Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি নতুন ভূত – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প282 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এ কী আজব গল্প – শৈলেন ঘোষ

    আমি তোতা। আমার নাম শুনে হাসছ না কি? ভাবছ নাকি? আমি পাখি? না, না, আমি পাখি নই। আমি তোমাদেরই মতো, তোমাদেরই এক বন্ধু। আমি তোমাদেরই মতো ইস্কুলে পড়ি। বাড়িতে আমার মা আছেন, বাবা আছেন। আর আমি তো আছিই। মা ঘর-সংসার সামলান। বাবা ইস্কুলে পড়ান। আমি ওই ইস্কুলেরই ক্লাস এইটের ছাত্র। বাবা ইস্কুলে অঙ্ক শেখান। বুঝতেই পারছ বাবা খুব ভালো অঙ্ক জানেন। কিন্তু মজার কথা কী, আমার সব ভালো, ওই অঙ্কতেই যত আতঙ্ক। তার মানে এই নয়, আমি অঙ্ক বুঝি একেবারেই পারি না। পারি। কিন্তু বাবা যা চান ততটা আমি পারি না। সে আর কী করা! বাবা সেটা ভালোই জানেন। তাই চাপও বেশি দেন না। এমনকী আমার ওপর রাগও করেন না। আশ্চর্য কী, আমি বাবাকে কোনোদিনই কারও ওপর রাগ করতে দেখিনি। বাবা রাগতে জানেন না। তা-ই ইস্কুলে মাস্টারমশায়রা যেমন বাবাকে খুব পছন্দ করেন, তেমনই ছাত্ররাও ভালোবাসে। ছাত্ররা তো ভালোবাসবেই। কেন-না, বাবা প্রথমেই ক্লাসে ঢুকে চক-খড়ি দিয়ে বোর্ডে নানান সংখ্যা লিখে অঙ্কের ধাঁধায় কারও মনকে হারিয়ে যেতে দেন না। হ্যাঁ, তিনি অঙ্কও শেখান, তার সঙ্গে গল্পও বলেন। বাবা যে কত গল্প জানেন আমি শুনতে শুনতে হাঁ হয়ে যাই। আমি বাবার কাছেই শুনেছি, এই যে আমরা আজ এতসব ভোগের রসদ পাচ্ছি, এই যেমন ধরো টেলিভিশন থেকে হালফিল ফেসবুক পর্যন্ত, কিংবা ধরো ওয়াশিং মেশিন থেকে রেফ্রিজারেটার, অথবা রকেট ছুড়ে অন্য গ্রহের খবর সংগ্রহ, এর খুঁটিনাটি যন্ত্রপাতি বানাবার বুদ্ধিটা মানুষের মাথায় আসছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো গড়ছে কে? আমাদের হাত। আমাদের দু-হাতের দশটা আঙুল।

    বটেই তো, তোমার শরীরে সব ঠিকঠাক আছে, অথচ দুটো হাত নেই! হাতের দশটা আঙুল নেই! কী হত তখন! ভাবলে ভয়ে ছমছম করে ওঠে বুকের ধুকধুকি। আরে বাবা মেশিন কি আর আঙুলের কাজ করতে পারে? তোমার বই-এর পাতা ওলটাবে কে? হাতের আঙুল। পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার কলম ধরবে কে? হাতের আঙুল। কম্পিউটারের মাউস ঘোরাবে কে? হাতের আঙুল। তোমার পিঠ সুড়সুড় করছে, কে চুলকোবে? সে-ও হাতের আঙুল। হাত আর হাতের আঙুল ছাড়া তোমার মুখে কি খাবারই উঠত?

    যাকগে যাক, এসব কথা ছাড়ান দাও! বাবার মনে এমনতর আরও কত যে গল্প জমা হয়ে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। সে-সব গল্প বলতে গেলে আসলে আমার নিজের গল্পটাই বলা হবে না। সে এক সাংঘাতিক ঘটনা। সেই গল্পটাই বলি এবার।

    সেই ছোট্টবেলা থেকে বাবা আমায় সঙ্গে নিয়ে ইস্কুলে যেতেন। তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। ছোটো ছিলুম বলে ছুটির পর ইস্কুল থেকে ফিরতুম বাবার সঙ্গে। এখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। বাবার সঙ্গে ইস্কুলে যাওয়ার সেই অভ্যেসটা এখন চালু আছে। তবে বড়ো হয়েছি বলে ইস্কুলের ছুটির পর এখন আর বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরি না। ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে হই-হই করে বাড়ি ফিরি। অবশ্য, এ ব্যাপারে বাবা কোনো আপত্তি করেননি কোনোদিন। হ্যাঁ, আমাদের বাড়ি থেকে ইস্কুলটা একটু দূরে। তবে, এমন নয় যে হাঁটতে হাঁটতে দমছুটে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে হাঁটতে মজাই লাগে। তারপর হাঁটতে হাঁটতে যখন বন্ধুরা যে-যার নিজের বাড়ি পৌঁছে যায়, তখন আমি একেবারে একা হয়ে পড়ি। তখনও আমাদের বাড়ির গলিটার নাগাল পেতে আমাকে আরও মিনিট পাঁচেক মুখ বুজে পা ফেলতে হয়! আমাদের বাড়ির গলিটা বেশ নির্জন। এই বিকেলেও তেমন লোকজন দেখা যায় না। এই গলির মুখ থেকে আমাদের বাড়ি স্পষ্ট দেখা যায়। গলিতে ঢুকেই আমি ছুটি। রোজ ছুটে বাড়ি ফিরতে আমার খুব মজা লাগে। কিন্তু একদিন যে এক ভয়ানক বিপদ আমার জন্যে ওত পেতে লুকিয়েছিল, সেটা আমি ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি।

    রোজ যেমন হয়, সেদিনও তেমন ইস্কুলের ছুটির পর নিয়মমতো বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে বাড়ি ফিরছি। একে একে বন্ধুরাও যে-যার বাড়ির রাস্তা ধরল। আমিও খানিক একলা হেঁটে আমাদের বাড়ির গলির মুখে পৌঁছে গেলুম। ওমা! গলিতে ঢুকতে যাব, হঠাৎ কী হল কে জানে, একটা লোক কোত্থেকে ছুটে এসে আমার নাকের কাছে একটা রুমাল নেড়ে দিল। একটা অসহ্য ঝাঁঝাল গন্ধ আমার নাকে ঢুকতেই—আমি আর কিছু জানি না। মানে, আমি অজ্ঞান হয়ে গেলুম।

    শুনলে অবাক হয়ে যাবে, কেমন করে, কবে কোথায় আমার জ্ঞান ফিরল আমি জানি না। আমি যে-ঘরে বিছানায় শুয়ে আছি, মনে হল, যে যেন আমারই বিছানা। দেওয়ালে যে-ছবিটা টাঙানো, তাতে দেখছি আঁকা একটা বাড়িতে আগুন লেগে দাউ-দাউ করে জ্বলছে। দেখে, আমার কোনো হেলদোলই নেই। আমায় যে একটা লোক আমার নাকে রুমাল ঠেকিয়ে, ঝাঁঝাল গন্ধ শুঁকিয়ে, আমাকে অজ্ঞান করে এখানে নিয়ে এসেছে, সেটা পর্যন্ত আমার মন থেকে উবে গেছে! এমনকী আমাদের যে একটা বাড়ি আছে, বাড়িতে আমার মা-বাবা আছেন, তা-ও আমার মন থেকে বিলকুল মুছে গেছে। আমার চোখে কিছুই উদ্ভট লাগছে না। মনেও কোনো ভয় নেই, চোখেও কোনো জল নেই। ভাবছ নিশ্চয়ই, কী আশ্চর্য! আশ্চর্যই বটে! কেন-না, আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি বেমালুম উঠে বসতে পারলুম। উঠে বসতেই একটা হোঁতকা মতো লোক আমার সামনে এসে আগড়ুম-বাগড়ুম কী যে বকছে, আমি তার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝছি না। অথচ আমি যে তাকে দেখে, তার বকবকানি শুনে ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছি, তেমনও নয়। উলটে আমি সিধেসাপটা তাকে বললুম, বেশ ঘুমিয়েছি।’

    এবার সেই হোঁতকা লোকটা আগড়ুম-বাগড়ুম বকবকানি থামিয়ে স্পষ্ট বাংলায় বলল, ‘উঠে পড়ো। তাড়াতাড়ি মুখ হাত-পা ধুয়ে তৈরি হয়ে নে। যেতে হবে। কী খাবি? কালকের মতো আলুর চপ মুড়ি, না মামলেট-টোস্ট?’

    তোমাদের খুব আশ্চর্য লাগলে আমি আর কী করব! সত্যি বলতে কী, আজ নয়, কালও যে আমার নিয়মমতো ঘুম ভেঙেছিল, কাল যে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমি মুড়ি আলুর চপ খেয়েছি, একদম খেয়াল নেই। আসলে, কাল সারাদিন যে কী করেছি, আর আজ যে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে কোথায় যেতে হবে, তার একবর্ণও আমার জানা নেই। অথচ অবাক কথা, আমি লোকটাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় উত্তর দিলুম, ‘কাল যখন মুড়ি আলুর চপ খেয়েছি, আজ তবে মামলেট-টোস্টই হোক।’

    তো, যেমন কথা, তেমনই মামলেট-টোস্টই খাওয়া হল। এবার কোথায় যাওয়া হবে তা তো জানি না।

    ‘নে, এই প্যান্টটা আর শার্টটা পরে নে।’ লোকটা অন্য আর একটা ঘর থেকে প্যান্ট-শার্টটা নিয়ে এসে আমায় দিলে। দেখে মনে হল নতুন আমি। চটপট পরেও ফেললুম। তারপর লোকটার সঙ্গে রাস্তায় হাঁটা দিলুম। কোন রাস্তায় হাঁটছি, চেনা, না-অচেনা, হাঁটতে হাঁটতে কোথায় যাচ্ছি, এসব নিয়ে কোনো দুর্ভাবনাই আমার মনে চেপে বসল না।

    এরই ফাঁকে হঠাৎ কানে এল ক-টা কুকুরের বেদম চিৎকারের ডাক, ঘেউ-উ, ঘেউ-উ! পেছন ফিরে দেখি, একটা লোক যাচ্ছে, তার কাঁধে একটা বাঁদর বসে। আর তা-ই দেখে একদল কুকুর ঘেউ-উ ঘেউ-উ করে তার পিছু নিয়েছে। দেখে তো আমি হেসে মরি। লোকটার কিন্তু থোড়াই কেয়ার। দিব্যি নির্ভয়ে হেঁটে চলেছে! আমি যে হোঁতকা লোকটার সঙ্গে যাচ্ছিলুম, সে আমায় সাবধান করে বলল, ‘এই, চুপ! চুপ! অমন করে হাসিস না। কুকুরে কামড়ে দেবে!’

    আমি থতোমতো খেয়ে মুখের হাসি থামিয়ে ফেললুম। কিন্তু বুঝতে পারলুম পেটের ভেতর হাসিটা দারুণ কিলবিল করছে। সেই হাসিটাকেই কোনো রকমে পেটের ভেতরই আটকে রেখে এগিয়ে চললুম।

    আর একটুখানি হাঁটতেই কাঁধে-বাঁদর লোকটা একটা গলির পথে ঢুকল, আর আমরা যেমন সিধে পথে হাঁটছিলুম, তেমনই সিধে পথে চললুম। কিন্তু কুকুরগুলো আর লোকটার পিছু-পিছু গলিতে ঢুকল না। গলির মুখে কিছুক্ষণ ঘেউ-উ, ঘেউ-উ করে যে যার নিজের রাস্তা দেখল।

    হোঁতকা লোকটা আমার কাঁধে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তোর খুব মজা লেগেছে না?’

    আমি উত্তর দিলুম, ‘মজা বলে মজা। দেখেছ, বাঁদরটা ওর কাঁধে বসে ল্যাজ দিয়ে গলাটা কেমন জড়িয়ে ধরে এদিক-ওদিক জুলজুল করে তাকাচ্ছিল!’

    লোকটা জিজ্ঞেস করল, ‘বাঁদর দেখলে খুব মজা লাগে না?’

    আমি বললুম, ‘মজা তো লাগেই, তার ওপরে ওদের রকমসকম দেখলে ভীষণ হাসি পায়।’

    সে আবার বলল, ‘কত রকমের জন্তু আছে বল পৃথিবীতে!’

    আমি উত্তর দিলুম, ‘আছেই তো। বাঘ-সিংহ থেকে শুরু করে….আমার কথা শেষ করতে না-দিয়ে, কথার মাঝখানেই সে জিজ্ঞেস করল, ‘পৃথিবীতে এত যে জন্তু, তোর সবচে পছন্দ কোন জন্তু?’

    আমি একনিশ্বাসে উত্তর দিলুম, ‘ঘোড়া।’

    লোকটা একটু অবাকই হল। বলল, ‘সে কী রে! এত থাকতে ঘোড়া!’

    আমি একটু হাসিমাখা মুখে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকলুম।

    লোকটা জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণ—’

    তাকে কথা শেষ করতে না-দিয়ে আমি উত্তর দিলুম, ‘ধুত! ঘোড়ার কাছে ওরা খোঁড়া।’

    লোকটা এবার আমার কথা শুনে হেসে ফেলল। তারপর বলল, ‘ধর, তোকে যদি এখন আমি একটা ঘোড়া উপহার দিই, তুই কী করবি?’

    ‘ঘোড়ার পিঠে বসব। বগল বাজিয়ে এদিক-ওদিক যেদিকে খুশি ছুটে বেড়াব।’

    সে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা, তুই ঘোড়ার নাচ দেখেছিস কোনোদিন?’

    আমি উত্তর দিলুম, ‘তা অবশ্য দেখিনি।’

    ‘দেখবি।’

    ‘দেখালে নিশ্চয়ই দেখব।’

    ‘তবে চ, তোকে ঘোড়ার নাচ দেখিয়ে আনি।’

    আমি বললুম, ‘তাই চলো।’ বলে আনন্দে ডগমগ করতে করতে লোকটার সঙ্গে আমি ঘোড়ার নাচ দেখতে চললুম সেই সিধে রাস্তাটা ধরে।

    তোমাদের বলব কী, সেই হোঁতকা লোকটা যেখানে আমায় নিয়ে এল, সেখানটা দেখে তো আমার আক্কেল গুড়ুম। কী যে এলাহি কাণ্ড চলছে সেখানে, কী বলব! অনেকখানি জায়গা জুড়ে একটা তাঁবু খাটানো। সেটা যেমন উঁচু, তেমনই পেল্লাই। চারপাশে লোক গিজগিজ করছে। সে বলল, ‘চল, ভেতরে যাব।’

    আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘এর ভেতরে ঘোড়ার নাচ হবে?’

    সে বলল, ‘শুধু ঘোড়ার নাচ নয়, ভেতরে আরও অনেক কিছু হবে। সার্কাস হবে, সার্কাস।’

    আমি ক্লাস এইটে পড়ি তখন, এ কথা তোমরা সবাই জানো। বাবা কতবার যে আমায় সার্কাসে নিয়ে গেছেন, সে আর নতুন করে কী বলব। কিন্তু এখন কোন জাদু বলে যে এই হোঁতকা লোকটা আমার মন থেকে সব লোপাট করে দিয়েছে, কে বলবে! তাই সার্কাসের নাম শুনে আমি হাঁদার মতো তার মুখের দিকে তাকালুম। সে আমার হাত ধরে ভেতরে নিয়ে চলল। ভেতর মানে যেখানে সার্কাস হয়, সেখানে নয়। একটা অন্য নিরিবিলি ঘরে। ঘরে ঢুকে দেখি, ছিমছাম পোশাক পরা একজন লোক চেয়ারে বসে টেবিলে কিছু কাগজপত্তর নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। তার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়াতেই, সেই ছিমছাম পোশাক পরা লোকটি চমকে তাকিয়ে হোঁতকা লোকটিকে ডাক দিল, ‘আরে তুমি, এসো এসো!’

    হোঁতকা লোকটা আমায় সঙ্গে নিয়েই ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ‘এই যে, আপনার কথামতো এই ছেলেটিকে নিয়ে এসেছি। ‘ছেলেটি বলছিল, ঘোড়ার পিঠে বসে ছোটাছুটি করতে ওর খুব ভালো লাগে।’

    ‘তাই নাকি! তবে তো ভালোই হল। এই রকমই একটি ছেলের এখন আমার খুব দরকার। যে-ছেলেটি এতদিন ঘোড়ার খেলা দেখাত সে হঠাৎ কাউকে কিছু না-বলে ছেড়েছুড়ে চলে গেছে। আমি পড়েছি বিপদে। আমি এখন ঘোড়ার খেলাই দেখাতে পারছি না। তুমি আমায় বিপদ থেকে বাঁচালে। দেখে তো মনে হচ্ছে, ছেলেটি বেশ চালাক-চতুর। দেখতে শুনতেও ভালো। ঘোড়ার পিঠে দু-চার দিন ট্রেনিং দিলেই অনেকটা রপ্ত করে ফেলবে বলে মনে হয়।’ এই পর্যন্ত বলেই ছিমছাম লোকটি হঠাৎ আমায় জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার নাম কি?’

    আমি একদম ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছি। আসলে, তখন তো আমার নামটা পর্যন্ত আমার মন থেকে মুছে গেছে। চোখের পলকে হোঁতকা লোকটার দিকে তাকাতেই আমার কী মনে হল, আমি বলে ফেললুম, ‘আমার নাম বরবটি।’

    আমার নাম শুনে হোঁতকা আর ছিমছাম দুটো লোকই হেসে গড়িয়ে পড়ল। আমি বোকার মতো ওদের হাসি দেখে নিজেও হাসতে লাগলুম।

    অবশ্য হাসিটা বেশিক্ষণ গড়াল না। ছিমছাম লোকটি হোঁতকা মতন লোকটিকে বলল, ‘ঠিক আছে বাবা। বরবটি এখন এখানে একটু বসুক, তুমি এসো আমার সঙ্গে। আসল কাজটা সেরে ফেলা যাক।’ বলতে বলতে দুটো লোকই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমি একা চুপচাপ বসে রইলুম, আর সার্কাসে যেসব জীবজন্তু খেলা দেখায় তাদের, হট্টগোল শুনতে লাগলুম আমার একবারও মনে হল না, আসল কাজটা কী, কী কাজ সারতে গেল দুজনে!

    তার পরের ঘটনাগুলো খুব সোজা :

    হাসিমুখে দুজনে ফিরে এল একটু পরেই।

    হোঁতকা লোকটা আমায় বলল, ‘সাবধানে থাকিস রে বরবটি। আমি চলি এখন। পরে আবার আসব।’

    সেদিন থেকে ক-দিন নিয়মিত একটা সাদা ঘোড়ার পিঠে আমায় নানান ধরনের খেলা দেখানোর কায়দা শেখানো চলল। সত্যি বলতে কী ঘোড়াটাকে যখন প্রথম দেখি, তখন থেকে এমন ভালো লেগে গেল! কী শান্ত ঘোড়াটা। ঘোড়াটার যেন আমাকেও খুব ভালো লেগে গেছে। কেন না, আমি যখন ওর পিঠে দাঁড়িয়ে খেলা শিখি, আমি বুঝতে পারি বেচারির কষ্ট হচ্ছে, তবুও আমাকে কোনো দিনও লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে ঝটকা মেরে ওর পিঠ থেকে ফেলে দেয়নি। সুতরাং খেলা শিখতে আমার মনে ভয় ছিল না কোনো। কত সহজে শিখে ফেললুম কত শক্ত শক্ত খেলা। সেই খেলাটা কী শক্ত, যেটা বাজনার তালে তালে ঘোড়ার নাচের খেলা। পেছনের দু-পা মাটিতে রেখে নাচে ঘোড়া। সামনের দু-পা শূন্যে। আমি শূন্যের সেই দু-পা মাটি থেকে লাফিয়ে ধরে ডিগবাজি খাই। একটা-দুটো, পাঁচটা-ছ-টা, দশটা পর্যন্ত। তা-ও সেই নাচের বাজনার তালে তালে। ভাবতে পারবে না, কী হাততালি পড়ে তখন!

    এই ভাবেই বেশ চলছিল। ওরা আমার এই ঘোড়ার নাম রেখেছিল ‘কামাল’। কামাল বলেই সবাই ডাকত। আমি ডাকতুম ‘বন্ধু’ বলে। আমি একাই ডাকতুম। বললে বিশ্বাস করবে না, কী গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল আমাদের। আমি যেমন ভালোবাসতুম তাকে, সে-ও তেমনই ভালোবাসত আমায়। আমাকে সামনে না-দেখলে সে খাবারই মুখে দিত না।

    তার পরেই ঘটে গেল সাংঘাতিক ঘটনা।

    সেদিন ছিল ছুটির দিন। ভিড়ের ঠেলায় সার্কাসের গ্যালারি উপচে পড়েছে। এক-একটা খেলা শেষ হচ্ছে, হাততালিতে ফেটে পড়ছে সার্কাসের ঘেরাটোপ। যখন ঘোড়ার নাচের বাজনা বেজে উঠল, আর আমি ঘোড়ার পিঠে চেপে যখন খেলার চত্বরে হাজির হলুম, তখন যদি দর্শকদের আনন্দের ধুম দেখতে, নির্ঘাত ভাবতে, এ যেন খুশির তুফান আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে! প্রথমে যেমন রোজ হয়, সেদিনও তেমন ক-টা খেলা হল ঘোড়ার পিঠে দাঁড়িয়ে। ক-টা খেলা হল, ঘোড়ার পেটে ঝুলে, ঘাড়ে দুলে। তারপরে শুরু হল ঘোড়ার নাচের খেলা। প্রথমে ঘোড়ার চার পায়ে ঝুমুর পরিয়ে দেওয়া হল। ঘোড়া বাজনার তালে তালে চার পা ফেলে, কোমর দুলিয়ে, ঘাড় হেলিয়ে ক-টা মজাদার নাচ দেখাল। তারপর, চারপায়ে নাচতে নাচতে হঠাৎ সামনের দু-পা শূন্যে তুলে ধেই-ধেই করতে লাগল, অমনই আমি ঘোড়ার শূন্যে তোলা দু-পা ধরার জন্যে মেরেছি লাফ। সঙ্গে সঙ্গে মট করে একটা আওয়াজ। আমি ভয়ে চমকে উঠেছি। বুঝতে পারলুম আমার লাফানোটা বেকায়দায় হয়ে গেছে। ফলে আমার শরীরের ভারে ঘোড়ার একটা পা বোধ হয় ভেঙে গেল। আর বলতে, সত্যি তাই। সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়াটা যন্ত্রণায় চিৎকার করে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আমি পড়লুম ছিটকে দশহাত দূরে। তারপর আমি আর কিছু জানি না। জ্ঞান হারালুম। হঠাৎ যখন আমার জ্ঞান ফিরল, দেখে-শুনে আমি আঁতকে উঠেছি। মনে হল, আমি একটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। আমার শরীরের এখানে-ওখানে ব্যান্ডেজ। আমার আশে-পাশে আরও অনেক রুগি বিছানায় শুয়ে। অনেক নার্স এদিক-ওদিক ব্যস্ত পায়ে ঘোরাফেরা করছেন। আমার কেমন যেন সব তালগোল পাকিয়ে গেল। আচমকা আমার বাড়ির কথা সব মনে পড়ে গেল! এখানে আমি কেমন করে এলুম! আমার মা কই? বাবা কই? আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলুম। নার্স ছুটে এসেছেন, ‘কী হয়েছে?’

    আমি তেমনই চিৎকার করে বললুম, ‘আমি বাড়ি যাব।’

    নার্স বললেন, ‘ডাক্তারবাবু ছুটি না-দিলে তুমি বাড়ি যাবে কেমন করে? তোমার যা আঘাত, তাতে এত তাড়াতাড়ি তোমার ছুটি হবে কী করে?’

    আমি নাছোড়বান্দা। নার্সকে জিজ্ঞেস করলুম, ‘কেন লাগল আঘাত? কেমন করে লাগল আমার, আমি তো জানি না।’

    নার্স উত্তর দিলেন, ‘সে কী কথা! সার্কাসে ঘোড়ার খেলা দেখাতে গিয়ে তুমি যে পড়ে গেছলে, তা তোমার খেয়াল নেই? কী সাংঘাতিক ঘটনা! ভগবানের দয়ায় তুমি খুব বেঁচে গেছ। ঘোড়াটাকে তো বাঁচানো যায়নি!’

    নার্সের এই কথা শোনার পর, কী আশ্চর্য, আমি যা একেবারেই ভুলে গেছলুম, একটি একটি করে তার সব মনে পড়ে গেল। মনে পড়ে গেল, ইস্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একটা হোঁতকা মতো লোক আমার নাকের কাছে একটা রুমাল নেড়ে দিতেই তার ঝাঁঝাল গন্ধে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। তারপর আর কিছু জানি না। জ্ঞান ফিরলে একেবারে অন্য মানুষ। সার্কাসে আমি ঘোড়ার খেলা দেখাই। ঘোড়াটা আমার ভীষণ ভালোবাসে। আমিও ভালোবাসি। তাকে বন্ধু বলে ডাকি। হ্যাঁ, কাল সেই দুর্ঘটনাটা ঘটল। আমি বেঁচে গেছি। নার্স বলছেন আমার বন্ধু ঘোড়া বেঁচে নেই। শুনে আমি এখন কান্নায় ভাসছি, আর ভাবছি আমি এখন কেমন করে মা আর বাবার কাছে যাব! তাঁরা না-জানি আমাকে পাগলের মতো খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাচ্ছেন!

    আমি কোথায় এসেছি জানি না। আমাদের বাড়ি কোনদিকে তা-ও আমার জানা নেই। কিন্তু না, আমার আঘাত যতই গুরুতর হোক, ডাক্তারবাবু আমাকে ছুটি না-দিলেও আমি লুকিয়ে পালাব এখান থেকে। কিন্তু কেমন করে! আমি কি উঠে বসতে পারছি! দেখি তো! নার্সের সামনেই আমি উঠে বসার চেষ্টা করলুম। বসতে পারলুম। নার্স একটু ব্যস্ত হয়ে ধমক দিলেন ‘একী করছ? উঠছ কেন?’

    ‘আমি একটু বাথরুমে যাব’, বলে আমি পা বাড়াবার চেষ্টা করলুম মাটিতে পা ফেলার।

    নার্স হন্তদন্ত হয়ে আমাকে ধরে ফেললেন। ততক্ষণে আমার মাটিতে পা পড়ে গেছে। আমি দিব্যি একপা, দু-পা করে হেঁটেও ফেলেছি। বুঝতে পারলুম হাঁটতে আমি পারব। আঘাতটা আমার পায়ে লাগেনি। লেগেছে হাতে আর মাথায়। এই দু-জায়গাতেই ব্যান্ডেজ জড়ানো। আর যা লেগেছে, তার কোথাও কেটেছে, কোথাও ছড়েছে। তবে মাথার ভেতরে একটা যন্ত্রণা আমায় কষ্ট দিচ্ছে। বাঁ-হাতটা ভেঙেছে মনে হয়। কবজিটা মনে হচ্ছে, প্লাস্টার করে দিয়েছে।

    নার্স আমায় আটকালেন। চেঁচালেন, ‘তোমায় বাথরুম যেতে হবে না। এখানে, বেডেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

    আমিও জেদ ধরলুম, যাবই।

    অগত্যা নার্স আমায় ধরে ধরে নিয়ে চললেন বাথরুমে। আমি বুঝতে পারলুম, হাঁটতে আমার কষ্ট হল না।

    কে না-জানে, এই আলো-ঝলমল দিনেরবেলায় তো আর নার্সের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালানো যায় না। সুতরাং আমাকে গভীর রাতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমার দেখা হয়ে গেছে, হাঁটতে আমার কষ্ট হচ্ছে না, সুযোগ পেলে আমি ঠিক পালাতে পারব। সুতরাং গভীর রাতের অপেক্ষায় আমি সময় গুনতে লাগলুম।

    ইতিমধ্যে সার্কাসের বড়োকর্তা হাসপাতালে এসে আমার খোঁজখবর নিয়ে গেছেন। তিনি এতটাই মুষড়ে পড়েছেন যে, ছলছল চোখে আমাকে বলে যেতে ভুললেন না, অনেক চেষ্টা করেও ঘোড়াটাকে বাঁচানো গেল না।

    সেটা আমি জানি। ঘোড়াটার জন্যে যে আমার মনও কতটা ভার হয়ে আছে, সেকথা আমি ছাড়া আর কে জানে! কিন্তু সে যা হবার সে তো হয়েই গেছে। তাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। কিন্তু এখন সব ছেড়ে মন যে আমার বাড়ির জন্যে ভীষণ ছটফট করছে। আমি মাকে, বাবাকে কখন যে দেখতে পাব, কেমন করে যে তাদের কাছে যাব, তার যে কিছুই জানি না আমি। আমার কী হবে? সার্কাসের মালিক যদি আমাকে না-ছাড়েন! ছাড়ার কথাও নয়। কারণ, এই বয়সের এমন একটা ওস্তাদ ছেলেকে সার্কাসের কোনো মালিকই কি ছেড়ে দেয়! সুতরাং কাউকে কোনো জানান না-দিয়েই আমাকে পালাতে হবে। পালাতে হবে গভীর রাতে হাসপাতাল থেকে।

    অবশ্য, এখন আর দিনের আলো নেই। সূর্য ডুবে গেছে অনেকক্ষণ। দিনেরবেলা যে নার্সরা রুগিদের দেখাশোনা করছিলেন, তাঁদের ডিউটি শেষ। এখন রাতের নার্স এসেছেন। আমাকে যিনি দেখাশোনা করবেন তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে, ভালোমানুষ। এঁকে বোধহয় ফাঁকি দিতে খুব একটা অসুবিধে হবে না। দেখা যাক, কী হয়।

    ঘুমের রাত এল। ঘুম আসার আগে, হাসপাতালেই যেসব ডক্তারবাবুরা থাকেন, তাঁরা প্রত্যেক রুগিকেই একবার করে দেখে গেলেন। এবার আলো নিভবে একটি একটি করে। খুব ঝিমঝিমে একটা আলো শুধু জ্বালা থাকল। এখন ঘুমোও।

    আমার বেড দোতলায়। আমি দেখে রেখেছি, বাথরুম যেদিকে, সেদিকে একটু এগিয়েই নীচে নামার সিঁড়ি। সুতরাং গভীর রাতে নার্সের চোখ ঘুমে যদি একটুও ঢুলু-ঢুলু করে, তখনই পালানোর সুযোগটা নিতে হবে। আর যদি দেখে ফেলেন, তখন তো বলা যেতেই পারে বাথরুমে যাচ্ছি।

    অবাক কথা কী, গভীর রাতে এমনই একটা সুযোগ আমি পেয়ে গেলুম। মিটিমিটি আলো। সবাই ঘুমে অচেতন। চারদিক সুনসান। এমনকী, নার্সও ঘুমোচ্ছেন। আমি নিঃসাড়ে বেড থেকে নেমে একাই বাথরুমের দিকে আলতো পায়ে হাঁটা দিলুম। বাথরুম পেরিয়ে সিঁড়িতে পা ফেললুম। নেমেও গেলুম। এমনই বরাত, দেখি গেটের দরোয়ানও দেওয়ালে মাথা এলিয়ে বেমালুম নাক ডাকাচ্ছে। ছুট্টে পেরোতে গেলুম গেটটা, পারলুম না। কোমরটা টনটন করে উঠল। বুঝতে পারলুম প্রচণ্ড ব্যথা সারা শরীরে। ছোটাছুটি করার ক্ষমতা নেই। পালাতে হবে সাবধানে পা ফেলে। শেষপর্যন্ত সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালাতে পারলুম হাসপাতাল থেকে। রাস্তায় বেরিয়ে অনেকটা লুকিয়েছাপিয়ে, আর অনেকটা হাঁসফাঁস করে খোলা, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে একটা নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে গেলুম।

    এইবারেই মুশকিল। যদিও তখন গভীর রাত। চারদিক ফাঁকা। কোথাও জনপ্রাণী নেই, তবুও ভয়তো আমার পিছু ছাড়ছে না। এমন করে ফাঁকা পথে হাঁটলে যে, আমি যেকোনো মুহূর্তে ধরা পড়ে যেতে পারি, সেটা কে না-জানে। আমায় এখনই কোথাও-না-কোথাও লুকিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু কোথায় লুকোব? আমি তো এখানকার ধুলো-মাটি কিছুই চিনি না।

    আমি অনেকক্ষণ হেঁটেছি। আর কত হাঁটব! সত্যি বলছি, আর পারছি না। মনে হচ্ছে, গভীর রাত হালকা হচ্ছে ধীরে ধীরে। আমার ততই মাথা ঝিমঝিম করছে। হাঁটতে হাঁটতে পা-ও আর বইছে না। সামনে কী আছে। কোথায় যাব! কিছু জানি না। আমায় যে একটু বসতে হবে এখনই। নইলে নির্ঘাত মাথা ঘুরে পড়ে যাব। ওই দিকে মনে হচ্ছে, কয়েকটা গাছগাছালি দেখা যাচ্ছে। একটু ঝোপঝাড়ও আছে। ওইদিকেই পা বাড়ালুম। এখানে এসে আর টাল সামলাতে পারলুম না। এসে গেছি ঝোপের কাছে। ঝোপের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলুম। তারপর হাঁপাতে লাগলুম।

    একটু সামলে আবার উঠে পড়েছি। মনে হল, এই ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকা যায়, কিন্তু লুকিয়ে থাকা যায় না। দিনের আলো ফুটলে কারও নজরে পড়ে যেতে পারি। সুতরাং কুঁতিয়ে-কাঁতিয়ে আবার পা ফেললুম ঝোপ ডিঙিয়ে।

    একটু হাঁটতেই মনে হল, এদিকটা যেন জঙ্গল-জঙ্গল। আর একটু হাঁটতেই দেখি, জঙ্গলের মধ্যে একটা ভাঙা গাড়ি, না, কী একটা পড়ে আছে। হ্যাঁ, কাছাকাছি গিয়ে দেখি, যা ভেবেছি তা-ই, একটা ঘোড়ায়-টানা গাড়ি। বসা যাবে কি? বসতে পারলে বেশ হয়। লুকিয়ে থাকা যাবে, আবার ধকলও সামলানো যাবে।

    হ্যাঁ, অন্ধকারে আন্দাজে পা ফেলে ভাঙা গাড়িটার ভেতর ঢুকে বসার মতো একটু জায়গা পেয়ে গেলুম। এখানে আজকের রাতটা অন্তত নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। এই ঘুপচিতে কারও সাধ্যি নেই আমাকে খুঁজে বার করে।

    আঃ! এতক্ষণে একটু স্বস্তি পেলুম। না, গাড়ির ভেতর আরাম করে বসতে তেমন কিছু অসুবিধে হচ্ছে না। এবার আমার চোখে ঘুম জড়িয়ে আসছে! অবশ্য এখানে নির্ভাবনায় একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যেতেই পারে। সুতরাং ঘুমে চোখ বুজে গেল আমার।

    ওমা! একী! হঠাৎ আমার ঘুম কেন ভেঙে যায়! আমার মনে হল ভাঙা গাড়িটা যেন ছুটছে। তাই তো! এ কী অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড! ঘোড়ার খুরের আওয়াজ আসছে কানে। কোত্থেকে ঘোড়া এল। গাড়ির ভেতর থেকে উঁকি মেরে দেখি, আরে এ যে সেই সার্কাসের সেই সাদা ঘোড়া, আমার বন্ধু! আশ্চর্য! সবাই বলল, সে তো মরে গেছে। ভয়ে আমার বুকের রক্ত শুকিয়ে যায়! আমাকে সে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমাকেও সে মেরে ফেলতে চায় নাকি! আমি আর কিছু ভাবতে না-পেরে আর্তনাদ করে উঠলুম, ‘আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও!’

    অবাক কাণ্ড, চোখের পলকে গাড়িটা থেমে গেল! কোথায় থামল অন্ধকারে আমি ঠিক ঠাওর করতে পারলুম না। কেউ আমাকে বাঁচাতেও এল না। ঢিপ ঢিপ করে কাঁপতে লাগল আমার বুক। থরথর করে কাঁপতে লাগল আমার সারা শরীর।

    ঠিক এই মুহূর্তে একটা পাখি ডেকে উঠল। একটা কাকও কা-কা করে ডাক দিল। অনেকটা ভয় কাটল আমার পাখির ডাক শুনে। আর দেরি নেই, এবার ভোরের আলো দেখা যাবে। আচ্ছা, গাড়িটা তো থামল। কিন্তু ঘোড়াটার তো আর কোনো সাড়া পাচ্ছি না। তার টগবগিয়ে ছোটার শব্দ না-হয় থামল, কিন্তু তার পরে ঘোড়ার দম ফেলার আবছা শব্দও তো কানে আসবে! কই তেমন তো কিছু শুনছি না! সাহস হল না গাড়ি থেকে নামতে। ভোরের নরম আলোয় আবার উঁকি দিলুম। কই, আমার সেই বন্ধু ঘোড়াকে তো আর দেখা যাচ্ছে না। নিমেষে কোথায় উধাও হয়ে গেল! ভোরের আলো আরও একটু উজ্জ্বল হতে, আমার কেমন যেন সাহস বেড়ে গেল। আমি খুব চাপা স্বরে ডাক দিলুম, ‘বন্ধু!’ ডাকতে ডাকতে গাড়ি থেকে নেমেও পড়লুম। তারপরেই থ হয়ে গেলুম। এ যে গাড়ি আমাদেরই বাড়ির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে! একী সত্যি, না আমি স্বপ্ন দেখছি! আমি থাকতে পারলুম না। চিৎকার করে উঠলুম, ‘মা—, বাবা—,’ চিৎকার করে দুড়দাড়িয়ে ছুটে গেলুম দরজার দিকে। মারলুম ধাক্কা। দরজা খুলে গেল। দেখি সামনে মা। আমি ঝাঁপিয়ে পড়লুম মায়ের বুকে। লাগল আমার ভাঙা হাতটায়। মাথাটাও কেমন যেন ঝিনঝিন করে উঠল। কিন্তু সে কি আর তখন মায়ের বুক জড়িয়ে ধরতে আমায় বাধা দিতে পারে। মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে আমি হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলুম। মা-ও কাঁদছেন। ছুটে এসেছেন বাবাও। বুঝতে পারলুম তিনি আমার মাথা আলতো হাতে ছুঁয়ে ধরেছেন। আমি মুখ তুলে তাকালুম। দেখলুম, তাঁরও চোখে জল। মুখে হাসির আভাস। কান্না-হাসির সে এক আশ্চর্য দৃশ্য। ছেলেকে যে ফিরে পেয়েছেন! সত্যি বলতে কী, আনন্দ যে মানুষকে এমন করে কাঁদায়, সে কথা কি এতদিন আমি জানতুম! না, আমার এই বয়সে তা জানার কথাও নয়। আজই প্রথম জানলুম!

    আর, সব শেষে বলি, আমার বন্ধু ঘোড়া, যে গাড়িটা টেনে আমায় মা-বাবার কাছে পৌঁছে দিয়ে গেল, সেই গাড়িটাও দেখি কোথায় উধাও হয়ে গেছে! আর কোনোদিন দেখতেও পেলুম না। এ কী আজব গল্প!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }