Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি নতুন ভূত – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প282 Mins Read0
    ⤶

    ভয় পেয়ো না – দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়

    এই ভিড়ে ঠাসা স্টেশনে ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও সুমনের শিরদাঁড়া বরাবর একটা হিমেল স্রোত বয়ে গেল। সে নিজের আগের মুহূর্তের দেখাটাকে মুছে ফেলতে চোখ বন্ধ করল। নিজেকে বোঝাল সে ভুল দেখেছে। তারপর চোখ খুলল।

    শশব্যস্ত হাওড়া স্টেশন। সবাই হুটোপাটি করছে। পাশাপাশি তিনটে ট্রেন ঢুকেছে। শতশত লোক। তার মধ্যে একটা মেনলাইন বর্ধমান লোকাল অ্যানাউন্স হয়ে গেছে। দৌড়াদৌড়ির পরিবেশ। শুধু সুমন পত্রপত্রিকার হুইলার স্টল ঘেঁসে থমকে দাঁড়িয়ে রইল। ভিড়ের মধ্যে ওই অদ্ভুতদর্শন লোকগুলো কারা? সংখ্যায় জনা-সাতেক। চেহারা সাধারণ মানুষের মতো হলেও চোখমুখ অবিশ্বাস্যরকম থমথমে। কারও চোখ যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। কারও বা এমন কোটরাগত, যে চোখ আছে কিনা বোঝার উপায় নেই। হালচাল দেখে মনে হচ্ছে কোথায় যাবে বুঝতে পারছে না। অথচ আশ্চর্য রকম নির্বিকারভাবে হাঁটছে।

    এরা কারা? ওদের পাশে পাশে যারা চলেছে। তাদের কারো কি ব্যাপারটা চোখে পড়েনি? নাকি গন্তব্যে যাওয়ায় ব্যস্ততায় কেউ আমল দিচ্ছে না? তাহলে সুমনের এমন অস্বস্তি লাগছে কেন? সুমন একটু ভরসা পেতে পাশের একজনকে ছুঁয়ে দেখল। তাতে ভদ্রলোক একটু বিরক্তি প্রকাশ করায় সুমন চিন্তাটা মন থেকে তাড়াতে অন্য দিকে ঘাড় ঘোরাল। আরো ওদিকেও তো দুজন একইরকম লোক! এমন হচ্ছে কেন আজ তার সঙ্গে? সুমনের সব ধারণাগুলো কেমন ঘেঁটে যাচ্ছিল।

    কিছুক্ষণ আগের ঘটনাটার ধকল এখনও কাটেনি সুমনের।

    স্টাডি লিভের ভেতর স্যার হঠাৎ করে ডেকে পাঠানোয় তার ইউনিভার্সিটি আসা। আসার ইচ্ছা ছিল না। সুমনের দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। আগেরদিন হাত থেকে পড়ে চশমাটার একদিকের কাচ ভেঙেছে। দোকানদারের দেওয়া একটু কম-পাওয়ারের টেমপোরারি চশমাটায় চারপাশ দেখে সন্তুষ্টি হচ্ছে না। এই অবস্থায় স্যারের অর্ডার—’চটপট চলে এসো। তোমার প্রোজেক্ট রিপোর্টটায় কিছু যোগবিয়োগ করতে হবে।’

    অগত্যা আসতেই হল। আর এই গঞ্জের দোকানগুলোও হয়েছে বটে! আজকের দিনে এসেও আধুনিক হল না। লেন্সের কাজ সেই কলকাতা থেকেই করে আনবে। ফল, একদিনের অসুবিধা ভোগ করো!

    সুমনের সারাটা দিন তেমন কিছু অস্বাভাবিক কাটেনি।

    কাজ মিটিয়ে কলেজ স্ট্রিট ফেরত জ্যামে পড়েছিল। তাই বাস থেকে নেমে ছ-টা পঞ্চান্নর কর্ড লাইন লোকালটা ধরবার জন্য প্রায় দৌড় লাগাতে হয়েছিল। রাস্তা পেরিয়ে, যত জোরে পা চালানো সম্ভব চালিয়ে সে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গিয়েছিল। ট্রেন ধরা ছাড়া অন্য কোনো কথা মাথায় রাখার সময় ছিল না তার। অবশ্য তাতেও একটু দেরি হয়ে যায়। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেনটা লাইন ধরে দূরে চলে যাচ্ছে দেখে সুমন বিষণ্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। ঠিক তখনই তার মনে হল চারপাশে যারা দাঁড়িয়ে তারা কেউ ‘পাবলিক’ নয়। যেন অনেকগুলো ছায়া তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। আচমকা কোনো দুঃস্বপ্নের মধ্যে পড়ে গেলে যেমনটা হয়, সুমন সেভাবেই বিভ্রান্ত ভয়ার্ত হয়ে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখেছিল যে সবার পায়ের পাতা পিছনে গোড়ালি সামনে।

    লোকে ভয়ের স্বপ্ন ভাঙতে চোখ খুলে চেনা চারপাশ দেখে নেয় আশ্বস্ত হতে। সুমন খোলা চোখে আতঙ্কের মধ্যেই ডুবে যাচ্ছিল। তাই ভয় কাটাতে সে চোখ বন্ধ করেছিল। আর ভাবতে চেষ্টা করেছিল সে ভুল দেখেছে।

    এরপর থেকে ওই অবাস্তব লোকগুলো সুমনের চোখের আড়াল হতেই চাইছে না। সুমনের ভয় বাড়ছিল। এত আলো, এত লোকজনের মধ্যে থেকেও মনে হচ্ছিল—সে অন্ধকারে একা।

    সুমন এবার পত্রপত্রিকা বিক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করল।

    ‘দাদা, ওই অদ্ভুত লোকগুলোকে দেখেছেন? কারা বলুন তো?’

    সামনে সুমনকে অকারণে অস্থির দেখে দোকানদার কিছু বুঝতে পারল না। সে সুমনের আঙুলের ইশারা মতো প্ল্যাটফর্মে ডিসপ্লে বোর্ডটার নীচেটায় হালকা চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল, ‘কোন লোক দুটো? কোনো টিভি আর্টিস্ট?’

    সুমন তাঁকে শুধরে দিয়ে আসল লোকদুটোকে দেখাতে চাইছিল। কিন্তু লোকদুটো তাদের ঠিকরে বেরিয়ে আসা চোখ দুটো পাকিয়ে এমনভাবে তাকিয়েছিল—যেন সুমনকে শাসন করছে। সুমনের গলা দিয়ে এরপর আর আওয়াজ বেরল না। লোক দুটো তার দিকেই এগিয়ে আসছে দেখে সে পালিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে চাইল। কিন্তু কোন ভিড়? কোথায় মিশে যাওয়া? ওই অবাস্তব লোকগুলোও তো ভিড়ের মধ্যেই মিশে রয়েছে। তারাই সুমনের পাশে চলে এসেছিল। তারপর থেকেই একটা ভয় সুমনকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

    ‘সাতটা সতেরোর মশাগ্রাম লোকাল সাত নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে।’

    অ্যানাউন্সমেন্টটা কানে আসতেই সুমন প্রায় অন্য কোনো দিকে না-তাকিয়ে সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে চলে এল। ঠাসাঠাসি লোকজন। কে আগে দৌড়ে উঠে বসার জায়গা নিতে পারে তার প্রতিযোগিতা। ট্রেন ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মে ঢুকল। সুমন যে কামরাটা সামনে পেল ভিড়ের পিছন পিছন উঠে পড়ল। বসার সুযোগ না-পেলেও দাঁড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা জুটিয়ে নিয়ে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে স্টেশনের দিকে ফিরে চাইল। না, তেমন কিছু নেই। শুধু জনঅরণ্য। প্রতিদিনের মতো। সে নিশ্চয়ই ভুল দেখছিল। ওসব কিছু নেই। কুসংস্কার, মনের ভুল।

    বালীতে বেশ কিছু লোক নামার পর ডানকুনিতে এসে ট্রেন প্রায় খালি হয়ে গেল। সুমনকে সেই বারুইপাড়া পর্যন্ত যেতে হবে। সে জানলার ধারে সিট বাগিয়ে নিয়ে বাইরের হাওয়ায় নিজেকে মেলে ধরল। বেশ আরাম!

    ‘বাড়ি ফেরার সময় কোলেদার দোকান থেকে চশমাটা নিতে হবে। ভারি অসুবিধা হচ্ছে এই ভুলভাল চশমাটায়।’ সুমন নিজেকে বলে মনে মনে। আর কোলেদাটারও হয়েছে আজব স্বভাব। সারাদিন পাগলের মতো ঘসা কাচ নিয়ে কী সব গবেষণা করে চলেছে। ব্যবসায় মন নেই। আজকের কাজ কাল। কালকের কাজ পরশু করব ভাব। এইভাবে কাস্টমারকে ঠিকঠাক সার্ভিস দেওয়া যায়! এই যে সুমন ভুগছে—কম তো দেখছেই, প্লাস উলটোপালটা দেখছে—এর জন্য কী কোলেদার ঢিলেমি দায়ী নয়! দশ বছর হয়ে গেল ব্যবসার, নিজে নিজে লেন্স পালটানোর পরিকাঠামো তৈরি হল না। সুমনের সব রাগ ভরতকোলের ওপর গিয়ে পড়ে। আজ কী ভয়টাই না-পেয়েছিল সে! হয়তো চশমার পাওয়ারের গোলমালের জন্যই সে স্বাভাবিক মানুষজনকে বিকৃত অবস্থায় দেখেছে। সুমন অন্য সম্ভাবনাটা নাকচ করে আশ্বস্ত হতে চায়।

    যাক গে! যা হয়েছে হয়েছে। ব্যাপারটা ভুলে যাওয়াই ভালো।

    ‘কী হয়েছে? এতো ঘামছ কেন?’

    পাশের যাত্রীর এই কথায় সুমন নিজের জামাতে হাত রাখল। জামাটা জ্যাবজ্যাবে হয়ে ভিজে গেছে। সুমন মনে মনে বলল—আসলে ঘাম দিয়ে ভয় ছাড়ছে। মুখে বলল, ‘কই না তো। ওই যা ঠেলাঠেলি ভিড়।’

    ‘কোথায় ভিড়? আজ তো ট্রেন ফাঁকা!’

    ‘আসলে আমার একটুতেই ঘাম হয়। হাওড়ায় দৌড়াদৌড়ি হয়েছে তো।’

    পাশের যাত্রী কিছুটা নিশ্চিন্ত মুখ করে বলল, ‘ও, আমি ভেবেছিলাম, বুঝি শরীর খারাপ লাগছে।’

    সুমনের আর কথাবার্তা এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিল না।

    সে ঘাড় ফিরিয়ে ট্রেনের ভিতরটায় চোখ বুলিয়ে নিল। গরমের দাপটে সবাই কম বেশি কাহিল। কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়েছে। সুমনের পাশাপাশি উলটোদিকের সিটগুলো প্রায় ফাঁকা। একদম কোণের সিটের লোকটা তো পা তুলে উবু হয়ে বসে আছেন। যদিও মুখটা অন্যদিকে তবে দেখে মনে হচ্ছে কোনো মেঠো লোক হবে। পরনে ময়লা ফতুয়া, নোংরা ধুতি, পিছন থেকেই বোঝা যাচ্ছে উসকো-খুসকো চুল। সুমন এইটুকু দেখা সেরে নিয়ে আবার জানলার দিকে ফিরল। কামরার পিছন দিকে একজন হকারের গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ট্রেন থামল। জনাই রোড এল বোধহয়।

    স্টেশন পার হতেই বাইরের দৃশ্যরা অন্ধকারে হারাল। পিছনের হকারটাও বোধহয় বকবক করতে করতে থেমে গেল। সুমন যাবে বারুইপাড়া। এখনও দুটো স্টেশন।

    অন্যদিনের চেয়ে আজকের যাত্রা যেন বড্ড তাড়াতাড়ি শুনশান হয়ে আসছে। যদিও তার পাশে বসে থাকা ভদ্রলোকের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আবার কখন জিজ্ঞাসা করে বসবেন—শরীর খারাপ কিনা। সুমন নিজেকে একবার পরখ করে নিল। না, আর ঘাম হচ্ছে না।

    এককীত্ব কাটাতে সে ভদ্রলোককে প্রশ্ন করল, ‘আপনি কতদূর যাবেন?’

    সুমনের প্রশ্নে ভদ্রলোক চট করে উঠে পড়ে উত্তর দিলেন, ‘এই তো নামার সময় হল। বেগমপুর।’

    তিনি উঠে চলে যাচ্ছিলেন কিন্তু হঠাৎ কী দেখে আঁতকে উঠে সুমন তাঁকে হাত টেনে বসিয়ে দিতে চাইল। ভদ্রলোক হতচকিত হয়ে ঝটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নিল।

    ‘আপনি কি পাগল নাকি? না-কিছু ছিনতাইয়ের মতলব।’ লোকটি সুমনের ওপর চড়াও হয়।

    সুমনের গলা থেকে আওয়াজ সেটুকু বেরল তাতে সে কাতর হয়ে বলল, ‘ওই সিটের লোকটাকে দেখুন। আমার প্রথমেই বোঝা উচিত ছিল!’

    ‘কোন সিটের? কোথায় লোক? ইয়ার্কি পেয়েছেন?’

    ‘ওই যে! পা তুলে উবু হয়ে বসে থাকা লোকটা! ওর পায়ের দিকটা লক্ষ করুন।’

    আমি তখনই বলতে চাইছিলাম, ‘তোমার শরীর খারাপ। এখন বুঝতে পারছ।’

    সুমন কিছু বুঝতে পারছিল না। ইনি কি লোকটাকে দেখতে পাচ্ছেন না? হে ভগবান! সে চিৎকার করে ওঠে, ‘হবহু এইরকম লোক আমি হাওড়া স্টেশনেও দেখেছি। ওই যে ওইখানে বসে আছে…….।’

    ‘একজন ভূত তাইতো? ‘লোকটা হাঃ হাঃ করে কয়েক মুহূর্ত হেসে নিল। তারপর সুমনকে ধমকে বলল, ‘দেখে তো কলেজ টপকেছ মনে হচ্ছে। তবু এমন ছেলেমানুষি? আর অতই যখন ভয়, তখন একা একা বেরিয়েছ কেন।’

    লোকটার হাসিটা আস্তে আস্তে কেমন দুর্বোধ্য কুটিল হয়ে গেল। সুমনকে একা ফেলে দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই একটা থমথমে ভাব ছেয়ে ফেলল পরিবেশে। লোকটা প্ল্যাটফর্মে নেমে গেল, না-মিলিয়ে গেল? ভাবনাটা আসতেই সুমনের মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। স্টেশন থেকে একজন মানুষও কি উঠছে? সুমন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করে।

    না, কেউ নেই। এবার শুধু সে আর ওই উবু হয়ে বসে থাকা লোকটা। এতক্ষণ সে এককোণে বসে ঝিমোচ্ছিল। এখন চিৎকার চেঁচামেচিতে জেগে বসেছে। ঠিক হাওড়ায় দেখা অবাস্তব লোকগুলোর মতো থমথমে মুখ। ঠিকরে বেরিয়ে আসা চোখদুটো দিয়ে দেখছে। যেন সুমনের দেহ থেকে সব কিছু শুষে নিতে চায়। এমন ভয়ানক দৃষ্টি। সুমন এখন ঘামছে না। তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে দৌড়ে গিয়ে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে দিলে হয়তো বেঁচে যাবে। ঝিকঝিক ঝিকঝিক আওয়াজ করে ট্রেন এগিয়ে চলেছে। কিন্তু পরের স্টেশনটা কি কোনো দিন সুমনের জন্য আসবে? লোকটা নড়েচড়ে বসল। এবার কি উঠে এগিয়ে আসবে? কামরায় আর কেউ নেই। ভর সন্ধেবেলা এই কর্ড লাইন লোকাল জনশূন্য হয়ে যাওয়াও ওই লোকটার উপস্থিতির মতো অবাস্তব ঘটনা। সুমন জানে এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। বিশ্বাস করেওনি।

    লোকটা উঠছে! এগিয়ে আসছে। কঙ্কালসার হাতে লম্বা লম্বা নখযুক্ত আঙুল। হয়তো তেড়ে এসে সুমনের গলাটা ওই হাত দিয়েই চেপে ধরবে। সুমন দরজার কাছে দৌড়ে যায়। এরপর পালাতে হলে একটা লাফ দিতে হবে। কিন্তু তারপর?

    সুমন পিছন হাঁটছিল লোকটার গতিবিধির দিকে নজর রাখতে রাখতে। ট্রেনটা ব্রেক কষল। হঠাৎ সুমন শূন্যে ঝুলে গেল কয়েক পলকের জন্য। সে পড়েই যাচ্ছিল, কে তার হাত টেনে ধরেছে।

    ‘কোলেদা!’

    ‘কী-রে? কী ব্যাপার? ফাঁকা ট্রেনে এমন করে ঝুলছিলি কেন?’

    ‘কোলেদা ও কে?’ সুমন কাঁপা কাঁপা আঙুল নেড়ে অদ্ভুত লোকটাকে দেখায়। লোকটা এখন সুমনের ছেড়ে আসা জায়গাটায় বসে আছে। জানলার দিকে মুখ ঘুরিয়ে।

    ‘ওই লোকটা…আমাকে মেরে ফেলবে…!’

    সুমন কাঁদোকাঁদো স্বরে বলে চলেছিল।

    ‘ও কিছু নয়। আমার আনমনে বড়ো ভুল হয়ে গিয়েছিল রে। এখন তোর নিজের চশমটা নে তো। দ্যাখ, একদম নতুন বানিয়ে দিয়েছি।’

    কোলেদা সুমনকে শান্ত করতে করতে নিজের ব্যাগের ভিতর হাত ঢোকাল। সেখান থেকে একটা ছোটো পলিথিনের প্যাকেট তুলে নিল। এরপর সেটা সুমনের হাতে দিল। সুমন চোখে পরে থাকা চশমাটা খুলে নিয়ে আসল চশমাটা চড়িয়ে নিল। ট্রেনের গতি আস্তে আস্তে আরও কমে আসছিল। সুমনের কাঁপুনি তখনও কমেনি। কোলেদা হাস্যমুখে সুমনের নাকের ওপর চশমাটা আরেকটু ঠিকঠাক করে দিয়ে বলল, ‘দেখে নে। সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিস কিনা।’

    কোনও দিকে না-তাকিয়ে নিজের ছেড়ে আসা জায়গাটার দিকে দেখে সুমন। তার হৃৎস্পন্দনের ধকধক শব্দটা বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে। ‘কোলেদা, ওই লোকটা!’

    কোথায় গেল লোকটা! সুমনের ছেড়ে আসা জায়গাটা তো ফাঁকা। সুমন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

    ‘আরে বোকা। অত ভয় পাওয়ার কী আছে। এই যে হাওড়া, শিয়ালদায় এত লোকে লোকারণ্য প্রতিদিন। ওদের সবাই কি আর মানুষ?’ পিছন থেকে কোলেদা ফিসফিস করে বলল।

    ‘তাহলে কি?’ ঘুরে তাকাতে গিয়ে ট্রেন থামার ঝাঁকুনিতে সুমন উলটে যাচ্ছিল। বারুইপাড়া এসে গেছে।

    সে ঘোর কাটিয়ে তাড়াতাড়ি প্ল্যাটফর্মে পা রাখল। ‘কোলেদা কী বলছিলে?’ সুমন বেশ জোরালো আওয়াজে প্রশ্নটা ছুড়ে দিল।

    কোনো উত্তর ফিরে এল না। ‘কোলেদা?’ ট্রেন থেকে নামার মতো ওই কামরায় আর কাউকে দেখতে পায় না সুমন।

    প্ল্যাটফর্মে দুজন অফিস ফেরত মধ্যবয়সি ভদ্রলোক সুমনের কাছে চলে এসেছিল।

    তাঁরা সুমনের কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘তুমি ঠিক আছো তো। বেগমপুর থেকে আমাদের এক বন্ধু মোবাইলে ফোন করে বলল—এই কামরায় তুমি নাকি একা পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছ। তাই দেখতে এলাম।’

    সুমনের শরীর তখনও আতঙ্কে শক্ত হয়ে আছে। সে বলতে চাইছিল, ‘এই কামরায় হাত-পা বাঁকা একজন লোক…।’

    কিন্তু তার কথা তাঁরা শেষ করতে দিল না। বলল, ‘ও কিছু নয়। আসলে প্রতিবন্ধীদের একটা সম্মেলন ছিল তো। সব ওই কামরাটায় উঠেছিল। বেশির ভাগ ডানকুনিতে নেমে যাওয়ায় একদম খালি হয়ে গেছে। তুমি কামরা চেঞ্জ করে নিতে পারতে তো। একা একা অসুবিধায় পড়তে হত না।’

    সুমন চেঁচিয়ে ওঠে, ‘প্রতিবন্ধী নয়। হতে পারে না। আমি নিজের চোখে দেখেছি। বিশ্বাস করুন!’

    লোকদুটো অবিকল ট্রেনের ভদ্রলোকের মতো হাঃ হাঃ করে হেসে উঠল। তারপর কুটিল ভ্রূ ভঙ্গি করে বলল, ‘তবে কি ভূতের সঙ্গে সফর করছিলে তুমি?’

    সুমনের মনে হল এবার এরাও অদৃশ্য হয়ে যাবে।

    সে দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে প্ল্যাটফর্ম ধরে দৌড় লাগাল। সিঁড়ি ভেঙে বাজারে নেমে মনাদার সাইকেল স্ট্যান্ডে গিয়ে হাঁপাতে লাগল। সুমনকে সাইকেল ধরিয়ে দু-টাকার খুচরোটা নিতে নিতে মনাদা বলে, ‘কলকাতা থেকে এলি? চশমা দোকানের কোলের খবরটা শুনেছিস? আজ কীভাবে কে জানে বেগমপুরে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে…..।’

    খবরটা শুনে সুমনের থমকে থাকার সময় ছিল না। তাকে পালাতে হবে। সে যা দেখেছে সেটা বললে মনাদা কি বিশ্বাস করবে? নাকি ‘হাঃ হাঃ’ করে হাসতে হাসতে হাওয়া হয়ে যাবে? সে সাইকেল নিয়ে চটপট এগিয়ে গেল।

    ‘দুর্ঘটনা কখন কীভাবে আসে। মানুষ এই আছে এই নেই!’

    সুমন এসব কথায় কর্ণপাত করে না। কোলেদা তাকে চশমা দিয়ে গেল। অথচ মনাদা বলছে—কোলেদা নেই। কিন্তু মনাদা জলজ্যান্ত না-অবাস্তব? সুমন এবার সেই ধোঁয়াশায় হারিয়ে যেতে চলেছে। সে পিছন ফিরে না-তাকিয়ে তাড়াতাড়ি সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দেয়।

    ওপরের আকাশে কৃষ্ণপক্ষের একফালি চাঁদ। ঝোড়ো বাতাস গা ছুঁয়ে যাচ্ছে। সুমন পিচ রাস্তা ধরে প্রাণপণ বাড়ির দিকে।

    আচ্ছা, কোলেদা কি ভুল করে ফেলেছিল? ঘসাকাচ নিয়ে এলোমেলো গবেষণা করতে করতে নতুন কিছু বানিয়ে ফেলেছিল? যা দিয়ে আরেকটু বেশি কিছু দেখা যায়? তার জন্যই কি আজ?

    সুমন সাইকেলে গতি বাড়াল। একটু আগে মনাদা বলল, মানুষ এই আছে, এই নেই। কয়েক ঘন্টায় এ ব্যাপারে অনেক কিছুই অনুভব করেছে সে। সুমন তার নিজের চশমার ভিতর দিয়ে হালকা আলোয় পারিপার্শ্ব দেখতে থাকল। কিছুটা দমকা হাওয়া ঘাড়ে ঝাপটা মেরে চলে গেল। ওই তো রাস্তার একপাশে একটা ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকাচ্ছে। সামনের মোড়ের বকুলগাছের ডালটা হঠাৎ অস্বাভাবিক কেঁপে উঠল। ইচ্ছা না-থাকলেও সে-সব দিকে সুমনের চোখ চলে যাচ্ছিল। সতর্কভাবে। সে কিছু দেখতে পেল না। তবু কেউ যেন কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—আছে। চারপাশে এত উপস্থিতি, এত স্পন্দন তার সবটুকুই কি মানুষের?

    হঠাৎ সুমনের মনে হল জামার বুক পকেটটা ভারী ভারী লাগছে কেন? চশমা পালটানের সময় খুলে ফেলা চশমাটা সে ট্রেনে রেখে এল? না……পকেটে রাখল? নাকি কোলেদা নিজের ভুল নিজেই নিয়ে গেল? সুমন আস্তে আস্তে কাঁপাকাঁপা ডান হাতটা পকেটের ওপর রাখতে যায়। এবার দমকা হাওয়াটা আরও জোরদার হল। দূরে কটকট করে পোকা ডেকে থেমে গেল। হাওয়ার বিপক্ষে একহাতে চালাতে গিয়ে টলে গেল সাইকেলটা, আর কেমন যেন গা ছমছম করে ওঠল সুমনের।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }