Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জগন্নাথ

    পুলিনবাবু নস্যির ডিবেটা বের করে এক টিপ নস্যি নিলেন। নীলরঙা ফুলহাতা শার্টের কোলের কাছে পড়ল কিছুটা। ঘাড় নীচু করে দেখলেন একবার উদ্দেশ্যহীন চোখে, বাইফোকাল চশমার ফাঁক দিয়ে। বাঁ-পকেট থেকে ছেঁড়া ন্যাকড়া বের করে ঝাড়লেন জায়গাটা।

    তারপরই, সামনে খুলে-রাখা পার্সোনাল লেজারটাতে চোখ দু-টি নিবদ্ধ করলেন।

    উলটোদিকের টেবিল থেকে তাঁর অল্পবয়সি সহকর্মী হেমেন বলল, কী সিনেমা দেখলেন দাদা? দেখলেন কিছু দাদা?

    শুনতে পেলেন না পুলিনবাবু।

    যখন যে কাজটা করেন তাতে এমনই ডুবে যান উনি যে, তখন পৃথিবীর অন্য কিছু সম্বন্ধেই হুঁশ থাকে না।

    হেমেন আবারও বলল, এই যে পুলিনদা। কোনো সিনেমাই দেখলেন না এবারে কলকাতায় এসে? গৌতম ঘোষ-এর ‘পার’ও না?

    মুখ তুললেন উনি।

    হেমেনের দিকে একবার তাকিয়েই, মুখ নামিয়ে বললেন, ‘পার’ অনেক দূরে এখনও। তেষট্টি হাজার দুশো পঁয়ষট্টি টাকার ডিফারেন্স ছিল ট্রায়াল ব্যালান্স-এ। মোটে হাজার পাঁচেক টাকা খুঁজে পেলাম। কিন্তু সাড়ে ছ-হাজার আবার বেড়ে গেল। ক্রেডিটে বেশি ছিল।

     

     

    ঘরের সকলেই প্রায় হেসে উঠল একসঙ্গে, পুলিনবাবুর কথা শুনে।

    তাদের সম্মিলিত হাসির শব্দে মুখ তুলে চাইলেন পুলিনবাবু। হাসির কারণটা ঠিক বুঝতে পারলেন না।

    হেমেন বলল, আপনাকে নিয়ে চলে না দাদা। ট্রায়াল ব্যালান্স-এর পার তো চিরদিনই দূরে থাকে। ‘পার’ ছবিটাও দেখলেন না?— কলকাতায় এলেন আপনি? গৌতম ঘোষের ছবি। একটা বড়ো কিছু মিস করলেন জীবনে!

    ছবি? পুলিনবাবু স্বগতোক্তি করলেন। স্বপ্নোত্থিতর মতো।

    হ্যাঁ হ্যাঁ ছবি! ফিলিম।

    উনি কোনো উত্তর দিলেন না। চোখ নামিয়ে নিজের কাজ করতে লাগলেন।

    বেশিদিন খাতা লিখলে মানুষ সত্যিই আপনার মতো মাছিমারা কেরানিই হয়ে যায়। হেমেন বলল।

    হেমেনের টেবিলেই বসে যিশু। যিশু বলল, শুয়োর পার করাবার সিনটা দারুণ, না রে?

     

     

    জবাব নেই।

    সমরেশ মজুমদারের লেখা, না?

    সমরেশ মজুমদার নয় রে? গুরু সমরেশ বসুর। গল্পের নাম ছিল ‘পাড়ি’।

    গৌতম ঘোষের সঙ্গে আলাপ থাকলে বলতাম, এবার আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কাহিনি নিয়ে একটা ছবি তুলতে। এই ধর আমাদের পুলিনদা। এঁকে নিয়ে যদি কোনো লেখক একটি গল্প লিখত তবে কী করুণ হত বল তো? শুয়োরগুলো তাও পেরিয়ে গেল নদী। কত মানুষ আছে আমাদেরই মধ্যে, যারা চেষ্টা করল, নাকানিচোবানি খেল; কিন্তু নদী আর পেরুনো হল না তাদের।

    গোপেন হেসে উঠল হেমেনের কথায়।

    কিন্তু হাসবার জন্যে বলেনি হেমেন কথাটা। অন্যরা স্তব্ধ হয়ে পুলিনদার দিকে চেয়ে রইল।

     

     

    স্টিল-ফ্রেমের চশমাটা সরু নাকের ডগায় নেমে এসেছিল।

    পুলিনদা চোখ দু-টি লেজার থেকে তুলে ওদের দিকে তাকালেন। বললেন, ঠিকই বলেছ হেমেন। বায়োস্কোপের হিরো হওয়া শুয়োরের চেয়েও নিকৃষ্ট অনেক মানুষই থাকে। সত্যিই থাকে। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, যেমন আমি।

    এমন সময় রন্টু, হেমেনের সিগারেট আর পুলিনবাবুর পান নিয়ে, সুয়িং ডোর খুলে ঢুকল।

    ঢুকেই বলল, আবার এয়েচে।

    কে?

    পানটা নিতে নিতে পুলিনবাবু শুধোলেন।

    সেই। কম্পু কোম্পানির লোক।

    হেমেন, গোপেন এবং অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের সকলেই কাজ ছেড়ে এই নতুন আলোচনায় মেতে উঠল।

     

     

    রন্টু চায়ের জলটা চাপিয়ে দিয়ে বলল, ইনি অন্য কোম্পানির লোক। সেদিন এসেছিল এইচ.এম.টি. থেকে।

    ছোটোসাহেব কী বলছেন?

    ছোটোসায়েব তো নেবেনই বলেছেন?

    সবাই শালা রাজীব গান্ধি হয়ে গেল মাইরি! কম্পিউটার না বসালে আর এফিসিয়েন্সি বাড়ছে না! সকলেই মডার্ন। ছোটোবাবুর বাবা খোদ মালিক যে এতদিন হাফহাতা ফতুয়া গায়ে আর ভুঁড়ির নীচে ধুতি পরে এই বিজনেস এত বড়ো করে গেল সেই আসল মালিকই এখন ফোতো। কম্পিউটার না বসালে নাকি এফিসিয়েন্সি বাড়ানো যাচ্ছে না। প্র্যাগমাটিজম আনতে হবে। আমরা সকলেই ওয়ার্থলেস। শালা আমাদের সুদ্ধু নাজাই খাতে লিখে দিলে র‌্যা!

    ঠিক সেই সময়েই ছোটোবাবু দরজা খুলে ঢুকলেন। চোখে ফোটোসান লেন্সের চশমা। আলো বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে রং পালটে যায়। ছোটোবাবুর মুখের খচরামির রঙেরই মতো। জিন্স-এর ওপরে ঘি-রঙা একটা টি-শার্ট। সিল্কের।

    ওকে দেখেই সকলে চুপ করে গিয়েই দাঁড়িয়ে উঠলেন।

     

     

    শুধুমাত্র পুলিনবাবু ছাড়া। টেবিলের নীচে অদৃশ্য হয়ে-যাওয়া একপাটি চটি খোঁজার জন্যে এদিকে-ওদিকে পা চালাচ্ছিলেন উনি তখন আপ্রাণ চেষ্টায়। বাঁ-পায়ের চটিটা কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এই রন্টু ছোকরা যত বারই ওঁর টেবিলের কাছে আসে, তত বারই লাথি দিয়ে ওঁর চটিগুলো এদিক-ওদিক ছটকে দেয়। ইচ্ছে করে যে করে, তা নয়। ছোঁড়ার পায়ে খুর লাগানো আছে।

    পুলিনবাবু।

    ছোটোবাবু ডাকলেন।

    স্যার।

    বলেই, এক পায়ে চটি গলিয়ে উঠে দাঁড়ালেন উনি।

    কতদূর হল আপনার? বাগান থেকে ফোন এসেছিল। তাড়াতাড়ি দরকার আপনাকে সেখানে। এবারে আবার ট্যাক্স-অডিটের ঝামেলা আছে। অডিটের ছেলেরা আপনার জন্যে বসে আছে। মিলিয়ে দিয়েই ফিরে যান।

     

     

    ছোটোবাবু প্রায় বাঙালিদের মতোই বাংলা বলেন। অথচ বাঙালি ওঁরা মোটেই নন। বাঙালিরা এই কোম্পানিতে কেরানিই। যত বড়ো বড়ো পোস্ট সবই তাঁর নিজের রাজ্যের লোক।

    পুলিনবাবু বললেন, আজ্ঞে। কিন্তু ডিফারেন্স যে বেড়ে গেল এদিকে, স্যার।

    তা আমি জানি না। মিলিয়ে দিয়েই চলে যান। বুঝেছেন?

    শেষ শব্দটাতে অসহিষ্ণুতার ছোঁয়া লাগানো।

    ছোটোবাবু চলে গেলেন তাঁর নিজের চেম্বারে।

    বাবাই বলল, কম্পিউটারের কথা আর বলিস না। তার খেল দেখলি সেদিন?

    কোনদিন?

    সকলেই জিজ্ঞেস করল সমস্বরে। পুলিনবাবু ছাড়া।

     

     

    আরে! ওই তো শনিবার না রবিবার রাতে। মিস ইউনিভার্স-এর সিলেকশন দেখাল না টিভিতে? স্টেটস-এর মায়ামি থেকে? স্যাটালাইটে? একটা কাপড় কোম্পানির স্পনসরড প্রোগ্রাম ছিল।

    আমরা তো দেখিনি!

    আমি গেসলুম মামাবাড়িতে। রাত প্রায় পৌনে এগোরোটায় ছিল। কালার টিভিতে দেখলুম। সুন্দরী মেয়ে ছিল দুটিই। আর সবই দাঁত বের করা। কী করতে যে গেছে। একজন মিস আয়ার্ল্যাণ্ড। আর অন্য-জন মিস স্পেইন। কম্পিউটারে সব জাজদের দেওয়া ডাটা ফিড করে তার উত্তর আবার সেখানকার মস্ত এক অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম-এর পার্টনার নিজে নিয়ে এলেন।

    কে হল মিস ইউনিভার্স?

    ঝুল। পুরো ব্যাপারটাই ঝুল। ওদের দু-জনের কেউই হল না। হল বোধ হয় মিস পুরটোরিকো। সোনাগাছির মাসির মতো চেহারা মাইরি, দাঁতের পাটির মধ্যে আবার কী একটা মিসিং। এবং মিশি অ্যাডেড। কোনো মানে হয়!

     

     

    হেমেন বলল, কথাই তো আছে! কম্পিউটারে যদি গার্বেজ ফিড করো তো গার্বেজই বেরুবে। মানুষের মাথার কোনোই দাম নেই। সবই নাকি কম্পিউটারে করে দেবে! আমরা কি বসে বসে…..

    বাবাই বলল, আরে! তোরাও যেমন। আজকাল আমার ছোটোবাবুর মতো সাহেব ব্যাবসাদারেরা কী করছে জানিস না? খাতায় যত তিন-নম্বরি হিসেব সব কম্পিউটারের ভেতর পুরে দিচ্ছে। ধরো শালা! রেইড করে কী ধরবে? ইনকাম-ট্যাক্স ডিপার্টের লোক এসে আঙুল চুষবে বসে বসে। নো খাতাপত্তর, নো হিসেব। লুকিয়ে থাকবে জ্বলজ্বলে নানারঙা ডিজিটালস-এ…..

    এবার যতীন বলল, তিন নম্বরটা আবার কী মাল মাইরি? আমাদের দু-নম্বরি অবধিই তো জানা ছিল। তুইও দেখছি কম্পিউটারের মতোই অ্যাডভান্সড হয়ে যাচ্ছিস। আমাদের মোটা বুদ্ধির বাইরে।

    সে কী রে! অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে কাজ করিস আর তিন নম্বর কাকে বলে তাই-ই জানিস না?

    না তো!

    সকলেই বলল সমস্বরে।

     

     

    একমাত্র পুলিনবাবু ছাড়া।

    এখানে উনিই একমাত্র মানুষ, যিনি এক নম্বর ছাড়া কিছুই জানেন না। একনম্বরি মানুষ তিনি, সে যুগের মানুষ, সেযুগে কম্পিউটারও ছিল না, দু-নম্বর এসবও ছিল না।

    সকলে আবারও বলল, বল বাবাই! বুঝিয়ে বল।

    বাবাই যিশুকে বলল, আগে সিগারেট ছাড়ো তো গুরু!

    সিগারেট ধরিয়ে লম্বা একটা টান মেরে বলল, মনে করো আমাদের পাঁচ-জনের একটা পার্টনারশিপ ফার্ম আছে। আমরা প্রফিট করলাম, ধরো, পাঁচ লাখ। তার মধ্যে আড়াই লাখ এক নম্বরে দেখালাম আর আড়াই লাখ দু-নম্বর করে দিলাম। মনে করো আমার হাতেই অ্যাকাউন্টস। এই ব্যাপারটা শুধু আমিই জানি। আমি অন্য পার্টনারদের বললাম, আসলে প্রফিট হয়েছিল সাড়ে চার লাখ। মানে আড়াই নয়, শুধু দু-লাখই দু-নম্বর করা হয়েছে। ওই দু-লাখ পাঁচ-জনে চল্লিশ হাজার টাকা করে ভাগ করে নিলাম। বাকি পঞ্চাশ আমি একা মেরে দিলাম। ওই পঞ্চাশ হাজার টাকাটা আমার তিন নম্বর হল না?

     

     

    সকলেই হো-হো করে হেসে উঠল।

    যতীন টেবিল বাজাল উত্তেজনায়।

    শুধু পুলিনবাবুই হাসলেন না।

    আরও এক টিপ নস্যি দিয়ে ট্রায়াল ব্যালান্স-এর ডিফারেন্স খুঁজতে লাগলেন। মনে মনে বললেন, এই ছোকরাগুলো পোস্টিং কাস্টিং কিছুই ঠিক করে করবে না, তা ডিফারেন্সের কী দোষ। ডিফারেন্স তো হবেই। একদল দায়িত্বজ্ঞানহীন ছোকরার দল।

    হেমেন বলল, তুই এই তিন নম্বর শিখলি কার কাছ থেকে?

    কেন? আমাদের যে ফার্ম চায়ের বাক্স সাপ্লাই করে, সেই আগরওয়ালার কাছে। তাদের অ্যাকাউন্টেন্ট ভারি কম্পিটেন্ট।

    পুলিনবাবু একবার তাকালেন আড়চোখে।

    কিন্তু কিছু বললেন না।

     

     

    মনে মনে বললেন, কম্পিটেন্ট! চোর হলেই আজকাল কম্পিটেন্ট!

    পুলিনবাবু বাগানের অ্যাকাউন্টেন্ট! উত্তরবঙ্গ ডুয়ার্সে এখন বাঙালিদের বাগান আর নেই বললেই চলে। সাহেবদের বাগানগুলোও সব কিনে নিয়েছে বড়োলোক মাড়োয়ারিরা।

    ছোটো বাগানগুলোও সব কিনে নিয়েছে। মাঝারি মাড়োয়ারিরা। তারাই এখন সাহেব।

    একটা-দুটো বাগান অন্যরাও কিনেছে, যেমন কলকাতার কেনিলওয়ার্থ হোটেলের সিন্ধি মালিক ভরত সাহেব। পরে অবশ্য বাগান ছেড়ে দিয়েছেন উনি।

    যারাই তাদের অন্ন দিয়েছে, তাদের চাকরি খাওয়ার ক্ষমতা যাদেরই হাতে যখনই ছিল, যারাই লাথি মারার ক্ষমতা রেখেছে তাদের; বাঙালিদের কাছে তারাই সাহেব। মালিক চিরদিনই।

    সাহেবরা এই দেশ শোষণ করতে এসেছিল বটে তবুও তাদের রাখঢাক, আদবকায়দা ছিল। এখানকার বিভিন্ন দেশীয় এক-পুরুষ দু-পুরুষের বড়োলোক সাহেবদের সেসব কিছুই নেই। চায়ের গাছের ডাল ভেঙে পাতার সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। যা খুশি করছে। চক্ষুলজ্জা ব্যাপারটা জলাঞ্জলি না দিলে বোধ হয় পয়সা করা যায় না। পয়সার জন্যে মানুষ এমন হামলে পড়েছে যে, যা-কিছুই ভালো তার সব কিছুকেই ফেলে দিচ্ছে সকলে। যার টাকা আছে সে-ই সব। আর কোনো কিছুই দরকার নেই ‘সাহেব’ হতে। আগে দরকার হত। যে মানুষই গাড়ি চড়তেন তাঁর শুধুমাত্র টাকা ছাড়াও অন্য ব্যাপার ছিলই। বিদ্যা-মেধা-সততা-আভিজাত্য ইত্যাদি ইত্যাদি।

    পঁয়ষট্টি বছরের পুলিনবাবুর পক্ষে এই নতুন পরিবেশ খাপ-খাওয়াতে প্রতিমুহূর্ত বড়োই অসুবিধে হয়। উনি এই কম্পিউটারের যুগের মানুষ তো নন! সাহেবি আমলের ডানকান ব্রাদার্স-এর একটি বাগানের অ্যাকাউন্টেন্ট ছিলেন তিনি। সেই চাকরি ছেড়ে এসে এই চাকরিতে ঢুকেছেন। তাও বছর দশেক হয়ে গেল।

    ওঁর মনে পড়ে গেল যে, যেদিন প্রথম একটি অ্যাডিং মেশিন আসে তাঁদের বাগানে, তার পরদিনই নবীন মুহুরি আত্মহত্যা করেছিল কৃষ্ণচূড়া গাছের ডাল থেকে গলায় দড়ি বেঁধে। নবীনের সবচেয়ে বড়ো গর্ব ছিল যে, চোখের নিমেষে সে ট্রায়াল ব্যালান্স, ব্যালান্সশিট, ডেটরস-ক্রেডিটরস-এর লিস্টের নীচে ডান হাতের তর্জনী দ্রুতগতিতে বুলিয়েই যোগফল বসিয়ে দিতে পারত। নবীনের কোনো যোগে কেউই কখনো ভুল ধরতে পারেনি। সাহেব কোম্পানির অডিটররা এসে ধন্য ধন্য করতেন সবাই নবীনকে। জীবনের পঞ্চাশ বছর ধরে সে যা গড়ে তুলেছিল; খ্যাতি-গর্ব—তার পারদর্শিতা সবই এক নিমেষে একটি সাড়ে সাতশো টাকা দামের সবুজরঙা ছোট্ট জার্মান মেশিন গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিল। এই অপমান, অসহায়তা; ভবিষ্যতের অনিশ্চিতি কিছুতেই সহ্য করতে পারেনি নবীন।

    নিজেকে মেরেই নিজেকে বাঁচিয়েছিল সেদিন। কিছু মানুষ ওইরকমই হয়। জীবনের চেয়েও মানকে বেশি ভালোবাসে তারা। পুলিনবাবু নবীনের মতো হতে পারেননি।

    বৈশাখের সকালে শিমুলের ডাল থেকে ঝুলতে-থাকা সাদা ধুতি জড়ানো অর্ধ-উলঙ্গ দুলতে-থাকা মৃতদেহটা এখনও দুঃস্বপ্নে দেখেন পুলিনবাবু।

    মাঝে মাঝে ভাবেন, মরে গিয়ে বেঁচে গেছে নবীনটা!

    এতদিন পরে, এই কম্পিউটার বুঝি তাঁরও মৃত্যুর কারণ হয়ে এল।

    অথচ তিনি যে নিজেকে মেরে নিজেকে বাঁচাবেন তার উপায় নেই কোনো। দু-টি মেয়ে এখনও বিয়ের বাকি। ছোটোছেলেটা অমানুষই হয়ে গেল। লেখাপড়া তো করলই না। এক পার্টির অ্যাকশন স্কোয়াডে আছে সে।

    শিলিগুড়িতে গিয়ে মাস্তানি করছিল এতদিন। এখন নাকি নেপালের ধুলাবাড়ি থেকে যেসব জিনিস চোরাচালান হয়ে শিলিগুড়িতে আসে রাতারাতি, সেইসব নিয়ে আসে তাঁদেরই জাতি-গোষ্ঠী, যাদের মুখ চেনেন না, নাম জানেন না পুলীনবাবু, অথচ যাদের প্রত্যেকের সঙ্গে এক নীরব অসহায়তার অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে তিনি আজও বাঁধা আছেন; তাঁদেরই মেয়ে-বউরাই নাকি রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে জঙ্গলে মাথায় করে, আঁচলে বেঁধে, সীমান্তের নদী পেরিয়ে টেপ-রেকর্ডার, মদ, ক্যালকুলেটার, ভি.সি.আর. এবং আরও কত সব চকচকে জিনিস, যা নইলে আজকের আধুনিক মানুষদের ‘বেঁচে থাকার’ কোনো মানেই হয় না, সেইসব বয়ে নিয়ে আসে।

    সেই মেয়ে-বউয়েরা শুধু গতরে পরিশ্রম যে করে তাই-ই নয়। তাদের নিজেদের অনেক সময়েই মানুষখেকো হিংস্র হায়নাদের হাতেও তুলে দিতে হয়। বিনিময়ে, মোটা ভাত-কাপড়ও জোটে না তাদের। আর মুনাফা লোটে ধুলাবাড়ির আর শিলিগুড়ির অবাঙালি ব্যাবসাদারেরা।

    পুলিনবাবুর ছোটোছেলে এখন এইসব চোরাচালানের কোনো একটি দলের গুণ্ডা হিসেবে ভিড়ে গেছে। তৈরি হয়েই আছেন পুলিনবাবু। যেকোনো দিন শিলিগুড়ি থেকে তার মৃত্যুসংবাদ পাবেন।

    বড়োটা মানুষ হয়েছিল, কিন্তু মানুষ হওয়ার পরই অমানুষ হয়ে গেছে। মানুষ-অমানুষ অনেক রকমেরই হয়।

    তিনহাজারি চাকরি করে এখন সে কলকাতায়। কিন্তু শ্যামবাজারের একটি মেয়েকে বিয়ে করে সে কুঁদঘাটে নিজের বাড়ি করে ক্যালকেশিয়ান হয়ে গেছে। স্কুটার কিনেছে। বাবা-মা-ভাই-বোন সকলকেই ভুলে গেছে। তার শাশুড়ি আর শালিই তার সব এখন।

    পুলিনবাবুর মনে হয়, এও এক ধরনের মৃত্যু। নবীন মুহুরি, শিমুল গাছ থেকে ঝুলে পড়েছিল। নিজেকে মেরেছিল; নিজেকে বাঁচাবার জন্যে। তার বড়োছেলেও নিজেকে মারল। অন্য মৃত্যু। নিজেকে বাঁচাবার জন্যে। মৃত্যুরই মতো, সে-বাঁচাটাও অন্য এক ধরনের বাঁচা। জীবন এবং মৃত্যুরও অনেকই রকম হয়।

    দুই

    বাগানে ফিরে এসেছেন পুলিনবাবু। এক্ষুনি ফিরলেন। বড়োই ক্লান্ত।

    যেদিন ফেরার কথা ছিল, তার দু-দিন আগেই। কলকাতায় যেতে হয়েছিল, কারণ কলকাতার ট্রায়াল ব্যালান্স ওরা কেউই মিলোতে পারেনি বলেই। আজকালকার ছোকরারা নিজের নিজের কাজ ছাড়া সব বিষয়েই পন্ডিত! লজ্জা করে ওদের দেখে।

    মিলিয়ে দিয়ে ফিরে গেছেন উনি। ডান পকেটের নস্যিমাখা লাল রুমালটারই মতো নিজের আত্মশ্লাঘায় বুক ভরে। জীবনে তিনি একে-একে হারিয়েছেন অনেক কিছুই। স্ত্রী মনোরমাকে। বড়োকে, ছোটোকে। নিজের বুকের মধ্যের এই জিনিসটিও হারিয়ে গেলে বেঁচে থাকার মতো আর কোনো অবলম্বনই যে থাকবে না তাঁর!

    সকাল থেকে খুবই বৃষ্টি হয়েছে। উত্তরবাংলার বৃষ্টি! অগাস্টের মাঝামাঝি। বিকেলের দিকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে তিস্তা আর হিমালয় চমৎকার দেখাচ্ছিল। নদ এবারেও তান্ডব করবে মনে হচ্ছে। কাল বাগানের অফিসে শুনেছিলেন যে, কাঠামবাড়ির বাংলো নাকি আবারও ভাসাবার উপক্রম করেছে হারামজাদা। চ্যাংমারির চরের অবস্থা তথৈবচ।

    বিনু বলল, খাইয়া লও বাবা। দুগা খাইয়া লইয়া ছুটি কইরা দ্যাও আমারে। তিনুটার জ্বর তিন দিন থিক্যা। আমারও শরীলডা ভালো ঠ্যাকতাছে না।

    —রাঁধছস কী?

    কী আর। পোলাউ মাংস তো আর রান্ধি নাই। হেই বর্ষায় তরিতরকারিরও আকাল পড়ছে। পাওন যায় না কিছুই। ধোঁকার ডালনা আর রুটি রাইন্ধা থুইছি। দিমু কি না কও?

    চাঁদটা উঠেছিল বিশ্বচরাচর উদ্ভাসিত করে। কোয়ার্টার্সের বারান্দায় বসে বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি, চায়ের বাগান, কুলি লাইনের টিনের ছাদ, ম্যানেজারের বাংলো, এসব দেখতে দেখতে অনেকই পুরোনো দিনে চলে গিয়েছিলেন পুলিনবাবু।

    বিনুর কথায় বললেন, দিয়া দে তবে। তরে ছুটি কইরাই দিই।

    অভিমানের সুর লেগেছিল গলায়।

    তিনি নিজে যে কবে ছুটি পাবেন চিরদিনের মতো? কিন্তু ছেলে-মেয়েরা কেউই বোঝে না তাঁর গলায় কখন অভিমান লাগে আর চোখে কখন দুঃখ চমকায়। সেসব বুঝতেন একমাত্র মনোরমাই। একজন পুরুষের জীবনে তাঁর স্ত্রীর মতো বুঝদার মানুষ বোধ হয় আর কেউই হয় না। হয়তো স্ত্রীর জীবনেও স্বামীর মতো। মজার কথা এই যে, দু-জনেই বেঁচে থাকাকালীন ঝগড়াই হয় বেশি। ঝগড়া যে সকলের সঙ্গে করার অধিকার আদৌ নেই, একথাটা দু-জনের মধ্যে একজন হঠাৎ চলে গিয়ে অন্যজনকে বুঝিয়ে দিয়ে যান।

    খাওয়া-দাওয়ার পর বারান্দায় বসেছিলেন পুলিনবাবু। এই কোয়ার্টারটা একেবারে ফাঁকায়। ধারেকাছে আর কোয়ার্টার নেই কোনো।

    মনোরমা, নির্জনতা গাছগাছালি এসব পছন্দ করতেন বলেই অফিস থেকে এবং অন্য কোয়ার্টার থেকে দূর হলেও এই কোয়ার্টরই নিয়েছিলেন। একজন মেকানিকের কোয়ার্টার ছিল আগে এটি। বাগানের মোটর, ট্রাক্টর সারাত সে।

    নিজেই পান সেজে খেলেন একটা। হাতল ভাঙা কাঠের ইজিচেয়ারটাতে বসে, বারান্দায় খুঁটির গায়ে দু-পা তুলে দিয়ে, জোনাকি-জ্বলা, ব্যাং-ডাকা রাতের দিকে চেয়ে বসে রইলেন।

    খেতে যতটুকু সময় গেছে তারই মধ্যে চাঁদ ঢেকে গেছে মেঘে। ঝুরুঝুরু করে হাওয়া বইছে। বৃষ্টি নামবে এক্ষুনি। কদম গাছ দু-টিতে খুব কদম ধরেছে। কদম আর তাঁর দরজার পাশের জুঁইয়ের লতার গন্ধ মিশে আমেজের মতো লাগছে।

    বিনু বারান্দায় এসে বলল, শুইবা না তুমি?

    শুমু আন। তিনু কই? তার জ্বর কত দ্যাখছস?

    দেখুম। বলেই বিনু ঘরে চলে গেল।

    মিনিট পনেরো পর আবারও বিনু এসে বলল, তোমার আজ হইলডা কী? শুইয়া পড়ো। রাত তো প্রায় নয়ডা বাজে।

    সোজা হয়ে বসলেন পুলিনবাবু চেয়ারে। মেয়ের ব্যবহারটা কেমন যেন বিসদৃশ, সন্দেহজনক ঠেকল তাঁর কাছে।

    কী মনে করে, উনি ‘যাইতাছি’ বলে, নিজের ঘরে গিয়ে শোবার ভান করে পড়ে রইলেন।

    বাইরের বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি আসন্ন বর্ষণের জন্য তৈরি হচ্ছিল। ফিসফিস করছিল হাওয়া। দূরের ঝরনার আওয়াজের মতো মৃদু ঝরঝরানি আওয়াজ ভেসে আসছিল কানে—দূরের তিস্তার আওয়াজ।

    পুলিনবাবুর একটু তন্দ্রামতো এসেছিল। এমন সময় একটা গাড়ির শব্দ শুনলেন তাঁর কোয়ার্টারের রাস্তায়। এদিকে এটা ছাড়া দ্বিতীয় বাড়ি নেই। গাড়ি তো আসে না পথে কোনো? কার গাড়ি? এত রাতে? হেডলাইট জ্বালিয়ে একটা অ্যাম্বাসাডার গাড়ি এসে থামল তাঁরই কোয়ার্টারের সামনে।

    পুলিনবাবু মড়ার মতো পড়ে রইলেন। সস্তা সেন্টের গন্ধ পেলেন হঠাৎ নাকে। বুঝলেন, বিনু তাঁর ঘরে এল। শাড়ির মৃদু খসখসও শুনতে পেলেন। শুলেই পুলিনবাবুর নাক ডাকে। বিনু ভাবল, উনি গভীর ঘুমে আছেন।

    এমন সময় একটি চেনা গলা শুনতে পেলেন।—তিনু!

    তিনু বলল, দিদি! তুই এখনও তৈরি হস নাই?

    বিনু ধমকে বলল, চুপ! আস্তে ক ছেমড়ি। বাবায় আইসা গেছে গিয়া।

    —অ্যাঁ?

    —হ্যাঁ।

    —কোথায়?

    ঘুমাইতাছে।

    পরক্ষণেই স্বগতোক্তি করল, ঘুমাইছে কি না তাই-বা কমু ক্যামনে? ওরে বরং কইয়া দে তুই যে, আমি আইজ যামু না। বাবায় উইঠ্যা পড়ে যদি তো এক্কেরে পেরলয় বান্ধাইবে।

    কইস কী তুই? গিরধারী তো নেশায় চুর হইয়া গাড়ির পিছনের সিটে বইস্যা আছে। আর বাগানের বাংলোয় বইস্যা আছে জোড়া-খাটে তাগো বাগানের মালিক। হ্যায় লোকডা একডা জংলি রে!

    আস্তে। আস্তে। তরে কইলাম কী আমি? বিনু বলল, বিরক্তি, ভয় এবং উদবেগে। নীচু গলায়।

    তিনুর বয়স আঠারো। স্বভাব চঞ্চল, বেপরোয়া। গলার স্বরও জোর। সে তেড়ে বলল, অত চুপ চুপ করতাছিস কীর লইগ্যা? বাবায় কিছু বইলাই দেখুক-না একবার! কী রাজকন্যাদের মত্বই রাখছে আমাগো। বেশি কিছু কইলে, আমি রাত্তারাতিই চইল্যা যামু আনে।

    গলা শুকিয়ে গেল বিনুর।

    বলল, যাবি কোন চুলায়?

    ক্যান? কলকাতায়! গিরধারীর মালিক কইছে। কইছে, রানি কইরা রাখব আমারে। ভাবছস কী তুই?

    এবারে পুলিনবাবু যথাসম্ভব কম শব্দ করে উঠে বসলেন খাটে। গিরধারী তাঁদের বাগানের পাশেই যে মাড়োয়ারির বাগান, তার ক্যাশিয়ার। আর যে বাঙালি ছেলেটির গলা পেলেন তিনি এক্ষুনি, সে তার ছোটোছেলের বন্ধু। স্টোর্সবাবুর সেজোছেলে বঙ্কু।

    তাঁর দুই অবিবাহিত মেয়েই তাহলে……

    বুকের মধ্যে ভীষণ কষ্ট হতে লাগল তাঁর। বুকের মাঝখানটাতে ব্যথা করতে লাগল।

    এখন উঠে বাইরে গেলে গিরধারী এবং ছোটোর বন্ধু বঙ্কু জেনে যাবে যে, পুলিনবাবুর কিছুই অগোচর নেই। অথচ না গেলেও…..। এবং গেলেও……

    কিন্তু যাবেনই-বা কেন? কী করে যাবেন? কোন মুখে? তার মেয়েরা চলে যাক যেখানে খুশি। ছেলেরা যেমন গেছে। শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়ির পাড়ায় ঘর নিয়ে ব্যাবসা করুক গিয়ে। নয়তো কলকাতাতেই যাক। তাদের বুড়ো, হতভাগা বাবার ঘরে তারা তো রাজকন্যার মতো ছিল না। তারা যদি ভালো খাওয়া, ভালো থাকাকেই সবচেয়ে বড়ো বলে ভেবে থাকে, তবে তাই থাক তারা। তাই পাক। এক জীবনে যে যা চায়, তাই তো পায়। পাওয়া উচিত অন্তত। যে যেমন করে তা পেতে চায়, তেমন করেই পাক।

    গাড়ি থেকে গিরধারীর জড়ানো গলা ভেসে এল।

    ‘আররে এ বঙ্কু! কিতনা দের লাগেগি শালিকি তৈয়ারি হোনেমে?’

    বঙ্কু তাকে চুপ করার জন্যে যেন কী বলল, চাপা গলায়। গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ হল।

    পুলিনবাবু খাটে উঠে বসলেন। পুরোপুরি। পদ্মাসনে বসলেন। একটু পরে শবাসন। মনটাকে দু-পায়ের জড়ো করা বুড়ো আঙুলে সমাধিস্থ করবেন।

    তিনু বলল, যা-না দিদি। রাত কাবার কইরা ফিরিস না তা বইল্যা আবার। আমারও ভীষণই ঘুম পাইছে। বাজে লোক একডা। ওই মালিকডা যাচ্ছেতাই। এমন চটকাচটকি করছে-না। আমি পাল্লা ভ্যাজাইয়া দিয়া শুইয়া পড়ুম।

    —টাকা? তরে টাকা দিচ্ছ?

    বিনু শুধোল তিনুকে?

    —হ্যাঁ। দিবে না ক্যান?

    কত দিচ্ছ?

    —পঞ্চাশ! তোরেও তাই দিবে। যা গিয়া এখন।

    তিনু, বিনুকে মিথ্যে কথা বলল।

    পেয়েছিল আসলে দুটি পঞ্চাশ টাকার নোট।

    মনে মনে হিসেব করল। একটা টু-ব্যাণ্ড রেডিয়ো আর একটা ক্যাসেট প্লেয়ার আর ক-খানা ভালো শাড়ি-শায়া-ব্লাউজ এবং একজোড়া সোনার বালা এবং এক শিশি বিলাইতি ইন্টিমেট পারফিউম…..। এইসব কেনার টাকা জমতে ও নিজেই ক্ষয়ে যাবে বোধ হয়, চন্দন কাঠের মতো ঘর্ষণে ঘর্ষণে।

    পুলিনবাবু আবারও শুয়ে পড়লেন। শুয়ে শুয়ে সবই বুঝতে পারলেন। তার ছোটোমেয়ে ঘরে ফিরল, বড়োমেয়ে চলে গেল। গাড়িটার শব্দ যতক্ষণ-না মিলিয়ে গেল ততক্ষণ শুয়েই রইলেন খাটে। মড়ার মতো। শবাসনে। তিনি তো মড়াই।

    এখন মরে গিয়েও যে বাঁচবেন, সে সময়ও আর বাকি নেই। কিন্তু মনটা কিছুতেই দু-পায়ের জোড়া করা বুড়ো আঙুলে বসে থাকতে চাইছে না।

    পাশের ঘরে তিনু শাড়ি বদলাচ্ছিল। শব্দ পাচ্ছিলেন পুলিনবাবু। বিনুর চেয়েও তিনুর ওপরে রাগ অনেকই বেশি হচ্ছিল তার। মাত্র আঠারো বছর বয়স! এই ছোকরা-ছুকরিগুলান কত্ত সহজে নষ্ট হইয়া যায়। কত্ত সহজে! কত্ত সস্তায়! সহ্যশক্তি কতই কম অ্যাদের! লোভও কত বেশি। ছি ছি! ওদের মূল্যবোধ পুলিনবাবুদের বোধ থেকে কতই আলাদা।

    পূর্ববাংলার দেশ থেকে যেদিন ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল পুলিনবাবুর, তখন তার বয়স এই তিনুরই মতো আঠারো। বাবাকে কেটে ফেলেছিল তার পরিচিত মানুষেরা। মাকে বিবস্ত্র করে বাঁশবাগানের পাশ দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাদেরই মাঠে, এমন মানুষেরা, যাদের পুলিনবাবু মামা বা চাচা বলে ডাকতেন। মায়ের চিৎকার, ‘ও খোকন, আমারে বাঁচা’। তারপর ‘মাইরাই ফ্যালাও তোমরা। মাইরাই….’

    একটা তীব্র ক্রোধ, অসহায় এক বোবা বোধ কাজ করেছিল তাঁর ভেতর তখন। অসহায়ের নিষ্ফল ক্রোধ। যা পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে এই মুহূর্তেও অসংখ্য মানুষের ভেতর কাজ করছে। সেই বোধটাই আজ তেষট্টি বছর বয়সেও কাজ করে যাচ্ছে। তাঁকে প্রতিমুহূর্ত কুরে কুরে খেয়ে যাচ্ছে। কতগুলো অশিক্ষিত, নিপীড়িত, হীনম্মন্যতায় ভোগা মানুষ যা করতে পেরেছিল তার বাবার প্রতি, মায়ের প্রতি, তা তিনি কী করে করবেন? ভাবতেই পারেনি। প্রতিশোধ নেওয়ার স্পৃহা পর্যন্ত জাগেনি। তখন ভগবানকে বলেছিলেন, ভগবান! ক্ষমা করে দিয়ো এদের। ভগবান! আমাকে আমার চেয়েও অনেক বড়ো করে দাও। যেন, ক্ষমা করতে পারি সকলকে।

    মারামারি, কাটাকাটি, বলাৎকার, চুরি-ডাকাতি, এসব করার শিক্ষা তো তিনি বাবা-ঠাকুরদার কাছ থেকে কখনো পাননি! তাই সেই আঠারো বছরের নি:সম্বল অবস্থা থেকে আজকের এক অন্যরকম নি:সম্বল অবস্থাতে পৌঁছোতে কত এবং কতরকম কষ্টই যে করতে হয়েছে, তা তিনিই জানেন। কিন্তু কখনোই সম্মান খোয়াননি। মাথা নোয়াননি। এই পর্যায়ে পৌঁছেও তিনি নিজেকে বদলাতে পারলেন না। কিন্তু বদলানো যে দরকার নিজেকে, তা বেশ বুঝতে পারছেন। বিশেষ করে, আজ রাতে। কোনো মানুষেরই পক্ষে চিরদিন গৌতমবুদ্ধ হয়ে থাকা উচিত নয়, সারাজীবন মনুষ্যত্ব খুইয়েও।

    সারারাত ঘুম হল না পুলিনবাবুর। খাটে বসে লুঙ্গিটাকেই চাদরের মতো গায়ে জড়িয়ে জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে নস্যি নিয়ে রাতটা কাটালেন। আওয়াজ পেলেন, রাত তিনটে নাগাদ তাঁর বেশ্যা মেয়েদের মধ্যে বড়ো-জন ফিরে এল।

    ভোরের আলো ভালো করে ফুটতেই দেওয়ালের পেরেকে ঝোলানো পাঞ্জাবিটা গায়ে দিয়ে লুঙ্গি পরেই বেরিয়ে পড়লেন পুলিনবাবু, তখন তাঁর আদরের, গর্বের, তার জীবনের শেষ অবলম্বন বিনু আর তিনু অঘোরে ঘুমোচ্ছিল।

    মাধবের চায়ের দোকানে অনেকে চা খাচ্ছেন। কাগজ আসতে আসতে এখানে বিকেল হয়ে যায়। ট্রানজিস্টর খুলে দিয়েছে মাধব। চা খেতে আরও অনেকেই এল দোকানে। পুলিনবাবুকে দেখে মাধব তো অবাক। এই বাগানে অনেক বছর এসেছেন। ডানকানের বাগান থেকে রিটায়ার করার পর। একদিনও মাধব দেখেনি পুলিনবাবুকে তার দোকানে আসতে। এত সকালে তাঁকে দেখে বলল, আরে! আপনি যে বাবু?

    পুলিনবাবুর মাথায় কাজ করছিল না। কানদুটি ভোঁ-ভোঁ করছিল।

    তবু বললেন মাধবের ওরিজিনাল দেশ রংপুরের ভাষাতেই। বয়স তো হতিছে! এট্টু মর্নিং ওয়াক কইরবার লাগে।

    একজন অপরিচিত ভদ্রলোক চা খেতে খেতে অন্যজনকে বললেন, পাঞ্জাব-সমস্যা তো মিটিয়ে দিলেন রাজীব গান্ধি। এবার আসামও মিটবে।

    সন্দ আছে। মিটবে কি? আসামকে উনি দেবেনটা কী? চন্ডীগড় না নদীর জল?

    প্রথম-জন বললেন, তা জানি না। তবে একটা কথা বুঝে ফেলেছি, যদিও বড়ো দেরি করে বুঝলাম।

    কী?

    এই পৃথিবী হচ্ছে শক্তর ভক্ত, নরমের যম। এ সর্দারজিগুলো তার মাকে না মারলে ছেলের সুর কি এত নরম হত? বাংলাতেও তো পার্টিশন হয়েছিল। আমরা বাঙালিরা, না আমাদের যারা তাড়াল তাদের সঙ্গে লড়লাম, না অন্য কারও সঙ্গেই। মার খেতে খেতে আমাদের ভদ্দরলোকি গুমোর নিয়ে পিছু হটতে হটতে এমন জায়গায় পৌঁছেছি আজ যে, আমাদের এখন পশ্চিমবঙ্গ থেকেও চলে যেতে হয় কি না দ্যাখো!

    ঠিকই কইছেন। অন্য সক্কলই হইল গিয়া বীরের জাত, আর আমরা হইলাম গিয়া ভীরুর জাত। সকলেই চিন্যা ফ্যালাইছে আমাগো।

    হাঁটতে হাঁটতে চললেন পুলিনবাবু, চা খাওয়ার পর, কামারের বাড়ির দিকে। বাসস্ট্যাণ্ডের পাশেই তার বাড়ি আর কামারশালা। দিবারাত্র হাপর চলে খপর-খাপর।

    রাধু সবেই দোকান খুলে বসেছিল।

    —আরে! অ্যাকাউন্টেন্টবাবু যে! খবর কী? এত সক্কালে? কোনদিকে আইছিলেন?

    —তোমার কাছে।

    —কন দেহি, কী দরকার? বঁটি বানাইয়া দিমু একখান? কোদাল লাগব নিশ্চয় বাগানের লইগ্যা?

    না রাধু। বঁটি বা কোদালে চলব না। একখান রামদা বানাইয়া দাও দেহি। লাইটের উপর। বেশি ভারী য্যান না হয়! বুঝছ!

    —কাইটবেন কী, তা দিয়া? তা তো আমারে কইবেন। হেই মতোই বানাইয়া দিমু আনে অ্যাক্কেরে ফাসকেলাস কইর‌্যা।

    কী যে কাটুম, তা অ্যাহেনো ঠিক করি নাই। তবে, ঘরে একটা থাকনের দরকার বড়ো। যা দিনকাল! মানুষই কাইটতে অইব হয়তো।

    তা ঠিকোই কইছেন বাবু। চুরি-ডাকাতি তো লাইগাই আছে। চোর-ডাকাইত কাটোনের লগ্যেই বানাইয়া দিমু আনে। লাইটের উপর। ভার অইব না। দুই হাতে তুইল্যা বসাইয়া দিবেন। ধড় থিক্যা মুন্ডুখান সট কইর‌্যা খুইল্যা যাইব গিয়া!

    —কবে দিবা রাধু?

    —তাড়াতাড়িই দিমু।

    —কবে?

    —সাত দিনের মধ্যেই দিমু।

    সাত দিন? কও কী তুমি? না, না। আমার একদিনের মধ্যেই চাই।

    কন কী বাবু? পাঁঠা বাইন্ধা থুইছেন নাকি উঠানে। এত্ত তাড়াতাড়ি কীসের?

    পেরায় সেইরকমই। বাঁইন্ধাই থুইছি কইতে পারো।

    বললেন পুলিনবাবু।

    তারপর বললেন, নিবা কত, তা কও?

    আপনারে সস্তা কইরাই দিমু। আইজকাল ইস্টিলের যা দাম! তা তো র‌্যাল কোম্পানির চোরাই ইস্টিল বইল্যাই এত হস্তায় দিতে পারতাছি! তা, একশোই দিবেন আনে আপনি।

    —একশো? এতগুলা টাকা! চমকে উঠলেন পুলিনবাবু।

    তারপরই ভাবলেন, পাক্কা স্টিলের একটা মানুষ মারা হাতিয়ারই তো? তাঁর মেয়েদের এক-এক জনের একঘন্টা দু-ঘণ্টার ভাড়াই যদি একশো টাকা হয়, তাহলে রাধুর এত পরিশ্রম এবং ইস্পাতের বিনিময়ে একশোটা টাকা তো বেশি চায়নি। যে করেই হোক জোগাড় করে দেবেন তিনি।

    উনি বললেন, দিমু আনে। কিন্তু কাইল সন্ধ্যার পরই লাগব আমার।

    কাউরে খুনটুন করবেন না তো আবার? আপনার ভাবগতিক তো আমার ভালো ঠ্যাকতেছে না!

    হাসলেন পুলিনবাবু। ম্নান হাসি।

    বললেন, খুনখারাপি যদি করতেই পারতাম তাইলে আজ আমাগো কি এই দশা হয় রাধু? আমারই একলার ক্যান, পেত্যেক বাঙালিরই কি আজ এই দশা হইত।

    রাধু কথাটার মানে না-বুঝে চেয়ে থাকল। কথাটা অস্পষ্ট হলেও তার মন যেন কথাটাতে সায় দিল।

    আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই পুলিনবাবু চলে গেলেন। তাড়াতাড়ি হাঁটার জন্যে লুঙ্গিটা উঁচু করে কোমরে বেঁধে নিয়ে।

    উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে ঘুরতে নদীর ধারে গিয়েই দাঁড়িয়ে পড়লেন পুলিনবাবু।

    তর্জনগর্জন করা তিস্তা দিয়ে জঙ্গলের কাঠ ভেসে যাচ্ছে। সেই প্রবলবেগে ভেসে-যাওয়া বড়ো বড়ো গাছের গুঁড়িগুলোকে কী দুঃসাহস এবং পরিশ্রমের সঙ্গে অল্প ক-টি মানুষ তাদের শক্তসবল হাত আর হাতে হাতে জড়ানো দড়ি দিয়ে বাঁচিয়ে নিচ্ছে। একটি-একটি করে। জীবন বিপন্ন করেও। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন অনেকক্ষণ পুলিনবাবু।

    লোকগুলো চেঁচামেচি করছিল।

    উনি শুনলেন, গতকাল ওদেরই মধ্যে একজনকে নাকি নিয়ে গেছে তিস্তা। নেপালি চার-পাঁচ জন। অন্যরা, ভারতের অন্য প্রদেশের লোক।

    ভেসে-যাওয়া কিছুকে বাঁচাতে হলে নিজেদের মধ্যেও কারও কারও ভেসে যাওয়ার জন্যে তৈরি থাকতে হয়ই বোধ হয়। ভাবলেন উনি। এমনি করেই, বর্ষার তিস্তার স্রোতেরই মুখে ভেসে-যাওয়া কাঠের মতো একটা পুরো জাত তার ডালপালা শিকড়-বাকড় সুদ্ধ ভেসে যাচ্ছে, তাঁর নিজের এবং সমস্ত জাতের চোখের সামনে দিয়েই; অথচ এক-জনও মানুষ কী একটাও হাত তাঁকে বাঁচাবার চেষ্টা করল না। প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করা দূরে থাকুক, একটা আঙুল পর্যন্ত নাড়াল না কেউই।

    ভেসে যাচ্ছে, শুধু পুলিনবাবুর একার সংসারই নয়; পুরো একটা জাতের ভবিষ্যৎ; গত সাঁইত্রিশ বছর ধরে নিশ্চিন্ত সর্বনাশের দিকে।

    সময় নেই আর।

    শুধু ভিক্ষা চাওয়ার জন্যেই পেতে রাখা দুটি হাত নিয়েই বোধ হয় জন্মেছিলেন পুলিনবাবুরা। ভগবানের কাছে ভিক্ষা, মালিকের কাছে ভিক্ষা, ভিনরাজ্যের ব্যাবসাদারদের কাছে ভিক্ষা, নিজের রাজ্যে, নিজের রাজধানীতে থেকেও তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে বেঁচে থাকার ভিক্ষা, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ভিক্ষা।

    তাঁদের উদাসীন গালে সকলেই চড় মেরে যায়। সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে, ভদ্রতার দোহাই দিয়ে, থুথু গেলেন বাঙালি জাতের বুদ্ধিজীবীরা। তাঁরা সকলেই আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে-ওঠার প্রতিযোগিতাতে সদাই শামিল।

    হাত কি পুলিনবাবুদের আদৌ আছে? বা ছিল? যে হাত নিশ্চিত অন্যায়কারীর গলা টিপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে; তার দু-চোখের মণিকে ঠিকরে বাইরে আনতে পারে?

    পুলিনবাবুরা এক ঠুঁটোজগন্নাথের জাত।

    কোয়ার্টারের দিকে ফিরতে লাগলেন তিনি। বাবুলাইনের পাশ দিয়ে। বাঙালি বাবুরা সবাই ঘুমোচ্ছেন এখনও। কে জানে, কখন ভাঙবে এঁদের ঘুম।

    চিরঘুমে পেয়েছে সকলকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }