Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি নতুন ভূত – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প282 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অঘোরবাবুর ট্যাঁকঘড়ি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    টোয়েন্টি থাউজেন্ড ওয়ান, টোয়েন্টি থাউজেন্ড টু… টোয়েন্টি থাউজেন্ড থ্রি…—’ফর্টি থাউজেন্ড!’ কিছুটা জেদের বসেই এবার দ্বিগুণ দর হেঁকে বসলেন অঘোর সান্যাল। তাঁর দর হাঁকা শুনে এবার একেবারে হাঁ হয়ে গেল উলটো দিকে যে দর দিচ্ছিল সেই যুবক। অঘোরবাবু লক্ষ করলেন বিস্ময়ে ছেলেটার চোয়াল ঝুলে পড়েছে!

    নিলামঅলা তার হাতুড়ি ঠুকে আবার দর হাঁকতে যাচ্ছিলেন কিন্তু ছেলেটা হাত নেড়ে বুঝিয়ে দিল সে আর ডাক দেবে না। নিলাম শেষ হয়ে গেল। ছেলেটা অঘোরবাবুর পরিচিত। নাম, অর্জুন লাখোটিয়া। বয়স ছাব্বিশ-সাতাশ হবে। ওর বাবা গণেশ লাখোটিয়াও অঘোর সান্যালের বিশেষ পরিচিত। অঘোরবাবুর মতো গণেশ লাখোটিয়ারও ইম্পোর্ট-এক্সপোর্টের ব্যবসা আছে।

    নিলাম শেষ হবার পর আশেপাশের ভিড়টা পাতলা হয়ে গেল। কিন্তু বিস্মিত অর্জুন তখনও তাকিয়ে আছে অঘোরবাবুর দিকে। সে যে প্রচণ্ড আশাহত তা বুঝতে অসুবিধা হল না অঘোরবাবুর। তার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেবার ভঙ্গিতে তিনি বললেন, ‘ডোন্ট আপসেট মাই বয়। নিলামের নিয়মই হল, কেউ জেতে কেউ হারে। এই যেমন গত মাসে তুমি আমাকে নিলামে হারিয়ে মিং আমলের ফ্লাওয়ার ভাসটা জিতে নিলে। ও রকম একটা ফুলদানির শখ আমার বহুদিনের ছিল। কী আর করা যাবে? নেক্সট টাইম হয়তো আবার তুমি জিতবে।”

    ছেলেটা অঘোরবাবুর কথার কোনো জবাব দিল না। নিলামঅলার টেবিলে রাখা যে জিনিসটার নিলাম হচ্ছিল সেটার দিকে একবার তাকিয়ে কাঁধ থেকে অঘোরবাবুর হাতটা সরিয়ে ধীর পায়ে নিলামঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

    সে চলে যাবার পর পরিচিত বৃদ্ধ নিলামদার মন্তব্য করলেন, ‘অল্পবয়সি ছেলেতো। ব্যাপারটা ঠিক মেনে নিতে পারল না।’ তার কথায় ঘাড় নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করে অঘোরবাবু এবার তাকালেন টেবিলে রাখা তার জিতে নেওয়া জিনিসটার দিকে। সেটা একটা চেনঅলা সোনার পকেট ওয়াচ। আগেকার দিনে যাকে লোকে বলত ‘ট্যাঁকঘড়ি’। খুব সুন্দর দেখতে খাঁটি বিলেতি জিনিস। নকশাতোলা বেশ বড়ো একটা চেরিকাঠের বাক্সর ভিতরে নীল মখমলের মধ্যে রাখা। ঘড়িটা আপাতত বন্ধ থাকলেও এখনও চলে। নিলামঅলার বক্তব্য অনুযায়ী ঘড়িটার বয়স নাকি প্রায় দুশো বছর। আর বাক্সটারও তাই।

    পকেট থেকে চেক বই বের করে চেক লিখতে শুরু করলেন আঘোরবাবু। নিলামঅলা বাক্সটা বন্ধ করে দিয়ে সেটা ব্রাউন পেপারে মোড়াতে মোড়াতে বললেন, ‘বাড়ি গিয়ে ঘড়িটা চালু করে নেবেন। একবার দম দিলে ঘড়িটা আটচল্লিশ ঘন্টা চলে। একদম খাঁটি বিলেতি ঘড়ি। এক বুড়ো ‘অ্যাংলো’ পয়সার অভাবে বেচে দিয়ে গেল। ঘড়িটা নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুদিন আগেই লন্ডন থেকে ওর হাতে এসেছে।’

    চেক কেটে সেটা নিলামদারের হাতে ধরিয়ে বাক্সটা নিয়ে নিলেন অঘোরবাবু। তারপর তিনি যখন দোকানের বাইরে এগোতে যাচ্ছেন তখন জিনিসপত্রে ঠাসা আধো অন্ধকার নিলামঘরের মধ্যে কিছু দূরে একটা অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেলেন তিনি। একটা পুরোনো পিতলের মূর্তির পায়ের কাছে শুয়ে তার দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিরাট বড়ো একটা কালোরঙের অ্যালসেসিয়ান কুকুর! মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন অঘোরবাবু। তবে তা ভয়ে নয়। এ জাতীয় একটা কুকুর তার নিজের বাড়িতেও আছে। তিনি ভাবলেন নিলামদারকে একবার জিজ্ঞেস করেন যে, ‘কার কুকুর ওটা?’ এর পরক্ষণেই তার মনে হল, ওটা হয়তো নিলামদারের কোনো খদ্দেরের হবে। তিনি নিজেও তো বেশ কয়েকবার তাঁর কুকুরটাকে সঙ্গে নিয়ে এই নিলামঘরে এসেছেন। তেমনই হবে হয়তো। এ কথা চিন্তা করে কাজেই আর নিলামদারকে কিছু না-বলে সামনে এগিয়ে কাচের দরজার পাল্লা ঠেলে পার্ক স্ট্রিটের ব্যস্ত রাস্তায় নেমে পড়লেন অঘোরবাবু। কিছু দূরে রাস্তার পাশে দাঁড় করানো ছিল তার ফিয়েট গাড়িটা। গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভারের সিটে উঠে বসলেন তিনি। তাঁর রিস্টওয়াচে বেলা একটা বাজে। ক্যামাক স্ট্রিটে একটা কাজ সেরে গাড়ি নিয়ে তিনি যখন তার বাড়ির সামনে এসে ফটক খোলার জন্য হর্ন দিলেন তখন বেলা দুটো বেজে গেছে।

    শহরের বাইরে বরানগরে গঙ্গারধারে প্রাচীর ঘেরা সাবেক আমলের দোতলা পৈত্রিক বাড়িতে পুরোনো কাজের লোক শিউসরণকে আর তার অ্যালসেসিয়ান টাইগারকে নিয়ে থাকেন ষাটোর্ধ্ব অঘোরবাবু। তিনি বিয়ে-থা করেননি।

    হর্ন শুনে শিউসরণ দরজা খুলে দিল। গাড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকে পোর্টিকোতে ঘড়ির বাক্সটা হাতে নিয়ে নামতেই তাকে দেখে অন্য দিনের মতোই টাইগার ছুটে এল। অঘোরবাবুর একটু তফাতে এসেই হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল কুকুরটা। সন্দিগ্ধভাবে সে একবার তাকাল অঘোরবাবু হাতে ধরা বাক্সটার দিকে, তারপর গজরাতে শুরু করল। অঘোরবাবু তাকে ডাকলেন, কিন্তু সে কাছে এল না। তাই দেখে তিনি শিউসরণকে বললেন, ‘টাইগারের মেজাজটা আজ খারাপ বলে মনে হচ্ছে?’ শিউসরন জবাব দিল, ‘এতক্ষণতো ও ঠিকই ছিল। ওর মেজাজ কখন যে কী হয় বোঝা মুশকিল!’

    অঘোরবাবু আর কথা বাড়ালেন না। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দোতলার শোবার ঘরে উঠে পোশাক পালটাতে শুরু করলেন। শিউসরণ খাবার দিয়ে গেল। দুপুরের খাওয়া সেরে ঘড়ির বাক্সটা বিছানায় রেখে শুয়ে পড়লেন অঘোরবাবু।

    অঘোরবাবুর যখন ঘুম ভাঙল তখন প্রায় সাতটা বাজে। বাইরে অন্ধকার নেমেছে। বিছানাতে উঠে বসে বেড সুইচ জ্বালাতেই তাঁর চোখে পড়ল ঘড়ির বাক্সটার ওপর। কাগজের মোড়কটা খুলে বাক্স থেকে ঘড়িটা বার করে খুঁটিয়ে খুটিয়ে ঘড়িটা দেখতে লাগলেন তিনি। জিনিসটা যে অনেক পুরোনো তাতে সন্দেহ নেই। সোনার ডায়াল আর কাঁটাগুলো বাতির আলোতে ঝলমল করছে। ভালোভাবে নজর করতে ডায়ালের ঠিক মাঝখানে আরও একটা ব্যাপার চোখে পড়ল তাঁর। খুব সূক্ষ্মভাবে তিনটে জিনিসের ছবি খোদাই করা আছে সেখানে। একটা টুপি, একটা ছড়ি, আর একটা কুকুরের ছবি। ভালো করে খেয়াল না-করলে ঠিক ছবিগুলো বোঝা যায় না। নিলামদার বলেছিল ঘড়িটাতে একবার দম দিলে আটচল্লিশ ঘন্টা চলে। ঘড়িটা ভালো করে দেখে কাঁটা মিলিয়ে দম দেবার পর সুন্দর মৃদু টিকটিক ছন্দে ঘড়িটা যখন চলতে শুরু করল তখন কাঁটায় কাঁটায় ঠিক সাতটা বাজে। ঠিক সেই সময় অঘোরবাবুর মনে পড়ল, আজ রাত আটটাতে পার্ক স্ট্রিটের একটা বড়ো হোটেলে একটা পার্টি আছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এ ধরনের পার্টিতে তাঁকে মাঝেমাঝে যেতে হয়। ব্যবসায়ীরা আসে সেখানে। ব্যবসা সংক্রান্ত নানা বিষয় আলোচনা হয়। কাজেই আর সময় নষ্ট না-করে সেখানে যাবার জন্য তৈরি হতে উঠে পড়লেন তিনি। পোশাক পরার পর হঠাৎ তার মনে হল, ‘পকেট ঘড়িটাকে সঙ্গে নিয়ে যাই!’ এই ভেবে তিনি ঘর ছেড়ে বেরোবার আগে তার জহরকোটের নীচে পাঞ্জাবির বুকে পকেটে ভরে নিলেন সেটা।

    অঘোরবাবু যখন পার্ক স্ট্রিটের সেই হোটেলে পৌঁছোলেন তখন একে একে অন্য অতিথিরাও সেখানে আসতে শুরু করেছেন। মিত্তির, চ্যাটার্জি, ঝুনঝুনঅলা, লাখোটিয়া, সিংঘানিয়া আরও অনেকে। এঁরা সবাই কলকাতার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বিরাট ঝাড়বাতি লাগানো আলোকোজ্জ্বল হোটেলের বলরুম ক্রমশ লোকজনের কথাবার্তা হাসিঠাট্টায় মুখরিত হয়ে উঠল। চ্যাটার্জির সাথে ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু কাজের কথা সারার পর হঠাৎ গণেশ লাখোটিয়ার মুখোমুখি হয়ে গেলেন অঘোরবাবু। তাকে দেখেই লাখোটিয়া বললেন, ‘আপনার সঙ্গে আমার একটা পার্সোনাল কথা আছে মিস্টার সান্যাল।’

    অঘোরবাবু বললেন, ‘বলুন?’

    লাখোটিয়া একটু চাপাস্বরে বললেন, ‘আপনার কাছে আমার একটা রিকোয়েস্ট আছে। আজকে পার্ক স্ট্রিটের নিলামঘরে বিডিং-এর ব্যাপারটা আমি শুনেছি। ঘড়িটা না-পেয়ে অর্জুন খুব আপসেট হয়ে পড়েছে। ও আমার একমাত্র ছেলে। কোনো কিছু চেয়ে তা পায়নি এমন হয়নি। আমি আপনাকে ওই ঘড়ির দামের ওপর বাড়তি পাঁচ হাজার টাকা দিচ্ছি। ও ঘড়িটা আমার চাই।’

    লাখোটিয়া তার শেষের কথাটা এমন ঢঙে বললেন তা ঠিক পছন্দ হল না অঘোরবাবুর। তিনি জবাব দিলেন, ‘ঠিক আছে আমি ভাবব আপনার কথা।’ লাখোটিয়া বললেন, ‘হ্যাঁ, ভাবুন।’

    লাখোটিয়াকে পাশ কাটাবার জন্য এরপর তার থেকে বিদায় নিয়ে তিনি এগোলেন সামনের দিকে। অঘোরবাবু বলরুমের ঠিক মাঝখানে বড়ো ঝাড়বাতিটার নীচে গিয়ে দাঁড়াতেই তাকে দেখে এগিয়ে এসে মিত্তির বললেন, ‘কী মশাই, ভরদুপুরে আজ কুকুর নিয়ে কোথায় বেরিয়েছিলেন? আর সঙ্গের লোকটা কে ছিল?’

    তার কথা শুনে অঘোরবাবু একটু অবাক হয়ে বললেন, ‘দুপুরে আমি বাড়ির বাইরে কিছুটা সময় ছিলাম ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে তো কেউ ছিল না।’

    মিত্তির বিস্ময়ের সুরে বললেন, ‘সে কী মশাই! আজ দুপুরবেলায় হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে পার্ক স্ট্রিটে আপনি আপনার গাড়িতে উঠলেন। আর আপনার গাড়ির পিছনের দরজা খুলে গাড়িতে উঠলেন ছড়ি হাতে কালো পোশাক আর টুপি পরা একটা লোক। সঙ্গে অ্যালসেসিয়ানটা। কয়েক হাত দূর থেকে আমি তো স্পষ্ট দেখলাম! আপনাকে ডাকার আগেই আপনি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।’ মিত্তিরের কথায় ‘কিন্তু, কিন্তু’, বলে অঘোরবাবু কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই তাঁর যেন মনে হল, তার বুক পকেটে রাখা ঘড়িটা যেন খুব জোরে টিকটিক শব্দে বাজতে শুরু করেছে। আর তারপরই কীসের একটা প্রচণ্ড ধাক্কায় মিত্তিরকে নিয়ে মাটিতে ছিটকে পড়লেন অঘোরবাবু। সঙ্গে সঙ্গে একটা কানফাটানো আওয়াজ আর ঝনঝন শব্দে কেঁপে উঠল ঘর! চিৎকার চেঁচামেচিতে ভরে উঠল বলরুম।

    কয়েক মুহূর্তে পর লোকজন যখন অঘোরবাবুকে টেনে তুলল, তখন তিনি বুঝতে পারলেন আসল ব্যাপারটা। চারপাশে ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ভাঙা কাচের ঠুকরো! অঘোরবাবুর মাথার ওপরের বিশাল ঝাড়বাতিটা ভেঙে পড়েছে! ভাগ্য ভালো একজন ওয়েটার ব্যাপারটা শেষমুহূর্তে দেখতে পেয়ে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় অঘোরবাবুকে। নইলে অতবড়ো ঝাড়বাতি মাথায় পড়লে আর দেখতে হত না। চোট অবশ্য তাঁর খুব একটা লাগেনি। সামান্য একটু হাতে লেগেছে। সবাই তাকে বলল, ‘খুব বেঁচে গেছেন মশাই!’

    এরপর মিত্তিরের সাথে আর কোনো কথা হল না অঘোরবাবুর। দুর্ঘটনার কারণে পার্টিটাও তেমন জমল না। রাত দশটার আগেই সে-দিন বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়লেন তিনি।

    পরদিন বেশ ভোরেই ঘুম ভাঙল অঘোরবাবুর। রাতে ঘুমটা যেন কেমন ছেঁড়া ছেঁড়া হয়েছে তাঁর। সারারাত ঘুমের মধ্যে কেমন যেন অদ্ভুত একটা টিকটিক শব্দ শুনতে পেয়েছেন তিনি। ঘুমের ঘোরে বার দু-এক বিছানাতে উঠেও বসেছিলেন তিনি। অঘোরবাবু ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যে শিউসরণ চা নিয়ে এল। অন্যদিন এ সময় তার পিছন পিছন টাইগারও ওপরে উঠে আসে। বাঁধা নিয়ম। অঘোরবাবুর হাত থেকে দুটো বিস্কিট রোজ তার প্রাপ্য। আজ শিউসরণের সাথে টাইগার নেই। তাকে না-দেখে অঘোরবাবু বললেন, ‘কীরে টাইগার এল না?’

    শিউসরণ জবাব দিল, ‘ওর মনে হয় শরীরটা খারাপ। কাল দুপরে আপনি বাড়িতে ফেরার পর সেই যে ও নিজের ঘরে গিয়ে ঢুকেছে, তারপর আর বাইরে আসেনি। রাতের খাবারও পড়ে আছে দেখলাম। সারারাত কুকুরটা গরগর করেছে।’

    অঘোরবাবু শুনে বললেন, ‘দেখ, আজ ও ভালো হয় কিনা? নইলে কাল ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাস।’

    চা পান শেষ হবার পর স্নানে গেলেন অঘোরবাবু। তারপর টিফিন সেরে পোশাক পরে নিলেন। পাঞ্জাবিটা গায়ে গলাবার সময় তিনি অনুভব করলেন ঘড়ির অস্তিত্বটা। একবার ঘড়িটা বার করে দেখলেন তিনি। খোলা জানলা দিয়ে আসা দিনের আলোতে ঝলমল করে উঠল ঘড়িটা। একদম নির্ভুল সময় দিচ্ছে সেটা। ঘড়িটা পকেটে নিয়েই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন।

    সারাদিন ব্যবসা সংক্রান্ত নানা কাজের চাপ ছিল। কাজের চাপে বুক পকেটে রাখা ঘড়িটার অস্তিত্ব ভুলেই গেলেন তিনি। দুপুরে বাড়ি ফেরা হল না তার। সন্ধ্যায় ব্যবসা সংক্রান্ত একটা বৈঠক ছিল। সেটা সেরে অঘোরবাবু ক্লান্ত শরীরে যখন বাড়ি ফিরলেন তখন রাত ন-টা বাজে। ওপরে শোবার ঘরে উঠে তিনি যখন পোশাক খুলতে যাচ্ছেন ঠিক তখন শিউসরণ এসে বলল, ‘বাবু, আপনার সাথে একজন অল্পবয়সি ভদ্রলোক দেখা করতে এসেছেন।’ এত রাতে আবার কে এল?’ আর নীচে নামতে ইচ্ছা করল না অঘোরবাবুর। একটু ইতস্তত করে তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, লোকটাকে ওপরে পাঠিয়ে দে।’ মিনিট দু-একের মধ্যেই সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা গেল। আর তার পরই যে ঘরে প্রবেশ করল তাকে দেখে একটু অবাকই হয়ে গেলেন অঘোরবাবু। অর্জুন লাখোটিয়া! তার পরনে লাল গেঞ্জি আর চোঙা প্যান্ট। চোখেমুখে প্রচণ্ড উত্তেজনার ভাব। টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে দরজার সামনে কয়েক পা ভিতরে আসা অর্জুনের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি এত রাতে?’ অর্জুন জবাব দিল, ‘আঙ্কল, আমি ওই ঘড়িটা নিতে এসেছি। কাল সন্ধ্যায় বাবার সাথে আপনার তো কথা হয়েছে। টাকাটা নিয়ে এসেছি আমি।’ এই বলে সে পকেটে হাত দিল সম্ভবত টাকা বার করার জন্য।

    তার কথা শুনে অঘোর সান্যাল মৃদু অসন্তুষ্ট স্বরে বললেন, ‘তোমার বাবা আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু আমি বলেছি, ভেবে দেখব। দেবতো বলিনি! এ ব্যাপারে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তেমন হলে জানাব।’

    অর্জুন লাখোটিয়া বলল, ‘কিন্তু ঘড়িটা আমি নিয়ে যেতে চাই।’

    অঘোরবাবু বললেন, ‘আমি তো তোমাকে বললাম, তেমন হলে তোমাকে জানাব।’

    ‘ঘড়িটা আমার আজই চাই এবং এখনই চাই। ওটা আমাকে দিন। আমি চেয়ে পাইনি, এমন কখনও হয়নি।’—এবার বেশ উদ্ধত রুক্ষ স্বরে কথাগুলো বলল অর্জুন।

    তার কথা বলার ঢং দেখে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল অঘোরবাবুর। তিনিও একটু রুক্ষ ভাবে বললেন, ‘তোমাকে যা বলবার তো বললাম। এখন তুমি যাও। অনেক রাত হয়েছে।’

    অর্জুন গলার স্বর চড়িয়ে বলল, ‘আপনি আমাকে ঘড়িটা এখনই দেবেন। নইলে….’

    ‘নইলে কী?’ অঘোরবাবুও চিৎকার করে বলে উঠলেন। আর এর পরমুহূর্তেই তিনি দেখলেন অর্জুন তার পকেট থেকে বার করল একটা রিভলবার! তার নল সোজা তাক করা তাঁর দিকে।

    হতভম্ব হয়ে গেলেন অঘোরবাবু। আর তার পরমুহূর্তেই অঘোরবাবুর যেন মনে হল তার বুক পকেটে রাখা ঘড়িটা বেশ জোরে টিকটিক শব্দে বাজতে শুরু করেছে! ঘাবড়ে গেলেও অঘোরবাবু মনে শক্তি সঞ্চয় করে বললেন, ‘তুমি কী আমায় ভয় দেখাচ্ছ? চালাও গুলি। ও ঘড়ি তোমাকে আমি দেব না।’

    অঘোরবাবুর কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে অর্জুনের মুখটা যেন কেমন পালটে গেল। কাঁপতে লাগল তার হাত। আর কাঁপাকাঁপা হাতেই পরমুহূর্তে সে চালিয়ে দিল গুলি! অঘোরবাবু অনুভব করলেন একটা গরম হলকা তার কান ঘেসে বেরিয়ে গিয়ে দেওয়ালে বিদ্ধ হল। প্রচণ্ড শব্দ আর বারুদের কটু গন্ধে ভরে গেল ঘর। অর্জুন কিন্তু আর দাঁড়াল না। গুলিটা চালিয়েই আতঙ্কিত ভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে পালাতে শুরু করল।

    গুলির শব্দ শুনে শিউসরণ ওপরে উঠে এল তখনও টেবিলের কাছে স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে আছেন অঘোরবাবু। শিউসরণই তাকে বিছানাতে এনে বসাল। ঘড়ির শব্দটা তখন আর কানে আসছে না অঘোরবাবুর। জলটল খেয়ে ধাতস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। এমন একটা ঘটনা যে ঘটতে পারে তা ধারণাই ছিল না অঘোরবাবুর। এখন কী করা উচিত তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন তিনি। তিনি কি পুলিশে খবর দেবেন? ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।

    ভাবছিলেন অঘোরবাবু। ভাবতে ভাবতেই মিনিট কুড়ির মধ্যেই ফোনটা বেজে উঠল। টেবিলের কাছে গিয়ে রিসিভার তুলে অঘোরবাবু ‘হ্যালো’ বলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল আতঙ্কিত গণেশ লাখোটিয়ার গলা, ‘মিস্টার সান্যাল, আপনি অর্জুনকে ক্ষমা করে দিন। ও মা-মরা ছেলে। আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি বলে ও অসৎ সঙ্গে বিগড়ে গেছে। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি ও একাজ করবে না। ও যে আপনার কাছে গেছিল তা আমি জানতামই না। প্লিজ আপনি পুলিশে খবর দেবেন না। তাহলে আমার আর মানসম্মান থাকবে না। প্লিজ মিস্টার সান্যাল…।’

    অঘোরবাবু তাকে থামিয়ে দিয়ে উত্তেজিতভাবে বললেন, ‘ও কী করেছে আপনি জানেন? ও গুলি করেছিল আমাকে! অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি। একদম কান ঘেসে গেছে গুলিটা! ও আমাকে একটা ঘড়ির জন্য খুন করতে যাচ্ছিল!’ গণেশ লাখোটিয়া বললেন, ‘ঘড়িটার জন্য ও আপনাকে রিভলবার দেখিয়ে থ্রেট করে চরম অন্যায় করেছে। আপনি বিশ্বাস করুন মানুষ খুন করার মতো সাহস ওর নেই। আসলে আপনাদের কথাবার্তা চলার সময় আপনার কুকুরটা আপনার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। কুকুরে ওর দারুণ ভয়। আপনাকে নয়, কুকুরটা দেখেই ভয় পেয়ে ও গুলিটা চালিয়েছিল। তারপর পালিয়ে আসে।’ অঘোরবাবু বললেন, ‘কুকুর? কিন্তু…’

    লাখোটিয়া বললেন, ‘আমার কথা বিশ্বাস করুন। প্লিজ আপনি পুলিশে খবর দেবেন না। অর্জুন আপনার কাছে মাফ চেয়ে আসবে। প্রয়োজনে আমি একলাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেব। সেই ফ্লাওয়ারভাসটাও গিফট করব। নিকেলসন কোম্পানির যে অর্ডারটার জন্য আপনি অনেক দিন চেষ্টা করছেন সেটাও পাইয়ে দেব। শুধু আপনি থানা-পুলিশ করবেন না…। এর পরই সম্ভবত যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ফোনটা কেটে গেল। চেষ্টা করেও লাখোটিয়াকে আর ধরা গেল না। রিসিভার নামিয়ে রেখে অঘোরবাবু শিউসরণকে বললেন, ‘হাঁরে ওই ছেলেটা যখন ওপরে উঠেছিল তখন টাইগার কি ওপরে উঠেছিল?’

    সে জবাব দিল, ‘না তো বাবু, সে তো ঘর ছেড়ে বেরোয়নি। যখন ওপরে শব্দ হল, তখন আমি তার ঘরে খাবার দিতে ঢুকে ছিলাম।’ জবাব শুনে নিজের মনে অঘোরবাবু বললেন, ‘আশ্চর্য! ছেলের অপরাধ ঢাকতে কি মিথ্যা বললেন গণেশ লাখোটিয়া?’

    তিনি যা করবেন তা পরের দিন করবেন,—এই ভেবে শিউসরণকে সজাগ থাকতে বলে খাওয়া সেরে আর কিছু সময়ের মধ্যেই অঘোরবাবু বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু সেদিনও আগের রাতের মতোই একটা টিকটিক শব্দ ঘুমের ঘোরে শুনতে পেলেন অঘোরবাবু। এ দিনের শব্দ যেন আগের রাতের থেকে আরও বেশি তীব্র। শেষ রাতের দিকে ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু অন্ধকার ঘরে অঘোরবাবু বুঝতে পারলেন সেই শব্দের অনুরণনটা যেন তখনও তার কানে জেগে আছে! বাকি রাতটা জেগেই কাটিয়ে দিলেন তিনি।

    বিকালবেলায় নিজের ঘরে বসে ছিলেন অঘোরবাবু। সারাদিন তিনি বাড়ির বাইরে যাননি। শিউসরণ কুকুরটাকে একটু আগে নিয়ে গেছে ডাক্তারের কাছে। গতকালও সারা রাত কেঁদেছে কুকুরটা। রাতে ভালো ঘুম না-হওয়ায় শরীরটাও একটু খারাপ অঘোরবাবুর। সেদিন ঘড়িটা কিনে আনার পর থেকেই তাঁর স্বাভাবিক জীবনে কোথাও যেন একটা ছন্দপতন ঘটতে শুরু করেছে। কিন্তু ব্যাপারটা তিনি ঠিক ধরতে পারছেন না। পরপর দু-রাত ধরে সেই টিকটিক শব্দটা কি নিছকই তার মনের ভুল, নাকি অন্য কিছু? বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর ঘড়িটা আবার ভালো করে দেখার জন্য পাঞ্জাবির পকেট থেকে ঘড়িটা বার করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখলেন তিনি। সাড়ে পাঁচটা বাজে। তেমন কিছু সন্দেহজনক বিষয় ঘড়িটার মধ্যে তার চোখে পড়ল না। তিনি এরপর ভাবলেন যে ঘড়িটা তার বাক্সে পুরে আলমারিতে ঢুকিয়ে রাখবেন। এত দামি জিনিস বাইরে ফেলে রাখা বা সঙ্গে নিয়ে ঘোরা ঠিক হচ্ছে না। ঘড়ির বাক্সটা টেবিলে রাখা ছিল। সেটা তুলে এনে আবার খাটে বসলেন অঘোরবাবু। খুব সুন্দর বাক্সটা। এটারই দাম অন্তত হাজার দুই টাকা হবে। কাঠের কারুকার্য করা লম্বা ধরনের বাক্সটা অনেকটা গহনার বাক্সর মতো দেখতে। বাক্সটা খুলে অঘোরবাবু ঘড়িটা রাখতে যাচ্ছেন ঠিক তখনই তার মনে হল, বাক্সর নীল মখমলের চাদরের নীচ থেকে কী যেন একটা উঁকি দিচ্ছে। অঘোরবাবু মখমলের কোণটা সরাতেই তার নীচ থেকে বেরিয়ে এল, বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটা ভাঁজ করা কাগজ। সাবধানে কাগজের ভাঁজটা খুললেন তিনি। সম্ভবত সেটা ছিল একটা রাইটং প্যাডের পাতা। হলদেটে হয়ে যাওয়া কাগজে খুদে খুদে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া ইংরেজি হরফগুলো পাঠ করার চেষ্টা করলেন তিনি। আর তা পাঠোদ্ধার করে হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি। আসলে সম্ভবত এটা একটা অসম্পূর্ণ চিঠি ছিল। সালটা লেখা আছে ‘উনিশশো দশ’। চিঠিটা যার উদ্দেশে লেখা তাঁর নাম জোনাথন হলেও লেখকের কোনো নাম নেই। সম্ভবত লেখক চিঠিটা শেষ করেননি বা করতে পারেননি। চিঠির প্রথম ক-টা লাইন অস্পষ্টতার জন্য পাঠ করা যাচ্ছে না। কিন্তু তার পর লেখা,—”ঘড়িটা এখন আমার সামনেই রাইটিং ডেস্কের ওপর রাখা। এক চরম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে আমি এখন আছি। তুমি বলেছিলে—ডাকাতরা লন্ডনে এক রাজপথে রাত্রিবেলায় এই ঘড়িটা ছিনতাই করার সময়ই যাদুকর ফিলিপ আর তার কুকুরটাকে হত্যা করে। আর তার পর থেকেই নাকি সেই যাদুকর তাঁর কুকুরটাকে নিয়ে এই ঘড়িটাকে অনুসরণ করে। মৃত্যুর পরও তাঁর প্রিয় ঘড়ির মায়া কাটাতে পারেননি তিনি! এ ঘড়ি যার কাছে যায়, ঘড়িটা চালু করার আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে তিনবার মৃত্যু এসে উপস্থিত হয় তার সামনে। প্রথম দু-বার মৃত্যু তার কাছে এসে সতর্ক করে দিয়ে যায়। সে আসার ঠিক আগের মুহূর্তে তীব্র টিকটিক শব্দে তার আগমনবার্তা জানান দেয় ঘড়িটা। আর তৃতীয়বার মৃত্যু নির্মম আঘাত হানে। এর আগে যাদের কাছে ঘড়িটা ছিল তারা কেউই আটচল্লিশ ঘন্টার বেশি ঘড়িটা চালিয়ে রাখতে পারেনি। যাদুকরের আত্মা কাউকে ভোগ করতে দেয় না এ ঘড়ি! জোনাথন, তোমার কথা আমি সেদিন বিশ্বাস করিনি। এখনও যে পুরোপুরি বিশ্বাস করছি তা নয়। গত পরশু রাত দশটায় এ ঘড়ি চালু করেছি আমি। কাকতালীয় ভাবেই তোমার কথা মিলতে শুরু করেছে। গতকাল দুপুরে আমার গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করল, আর আজ সকালে বাড়ির সামনেই হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ল আমার গা ঘেসে। দু-বারই আমি অল্পের জন্য মৃত্যুর থেকে রক্ষা পেয়েছি। আর কী আশ্চর্য, ঘটনা দুটো ঘটার ঠিক আগের মুহূর্তেই আমি শুনেছি আমার পকেটে ঘড়ির তীব্র টিকটিক শব্দ! আর আমার সোফার নাকি গতকাল রাতে আমার বাড়ির কম্পাউন্ডে একজন লোক আর তাঁর সাথে একটা কুকুরকে দেখেছে। এখন রাত দশটা বাজতে পাঁচ। অর্থাৎ আটচল্লিশ ঘন্টা হতে আর পাঁচ মিনিট বাকি। তোমার কথা সত্যি হয় তাহলে”…। এখানেই শেষ হয়ে গেছে।

    লেখাটা পড়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন অঘোরবাবু। এতে যা লেখা আছে তা কি সত্যি? সত্যি না-হলে ব্যাপারটা তার সাথেও মিলছে কীভাবে? ঘড়িটা চালু করার পর অঘোরবাবুও তো নিশ্চিত দু-বার মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আর দু-বারই ঘটনা ঘটার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনিও শুনতে পেয়েছেন তীব্র টিকটিক শব্দ। এ সবই কী কাকতালীয়? ঘড়িতে এখন ছ-টা বাজতে চলেছে। ব্যাপারটা যদি সত্যি হয় তাহলে আর এক ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু এসে হানা দেবে চূড়ান্ত আঘাত করার জন্য। ব্যাপারটা যেমন ঠিক তাঁর পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছে না, তেমন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    সময় যত এগোতে লাগল ভিতরে তত উত্তেজিত হতে লাগলেন তিনি। আরও একটা ছন্দবদ্ধ শব্দ শুনতে পেলেন তিনি। সেটা তাঁর হৃৎপিণ্ডের শব্দ! হঠাৎ তাঁর খেয়াল হল, ‘আরে, ঘড়িটাকে বন্ধ করলেই তো এই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচাল থেকে মুক্তি পাওয়া যায়!’ অঘোরবাবু চেষ্টা করলেন ঘড়িটা বন্ধ করার। কিন্তু কিছুতেই ঘড়িটা বন্ধ হল না। এবার বেশ ভয় পেয়ে গেলেন তিনি। কী করা যায় ঘড়িটা নিয়ে? ঘড়িটাকে তিন ফেলে দেবেন? এর পরক্ষণেই তার একটা বুদ্ধি এল মাথায়। তিনি টেলিফোনের কাছে উঠে গিয়ে ডায়াল করলেন একটা নির্দিষ্ট নম্বরে।

    ফোনটা রিসিভ করলেন গণেশ লাখোটিয়াই। অঘোরবাবু তার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘শুনুন মশাই, যা হবার তা হয়ে গেছে আমি আপনার ছেলেকে মাফ করে দিয়েছি। আর আমি ঠিক করেছি ঘড়িটা ওকেই দেব। আমি আজই বাইরে চলে যাব। আপনি এখনই, আধ ঘন্টার মধ্যে কাউকে পাঠিয়ে ঘড়িটা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করুন। হ্যাঁ, আধ ঘন্টার মধ্যেই। লাখোটিয়া অবাক হয়ে বললেন, ‘কী বলছেন আপনি! আমিতো বিশ্বাসই করতে পারছি না! কাউকে আমি এখনই পাঠাচ্ছি। কিন্তু আপনি সত্যি বলছেন তো? আর টাকাপয়সা কী দিতে হবে যদি দয়া করে বলেন?’

    অঘোরবাবু বললেন, ‘ওসব কথা পরে হবে। আপনি এখনই কাউকে পাঠান। আমার হাতে সময় একদম নেই।’ লাখোটিয়া বললেন, ‘ঠিক আছে এখনই কেউ যাচ্ছে আপনার কাছে’।

    ফোন রেখে প্রতীক্ষা শুরু করলেন অঘোরবাবু। ঘড়ির কাঁটা যত এগোতে লাগল উৎকণ্ঠা তত বাড়তে লাগল তার। যেন মনে হতে লাগল এখনই যেন কিছু ঘটে যাবে। ঘড়িতে তখন পৌনে সাতটা বাজে, উৎকণ্ঠা তখন চরমে। ঠিক সেই সময় অঘোরবাবু দেখলেন একটা বাইক নিয়ে অর্জুন এসে দাঁড়াল তার বাড়ির সামনে। ঘড়িটা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি নীচে নেমে এলেন। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে অর্জুন মাথা নীচু করে বলল, ‘আমাকে আপনি মাফ করে দিন আঙ্কেল।’ অর্জুনকে আর কথা বাড়াতে না-দিয়ে অঘোরবাবু ঘড়িটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে তুমি এটা নিয়ে এখন যাও। পরে একদিন এসো। তখন কথা হবে।’ এই বলে ওপরে ওঠার জন্য পা বাড়ালেন। অর্জুন লাখোটিয়া যখন অঘোরবাবুর বাড়ি থেকে ঘড়িটা পকেটে নিয়ে তার বাইক স্টার্ট করল, তখন ঘড়িতে সাতটা বাজতে পাঁচ। ঠিক তখনই ঝুপ করে সন্ধ্যা নামল।

    অর্জুন লাখোটিয়া ঘড়িটা নিয়ে চলে যাবার পর নিজের ঘরে ফিরে বেশ স্বস্তি বোধ করলেন অঘোরবাবু। কিছুক্ষণের মধ্যেই টাইগারকে নিয়ে ফিরে এল শিউসরণ। দু-দিন বাদে টাইগার আবার উঠে এল অঘোরবাবুর ঘরে। বেশ চনমনে দেখাচ্ছে তাকে। সে ল্যাজ নাড়তে লাগল। সারাদিন আজ বাড়িতেই ছিলেন অঘোরবাবু। তিনি টিভি খুলে বসলেন সারাদিনের খবর শোনার জন্য। রাত ন-টা নাগাদ টিভির পর্দাতেই তিনি খবরটা প্রথমে পেলেন—’আজ সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ টালা ব্রিজের কাছে পথ দুর্ঘটনায় অর্জুন লাখোটিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে মৃত্যুর আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্বন্ধে সে জানিয়েছে যে দ্রুতগামী বাইকের সামনে হঠাৎই নাকি বিরাটাকার এক কুকুর এসে পড়ায় এই দুর্ঘটনা। নিহত অর্জুন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গণেশ লাখোটিয়ার একমাত্র পুত্র।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }