Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বুলির ‘পা’

    রাসবিহারী অ্যাভিন্যু আর ল্যান্সডাউন রোডের মোড়ে আলোতে গাড়িটা দাঁড়িয়ে ছিল। জানালার পাশে বসে উদ্দেশ্যহীন ভাবে চেয়েছিলাম মোড়ের দিকে। হঠাৎই মনে হল, যেন পারুলকে দেখলাম।

    সোডিয়ামে ভেপার ল্যাম্পের আলোয় জানুয়ারির মাঝামাঝির ধোঁয়াশা আর ডিজেলের ধোঁয়াকেও সুন্দর দেখাচ্ছিল। দেখলাম, শেয়ালরঙা ছেঁড়া র‌্যাপারখানি গায়ে জড়িয়ে পারুল হেঁটে যাচ্ছে প্রিয়া সিনেমার দিকে। ক্লান্তিতে ন্যুব্জ। রোগাও হয়ে গেছে অনেক। হাতে একটি লাঠি।

    বুকটার মধ্যে এমন করে উঠল যে, কী বলব! লোকলাজ ভুলে চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করল পারুলের নাম ধরে। উত্তেজনায় সিট থেকে প্রায় উঠেই দাঁড়িয়েছিলাম। পরক্ষণেই আস্তে আস্তে বসে পড়লাম।

    পারুলই তো…..।

    অনেক কিছুই বলার ছিল ওকে। কিন্তু যেসব কথা তামাদি হয়ে গেছে সে-কথা আর বলা যায় না কাউকেই। ওকে আমার দেওয়ারও ছিল অনেক কিছু। কিন্তু দেওয়ার সময়েরও একটি সময়সীমা থাকেই, পাওয়ার সময়েরই মতো। সেই সময়ের মধ্যে দেওয়া বা পাওয়া না হলে এই এক জীবনে তা দেওয়া বা পাওয়া বোধ হয় হয়ে ওঠে না।

    আলো সবুজ হতেই গাড়ি এগোল ড্রাইভার। যাকে পারুল বলে ভেবেছিলাম, তার কাছে চলে গিয়ে পাশ কাটিয়ে গাড়ি এগিয়ে গেল। বুকের গভীর থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস উঠে এসে বাইরের ধোঁয়াশায় মিশে গেল।

     

     

    মনে মনে বললাম, পারুলের জন্যে আর কিছুমাত্রই করতে এ জীবনে পারব না। তার অভিশাপ বাকি জীবন আমাকে বয়ে বেড়াতেই হবে। আমার চেয়েও বেশি হয়তো রিমাকে। পারুল কিন্তু কোনোদিনও মুখে কিছুই বলেনি আমাকে। তবু, মনে হয়।

    বাড়ি ফিরে চান-টান করে খাওয়ার টেবিলে যখন খেতে বসলাম তখন খেতে খেতে আমি বললাম, আজ ঠিক পারুলের মতোই একজনকে দেখলাম, জানিস বুলি।

    পারুলদি?

    আমার কিশোরী মেয়ে বুলি খাওয়া থামিয়ে চমকে উঠল।

    বুলি, আমার একমাত্র মেয়ে, এখন ক্লাস সিক্সে পড়ে। একমাত্র ছেলে চুপুও খাওয়া থামাল। মুখে কেউই কিছুই বলল না।

    রিমা বলল, খাওয়ার সময় পারুলের কথা না বললেই হত নাকি? আজ জগু কড়াইশুঁটির চপটা কেমন করেছে তা তো খেয়ে বলবে? সারাটা দুপুরই ও এই নিয়ে মকশো করেছে। পুর নিয়ে অনেকই এক্সপেরিমেন্ট। পুরটা বানানো আর ভাজাটাই আসল। পুরে গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়েছে। জানো?

     

     

    বুলি বলল, যেমনই করুক জগুদা, আর যাই-ই দিক পারুলদির মতো কড়াইশুঁটির চপ কেউ করতে পারেনি আজ অবধি। আর পারবেও না।

    সকলেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। খাওয়া বন্ধ করে। হাত থামিয়ে। একেই বোধ হয় সভা-সমিতিতে বলে ‘মৃতের আত্মার প্রতি সম্মান জ্ঞাপনার্থে দুই মিনিট নীরবতা পালন।’

    কোনো মৃতকেই মানুষ চিরদিন মনে রাখে না। মহান মানুষেরা হয়তো তাঁদের কীর্তির মধ্যে বেঁচে থাকেন অনেক দিন। আর পারুল অথবা আমার মতো সাধারণ বেঁচে থাকে কড়াইশুঁটির চপ অথবা প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকাটার পুরোটাই ধার হয়ে যাওয়ার পারিবারিক শোকের মধ্যে।

    খাওয়া-দাওয়ার পর রিমা বলল, টিভি দেখবে?

    বুলি বলল, ওর অনেক পড়া। পড়বে।

    বুলি চলে গেল। চুপুও উঠল। আমাদের বাড়ির চারটে বাড়ি পরেই মাল্টিস্টোরিড বাড়িতে স্নিগ্ধাদের ফ্ল্যাটের ভি. সি. আর-এ মোৎর্জাট-এর জীবনীর ওপর যে-ছবিটি সাড়া জাগিয়েছে তাই দেখতে যাবে ও। ‘অ্যামিডিয়াস’ নাকি যেন!

     

     

    খাওয়ার পর একটা সিগারেট ধরিয়ে শোয়ার ঘরে এসে আমি জানালার পাশে চেয়ার টেনে বসলাম।

    একসময় আমি ভাবতাম যে, এক-জন আধুনিক নগরভিত্তিক মানুষের জীবনের সব চেয়ে বড়ো লজ্জা হচ্ছে তার একঘেয়েমি। এই প্রাত্যহিক, মানডেন মিনিংলেস দিনগুলি রাতগুলির গতানুগতিকতা তাদের প্রত্যেককেই সব সময় ক্লিষ্ট করে রাখে। কিন্তু পারুলের মতো কারওর কথা যেই মনে হয়, তখন মনে হয় যে, তারা সকলেই আমারই মতো নিশ্চয়ই বোঝে যে, মানুষের লজ্জাকরতম লজ্জাটি হচ্ছে তার অহংবোধ।

    পারুল আজ থেকে পনেরো বছর আগে আমাদের বাড়িতে এসেছিল। তখন চুপু ছোটো। বুলি হয়ইনি। চাকরিতে আমার এত পদোন্নতিও হয়নি। পারুল এসেছিল রাঁধুনি হিসেবে। তারপর নিজের গুণে ও আন্তরিকতায় কী করে যে সে হাউসকিপার, বেবি সিটার, কেয়ারটেকার, আয়া, দারোয়ান একইসঙ্গে সবকিছুই আস্তে আস্তে উঠেছিল তা আমরা লক্ষ পর্যন্ত করিনি।

    পারুলের ওপরে বাড়ি ছেড়ে আমরা কত জায়গায় বেড়াতে গেছি। বুলি যখন ছ-মাসের তখন তাকে পারুলের জিম্মাতেই রেখে মধ্যপ্রদেশে বেড়াতে গেছিলাম একবার। বন্ধুবান্ধব সকলেই শুনে অবাক হয়ে গেছিল। কিন্তু কী করব! যৌথ পরিবার থেকে বেরিয়ে এলে আর সেখানে ফেরা যায় না। কেউ ফিরিয়েও নেয় না। পারুলরাই অবলম্বন আমাদের। রিমারও তখন খুবই বেড়াবার শখ ছিল। পারুল আমাদের পরিবারেরই এক-জন হয়ে গেছিল।

     

     

    বুলি কথা বলতে শেখার পর পারুলকে প্রথমে ‘পা’ বলে।

    পারুল হেসে কথা বলত, কোন ‘পা’-রে বুলি? ডান, না বাঁ?

    আরও একটু কথা শেখার পর বুলি বলত ‘পারু’। পারুল হাসত। বলত, আমাকে দেবদাসের পারু করে দিলে গো! বুড়ি বড়ো হয়ে যাওয়ার পর অবশ্য পারুদি বলেই ডাকত। পারুলদির সঙ্গে বুলির যে-ধরনের সখ্য, মমত্ব ও স্নেহের সম্পর্ক ছিল তা হয়তো তার মায়ের সঙ্গেও ছিল না। পরবর্তী জীবনের তার কোনো প্রিয় সখীর সঙ্গেও বোধ হয় হয়নি। ভূতের ভয় থেকে বয়ঃসন্ধির ভয়ের কথার সব কিছুই বোধ হয় বুলি পারুর কাছেই শুনেছিল। রিমার সময় ছিল না।

    পারুলের নিজের ছেলে ছিল একটি। সে দশ বছর বয়সে নাকি কলেরাতে মারা যায়। অনেকই বছর আগে। পারুলদের বাড়ি ছিল লঞ্জীকান্তপুর না ক্যানিং কোথায় যেন! দোকনো ভাষায় কথা বলত। পান খেত, বাড়িতে বানিয়ে। দোক্তা দিয়ে। প্রতিমাসেরই এক তারিখে দু-টি ষণ্ডা-গুণ্ডা ছেলে আসত পারুলের কাছে মাইনের টাকা নিতে। তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়ে থাকত যতক্ষণ না টাকাটা হস্তগত করে। পারুলকে আমরা পুজোর সময়ে এবং পয়সা বৈশাখে নতুন শাড়ি-জামা ইত্যাদি ছাড়াও দু-মাসের মাইনে বোনাস হিসেবে দিতাম এবং দিয়ে শ্লাঘা বোধ করতাম। টাকা ও যাই-ই পেত, ওই ছেলে দুটিই কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যেত। পারু দশ-বিশ টাকা রাখত নিজের কাছে। হয়তো হাতখরচা হিসেবেই। মাস পয়লা ছাড়াও নানা দরকারে মাসের মধ্যে একাধিকবার ছেলে দুটি এসে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ডাকত পিসি! অপিসসি।

     

     

    রিমা বলত, পারু তোমার বুড়ো বয়সে কী হবে? সব টাকাই ওদের দিয়ে দাও কেন? একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিই, তাতে রাখো।

    পারুল হাসত। বলত, কী যে বলো দিদি। ওরাই তো আমার সব। আপন ভাইপো। ওরাই দেখবে। আমার আর আছেটা কে? তারপর বুলি আর চুপুর দিকে চেয়ে বলত, ওরাও দেখবে। কী? দেখবে না? ওরাই তো সব চেয়ে আপন আমার। আমার ভাইপোদের চেয়েও অনেক বেশি।

    বুলি আর চুপু কিছু না বুঝেই বলত, নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই।!

    পারুলের দু-পায়ের আর্থরাইটিস ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লাডপ্রেসার অস্বাভাবিক রকম বেশি হয়ে গেল। হাঁটতে লাগল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ভাইপোরা এসে প্রায়ই এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে, ওটা করতে হবে বলে উপরি টাকা নিয়ে যেতে লাগল। টাকা অবশ্য রিমাই দিত। স্কুলের এবং কলেজের সময়ের মধ্যে রান্না করে উঠতে পারত না পারুল প্রায়ই। অফিসেও আমাকে প্রায়ই না খেয়েই যেতে হত। রিমা এবং আমি ক্রমশই বিরক্ত হয়ে উঠতে লাগলাম মানুষটার ওপরে মাত্র দুটি মাসেই। অবলীলায় ভুলে গেলাম যে দীর্ঘ পনেরো বছর সে আমাদের জন্যে কী করেছে আর করেনি।

     

     

    একদিন রিমা রাতে আমাকে ডেকে বলল, বুঝলে, একটি অল্পবয়সি মেয়ে পেয়েছি। লাজুক প্রকৃতির, স্বভাবও ভালো। চুপু এখন বড়ো হচ্ছে তো। তাই কুৎসিত দেখতে বলেই ওকে রাখব ঠিক করেছি। খালি বাড়িতে থাকবে। আগুন নিয়ে খেলা আমি কোনো রিস্ক নিতে চাই না।

    আমি বললাম, কী যে বলো! কিন্তু পারুলকে কী করবে?

    ওকে তিন মাসের মাইনে দিয়ে ছুটি দিয়ে দেব। এ বাজারে তো আর কাউকে বসিয়ে খাওয়ানো যায় না। মানুষ নিজের মা বাবাকেই আজকাল বসিয়ে খাওয়াতে পারে না, তার কাজের লোককে।

    ওকে কে দেখবে?

    কেন? ওর ভাইপোরা। তারাই তো ওর সব। তা ছাড়া এত বছর পারুলকে আমরা কম টাকা তো দিইনি। শুনেছি ওর গ্রামে না কোথায় পাকাবাড়িও করে নিয়েছে পারুল। তা ছাড়া সারাজীবন দেখবার দায়িত্ব গভর্নমেন্টই নেয় না তো আমরা নেব কোত্থেকে।

     

     

    আমি বললাম, একদিন আমরা গিয়ে দেখে এলেই তো পারি পারুলের বাড়ি সত্যি আছে কি না। ওর খোকা আর খোকনরা তো ওকে ঠকাতেও পারে।

    তোমার মতো অত প্রেম আমার নেই। কালকে আমার অবস্থা যদি পারুলের মতো হয় আমার প্রিন্সিপালও কি আমাকে বিদেয় করে দেবেন না? তিন মাসের মাইনেও দেবেন কি না সন্দেহ। সবাই তো আর তোমার মতো ভালো কোম্পানির চাকরি করে না। অত ভাবলে চলে না। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সকলকে যেতেই হয়ই। তা ছাড়া নতুন কাজের লোকটি কোথায় থাকবে? কোয়ার্টার তো একটিই! এ কী তোমাদের বাড়ি, যে প্রচুর ঘর? একতলার একটা ঘর পারুকে দিয়ে দেওয়া যেত। আমাদের এই টু বেডরুম মাল্টিস্টোরিড ফ্ল্যাটে এক্সট্রা একজন মানুষেরও তো জায়গা নেই।

    পারুলও খুব কেঁদেছিল। ওর কান্নার শব্দ কোনোদিনই কেউ শুনতে পেত না। কিছু কিছু নারীর কান্না ওইরকমই হয়, সমুদ্রপারের বৃষ্টির মতো।

    তারপর একদিন—লাল গোপাল আঁকা ওর ছোট্ট টিনের তোরঙ্গটি নিয়ে বুলির থুতনি ছুঁয়ে চুমু খেয়ে আশীর্বাদ করে হেলতে দুলতে পারুল সত্যিই চলে গেছিল।

     

     

    আর্থরাইটিসের জন্যেই ও অমনি হেলেদুলে চলত, নইলে চলতে পারত না। মোটাও হয়ে গেছিল প্রচন্ড।

    বুলি কিন্তু ফিসফিস করে কাঁদেনি। ডাক ছেড়েই কেঁদেছিল সে-দিন। শিশুর কাছে ঘোড়েল এবং বিষয় ও স্বার্থবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের যুক্তি আদৌ গ্রহণীয় হয়নি। যখন তখন পথেঘাটে পড়ে পারুল মারা যেতে পারে, একথা জেনেও তাকে কেন যে এমন করে ছাড়িয়ে দিলাম এ নিয়ে ছোট্ট বুলি তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়াও করেছিল খুবই।

    খাবার টেবিলে বসে বুলির দিকে চেয়ে আমি ভাবছিলাম যে, একদিন বুলিও অবলীলায় রিমা হয়ে উঠবে। আমাদের সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের বিবেককে, শুভবুদ্ধিকে নিজস্বার্থের কাছে নীরবে এবং নেপথ্যে বলি দেওয়াবে। পাতি বুর্জোয়াদের ভিড়ের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে বুলিও।

    সে রাতে পথে পারুলকে দেখার মাস দুয়েক পরে আমার বন্ধু সীতেশ ফোন করে বলল যে, পারুল নাকি লাঠি ঠকঠকিয়ে ওর বাড়ি গেছিল কিছু সাহায্যের জন্যে। পাশের বাড়ির কাজের লোক মতি, পারুলের গ্রাম চিনত। তাকে দিয়ে এক রবিবার খবর নিতে পাঠালাম। সে এসে বলল, পারুলকে তার ভাইপোরা তাড়িয়ে দিয়েছে। পারুলের পনেরো বছরের রোজগারের প্রতিটি টাকাতে তারা ধান-জমি, বাড়ি, গোরু সবই করে নিয়েছে। তাদের বউদের সঙ্গে পারুলের বনেনি বলে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে পিসিকে। পারুল এখন নাকি লেক-এর কাছে সার্দান অ্যাভিন্যুর ফুটপাথের এক গাড়ি বারান্দার নীচে রাত কাটায় এবং সারাদিন নাকি পথে পথে ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায়।

     

     

    কথাটা শুনে বড়ো ভয় হল। না, পারুলের জন্য নয়, বন্ধু ও পরিচিতেরা আমাদের সম্বন্ধে কী আলোচনা করবে তা ভেবে।

    পরদিনই অফিস থেকে ফেরার পথে ড্রাইভারকে বললাম, সার্দান অ্যাভিন্যুতে যেতে। তখন সন্ধে হয়ে গেছে। দেখি, দুটি ইটের ওপরে বসানো একটি পোড়া কালো মাটির হাঁড়িতে শুধু ভাত সেদ্ধ করছে পারুল। দেখলে ওকে চেনা যায় না। মনে হয়, যেন জন্মানোর পর থেকেই ও ভিক্ষা করছে। ভিখিরিদের বুঝি অতীত থাকে না কোনো!

    পারুলকে বাড়িতে দেখা করতে বলে এলাম পরদিন সকালে। গাড়ি থেকে নেমে ভিখিরির সঙ্গে কথা বলা যায় না। কে কোথা থেকে দেখে ফেলবে। কী মনে করবে আমাকে। পারুল বলল, অতদূর যে যেতে পারবোনি দাদাবাবু। লাঠি নিয়েও চলতে পায়ে বড়োই লাগে। তা শুনে ওকে দশটা টাকা দিয়ে বললাম, রিকশা করেই এসো।

    পরদিন রিকশা করে কিন্তু এল না পারুল। হেঁটেই এল। টাকাটা বাঁচিয়েছে। ভিখিরি হয়ে গেলে মানুষ মিথ্যেবাদীও হয়ে যায় বোধ হয়। দশটা টাকা অনেকের কাছে অনেকই টাকা। ছেঁড়া দুর্গন্ধ, নোংরা শাড়ি। পা-ময় গা-ময় ধুলো। রিমা তো ওকে ঝকঝকে বসার ঘরে ঢুকতে পর্যন্ত দিল না। বাইরে বারান্দাতেই বসিয়ে রাখল। বলল, কত রোগের জার্মস যে ওর পায়ে থিক থিক করছে কে জানে।

     

     

    আমি পারুলকে বললাম, তোমার কী ক্ষতি করেছি আমরা যে, তুমি আমার বন্ধুর বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা চাও? এতে কি অসম্মান করা হয় না আমাদের?

    পারুল কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল আমার মুখের দিক চেয়ে।

    তারপর বলল, সম্মান-অসম্মানের কথা তো ভাবিনি দাদাবাবু। খিদে তো বড়ো ভীষণ জিনিস। কী করে বোঝাব আপনাদের।

    রিমা বলল, ছি: ছি: তুমি এত নীচ।

    পারুল চুপ করে রইল। ওর দু-চোখ বেয়ে জলের ধারা নামল। আবারও ফিসফিসে বৃষ্টি নামল সমুদ্রপারে।

    রিমার অলক্ষ্যে গাড়িতেই ওকে তুলে নিয়ে আমাদের ফ্যামিলি ফিজিসিয়ানের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখালাম। উনি ওর হিসট্রি জানতেন। নানা রোগ এসে বাসা বেঁধেছে পারুলের মধ্যে। বয়সও হয়েছে ষাটের বেশি। দু-মাসের মতো ওষুধ কিনে দিলাম ওকে। তারপর একশো টাকা দিয়ে বললাম, পারুল, তোমাকে প্রতিমাসে আমি পঞ্চাশ টাকা করে দেব। প্রতিমাসের তিন তারিখে এসে নিয়ে যেয়ো। অথবা তুমি রাতে যে গাড়ি বারান্দার নীচে থাকো সেখানেই কাউকে দিয়ে পৌঁছে দেব।

     

     

    দাদাবাবু, আপনি বড়ো দয়ালু।

    সেই বাক্যটি এবং পারুলের রোগপান্ডুর জলভরা চোখ দুটি প্রায়ই কানে এবং চোখে ফিরে ফিরে আসে আমার।

    এই বন্দোবস্ত চলল দু-মাস। তারপরই একদিন রিমা বাড়ি ফিরেই তুলকালাম কান্ড বাধাল। ওর খুড়তুতো দাদা প্রদীপের বাড়িতে গিয়েও নাকি পারুল ভিক্ষে চেয়েছে কাল সকালে। প্রদীপের স্ত্রীকে রিমা একেবারেই দেখতে পারে না। রিমার ধারণা, বড়োলোকের মেয়ে বলে দেমাকে পা পড়ে না মাটিতে। আপস্টর্ট। অশিক্ষিত। সে কলকাতার সকলকে বলে বেড়াচ্ছে যে, অ্যাই তো! দ্যাখো! কী শিক্ষিত বড়োলোকই না রিমারা! যে-মানুষটা এত কিছু করল এতদিন ধরে তার আজ এই দশা! সম্মানেও কি লাগে না? কেমন ছোটোমানুষ বলো তো?

    আমার মাসতুতো দাদার বাড়ি সার্দান অ্যাভিন্যুতে। সেও বলল একদিন যে, পারুল লাঠি ঠকঠকিয়ে ভিক্ষা চাইতে গেছিল তার কাছেও। পারুল নাকি বলেছিল, দাদাবাবু দিদি খুবই দয়ালু। আমাকে মাসে পঞ্চাশ টাকা করে দেন। বলেছেন, দেবেন। যতদিন বাঁচি। কে দেয় বলুন? কিন্তু পঞ্চাশ টাকাতে তো খাওয়া এবং ওষুধ চলে না। এমনকী ফুটপাথে থেকেও চলে না। তারপর জাতে মেয়ে তো। শরীর ঢাকতেও তো এক বিরাট খরচ!

    মাসতুতো দাদার কাছে শুনে আমারও বড়োই রাগ হল। আমার পরিচিত কারও কাছে না যেতে বলা সত্ত্বেও পারুল তবু গেছে ভিক্ষা করতে আবারও!

    পরের মাসে টাকা নিতে এল না কিন্তু পারুল। আমিও ড্রাইভারকে দিয়ে সার্দান অ্যাভিন্যুতে টাকা পাঠালাম না। রাগ করেই। সত্যিই বড়ো অপমানিত বোধ করেছিলাম।

    চুপুর এক বন্ধু চুপুকে স্কুলে বলল, কেওয়াতলার কাছে নাকি দেখেছে পারুলকে আগের দিন ফুটপাথে ভিক্ষা চাইতে।

    রিমা রেগে গিয়ে বলল, ভালোই তো। লাস্ট ডেস্টিনেশনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    চুপু আর বুলি বলল, ওরা গিয়ে পারুলদিকে নিয়ে আসবে।

    ছেলে-মেয়েকে রিমা বলল, নিজেরা রোজগার করো। পায়ে দাঁড়াও, তারপর আদিখ্যাতা কোরো।

    ওরা চুপ করে যে যার ঘরে চলে গেল।

    তার দিন দশেক বাদে পারুলের ভাইপো দু-জন সন্ধেবেলা এসে বলল, পিসি মরে গেছে বাবু। খবর পেয়েই আমরা এয়েচি। সৎকারের খরচ দিন।

    কখন?

    আমি অপরাধীর গলায় বললাম।

    আজ ভোররাতে। শীতটা খুব জোরে পড়েছে তো! বহু বড়ো-বুড়িই টেঁসেছে আজ।

    কোথায় ঘটল ঘটনাটা?

    সে খুব ভেবেচিন্তেই মরেছে আমাদের পিসি। এক্কেবাড়ে কেওড়াতলার শ্মশানের সামনেই। ফুটপাতে।

    ওদের থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করছিল আমার। অনেক দিন পর মারামারি করতে ইচ্ছে করছিল। সত্যিই।

    টাকা দিয়ে ওদের বিদেয় দিলাম। তখন বুলি ও চুপুও বাড়ি ছিল না, থাকলে, হয়তো শেষ দেখা দেখতে চাইত।

    আমি যেতে পারতাম শ্মশানে। কিন্তু আমার মতো এক-জন মানুষের এক ভিখারিনির দেহ সৎকারের জন্যে কেওড়াতলায় যাওয়াটা এই সমাজের মনঃপূত নয়। তা ছাড়া গেলেই নানা চেনা মানুষের সঙ্গে দেখা হত, এপার্টিতে সেপার্টিতে দেখা হওয়া মানুষ। নানা কৈফিয়ত দিতে হত নানা-জনকে। না না, তা হয় না।

    বলি চুপুরা এখনও ছেলেমানুষ। এখনও ওরা জানে না যে, শেষদেখা কখনোই দেখতে নেই, যদি তেমন শেষ দেখা না হয়। সবাইকেই সুন্দরতম দিনে, সুন্দরতম সাজে দেখে রাখতে হয়। সেইটুকু শুধু থাকে স্মৃতিতে।

    পরদিন রবিবার ছিল। ব্রেকফাস্ট টেবিলে ছেলে-মেয়েকে রিমা হঠাৎই বলল, অ্যাই। জানিস তো পারুল মরে গেছে।

    পারুলদি? কবে?

    বলেই বুলি ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলল।

    বুলিটা আমার এখনও ঈশ্বরী।

    চুপুও খাওয়া থামিয়ে চুপ করে বসে রইল।

    রিমা আমাকে বলল, তোমাকে আর একটা আলু-পরোটা দিই?

    উত্তর দিলাম না কোনো। শুধু ঘাড় নাড়িয়ে জানালাম, না।

    আজকালকার সব মেয়েরাই কি রিমারই মতো? অবুঝ, নিজসুখমগ্ন, হৃদয়হীন? ভাবছিলাম, কেনই যে পারুল এমনভাবে ফুটপাথে না খেয়ে মারা গেল, এই মহৎ জনগণতান্ত্রিক সেনার সংবিধানের দেশে কে বা কারা যে তাকে অলক্ষ্যে খুন করে গেল। সেই রহস্য অথবা আমার এবং রিমার অসহায়তা বা অপারগতা যে ঠিক কতখানি তা আমার শোকস্তব্ধ অপাপবদ্ধ অনাবিল ছেলে-মেয়েকে বুঝিয়ে বলা যাবে না। এখন বলা গেলেও ওরা বুঝতে পারবে না। বলা যাবে না কোনোদিনও, যদি না তারা নিজেরাই বড়ো হয়ে ওঠার পর আমাদের দু-জনকে আমাদের পারিপার্শ্বিককে এবং আমাদের সমাজ ও দেশের প্রকৃত স্বরূপকে সত্যিই আবিষ্কার করতে চায়। কিন্তু তেমন ভালো কি আমার ও রিমার মতো নষ্ট-ভ্রষ্ট দম্পতির ছেলে-মেয়ের কখনোই হবে? ওরা কি আমাদের চেয়েও বেশি অসন্তুষ্ট, আত্মমগ্ন, নিজসুখ পরায়ণ হবে না?

    আমাদের সাততলায় ছোট্ট, স্বয়ংসম্পূর্ণ সুখ ভরপুর ফ্ল্যাটের ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুমে তখন উত্তরের জানলা দিয়ে হাওয়া আসছিল। সে-হাওয়ায় কোনো ফুলের গন্ধ ছিল না।

    বারুদের গন্ধ তো নয়ই।

    অথচ, থাকা উচিত ছিল।।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }