ব্রাশ, সেফটি রেজর ৷ বইপত্র ৷ এলভিস প্রিসলির রেকর্ডটা ৷ জায়েদ বলে, ‘রেকর্ড লইয়া কী করবা দাদা ? প্লেয়ার পাইবা কই ?’
    ‘করাচি কি গ্রাম নাকি ?’ আজাদ জবাব দেয় ৷
    ‘নাজে তো ভালো সিনেমা আসতেছে ৷ দেখবার পারবা না ৷’
    ‘করাচিতেও সিনেমা হল আছে ৷’
    ‘থাকুক ৷ বাংলা বই তো আর চলব না ৷ সুচিত্রা-উত্তমের বই কই দেখবা ?’
    ‘ওইখানেও নিশ্চয় চলবে ৷ নাইলে আর কী! তুই দেখিস ৷’
    ‘ক্যামনে দেখুম ৷ পয়সা দিব কে ?’
    ‘তোকে মাসে মাসে আমি সিনেমা দেখার টাকা পাঠিয়ে দেব ৷ এই শোন, তোর কলম লাগবে ? ধর ৷’
    আজাদ তার ড্রয়ারে রাখা কতগুলো কলম মুঠো করে জায়েদকে দেয় ৷ জায়েদ ‘না লাগব না’ বলে নেয় ৷ ড্রয়ারে আরো কতগুলো মূল্যবান সম্পদ আছে ৷ একটা চাকু, এটা দিয়ে আম কাটা যাবে, একটা ঘড়ি, দাদা এটা পরে না, চাবিও দেয় না বহুদিন, আরো না জানি কত কিছু ৷
    ‘কিরে, ড্যাবড্যাব করে কী দেখিস ?’ আজাদ বলে ৷
    ‘ঘড়িটা নষ্ট নাকি! চাবি দ্যাও না কদ্দিন ৷ আমার কাছে রাইখা যাও ৷ ডেলি চাবি দিমুনে ৷ ভালো থাকব ৷’
    ‘তোকে দিলে বেচে দিয়ে সিনেমা দেখবি ৷’
    ‘এত দামি ঘড়ি ৷ মাথা খারাপ, নাকি পেট খারাপ ?’
    ‘তাইলে যা এটা তোকে দিয়ে দিলাম ৷’
    ‘চাকুটা কী করবা ? ধার দেওন লাগব না!’
    ‘এটা দিলে তোর দশ আঙুল কেটে টুকরা টুকরা হয়ে যাবে ৷ এইটা দেওয়া যাবে না ৷’
    দুটো প্লেবয় আছে ৷ এগুলো ড্রয়ারে চাবি দিয়ে লুকিয়ে রাখতে হবে ৷ নাহলে জায়েদের হাতে পড়ে গেলে মুশকিল ৷
    ‘জায়েদ যা, ঘর ছাড় ৷’
    ‘ক্যান ৷ তোমার লগে থাকুম বইলা স্কুল গেলাম না ৷ আর আমারে তুমি বাইর কইরা দ্যাও ৷’
    ‘আরে হতভাগা ৷ বের করে দিচ্ছি নাকি ৷ দুইটা মিনিট একটু ঘরের বাইরে যা না ৷ দুইটা মিনিট ৷’
    মা এক সময় রাঁধতে ভালোবাসতেন ৷ এখনও বাসেন হয়তো ৷ কিন্তু সামর্থ্য তো নাই ৷ রান্না করতে হলে বাজার করতে হয় ৷ কে বাজার করবে ? টাকা আসবে কোত্থেকে ? কিন্তু আজকে মা অনেক কিছু রাঁধতে বসে গেছেন ৷ ছেলে তাঁর যা কিছু খেতে ভালোবাসে, তার সব ৷ পোলাওয়ের চেয়ে তার শাদা ভাত পছন্দ বেশি ৷ ইলিশ মাছ সর্ষে দিয়ে ৷ পাবদা মাছের ঝোল ৷ চিংড়ির মালাইকারি ৷ গোরুর মাংস ভুনা ৷ মুরগির দোপেঁয়াজা ৷ একটু আলুভর্তা ৷ দুটো বেগুন ভাজি ৷ মসুরের ডাল ৷ আহা, ছেলে আজ তাঁর দূরে চলে যাচ্ছে ৷ এটা তো শুধু পড়তে কয়েক মাস কি কয়েক দিনের জন্যে চলে যাওয়া নয়, এ হলো জীবন থেকেই চলে যাওয়া ৷ বিদেশে ছেলে যাবে পড়তেই বটে, কিন্তু বিএ এমএ পাস করে সে কি আর ফিরে আসবে, কার ছেলেই বা ফিরে আসে, ফিরে এলেও সে কি আর আগের ছেলে থাকে, অন্য রকম হয়ে ফেরে, তার মাথার মধ্যে তখন অন্য আকাশ, অন্য জগৎ, সে কি আর মায়ের বুকে ফিরে আসে ? মাকে জড়িয়ে ধরে ? জ্বর হলে মা মা বলে বিলাপ করে ? মাথার চুলে মায়ের আঙুলের বিলির জন্যে কাতর হয়ে পড়ে ? ছেলের সঙ্গে মায়ের তখন অপার ফারাক, দুজনের দুই জগৎ, ছেলে তখন অচেনা, তাকে ডাকে বাইরের জগৎ, সে তখন কাজের মানুষ, আর তার যেটুকু ভালোবাসা, যেটুকু স্নেহ, তা থাকে অন্যের জন্যে, অন্য নারী, অন্য কাজ, অন্য দরজা, অন্য আকাশের জন্যে ৷ মায়ের চোখ ভিজে আসতে চায়, কারণ তিনি পেঁয়াজ কাটছেন, এ ছাড়া আর কিছু নয় ৷ আর কোনো কারণ থাকতে পারে না ৷
    ‘মা, আমি একটু বাইরে গেলাম’-আজাদ বলে ৷
    ‘আবার কই যাস ? দুপুরে বাসায় খাস বাবা ৷’
    ‘আচ্ছা ৷’
    ‘আচ্ছা না ৷ তোর জন্যে আমি রাঁধতে বসেছি ৷ অবশ্যই খাবি ৷’
    ‘কী কী রাঁধছ ?’
    ‘খেতে বসলেই দেখতে পাবি ৷’
    ‘আচ্ছা আসব ‘খন ৷’
    দুপুর গড়িয়ে যায় ৷ আজাদ ফেরে না ৷ মায়ের মন খারাপ ৷ জায়েদ মাতৃহারা গোবৎসের মতো বাড়ির এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায় ৷ তার বাঁ হাতে ঘড়ি ৷ ঘড়িটা চলছে ৷ কানের কাছে নিয়ে সে টিক টিক শব্দ শোনে ৷
    আজাদ ফেরে বিকালে ৷ ‘মা, খিদা লেগেছে ৷ খাবার দাও ৷’
    ‘দেওয়াই আছে ৷ আয় ৷ বস ৷ হাত ধুয়ে আয়’-মা বলেন ৷
    ‘তুমি খেয়েছ ?’
    ‘আমার খাওয়া ৷ আমি এইসব খাই ?’
    ‘না খেলে ৷ ভাত তো খাও ৷ এত বেলা না খেয়ে আছ ৷ নাও ৷ তুমিও নাও ৷ জায়েদ খেয়েছে ? ডালু খেয়েছে ?’
    ‘হ্যাঁ ৷ ওদের খাইয়ে দিয়েছি ৷’
    ‘ভালো করেছ ৷ জায়েদ, এই জায়েদ, আয় বস ৷’ আজাদ উচ্চৈঃস্বরে বলে ৷
    জায়েদ আসে ৷ ‘আমি খাইছি ৷ প্যাট ফুইলা আছে ৷’
    ‘আরে আবার বস ৷ নে ৷ বস ৷ যা হাত ধুয়ে আয় ৷ জলদি ৷ জলদি ৷’ জায়েদ ‘না’ করতে পারে না ৷ সত্যি তার পেটে কোনো জায়গা নাই ৷ তবু দাদার পাশে বসার এ সুযোগ ৷ আরেকটু কাছে থাকার সুযোগ! সে কি ছাড়তে পারে ? সে বসে পড়ে ৷
    মা আজাদের পাতে ভাত তুলে দেন ৷ আজাদ অন্যমনস্ক ৷ সে থালার ভাত এক কোণে পালা করে ৷ মা পাতে লেবু তুলে দিলে সে লেবু চিপতে থাকে ৷ রস বেরিয়ে তার চোখে যায় ৷ সে বাঁ হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ ডলে ৷ মা প্লেটে আলুভর্তা তুলে দেন ৷ সে ভালো করে না মেখেই গাপুসগুপুস করে ভাত মুখে তোলে ৷
    মা বলেন, ‘আস্তে আস্তে খাও বাবা ৷ ভালো করে মেখে খাও ৷ কোথায় থাকবে না থাকবে, কী খাবে না খাবে, ভাত তো পাবেই না, রুটি পাবে ৷’
    আজাদ মুখ তুলে মায়ের মুখে দিকে তাকায় ৷ ‘আরে না ৷ ভাত পাওয়া যাবে ৷’
    জায়েদ বলে, ‘করাচিতে নাকি খুব ভালো কাবাব হয় ৷ আস্ত খাসি আগুনে পুড়ায়া কাবাব বানায় ৷ দাদা আরাম কইরা খাইতে পারব ৷’
    আজাদ হাসে ৷ ‘খাসির ভুঁড়ি কি বের করে নেয়, না পেটের ভিতরেই থাকে!’
    মা বলেন, ‘আজাদ ৷ শোনো ৷ মনে রেখো, তুমি করাচি যাচ্ছ পড়তে ৷ পড়াশোনাটা ঠিকমতো করবে ৷ কষ্ট হলেও পড়াশোনাটা শেষ করবে ৷ বিদেশে নানা কষ্ট হয় ৷ কিন্তু পড়তে গেলে কষ্ট করতেই হবে ৷ মনটা উতলা করবে না ৷ ধ্যান ধরে পড়বে ৷ আমাদের জন্যে চিন্তা করবে না ৷ আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় ভালো থাকব ৷ চিঠি লিখবে ৷’
    আজাদ বলে, ‘মা শোনো ৷ তোমাকে একটা কথা বলি ৷ আমি করাচি যেতে রাজি হয়েছি কেন জানো ? রেজাল্ট ভালো করার জন্য ৷ এখানে তো বন্ধুবান্ধব বেশি হয়ে গেছে ৷ ওখানে তো আর কেউ থাকবে না ৷ খেলা নাই, আড্ডা নাই ৷ খালি পড়া ৷ দেখো, আমি যদি ফার্স্ট ক্লাস না পেয়েছি…’
    ‘খাও বাবা ৷ খাও ৷’ মা একটা মুরগির রান তুলে দেন ছেলের পাতে ৷
    সন্ধ্যার পরে রুমী আসে ৷ সৈয়দ আশরাফুল হক আসে ৷ ফারুক আসে ৷ ইব্রাহিম সাবের আসে ৷ তারা তিনতলায় আজাদের ঘরে বসে গল্পগুজব করে ৷ হাসিঠাট্টা আমোদে মেতে ওঠে ৷ ফারুক বলে, ‘দোস্তো, পাকিস্তানি মেয়ে পাইলে প্রথমে গায়ে পানি ছিটাইবা ৷ যদি দেখো ঝাইড়া দৌড় দিতাছে, তাইলে যাইতে দিও ৷ পিছনে পিছনে দৌড়াইও না ৷ আর যদি দেখো পানি সহ্য করতে পারে, তাইলে কাছে যাইও ৷ নাইলে বুঝলা না, এক মাস গোসল করে না, গায়ে গন্ধ করব ৷’
    বন্ধুরা সবাই রাতে এখানে ভাত খায় ৷ আজাদের মা অনেকদিন পরে তাঁর বাসায় বাইরের লোকদের আপ্যায়ন করেন ৷ অথচ আগে প্রায় প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে দাওয়াত করে খাওয়াতেন ৷ রাতের বেলা আবার তিনি ইলিশ-পোলাও রেঁধেছেন ৷ এই পদ রান্নার জন্যে তাঁর খ্যাতি বিশেষজ্ঞ-পর্যায়ের ৷ ইস্কাটনের বাসা থেকে বেরিয়ে আসার পরে সেটা আর করা হয় না ৷
    জায়েদ কিন্তু এত লোকের উপস্থিতি পছন্দ করছে না ৷ একটু পরে দাদা চলে যাবে এয়ারপোর্টের উদ্দেশে, এখন কি সে দাদাকে একটু একা পেতে পারত না!
    খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে মা বলে, ‘বাবা, রাত কোরো না, দিনকাল ভালো না, বিসমিল্লাহ করে বের হয়ে যাও ৷ তাড়াতাড়ি এয়ারপোর্টে গিয়ে বসে থাকতে তো অসুবিধা নাই ৷’
    মা সব সময় আজাদকে ‘তুই’ করে বলেন ৷ কিন্তু এখন বলছেন তুমি তুমি করে ৷ মা বাইরে যতই শক্ত ভাব দেখানোর চেষ্টা করুন না কেন, ভেতরে ভেতরে তিনি বিদায়-ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছেন ৷
    আজাদ বেরিয়ে পড়ে ৷ সঙ্গে বন্ধুরা ৷ মা, জায়েদ, চঞ্চল, টিসুকে কোলে নিয়ে মহুয়া-এরাও আসে রাস্তায় ৷ আরেক খালাতো ভাই ডালু আসে ৷ তার হাতে আজাদের সুটকেস ৷
    একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে ৷ আজাদের বন্ধু ফারুকের গাড়ি ৷
    মা বলেন, ‘ঠিক আছে বাবা, আসো ৷ দেখেশুনে যাও ৷ টিকেট ঠিকমতো রেখেছ তো ?’
    ‘জি রেখেছি’-আজাদ বলে ৷
    ‘আল্লাহর নাম নিয়ে রওনা দাও ৷’
    আজাদ মাকে কদমবুসি করে ৷ মায়ের বুকের ভেতর থেকে কান্না উগরে আসতে চাইছে ৷ চোখের পানি বাঁধ মানতে চাইছে না ৷ কিন্তু তিনি বাইরে থেকে তার কিছুই বুঝতে দেন না ৷ মুখটা হাসি হাসি করে রাখেন ৷ তাঁকে দেখলে বোঝার উপায় নাই যে ভেতরে তাঁর ঝড় বয়ে যাচ্ছে ৷ আজাদ মায়ের ‘তুমি’ বলা শুনেই সব বুঝছে ৷
    আজাদ গাড়িতে ওঠে ৷ তার বন্ধুদেরও কেউ কেউ ৷ গাড়ির হেডলাইট জ্বলে ওঠে ৷ শব্দ করে স্টার্ট নেয় গাড়িটা ৷ একটু একটু করে এগোতে থাকে ৷ তারপর পেছনের লাল লাইট দেখিয়ে এক সময় সেটা অদৃশ্য হয়ে যায় ৷ তখন ঝপ করে এই জায়গাটায় একটা নিস্তব্ধতা এসে ভর করে ৷ ডালু কোনো কথা বলে না, জায়েদ কোনো কথা বলে না, চঞ্চল কোনো কথা বলে না, টিসু না, বোনেরা না, মা না ৷ তারা ঘরের ভেতরেও যায় না ৷ আবার রাস্তার দিকে তাকিয়েও থাকে না ৷ কয়েকটা মুহূর্ত শুধু, কিন্তু সে মুহূর্ত কয়েকটাই অনন্তকালের মতো সরণিজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে ৷
    ‘আল্লাহ মাবুদ’-আজাদের মায়ের বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যাওয়ার পরে সবাই ঘরে ফিরে আসে ৷
    গাড়িটা বেশ খানিকটা পথ এগিয়ে যাওয়ার পর, একটা রুমাল বের করে আজাদ চোখ মোছে ৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাগানবাড়ি রহস্য – আনিসুল হক
    Next Article মাসুদ রানা ৪৪৮ – মৃত্যুঘণ্টা

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }