Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাঁঝবেলাতে

    তোমার হাসিটি কিন্তু ঠিক সেরকমই আছে।

    তাই?

    হুবহু।

    রুবি বলল। বাজে কথা, মুখের পেশির সঞ্চালন আর দাঁতের সারি একইরকম আছে।

    হাসি মরে গেছে কবে।

    কী জানি! আমি তো দেখছি তুমি দাঁড়িয়ে আছ দোতলার বারান্দাতে। মুখ ঝুঁকিয়ে দেখছ পথের দিকে। মুখের দু-পাশে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তোমার কোমর ছাপানো চুল। আর তুমি হাসছ।

    কত বছর আগের কথা?

    ত্রিশ বছর তো হল।

    ত্রিশ বছর?

     

     

    তাইতো। এবং তোমার হাসিটি বদলায়নি একটুও। তুমি আগের থেকে আরও সুন্দরী হয়েছ।

    ছাই।

    বলেই রুবি আবারও হাসল। সেই হাসি।

    তোমার ছেলেমেয়ে কী?

    আমার এক ছেলে, এক মেয়ে।

    কত বড়ো হল।

    বড়ো ছেলে তো চাকরিতে ঢুকেছে।

    কোথায়?

     

     

    ডি সি পি এল এ।

    ইঞ্জিনিয়ার?

    হ্যাঁ।

    আর মেয়ে?

    মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে।

    কোথায়?

    ব্রাবোর্নএ।

    আর আপনার?

     

     

    আমারও এক ছেলে এক মেয়ে।

    কত বড়ো হল?

    বড়োমেয়ে। একটি স্কুলে পড়াচ্ছে বাংলায় এম এ করে।

    আর ছেলে?

    সে বকে গেছে। ড্রাগ-অ্যাডিক্ট। কিছুই করে না।

    আপনার তো কোনো নেশা ছিল না। সেসব ছিল সুপ্রতীপের। নেশাতেই তা সর্বস্বান্ত হল।

    কী?

    কী না তাই বলুন।

     

     

    মদ, সিগারেট, ড্রাগ। নইলে কেউ এত অল্পবয়সে চলে যায়?

    চলে যাওয়ার কোনো বয়স নেই রুবি।

    তা ঠিক।

    যে যায়, সে বেঁচে যায়। এই পৃথিবীতে বাঁচা বড়ো কঠিন কাজ। বিশেষ করে সুপ্রতীপের মতো ছেলের পক্ষে। ও বড়ো সোজা সরল ছেলে ছিল।

    জানি।

    তবু নেশা করে মরার কোনো মানে নেই। ছেলেও তখনও পায়ে দাঁড়ায়নি। মেয়ের কথা তো ছেড়েই দিলাম।

    অনেক নেশা আছে তাতে মানুষ প্রাণে মরে না। মনে মরে।

    সে কী নেশা?

     

     

    আছে।

    যেমন?

    যেমন তুমি।

    রুবি আবার হাসল। ওর চোয়ালটি চওড়া এবং সুন্দর দু-পাটি ঝকঝকে দাঁত। এখনও তেমনই সুন্দর দেখায় হাসলে।

    বলল, বাজে কথা। আপনি এখনও সেরকমই আছেন।

    বললে তো আর হল না। জুলপি আর মাথার দুপাশ সাদা। রিটায়ার করব আর চার বছর বাদে।

    সে তো বাইরেটা। ভেতরে একই মানুষ। সেই কলেজে পড়ার দিনের মতো।

    সেইটাই তো অসুখ। মনের বয়স এখনও সতেরোই রয়ে গেছে। আয়নার সামনে দাঁড়াই না তাই। আমার বহিরঙ্গ রূপের সঙ্গে অন্তরঙ্গ রূপের কোনো মিলই নেই। এর চেয়ে বেশি কষ্টর কোনো অসুখ নেই।

     

     

    তারপর বললাম, তোমার একটা লাইলাক রঙের শাড়ি ছিল। মনে আছে? তোমার স্কুল ফাইনাল পাশের পর মেসোমশাই খুব বড়োপার্টি দিয়েছিলেন। তখন তুমি সেই শাড়িটা পরেছিলে, চুলে দিয়েছিলে লাইলাক রঙা ফুল।

    আশ্চর্য। মনে আছে আজও আপনার?

    আছে। তোমার ওই শাড়িপরা মূর্তি এই সেদিনও স্বপ্ন দেখেছি।

    ছেলেরা তো শুনেছি স্বপ্নে শাড়িপরা অবস্থায় কাউকেই দেখে না।

    তা ঠিক। কিন্তু তোমাকে তাই দেখেছি আমি। যে বয়সে এসে পৌঁছেছি তাতে শাড়ি না-পরার চেয়ে শাড়ি পরা চেহারাটাই ভালো লাগে।

    আপনি যে আমাকে….। কোনোদিনও তো বলেননি। অবশ্য একটা চিঠি। একটাই অবশ্য।

    আমাদের সময়টা তো অন্যরকম ছিল। তুমিও তো বলোনি কখনো। অথচ আজ সুপ্রতীপ নেই, ত্রিশটা বছর চলে গেছে মাঝে, অথচ এই বিয়েবাড়িতে এসে তোমাকে হঠাৎ দেখে মনে হচ্ছে সেদিন কিছু না বলেই বোধ হয় ভালো করেছিলাম। মানে, বলতে যে পারিনি……

     

     

    কেন?

    আমাদের সময়ে মোহটাকেই প্রেম বলে জানতাম আমরা।

    প্রেমের সঙ্গে মোহর কী ঝগড়া?

    আবার হাসল রুবি।

    আমার বড়োশালি এসে বললেন, খাওয়া হয়েছে সুপ্রকাশ?

    না দিদি।

    তুমি রুবিকে চিনলে কী করে?

    বলতে পারেন বিনা চেষ্টাতেই। আমাদের উলটোদিকের বাড়িতে থাকত ওরা। রুবির বাবার মস্ত ব্যবসা ছিল ওষুধের।

     

     

    তাই?

    হ্যাঁ। আমার সঙ্গে রুবির বিয়ে হলেও হতে পারত।

    অ্যাই! বলে, রুবি আবারও হাসল।

    দিদি হেসে বললেন, এসব কথা চামেলি কি জানে?

    আমি বললাম,—না। দয়া করে আপনার ছোটোবোনটিকে আজ আর ওসব বলবেন না। কাল থেকে মেয়ের স্কুলের পরীক্ষা আরম্ভ। অত্যন্ত টেনশানে আছে।

    তোমার মেয়ের! কীসের পরীক্ষা?

    আহা মিলির নয়। মিলি যে স্কুলে পড়ায় সেই স্কুলের মেয়েদের পরীক্ষা শুরু।

    দিদি হেসে উঠলেন।

     

     

    রুবি আবার হাসল।

    বউদির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন না?

    থাক না। তুমিও তো কখনো সুপ্রতীপের সঙ্গে আমাকে আলাপ করিয়ে দাওনি। কিছু সম্পর্ক সংসারে থাকা উচিত যা শুধুমাত্রই দু-জনের। আর কোনো দাবিদার না থাকাই ভালো সে সম্পর্কে।

    রুবি হাসল।

    বলল, সত্যি এই বয়সেও আপনার মতো এত রোমান্টিক মানুষ দেখা যায় না।

    ভুল। বয়স আমার হয়েছে। তোমারও হয়েছে। যদিও তুমি আমার চেয়ে অনেকই ছোটো। কিন্তু আমার সতেরো বছরের যে প্রথম প্রেম তার গায়ে তো আঁচড়টিও পড়েনি। সে তো এই তিরিশটি বছরে আরও চিকন আরও সবুজ আরও নবীন হয়েছে। কোনো প্রেমেরই বয়স হয় না রুবি, যদি সে প্রেম আসল প্রেম হয়।

     

     

    নকল প্রেমও আছে বুঝি?

    রুবি হাসল।

    নেই?

    জানি না।

    জানো। স্বীকার করছ না। যে প্রেম ব্যবহারে, প্রয়োজনে, গ্যাস সিলিণ্ডারের চিন্তা, ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের ভাবনায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তা আর প্রেম থাকে না।

    তবে তা কী?

    অভ্যেস।

    অভ্যেস?

     

     

    আবার হাসল রুবি। বলল, সত্যিই তেমন পাগলই আছেন আপনি।

    প্রার্থনা কোরো, যেন থাকি। এই তো একমাসে গোপালকাকু আর বাঘাকে ইলেকট্রিক ফারনেসে ঢুকিয়ে দিয়ে এলাম। সেই লাল আভাটা চোখে লেগে আছে এখনও। আঁচ লেগে আছে কপালে। এই তো পরিণতি আমাদের। আমার তোমার সকলের। প্রার্থনা কোরো যেন, যে কটা দিন আর আছি এমন সেকালের মতোই বাঁচি।

    গম্ভীর হয়ে গেল রুবি।

    বলল, মেয়ের বিয়ে দেবেন না?

    আমি? আমি কে? মেয়ের বিয়ে মেয়েই দেবে। তাদেরই পছন্দমতো। আমাদের দিন তো আর নেই। বোকা বোকা দিন। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে তুমি আমার আসা যাওয়ার সময়ে। বাথরুমের জানালাটা একটুখানি ফাঁক করে রেখে জোরে গান গাইতাম আমি, যাতে তোমার শোয়ার ঘর অবধি সে-গান পৌঁছোয়। আমাদের প্রেমের প্রকাশ তো ওরকমই ছিল। বাছুরের প্রেম ছিল আমাদের। পৃথিবী আর নাবালক নেই। সাবালকদের দিন এখন। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যে কত বড়ো দায় থেকে বাঁচিয়েছে আমাদের তা কী বলল! হালকা লাগে না তোমার?

    তা লাগে?

    রুবি বলল।

    চামেলির দিদি টগরদি এসে বললেন, অ্যাই সুপ্রকাশ তোমরা বসে পড়ো। লাস্টব্যাচ। চলো রুবি।

    আমার তো খাওয়া হয়ে গেছে সুদা।

    সত্যি?

    সত্যি।

    বহরমপুরের কোন পাড়ায় থাকো তোমরা? চলে যাব একটা উইক-এণ্ডে।

    গ্রান্ট হল রোডে। লালগোলার হাইওয়ে দিয়ে ঢুকতে যে রাস্তা সে রাস্তাতে।

    গেলে, একাই যাব। একা গেলে ভয়?

    ভয়? রুবি আবার হাসল। তারপর হাসি থামিয়ে বলল, না। ভয় নয়। সব ভয়কেই মাড়িয়ে এসেছি। ঠিক আছে। তাই আসবেন।

    বহরমপুর শহরটা অনেক বদলে গেছে। রাস্তাঘাট বিরাট চওড়া হয়েছে। চেনা যায় না। আগে গাড়ি ছিল কটা হাতে গুনে বলা যেত। এখন ট্রাক বাস গাড়ির জন্যে পথচলা দায়।

    রুবির স্বামী সুপ্রতীপকে সকলেই চেনে। তবে সেই চেনাটা শ্রদ্ধার চেনা নয়। মাতাল, দেনায়-ডোবা, সর্বস্বান্ত সুপ্রতীপকে লোকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গেই মনে করে।

    বহরমপুরে একবার ফুটবল খেলতে এসেছিলাম। বছর পঁচিশেক আগে। তখন সুপ্রতীপের বাবা বেঁচে। জমজমাট পসার ছিল। বিরাট উকিল। উনি আমার জন্যে ব্যুইক গাড়ি পাঠিয়েছিলেন ওঁর বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে। রুবির চিঠি নিয়ে এসেছিল ড্রাইভার আর চাপরাশি। আমি যাইনি। রুবিকে অন্য কারও স্ত্রী হিসেবে দেখতে আমার ইচ্ছে করেনি। খুব রাগ হয়েছিল আমার। জ্বর হয়েছে বলে, মিথ্যা বলে তাদের বিদায় করেছিলাম।

    রুবির বিয়েতেও আমি যাইনি। একবার ভেবেছিলাম পিঁড়ি ঘোড়াতে গিয়ে ফেলে দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেব বড়োলোকের মেয়ের। তারপর, ঘর অন্ধকার করে শুয়েছিলাম। সানাই-এর শব্দ, হাজার লোকের হাসি শুনছিলাম শুয়ে শুয়ে। কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজে গেছিল। প্রেম যে একধরনের অসুখ, বড়ো মারাত্মক অসুখ; তা জেনেছিলাম সেই রাতে। অসুখটা সেরে গেছিল রুবি পরদিন বহরমপুরে চলে যাওয়াতে। কিন্তু আসল—বসন্তর মতো অসুখ চলে গেলেও তার দাগ রয়ে গেছিল গভীর হয়ে মনময়। এত বছর!

    সাইকেল রিকশাটা যখন ভাঙা পাঁচিলের পাশের মরচে পড়া গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকল দীন বাড়িটার, তখন মনটা খারাপ হয়ে গেল। যাকে ভালোবাসে মানুষ, তাকে খুশি না দেখলে যে বড়ো কষ্ট হয় এই কথা পশ্চাশবছরের সুপ্রকাশ আগে কখনো জানেনি।

    একটি ছাগল চড়ছিল ন্যাড়া মাঠে। আগে বোধ হয় এইখানেই সবুজ লন ছিল। অনেক ফুল। যারা চিরদিনই দরিদ্র তাদের দারিদ্র্য যে কী তা বোধ হয় প্রতীয়মান হয় না যারা একদিন ধনী ছিল তাদের কাছে যেমন হয়। খাকি-রঙা ছেঁড়া হাফপ্যান্ট পরা বছর দশেকের একটি ছেলে একটি সাদা ছাগলছানার কানের মধ্যে মুখ ঠেকিয়ে ফুঁ দিচ্ছিল।

    ছেলেটি নৈর্ব্যক্তিক ও অভদ্র গলায় বলল, কাকে চাই?

    রুবি আছেন?

    কে রুবি?

    সুপ্রতীপবাবুর স্ত্রী?

    ও। বড়োকাকিমা? দাঁড়াও। ডেকে দিচ্ছি। বলেই বলল, তুমি হাবলাকে ধরো তো!

    কে হাবলা?

    ধ্যাত ধরো না।

    বলেই ছাগলচানার জিম্মা আমায় দিয়ে ভিতের চলে গেল।

    রুবি ছেলেটির সঙ্গে এল ভেতর থেকে।

    অন্দরমহলটা অন্ধকার। রুবি সেই মহল আলো করে এল। আমাকে দেখেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। একমুহূর্ত মুখ কালো করেই হাসল। সেই হাসি।

    বলল, সুদা। একটা পোস্টকার্ড ফেলে আসতে পারলেন না?

    চলে যাই তবে?

    না, না।

    বলে, এগিয়ে এসে আমার হাত ধরল। সারাশরীরে আমার শিহরন খেলে গেল।

    কোনোদিন আমরা কাউকে স্পর্শ করিনি গত তিরিশ বছরে।

    বলল, আসুন। ভেতরে আসুন।

    আমার মন বলল, ভেতরেই তো আসতে চেয়েছিলাম। সেই উনিশশো পঞ্চাশ থেকে। তখন তুমি বিকেলবেলার আলোয় রাঙা একটি স্থলপদ্মর মতো ছিলে।

    যে সালংকারা রুবিকে সেদিন চুমকির বিয়েতে দেখেছিলাম এ রুবি সে রুবি নয়। একটি ফলসা-রঙা শাড়ি। অর্জুনগাছের ছালের মতো রঙের পাড়। অফ-হোয়াইট একটি রঙিন ব্লাউজ। বাঁদিকের বগলের কাছে ছিঁড়ে গেছে সেটা। পদ্মফুলের মতো দেখাচ্ছে জায়গাটা।

    ভাঙা ও মলিন সোফায় এনে বসাল আমাকে রুবি।

    বলল, এক মিনিটে আসছি।

    দু-মিনিট পরে শাড়ি জামা বদলে, হাতের রেকাবিতে একটি সন্দেশ ও এক গ্লাস লেবু চিনির শরবত এনে দাঁড়াল রুবি।

    আমাকে ঘরের চারদিকে তাকাতে দেখে বলল, এজমালি সম্পত্তি। ভাগের মা গঙ্গা পায় না। শ্বশুরমশাই তো শয্যাশায়ী। কিন্তু উইল করেছেন।

    আমার সামর্থ্য নেই। দেওরেরা উইলে কী লেখা আছে, জানতে না পারায় কেউই আর গাঁটের কড়ি খরচ করে না। আমার জন্যে বরাদ্দ হয়েছে একতলার একটি ঘর। চলুন, সেখানে গিয়েই বসি।

    দেওরদের কাউকে তো দেখছি না।

    তারা চলে গেছে। লালদিঘিতে বাড়ি করেছে এক-জন। অন্যজন ধুলিয়ানে। ভালো ব্যাবসা তাদের।

    শ্বশুরমশাইকে দেখে কে?

    আমি। আর ওই ভ্যাবলা।

    ভ্যাবলা কে?

    যে ছেলেটি খবর দিল। ওর বাবা ছিল শ্বশুরমশায়ের খাস চাকর। সেও মারা গেছে পাঁচ বছর হল। তার স্ত্রী আগেই মারা গেছিল। বাড়ি ছিল জলঙ্গিতে। সেই থেকে ভ্যাবলা এখানেই আছে।

    একা থাকো, তোমার ভয় করে না?

    ভয়? না:। চলুন।

    রুবির ঘরটি বেশ বড়ো। ওই ঘরেরই এক কোণায় রান্না করে জনতা-স্টোভে। অন্যকোণে কালিমায়ের মূর্তি। জবাফুল দেওয়া আছে টাটকা। খাটটি বিরাট। লেজারাস কোম্পানির। রাজা মহারাজারা যেমন খাটে পত্নী উপপত্নীদের আদর করতেন। ইলেকট্রিসিটি নেই। হাওয়াও নেই। গুমোট গরম।

    রুবি বলল, হাত পা ধুয়ে এসে খাটেই বসুন।

    তাই করলাম। ঘরের সঙ্গেই লাগোয়া বিরাট বাথরুম। মার্বেলের। নোংরা হয়ে কালো হয়ে গেছে।

    একটি তালপাতা নিয়ে রুবি হাঁটু মুড়ে বসল খাটের বাজুতে হেলান দিয়ে। হাওয়া করতে লাগল আমাকে। কিছুক্ষণ আগেই চান করেছে। আমলা তেলের গন্ধ বেরোচ্ছে ভিজে চুল থেকে। রুবি ঠিক তেমনই সুন্দরী আছে। সরু কোমর, সুন্দর বুক, মরালী গ্রীবা, বিলিতি ডল-এর মতো দুটি নীলাভ চোখ। ঝাঁপানো চুল। আর হাসি।

    স্বগতোক্তির মতো বলল, আপনি আসতে চাইলেন, না করতে পারলাম না। কিন্তু……

    না করতে কেন? আমি তো তোমার বৈভব দেখতে আসিনি। তোমাকে দেখতে এসেছি।

    তাই?

    রুবি বলল।

    সত্যি বলুন তো কেন এসেছেন এই গরমে এত কষ্ট করে?

    সত্যি কথাটা বলতে পারলাম না। বলতে পারলাম না যে, গত ত্রিশ বছর তোমার জন্যে অনেকই কষ্ট পেয়েছি অথচ একথা জেনেই যে সেই কষ্টের কোনো পরিণতি নেই। আজকের কষ্ট সে কষ্টর তুলনায় কিছুমাত্রই নয়।

    রুবির একটি ফোটো আছে আমার কাছে।

    চামেলি বা আমার ছেলেমেয়েরা কেউই তো জানে না। রুবি আমারই একার। ওদের কোনো দাবি বা অধিকার নেই রুবির ওপরে।

    মুখে বললাম, তুমি জানো না?

    রুবি বলল, জানি, আবার জানিয়ো না।

    একদৃষ্টে ওর দু-চোখে চেয়ে থাকতে ও বলল, কী দেখছেন অমন করে?

    তোমাকে।

    অস্বস্তি পেল রুবি। ওই গরমেও বুকের কাপড় টানল ভালো করে।

    আমি বললাম, কী খাওয়াবে আমাকে?

    আমি যা খাব। আমি যে গরিব সে কথা আপনার কাছে লুকোতে চাই না। লাভও নেই।

    কে বলে তুমি গরিব?

    আমি জানি। হাওয়া পাচ্ছেন? ইস ঘামে মুখটা লাল হয়ে গেছে।

    আমি কিছু বললাম না।

    আধঘণ্টা গল্প করার পর ও বলল বাবাকে দেখে আসি একটু। দীর্ঘজীবন বড়ো অভিশাপের। জানেন সুদা।

    জানছি।

    নীচে নেমে এসে রুবি বলল এবার আপনাকে খেতে দিই? তার আগে ভ্যাবলাকে দিয়ে দিই। আমরা গল্প করতে করতে খেতে পারব তাহলে।

    ভ্যাবলাকে ডেকে এনামেলের থালায় অনেকখানি ভালো ডাল আর তরকারি দিল।

    তারপর শাড়ির পাড় দিয়ে বানানো আসন পেতে পেতলের মস্ত থালা গেলাস দেরাজ থেকে বার করে পেতে দিয়ে বলল, আসুন। ভাত বেড়েই বলল, দাঁড়ান। ভালো ঘি আছে একটু। আপনাকে দি। ঘিও বের করল দেরাজ থেকেই।

    কাঁচাকলাই-এর ডাল, আলুপোস্ত আর চালতার টক। তার আগে ঘি।

    আমি বললাম, তুমি কী খাবে? সব ভাতই তো দিয়ে দিলে?

    আজ আমার উপোস।

    কীসের উপোস?

    দেব—দর্শনের।

    আমার বুকের মধ্যেটা যেন মুচড়ে উঠল। বাইরের মাঠে ছাগল-মা কাঁদছিল। শালিক ডাকছিল কিচির-মিচির। বড়োরাস্তা দিয়ে চলে যাওয়া ট্রাক, গাড়ি আর সাইকেল-রিকশার সম্মিলিত আওয়াজ মাথার মধ্যে ধাক্কা দিচ্ছিল। আমার চোখ জলে ভিজে এল। বড়োলেকের মেয়ে, বড়োলোকের বউ রুবির অবস্থা দেখে।

    আমি বললাম, তুমি না খেলে আমি খাব না। আমি এক্ষুনি চলে যাব।

    ও বলল, আপনার পায়ে পড়ি। অমন করবেন না।

    আমি ভাত মাখছি। তুমি আমার সঙ্গে খাবে। বলে, ঘি দিয়ে ভাত মেখে আমি এক গরাস রুবির মুখে দিলাম। সারাশরীরে শিহরন খেলে গেল আমার। হয়তো রুবিরও। রুবির গাল বেয়ে টপ টপ করে জল পড়তে লাগল। নিজেকে সামলে নিয়ে ও বলল আমার মা ছাড়া কেউ আমাকে……

    দু-জনে মিলে খেতে খেতে বললাম, তোমার বড়ো কষ্ট, না রুবি? অনেকরকম কষ্ট।

    কষ্ট? না তো। কীসের কষ্ট? এক একজন মানুষ এক একরকম কপাল করে আসে। কী করা যাবে? আমার চেয়েও অনেক বেশি কষ্টেও তো আছে অনেক মানুষ।

    তা আছে। তুমি ছেলের কাছে গিয়ে থাকো না কেন?

    রুবি উত্তর দিল না।

    কী?

    ও যে বাড়িতে পেয়িং গেস্ট ছিল সেই বাড়ির মেয়ের সঙ্গেই ওর ভালোবাসা হয়েছে। তাকেই বিয়ে করবে। সেখানে, মানে ছেলের শ্বশুরবাড়িতে থাকি কী করে? তা ছাড়া আমার শ্বশুরমশাইকে তো এ অবস্থায় ফেলে যেতে পারি না। উনি যতদিন আছেন আমার এখানে না থেকে উপায় নেই।

    ছেলে তোমাকে টাকা পয়সা পাঠায় না?

    জিজ্ঞেস করছি বলে কিছু মনে কোরো না।

    রুবি চুপ করে থেকে বলল, পুজোয় আর পয়লা বৈশাখে শাড়ি দেয়। আর কী দেবে? সকলেরই খরচ আছে তো! তা ছাড়া চাকরি তো বিরাট কিছু করে না…..।

    ও।

    খাওয়া দাওয়ার পর অনেক গল্প হল। আমরা একবার হাড়োয়াতে পিকনিক-এ গেছিলাম। সমুদ্রর মতো ঝিল। কত পাখি। জলজ আঁশটে গন্ধ। রুবি সেদিন অনেকক্ষণ আমার পাশে বসেছিল। সূর্য ডুবেছিল আমাদের চোখের সামনে। সেই লালিমা এখনও যেন ওর মুখে মাখানো আছে।

    সে কথা বলতে ও হেসে উঠল। রুবির হাসি।

    চা করল, ট্রেনের সময়ের আগে। কুচো নিমকি দিল দেরাজ খুলে কাঁচের বয়াম থেকে। তারপর বলল, পান খাবেন? ভ্যাবলাকে দিয়ে পান আনাল।

    তুমি?

    ও চলে যাবার পর খাইনি। তবে খাই আপনার সঙ্গে একটা। জর্দা দিন আমায়।

    রুবির মেয়ে কলকাতায় তার দাদার বাড়িতে থেকে পড়ে।

    বলল, কাছে রাখতে পারলে খুশি হতাম। মেয়ে তো। ছেলেটা তো পর হয়েই গেল এখন মেয়েটা…..

    ভ্যাবলা সাইকেল রিকশা ডেকে দিল। রুবি ওদের ভাঙা ফটক অবধি এল। বেলা পড়ে এসেছিল। আমি রিকশায় ওঠার আগে বললাম, আমি কী তোমার জন্যে কিছুই করতে পারি না রুবি?

    রুবি দুদিকে মাথা হেলাল। পানে ওর ঠোঁট রাঙা হয়ে উঠেছিল। হেসে বলল না, কিছু না।

    আমার ভালোলাগাটা কি কিছুই নয়?

    নিশ্চয়ই! এই যে এলেন কত ভালো লাগল। এই তো মস্ত পাওয়া। কোনোদিন কী ভেবেছিলাম। অমন হবে? পঁচিশ-তিরিশ বছর পরে? ভালোলাগায় মরে যাচ্ছি আমি। রাতে আমার ঘুম হবে না আজ। স্বপ্ন বলে মনে হবে।

    তোমাকে আমি কিছুই কী দিতে পারি না রুবি?

    অনেকই তো দিয়েছেন। আপনি জানেন না?

    তবু, কিছু চাও তুমি আমার কাছ থেকে। তখন আমরা গরিব ছিলাম, তোমরা বড়োলোক। এখন আমি বড়োলোক। নেবে না কিছুই আমার কাছ থেকে?

    রুবি হাসল। বলল, নেব। সেই যে একটি চিঠি দিয়েছিলেন আমাকে হাড়োয়া থেকে ফিরে! মমতাঝি-এর হাত দিয়ে লুকিয়ে পাঠিয়েছিলেন, মনে আছে? তা আজও আছে আমার কাছে। চিঠিই দেবেন মাঝে মাঝে আমায়। যখনই মনে পড়বে। তার চেয়ে বড়ো পাওয়া তো আর কিছুই হতে পারে না।

    আমি রিকশাতে উঠলাম। বললাম, যাই রুবি।

    যাওয়া নেই। আসুন। ভালো থাকবেন।

    তুমি ভালো থেকো।

    আমি সবসময়ই ভালো থাকি। বলেই, রুবি হাসল।

    সাইকেল রিকশা এগিয়ে চলল। সামনে আলো, ভিড় আওয়াজ। পেছনে অন্ধকার, নির্জনতা, খসখসে নিস্তব্ধতা।

    একবার মুখ ঘুরিয়ে চাইলাম। দেখলাম, মরা আলোয় বিকেলের স্থলপদ্মর মতো জ্বলজ্বল করছে রুবি, মরচে-পড়া গেটটা ধরে দাঁড়িয়ে। হাসছে।

    আমার হারিয়ে যাওয়া, কুড়িয়ে পাওয়া রুবি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }