Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি নতুন ভূত – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প282 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পাতালরেলের টিকিট – রতনতনু ঘাটী

    অফিস থেকে বেরোতে-বেরোতে সন্ধে সাতটা পেরিয়ে গেল। সকাল থেকেই মনটা কেমন আনমনা হয়ে আছে। সকালেই একটা কোকিল একটানা ডেকেছিল অনেকক্ষণ। কেমন মন কেমন করা সেই ডাক। আমাদের বাড়ির পাশের মোহনবাঁশি আমের গাছটায় কোকিলটা মাঝে-মাঝে এসে বসে। একটানা অনেকক্ষণ ডাকে। আজও ডেকেছিল কোকিলটা।

    কোকিলের ডাক শুনলে মন ভালোও হয়ে যায় এক-এক দিন। আজ মনটা আনমনাই হয়ে আছে।

    আমি চাঁদনিচকে পাতালরেল ধরে বাড়ি ফিরি। স্টেশনে স্মার্ট গেটে কার্ডটা পাঞ্চ করতে গিয়ে দেখলাম কার্ডের টাকা ফুরিয়ে গেছে। অগত্যা টিকিট কাউন্টারে স্মার্ট কার্ডে টাকা ভরার জন্য দাঁড়ালাম। এটাই আবার এগজ্যাক্ট ফেয়ারের কাউন্টারও। কাউন্টারের ভিতর থেকে ভদ্রলোক বললেন, মেশিন খারাপ। স্মার্ট কার্ডে টাকা ভরা যাবে না। আমার কাছে মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার এগজ্যাক্ট ফেয়ারে খুচরো ছ-টাকা নেই। তাই পাশের কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়ালাম।

    স্মার্ট কার্ড নিয়ে মাঝে-মাঝে নানারকম সমস্যা হয়। কখনও গেটে পাঞ্চ মেশিন খারাপ থাকে। তখন আবার বিনে পয়সার পাতালরেল ভ্রমণ হয়ে যায়। কখনও এই স্টেশনে টাকা ভরা যায় না, অন্য স্টেশনে যাও। কত দিন হয়ে গেল, এখনও কেন যে পুরো ব্যবস্থাটা চালু করা গেল না, কে জানে?

    টিকিট কাটার লাইনটা বেশ বড়ো। ধীরে-ধীরে লাইন এগোচ্ছে। আমার সামনে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর বয়স পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন হবে। প্যান্ট-শার্ট পরা। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। চোখে চশমা। ভদ্রলোক একবার বাঁ-পকেটে, একবার ডান পকেটে হাত ঢুকিয়ে খুচরো টাকা বের করে গুনছেন, ফের পকেটে রেখে দিচ্ছেন। আমি ভাবলাম, ভদ্রলোকের যদি খুচরো টাকা আছে তো উনি এগজ্যাক্ট কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতেই পারেন। খামোখা কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ওই কাউন্টারটা তো ফাঁকাই পড়ে আছে। একসময় ভদ্রলোক ফের খুচরো টাকা বের করে গুনতে লাগলেন। আমি বললাম, ”দাদা, আপনি তো এগজ্যাক্ট ফেয়ারের কাউন্টারে টিকিট কাটলেই পারতেন। তা হলে তো কষ্ট করে এতক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হত না!”

    ভদ্রলোক কেমন স্মিত হাসি হেসে বললেন, ”কষ্টে কী আসে যায়!”

    আমি মনে মনে ভাবলাম, এ কীরকম কথা! কষ্টে কী আসে যায়? যাক গে। উনি যদি কষ্ট করতে চান তো করুন। ওঁর ব্যাপার। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম। ভদ্রলোক কাউন্টারে পৌঁছোলেন। ছ-টাকা দিয়ে একটা মহানায়ক উত্তমকুমার যাওয়ার টিকিট চাইলেন। টিকিট নিয়ে পকেটে রাখতে-রাখতে সরে দাঁড়ালেন। আমি দশ টাকা দিয়ে একটা মহানায়ক উত্তমকুমার যাওয়ার টিকিট চাইলাম। ওই স্টেশনে নেমে আমাকে ঠাকুরপুকুর যেতে হয় দু-বার অটো বদলে। হঠাৎ দেখলাম, আমার পায়ের কাছে একটা টিকিট পড়ে আছে। ওই ভদ্রলোকই বোধ হয় টিকিটটা পকেটে রাখতে গিয়েছিলেন। ভুল করে পড়ে গিয়েছে। আমি চিকিটটা কুড়িয়ে ভদ্রলোকের পিছন-পিছন ছুটলাম, ”এই যে দাদা, শুনছেন। আপনার টিকিটটা পড়ে গিয়েছিল। এই নিন।”

    ভদ্রলোক সকালবেলার সেই কোকিলের ডাকের মতো বিষণ্ণ গলায় বললেন, ”টিকিটে কী আসে-যায়?” বলে হাত বাড়িয়ে টিকিটটা চাইলেন। আমি টিকিটটা ওঁর হাতে দিতে গিয়ে দেখলাম টিকিটের উপর একটা লাল কালির ফোঁটা। হঠাৎ আমার মনে হল ওটা রক্তের ফোঁটা নয়তো? তারপরে ভাবলাম, তাই বা কেন হবে? এমন অলীক ভাবনার কোনো মানে আছে কি? পাতালরেলের টিকিট, সদ্য মেশিন থেকে বেরিয়েছে। এতে রক্তের ফোঁটা আসবে কোথা থেকে? নিজের এমন অবাস্তব ভাবনার জন্য নিজেকেই বকে দিলাম। তবে লাল দাগটা কিন্তু ভুল দেখিনি।

    ভদ্রলোক তখন সিঁড়ি দিয়ে নামছেন। আমিও এগিয়ে গেলাম। ট্রেন আসতে চার মিনিট দেরি এখনও। প্ল্যাটফর্মে নেমে সামনেই দাঁড়ালাম। প্রথম কম্পার্টমেন্টে উঠলে মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশনের বাইরে বেরোনোর গেটটা কাছাকাছি হয়। যাঁরা নিয়মিত পাতালরেলে যাওয়া-আসা করেন, তাঁরা অনেকেই নির্দিষ্ট কম্পার্টমেন্টে ওঠেন। ডেলি প্যাসেঞ্জারদের সঙ্গে দেখা হয়। আমিও ঠিক এরকম সময় যখন পাতালরেলের এই কম্পার্টমেন্টে উঠি, তখন অনেক চেনা মুখের দেখা পাই। তবে আমি একটু লাজুক স্বভাবের বলে যেচে তেমন কারও সঙ্গে আলাপ করি না।

    এমন সময় দেখলাম, আমার ট্রেনটা প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে। আমি ট্রেন ধরার জন্যে রেডি, ট্রেনটা প্রায় এসে গিয়েছে, হঠাৎ পাশে তাকাতেই দেখলাম, সেই ভদ্রলোক আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ট্রেন ধরার জন্যে। ট্রেনটা কাছাকাছি আসতেই ভদ্রলোক ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিতে গেলেন। হতচকিত আমি খামচে ধরে ফেললাম জামাসুদ্ধ ভদ্রলোককে। কোনও রকমে বাঁচানো গিয়েছে। অনেক লোক জড়ো হয়ে গেল। ভদ্রলোককে কেমন যেন বিমর্ষ এবং ক্লান্ত দেখাচ্ছে। একটা কম বয়সি ছেলে ভদ্রলোককে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিল প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে। উনি একটু ঘামছেন।

    আমিও এগিয়ে গেলাম ওঁর কাছে। এই ট্রেনটা আমারও ধরা হল না। ক-মিনিট পরে ট্রেনটা চাঁদনিচক স্টেশন ছেড়ে গেল। উলটো দিকের ট্রেনও এল, ছেড়েও গেল দমদমের দিকে। এখন প্ল্যাটফর্মটা বেশ ফাঁকা।

    আমি ওঁর পাশের চেয়ারটায় গিয়ে বসলাম। সমব্যথীর গলায় বললাম, ”এমন কাজ করতে গেলেন কেন? মানুষ বেঁচে থাকার জন্যেই তো কত কষ্ট করে। আর আপনি…।”

    ভদ্রলোক খুব শান্ত এবং নিরীহ গলায় বললেন, ”বেঁচে থাকায় কী আসে-যায়?”

    আমি বেশ জোরের সঙ্গেই বললাম, ”না না, আপনাকে বেঁচে থাকতেই হবে।”

    উনি খুব বিষণ্ণ চোখে তাকালেন আমার মুখের দিকে। কোনো কথা বললেন না।

    আমি বললাম, ”জীবনের উপর আপনার এত রাগ কেন?”

    আবারও উনি আমার মুখের দিকে তাকালেন। তেমনই বিষণ্ণ চোখ।

    আমি কী করব? নতুন যাঁরা প্ল্যাটফর্মে জড়ো হচ্ছেন ট্রেন ধরার জন্য, তাঁরা তো জানেন না, এই ভদ্রলোক একটু আগেই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছিলেন। আমি কী সবাইকে জানিয়ে দেব, এই ভদ্রলোক একটু আগে…। তারপর জোর করে ওঁকে ট্রেনে তুলে দেব? অনেক তরুণ আছে, তারা জানলে ওঁকে ঠিক বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। আমার এইসব ভাবনার ফাঁকে দেখলাম, ভদ্রলোক এগিয়ে যাচ্ছেন প্ল্যাটফর্মের মাঝের দিকে।

    আমিও নিজেকে কেমন গুটিয়ে নিলাম। যাক, যা করার করুন উনি। আমার কী? আমার উপর তো সব আত্মহননকারীকে বাঁচানোর দায়িত্ব কেউ চাপিয়ে দেয়নি। তারপর আজ রাতে আমাকে একটা কবিতা লিখতে হবে। কাল সকালে ওই লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ফোন করবেন। ফোনেই আমি কবিতাটা বলে দেব। সম্পাদক লিখে নেবেন। আজকাল এমনই চল হয়েছে। ডাকবিভাগের অপদার্থতা আর দায়িত্বহীনতার জন্যেই এমন পথ বেছে নিতে হয়েছে মানুষকে।

    সাতপাঁচ ভাবনার ফাঁকে পরের ট্রেন এসে গেল। আমিও হুড়মুড় করে উঠে পড়লাম। ফিরে দেখা হল না, ওই ভদ্রলোক কী করলেন। মনটা আরও বিষণ্ণ হয়ে উঠল। টানেল দিয়ে ট্রেন ছুটে চলেছে। আমার ফের সকালবেলার কোকিলের ডাকটা কানে বেজে উঠল। বেআক্কেলে কোকিল! আজ কেন যে অমন করে ডাকল! কখন যে ট্রেনটা মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশনে এসে গেছে, খেয়াল হল ট্রেনের ঘোষকের গলার ঘোষণায়।

    ট্রেন থেকে নেমেই এক অসম্ভব দৌড় শুরু হয় যাত্রীদের মধ্যে। এতে যে ঠিক কতখানি লাভ হয় কার, কে জানে। যারা দৌড়োয় তারাও কি জানে? কখনও কি তারা ভেবে দেখেছে? আমি ওই দৌড়ের মধ্যে থাকি না যেমন, আবার এই দৌড়ের সময় আমার মধ্যেও কেমন একটা দৌড়োনোর স্রোত বয়ে যায়। অনেকটা ছোঁয়াচে রোগের মতো। তখন আস্তে হলেও দৌড়োই।

    আমি স্টেশন থেকে বেরিয়ে এলাম। বেশ বড়ো একটা চাঁদ উঠেছে। আজকের চাঁদটাকে অন্য দিনের চেয়ে মনমরা মনে হল যেন। আজকের দিনটাই যেন এমন!

    টালিগঞ্জে অটোর লাইনে দাঁড়ালাম। দু-বার অটো ধরে তবে ঠাকুরপুকুর যেতে হয়। এই অটোর লাইন অনেক সময় অ্যানাকোন্ডার মতো এঁকেবেঁকে চলে যায় পিছনের পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত। আজ তত লম্বা লাইন নেই। জনা তিরিশেক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তবে আজ অটোর ফ্লো কম। রাস্তায় কোথাও জ্যামে আটকে আছে মনে হয়। লাইন খুব ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। এখনই ঘড়িতে প্রায় সাড়ে আটটা বাজে। বাড়ি পৌঁছোতে সাড়ে ন-টা পেরিয়ে যাবে।

    মন থেকে ওই ভদ্রলোকের চিন্তা কিছুতেই যাচ্ছে না। কী হল ভদ্রলোকের? উনি কি আমার ট্রেনটাতেই উঠেছিলেন? নাকি আমার ট্রেনে না-উঠে পরের ট্রেনে…? বাড়িতে গিয়ে টিভির খবরটা দেখতে হবে। কিছু যদি ঘটে তবে খবরে তো দেখাবে। ভদ্রলোক কি সংসারে খুব দুঃখী? কেন? স্ত্রী কি ভালোবাসেন না? সংসারে কি খুবই টানাটানি? হয়তো খুবই সামান্য চাকরি করেন। পান্তাজোটালে নুন ফুরিয়ে যায়? আমার মনে হয়, এই নিয়ে একটা গল্প লিখে ফেললে কেমন হয়? লিখলে গল্পটা খুবই দুঃখের হবে। কিন্তু কেন? পৃথিবীতে এত দুঃখ ছড়িয়ে আছে, এত দুঃখের ঘটনা। তার উপর আবার দুঃখের গল্প কেন? এই বিষয়টা নিয়ে আনন্দের গল্প লিখলে কেমন হয়? তাই তো উচিত। দুঃখী মানুষকে যতটুকু আনন্দ দেওয়া যায়।

    এসব ভাবনার মধ্যে এতটাই ডুবে ছিলাম যে কখন অটো এসেছে, আমি অটোয় উঠে বসেছি, খেয়ালই নেই। আমি বসেছি অটোচালকের ডান দিকে। অটো করুণাময়ী ব্রিজ পেরোল। পিঁপড়ের সারির মতো অটোর লাইন, এই রাত ন-টাতেও। অটো হরিদেবপুর পর্যন্ত ঢিমে গতিতে চলল। তারপর বেশ গতি পেয়ে গেল। এই মার্চ মাসের সন্ধে-রাতে বেশ একটা ঠান্ডা-ঠান্ডা ভাব আছে বাতাসে। আমি বেশ একটু গুটিয়ে নিলাম নিজেকে। এমন সময় লুকিং গ্লাসে চোখ পড়তেই দেখলাম, ওই ভদ্রলোক আমার পিছনে অটোর ডান দিকে বসে আছেন। আমি চমকে উঠলাম। টালিগঞ্জে অটোর লাইনে তো আমার সামনে ভদ্রলোককে দাঁড়াতে দেখিনি! তা হলে উনি অটোতে বসলেন কী করে? মনে-মনে ভাবলাম, না না, উনি ঠিকই অটোর লাইনে ছিলেন। আমিই আনমনা ছিলাম বলে ওঁকে দেখতে পাইনি।

    মনে-মনে ভাবলাম, তা হলে ভদ্রলোক আমাদের দিকেই থাকেন। যাক, তা হলে ওঁকে বাঁচিয়ে একটা ভালো কাজ করেছি। হয়তো দেখা যাবে উনি আমাদের পাড়াতেই থাকেন। দেখাই যাক, উনি কবরডাঙায় গিয়ে ঠাকুরপুকুরের অটো ধরেন কিনা।

    আজ সকাল থেকেই ক্ষণেক্ষণে ভীষণ আনমনা হয়ে যাচ্ছি। কোনো কিছুতেই ঠিকমতো মন বসাতে পারছি না। কেন এমন হল আজ? তখনই মনে পড়ল, এ সেই কোকিলটার কাজ। সেই যে সকালে এমন মন কেমন-করা সুরে ডাকল একটানা, আর তারপর থেকেই তো…।

    একদিন আমার বাড়ির পাশের ওই আমগাছটায় এসে বসেছিল একটা হলদে শালিখ। কী তার চোখ-জুড়োনো রূপ! তার ওই আগুন-ছড়ানো হলদে রং দেখে সেদিন মনটা যেন অদ্ভুত আনন্দে ভরে উঠেছিল। অনেকে ওই পাখিটাকে বেনে বউ বলে ডাকে, অনেকে বলে ইষ্টিকুটুম। আমরা ছেলেবেলায় মেদিনীপুরের গ্রামে ওই পাখি অনেক দেখেছি। আমরা ডাকতাম হলদে পাখি বলে। সেদিন সেই হলদে শালিখ দেখার পর সারাদিনই মনটা টইটই করেছিল আনন্দে। এক-একদিন এক-একটা পাখি, ফুল কেমন মন ভালো রাখে সারাদিন। আজ যেমন ওই কোকিলটা মন খারাপ করে দিয়েছে।

    হঠাৎ খেয়াল হতে দেখি আমি ঠাকুরপুকুরের অটোয় বসে চলে এসেছি একদম বাড়ির কাছে। জেমস লং সরণির কাছে বাজারে নেমে গেলাম। বাঁ-দিকে আমার পাড়া। তিন মিনিট হাঁটলেই আমার বাড়ি। প্রায় দশটা বাজতে চলল। তড়িঘড়ি বাড়ি পৌঁছে গেলাম।

    বাড়িতে থাকি আমরা দুটি প্রাণী, আমি আর মেঘনাদদা। আমার স্ত্রী থাকে হলদিয়ায়, চাকরি করে ওখানে। ছেলে-বউমা আর মেয়ে থাকে বেঙ্গালুরুতে। মহিষাদলে গ্রামের বাড়িতে মা আর ভাইরা থাকে। মেঘনাদদা আমার বাবার আমলের লোক, কবে থেকে যে আমাদের বাড়িতে আছে, কেউই মনে করতে পারে না। সবাই বলে, এই মাইক্রো ফ্যামিলির যুগে এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। মেঘনাদদার রান্নার হাতও ভালো। দারুণ সুক্তো রাঁধতে পারে। মাংসটাও রাঁধে দারুণ। আমাদের কলকাতার বাড়িতে আমি একা থাকি। মা মেঘনাদদাকে পাঠাল। সেই থেকে আমরা দু-জন এই বাড়িতে। মেঘনাদদাই রাঁধে, বাজার করে, সব দিক সামলায়। সপ্তাহান্তে আমার স্ত্রী চলে আসে এখানে। কখনও আমি চলে যাই হলদিয়ায়। ছেলে-বউমা, মেয়ে ছুটি পেলে চলে আসে। আমাদের এই বাড়ি তখন যেন মুখরা মেয়ে। হইহট্টগোলে জমজমাট হয়ে ওঠে। মেঘনাদদাও তখন আহ্লাদে ষোলোখানা। একাই দশ হাতে সব সামলায়।

    বাড়ি এসে আমি আর মেঘনাদদা একসঙ্গে রাতের খাওয়া খেয়ে নিলাম। খেতে বসে ওই ভদ্রলোকের গল্প করলাম। অবাক হয়ে শুনল মেঘনাদদা। সব গুছিয়ে মেঘনাদদার শুতে দেরি হয়। আমি শুতে চলে গেলাম।

    আমার ঘরের দরজা ভেজানো থাকে। বন্ধ করি না। সকালবেলা মেঘনাদদা ঘুম থেকে ওঠার ডাক দেবে বিছানার পাশে এসে। আর তখনই আমি উঠব। কিন্তু কিছুদিন হল, একা-একাই আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। কখনও কোকিলের ডাকে, কখনও মোরগের ডাকে। আমার বাড়ির চারপাশের গাছে যে এখন কত রকমের পাখি ডাকে। ঘুম ভেঙে যায়। এসব ডাক বেশ ভালোও লাগে এক-একদিন।

    আমি একটু উঁচু বালিশপছন্দ করি। তাই আমার বালিশটার উপর আমার স্ত্রীর বালিশটাও দিই। এতে যেন আরাম লাগে। মেঘনাদদা দেখলে বকে। ডাক্তারের নিষেধের কথা মনে করিয়ে দেয়। আজ বোধ হয় মেঘনাদদা খেয়াল করেনি। দুটো বালিশ পেতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

    ঘরের লম্বা জানলাটা দিয়ে বিকেলবেলার কনে দেখা আলোর মতো অদ্ভুত একটা আলো এসে পড়েছে। গতকালের সেই কোকিলটা ডেকে উঠল একবার। সকাল এসে পড়েছে আমার ঘরের জানলায়। কুয়াশা কেটে রোদ ওঠার মতো চোখের পাতা থেকে ঘুমটা সরে যেতেই আমার মনে হল, মাথাটা যেন অনেক নীচে পড়ে আছে। হাত দিয়ে দেখলাম, একটা বালিশ মাথায় দিয়ে শুয়ে আছি আমি। আর-একটা বালিশ কোথায় গেল? ঘুমোবার সময় দুটো বালিশই তো উপর-উপর রেখে শুয়েছিলাম। আমি পাশে হাতড়ে দেখতে গেলাম, বালিশটা কোথায়? অমনি আমার হাতে লাগল একটা বরফ-ঠান্ডা কিছুর উপর। চোখ বড়ো করে তাকিয়ে দেখলাম, আমার পাশে বালিশে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে সেই লোকটা। আমি আঁ-আঁ করে চিৎকার করেই……। আর কিছু মনে নেই। তারপরের কথা মেঘনাদদার মুখ থেকে শুনলাম জ্ঞান ফেরার পর। আমার চিৎকার শুনে মেঘনাদদা ছুটে এসেছিল আমার ঘরে। ফ্যানটা ফুল স্পিডে চালিয়ে চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিয়েছিল। আমি নাকি মিনিট পাঁচেক মড়ার মতো পড়েছিলাম।

    এই মাত্র চোখ মেলে তাকালাম। একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেঘনাদদা ঠাকুর প্রণাম করল কপালে দু-হাত ঠেকিয়ে। তারপর বলল, ”দাদাবাবু, তুমি চুপ করে বসে থাকো বিছানায়। আমি একটু দুধ গরম করে আনি। তুমি যেন এখনই উঠতে যেয়ো না!”

    আমি বাধ্য শিশুর মতো ঘাড় নেড়ে মেঘনাদদার কথায় সায় দিলাম। কপালে গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঘাম জমে আছে। নাকি ঘাম নয়, মেঘনাদদার দেওয়া জলের ঝাপটার গুঁড়ো?

    মেঘনাদদা ব্যস্ত হয়ে চলে গেল রান্নাঘরের দিকে। ফ্যানের বাতাস যতটা ঠান্ডা লাগার কথা, তার চেয়েও অনেক বেশি ঠান্ডা লাগছে। তা হলে কি ভোররাতে বৃষ্টি হয়েছিল?

    অভ্যেস মতো বালিশের পাশে মোবাইল ফোনটা রেখে ঘুমোই। হাতড়ে মোবাইলটা খোঁজার চেষ্টা করলাম। কোত্থাও পাচ্ছি না। ফের যেন ঘামতে শুরু করলাম। একবার মনে হল পাশের বালিশটার নীচে ফোনটা নেই তো? যেই বালিশটা তুলে সরিয়ে দিলাম, অমনি আবার আমার চোখ দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেল। দেখলাম, বালিশের নীচে গত কালকের লোকটার সেই পাতাল রেলের টিকিটটা। টিকিটে সেই রক্তের দাগের মতো গোল লাল দাগ।

    তারপর? আর আমার কিছু মনে নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }