Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶

    খাট

    আলো আসছে কোথা থেকে?

    আলো?

    হ্যাঁ। আলো নয়?

    ও। ওই আলো? ও তো রোজই আসে। তুমি যখন শুতে আসো তখন তো পর্দা টানা থাকে। বেড-সাইডের টেবল ল্যাম্পটা জ্বালানো থাকে। তুমি ঘুমিয়ে পড়ার পরে আমিই পর্দা সরিয়ে দিই মাথার দিকের জানালার। তবে মনে হচ্ছে, আর কদিন বাদে পর্দা আর সরানোই যাবে না বোধ হয়।

    কেন?

    পাশের মালটিস্টোরিড বাড়িটা তো শেষই হয়ে এলো। দশতলা বাড়ির প্ল্যান স্যাংশান হল কী ভাবে বলো তো? আমাদের কো-অপারেটিভের বেলা তো পাঁচতলার বেশি করতেই দিল না করপোরেশন।

    সে হয়তো অনেক আগেই ও বাড়ির প্ল্যান স্যাংশন করে রেখেছিল। হয়তো বাড়ি শুরু করেছে তার অনেকই পরে।

    কলকাতাতে কী না হয়! তা ছাড়া আমাদের অফিসের ক্যাশিয়ার রামপূজন-বাবু বলেন, কোট করে : ‘‘সকল পদারথ হ্যায় জগমাহী, কর্মহীন নর পাওয়াত নাহি।’’

     

     

    মানে?

    মানে হচ্ছে সংসারে সব বস্তুই আছে কিন্তু সেসব শুধু কর্মবীরদেরই জন্যে, কর্মহীনদের জন্যে নয়।

    বা: কার লেখা এটা?

    তুলসীদাস। রামচরিত মানসে আছে নাকি। রামপূজনবাবু প্রতিকথাতেই তুলসীদাস কোট করেন।

    ওবাড়ির ফ্ল্যাটে লোক এসে গেলে আমাদের ফ্ল্যাটে প্রাইভেসি বলে আর কিছুই থাকবে না। রাতে তখন নিজেদের শোবার ঘরে কোনোরকম প্রয়োজনের জন্যেই আলো না জ্বালালেও চলবে।

    তাই? যখন ফ্ল্যাট বুক করি কত কি-ই না ভেবেছিলাম। আওয়াজ কম হবে, ধুলো কম হবে, মশা-মাছি উড়ে আসতে পারবে না। আর এখন?

    উঁচুতেই যে আওয়াজ সবচেয়ে বেশি আসে তা কী করে জানব আগে বলো? তখন তুমিও কি জানতে?

     

     

    তা ঠিক। তবে আমি আর কতটুকুই বা জানি। অবলা জীব।

    হ্যাঁ অবলাই বটে। কোন মহামূর্খ যে মেয়েদের অবলা ভাবে, তা জানতে ইচ্ছে করে।

    তবে পাশের ওই অত বড়ো বাগানওয়ালা বাঁশঝাড়ওয়ালা একতলা বাংলো বাড়িটা ভেঙে যে আমাদের পাখির ডাক আর সবুজ থেকে একেবারেই বঞ্চিত করে এ বিরাট বাড়িটা হবে, তা-ই বা কে ভেবেছিল বলো? কলকাতাতে সবুজ আর রইল না কোথাও।

    কী করবে বলো? ম্যান প্রোপোজেস, গড ডিসপোজেস। কিন্তু লোকই যখন আসেনি এখনও তখন ওবাড়িতে রাতে আলো জ্বলে কেন? এ তো আর সিঁড়ির বা বাইরের আলো নয়।

    ওমা। ও কি আমাদের বাড়ির মতো সাদামাটা মানুষদের বাড়ি নাকি সব? সাড়ে সাতশো থেকে এগারোশো স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাট? আমাদের মতন? ওবাড়িতে সবচেয়ে বড়ো ফ্ল্যাটই শুনেছি দু-হাজার স্কোয়ার ফিটের।

    দু-হাজার স্কোয়্যার ফিটের? বলো কী? কৃষ্ণ বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে উঠল।

     

     

    যেন, বিছে কামড়াল।

    কী হল?

    না! ভাবছি, দাম কত হবে। মার্বল মোজায়েক দিয়েই তো তৈরি। মানে, বুকিং-এর দর নয়, শেষ হলে বাজার দর।

    ধরো, পনেরোশো করে স্কোয়্যার ফিট। আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকার বলছিলেন। মোজায়েকও নয়, শুধুই মার্বেল।

    তার মানে কত টাকা? প্রায় তিরিশ লক্ষ টাকা? ইশশ। বেলো না বোলো না। আজ আমার প্রেশারটা এমনিতেই বেড়ে রয়েছে। এম ডি-র সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। চাকরিই না চলে যায়। আজ আর উত্তেজিত কোরো না। রাতেই স্ট্রোক হবে।

    তারপর বলল, এই সব ফ্ল্যাটে যাঁরা থাকবেন তাঁদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও কি মানুষেরই মতো? তাঁরাও কি ভাত-রুটিই খাবেন আমাদের মতো? তাঁরাও কি আমাদের মতো স্বামী-স্ত্রীর মতনই…। ভাবা যায় না।

    হেসে উঠল স্মৃতি কৃষ্ণর কথা শুনে।

     

     

    আহা! ঢং কোরো না। যাঁরা ওবাড়িতে আসছেন তাঁরা মানুষ না তো কি দেবতা?

    শুধু দেবতাই বা কেন? জন্তুজানোয়ারও হতে পারেন। ওঁরা কারা? এত টাকা ওঁরা পান কোথা থেকে?

    তা জানব কোথা থেকে। কোনো বিরাট মালটিন্যাশনাল কোম্পানির অফিসারদের কো-অপারেটিভ শুনছি। জমিটা সস্তাতে বাগিয়েছিল নাকি কোনো বেচারাম বাঙালির কাছ থেকে। নইলে লেকের কাছে এমন…

    এমন সময় খটাখট শব্দ হতে লাগল, যেদিক থেকে আলো আসছে, সেদিক থেকে।

    ও আবার কী? কীসের শব্দ? কৃষ্ণ বিরক্ত গলাতে বলল।

    তারপর স্বগতোক্তির মতো বলল, স্টার টিভির প্রোগ্রাম শেষ হয়ে গেল, সাড়ে দশটার বাংলা খবরও শেষ হয়ে গেল দুরদর্শনের, আর এখনও কীসের শব্দ এ?

    ও মা। ওই জন্যেই তো শব্দ। যে জন্যে শব্দ সে জন্যেই তো আলো। তুমি তো ফ্ল্যাটের দাম কল্পনা করেই অজ্ঞান হয়ে গেলে। এবারে ফার্নিচারের দাম কষো। একটি ফ্ল্যাটে বেডরুমের খাট হচ্ছে স্যার। একটিমাত্র খাট হচ্ছে স্যার। খাট।

     

     

    খাট? শুধু খাট? মারোয়ারি নাকি ভদ্রলোক? গদি-টদি-করবেন নাকি?

    না-গো না। গদি-টদি নয়। তবে মালিক মারোয়ারি কি না জানি না। আজ একমাস ধরে দিনে-রাতে চারজন মিস্ত্রি কাজ করছে, দু-জন লুঙ্গি-পরা, খালি-গা আর দু-জন পায়জামা-পরা হাতকাটা গেঞ্জি গায়ে। রাত-দিন।

    ওই খাটের জন্যে? একটা খাট? বাজে কথা বলছ তুমি।

    কৃষ্ণ বিরক্তির সঙ্গে কোলবালিশটা সরিয়ে রেখে, উঠে বসে; বেডসাইড ড্রয়ার থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, তোমার সবকিছুই বাড়িয়ে বলা অভ্যেস।

    বিশ্বাস না হয়তো নিজের চোখে দেখো একবার, উঠে বসে। আসলে, খাটও নয়, খাটের মাথাটা, দেওয়ালের সঙ্গে ফিক্স করা। মজুমদার কোম্পানি আছে না? নেক্সাস? ইন্টিরিয়র ডেকরেটর? তাঁরা কনট্রাক্ট নিয়ে বানাচ্ছেন। আমিও কি ছাই প্রথম প্রথম বুঝতে পারতাম ব্যাপারটা কী হচ্ছে? মাসখানেক পরে খাটের ফ্রেমটা দেখে বুঝতে পারছি যে, যা তৈরি হতে চলেছে সেটা একটা খাটই।

     

     

    সিগারেট মুখে দাঁড়িয়ে উঠে পর্দা-সরানো জানালা দিয়ে ভালো করে দেখল কৃষ্ণ। বলল, সত্যিই তো একটা খাটের মাথার দিকটাই। বলছ, চারজন মিস্ত্রি রাত-দিন কাজ করে এই অবস্থাতে পৌঁছেছে? কবে শেষ হবে তারও ঠিক নেই?

    স্মৃতি বলল, ইয়েস স্যার। দিনের বেলাতে ভালো করে দেখো। বিকেলে যখন পশ্চিমের আলো এসে পড়ে ওই ঘরে তখন আরও ভালো করে দেখতে পাবে। আমি নিজে তো জানালাতে দাঁড়াতে পারি না বেশিক্ষণ। মিস্ত্রিগুলো অসভ্যতা করে। তুমি নিজে দেখো কাল।

    কী অসভ্যতা করে?

    ওই। অঙ্গভঙ্গি, আর কী। দূর থেকে আর কী করবে?

    ওঃ। তোমাকে দেখলে, আর ওদের মতো বয়সে বউ বা প্রেমিকা ছেড়ে একমাস ধরে পরের বউ-এর আদর করার জন্যে কোমর বেঁধে খাট বানাতে হলে আমিও করতাম। অত সামান্য ব্যাপারে বিরক্ত হতে নেই. তুমি পরমাসুন্দরী নারী বলেই না করছে। আমি জানালায় দাঁড়ালে কি আর করবে? হয়তো আমাকে দেখিয়ে বগল চুলকাবে।

     

     

    তুমি ভীষণ অসভ্য।

    সত্যি! তোমাকে নিয়ে পারি না। বগলও অসভ্য। অসভ্য, তা বলতে পারো। তুমি স্লিভলেস ব্লাউজ পরলেই আমার অসভ্যতা করতে ইচ্ছে হয়, তোমার বগলতলিতে চুমু খেতে ইচ্ছে হয়।

    ইশশ। তুমি একটা যা-তা। দু-বছর বিয়ে হয়ে গেল এখনও আদিখ্যেতা গেল না।

    তুমি প্রি-হিস্টরিক। আজকাল বিয়ের সঙ্গে অসভ্যতার অথবা সভ্যতারও কোনো সম্পর্ক নেই। আমার আদিখ্যেতা গেলে তুমি কি খুশি হবে? চিন্তাতে চুলে পাক ধরতে শুরু করবে। তোমার বুদ্ধদেব গুহর লেখাতে কি পড়োনি? আমাদের, পুরুষদের যেটা দুর্বলতা, সেটাই তোমাদের বল?

    ও। এই বেলা বেচারি বুদ্ধদেবদা! খারাপ ব্যাপারে গুরু মানা। কই? ভালো ব্যাপারে তো গুরু মানো না?

    গরুকে গুরু মানি কী করে?

     

     

    এই! ভালো হবে না বলছি। অ্যাকাউন্ট্যান্ট আছ তাই থাকো। সাহিত্যের তুমি কী বোঝো?

    দেখি, তোমার বুদ্ধদেবদার লেখার মধ্যে ভালো ব্যাপারটা কোথায় সেটা খুঁজে দেখব এই পুজোর ছুটিতে সিমলাতে গিয়ে। সীরিয়াসলি বলছি। পুজো-সংখ্যাতে তো উনি উপন্যাস লেখেন না, দেখেছি কয়েক বছরই হল। তাই; তোমার কাছে যেসব বই আছে তারই দু-একটা পড়বার চেষ্টা করব সীরিয়াসলি। অবশ্য জানি না, কতদূর এগোতে পারব। সঙ্গে নিতে ভুলো না কিন্তু।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    শুনছ? স্মৃতি। কোথায় গেলে?

    এই যে! কোট আর টাইটা রাখো। বলল কৃষ্ণ। অফিস থেকে রাতে ফিরে।

    আজ এত দেরিতে ফিরলে? এখন কি চা খাবে? না চান-টান করে তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়বে? কাল সকালে দিল্লির ফ্লাইট ক-টাতে?

    ওই তো। ছটা-টটা হবে। এখন বোধহয় সাড়ে ছটা করেছে। বহুদিন তো দিল্লি যাইনি। টিকিটটা দেখে সময়টা দেখে রেখো তো। ব্রিফ কেসে আছে। এসব সেক্রেটারিরই কাজ। মিস নায়ারের দিন দিনই অবনতি হচ্ছে।

     

     

    তা ঠিক। ব্যাঙ্গালোর, হায়দরাবাদ, ম্যাড্রাস আর বম্বেই তো করে বেড়াচ্ছ গত ছ-মাস। দিল্লির ফ্লাইটের সময় ভুলে যাবারই কথা।

    আলমারি খুলে হ্যাঙ্গর-এ স্যুটটা তুলে রাখতে রাখতে স্মৃতি বলল। এই স্যুটটা নিশ্চয়ই কাল পরে যাবে না?

    না। নেভি-ব্লুটা দিও। সঙ্গে ম্যাচিং টাই পরে যাব। আর ব্রাউনটাও দিয়ে দিও। সঙ্গে চারটে শার্ট দেবে। ফুল স্লিভস। একজোড়া পায়জামা-পাঞ্জাবি দিও আর একটা চটিও। রবি-ঝুমকিদের বিয়ের তারিখ পরশু। রবি ফোন করেছিল দিল্লি থেকে। না গেলেই চলবে না। দিল্লিতে থাকব যে সেদিন তা জানতে পেরেই ফোন করেছিল। কলিগ। না গেলে খারাপ দেখাবে। আমার তারিখ-টারিখ মনে থাকে না।

    কী দেবে?

    ভাবছি।

    আমার কাছে একটা শাড়ি আছে। তোমার সেজদি দিয়েছিলেন। জন্মদিনে। পরা যায় না। নিজে এমন শাড়ি পরেন কখনো যে অন্যকে দেন? আমি তো চাঁপাকেও এমন শাড়ি দিতে পারতাম না। ঝুমকিকে দিয়ে দেব।

     

     

    বা: কী বুদ্ধি! যা নিজেই পরতে পারো না তা ঝুমকিকে দেবে কী করে? ওটা চাঁপাকেই দিয়ে দিও। আর সেজদির কথা ছাড়ো। টাকা থাকলেই তো মন থাকে না মানুষের। নজরটাই ভিখিরির। অবস্থা রাজার মতো হলে কী হয়। জামাইবাবুর জন্যেই হয়েছে অমন। ছেলেবেলাতে দিদি অমন ছিল না। নিজের জামাইবাবু, নেহাৎ বাইরের লোকের কাছে চুপ করেই থাকতে হয়, নইলে আপাদমস্তক অমন ফোরটোয়েন্টি, মিথ্যেবাদী, ছোটোলোক, ধান্দাবাজ মানুষ আমি তো আর দেখিনি। তোমার কিছু দিতে হবে না। ঝুমকিকে আমি কোনো রুপোর গয়না কিনে দেব। জনপথ-এ আমাদের অফিসের কাছে ভালো জুয়েলারের দোকান আছে।

    তা তো দেবেই। তোমার ওল্ড-ফ্লেম তো ঝুমকি।

    কৃষ্ণ এক ঝটকায় হাত বাড়িয়ে স্মৃতিকে ধরে ফেলে গলায় চুমু খেয়ে বলল, আর তুমি যে আমার ব্লাস্ট-ফার্নেস। ওল্ড ফ্লেমরা সকলেই নিষ্প্রভ তোমার কাছে।

    ছাড়ো। ঢং করতে হবে না। পুরুষের ভালোবাসা, মুসলমানদের মুর্গি পোষা। আমার ঠাকুমা বলতেন।

     

     

    বলল, খুশিতে ডগমগ হয়ে, স্মৃতি। মুখে, বিরক্তি ফুটিয়ে।

    শনিবার রাতে প্লেন ফেরার সঠিক সময়ের একটু পরে ফিরল কৃষ্ণ। স্মৃতির মনে পড়ে না, দিল্লির রাতের ফ্লাইট কলকাতাতে একদিনও সময়ে পৌঁছেছে বলে। সময়ে পৌঁছোলেও কৃষ্ণর বাড়ি পৌঁছোতে পৌঁছোতে এগারোটা হয়ে যায়ই। দেরি হলে তো কথাই নেই!

    স্মৃতি গিজারটা চালিয়েই রেখেছিল। জল গরম হয়ে গেলে বন্ধও করে দিয়েছিল। কৃষ্ণ ফিরতেই, স্মৃতি বলল, তুমি চানে যাও, আমি খাবার গরম করতে বলছি চাঁপাকে।

    কৃষ্ণ বলল, দারুণ খবর আছে আজ। তোমাকে দেবার মতো। চান করে আসি, খেতে খেতেই বলব। তুমি খেয়েছ তো?

    না।

    এইতো! এসব অত্যন্ত অন্যায়। আমার ফেরার সঙ্গে তোমার খাওয়ার কী সম্পর্ক? আমি তো চাকরি করি। নিরুপায়ে দেরি করে ফিরি। আমার কিন্তু একদম ভালোলাগে না এসব। নিজেরা খেয়ে আমার খাবার ক্যাসারোলে রেখে দেবে। কতদিন তো বলেছি তোমাকে।

    আমিও তো চাকরি করি। স্মৃতি বলল।

    কোন চাকরি? তুমি? অবাক গলাতে বলল, কৃষ্ণ।

    কেন? তোমার চাকরি। তোমার দেখাশুনো করাই তো আমার চাকরি। আমার কী এমন কাজ আছে যে, তোমার জন্যে বসে থাকতে পারি না মাঝেমধ্যে। তা ছাড়া আমার ভালোলাগে। খুব ভালোলাগে। নিজের সংসারের, নিজের স্বামীর, নিজের সন্তানের, যখন হবে, দেখাশুনো করার চেয়ে বড়ো কাজ আর কী আছে?

    হুঁ।

    এমন আনন্দর কাজ আর কী থাকতে পারে? সংসার যদি একজনের আয়েই চলে যায় তবে এত আনন্দর চাকরি আর হতে পারে বলে তো আমি জানি না। পড়াশুনো করলেই যে চাকরি করতেই হবে এই ফানী ব্যক্তি-স্বাধীনতাতে আমার বিশ্বাস নেই।

    বা:! আমার নিজের বুদ্ধিতে আমি নিজেই চমকে উঠি। বুদ্ধিমান না হলে তোমার মতো বউ পেতাম। তোমার সঙ্গে আমার মত হান্ড্রেড পার্সেন্ট মিলে যায়। যদিও আজকাল আমাকে-তোমাকে লোকে প্রাচীনপন্থী বলতে পারে।

    বললে বলুক। তারা তো আমার-তোমার সুখ কেড়ে নিতে পারবে না।

    উত্তরে কিছু না বলে, জামাকাপড় ছেড়ে চানে গেল কৃষ্ণ। শাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে ভাবছিল কৃষ্ণ কত ভাগ্যবান ও সুখী। ওর অনেক সহকর্মীর মুখে শোনে যে, রাতের ফ্লাইটে ফিরলে তাঁদের স্ত্রীরা না খেয়ে বসে থাকা দূরের কথা, ঘুম-চোখে দরজা খুলতেও বিরক্ত হন। বলেন, চাবি নিয়ে যাবে। এমনই বিরক্ত হন, যেন কাজ করে এলো না দিল্লি বা অন্য কোথা থেকে; যেন বাঈজি-বাড়ি থেকেই এলো। সত্যিই দারুণ ভাগ্যবান ও।

    খেতে বসতেই স্মৃতি বলল, কী দারুণ খবর তোমার? ঝুমকির কোনো খবর? কনসিভ করেছে না কি?

    না, না ঝুমকির খবর নয়। তোমার খাটের খবর।

    আমার খাটের মানে?

    মানে, পাশের নতুন বাড়ির ছ-তলার ফ্যাটের খাটের।

    মানে?

    মানে, যিনি ওই ফ্ল্যাটের মালিক তাঁর সঙ্গে দিল্লি থেকে ফেরার পথে আজ আলাপ হয়ে গেল। এই দেখো, তাঁর কার্ড। কী কান্ড।

    কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখল স্মৃতি।

    গোপেন চৌধুরী? বাঙালি?

    বাঙালি। তবে চৌধুরী এমনি পদবি। আসলে ওঁরা সেনগুপ্ত। বদ্যি।

    কী করেন ভদ্রলোক? ওই কোম্পানিতেই চাকরি করেন?

    না। চাকরি করেন না। ব্যবসা করেন। বিরাট ব্যবসা। তবে আভাসে-ইঙ্গিতে মনে হল যে ওই কোম্পানির সঙ্গেও লেন-দেন আছে। মনে হল, টাকার মা-বাবা নেই। তবে মানুষটি ভালো, ভদ্র, বিনয়ী। অসৎ বলেও মনে হল না। কথায় কথায় বললেন, এখন থাকেন টালিগঞ্জে, লেকের কাছে। বললেন, উঠে আসছেন শিগগিরি নতুন ফ্ল্যাটে।

    তারপর?

    তারপর আর কী? কোথায়? জিজ্ঞেস করতেই বেরিয়ে পড়ল।

    খাটের কথাও জিজ্ঞেস করলে? এ মা:!

    হ্যাঁ। কেন করব না। খাটের জন্যেই তো ইনকুইজিটিভনেস।

    উত্তেজিত দেখাল স্মৃতির চোখ-মুখ। বলল, অল্পবয়স বুঝি ভদ্রলোকের? খুব হ্যাণ্ডসাম?

    না, না। পয়সাওয়ালা মানুষদের মধ্যে হ্যাণ্ডসাম খুব কমই হন। কম বয়সিও। কেন জানি না। বাপ-ঠাকুর্দার রোজগার অথবা স্মাগলার-টাগলার হলে অন্য কথা। নিজে রোজগার করে বড়োলোক হতে গেলে অনেকই মূল্য দিতে হয়।

    হানিমুন করবেন ওই ফ্ল্যাটে? ওই খাটে?

    কৃষ্ণ হেসে ফেলল, স্মৃতির কথার ধরনে। বলল, আরে না, না। পঞ্চাশের ওপরে বয়স হবে। প্রকান্ড ভুঁড়ি। হাত-পা সব ফোলা। বহু কষ্টেসৃষ্টে এয়ারবাসের সিঁড়ি বেয়ে নামলেন। বললেন, আরথ্রাইটিস-এ খুবই কষ্ট পান। ডায়াবিটিসও আছে।

    তা, খাটটার বিশেষত্ব কী?

    বললেন, জানেন, ছেলেবেলায় একখাটে সাতভায়ে শুতাম পাশাপাশি। খুড়তুতো, জাঠতুতো সব মিলে। তাই খুব শখ ছিল নিজের বাড়ি হলে বেডরুমে একটা মনের মতো খাট বানাব। প্রথম যৌবন অবধি খাটে একটু পাশ পর্যন্ত ফিরতে পারতাম না মশায়।

    তাই? হতাশ গলায় বলল, স্মৃতি।

    তা, নতুন ফ্ল্যাটের খাটে কি মণিমুক্তো লাগাবেন উনি? আর কত দিন লাগবে ওঁর খাটটি হতে? তারপরে তো সব অন্য ফার্নিচার। সেগুলো কবে হবে? স্মৃতি শুধোল।

    বললেন, অন্য সব ফার্নিচারই দিল্লি থেকে ট্রান্সপোর্টে আসবে। দিল্লির ফার্নিচার নাকি খুব ভালো। পয়সা তো দিল্লি-বম্বেতেই। পয়সাই হচ্ছে আসল। পয়সা থাকলে কোনোই অসুবিধে নেই। বললেন যে, শুধু বেডরুমের খাটটিই কলকাতাতে বানাচ্ছেন। সস্তাও হচ্ছে, মনোমতোও বটে।

    ওই খাটেও তো ছ-সাত জনে শুতে পারবেন স্বচ্ছন্দে।

    কৃষ্ণ হাসল। বলল, শোবেন দুজনেই। হয়তো সাতরকমের আসন করবেন। নয়তো ছ-বউ নিয়েও শুতে পারেন। আমি কী করে জানব?

    আবার অসভ্যতা! কপট ধমক দিল স্মৃতি কৃষ্ণকে।

    কৃষ্ণ বলল, দেখে শেখো। এরকম বাঙালি দম্পতিও আছেন। বয়সে বয়স হয় না, শরীরের বৈকল্যতেও নয়। বয়স হয় মনে।

    মনটাকে তরুণ রাখাটাই আসল কথা। বুঝেছ? এই কথাটা মনে রেখো।

    জানি না বাবা! দুজনের জন্যে এমন খাটের কী দরকার? প্রিন্স চার্লস আর ডায়ানার খাটও বোধ হয় এত ভালো নয়।

    কে বলতে পারে। হয়তো ভালো না বলেই বিয়েটা ধসে গেল। খাট একটা মস্ত ব্যাপার। খাট নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করাটা ঠিক নয়। বিপজ্জনকও বটে।

    শোবার সময়ে ঘরের আলো নেভাবার পরে আবার পাশের বাড়ির ফ্ল্যাটের আলোটা এসে পড়ল ওদের ঘরের মেঝেয়। মিস্ত্রিরা জোরে জোরে কথা বলছে, কাশছে, বিড়ি খাচ্ছে, ফ্ল্যাটটা এতই কাছে যে, বিড়ির গন্ধও যেন নাকে আসছে।

    পর্দাটা টেনে দাও তো। স্মৃতি বলল। খাটটাকে বানাতে দেখে মনে মনে অনেক কিছুই কল্পনা করেছিলাম। কেমন না-জানি হবেন ফ্যামিলিটি? দারুণ সুন্দর-সুন্দরী, অল্পবয়েসি, মেড ফর ইচ আদার।

    স্মৃতিকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে কৃষ্ণ বলল, সে তো আমরা! দামি খাট থাকলেই কি আর মেড ফর ইচ আদার হয়? ডায়না আর প্রিন্স চার্লস-এরও ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল! আসলে হল…বলেই…

    গভীর আনন্দর মধ্যে ডুবে গিয়ে স্মৃতি বলল, কিন্তু অমন একটি খাট কি সত্যিই কারও দরকার হয়? কথায়ই বলে, ‘যদি হয় সুজন, তেঁতুলপাতায় ন-জন।’

    এখন তোমার তেঁতুলপাতাতে একটু শুতে দাও তো ঘন হয়ে। রাত অনেক হল। যত আজেবাজে বাইরের লোকের কথা!

    পরদিন কৃষ্ণর সেক্রেটারি মিস নায়ার বিকেল চারটে নাগাদ ফোন করলেন বাড়িতে। স্মৃতিকে। বললেন যে, কৃষ্ণর বাড়ি ফিরতে দেরি হবে, কারণ উনি বার্নিং-ঘাট ঘুরে যাবেন। কম্পানির এক বড়ো কাস্টোমার মারা গেছেন।

    কে কাস্টোমার?

    নাম তো বলেনি আমাকে ম্যাডাম।

    মনে মনে বিরক্ত হল স্মৃতি।

    আসলে এই শ্মশান ব্যাপারটাই আদৌ পছন্দ নয় ওর। তার চেয়ে কবর দেওয়া ব্যাপারটা অনেকই ছিমছাম। স্মৃতি থাকে। ফুল নিয়ে যেতে পারে মানুষ প্রিয়জনের কাছে—যত দিন প্রিয়জন বেঁচে থাকেন। তা নয়, ধুঁয়ো, ধুলো, আগুন, মানুষের মাংস পোড়া চিমসে গন্ধ, ভাড়া-করা মাস্তানদের ‘‘বলোহরি হরিবোল’’ চিৎকার। এসবের কথা ভাবলেই গা গুলিয়ে ওঠে স্মৃতির। স্মৃতি ভাবছিল, এমনই হঠাৎ মারা গেলেন ভদ্রলোক যে স্মৃতিকেও একটা ফোন করে জানাবার সময় পেল না কৃষ্ণ যাবার আগে?

    কৃষ্ণ এখনও ফেরেনি। ভীষণ রাগ হয়েছিল স্মৃতির। কোনোদিনও যা করে না, তা করল। নিজে খেয়ে-দেয়ে, চাঁপাকেও খেতে বলে, ক্যাসারোলে খাবার ঢাকা রাখতে বলে শুয়ে পড়ল। শুলে, হবে কী? ঘুমুবার জো কি আছে? খটাং খটাং শব্দ হচ্ছে, পাঁচশো পাওয়ারের বালবে তীব্র আলো, খাট তৈরি হচ্ছে। চিত্তির!

    কৃষ্ণ ফিরল রাত প্রায় পৌনে একটার সময়ে। উদভ্রান্তর মতো।

    চাঁপা দরজা খুলল। ট্রাউজার আর হাওয়াইয়ান শার্ট ডার্টিলিনেন-বক্সে ফেলে দিয়ে চান করতে ঢুকল ও। সে স্মৃতিকে কিছুই বলল না, হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে ভেবেই। স্মৃতিও কিছু জিজ্ঞেস করল না। মটকা-মেরে শুয়েছিল সে।

    চান করে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে এসে ড্রেসিং-টেবলের সামনে দাঁড়িয়ে অন্ধকারেই মাথা আঁচড়াল কৃষ্ণ। স্মৃতি দেখল। তারপর, চোখ পিটপিট করে চেয়ে দেখল, ঘুমের ভাণ করে শুয়ে থেকেই যে, কৃষ্ণ গিয়ে খোলা জানালাটার সামনে দাঁড়াল। দাঁড়িয়েই রইল। অনেকক্ষণ। শুনতে পেল, চাঁপা বলছে কিচেনের সামনে থেকে, খাবার কি বেড়ে দেব দাদা?

    না। না। তুমি শুয়ে পড়ো। আমি নিজে নিয়ে নেব।

    মটকা-মেরে পড়ে-থাকা স্মৃতি তখন উঠে বসে বলল, খুব কনসিডারেট তো তুমি! নিজে একটা ফোন করতে পারলে না? রাত একটাতে বাড়ি ফিরলে।

    সময়ই পেলাম না। আসলে ঘটনাটা জানলে…এমন হঠাৎ…

    কী হয়েছে? স্মৃতি বলল, খাট থেকে নেমে এগিয়ে এসে কৃষ্ণর পাশে দাঁড়িয়ে। তারপর বলল, চলো খেতে খেতে বলবে।

    খাওয়ার ঠিক ইচ্ছে নেই।

    কেন? কী হল? কে গেলেন? কোনো বন্ধু তোমার? শ্যামল নয় তো? সেদিন বলছিলে, সাড়েচারশো হয়ে গেছে ব্লাডসুগার। কোমা সেট করে গেছে।

    না, না। শ্যামল ভালো আছে।

    তবে?

    গোপেন চৌধুরী।

    সে কী!

    তা তোমার সঙ্গে তো প্লেনে আলাপ। মাত্র গতরাতে!

    হ্যাঁ। আজই সকালে ওঁর সেক্রেটারিকে আমার কার্ডটা দিয়েছিলেন হয়তো উনি। সেইজন্যেই তো! বড়ো শক পেয়েছি। ওঁর সেক্রেটারিই আমাকে ফোন করে জানালেন। অফিসেই। সকালে এসে সাড়ে দশটাতে টেবলের ওপরেই মাথা রেখে…হার্ট অ্যাটাক হয়। নিজের কাজের টেবলেই মাথা রেখে চলে যান। চমৎকার মৃত্যু। উইথ হিজ বুটস অন।

    তা এমন কী নিকটাত্মীয় উনি! তোমার শ্মশানে যাবার কী হল?

    বলেছ ঠিকই। প্রত্যেক ফ্লাইটেই তো প্লেনে কত মানুষের সঙ্গেই আলাপ হয়। কিন্তু মিস্টার চৌধুরী তো প্রতিবেশী, মানে, হতেন, তা ছাড়া ঠিক সে জন্যেও নয়, বলতে পারো তো ওই খাটটির জন্যেই।

    অন্য পালঙ্কে করে গেলেন বুঝি? সেটাও দামি খাট?

    না। আসলে…

    কী?

    খাটে শুয়ে পড়ে কৃষ্ণ পাশ ফিরে বলল, দাঁড়াও একটা সিগারেট খেয়ে নিই, তারপরে ড্রয়িং-কাম ডাইনিং রুমের বাতিটা নিবিয়ে দেব, আসলে…। স্মৃতি খাটের ওপর জোড়াসনে বসে ছিল নাইটি পরে। বলল, আবার খাচ্ছ সিগারেট? বলেই বলল, তোমাকে খুব আপসেট দেখাচ্ছে।

    আসলে, বহুদিন পরে গেলাম তো শ্মশানে! মিস্টার চৌধুরী…মানে, এত সময় লাগল, কারণ লম্বা লাইন ছিল ইলেকট্রিক ফার্নেসে। মিস্টার চৌধুরী গেলেন কোনো পালঙ্কে তো নয়ই, গেলেন একটি কাঁচাবাঁশের নড়বড়ে চালায়, উলঙ্গ শরীরে। ওপরে একটি সাদা চাদর, নতুন চাদর। সস্তা চাদর, অতিসস্তা।

    তাতে কী হল! সবাই-ই তো…তা-ই

    তা হয়তো যায়। আমি বাবার মৃত্যুর পরে আর শ্মশানে যাইনি। বাবার মৃত্যুর সময়ে আমি এতই ছোটো ছিলাম যে, কিছু মনেও নেই…বুঝতে পারলাম যে, মানুষ, কোনো মানুষই, কিছুই নিয়ে যায় না সঙ্গে করে, সবই রেখে যায়; সবকিছুই। খাট-পালঙ্ক, জামা-কাপড়, জুতো, চশমা, কলম, টাকা-পয়সা সবই থেকে যায় যেমন থাকার, শুধু…অথচ এই জন্যে…।

    সেকথা বোধহয় ঠিক নয়। মানুষ রেখেও যায় কিছু। কিছুই রাখে না, এমন নয়। রেখে যায় শুধু তার কীর্তি। তার ব্যবহার, তার হাসি, তার সততা, তার আঁকাছবি, তার গানের রেকর্ড তার লেখা বই, তার অভিনীত ছবি, পরিচালিত ছবি, এইসবই।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    স্মৃতি বলল। নি:শ্বাস ফেলে।

    আর আমার মতো, মিস্টার চৌধুরীর মতো যাঁরা, তাঁরা এই খাটের মতোই অসার, নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়, আড়ম্বরের কিছু কিছু রেখে যাই হয়তো। আসলে যেসবের কোনোই দাম নেই, বিন্দুমাত্রও নয়, কিছু টাকা, ছেলে-মেয়েকে নষ্ট করার জন্যে, ভায়ে-বোনে সম্পর্ক নষ্ট করার জন্যে রেখে যাই।

    আঃ। মিস্ত্রিরা আজ বড়োই শব্দ করছে। আর কী হবে? তুমি কি বারণ করবে ওদের? ভদ্রলোকই তো চলে গেলেন। কী হবে আর?

    কী হবে তা কী করে বলব? মিসেস চৌধুরী, যদি তিনি আদৌ থেকে থাকেন, যে অন্য কারও সঙ্গে সে খাটে শোবেন না, বা তাঁর ছেলে, ছেলের বউ বা মেয়ে-জামাই শোবে না, তা আমি-তুমি কী করে জানব?

    দেখলে তাঁদের? কে কে আছেন ভদ্রলোকের?

    কে জানে! খোঁজও করিনি। আমি শুধু বাঁশের চালাটা আর এই খাটটার তুলনা করছিলাম। মনে মনে। শ্মশানে দাঁড়িয়ে। বুঝলে স্মৃতি, আমাদের প্রত্যেকেরই মাসে অন্তত একদিন শ্মশানে যাওয়া উচিত। অথবা কবরখানায়। আমাদের শেষগন্তব্যর বয়স ও প্রকৃতিটা দেখা থাকলে, জন্ম আর মৃত্যুর মধ্যে আমাদের মতো সাধারণেরা এত কোলাহল, বাদ-বিসম্বাদ, কাজিয়া করতাম না। কেরিয়ার নিয়ে এত প্রতিযোতিয় কাঁকড়াদের মতো দাঁড়ায় দাঁড়া লাগিয়ে প্রতিমুহূর্তে লড়তাম না। শ্মশানে আজ না গেলে একটা বড়ো এডুকেশান…রিভিলেশান…বুঝলে স্মৃতি।

    মিস্ত্রিদের বারণ করল হত না? স্মৃতি ফিসফিস করে বলল। আবারও।

    থাক না। থাক। কে বলতে পারে? মিস্টার চৌধুরী হয়তো এসে ওই খাটেই শোবেন। কে বলতে পারে? অত শখ, অত সাধ…এত কামনা-বাসনা। হয়তো আজ রাতেই…

    আমার ভয় করছে গো। জানালাটা বন্ধ করে, পর্দাটা টেনে দাও আজ।

    তা দিচ্ছি। অস্ফুটে বলল, কৃষ্ণ।

    মনে মনে বলল, কিন্তু খাটটা আর ওই বাঁশের চালাটা যে আমার মাথার মধ্যে…

    স্মৃতি বলল, আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরো তো। আমার বড়ো ভয় করছে।

    কৃষ্ণ বলল, ভয় কীসের? দাঁড়াও, আলোগুলো নিভিয়ে আসি। পিপাসা পেয়েছে বড়ো।

    তারপর ফিসফিস করে বলল, যে চলে গেল, সে তো খাট-পালঙ্ক কামনা-বাসনা, সাধ-আহ্লাদ সব সঙ্গে নিয়েই গেল। তাকে ভয় কী?

    তবে?

    ভয় আমাদেরই। মানে আমরা, যারা রইলাম, তাদের জন্যেই ভয়, মৃত্যুকে নয়।

    তার মানে কী হল?

    মানে, ভয় মৃত্যুকে নয়, ভয় জীবনকেই। জীবনের রকমকেই!

    তবু মানে বুঝলাম না।

    একথার মানে একটি নয়। যে যেমন বোঝে। যে যে যার যার মতো মানে করে নেবে। এর মানে, ব্যাখ্যা করে বোঝানোর নয় স্মৃতি।

    কথাটার মানে স্মৃতি বুঝল কি না তা বোঝা গেল না। কৃষ্ণর লোমশ বুকের ওপরে ডান হাতের তর্জনীটি রেখে, স্মৃতি চুপ করে শুয়ে রইল।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }