Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বনসাইদের গল্প

    এখন অনেক রাত। বোম্বের অভিজাত পাড়ায় রাত-দিনে বেশি তফাত না থাকলেও এখানেও রাত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এখন।

    মিসেস সেন একবার লিভিং রুমে এসেছিলেন হালকা নীলরঙা নাইটি পরে। দরজা ঠিকমতো লক হল কি না, ছোটো নাইট-লাইটগুলো ছাড়া অন্য বাতি সব নেভাল কি না বেয়ারা, তাই দেখতে। সব দেখেশুনে মিসেস সেন আবার এয়ার-কণ্ডিশনড বেডরুমে ফিরে গেলেন।

    আমাকে মিসেস সেন বড়োই ভালোবাসেন। ঘরে যাওয়ার আগে একবার আমার গায়ে হাত রেখেছিলেন। একে ভালোবাসা বলে কি না জানি না। তবে আজকের রাতের পার্টিতে মিসেস সেন-এর পালি হিল-এর এই ফ্ল্যাটে বোম্বের যেসব গণ্যমান্য মানুষ এসেছিলেন, তাঁরা আমাকে দেখে মিসেস সেনের আশ্চর্য প্রতিভার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে গেছেন। আমার কারণে তিনি সবসময়ই গর্বিত, তবে আমার সম্বন্ধে মিসেস সেন যখনই ডাহামিথ্যে কথাটা বলেছিলেন, তখন ওঁর মুখের কোথাও চামড়ার একটুখানিও কোঁচকায়নি। বড়ো বড়ো চোখের সুন্দর গভীর পাতাতেও একটু কাঁপন লাগেনি।

    মানুষ মিথ্যে কথা বলতে পারে আমি জানতাম। তবে মানুষের মেয়েরা আরও বেশি বলে যে, সেকথা জানতাম না। প্রত্যেক মেয়েই বোধ হয় জন্মেই অভিনেত্রী।

    আসলে মানুষদের কথা আমার তো অজানা থাকার কথা নয়। মানুষের হাতে আমার জন্ম না হলেও মানুষের হাতেই বড়ো হয়ে ওঠা। মানুষের ঘরেই আমার বন্দিত্ব।

     

     

    মিস্টার সেনের পূর্বপুরুষদের দেশ ছিল পূর্ববঙ্গে। নিজে যদিও একবার দু-বার ছাড়া কখনো যাননি। তবে, আমারই মতো কিছু কিছু গাছ এবং হয়তো মানুষও থাকে, যত উঁচুতেই বাস করুক-না কেন, অথবা উঁচুতলায়; তাদের গায়ে তাদের শিকড় লেগেই থাকে, লেগে থাকে শিকড়ের মাটির গন্ধ।

    মিসেস সেন অবশ্য অন্য কথা বলেন, ‘ইউ মাস্ট কাট ইয়োর রুটস রুথলেসলি। যে-যুগে মানুষ চাঁদে পা দিচ্ছে সেযুগে রুটস কথাটাই টাইমবারড হয়ে গেছে।’

    হয়তো হবে। শিকড় সঙ্গে করে বয়ে বেড়ালে, ওপরে ওঠা যায় না; ওড়া যায় না; ওড়া যায় না এই নতুন পৃথিবীর আকাশে।

    শিকড়ের কথাতেই মনে পড়ল আমার জন্ম হয়েছিল কলকাতা থেকে কৃষ্ণনগরে যে হাইওয়ে গেছে তারই পাশে। কৃষ্ণনগরের কাছেই। আমার পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ সব একই জায়গায়। গায়ে গায়ে জড়াজড়ি করেই বেড়ে উঠেছিলাম আমরা! একে অন্যের গায়ের গন্ধ নিয়ে। বটের ঝুরি নামে, ফল থেকে চারা গজায়। আমিও আমার সেই অভিজাত প্রাচীন বটবংশের এক শিশুবট ছিলাম। সবুজ পাখির ঠোঁটের ঠোকরে মাটিতে পড়া লাল বটফল থেকে আমার জন্ম। কলকাতার এক শৌখিন বাঙালিবাবু আমাকে শেকড়সুদ্ধ উপড়ে নিয়ে এসে আলিপুরের আচার্যি সাহেবের মেমসাহেবকে দান করেন। তিনিই আমাকে বামন করে দেন।

     

     

    তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য চিন দেশের মেয়েরা যেমন একসময় লোহার জুতো পরে পায়ের গড়ন ছোটো রাখত, তেমনি আমার বট-জাতীয় চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রেখেই নানারকম মানুষি বজ্জাতির সঙ্গে আমাকে মিসেস আচার্যি এবং অন্য অনেকে মিলে পরামর্শ করে বামন করে দিয়েছেন। জীবনের মতো নির্বাসন দিয়েছেন একটি চার ইঞ্চি বাই চার ইঞ্চি পোর্সিলিনের টবে। তবে সাধারণ টব নয় সে। বোম্বের বিখ্যাত দোকান, ‘পেডার’ থেকে কেনা। চমৎকার কারুকাজ, রঙের খেলা সে-টবে।

    বামন না বানালে আমি হয়তো আজ হাত-পা ছড়িয়ে চল্লিশ বছরের দশ কাঠা জমির ওপর ঝাঁকড়া চুলের নিশান উড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম! মানুষ আমার দিকে মুগ্ধ বিস্ময়ে চেয়ে আমাকে বলত ‘বনস্পতি’। কত পাখি এসে বাসা বাঁধত আমার ডালে। সোহাগ খেত। নীড়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা সব ক্রিস্টালাইজড হয়ে সুন্দর উষ্ণ ডিম হয়ে প্রকাশিত হত। তারপর আর এক নতুন প্রজন্মের পাখি হয়ে ডিমের মধ্যে থেকে অনাগত ডিমের বাহক এবং ধারক সব পুরুষ ও মেয়ে পাখিরা কিচিরমিচির করে উড়ে যেত আমার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে। গভীর রাতে, কেউটে সাপ হানা দিয়ে পাখির বাচ্চা আর ডিম খেত এবং প্রমাণ করত যে, সমস্তরকম নিরাপত্তার মধ্যেই বিপদের বীজ নিহিত থাকেই। ডাকাতের আর মাতালের আর মৈথুনকারীর রম্যস্থান হত আমার ঘনঘোর স্নিগ্ধ ছায়া। শিবলিঙ্গ বসাত কেউ এনে আমার পায়ের কাছে। সিঁদুর লেপে তাতে জল ঢালত অনেক বোকা মেয়েরা ঘড়া ঘড়া তার মাথায়, আর চালাক বামুন পয়সা লুঠত। ভক্তির ‘ভ’ নেই মনে অথচ ঠাকুরকে নিয়ে ব্যাবসা পাতত কেমন! যেমন প্রেমের ‘প’ও না নিয়ে ঘর বেঁধেছেন মিসেস সেন।

     

     

    সততা মরে গেছে। আমার উচ্চতার মতোই, সততা এ পৃথিবী থেকে উবে গেছে! অথবা আমারই মতো তাকে বামন করে রেখেছে সাবধানি, সতর্ক, নির্গুণ সব উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষেরা।

    হঠাৎ মিসেস সেনের বেডরুমের দরজার উলটোদিকে ঘরের দরজাটা খুলে গেল। মিস্টার সেন দরজা খুলে বাইরে এলেন। ভদ্রলোকের খালি গা, একটা কালো চেক- চেক লুঙ্গি পরা। উনি এয়ার-কণ্ডিশনড ঘরে থাকেন না। বসবার ঘরও এয়ার- কণ্ডিশনড, যেখানে আমি এবং আরও অনেক বামনগাছ থাকি এবং যেখানে বড়ো বড়ো মানুষ আসেন, হুইস্কি খান, বাখ বিটোভেন এবং মোতজার্ট, চাইকোভোস্কি শোনেন। আর্ট ফিলম নিয়ে দুর্বোধ্য সব আলোচনা করেন।

    মিস্টার সেন মানুষটার মধ্যে দুটো মানুষ বাস করেন। বুঝতে পারি। একটা মানুষ অন্যরকম, অন্য দশজনের মতো। কিন্তু আর একটা মানুষ? তিনি এই গভীর রাতের নি:সঙ্গ, হৃদয়হীন, সঙ্গীহীন, প্রেমহীন একা ফ্ল্যাটে-থাকা মানুষটা। মিসেস সেন যখন সামনে বা বাড়িতে থাকেন না, শুধু তখনই সেই মানুষটা প্রকাশিত হন। কাফকার মেটামরফসিস-এর গ্রেগর এবং সেই পোকাটার সঙ্গে মিস্টার সেনের আর আমার; এই বামন-বটের কোথায় যেন একটা দারুণ মিল আছে।

    আজ রাতেই একজন অতিথি, আমার অসংখ্য কানের একটা কান মুলে দিয়ে তাঁর জাভেরি ব্রাদার্সের হিরেমোড়া সঙ্গিনীকে ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘উড নট বি সারপ্রাইজড, ইউ সাম ডে আই ভেঞ্চার টু রাইট অ্যাপালিং ডায়ারি অফ দি গ্রেট, ওল্ড, পুয়োর, ডোয়াফর্ড চ্যাপ; অ্যা বনসাই ব্যানিয়ন!’

     

     

    সঙ্গিনী ধন্য হয়ে বলেছিলেন, ‘‘হানি, ঠাট্টা কোরো না। আমি ভাবছি, ‘ফ্রেণ্ডস অফ দ্য ট্রিজ’- এর মতো, ‘সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু ট্রিজ’ নাম দিয়ে একটা সোসাইটি ফাউণ্ড করব। দিস ইজ অ-ফুল। দিস বনসাই বিজনেস। গাছেদের বুঝি লাগে না? বলো হানি? জানো তুমি! সেদিন একটা বই পড়ছিলাম, ‘দ্য সিক্রেট লাইফ অফ প্লান্টস।’ ফ্যান্টাসটিক। ওরাও আমাদের মতো জীবন্ত, ওরাও ভালোবাসে, ভালোবাসা বোঝে মানুষদেরই মতো। ই……..।’

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    মিস্টার সেন ফ্রিজ খুললেন। বিরাট লিভিং রুম পেরিয়ে, অন্যপ্রান্তের ডাইনিং রুমে গিয়ে। তারপর পান্তাভাতের বাটিটা বের করে কার্পেটের ওপর খবরের কাগজ বিছিয়ে বসলেন, বাবু হয়ে। শুকনো লংকা পোড়া আর বড়ো বড়ো আস্ত কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে চাকুম-চুকুম করে খেতে লাগলেন পান্তাভাত। যেন ছোট্ট ছেলেটি। অনাবিল, ঋজু, অকলুষিত।

    কোনো কোনোদিন পাশের ফ্ল্যাটের বাংলাদেশি আয়াকে দিয়ে শুঁটকি মাছও রান্না করিয়ে রাখেন মেমসাহেব। গভীর রাতে আয়ার ছেলে লুকিয়ে এসে সে মাছ দিয়ে যায়। মিস্টার সেন পেঁয়াজ-রসুন আর ঝালে লাল সেই শুঁটকি মাছ জমিয়ে খান।

    মিসেস সেন শুঁটকি মাছের গন্ধ পেলেই স্মেলিং সল্টের শিশি তলব করেন এবং ওডিকোলন স্প্রে করান ফ্ল্যাটময়। খাওয়ার সময় মিস্টার সেনের চোখে-মুখে এমন একটা ভাব ফুটে ওঠে যে, তা দেখে আমার কৃষ্ণনগরের কাছের সেই পথের পাশের পুরোনো চেনা গন্ধের বনস্পতির মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। উড়াল চুলের কালবোশেখির মেঘ, প্রথম বর্ষার সোঁদা গন্ধ, বর্ষার ঘনঘোর, রাতভর ব্যাঙের ডাক, জোনাকির নীলচে আলোর কাচটিপ, দুগ্গা পুজোর ঢাকের আর কাঁসির বাদ্যির অনুরণন, এই সমস্ত স্মৃতি আমার পাতায় পাতায়, শিরায় শিরায়, শিরশিরানি তোলে। পাট পচানোর কটু কিন্তু দেশি গন্ধ, পাট কাচার চটাং-পটাং আওয়াজ, পুকুরের হাঁসেদের সম্মিলিত গলার প্যাঁকপ্যাঁকানি এবং গায়ের আঁশটে গন্ধ সবই ভিড় করে আসে আমার ডালে ডালে, পাতায় পাতায়; শিরায় শিরায়।

     

     

    মিস্টার সেন খাওয়া শেষ করে নিজেই প্যানট্রিতে সব ধুয়ে ফেললেন। বাসন সব জায়গামতো তুলে রাখলেন। পাছে মিসেস সেন বা বাবুর্চি জানতে পান। তারপর জানলা খুলে দিলেন লিভিং রুমের।

    মিস্টার সেন যখন গভীর রাতে এমন করে জানলা খোলেন, শুধু তখনই আমি এবং আমার অন্যান্য বামন সঙ্গীরা একটু হাওয়া পাই। সমুদ্রের আওয়াজ আর নোনা গন্ধ কান ও নাক ভরে দেয়। এই বাইশ-তলার মার্বেল এবং কার্পেটে মোড়া ফ্ল্যাটে বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন এয়ার-কণ্ডিশনারের একইরকম ঝিরঝিরে ঠাণ্ডায় থেকে থেকে আমাদের গুঁড়ি আর ডালপালাতে বাত ধরে গেছে। সেই আড়ষ্টতা নোনা হাওয়ায় ছেড়ে যেতে থাকে। আমরা বেঁটে বেঁটে হাত তুলে মিস্টার সেনকে নি:শব্দে ধন্যবাদ জানাই।

    মিসেস সেনও কখনো কখনো আমাদের রোদ খাওয়ার জন্য জানলা খুলে জানলার তাকে রাখেন। তখনও একটু মাটি দেখতে পাই। মাটিরই গাছ আমরা। এখন যে চার ইঞ্চি বাই চার ইঞ্চি পোর্সিলিনের টবে থাকি সে-মাটি মিসেস সেন প্লেনে উড়ে গিয়ে কলকাতার হর্টিকালচারাল সোসাইটি থেকে পলিথিনের ব্যাগে করে নিয়ে এসেছিলেন। মাইতিবাবু নিজে যত্ন করে সে মাটি বানিয়ে দিয়েছিলেন, সার, ক্ষার সব হিসেব করে। কিন্তু সে মাটিতে কেষ্টনগরের গন্ধ নেই। আমি আসলে আর আমি নেই। আমি বুঝতে পারি। আমার অবয়বে, আমার সুখে-দুঃখে, আমার কামনা-বাসনা-চাওয়া-পাওয়া আর শব্দে-গন্ধে একেবারেই বামন হয়ে গেছি। আমার অনেক নামডাক, অনেক মূল আমার, অনেকই গাছ এবং গাছের মালিকের ঈর্ষার কারণ আমি। কিন্তু যে গর্ভে জন্ম আমার, যে গর্ভে আমার বীজ রোপণ করার কথা ছিল, আমার হৃদয়ের সব লালিমা দিয়ে যে লাল ফল ফলাবার কথা ছিল তা সবই বিফল হল এ জন্মে। আমি একটি নন-এন্টিটি, একটি বামন, একটি জরদগব প্রাণ হয়ে গেছি। প্রশ্বাস নিচ্ছি এবং নিশ্বাস ফেলছি। আমার হাত-পা ডাল-পাতা সবই আছে, কিন্তু, শুধু প্রাণেই আমি জীবিত আছি। বেঁচে থাকা মানে যে প্রাণে বাঁচার চেয়েও অনেক বড়ো কিছু, সেকথা আজ প্রায় ভুলেই গেছি।

     

     

    শুধু আমিই নই, আমার সব সঙ্গীরাই সেকথা বলে গভীর দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে। সঙ্গী বলতে একটি কনকচাঁপা গাছ, একজোড়া রঙ্গন, আর একটি বোগোনভেলিয়া।

    বাইশ-তলার জানলায় বসানো অবস্থা থেকে যখন আমরা নীচে তাকাই তখন মাথা ঘুরে ওঠে আমার। তবে ওদের আরও বেশি ঘোরে। কনকচাঁপা আর আমি তাও আকাশের কথা বুঝি কিছু, কারণ আকাশের অনেকখানিই আমাদের থাকার কথা ছিল, বামন না হলে। এখন আমাদের আকাশ বলতে শুধু এই ডুপ্লে ফ্ল্যাটের হালকা খয়েরি রঙের সিলিংটুকু।

    মিস্টার সেন এসে মাঝে মাঝে আমার সামনে দাঁড়ান। আমার গায়ে-মাথায় হাত বুলোন। বড়ো সহানুভূতি আর করুণা থাকে সেই হাতের আঙুলে। মিসেস সেনের আঙুলে শুধুই গর্ব আর মালিকানার দুর্গন্ধ। উনি আমার গায়ে হাত দিলেই আমার পাতাগুলি লজ্জাবতীর পাতার মতোই আপনা থেকেই কুঁকড়ে যায়। মিসেস সেন পুলকিত হন। আমার যেটা ঘেন্না, সেটাই ওঁর তীব্র আনন্দ। উনি হয়তো বট গাছের ‘বনসাই’-এর মধ্যে লজ্জাবতীর লক্ষণ দেখতে পেয়ে খুশি হয়ে ওঠেন, পরের ‘শো’তে অন্য একটা প্রাইজ পাওয়ার আশায়। দশ-জনকে এই অভূতপূর্ব গুণ দেখিয়ে চমকিত করার আশায়।

    শুনেছি মিস্টার সেন মস্ত কাজ করেন। অনেক বছর আমেরিকাতে ছিলেন। এখন এক মালটি ন্যাশনাল কোম্পানির নাম্বার ওয়ান। এয়ার-কণ্ডিশনড সাদারঙা মার্সিডিজ, সে-গাড়িতে আমিও চড়েছি অনেক দিন, বটানিস্টের বাড়ি যেতে। সে গাড়িতে চড়েও বাইরের হাওয়া পাই না একটুও। জ্যৈষ্ঠের দুপুরের গরম কাকে বলে আমি ভুলে গেছি। ভুলে গেছি গ্রীষ্মরাতের স্নিগ্ধ হাওয়ার প্রলেপ। আমার চুলে খোলা হাওয়া আর কখনো চিরুনি বুলোবে না। যা হওয়ার হয়ে গেছে; এ জন্মের মতো।

     

     

    মিস্টার সেন মানুষটা বড়ো একা। মনে হয়, মানুষটাকে মিসেস সেন বনসাই করে দিয়েছেন। তাঁর সমস্ত নিজস্বতা ছাঁটতে ছাঁটতে, যেমন করে আমাদের নতুন গজানো পাতা আর নতুন গজানো ডাল মিসেস সেন তাঁর রুপোর কাঁচিতে ছাঁটেন, তেমনই ছেঁটে ছেঁটে কেটে ফেলে ন্যুব্জ, বামন করে দিয়েছেন মানুষটাকে।

    মানুষটার বড়ো সুখ। সকলেই বলে। অথচ এই কোনো সুখেই যেন আমারই মতো মানুষটারও প্রয়োজন ছিল না কোনোই। অশান্তি এড়াবার চেষ্টা করতে করতে; মানুষটা আজ রাতে এই বাইশ-তলার খোলা জানলার কাছে……

    হঠাৎ মিস্টার সেন খোলা জানলা থেকে ফিরে এলেন। ফিরে এসে, আমাদের প্রত্যেককে এক-এক করে জানলায় এনে বসালেন। তারপর, অনেকদিন থেকে যা ভেবেছিলাম, মানে যা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলাম, তাই করে বসলেন তিনি।

    আমাদের জন্যে হঠাৎ এক তীব্র আনন্দে এবং মানুষটার জন্যে দুঃখে আমার মন ককিয়ে কেঁদে উঠল।

    মিস্টার সেন হঠাৎই লুঙ্গিটা খুলে ফেললেন। নাইট-লাইটের স্বল্প আলোতে উদোম মানুষটাকে হঠাৎ যেন আমার বনস্পতি প্রপিতামহর ছায়ায়, তাঁর পায়ের কাছে ধুনি জ্বালিয়ে বসে থাকা সেই নাগা সন্ন্যাসীর মতো মনে হল। মানুষটা মনে মনে বোধ হয় সন্ন্যাসীই ছিলেন। এই অপ্রয়োজনের আড়ম্বর এবং অবিচ্ছিন্ন আরামকে মানুষটা তার বাড়তি পোশাকের মতোই হঠাৎই খুলে ফেললেন। তারপর একে একে বোগোনভেলিয়া, রঙ্গন দুটি এবং কনকচাঁপাকেও জানলা গলিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন। তারপর আমাকে যত্ন করে দু-হাতে বুকে তুলে নিলেন।

     

     

    আহা! কনকচাঁপা এবং রঙ্গনেরা মাটির সঙ্গে মিশে গেল! হাত-পা, চুল ছড়িয়ে ওরা যখন গভীর রাতের বোম্বের মালটি-স্টোরিড বাড়ির ইট-কংক্রিটের জঙ্গলের মাঝের খোলা জায়গা দিয়ে দ্রুত নীচে পড়তে লাগল, তখন যেন নীচের মাটি দু-হাত বাড়িয়ে দিল তাদের ধরবার জন্যে। মুহূর্তের জন্যে আরব সাগরের জল উছলে উঠল ওদের এই মুক্তির আনন্দে।

    ‘আর্থ টু আর্থ, অ্যাশেস টু অ্যাশেস, ডাস্ট টু ডাস্ট’……

    হঠাৎ মিস্টার সেন জানলা দিয়ে মাথা গলিয়ে দিয়ে, নিজেও জানলার তাকে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর ধবধবে উলঙ্গ শরীরের চুলে সামুদ্রিক হাওয়া বিলি কাটতে লাগল। তাঁর বুকের ঘন চুলের মধ্যে আমাকে তিনি আর এক বার চেপে ধরলেন। তারপর টব থেকে আমাকে এক হ্যাঁচকা টানে মুক্ত করলেন। তাঁর বুকের ঘন চুলে মাইতিবাবুর যত্ন করে সাজিয়ে দেওয়া মাটি মাখামাখি হয়ে গেল। তারপর বামন আমাকে, হতভাগ্য এক শিশুরই মতো দু-হাতে বুকে জড়িয়ে আধুনিক সভ্যতার অর্থ ও যন্ত্রদানবের অত্যাচারে অত্যাচারিত, বড়ো একা মানুষটি, লোভ, গর্ব এবং অহমিকায় স্ফীত-নাসা এই ক্লান্তিকর অস্তিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যে এক লাফ দিলেন জানলা দিয়ে।

    জোরে হাওয়া লাগতে লাগল গায়ে। রাতের আরব সাগর থেকে সিগাল আর টার্নরা তাদের শান্তির সাদা ডানা মেলে হঠাৎ জল ছেড়ে অন্ধকারে উড়ে এল আমাদের স্বাগত জানাতে। মুক্তির গান ঠোঁটে করে। উড়ন্ত মৃত্যুতে মিস্টার সেনের সঙ্গে মিলিত হলাম।

     

     

    একজন বামন-মানুষ। আর একটি বামন গাছ!

    প্রচন্ড শব্দ হল একটা। মিস্টার সেনের মাথাটা ফেটে গেল টুকরো হয়ে। নাক দিয়ে গরম রক্ত গড়িয়ে এল। এসে চ্যাটচেটে হয়ে আমার সবুজ পাতাতে মাখামাখি হয়ে গেল। আমার এতদিনের শীত মুছে দিল।

    দারোয়ান, চৌকিদার, পুলিশ সব দৌড়ে আসতে লাগল আমাদের দিকে। মিস্টার সেন আমাকে যে সোহাগে, যে মমতায়, যে প্রেমে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন, তেমন করে মিসেস সেনকেও কোনোদিন হয়তো জড়াতে পারেননি। অথচ নিশ্চয়ই জড়াতে চেয়েছিলেন। গাছের মতো, মানুষেরও মনটাই আসল। তেমন করে মন ডাক না দিলে, মানুষের শরীরও কথা বলে না। আসলে গাছ, পাখি বা মানুষ সকলেই এক জায়গায় সমানই বরাবর। কেউই কারও চেয়ে বড়ো নয় ছোটোও নয়। বামন করা যায় গাছকে, বা মানুষকে নিশ্চয়ই। কিন্তু অগাছ বা অমানুষ করা যায় না কখনোই।

    এই বনসাই গাছ—আমার সবুজ পাতার রং গাঢ় লাল হয়ে এল বনসাই মানুষটার টাটকা তাজা ভালোবাসার, মুক্তির রঙে।

    ভীষণই ভালো লাগতে লাগল। কারণ কোনোদিন আবার আমি সবুজ, বিরাট গাছ হব; প্রাচীন বনস্পতি! লাল ফল আসবে আমারও ডালে ডালে। অনেক ভালোবাসার টিয়া পাখি তার সঙ্গিনীকে আদর করবে আমারই বুকের নীড়ে বসে। নাগা সন্ন্যাসী, গভীর রাতে আমার পায়ের কাছে ধুনি জ্বালিয়ে বসে চুপ করে ভাববে স্তব্ধ রাতে, সেই গন্তব্যর কথা, যেখানে চিরন্তন মানুষ চিরদিনই যেতে চেয়েছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }