Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পরি পয়রা

    ডানদিকে শাল আর চাল্লার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ চলে গেছে ন্যাশনাল হাইয়ের দিকে। সেখানে গিয়ে উঠল সোজা লোধাশুলি। আরও এগিয়ে গেলে শালবনী। ঝাড়গ্রাম।

    মুঠিয়া জায়গাটা, বাংলা আর ওড়িশার সীমান্তবর্তী। ‘পয়রা’ পদবিটা শহরের লোকের বিশেষ পরিচিত নয়। এই পয়রাদের কাজ স্যাকরাদেরই মতো। গাঁয়ে গঞ্জেও স্যাকরা থাকে।

    মদন পয়রা, পরির বর। বয়সে বছর বারোর ব্যবধান দু-জনের। মদন বাড়ি বসে গয়না বানিয়ে নিয়ে বালেশ্বরে বড়ো মহাজনের দোকানে অর্ডারি গয়না সাপ্লাই করে কখনো-সখনো নিজের পছন্দসই ডিজাইনের গয়না নিয়ে বাংরিপোসি আর ঝাড়ফুকুরিয়ের মধ্যে সপ্তাহে যে একদিনের হাট লাগে সেখানে গিয়ে বেচে আসে। তবে সে হাটে বিকোয় রুপোর গয়নাই বেশি। সরু কোমরের, কবৌঞ্জ আর নিমের তেল মাখা তন্বী মেয়েরা আসে মাঝবয়সি কালো কবুতরের মতো। বুকের আর বগলতলির ঘামের গন্ধে ছেয়ে যায় হাট, মুরগি আর মুরগির ডিমের আঁশটে গন্ধের সঙ্গে মিশে।

    শেষবেলা অবধি কেনাবেচা করে জঙ্গলের পথ ধরে অনেকখানি এসে সুবর্ণরেখা পেরিয়ে মুঠিয়া গ্রামে ফেরে মদন রাতের বেলা। কখনো চাঁদ থাকে। কখনো থাকে না। গ্রামের সঙ্গী সাথিদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হাঁড়িয়া খাওয়া সুখে অতখানি পথ যেন উড়েই আসে মদন। শরীর তখন পাখির শরীর হয়ে যায়। রাত পাখির মতো। বসন্তর বনের হাওয়া শালের পাতায় ফুরফুর করে। তার শরীরেও।

     

     

    যেন পালকে ভরে গেছে বলে মনে হয় শরীর।

    মদনকে মুঠিয়া গ্রামের অনেকেই হিংসে করে। বিঘে পাঁচেক ডাঙা জমি। পঁচিশ বিঘা ধান জমি। তদুপরি এই সোনা-রুপোর ব্যাবসা। কিন্তু এইসবও কিছু নয়। হিংসে করে পরির জন্যে। ডানা-কাটা পরিরই মতো রূপ ছিল পরির। এখন তিরিশে এসে সে-রূপে বান ডেকেছে।

    সোনা-রুপোয় মুড়ে রাখে পরিকে মদন তবু পরির মন পায় না। ছেলেমেয়ে নেই ওদের। তারজন্যে দুঃখ নেই মদনের। যদি বুঝতে পারত একটিবারেরও জন্যে, পরি কী চায় তার কাছ থেকে? কীসে তার সুখ, তবে বর্তে যেত সে।

    ও যা কিছু চায়, সবই পরি দেয় তাকে। যা খেতে ইচ্ছে হয়, রেঁধে দেয়। যখন আদর করতে ইচ্ছে করে, আদর করতে দেয়। যেমন করে চায় ও তেমন করেই দেয়। অনেক পুরুষ বন্ধুদের কাছে মদন শোনে, তাদের স্ত্রীদের সম্বন্ধে নানা অনুযোগের কথা। গণেশ কোকশাস্ত্রের বই এনে দিয়েছিল একটা কোলকাতা থেকে। কামশাস্ত্রের ছবিঅলা বইও। সব ছবিকেই ও তার শোবার ঘরের বিছানায় ফ্রেমে বাঁধিয়েছে একবার বা একাধিকবার। পরির কিছুতেই আপত্তি নেই।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

     

     

    কিন্তু সব দিয়েও পরি যেন কিছুই দেয় না মদনকে। কী যে সে তার নিজের কাছে রাখে, তা বুঝতে পারে না মদন তার সব বুদ্ধি দু-হাতে জড়ো করেও। বুঝতে পারে না বলেই জৈষ্ঠ্যের দুপুরের চড়াই-এর মতো ছটফট করে। পরি কথা বলে না আদর খাওয়ার সময়ে। বিলিতি পুতুলের মতো মদনের কথামতো কাজ করে যায়। তখন পরির মুখে এক আশ্চর্য হাসি লেগে থাকে। প্রদীপের পলতে নয় সে হাসি। ভালোবাসার হাওয়া গেলে তা বাড়ে কমে না। ইলেকটিরির বালবের মতো স্থির সমান উজ্জ্বলতায় জ্বলতে থাকে তা। মাঝে মাঝেই মদনের মনে হয় যে, তার কোনো মানুষীর সঙ্গে বিয়ে হয়নি; বিয়ে হয়েছে কোনো সত্যি পরির সঙ্গে। যে পরিরা গা-ছমছম জ্যোৎস্না রাতে শালের বনে কী সুবর্ণরেখার সোনার মতো বালুভূমিতে খেলে বেড়ায়। মেয়ে মানুষটার বুক চিবুক দু-হাতের মধ্যে নিয়ে, তার নিশ্বাসের মিষ্টি গন্ধে নিজের বিড়ি-ফোঁকা দুর্গন্ধ মুখ সুগন্ধি করে তুলেও মেয়ে মানুষটার মনের কাছে কোনোদিনও আসতে পারেনি গত পনেরো বছরে মদন।

    পরি রাতের পর রাত তাকে বনের পরিরই মতো কুহকের রাজ্যে নিয়ে যায়। সর্বস্বান্ত হয়ে মদন পয়রা হাহাকার করে। যাকে অন্য যে-কেউই সুখের চরম বলে জানত, তা পেয়েও মদন বুঝতে পারে; সুখের বাড়ি অনেক দূরে।

    পরির কোনো দোষ নেই। শরীরে কোনো রাগ নেই। সৌন্দর্যে কোনো খুঁত নেই। তার গায়ের চামড়া জলপিপির গায়ের মতো উজ্জ্বল। অথচ কুসুমফুলের মতো নরম লাল। পরিকে সুবর্ণরেখা নদীর বালির মতো নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখেও তার মনের সোনার এক কণাও তার নখে তুলতে পারেনি মদন।

     

     

    দোষ বলতে একটাই। প্রতিবছর বসন্তর রাতে, দোলের চাঁদের পনেরো দিন আগে থেকে পরিকে যেন পরিতে পায়।

    চাঁদ যত বড়ো হতে থাকে পরির পাগলামি ততই বাড়ে।

    রাতের বেলা সে দরজা খুলে বেরিয়ে গাঁয়ের সীমানা পেরিয়ে সুবর্ণরেখার দিকে চলে যায়, সেখানে অসমসাহসী পুরুষও একা একা যেতে সাহস পায় না গভীর রাতে। মজা এইই যে, ঠিক সেইসব দিনেই মদনকে ঘুমে পায়। পরি শেষরাতে যখন নদী থেকে ফিরে আসে তখন ওর ঘুম ভাঙে। আর যখন যায়, তখন গভীর ঘুমে মড়ার মতো পড়ে থাকে। ঘুম পাড়িয়ে রাখার জন্যে মদন এই পনেরোদিন রাত নামলেই একাধিকবার আদর করে পরিকে। তৃপ্ত নারীর ঘুম সাপের কামড়ও টের পায় না একথা কে না জানে! তবু পরি তারপরও ঠিক বেরিয়ে যায়। মদন যা কিছু চায় সব দিয়ে তারপরও পরির অনেক উদবৃত্ত থাকে। সেই উদবৃত্ত সে কোথায় কার জন্যে যে বয়ে নিয়ে যায়, নিশির ডাকে সাড়া দিয়ে; সে এক গভীর রহস্য।

    পরি গত পনেরো বছরে দিনে গড়ে পনেরোটি কথাও বলেনি। পাঁচ প্রশ্নর উত্তর একটি ‘হ্যাঁ’ অথবা একটি ‘না’- তে সারে। মুখে সেই ইলেকটিরি বালের হাসি লেগে থাকে সবসময়ই। বাড়া-কমা নেই কোনো।

     

     

    পরির বাড়ি যে গ্রামে, সেই গ্রাম নদীর ওপারে। সেই গ্রামে এক মাতাল গেঁজেল জুয়াখেলায় সর্বস্ব খোয়ানো-পুরুষের বাস। সে মদনেরই বয়সি হবে। নাম তার খেয়ালি। খেয়ালির সবকিছুই গেছে। গ্রামের কোণের এক পড়ো পড়ো কুঁড়েতে তার বাস। মাধুকরী করে খায় সে। সবই দোষ। গুণের মধ্যে সে, গান গায়। সে গানও কাউকে শোনাবার জন্যে নয়। কেউ শুনতে চায়ও না। বনে বনে, দিনে রাতে, সেই একা পাগল গান গেয়ে গেয়ে ফেরে।

    কানাঘুসোয় শুনেছিল মদন যে, ছেলেবেলায় পরির সঙ্গে তার ভাব ছিল খুব, পরির মা যতদিন বেঁচে ছিলেন। মদন এও শুনেছিল যে, পরির বিয়ের পর থেকেই খেয়ালি মানুষটা অমন হয়ে যায়। দাবা-খেলা যুধিষ্ঠিরের মতো সব খোয়ায় একে একে। মন দিয়ে খেললে ওকে হারাতে পারে এমন লোক কমই ছিল দশটা গাঁয়ে। কিন্তু মানুষটা হারবে বলেই পণ করে যেন খেলতে বসত।

    তারপর নেশা শুরু করে।

    খেয়ালির সঙ্গেও পরির বিয়ে হতে পারত। কিন্তু জাতে তারা ছিল মুচি। মরা পশুর চামড়া শুকিয়ে তা দিয়ে জুতো বানাত। যে ঢোল মন্দিরে বাজে, সেই ঢোলের চামড়া আসত তাদেরই ঘর থেকে, যে খোলে ঠাকুর দেবতার নামকীর্তন হয় সেই খোলের চামড়াও আসত তাদের বাড়ি থেকেই; তবু অন্যের চোখে তারা জাতে নীচু।

     

     

    পরিরা ছিল স্বর্ণকার। দেবীর গয়না বানাত তার বাপ। তার মেয়ের সঙ্গে খেয়ালির বিয়ে হলে সমাজে ঠাঁই দিত না কেউই তাদের। তাই পরির বিয়ে দিয়েছিল বাপ খগেন, পালটি ঘরে মদনের সঙ্গে।

    বড়ো অদ্ভুত প্রকৃতির মেয়ে এই পরি। বাপকে অমান্য করেনি। কিন্তু বিয়ের পর একদিনের জন্যেও আর বাপের বাড়ি যায়নি। পা দেয়নি বাপের গাঁয়ে। অনেক ঝুলোঝুলি সাধাসাধিতেও না। শুধুই হেসেছে। ইলেকটিরি হাসি।

    মায়ের মৃত্যুতেও তাকে কেউই নিয়ে যেতে পারেনি। নিজ গাঁয়ে মরা মায়ের মুখ দেখতে। সুবর্ণরেখার জলের পাশে সে তর্পণ আর কাজ সেরেছে। নদীর এপাশে।

    বড়ো অদ্ভুত চরিত্রের মেয়েছেলে বটে।

    সকলেই বলে একথা।

    মদন কিন্তু বড়ো ভালোবাসে তার পরিকে। শুধু ছটফট করে মরে সবসময়ে যা, পরি তাকে দেয়নি; তা পাবার জন্যে। প্রদীপের আলোয় উজ্জ্বল মাটির ঘরে শালকাঠের তক্তপোশের ওপর শিমুল তুলোর তোশকের ওপরে বিছোনো খড়গপুর থেকে কিনে আনা ফুলকাটা নরম বিছানার চাদরের ওপর পরির পাশে শুয়ে পরিকে বার বার বলে, তুমি আমার হও, পরি তুমি আমার! তোমাকে পুরোপুরি দাও আমাকে, একটুও বাকি না রেখে। পরি মুখে সেই ইলেকটিরি হাসি হেসে খাট থেকে নেমে শায়া আর লালপেড়ে শাড়ি খুলে আলনায় রাখে। তারপরে তার হাঁটু সমান চুলের অর্ধেক সামনে এনে জঘন ঢাকে। অন্যপাশ থাকে পেছনে। নিতম্ব ছেয়ে। পরির হাসি বলে, এই তো আমি। নাও আমাকে। নাও! না-বলেই বলে, এর চেয়েও বড়ো পাওয়া বলে অপর কিছু কি জানে পুরুষেরা?

     

     

    পরিকে নেয় মদন! খাট থেকে নেমে তাকে কোলে করে তুলে এনে শোওয়ায় খাটে। আঁতিপাঁতি করে পরির শরীরের সব রহস্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। কিন্তু পরির শরীরের আড়ালে যা থাকে; কিছু কি থাকে?

    যা মদন পেতে চায়, তা একদিনের জন্যেও পায় না।

    পরি হেসে বলে, এই তো আমি!

    এই তুমিই কি সবটুকু তুমি?

    আর কী বাকি আছে আমার মেয়েদের শরীরই তো সবটুকু। আর কী!

    আর কিছু নেই?

    আর কী?

    তুমি আমার নও।

     

     

    তবে আমি কার? এতভাবে এতবার দিয়েও কি দেওয়া হল না?

    না, না। তুমি কী যেন লুকিয়ে রাখো। কী যেন দাও না আমাকে পরি।

    আর কিছু নেই। একজন মেয়ের যা-কিছু আছে, থাকতে পারে, সবই তো পেয়েছ। আর কী চাও?

    তা আমি জানি না। শুধু জানি যে, তুমি তোমার মধ্যে যে আর একজন আছে তাকে লুকিয়ে রাখো সব সময়। তাকে দাও না কখনো আমাকে।

    একদিন পরি মদনকে বলেছিল, তুমি অহল্যার গল্প জানো তো? আমরা মেয়েরা, এ দেশের সব মেয়েরা, অহল্যারই মতো পাথর হয়ে গেছি। তোমাদেরই চোখের অভিশাপে। শরীরের পাথরে আমাদের বাস। তোমাদেরই ফিরিয়ে দিয়ে তোমাদের অসম্পূর্ণ দান সম্পূর্ণ করি আমরা। রেঁধে খাওয়াই। রোগে সেবা করি। তোমরা মরে গেলে মাথার চুল কেটে ফেলি। নিরামিষ খাই। জীবনের এক আকাশ আলোকে নিভিয়ে দিয়ে সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকি। এইই তো তোমরা চেয়েছিলে চিরদিন। এই চেয়েছিলে বলেই এর চেয়ে বেশি কিছু চেয়ে আমাদের বিব্রত করো না কষ্ট দিয়ো না।

     

     

    এত কথা মদন কিংবা পরি পয়রা দুজনের কেউই স্পষ্ট করে বলে না। এমন ভাষাও তাদের নেই। তবে চোখ বলে।

    চোখ যা বলে তা কী মুখ কোনোদিনও বলতে পেরেছে?

    আজ চতুর্দশী। পলাশ শিমুল কুসুমের ফুল আর পাতা সেদ্ধ করে ঘরে ঘরে ছেলেমেয়েরা রং বানিয়েছে। কাল সকালে দোল খেলবে বলে। শটি আর রং মিশিয়ে আবির বানানো হয়েছে ঘরে ঘরে। হরিসভায় দোলোৎসব হবে রাতে। ঘরে ঘরে মিষ্টি বানানো হয়েছে। রং দিতে আসা ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেবে বলে। গাঁয়ের পাড়াতুতো দেওর আর বউদিদের চোখে ঘুম নেই কাল সকালে দোলের অছিলায় স্পর্শ সুখের শিহরিত আনন্দের স্বপ্নে। পরির পাগলামি আজ তুঙ্গে। মদন তার বেয়াল্লিশ বছরের যৌবনের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে প্রথম রাত থেকে বহুভাবে আদর করেছে পরিকে। আজ পরিকে সে আদরের স্যালাইন ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়াবেই। পরিকে ঘুম পাড়াবার চেষ্টায় ক্লান্ত হয়ে এখন নিজেই মরা মানুষের মতো ঘুমিয়ে আছে মদন। পুরুষের ভূমিকা, ফুরিয়ে যাবার দাতার; নারীর পূর্ণ হবার গ্রহীতার।

    রাত এখন অনেক। নদীপারে শেয়াল ডাকছে। শাল, মহুয়া আর করৌঞ্জ-এর গন্ধে মাতাল হয়ে হাওয়া ঝড় তুলেছে চাঁদের বনে বনে। ঘরের মধ্যে প্রদীপের পলতে কাঁপছে ঘরে-ঢোকা দামাল হাওয়ায়।

     

     

    নগ্ন পরি বিছানা ছেড়ে নামল। তার এলোকেশী নগ্ন শরীরের ছায়াপ্রদীপের দেওয়ালে নড়ে উঠল। শুধুমাত্র শাড়িটা জড়িয়ে নিয়ে দরজার খিল খুলে বেরিয়ে পড়ল পরি। একটা খরিশ-কেউটে হিস হিস করে চলে গেল প্রায় পায়ের ওপর দিয়েই। কামড়াল না। ভালো হত কামড়ালে। এই স্থির হয়ে থাকা ইলেকটিরি হাসির জীবনে, পচা-পানায় ভরা, সমান-সুখের একঘেয়ে জীবনে; তবু কিছু হঠাৎ জ্বালার সুখ অথবা বিষ চারিয়ে যেত।

    পরি ভাবছিল, সুখ মানেই তো বিষ। এই সমাজে। বিষের মতোই পরিত্যাজ্য সব সুখ, যা, চামচে-মাপা; স্বামী দত্ত নয়; সব সুখ। এই সমাজ—সংসারের কৃপণ হাতের কুনকো ঢালা সুখ। ভারি ইচ্ছে করে, একদিন সাপের কামড় খেয়ে দেখতে। এই খরিশ-কেউটেও তো অই পয়রা গ্রামেরই সাপ। ভুল লোককে ভুল করে সাপও কামড়ায় না এখানে। ছি:!

    কুকুর ডেকে উঠল। শুঁড়িদের বাড়ির একটা মদ্দা আর একটা মাদি ওর পিছু নিল। কিছুটা। তারপর আর সাহস পেল না। গ্রামের কুকুরগুলোও সাপটারই মতো। নতুন জায়গায় যেতে, নতুন কিছু করতে ভয় পায়।

    পরি চলল, আঁচল লুটিয়ে; সুবর্ণরেখার দিকে। শালবনের গভীরে আসতেই বার বার তার মনে হতে লাগল যে, সে সত্যিই পরি। সত্যি সত্যিই পরি হয়ে যাচ্ছে পরি পয়রা। আঁচলের জায়গায় তার ফিনফিনে কুসুমের পাতার মতো পাতলা আর কুসুম-লাল ডানা গজিয়ে গেছে মস্ত দুটি। উড়ে চলল পরি। তার স্বামীর আদরে আদরে পুরোনো হয়ে যাওয়া শরীর, তার সকাল থেকে সন্ধের নিয়মবদ্ধ জীবন, সব পেছনে মেলে এসে সে যেন সদ্য ঋতুমতী কোনো পশ্চদশী হয়ে গেল। অচুম্বিতা, অনাঘ্রাতা; প্রত্যাশাতে ভরপুর। উড়ে এল একেবারে সুবর্ণরেখার মধ্যে। যেখানে বড়ো বড়ো কালো কালো পাথর আছে সোনালি বালির মধ্যে। চতুর্দশীর চাঁদের আলোয় বালি এখন রুপোলি। শাড়ি খুলে ফেলে সেই পাথরের স্তূপের ওপর পায়ের ওপর পা রেখে বসল পরি।

     

     

    হু-হু হাওয়া আসছে তাদের গ্রাম থেকে। খেয়ালি, কী করছে কে জানে; এত বছর এই দোলের আগের চাঁদের রাতে পরি এখানে এসে বসে শুধু সেই মানুষটা আসবে বলে। আহা! কী তার গলা। গানের কী ভাব! পরির জন্যেই এমন করে নষ্ট হয়ে গেল মানুষটা। সর্বস্বান্ত। দুবেলা দু-মুঠো ভাতও জোটে না খেয়ালির। অথচ পরির কিছুই করবার নেই। ও পেটপুরে খায়। ভালো শাড়ি পরে। কোমরের পেঁছা থেকে গলার সীতাহার, পায়ের পায়জোর, নাকের নথ সবই পরে। যেন। সোনা দিয়েই পেট ভরে একজন মানুষের। হয়তো ভরে! যাদের ভরে, কারও কারও। পরি তাদের মতো নয়। তার মনের মানুষটার জন্যে যদি একটু কিছুও করতে পারত। মানুষটা যদি একবারও এসে সামনে দাঁড়ায়, পরি পয়রা তার স্বামীর দেওয়া হাড়িটা পর্যন্ত এই বালিতে ছেড়ে রেখে তার হাত ধরে নিরাবরণ হয়ে চলে যাবে, সে যেখানে নিয়ে যাবে। সেই নরকে।

    অনেক অনেক বছর আগে এক দোলের রাতে, গোয়ালঘরের পাশে দাঁড়িয়ে, গোরুর গায়ের গন্ধ, গোবরের গন্ধ, চোনার গন্ধ আর জাবনার গন্ধের সঙ্গে মিলে যাওয়া দোলপূর্ণিমার রাতের সব গন্ধর মধ্যে খেয়ালি, চোদ্দ বছরের পরিকে চুমু খেয়েছিল তাদের গ্রামে। বঞ্চিত চুমু। চুরির চুমু। ব্যথার চুমু। প্রেমের চুমু। সেই রাতেই পরি জেনেছিল প্রথম বা শেষবারের মতো যে পরির মধ্যে এক অন্য পরি আছে।

     

     

    সে আর এল না। কোনোদিনও আসেনি। কই আর এল? আসবে না, জানে। যারা পরিদের ডানা গজাতে জানে, যাদের ঠোঁটে কুসুম ফুলের মসৃণতা, যাদের গলায় পাগল-কোকিলের গান, সেইসব পুরুষ, নারীর জীবনে ক্ষণিকের জন্যেই আসে। এসেই, পরক্ষণেই হারিয়ে যায়। দূর থেকে পুলক ভরে ডাক পাঠায় বাসন্তী হাওয়ায়। চেয়ে থাকে, সন্ধেতারার চাউনি হয়ে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে, চৈত্রের দুপুরে শালের বনে। কিন্তু তারা জীবনে আসে না।

    পরি পায়রারই মতো সব নারীরই জীবন, সব নারীই, মদন পয়রাদেরই জন্যে। অভ্যেসের খোঁটায় বাঁধা গোরুর মতো সুখের জাবনাতে জাব খায় তারা। খরিশ কেউটের কামড় তাদের জন্য নয়।

    পরি জানে।

    তবু পরি পয়রা এও জানে যে, অভ্যেসের বাঁধন এখনও তাকে পুরোপুরি বাঁধতে পারেনি। পরির ভেতরের পরির ডানা দুটি এখনও বছরের এই ক-টি দিনে জল ফড়িং-এর ডানারই মতো ফরফর করে ওঠে। বাঁধন ছেড়ে উড়ে যেতে চায়; সব পরির মধ্যেই যে দ্বিতীয় নারী থাকে সে গ্রীষ্মবনের খয়েরি তিতিরের মতো ছটফট করে উঠে বলতে চায়, এ নয় গো! এ নয়।

    জীবনের মানে এ নয়! বাঁচার মানে এ নয়।

    পরি জানে যে, এ দেশের পরিরই মুক্তির আরও অনেক অনেকেই দেরি আছে। খেয়ালিরাও তো পুরুষই! নারীকে মুক্ত করতে পারে, পরির মধ্যের পরিকে ডানা মেলে উড়তে দিতে পারে, একমাত্র পুরুষের মতো পুরুষরাই। মদন পয়রাও নয়, খেয়ালি মুচিও নয়। প্রথমজন প্রেমের কিছু বোঝে না। দ্বিতীয়জন প্রেমে যে সাহসের দরকার তা রাখে না। যে দেশের পুরুষেরা এমন, সে দেশের পরিরা সন্ধেতারার দিকে চেয়ে চেয়েই চিরদিন দিন গুনবে।

    ডান পা-টাকে এবার বাঁপায়ের ওপরে করল পরি। নিজের অনাবৃত্ত ঊরুর ওপর অন্য ঊরুর পরশে শিহর লাগল। আরও একটু বসে থাকবে। মদন পয়রার স্ত্রী হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে এমন একা নিজের দুই ঊরুর উষ্ণতায় ধন্য করে বাঁচাও ঢের ভালো ছিল। এ জন্মে হল না।

    কাল সকালে গ্রামের যে ছোটো ছোটো মেয়েরা পুলকভরে দোলে খেলবে, চিকন চিৎকারে, ওরা যেন সত্যিকারের পরির জীবন পায়। পরি পয়রার জীবন নয়। সত্যিকারের স্বাধীন উড়াল-পরির জীবন। পরি ভাবে যে, ও বেঁচে উঠবে ওদের মধ্যে। অন্য জন্মে, অন্য জীবনে!

    ভাবে পরি, ডাইনি জ্যোৎস্নার মধ্যে উদোম হাওয়ার মধ্যে; অসভ্য গন্ধের মধ্যে বসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }