Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যোদয় – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প101 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যোদয় – ২

    দুই

    ভিতর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বার বাড়ির দিকে আসছেন, দেখতে পেলেন, শশীকান্ত পাশ দরজা দিয়ে বাইরে থেকে ঢুকে আসছে।

    চন্দ্রকান্তর চোখে চোখ পড়তেই সাঁ করে ভিতরে ঢুকে যাবার তাল করেও কেমন থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    সাঁ করে যাবেই বা কী করে?

    শশীকান্তর পরণে সপসপে ভিজে ধুতি, মাথার চুল থেকে জল ঝরছে, কাঁধে একটা ভিজে ফতুয়া গামছার মত লম্বমান। তার থেকেও জল ঝরছে।

    দেখেই বোঝা যাচ্ছে ব্যাপারটা ‘স্নান’ নয়, নেহাতই সবস্ত্রে ডুব মাত্র। হঠাৎ এর কী প্রয়োজন ঘটল?

    চন্দ্রকান্তর কণ্ঠস্বরে বিস্ময়, কী ব্যাপার শশী? এ সময় এভাবে?

    শশী নামক ব্যক্তিটি বিশ্বসংসারে যদি কাউকে ভয় করে থাকে তো সে ব্যক্তি ভূতও নয়, ভগবানও নয়, মাত্র ছোড়দা। বড়দা মেজদাদের সামনে তো হাত আড়াল দিয়ে তামাক খায় শশী, কিন্তু ছোড়দা? সাক্ষাৎ যমসদৃশ।

    তা উপার্জনে অক্ষম অপদার্থ শশীর ভাগ্যটাও এমন মন্দ, আশ্রয় জুটেছে এই যমেরই কাছে। একই সম্পর্কের অন্য দাদারা তো ডেকেও কথা বলে না।

    হঠাৎ সামনে যম দেখলে লোকের যা হয়, তাই হল শশীর। শশী ঘাড় গুঁজে কুঁকড়ে কুঁকড়ে যা উত্তর দিল তার অর্থ হচ্ছে—সারারাত গরমে ঘুম হয় নি, ভোরবেলায় ঘেমে যাচ্ছিল, তাই তাড়াতাড়ি খিড়কি পুকুরে একটা ডুব দিয়ে এসেছে।

    চন্দ্রকান্ত সন্দেহের গলায় বলেন, সারা রাত যে ঘুম হয়নি, সে তো মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু এতো গরম পেলে কোথায়? কাল রাত্রে তো খুব বাতাস বইছিল, বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

    কী জানি, আমার কি রকম—খুব ঘামটাম রাতে কী হয়েছিল না হয়েছিল কে জানে, এখন এই সকালেই ঘামতে শুরু করে শশীকান্ত—ভিজে কাপড় সত্বেও।

    পেট—টেট গরম হয়েছিল বোধ হয়, চন্দ্রকান্ত বলেন, যাও—চট করে ভিজে কাপড় ছেড়ে ফেলোগে—স্নান করতে গিয়েছিলে, গামছা নিয়ে যাওনি! আশ্চর্য! এটা কত অবিধি জান?

    না, মানে—ইয়ে ঠিক চানই করব ভেবে যাইনি, জলটা দেখে—

    বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেল শশী। জলটা দেখে কী ভাবের উদয় হল, সেটা অব্যক্ত রেখে সরেই পড়ল।

    চন্দ্রকান্তর কপালে একটা রেখা দেখা গেল, শশীর আচরণটা যেন ঠিক স্বাভাবিক মনে হল না, আমার কাছে যেন কিছু গোপন করল।—রাত্রে কি কোনো অচ্ছুৎ জাতির শবদাহ করতে গিয়েছিল? কিন্তু তাতে গোপনের কী আছে? চন্দ্রকান্ত তো ইতিপূর্বে অন্য ক্ষেত্রে ঘোষণা করে থাকে, ‘মড়ার আবার জাত কী? বিপদগ্রস্ত প্রতিবেশীর বিপদে এগিয়ে যাওয়াই উচিত শাস্ত্র’। তবে অকারণ ভয়।… শশীটা বরাবরই আমায় ভারী ভয় করে। কেন কে জানে! আমি তো কখনো তিরস্কার করি না।

    স্বভাবটাই যে শশীর মুখচোরা তাতো নয়, চন্দ্রকান্তর অন্তরালে যে রীতিমত দাপট করে বেড়ায়, সেটা তো অবিদিত নেই কারো। সংবাদ পরিবেশক সংস্থা থেকে জেনে বাড়ি ফিরে একবার শশীকে ডেকে জিগ্যেসাবাদ করতে হবে।

    ভাবতে ভাবতে এগোলেন, কারণ এটা চন্দ্রকান্তর প্রাতঃভ্রমণের কাল। নিয়ম করে অনেকখানিটা হাঁটেন তিনি।

    পথে বেরোলেই একটা অসুবিধে, দোহাত্তা ‘সেলাম’ খেতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠ আর ব্রাহ্মণ বাদে যে কেউ পথে চোখাচোখি হলেই দাঁড়িয়ে পড়বে এবং এগিয়ে এসে পেন্নাম ঠুকবে।

    চন্দ্রকান্ত যতই বলেন, প্রত্যহ দেখা হচ্ছে, তবু আবার এসব কেন বাবা? পথের ধুলো—

    তা উত্তরটা যোগানোই থাকে। গ্রামের চাষাভুষো, তেলি, মালী, কামার, কুমোর, দার্শনিকতায় কেউই কম যায় না। এখন তারক তেলি প্রণামান্তে প্রণামের পদরজঃ মাথায় বুকে ও জিভে ঠেকিয়ে দরাজ গলায় বলে উঠল, পেত্যহ দেকা হলো বলো কি সিদ্ধেশ্বরীর মন্দিরের দরজায় মাথা ঠুকবো নি ছোট কত্তা? না—বুড়ো শিবের থানের ধুলোয় গড়াগড়ি দেব নি?

    তোরা বড় অধিক বাড়াস তারক। এতো কিসের? আমি তো ব্রাহ্মণ সন্তানও নই।

    তারক জিভ কেটে বলে, ‘নয়’ বলবেন না ছোট কত্তা, আপনি যাঁর সন্তান, তিনি বাম্ভনের দশগুণ বাড়া। মহা মহা বাম্ভনের থেকে চড়া বাম্ভন ছিলেন কবরেজ মশাই। তেমন মানুষ এ তল্লাটে একটা বের করুন দিকিন।…কত কাল হল সগগে গেচেন, এখনো গরীব গুর্বোরা তেনার নাম করে ঘুরতেচে!…

    তারক জোড়—করে সেই সগগের উদ্দেশ্যে একটা প্রণতি জানিয়ে বলে, আর ধুলো? ধুলোর কতা বলতেচেন? মহাজনদের চরণপশ্যে সব ধুলোই ‘রজ’ হয়ে যায় ছোট কত্তা।

    ওরে বাবা, তুই তো বেশ শাস্তর পালা শিখে ফেলেছিস রে তারক। তা যাচ্ছিস কোথা? গায়ে জামা উঠেছে দেখছি। কুটুম বাড়ি বুঝি?

    আগ্যে যা বলেচেন। খুকির শউর বাড়ি যেতেচি। মেয়েডারে পেটিয়ে দে অব্দি সব্বদা যেন চতুদ্দিকে শুণ্যি দেকি। খুকির গভ্যোধারিণী তো মেয়ের খেলাপাতি পুতুলের পেঁটরি দেকে আর ধরে ধরে ডুকরে ডুকরে কাঁদে। আহা খুকী আমার একটা পুতুলকে ‘ছেলে’ করেছেলো। সেইটা ছাড়া একদণ্ড থাকত নি, সঙ্গে নে খেতো, কাচে নে শুতো। সেইটা নে যেতে চেয়েছেলো, তা কুটুমবাড়ির পাচে কেউ কিচু বলে, তাই ওর গভ্যোধারিণী নে যেতে দেয়নি। এখন সেই দুখ্যে হাপসে হাপসে মরতেচে।

    চন্দ্রকান্তর কন্যা নেই, ভাবেন—ভাগ্যিস নেই। থাকলে তো এই নাটকেরই অভিনয় হতো। দুঃখিত গলায় বললেন, মেয়ের বয়েস কতো?

    এঁজ্ঞে—এই সাত পেরিয়ে আটে পা দেবে।

    এতো কম বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়েছ কেন তারক? জানো, এতো শিশুকালে বিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কত পণ্ডিতজন মাথা খাটাচ্ছেন।

    তারক একটা উদাস উচ্চাঙ্গের হাসি হেসে বলে, পণ্ডিতজনা মাতা খাটাচচেন বলে কি আর এই হতোভাগা মুখ্যুজনাদের মাতা পোস্কের হবে ছোট কত্তা? এ হতভাগারা যে আঁদারে, সেই আঁদারেই থাকবে।

    চন্দ্রকান্ত একটু কৌতুক অনুভব করলেন। বললেন, আঁধার বলে বুঝতে জানলে তো আর আঁধার থাকত না রে! নিজেই ভেবে দ্যাখ, এখানে মেয়ে পাঠিয়ে তোদের এই কষ্ট, আবার সেখানে কচি মেয়েটারও কত কষ্ট।

    তারক মুখটা একটু ফেরায়, কোঁচার খুঁটটা তুলে সারা মুখটা মোছার ছলে চোখ দুটো মুছে নেয়, তারপর গলা ঝেড়ে বলে, সেই শুনেই তো আরো পাঁচজনে বলতেচে শাউড়িমাগী না কি বড্ড মারধোর করে, খুন্তি পুইড়ে ছ্যাঁকা দেয়—

    অ্যাঁ! চন্দ্রকান্ত শিউরে উঠে বলেন, তবু এখানে বসে আছিস? নিয়ে চলে আয়।

    তারক দোমনা গলায় বলে, সে কথা ভাবি। তবে আমার ব্যাই লোকটা ভাল বেচক্ষণ। ও পরিবারকে ধমকে দে বলে, চার কুড়ি ট্যাকা পণ দে বৌ এনিচি, সেই বৌকে যদি মেরে ধরে মেরে ফেলিস, আর বৌ জোটাতে পারবো আমি? মরিস মাগী চেরদিন হাঁড়ি ঠেলে। তাতেই মাগী এটটু সমজায়। খুকীর শউরবাড়ির পাশেই আমার এক ভাগ্নীর শউরবাড়ি, তাই এতো বিত্তান্ত জানা।

    চন্দ্রকান্তর ভিতর থেকে একটা গভীর নিঃশ্বাস ওঠে। কত সহজে কত ভয়ানক অনাচার মেনে নেয় এরা! এ নিয়ে চলেছে সমাজ।

    নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, তোর বেয়াই ভাল বলেই কি তোর ভরসা আছে? ভেতরকার কলকাঠি তো মেয়েছেলেদের হাতে। এতো কচি বয়সে বিয়ে দেওয়াটা বাপু খুব খারাপ। প্রতিজ্ঞা করে এর একটা বিহিত করা উচিত।

    তারকও নিঃশ্বাস ফেলে—গরীবের কি আর ইচ্ছে পিতিজ্ঞে খাটে ছোট কত্তা? আমার জেঠাতো ভাই চরণ—সেও তো ছ’বছরের মেয়েটার বে ঠিক কর ফেলেচে। ঠেকায় পড়ে কতদিন হল জমি বন্দক দে রেখেছিলো, ছাড়াতে মুরোদ হচ্ছে না, মেয়েটার বে দে পাঁচ কুড়ি এক ট্যাকা পণ পাবে, জমিটা ছাড়ান করে দিতে পারবে।

    ওঃ! তাহলে মেয়েও তোদের ঘরে এক একটা তালুক বল? দশটা মেয়ে থাকলে রাজা!

    চন্দ্রকান্ত বিষণ্ণ মনে এগিয়ে যান। তারপর ভাবেন, কিন্তু তারকদেরই বা অবজ্ঞা করছি কেন? আমাদের উচ্চবর্ণের ঘরেও তো ওই একই অবস্থা। শুধু জিনিসটার হেরফের। মেয়ে নয় ছেলে।…ছেলে মানেই তালুক। নচেৎ শশীর বিয়ের সময়ও সেজখুড়ি পণের কথা ভেবেছিলেন। ভেবেছিলেন কেন—পরোক্ষে আদায়ও তো করেছিলেন। চন্দ্রকান্ত কন্যাপক্ষের কাছে দাবি করতে দেননি বলে নিজেই সেই দাবির টাকা খুড়ির হাতে ধরে দিয়েছিলেন—’ছেলের বিয়ের খরচা কোরো’ বলে। এতে সকলেই অসন্তুষ্ট হয়েছিল।

    পিসি তো বটেই, সুনয়নীও। তাছাড়া বড়দা? একদা যিনি বাড়িতে পার্টিশান তুলে ভাগ ভিন্ন হবার চেষ্টায় সব থেকে বেশী জোরদার ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন এবং বিধবা পিসি খুড়িদের মত আলতু ফালতু মালকে ঠাঁই দেবার মত ঠাঁই তার নেই ঘোষণা করে দায়িত্ব—মুক্ত হয়েছিলেন, তিনি কেমন করে যেন সহসা অনাথা সেজখুড়ির ছেলের বিয়ের ব্যাপারে প্রধান অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে বসে সমস্ত ব্যাপারেই চন্দরের গোঁয়ার্তুমি দেখছিলেন, আর সেজ খুড়ির হৃদয়—বেদনার শরিক হচ্ছিলেন।

    সকলেরই বক্তব্য—একটু চাপ দিলেই কনের বাপের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করে নেওয়া যেত। গোঁয়ার্তুমির বশে অথবা বুদ্ধির দোষে সেই মোটা পাওনাটি পেতে দিলে না তুমি বেচারী বিধবা খুড়িকে। এখন নিজে গচ্ছা দিয়ে চন্দ্রকান্ত, নিজের মুখ রাখছে। কিন্তু তাতে কার কী, মেয়ের বাপকে চাপ দিয়ে ‘বাপ’ বলিয়ে কতটি ঘরে তোলা যেত, জানো তুমি!

    আদর্শ বৌ সুনয়নী পিস—শাশুড়ীর গোড়েই গোড়। চন্দ্রকান্তর সামনে তিনি শাশুড়ীদের সঙ্গে কথা বলেন না, কিন্তু চন্দ্রকান্তর কানে পৌঁছনোয় বাধা ঘটে না। ঘোমটা দিয়ে পিস—শাশুড়ীর পিছনে বসে বলেন, যা বলেছ পিসিমা, একেই বলে গাল বাড়িয়ে চড় খাওয়া।

    উচ্চবর্ণের বলে কতই অহংকার আমাদের, কিন্তু জীবনচর্চায় ওদের সঙ্গে তফাৎ কোথায়?

    শুধু ওদের বলে নয়, আমাদের বলে নয়, সমগ্র সমাজটারই রন্ধ্রে রন্ধ্রে শনি। কুপ্রথা আর কুসংস্কারের নৈবেদ্য সাজানোই আছে সেই শনি—দেবতার পুজোর জন্য। দেবতা আর সিংহাসনচ্যুত হবেন কি করে?

    আস্তে আস্তে পথ হাঁটেন চন্দ্রকান্ত। মাথার মধ্যে একটা ছন্দ পাক খাচ্ছে, দু একটি তীব্র শব্দ সম্বলিত জ্বলন্ত ছত্র সেই ছন্দকে আশ্রয় করে থিতু হয়ে বসতে চাইছে, কিন্তু হচ্ছে না।…কলম কাগজ নিয়ে না বসলে ঠিক হয় না। তৈরি হয়ে ওঠা ছত্রগুলোও যেন হাত ফসকে পালিয়ে যায়।

    কতকাল ঘুমাইবি আর?

    কত যুগ যুগান্তর হয়ে গেল পার।

    এ যে তোর মৃত্যুঘুম, এর থেকে হবি না উদ্ধার?

    —নাঃ, শেষ ছত্রটা অচল।

    বেড়িয়ে ফিরেই দোয়াত কলম নিয়ে বসতে হবে।

    এই যে বাবাজী বের হয়েছ?

    খড়ম খটখটিয়ে এগিয়ে আসেন বটু ভটচার্য। বটু ভটচার্যের পরণে ছালটির ধুতি, গায়ে শক্তি নামাংকিত নামাবলী, কপালে রক্তচন্দনের টিকা, মাথায় রক্তপুষ্প সম্বলিত শিখা, পায়ে উঁচু খুরো খড়ম, হাতে পিতলের জালিকাটা সাজি।…সারা সকাল বটু ভটচার্য এই সাজিটি হাতে ঝুলিয়ে ফুল সংগ্রহ করে বেড়ান। পাড়ার হেন বাড়ি নেই, যে বাড়ির উঠোনে বাগানে বটু ভটচার্যের প্রবেশাধিকার নেই। আপন শক্তিতেই এ অধিকার অর্জন করে নিয়েছেন তিনি।

    বটুর ভয়ে গাছের ফুল সামলাতে যে যত ভোরেই উঠে পড়ুক, বটু তার আগে এসে হাজির।

    লোকেদের আপন গাছের ফুল সামলানোর ওই অপচেষ্টাকে ধিক্কার দেন বটু। ছিঃ! ছিঃ! রাত থাকতে গাছটাকে নির্মূল করে ফেলেছিস?…বলি তোর ঠাকুর আর বটু ভটচার্যের ঠাকুর কি আলাদা রে?…বটু যখন তার ঘরে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেয়, খোদ সেই জগজ্জননী মায়ের পায়ে গিয়ে পড়ে, বুঝলি? তবে? তবে আবার নির্বুদ্ধির মতন ফুল সামলে মরিস ক্যানোরে বাপু?

    বটু ভটচার্য শূদ্র যাজক, ব্রাহ্মণ যাজক পুরোহিত মহলে ওঁর কলকে নেই। কিন্তু বটু নিজেকে ‘সাধক’ বলে প্রতিপন্ন করে বিশেষ কলকে—র আশা পোষণ করে থাকেন। তাই বটুর কথাবার্তা শুনলে মনে হয়, তিনি বুঝি সেই জগজ্জননী মায়ের খাস মহলের প্রজা।

    কিন্তু লোকে ওঁর পিছনে বক দেখায়, মুখে হাত আড়াল দিয়ে হাসে। কারণ আছে। বটুর বয়স অপরাহ্নে চলে এলেও, মন্দ লোকে বলে থাকে, বটু ভটচার্যের এই শেষরাত থেকে সাজি হাতে নিয়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্য আলাদা, সাজিটা ছল। নচেৎ ঘাটের পথগুলি ছাড়া আর পথ খুঁজে পান না কেন ভটচার্য?

    সকলেই অশ্রদ্ধা করে, হাসাহাসি করে, তবু মুখের উপর বড় কেউ কিছু বলে ওঠে না। কারণ, রাগলে বটুর জ্ঞান থাকে না, শাপ শাপান্ত করে ছাড়ে।…তদুপরি আবার বটুর এক মাসি, যিনি বটুর বাড়ির সর্বময়ী কর্ত্রী, তিনি নাকি আবার তুকতাকে পটিয়সী। আর শনি, মঙ্গলবারে—অমাবস্যা পড়লে তাঁর উপর মা কালীর ভর হয়।

    এ লোককে চটানোর সাহস হয় না। তাই যে যার গাছের ফুল সামলাবার চেষ্টা করে। বৌ ঝি—রা সামলে মরে আপন আপন স্নান—দৃশ্য।

    চন্দ্রকান্ত এই লোকটাকে অত্যন্ত অশ্রদ্ধা করেন। অথচ এমনই আশ্চর্য, প্রত্যহ প্রাতঃকালে ওর মুখ—দর্শন করতেই হবে। যে রাস্তা দিয়েই হাঁটুন, কোনোখানে না কোনোখানে বটু এসে আবির্ভূত হবেনই।

    বটুর হাতের বৃহৎ সাজিটি ভর্তি হয়ে উপচে পড়তে চাইছে, তবু বটু লালায়িত দৃষ্টিতে শোভারাম ঘোষের উঠোনে ফুটে থাকা কাঠচাঁপাগুলোর দিকে তাকাতে তাকাতেই বলে ওঠেন, বাবাজীর আমার শরীরে আলস্য বলে কিছু নাই।…পূবের আকাশের সূয্যি, আর এই আমাদের ঘরের চন্দর, সমান নিয়মী।

    এতো জুৎসই একখানা কথা বলে ফেলতে পেরে বটু বড় আত্মপ্রসাদ অনুভব করেন।

    চন্দ্রকান্ত পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাবার তাল করতে করতে বলেন, আপনিও তো কম নিয়মী নন ভটচার্য মশাই! নিত্যই এই এক সময়—

    আমার কথা বাদ দাও বাবা। বটু বলেন, আমার কি বিছানায় পড়ে থাকার জো আছে বাবাজী? দজ্জাল বেটি ঘাড় ধরে উঠিয়ে ছাড়ে। বেটির এই হতভাগা বটুককে নিয়ে যে কী খেলা—এই, এই আহা অমন করে আঁকশি দিসনে রে! মড়কা ডাল—

    কিন্তু ততক্ষণে শোভারামের বছর আষ্টেক নয়ের মেয়েটা আঁকশি বাগিয়ে কাঠচাঁপার থোকা থোকা ফুলসমেত ডালের আগাগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে কোঁচড়ে ভরে ফেলেছে।

    বটু আর চন্দ্রকান্তর দিকে ফিরে তাকান না, ওই মেয়েটার প্রতিই মনোনিবেশ করেন। আঁকশি দিয়ে ওভাবে ফুল পাড়া যে কত গর্হিত, সেটা বোঝাবার জন্যে বার বার তার কাঁধ ধরে ঝাঁকুনি দেন এবং ইস—সব ফুলগুলো তুলে নিয়ে নিলি, আমার মায়ের জন্যে কিছু রাখলি নি?…বলে জোর করে মেয়েটার কোঁচড় থেকে কিছু ফুল নিয়ে নিজের সাজিতে ভরেন।

    মেয়েটা হঠাৎ একবার ভ্যাঁ করে কেঁদে ওঠে।

    পরক্ষণেই আঙ্গুল মটকে মটকে বিজবিজ করে গাল দেয় এবং পলায়নপর বটুর পিছন দিকে জিভ দেখায়।

    পলায়নই ভালো, কারণ মেয়েটার ভ্যাঁ করা দেখেই বেগতিক বুঝেছেন বটু।

    চলে যেতে যেতেও ঘটনাটা শেষ অব্দি চোখ এড়াল না চন্দ্রকান্তর। ভিতরে ভিতরে ভারী একটা গ্লানি বোধ করলেন। সকালের আলোয় আর জীবনরসের আস্বাদ নেই।

    শ্রদ্ধা করবার মতো মানুষ ক্রমশঃই চলে যাচ্ছে ইহ—সংসার থেকে। চোখ তুলে তাকিয়ে দেখব এমন মুখ বিরল। চোখ তুলে তাকিয়ে দেখার কথা ভাবতে গেলেই বাবার কথা মনে পড়ে যায় চন্দ্রকান্তর।

    কী ছিল সেই মুখে—যাতে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করতো! এখন একটা ছোট ছেলেকে দেখতে পাচ্ছেন চন্দ্রকান্ত, যে ছেলেটা খেলতে খেলতে পড়তে পড়তে, কোনো কিচ্ছু না করতে করতেও চোখ তুলে অপলকে তাকিয়ে আছে তার বাবার মুখের দিকে। কিন্তু শুধুই কি সেই ছোট ছেলেটাই? একজন যুবা নয়? একটি বিবাহিত পুরুষ নয়? একজন পুত্রের পিতা নয়?

    তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন বিভোর হয়ে যেত।

    কী ছিল সেই মুখে? দীপ্তি? প্রসন্নতা? ঔদার্য? নাকি গাম্ভীর্য, গভীরতা, আত্মমগ্নতা? কিসে আকৃষ্ট হতো সেই ছেলেটা? সব মিলিয়ে একটা আশ্রয়, এই তো?

    আমি আমার ছেলের হৃদয়ে সেই আসন পাততে পারিনি—

    নিঃশ্বাস ফেললেন চন্দ্রকান্ত। আমারই অক্ষমতা। পিতাপুত্রের হৃদয়ে হৃদয়ে কোনো গভীর যোগসূত্র তো নেইই, পারিবারিক জীবনে, পরিবারের সকলের মধ্যে যে সাধারণ যোগসূত্র থাকে, তাও প্রায় দুর্লভ। এতো কম দেখা—সাক্ষাৎ ঘটে ওর সঙ্গে আমার যে, দুটো সহজ কথার আদান—প্রদানও হয় না।—অথচ বাবার কাছে গল্পচ্ছলে আমি কত কী শিখবার সুযোগ পেয়েছি!

    বাপের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যেতে পারে, এমন পরিস্থিতিগুলি সযত্নে পরিহার করে নীলকান্ত। সেটা চন্দ্রকান্তর অজানা নয়। তবু ছেলেকে দোষ দেন না। ভাবেন, আমারই ত্রুটি। আমার মধ্যেই সে শক্তির অভাব যে শক্তিতে আপন আত্মজের চিত্তে প্রভাব বিস্তার করা যায়। এটাই তো সংসারে সব থেকে কঠিন ঠাঁই।

    অথচ সুনয়নী কতো সহজেই সে প্রভাব বিস্তার করে বসে আছেন। মা—কে নীলকান্ত প্রাণতুল্য ভালবাসে, আবার যমতুল্য ভয় করে।—মার সঙ্গে দিব্যি মাই ডিয়ার ভাবে গালগল্পও করে বসে বসে, আবার মা একটু চোখ রাঙালেই কাঁটা।

    এটা কী করে হয় জানা নেই চন্দ্রকান্তর।

    এমনিতে তো সুনয়নীকে মান মর‍্যাদা বজায় রাখা কাজ করতে বিশেষ দেখেন না। সুনয়নী অনায়াসেই পানের বাটা বিছিয়ে বসে সাজতে সাজতে নিজের মুখে একটা ফেলে, অপর একটা ছেলের দিকে বাড়িয়ে ধরতে পারেন, আবার অতি সহজেই ‘দূরহ আমার সুমুখ থেকে, তোর মতন হাড় বজ্জাতে ছেলের মুখদর্শনেও পাপ—’ বলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতেও পারেন।

    ওই পান দেওয়ার ব্যাপারটা একদিন চোখে পড়ে যাওয়ায় চন্দ্রকান্ত সুনয়নীকে বোঝাতে উদ্যত হয়েছিলেন, কাজটা অসঙ্গত। এতে মাতৃসম্ভ্রম ক্ষুণ্ণ হয়, কিন্তু বোঝানো হয়নি। সুনয়নী প্রথম পর্বেই থাবাড়ি দিয়ে বলে উঠেছিলেন, অতো বিচার করলে চলে না। ছেলে কি কুটুম? তাই সর্বদা হিসেব করে চলতে হবে, কিসে আমার মান থাকবে আর কিসে মান যাবে!—যখন যা ইচ্ছে হবে করব,—বকার সময় বকব, আহ্লাদ দেবার সময় আহ্লাদ দেব। চুকে গেল ল্যাটা,—সাধে কি আর নীলে তোমার কাছ থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়? দেখা হলেই তো উপদেশ ঝাড়বে!

    আমি কি ওকে খুব উপদেশ দিই?

    সুনয়নী ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে জাঁতি চালিয়ে সুপুরি কাটতে কাটতে বলেছিলেন, মুখে গ্যাজ গ্যাজ করে না দাও, চোখ মুখের ভাবেই বুক হিম করে দাও। তোমার দিকে ঘেঁসবে কি! আমি ডাকাবুকো ডাকাত, তাই তোমার ভয় খাই না। আর সবাইকে দেখো।

    কিন্তু নিজের ওই অন্যের বুক হিম করে দেবার ক্ষমতাটা সম্পর্কে সচেতন নন চন্দ্রকান্ত। নিজেকে তো খুব নীরব রাখতেই ভালবাসেন। তাই রেখেই চলেন। অথচ লোকে যে তাঁকে ভয় করে, সমীহ করে দূরে রাখতে চায়—তাও চোখ এড়ায় না। এর অর্থ অনুভব করতে পারেন না।

    —হ্যাঁ, আমারই ত্রুটি, মনে মনে ভাবলেন চন্দ্রকান্ত—আমার অক্ষমতা, আমি কারো সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে পারি না।—কিন্তু কার সঙ্গে হবো? কোথায় সেই অন্তর? যার সঙ্গে অন্তরঙ্গতার ইচ্ছে জাগে?

    বড়দীঘির ধার পর্যন্ত হেঁটে আবার ফিরে আসা, এটাই সাধারণতঃ নিয়ম চন্দ্রকান্তর। আজও তাই ফিরছিলেন, দেখলেন সামনে উদ্ধব দুলে। তাঁর দিকেই এগিয়ে আসছে।

    দাঁড়ালেন।

    উদ্ধব রাস্তার ধুলোমাটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে একটা সাষ্টাঙ্গ প্রণাম সেরে নিয়ে দু’হাতে নিজের কান দু’টো মুলে বলে উঠল, ছোটকত্তা বাবু, অপরাধ নিবেন নি। আপনার জন্যিই আমরা ছোটলোকরা এ্যাখনো মাতা হ্যাঁট করে আচি, কিন্তুক আর বোদায় চলবে নি।—ছোঁড়া ছোকরাগুলানকে খামিয়ে রাখতে পারতেচি নে—

    চন্দ্রকান্ত অবাক হলেন।

    বলতে গেলে প্রায় আকাশ থেকেই পড়লেন। চন্দ্রকান্ত বলেন, কী হলো রে উদ্ধব? আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না—

    উদ্ধব ক্ষুব্ধ উত্তর দেয়, পারবেন নি তা জানি। আপনি হল গে আকাশের দ্যাবতা, মাটির পিরথিমির খবর বাত্তা জানেন নি। তবে আপনার নাগাল য্যাখন পেনু একবার, ত্যাখন জানিয়ে রাখি, অ্যাকটা কিছু ঘটে গেলে দোষ নিওনি। আমরা ছোটলোক, মুখ্যু, হতভাগা, সবই মানতেচি। তবে আপনাদের বড়লোকদেরও এডা মানতি হবে, ছোটলোকের ঘরের মেয়েছেলেদেরও ইজ্জৎ আচে।

    চন্দ্রকান্ত দিশেহারা দৃষ্টিতে তাকান।

    ব্যাকুলভাবে বলেন, তোর কথাটাতো আমি—

    কথা শেষ হয় না, কোথা থেকে বদন দুলে এসে দাঁড়ায়। উদ্ধবের ভাইপো। কালো পাথরে কোঁদা চেহারা, ঘাড়ে বাবরি চুল। চওড়া মুখটার ধারে পাশে ওই চুলগুলো ফুলে থাকায় মুখটায় যেন সিংহ সিংহ ভাব। হাতে মাথা ছাড়ানো বাঁশের লাঠি।

    বদন উদ্ধবকে প্রায় ঠেলে দিয়ে বলে, তুই এখেনে কী করতেচিস?

    উদ্ধব ঠেলা খেয়ে রেগে উঠে বলে, করব আবার কী? ছোটকর্তাকে দেখনু তাই একটা পেন্নামের জন্যি—

    আচ্চা হয়েছে তো পেন্নাম? যা ঘর যা—

    যাচ্চি বাবা যাচ্চি, বুড়ো উদ্ধব জোয়ান ভাইপোর তাড়নায় অনিচ্ছার সঙ্গে চলে যায়।

    চন্দ্রকান্ত ফিরতে যাচ্ছিলেন, বদন মাটিতে একটু হেঁট হয়ে একটা প্রণামের মত করে নিয়ে বলে ওঠে, খুড়ো কী বলতেছেলো?

    বদনের কণ্ঠস্বরে চাপা উত্তাপ।

    চন্দ্রকান্ত বোঝেন, ভিতরে কোনো গৃহ—কলহের ব্যাপার আছে। আবার চিন্তা করেন—কিন্তু উদ্ধবের বক্তব্যের সঙ্গে তো ঠিক গৃহকলহের সুর নেই, তার অভিযোগ যেন ভদ্দরলোকেদের বিরুদ্ধে। তবে কোনো চাপা আগুনকেই উস্কোনো ভাল নয়, তাই মৃদু হেসে বলেন, কী আর বলবে? ভক্তিটক্তি দেখাচ্ছিল।

    বদন তার বাঁয়ের দিকে এসে পড়া বাবরি চুলের গোছা মাথা ঝাঁকিয়ে পিঠের দিকে ঠেলে দিয়ে বলে, খুড়োর মাথাটায় ইদানীং একটু গণ্ডগোল হয়ে গ্যাচে—বুজলেন। ওর কতা বিশ্বেস করবেন নি।

    চন্দ্রকান্ত বললেন, বিশ্বাস অবিশ্বাসের কি আছে? উদ্ধব তো কিছু বলেনি।

    না বললিই ভালো, হট খট এটা ওটা বলে বেড়ায়, তাই বলতেচি।

    বদন হাতের মাথা ছাড়ানো বাঁশের লাঠিটা মাটিতে ঠুকতে ঠুকতে গটগটিয়ে চলে যায়।

    চন্দ্রকান্তর মনে হয়, ওর ওই ভঙ্গীটার মধ্যে যেন কোনো একটা কঠিন সংকল্পের রূঢ় দৃঢ়তা।

    চন্দ্রকান্তর চেতনার গভীরে একটা আসন্ন অশুভের ছায়া পড়ে।

    কোথায় কী হয়েছে?

    কোথায় কী হতে পারে?

    উদ্ধবের কথায় কিসের ইসারা ছিল?

    চিন্তমগ্নভাবে খানিকটা চলতে চলতে—জোর করে মনের অস্বস্তিটা ঝেড়ে ফেললেন। —দূর, ওই ভাইপোটার কথাই বোধ হয় ঠিক। উদ্ধবের মাথার মধ্যেই কোনো গণ্ডগোল ঘটেছে।

    অস্বস্তিকে একেবারে দূরীভূত করতে, নতুন যে গ্রন্থের পরিকল্পনা করেছেন, তার চিন্তা করেন। কাব্য ছেড়ে—গদ্য লিখতে হচ্ছে। প্রথম দু’একবার ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনেই লিখতে শুরু করেছিলেন, পছন্দ হয়নি, ঠেলে রেখে দিয়েছেন। বঙ্কিমবাবুর অক্ষম অনুকরণ বলে ঠেকেছে। একটা নতুন সামাজিক জীবন নিয়ে ভাবছেন চন্দ্রকান্ত। যে ভবিষ্যৎ সমাজের ছবি মনের মধ্যে মাঝে মাঝেই উজ্জ্বল আশ্বাসের বাণী বহন করে নিয়ে এসে আশার আলো দেখায়, সেই সমাজের কাহিনী রচনা করতে চান চন্দ্রকান্ত। এই চাওয়াটা কি ধৃষ্টতা?

    মনে মনে ঠিক করে ফেলেছেন চন্দ্রকান্ত। যদি লিখে উঠতে পারেন, সে গ্রন্থের নাম দেবেন : আগামীকালের আলেখ্য।

    সেই আগামীকালটা যে ঠিক কোন কালের মঞ্চে পা ফেলবে, সেটা এখনো বুঝতে পারছেন না চন্দ্রকান্ত। একশো বছর পরে—ওঃ, সে যে বড় দূরে! তবে আশী বছর পরে? সেও কম কি? আরো কমেই বা নয় কেন? সত্তর, ষাট, পঞ্চাশ। তখন দেশের এবং সমাজের অবস্থা কেমন হতে পারে! অথবা বলা যায়, কেমনটি হলে ভাল হয়। মাঝে মাঝে তারই এক—একটা রোমাঞ্চময় কল্পনায় আন্দোলিত হন চন্দ্রকান্ত। টুকরো টুকরো ছবি মনের মধ্যে ভেসে ভেসে ওঠে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ একটা খসড়া করে ফেলে, তাকে রূপ দেবার চেষ্টায় সফল হতে পারছেন না। চিন্তার খেই হারিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। দানা বাঁধতে পারছে না।

    কী কী হলে ভাল হয়, আর কতটুকু হয়ে ওঠা সম্ভব, এই দুটো চিন্তার সংঘর্ষে সেই ভবিষ্যৎকালের কাহিনীর পাত্র—পাত্রীর চরিত্রগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে না, ঝাপসা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

    শুধু একটা শর্ত নিশ্চিত সত্য রূপে বিদ্যমান, সেটা হচ্ছে—সেই কালের চেহারা হবে,—দেশ পরাধীনতার গ্লানি মুক্ত, বন্দেমাতরম মন্ত্রের মহাদান—ভারতবাসীই ভারতবর্ষের অধীশ্বর। আরও একটা শর্ত, সেই ভাবী সমাজে কুসংস্কারাচ্ছন্ন নারী—সমাজের জীবন কেবলমাত্র ধূমলিন রান্নাঘরের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে না। লজ্জার ওজনটা তাদের শুধু ঘোমটার দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লজ্জাস্কর বস্তু যে অন্য অনেক আছে সে বোধ জন্মেছে। তাদের চিন্তার জগতে তেরোদশীতে বেগুন খাওয়া না খাওয়ার প্রশ্নটাই একটা বৃহৎ জায়গা দখল করে নেই, বৃহৎ পৃথিবীর বিচিত্র জীবনচর্চার সঙ্গে একাত্মা হবার স্বাদের আশায় উন্মুখ হচ্ছে তারা। ছোট গণ্ডী ছাড়িয়ে বেরিয়ে আসবার সাধনা করছে। জীবনের এই নিদারুণ অপচয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    কিন্তু শুধুই কি নারী জাতির উন্নতির কথাই ভাবেন চন্দ্রকান্ত?

    জীবনের অপচয়ের দৃশ্য তো অহরহ সর্বত্র।

    কী অলসতা, কী কর্মহীনতা! কেবলমাত্র তাস পাশা খেলে, মাছ ধরে আর বাজে গালগল্প করে বৃথা জীবনযাপন করছে গ্রামের অধিকাংশ ছেলে। চিন্তাহীন উদ্যমহীন এই নিরেট মুখগুলো দেখলে কেমন একরকমের অস্থিরতা আসে চন্দ্রকান্তর। এসবের কী—ই বা লিখতে পারবেন চন্দ্রকান্ত? কতটুকুই বা লিখতে পারবেন?

    ভাবতে ভাবতে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

    অশ্বত্থতলার ছায়ায় এই সকালবেলাই সেই অপচয়ের একটু নমুনা। গাছের গোড়ায় ধুলো মাটি আর শিকড়ের উপর চেপে বসে গোটা পাঁচ—ছয় ছেলে। কে ওরা? নীলকান্তর মত কে যেন!

    না, নীলকান্ত নয়। কিন্তু হলেও হতে পারতো। সেই বয়েসেরই ছেলে কটা। হাঁটুর উপর ধুতি তোলা, খালি গা, খুব হাত মুখ নেড়ে গল্প করছে, জায়গাটা তামাকের গন্ধে ভরপুর। অথচ ধারে কাছে হুঁকো—কলকের চিহ্ন নেই। তার মানে অন্য কোনো পদ্ধতিতে ধোঁয়া খাওয়ার চাষ চলছে। হাতের মধ্যে গাছের পাতা পাকিয়ে কেমন করে যেন টান দিতে শেখে এরা।

    ওরা চন্দ্রকান্তকে না দেখতে পাওয়ার ভান করছে।

    চন্দ্রকান্ত যে ওদের দিকেই এগিয়ে আসবেন, তা ভাবেনি। এসে পড়েছেন দেখে তাড়াতাড়ি গা—ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল। চন্দ্রকান্ত শান্ত গলায় বললেন, সকালবেলা এভাবে বসে কেন বাবারা? কাজকর্ম নেই?

    ওরা ঘাড় চুলকে বলল, না—ইয়ে বারোয়ারীতলায় যাত্রাগান হবে সেই খবরটার জন্যে—

    বারোয়ারীতলায় যাত্রাগান হবে? কবে?

    আজ্ঞে ওই, কবে যেন রে সাধু?

    ইয়ে মনসার ভাসানের দিন।

    মনসার ভাসান? সে কি? তার ত এখন অনেক দেরী।

    না, না, মনসাপুজোর দিনকে।

    মনসা পুজো? দশহরার দিনের কথা বলছ?

    ছেলেগুলো উত্তর খুঁজে পেয়ে মহোৎসাহে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ। তাই না রে ভজা?

    তারও দেরী আছে বাপু, এখন তো সবে বৈশাখ চলছে। তার জন্যে এখন থেকে কী হচ্ছে? তোমরা করবে যাত্রাগান?

    বলা বাহুল্য, অধোবদন হল ওরা।

    চন্দ্রকান্ত নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, দিনের শ্রেষ্ঠ কাল সকাল, আর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাল কৈশোরকাল। দুটোই বৃথা অপচয় করো না তোমরা। আর কারো ক্ষতি হচ্ছে না—নিজেদেরই ক্ষতি করছো।

    ছেলেগুলো আমতা আমতা করছিল। চন্দ্রকান্ত চলে যেতেই আবার বসে পড়ে বলে উঠল : এই এক গুরু—ঠাকুর আছেন বাবা গাঁয়ে, কারুর একটু স্বস্তি আছে! বদ্যির ছেলে, নাড়ি টিপে বেড়া না বাবা, তা না কেতাব লিখছে, আর যাকে পারছে ধরে ধরে লেকচার শোনাচ্ছে।

    দূর! আমেজটাই মাটি করে দিল। দিব্যি মৌজ করে বসা হয়েছিল। ব্যাটা, দু’দশ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিস বলে যেন যারা পরে এসেছে তাদের মাথা কিনে নিয়েছিস। ধ্যেৎ!

    আর চন্দ্রকান্ত যেতে যেতে ভাবছিলেন, বড়দের দেখলে তটস্থ হয় এখনো, এটুকু সভ্যতা আছে ছেলেগুলোর মধ্যে। অর্থাৎ এখনো আদায় আছে।

    এই জীবনগুলোকে যদি ঠিক পথে চালিত করা যেতো!

    ফের সেই পুরনো ভাবনাতেই ফিরে আসেন চন্দ্রকান্ত, কিন্তু ভাবনা আর অধিক দূর অগ্রসর হতে পারে না। বর্তমানের পাথুরে পরিবেশটা যেন চন্দ্রকান্তের ওই চিন্তার বিলাসকে দুয়ো দিয়ে ব্যঙ্গ হাসি হাসতে থাকে।

    বাবা, বদ্যি জ্যাঠা—

    বালককণ্ঠের এই উচ্ছ্বসিত উক্তিতে চমকে তাকালেন চন্দ্রকান্ত।

    গৌরমোহনের ছেলে গোবিন্দর গলা না?

    বাবা বলে কথা বলল। গৌরমোহন এসেছে তাহলে?

    হঠাৎ ভারী ভাল লাগল। চন্দ্রকান্তর মনে হলো, ঠিক এই মুহূর্তে গৌরমোহনকেই যেন খুব দরকার ছিল তাঁর।

    ব্যস্ত হয়ে এগিয়ে এলেন।

    সামনেই গৌরমোহন।

    দুজনেরই মুখ উদ্ভাসিত হয়ে উঠল।

    আরও একবার মনে হল চন্দ্রকান্তর—আশ্চর্য! টের পাচ্ছিলাম না, এখন বুঝতে পারছি—ঠিক এই মুহূর্তে গৌরমোহনকেই বড় দরকার হচ্ছিল আমার। গৌরমোহনের কাছাকাছি এলে মনে হয়, সংসারে অন্তরঙ্গ হতে পারার মত মানুষ হয়তো একেবারে বিরল নয়।

    কবে এলে?

    কাল সন্ধ্যায়।

    গৌরমোহনের একটা হাত আঁকড়ে ধরে আছে তার বালক—পুত্র গোবিন্দ, গৌরমোহনের অপর হাতে একখানা পাট করা খবরের কাগজ।

    তোমার কাছেই আসছিলাম—

    গৌরমোহনের স্বর উৎফুল্ল।

    তোমার কাছেই চলো—

    চন্দ্রকান্তর স্বরে গভীর অভিব্যক্তি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘর – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article জোচ্চোর – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }