Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গোসাঘর (প্রা.) লিমিটেড

    গাড়ি আজ সার্ভিসে গেছে।

    টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল দুপুর থেকেই। ট্যাক্সি পাওয়ার অনেক চেষ্টা করেও পেলাম না। ডালহৌসি অবধি হেঁটে এসে মিনির জন্যে দাঁড়িয়েছিলাম। চাটুজ্যেও টুরে গেছে, নইলে কোনো প্রবলেমই ছিল না।

    আমি লম্বা লোক। ঘাড়ে ব্যথা হয়ে যায় মিনিতে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থেকে। বেঁচে থাকতে তো অনুক্ষণ মাথা নীচু করতেই হচ্ছে। তার ওপরে বাসেও মাথা নীচু করতে ইচ্ছে করে না। এ কারণেই মিনিবাসে আদৌ চড়ি না। বৃষ্টি না হলে হেঁটেই চলে যেতাম আস্তে আস্তে।

    হঠাৎই একটা সাদা মারুতি এসে দাঁড়াল সামনে।

    কিটু জানলা দিয়ে মুখ বের করে বলল, কী রে? গাড়ি কী হল?

    সার্ভিসে।

    বাড়ি যাবি তো?

    হ্যাঁ। আর কোথায় যাব। মোল্লার দৌড় মসজিদ।

     

     

    কিটু বাঁ-হাত দিয়ে দরজা খুলে দিয়ে বলল, উঠে আয়।

    পেছনে কুঁদঘাটের মিনি হর্ন দিচ্ছিল। কনডাক্টর চেঁচিয়ে বলল, অ্যাই প্রাইভেট! কী পেঁয়াজি হচ্ছে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে?

    কিটু বলল, টেররিজম! টেররিজম ইজ দা অর্ডার অফ দা ডে। মাঝে মাঝে সত্যিই ইচ্ছে হয় যে, মিনিবাসের ড্রাইভার আর কনডাক্টরদের টেনে নামিয়ে থাপ্পড় কষাই গালে। আজকাল জোর যার মুলুক তার। আইন-শৃঙ্খলা, ভদ্রতা সবই দেশ থেকে উবে গেল।

    হুঁ। মাও সে তুং-ই সার। বন্দুকের নলই হচ্ছে সব ক্ষমতার উৎস, বুঝলি? পাঞ্জাব, মিজোরাম; দার্জিলিং; দেখছিস না? শুধু আমরাই ম্যাদামারা বলে সব সহ্য করে বেঁচে আছি।

    টেররিজম ডাজ নট লিড ইউ এনি হোয়্যার।

    ও বলল।

     

     

    গাড়িটা ময়দানে এসে পড়তেই কিটু বলল, সোজা বাড়িতেই যাবি?

    আর কোথায় যাব বল? পরাধীন পুরুষ। বাড়ির গর্ত থেকে বেরিয়ে অফিস, অফিসের গর্ত থেকে বেরিয়ে বাড়ির গর্ত। গর্তর জীবই হয়ে গেছি পুরোপুরি।

    কিটু গাড়ির লাইটারের স্লট থেকে লাইটারটা বের করে, লাল আলোতে গাড়িটা দাঁড়াতেই সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরাল।

    বলল, খাবি নাকি একটা?

    না:। ছেড়ে দিয়েছি।

    সে কী রে? গ্রেট কনগ্রাটস। কী করে পারলি তুই-ই জানিস।

    ট্রাফিক সিগন্যাল সবুজ হতেই অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ও বলল, নমিতা কেমন আছে রে?

     

     

    ভালোই। অরা কেমন আছে?

    আমি বললাম।

    ভালোই। তাদের খারাপ থাকার কী আছে।

    উষ্মার সঙ্গে বলল কিটু।

    মনে হচ্ছে অরার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে আজ? কী রে?

    আজ আর কাল কী! ঝগড়া তো রোজকারই। প্রতি সপ্তাহে দিন পাঁচেক বাক্যালাপ বন্ধ থাকে। এবং বিশ্বাস কর, সে-কটি দিনই বড়ো শান্তিতে কাটে।

    বাড়ি ফিরে কী করিস তুই?

    কী করি? বাড়ি ফিরে রাতের রান্না করি এবং ছেলেটাকে অঙ্ক করাই।

     

     

    কেন নমিতা?

    ওরা কুকিং ক্লাসে যায়। জাপানিজ রান্না শেখে।

    বা:। দারুণ দারুণ রান্না খাস তাহলে!

    তা আর বলতে!

    কথাটাতে উলটো মানে হল।

    রোজই যায় রান্নার ক্লাসে?

    না। অন্যদিন পিয়ানো শিখতে যায়। বাকি দিন জার্মান।

    জার্মান কেন? ও কি জার্মানিতে যাচ্ছে?

     

     

    শুনিনি তো! তবে ওর এক বয়ফ্রেণ্ড জার্মানিতে থাকে শুনেছি।

    পার্ক স্ট্রিটে পড়েই কিটু বলল, তোর মতো সুখী দাম্পত্যজীবন তো আমার নয়। তুই খুবই লাকি। নমিতার মতো মেয়ে হয় না। একেবারে আইডিয়াল ওয়াইফ। মধ্যবিত্ত মানুষদের যেমন স্ত্রী দরকার।

    ভাবছিস তাই!

    আমি বললাম বন্ধুর বোন আর বোনের বন্ধুদের নিজের বোনের থেকে অনেকই ভালো মনে হয়। ছাত্রাবস্থায়। আর বিয়ের পর অন্যর বউকে। সে যার বউই হোক-না-কেন!

    বদলাবদলি করেই দ্যাখ-না! হুঁ!

    তুই আমার ছেলেবেলার বন্ধু। তোর এতবড়ো সর্বনাশ আমার দ্বারা হবে না।

    আমিই তো অরাকে দিয়ে দিচ্ছি খুশি মনে।

     

     

    অরা কি তোর বুধি-গাই যে, তুই দিয়ে দিলেই সে আমার পেছন পেছন হেঁটে আসবে? তুই এক নম্বরের মেল-শভিনিস্ট।

    স্টুপিড। সেজন্যে নয়। অরাকে নিয়ে ঘর করতে হলে সাত দিনেই তুই আত্মহত্যা করবি।

    আর আমার বউকে নিয়ে তুই ঘর করলে তিন দিনের মাথায় তোর সাত-তলা ফ্ল্যাট থেকে লাফিয়ে পড়তে হবে তোকে।

    কিটু বলল, মনটা রিয়্যালি ভালো করে দিলি রে শিবেন। দুঃখী তাহলে আমি একাই নই! দুঃখটা সকলেরই সমান হলে দুঃখের ভারটা লাঘব হয়। কী বলিস?

    মনে করে আনন্দ হয় যে, লাঘব হয়। বাড়ি ফিরেই তো যে-তিমিরে সেই তিমিরেই।

    অনেক দিন আড্ডা মারা হয়নি তোর সঙ্গে। চল কোথাও বসে কফি খাই।

    ভাগ! সন্ধের পর কফি খেয়ে কী হবে। হুইস্কি খাওয়াবি তো বল! তুই কি লেডিজ গ্রূপের মেম্বার যে খামোকা কফি খেয়ে লিভার নষ্ট করবি?

     

     

    চল তাই খাওয়াব।

    কোথায় যাবি?

    চল ক্লাবেই যাই?

    কোন ক্লাবে?

    ক্যালকাটা ক্লাবে।

    না না ওখানে যাব না। একগাদা চেনা লোক বেরুবে। তাও আজ আবার শুক্কুবার। দু-জনে নিরিবিলিতে আড্ডা দেওয়া যাবে না।

    তাহলে চল তোর বাড়িতেই যাই। কিটু বলল।

    ফু:। তাহলে আর দুঃখ ছিল কী? ছেলের পরীক্ষা শেষ না হলে বাড়িতে কাউকেই নিয়ে যাওয়া মানা। বলল টাবু।

     

     

    এই সময় আবার কীসের পরীক্ষা?

    স্কুলের টেস্টস।

    তা তো থাকবেই সারাবছর।

    সারাবছরই বারণ। তার চেয়ে তোর বাড়ি যাই চল। পঞ্চাশটা গাধা মরে একজন বিবাহিত পুরুষ হয়। বুঝলি! ফিনিতো। একেবারেই ফিনিতো!

    মাথা খারাপ। তোকে বা আমার কোনো বন্ধুকে সাত দিনের নোটিশ না দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

    তাহলে চল অলিম্পিয়াতে যাই। মুখার্জি অফিস ফেরতা রোজ ঘণ্টা-দুই থাকে নাকি ওখানে। আমাকে অনেক দিনই যেতে বলেছে। এত ডিপ্রেসড ফিল করি যে, একেবারেই ম্যাদামারা হয়ে গেছি। কোথাওই যেতে ইচ্ছে করে না।

    ওরও কি ওই প্রবলেম? মানে, মুখার্জির?

     

     

    ওই ওই। সব শালারই এক প্রবলেম! এই পরাধীনতা আর সহ্য হয় না। মেনস লিব-এর জন্যে একটা মুভমেন্টের সময় হয়েছে। টাইম ইজ রাইপ। আর সহ্য হয় না। কিছু-একটা করা উচিত। হাই টাইম। সত্যি বলছি। আমরা পুরুষরাই আমাদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। কারনানি ম্যানসনের ভেতরে গাড়ি রেখে যখন কিটুর সঙ্গে অলিম্পিয়া ঢুকলাম, দেখি মুখার্জি একতলাতেই বসে আছে। অলিম্পিয়া আলো করে। অলিম্পিয়া হচ্ছে কলকাতার আঁতেলদের পুরোনো আড্ডা।

    আমাদের দেখেই হাত নেড়ে আসতে বলল ও। ওর টেবিলে একজন দারুণ হ্যাণ্ডসাম ভদ্রলোক অ্যাশ কালারের একটি স্মার্ট বিজনেস সুট পরে বসেছিলেন। আমরা চেয়ার টেনে বসতেই আলাপ করিয়ে দিল মুখার্জি আমাদের সঙ্গে। বলল, মিট মিস্টার হাবুল ঘোষ। জ্যাক কিলবির এম.ডি.। খুব ভালো ক্রিকেটার ছিল। দারুণ ইনসুয়িং বল করত। একটুর জন্যে বেঙ্গলে খেলার চান্স মিস করেছিল। আমার কলিগ মানে জ্যাক কিলবিও আমাদেরই গ্রূপে।

    হাবুল ঘোষ উঠে দাঁড়িয়ে হ্যাণ্ডশেক করলেন। বললেন, নাইস টু মিট ইউ!

    মুখার্জি বলল, আরে ওরা দু-জন আমার ছেলেবেলার বন্ধু। এক স্কুল; এক কলেজ। অত ফর্ম্যাল হবার দরকার নেই হাবুল ওদের সঙ্গে।

     

     

    তারপর আমাকে বলল, তোরা হঠাৎ এই জয়েন্টে? পথ ভুলে?

    কিটু বলল, ঠিক পথ ভুলে নয়। মানে….

    মুখার্জি বলল, আমি কিন্তু আজ এখুনি উঠব। তোরা কী খাবি বল? আমিই খাওয়াচ্ছি। আজকেই তোরা এলি! হাবুলের সঙ্গে একটা জায়গায় যাব যে আমি এখুনি।

    তা তুই যা-না। আমরা তো আর জলে পড়িনি।

    বেয়ারা এসে দাঁড়াল।

    কী খাবি তোরা? হুইস্কি তো?

    হ্যাঁ।

    হাবুল ঘোষ বললেন মুখার্জিকে, হোয়াই ডোন্ট দে জয়েন আস?

     

     

    মুখার্জি বলল আরে তুমি কি পাগল হলে? ওরা দু-জন হচ্ছে যাকে বলে হেন-পেকড হাজব্যাণ্ড! ওরা ওখানে গিয়ে কী করবে?

    কোথায় যাবার কথা বলছিস রে?

    তা বলা যাবে না। যারা সেখানে না-যায় তাদের ওই জায়গা সম্বন্ধে কিছুমাত্রও বলা বারণ।

    কিটু টেবিলের নীচে হাত বাড়িয়ে আমার হাঁটুতে চিমটি কাটল। মুখার্জিটা যে, পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছে অমন দুশ্চরিত্র হয়ে গেছে তা ভেবেই খারাপ লাগল আমারও।

    আমি বললাম, কোথায় যাচ্ছিস তা না-জেনেই যাই কী করে?

    হাবুল ঘোষ বললেন, শ্রেণিসংগ্রামে আমরা মানে আমি আর মুখার্জি শামিল হয়েছি। স্ত্রীদের দ্বারা অত্যাচারিত স্বামীরা মিলে একটি সিক্রেট অর্গানাইজেশন করেছি আমরা।

    তোরা কি ভাবলি খারাপ পাড়ায় যাচ্ছি আমরা? আরে সেসব জায়গায় যেতে পারলে তো টাইটই করে দিতে পারতাম তাদের। আমরা হচ্ছি শালার না ঘরকা, না ঘাটকা। তোরা বউয়ের আঁচলধরা মেনিমুখো পুরুষেরা কী বুঝবি আমাদের কথা?

    মুখার্জি বলল, দুঃখ দুঃখ গলায়।

    হাবুল ঘোষ বললেন, কী যাতনা বিষে বুঝিবে সে কীসে কভু আশিবিষে দংশেনি যারে?

    বানানোটা ভুল হল।

    কিটু বলল।

    নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস ওই পারে যত সুখ আমার বিশ্বাস। আমি বললাম হাসবার চেষ্টা করে।

    আমরা উঠছি। সি ইউ এগেইন।

    কিটু বলল, উই আর ইন দা সেম বোট ব্রাদার! ইফ ইউ রক দা ওয়ান এণ্ড/ইউ আর গোয়িং টু রক দা আদার।

    কিটু বলল, পল রবসনের গান। অ্যাপার্থায়েড নয় এ। আমাদের দুঃখ আরও গভীর। ফেয়ার সেক্সদের আনফেয়ারনেসের বিরুদ্ধেই আমাদের সকলের বিদ্রোহ।

    একটা ফোরাম চাই আমাদের বক্তব্য ভয়েস করার। মাউথপিস চাই।

    ফোরাম আছে। ফর ইয়োর ইনফরমেশন। যাবেন তো চলুন।

    হাবুল ঘোষ বললেন।

    উই আর গেম।

    কিটু বলল। তারপর বলল, একটা করে হুইস্কি খেয়ে গেলে হত না।

    ওখানেই হবে, চলুন। গাড়ি কোথায় রেখেছেন?

    কারনানি ম্যানসনে।

    মুখার্জি বলল, তাহলে কিটু তুই আমাদের গাড়িতে আয়।

    কিটুর গাড়িতেই এসেছি আমি। তুই বরং কিটুর গাড়িতে যা মুখার্জি। আমি বরং ঘোষের সঙ্গে যাই।

    ফাইন।

    হাবুল ঘোষের গাড়ি রাসেল স্ট্রিটে ছিল। গাড়িতে উঠে আমি শুধোলাম, কতদূর যেতে হবে?

    কাছেই। থিয়েটার রোডে।

    ব্যাপারটা কী?

    গেলেই জানবেন। আসলে ব্যাপারটা কী জানেন? স্ত্রীদের অত্যাচারিত স্বামীদের সংখ্যা যে এত বেশি সে সম্বন্ধে আমাদেরও কোনো ধারণা ছিল না। আমাদের এই মুভমেন্ট-এর স্লো-বলিং এফেক্ট হচ্ছে। কী বলব আপনাকে, সমাজের বাঘা বাঘা পুরুষরা যে সকলেই প্রায় মেনিবেড়াল এবং আমাদেরই দলে, এই অর্গানাইজেশনটা না করলে জানতেই পেতাম না। প্যাথেটিক অবস্থা মশাই। এইসব ম্লান মূক মুখে দিতে হবে ভাষা, বুঝেছেন? সারাজীবন লেডিজ সিটে যাদের বসতে দিলাম, মাথায় করে রাখলাম নরম লাজুক বলে, তারা যে মশাই এতবড়ো হারামজাদি তা কি আগে জানতাম!

    ছি ছি। মাইণ্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ। নিজেদের স্ত্রীদের সম্বন্ধে এমন ভাষা ব্যবহার করা কি ঠিক?

    হোয়েন ইউ আর পুশড টু দা ওয়াল তখন…। তখন বেড়ালদের দাঁত খিঁচানো, লোম ফোলানো ছাড়া উপায়ই-বা কী? সমস্যাটা আমাদের সারভাইভালেরই সমস্যা মশায়। দজ্জাল মেয়েদের নিয়ে রোম্যান্টিসিজম যারা করে তারা কুইসলিং ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা সিরিয়াসলি ভাবছি আমাদের এই ফোরামের একটি আর্মড উইং করব। তেমন তেমন অত্যাচারী মেয়েছেলেদের গুলি করে মেরে দেব। মশাই! কাগজে কাগজে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে মেয়েদের আত্মহত্যার কেস ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ছাপা হয়, আর আমাদের মতো লক্ষ লক্ষ স্বামী যে তিল তিল করে স্লো পয়জনিং-এ মারা যাচ্ছি, খুন হয়ে যাচ্ছি, হাপিস হয়ে যাচ্ছি তাদেরই মৃণালভুজে, তাদের বাঘনখে সে খবর কে রাখে? পুরুষরাই পুরুষদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। ‘উইমেনস লিব’, ‘উইমেনস লিব’ করে পুরুষরাই সবচেয়ে বেশি চ্যাঁচায়। শালা ভন্ডামির পরাকাষ্ঠা। আরে চাচা? আগে আপন প্রাণ বাঁচা!

    দুই

    থিয়েটার রোডে, এয়ার কণ্ডিশণ্ড মার্কেটের কাছাকাছি একটি সম্ভ্রান্ত বাড়ির তিন তলায় উঠে গেলাম লিফটে হাবুল ঘোষের সঙ্গে। একটি ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বেল টিপলেন হাবুল ঘোষ।

    ওই দেখুন! হাবুল ঘোষ বললেন।

    তাকিয়ে দেখি দরজার ওপর ঝকঝকে পেতলের প্লেটে কালো অ্যানোডাইজ করা অক্ষরে লেখা আছে ইংরেজিতে: ‘গোসাঘর প্রাইভেট লিমিটেড’। রেজিস্টার্ড অফিস।

    একজন দাড়ি-গোঁফঅলা বেয়ারা এসে দরজা খুলে সেলাম করল হাবুল ঘোষকে।

    ভেতরে ঢুকতেই দেখি বিরাট ফ্ল্যাট। প্রায় তিন হাজার স্কোয়ার ফিটের হবে। দারুণ সুন্দর সিটিং রুম। একপাশে বার। দেখি মুখার্জি আর কিটু হুইস্কির গ্লাস নিয়ে বসে আছে। বেয়ারা আমাদেরও হুইস্ক দিল।

    হাবুল ঘোষ বেয়ারাকে শুধোলেন—সামসের, এখন কজন মেম্বার আছেন?

    পাঁচ-জন স্যার।

    উর্দিপরা একজন কুক এসে জিজ্ঞেস করল ডিনার খেয়ে যাব কি না আমরা?

    হাবুল ঘোষ বললেন আজ নয়। এখন আছেন কে কে? ভেতরে?

    ব্যানার্জি সাহেব, বিজন সেন সাহেব, মনীষ গোস্বামী সাহেব, নাটু চক্রবর্তী সাহেব আর কুচু পালিত সাহেব।

    সাহেবদের খবর দাও। বলো যে দু-জন ক্যাণ্ডিডেট নিয়ে এসেছি।

    বাবুর্চি গিয়ে খবর দিল ভেতরে। দিয়ে এসেই বলল, আমি যাই সাহেব। এক সাহেব শুঁটকিমাছ খেতে চেয়েছেন এবং আর এক সাহেব কাউঠার মাংস। চক্রবর্তী সাহেব মুগের ডালের খিচুড়ি, সঙ্গে কড়কড়ে করে আলু ভাজা আর শুকনো লংকা ভাজা। বিজন সাহেব খাবেন শুধুই সুপ। আমি যাই স্যার। কিছু খেলে, বলবেন।

    সিটিং রুমের দেওয়ালে একজন গোবেচারা শীর্ণকায় মানুষের মস্ত অয়েল-পেইন্টিং। ধুতি-পাঞ্জাবি পরা সেক্সস্টার্ভড চেহারার একটি রোগাপাতলা মানুষ। ছবির নীচে লেখা আছে গোটা গোটা অক্ষরে:

    ‘নি:শেষে প্রাণ যে করিবেক দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই। ভয় নাই ওরে ভয় নাই।’

    এ কার ছবি?

    কিটু শুধোল হাবুল ঘোষকে।

    এ ছবি, এ যুগের মোস্ট-টর্চাড হাজব্যাণ্ড বিটু ব্যানার্জির। দু-বেলা স্ত্রীর হাতে মার খেতেন উনি। এবং একদিন ওই মারের চোটেই পটল তোলেন। ওঁর শ্বশুর স্টিভেডর ছিলেন মস্তবড়ো। এই অ্যাক্সিডেন্ট, থুরি, হত্যাকান্ডর খবর কোনো কাগজই ছাপেনি। ওঁরই স্মৃতিতে ক্লাবের এই সিটিং রুমের নাম রাখা হয়েছে ‘বিটু হল’।

    বা:। ওঁর নাম বুঝি বিটু ছিল?

    হ্যাঁ। ভবিষ্যতে কোনো পুরুষই যেন নারীর হাতে অমন নিগৃহীত হয়ে মারা না যান তাই দেখা আমাদের সকলেরই কর্তব্য।

    এমন সময় ভেতর থেকে সবুজ চেক চেক লুঙ্গি আর হাতকাটা সাদা গেঞ্জি পরা একজন ছ-ফিট লম্বা ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন হাতে একটি মোটা বই নিয়ে।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    কী বই এটা ব্যানার্জি সাহেব?

    মুখার্জি শুধোল।

    ব্যানার্জি সাহেব বেয়ারাকে বললেন, হুইস্কি উইথ সোডা অ্যাণ্ড আইস। বলেই, বইটা মুখার্জির হাতে দিয়ে দিলেন। উঁকি মেরে দেখলাম, বইটির নাম ‘বশীকরণ এবং বগলামুখী কবচ।’

    কত্তদিন?

    হাবুল ঘোষ শুধোলেন ওঁকে।

    দশ দিন হয়ে গেল।

    কী রি-অ্যাকশন? হোম-ফ্রন্টে?

    রি-অ্যাকশন? আনন্দবাজারে ছেলেকে দিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে ‘বাবা ফিরে এসো। মা শয্যাশায়ী। অনশনে আছেন।’ অথচ কালই খবর পেলাম যে, তোমার বউদিকে দেখা গেছে পাঁচ পদ দিয়ে, মানে সত্তর টাকা কেজি-র গলদা চিংড়ি, চল্লিশ টাকা কেজি-র ইলিশ এবং পঁয়ত্রিশ টাকা কেজির রাবড়ি সহযোগে সকাল-সন্ধে খাচ্ছেন। খোশমেজাজেই আছেন। তাঁর বয়ফ্রেণ্ডও আসছেন বাড়িতে রেগুলার।

    মুখার্জি বলল, বলেন তো কড়াক-পিং করে দিই। আমাদের অ্যাকশন স্কোয়াড তো প্রায় তৈরি।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    কিছুই করতে হবে না রে ভাই। আমার বউ-এর বয়ফ্রেণ্ডের যা চেহারা! যেন গুড়ের হাঁড়িতে-পড়া নেংটি ইঁদুর। ও স্বখাতসলিলেই ডুবে মরবে। সংস্কৃত শ্লোক পড়োনি? ‘দুর্বলে সবলা নারী সা: প্রাণঘাতিকা:।’

    মুখার্জি হো-হো করে হেসে উঠল।

    বলল, আপনার সেন্স অফ হিউমার আছে।

    এঁরা কারা? আজ কি এঁদের ইন্ট্রোডাকশন আছে? নোটিশ পাইনি তো আমরা।

    না না ইন্ট্রোডাকশন আজ নেই। তবে প্রসপেক্টিভ মেম্বার। তাই নিয়ে এলাম দেখাবার জন্য।

    ওঁদের বলে দিয়েছ তো সিক্রেট ডাইভালজ করলে কী হবে?

    হ্যাঁ। কড়াক-পিং।

    হুঁ। কড়াক-পিং। টেররিস্টদের হেল্প ছাড়া কোনো সিক্রেট অর্গানাইজেশনই চলে না। বলেই আমার দিকে চেয়ে বললেন, বউ লুঙ্গি পরতে দেয় না বাড়িতে। এখানে এসে হাওয়া খেয়ে নিচ্ছি মশাই। বেড়ে আছি। কী যে সুখ কী বলব! আর্নড লিভ পাওনা আছে এক মাস। এক মাসের আগে ওই শত্রুপুরীতে ফিরে যাচ্ছি না আর।

    বেয়ারা আমাদের জন্যে হুইস্কি এনে দিল। সঙ্গে চিনেবাদাম, কাঁচালঙ্কা কাঁচাপেঁয়াজ।

    মুখার্জি বলল, চিজ-টোস্ট খাবি তোরা অথবা চিকেন-ওমলেট? অফিস ফেরতা আসছিস তো।

    কিটু বলল, চিজ-টোস্ট।

    আমি বললাম, আমিও তাই।

    হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে আমি বললাম বোস সাহেব, আপনাদের এই ক্লাবের অ্যাক্টিভিটিস কী কী?

    দজ্জাল স্ত্রীদের হাত থেকে, বলিষ্ঠা স্ত্রীদের হাত থেকে, অতিমাত্রায় বেশি নেকুপুষুমুনু স্ত্রীদের হাতে থেকে, ইনটেলেকচুয়াল স্ত্রীদের হাত থেকে, স্বামীর চেয়েও বেশি গুণী স্ত্রীদের হাত থেকে হতভাগ্য পুরুষদের রক্ষা করার জন্যে যা-কিছুই করা দরকার সেই সবকিছু করাই এই ক্লাবের অবজেকটিভস। তাই-ই অ্যাক্টিভিটি।

    ব্যানার্জি সাহেবকে হুইস্কি এনে দিল বেয়ারা।

    চুমুক দিয়ে উনি বললেন, সারা পৃথিবীতে যখন ‘উইমেনস লিব’-এর ধোঁয়া উঠছে কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে মেনস লিব-এর আন্দোলনে আমরা সকলে যদি, যাকে বলে, কী বলব, প্রসেশন-করা ছোঁড়াদের ভাষায় যাকে ‘শামিল’ হওয়া বলে তাই-ই না হই, তবে পৃথিবী থেকে সভ্য, ভদ্র, মুখচোরা শিক্ষিত পুরুষ জাতটাই অবলুপ্ত হয়ে যাবে।

    আমি বললাম বা:। আপনি দারুণ বাংলা বলেন তো।

    মুখার্জি, আমাদের ছেলেবেলার শ্যামবাজারের টার্মিনোলজিতে বলল, কার কাছে খাপ খুলছিস? ব্যানার্জি সাহেব খখরখভ ইউনিভার্সিটির বাংলার হেড অব দা ডিপার্টমেন্ট।

    সেটা কোথায়? খখরখভ ইউনিভার্সিটি?

    কাজাকিস্থানে। কাজাকিরা বাংলা খুব ভালোবাসে। উনি বেনারস ইউনিভার্সিটিতে এসেছেন ডেপুটেশনে দু-বছরের জন্য। অবশ্য ওঁর শ্বশুরবাড়ি বেনারসেই।

    বেনারস থেকে আপনি এখানে এসেছেন? কলকাতায়? গোসাঘরে?

    অবাক হয়ে কিটু বলল।

    ধরণি দ্বিধা হলে তারই মধ্যে সেঁধিয়ে যেতাম মশাই, আর বেনারস থেকে কলকাতা! স্ত্রী যদি ক্ষুরধার হন তবে সোনা। আর তার ওপরে যদি আবার শ্বশুরবাড়ির তিন মাইল রেডিয়াসের মধ্যে থাকেন তবে তো সোনায়-সোহাগা।

    কিটু বলল, ব্যাপারটা বোধ হয় জেনারালাইজ করা ঠিক নয়। শ্বশুরবাড়ির কাছে থাকতে তো আদর-টাদরও…

    সেসব দিন চলে গেছে। শ্বশুরবাড়ির হ্যাপা যারা সামলায়, তারাই জানে।

    এমন সময় ভেতর থেকে একজন স্লিপিংসুটপরা রোগাপাতলা ভদ্রলোক হাতে একটি ম্যাগাজিন নিয়ে এসে সিটিং রুমে ঢুকলেন।

    হাবুল ঘোষ বললেন, কী হে কুচু! কী খবর?

    ওল কোয়ায়েট অন দা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। চামেলি নাকি টিভিতে আমি নিরুদ্দেশ হয়ে গেছি বলে অ্যানাউন্সমেন্ট যাতে হয় তার বন্দোবস্ত করেছে। আজই সন্ধে থেকে। খবর পেলাম বিকেলে। পুলিশে তো খবর দিয়েইছে। তুই পুলিশের অমলচন্দ্র রায় এবং মনীন্দ্রদাকে বলে রেখেছিস তো?

    বলেছি। কিন্তু ওঁদের দিয়ে আমাদের পারপাস কতখানি সার্ভড হবে তা জানি না। ওঁদের দু-জনেরই স্ত্রীদের সঙ্গে খুবই সদ্ভাব। ঝগড়া একদিনের জন্যেও হয় না।

    তা হলে বীরেনকে বল।

    কোন বীরেন?

    আরে বীরেন কুন্ডু।

    দুর দুর। ওঁর সঙ্গে ওঁর বউ-এর একদিনও ঝগড়া হয়নি বিয়ের পর থেকে। আমি জানি। ফর সার্টেন। ওরা সব ভাগ্যবান পুরুষ। আমাদের হতভাগা পুরুষই চাই যাঁরা আমাদেরই মতো। নইলে আমাদের জন্যে করবেন কেন?

    তা হলে বিনয় চন্দ্রকে…

    সেও ওই দলেই পড়ে। বউ বলতে সে অজ্ঞান আর সে বলতে তার বউও অজ্ঞান।

    তা হলে আর কী! বউয়ের সঙ্গে দু-বেলা ফাটাফাটি হয় এমন পুলিশ অফিসারই দ্যাখ ওপরতলার। কী কেলো! এই বউভক্ত মানুষেরাই পুরুষদের ডুবিয়ে দিল।

    মুখার্জি বলল, তা হলে কুচুদা, তুমি টি.ভি. স্টার হয়ে গেলে! আজই কি তোমাকে দেখাবে? টি.ভি.-তে? মেইডেন অ্যাপিয়ারেন্স?

    তাই তো শুনেছি। কিন্তু তোমরা কি এই ম্যাগাজিনটা দেখেছ?

    কী ম্যাগাজিন?

    সকলেই উৎসুক হয়ে তাকালেন বইটার দিকে।

    ‘প্রমীলা’। এমনিতেই তো তিষ্ঠোনো যায় না, তার ওপর স্ত্রীদের মাসোহারা দিতে বলেছে এই কাগজে।

    মাইনে? স্ত্রীদের? হাউ ডেঞ্জারাস! ভীত গলায় বললেন ব্যানার্জি সাহেব।

    মুখার্জি বলল, শালা! সারাজীবনই চাকরি করলাম আমি আর মাইনেটা পেল বউ-ই। এখন আবার বউদের মায়না। কী কেলো মাইরি!

    হ্যাঁ।

    কুচুদা বললেন, এই পত্রিকার মহিলা এডিটর আমাদের খতম-লিস্টে আছে। ‘প্রমীলা’র সম্পাদক হিসেবে বউয়েদের মাইনের কথা লিখে ঘরে ঘরে যা অশান্তি এনেছে তাতে তাকে আর বাঁচতে দেওয়া ঠিক নয়। অ্যাকশন স্কোয়াডকে বলতে হবে।

    ব্যানার্জি সাহেব বললেন, আরও একজন ন্যালাখাবা পুরুষ লেখককেও শেষ কোরো সেইসঙ্গে।

    কে সে?

    মধুকরীর রাইটার।

    কুচুদা বললেন।

    কিটু বলল, মধুকরী নয়; মাধুকরী।

    ওই হল। ওই লেখকটিও ডেঞ্জারাস। মেয়েদের খেপিয়ে তুলছে আমাদের বিরুদ্ধে।

    ব্যানার্জি সাহেব এক ঢোকে হুইস্কি শেষ করে, টাক করে গ্লাসটা সোফার পাশে নামিয়ে রেখে বললেন, মারো শালাকে! আর দেরি নয়।

    এঁদের রকমসকম হাবভাব দেখে আমার সত্যিই ভয় করতে লাগল। আমার বউ-এর সঙ্গে আমার ঝগড়া হয় ঠিকই, বহু ব্যাপারেই অমিলও আছে। আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার যে করে তাও ঠিক কিন্তু তবুও সে আমার সন্তানের মা, আমার বিবাহিতা স্ত্রী; ভালোও সে আমাকে নিশ্চয়ই বাসে, যদিও তার মতনই করে। এসব কিছু জেনে তার বিরুদ্ধে এমন সাংঘাতিক জেহাদ ঘোষণা করার প্রবৃত্তি অথবা সাহসও আমার ছিল না। তার ওপর টেররিজম! দাম্পত্যে স্ত্রীদেরই একচেটিয়া অধিকার টেররিজম-এ কখনোই পুরুষদের নয়। আমার অস্বস্তি লাগছিল। ভয়ও করছিল। এভরিথিং হ্যাজ আ লিমিট। বাঘিনিরা যতক্ষণ খাঁচার মধ্যে বা অলক্ষে আছে সাহসের অভাব হবে না। কিন্তু হঠাৎ যদি…

    কুচু সাহেব বললেন, স্বগতোক্তিরই মতো, এভরিথিং হ্যাজ আ লিমিট। শালা! আমার নিজের মেহনতের পয়সায় একটু শুঁটকিমাছ আর কাউঠা খাব তাও একদিনও খেতে দেবে না। বাড়িতে মগ বাবুর্চি আছে। চিটাগাং-এরই লোক, কোম্পানি তাকে পাঁচশো টাকা মাইনে, টোয়েন্টি পার্সেন্ট বোনাস দেয়, আর শালা আমারই বেলা যত্তসব। ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে কে বাঁচিতে চায়?’

    ব্যানার্জি সাহেব বললেন, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।’ রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত বলে গেছেন।

    মুখার্জি বলল রবীন্দ্রনাথের কথা ছাড়ুন দাদা। তাঁর তো শিলাইদহ ছিল, পদ্মা বোট ছিল; স্ত্রীর এক্তিয়ার থেকে কেটে পড়ার নানা উপায় ছিল। তা ছাড়া মৃণালিনী দেবী কতদিনই-বা বেঁচে ছিলেন।

    কিটু বলল, অনেক ভেবে দেখেছি, ওয়াইফকে গাধা-বোটের মতো যারা জীবনে বেঁধে রেখেছে তারা যতখানি জল সরিয়েছে তাদের চারপাশে, ততখানি কখনো এগোতে পারেনি। জীবনে যেসব পুরুষ বড়ো হয়েছে তাদের প্রায় সকলেই হয় বিয়ে করেইনি, নয় সকাল সকাল বউ মরে গেছে। ফর এগজাম্পল: নেহেরু, বিধান রায়।

    ব্যানার্জি সাহেব বললেন, নয়তো ঘন ঘন বিয়ে করতে হবে। একটা ধরো আর একটা ছাড়ো। এগজাম্পল: আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। রিচার্ড বার্টন এবং আরও অসংখ্য জাজ্বল্যমান উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে।

    মুখার্জি বলল, তোরাও মেম্বার হয়ে যা। মাসে দুশো টাকা চাঁদা, যেকোনো ভালো ক্লাবের মাসিক চাঁদার চেয়ে অনেকই কম। বউ ত্যাণ্ডাই-ম্যাণ্ডাই করলেই ‘নিরুদ্দেশ’ হয়ে যাবি। এখানে দারুণ খাওয়া। যার যা-খুশি খাবি, মেমসাহেব বউরা যা খেতে দেয় না, কচুর শাক, চিতলের পেটি, ট্যাংরার চচ্চড়ি, কাসুন্দি, কুমড়ো পাতা ভাজা, কাঁঠালের বিচি আর পাট পাতার তরকারি, শুঁটকিমাছ, ইলিশের মাথা দিয়ে পুঁইশাক এস্টেটরা। এবং ওয়েল-স্টকড বার তো আছেই। ভেতরের ঘরে সার সার বাংক আছে দেওয়ালে। শুয়ে পড়লেই হল। ভিডিয়ো রুম আছে। দারুণ দারুণ সফট-পর্নর ক্যাসেট আছে। ভালো লাইব্রেরি, অনেকরকম বই। চার্জও থ্রি-স্টার হোটেলের চেয়েও কম। ডাইনার্স-ক্লাব কার্ডও আমরা অনার করি। চলে আসবি, একটা ফোন করে দিয়েই। নাগিনির ফোঁসফোঁসানি কমলে, যখন ‘দেহিপদপল্লবমুদারম’ অ্যাটিচুড হবে তখনই রাজার মতো ফিরে যাবি কলার তুলে। ফিরে বলবি, আর যদি ‘একদিনও’ হয় তবে আবারও ‘নিরুদ্দেশ’ হয়ে যাব। মেয়েছেলের জাত হচ্ছে শক্তের ভক্ত নরমের যম, বুয়েচিস?

    কিটু পার্স বের করে বলল, এই নে দুশো টাকা। মেম্বারশিপ ফর্ম দে। সই করে দিচ্ছি।

    না না, ওরকম করে হবে না। অ্যাপ্লিকেশন করলেই তো হবে না। আমাদের কড়া স্ক্রিনিং কমিটি আছে। নরম মনের পুরুষদের নেওয়া হয় না। একজন মেম্বারও বিশ্বাসঘাতকতা করলে পুরো অর্গানাইজেশানটা শ্যাটার্ড হয়ে যাবে। তাই কথা দিতে পারছি না যে, তুই অ্যাপ্লাই করলেই নিতে পারব আমরা। পুরুষ যথার্থ পুরুষ কি না তা না-যাচাই করে মেম্বার করি না আমরা। কোনো রিস্ক-এর মধ্যে নেই আমরা।

    ঠিক আছে। ফর্ম তো দে।

    তা দিচ্ছি। বেয়ারা! দোঠো ফর্ম লাও।

    এমন সময় কলিং বেল বাজল বাইরে।

    বেয়ারা ফর্ম দুটি দিয়েই দরজা খুলতে গেল। দরজা খুলতেই একজন অতি সুন্দরী তন্বী, মাঝবয়সি মহিলা খাটাউ-এর প্রিন্টেড ভয়েল পরে ভেতরে ঢুকলেন। ব্যানার্জি সাহেব তাঁকে দেখেই তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন সোফা ছেড়ে।

    তু-তু-তু-তু-তুমি!

    হ্যাঁ আমি। তাড়াতাড়ি ওই লুঙ্গি ছেড়ে ভদ্রলোকের জামাকাপড় পরে এসো। বাড়ি যেতে হবে।

    কী? কী বলছ তুমি?

    ঠিকই বলছি। দশ-জনের সামনে সিনক্রিয়েট কোরো না। বেইজ্জত হবে। আর চটিও না আমাকে। তোমাদের এই ক্লাবের কথা আমি সবই জেনে গেছি। এবং যত-জনকে আমি জানি সকলকেই ফোনে জানিয়েছি। এই অর্গানাইজেশনকে ব্লাস্ট করে দেব আমরা। তোমরা ভেবেছটা কী? তারপরই কুচু সাহেবের দিকে ফিরে বললেন, এই যে কুচুদা! তোমার বিরুদ্ধে চামেলিদি ক্রিমিনাল প্রসিডিং আনছে। মেন্টাল টরচার-এর গ্রাউণ্ডে।

    কেন? কেন? ডিভোর্স চাইলেই পারে। দিয়ে দোব।

    কুচু বলল।

    অত সোজা। তুম কমলিকো ছোড়নেসে ক্যা হোগা, কমলি তুমকো ছোড়েগা নেহি। চামেলিদি এখন ক্রিমিনাল অ্যাডভোকেট দিলীপ দত্তর বাড়িতেই বসে আছে। কালকেই সাহেবের কোর্টে মামলা মুভ করবেন। ‘নিরুদ্দেশ’ ‘নিরুদ্দেশ’ খেলা আপনাদের বের করে দেবে। আমরা কুড়ি-জন স্ত্রী মিলে প্রত্যেকে চামেলিদিকে দুশো টাকা করে দিয়ে দিয়েছি। চার হাজার। ইনিশিয়াল কস্টস হিসেবে। গোসাঘর স্যাংচুয়ারি প্রাইভেট লিমিটেডকে আমরা লিকুইডেট করে ছেড়ে দেব।

    ব্যানার্জি সাহেব ভেতরে গেলেন।

    বেলটা আবারও বাজল। বেয়ারা দরজা খুলতেই একজন অল্পবয়সি, লম্বা, সুশ্রী মেয়ে এক-জন অত্যন্ত সুদর্শন লম্বা পুরুষের সঙ্গে ঢুকলেন ভেতরে। একজন ফোটোগ্রাফারকে নিয়ে।

    মেয়েটি বললেন, নমস্কার! আমার নাম সুচেতা রায়। আমি ‘প্রমীলা’ থেকে আসছি। ভদ্রলোক বললেন, আমার নাম মাখনলাল ভট্টাচার্য। আমিও ‘প্রমীলা’ থেকে। ইনি কিরণ মিত্র, ফোটোগ্রাফার।

    কুচুবাবু তুতলে বললেন, ‘প্রমীলা’! মাই গড! তারপর মাখনলালকে বললেন, আপনার ল-ল-ল-জ্জা করে না? পুরুষ হয়ে মেয়েদের কাগজে কাজ করেন। আত্মসম্মানজ্ঞানহীন! আপনি একজন কুলাঙ্গার। মেয়েদের যারা সার্ভ করে তারা সকলেই পুরুষ জাতের কুলাঙ্গার। যারা অত্যাচারীদের, কায়েমি স্বার্থর হাত শক্ত করে তারা নিপাত যাক।

    ফোটোগ্রাফার মিত্র ফটাফট ছবি তুলে যেতে লাগলেন।

    মাখনলাল হেসে বললেন, আমরা সকলেই মেয়েদের সার্ভ করি। সব পুরুষই। নানাভাবে। এই আমাদের ফেট। ভাগ্য। কুড নট কেয়ারলেস। লজ্জা যদি থাকেই তবে সে লজ্জাস্থান ঢেকে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যে দুঃখের নিরসন হবার নয়, হবে না কখনো; সেই দুঃখ নিয়ে কেঁদে মরা পুরুষের সাজে না। ‘হোয়েন রেপ ইজ ইজ এভিটেবল, হোয়াই নট এনজয় ইট’ কথাটা পুরুষ জন্মধারণ করার পরমুহূর্ত থেকেই প্রযোজ্য। যেখানে বিদ্রোহ মানেই মৃত্যু সেখানে উপায়ই-বা কী? তার চেয়ে বরং আসুন! আপনার ইন্টারভিউ নিই।

    আমার?

    কুচু সাহেব প্রায় কেঁদে ফেললেন।

    হ্যাঁ আপনার। বলেই মাখনবাবু টেপরেকর্ডার বার করলেন কাঁধের ঝোলা থেকে।

    স্যার। স্যার! প্লিজ না। আপনি আমার স্ত্রীকে চেনেন না। অমন খাণ্ডার রমণী….

    ল্যাঙ্গুয়েজ কুচুদা! ল্যাঙ্গুয়েজ! বলে মিসেস ব্যানার্জি চেঁচিয়ে ধমকে দিলেন।

    মাখনলাল বললেন, কে কার বউকে চেনে দাদা। বউকে চেনার চেয়ে ‘আত্মানং বিদ্ধি’ অনেক সহজ ব্যাপার।

    ই…রে! কার মুখ দেখে আজ সকালে উঠেছিলাম। এমন…ইরে! বাবা!

    আমার ও কিটুরও ছবি তুলতে লাগলেন ফোটোগ্রাফার কিরণ মিত্র।

    আমি দু-হাতের পাতাতে মুখ ঢেকে বললাম, আমার নয়। আমার নয়। আমরা মেম্বার নই। মানে, আমি আর উনি। কিটুকে দেখালাম।

    ফোটোগ্রাফার মিত্র হেসে বললেন, জানি। আপনারা শুধু অ্যাবেটমেন্টের চার্জেই পড়বেন। ‘প্রমীলার’ নেক্সট ইসুতে ‘গোসাঘর প্রাইভেট লিমিটেডের’ ওপরে এডিটোরিয়াল লিখবেন সম্পাদক সুপূর্ণা গুপ্ত। যাঁদের বিরুদ্ধে আপনাদের এই জেহাদ তাঁদেরই হাতে বাকি জীবন এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। হি-হি।

    ভেতর থেকে ব্যানার্জি সাহেব পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে বেরিয়ে এলেন। দেখলাম, চোখ-মুখ একেবারে গর্তে বসে গেছে। মুখের দীপ্তিও উধাও। ফাঁসির আসামির মতো হাবভাব।

    বাবুর্চি বলল, সাব আপকো খানা।

    ব্যানার্জি সাহেব দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, রাস্তেকা কুত্তেকি খিলা দেনা। খানা। ফু:!

    ফু-টা ঘৃণার না অসহায়তার; না সমর্পণের ঠিক বোঝা গেল না।

    মিসেস ব্যানার্জি বললেন, চলো! কিণ্ডারগার্টেনের ছেলের মতো ফু-ফা কোরো না। শেমলেস, ক্রিচার। বিহেভ লাইক আ জেন্টেলম্যান। আ ম্যান।

    অ্যাঁ-এ-এ। ম্যান!

    ব্যানার্জি সাহেব ফুঁপিয়ে বললেন।

    আপনার ইন্টারভিউটা?

    মাখনলাল বললেন। মিস্টার ব্যানার্জিকে।

    মিসেস ব্যানার্জিই উত্তর দিলেন। বললেন, গাবলু কালকেই ইন্টারভিউ দেবে আপনাকে। এই নিন আমার কার্ড। টিভলি কোর্টে আমার ফ্ল্যাটে আসবেন রাত আটটাতে। ডিনারও খাবেন। খুশি হব। স্কচ খাওয়াব। বাই। ব্যানার্জি সাহেব মনে মনে বললেন, তোমার ফ্ল্যাট! নির্লজ্জ। আমার যা-কিছু সবই তোমার অথচ সেই আমার সঙ্গেই এই ব্যবহার। ‘‘যার জন্যে রামের মা তারেই তুমি চিনলা না।’

    ওরা চলে গেলেন।

    আমি বললাম, এবারে আমরাও উঠব।

    উঠতে পারেন। সুচেতা বললেন। তবে, আপনাদের কার্ড দুটি দিয়ে যান। সময়মতো কনটাক্ট করব। নন-কোঅপারেট করলে আপনাদেরই ক্ষতি! বানিয়ে বানিয়ে যা-তা লিখে দেব সেটা সত্যির চেয়েও খারাপ হবে।

    পার্স থেকে কার্ড বের করে দিলাম আমি আর কিটু।

    গাড়িতে এসে স্টিয়ারিং-এ বসেই কিটু হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

    বলল, কী হবে রে আমাদের? খু:-কু:-খি:-কি:। বউ আমাকে তুলোধোনা করে ছেড়ে দেবে। ‘প্রমীলা’ ও রেগুলার রাখে।

    আমি বললাম, টেক ইট ইজি। বিপদের সময় ধৈর্য হারাতে নেই।

    আমাকে যখন নামিয়ে দিল কিটু তখন সাড়ে ন-টা বাজে। দরজার বেল বাজাতেই দানো দরজা খুলল।

    বললাম, মেমসাব কাঁহা?

    কিচেনমে। মনে মনে প্রমাদ গুনলাম। রান্না করার কথা আমারই ছিল। তার ওপর ছেলের টেস্ট।

    কিচেনে হাসি-হাসি মুখ করে ঢুকতে ঢুকতে ভ্যাবলার মতো বললাম, কোথায় গেলে? ডার্লিং?

    টুলে বসে কী যেন রান্না করছিল বউ। গ্যাসের উনুনে হাতা নেড়ে। ওর পায়ের কাছেই ছেলে বই-খাতা নিয়ে বসেছিল।

    কোনো উত্তর দিল না বউ আমার।

    আবারও বললাম, কী হল? উত্তর দিচ্ছ না কেন? বলেই, আমি ওর কাছে এগিয়ে গেলাম।

    বউ বলল, আরও একটু কাছে এসো। কথা আছে।

    স্ট্র্যাইকিং ডিসট্যান্সের মধ্যে আসতেই কড়া থেকে গরম হাতাটা তুলে বউ আমার মাথায়, একেবারে ব্রহ্মতালুর ওপরেই খটাং একহাতার বাড়ি কষিয়ে দিল। ঝনঝন করে উঠল মেনস লিব-এর স্বপ্ন। বলল, কাল ছোটোর টেস্ট তা তুমি জানতে না? আর আমি কি তোমার বাঁ’দি? রান্নাটা করবার কথা কার? মেয়েমানুষ হয়ে অফিসও করব, ছেলের জন্ম দেব, আবার রান্নাও করব?

    মনে মনে আমি বললাম, গুলি মারি তোমার চাকরির। মাইনে পাও আটশো টাকা, তা তো চুল ছাঁটতে, ‘পেডিকিওর’, ‘ফেসিয়াল’ করতে, বয়ফ্রেণ্ডদের লাঞ্চ-ডিনার খাওয়াতে আর শাড়ি কিনতেই ফুঁকে দাও। আমার কোন ঘণ্টার উপকারে লাগে তোমার চাকরি?

    ছোটো, বড়োদের মতো ইনকুইজিটিভ হয়ে চেয়ে রইল। মায়ের হাতে বাপের নিগ্রহ ও দারুণ ‘রেলিশ’ করে। ও আমারই মতো একটা মেরুদন্ডহীন স্বামী হবে বড়ো হলে। জিন। জিন কোথায় যাবে? কোন মেয়ের ঠ্যাঙানি খাবে কে জানে?

    ‘গোসাঘর স্যাংচুয়ারি লিমিটেডের’ সুন্দর স্বাস্থ্যকর পুরুষালি পরিবেশের ছবিখানি আমার দু-চোখের সামনে রাশ রাশ সরষে ফুল হয়ে ফুটে উঠল, গরম হাতার মোক্ষম বাড়ি খেয়ে।

    রান্নাটা শেষ করো। আমি চান পর্যন্ত করিনি অফিস থেকে ফিরে। বলেই বউ টুল থেকে নেমে পড়ল। বলল, জামাকাপড় ছেড়ে, হাত ধুয়ে আটা মেখে রুটি ক-খানি করে ফ্যালো। বারোখানা।

    এটা কী? বলেই কড়াইতে উঁকি মেরে দেখতে গেলাম।

    বউ আমার চুলের মুঠি ধরে এক হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলল, ক্যাপসিকাম আর লংকার তরকারি। তোমার ঘিলু দিয়ে রাঁধো এবারে, যদি ঘিলু বলে কোনো বস্তু আদৌ থেকে থাকে।

    ইতিমধ্যেই ফোনটা বাজল।

    বুকটা ধক করে উঠল। ‘প্রমীলা’! নয়তো মিসেস ব্যানার্জি। উরি মাগো!

    না:। বাঁচা গেল।

    নমিতা বলল, কী খবর ব্রতীন? ভুলেই গেলে নাকি? লংটাইম নো সি। কবে ফিরেছ দিল্লি থেকে? লেটস হ্যাভ লাঞ্চ টুগেদার অ্যাট ওয়ালডর্ফ টুমরো। দ্যাখো…

    নমিতার বয়ফ্রেণ্ড। আহা! স্ত্রীর বয়ফ্রেণ্ড যে কত ভালো, ‘প্রমীলা’র ইন্টারভিউর তুলনায়, তা মনে হল।

    বললাম, বাড়িতেই একদিন বলে দাও ব্রতীনকে খেতে।

    বউ বলল, সে আমি বুঝব। বাড়িটা কি তোমার?

    চুপ করে হাতা নাড়তে লাগলাম। ক্যাপসিকাম আমার দু-চোখের বিষ। তা ছাড়া রোজই খেয়ে খেয়ে ঘেন্না ধরে গেছে। কিন্তু কিছুই করার নেই।

    ভাবছিলাম কোনো শালা পুরুষই নিশ্চয়ই ডুবিয়ে দিল মুখার্জিদের। আফটার অল মিরজাফরের জাত তো! কী চমৎকার একটা অর্গানাইজেশন গড়ে তুলেছিল ওরা। আসলে সেই পুরুষের পেছনে কোনো মেয়েও নিশ্চয়ই ছিল। পুরুষদের যা-ই দুর্বলতা, তাই ওদের বল। অতি অল্পদিনের মধ্যেই একটা সময় আসছেই, যখন পৃথিবীর সমস্ত পুরুষদেরই ইজরায়েলেরই মতো এক নতুন ছোট্ট রাষ্ট্র গড়ে নিয়ে নারী বিবর্জিত চমৎকার সব সুখের জীবন কাটাতে হবে। নইলে এই অত্যাচারী অবলা জাতের হাতে পুরুষ জাতটাই অচিরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পুরুষই থাকবে, চরিত্রে নয়। নারীরা কচুরিপানার মতো, তেলাপোকার মতো, তাদের ধ্বংস করা যাবে না।

    ছোটো হঠাৎ তার বড়োমুখ তুলে আমাকে বলল, ড্যাডি! জিয়োমেট্রিকাল প্রোগ্রেশন কী?

    আমি চুপ করে চেয়ে রইলাম ওর দিকে।

    মনে মনে বললাম, তোমার মায়ের বাড়। মেয়েদের বাড়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }