Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খেলনা

    শেষের বাসটি চলে গেল। ইম্ফলের দিকে।

    চৈতি বারান্দায় দাঁড়িয়ে জানলা দিয়ে দেখল।

    দেওয়ালে ঝোলানো আয়নায় মুখটি একবার দেখল, আলতো করে মুখে একটু পাউডারের প্রলেপ বুলোল। তারপর কনে-দেখা আলোয় বড়ো করে দগদগে একটি সিঁদুরের টিপ পরল।

    রুদ্র ওদের বাড়ির লাগোয়া ব্যাচেলার্স মেসে তাস খেলতে গেছে। সেখানে তক্তপোশের ওপর ঝুঁকে পড়ে বসে ওরা নিশ্চয়ই তাস খেলছে, কাপের পর কাপ চা, সিগারেটের পর সিগারেট খাচ্ছে। ঘরটিকে এতক্ষণে আস্তাকুঁড় করে তুলেছে। ছেলে মাত্রই নোংরা। তার ওপর অতজন কমবয়সি ছেলে যদি একসঙ্গে থাকে!

    আজ শনিবার। মনে পড়ল চৈতির। মনে যে এখনও পড়ে এটাই আশ্চর্য। এই বার্মা-সীমান্তের অজ্ঞাত শেষগ্রাম ‘মোরে’-তে ক্যালেণ্ডারের কীই-বা দাম! পুরকায়স্থ কোম্পানির চাকরি করে রুদ্র! পাশের মেসের সকলেই তাই করে। জঙ্গলে কাঠ কাটায়, হাতি দিয়ে বইয়ে আনে, ‘মোরে’-র চেরাই কলে কাঠ চেরাই হয়। তারপর লরি বোঝাই হয়ে চালান যায়, প্যালেল হয়ে, ইম্ফল।

    চৈতি এখন সকাল-সন্ধেয় রান্না করে, তারপর সন্ধের পর পরই খেয়েদেয়ে ঘুম দেয়।

    বিয়ের পরে পরেই এখানে এসে বেশ লাগত। এমন নিরালা নির্জন জায়গা। সমাজ নেই, লৌকিকতা নেই, শুধু পাখির ডাক; বাঘের ডাক, আর অবিচ্ছিন্ন অবকাশ। নিজের স্বাধীনতার সংসারের নানারকম মজাও ছিল তখন।

     

     

    ভারত-বার্মা বর্ডারের চেকপোস্টের সকলের সঙ্গেই ভাব সকলের। দিব্যি, সেই নো-ম্যানস ল্যাণ্ডের নদীটির ওপরের সাঁকো পেরিয়ে বার্মার গ্রাম ‘তামু’-তে চলে যেত। স্বচ্ছ, রঙিন নাইলনের জামাপরা বর্মি মেয়েদের সঙ্গে ইশারায় কথা বলত। ওরা ফানুশের মতো হাসিতে ফুলে ফুলে উঠত। ফুলের মতো মুখের ওরা মুখরা হয়ে উঠত।

    কাছের প্যাগোডাতে গিয়েও মাঝে মাঝে বেড়িয়ে আসত। তারপর ভারতের এলাকায় ফেরার পথে পাঞ্জাবি ব্যাবসাদারের দোকান থেকে সস্তায় টুকিটাকি কিনে ফিরত। না পাসপোর্ট, না ভিসা; তখন এত কড়াকড়ি ছিল না। কয়েক বছর আগের দিনগুলোই ভালো ছিল।

    এখন আর কোনো মজা নেই। চৈতির জীবনের সব মজাই যেন শেষ হয়ে গেছে। রুদ্র যে মাইনে পায় তাতে কোনো মজার খেলনা তৈরি করতেও রুদ্র মোটে সাহস পায় না। ওরা খালি ঘুমোয়, ঘুম ভেঙে ওঠে, খায়; রোজকার কাজ করে, আবার ঘুমোয়। চৈতি অনেকবার হাবে-ভাবে বুঝিয়েছে, কিন্তু রুদ্র খেলনা পছন্দ করে না। খেলাও নয়। মাঝে মাঝেই বড়ো ক্লান্তি লাগে চৈতির।

    প্রথম যেদিন রমাপিসির সঙ্গে এখানে বেড়াতে আসে, ওরা পাহাড়ের ওপরের ‘মোরে’ ডাকবাংলোতে ছিল। সে-রাতে পিসেমশাই-এর গাড়ির পেট্রোল-ট্যাঙ্ক ফুটো হয়ে গেছল। পিসেমশাইয়ের সহপাঠী পুরকায়স্থ সাহেবের কর্মচারী রুদ্র চ্যাটার্জির ডাক পড়েছিল তখন সে-বাংলোয়। সেদিনও এমনি কনে-দেখা-আলো ছিল আকাশে। খাকি শর্টস পরনে এবং খাকি হাফশার্ট গায়ে, চটপটে সপ্রতিভ স্বাস্থ্যবান রুদ্র বাংলোর বারান্দার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। পাহাড়ের পটভূমিতে সেই শেষ বেলায় কী যে দেখেছিল জানে না চৈতি, কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারেনি। শুধু ওর হৃদয়টি একটি ঝিনুক—ঝিঁঝির মতো ঝুমুর ঝুমুর করে বেজেছিল।

     

     

    তারপর যা হয়ে থাকে তাই হয়েছিল। ইম্ফলে বেড়াতে আসা কলকাতার মেয়ে এই ‘মোরে’-র বাংলোয় মরতে চেয়েছিল। মরে গেছিল। তাকে কেউ বাঁচাতে পারেনি।

    এখন সূর্য ডুবে গেছে। সেপ্টেম্বর মাস। সারাদিন নীল আকাশে সোনালি রোদ সাঁতার কেটে কেটে বিকেলে হাঁপিয়ে বেড়ায়। ঝুরঝুর করে সজনে পাতায় দোল দিয়ে হাওয়া বয়। গেটের কাছের আমলকী গাছটা সারাদিন মুচুর মুচুর করে পাতা ঝরায়। শেষবিকেলে দাঁড়কাকটা চ্যাগারের ওপর বসে বসে শুদ্ধ ‘গা’-তে কা-কা-কা-কা করে গান গায়। মণিপুরি মেয়েরা খোলের তালে তালে বাড়ির উঠোনে উঠোনে ‘পুংচোলোম’ কিংবা ‘থৈবি-খাম্বার’ নাচ নাচে। ওদের গানের সুর দেখতে দেখতে কার্তিক মাসের কুয়াশার মতো সন্ধের পর সমস্ত মোরের আকাশ-বাতাস ভরে তোলে। সুরের সুরেলা চাঁদোয়ার মতো মোরের আকাশে ওদের গান আর খোলের শব্দ ভেসে বেড়ায়। দুলতে থাকে।

    বেশ লাগে। ময়দা মাখতে মাখতে কী প্রেসার কুকারে মাংস চড়িয়ে বসে বসে চৈতি ওর কলকাতার জীবনের কথা ভুলে যায়। ভুলে যায় যে, ইচ্ছে করলে ও-ও আজকে বালিগঞ্জ পাড়ার কোনো এগজিকিউটিভের স্ত্রী হতে পারত, এই সময় আলো ঝলমল রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে ছোকরা চাকরকে সঙ্গে নিয়ে স্লিভলেস ব্লাউজ পরে শপিং-এ বেরোতে পারত।

     

     

    এখন ওর মনে হয়, ও যেন বরাবর এই মোরেতেই ছিল, মোরেতেই ও বড়ো হয়েছে; মোরেতেই ওর মরণ হবে।

    এমন সময় ঝড়ের বেগে রুদ্র ঘরে ঢুকেই বলল, আকাশের দিকে তাকিয়ে কী ভাবছিলে? খাবারদাবার কিছু আছে?

    চৈতি হেসে বলে, দাঁড়াও, একটু বসো ইজিচেয়ারে; আনছি।

    ওসব বসা-টসার সময় নেই আমার। আমায় এক্ষুনি যেতে হবে।

    —কোথায় যাবে?

    —তা দিয়ে তোমার দরকার কী?

    —দরকার নেই?

    —না দরকার নেই। যাচ্ছি আমাদের ব্যাডমিন্টন ক্লাবে, মিটিং আছে।

     

     

    চৈতি মুখ নামিয়ে বলল, বেশ।

    অল্পক্ষণের মধ্যে জামাকাপড় বদলে রুদ্র বেরিয়ে গেল। যাওয়ার সময় বলে গেল, আমার জন্যে আবার বসে থেকো না খাবার নিয়ে, প্রেম দেখাবার জন্যে।

    বলেই, বেরিয়ে গেল।

    চৈতি নিজের মনে বিড়বিড় করে বলল, প্রেম আমার আর নেই।

    চৈতি জানে, রুদ্র কোথায় গেল এখন।

    প্যালেলের রাস্তায় কিছুদূর গিয়ে ডানদিকের জঙ্গলের মধ্যে একটি শুঁড়িখানা আছে। ওর মণিপুরি ঠিকে ঝিয়ের কাছে সব শুনেছে চৈতি। বাঁশের বেড়া-দেওয়া ঘর। মোষের শিং-এর মতো বিনুনি বাঁধা মোটাসোটা খাসিয়া মেয়ে আছে ওখানে দু-টি। তাদের দেখতেও নাকি মোষেরই মতো। তা ছাড়া বর্মি মেয়েও আছে একটি। রুদ্ররা সেখানে যায়। সস্তায় দেশি মদ খায়। মেয়েগুলোর সঙ্গে কী করে-না-করে, জানে না চৈতি। ভাবতেও পারে না। ভাবলেও ওর গা বমি বমি করে।

     

     

    এই জঙ্গলে এসে বোধ হয় হেরে গেছে চৈতি। যে জঙ্গল পাহাড়কে ভালোবেসে ও এখানে একদিন এসেছিল, সেই জঙ্গল পাহাড়ই ওকে হারিয়ে দিয়েছে। ওর ঘরের মানুষকে ও বেঁধে রাখতে পারেনি। রুদ্রকে নতুন কিছু দেওয়ার মতো কিছু আর বাকি নেই চৈতির। চৈতি নি:শেষে ফুরিয়ে গেছে। ওরা যদি দু-জনে মিলে একটা হাসিখুশি গাবলু-গুবলু ঝুমঝুমি বানাত, তবে হয়তো এমন হত না। তবে হয়তো এমনি সব সন্ধেবেলায় ওরা বসে সে সেই ঝুমঝুমি বাজাত। তাকে নাড়ত-চাড়ত—তার কথা-বলা, তার চোখ চাওয়া নিয়ে আলোচনা করত। কিন্তু একা একা তো চৈতি কিছুই করতে পারে না। একলা একলা তো কেউ খেলনা গড়তে পারে না। মাঝে মাঝে ও মনস্থির করে ফেলে। ভাবে, পরদিনই ভোরের বাসে ফিরে চলে যাবে ইম্ফল—সেখান থেকে কলকাতা। যাবে না তো কী! এখনও কি সেই শরৎচন্দ্রের যুগে আছে? নাকি ও কাঁদতে বসবে? কান্নাকাটি নয়। ঝগড়াঝাঁটিও নয়। সোজা বেরিয়ে যাওয়া, একবস্ত্রে; বাড়ি থেকে।

    কিন্তু পারল কই? ভাবল তো কতদিন। যখনই ভোরবেলা ঘুম ভেঙেছে, দেখেছে অসহায়ের মতো রুদ্র পাশে শুয়ে আছে। তার কোমরের ওপর দিয়ে ডানহাতটি মেলে দিয়েছে। তার লজ্জা নেই, ভয় নেই, গ্লানি নেই। তবু রুদ্রর হাত ঠেলে সরিয়ে দিয়ে চৈতি উঠে দাঁড়িয়েছে। দাঁড়াতেই ভোরের মিষ্টিহাওয়া গায়ে লেগেছে। সকালের শুকতারাটি স্নিগ্ধ নীলাভ দ্যুতিতে ওকে রোজকার মতো সান্ত্বনা দিয়েছে। বাগানের বুলবুলিরা রঙ্গনের ডালে চুলবুল করে উঠেছে। ও সব ভুলে গেছে। শুধু মনে হয়েছে, রুদ্র এখুনি বেরিয়ে যাবে কাজে, বেচারা কত মাইল পথ পায়ে হেঁটে, হাতির পিঠে যাবে কে জানে? সব রাগ ভুলে গিয়ে তাড়াতাড়ি চায়ের জল বসাতে গেছে চৈতি।

     

     

    কিন্তু আর নয়। আজ ও সত্যি সত্যিই প্রতিজ্ঞা করে ফেলল। আর নয়। লজ্জাহীনেরও লজ্জা আছে। সেই লজ্জার সীমাও তার পেরোনো হয়ে গেছে। আজ একটা হেস্তনেস্ত করবে সে। হেস্তনেস্ত মানে, চ্যাঁচামেচি নয়। কাল ভোরের প্রথম বাসে চলে যাওয়া। কোনো বন্ধন নেই চৈতির রুদ্রর সঙ্গে। একদিন মা-বাবার সঙ্গে যেমন ঝগড়া করে রুদ্রর হাত ধরে চলে এসেছিল এই পাহাড়-জঙ্গলে আজ আবার রুদ্রর সঙ্গে ঝগড়া করে মা-বাবার কাছেই ফিরে যাবে। মা-বাবার কাছে আবার লজ্জা কী?

    কিন্তু, সত্যিই কি লজ্জা নেই?

    মাকে সে কী করে বলবে যে, যাকে ভালোবেসে সে মা-বাবাকে দুঃখ দিয়ে এই বার্মা সীমান্তে এসে, অতিদীন জীবনযাপন করছে, সেই রুদ্রই তাদের সুগন্ধি চৈতিকে সাঁঝবেলাতে একা ঘরে রেখে, মোষের মতো চেহারার দুটি পাহাড়ি মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে যায়। একথা কী করে, কোন মুখে সে বলবে? না না, তার চেয়ে ইম্ফল লকটাক লেকে গিয়ে ডুবে মরবে। নইলে, ‘মোরে’ ডাকবাংলো থেকে নীচের পিচের রাস্তায় ঝাঁপ দেবে।

    যাই করুক, কাল সকালে ও কিছু-একটা করবেই।

     

     

    রাত কত হয়ে গেছে জানে না চৈতি। বাইরে ফিকে জ্যোৎস্নাও ওর মতো খেলনাহীন একাকিত্বে, বেদনাতুর; স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। প্রহরে প্রহরে শেয়াল ডাকছে। আর নিঝুম নদীর পাশে পাশে, মাঝে মাঝে একটি হায়না হা:-হা:-হা:-হা: করে ওর ব্যথার বুক কাঁপিয়েছে। ছেলেদের মেসের কমোন-পেট ভালুকের বাচ্চাটি মাঝে মাঝে কুঁক-কুঁক-কুঁক করে উঠেছে।

    ওর বোধ হয় ভয় করছে কিংবা জ্বর আসছে চৈতিরই মতো।

    চেয়ারে বসে বসেই চৈতি ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঝিঁঝিগুলো ঝিঁঝির-ঝিঁ করে বাইরে বসে ওকে পাহারা দিচ্ছিল। এবং সঙ্গে সঙ্গে দরজার পাশের খোলা জানলা দিয়ে টর্চের তীব্র এক ঝলক আলো ওর মুখে এসে পড়ল।

    ধড়মড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়ে চৈতি ভীষণ ভয় পেল। অত ভয় ও এখানে এসে আর আগে কোনোদিন পায়নি। চৈতি কথা বলতে পারল না।

    এমন সময় রুদ্র জড়ানো জড়ানো গলায় বলল, ‘দরজা খোলো।’

    ও দরজা খুলেই রুদ্রর বুকে আছড়ে পড়ে, ফুলে ফুলে কাঁদতে লাগল। প্রথমে ও যে ডাকাতের হাতে পড়েনি এই ভেবে চৈতির আনন্দ হয়েছিল। পরক্ষণেই ও যে ডাকাতের হাতেই পড়েছে, এইটে জেনেই ওর কান্না পেয়ে গেল। ও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল রুদ্রর বুকে মুখ রেখে। রুদ্র ওকে সবল হাতে ধরে ওর সামনে দাঁড় করাল, তারপর টর্চের আলোটা আবার চৈতির মুখের সামনে ধরল। রুদ্র দেখল, চৈতির দু-চোখে জল এবং গাল বেয়ে ধারা নেমেছে।

     

     

    টর্চটা খাটে ছুড়ে ফেলে রুদ্র চৈতিকে এমন জোরে জড়িয়ে ধরল যে, চৈতির মনে হল ওকে আজ রুদ্র গুঁড়িয়ে ফেলবে। ফুরিয়ে-যাওয়া একটি দেশলাইয়ের বাক্সর মতো ওকে আজকে ভেঙে ফেলবে। চৈতির সব ক-টা আগুন-জ্বালানো কাঠিই বুঝে শেষ হয়ে গেছে। ও ফাঁকা।

    ফাঁকা দেশলাই।

    —কী করছ? লাগছে যে! তার চেয়ে আমাকে একেবারেই মেরে ফ্যালো।

    রুদ্র তাকে ঝাঁকুনি দিয়ে ছেড়ে দিয়ে বলল, খেতে দাও। ভীষণ খিদে পেয়েছে।

    আশ্চর্য! তবু সে কাঁপা কাঁপা হাতে রুদ্রর জন্যে খাবার বাড়ল এবং খেতে বসার জায়গা করে দিল। রুদ্র হাত-মুখ ধুয়ে এসে খেতে বসে বলল, তোমার?

    —আমি খাব না।

     

     

    —তোমার ঘাড় খাবে।

    —ভদ্রভাবে কথা বলো।

    —কথা যেভাবেই বলি-না কেন? তোমায় খেতে হবে।

    —অর্ডার?

    —হ্যাঁ অর্ডার।

    বলে, রুদ্র জোর করে চৈতিকে পাশে টেনে বসাল। নিজেহাতে একগ্রাস ভাত মাংসের ঝোল দিয়ে মেখে, চৈতির মুখে তুলে দিয়ে বলল, খাও।

    কথা না বলে ও লঞ্জীমেয়ের মতো নি:শব্দে খেতে লাগল। তখনও ওর চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে। রুদ্রর মনে কী হল যে সেই জানে, রুদ্র জড়িয়ে জড়িয়ে বলল, তুমি আমার ওপর রাগ করেছ?

     

     

    আমি কি তোমার ওপর রাগ করতে পারি? আমি তো তোমার খেলনা ছাড়া আর কিছু নই। আমাকে কি তুমি মানুষ বলে মনে করো?

    রুদ্র খাওয়া থামিয়ে চৈতির মুখের দিকে চেয়ে রইল অনেকক্ষণ। তারপর চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, অ্যাই শোনো।

    চৈতি ভাতমুখেই বলল, কী?

    রুদ্র বলল, বলছি, আগে মুখের ভাত খেয়ে নাও।

    চৈতি তাড়াতাড়ি ভাত গিলে ফেলে বলল, কী?

    রুদ্র এঁটোমুখে ওর জলভেজা গালে একটা সশব্দ অভদ্র চুমু খেয়ে বলল, আমরা-না-আজকে খেলনা গড়ব।

    চৈতির ভেজাচোখে আগুন জ্বলে উঠল। ও বলল, মিথ্যুক!

    রুদ্র বলল, সত্যি। মিথ্যা কথা না। সত্যি।

     

     

    কাঁদতে কাঁদতে চৈতি ফিক করে হেসে উঠল। বলল, আমি বিশ্বাস করি না।

    প্রত্যয়-ভরা গলায় রুদ্র বলল, বিশ্বাস করো না? আচ্ছা, তাড়াতাড়ি খাও।

    কিন্তু আর খেতে পারল না চৈতি। থরথর করে ওর সমস্ত শরীর কাঁপতে লাগল। ও ভাবতে পারছিল না যে, ওরা দু-জনে সত্যিই খেলনা গড়বে। ওদের দু-জনের খেলনা।

    ও বলল, তুমি আমার ভাগেরটাও খাও।

    বলেই, মাংসের বাটিটা উপুড় করে রুদ্রর পাতে ঢেলে দিল।

    রুদ্র বলল, এখনও খেলনার শখ গেল না খুকি। তুমি এখনও কচি খুকি।

    রুদ্রর রুঞ্জচোখে ওর পেলব চোখ মেলে চৈতি বলল, তুমি ভীষণ অসভ্য।

    বলেই, খাবার জায়গা ছেড়ে উঠে গিয়ে, হাত ধুয়ে, আনন্দে-অস্থিরতায় বিছানায় ঝাঁপিয়ে পড়ে দু-হাত দিয়ে একটি কোল-বালিশকে আশ্লেষে আঁকড়ে শুয়ে পড়ল।

    রুদ্র খাওয়া শেষ করে উঠে লণ্ঠনের শিখাটি কমিয়ে দিয়ে পাশে বসে একটি সিগারেট ধরাল। ফস করে দেশলাইটি জ্বালল। লালে-মেশা আগুনের অসংখ্য আঙুলগুলি দেওয়ালে দেওয়ালে কথাকলি নেচে গেল।

    চৈতি মুখ ফিরিয়ে সেই আগুনের দিকে চাইল। ওর চাতক-মনের চোখের সামনে সারে সারে শত শত লাল-নীল দেশলাই-এর দেওয়ালি দারুণ দম্ভে দপদপিয়ে উঠল।

    চৈতির মাথার মধ্যে ছোটোবেলার মিষ্টি ভাবনাগুলি ঝিনুক-ঝুনঝুনির মতো কোনো অদৃশ্য সেতারির ঝালায় ঝরতে লাগল। ললিপপ, লাল-নীল দেশলাই, খেলনা, শিউলি ফুলের গন্ধ, মায়ের চোখের চাউনি; সব একে-একে সারে সারে, ওর মাথায় ভিড় করে এল।

    চৈতির মনে হল, এই শারদ-রাতে শুয়ে শুয়ে ও কোনো স্নিগ্ধ সুগন্ধি স্বপ্ন দেখছে।

    রুদ্র হ্যারিকেনটা নিবিয়ে দিল।

    একদল নরম তুলতুলে সাদা বেড়ালের মতো শরতের জ্যোৎস্না আমলকী গাছের ডাল বেয়ে জানলা গলে ঝুপঝুপিয়ে খাটে এসে নামল। টিনের চালে চৈতি শিশির পড়া শব্দ শুনতে পেল, টুপ টুপ।

    পাশে শুয়ে রুদ্র কী যেন বলতে যাচ্ছিল।

    ওর ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে চৈতি ফিসফিস করে বলল, চুপ; চুপ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }