Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইঁদুর

    একটা ইঁদুর খাটের তলা থেকে দৌড়ে বেরিয়ে সোজা এসে সুধীনবাবুর ইজিচেয়ারের তলায় ঢুকে গেল। তালতলার চটি থেকে পা-দুটো তাড়াতাড়ি চেয়ারের ওপর তুললেন তিনি। তুলেই হাঁক দিলেন, দেবেন।

    দেবেন ছিল না। থাকে না। কখনোই ও আজকাল সময়মতো থাকে না হাতের কাছে।

    চ্যাঁচামেচি শুনে শ্যামা দৌড়ে এল, বলল, কী হল বাবু?

    সুধীনবাবু ওকে দেখে পা-দুটো নামিয়ে ফেললেন।

    মুখে গাম্ভীর্য এনে বললেন ‘ইঁদুর’।

    শ্যামা অনেক দিনের লোক। মা, মানে সুধীনবাবুর স্ত্রী থাকতেই সে দশ বছর এবাড়িতে কাজ করেছে। সুধীনবাবুর বড়োছেলে এবং মেজোছেলের বাচ্চারা সবাই শ্যামার হাতেই মানুষ। ওর শরীরে মায়া-দয়া আছে। বয়সও হয়েছে। কপালের দু-পাশের চুলগুলো সব রুপোলি হয়ে গেছে। নিজেরও গেঁটেবাত ডায়াবেটিসের কারণে বাবুর দুঃখ ও একটু বোঝে।

    শ্যামা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, হুঁ:। ইঁদুরই তো! ঘর থেকে যে বাঘ বেরোয়নি এই যথেষ্ট! কী অবস্থা করেছে দেবেন ঘরটার! আর বউদিদেরও বলিহারি যাই। বুড়ো শ্বশুরের দিকেও তো মানুষ একটু দেখে! নিজেদের ঘরও তেমনিই। কী নোংরা, কী নোংরা।

     

     

    সুধীনবাবু কখনো পরনিন্দা পরচর্চা প্রশ্রয় দেননি। এখনও দেন না। চাপা ধমক দিলেন তিনি শ্যামাকে। বললেন, আঃ শ্যামা। যাও, নিজের কাজ করো। দেবেন এলে পাঠিয়ে দিয়ো আমার কাছে।

    শ্যামা গজগজ করতে করতে চলে গেল।

    সিঁড়ির কাছে গিয়েই শ্যামা চুপ করে গেল। বউদিরা কেউ তার বক্তৃতা শুনতে পেলে আর রক্ষা নেই।

    সুধীনবাবুর চোখ দুটো ভারী হয়ে এল। তাঁর আপন বলতে যে একমাত্র মানুষটি ছিল সেই নীহারিকাই চলে গেছেন দু-বছর হল। যদিও নীহারিকা থাকাকালীন তিনি যে তাঁর এতখানি আপন সেকথা পঁয়তাল্লিশ বছরের পার্টনারশিপেও কখনো বুঝতে পারেননি সুধীনবাবু। দাবি করার, জোর খাটানোর, ঝগড়া করার মানুষ ওই এক-জনই ছিল।

    নীহারিকার ছবির দিকে তাকালেন একবার সুধীনবাবু। বড়োছেলে একটা অয়েলপেন্টিং করে এনেছে কাকে দিয়ে যেন অনেক পয়সা খরচা করে। বেঁচে থাকাকালীন সপ্তাহে একদিনও ছেলে মা বলে ডাকেনি, কী মা-বাবার ঘরে আসেনি পর্যন্ত। আর মায়ের মৃত্যুর পর ছবি বাঁধিয়ে এনে ভালোবাসার পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে!

     

     

    মেজোছেলে গত মৃত্যুদিনে কাগজের ফুলের একটা সাদা মালা এনে নীহারিকার ছবির গলায় পরিয়ে দিয়েছিল। এখন সে সাদা কাগজের ফুলের চেহারা হয়ে গেছে প্রায় রুদ্রাক্ষের মতো। এত ধুলো পড়েছে যে ছবি তো দূরের কথা, মালাটাতেও হাত ছোঁয়ানো যায় না।

    মানুষটা চলে গেছে বলে কি কাগজের মালা পরিয়ে তাকে অবহেলা করতে হয় এমন করে? ছেলে-বউরা কি রোজ একটা করে সাদাফুলের মালাও নীহারিকার গলায় পরাতে পারে না? যে তাদের স্তন্যদায়িনী, যে কোলে-কাঁখে করে মানুষ করল, যে সারাজীবনে একদিনও স্বামীর সঙ্গে সিনেমা দেখতে গেল না পাছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনোর ক্ষতি হয়, সেই মানুষটাকে? জন্মদাত্রী, পরমশুভার্থী মাকেও ওরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল?

    ভেবে, বড়োই কষ্ট পান সুধীনবাবু।

    দেবেন এল। বলল, ডাকছিলেন?

    সুধীনবাবুর কথা বলতে ইচ্ছা করল না। মুখে শুধু বললেন, ইঁদুর।

     

     

    দেবেন ঘরে আসার আগেই শ্যামার মুখে শুনেছিল। বলল, আজ ইঁদুরের বিষ আনব। মজা টের পাবে বাছাধনরা।

    সুধীনবাবু আস্তে আস্তে বললেন, ঘরে ইঁদুর চাষ করে তারপর বিষ দিয়ে মারা কেন? চাষটা বন্ধ করো-না ঘরে।

    তারপর বললেন, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর।

    সুধীনবাবু অভ্যেসবশেই বলে ফেললেন ইংরেজি। দেবেন ইংরেজিটা বুঝতে পারল না। বলল, ঝাড়ব ঘর। একা লোক চারদিকের কাজ সামলাতে পারি না। এই বড়দা ডাকল সিগারেট আনতে, মেজদা পান আনতে, তা-ও তো ছোড়দারা এবাড়িতে থাকে না, বাঁচোয়া। বউদিরা কি কম ডাকাকাকি করে? শুধু আপনার একার কাজ করলে নাহয় এসব ঠিক ঠিক করে রাখতাম।

    এসব কথাতে সুধীনবাবু আজকাল সত্যিই বিরক্ত হন। এসব কথা শুনতে বা আলোচনা করতেও চান না তিনি। তাঁর একার কাজের জন্য তো দেবেনকে অথবা বাড়ির কাউকেই রাখা হয়নি। তাই এসব কথা কোনো ছেলে-বউয়ের কানে গেলে মিছিমিছি অশান্তিই বাড়বে। যতদিন নীহারিকা ছিলেন, ততদিন অন্য কথা ছিল। আজ তাঁর এই অবসরপ্রাপ্ত, কর্মহীন অপ্রয়োজনীয় জীবনে এইরকম তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অশান্তি ভালো লাগে না। একা ঘরে ইজিচেয়ারে বসে যতই অনাদর অবহেলা পান, ততই যেন অসহায়তায় চোখের কোল দুটো জ্বালা করে। নীহারিকার কথা মনে পড়ে বার বার।

     

     

    এই বয়সে সকলেই একটু দেব-দেবী গুরু-টুরুর দিকে ঝোঁকে। সুধীনবাবুর ওইসব দুর্বলতা কখনো ছিল না। সুধীনবাবুর ধারণা যে, যারা জীবনে অনেককানেক অন্যায় করে তারাই শেষজীবনে হঠাৎ ঠাকুরদেবতার শ্রীচরণে হুমড়ি খেয়ে পড়ে পাপক্ষালন করতে চায়। না, সুধীনবাবু যৌবনেও ওসব করেননি বার্ধক্যেও করবেন না।

    সবচেয়ে মুশকিল হয় সময় নিয়ে। সময়ের ভার বড়ো ভার। যাঁরা বেশি বয়সে স্বামী হারান তাঁরা এতটা একা হয়ে পড়েন না, কারণ বিধবাদের পক্ষে সংসারের মধ্যে অনেকখানি সময় আদরেই হোক কী অনাদরেই হোক, কেটে যায়ই। কিন্তু বিপত্নীক পুরুষমানুষ সত্যিই বড়ো নির্জন। সময় তাঁদের বুকে পাথরের মতো চেপে বসে। কিছুতেই নড়তে চায় না। বই পড়ে সময় কাটাতেন আগে আগে, কিন্তু এখন চোখও বিদ্রোহ করছে। দু-টি চোখেই ছানি পড়েছে অথচ ম্যাচিয়োর করেনি যে কাটাবেন। সন্ধের পর টিভি দেখে সময় কাটে। তবু শনি-রবিবার বাংলা-হিন্দি সিনেমা যখন হয় তখন আজকাল আর দেখেন না। ছেলে-বউয়েরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে জমিয়ে বসে সিনেমা দেখে। তাই হংসমধ্যে বক যথা হয়ে থাকতে খারাপ লাগে তাঁর।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    একদিন আড়াল থেকে শুনেছিলেন, বড়োবউমা বলছিলেন কাউকে, বুড়োর রস কম নয়।

     

     

    এসব শুনেও গায়ে মাখেন না বিশেষ সুধীনবাবু। মাখেন না এই কারণে যে, এ বাড়িটা তাঁর। তাঁর বাড়িতেই ছেলে-বউ নাতিপুতিরা রয়েছে। এই বাজারে আলাদা আলাদা বাড়ি নিয়ে থাকতে হলে প্রত্যেকেই বুঝত। বড়ো সরকারি চাকরি করতেন বলে এখনও মাসে হাজার টাকা করে পেনশন পান উনি। তা ছাড়া ফিক্সড ডিপোজিটের সুদও আছে। নিজের কোনো ব্যাপারে তো তিনি পরের মুখাপেক্ষী ননই উপরন্তু তিনিই ছেলেদের সংসারে প্রতিমাসেই নিজের সামর্থ্যের প্রায় সবটাই ঢেলে দেন। এ কারণেই, আর্থিক বিষয়ে কোনোরকম মানসিক দৈন্য কখনো বোধ করেননি। যতটুকু অবহেলা পান, সুধীনবাবু তা নিছক জেনারেশন গ্যাপ এবং নীহারিকার স্বার্থপরের মতো আগে চলে যাওয়ার দোষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েই নিশ্চিন্ত থাকেন।

    টেলিফোনটা বাজছিল। টেলিফোনটা নীচের বসার ঘরে আছে। ওঁর ঘরে একটা এক্সটেনশন আছে। টেলিফোনটা বেজেই চলল অথচ কেউই ধরছে না। দেবেনটাই-বা কোথায় গেল?

    যখন কেউই ধরল না, তখন অগত্যা নিজেই উঠলেন। কোমরটা কনকন করে উঠল। ধীরে ধীরে গিয়ে রিসিভারটা তুললেন। ওপাশ থেকে মিষ্টিগলা ভেসে এল।

    কে? দাদু?

     

     

    সুধীনবাবুর মুখ-চোখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বললেন, হ্যাঁ দাদু। তোমার কী খবর?

    ভালো। ওপাশ থেকে পাঁচ বছরের মিষ্টি বলল।

    তুমি কবে আসবে আমাদের বাড়ি?

    আসব না। আড়ি তোমার সঙ্গে।

    সুধীনবাবু উদবিগ্ন গলায় বললেন, কেন কেন? আড়ি কেন? কী করেছি আমি?

    তুমি আমাকে রথ কিনে দিলে না কেন? আজ রথ! আমাদের বাড়ির দোতলার মিঠুকে ওর দিদা কিনে দিয়েছে। পাশের বাড়ির বুজুকে ওর বাবা কিনে দিয়েছে। আমাকে কেউ কিনে দিল না।

    সুধীনবাবু বললেন, ঠিকই তো। বড্ড ভুল হয়ে গেছে তো। ভেরি সরি। তোমাকে কালই কিনে দেব।

    মিষ্টি বলল, কাল কিনলে কী হবে? রথ তো আজ হয়েই গেল।

     

     

    তাতে কী? উলটোরথের দিন টানবে।

    আচ্ছা। আশ্বস্ত হয়ে বলল মিষ্টি।

    তোমার মা-বাবা কোথায়?

    পার্টিতে গেছে।

    তুমি একা আছ?

    না, বেলাদি আছে।

    তুমি খেয়েছ?

    না, খাব।

     

     

    কী খাবে?

    এই ভাত আর পেঁপের তরকারি। আমার তো শরীর ভালো না। ও জানো দাদু, দাদু আজ না কাঁচকলার ঝুরি করবে রঘুদাদা। ঝুরি খেতে কী ভালো, না?

    হ্যাঁ হ্যাঁ, খুব ভালো।

    আজ থেকে দশ বছর আগে হলে এই কথার উত্তরে সুধীনবাবু হয়তো বলতেন, খুব ভালো। ঝুরি, ঝুড়ি ঝুড়ি খেতে ভালো।

    তখন কত সহজে রসিকতা করতে পারতেন। কত আনন্দ ছিল মনে। আজকাল নিজের সব চেয়ে প্রিয়তম ছোট্ট নাতনির সঙ্গেও রসিকতা করেন না তিনি।

    তারপর বললেন, শোনো, আমি এক্ষুনি মেলায় যাচ্ছি তোমার জন্যে রথ কিনতে। তুমি কি আসবে এখানে? মেলায় যাবে আমার সঙ্গে?

     

     

    এখন? এখন কী করে যাব? এখন তো খাব। মা বকবে এখন গেলে। কার সঙ্গে যাব?

    ঠিক আছে।

    তারপর বললেন, আজ রথ, তুমি পাঁপড়ভাজা খেয়েছিলে?

    পাঁপড়ভাজা? না তো। রথের দিন বুঝি পাঁপড়ভাজা খেতে হয়?

    হয় তো। আমরা তো তাই-ই খেতাম ছোটোবেলায়। তোমার দিদা থাকতেও। এবার খাইনি।

    মা পাঁপড়ভাজা খেলে রাগ করে। বলে, পেট আপসেট করবে।

    ও—ও। না, না। তাহলে খেয়ো না।

    রেখে দিই? মিষ্টিগলায় মিষ্টি বলল।

     

     

    আচ্ছা।

    নাতনি রিসিভার নামিয়ে রাখল।

    সুধীনবাবু ডাকলেন, দেবেন, অ্যাই দেবেন।

    সাড়া নেই।

    ঠাকুর সিঁড়ি দিয়ে উঠছিল ওপরে। বলল, দেবেনের সঙ্গে তো আমার রাস্তায় দেখা হল বাবু। দেবেন তো ঋষির দোকানে গেল বউদির জন্যে ভেলপুরি কিনতে। আর দইবড়া।

    ড্রাইভারকে ডাকো তো ঠাকুর। সে কি আছে, না চলে গেছে?

    ড্রাইভার তো বড়দাকে নিয়ে বেরোল, বলছিল, নাখুদা মসজিদের কাছে যাবে। রয়্যাল না কী হোটেল আছে, সেখান থেকে বিরিয়ানি-পোলাউ আনবে। বড়দার সম্বন্ধীরা খেতে আসছেন।

     

     

    ঠিক আছে। বললেন সুধীনবাবু।

    তারপর আস্তে আস্তে ধুতিটা পরলেন। আলমারি খুলে হ্যাঙার থেকে এণ্ডির পাঞ্জাবিটা বের করলেন। ছাতাটা নিলেন। তারপর সাবধানে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামলেন। আজকাল তিনি বাড়ি থেকে বেরোলে কোথায় যাচ্ছেন, কখন ফিরবেন, এবং আদৌ ফিরবেন কি না তা জিজ্ঞেস করার লোক কেউ নেই। উনি ভাবেন, ভালোই হয়েছে। একেবারে মুক্তপুরুষ।

    মেজোবউ বসবার ঘরে বসেছিল। বলল, গাড়ি তো দাদা নিয়ে গেছেন, গাড়ি ছাড়াই বেরোচ্ছেন বাবা?

    হ্যাঁ।

    মেজোবউও আর কিছু বললেন না। সুধীনবাবুও না।

    সুধীনবাবু বুঝলেন যে, মেজোবউয়ের তাঁর সম্বন্ধে যত-না মাথাব্যথা, দাদাই যে গাড়িটা বেশি ব্যবহার করে একথাটা তাঁকে জানানোর উৎসাহটাই তার চেয়ে অনেক বেশি।

    টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল সকাল থেকে। তখনও পড়ছিল। ছাতাটা খুললেন তিনি। রথের দিনে প্রত্যেক বছরই বৃষ্টি হয়। সারাপথ কাদা প্যাচপ্যাচ করছে। হাঁটুতে এতই ব্যথা যে, পদ্মপুকুর হেঁটে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। মোড়ে এসে রিকশা নিলেন। তারপর মেলায় পৌঁছে একটা রথ কিনলেন সাড়ে চার টাকা দিয়ে। জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার কাঠের মূর্তিও কিনলেন।

    ফেরার সময় একটা মিনিবাস আস্তে করে ধাক্কা দিল রিকশাটাকে। একটু হলে তিনি ও রিকশাওয়ালা দু-জনেই পড়ে যেতেন। কিন্তু পড়লেন না। রিকশায় চড়া মানেই লোকের কাঁধে চড়া। যৌবনে কখনো সেজন্য রিকশা চড়েননি তিনি। কিন্তু এখন নিজের পায়ের ওপর আর জোর নেই বলে পরস্কন্ধারূঢ় হন নিরুপায়েই।

    গাড়িটাও তাঁর নিজেরই। যেবার প্রথম ওভারহেড ভালভয়ের অ্যাম্বাসাডার বেরুল, সেবার কিনেছিলেন। আজ অনেক বছর হল। কণ্ডিশন এখনও ভালোই আছে। একহাতের গাড়ি ছিল। এখন ছেলেরাই চড়ে। ওরাই চাঁদা করে ড্রাইভার রেখেছে। ছেলেরা অবশ্য বলে, ‘বাবা যখনই আপনার দরকার একটু আগে বলে দেবেন, গাড়ি নিয়েই বেরোবেন।’ কিন্তু নিজের গাড়ি নিয়ে বেরোতে হলেও পাঁচ দিন আগে থেকে অন্যদের বলাবলি তাঁর পছন্দ হয় না।

    তা ছাড়া, যাবেনই-বা কোথায়? সত্তর বছরে পৌঁছে সংসারে বন্ধু, হিতাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-পরিজনের স্বরূপ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন তিনি। যতদিন বড়ো সরকারি চাকরিতে ছিলেন, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বেকারদের চাকরি করে দেওয়ার ক্ষমতা এ সমস্তই বিদ্যমান ছিল, ততদিন তাঁর কাছে লোকের ভিড়ের অভাব হয়নি। বন্ধুরা এসেছে দলে দলে। আজকে সারাদিনে দুটো কথা বলার লোকও পান না এক-জনও। তাই, গাড়ির প্রয়োজন তাঁর মিটে গেছে। যখন দরকার হয় তখন এমন হঠাৎ হঠাৎই দরকার হয়। আগে বলবার সময় কোথায় পান?

    বাড়ির কাছাকাছি আসতেই প্রতিবেশী জগবন্ধুবাবুর সঙ্গে দেখা। ময়দার কল আছে ভদ্রলোকের। হাসিখুশি মোটাসোটা আমুদে মানুষ। বয়সে সুধীনবাবুর চেয়ে বছর চার-পাঁচেক ছোটো। তিনি গাড়ি থামিয়ে দুটো কথা বলে নিলেন। বললেন, কী খবর বড়োসাহেবের? গেছিলেন কোথায়? রিকশা কেন? গাড়ি কী হল?

    সুধীনবাবু হাসলেন। গাড়ির কথাটা এড়িয়ে গিয়ে বললেন, এই রথের মেলায়। কাছাকাছিই।

    ওহো তাই তো! রথ দেখছি যে! তা পেঁয়াজি-ফুলুরি খেলেন?

    সুধীনবাবু হাসলেন। বললেন, অম্বল।

    কীসের অম্বল? ইয়াং ম্যান। জগবন্ধুবাবু বললেন।

    তারপর বললেন, চলুন চলুন আমার বাড়ি। আপনাকে দেখে যদি আমার গৃহিণী গালাগালি থেকে ক্ষান্ত হন। আজ বড়ো দেরি হয়ে গেল ফিরতে। ওঁকে নিয়ে এক জায়গায় যাওয়ার ছিল। চলুন। আপনার সুন্দর মুখ দেখলেই রাগ পড়ে যাবে।

    সুধীনবাবু হাসলেন। আজকাল যেমন নিজে রসিকতা করতে পারেন না। অন্য কেউ করলেও ভালো লাগে না।

    বললেন, আজ ছেড়ে দিন।

    তারপরই বলতে গেলেন, শুনুন! স্ত্রীকে অমন হেলাফেলা করবেন না। স্ত্রী যে কী জিনিস, চলে গেলে বুঝবেন। কিন্তু কথাটা আর বললেন না। ভাবলেন, তিনি নিজেও বুঝতেন না, কী জিনিস স্ত্রী, নীহারিকা থাকতে। ভাবলেন স্ত্রীর কথা ওঠালে জগবন্ধুবাবু ভাবতে পারেন যে, দাঁত চলে যাওয়ায় দাঁতের কদর বুঝেছে বুড়ো। হ্যা:-হ্যা:।

    রিকশাওয়ালাকে বিদায় দিয়ে রথটা নিয়ে বাড়ি ঢুকতে গিয়েই দেখলেন, বড়ো দুটো রথ সুন্দর করে সাজিয়ে-টাজিয়ে তার বড়োছেলের ও মেজোছেলের পুত্ররা টানাটানি করছে।

    সুধীনবাবু বললেন, রথ? এ কী? রথ কোথায় পেলি?

    বা রে! বাবা কিনে দিয়েছে। বাবা কিনে দিয়েছে।

    শান্টু বলল, দাদু ওই রথটা আমাকে দাও।

    সুধীনবাবু গম্ভীর মুখে বললেন, না। এটা মিষ্টির।

    বলেই, ওপরে চলে গেলেন আস্তে আস্তে।

    দেবেন এসে ভিজে ছাতাটা নিল।

    জামাকাপড় ছাড়তে ছাড়তে সুধীনবাবু খুব দুঃখিত হলেন। যা ভেবেছিলেন, তার কিছুই হল না। ভেবেছিলেন ছেলেরা সব এক বাড়িতে থাকবে। জমজমাট সংসার। নীহারিকার ফর্সা লঞ্জীশ্রীসম্পন্ন চেহারাটা মনে পড়ল। চওড়া লালপেড়ে শাড়ি। চাবির গোছা আঁচলে। বউরা ঘিরে রয়েছে। ছেলেদের ভাব গলায় গলায়। মা-বাবা ছেলে-বউ।

    কিছুই হল না।

    ছোটোছেলে দীপু পড়াশুনোয় সবচেয়ে খারাপ ছিল। ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় কখনোই তেমন ভালো করেনি। কিন্তু জীবনের পরীক্ষাতে ও-ই সবচেয়ে সফল হল। সাহেবি কোম্পানিতে সামান্য সেলসম্যানের চাকরিতে ঢুকে দেখতে দেখতে মার্কেটিং ম্যানেজার হল। কোম্পানির ফ্ল্যাট, কোম্পানির গাড়ি। দীপুর বউ শিখা বোম্বের মেয়ে। ওর বাবা ছিলেন এক মার্কেন্টাইল ফার্মের বড়োকর্তা। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। সাহেবি ধরনের মানুষ। তার পক্ষে এই বাড়িতে পাঁচমিশেলি রুচির মধ্যে থাকা সম্ভব হল না। মিষ্টিটাকে বড়ো মিস করেন সুধীনবাবু। আর ও কী-যে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে। নীহারিকার বড়োই প্রিয় ছিল এই নাতনি।

    আসলের চেয়ে সুদ যে বড়ো, একথা যাদের সুদ নেই তারা জানেন না।

    আজকাল দীপু ও শিখার সঙ্গেও দেখা হয় না বেশি। সপ্তাহে একদিন করে আসে। অবশ্য ফোন করে খোঁজখবর নেয় মাঝেমধ্যে। রান্না করে এটা-ওটা পাঠায়। কিন্তু মিষ্টির জন্যেই মনটা হুহু করে সুধীনবাবুর। নীহারিকা চলে যাওয়ার পর মিষ্টি ওদের নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাওয়ায় দ্বিতীয়বার ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি। পুরোপুরি নি:সঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

    যখন দীপু চলে গেছিল, খুব রাগ হয়েছিল সুধীনবাবুর। কিন্তু এখন মনে হয় যে, তাঁর প্রজন্মের মানুষদের পক্ষে, সমস্ত পৃথিবী জুড়ে যে যৌথ পরিবারের ভাঙন আরম্ভ হয়েছে তা রোধ করা তার সম্ভব নয়। আলাদা থাকা এক-এক সময় ভালো বলেও মনে হয়। তাতে সম্পর্ক বোধ হয় ভালো থাকে। যদি প্রত্যেকের রুচি, রোজগার, শিক্ষা এসব এরকম না হয়, তাহলে জোর করে একসঙ্গে থেকে বাইরের লোককে সুখের বন্যা দেখানো হয় বটে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে পায়ের তলায় মাটি সরতে থাকে। কেউ অত্যাচার করে, কেউ অত্যাচারিত হয়। যার রোজগার বেশি এবং যার কম তাদের দু-জনেরই দু-রকম কমপ্লেক্স জন্মায়। সেটা প্রত্যেকেরই জীবন উপভোগের পথে বাধাস্বরূপ। সুধীনবাবু আর নীহারিকা সবাইকে নিয়েই থাকতে চেয়েছিলেন জড়িয়ে। কিন্তু তিনি নিজের জীবনেও দেখেছেন যৌথ পরিবারে কেউ ঠকে, কেউ ঠকায়। কেউ অন্যায় করে, কেউ তা সয়ে যায়। যে ভালো তাকে বোকা ভাবা হয়। জীবন যেহেতু একটাই, তখন যার যার যোগ্যতা, যার যার রুচি, যার যার মতামত নিয়ে আলাদা থাকাই বোধ হয় ভালো। যারা তা থাকতে পারে। বড়োবউ, মেজোবউ তাঁর সামনে কখনো ঝগড়া করে না বটে, কিন্তু সুধীনবাবু বোঝেন, ভালো করেই বোঝেন যে, ওদের মধ্যে সবসময় একটা রেষারেষি, একটা কোল্ড-ওয়াটার চলে। সেটা আরও অসহ্য ঠেকে।

    রথ নিয়ে উনি ওপরে উঠে যেতেই মেজোবউ ঘরে গিয়ে উষ্মার সঙ্গে মেজোছেলেকে বললেন, বাড়াবাড়ি।

    কেন? কার?

    খাটে শুয়ে, বই পড়তে পড়তে মেজো বলল।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    কার আবার? তোমার বাবার। মিষ্টির জন্যে নিজেহাতে রথ কিনতে গেলেন, বৃষ্টিতে ভিজে। কেন, আমার ছেলেদের জন্যে তো কখনো একটা চকোলেটও কিনে দেন না?

    মেজো বলল, তাই নাকি? বাবা নিজে গেছিলেন? স্ট্রেঞ্জ!

    মেজোবউ বলল, তোমার ছেলেরা কি ভেসে এসেছিল?

    বড়োবউ জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল যখন সুধীনবাবুর সঙ্গে জগবন্ধুবাবু কথা বলছিলেন।

    বড়োবউ মেজোকে ডাকলেন। মেজো বাইরে এলে বলল, দ্যাখ কী লজ্জার।

    কী? মেজো বলল।

    বাবা জগবন্ধুকে গাড়ি পান না, রিকশায় যাতায়াত করেন, এসব কথা বলছিলেন নিশ্চয়ই। এটা অপমানের নয়? বুড়ো হলে মানুষগুলো কুটিল হয়ে যায়? কাজকর্ম নেই তো!

    সুধীনবাবুও ইজিচেয়ারে বসে ভাবছিলেন, স্ট্রেঞ্জ! বড়োছেলে মেজোছেলে নিজেদের ধাড়ি ছেলেদের রথ কিনে দিল, আর ছোটোভাইয়ের একমাত্র মেয়ে মিষ্টির জন্যে চার টাকা দিয়ে একটা রথ কেনার কথা মনে হল না ওদের। এরা একেবারে চামার হয়েছে। তার নিজের ছেলে বলে ভাবতেও কষ্ট হয়।

    সুধীনবাবু বোঝেন সব। মুখে কিছু বলেন না। বড়োলোক বাবার কাছে গরিব সেজে থাকার লাভ অনেক। অন্তত তাই ভাবে ওরা। তিনি চিরদিন ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিপক্ষে। দীপু চলে গেছে বলেই তিনি তাকে দূর করে দিতে পারেন না। উইল করে ফেলেছেন তিনি। যা-কিছুই আছে স্থাবর অস্থাবর, ছেলে-মেয়ে সকলকে সমান ভাগে। বউমারা একথা জানেন না বলেই বোধ হয় রেষারেষি হয়। কে শ্বশুরের বেশি কাছের, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে।

    ড্রাইভার চলে গেল। বড়োছেলে, শালা ও শালাবউয়ের জন্যে গরম গরম বিরিয়ানি ও চিকেন চাপ নামিয়ে রেখে রাগের গলায় শালাদের সামনেই বলল, বাবা যত বুড়ো হচ্ছেন, ততই ইনকনসিডারেট হচ্ছেন। এত রাতে বৃষ্টির মধ্যে ড্রাইভারকে কি না-পাঠালেই চলত না? গরিব লোকটা সারাদিন খাটছে। বুড়ো হলে মানুষগুলো সেনাইল হয়ে যায়। ভীমরতি ধরে।

    বড়োবাবুর বড়োশালা কথা ঘুরিয়ে বলল, যাই বলো আর তাই বলো, শিখা ও দীপু চলে গিয়ে তোমাদের বাড়িটা কেমন খাঁ-খাঁ করে যেন।

    বড়োবউ বলল, তা তো লাগবেই দাদা তোমার। আমরা তো শিখার মতো সুন্দরীও নই আর অমন শরীর বের করে সাজতেও পারি না।

    বড়োশালা হেসে ফেললেন। বললেন, নমু তুই কোন লজ্জায় একথা বলছিস? তুই যা শরীর করেছিস তা কি কাউকে দেখাবার? তুই তো একেবারে আমাদের কোম্পানির সাপ্লায়ার ঢালাইওয়ালা মি. আগরওয়ালার স্ত্রীর মতন দেখতে হয়ে গেছিস। ওজন কত কুইন্টাল হল?

    বোন রেগে গেল। বলল, তোমাদের সব দেমাকি মেয়েছেলে ছাড়া ভালোই লাগে না। শিখার দেমাক একদিন ভাঙব। ভগবান কি নেই? ভগবানই একদিন ওকে মুড়িয়ে খাবেন।

    দাদা বললেন, ছি ছি, তুই-না পড়াশুনো করেছিস! তুইও এরকম? টিপিক্যাল! তারপর বললেন, ভগবানের আরও অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে। যাই বলিস, তোদের বাড়িতে কিন্তু দীপু-শিখাকে আমার সবচেয়ে পছন্দ। ভেরি স্ট্রেইট-ফরোয়ার্ড।

    বড়োবউদি বললেন, খুব লক্ষ্মী মেয়ে কিন্তু শিখা। ওরা যখন এখানে থাকত, একটা ঘরে থাকলে কী হয়, ঘরের মেঝেতে মুখ দেখা যেত। এখন তোদের বাড়িতে ঢুকলে মনই খারাপ হয়ে যায়। মাসিমা আর শিখা চলে গিয়ে তোদের বাড়ি একেবারে শ্রীহীন হয়ে গেছে।

    বড়োবউ চটে গেল। বলল, তা এই বাড়িতে আসা কেন বাবা? না এলেই তো পারো। কেউ বাড়ি বয়ে এসে এমন অপমান করে, শুনিনি কোথাও।

    ঘর ফাঁকা হতেই বড়োশালা নিজের স্ত্রীকে বললেন, তোমার এমন স্পষ্ট কথা বলার দরকার কী?

    আমি স্পষ্ট কথাই বলি। তোমার বোন বলে কি ছেড়ে দেব? ওরা শিখার ধারেকাছে নয়। তাই তো দলাদলি আর পলিটিক্স করে ওকে তাড়াল। শিখা চাপা মেয়ে কিন্তু একদিন আমার কাছে সব বলেছিল। শিখার কী? ও নিজে বড়োলোকের একমাত্র মেয়ে, স্বামীরও যথেষ্ট যোগ্যতা আছে। ও কেন এই নোংরামির মধ্যে থাকবে? আমার সামর্থ্য থাকলে আমিও তোমাদের বাড়ি থাকতাম না। কত সুখেই রেখেছ তুমি আমাকে জগাখিচুড়ির সংসারে।

    তারপর বলল, লোকে ঈর্ষা আর হিংসা করে তো আর কারও কপাল পোড়াতে পারে না। কপাল কে নেবে? যে যেমন কপাল করে আসে। তোমার বোনের এই পরশ্রীকাতর স্বভাব আমার মোটে ভালো লাগে না।

    আঃ কী করছ! বাড়াবাড়ি কোরো না, শুনতে পাবে।

    শুনুক। তোমার মতো আদেখলাও দেখিনি আমি। বিরিয়ানি খাওয়ার এত লোভ তো হোটেলে গিয়ে খেলেই পারো!

    আহা! সমীর এত করে নেমন্তন্ন করল। সমীরের কী দোষ। বলল, হুইস্কি খাওয়াবে। বৃষ্টির দিন। সমীর তো ভালোই।

    বড়োশালার স্ত্রী বলল, ভালো। তেমনি ভালো। যেমন দেবা, তেমন দেবী। এরকম ছোটোমনের পুরুষও আমি দেখিনি। স্ত্রীর কথায় ওঠে-বসে।

    থামো তো! ধমক লাগালেন বড়োশালা।

    বড়ো এসে বলল, এসো ঘরে এসো, চুপচাপ হুইস্কি খেতে হবে ঘরে বসে। হাশ-হাশ করে। বাবা জানতে পারলে তো কোনো সম্পত্তিই দিয়ে যাবেন না। ত্যাজ্যপুত্তুর করবেন।

    বড়োশালা অবাক হয়ে বললেন, কেন? দীপু তো খেত বাড়িতে মাঝেমধ্যে।

    বড়োছেলে সমীর বলল, দীপুর কথা ছাড়ো। ওর কি কোনো রেসপেক্ট আছে নাকি বড়োদের প্রতি? ও সাহেব লোক।

    দুই

    একী? দেখেছ, সর্বনাশ করেছে। ঘুম থেকে সেদিন উঠেই চেঁচিয়ে উঠলেন সুধীনবাবু।

    তারপরই ডাকলেন, দেবেন, দেবেন।

    দেবেন নেই যথারীতি!

    মেজোবউ তখনই ওপরে এসেছিল। ছেলের খাবারের তাগাদা দিতে। চিৎকার শুনে ঘরে ঢুকে বলল, কী হল বাবা?

    ইঁদুর।

    কোথায়?

    এই দ্যাখো না, তোমার মায়ের লেপটা কেটে কী করেছে।

    লেপটা কোথায় ছিল?

    সুধীনবাবুর রাগ হল। ভাবলেন, বলেন যে, লেপ কোথায় থাকে তা তো তোমাদেরই জানার কথা মা! এঘরটা তো আবর্জনার স্তূপই হয়ে আছে। কখনো তো চোখ মেলেও দ্যাখো না।

    কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নিলেন।

    পরের বাড়ির মেয়ে। ছেলের বউ। রাগ করেন তাদের ওপরে, সে-অধিকার কোথায়? রাগ করার লোক, ঝগড়া করার লোক তো চলেই গেছেন।

    তোমার মায়ের খাটের মাথার কাছেই ভাঁজ করা ছিল। দেখেছ, কেটে তুলোগুলোকে কী করেছে। তোমার মায়ের বড়ো প্রিয় লেপ ছিল ওটা। উনি বলতেন, বড়ো ওম ধরে। সেই যেবার আমরা শীতকালে উটিতে গেছিলাম, সেইবার এই লেপটা সঙ্গে নিয়ে গেছিলেন তোমার মা। সঙ্গে সেবার ছোটনও গেছিল। মনে আছে। ওঃ সেবারে কী শীত! তখন কতই-বা বয়স আমাদের। তোমার মা-র সে কী আনন্দ উটি দেখে।

    মেজোবউ মনে মনে বলল, কী কুক্ষণে এই ঘরে ঢুকলাম। এখন বৃদ্ধের মধুচন্দ্রিমার গল্প শুনতে হবে।

    এমন সময় দেবেন এল।

    সুধীনবাবু বললেন, দেবেন, তুই আমার কাছে মা-র খেয়েই মরে যাবি।

    ফেলুন, মেরেই ফেলুন। দেবেন বলল। এই চাকরি আমার আর সহ্য হচ্ছে না। আমি মরে গিয়েই বাঁচি।

    সুধীনবাবু বললেন, তুই ইঁদুর মারবি কি মারবি না? দেখেছিস হতভাগা ইডিয়ট? দেখেছিস কী করেছে!

    মেজোবউ বললেন, বাবা ইঁদুরের কী দোষ। এই তো ইঁদুরের ধর্ম।

    ধর্ম মানে?

    প্রায় চটেই উঠেছিলেন সুধীনবাবু।

    মেজোবউ বলল, ধর্ম মানে, না কাটলে যে ইঁদুর মারা যায়। মানে, ইঁদুরের দাঁত থাকে এমন যে, সবসময় সেটা জিনিসপত্র কেটে কেটে ঘষে ঘষে ছোটো না করলে সেই দাঁত ইঁদুরের মগজ ফুটো করে দেয়। দেখেন না, ইঁদুর কাগজ কাটে, লেপ কাটে, তোশক কাটে, যা পায় তাই-ই কাটে, যা কাটে সেগুলো কিছুই খায় না। না কাটলে যে ইঁদুর বাঁচতেই পারে না। আমার জুয়োলজি ছিল তো!

    তা তো জানতাম না। সুধীনবাবু বললেন।

    মেজোবউ মনে মনে বলল, অনেক কিছুই জানেন না আপনি।

    দেবেন বলল, দেখেছেন মায়ের লেপটাকে কী করেছে ব্যাটারা? এমন বিষ দেব যে, মানুষ পর্যন্ত মরে যাবে। দেখাচ্ছি মজা।

    সুধীনবাবু বললেন, দয়া করে দেখাও।

    বড়োবউমা ঘরে ঢুকল। মেজোবউ বাবাকে কী জ্ঞান দিচ্ছে দেখার জন্যে। চান্স পেলেই একা একা বাবার কাছে ঘুসুর ঘুসুর করে। মায়ের যত গয়না ছিল সবই তো হাত করেছে মেজোই। বড়ো কিছুই পায়নি! তবে আনন্দ এইটুকুই যে, ছোটো কিছু চায়ওনি এবং তাকে কিছু দেওয়াও হয়নি। তার স্বামী বড়োলোক তাকে দেবেনই-বা কেন?

    বড়োবউমা মধুরস্বরে বলল, বাবা।

    বলো।

    সুধীনবাবু বললেন।

    আজ রাজার জন্মদিন।

    তাই নাকি? তা এত দেরি করে বললে, রাজাকেও তো দেখলাম না সকাল থেকে।

    ও দেরি করে উঠেছিল। তাই সকালে আসতে পারেনি আপনার কাছে। স্কুল থেকে ফিরেই আসবে।

    মেজোবউ বলল, সে কী দিদি, আমারও তো মনেই ছিল না।

    বড়োবউ মনে মনে বলল, কত যেন মনে রাখো তুমি!

    তারপর বলল, রাজার কয়েক-জন বন্ধুবান্ধবকে খেতে বলব, আর রাজার পিসি ও পিসেমশাইকে। ওর মামা-মাসিদের।

    সুধীনবাবু বললেন, দীপু আর শিখাকে বলছ না?

    মানে, ও বলছিল, জায়গা কম। লোক বেশি হলে….।

    জায়গা যত কমই হোক আমার ছোটোছেলে এবং তার স্ত্রীর দীপু-শিখার জায়গার অকুলান হবে না এবাড়িতে। অন্তত হওয়া উচিত নয় বলেই আমার মনে হয়।

    বড়োবউ বুঝল যে, সুধীনবাবু ভীষণ চটেছেন।

    বলল, ওরা তো ভালো খায়, ভালো থাকে। ওরা কী সাধারণ ব্যাপারে আসবে? তারপর পার্টি-ফার্টি তো লেগেই আছে। ককটেলস। তাই ভাবছিলাম….।

    সুধীনবাবু অনেক বছর পর বড়োবউয়ের চোখে লাল চোখে তাকালেন। বললেন, কী ভাবছিলে?

    এমনসময় নীচ থেকে দীপুর কোম্পানির উর্দিপরা ড্রাইভার সুন্দর র‌্যাপিংপেপারে মোড়া একটা এয়ার রাইফেল, একবাক্স চকোলেট আর লাল গোলাপ ফুল নিয়ে এল। সঙ্গে শিখার ছোট্ট চিঠি।

    রাজাবাবু,

    আজ তোমার জন্মদিন। তোমাকে অনেক অনেক আদর পাঠাচ্ছি তোমার ছোটোকাকু, মিষ্টি ও ছোটোকাকিমা।

    আমি যখন ওবাড়িতে ছিলাম তখন তুমি পাশের বাড়ির রুণুর এয়ার রাইফেলটা একদিন চেয়ে পাওনি বলে খুব দুঃখ করেছিলে। আমার মনে আছে। তোমার ছোটোকাকু তাই তোমার জন্যে একটা এয়াররাইফেল পাঠালেন। মিষ্টি ফুল পাঠাল। আর আমি অনেক আদর। তোমার জন্যে পায়েস রেঁধেছি। বিকেলে আমরা সক্কলে তোমার কাছে যাব, পায়েস নিয়ে।

    —ইতি ছোটোকাকিমা

    চিঠিটা পড়ে বড়োবউমার মুখ কালো হয়ে গেল।

    সুধীনবাবু বললেন, কে লিখেছে?

    শিখা।

    কী লিখেছে? দেখি।

    বড়োবউ চিঠিটা এগিয়ে দিল।

    চিঠিটা পড়ে সুধীনবাবু বড়োবউমাকে ফিরিয়ে দিলেন।

    বড়োবউ বলল, আমি যাই শিখাকে ফোন করি গিয়ে।

    সুধীনবাবু কিছু বললেন না।

    দেবেন ইঁদুরে-কাটা তুলোর টুকরোগুলো পরিষ্কার করছিল। বাইরের রাস্তার বকুল গাছে কাক ডাকতে লাগল। হঠাৎ বকুলের গন্ধ এল নাকে এক ঝলক। নীহারিকা এই গন্ধ ভারি ভালোবাসতেন।

    পাশের বাড়িতে রাজেশ্বরী দত্তের গাওয়া ‘এ পরবাসে রবে কে’ গানের রেকর্ড বাজছিল।

    সুধীনবাবুর মনটা উদাস হয়ে গেল। নীহারিকার বড়ো প্রিয় গান ছিল এটি। সত্যিই পরবাস! শুধুই স্বার্থকোলাহল, শুধুই বিবাদ।

    তিন

    বারান্দার বাইরেটা বেলুন আর কাগজে সাজানো হয়েছে। বাচ্চারা হইচই করছে। আজকাল হইচই মোটে সহ্য হয় না সুধীনবাবুর। নিজের ঘরেই আছেন।

    নীচে গাড়ির শব্দ হল। বোধ হয় বড়োবউমার দাদা বউদিরা এল। সুধীনবাবুর একমাত্র মেয়ে ফুচি। ওরা এখন দিল্লিতেই সেটেলড। একমাসের ছুটিতে এসেছে এখানে। নীহারিকা থাকলে এখানে এসেই উঠত। নীহারিকা যাওয়ার পর আর ওঠে না। কেন ওঠে না তা বলেনি ফুচি সুধীনবাবুকে। কিন্তু সুধীনবাবু বোঝেন যে, হয়তো বড়োবউমা বা মেজোবউমা অথবা দুই বউমারই কোনো ব্যবহারে ও বা প্রদীপ দুঃখিত হয়েছে। বোঝেন সবকিছুই। মুখে চুপ করেই থাকেন। একটাই মেয়ে। কিছুই করতে পারেন না ওদের জন্যে। উলটে মেয়ে-জামাই সুধীনবাবুকে নিয়ে এখানে-ওখানে যায়। থিয়েটার দেখতে, যাত্রা দেখতে। বড়োভালো রেস্তরাঁতে খাওয়ায়। পাজামা-পাঞ্জাবি বানিয়ে দেয়। এবারে আসার সময় একটা শাল কিনে নিয়ে এসেছে। কত দামি শাল। কবে এবং কোথায় পরবেন সুধীনবাবু? দিন তো ফুরিয়ে এল।

    শিখা আর দীপুর সঙ্গে কিন্তু খুব ভাব ফুচি আর প্রদীপের। প্রত্যেকটা উইক-এণ্ডে ওরা ওখানে গিয়ে থাকে। এটাও একটা প্রচন্ড অশান্তির কারণ। মেজোবউ ও বড়োবউয়ের ধারণা কভেনান্টেড অফিসারে অফিসারে মিলে গেছে। দু-জনেই সাহেব, তা আমাদের কি আর পছন্দ হবে তাদের?

    আর একটা গাড়ির শব্দ হল।

    ফুচি, প্রদীপ, শিখা ও দীপু একসঙ্গে নামল গাড়ি থেকে। ওদের গলার শব্দ পেলেন সুধীনবাবু। তারপরই মিষ্টির পরিচিত জুতোর শব্দ পেলেন সিঁড়িতে। হালকা পায়ের নরম থপ থপ শব্দ। মুখস্থ হয়ে গেছে সুধীনবাবুর। নাতিরা এত দুরন্ত নয়। মিষ্টি মেয়ে হয়েও ভারি দুরন্ত। এনার্জিতে ভরপুর। ওর হাঁটা-চলা কথা-বলা সমস্তই এতই প্রাণবন্ত যে, পরপারের পথে চোখচাওয়া সুধীনবাবুর ওকে দেখে আবার জীবনকে ব্যাক-গিয়ারে ফেলে অনেক দূরে পিছিয়ে মিষ্টির বয়সে পৌঁছোতে ইচ্ছে করে।

    মিষ্টি গাড়ি থেকে নেমেই সোজা দৌড়ে ওপরে আসে ‘দাদু দাদু’ ডাকতে ডাকতে। মিষ্টি যখন সিঁড়ি থেকে ডাকে দাদু-দাদু-দাদু তখন সুধীনবাবুও ঘর থেকে উত্তর দেন কী দাদু, কী দাদু, কী দাদু?

    মিষ্টি এসেই সুধীনবাবুর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আজও পড়ল। সুধীনবাবু ওকে জড়িয়ে ধরলেন, জোরে। যখনই মিষ্টিকে বুকে করেন সুধীনবাবু, সুধীনবাবুর মনে হয়, যেন বিয়ের সময়ের ছোট্ট বালিকাবধূ নীহারিকাকেই আদর করেন। তার একটা কারণও ছিল। মিষ্টি যে পাউডার মাখে, নীহারিকাও সেই পাউডার মাখতেন। একটি পাউডারের গন্ধে মিষ্টির মাধ্যমে তাঁর নীহারিকা তাঁর কাছে ফিরে আসত।

    সুধীনবাবু প্রত্যেকবারই মিষ্টিকে কোলে নিয়ে ভাবতেন, পাউডারের কোম্পানি থেকে যায়, শুধু মানুষই চলে যায়।

    ফুচি আর প্রদীপও ঘরে এল দীপুর সঙ্গে। শিখা এল না। হয়তো পরে আসবে। শিখার মধ্যে মন-রাখা লোকদেখানো কোনো ব্যাপার নেই। সেটা ভালো যেমন, খারাপও।

    একটু পরেই শিখাও এল। পেছনে পেছনে বড়োবউ, মেজোবউ।

    ফুচি হাসতে হাসতে সত্যি কথাটা বলল। এই বউদিরা, তোমরা আমার বাবাকে কী করে রেখেছ? ঘরটার কী অবস্থা দ্যাখো তো? এরমধ্যে মানুষ থাকতে পারে? আলমারির মাথায় টিন, নীচে জুতো, ছেঁড়া মশারি, খাটের তলায় পুরো গুদাম!

    বলেই চেঁচিয়ে উঠল, ও মা, ওটা কী?

    মিষ্টি উত্তেজিত হয়ে হাততালি দিয়ে উঠল দাদুর কোলে বসে, বলল, ইঁদুর ইঁদুর। ও মা! পিসি ইঁদুরকে ভয় পায়।

    শিখা হাসতে হাসতে বলল, এসব বলিস না ফুচি, বললেই দিদিরা বলবে আমি তোকে শিখিয়ে দিয়েছি।

    শিখা কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বড়োবউ বলে উঠল, তুমি তো কয়েকদিন এখানে থেকে বাবার ঘরটা পরিষ্কার করে দিয়ে গেলেই পারো।

    শিখা হাসল। বলল, নিশ্চয়ই পারি। কিন্তু তা করলে তোমাদের অপমান করা হয় বলেই কখনো তা করিনি। তোমরা যদি অনুমতি দাও তো নিশ্চই করব এবং করে দেখিয়ে দেব যে, এই ঘরই কীভাবে রাখা যায়।

    বড়োবউ চেঁচিয়ে উঠল, ‘ম্যা গো’ বলে।

    একটা বড়ো ইঁদুর কামড়ে দিয়েছে পায়ে।

    মেজোবউমা বলল, ‘দিদি শিগগির ওষুধ লাগা, প্লেগ হবে প্লেগ।’

    প্রদীপ অবাক হয়ে তাকাল মেজোবউয়ের দিকে। মেজোবউদি যে এত অশিক্ষিত জানত না প্রদীপ।

    ফুচি বলল, বড়দি চলো, চলো নীচে। শিগগিরি ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছি।

    তারপর শিখার দিকে চেয়ে বলল, শিখা, আয় আমরা দু-জনে মিলে কাল এসে বাবার ঘরটা পরিষ্কার করে দিয়ে যাই। বউদিরা নানা ঝামেলায় সময় পায় না।

    শিখা বলল, বেশ তো! খুব ভালো।

    ঘর ছেড়ে যাওয়ার আগে দীপু বলল, কেমন আছ বাবা?

    এই আছি!

    তোমার ব্লাড সুগার? প্রেসার? সব ঠিক?

    ঠিকই আছে!

    আসলে সুধীনবাবুর এই বয়সে মেপে খেয়ে, মেপে হেঁটে, প্রেসার মেপে বেঁচে থাকার আর ইচ্ছা নেই। জীবনের সব প্রয়োজনীয়তা সার্থকতা তো শেষই। হাইওয়েতে একটা গাড়ির ইঞ্জিন কাট অফ করে দেওয়া হয়েছে। গিয়ারও নিউট্রালে। এখন যত দূর যায় গড়িয়ে গড়িয়ে। এ গাড়িতে তেল মবিল দিয়ে আর লাভ কী? গন্তব্যই যখন নেই কোনো, একমাত্র থেকে যাওয়া ছাড়া।

    দীপু বলল, আমাদের অফিসের ডাক্তারের সঙ্গে ঠিক করেছি, তোমাকে সপ্তাহে একবার করে দেখে যাবেন।

    কেন? আমাদের গজেন ডাক্তার কী দোষ করল?

    না। উনিও দেখুন। তবে উনি তো মাঝে মাঝে ডুব দিয়ে দেন।

    ঘর থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় দীপু বলল, বাবা মিষ্টিকে আজেবাজে কিছু খাইয়ো না যেন। ওর সকাল থেকে পেটের গন্ডগোল। শিখা টিফিন ক্যারিয়ারে করে ওর জন্যে সুক্তো নিয়ে এসেছে। ওই খাবে। ভাতে মেখে।

    সুধীনবাবু মুখে বললেন, ঠিক আছে।

    মনে মনে বললেন, এদের কায়দার শেষ নেই। ছেলেমানুষ, নেমন্তন্ন খেতে এসেছে, তা না টিফিন ক্যারিয়ারের সুক্তো খাবে। যত্তসব।

    রাজা ঘরে এল। মিষ্টি নীচে চল। আমরা কেক কাটব! তুই গান গাইবি না? হ্যাপি বার্থডে?

    হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলে নেচে উঠল মিষ্টি।

    সুধীনবাবু বললেন, আমিও যাব। তারপর মিষ্টির হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামলেন নীচে। ততক্ষণে বাচ্চারা সকলে ভীষণ মেতে গেছে।

    কেক কাটা হল! গান হল। কেক খাওয়া কিন্তু হল না মিষ্টির। শিখা খুব নির্দয় মা। বলল, মিষ্টি, তোমার ভাগ আমি বাড়ি নিয়ে চলে যাব। কাল ভালো হয়ে গেলে খাবে।

    মিষ্টি মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলল না।

    সুধীনবাবু বললেন, চলো, কেক কাটা হল, আমরা এবারে ওপরে যাই। তারপর মিষ্টির কানে কানে বললেন, তুমি কি দই খাবে? যদুবাবুর বাজার থেকে দই আনব?

    না:।

    বলল, মিষ্টি।

    ওপরে উঠে দেখেন ঘরে দেবেন কাবাব রেখে গেছে দুটো। একটা প্লেটে। আর প্লেটটা রেখেছে খাটের নীচে মাটিতে। একটা চামচ পর্যন্ত দেয়নি। দেবেনটা দিন-কে-দিন…..।

    সুধীনবাবুর শরীরটাও কাল থেকে ভালো নেই। ঠিকই করেছিলেন যে, রাতে শুধু দুধ-দই খাবেন।

    কাবাবটা মিষ্টিও দেখেছিল।

    বলল, দাদু কাবাব! চোখ বড়ো বড়ো হল ওর।

    দাদু বললেন, তোমাকে কেক খেতে দিল না, তুমি কাবাব খাবে কী করে দাদু?

    মিষ্টি মুখে কিছু না বলে এমনভাবে তাকাল সুধীনবাবুর চোখে যে, সুধীনবাবুর বুকের মধ্যেটা কেমন যেন করে উঠল। ভদ্রলোক অপত্যস্নেহ কাকে বলে জীবনে জেনেছিলেন। কিন্তু আসলের প্রতি যে-স্নেহ, যে-দরদ, তারমধ্যে কিছুটা তবুও ভারসাম্য থাকে। সুদের প্রতি স্নেহ ও দরদে তা থাকে না। সুধীনবাবুর মনে হয় যিনি দাদু বা দিদা হননি, তিনি জানেন না সুদের কী টান। কী কষ্ট। যে নাতি বা নাতনির প্রতি স্নেহ আছে অসীম কিন্তু যার মালিক তার মা ও বাবা; তাকে আদর করতে, তাকে হাত ধরে বেড়াতে নিয়ে যেতে যখন তার নিজের অনিচ্ছুক ছেলে-মেয়ের অনুমতি চাইতে হয় তখন বুকের মধ্যে বড়ো কষ্ট হয়।

    সুদকে ভালোবাসায় ভীষণ জ্বালা।

    হঠাৎ সুধীনবাবুর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তাঁর নিজেরও কি কোনো দাবি নেই নাতনির ওপর?

    উনি মিষ্টিকে বললেন, তোমার কি এখন পেট ব্যথা করছে?

    না তো দাদু।

    তবে কী অসুবিধা?

    জানি না। সকালে তিনবার পাই করেছিলাম।

    তারপর আর যাওনি?

    না।

    ওষুধ খেয়েছ?

    হ্যাঁ। মেকসাফর্ম।

    দাঁড়াও। বলে সুধীনবাবু উঠে দাঁড়ালেন। তারপর দরজাটা বন্ধ করলেন ঘরের। বন্ধ করেই তাড়াতাড়ি কাবারের প্লেটটা হাতে করে এনে মিষ্টিকে বললেন, খাও দাদু।

    দুটোই? মিষ্টি বলল। তারপর বলল, তুমি একটা খাও দাদু।

    দুটোই তুমি খাও। আমি খাব না।

    মিষ্টির চোখ-মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কাবাব মুখে দিল মিষ্টি।

    কেমন লাগছে? সুধীনবাবু বললেন।

    ভালো। মিষ্টি বলল।

    তারপর বলল, ঝাল। তারপরই বলল, গন্ধ লাগছে।

    সুধীনবাবু ভাবলেন, শিখা মেয়েটাকে বেশি যত্নে যত্নে একেবারে স্পয়েল করে ফেলেছে। এদের ইমিউনিটি বলে কিছুই ডেভেলপ করেনি। যা-কিছুই খায়, তাতেই অসুখ।

    সুধীনবাবু বললেন, আর একটা খাও।

    মিষ্টির চোখ-মুখ লাল হয়ে উঠেছিল। বলল, না থাক। খুব ঝাল।

    সুধীনবাবু বললেন, দাঁড়াও তোমাকে জল দিই। দেবেনকে ডাকলেই তো জানাজানি হয়ে যাবে। শিখা বা দীপু এখুনি চলে এলে প্রচন্ড ঝামেলা বাঁধাবে। ফুচিও আসতে পারে। তাই নিজেই বারান্দায় গিয়ে কুঁজো থেকে জল গড়িয়ে এনে মিষ্টিকে দিলেন।

    মিষ্টি, খেয়েই বলল, দাদু আমি মা-র কাছে যাব।

    কেন দাদু? কী হল।

    ভালো লাগছে না।

    কেন ভালো লাগছে না? হলটা কী তোমার?

    না। এমনিই।

    আমি পৌঁছে দিয়ে আসব না তুমিই যাবে?

    আমি যেতে পারব নীচে।

    আচ্ছা। তবে যাও। বাড়ি যাওয়ার আগে আমাকে বলে যেয়ো। একটা আব্বা দিয়ে যেয়ো আমাকে।

    আচ্ছা!

    মিষ্টি দরজার কাছে পৌঁছোতেই সুধীনবাবু বললেন, কাউকে বোলো না যেন কথাটা।

    মিষ্টি হাসল।

    ভারি স্মার্ট মেয়েটা। চোখ পিটপিট করে বলল, ‘কাউকে বলব না। প্রমিস।’

    চার

    অনেক রাত হয়েছে। দেবেন মশারি গুঁজে দিতে এসেছিল। সুধীনবাবু বাঁধানো দাঁতের পাটিটা খুলে একটা জলভরা বাটির মধ্যে রাখলেন। রাতে দুধ-খই খেয়েছিলেন। এখন শরীরটা ভালোই লাগছে। নীচে এখনও ওদের গলা পাচ্ছেন। এগারোটা বাজে। খাওয়াদাওয়া হতে বারোটা-সাড়ে বারোটা হবে। শিখা মিষ্টিকে নিয়ে আগেই চলে গেছে। মিষ্টির শরীরটা নাকি ভালো নেই। দীপুকে ফুচি আর প্রদীপ নামিয়ে দিয়ে যাবে ট্যাক্সি করে।

    মিষ্টির শরীরটা ভালো নেই শুনে ভয়ে সুধীনবাবুর মুখ শুকিয়ে গেছে। শিখার রাগি মুখটা ভেসে উঠছে চোখের সামনে।

    মশারিটা গুঁজে দিয়ে দেবেন বলল, কাল ঘরে গন্ধ পেলেই বলবেন বাবু।

    কীসের গন্ধ?

    পচা ইঁদুরের।

    কেন? ইঁদুর পচবে কেন?

    সুধীনবাবু শুধোলেন।

    পচবে না? দুটো কাবাবে ভালো করে ইঁদুর মারা ওষুধ মাখিয়ে রেখেছিলাম খাটের নীচে। একটা এরই মধ্যে খেয়ে ফেলেছে ব্যাটারা। একটা ইঁদুরে নিশ্চয়ই খায়নি। ধেড়ে ইঁদুরের বংশ নির্বংশ হবে এক কামড় খেলে।

    সুধীনবাবুর হৃৎপিন্ডটা খাঁচা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইল একলাফে।

    সোজা খাটে উঠে বসলেন। বললেন, ‘দাঁড়া! দাঁড়া! দেবেন।’

    তারপর মশারি ছেলে বাইরে এলেন। বললেন, ‘কোথায় দেখি, তোর কাবাব।’

    ‘এই তো!’ বলেই, দেবেন মিষ্টি যে প্লেট থেকে খেয়েছিল সেটা টেনে বের করল। হতভম্ব হয়ে অনেকক্ষণ নির্বাক হয়ে রইলেন সুধীনবাবু।

    এমন সময় নীচ থেকে দেবেনকে মেজোবউমা ডাকল। দেবেন নীচে গেলেই ফিসফিসে গলায় বললেন, বাবা শুয়ে পড়েছেন? খেলেন না?

    না শরীর ভালো নেই।

    মেজোবউমা বললেন, শোনো, মিষ্টির খুব শরীর খারাপ হয়েছে। ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এক্ষুনি ফোন এসেছিল ছোটোবউদির। বাবাকে একথা এখন বোলো না। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই আমরা খবর দেব। সকালে দেখতে নিয়ে যাব।

    দেবেন ওপরে ফিরে গেল।

    সুধীনবাবু ইজিচেয়ারে গিয়ে বসেছিলেন। টেবিলের ওপর মিষ্টির একটা ছবি ছিল, সেদিকে তাকিয়েছিলেন। নীহারিকার ছবির দিকেও। দেবেন আসতেই বললেন, বউদি ডাকল কেন?

    না, এমনিই….।

    বেশি চালাক হয়েছিস না? কী হয়েছে বল?

    কিছু তো হয়নি। আপনার কাজ শেষ করে নীচে মেজোবাবুর বিছানা ঠিক করে দিতে বললেন।

    ও। তুই মিথ্যা বলছিস না?

    না বাবু।

    আমাকে টেলিফোনের বইটা দে। গজেন ডাক্তারের ফোন নম্বর জানিস?

    আমি জানি না। বলে, দেবেন বইটা এনে দিল।

    চশমাটা নাকে লাগিয়ে গজেন ডাক্তারের ফোন নম্বরটা বের করে পাশের ঘরে গিয়ে ডায়াল করলেন উনি। দেবেনকে বললেন, তুই নীচের যা কাজ আছে সেরে তারপর আমার কাছে আয়।

    দেবেন চলে গেল নীচে।

    গজেন?

    বলছি, কে? বড়োকর্তা নাকি? কেমন আছেন? রোজ শোয়ার সময় ক্যাম্পোজ খাচ্ছেন তো একটা করে।

    তা খাচ্ছি। শোনো, ইঁদুর মারার ওষুধ।

    মানে? বলেন কী আপনি? মাথা খারাপ হল নাকি?

    না, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি। কোনো খাবারে, ইঁদুর মারার ওষুধ বেশি করে দিয়ে যদি কোনো বাচ্চাকে খাওয়ানো যায় তবে তার এফেক্ট কী হবে?

    গজেন ডাক্তার হেসে বলল, আপনি কি গোয়েন্দাগল্প লিখছেন নাকি?

    আঃ গজেন! যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দাও।

    এফেক্ট আর কী হবে? মরে যাবে।

    সুধীনবাবুর হাতটা রিসিভার থেকে আলগা হয়ে এল।

    বললেন, আর ইউ শিয়োর?

    অ্যাবসোলিউটলি।

    খাওয়ার কতক্ষণ পরে মারা যাবে?

    স্টমাক পাম্প না করলে অল্পক্ষণের মধ্যেই।

    আচ্ছা, ঠিক আছে।

    গজেন ডাক্তার বললেন, ব্যাপারটা……।

    গজেন ডাক্তারের কথা শেষ হওয়ার আগেই সুধীনবাবু ফোনটা নামিয়ে রাখলেন।

    দেবেন ফিরে এল একটু পরে। বলল, কী হল বাবু, ঘুমোবেন না। লাইট নিভিয়ে দেব?

    সুধীনবাবু বললেন, ঘুমব রে ঘুমব। আমাকে ঘুম পাড়ানোর জন্যে তোদের এত তাড়া কীসের?

    তারপরই বললেন, মিষ্টিকে কখন হাসপাতালে নিয়ে গেছে রে?

    দেবেন অবাক হল। তারপরেই ভাবল, গজেন ডাক্তারের কাছে শুনেছেন বোধ হয়।

    বলল, এক্ষুনি।

    সুধীনবাবু মনে মনে হিসেব করলেন, মিষ্টি সন্ধে সাড়ে ছ-টায় ওঁর কাছে এসেছিল। এখন বাজে সাড়ে এগারোটা। অনেক ঘণ্টা।

    কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ দেবেনের ওপর রেগে উঠলেন তিনি। বললেন, তুই ভেবেছিস কী? রয়ে রয়ে মুরলী বাজাবি? এক্ষুনি আরও আন, বিষ আন, সারাঘরে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে রাখ, যাতে ঘরের যত ইঁদুর আছে একদিনেই মরে যায়। তুই রোজ রোজ এইরকম বিষ দিবি নাকি? রোজই ইঁদুর পচবে? এটা কি ধাপার মাঠ পেয়েছিস?

    কাবাব তো নেই। অবাক হয়ে বলল দেবেন। বিষ মেশাব কীসে?

    নবাব হয়েছেন। ইঁদুরকে কাবাব খাওয়াতে হবে না। পাঁউরুটি আন। তাতে মাখিয়ে রাখ। যা শিগগিরি যা।

    দেবেন চলে যেতেই, স্লিপিং পিলের শিশিটা নিয়ে এলেন তাড়াতাড়ি দেরাজ খুলে।

    তারপর প্যাড বের করে, বলপেন বের করে, চশমা নাকে দিয়ে দ্রুত চিঠি লিখলেন একটা। খামে ভরে, মুখ বন্ধ করলেন সেটার।

    দেবেন ফিরে এলেই বললেন, রাখ ওখানে। আমি নিজে দেব আনাচে-কানাচে।

    আপনি কেন? আমিই দিচ্ছি। বলে, দেবেন ভালো করে বিষ মাখিয়ে রুটির টুকরোগুলো এদিকে-ওদিকে সব দিকে দিয়ে দিল। আলমারির নীচ, খাটের সব জায়গায়।

    সুধীনবাবু বললেন, আমি এখন পড়ব। তুই মশারিটা গুঁজে দিয়ে যা, জল দিয়েছিস?

    হ্যাঁ। সব দিয়েছি।

    দেবেন চলে যাওয়ার আগে খামে বন্ধ চিঠিটা দেবেনের হাতে দিয়ে বললেন, কাল সকালে এই চিঠিটা ছোটোবউদিকে পাঠিয়ে দিবি ড্রাইভারকে দিয়ে। কেউ না থাকলে, তুই নিজেই যাবি। জরুরি চিঠি। কাল সকালেই। বুঝলি?

    আচ্ছা। দেবেন বলল।

    এবার যা। ভালো করে খাওয়াদাওয়া করে হাত ধুয়ে নিয়ে ভালো করে। অনেক খাটনি গেছে আজ তোর।

    দেবেন বলল, খাটনির কথা বলবেন না বাবু। অন্যরা তো সব গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াচ্ছে। খাটনি যা, সব দেবেনেরই। তাও তো আপনি বেশি ভালোবাসেন বলে অন্য সব লোকজনের কী আক্রোশ আমার ওপর।

    দেবেন চলে যাচ্ছিল। সুধীনবাবু ডাকলেন। বললেন, তুই একটা হাতঘড়ি চেয়েছিলি-না আমার কাছে? বলেই নিজের রোলেক্স ঘড়িটি বালিশের তলা থেকে তুলে দেবেনকে দিলেন।

    বললেন, এটা তুই রাখিস।

    এ কী! এ কী! বলল দেবেন। এটা যে আপনার নিজের ঘড়ি। এত দামি!

    তা হোক। তুইও দামি। তুই-ই নে। সময়ের দাম ফুরিয়ে গেছে আমার কাছে। ঘড়িতে আমার আর কী দরকার?

    তাহলেও।

    অভিভূত গলায় বলল দেবেন।

    এবার যা ভাগ। আমি পড়ব।

    সুধীনবাবু ওকে তাড়ালেন।

    দেবেন চলে যেতে যেতে ভাবল, আজ ঘড়িটা কাউকে দেখাবে না। কাল দেখাবে। ঠাকুর নটবর সকলকে চমকে দেবে ঘড়িটা দেখিয়ে। তারপরই ভাবল, ও আবার ভাববে না তো যে, চুরি করেছি? ভাবলে কী? বাবুর কাছে ডেকে আনব। বাবুর নিজের মুখেই শুনুক ওরা, দেবেনের কী পজিশন ও বাড়িতে।

    দেবেন চলে যেতেই দরজা বন্ধ করে দিলেন সুধীনবাবু। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে সারা ঘরময় ঘুরে ঘুরে পাঁউরুটির টুকরোগুলো তুলে খেতে লাগলেন। যেন শিশু হয়ে গেলেন। যেন মিষ্টির চেয়েও ছোটো। হামাগুড়ি দিয়ে থাবা মেরে যমকে মুখে পুরতে লাগলেন। তারপর দাঁতে কাটতে লাগলেন। ছিঁড়ে ছিঁড়ে মৃত্যুকে খেতে লাগলেন তিনি।

    বড়ো জ্বালা করতে লাগল বুক পেট। আঃ মিষ্টি! দাদু আমার। প্রমিস। তুমি তোমার প্রমিস রেখেছ দাদু। অত যন্ত্রণাতেও প্রমিস ভাঙোনি। এ আমি কী করলাম। মিষ্টি সোনা আমার! কী করলাম আমি! শেষে…..।

    শিখা, তুমিই ঠিক। বুড়োগুলোর কোনোই দিশা নেই।

    রুটির টুকরোগুলো চিবোতে চিবোতে, গিলতে গিলতে মনে মনে বললেন, তোমার কী হবে শিখা? দীপুরও কী হবে? মিষ্টিকে ছাড়া তোমরা বাঁচবে কী করে? মনে মনে বলতে লাগলেন সুধীনবাবু।

    তারপর স্লিপিং ট্যাবলেটের শিশি খালি করে মুঠো করলেন, দু-গ্লাস জলের সঙ্গে সবগুলো গিলে ফেললেন।

    ফেলেই, কোনোক্রমে বিছানায় হামাগুড়ি দিয়ে শিশুরই মতো উঠে শুয়ে পড়লেন।

    পাঁচ

    বাইরে ভোর হয়ে আসছিল। নার্সিং হোমের ওয়েটিং রুমে বসেছিল ওরা সকলে। শিখা, ফুচি, প্রদীপ, অন্যরা। দীপু ভেতরে ছিল ডাক্তারদের সঙ্গে। মেজোবউ ছিল বাড়িতে, বাচ্চাদের আগলাতে।

    ডাক্তার ব্যানার্জি এসে শিখাকে ডাকলেন।

    ডাক্তার ব্যানার্জি ভণিতা না করেই বললেন, উই আর সরি! ভেরি ভেরি সরি! ইট ওয়াজ আ কেস অফ পয়জনিং। পুরো চিকিৎসাই তো প্রথমে অন্যরকম হয়েছিল। দেরিও হয়ে গেছিল…..তাই…..। পুলিশ কেস হবে।

    ছয়

    এখন আর কোনো কষ্টই নেই মিষ্টির। সুধীনবাবুরও কোনো কষ্ট নেই।

    সুধীনবাবু গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

    সুধীনবাবুর খুব কষ্ট হতে লাগল। কষ্টের মধ্যেই যেন হঠাৎ মনে হল, ঘরময়, বাড়িময় তার মস্তিষ্কময়ই ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করছে। ওঁর বাড়িতে, কলকাতা শহরের সব বাড়িতেই যেন লক্ষ-লক্ষ কোটি-কোটি ইঁদুরের বাস। ওরা নিরন্তর কুটি কুটি করে কাটছে। সম্পত্তি কাটছে, সম্পর্ক কাটছে, সুখ-শান্তি-ভালোবাসা, মায়া-মমতা-সততা সবকিছুই কাটছে। খাওয়ার লোভে নয়। শুধু কাটারই লোভে। কাটাই ওদের স্বভাব।

    মেজোবউমা বলেছিল, ইঁদুররা কিছু না কেটে বেঁচে থাকতে পারে না।

    ঈর্ষায় কাটছে। পরশ্রীকাতরতায় কাটছে। লোভে, ঘেন্নায় কাটছে একে অন্যকে ইঁদুরগুলো। সর্বক্ষণ কুটুর কুটুর কুটুর…..।

    হঠাৎই তাঁর মনে হল এতগুলো ইঁদুরের মধ্যে উনি এতদিন ছিলেন কী করে?

    সামনে একটা বিরাট চওড়া মসৃণ রাস্তা। চলে গেছে আদিগন্ত। কিন্তু সুন্দর গন্ধভরা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। কত ফুল, পাখি, প্রজাপতি। তাঁর হাতে স্টিয়ারিং। পাশেই গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে মিষ্টি বসে আছে। ও একটা সুন্দর হলুদ-সাদা ফুল-ফুল ফ্রক পরেছে। জোরে চলেছে গাড়ি। জঙ্গলের মধ্যের পথ দিয়ে। বর্ষার ভোরের বনের থম-ধরা গন্ধে ম-ম করছে চারধার। সবে ভোর হয়েছে। ফুরফুর হাওয়া লাগছে গায়ে।

    মিষ্টি বলল, ও দাদু। দিদার কাছে কখন পৌঁছোব?

    এই তো! পৌঁছে গেলাম বলে দাদু।

    সুধীনবাবু বললেন।

    দিদা, তোমাকে দেখে কী বলবে মিষ্টি?

    কী বলবে আবার। আদর করবে।

    তুমি দিদাকে কিছু বলবে না?

    না। কিছু বলব না। আব্বা দেব।

    তুমি আব্বা দেবে দিদাকে? দাদু?

    একটু চুপ করে থাকলেন সুধীনবাবু।

    মিষ্টির গায়ের পাউডারের গন্ধে নীহারিকার গায়ের গন্ধ পেলেন। তারপর বললেন, দেব। আমিও দেব।

    দাদু, একটা গল্প বলো না-যেতে যেতে! মিষ্টি বলল!

    সুধীনবাবু বললেন, জানো দাদু, একজন বাঁশিওয়ালা ছিল। তার নাম হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা। সে-না, একদিন সব ইঁদুরদের বাঁশি বাজিয়ে, বাজিয়ে, বাজিয়ে…।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }