Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি নতুন ভূত – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প282 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নরকের চলচ্চিত্র – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    ডিয়ার মিস্টার রাজশেখর, অ্যাডভান্সড অ্যানিমেটরস-এর ডিরেক্টর হিসেবে আপনার সমস্ত অভিযোগ মেনে নেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। সত্যিই আপনার কাজ শেষ করতে আমাদের অস্বাভাবিক দেরি হয়ে গেল। বুঝতে পারছি, যেহেতু এই কাজটুকু আপনার আগামী সিনেমা ‘অন্তিমযাত্রা’-র অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই আমাদের জন্যে সেই সিনেমাও আপনি শেষ করতে পারছেন না। আমি সত্যিই আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

    হয়তো এইটুকু লিখেই এই চিঠি শেষ করে দেওয়া যেত, তাতে ব্যবসায়িক সৌজন্যও রক্ষিত হত। কিন্তু আমার বিবেক আমাকে এমন কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। আমার মন বলছে ‘অন্তিম যাত্রা’-র অ্যানিমেশনের কাজ করতে গিয়ে যে অপ্রাকৃত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমি গিয়েছি তা আপনাকে খোলাখুলি জানিয়ে রাখাই উচিত। কী জানি কেন, আমার কেবলই মনে হচ্ছে সেই অলৌকিক ঘটনার জের এখনো শেষ হয়নি। হয়তো আমার ঘর ছেড়ে সেই দুর্ভাগ্য, সেই দুঃস্বপ্ন এবার আপনার ঘরে ঢুকবে।

    সিনেমা পরিচালক হিসেবে আপনার খ্যাতি আমার অজানা ছিল না, বিশেষত হরর ফিলম বা ভয়ের ছবির পরিচালক হিসেবে। জানতাম, এ ব্যাপারে আপনার প্রথম দুটো সিনেমা হলিউডের সঙ্গে টেক্কা দিয়েছে। সারা দুনিয়া একবাক্যে স্বীকার করেছে—এই কলকাতায় বসে, টালিগঞ্জের স্টুডিয়োগুলোর সামান্য কারিগরী কৌশল ব্যবহার করে আপনি যে বিশ্বমানের ছবি তৈরি করেছেন তা প্রতিভা ছাড়া হয় না। আর সেই জন্যেই, আপনার আগামী ছবির কিছু বিশেষ দৃশ্যের অ্যানিমেশন করে দেওয়ার জন্যে আপনি যখন আমাকে প্রথম অনুরোধ করলেন তখন আমি ভীষণই গর্বিত বোধ করেছিলাম। একজন প্রতিভাবানের কাছ থেকে কাজের স্বীকৃতি পাওয়া তো যে কারুর পক্ষেই ভাগ্যের ব্যাপার। আপনি আমাদের কী পারিশ্রমিক দিচ্ছেন সেটা আমার কাছে গৌণ ছিল। আসল লক্ষ্য ছিল একটা চ্যালেঞ্জিং কাজকে সফলভাবে রূপায়ণ করার যে আনন্দ, সেই আনন্দটুকু পাওয়া।

    হ্যাঁ, আপনি যে কাজটা আমাদের দিয়েছিলেন তা ছিল চ্যালেঞ্জিং, ভীষণই চ্যালেঞ্জিং। আপনি চেয়েছিলেন নরকের একটা বিশ্বাসযোগ্য চলমান ছবি আমরা আপনাকে বানিয়ে দিই। সেই ছবি আপনার মূল কাহিনিতে আপনি ব্যবহার করবেন।

    আপনি যে ধরনের দৃশ্য কল্পনা করেছিলেন, আজ থেকে পনেরো বছর আগেও সে দৃশ্যের কথা কোনো পরিচালক কল্পনা করতে সাহস পেতেন না। কারণ স্টুডিয়োতে অমন দৃশ্য বানানো যেত না, তা সে যত আধুনিক স্টুডিয়োই হোক না।

    আজ কিন্তু বানানো যায়; স্টুডিয়োয় নয়, কম্পিউটারের স্ক্রিনে। যেসব অসম্ভব দৃশ্য স্টুডিয়োর ফ্লোরে তৈরি করা যায় না, তারা রূপ পায় আমাদের মতন অ্যানিমেটরদের মাউসের ক্লিকে। গর্জমান ডায়নোসর থেকে নিমজ্জমান টাইটানিক—সবই এই অ্যানিমেটরদের কারিকুরি।

    সেইজন্যেই পনেরো বছর আগে যে দৃশ্যের স্বপ্ন দেখা যেত না, আজ তা যায়। যেমন আপনি দেখেছিলেন।

    আপনি আমাদের বানিয়ে দিতে বলেছিলেন লেলিহান আগুনের চলচ্চিত্র। আপনি চেয়েছিলেন সেই আগুনের মধ্যে অগণিত ছায়ামূর্তি। সেই আগুনের রং যেন পৃথিবীর কোনো আগুনের মতন না-হয়। সেইসব ছায়ামূর্তির মধ্যে যেন যন্ত্রণার ছাপ থাকে। এমন আরো অনেক কিছুই আপনি চেয়েছিলেন আমাদের কাছে। তবে সবশেষে আপনি পুরো ব্যাপারটাই আমাদের ওপরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। আপনি বলেছিলেন সব মিলিয়ে যেন নরকের একটা বিশ্বাসযোগ্য ছবি ফুটে ওঠে আপনার সিনেমার মধ্যে।

    আর আমি পুরো কাজের দায়িত্বটা ছেড়ে দিয়েছিলাম অনির্বাণের ওপর। অনির্বাণ মজুমদার, আমার সব থেকে কমবয়েসি সহকর্মী। কিন্তু সব থেকে প্রতিভাবান।

    দু-বছর আগে, মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে সিলিকন ভ্যালির একটা কলেজ থেকে অ্যানিমেশনে ডিগ্রি নিয়ে এসে আমাদের কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিল অনির্বাণ।

    আমাদের এই অ্যাডভান্সড অ্যানিমেটরস-এর ছাদের তলাতেই ওর চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ কর্মী আছেন। তারা টেকনিকাল দিক থেকে হয়তো অনির্বাণের চেয়ে বেশি দক্ষ, কিন্তু এই দু-বছরে অনির্বাণ তাদের সকলকে টেক্কা দিয়েছে একটা জায়গাতেই। কল্পনাশক্তিতে।

    কোনোকিছু নিখুঁতভাবে কপি করতে বললে ও পারত না। রেগে যেত। কিন্তু নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে বললে ও ভীষণ খুশি হত। তখন ওর মনোযোগ দেখে কে! আর ওর প্রতিটা অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার পরে আমরা সকলে এক বাক্যে স্বীকার করেছি, এমন অরিজিন্যাল কাজ এ দেশে বিরল। ওর এমন কিছু কাজের দৌলতে ‘অ্যাডভান্সড অ্যানিমেটরসকে আই টি দুনিয়ার রথী-মহারথীরাও সম্মান করতে শুরু করেছিল।

    তো, সেই অনির্বাণ মজুমদারকেই আমি নরকের চলচ্চিত্র বানানোর দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সেটাই তো স্বাভাবিক, তাই না? এই কাজটায় তো কল্পনাশক্তিই লাগত। নরক সম্বন্ধে তো আর কারুর চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা নেই।

    অনির্বাণ কিন্তু তা বিশ্বাস করত না।

    কাজটা হাতে পাওয়ার পরেই অনির্বাণ বইয়ের মধ্যে ডুবে গেল। নানা রকমের বই। লাইব্রেরি থেকে নিয়ে আসা চামড়ায় বাঁধানো মোটা মোটা বই, কলেজ স্ট্রিটের পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে আনা বৃষ্টির ছিটে লাগা হলুদ পাতার বই, ক্ষীণজীবী সাময়িক পত্রপত্রিকা, আর সর্বোপরি ই-বুক তো ছিলই। অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ার পরেও বহুক্ষণ ও নিজের কিউবিকলে ঘাড় গুঁজে বসে বই পড়ত। তখন শুনশান অফিসে থাকতাম খালি আমরা দুজন—আমি আর অনির্বাণ।

    অ্যাসাইনমেন্টটা ওকে দেওয়ার মাস দুয়েক বাদে, এরকমই এক জনশূন্য সন্ধ্যাবেলায় অনির্বাণ তার সমস্ত বইপত্র সরিয়ে রেখে আমার চেম্বারে ঢুকল। ওকে দেখে আমার খুব অস্বাভাবিক লাগছিল। চোখ দুটো যেন কেমন ঘোর লাগা। আমি বললাম, বসো অনির্বাণ। কিছু বলবে?

    হ্যাঁ, একটাই কথা বলব বলে এলাম। আমার বিশ্বাস নরক ব্যাপারটা কাল্পনিক নয়। রূপক তো নয়ই। সত্যিকারেই নরক রয়েছে, যেমন রয়েছে এই কলকাতা।

    ছোটোবেলা থেকেই শুনে আসছি বেশি পড়াশোনা করলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। আমার ঘোর সন্দেহ হল, অনির্বাণের তাই হয়েছে। তবু বহু বছর ধরে অফিস চালাচ্ছি তো, তাই মনের কথা বেমালুম মনে চেপে রেখে বললাম, কেমন করে বুঝলে?

    সে তো এককথায় আপনাকে বোঝাতে পারব না। তবে পৃথিবীর সমস্ত ভাষার মহাকাব্য, লোককথা, উপকথায় অদ্ভুতভাবে একেবারে একইরকম ছবি আঁকা হয়েছে নরকের। এটা কেমন করে সম্ভব, যদি না একটাই মডেল থাকে আঁকার জন্যে?

    আমি তর্ক করতে পারতাম। বলতে পারতাম পৃথিবীর সব মানুষেরই মৃত্যুর পরের অবস্থা নিয়ে একটা ভয় আছে। সেই ভয়টাই অমন ভয়ংকর ছবি হয়ে দেখা দেয় তাদের লেখায় কিংবা আঁকায়। ভয়টা যেহেতু একরকম, তাই ভয়ের ছবিগুলোও একরকম। কিন্তু তা না-করে আমি অনির্বাণকে বললাম, বাঃ! এতে তো তোমার কাজ সহজ হয়ে গেল। তোমাকে আর কল্পনাশক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে না। ওইসব লেখায় যেমন বর্ণনা পাচ্ছ তেমন করেই অ্যানিমেশন ফিলমটা বানিয়ে দাও না মিস্টার রাজশেখরের জন্যে।

    উঁহু। বেশ জোরে ঘাড় নাড়ল অনির্বাণ। এত জল মিশেছে না ও সব লেখায়। জল না-বলে রং বলাই ভালো। বহুবছর আগে লেখা মহাকাব্য কিংবা উপকথাগুলোয় পরের যুগের মানুষ যখনই পেরেছে একটু করে রং চড়িয়েছে। নানা যুগের নানা রকম মিথ্যে গল্প ঢুকতে ঢুকতে মূল গল্পটাকেই আর চেনা যাচ্ছে না। আমি যদি এখন ‘অন্ধকারে চৌরাশিটা নরকের কুণ্ড, তাহাতে ডুবায় ধরে পাতকীয় মুণ্ড’—এই বর্ণনা অনুযায়ী নরকের ফিলম বানাই, তাহলে সে ফিলম দেখে আপনি ভয় পাবেন না হেসে ফেলবেন? হতাশা আর বিরক্তি একই সঙ্গে ঝরে পড়ছিল ওর গলা থেকে।

    তাহলে? এবার আমিও সত্যি করেই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। আমি কাজের মানুষ। নরক আছে কী নেই তাতে আমার বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই। আমার মাথায় শুধু ঘুরছে আপনার তাগাদার ফোন আর চিঠিগুলো। অনির্বাণ কাজটা এখনো শুরুই করল না, শেষ করবে কবে? তাই আবারও বললাম তাহলে কী করবে ভাবছ বলো তো।

    একবার যদি নিজের চোখে দেখতে পারতাম মৃত্যুর পরের সেই দেশটা!—প্রায় স্বগতোক্তির মতন মৃদুস্বরে বলল অনির্বাণ। আমি মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করে বললাম, তোমার নামটা তাহলে অনির্বাণ থেকে পালটে নচিকেতা করে দিতাম। বেশ রাগ হয়ে গিয়েছিল আমরা একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের এমন বাচ্চাদের মতন আইডিয়া দেখে। তাই এবারে বেশ কড়া সুরেই বললাম, তুমি যাই করো অনির্বাণ, মিস্টার রাজশেখরের কাজটা কিন্তু আমাকে আর একমাসের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। তার বেশি সময় তোমাকে আমি দিতে পারব না।

    মাত্র একমাস! স্পষ্টতই হতাশ হল সে।

    আমার রাগ হচ্ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে মায়াও হচ্ছিল ওর জন্যে। বেশ বুঝতে পারছিলাম—যে জিনিসকে একবার বাস্তব বলে ভেবে ফেলেছে ও, তাকে আর কল্পনায় ধরতে ওর মন চাইছে না। এই দোটানায় পড়ে কষ্ট পাচ্ছে ছেলেটা। কী করবে ও কে জানে! কিন্তু আমাকেও তো কাজটা শেষ করাতে হবে। আর দু-একদিন দেখে অন্য কারুর কাছে ট্রান্সফার করে দেব তাহলে অ্যাসাইনমেন্টটা, এরকমই ভেবেছিলাম। কিন্তু সে-সময় আর পেলাম না।

    ঠিক দু-দিন বাদে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে অনির্বাণের গাড়ি কোনা-এক্সপ্রেসওয়ের ওপর একটা উঁচু ব্রিজের ওপর থেকে নীচে পড়ে গেল।

    পড়ে গেল? নাকি অনির্বাণ নিজেই নিজেকে ছুড়ে দিল অতল শূন্যতার বুকে? আজ আমার সন্দেহ হয়, দ্বিতীয়টাই ঠিক। ও মৃত্যুর পরের দেশ দেখতে গিয়েছিল।

    হ্যাঁ, সেই দুর্ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় অনির্বাণের।

    মিস্টার রাজশেখর, বুঝতে পারছি আপনার ধৈর্যচ্যুতি হচ্ছে। তবে আমি আর বেশি সময় নেব না।

    অনির্বাণের মৃত্যুর ঠিক দু-দিন পরের ঘটনা। মানে আজ থেকে ঠিক পনেরো দিন আগে। তারিখটা ছিল আঠারোই জানুয়ারি। সেই রাতে যেমন শীত পড়েছিল, তেমন শীত কলকাতায় অন্তত আমি কখনো পাইনি। তীব্র ঠান্ডায় কুঁকড়ে নিথর হয়ে গিয়েছিল পুরো শহর। তারই মধ্যে আমার সেলফোনটা বেজে উঠল। ঘুম জড়ানো চোখে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম আলোকিত স্ক্রিনের ওপর ফুটে ওঠা ঘড়ি সময় দেখাচ্ছে রাত দুটো। যে নামটা ফুটে উঠেছে সেটাও আমার খুব পরিচিত। মিস্টার আহুজা। নিউ আলিপুরে রাস্তার যে পাশে আমাদের ‘অ্যাডভান্সড অ্যানিমেটরস’-এর অফিস, তার ঠিক উলটোদিকেই মিস্টার আহুজার বাড়ি। কিন্তু এত রাতে তার ফোন কেন!

    ভারি অবাক হয়ে বললাম, বলুন মিস্টার আহুজা।

    মিস্টার প্রধান, শান্ত ভাবে শুনুন। ডোন্ট গেট প্যানিকড। আপনার অফিসে আগুন লেগেছে। আমি আপনাকে ফোন করার আগে ফায়ার-ব্রিগেডে খবর দিয়ে দিয়েছি। ইনফ্যাক্ট দে হ্যাভ অ্যরাইভড অ্যান্ড ডাউজড দা ফায়ার। আগুন নিভিয়ে ফেলেছে। তবু আপনার একবার আসা উচিত মনে হয়।

    এক্ষুণি আসছি আমি। আর আপনাকে কী বলে ধন্যবাদ জানাব…

    ও সব পরে হবে। আপনি চলে তো আসুন আগে।

    গ্যারেজ থেকে গাড়ি বার করে আমার সল্টলেকের বাড়ি থেকে নিউ আলিপুরে যতক্ষণে পৌঁছোলাম ততক্ষণে আগুন পুরোটাই নিভে গেছে। অফিসঘর জলে থই থই করছে। কিন্তু তা ছাড়া, দেখে আস্বস্ত হলাম, ক্ষতি প্রায় কিছুই হয়নি। এবং তার জন্যে পুরো কৃতিত্বটাই প্রাপ্য মিস্টার আহুজার। উনি যদি অত তাড়াতাড়ি দমকলে খবর না-দিতেন তাহলে অনেক কিছুই আগুনের গ্রাসে হারিয়ে যেত।

    দমকলের লোকেরা যখন বিদায় নিল তখন ভোরের আলো ফুটি ফুটি করছে। ক্লান্ত শরীর এবং বিধবস্ত মন নিয়ে মিস্টার আহুজার ফ্ল্যাটেই গিয়ে বসলাম। ওনার কাজের লোক আমাদের দুজনের জন্যেই ধূমায়িত চায়ের কাপ রেখে গেল। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মিস্টার আহুজা যা বললেন তা শুনে আমি চমকে উঠলাম। উনি বললেন আপনার স্টাফেদের মধ্যে কেউ কি রাতে অফিসে থেকে গিয়েছিল, মিস্টার প্রধান?

    না তো, কেন এ কথা জিজ্ঞেস করছেন?

    না, মানে আমি তো অনিদ্রারোগী। রোজকার মতনই জানলার ধারে বসে বই পড়ছিলাম। তার মধ্যেই একবার চোখ তুলে দেখি আপনার অফিসের ভেতর একটা ছায়ামূর্তি চলাফেরা করছে। একটা কিউবিকলে আলো জ্বলছিল। সেই আলোর সামনে ঝুঁকে বসে কিছু করছিল লোকটা। মাঝে মাঝে আবার জানলার ধারে এসে তাকাচ্ছিল আকাশের দিকে। যেন ওই রাতের আকাশে কিছু একটা ফুটে উঠবে এক্ষুণি।

    আমি ভেবেছিলাম আপনার কোনো স্টাফ ওভারটাইম কাজ করছে বুঝি। একটু পরে আলোটা নিভে গেল আর তার কিছুক্ষণ পরেই আগুনের প্রথম হলকাটা দেখতে পেলাম। আমি আর দেরি করিনি। কিন্তু…কিন্তু….তাহলে কি কেউ স্যাবোটেজ করল আপনার অফিসে!

    আমি বললাম, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না মিস্টার আহুজা। আমার এত বড়ো শত্রু কেউ আছে বলে তো জানি না। তা ছাড়া দমকলের লোকেরা তো আমার অফিসে ঢোকার কোলাপসিবল গেট, রোলিং শাটার সব বন্ধই পেয়েছিল। ওরা হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে ঢুকেছে। তাহলে ভেতরে লোক আসবে কোত্থেকে?

    না, মানে ধরুন কাল অফিস ছুটির পরে যদি কেউ লুকিয়ে বসে থাকে…

    অসম্ভব। আমার দীর্ঘদিনের অভ্যেস সবার শেষে অফিস থেকে বেরোনো, এবং তার আগে পুরো অফিস তন্ন তন্ন করে দেখে যাওয়া। প্রতিটি কম্পিউটার সাট-ডাউন করা আছে কিনা তাও দেখে, নিজের হাতে তালা লাগিয়ে অফিস থেকে বেরোই। কালকেও তাই করেছি।

    তবে কি আমিই ভুল দেখলাম? হতে পারে। বয়েস হচ্ছে। বিমর্ষ স্বরে বললেন মিস্টার আহুজা।

    না, মিস্টার আহুজা ভুল দেখেননি।

    পরের দিন অফিস পরিষ্কার করে নতুনভাবে কাজ শুরু করলাম আমরা। আমার নিজস্ব কম্পিউটারটা একেবারেই আমার নিজস্ব পাস ওয়ার্ড দিয়ে খুললাম, এবং খুলেই দেখলাম একটা নতুন আইকন জ্বলজ্বল করছে আমার ডেস্কটপে। তার নাম…’নরকের চলচ্চিত্র’।

    হ্যাঁ, মিস্টার রাজশেখর। প্রায় আধঘন্টার একটা ভিডিয়ো ক্লিপিংকে ওই নামেই আমার কম্পিউটারে ডাউনলোড করে দিয়ে গিয়েছিল কেউ। না, এমন অস্পষ্ট ভাষায় বলার প্রয়োজন নেই। বলছি যখন তখন আমার ধারণাটা খুলেই বলি, তাতে আপনি যদি আমাকে উন্মাদ ভাবেন তাতে আমার কিছু করার নেই। ওই ছবি আমার কম্পিউটারে ডাউনলোড করে দিয়ে গিয়েছিল অনির্বাণ। মৃত্যুর দেশ থেকে ফিরে এসে।

    আমি, কেবল আমিই আমার কম্পিউটারের মনিটরে চালিয়ে দেখেছি সেই চলচ্চিত্র।

    ওই চলচ্চিত্র এ জগতের নয়। আগুনের অমন রং আমরা পৃথিবীর মানুষেরা কোনোদিন দেখিনি। সেই আগুনের মধ্যে আছাড়িপিছাড়ি খাচ্ছে যে জীবগুলো তারাও এই জগতের কেউ নয়। অত যন্ত্রণাবিকৃত মুখ পৃথিবীর মানুষের হতে পারে না।

    এই চিঠি যার হাত দিয়ে পাঠাচ্ছি তার হাতেই ওই ভিডিয়ো আমি একটা সিডি বন্দি করে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিলাম। আমার নিজের কাছে ওই ভয়ংকর দৃশ্যের আর কোনো কপি রাখলাম না।

    আপনি ভিডিয়োটা নিজে দেখুন। দেখে আপনি স্থির করুন ওই ছবি আপনার সিনেমায় জুড়বেন কিনা। যদি আমার পরামর্শ নেন, তাহলে বলি জুড়বেন না। মৃত্যুর পরের জগতে উঁকি মারার অধিকার বোধহয় আমাদের, জীবিত মানুষদের নেই।

    বোধহয় কেন, নিশ্চয়ই নেই। তার প্রমাণ কি জানেন? আমার অফিসের ওই আগুন।

    পরলোক থেকে তার আরব্ধ কাজ শেষ করে যাওয়ার জন্যে এসেছিল অনির্বাণ। করেও ছিল শেষ। জানি না মৃত্যুর পরে কোন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল সে, কিন্তু অমন কোনো অলৌকিক ক্ষমতার জোরেই সে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল নরকের চলমান ছবি। সে ছবি রেখেও গিয়েছিল আমার কম্পিউটারে। কিন্তু ততক্ষণে টনক নড়েছে নরকের প্রহরীদের। তারা ধাওয়া করেছিল অনির্বাণকে। জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিল আমার কম্পিউটারটা। জ্বালিয়ে দিতে পারেনি শুধু দ্রুত দমকলের লোকেরা চলে আসায়।

    কিন্তু ওরা কি চেষ্টা ছেড়ে দেবে? মনে হয় না। সেইজন্যেই আবার বলছি, আপনি সাবধানে থাকবেন।

    নমস্কারান্তে—

    সুধাময় প্রধান

    ডিরেক্টর, অ্যাডভান্সড অ্যানিমেটরস

    3 ফেব্রুয়ারি 2011

    দৈনিক পূর্বদিগন্ত

    4 ফেব্রুয়ারি, 2011 নিজস্ব সংবাদদাতা : গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় বাংলা ছবির পরিচালক রাজশেখর সিনহা, প্রচারমাধ্যমে যিনি এস রাজশেখর নামেই পরিচিত ছিলেন।

    ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কথায় জানা যাচ্ছে যে, তিনি নিজের ঘরে বসে কম্পিউটারে কিছু কাজ করছিলেন। এইসময়েই সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে তার কম্পিউটারে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছুঁয়ে যায় রাজকুমারবাবুর শরীর। সাধারণত এমন আগুনের শিখা বেশিদূর ছড়ায় না। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার, এই ঘটনায় আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে রাজকুমারবাবু তার আসন ছেড়ে ওঠবার সময় অবধি পাননি। চেয়ারে বসে থাকা অবস্থাতেই পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় তার সমস্ত শরীর। কম্পিউটার এবং রাজকুমারবাবুকে গ্রাস করে সেই আগুন যেমন হঠাৎ জ্বলে উঠেছিল, তেমন হঠাৎই নিভেও যায়।

    রাজশেখরবাবুর মৃত্যুতে অসমাপ্ত রয়ে গেল তার নির্মীয়মান ছবি ‘অন্তিম যাত্রা’।…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }