Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যোদয় – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প101 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যোদয় – ৪

    চার

    বাড়ি ফিরতে রোদ চড়চড়ে বেলা, দুপুর হয় হয়।

    সামনের রাস্তা দিয়ে বাড়ি না ঢুকে পিছনের আমবাগানের ছায়ায় ছায়ায় ঢুকবেন বলে উল্টোমুখো রাস্তা ধরে ঢেঁকিঘরের পাশ দিয়ে উঠোনে চলে আসতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন চন্দ্রকান্ত। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে হবে বলে কষ্ট হল।

    ঢেঁকিঘরের পাশের এই উঠোনটার মাঝখানেই বড় জেঠিদের পার্টিশনের প্রাচীর। টানা লম্বা সেই প্রাচীরটা ভর্তি করে ঘুঁটে লাগাচ্ছেন সুনয়নী। পচা গোবরের গন্ধে নাক চাপতে হল।

    সুনয়নীর চুলগুলো ঝুঁটি করে মাথার চুড়োয় তোলা। সুনয়নীর পরণে একখানা, ও গায়ে একখানা গামছা। সুনয়নীর হাতে গোবর, মুখে ঘাম। সেই ঘাম ভেদ করে ফুটে উঠেছে ত্বকের রক্তিমা। এমনিতে শাঁখের মত শাদা, কিন্তু রোদে হয়ে উঠেছে লাল।

    কিন্তু গালের ওই রক্তিমাভা কি চোখে পড়ে চন্দ্রকান্তর? লজ্জায়, ক্ষোভে নিজেই তো রক্তিম হয়ে ওঠেন তিনি।

    কী কুৎসিত! কী জঘন্য!

    দ্রুত এগিয়ে এসে বলে উঠলেন, ছোট বৌ!

    ওমা! ই কি! তুমি এদিকে কোনখান থেকে?

    বিব্রত হয়ে গায়ের গামছার খুঁটটা টেনে মাথায় তোলবার বৃথা চেষ্টায় গাটাই আদুল হয়ে যায় সুনয়নীর। বাড়তির ভাগ—গালে কপালে বুকে লাগে গোবরের ছোপ।

    থাক থাক, আর লজ্জায় কাজ নেই—

    চন্দ্রকান্ত ক্ষুব্ধ গাম্ভীর্যে বলেন, যথেষ্ট হয়েছে। ‘লজ্জা’ জিনিসটা যে কী, সে জ্ঞানই যদি থাকতো! তা এসব করবার লোক জোটেনি? বাগদী বৌ মরে গেছে?

    বালাই ষাট মরবে কেন? দিব্যি আছে। রাঁধছে খাচছে। ঘুঁটেগুলো দেবার গা নেই, সাতদিন ধরে গোবরের ডাঁই পচাচছে। আর ফেলে রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে।

    ওঃ। তাই। তাই তুমি সেই পচা গোবরের সদগতি করতে লেগে গেছ? নিজের থেকেও দামী মনে হল তোমার ছোটবৌ এই পচা গোবরগুলো?

    সুনয়নী তখনো মাথা ঢাকবার বৃথা চেষ্টায় গামছার খুঁটটাকে দাঁতে কামড়ে হাত উল্টে ধ্বস্তাধ্বস্তি করছেন। করতে করতেই বলে ওঠেন, দামী সস্তা আবার কী! গেরস্ত ঘরের বৌ, একটু গেরস্তালী কাজ করলে হাত ক্ষয়ে যাবে? যাও তো ওদিকে, ব্যস্ত কোর না বাবু। কে কোনদিকে এসে পড়বে—

    এসে পড়লে তোমায় তো দেখবেই এই মূর্তিতে।

    আমায় একলা দেখলে আবার কী! গেরস্ত ঘরের বৌ—ঝি একবারো গামছা পরে না? বেম্ম তো নেই, হিঁদু বাঙালী তো! গাঁ ঘরে বসত।

    তা বটে। তাতেই সাতখুন মাপ।

    চন্দ্রকান্ত সুনয়নীর ব্যতিব্যস্ত বিব্রত ভাব দেখে আর দাঁড়াল না। এসেই গৌরমোহনের গল্প করবেন বাড়িতে—এই ভাবতে ভাবতে আসছিলেন, ছন্দ কেটে গেল। গল্পটা অবশ্য পিসি খুড়ির কাছেই, তবু সুনয়নী তো থাকতো ধারে কাছে।

    বাবা, এতোক্ষণে এলি তুই? কোন ভোরে বেরিয়েছিলি!

    পিসিমা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ওখেনে তো জলটল খেয়ে এসেছিস। গৌরের ছেলে বলে গেল।

    না খেলে ছাড়বে?

    বলেই চন্দ্রকান্ত ইতস্ততঃ গলায় বলেন, বাগদী বৌয়ের কী হল পিসিমা? পচা গোবরের পাহাড় নিয়ে তোমাদের ছোটবৌমা—

    ইতস্ততঃ তো করতেই হবে। এখুনি যদি পিসিমা ‘বৌয়ের দুঃখে গলে গেলি’ বলে সাত কথা শুনিয়ে দেন।

    কিন্তু না। উল্টোই হলো।

    পিসিমা বলেন, ওই তো দ্যাখনা! বললে শুনছে কে! বাগদী বৌ অবিশ্যি কামাই করছে। কিন্তু তাড়াই বা কী? সাতদিন পচছে। নয় আর একদিনও পচবে। চোদ্দবার বারণ করলাম, তা বলে কি—কাজ পড়ে থাকলে আমার স্বস্তি থাকে না। আমি তো বাবা মরে গেলেও ওই কম্মটিতে হাত লাগাতে যাইনে। তিনদিন তিন রাত্তিরে হাতের পচা গন্ধ যায় না। ছোটবৌমার তো শরীরে ঘেন্না পিত্তির বালাই নেই। যত বলি, ততো হেসেই আকুল হয়।

    চন্দ্রকান্ত সরে আসেন।

    অভিযোগই করছেন পিসিমা।

    কিন্তু সেটাই কি আসল? তার মধ্যে থেকে কি অপরাধিনীর প্রতি প্রশ্রয়ের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠছে না? প্রশ্রয়ের আর প্রশংসার! যে মারণাস্ত্রে সুনয়নী নামের মানুষটা নিহত।

    দোতলায় উঠে এসে দেখলেন, নীলকান্ত অভিনিবেশ সহকারে পাখিমারা গুলতি তৈরি করছে। নীলকান্তর হাতে একটা গাছের দু’ডালের মাঝখানের কোনাচে ডাল, শক্ত পোক্ত, আর খানিকটা শক্ত দড়ি। দুটোকে ধরে টেনে টেনে বাঁধছে মজবুত করে।

    চন্দ্রকান্ত বিরক্তভাবে নিজের ঘরে ঢুকে যাচ্ছিলেন, কি ভেবে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, আবার গুলতি তৈরি করছো নীলকান্ত? অকারণ জীবহত্যার চেষ্টার বিষয়ে সেদিন যা বলেছিলাম, ভুলে গেছ?

    নীলকান্ত এই দেখা ঠেখার পরও হাতের জিনিসটা লুকোতে চেষ্টা করে মিনমিনিয়ে বলে, পাখির জন্যে নয়, বাঁদর মারা হবে।

    বাঁদর! গুলতি দিয়ে বাঁদর মারা হবে? এটা কে শেখালো তোমায়?

    মা।

    মা! তোমায় বলেছেন একথা?

    নীলকান্ত হঠাৎ জোরের সঙ্গে বলে ওঠে, তা বলবেন না তো কী? কষ্ট করে বড়ি দেওয়া হবে, আচার বানানো হবে, আর বাঁদর পাজীরা খেয়ে নেবে? আবদার না কি?

    ওঃ! তাই জন্যে তাদের গুলতি দিয়ে মারতে হবে? বাঃ! তা ওরা জীব নয়? ওদের মারায় পাপ নেই?

    নীলকান্তর গলা আরো সহজ হয়ে এলো, মরবে না হাতী! বাঁদর মারা এতো সোজা যেন।

    বেটক্করে লেগে গেলে মরতেও পারে।

    তা মরুক গে। ওরা তো পাজী।

    চন্দ্রকান্ত ছেলের মুখের দিকে তাকান। মায়ের রূপের উত্তরাধিকারী। আবার বাড়ির মত লম্বা ছাঁদের গড়ন পেয়েছে, হঠাৎ দেখলে ওই ষোলো সতেরো বছরের ছেলেটাকে যুবক বলে ভুল হয়। কিন্তু মুখের রেখায় কোথায় সেই পরিণতির ছাপ? বালকোচিত কথা, বালকোচিত মুখ।

    আস্তে বললেন, পাজী বলে মারতে হবে? আমরা মানুষরাও তো পাজী।

    আহা! নীলকান্ত এটা বাবার তামাসা ভেবে বলে, আমরা কেন পাজী হতে যাব?

    কেন হতে যাব? তা জানি না, তাইতো দেখা যায়। মানুষের মধ্যে পাজী দেখতে পাওনা তুমি?

    নীলকান্ত হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বাপের কাছে সরে এসে আস্তে বলে, খুব দেখছি। ঠিক বলেছ বাবা, নতুন কাকা না দারুণ পাজী। নতুন কাকিমাকে এমন মারে।

    কী বললে, অ্যাঁ, মারে? শশী স্ত্রীকে মারে?

    চন্দ্রকান্তর পক্ষে এই অবাক হওয়াটা হয়তো অদ্ভুত, হয়তো বা ন্যাকামি বলেই মনে হতে পারে। কারণ শশীকান্ত সম্পর্কে ওই মহৎ সংবাদটি, কেবলমাত্র যে বাড়ির সকলেরই জানা তা নয়, পাড়ার সকলেরও জানা। অথচ চন্দ্রকান্ত অবাক হলেন। তার কাছে সত্যিই খবরটি অজ্ঞাত, তাই ধারণারও অগোচর।

    এই অগোচরের কারণ হচ্ছে, এ ধরনের কথা চন্দ্রকান্তর কানে তুলতে সাহস হয় না কারো। অজানা একরকম ভীতি আছে সকলের, চন্দ্রকান্ত সম্বন্ধে। এমনিতে মানুষটা শান্ত ধীর ভদ্র মমতাশীল হৃদয়বান। কিন্তু সত্যকার কোনো অন্যায় দেখলে আগুনের মত জ্বলে ওঠেন।

    সংসারের মাথার উপর চন্দ্রকান্ত আছেন মাথা রক্ষার ছাতার মত। বর্ষণের ভরসা নিয়ে জলভরা মেঘের মত। আবার বুঝি সর্বদা উদ্যত বজ্রের মত।

    কে জানে, এ খবর কানে গেলে শশীকান্তর উপর কী বজ্র ভেঙ্গে পড়ে! আরো ভয় এই, বৌ ঠ্যাঙ্গানোর খবরের সূত্রে আরো কিছু যদি জানাজানি হয়ে পড়ে। এই সব ভয়েই বাড়ির লোক তো বটেই, পাড়ার লোকরা পর্যন্ত খবরটা চন্দ্রকান্তর কাছে চেপে যায়। এমন কি বড়দা মেজদা পর্যন্ত, যাঁরা নাকি একান্ন ছেড়ে ভিন্ন অন্ন হয়ে অবধি খাঁটি জ্ঞাতির মতই ব্যবহার করে আসছেন।

    কিন্তু বড়দা আর শশীর নামে লাগাতে আসবেন কোন মুখে? শশীর বৌ অশ্রুমতী তাঁর শালীঝি হলেও, সবটাই চেপে যেতে হয়। শশীর বিবাহকালীন পরিস্থিতিটা চন্দ্রকান্ত যদি বা ভুলে গিয়ে থাকেন, বড়দা শ্রীকান্ত নিজে ভুলতে পারেন নি। তাঁর পৃষ্ঠবল না পেলে সাত—সকালে বিয়ে হতে শশীর?

    তাছাড়া অন্যদের কাছে ব্যাপারটা তো সত্যই ভয়ানক কিছু নয়! পরিবারকে ধরে ঠ্যাঙ্গানো, অথবা দুলে বাগদী পাড়ায় রাতচরা এ আর এমন কি নতুন কথা? পাড়া হাটকালে এমন কত বেরোবে! শুধু ছেলে ছোকরা কেন, বুড়ো হাবড়াদের মধ্যেও এ দোষ বিদ্যমান। শুধু চন্দ্রকান্ত এসব টের পান না।

    কেউ টের পাওয়াতে আসেও যায় না।

    সবাই জানে—চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত মানুষ, ছাপার অক্ষরে বই বেরোয় তাঁর। তিনি কখনো ছোট কথা কইতে জানেন না। জ্ঞাতিদের সঙ্গে ভাগ ভিন্নর সময় কী পরিমাণ উদারতা দেখিয়েছেন। চন্দ্রকান্ত ভাগের ব্যাপারে কত স্বার্থত্যাগ করছেন এবং সেই ভাগের সময় সংসারে যে কটি অখাদ্য মাল ছিল সব কটিকে নিজের ঘাড়ে নিয়েছিলেন, এসব তো কারো অবিদিত নেই। সম্পর্ক তো সকলেরই সমান। চন্দ্রকান্ত সেকথা মুখে আনেন নি। যেসব মানুষকে অন্য দশজনের মাপে মাপা যায় না, অন্য দশজনের ছাঁচে ফেলা যায় না, তার সম্পর্কে লোকের অস্বস্তি থাকে। নির্ভয় হয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।

    অপর দিকে আবার সেজগিন্নীর ভয়। সর্বদা গোবর জলের ঘটি নিয়ে ঘুরে বেড়ালে কি হবে, গলার জোরে তিনি হয়কে নয় এবং নয়কে হয় করে মানুষকে স্তম্ভিত করে দিতে পারেন, গালির জোরে লোককে অবশ করে দিতে পারেন। তাঁর ছেলের কথা নিয়ে কে কথা কইতে যাবে? ছেলেটিও তো কম গোঁয়ার নয়? চন্দ্রকান্তকেই যা ভয় করে। আর কাউকে কেয়ার করে?

    কাজেই সকলেই মুখে তালা চাবি দিয়ে থাকেন। আজ নীলকান্তর আচমকা অসতর্কতায় চন্দ্রকান্ত চকিত, চমকিত।

    শশী স্ত্রীকে মারে? তুমি জেনে বলছ? ঠিক জানো?

    নীলকান্ত এরকম প্রশ্নে ভয় পেল, কিন্তু আর তো এখন পিছনো যায় না। ডুবেছি, না ডুবতে আছি! বাপের প্রশ্নের উত্তর দিতেই হয়, জানিই তো।

    আর কেউ জানে?

    নীলকান্তর কথার ভঙ্গীও মায়ের মত। নীলকান্ত হাত দুটো উল্টে বলে, বিশ্বসুদ্ধ লোকই জানে।

    বাড়ির লোকেরা? তোমার মা?

    খুব জানেন। নীলকান্ত মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, মা আবার জানে না? মা তো নতুন খুড়িকে কত বলে, ‘কেন কথা শুনিস না? মার খেয়ে মরিস।’ কিছু লাভ হয় না। রোজ মারে। আজও তো মেরেছে তখন।

    কখন?

    এই যে তখন। নতুন কাকা না—মিছিমিছি করে—চণ্ডীতলায় যাচ্ছি বলে এই ওপরের ওই পচা ঘরটার মধ্যে কপাট বন্ধ করে ঘুম মারছিল। নতুন খুড়ি অতো জানে না, ডাকতে গেছে, ব্যাস। মেরে একেবারে হাড়গুঁড়ো।

    চন্দ্রকান্ত ছেলের মুখের দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টি ফেললেন, সত্য বলছে, না কাকার প্রতি কোন আক্রোশের বশে! তা মনে হল না, মুখে এক প্রকার নির্বোধ খাঁটিত্বের ছাপ—তার সঙ্গে বেদনারও। ওই বৌটি দৈবাৎই তাঁর চোখ পড়ে, সাবেকী বাড়ির বিচিত্র নক্সার নানান ফাঁক ফোঁকরের মধ্যে কোনখানে যে ওই মেয়েটা আপন অস্তিত্ব গোপন করে বসে থাকে!

    গম্ভীর প্রশ্ন করেন চন্দ্রকান্ত, কোথায় শশী? তোমার নতুন কাকা? ডাকো তো একবার।

    সে এখন আছে নাকি?

    নীলকান্ত স্বভাবসিদ্ধ বালকের ভঙ্গীতে হঠাৎ হিহি করে হেসে ওঠে। নতুন কাকা এখন আছে নাকি? তোমাকে আসতে দেখেই বাগানের দরজা খুলে—হি হি—তোমায় বাঘের মতন ভয় করে। সেজ ঠাকুমা তো বলেন, ছোড়দার ভয়ে একেবারে কেঁচো হয়ে যাস যে, ছোড়দা—বাঘ না ভালুক? তবুও সাহস নেই। হি হি হি। একদম সটকান মেরেছে—

    নীলকান্ত নিজেও সর্বদা বাবাকে এড়িয়ে চলবার তালে থাকে, তবে বাবা কথা কইলে প্রাণটা খুলে বসে। তাই আবারও হি হি করে ওঠে। হয়েছেও তেমনি মজা। মা ঘুঁটে ঠুকছিল, সেই পচা গোবরে পা হড়কে, হি হি। মজা না সাজা।

    থামো। চুপ করো।

    চন্দ্রকান্ত পায়চারি করতে থাকেন। আর কথা বলেন না। নীলকান্ত নামক একটা প্রাণী যে সেখানে রয়েছে, তাও বোধ হয় ভুলে যান।

    নীলকান্তও এই বিস্মৃতির সুযোগ নিয়ে বাঁচে। নিজের মালপত্র গুটিয়ে নিয়ে নিঃশব্দে সরে পড়ে।

    চন্দ্রকান্ত অবাক হয়ে ভাবেন, আমি তাহলে একটা অবোধ অন্ধ? বাড়িতে এমন একটা অনাচার ঘটে চলেছে—আমি জানি না। অথচ সব্বাই জানে।

    তার মানে, সব্বাই আমাকে চেপে যায়। আমার অন্ধত্বের সুযোগ নেয়।

    সুনয়নীও আশ্চর্য!

    অথচ এমনিতে সুনয়নী কারও নিন্দে করবার সুযোগ পেলে ছাড়ে না। আমার সঙ্গে যেটুকু গল্প সে করতে আসে, তার সবই তো প্রায় অপরের সমালোচনা, আর অপরের ব্যাখ্যানা।

    অনেকক্ষণ বলার পর যখন টের পায় আমার কানের মধ্যে কিছুই ঢোকেনি, তখন—খুব মানুষের সঙ্গে কথা কইতে এসেছিলাম—বলে রাগ করে নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।

    যৌবনকালের জোড়া পালঙ্কখানিই সুনয়নীর ভাগে। চন্দ্রকান্ত রাত্রে লেখাপড়ার সুবিধা হবে বলে একটা তক্তোপোষে নিজের ব্যবস্থা কায়েম করে নিয়েছেন। আড়াল দেওয়া সেজ—এর বাতি জ্বালেন যাতে সুনয়নীর চোখে আলো না লাগে।

    এক আধবার মমতা আসে না কি চন্দ্রকান্তর! মনে হয় নাকি, রাগটা ভাঙাবার চেষ্টা করা উচিত। রাগ মানেই তো দুঃখ। কিন্তু সাহস হয় না, ভালবাসা শব্দটার একটাই মানে জানেন সুনয়নী। জানেন, রাগ ভাঙাতে কাছে আসার একটাই অর্থ। তাই হয়তো ফট করে বলে বসেন, বুড়ো বয়েসে যে আবার ভারী শখ দেখছি পণ্ডিতের।

    রেগে নয়, বিজয়িনীর ভঙ্গীতে নিশ্চিত প্রত্যাশার সুরে।

    কী করতে পারেন তখন চন্দ্রকান্ত, ছিটকে সরে আসা ছাড়া?

    কিন্তু সেকথা থাক।—এই কথাটা ভেবে যন্ত্রণায় অস্থির হচ্ছেন চন্দ্রকান্ত, বাড়ির মধ্যে একটা নিরুপায় মেয়ে এইভাবে অত্যাচারিত হয়ে চলেছে, অথচ বাড়ির এতোজন মহিলা তার প্রতিকার তো দূরের কথা, টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করছে না। এটা কী করে হয়? এটা কী করে হতে পারে?

    বেশীক্ষণ চিন্তার সময় ছিল না। আহারের ডাক পড়ল।

    চন্দ্রকান্ত থমথমে মুখে সামান্য কিছু খেয়েই প্রশ্ন করলেন, পিসিমা, শশী তার স্ত্রীকে মারে এটা সত্যি?

    পিসি চমকান।

    তবে সামলেও নেন, খুব অবলীলায় বলে ওঠেন, এই অখাদ্য কথাটা আবার তোর কানে তুলতে গেল কে?

    পিসিমা!

    চন্দ্রকান্ত গম্ভীর গলায় বলেন, কে কানে তুলল, সেটা আসল কথা নয়। আসলটা হচ্ছে, বাড়িতে একটা মেয়ের উপর অত্যাচার হয়ে চলেছে অথচ তোমরা কেউ কিছু বলছ না?

    পিসি ভবতারিণী একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, গোঁয়ার গোবিন্দ বেটাছেলে যদি নিজের পরিবারকে ধরে ঠেঙায়, কার কি হাত আছে বাবা?

    হাত নেই বলে চুপ করে বসে থাকবে?

    তা কী করবো? নিজের মা যার পিষ্ঠবল তাকে শাসন করতে যাবার ধাষ্টামো কার হবে?

    ভবতারিণী কথা ধরলে একেবারে শেষ না করে ছাড়েন না। ছেদ ভেদ থাকে না, কমা সেমিকোলন থাকে না, কাজেই ওঁর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হয়।

    পিসির থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করে চন্দ্রকান্ত বলেন, মা পৃষ্ঠবল?

    তবে না তো কী? মা আস্কারা না দিলে এতো বাড় বাড়তো? সেজ গিন্নিটির তো বুদ্ধি—সুদ্ধি মানুষের মতন নয়, বৌয়ের ওপর হিংসে আকোচ, তাই ছেলেকে টুইয়ে দেয় অত্যেচার করতে।

    গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে পিসি বলে, সংসারে যাই আমি এক দজ্জাল আচি আর তুমি হেন ছেলে আছো, তাই সংসারের আস্ত চেহারাটি আচে। নচেৎ উনি গিন্নী একখানি ঘর তিনখানি করতেন।

    এসব কথায় বিরক্ত হন চন্দ্রকান্ত। অসহিষ্ণুভাবে বলেন, ওসব কথা থাক, শশীকে যেভাবেই হোক শাসন করা দরকার। এই সব মারধোর বন্ধ করতে হবে।

    ভবতারিণী একটু হেসে ওঠেন। বলেন, পারো তো বন্ধ কর। তুমি বিজ্ঞবিচক্ষণ, তোমায় আর পিসি কি জ্ঞান দেবে! তবে ঝুনো মাথার দাম আচে, তাই বলচি—স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মদ্যে মাতা গলাতে গেলে ধাষ্টামো বৈ আর কিছু হয় না। হয়তো লোকসমাজে মুক রাখতে ওই বৌই বলে বসবে, কই মারেনি তো। মারে না তো। ত্যাখন?

    চন্দ্রকান্ত একটু চুপ করে যান।

    ঝুনো মাথাকে অস্বীকার করতে পারেন না।

    লোকসমাজে মুখ রাখা। অমোঘ তার শাসন। ‘লোকসমাজ’ এইটাই বোধকরি সমাজবদ্ধ মানুষের সব থেকে বড় প্রভু।

    কিন্তু এককথায়ই থেমে যাবেন?

    অন্যমনস্কভাবে বলেন, তাহলে তুমি বলছো শশীকে শাসন করার দরকার নেই?

    ভবতারিণী ব্যস্তভাবে বলেন, আমি কিছুই বলিনি বাবা। তুমি যদি পারো, কর শাসন। তবে ফল বিপরীত হতে পারে। তোমার শাসন খেয়ে হয়তো মুখপোড়া ছেলে আকোচের বশে—তুমি য্যাতোটি শাসন করবে, তার চতুরগুণ তাড়নটি করবে ঘরে গে। সেখেনে তো আর তুমি শাসন চালাতে যেতে পারবেনি বাবা। শশী মুখপোড়া কাজ ভাল করচে তা বলচিনে, খুবই মন্দ করচে, তবে নতুন কিছুই করেনি। পরিবার ঠ্যাঙানো কি জগৎ সংসারে নতুন ছিষ্টি চন্দোর? ঘরে ঘরেই ওই আপদ। তবে সবাই সব ঠ্যাঙানী টের পায় না। সেই যে কতায় আচে না—’মনে কাঁদলাম কেউ জানলনি, বনে কাঁদলাম কেউ শুনলনি, জনে জনে ধরে কাঁদলাম, ত্যাখন লোকে বলল, আহা দুঃখী বটে।’

    বাপের সঙ্গে একটু তফাতে নীলকান্ত খেতে বসেছে, সে হঠাৎ হেসে উঠে বলে, ঠাকুমা যে কত ছড়া জানে! মার খাওয়ারও ছড়া জানে।

    ছেলেটাকে কিছুতেই গুরুজন সম্পর্কে সম্যক সম্মানসূচক বাক্য শেখানো গেল না। বলে বলে পারা যায় না।

    তবু এখনো চন্দ্রকান্ত বিরক্ত হয়ে তাকাল।

    সেটা দেখতে পায় না এই যা।

    ভবতারিণী নিজের হেঁসেলের দিকের কিছু অবদান পরিবেশন করতে করতে বলেন, তা থাকবে নি ক্যানো? মার যে একরকমের যাদু! কেউ হাতে মারে, কেউ ভাতে মারে, কেউ বচনে মারে, কেউ ব্যাভারে মারে, কেউ বুঝে মারে কেউ না বুঝে মারে,—মার খেতে খেতেই জীবন অতিবাহিত করা। ও তোমার মেয়েপুরুষ ভেদ নেই, গরীব বড়মানুষে রক্ত ভেদ নেই। পেত্যক্ষে অপেত্যক্ষে কে যে কত পড়ে পড়ে মার খেয়ে চলেচে, তার হিসেব আছে?

    স্বভাবগত পদ্ধতিতে এক দমে তত্ত্ব কথার বান বইয়ে তবে ক্ষ্যামা দেন ভবতারিণী।

    কিন্তু চন্দ্রকান্তও কেন হঠাৎ এমন থেমে যান? স্তব্ধ হয়ে যান? হাতের ভাতটা মাখতে মাখতে যে হাত থেমে গেছে তা যেন মনেই থাকে না। শুধু আরো একবার ঝুনো মাথাকে স্বীকার করেন।

    ভবতারিণীর অক্ষর পরিচয় নেই, শ্বশুরবাড়ির কী একটু ধানপান বিষয়—সম্পত্তি আছে, তার পাওনা—কড়ি নিয়ে সই দিতে ‘টিপসই’ দেন। কিন্তু ভবতারিণীর জীবনদর্শন, ভবতারিণীর জীবনবোধ, মানব চরিত্র সম্পর্কে জ্ঞান কী পরিষ্কার! প্রকাশভঙ্গী কী জোরালো!

    ‘পড়ে পড়ে মার খাওয়া’ কথাটা সন্দেহ নেই শব্দ ভাণ্ডারের একটি সম্পদ। একটি ছত্রে একটি দুঃসহ জীবনের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, প্রত্যক্ষে ধরা দেয়।

    পড়ে মার খাওয়ার নজির চন্দ্রকান্তর জানা জগতেই কি নেই?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘর – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article জোচ্চোর – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }