Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গুমোর

    সেরাইকেলা থেকে এসে টাটা শহর পেরিয়ে হাইওয়েতে পড়েই ওদের খেয়াল হল যে, তেল নেয়নি। কিছু পথ আসতেই পেট্রোল পাম্প পড়ল সামনে। গাড়ি আস্তে পাম্পে ঢোকাল দীপ।

    তাতা বলল, ব্যাটারির জল, মোবিল এসব চেক করেছিলি!

    সব, সব। তুমি তো জমিদারবাবু। তখন ঘুমুচ্ছিলে। তা ছাড়া মোবিল তো দেখতে হয় গাড়ি স্টার্ট করার আগে। গাড়ি চললেই মোবিল ওপরে উঠে আসে।

    তাতা বলল, আমি আর গাড়ির কী বুঝি? আমার মিনিবাসই ভালো। তবে গাড়ি গন্ডগোল করলে তখনই বোঝা যাবে তুমিও কতটুকু বোঝো-না-বোঝো! ঠিকমতো যতক্ষণ চলছে ততক্ষণ তো থিয়োরিতে সকলেই ডক্টরেট।

    একটি ছেলে দৌড়ে এল পাম্পের ভেতর থেকে। বলল, ‘কিতনা সাহাব?’

    গাড়িটা বন্ধ করে দিয়েছিল দীপ। আবার একবার চাবিটা ঘুরিয়ে তেল কতখানি আছে দেখে বলল, পঁচিশ।

    যতক্ষণে ছেলেটি তেল দিচ্ছিল ততক্ষণে অন্য একটি ছেলে এসে গাড়ির উইণ্ডস্ক্রিনটা পরিষ্কার করে দিল।

    তেল দেওয়া শেষ করে প্রথম ছেলেটি বলল, আউর কুছ চাইয়ে সাব? মোবিল, ব্যাটারিকা পানি?

     

     

    নেহি ভাই।

    পানি দিজিয়েগা সাব?

    দ্বিতীয় ছেলেটি শুধোল।

    নেহি। সুক্রিয়া।

    হিন্দি ফিলমের নায়কের মতো বলল, তাতা।

    টাকা দিয়ে, চেঞ্জ নিয়ে, গাড়ি যখন হাইওয়েতে পড়ল, তখন একটা সিগারেট ধরিয়ে তাতা দীপকে বলল, ডিফারেন্সটা দেখলি?

    কীসের?

    গিয়ার বদলাতে বদলাতে দীপ জিজ্ঞেস করল।

     

     

    সার্ভিসের।

    হুঁ।

    এ যদি বাঙালির পাম্প হত তো দেখতিস, দশবার হর্ন বাজানোর পর একজন লোক অত্যন্ত বিরক্ত মুখে বেরিয়ে বলত, আমার দশটা হাত নেই মশাই! অত তাড়া কীসের?

    যা বলেছিস। দীপ বলল।

    এমন লেথার্জিক জাত দুটো নেই। নো-ওয়াণ্ডার, সমস্ত কলকাতা শহরে এখন বাঙালিরা মাইনরিটি! মানে, দে ডু নট রিয়্যালি ম্যাটার এনি মোর!

    দীপ নিজের মনেই হেসে উঠল। বলল, রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে একবার এক বাঙালি দোকানে জ্যাঠাইমার জন্যে শাড়ি কিনতে গেছি। গরমের দিন। দুপুর বেলা। লোডশেডিং ছিল। দেখি ক্যাশবাক্স সামনে নিয়ে গেঞ্জিটা গুটিয়ে বুক অবধি তুলে মালিক হাতপাখা হাতে অদ্ভুত ভঙ্গিতে ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোচ্ছে। আর যে দোকানে মালিক ঘুমোয়, কর্মচারী তো নিশ্চয়ই ঘুমোবে। যাই হোক, প্রায় ঠেলেঠুলেই বলতে গেলে একজনকে তুলে বললুম, শাড়ি দেখান। ধনেখালি।

     

     

    সেলসম্যান ঘুম ভাঙাতে বিরক্ত হয়ে লাল চোখ করে ধমকে বলল, কত দামের?

    প্রথম প্রশ্ন শুনেই রক্ত চড়ে গেল মাথায়। আমার সাধ্য পঞ্চাশও হতে পারে পাঁচশোও হতে পারে। শাড়ি না দেখিয়েই দাম?

    যাই হোক। বললাম, শ-খানেকের মধ্যে।

    একটা পুঁটলি খুলে গোটা কয় শাড়ি দেখাল। রং পছন্দ হল না, পাড় পছন্দ হল না; জমিও নয়।

    বললুম, আর নেই?

    কেন? এতগুলোর মধ্যে একটাও পছন্দ হল না।

    হল না তো!

    কী জানি বাবা!

     

     

    নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলল সেলসম্যান। তারপর ওপরের দিকে তাকিয়ে হাঁক দিল, নিত্যে-এ-এ। এই নিত্যে! শালারা দোতলাতে গাঁটরির আড়ালে সবসময়ই ঘুমোচ্ছে।

    নিত্য সাড়া দিল না।

    আমার দিকে চেয়ে সেলসম্যান বলল, আপনিও মশাই শাড়ি কিনতে আসার আর টাইম পেলেন না?

    ইতিমধ্যে নিত্যে গাঁটরির আড়াল থেকে বলল, বলতিচো কী গো গোবিন্দদা? যা বলবে বলো-না, এত চ্যাঁচাতিছ কেন?

    ধনেখালি। মনোহারী, ফ্যালো গাঁট।

    এই ফেললুম।

    বলেই ধপ্পাস করে একটা ইয়াব্বড়ো গাঁট সটান কাঠের দোতলা বারান্দা থেকে নীচে। একটু হলে আমার ঘাড়েই পড়ত।

    সেলসম্যান বিরক্তমুখে গাঁটরি খুলে বলল, দেখুন, এরমধ্যে পছন্দ না হলে বুঝতে হবে শাড়ি কেনার মতলবে আপনি আসেননি। আমাদের ঘুম ভাঙাবার মতলবেই এয়েচেন।

     

     

    জবাবে কী বলব ভেবে না পেয়ে, মালিকের দিকে তাকালাম।

    মালিক মাঝে একবার দয়া করে চোখ খুলেছিলেন; আবার চোখ বুজে ফেললেন। শাড়ি কিনলে তো টাকা ওঁর কাছেই দিতে হবে আমাকে। তখন তো চোখ খুলতেই হবে। অনেকই কষ্ট হবে তাই একটু আরাম করে নিচ্ছেন।

    তাতা বলল, তারপর? ধনেখালি-মনোহারীর গাঁটরিতে মনোমতো শাড়ি পেলি?

    দুস। টেস্ট বলে কিসসু নেই। গুচ্ছের ক্যাঁটকেটে রঙের দামি শাড়িতে ঠাসা। নেড়েচেড়ে বললাম, আর নেই।

    আরও? সেলসম্যান বলল আমার আস্পর্ধা দেখে, চোখ রাঙিয়ে।

    তারপর কী বলল জানিস? বলল, এত শাড়ি বাপের জন্মে কখনো একসঙ্গে দেখেছিলেন?

    আমি বললুম, কী করে দেখব? আমার বাবার তাঁতের কাজ ছিল না; শাড়ির দোকানও নয়; অতএব…..

    দীপ হেসে উঠল।

     

     

    বলল, টিপিক্যাল বাঙালি ব্যাবসাদার!

    তাতা বলল, শোন-না। আরও কিছুদূর হেঁটে এসে দেখি এক সিন্ধির দোকান। ছোট্ট দোকান। কিন্তু এয়ারকণ্ডিশণ্ড। দরজা ঠেলে ঢুকতেই মনে হল আমি যেন কোনো রাজা-মহারাজা! কে মালিক আর কে কর্মচারী কিছুই বোঝবার উপায় নেই। যে ক-জন লোক ছিল সকলে একইসঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে আপ্যায়ন করল।

    তাঁতের শাড়ি কথাটা আমার মুখ থেকে বেরোবার আগেই আমার সামনে বোধ হয় একটার পর একটা এবং কম করে গোটা বিশেক শাড়ি খুলে দেখানো হয়ে গেল। আর এক-একটা শাড়ি ধরে খুলে পাড়ের প্রশস্তি করে, জমির গুণ গেয়ে এমন ভালোবেসে যত্নের সঙ্গে দেখাতে লাগল যে, মনে হল যেন শাড়ি তো দেখাচ্ছে না, মেয়ে দেখতে আসা ভাবী-শ্বশুরবাড়ির লোকদের সামনে নিজের মেয়েকেই দেখাচ্ছে।

    ইতিমধ্যে কোথা থেকে একটা উর্দিপরা ছোকরা এসে হাতে একটা ক্যাম্পাকোলার ঠাণ্ডা বোতল আর স্ট্র ধরিয়ে দিয়ে গেল।

    তারপর?

     

     

    তাতা পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে আরাম করে বসে বলল, তারপর তুই-ই বল, মহিলারা হলে আলাদা কথা ছিল। তাদের চক্ষুলজ্জা বলে কিছুই নেই এসব ব্যাপারে। কিন্তু যেকোনো পুরুষমানুষের পক্ষেই এরপরেও সে দোকান থেকে শাড়ি না কিনে বেরিয়ে আসা সম্ভব?

    পছন্দসই শাড়ি পেলি?

    পছন্দসই মানে কী? প্রত্যেকটা পছন্দসই। কোনটা ফেলে কোনটা নিই এ নিয়েই এক মহাচিন্তায় পড়ে গেলুম। কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্যাকেট বগলে নিয়ে ক্যাম্পাকোলা খেয়ে বেরিয়ে এলুম।

    দাম? দাম বেশি নিল না?

    কোনো সন্দেহ নেই। কম করে ওই বাঙালি দোকান থেকে পাঁচ-দশ টাকা বেশিই নিলে, কিন্তু হোয়াট ডাজ ইট ম্যাটার? থিঙ্ক অফ দা সার্ভিস। দা ডিফারেন্স ইন অ্যাপ্রোচ। ওরা ব্যাবসা করতে এসেছে। খদ্দের ওদের কাছে ভগবান। আর বাঙালি দোকানদার মাত্রই মনে করে, তারা খদ্দেরকে কৃতার্থ করছে।

     

     

    সত্যি। ভারি দুঃখ লাগে। ভাবলে এত্ত খারাপ লাগে।

    সিগারেটটা জানলা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দীপ বলল, হবে না, কিসসু হবে না; ভিখিরি হয়ে গিয়েও শিখলাম না কিছুই।

    তাতা বলল, একটা জিনিস লক্ষ করেছিস? আজকাল কিন্তু সাউথের পাড়ায় পাড়ায় শাড়ির দোকান হয়েছে অনেক।

    তা হয়েছে। বেকার ছেলেরা করছে। অথবা তাদের বউরা। আজকাল সাধারণ চাকরিতে কি একজনের রোজগারে চলে? তবে এসব কি আর ব্যাবসা? আসল যা ব্যাবসা সবই চলে গেছে মাড়োয়ারি, গুজরাতি, পাঞ্জাবিদের হাতে। ওরা চব্বিশ ঘণ্টা খাটে। ব্যবহার ভালো। কোথা থেকে এসে কোথায় জুড়ে বসেছে। ফলে আমরা এখন নিজের দেশেই নিজেরা পরদেশি। বাঙালির ব্যাবসা ক-টা আছে এই বাংলাতেই? আর যা আছে তা ক-পয়সার ব্যাবসা? বল?

    যা বলেছিস। আজ থেকে দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতা শহরের চৌহদ্দির মধ্যে ক-জন বাঙালি থাকে দেখিস। সকলকেই চলে যেতে হবে শহরতলিতে। ব্যাংকরাপ্ট হয়ে যাচ্ছি আমরা সবদিক দিয়েই। দীপ বলল।

    আজকাল প্রফেশনেও ওরা লিড করছে। কেন এরকম হচ্ছে বল তো? আমাদের আসল দোষটা কী?

     

     

    পরশ্রীকাতরতা। নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি, কামড়াকামড়ি। নিজেদের কমিউনিটিতে কেউ বড়ো হলে অন্য সকলে তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা তো দূরে থাকুক, তাকে কীভাবে কাছা ধরে টেনে নামাবে সেই চক্রান্তেই সবটুকু সময় নষ্ট করছে। এবং সবচেয়ে দুঃখের কথা, আলটিমেটলি নামাচ্ছেও। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করাতে এমন দক্ষ জাত আর এই দেশে নেই।

    যা বলেছিস।

    অবশ্য এরমধ্যে একটা কথা ভাবার আছে। একটা বড়োকথা। বাঙালির কাছে কোনোদিনও ম্যাটেরিয়াল ওয়েল-বিইংটা বড়ো ছিল না হয়তো। বাঙালি গান শোনে, বাজনা বাজায়, বই পড়ে বই লেখে, বাঙালির রবীন্দ্রনাথ আছেন। রবিশঙ্কর, সত্যজিৎ আছেন। বাঙালি ফুটবল আর ক্রিকেটপাগল। ক্রিকেটের এমন সমঝদার আর কোন জাতে আছে বল? খুব কম অন্য প্রদেশীয়দেরই জীবনে এত বিভিন্ন দিক আছে, এত ওয়াইড ইন্টারেস্ট আছে।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    বুলশিট। দীপ উত্তেজিত গলায় বলল।

     

     

    টোটাল বুলশিট। লেম এক্সকিউজ।

    তারপর বলল, যা যা, আসল কথা হল ‘মুখেন মারিতং জগৎ।’ একটি ফাঁকিবাজ হুজুগে জাত আমরা। ক্রিকেট এতই যদি বুঝি তো টেস্ট ক্রিকেটে ক-জন বাঙালির নাম করতে পারি আমরা? জানি আমরা সবই, কিন্তু করি না কিছুই। কিসসু না করেই সবজান্তা! সাধনা না-করেই সব বোদ্ধা!

    একটু চুপ করে থেকে দীপ আবার বলল, বাঙালির সবচেয়ে বড়ো শত্রু কী বল তো?

    সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স।

    না। তার চেয়েও বড়ো শত্রু? কী নয়, কে? যে এই জাতটার সর্বনাশের গোড়া? এই ফালতু সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সেরও মূল?

    —কে?

    —জোব চার্নক। সে ব্যাটা ইংরেজ যদি সুতানুটি, গোবিন্দপুরে এসে জাহাজ না ভেড়াত, তাহলে এ জাতটার হয়তো আর এই দুর্দশা হত না। ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথমে ইংরেজি শিখে, প্রথমে আই. সি. এস. জজ, ডাক্তার, উকিল, ব্যারিস্টার, সলিসিটর, বেনিয়ান, মুতসুদ্দি সব হয়ে আমরা ভাবলাম, আমরা কী বুঝি হনু! ইংরেজি ভাষাকে আমরা শিক্ষার সঙ্গে গুলিয়ে ফেললাম। যেন ভারতবর্ষে তার আগে শিক্ষা-সভ্যতা বলে কিছুই ছিল না। শুধু পা চেটে আর ইংরেজির জ্ঞান দিয়ে বৈতরণি যে পেরোনো যায় না এখন তা আমরা চোখের জলে নাকের জলে বুঝছি। কী বলিস? বুঝছি না?

     

     

    বুঝলাম আর কই! এখনও তো গুমোর যায়নি। আর সবই গেছে, কিন্তু গুমোর যায়নি। যেকোনো জায়গায় তিনশো টাকা মাইনেতে চাকরি করতে পারি আমরা, কিন্তু পারি না একটা পানের দোকান করতে। বড়োই ইজ্জতে লাগে। ইজ্জত! বে-ইজ্জতের আর কী বাকি আছে?

    ছাড় তো, অন্য কথা বল। মন খারাপ হয়ে যায়। নিজেদের কথা আর বলিস না। এসব কথা যদি কাউকে বলতেও যাস, সে বলবে মেলা জ্ঞান দেবেন না মশায়! চুপ কর। যা হবার হোক।

    একটু চুপ করে থেকে দীপ বলল, যে কমিউনিটি নিজেদেরই টেনে নামায়, যাদের কোনো ফিলিং নেই একে অন্যের প্রতি; কিছুমাত্রও যারা করে না অন্যের জন্যে, নিজেদের মধ্যে কারও ভালো হলে হিংসেয় যাদের বুক জ্বলে যায়; তাদের কপালে আরও অনেক দুঃখ আছে। এখনই কী? তুই লিখে রাখ।

    আরও কত দুঃখ? এখনও কি যথেষ্ট হয়নি?

    না, হয়নি।

    দুই

    বহড়াগড়ার কিছু আগে টায়ার পাংচার হল ওদের গাড়ির। হতেই, দেখা গেল যে, গাড়ির প্যাসেঞ্জারের মতো মালিকও গাড়ি সম্বন্ধে কিছু জানে না। কাঁদো-কাঁদো মুখে কবুল করল যে, জীবনে কখনো নিজে হাতে টায়ার বদলায়নি দীপ। অতএব দু-জনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে জামাকাপড়ে ধুলোবালি মেখে, অনেক কসরত করে অনেকক্ষণ ধরে টায়ার চেঞ্জ করল।

    বহড়াগড়াতে পৌঁছোতে পৌঁছোতে প্রায় সাতটা হয়ে গেল। টিউবটা সারাতে হবে। সেই ফাঁকে চা-টা খেয়ে নিল ওরা।

    তাতা বলল, তোর বিদ্যে তো দেখলাম! এবার পথে রাতের অন্ধকারের কোনো মেকানিক্যাল বা ইলেকট্রিক্যাল ট্রাবল হলে কী হবে?

    অলুক্ষুণে কথা বলিস না তো! দীপ বিরক্তির গলায় বলল।

    তারপর বলল স্বগতোক্তির মতো—রাতের বেলা এসব রাস্তা আজকাল সেফ নয়। কোনো রাস্তাই সেফ নয়। গাড়ি তো দূরের কথা; ট্রেন পর্যন্ত সেফ নয়। তাই ওসব কথা একেবারেই বলিস না।

    টিউব সারিয়ে নিয়ে বেরোল যখন, তখন প্রায় পৌনে আটটা বাজে। আকাশে বেশ মেঘ করেছে। কলাইকুণ্ডার আগে থেকে বৃষ্টিও পেল। কুড়ি-পঁচিশ কিলোমিটার রাস্তা। তারপর বিদ্যুৎ চমকানি আর মেঘের গর্জন।

    আন্দুল যখন পৌঁছোল এসে, তখন ঠিক এগারোটা। বটানিকস-এর পাশে এসে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। তারপর রামকেষ্টপুর গাড়ি পৌঁছোতেই গোঁ-গোঁ-গোঁ শব্দ করে গাড়ি থেমে গেল।

    রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। কিছুক্ষণ গাড়িতে বসে ওরা একে অন্যকে গালাগালি করল গাড়ি সম্বন্ধে কিছুই না জানার জন্য।

    তারপর তাতা নেমে ঠেলতে লাগল গাড়ি, বৃষ্টির মধ্যেই। দীপ স্টিয়ারিং-এ বসে কী করা যায় তাই ভাবতে লাগল, আব্রা-কা-ডাব্রা; আব্রা-কা-ডাব্রা।

    তাতা গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে গাড়ির মালিক বন্ধু দীপকে যা-তা গালাগালি করতে লাগল মনে মনে। এমন বন্ধুর চেয়ে শত্রুও ভালো।

    তেমাথাতে এসে পৌঁছোল গাড়িটা। সামনে একটা পেট্রোল পাম্পও ছিল। বাঙালির পাম্প। দীপ গাড়ি থামিয়ে পাম্পে গিয়ে মিস্ত্রির খোঁজ করল।

    মিস্ত্রি নেই। এত রাতে মিস্ত্রি কোথায়?

    কী করা যায়?

    কী বলব?

    একটা ফোন করতে পারি?

    ফোনের চাবি মালিক নিয়ে গেছেন। মালিক ঠিক আটটায় চলে যান। ফোন ধরা যাবে; কিন্তু করা যাবে না।

    গাড়িটা এখানে রাতের মতো রেখে যেতে পারি? আরও তো ট্যাক্সি-ফ্যাক্সি আছে দেখছি পাম্পে।

    পারেন। গাড়ি চুরি হলে, আমরা কোনো দায়িত্ব নেব না। আর রাতে রাখার জন্য দশ টাকা নেব।

    তাহলে কী করা যায়?

    কী বলব?

    বলেই ভদ্রলোক হাঁক ছাড়লেন, কী রে পেঁচো, দু-খিলি অখয়েরি গুণ্ডি মোহিনী আনতে বললুম-না তোকে।

    দীপ ফিরে এল গাড়িতে। তারপর বনেটটা খুলে হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকল পাশে।

    যে কিছুই বোঝে না গাড়ির, সে বনেট বন্ধ থাকলেও বোঝে না, খোলা থাকলেও বোঝে না। তোর সঙ্গে আসাই অন্যায় হয়েছে। এই-ই শেষ, তুই একটা ইরেসপনসিবল চাইল্ড। এ যদি রামকেষ্টপুর না হয়ে জঙ্গলের মধ্যে হত?

    তাতা রাগে ফেটে পড়ে বলল।

    দীপ লজ্জিত ছিল; অপদস্থও। এবার রেগে গিয়ে বলল, এ তো জঙ্গলের বাপ। আজকালকার জঙ্গলের বাঘ-ভাল্লুক, শহরের মানুষের চেয়ে অনেক ভালো।

    তাতা এবার একটা সিগারেট ধরিয়ে বিদ্রূপাত্মক গলায় বলল, গাড়িটা স্টার্ট কর—চল তাহলে জঙ্গলেই ফিরে যাই আবার।

    দীপ কথাটা হজম করে গুম মেরে বসে রইল।

    কয়েক-জন ধুতি-পাঞ্জাবি পরা মাঝবয়সি বাঙালি ভদ্রলোক জটলা করে দাঁড়িয়েছিলেন গাড়িটার কাছেই, একটা পানের দোকানের ছাউনির নীচে, বৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচিয়ে। বৃষ্টির জোর ততক্ষণে কমেছে কিন্তু টিপটিপ করে পড়ছে। মনে হচ্ছে, এমনই চলবে সারারাত।

    দীপ বনেট বন্ধ করে এসে গাড়িতে বসল। ভিজে একেবারে চুপচুপে। তাতা তো আগেই ভিজেছিল গাড়ি ঠেলতে গিয়ে। কাচ-মোছা ন্যাকড়া দিয়ে দু-জনেই ভালো করে মাথা মুছল।

    তাতা হঠাৎ বলল, ওই দ্যাখ বাঙালিদের। বঙ্গনন্দনরা সব গ্যাঁজাচ্ছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। লোকগুলোরকখনো বয়স হবে না। কলেজজীবনে যেমন ফুটপাথে দাঁড়িয়ে গ্যাঁজাত, এখনও তেমনি গেঁজিয়ে যাচ্ছে। এক ব্যাটাও কি একটু সাহায্যের কথা বলবে? তুই গিয়ে বল, দেখবি খেঁকিয়ে উঠবে। রাস্তাও তো ক্রমশ নির্জন হয়ে আসছে রে! এত রাতে এখান থেকে যে ট্যাক্সি করে ভবানীপুর যাব, তারও তো উপায় নেই। গাড়িটাকে ফেলে রাখাও যায় না। নতুন গাড়ি। কী করি বল তো?

    গাড়ি তো আমার নয়। থাকলে, গাড়ি কেন এবং কী করে চলে আর কেনই-বা হঠাৎ পথে থেমে যায়, তা নিশ্চয়ই জেনে নিতাম গাড়ি নিয়ে শহর ছেড়ে বেরুবার আগে। আমি বরং এগোই তাহলে। হেঁটে অথবা রিকশা করেও হাওড়া স্টেশনে পৌঁছোতে পারলে একটা গতি আমার হবেই। তোর গাড়ি, তুই থাক।

    চাপা অভিমানের গলায় দীপ বলল, তুই তাহলেই চলে যা। আমার জন্যে কেন ঝামেলায় পড়বি?

    ঝোড়োকাকের মতো পাতলা হয়ে যাওয়া ক-গাছি ভেজা চুল নাড়িয়ে তাতা প্রচন্ড চটে উঠে বলল, ঝামেলার বাকি কী আর রেখেছিস?

    তারপরেই তাতা পানের দোকানের দিকে চেয়ে একটু কান খাড়া করে শুনে বলল, লোকগুলোকী নিয়ে আলোচনা করছে রে?

    ঘোড়া।

    ঘোড়া?

    হ্যাঁ। কাল শনিবার-না? রেস আছে তো। সকলেই টেনে আছে। মুখে গন্ধ পেলাম। শালা! কী আর হবে এদের! তুই এদের বলবি সাহায্যের জন্যে? ফুঁ:।

    —একবার গিয়ে বলই-না তবুও। দীপ অনুনয় করে বলল।

    কী, বলবটা কী। বলব, আমরা বুড়ো খোকারা গাড়ি চড়ে সাতশো মাইল ঘুরে এলাম জঙ্গলে জঙ্গলে। আর বাড়ির দোরগোড়াতে রামকেষ্টপুরে এসে গাড়ি খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু কী যে খারাপ হল, কেন খারপ হল আমরা জানি না, বুঝি না। কচিখোকা! দুধের শিশু। দাদারা, আমাদের বাঁচান—এই বলে কাঁদব?

    দীপ এ অপমানটাও বেমালুম হজম করল।

    —লোকগুলো যে ভদ্রলোক, ছিনতাই পার্টি নয়; তাই-বা কে জানে? আমার হাতের ঘড়িটা আবার রোলেক্স। মানিব্যাগেও শ-পাঁচেক টাকা আছে।

    —আমার এইচএমটি। তোর গাড়িতে বেড়াতে এসে আমার ঘড়ি গেলে তুই-ই কিনে দিবি। মানিব্যাগে সাঁইত্রিশ টাকা আছে। গেলে, সেটাও দিবি। প্লাস মানিব্যাগের দাম, তেরো টাকা। মনে থাকে যেন।

    দীপ তবুও চুপ করে রইল।

    পথ আস্তে আস্তে একদম ফাঁকা হয়ে আসছে। লোকগুলোর আলোচনা কিন্তু তখনও শেষ হয়নি। ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করত, ভারতের অন্যান্য প্রদেশীয়রা রাজ্যের পর রাজ্য জয় করত অবহেলায়। স্বয়ংবর সভা থেকে সুন্দরী তুলে আনত। আর এই বাঙালিরা? ঘোড়ায় চড়ে সর্বনাশের পথে যাচ্ছে! রেসের ঘোড়া। তাও নিজে চড়ে নয়।

    এবার বোধ হয় আড্ডা ভাঙল। একে-একে দলছুট হতে লাগল লোকগুলো। ডি-ফ্রস্ট হয়ে গড়িয়ে গেল বিভিন্ন দিকে।

    দীপ গলা বাড়িয়ে ওদের কিছু বলবে বলবে করল, কিন্তু লজ্জা করল; বলতে পারল না।

    এই লজ্জাই বাঙালিকে খেল—এই লজ্জা, এই অদ্ভুত মানসিকতা। দীপ ভাবল।

    এমন সময় ওঁদের মধ্যে একজন গাড়ির পাশ দিয়ে যেতে যেতে থেমে গিয়ে বললেন, কী হল দাদা? অনেকক্ষণ থেকেই দেখছি দাঁড়িয়ে আছেন ঠায় এখানে। এ পাড়া কিন্তু ভালো নয়। রাতও হল। এবার এগোন।

    তারপর বললেন, হলটা কী? গাড়ি খারাপ হল নাকি?

    হ্যাঁ। দীপ বলল।

    কী খারাপ হয়েছে? তেল আসছে না।

    তাতা তাড়াতাড়ি জানলার দিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

    টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল। জামাকাপড় এমনিতেই ভিজেছে। তাই বাঁ-হাতটা জানলা দিয়ে বাইরে রেখেই বসেছিল। পিটপিট করে বৃষ্টি পড়ছিল হাতে। পড়ুক। এখন শরীর-মনে সাড় নেই কোনো। ক্লান্ত, বিরক্ত।

    ভদ্রলোক আবার জিজ্ঞেস করলেন, গাড়ির কমপ্লেইনটা কী দাদা, তা তো বলবেন?

    তাতা মুখটাকে এক হ্যাঁচকাতে আরও বাঁ-দিকে ঘোরাল। ঘাড়ে লাগল।

    দীপ হঠাৎ ফোড়া ফাটার মতো বলল, জানি না। গাড়ির কিছুই বুঝি না দাদা!

    অ্যাই রে! কী ঝামেলায় ফেললেন বলুন তো! আমার তো গাড়ি নেই, আমি যে সাইকেলের সওয়ারি। সাইকেল হলে, এক্ষুনি ঠিক করতে পারতুম। বলেই, হাঁক ছাড়লেন বন্ধুদের—অ্যাই রমেশ, চাঁদু, মানকে, চিনু যাসনি তোরা। এঁরা বিপদে পড়েছেন। ইদিকে আয়।

    যাঁরা এলেন তাঁদের মধ্যে মনে হল, একজন গাড়ি সম্বন্ধে কিছু বোঝেন-টোঝেন।

    যে ভদ্রলোক প্রথমে এসেছিলেন, তিনি চিনিয়ে দিয়ে বললেন, অ্যাই যে, আমার বন্ধু মানকে। মানকে দাস। যৌবনে মহাকাপ্তান ছেল। লালরঙা স্পোর্টস-মডেল বেন্টলি চেপে ঘোড়ার মাঠে যেত আমাদের নিয়ে। স্কচ ছাড়া খেত না। বেনারসের সুরাতিয়া বাইজি ছাড়া কারও গলার গজল ঠুংরি ভালো লাগত না তখন। এখন পা-গাড়ি ওনার। তবে এখনও কোনো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ শুনেই আমার দোস্ত বলে দেবে কী ব্যামো গাড়ির।

    কিন্তু কোনো শব্দই করছে না যে ইঞ্জিন। দীপ হতাশার গলায় বলল।

    সে কী মশাই! ভদ্রলোক হেসে ফেললেন। আঁতুড়েই নুন গিলিয়েছেন?

    মানিকবাবু, মানে মানকে দেখে-টেকে বললেন, হয় ব্যাটারি জ্বলে গেছে, নয় ডায়নামো চার্জ দিচ্ছে না। ব্যাটারিতে জল ছিল তো? ফ্যানবেল্ট? ফ্যানবেল্ট ঠিক আছে?

    দীপ যেন ল্যাটিন কী হিব্রু শুনছে। এমনই মুখ করে তাকিয়ে রইল মানিকবাবুর মুখে নির্বাক হয়ে।

    তাতা হঠাৎ বলল, আরে আপনারা পানের দোকানের ছাউনির নীচে ছিলেন, এখন একেবারে ভিজে গেলেন যে।

    চাঁদু বলে যে ভদ্রলোক তিনি বললেন, বাঙালি বিপদে পড়েছে, একটু নাহয় ভিজলুমই! রোজ তো আর বিপদে পড়বেন না আপনারা! তা ছাড়া, এ তো দেশেরই বৃষ্টি। এতে অসুখ ধরবে না।

    তারপর ওঁরা সকলে মিলে বিষ্টিতে দাঁড়িয়ে মিনিট পাঁচেক উত্তেজিত আলোচনা করার পর মানিকবাবু বললেন, পটলের গ্যারেজেই নিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া উপায় নেই কোনো।

    পটলা কি আর মানুষ আছে? বাংলা টেনে, খিচুড়ি সেঁটে, লম্বা দিয়েছে এতক্ষণে। ঠাণ্ডার দিন।

    লম্বা দিলে আমরা টেনে ওকে বেঁকিয়ে দেব। রোজ তো আর করি না। দাদারা বিপদে পড়েছেন।

    বলেই বললেন, থাকেন কোথায় দাদারা?

    দীপ বলল, আমি ভবানীপুর। আর আমার বন্ধু টালিগঞ্জ।

    হুঁ! বাবা! এ পৃথিবীর একেবারে অন্যপ্রান্তে।

    তাতা ও দীপ এতক্ষণে নেমে দাঁড়িয়েছিল। এদিক-ওদিক তাকিয়ে বলল, ঠেলবার লোকও তো দেখছি না একজনও। কোনো কুলি কী ঠেলাওয়ালা……

    কেন? মানিকবাবু বললেন। আমরা কি লোক নই?

    সে কী? আপনারা গাড়ি ঠেলবেন? তাতা বলল।

    দীপ অবাক হয়ে বলল, পটলবাবুর গ্যারাজ কত দূর?

    তা আধমাইলটাক তো হবেই কম করে। পৌনে এক মাইলও হতে পারে।

    বলেন কী? দীপ আঁতকে উঠল।

    এ ছাড়া উপায় কী? এখন কোনো গ্যারেজ খোলা নেই। পটলা আমাদের, মানে বন্ধুর মতো।

    চাঁদুবাবু বললেন, কথায় কথা বাড়ে। খামোখা দেরি করছিস কেন?

    তারপর দীপকে প্রায় ধমক দিয়েই বললেন, দাদা আপনি স্টিয়ারিং-এ বসুন তো।

    তাতা ওদের সঙ্গে হাত লাগাল। দীপ ওদের নির্দেশানুযায়ী স্টিয়ারিং ঘোরাতে লাগল। তরতর করে নৌকোর মতো চলতে লাগল গাড়ি।

    বেশ দূরে যাওয়ার পর গাড়িটা একটা ভাঙাচোরা কাঁচা গলির মধ্যে ঢুকে পড়ল। লোডশেডিং হয়ে গেল ঝুপ করে। ঠিক সেই সময়েই।

    দীপের তলপেট ভয়ে গুড়গুড় করতে লাগল। আজকে প্রাণটাই যাবে।

    তাতা গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে দৌড়ে পালিয়ে যেতে হলে কোনদিক দিয়ে যাবে, তা একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিল। ওরও ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছিল।

    ক-টা বাজল রে?

    মানিকবাবু শুধোলেন।

    দীপ বলল, পৌনে বারোটা।

    রোলেক্স অটোমেটিক ডে-ডেট। আমি দেখে নিয়েছি। মৃন্ময়বাবু বললেন।

    দীপের জিভ শুকিয়ে কাঠ হয়ে এল। কী ঘড়ি সেটা পর্যন্ত দেখে নিয়েছে। এরা নিশ্চয়ই ডাকাত-ফাকাত।

    কখন যে পটল মিস্ত্রির গ্যারেজ পৌঁছোল গাড়ি, অন্ধকারে পচা নর্দমার পাশ দিয়ে, দীপ বুঝতেই পারল না। ঘোরের মধ্যে ছিল যেন। মাটির মেঝে, বাঁশের চাঁচের; মাত্র দুটি গাড়ি ধরে এমন সাইজের একটি টিনের শেড। অতিছোট্ট কারখানা।

    পটল মিস্ত্রি সত্যি সত্যিই লম্বা দিয়েছিল। একটা কাঠের বেঞ্চে আণ্ডারওয়্যার পরে শুয়ে, খালি গায়ে নাক ডাকছিল।

    কথামতোই তাকে টেনে ব্যাঁকা করলেন মানিকবাবু, চাঁদুবাবু আর মৃন্ময়বাবু মিলে।

    মানিকবাবু ঠিকই ধরেছিলেন। কাট-আউটের গোলমাল ও আর্মেচারেরও সামান্য গোলমাল ছিল। সারতে লাগল প্রায় একঘণ্টা। যতক্ষণ-না গাড়ি ঠিক হল ওঁদের মধ্যে মৃন্ময়বাবু আর মানিকবাবু বসে রইলেন। দীপ আর তাতাকে নমস্কার করে চাঁদুবাবু একটু আগে চলে গেছিলেন।

    বা: বা:! ইঞ্জিন তো চমৎকার বলছে। হেড লাইট, হর্ন; সব ঠিক।

    দীপ উজ্জ্বল মুখে বলল, কত দেব?

    পটল বলল, কাটুন তো আপনারা। এই মানকেদাটার যত্ত থার্ড কেলাস কান্ড। কাটুন, এবার একটু ঘুমুই। ঘুমুতে দিন। পয়সা নেব না।

    তা কি হয়? দীপ বলল।

    মৃন্ময়বাবু বললেন, জোর করেই যদি দ্যান তো দিয়ে দিন পাঁচটা টাকা।

    পাঁচ টাকা কী? উনি কতবড়ো উপকার করলেন আমাদের, কতক্ষণ ধরে পরিশ্রম করলেন এতরাতে।

    দীপ কুড়িটা টাকা বের করল।

    পটল মিস্ত্রি মানিকবাবুকে রুক্ষস্বরে বলল, ‘অ্যাই মানকেদা, ভদ্রলোককে বলে দাও আমি ভিখিরি নই যে বকশিশ নেব। নেহাত তোমার খাতিরেই মাঝরাত্তিরে করলুম। আমি শালা বাঙালির বাচ্চা, পয়সাই আমার কাছে সব নয়। পয়সা চাইলে অনেক মালই এতদিনে জমাতে পারতুম।’

    মানিকবাবু ধমকে বললেন, ‘মেলা ভ্যাচোর ভ্যাচোর করিসনি। নে, এই দশটা টাকা রাখ। আমি দিচ্ছি। শালা, চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি খুলে বসেছে এখানে। গাড়ল।’

    বলে, বাকি দশ টাকা দীপকে ফেরত দিলেন। গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে গলির মধ্যে দাঁড়িয়ে, ইঞ্জিন স্টার্ট রেখেই দরজা খুলে দীপ গাড়ি থেকে নামল। তাতাও। বলল, ‘আপনারাও উঠুন এগিয়ে দিই।’

    মৃন্ময়বাবু হাসলেন। বললেন, ‘সে তো এগোনো হবে না দাদা, পেছোনো হবে।’ আমরা দু-জনেই এদিকেই থাকি।

    বলেই লোডশেডিং-হওয়া রাতের হাওড়ার কাঁচা নর্দমা ঘেরা ওই অন্ধকার গলির গভীরতর অন্ধকারে আঙুল দেখালেন।

    দীপ বলল, আপনাদের জন্যে আমি। মানে আমরা কী করতে পারি…..? যদি বলেন, মানে…..বলেই, ও কাউকেই জীবনে ঠকায়নি, ঠকাতে চায় না এমন ভাবমাখা গর্বগর্ব মুখ করে হিপ-পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করল।

    মানিব্যাগ বের করার পরও ওঁদের চুপ করে থাকতে দেখে, ঘাবড়ে গিয়ে তাড়াতাড়ি বলল, ‘কালকে আবার আপনাদের রেস…..আপনারা বই দেখছিলেন…..রেস মানেই তো খরচা।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    মানিকবাবু বুক-ছেঁড়া একটা অতিসস্তা মোটা কাপড়ের পাঞ্জাবি আর মোটা ধুতি পরেছিলেন।

    হেসে বললেন, ‘বাঙালি হয়ে অন্য বাঙালির বিপদে এতটুকু না করলে, কী করলাম!’

    মৃন্ময়বাবু বললেন, ‘আমার একটা ছোট্ট ঘড়ি সারানোর দোকান আছে। রাধাবাজার। দোকান মানে, একটা ঘড়ির দোকানের বারান্দাতে বসি। একদিন আসবেন। চা খেয়ে যাবেন এককাপ। আপনার ঘড়িটা কিন্তু রাজা-ঘড়ি।’

    দীপ বোকা-বোকা হাসল। কী বলবে, তা একেবারেই ভেবে পেল না। মানিব্যাগটা পকেটে রেখে বলল, আপনারা কিন্তু কিছু মনে করবেন না, আমি কিন্তু আপনাদের অপমান করতে চাইনি।

    মানিকবাবু হেসে বললেন, ‘অপমান কে কাকে করে মশাই! আমরা গায়ে মাখলে তো ওসব কথা। আসল ব্যাপার কী জানেন? টাকাকে যদি এতই দামি ভাবতুম, তবে অমন করে টাকা ওড়াতে পারতুম না। বাঙালির কাছে টাকার চেয়েও বড়ো যে অনেক কিছুই ছিল। এবং আছে। টাকাওয়ালা মাড়োয়ারি-গুজরাতি-পাঞ্জাবিরা বাঙালিকে শুধু টাকা নেই আর টাকার লোভ নেই বলেই হেয় করে এল চিরদিন। আর বাঙালিও কান নিয়ে গেছে শুনে ওদের কথামতো দৌড়ুতে শুরু করল নিজের কানে হাত না দিয়েই।’

    তারপর একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘কিন্তু আপনি তো একজন বাঙালি। বাঙালি হয়েও বাঙালিকে ভুল বোঝা কি ঠিক?’

    তাতা কথা ঘুরিয়ে বলল, ‘রাত তো প্রায় দেড়টা। আপানাদের খাওয়াদাওয়া….বাড়িতে চিন্তা….’

    মানিকবাবু জোরে হেসে উঠলেন। বললেন, আমার তো বউ-ই নেই। যখন মাল ছেল, না-বিয়ে করা অনেকেই ছেল। তবে, মৃন্ময়ের আছে। বিয়ে-করা বউ। পাড়ায় যখন যারই বিপদ হয়, মৃন্ময় সবচেয়ে আগে দৌড়ে যায়। ওর বউ নিশ্চিত ভাত নিয়ে জেগে বসে থাকবে ওর জন্যে। আপনাদের কোনোই চিন্তা নেই। মৃন্ময়কে সে ভালো করেই চেনে।

    দীপ বলল, ছি ছি! এত রাতে। আমাদের জন্যে আপনাদের সকলের…….

    মানিকবাবু ধমক লাগালেন।

    বললেন, যান, পালান তো এবার। আপানাদের বউরা কি ওয়্যারলেসে খবর পেয়েছেন যে, আপনারা কেয়ার-অফ মৃন্ময় বাঁড়ুয্যে আছেন? চিন্তা বুঝি তাঁদের নেই?

    মৃন্ময়বাবু বিনীত মুখে বললেন, ‘আপনাদের তাড়া না থাকলে গরিবের বাড়িতেই একটু খিচুড়ি খেয়ে যেতে পারতেন। আমার বউ খুব তাড়াতাড়ি রেঁধে দিত। দেরি হত না কিন্তু।’

    দীপ বলল, না না, আমাদের রাত ন-টার মধ্যে পৌঁছোনোর কথা ছিল।

    তাহলে আর একটাও কথা নয়। এক্ষুনি রওয়ানা হোন ভালোয় ভালোয়।

    তাতা নমস্কার করে বলল, যাচ্ছি দাদা।

    যাওয়া নেই, আসুন।

    বলে, ওঁরা দু-জনেই হাত তুলে নমস্কার করলেন ওদের দু-জনকে। তারপর ঝুপঝুপে অন্ধকারে আর টিপটিপে বৃষ্টিতে কাঁচা গলির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

    গাড়ির হেডলাইটটা অন্ধকার গলিটাকে পুরোপুরি আলোয় ভরে দিয়েছিল! দীপ গাড়ি চালাচ্ছিল চুপ করে। তাতাও চুপ করেছিল। কেউই কোনো কথা বলছিল না। তাতার চোখের সামনে মানিকবাবুর বুক-ছেঁড়া, মোটা, অতিসাধারণ কাপড়ের সস্তা পাঞ্জাবিটা ভেসে উঠছিল।

    দীপের চোখের কোণ দুটো জ্বালা করছিল।

    তাতা একটা সিগারেট নিজের মুখে দিয়ে ধরিয়ে দীপের মুখেও একটা গুঁজে দিল। তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে দেশলাই জ্বালাতে জ্বালাতে বিড়বিড় করে বলল, এই আমরা; আমরা শালা একটা আশ্চর্য……

    তাতার মুখনি:সৃত বাক্যের শেষাংশটি ভেঙে গেল ওর জিভের মধ্যে।

    দেশলাই-এর কাঠিটা জ্বলে উঠেই দপ করে নিবে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }