Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026

    হায়নার গুহা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    July 13, 2026

    কারামাজভ ভাইয়েরা – ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি (অসম্পূর্ণ)

    July 13, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শব্দ পড়ে টাপুর টুপুর – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প198 Mins Read0
    ⤶

    আমার কোনও তাড়া নেই

    মাননীয় সম্পাদক মশায়ের ‘দাবি অতি সামান্য।’ কী সেই দাবি? “আপনার নিজের মখে নিজের কথা।” কী কথা? এই—‘জীবন’, ‘কর্মক্ষেত্র’, ‘দুঃখসখ’, ‘সাফল্য-ব্যর্থতা’ এই সব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে খেলাচ্ছলে ১২০০-১৫০০ শব্দের পুঁটুলি বেঁধে ফেলা। চিঠি যখন সাগরপারে এসে পৌঁছল তখন দিন শেষ। এখন শুরু করেছি তেরাত্তির জেগে ব্রতধারণের পালা। মনস্তাত্ত্বিক চেম্বারে যাইনি কখনও, কিন্তু শুনেছি নরম কোচে আরাম করে শুইয়ে ফেলে তীব্র আত্ম-অম্বেষণের কাজটি চালানো হয়। আর সম্পাদকমশাই খপ করে সামনে একটা বড় সাইজের আয়না ধরে দিয়েছেন। পিছনে আরেকটা। আয়নার মধ্যে আয়না, তার মধ্যে আয়না, তার মধ্যে আয়না। আমার চোখ সামনে। আমার চোখ দূরে।

    মা। মা কিছু দেখতে পাচ্ছ কি? আমার সামনে তুমি রয়েছ, আমাকে কেমন দেখছ? একমাত্র তোমারই গভীর গভীরতর আগ্রহ আমার কুশল শুনতে। একমাত্র তোমারই আছে অসীম সময় আর সমস্ত আকুতি, আমার বিষয়ে। আমার সামনে তুমি রয়েছ, যেমন তুমি রয়েছ আমার দশদিক ঘিরে, প্রাণবায়ু হয়ে। সেই রক্তাক্ত নাড়ির দৈর্ঘ্য এখন অন্তহীন, মা। যতদূর চোখ যায়, নাড়ির পাক, লাল রক্ত। আমরা তো মেয়ে, আমাদের ভাগ্যিস নীলরক্ত হয় না। শুধু চটচটে গরম, টুকটুকে লাল রক্ত। যা ডেলা পাকিয়ে যায়, আর সেই ডেলা থেকে আমরা তৈরি করি আর একটা মানুষ। আমার দুটো ছোট মেয়ে বড় হতে হতে এখন পূর্ণ যুবতী, কিন্তু তোমার মেয়েটাকে তুমি বাড়তে দাওনি, অশেষ কৈশোরে বন্দি করে রেখে দিয়েছ। এই হয়েছে আমার মরণ। জিয়নকাঠিটি ছিল তোমার হাতে। এইবার আমাকেই আমার মা হতে হবে।

    আমি কেমন আছি। এই দ্যাখো মা, আমি একটা নামহীন দ্বীপে দাঁড়িয়ে নোনা বাতাসে আমার খোলাচুল উড়ছে। চারিদিক থেকে ঘিরে ধরছে বালির ঢেউ, অনেক অনেক দূরে নীলকালো সমুদ্রের সংকেত, ওইখানে আমাদের যেতে হবে। ঝাঁ ঝাঁ করছে মাথার ওপরে ইস্পাতের আকাশ, মধ্য দিনের রোদ ঠিকরে পড়ছে সাদা বালিতে, সিসের মতো ভারী আর গরম পায়ের তলার সেই বালি, পা আমার চলবে তো? ওই দূরে না-দেখা সমুদ্রের গুরু-গুরুতে, নীলকালো রেখায় পালতোলা রাজহংসী নৌকোটি নিয়ে তুমি রয়েছ পদ্ম ফুলে বসে, তোমার হাতে কলম। আমাকে কেমন দেখছ মা? মন্দ না থাকার নামই কি ভাল থাকা? চির-কৈশোরের অভিশাপ আমার ওপরে, কেবল চুলই পাকে, বুদ্ধি পাকে না। গোলকধাঁধা পথ হাতড়ে হাতড়ে সন্ধে থেকে সকাল, সকাল থেকে সন্ধে। যারা গুলি-সুতো মুঠোয় নিয়ে জন্মেছে তারা কী সুন্দর পথ চিনতে পারে। তুমি আমাকে কেবল আলপনাই দিতে শেখালে, হিসেব কষতে শেখালে না মা। সেই জিয়নকাঠির মন্তরটা আমার কানে কানে বলে দাও, এই তো তোমার সমুদ্রের শাঁখটা আমি আমার কানে চেপে ধরেছি।

    সফলতা, ব্যর্থতা। ‘কর্মক্ষেত্র’ এই কথাটা বড় বেশি ওজনদার। কতগুলো সহজ প্রশ্নে ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারি। যেমন: তোমার নাম কী?—নবনীতা। তোমার ঠিকানা কী? ‘ভালো-বাসা’ বাড়ি। তুমি কী করো?—কী জানি? সে কি? যে গান করে, সে গাইয়ে। ব্যবসা করে, ব্যবসায়ী। সংসার করলে, গিন্নি। কাপড় কাচলে ধোপা। তুমি কী করো? তুমি কে? তোমার কর্মক্ষেত্রটা কী?

    আমি কি পুরুষ মানুষ যে একটা চারচৌকা ‘কর্মক্ষেত্র’ দিয়েই আমাকে মেপে ফেলতে পারবে? আমি কি একটা? আমি মাস্টার, আমি ড্রাইভার, আমি কবি, আমি ধোপা, আমি রাঁধুনি, আমি ভাবুনি, আমি মেয়ে, আমি মা, আমি গিন্নি, আমার পায়ের তলায় সর্ষে। এতগুলো যার ‘কর্মক্ষেত্র’ সে কখনও ফল ফলাবার আশা মনে রাখতে পারে? মুকুল ঝরানোর মজাটা যে আমিও চিনে ফেলেছি। যে-কাজের অর্থ নেই সেটাই ব্যর্থ তো? আমি যে-কাজই করি না কেন, তার প্রত্যেকটাই অর্থপূর্ণ, খুব জরুরি। সে ঝিনুক কুড়োনোই হোক, আর লাফ দিয়ে গাছের পাতা ছোঁবার চেষ্টা করাই হোক। পণ্ডিতে বলবে মুখ্যুমি, কেজো লোকে বলবে অকাজ, তুমি বলবে পাগলামি, কিন্তু আমি বলব জরুরি। প্রত্যেকটাই অপরিহার্য। সব কিছুরই সময় আছে, সময়কালে তার অর্থও আছে। বিচ্ছেদ হয়েছে বলে কি মিলন ব্যর্থ? মাথুরও সত্য, বৃন্দাবনও অব্যর্থ।

    আরগো জাহাজ। বদলায় না কোন জিনিস? পাথরে তৈরি অনড় হিমালয়, বাষ্পে তৈরি আকাশ দুই-ই তো নিত্যি বদলাচ্ছে। মরুভূমির কোন বালুকণাটি একবারও মরীচিকা হয়ে কেঁপে ওঠেনি? আমাদের অস্তিত্বই সেই গ্রিক জাহাজ যার প্রতিটি খুঁটিনাটি অংশ বদল হতে হতে একদিন সে একেবারে নতুন জাহাজ হয়ে গিয়েছিল, এক ছিল তার গঠন আর নামটা। দশ বছরের মেয়ে, বিশ বছরের তরুণী, পঞ্চাশ বছরের নারী। প্রত্যেকেই অন্য লোক কিন্তু মানুষটি অভিন্ন। শুধু নামেই নয়, রক্তের কোষের মধ্যে ডি.এন.এর অন্দরে যে গভীর গভীরতর পরিচয়টি খেলা করছে, সেই হল আসল টিপছাপ। সে পাঁচেও যা, পঞ্চাশেও তাই। এই তো মজা, একদিকে এত বদল, অন্যদিকে যেমন কে সেই। আমরা সবাই আছি, অথচ পাপ্পা? সুবীর? সুপ্রিয়দা? বলে ডাকলে কোনও সাড়া পাই না। জাহাজের ওই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি কখন নিঃশব্দে পালটে গেছে। অথচ গোটা জাহাজ দিব্যি ভেসে চলেছে। এই ভেসে চলার কাহিনীটা লিখে রাখাই আমার আসল কাজ। আমি কী করি? এক অত্যাশ্চর্য জাহাজের গল্প লিখি। পলে পলে যার বদল হচ্ছে। আর চিরটা কালই এক থাকছে। যতই টুকরো হোক, যেটা গোটা থাকবেই; তাতে না আছে সফলতার প্রশ্ন, না ব্যর্থতার?

    সময়, সময়। মহা ফ্যাসাদে ফেলেছেন সম্পাদক মশাই, এক ধাক্কায় নিজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। ভাবনা মানেই যাতনা। চারি ধারের মানুষ, প্রিয়জনেরা সংসারে, না ভবিষ্যতে। অনেকখানি বর্তমান বিছিয়ে নিয়ে আমি তার শীতল মেঝেয় আঁচল পেতে শুয়ে আছি। যতদূর চোখ যায়। সামনেই হোক আর পিছনেই হোক আমার কাছে সবটাই বর্তমান। চোখের পাতা বন্ধ করলেই আমার দু’ চোখ ভরে যা এসে দাঁড়াচ্ছে, তা বর্তমান ছাড়া কী? তা হলে অতীত কাকে বলে? চোখ বুজলে আমি যাকে আর দেখতে পাই না, তার নাম অতীত। স্বপ্ন আর স্মৃতির সুতোয় বোনা এক অখণ্ড বর্তমানে আমার বাস। তাতে আলো অন্ধকারের ঢেউ খেলে।

    এই সেদিনও আমরা ক’জনে মিলে পরস্পর কোমর জড়িয়ে ধরে মস্ত এক মালার মতো গোল, অচ্ছেদ্য, বাঁশির সুরে সুরে পা ফেলে, তালে তাল মিলিয়ে কী সুন্দর নাচছিলুম। হঠাৎ দেখি দাঁড়িয়ে পড়েছি মুখোমুখি, প্রত্যেকে একলা, প্রত্যেকের হাতে তীরধনুক। হাতে তীরধনুক মাদলে উঠছে যুদ্ধের বোল।

    যতদিন স্বপ্ন দেখা, ততদিনই বাঁশি বাজে। ততকাল নাচের ছন্দে মালা হয়ে বাঁচা। অসাবধানে থাকলেই মধ্যবয়স এসে টুকরো করে ফেলে স্বপ্ন, হাতে ধরিয়ে দেয় তীরধনুক। তখন শুরু হয় লক্ষ্যভেদ, লক্ষ্যবেধ। আর তখন থেকেই বর্তমান কুঁকড়ে, গুটিয়ে ছোট হয়ে আসে, ভবিষ্যৎ দুর্ভাবনার চেহারা ধরে, আর জীবনের দখল চলে যেতে থাকে অতীতের হাতে। মালা ছিন্ন হয়।

    সময় জ্ঞানাঞ্জনশলাকা তুমি ছাড়া আর কার হাতে আছে? তীব্র স্পর্শে চোখ ফোটানোর কায়দা তুমি ছাড়া আর জানে কে? ঠোঁটের কোণে, চোখের টানে তুমি ভয়ানক সত্যদর্শন করাও। তোমার সঙ্গে এই যে আমার অন্তহীন, মুক্তিহীন মুখোমুখি, এ কি প্রণয়ে, না দ্বৈরথে?

    ‘জলকে নেমেছি।’

    : তোমার প্রাণ ভোমরাটি কোথায়?

    : কেন? প্রাণ যেখানে। ভালোবাসায়।

    : খালি ভালোবাসা আর ভালোবাসা। বলি বয়েস কত হল?

    : কত হবে? পঁয়তিরিশ।

    : আর তোমার মেয়ে দুটির?

    : ওই দশ পাঁচ বছরের এদিক ওদিক।

    : কী সুন্দর অংক। ‘বনং ব্রজেৎ’টা ভূলতে চাও?

    ‘ব্ৰনং ব্রজেৎ’-এর সঙ্গে আমার কী? পঞ্চাশ কি আমাকে পাকড়াতে পারবে কোনও দিন? পঞ্চাশ বছর ধরে তো এটাই শিখলুম যে পঞ্চাশ আমার পেরোবে না। আমার বাবারও পেরোয়নি। আমারও পেরোবে না। আমাদের গুষ্টিতে কারুর কোনওদিন পঞ্চাশ পেরোয় না। বুঝেছ? এ হল পাঁচ মাতালের বংশ।

    : তোমার বাবা তো মদ ছুঁতেন না? তিনি তো তিরাশি বছর বয়সে—

    : আরে আরে? তিরাশির সঙ্গে পঞ্চাশ পেরুনোর কী যোগ? কী যোগ আছে মদের সঙ্গে মাতালের? ওই যে মাতাল হাওয়া বইছে, সে কি মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে? আমরা হচ্ছি সেই জাতের মাতাল। বাবাকে মনে করে দ্যাখো? বাবার ছিল তিরাশিতেও হাজার মাইল বর্তমান জুড়ে বসবাস। ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্বপ্ন, ঝলকে ঝলকে স্মৃতি, বনে কেন হবে, বালাই ষাট, তাঁর বিহার ছিল জীবনের পল্লবিত কুঞ্জবনে। সত্যি সত্যি পঞ্চাশ যেদিন পেরোব, সেদিন দেখবে, অতীত স্মৃতির একমণ ওজনের বস্তা এক কাঁধে, অন্য কাঁধে ভবিষ্যতের একমণ দুর্ভাবনার পোঁটলা নিয়ে, কুঁজো হয়ে, বর্তমানের একালে বাঁশের সাঁকোটা কোনও রকমে পার হচ্ছি পা টিপে পা টিপে। সেই যাত্রা বনের দিকে যাওয়া। এখন কী? আমার দিকে ভাল করে চেয়েও দ্যাখোনি বুঝি কোনও দিন? সত্যি আর মিথ্যের ঝিলিমিলি কাটা আলো-আঁধারি দালানে গড়িয়ে পড়েছে পঞ্চাশ বছরের পূর্ণচন্দ্রের বিভা। ছায়াময়, মায়ামগ্ন, ব্যাপ্ত বর্তমানে, একটু একটু মাতাল, আমি শুয়ে আছি। হঠাৎ সম্পাদকমশাই তুলে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এসো, তবে খেলা করি।

    : খেলা করবে? বলি বয়েস কত হল?

    : ওই তো বললুম! আবার বলব? বেশ, বয়েস হল রামধনুর সমান। বিদ্যুতের সমান। বয়েস? বৃষ্টির ফোঁটার সমান।

    : তবে তো বড় মুশকিল তোমার? বৃষ্টির ফোঁটাটি বড় একা একা দীর্ঘপথ ভ্রমণ করে মাটিতে এসে পৌঁছোয়। বিদ্যুৎলতা খুব একলা চমকায়। রামধনুর কোনও সঙ্গী নেই। একা কোথায়? অত বড় আকাশটাকেই ভুলে গেলে? চিরকেলে আদুরে মেয়ে আমি। দর্পহারী কোলে বসে আছি। দৃষ্টি যতদিন, শ্রুতি যতদিন, ওই ‘একা’র সাধ্যি কী আমাকে ধরতে পারে? আমার মা-কে দেখেছি না? আর, আমি তো খেলুড়ে। আমি এই পাথর থেকে ওই পাথরে এ-ডাঙা থেকে সেই ডাঙায় লাফ দিতে দিতে সব কামট্ভরা খাঁড়ি ঠিক পার হয়ে যাব—বয়েস আমাকে কী ভয় দেখাবে? এই কুমির! তোর জলকে নেমে—ছি!

    ব্যক্তিগত। বেশ তো কুমির-কুমির খেলা হচ্ছে, বলি তোমার সমাজচিন্তা-টিন্তা গেল কোথায়? নারীবাদ, মৌলবাদ, সাম্যবাদ, শিল্পবাদ—কিছু না হোক অনুবাদ কোনও বিষয়েই তো কিছু বললে না।

    : তুমি তো জ্বালালে বাপু? মানুষকে একটু একা থাকতে দেবে না? যত ভাবনাচিন্তা সবই কি সব সময়ে চেঁচিয়ে বলতে হবে? সামজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্যও এই সবই তো আমাদের আলো মাটি বাতাস, এ বাদ দিয়ে কিছু লেখা হয়? যদি বল “কই, নবনীতা, তোমার শরীরে তো পঞ্চভূত কোন্টা কোথায় কিছু দেখতে পাচ্ছি না—” সে-বলা যেমন হবে, এ-বলাও তেমনি। মানুষের কলমে বেরোবে তা, হয় সংঘাতের নয়, সংযোগের সংকেত। ভাষা তো সমাজেরই কলকাঠি। বিয়োগ অত সহজ নাকি? তার জন্যে সন্ন্যাস নিতে হয়। এই যে তুমিই তো সমাজ। তোমার সঙ্গেই কতো কথা কইছি। আজকের ভাবনা কেবল একজনকে নিয়ে। সেই এক ব্যক্তির অন্তর্গত রক্তের ভিতরে যে দুর্ভিক্ষ, যে দারিদ্র্যরেখা, যে মন্দির মসজিদ, যে বধূহত্যা সেই সব নিয়ে কথা। কেন, তোমার বুঝি পছন্দ হচ্ছে না? “ব্যক্তিগত” ছাপমারা চিঠি, পড়া হয়ে গেলেই ছিঁড়ে ফেলা নিয়ম।

    ছায়ামানুষ। এই যে শুয়ে আছি, এই শয্যা ঘরে পেতেছি, না বাইরে? নদী পাহাড় রোদ বৃষ্টি ছাড়াও, ছুটন্ত গাড়ির আলোর তীর, ভাসন্ত নৌকোর দাঁড়ের টান, সবই তো ঢুকে আসছে আমার ঘরের মধ্যে। আমি শুয়ে আছি—একটা নরম গদির বিছানা, নাকি নরম ঘাসের গালচেয়? আমি কি নদীর পাড়ে, তারার আলোয়, নাকি ঘরেই জ্বেলেছি নীল ঘুমের বাতি? জীবনভোর হেঁয়ালির মধ্যে বয়ে গেলুম—ঘরে আছি? না বাইরে? আমি তোমাদের ঘরের লোক? না বাইরের লোক? আমি তোমার ঘুমে, না জাগরণে? তোমাদের প্রণয়ে আমি, না প্রতারণায়?

    মাঝে মাঝেই যখন আকাশ দিয়ে উড়ে যাই, কখনও পশ্চিমের অনাত্মীয় শূন্যে ভাসি, কখনও ভারতবর্ষের চেনা মেঘ ছুঁই, আমার মনে হয়, এই বেশ। আকাশটাই আমার প্রকৃত ঠাঁই। এই যে বাঁধনবিহীন আকাশী বাতাস, এটাই আমি।

    প্রায়ই আমার নিজেকে ছায়ামানুষ বলে মনে হয়। বাস্তব আর অবাস্তবে প্রভেদ থাকে না, চেনা টাকাপয়সাগুলো যেন খোলামকুচি হয়ে যায়। ছায়ামানুষের আবার কাজ অকাজ কী? সফল বিফল কী? ছায়ামানুষ তো কেবল পিছলে বেড়াবে, মাটিতে তার পায়ের ছাপটুকুও পড়বে না। সুখ যারে কয় সকলজনে—ছায়ামানুষ তার ছায়াটিকে ঠিক ছুঁতে পারে।

    অধরা মাধুরী। কেউ মোদো মাতাল। কেউ ধমর্মাতাল। কেউ কেজো মাতাল। আমি কুঁড়ে মাতাল। আলস্যের নেশায় আমি বুঁদ হয়ে আছি। বারান্দা থেকে দেখতে পাই নৌকোর পরে নৌকো ভেসে যাচ্ছে নদীর জলে জাপানি পাখার আলপনা কেটে, চলে যেতে যেতে মাকড়সার মতো সূক্ষ্ম জাল বুনে পিছন থেকে নদীটাকে জড়িয়ে ধরছে বুকে, অঙ্গাবিহীন আলিঙ্গনের অছিলায়।

    অমন করে তোত জড়াতে জড়াতে শিখিনি আজও আমার হাত বাড়াতে ইচ্ছে করে না। চোখে যতটুকু ধরে সেই আমার ঢের। আমার কোনও তাড়াও নেই। খুড়োর কলের মতো কোনও রসালো গোল্লা আমি ঝুলিয়ে রাখিনি আমার নাকের ডগায়।

    রুথের দিদিমা ছিয়ানব্বই পার হয়েছেন সম্প্রতি। তিনমাস আগে একটি ছানি কাটিয়েছেন। ডাক্তারের নোটিস এসেছে, দু’নম্বরের ছানিটা আর তিনমাস পরে কাটাতে হবে। দিদিমা অবাক হয়ে নাকের ডগায় চশমা নাচিয়ে বললেন—“আরে? এই তো সেদিনই একটা কাটলে। এত তাড়া কীসের? আমার তো হাতে যথেষ্ট সময়।”

    সত্যিই তো, তাড়াটা কীসের? সময় যথেষ্ট। সেই যে একটা নিরবধিকালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল না আমাদের, বিপুলা পৃথ্বীর সঙ্গে? ভুলিনি আমি। সেম টাইম, সেম প্লাস।

    জিয়নকাঠি। কাজের মধ্যে শাঁখ ধরে আছি। সমুদ্রের শাঁখ আমাকে বললে: যতদিন মগজের মধুতে হৃৎকমলটি ভরে থাকবে, ততদিনই ভালবাসার গুনগুন্। যতদিন তোমার হাতে কলম, ততদিনই তুমি নবনীতা। ওই যে, জিয়নকাঠি তোমার হাতেই রয়েছে।

    এখন থেকে তুমিই তোমার মা।

    আনন্দবাজার, মহাসপ্তমী ১৯৯৪

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপারেশন কোডেক্স : ডান্স অফ দ্য ডেভিল – রণদীপ নন্দী
    Next Article হামারটিয়া – শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026
    Our Picks

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026

    হায়নার গুহা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    July 13, 2026

    কারামাজভ ভাইয়েরা – ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি (অসম্পূর্ণ)

    July 13, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }