Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অমৃত কুম্ভের সন্ধানে – কালকূট (সমরেশ বসু)

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প349 Mins Read0
    ⤷

    অমৃত কুম্ভের সন্ধানে – ১

    ১

    মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, মন যেন এক সর্বনেশে যন্ত্রবিশেষ। বর্ষে বর্ষে ঋতু বদলায়, তার সঙ্গে রূপ বদলায় এই পৃথিবীর। কত তার রূপ, কখনো দেখি জলশূন্য রিক্ত মাঠ, সহস্র ফাটল ফেটে চৌচির হয়ে আছে। সেই ফুটি-ফাটা মাঠের উপর দিয়ে পাগল হাওয়া হা হা করে ছুটে যায়। মনে করি, রিক্তা ধরিত্রী নিঃশব্দ কান্নায় গুমরে উঠছে। অগ্নিশ্রাবী আকাশ। গাছে পাতা নেই, কলকাকলী নেই বিহঙ্গকুলের। বিশ্বসংসার জ্বলছে নিরন্তর।

    আবার দেখি, কোনো অদৃশ্যলোক থেকে সহস্র ধারে আসছে বন্যা। আকাশে মেঘের ছড়াছড়ি। ভেসে গিয়েছে মাঠ, সবুজ শস্যে ভরে উঠেছে তার বুক। হঠাৎ হাওয়ার শিউরিনিতে সোহাগী গর্ভবতী কেঁপে কেঁপে উঠছে হাসিতে।

    মনের দিকে তাকিয়ে দেখি, সেখানে শূন্য। লোকে বলে, মনের মানুষ মেলে না। তাই কি! মনের সঙ্গে কোনোদিন বোঝাপড়া করলাম না। শূন্য মন নিয়ে আমরা দিবানিশি ছুটে চলেছি বৈচিত্র্যের সন্ধানে। কী চাই জানি নে, পাওয়ার জন্য পাগল হয়েছি। তাই কেউ বলেছে, ‘ব্রেথা তারে খুঁইজে মরা মাটির এই বৃন্দাবনে।’ কেউ বলেছেন, ‘একবার—আপনারে চিনলে পরে, যায় অচেনারে চেনা। মনের এই বিড়ম্বনার কথা আর একজন বলেছেন

    ‘যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই।
    যাহা পাই তাহা চাই নে।’

    বৈচিত্র্যের সন্ধান, আমাদের মনেরই সন্ধান। মানুষ খোঁজার ছলে আমরা মন খুঁজি। তাই বন্ধু যখন বিদ্রূপ করে বললে, ‘কেন যাচ্ছ কুম্ভমেলায়? ধর্ম করতে নাকি?’ ধর্মের নামে যে হিসাবে ধার্মিক বোঝায় তা নই, আবার বিধর্মীও নই। আমরা সেই মানিকবাবুর ‘লেবেল ক্রসিং’-এর নায়কের মতো।

    বললাম, ‘দেখতে।’

    ‘কী দেখতে? লক্ষ লক্ষ ধর্মান্ধ মানুষকে?

    ধর্মান্ধ! লক্ষ লক্ষ মানুষ যদি ধর্মান্ধ হয়, তবে খুঁজেই দেখি না কেন, লক্ষ মনের কোন চোখে পরানো আছে সেই ঠুলি! মনে পড়ছে এক প্রৌঢ়া বিধবার কথা। বাঙালি বিধবা কুম্ভমেলায় গঙ্গার উপরে এক ভাসমান সেতুর কোণে বসেছিলেন আহ্নিক শেষ করে। সন্ধ্যা নামছে। আমিও যাচ্ছিলাম জলের দিকে। মহিলাটির গায়ে পা লেগে গেল। বাঙালির ছেলে আমি। সসংকোচে ক্ষমা চেয়ে হাত বাড়ালাম ওঁর দিকে। উনি তাড়াতাড়ি আমার হাত ধরে চিবুকে হাত দিয়ে সশব্দে আঙুলটি চুম্বন করলেন। স্বভাবতই অনেক কথা হলো। ওঁর একটি কথা এখানে বলবো।

    কথার পিঠে কথা দিয়ে একবার কয়েক মুহূর্তের জন্য চুপ করে রইলেন। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলেন মেলার ভিড়ের দিকে। তারপরে বললেন, ‘বাবা, মানুষ মিলে মেলা, মানুষের মেলা। যখন ভাবি, এই লক্ষ লক্ষ মানুষের মেলায় আমিও একজন, তখন সুখে আনন্দে আমি, আর চোখের জল রাখতে পারি নে।’

    এখন মনে পড়ছে সে-কথা। কিন্তু তখন বন্ধুকে বলেছিলাম, ‘ধর্মান্ধ কিনা জানি নে, তবে মানুষ দেখতে যাচ্ছি। আমাদের সব কিছুতে সাধ মিটতে পারে। সাধ মেটে না মানুষ দেখে মানুষ চেখে। মানুষের চেয়ে বিচিত্র এ সংসারে আর কী আছে?’

    বুঝলাম, বন্ধু খুশি হয় নি। বিদ্রুপে বেঁকে ছিল তার ঠোঁট। অনেক তর্ক সে তখন করেছিল। এখন সে তর্কের কথা তুলে লাভ নেই। তর্ক করেও লাভ নেই। আমরা যা দেখি নি, যা পাই নি, তাই দেখবার ও পাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠি। অজানা আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে।

    সত্যি, অষ্টপ্রহর মানুষের সঙ্গেই বাস করি। মানুষের কত রূপ দেখি। কিন্তু যেখানে চলেছি, সেখানে আরও কত মানুষ, কত তার রূপ! যে প্রতিবেশীকে বছরের পর বছর দেখেও কোনোদিন চোখে পড়ে নি, পরিবেশের গুণে তার বিচিত্র রূপ দেখে আমাদের মন ভুলে যায়। কী কথা! হাজার দিন দেখেও যে মন ভোলে না, সে একদিন সব ভোলে। মন চিনি না। তাই তো বারে বারে রূপ দেখি।

    ‘জনম অবধি হম রূপ নেহারনু
    নয়ন না তিরপতি ভেল।’

    এত রূপের ফেরে ফিরি কেন আমরা! মন খুঁজি। লক্ষ রূপের আরশিতে আমরা নিজের বৈচিত্র্যকে দেখি। এই বৈচিত্র্য হলো নিরিখ, যাকে বলে কষ্টিপাথর। দাগ কাটো। সোনা কি লোহা, নিমেষে তা ফুটে উঠবে।

    না, আর দেরি নয়। মন চলেছে আগে আগে, এবার পা চালিয়ে দিই। ডুব দেব লক্ষ হুদি কুম্ভ-সায়রে।

    পিঠে নিয়েছি ঝোলা, হাতে নিয়েছি ঝুলি। কিন্তু হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফরম দেখে চক্ষুস্থির। তবুও উঠতে পেরেছি, এক সময়ে গাড়িও ছেড়েছে।

    এক ফালি ছোট কামরা। জনা আটেকের বসবার জায়গা। কলকাতাবাসী উত্তরপ্রদেশের এক পরিবারের ছ’জন পরিবার বসেছেন প্রায় দু’টো সিট দখল করে। আমিও পেয়েছি খানিকটা। আরও জনা চারেক উপরে নিচে। এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!

    ছ’জনের পরিবারের চালক যে যুবকটি, সে গোটা তিনেক স্টিট্রাঙ্ক সেঁটে দিল প্ল্যাটফরমমুখো দরজায়। দিয়ে আমার দিকে বীরত্বব্যঞ্জক অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসলো। অর্থ পরিষ্কার। হেসে জবাব দেওয়া ছাড়া উপায় কী!

    আমার আজানুলম্বিত কালো ওভারকোট আর টুপি দেখিয়ে সে ইংরেজি মিশ্রিত হিন্দিতে বললো, আপনাকে দেখাচ্ছে যেন মিলিটারি সেপাই। দরজার দিকে সিরিফ কটমট করে তাকিয়ে থাকবেন। তাহলেই আর কেউ সাহস করে—’

    শেষটুকু তার চোখের আধবোজা হাসিতেই পরিস্ফুট। অতএব তার নির্দেশে আমি হলাম এ কুঠরির আর-এক দিকের দ্বাররক্ষী। সন্দেহ ছিল নিজেরই, এ চোখের কটমটানিতে কেউ ঘাবড়াবে কিনা।

    এই তো আমরা। কেউ বলতে এলে মন ভারী করি। অথচ সামান্য সুখের জন্য আমরা নিয়ত এমনি অভিনয় করে চলি। নিজের সঙ্গেও করি কিনা কে জানে!

    কথায় জানলাম, ছ’জনের পরিবারের দেশ আজমগড় জেলায়। ব্যবসাক্ষেত্র কলকাতা গন্তব্য এলাহাবাদ, কুম্ভমেলা। আমি? আমিও একই পথের যাত্রী। হ্যাঁ? শুনে ভারি খুশি। যুবকটি লাফ দিয়ে উঠে পড়লো ট্রাঙ্কের উপর। নাক ডাকাতে আরম্ভ করলো কম্বল মুড়ি দিয়ে।

    পরিবারের মা, মেয়ে আর বউ সামলে দিব্যি এলিয়ে পড়লেন আমার উপরে। ভগবান জানেন, কী খেয়ে ওঁর গতরখানি অমন ভয়াবহ হয়েছে। আমি বেঁকে রইলাম একটা চ্যাপটানো ব্যাগের মতো। ওভারকোটের মহিমায় এত যে ফৌজী কায়দায় কটমট করে তাকালাম, সেদিকে কারুরই হুঁশ নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক ডাকার ঐকতান শোনা গেল। কিন্তু নথ-নোলকপরা নাকগুলিও যে এমন মেঘগর্জন করতে পারে, তা কে জানতো!

    কয়েক হ্যাঁচকাতেই এক্সপ্রেসখানি গজলের দ্রুত লয়ের মতো বাঙলাদেশ পেরিয়ে গেল। মুখ বাড়িয়ে দিলাম বাইরে। অন্ধকারের বুকে অজস্র আলোর সারি, যেন কচি শিশুর হাসকুটে চোখের মতো। অন্ধকার মিহিজামের আলো। যন্ত্রনগরী চিত্তরঞ্জন। সীমান্ত বাঙলার কাঁথামাদুর পচা ছেলে আমরা। বাইরে বড় যাতায়াত নেই। এইটুকুতেই মনে হলো, দেশ ছেড়ে এলাম। এবার মহাদেশের পথে। মহামেলার পথে, লক্ষজনের অকল্পিত বিচিত্র রূপ বিচিত্র নাদে আমার প্রতিটি ধমনীকে ডাক দিয়ে চলেছে। পথে কী আছে কে জানে! মুখ ফিরিয়ে নিলাম। সামনে তাকিয়ে দেখি কালো কঙ্কালের দু’টি হাত। চমকে উঠলাম। সকলে নিদ্রামগ্ন। আমি প্রহরী।

    কঙ্কালসার কম্পিত হাতদু’টো অতিকষ্টে একটি কমলালেবু ছাড়াচ্ছে। এতক্ষণ মুখোমুখি দেখেছিলাম, সামনের সিটে একটি কম্বলের পুঁটুলি। এবার সেই পুঁটুলির মধ্যে দেখছি একটি মুখ। লিকলিকে ঘাড়ের উপর বসানো একটি মাথা। গোঁফ-দাড়ি গজানো শীর্ণ মুখ। কোটরগত চোখ। অস্বাভাবিক উজ্জ্বল সেই চোখের চাউনি। গেঁড়িগুগুলির মতো একরাশ মাদুলি ঝুলছে। কণ্ঠার কাছে।

    নিঃসন্দেহে মানুষ। চোখাচোখি হতেই নিঃশব্দে হেসে উঠলো সে। বালকের মতো তার কোটরগত চোখেও হাসির নির্ঝর। ঘাড় বাঁকিয়ে বললো হিন্দিতে, ‘আমি যাব, হ্যাঁ।’

    আমাকেই বলছে। অবাক হয়ে বললাম, ‘কোথায়?’

    ‘কুম্ভমেলায়? কেন, আমি যেতে পারিনে?’

    এই সামান্য জিজ্ঞাসায় তার চোখের ব্যগ্রতা দেখে আরও অবাক হলাম। কেন যেতে পারবে না! কিন্তু তার কথা শুনে আমার সন্দেহ হলো, জিজ্ঞেসা করলাম, ‘তোমার কি অসুখ করেছে?’

    সে-কথার কোনো জবাব দিল না সে। খানিকক্ষণ ধরে চিবুল কমলালেবু। তারপর আপনা থেকেই বলতে আরম্ভ করলো। তার একটানা কণ্ঠস্বর একান্ত হয়ে গেল ট্রেনের

    শব্দের সঙ্গে। বললো, বাড়ি তার বালিয়া জেলায়। কাজ করতো কলকাতার শহরতলীর এক কারখানায়। সেখানে আছে তার বউ, তার ছেলেমেয়ে। বউও কাজ করে। না, তার চেহারা দেখে যেন বয়স ঠিক না করে ফেলি। বয়স তার মাত্র আঠাশ। বউ তার বাইশ বছরের জোয়ানী অওরত। বেচারা তাকে খাওয়া-দাওয়া সবই দিচ্ছিল। সে যে বড় ভালো লড়কী। কিন্তু–

    তার রুগ্ন চোখে ফুটে উঠলো অসহ্য যন্ত্রণা। ‘আর সহ্য হয় না এই ব্যামোর কষ্ট, তাই চলেছি কুম্ভমেলায়।’

    বললাম, ‘কেন?’

    এবার তার অবাক হওয়ার পালা। তাই সেই কোটরগত বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘কেন, তুমি জানো না? তবে তুমি কেন চলেছ? জানো না, অসুরের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেবতারা তাঁদের অমৃতকুম্ভ প্রয়াগ-সঙ্গমে লুকিয়ে রেখেছিলেন?’

    বললাম, ‘শুনেছি।’

    তেমনি মিষ্টি হেসে সে বললো, শুধু শোননি, কেন দুনিয়ার মানুষ যায় সেখানে? কেন মহাপুরুষ সাধুরা আসেন সেখানে স্নান করতে? তাদের চেহারা দেখ নি, কী সুন্দর! কী তার বাঁধুনি! কুম্ভযোগে সঙ্গমে স্নান করলে মানুষ শত বছর পরমায়ু পায়, রোগমুক্ত হয়। তাই তো .. আমি যাচ্ছি।’

    বলতে বলতে আলোকিত হয়ে উঠলো তার কালো কঙ্কাল মুখ। বোধ হয় খানিকটা উত্তেজনাও এসেছে তার। কীসের একটা বেগ আসছে তার হৃৎপিণ্ড থেকে। সে তাড়াতাড়ি আবার কম্বল মুড়ি দিল। কম্বলের ভেতর থেকে শুনতে পেলাম একটা ঘড়ঘড় শব্দ, তার সঙ্গে দেহাতী ভাষায় ছন্দিত ঈশ্বরের নাম।

    ঘুমন্ত কামরা। বাইরে অন্ধকার। আকাশে অস্পষ্ট নক্ষত্র। গাড়িটা হুড়মুড় করে ছিটকে গেল আরেকটা লাইনে। কত রাত কে জানে!

    মিথ্যে বলেনি যুবকটি। ব্যর্থ হয়নি আমার প্রহরা। ফৌজের মতনই বাধা দিয়েছি জন-বন্যার পাগলা গতি।

    কিন্তু এই মানুষটি, ওই কম্বলের পুঁটুলিটি কী অপূর্ব! ভাবতে গেলাম, কিন্তু ভাবা হলো না। লোকটির গা থেকে খসে পড়েছে কম্বল। বুকে হাত দিয়ে কাশছে ঘং ঘং করে। কাশির ফাঁকে ফাঁকে বলছে রুদ্ধগলায় : ‘উঃ, বড় তখলিফ, বড় তখলিফ। এখন নয়, হে ভগবান! সে যে অনেক দূর, অনেক দূর।’

    কী অনেক দূর! ভীত বিস্মিত হয়ে তার অসহ্য যন্ত্রণা দেখতে লাগলাম। বললাম, ‘কী বলছো?’

    সে বললে, ‘খুলে দাও দরজা, জিঞ্জির খুলে দাও। প্রাণ গেল হে ভগবান! এখনো অনেক দূর।’

    দরজা খুলে দেব! চাবুকের আঘাতের মতো ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাপটা বাইরে। দরজা খুলে দেব কি!

    সে কাশতে কাশতে চেঁচিয়ে উঠলো, ‘খুলে দাও বাবু, খুলে দাও।’

    কথা শেষ হলো না। তার কম্বলের উপর কী যেন চকচক করে উঠলো। তরল পদার্থ। রক্ত। রক্ত তার ঠোঁটের কশে। রাজরোগ যক্ষা।

    সে যে অমৃতকুম্ভ সন্ধানের যাত্রী। সে যে শত বছরের পরমায়ুসন্ধানী। এ গাড়ি কি পথ ভুল করেছে!

    আর আমি! কত কথা বলেছি নিজের মনে। অমৃতকুম্ভকে হুদিকুম্ভ নাম দিয়ে চলেছি ছুটে। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হলো, কোথায় পালাই। চোখের সামনে কিলবিল করছে জীবন্ত মৃত্যু জীবাণু। পালাও পালাও। বিচিত্রের সন্ধানী, অমৃতের সন্ধানী ভুল করে পা দিয়েছি যমের দোরে।

    আশ্চর্য! কেউ উঠলো না ঘুম থেকে। কাশির শব্দে বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে শুলো কেউ কেউ। আমি খুলে দিলাম দরজা। বুঝতে পারিনি যে, গাড়ি একটা স্টেশনে এসেছে। ছুটে গেলাম গার্ডের কাছে। গার্ড বললেন, ‘কুড়ি মিনিট দেরিতে দৌড়াচ্ছি আর এখনো রাত রয়েছে, কাকে বলতে যাব বলুন! আপনি তার চেয়ে কামরাটা বদলী করে ফেলুন।’

    সেই ভালো, ওই কামরাটি ছাড়া আর সব কামরাতেই আছে অমৃত কুম্ভ! মৃতসঞ্জীবনী। এসে দেখি, ভয়ানক ব্যাপার। ফৌজ নেই দরজায়, বিনা বাধায় ঢুকছে সব বেনো জলের মতো। প্রায় কুড়িখানেক মাথার উপর মাথা। অন্ধকূপ হত্যার জীবন্ত ছবি।

    চেঁচিয়ে মারামারি করে কোনোরকমে নেমে এলাম নিজের ঝোলাঝুলি নিয়ে। কিন্তু কেউ দরজা খোলে না। আমি এক দ্বাররক্ষী, পড়েছি অনেক রক্ষীর হাতে। কেউ কথাই বলে না। কিন্তু পড়েও থাকতে পারি না। মন তো আবার বলছে, চলো চলো।

    গাড়ি ছেড়ে দেয়। ছুটে গিয়ে উঠলাম একটা আপার ক্লাস কামরায়। তীরের মতো ছুটে এলো কয়েক জোড়া আধ-ঘুমন্ত চোখের বিরক্ত সন্দেহান্বিত দৃষ্টি। গুটিকয়েক অবাঙালি মহিলা ও পরুষ। অস্ত্র ছিল একটি। পরিষ্কার ইংরেজিতে বললাম, ‘একটু বিপদে পড়ে উঠে পড়েছি। যাব এলাহাবাদ। সুযোগ পেলেই নেমে যাব, আপনাদের কষ্ট দেব না।’

    চেহারা দেখিয়ে সব বোঝানো যায় না। কথা শুনিয়ে অনুমান করাতে হয়। একটু একটু করে বিরক্ত চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক হয়ে এলো। তারপর একটু বা কৌতূহল। তারও পরে আপার ক্লাস গদির সামান্য একটুখানি জায়গার প্রতি অঙ্গুলিসঙ্কেতের করুণা।

    দাম আছে এই প্রত্যাশিত করুণার। করুণা কেন, সভ্যতাই বলা যাক না। বুঝলাম, দু’টি পরিবার রয়েছে কামরাটিতে। একটি পরিবার অন্ধ্রের, আর একটি মধ্যপ্রদেশের। জায়গা দিলেন অন্ধ্রের এক ভদ্রলোক। এঁরা তীর্থযাত্রী। কলকাতার কালীঘাট দর্শন করে চলেছেন প্রয়াগসঙ্গমের কুম্ভমেলায়। ঘুরেছেন আরও অন্যান্য জায়গায়। প্রয়াগ হয়ে চলে যাবেন দেশে। অনেক কথা হলো। বললেন, ‘আপশোস রয়ে গেল, কল্যাণী কংগ্রেস দেখা হলো না।’

    সে আপশোস ছিল আমারও। কিন্তু একটা দেখতে গেলে আর একটা ছাড়তে হবে, উপায় কী? তারপর ভদ্রলোক হঠাৎ বললেন, ‘আপনি কেন চলেছেন প্রয়াগে?’

    ভদ্রলোকেরা তিন ভাই। তিনজনেই অদ্ভুত কালো। যাকে বলে নিকষ কালো। মাথার চুলও তিনজনেরই ঘন কুঞ্চিত। সঙ্গে বড় ভাইয়ের বউ। আজানুলম্বিত বেণী ঝুলে পড়েছে সিটের নিচে। দু’টি কানে গুটি আটেক সোনার মাকড়ি, নাকের দু’দিকে দু’টি নাকছাবি। ঘোমটা নেই। কিন্তু ইংরেজি জানে বলে মনে হয়। তাঁরা তিন ভাই ও এক ভাজ, চারজনেই আমার জবাব শোনার জন্য মুখের দিকে তাকালেন।

    লজ্জা পেলাম। বললাম, ‘কেন, যেতে নেই?’

    ‘নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু ইয়ংম্যানেরা তো এ সব বড় একটা—’

    বললাম, ‘পছন্দ করে না বলছেন তো? ঠিকই। আমিও মাথা মুড়োতে যাচ্ছি না। দেখুন, আমাদের জীবন বড় সীমাবদ্ধ। গণ্ডীবদ্ধ জীবনদর্শনের কচকচি নিয়ে আমরা দিনগত পাপক্ষয় করি। কিন্তু নিজের দেশের কতটুকু জানি! দেখেছি কতটুকু! আমাদের দেশের কোটি কোটি মানুষ যা নিয়ে মরে বাঁচে (তা ভালো কি মন্দ জানি নে), সে তার জাতীয় বিশেষত্ব নিয়ে যেখানে মিলিত হয়, যেখানে আমাদের সমস্ত জাতি হাসে কাঁদে গান গায়, তাকে ইয়ংম্যান হয়ে আমি অবহেলা করবো কী করে! যদি আমার হাসি পায়, তবে আমি কাঁদবো। যদি নুয়ে আসে মাথা তাকে আমি মিথ্যে অহংকার দিয়ে জোর করে তুলে ধরবো না। আমি যদি থাকতে পারি নিরাসক্ত তা-ই থাকবো। এত বড় দেশ, এত মানুষ, কত তার বৈচিত্র্য! আপনাদের দেখবো বলেই তো এসেছি। না এসে পারলাম না।’

    আবার বিচিত্রের কথা। ধক করে উঠলো বুকের মধ্যে। এই একই গাড়ির কয়েকটা বগীর পেছনে রয়েছে সেই মানুষটা। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি তার সেই যন্ত্রণাকাতর মুখ। এতক্ষণ কী করছে সে? কেমন আছে?

    এঁরা আমার কথা শুনে মুগ্ধ হয়েছেন কিনা জানি না, বিস্মিত হয়েছেন বুঝলাম। কিন্তু আমার আর কথা বলতে ইচ্ছা করলো না। এঁদের কৌতূহল ছিল অনেক, মেটাতে পারলাম না আর।

    কাচের সার্শির বাইরে দেখছি আকাশ ফর্সা হয়ে আসছে। রক্তিমাভা দেখা দিয়েছে পূর্ব দিগন্তে। গাড়ি এসে দাঁড়ালো মোকামাঘাটে। নেমে গেলাম প্ল্যাটফরমে। নিচু প্ল্যাটফরম। উত্তুরে হাওয়া দুরন্ত ঝাপটা মারছে। গায়ের মোটা ওভারকোটটা পর্যন্ত পাতলা কাপড়ের মতো উড়তে লাগলো।

    বিহারের চেহারা এখন শ্যামল। দিগন্তবিস্তৃত মাঠে ছোলা আর মটর অড়হরের কিশোরী ডগা দোলাচ্ছে মাথা। মাথা তার হলুদ ফুলে গিয়েছে ছেয়ে।

    গাড়ির পেছন দিকে ভিড় দেখে এগিয়ে গেলাম। আর একবার চমকে উঠলো বুকের মধ্যে। লাল কাঁকরের উপর শোয়ানো রয়েছে সেই মানুষটি। অমৃতসন্ধানী। মুখটি খোলা। শরীর ঢাকা কম্বলে। সে যেন চোখ বুজে ঘুমোচ্ছে!

    মনে পড়ছে সেই বালকের মতো আবদারের সুর, ‘আমিও যাব।’ কেন? না, বাঁচবার জন্য।

    আমার যাত্রাপথের প্রথমেই বিচিত্র এই মৃত্যু দৃশ্য। কে জানতো, অমৃতসন্ধানীর পেছনে পেছনে মৃত্যু এসে এই কামরায় ওত পেতে ছিল সুযোগের অপেক্ষায়। তাই সে বার বার বলেছিল, ‘হে ভগবান, সে যে এখনো অনেক দূরে।’

    গাড়ির দরজায় দরজায় কুম্ভযাত্রীর মারামারি, চিৎকার হল্লা। সবাই যাওয়ার জন্য পাগলের মতো ছটফট করছে। তুমি পড়ে রইলে। সে যে এতদূর, তা আমিও জানতাম না। তোমার হয়ে আমি হাজারটা ডুবও যদি সঙ্গমে দিই তাহলেও তোমার আশা আর কোনোদিন মিটবে না। তুমি পড়ে থাকো, আমাদের পরমায়ু নিয়ে আমরা ছুটে চলি। এটাই নিয়ম।

    সত্যি এ নিয়ম বড় বিচিত্ৰ।

    কত সুখ দুখ আসে নিশিদিন।

    কত ভুলি কত হয়ে আসে ক্ষীণ।

    নইলে বাঁচতাম কী করে! মনে পড়ে, একটা আধপাগলের মুখ থেকে একবার শুনেছিলাম, ‘শুনি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্থল। জল আমাদের দুঃখ, স্থলটুকু আমাদের সুখ।’

    সেই অপার দুঃখকে ভুলে থাকা ছাড়া উপায় কী? সামান্য সুখের মুখ দেখলেই দুঃখ ভুলে যাব।

    তাড়াতাড়ি সেই আপার ক্লাসে এসে তুলে নিলাম নিজের ঝোলাঝুলি। অন্ধ্রের বড়ভাই বললেন, ‘কোথায় চললেন?’

    বললাম, ‘আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি, এবার নেমে যাই।’

    ‘কেন, বসুন না। শুধু শুধু আর কামরা বদলি করে কী হবে। একেবারেই এলাহাবাদে গিয়ে নামবেন।’

    ভাবলাম, উনি হয়তো জানেন না যে আমার তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট। বললাম, ‘উপায় নেই থার্ড ক্লাসের টিকিট।’

    কিন্তু ভদ্রলোক কিছুতেই নামতে দিলেন না। মনে হলো তাঁদের সমস্ত পরিবারটিই নামতে দিতে চান না। চোখমুখ কুঁচকে ভদ্রলোক এমন একটি ভাব করলেন যে, সামান্য টিকিটের জন্য আবার এত ভাবনা কীসের। কিন্তু আমি তো জানি, কালো-কোটধারী একজন আর কর্মচারী সময় বিশেষে কী দারুণ বিভীষিকা। অপমানের ভয়টাই বড়। তাছাড়া আর কী!

    তবু বসতে হলো ভদ্রলোকের আগ্রহে। বুঝলাম, ওদিকে মধ্যপ্রদেশের পরিবারটি রুষ্ট হয়েছেন। রুষ্টতার সঙ্গে কিছুটা বিদ্রূপ।

    সমুদ্রোপকূলবর্তী প্রদেশের মানুষগুলো বোধ হয় একটু বেশি সেন্টিমেন্টাল। নাকি ইংরেজিতে বলে ‘টাচি’, বোধ হয় তাই। অর্থাৎ আবেগপ্রবণ। সেই আবেগপ্রবণতা মধ্যপ্রদেশের লোকের কাছে ন্যাকামো মনে হতে পারে। আমার উঠে যাওয়াতেই বা কী এমন ভদ্রতা প্রকাশ পেতো।

    কিন্তু এক-একটা সময় আসে, যখন মনকে দিয়ে যা খুশি তাই করাতে পারি নে। অন্ধ্রের লোক আলোচনা পেড়ে বসলেন ধর্মতত্ত্বের। অথচ মন পড়ে রইলো মোকামাঘাটে। মোকামাঘাটের বিছানো লাল কাঁকরের বুকে, যেখানে শুয়ে রয়েছে আমাদের অনেকের সহযাত্রী। তাছাড়া ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় আমার অধিকারই বা ছিল কতটুকু!

    পায়ের কাছেই দেখছি ছেঁড়া কম্বল ঢাকা দিয়ে শুয়ে আছে একটি মানুষ। বেরিয়ে আছে শুধু মুখটি। ঘুমন্ত মুখ। বয়স ঠাওর করা মুস্কিল। মুখের উপর ছড়িয়ে আছে একরাশ রুক্ষ চুল। ভাবলাম, এদেরই কারুর চাকর-বাকর হবে।

    গাড়িটা হঠাৎ লোকালের মতো থামতে থামতে চলেছে। শত হলেও পশ্চিমদেশ। ভোরের আলোয় যাকে দেখেছিলাম শ্যামাঙ্গিনী, রৌদ্রালোকে দেখলাম শ্যামাঙ্গিনী কিঞ্চিৎ রুক্ষ। যত দূরে চোখ যায়, শুধু জনহীন মাঠ আর মাঠ। অড়হর, কলাই, মুগ আর মুসুরির মাঠ ঠেকেছে গিয়ে আকাশের গায়ে। মাঝে মাঝে হঠাৎ ক্লান্ত চোখের সামনে ভেসে উঠছে গ্রাম। এ গ্রাম কালকাসুন্দের বনঝোপ আর আম-জাম-সুপুরি-নারিকেলের ছায়া-শীতল গ্রাম নয়। আমবাগান আছে বটে, থোকো থোকো কাঞ্চনবরণী বোলে ভরে উঠেছে তার সর্বাঙ্গ। আর আছে তালবন। তারই ফাঁকে ফাঁকে মাটির দেয়াল আর খোলার ছাউনি দেওয়া বস্তি।

    অন্ধ্রের ভদ্রলোক হঠাৎ বললেন, ‘আপনি বোধ হয় আমার কথা ঠিক ধরতে পারছেন না। না না, আমি আপনাকে খুব বড় কথা কিছু বলছিলাম না। আমি শুধু আপনাকে—’ বলতে বলতে থেমে গেলেন। নিতান্ত হুঁ-হাঁ দিয়ে কাজ সারছিলাম। লজ্জা পেয়ে ফিরে তাকিয়ে দেখি, তিনি আপন মনে মাথা নাড়ছেন। মাথা নামিয়ে বসে আছেন দুই ভাই। আর তাঁর স্ত্রী তাকিয়ে রয়েছেন বাইরের দিকে। কিন্তু কিছু দেখছেন না। মন-চোখ তাঁর এদিকেই। চোখ দু’টি ছলছল করছে। লজ্জিত করুণ মুখে সামান্য হাসির আভাস জোর করে ফুটিয়ে রেখেছেন তিনি।

    তারা চারজনেই যেন বড় বিমর্ষ হয়ে উঠেছেন। মনে মনে অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে তাড়াতাড়ি বললাম, ‘হ্যাঁ, আপনি বলেছিলেন উপনিষদে যে সমস্ত প্রাকৃত—’

    ‘না না, অতবড় কথা আমি বলতে পারবো না। আমি বলেছিলাম,’এক মুহূৰ্ত ইতস্তত করে বললেন তিনি, ‘জানেন, আমাদের এই চারজনের পরিবারটি একেবারে অভিশপ্ত। আমি নিজে এক জন সরকারী কর্মচারী, আমার ভাই দু’জনও তাই। আমাদের অর্থের অভাব নেই। শুধু একটি অভাবে আমরা সর্বহারা হয়েছি, আমরা পাগলের মতো ঘুরে মরছি সারা দেশ। এই আমাদের কুলগুরুর নির্দেশ।’

    অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, কথা বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে উঠেছেন তিনি। উত্তেজনার পাল্লা দিয়ে হু-হ রক্ত ছুটে আসছে তাঁর স্ত্রীর মুখে। স্বামীর দিকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে তিনি বোধ হয় নিরস্ত করতে চাইছিলেন স্বামীকে। কিন্তু লজ্জায় কিছু বলতে পারছিলেন না।

    আমার দিকে চোখ পড়তেই মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আশ্চর্য! মনে হলো, তাঁর ঠোঁট দু’টো কেঁপে উঠলো। তাঁর দক্ষিণী সমুদ্রের অতল ডাগর চোখে ঝিকমিকিয়ে উঠলো অশ্রুর মুক্তাবিন্দু। সপ্তরশ্মি খেলে গেল তাঁর গ্রাম্য নারীর মতো কানে পরা অনেকগুলি পাথরখচিত কর্ণভূষণে। ক্লান্ত কালনাগিনীর মতো পিঠের উপর এলিয়ে পড়ে রইলো রুক্ষ বেণী।

    আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। ভুলে গেলাম কুম্ভসহযাত্রীর কথা। কৌতূহলপূর্ণ মন নিয়ে, জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইলাম, তিন ভাই ও এক বউয়ের দিকে।

    বড় ভাই তাঁর স্ত্রীকে লক্ষ করেই চুপ করে গিয়েছিলেন। আবার বললেন নিচু গলায় ‘জানেন, প্রয়াগের আর-এক নাম তীর্থরাজ। এইবারই আমাদের শেষ, আমাদের আশা-নিরাশার পরীক্ষার শেষদিন এগিয়ে আসছে। এইবারই আমাদের সমস্ত সঞ্চিত পাপ নষ্ট হয়ে যাবে। সংসার পাতবে আমার ভাইয়েরা, আর আমার—’

    তাঁকে বাধা দিয়ে এক ভাই নিতান্ত দুর্বোধ্য ভাষায় কী বলে উঠলেন। মনে হলো, তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে কিছু বললেন। তিনিও স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে তেমনি দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু বললেন। কিন্তু মহিলাটি কোনো জবাব দিলেন না।

    আমি যেন এক রহস্যনাটকের বিস্মিত নীরব দর্শক। ভদ্রলোক এবার হাসবার চেষ্টা করে বললেন, ‘আপনি বলছিলেন, অনেক কিছু দেখতে চলেছেন আপনি। আপনার দুর্ভাগ্য যে, আমার মতো একজন লোকের সঙ্গেও আপনার আলাপ হয়ে গেল। কিছু মনে করবেন না, আমি আমাদের নিতান্ত ব্যক্তিগত একটা কথা আপনাকে বলছিলাম।’

    সমস্ত সংকোচ কাটিয়ে আমি বললাম, ‘কিন্তু আপনার কথা আমি কিছু বুঝতে পারি নি।’

    তিনি বললেন, ‘ক্ষমা করবেন। আমার স্ত্রীর বড় কষ্ট হচ্ছে। আপনি আসবেন আমাদের ক্যাম্পে। পাণ্ডার কাছে আমাদের খবর পাবেন। আপনি এলে আমরা খুব খুশি হব।’ বলে, তিনি আমাকে সিগারেট দিয়ে আপ্যায়িত করলেন। তাঁর স্ত্রী তাকালেন শান্ত চোখে কৃতজ্ঞতা নিয়ে, তাঁর আত্মভোলা স্বামীর এবং আর আমার দিকে। আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা, বোধ হয় আর কৌতূহল না প্রকাশ করবার জন্য।

    বুঝলাম, ভদ্রলোকের ধন মান ও বিলাসের তলে বুকে একটি পাথর চেপে আছে। নিজের অজ্ঞাতসারে কয়েক মুহূর্তের জন্য সরে গিয়েছিল সেই পাথর। মন পেতে বসেছিলেন এক অপরিচিত নগণ্যের কাছে।

    মন পাতা হলো, মনের কথা হলো না। এখানে পরস্পরকে গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় কী! ভবিষ্যতের আশা রইলো কিনা কে জানে! আশা এইটুকু, পথের দেখা পথেই শেষ হবে না। আমরা সকলেই চলেছি এক মহাসঙ্গমে। সেখানে হবে মিলন, তারপরে বিদায়। মিলন মুহূর্তে এক হয়ে যায় হাসি-কান্না। সেই হাসি-কান্নার কলরোলে যদি শুনে নিতে পারি তাঁর কথাটি, সেটুকু লাভ।

    এখন শুধু মনে রইলো, তাঁদের পরিবারের মধ্যে একটা ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে তারই প্রায়শ্চিত্ত করে ফিরছেন তাঁরা। প্রায়শ্চিত্তের শেষ দিন আগত। গরলে হবে অমৃতের উদ্ভব ভরে উঠবে তাঁদের তিন ভাইয়ের সংসার।

    এমনি ভরিয়ে তোলার জন্যে ছুটে চলেছে লক্ষ মানুষ। লক্ষ জনের লক্ষ রকম কামনা। আমিও চলেছি তেমনি এক কামনা নিয়ে।

    কিন্তু আর কতদূর? পুব আকাশের কোল ঘেঁষে দেখা দিয়েছে বিন্ধ্যাচলের উঁচু-নিচু মাথা। বেলাও হয়েছে মন্দ নয়।

    পায়ে মৃদু চাপ অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি, পায়ের কাছে শোয়া সেই মানুষটি। মুখের চুল সরিয়ে ধূলিরুক্ষ মুখ ভরে হাসছে। তাকাতেই ওই অবস্থাতেই কপালে হাত ঠেকিয়ে নমস্কার করলো।

    অবাক হলাম! এদের কারুর লোক নয় নাকি! বললাম, ‘কিছু বলছ আমাকে?’

    ‘একটা বিড়ি দেন

    প্রথমেই বিড়ি, তাও আবার প্রাণের ভাষায়। অর্থাৎ বাঙলা কথায় বুঝলাম, এদের কেউ নয়। বললাম, ‘এখানে উঠলে কী করে?’

    হেসে বললো, ‘উঠি নি, উঠিয়ে দিলে নোকেরা। কাল রাতেই আপনার মুখখানি দেখে মনে হয়েছিল, এ আমার চেনা মুখ। এখন দেখছি, ঠিক তাই!’

    ‘চেনা মুখ? কী করে চিনলে?’

    ‘কেন! এই তো এতগুলোন মুখ রয়েছে। আমার দেশের মানুষের মতো মুখখানি আর ক্যার আছে, আপনি বলেন।’

    ভাবলাম, ধন্য তোষামোদ! কী ভাগ্যি বলে নি বাড়ির কাছের মানুষ! বিড়ি তো নেই। প্রাণধরে দিলাম একটা সিগারেট।

    তার কালা মুখের হাসিটি আরও মধুর করে বললো, ‘ছিগরেট দিলেন? তবে এট্টুস নিধমের হাতটা ধরুন, উঠে বসি।’

    নিধম মানে অধম করে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু হাত ধরে ওঠাতে হবে কেন বুঝলাম না। বললাম, ‘কেন?’

    তেমনি হেসে পায়ের উপর থেকে তুলে নিল ছেঁড়া কম্বলটা। দেখলাম, পা-দুটো হাঁটুর কাছ থেকে বেঁকে ঠেকে রয়েছে পাছার কাছে। উঠে বসতে হয়তো পারে, তবে অবলম্বন চাই।

    হাত বাড়িয়ে দিলাম। উঠে বসলো সে। একটু বিরক্ত হয়েই বললাম, ‘রাস্তায় বসে বসে খাচ্ছিলে, আবার পথে পথে কেন?

    ‘রাস্তায়?’ হাসতে হাসতে বললো, ‘ভিক্ষের কথা বলছেন? তাই-ই, তবে রাস্তায় তো বসিনি কখনো। পড়ে থাকতাম এক কোণে। রাস্তা আর পথ, যা-ই বলেন এই পেখম থাকতে পাইরলাম না কিছুতেই। দ্যান, দিয়াশলাইটা দ্যান।’

    দেশলাই দিয়ে বললাম, ‘যাওয়া হবে কোথায়?’

    ‘যেখানে সব্বাই চইলছে, সেইখেনে। পেরাগের মেলায়।’

    ‘আসছ কোত্থেকে?’

    ‘নদে জিলা। আমঘাটার নাম শুইনছেন, নবদ্বীপের কাছখেনেই? সেইখেনে নক্কীদাসীর আখড়ায় নাম-গান করি। আমি মূল গায়েন।’

    বললাম, ‘বৈষ্ণবেরাও কুম্ভের মেলায় যায়?’

    সে তাড়াতাড়ি কপালে হাত ঠেকিয়ে বললো, ‘আরে বাপরে, বোষ্টম যাবে না তো যাবে কে? তীখখানি তো বোষ্টমের। ভাগাভাগির কথা যদি বলেন, অন্য মতের সাধকেরা তো জোর করে ভাগ বইসেছে। শিবভক্তরা আইসবে বটে, তবে বিষ্টুভক্তি না চাইলে পেরাগের মাটি আপনার পেন্নাম নেবে না।’

    নাকমুখ দিয়ে একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে বললো, ‘এটা হলো ঝগড়ার কথা। এ কথা বাদ দেন। ওনার কাছে, ভাগাভাগি নাই, জাত নাই। যানার কাছে এলেম, তারে না ডেকে দলের মারামারি করে লাভ?’

    বললাম, ‘এলে তো, ওই পা নিয়ে যাবে কী করে?

    সে হাসলো। হাসি তার মুখের ভূষণ। অনর্গল ধোঁয়ার জালের আড়ালে আড়ালে দেখলাম ভিজে ওঠা চোখ দু’টো মুছে নিল। বললো, ‘বাবু, আমার নাম মা-খেগো বলা। অর্থাৎ কিনা বলরাম। আমারে জম্মো দিয়ে মা আর সামলাতে পারে নাই, মরে গেছিল। এই পা দু’টোর জন্যিই। জম্মো-লুলা বইসে ছিলেম, কবে সেদিন আইসবে, যেদিন বেরিয়ে পড়বে। তা এই পা দু’টোর জন্যি পড়ে থাকতি বলেন? বুকে হেঁটে যাব।’ বলে, সে গলা ছেড়ে গান ধরে দিল-

    ‘অগো আইসবে বলে
    পথের মাঝে জীবন কেটে গেল,
    তুমি এমনি খেলা খেল।
    সবুর-মেওয়া রইলো মাথায়,
    চইলব এবার যথায় তথায়,
    রোদবিষ্টি আশীর্বাদী।
    আমার মাথায় ঢেলো।।’

    সকলেই কিছুটা চমকে উঠেছিলেন, আমিও। কিন্তু মা-খেগো বলার গলাটি এমনি উদার ও মিষ্টি যে, ভেসে গিয়েছিলাম। লক্ষ্মীদাসীর মূল গায়েন বলে আর অস্বীকার করার উপায় ছিল না বলরামকে।

    বোধ হয়, গানটা আরও বাকি ছিল। মধ্যপ্রদেশের সগুম্ফ বিরাটকায় ভদ্রলোক খেঁকিয়ে উঠলেন, ‘ক্যায়া, অভি গানা ভি শুরু কিয়া?’

    বলরাম হাতজোড় করে বললো, ‘আজ্ঞে কী বললেন কর্তা?’

    ‘উসব কতা ফতা নাহি জানতা, গানা বন্দ কর।

    অজেয় হাসি বলরামের। বললো, ‘আচ্ছা বাবু, আর করেগা নেই।

    আমি তাকালাম অন্ধ্রের পরিবারটির দিকে। তাঁরা তাকালেন আমার দিকে একটা চাপা ও অর্থপূর্ণ হাসি বিনিময় হলো আমাদের মধ্যে

    বড়ভাই বললেন, ‘আপনি এই ভিক্ষুকটিকে চেনেন?’

    বললাম, ‘না। চেনা হয়ে গেল।’

    বলরাম আমাকে আবার ডাকলো, ‘বাবু।’

    বললাম, ‘বলো।’

    ‘বাবু, মুনিঋষিরা কথা না কইয়ে জীবন কাটিয়ে দেন। আর আমরা? কাল রাত থেকে মুখ বন্ধ। আর চুপ কইরে থাকতে পারি না। আমার কষ্ট হইবে, সেই ভেবে নক্কীদাসী আমারে এই বাবু-কামরায় উঠিয়ে দিয়ে গেল। কিন্তুন, নক্কী যদি নরকে থেকেও সঙ্গে নিয়ে যেইতো তবে বাঁচতাম।’

    বললাম, ‘লক্ষ্মীদাসীকে ছাড়া বুঝি থাকতে পারো না?’

    বলরাম হাসলো মাতালের মতো। বললো, ‘বাবু, পা দুইখান নাই, কিন্তুন মানুষ তো। তাই মানুষ ছাড়া থাইকতে পারি না। থাইকলে নিজে নিজে গান গেইয়ে নিজের পরান তোষ করি। যাচ্ছি পেরাগে জাগ্রত বেণীমাধবের ঠাঁইয়ে। ওঁয়ার কাছে নক্বীদাসী, আপনি, সবাই যাচ্ছেন, সবারে পাব সেখানে। ওই যে বলে না, বলে সে চাপা গলায় গুনগুনিয়ে উঠলো-

    ‘মাত্তর দু’দিন বইলে কাছে।
    মনে কষ্ট হয় পাছে,
    তাই, যাবার সময় বইলে গেলে
    আরশিখানি লয়ে কোলে।
    দেখিস, সে তোর বুকে আছে।’

    বলে, সে তার নিজের বুকের দিকে আঙুল দিয়ে দেখালো।

    বললাম, ‘বলছ বোষ্টম। গানে ত দেখছি পাক্কা বাউল।’

    বলরাম খপাত করে পায়ে হাত দিয়ে বলে ডঠলো, ‘খাঁটি কয়েছেন। আপনি জানেন, জানেন সব। যাবার কথা শোনা ইস্তক মন বাউরা হইছে। আজ পথে আসছি, আর চাইপতে পারি না মনটারে। বাবু, বৈরাগ্য এইলে বেরাগী হয়। আসলে আমরা সব্বাই বাউল। সব গানেতেই আপনি ওইটি পাবেন। আবাগী রাই-কিশোরী যে প্রেমে পাগল হইয়ে পথে পা দিছিল, সেও তো একই ব্যাপার।’

    পা ছাড়িয়ে নিতে তাড়াতাড়ি বললাম, ‘পা ছাড়ো হে।’

    ‘কিন্তু বাবু, আপনি নিশ্চয় গুণী মানুষ। আমারে দুই-একখান পদ শোনান।’

    বলরামেরা এমনিতেই পাগল। তাদের খ্যাপালে আর রক্ষে নেই। বললাম, ‘পাগলামি কোর না বলরাম। আমি গুণী নই, গানও গাইতে জানি নে।’

    কিন্তু অস্বীকার করতে পারি না, বলরাম আমার এই নীরস শহুরে বস্তুতান্ত্রিক মনকে ভাসিয়ে নিয়েছে তার নিজের স্রোতে। আমার পথের ক্লান্তি, আমার এতক্ষণের ছোটখাটো সুখদুঃখ, সব ডুবিয়ে দিয়েছে সে। আমার জমকালো ওভারকোটটাকে রেয়াত করলো না একটুও। বাবুর মতো মানলো না বাবু বলে। বিকলাঙ্গ বলরাম সমস্ত আড়ম্বর ও আবরণের ভেতর থেকে টেনে বের করে দিল আমার শুষ্ক দেহের ভেতরের মনটাকে। নিজের সঙ্গে তার তুলনা করতে গেলে কোথায় ঠাঁই পাব জানি না। কিন্তু, অন্ধ সংস্কারের বশেই কি বিকলাঙ্গ বলরাম এমনি নিরত হেসে-গেয়ে মূর্তিমান আনন্দের প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছে? বিশ্বাস করতে মন চায় না। কুসংস্কারের এক চিমটি বেলুনে-ঠাসা জীবন তো এ নয়! না-থাকা ও না-পাওয়ার বেদনা বলরামের প্রাণে তাড়া দিয়েছে। তাড়া দিয়েছে প্রেমসন্ধানের, ভালবাসার। বলরাম ভালোবাসে জগৎ সংসারকে।

    বলরাম কিন্তু আমাকে ছাড়লো না। সে তেমনি গুনগুন করে চলেছে, ‘পথের ধুলো সোনা হইল, এবার চোখের জল দিয়ে রসকলি কাটবো/তোমারে ছেইড়ে তো দিব না।’

    গান ছেড়ে আবার কথা আরম্ভ করলো, ‘আর ভাববো না, সে কতদূর। গাড়ি তো একসময় থামবে। সময় হইলে আপনি নামিয়ে দেবে। কী বলেন বাবু অ্যাঁ?’ বলে আবার

    গান-

    ‘সবাই বলে যৈবন জ্বালা,
    তবে এ যৈবন যাক চলে যাক।
    কী হবে এ কালো কেশে, নীল বেশে
    এ পোড়া অঙ্গ তোমার চরণ পাক।’

    কী ভাগ্যি, গলা নামিয়ে গাইছিল। মধ্যপ্রদেশের ভদ্রলোকের তন্দ্রা ভাঙছিল না তাতে। অন্ধ্রের পরিবারটি অবাক হয়ে পাগলামি ও পাগলামির দর্শককে দেখছিলেন। বললাম, ‘বলরাম, তোমার প্রথম গানটি বেশ। কার গান ওটি?’

    ‘বাবু, ও পদ আতাউলের। আতাউল বাউল তার নাম।’

    বললাম, ‘তোমাকে একটা গানের লাইন বলি শোনো। তমার ঐ গানের মতোই যেন এটিও—

    ‘কবে তুমি আসবে বলে রইব না বসে,
    আমি চলব বাহিরে।
    শুকনো ফুলের পাতাগুলি পড়তেছে খসে,
    আর সময় নাহিরে।।’

    বলরাম আবার আমার পায়ে হাত দিতে এলো, ‘তবে নাকি জানেন না? আর কবে সে আইসবে, সেই আশায় আমি মরা পা নিয়ে বইসে থাকবো! বাবু, পেরাগের সঙ্গমে কি আর হাঁড়ি ভরা মধু আছে? তা নেই। আছে অমর্ত। অমর্ত-কুম্ভ যে! সে-অমর্ত প্রেম-অমর্ত, ডুবলে পরান শীতল হবে। বা-বা! বা-বা! কী সোন্দর পদ! পদখানি ক্যার বাবু?’

    কার পদ! আশ্চর্য! কুম্ভমেলা যাবার পথে কবিগুরুর গান নিয়ে যে এমনি এক মা-খেগো বলার সঙ্গে আলাপ করতে হবে, তা কে জানতো! আর কেমন করেই বা তাকে সে-কথা বলবো!

    বললাম, ‘পদকর্তার নাম রবিঠাকুর।’

    আলোয় আলো হয়ে উঠলো বলরামের চোখ, ‘রবিঠাকুর! ঠাকুর তো বটেই, রবিও বটে। নইলে এমন পদ বেরোয়! তা উনি কোথাকার বাউল বাবু?’

    কোথাকার বাউল! হায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ! বলরাম তোমাকে কোথায় টেনে নিয়ে এলো! তার বুকে ঠাঁই দিয়ে তোমাকে সে খাটো করলো কিনা বুঝলাম না। বললাম, ‘কলকাতা।’

    বলরাম বললো, ‘তা হোক। কেঁদুলির জয়দেবের মেলায় নিচ্চয় দেখেছি ওঁয়ারে, এখন মনে নাই। পোষপুণ্যিমেতে সব বাউল বাবাজীকে এখানে আসতেই হবে কিনা একবার!’

    জানি, এক কথায় রবীন্দ্রনাথের পরিচয় দিতে পারবো না আমি। দু’কথায় রবিঠাকুরের কল্পিত বাউল-মূর্তি অদৃশ্য হবে না বলরামের মন থেকে। আবার এও ভাবি, বলরামের ভুলই বা কোথায়, যে ভুল ভাঙব! মন যার বাউল হয়নি, তিনি বাউল গান গাইলেন কেমন করে।

    আচমকা ঝড় এলো। ঝড়-ই বলি। হঠাৎ একটা তুমুল গণ্ডগোল আর তার সঙ্গে শিলাবৃষ্টির মতো কামরাটার মধ্যে এসে পড়তে লাগলো বাক্স, প্যাটরা, বোঁচকা, পুঁটুলি। প্রতিবাদের অবসর ছিল না। অবসর ছিল না তাকাবার। যে যার মাথা বাঁচাতেই ব্যস্ত। তার সঙ্গে একটা বাজখাঁই মহিলা কন্ঠের চিৎকার, ‘শ্যামা! প্রেমবতী। ইধার, ইধার মে। বুঢ়া কো উঠাও। পাতিয়া, এ পাতিয়া। ছোকরি বহেরা হো গয়ী। শুনতি কি নহি? শ্যামা, হাঁ হাঁ তু কোণে চলে যা।’

    মনে হলো, আমার ঘাড়ের উপর একটা দু-মণি বোঝা পড়ল।

    তারপর ব্যাপারটা যখন একটু শান্ত হলো, তাকিয়ে দেখি, পিঠের কাছে মস্ত বস্তা। বস্তার উপর হয় প্রেমবতী, নয় শ্যামা কিংবা পাতিয়া। তার পায়ের কাছে জুজুবুড়ির মতো এক ঘাড় নোয়ানো বুড়ো। দরজার কাছে দু’টি যুবতী আর এক প্রৌঢ়া। বুঝলাম, ওই প্রৌঢ়ারই কন্ঠস্বর আমি শুনেছি এতক্ষণ। তারা সকলেই মাল সাজাতে ব্যস্ত। বোধ হয় উঠতে পারার আনন্দেই মহিষাসুরমর্দিনীর মতো আমার ঘাড়ের উপরে মহিলাটি খিলখিল করে হেসে উঠে বললো, ‘আরে বাপরে, গাড়ি মে উঠনা এক আজীব কাম হ্যায়।’

    ওদিকে মধ্যপ্রদেশের পরিবারটি যুদ্ধংদেহী অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়তে উন্মুখ। অন্ধ্রের পরিবারটিও সামলাতে ব্যস্ত।

    গাড়ি ছেড়ে দিল। তারপরেই আসল যুদ্ধ শুরু। মধ্যপ্রদেশের সেই ভদ্রলোক খেঁকিয়ে উঠতেই নতুন দলের প্রৌঢ়া গলা সপ্তমে উঠিয়ে আরম্ভ করলো। যা বললো, তার বাঙলা করলে এই হয়, ‘থার্ড ক্লাসের টিকিটই হোক, আর যা-ই হোক, আমি চড়বই। নিয়ে এসো তোমার পুলিশ আর মিলিটারী। আমাকে মারুক আর কাটুক, আমি কিছুতেই পড়ে থাকতে পারবো না। টাকা নেই বলে কি আমি তীর্থটুকুও করতে পারবো না? খালি তোমরাই যাবে? উঠেছি তো বটেই, এবার তোমার যা খুশি তাই করো।’

    তার কথার ফাঁকে ওদিকে দুই যুবতী কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে। আমার ঘাড়মর্দিনীও যুবতী। কিন্তু আমার শক্তির তো একটা সীমা আছে! অবাক হয়ে অবশ্য এও ভাবছিলাম যে, যাবে তীর্থ করতে। কিন্তু সঙ্গে এতগুলি অল্পবয়সী মেয়ে নিয়ে কেন? বাঙলাদেশে তো এর ব্যতিক্রমই দেখি।

    বললাম, ‘এই, দেখিয়ে, আপ উত্তর যাইয়ে হামারা ঘাড়সে।’

    ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো মেয়েটি। ভাবখানা, এ আবার কে গা! তারপর হেসে পরিষ্কার গলায় বললো, ‘আরে ভাই সবকোইকা তলিফ, কিসিকো তো একেলি নহি। এ দেখো, আদমিলোগ ঝগড়া কর রহে!’

    বলে, সে তার বলিষ্ঠ দেহটি সামান্য সরিয়ে আবার ঘাড় বাঁকিয়ে চেয়ে হাসলো। অর্থাৎ, হলো তো? কতখানি হলো, সে আমিই জানি। আর খানিকক্ষণ বাদে আমার উঠে পড়া ছাড়া গতি নেই। কিন্তু–

    কিন্তু বলরাম কোথায়? বলরাম! মা-খেগো বলা? পায়ের কাছে তাকিয়ে দেখি, একরাশ মাল আমার বুকসমান উঁচু হয়ে আছে। তবে কি চাপা পড়ে গিয়েছে বলরাম? এক সহযাত্রীকে রেখে এসেছি মোকামাঘাটে। বলরামকেও রেখে যেতে হবে নাকি?

    কিছুতেই চুপ করে থাকতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি উঠে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে যেখানে-সেখানে ছুঁড়ে ফেলতে লাগলাম মালপত্ৰ।

    যা ভেবেছি, তাই। দেখি বলরাম হাসছে। ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ছে। ফুলে উঠেছে কপালটা, রক্ত ফুটে বেরুচ্ছে, তবুও হাসছে। তার হাসি আমার সমস্ত হৃদয় জ্বালিয়ে দিল। মরতে মরতেও সে হাসবে নাকি?

    হাসুক। তার মতো হাসি তো সকলের নেই। মুখ গোমড়া করে তুলে বসালাম তাকে। মালপত্র ছুঁড়ে ফেলতে দেখে, নতুন দলের সকলে হা-হা করে তেড়ে এলো আমার দিকে।—’আরে আরে, আদমি আন্ধা না কি? দিলে সব মাল চৌপাট করে।’

    বললাম, ‘আন্ধা তো মনে হচ্ছে তোমরাই। তোমরা যে একটা জান চৌপাট করে দিচ্ছিলে।’

    জান! জানো কোথায়! এতক্ষণে উঁকি মেরে দেখলে তারা বলরামকে। কিন্তু বলরাম ছিল তার সেই কপাল-ফোলা মুখ নিয়ে। সে-হাসি দেখে আমার গায়ের মধ্যে আরও জ্বলে উঠলো।

    এক মুহূর্তের নীরবতা। প্রথমে হেসে উঠলো প্রৌঢ়া। তারপর শ্যামা প্রেমবতীয়ার দল।

    হাসির কারণ বুঝলাম না। তাকিয়ে রইলাম বিস্মিত বোকার মতো।

    হাসেনি ওদের একজন, সেই বুড়োটি। সে হাতের লাঠির ডগায় নড়বড়ে থুতনিটি রেখে তাকিয়ে দেখছিল আমাকে। মোটা সাদা ভুর তলায় তার সেই চোখে বিরক্তিপূর্ণ অনুসন্ধিৎসা, এতখানি বেলাতেও তার আপাদমস্তক শাল দিয়ে ঢাকা। তার নাকের দু’পাশের গভীর রেখা দেখে মনে হলো, সে বীতশ্রদ্ধ এ জগৎসংসারের উপর। জীবনে হাসির পালা তার শেষ হয়েছে। আর কোনোদিন সে হাসবে না।

    হাসি থামিয়ে প্রৌঢ়াই প্রথমে বললো, ‘আহা, বেচারা!’

    আর একজন, ‘সাধু নাকি?’

    পার্শ্ববর্তিনী, ‘বোধ হয়।

    প্রৌঢ়া করুণ মুখে বলে উঠলো, ‘শ্যামা, দিয়ে দে বেচারাকে দু-চার পয়সা।

    শ্যামা নামধারিণী অচিরাৎ আঁচলের বদলে ট্যাঁক থেকে এক আনা পয়সা বার করে ছুঁড়ে দিল বলরামের কোলে। তারপর প্রৌঢ়া আমার দিকে ফিরে বললো, ‘আরে ভাই, দেখা নহি উনকো। গোসা না করো।’

    বলেই, আবার তারা তাদের মালপত্র গোছাবার জন্য লাফালাফি, ঘাড়ে ওঠাউঠি শুরু করে দিল। যত না মালপত্র সাজায়, তত সামলায় বুড়োকে। বুড়ো যেন তাদের সাত রাজার ধন এক মানিক। কেন, কে জানে! সেই সঙ্গেই স্ব-ভাষায় কী একটা কথা নিয়ে হেসে খুন হচ্ছে সকলে। আর আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে আমাকে। কেন, তারাই জানে!

    তারা শুধু খ্যাপা হাওয়ার মতো আসে নি। খ্যাপা তারা নিজেরাও। তাদের হাসি কথা কাজ দেখে তাই মনে হয়। যেন খাঁচার পাখি খাঁচাছাড়া হয়েছে। মাতিয়ে তুলেছে বনপালা।

    তাদের চারজনের মধ্যে প্রৌঢ়াসহ তিনজনের দেহে সাবেকী ধরনের সোনার অলংকার। জামাকাপড়েও গ্রাম্য অবস্থাপন্ন পরিবার বলেই মনে হয়। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে এই বাঁধনছাড়া কলকাকলীর মধ্যে তাদের স্বাস্থ্যের ঔজ্জ্বল্য।

    মধ্যপ্রদেশের শার্দুল তখনো হাত-পা গুটিয়ে বসে গজরাচ্ছেন। অন্ধ্রের পরিবারটির শান্তিভঙ্গ হয়েছে বিলক্ষণ। তবু মনে হলো, তাঁরা উপভোগ করছেন সমস্ত ব্যাপারটা।

    বলরাম বিকলাঙ্গ। পরিচয়ও তার সঙ্গে সামান্য। তবু মনটা আমার বিমুখ হয়ে উঠলো তার প্রতি। কী বলে সে আনিটা নিয়ে হাসছে আমার দিকে চেয়ে! যারা অমনি আঘাত করে তার মাশুল দেয় এক আনা, দিয়ে আবার নির্লজ্জের মতো হাসে, তাদের প্রতি বলরামের এত অনুরক্তি কীসের! বলরামেরা চিরকালই এমনি! ছিঃ, ওর সঙ্গে আর কথা বলবো না।

    দু’মিনিট গেল না। বলরাম আবার ডাকলো, ‘বাবু।’

    যেন শুনতে পাই নি, এমনিভাবে তাকিয়ে রইলাম অন্যদিকে। কিন্তু বলরাম চাপা ও খুশি গলায় বললো, ‘এতক্ষণে শুকনা খালে জোয়ার এইল। বাবা! এতক্ষণ এই কামরাটাতে বইসে মনে হচ্ছিল না যে পেরাগে যাচ্ছি। এইবার দেখেন তো, কেমন কলর-বলর গমগম কইরছে।’

    আমি জবাব দিলাম না। কিন্তু সে আপন মনে বলেই চললো, ‘বুইঝলেন বাবু, বলে মানুষ নিয়ে কথা। বেঁইচে আছি যদ্দিন, তদ্দিন মানুষ ছাড়া গতি নাই। একলা সুখ, একলা দুখ, এ কি হয়! তবে মরণ ঘনাইলে অত কান্না কীসের, অ্যাঁ? ছেইড়ে যাবার ভয়েই তো! আসুক আরো আসুক। কী বলেন বাবু, যে কয় একলা চলি, সে তো চলে দোকলার জন্যি। নইলে চইলতে যাবে কেন, অ্যাঁ?’

    কাঁচা কুয়োয় উপরের জল চুইয়ে পড়বেই। তা রোধ করবে কে? বলরামের কথাগুলি ঠিক কানে এসে ঠেকছিল। শুধু ঠেকছিল না, অবাক করছিল আমাকে। শাসন, রাজনীতি, নিরাপত্তাহীন জীবন, সব মিলিয়ে আমাদের মনে অনেক সন্দেহ, অনেক সংশয়, অনেক সঙ্কীর্ণতা। দিবানিশি পা টিপে টিপে চলেছি চোরাবালি এড়িয়ে। এই জীবনেই ফাঁক পেয়ে আবার দৌড় দিয়েছি অমৃত-কুম্ভের সন্ধানে, ভারতের সেই বিচিত্র রূপের রসে ডুব দেব বলে। সে রূপ লক্ষ লক্ষ হৃদয়েরই, কিন্তু বলরামের এ কীসের রস! এ কি তার নিরক্ষর অন্তরেরই বিশ্বাস, নাকি শুধু কথার জাদু! মানুষের প্রতি তার এত টান! নাকি টানটা চার পয়সার!

    ফিরে তাকাতেই চোখে পড়লো বলরামের ফোলা কপাল। লাল জায়গাটিতে বিন্দু বিন্দু রক্তও দেখা দিয়েছে। তবু সে হাসছে। অম্লান হাসি দেখে সহজে মনে পড়ে শুধু বৌদ্ধ শ্রমণদের কথা। কিন্তু এ যুগে তা অচল এবং অবিশ্বাস্য। গলায় আমার আপনিই ঝাঁজ এসে পড়লো। বললাম, ‘তোমার কি একটুও চোট লাগে নি?’

    বলরাম বললো, ‘চোট আমার লাগে নি বাবু? কিন্তু কাঁদবো কার কাছে বলেন! কাঁদলে লাভ? ওনারা কইবেন, দেখি নাই বাপু। মিটে গেল। তাই বলে পইড়ে থাকবো না, চইলব। চইলতে চোট লাগে না বাবু? আপনার লাগে না?’

    আবার সেই কথার ফুল ফোটানো। সে-ফুলে এমন গন্ধও ছিল যে, চট করে জবাবও দিতে পারি না এই সামান্য বলরামের কথার।

    সে আবার বললো, ‘বাবু, নোকে সংসার চালায়। সংসারে কত ব্যথা, কত চোট। সেখানে পেটে চোট, মনে চোট। পেটে দানা নাই, বুক-জোড়া মানুষটি নাই, হাজার চোট খেয়েও থেমে আছে কেউ বলেন?’

    তর্কের অবকাশ ছিল কিনা জানি নে। কিন্তু হেরে গেলাম। জানি নে, কোন্ পথে আমাকে টেনে নিয়ে গেল। আমাকে আবার ভাসিয়ে নিয়ে গেল তার স্রোতে। একটা সামান্য নুলা বলরামের কাছে হার মেনে গেল আমার বিদ্যাবুদ্ধি। অন্তত এই মুহূর্তের জন্য সে আমার মনের দুকূল ভাসিয়ে ভরিয়ে দিল।

    এর পরে আর ওই চারটে পয়সার কথা বলে তাকে আঘাত দেওয়ার কথা আমার মনে আনতে সংকোচ হলো। আমার মন তো বলরামের মন নয়।

    তৃতীয়বার বলরামের হাত এসে ঠেকলো আমার পায়ে। ছি ছি, অমন পায়ে হাত কেন বার বার! বললাম, ‘কী বলছো?’

    দেখলাম, বলরামেরও সঙ্কোচ হয়। বললো, ‘অ্যালবাদ ইষ্টিসনে এট্টুস হাত দুইখান ধরবেন, কোনোরকমে একবার টেনে-হিঁচড়ে ফেলতে পারলেই হইবে। আপনি একলা মানুষ, তাই কইলাম।

    বলে, সে আমার মুখের দিকে ব্যাকুল চোখে তাকিয়ে রইলো। সেই চোখে দেখতে পেলাম বোধ হয় বলরামের আসল রূপ। সে রূপ এক বিকলাঙ্গর করুণ অসহায় রূপ এ সংসারের আয়নায় বোধ হয় এটাই তার প্রকৃত মূর্তি। আর এ রূপই বুঝি তাকে দিয়েছে প্রাণ-ভোলানো সুর, গলা, কথা ও মন।

    বললাম, ‘পায়ে হাত দিও না। দেব, নিশ্চয় নামিয়ে দেব।’

    ব্যস। আবার গুনগুন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপালামৌ – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    Next Article পৃথা – কালকূট (সমরেশ বসু)

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }