Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প182 Mins Read0
    ⤷

    কৈশোর – ১

    ১

    ছোট্ট স্টেশন, প্লাটফর্মটা একেক সময় মানুষজনের ভিড়ে গিসগিস করে, হঠাৎ হঠাৎ আবার একেবারে ফাঁকা। আমার ভিড়ও ভালো লাগে, নির্জনতাও বেশ পছন্দ। আমি পাখার তলায় একটা বেঞ্চে বসবার জায়গা পেয়ে গেছি ভাগ্যক্ৰমে। অবশ্য পাখাটা ঘুরছে খুবই যেন অনিচ্ছের সঙ্গে আস্তে আস্তে, মাঝে মাঝে কটা কটাং শব্দ হচ্ছে। এমন শ্লথগতি পাখা শুধু বুঝি রেলস্টেশনেই দেখতে পাওয়া যায়। তবু যা হোক, মাথার ওপর একটা পাখা নড়াচড়া করছে দেখলেও কিছুটা সান্ত্বনা পাওয়ার কথা। বড্ড গরম আজ।

    এরকম যে একটা বেঞ্চ পেয়ে যাব, তাও আশা করিনি। কিছু কিছু লোক সব রেলস্টেশনে, পার্কে, নদীর ধারের সিটগুলোতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে রাখে। গঙ্গার ধারে আমি ঘোর দুপুরবেলা গিয়েও একটা খালি বেঞ্চ দেখিনি। এর আগে, অন্তত বছর পাঁচেকের মধ্যে আমি কোনো স্টেশনের প্লাটফর্মে বসতে পেরেছি বলে তো মনে পড়ে না। এই স্টেশনে, দু’ পাশের খোলা জায়গায়, গাছের নীচে যে বেঞ্চ পাতা ছিল, তার একটাও নেই। অর্থাৎ সেই বেঞ্চের দখলদাররা ওগুলো খুলে বাড়িতে নিয়ে গেছে, সেখানেও বসবে।

    ছাউনির নীচে গোটা তিনেক বেঞ্চ মাত্র অবশিষ্ট আছে। তার একটাতে চাদর মুড়ি দিয়ে কেউ একজন ঘুমোচ্ছে। সে জ্যান্ত, না মড়া তা বোঝার উপায় নেই। আমি অন্তত ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে তাকে একবারও নড়াচড়া করতে দেখিনি। এই গরমে চাদর মুড়ি দিলে কোনো মৃতদেহেরও এক-আধবার ছটফট করে ওঠার কথা।

    আমার বেঞ্চটার মাঝখানে আমি গ্যাঁট হয়ে বসে আছি, দু’ পাশে সম্পূর্ণ দু’জন বিপরীত স্বভাবের মানুষ। একজন লোকের নাক খোঁটা বাতিক, সে একমনে নাক খুঁটে যাচ্ছে, যেন নাক খোঁটাতেই স্বর্গসুখ, মাঝে মাঝে সে খোয়াক খোয়াক শব্দ তুলছে, যেন তার গলায় একটা কাঁটা ফুটে আছে। অন্য পাশের লোকটি নিঃশব্দে পড়ে চলেছে হিন্দি গীতা। এই উভয় ব্যক্তির সঙ্গেই আলাপ জমাবার যোগ্যতা আমার নেই।

    পায়ের কাছে আমার ব্যাগটা, তার ওপর দু’ পা চাপিয়ে রেখেছি। মাঝে মাঝে একটু ঝিমুনি এসে গেলেও ঘুমোনো চলবে না। চারপাশটায় তাকালে কোনো লোককেই চোর বলে মনে হয় না, তবু আমি ঘুমিয়ে পড়লেই ব্যাগটা হাপিস হয়ে যেতে পারে। কোনো রেলস্টেশনেই ব্যাগেরা নিরাপদ নয়। আমার ব্যাগটা নিলে চোরেরা অবশ্য মর্মাহত হবে, তার মধ্যে হাতি ঘোড়া কিছু নেই, কিন্তু আমার তো ক্ষতি হবেই। যেমন, আমার একজোড়া পুরোনো চটির কোনো দাম নেই চোরের কাছে, কিন্তু আমি সেটা আরও মাস তিনেক পায়ে দিতে পারতুম!

    আজ দুপুরের রোদ্দুরটা লাল রঙের!

    এটা কি একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল? আমার চোখটাই আসলে এত গরমে তেতে-পুড়ে লাল হয়ে গেছে?

    ঠিক তা নয়। এই স্টেশনের একদিকেই শুধু প্লাটফর্ম, অন্য দিকটা ফাঁকা। রেল লাইনের ধারে ধারে কয়েকটা কৃষ্ণচূড়া গাছ, দূরে পাহাড়ের রেখা। কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো থেকে দমকা হাওয়ায় ঝরে পড়ছে অসংখ্য লাল তুলতুলে পাপড়ি। এত গরম না থাকলে এখন মাঠের মধ্য দিয়ে খানিকটা হেঁটে আসা যেত। আমার ট্রেন কখন আসবে তার কোনো ঠিক নেই।

    আমার খিদে পায়নি কিন্তু চা তেষ্টা পাচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে। বেশির ভাগ রেলস্টেশনেই প্লাটফর্মে একটা অন্তত পাকা চায়ের দোকান থাকে, যেখান থেকে কাপ-ডিশে চা পাওয়া যায়। এখানে সেটা বন্ধ। ভাঁড়ের চাওয়ালা অনেকক্ষণ আগে একবার ঘুরে গেছে। ট্রেন না এলে বোধহয় সে আর আসবে না। স্টেশনের বাইরে দোকান আছে, কিন্তু উঠে গেলেই যদি বেঞ্চের জায়গাটুকু বেদখল হয়ে যায়?

    রেলের লাইনেও এসে পড়ছে কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি। এই স্টেশনটিকে এমনিতে বেশ সুন্দরই বলা যেতে পারত। কিন্তু আমি অনেকক্ষণ বসে আছি, তাই মনের মধ্যে জমা হচ্ছে বিরক্তি। সুন্দরের কাছাকাছি বেশিক্ষণ থাকতে নেই। যেমন কোনো সুন্দরী রমণী, তার ভোরবেলা সদ্য ঘুম ভেঙে ওঠা মুখখানা যতই অপরূপ মাধুর্য মাখানো মনে হোক, কিন্তু তার দাঁত মাজার দৃশ্যটা দর্শনযোগ্য নয় মোটেই। অথচ সুন্দরীদেরও তো দাঁত মাজতে হয়!

    হঠাৎ দাঁত মাজার কথাটা মনে এলো কেন?

    মনের যে কী রহস্যময় গতি। কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি দেখতে দেখতে রোদ্দুরের মধ্যে ফুটে উঠল একখানা মুখ। মাথায় বর্ষার মেঘের মতন চুল, গভীর দুটি চোখ, মাখন দিয়ে গড়া একটা নাক, টোল পড়া গাল, চিবুকটি লক্ষ্মীপ্রতিমার মতন, কিন্তু সেই নারীমূর্তির মুখে একটা টুথব্রাশ, ঠোটের পাশ দিয়ে টুথপেস্টের ফেনা গড়াচ্ছে, ওঃ কী ভয়ঙ্কর! হ্যাঁ, এরকম মুখ আমি কোথাও দেখেছি। তখন বড্ড মনে আঘাত লেগেছিল!

    সব টুথপেস্টের কোম্পানির বিজ্ঞাপনে, সিগারেট প্যাকেটের সাবধানবাণীর মতন, লিখে দেওয়া উচিত, মেয়েরা অবশ্যই বাথরুমের দরজা বন্ধ করিয়া দাঁত মাজিবেন! সে সময়ে আয়নাও দেখিবেন না!

    এক হাতে বড় কেৎলি, পিঠে মাটির খুরির বোঝা নিয়ে একজন চাওয়ালা একটু দূরে এসে দাঁড়াল। তারপর কোথা থেকে এলে একজন বাদামওয়ালা। আর একজনের ঝুড়িভর্তি পেয়ারা। এরা কী করে আগে থেকেই টের পায় যে ট্রেন আসছে?

    চায়ে চুমুক দিতে দিতেই আমি শুনতে পেলাম ঢং ঢং শব্দ। চারদিক একটা চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গেল। এত লোক কোন গর্তে লুকিয়ে ছিল, বেরিয়ে এল হুস করে? আমি আড়মোড়া ভাঙলুম। এবার তো বেড়াতে আসিনি, এসেছিলাম একটা কাজে, তাই কলকাতা মন টানছে। কী যেন একটা গণ্ডগোলে আজ প্রায় বেশ কয়েক ঘণ্টা ট্রেন বন্ধ। এখন পৌনে চারটে বাজে। এরপর ট্রেন যদি ঠিক মতন রান করে তা হলে রাত সাড়ে এগারোটার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারব হাওড়ায়।

    ও হরি, এ যে আশার ছলনা!

    ট্রেনটা আসছে উল্টো দিক থেকে, অর্থাৎ কলকাতা থেকেই। এ ট্রেন আমার নয়! আমি উঠে দাঁড়িয়েও ধপ করে বসে পড়লুম আবার। যাই হোক, একদিক থেকে যখন আসতে শুরু করেছে, তখন অন্য দিকেরটাও আসবে।

    ঝমঝমিয়ে ট্রেন ঢুকল প্লাটফর্মে।

    অন্যের সম্পত্তির দিকে মানুষ যেমন নিরাসক্তভাবে তাকায়, আমি সেইভাবে দেখতে লাগলুম ট্রেনটা। কিছু লোক জায়গা পাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে, কেউ ঠেলাঠেলি করছে দরজায়, ভেতরের লোকদের নামতেই দিচ্ছে না। বহুকালের পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওঃ লোকগুলো এত অধৈর্য কেন, ট্রেনটা পাঁচ মিনিট থামবে, ট্রেনে ওঠা-নামার জন্য পাঁচ মিনিট অনেক লম্বা সময়।

    আমার দু’ পাশের দু’জন, নাক-খোঁটা সুখী লোকটি এবং হিন্দি গীতা পাঠক একটুও বিচলিত হয়নি। কী ব্যাপার, ওরা কি বেঞ্চের জায়গা ছাড়তে হবে বলে ট্রেন ধরতেও আগ্রহী নয়? কিংবা, এরা শুধু নাক খুঁটতে আর গীতা পড়তেই স্টেশনে আসে?

    ট্রেনটি থেকে একজন কালো কোট পরা চেকার, সঙ্গে হলুদ ফ্রক পরা দশ—এগারো বছরের একটি মেয়ে, আর দু’ তিনজন কৌতূহলী লোক কী যেন বলাবলি করতে করতে এগিয়ে গেল। একটা কামরা থেকে নামল দু’ চাঙ্গারি আম, অমনি পাকা ভুরভুর গন্ধে ও মাছিতে জায়গাটা ভরে গেল।

    এত ছোট স্টেশনে পাঁচ মিনিটের বেশি দাঁড়াবার কথা নয়, কিন্তু ট্রেনটা এখনো ছাড়ছে না। ট্রেনটাতে আগে যেমন ভিড় ছিল, এখনও তাই, ঠিক যেন হিসেব করে লোকজন উঠেছে আর নেমেছে। আমার সামনের কামরাটায় বেশ কিছু লোক বসবার জায়গা পায়নি। একটা ঝাঁঝালো তর্কাতর্কি শোনা যাচ্ছে সে কামরা থেকে।

    চোখের সামনে এই অকারণ ট্রেনটা থেমে থাকতে দেখে বিরক্ত লাগছে। মনে হচ্ছে, এটা না গেলে বিপরীত দিক থেকে আমারটা আসতে পারবে না। ট্রেনের স্বভাবই এই, একটা একবার লেট করতে শুরু করলে, তারপর আরও ইচ্ছে করে লেট করতেই থাকবে। যেন, একবার চুরি করলে পরে আর চুরি সম্পর্কে কোনো লজ্জা-ভয় থাকে না! এবার যা না বাবা এখান থেকে!

    একটা সিগারেট ধরাতে গিয়ে আমার হঠাৎ অস্বস্তি বোধ হলো। দু’এক মিনিটের মধ্যে কী যেন একটা গণ্ডগোল ঘটে গেছে। আমি কিছু একটা ভুল করে ফেলেছি। কিন্তু আমি তো এই বেঞ্চেই বসে আছি, আর কিছু তো করিনি। এই ট্রেনটা আমার নয়। না, হতেই পারে না, কলকাতার ট্রেন এদিকে মুখ করে থাকবে কেন?

    তবু আমি চাওয়ালাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলুম, ভাই, এই ট্রেনটা কোথায় যাচ্ছে?

    সে বলল, এটা করমণ্ডল এক্সপ্রেস!

    তবে তো ঠিকই আছে। তা হলেও অস্বস্তিটা যাচ্ছে না কেন? চা খেয়ে পাঁচ টাকার নোট দিয়ে খুচরো নিইনি? বুক পকেট চাপড়ে দেখলুম, না, পয়সা-নোট আছে। লোকটা একটা খুব ময়লা এক টাকার নোট দিয়েছিল, সেটা আমি বদলে নিলুম পর্যন্ত।

    আর কী ভুল হতে পারে?

    চেকারের সঙ্গে যে কিশোরী মেয়েটি গেল, পাশ থেকে ওর মুখটা দেখেছি, ওকে একটু চেনা মনে হলো না? কোথায় দেখেছি আগে? ওর সঙ্গে আর যারা ছিল, তারা কেউ আমার চেনা নয়।

    এতক্ষণ বাদে একদল লোক ছুটতে ছুটতে এলো ট্রেন ধরতে। ওদের জন্য নিশ্চয়ই ট্রেনটা লেট করছিল না। মন্ত্রী-টন্ত্রিও কেউ নয়, এই নবাগতরা সেকেণ্ড ক্লাশের যাত্রী, একটা কামরার বন্ধ দরজা খোলার জন্য কাকুতি-মিনতি করছে।

    আর একটা কামরা থেকে একজন ছোকরা একটা ওয়াটার বটল নিয়ে নেমে দৌড়ে এল টিউবওয়েলের দিকে। এতক্ষণ পর ওর জল নেওয়ার কথা মনে পড়ল। আমার বাঁ পাশের হিন্দি গীতার পাঠকমশাই হঠাৎ বেশ জোরে নাক ডেকে উঠলেন।

    এইবার গার্ড সাহেব সবুজ পতাকা নেড়ে হুইল বাজালেন। সামনের ইঞ্জিনটা তীক্ষ্ণ সিটি দিয়ে উঠল। আমি চমকে গেলুম। সেই সিটি যেন আমার মর্মে বিদ্ধ হলো, আমি চমকে উঠলুম। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল, ঐ কিশোরী মেয়েটিকে আমি ভালোই চিনি! ওর নাম মুমু। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই মুমু। টিকিট চেকার ওকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে কেন?

    মুমুর সঙ্গে আর কেউ নেই, সে একা একা ট্রেনে কোথাও যাবে, এটা অসম্ভব কথা। ঠিক মুমুর মতন দেখতে অন্য কেউ? কিন্তু আমার একবার যখন খটকা লেগেছে, তখন দেখা দরকার। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকার কোনো মানে হয় না!

    বেঞ্চের মায়া এবার ত্যাগ করা উচিত। আমিও যদি একটা জায়গা সবসময় দখল করে থাকি, তবে আমিও তো অন্যদের মতনই হয়ে গেলুম। ব্যাগটা তুলে নিয়ে এগোলুম স্টেশন মাস্টারের ঘরের দিকে।

    সেখানে এখন বেশ আট-দশ জন লোকের ভিড় জমেছে। ঠেলেঠুলে একটু জায়গা করে নিলুম। স্টেশন মাস্টারমশাই একজন মাঝবয়সি সৌম্য ধরনের মানুষ, মুখভর্তি পান। অল্পবয়েসি চেকারটির হাতে সিগারেট। এদের মাঝখানে একটা টুলের ওপর বসে আছে হলুদ ফ্রক-পরা কিশোরী মেয়েটি মুখ গোঁজ করে।

    স্টেশন মাস্টারমশাই বললেন, তোমার কোনো ভয় নেই, মা। তুমি ঠিক করে বলো, তুমি কোথায় যাচ্ছিলে? তোমার টিকিট কোথায় গেল?

    মেয়েটি জেদি গলায় বলল, বললুম তো, টিকিট হারিয়ে গেছে। আমার এই বাঁ হাতের মুঠোয় ছিল। একবার বাদাম খাওয়ার জন্য জানলার ওপর রেখেছি। স্টেশন মাস্টারমশাই জিভ দিয়ে চুক চুক শব্দ করে বললেন, উহু, টিকিট কি আর এমনি হারিয়ে যায়? ঐকথা বার বার বললে চলবে কেন?

    ভিড়ের মধ্যে একজন বলল, হ্যাঁ, স্যার, ওর হাতে একটা টিকিট ছিল, আমরা দেখেছি। হাওয়ায় উড়ে গেছে।

    স্টেশন মাস্টার ধমক দিয়ে বললেন, আপনারা চুপ করুন, আপনাদের সাক্ষী দিতে বলিনি। টিকিট ডানা মেলে হাওয়ায় উড়ে গেছে না অদৃশ্য হয়ে গেছে, তা আমরা জানতে চাই না। প্যাসেঞ্জারের সঙ্গে টিকিট আছে কি নেই, এটাই সবচেয়ে বড় কথা!

    টিকিট চেকারটি বললে, দেখে মনে হচ্ছে ভদ্রঘরের মেয়ে, অথচ বিনা টিকিটে এতদূর যাচ্ছে, সেটাই তো সন্দেহের ব্যাপার।

    স্টেশন মাস্টার আবার মুখ ঝুঁকিয়ে নরম গলায় বললেন, তুমি ঠিক করে বলো তো, মা, তুমি একলা একলা কোথায় যাচ্ছিলে।

    মেয়েটি আবার বলল, কেন, একলা একলা ট্রেনে বুঝি চাপা যায় না? কত লোক তো একলা যায়! আমাদের স্কুলের একটা মেয়ে রোজ ট্রেনে করে আসে!

    -সে তো কাছাকাছি। কিন্তু তুমি এতদূরে কোথায় যাচ্ছিলে?

    –একবার ট্রেনে চাপলে কাছে যাওয়াও যা, দূরে যাওয়াও তা!

    —ওরে বাবা, এ মেয়ের সঙ্গে যে কথায় পারার উপায় নেই! তাহলে একে নিয়ে কী করা যায়, বলো তো চক্রবর্তী?

    টিকিট চেকারটি বলল, ও যদি পুরো ভাড়া আর আড়াই শো টাকা ফাইন দিতে পারে, তাহলে ওকে ছেড়ে দিতে আমরা বাধ্য। আর না হলে ওকে জেলে আটকে রাখতে হবে।

    মেয়েটি বলল, আমি পাঁচ টাকা দিতে পারি

    —তবে তুমি জেলেই থাকো!

    এই সময় আমি চঞ্চল হয়ে উঠলুম। আমার মনের একটা অংশ বলল, পালাও পালাও, নীলুচন্দর, এই ঝামেলার মধ্যে জড়িয়ে পড়ো না! এ তো চন্দনদা’র মেয়ে মুমু অবশ্যই! একা একা ট্রেনে চেপে কোথায় পালাচ্ছে? বম্বেতে হিন্দি সিনেমার নায়িকা হতে? তাহলে ম্যাড্রাসের ট্রেনে চেপেছে কেন? তাছাড়া নায়িকা হবে কী করে, মুমুর বয়েস এখন এগারো-বারোর বেশি কিছুতেই হতে পারে না। চন্দনদার সঙ্গে নীপাবৌদির বিয়েই তো হলো সেভেন্টি সিক্সে, হ্যাঁ খুব ভালো করেই আমার মনে আছে তারিখটা। সেভেন্টি সিক্সের ১০ই ডিসেম্বরে আমার পাঁচখানা বিয়ের নেমন্তন্ন ছিল, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিয়ে হয়েছিল সেই একটা দিনে। একসঙ্গে পাঁচ পাঁচখানা নেমন্তন্ন, কোনো মানে হয়? এক রাত্তিরে কি পাঁচবার খাওয়া যায়? চন্দনদা বলেছিলেন, আর যত জায়গাতেই তোর নেমন্তন্ন থাক, তোকে আমার বিয়েতে আসতেই হবে, তুই মিষ্টির ঘর পাহারা দিবি, চুরি করে কত মিষ্টি খেতে পারিস দেখব!

    সুতরাং মুমুকে এখনো কিশোরীও বলা চলে না, নেহাত বালিকাই বলা উচিত। একটু বাড়ন্ত চেহারা তা ঠিক, কিন্তু সিনেমার নায়িকা হওয়ার চিন্তা তো এই বয়েসেই মাথায় আসবার কথা নয়।

    সে যাই হোক, মুমুর যেখানে ইচ্ছে, যে-কারণেই পালাতে যাক না কেন, আমার তাতে কী? মুমুর সঙ্গে কখনো আমার মোটেই ভাব জমেনি। সে কনভেন্টে পড়া মেয়ে, এই বয়েসেই ফরফর করে ইংরিজি বলে, আমি বাংলা ইস্কুলে পড়া বলে আমাকে ও পাত্তাই দিতে চায় না। আমাকে ও নীলু আংকল বলে ডাকা শুরু করেছিল, আমি বলেছিলুম এই, আংকল কি রে, আমি কি সাহেব নাকি? তাতে ও ঠোঁট উল্টে বলেছিল, এঃ নীলুকাকা, গাঁইয়া গাঁইয়া শোনায়, রিডিকুলাস! নীপাবৌদি বলেছিলেন, নীলুকাকাটা সত্যি বুড়োটে বুড়োটে লাগে। মুমু, তুই ওকে নীলকাকা বল, সেটা কিন্তু বেশ মর্ডান। নীলকাকা, ব্লু আংকল! মুমু সেটাও ঠিক মানল না, সে আমাকে বানিয়ে দিল রুকাকা!

    মোট কথা, মুমু অতি বিচ্ছু মেয়ে, ওর ভয়েই আমি চন্দনদাদের বাড়িতে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। অন্তত ছ’ মাস যাইনি। ও বাড়িতে গেলেই মুমু আমাকে শক্ত শক্ত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। জিম্বাবোয়ের ক্যাপিটাল কী? জিরাফ কেন অত বড় গলা নিয়েও শব্দ করতে পারে না, হিরোসিমায় প্রথম যে অ্যাটম বোমটা পড়েছিল, তার ডাকনাম কী ছিল, এইসব যা-তা জিনিস। আমি না পারলেই হি হি করে হেসে হাততালি দেয়। আমাকে জব্দ করেই যেন ও একটা হিংস্ৰ আনন্দ পায়।

    সেই মুমুর পাল্লায় পড়ার কী দরকার সেধে সেধে? এমনও তো হতে পারত যে আমি মুমুকে দেখতেই পাইনি। কিংবা এতক্ষণ এই স্টেশনে আমার বসে থাকার কথাও ছিল না। টিকিট না কেটে ট্রেনে উঠেছে, এখন তার ফল ও ভোগ করুক। আমার তো তাতে কোনো দায়িত্ব নেই। আমার আজই কলকাতায় ফিরতে হবে, খুব জরুরি কাজ আছে।

    ভিড় থেকে কিছুটা সরে এলুম, এখন কোনো একটা লুকোবার জায়গা খুঁজতে হবে। আমার ট্রেনটা এসে পড়লেই এক লাফ দিয়ে—

    আমার মনের আর একটা অংশ ঘাড় ধরে টেনে বলল, নীলুচাঁদ, এটা কি তোমার উচিত হচ্ছে? তুমি ওকে দেখে ফেলেও পালাচ্ছ? তোমার আবার জরুরি কাজ কী হে?

    দেখে ফেলা আর না-দেখা,কি কখনো এক হতে পারে? মনে করো, তোমার প্রেমিকাকে অন্য একজন চুমু খাচ্ছে সেটা তুমি দেখে ফেললে, আর যদি না দেখতে, তার মধ্যে অন্তত এক হাজার মাইলের তফাত নেই? কিংবা তুমি পরীক্ষায় বসে একটা অঙ্ক কিছুতেই পারছ না, তারপর তোমার পাশের ফার্স্ট বয়ের খাতাটা দেখে নিলে…কিংবা একটা ডিটেকটিভ গল্পের প্রথমটা পড়বার আগেই শেষ পাতাটা তোমার চোখে পড়ে গেল…কিংবা তুমি এই পৃথিবীটাই দেখোনি, তারপর মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসে চোখ মেলে পৃথিবীটা প্রথম দেখলে…

    সবাই জানে, আমি মানুষটা আসলে দুর্বল, শেষ পর্যন্ত মনের জোর বজায় রাখতে পারি না। অগত্যা আমাকে ফিরতেই হলো।

    চন্দনদা একবার তার একটা ব্যাডমিন্টনের র‍্যাকেট আমাকে দিয়েছিল, নীপা বৌদি আমাকে অন্তত পাঁচবার ডবল ডিমের চিকেন ওমলেট খাইয়েছে, ওরা যদি কখনো ঘুণাক্ষরেও জেনে ফেলে যে, আমি একটা দূরের অচেনা স্টেশনে মুমুকে দেখেও, তাকে বিপদের মধ্যে ফেলে পালিয়েছি…না, আমি এতটা নিমকহারাম হতে পারি না!

    এবারে ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকে বললুম, এই মুমু, এখানে কী করছিস? টিকিট চেকারটি একটা খাতা খুলে কী যেন লিখতে যাচ্ছিল, বেশ চমকে উঠে মুখ তুলে বলল, আপনি? আপনি তো ঐ কম্পার্টমেন্টে ছিলেন না। আপনি কোত্থেকে এলেন?

    কনভেন্টে পড়া মেয়ে মুমু এখনও বিশেষ ভয় পেয়ে টস্কায়নি। আমাকে দেখে মোটেই অবাক কিংবা খুশির ভাব দেখাল না, আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সে পাল্টা প্রশ্ন করল, তুমি এখানে কী করছ?

    স্টেশন মাস্টারমশাই জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এই মেয়েটিকে চেনেন? আমি বললুম, আজ্ঞে হ্যাঁ। ওকে হঠাৎ এখানে…

    -ওর নাম কী বলুন তো? এ মেয়ে তো কিছুতেই নিজের নাম, বাবার নাম বলছে না।

    -ওর ডাক নাম মুমু, আর ভালো নাম, ভালো নাম, (এই রে, ভালো নামটা কী যেন একটা সংস্কৃত শব্দ, একটা বইয়ের নাম থেকে নেওয়া, সব সময় মনে থাকে না)…

    মুমু এমনভাবে আমার দিকে চেয়ে আছে যেন মজা দেখছে। আমি ওর ভালো নামটা ঠিক মতন বলতে পারি কি-না তার পরীক্ষা নিচ্ছে।

    পেটে আসছে মুখে আসছে না গোছের অবস্থা, হঠাৎ মনে পড়ে গেল। আমি বললুম, এর নাম রম্যাণি! ওর বাবা চন্দন ঘোষালকে আমি অনেকদিন চিনি, মানে, তিনি আমার দাদার মতন।

    -আপনি অন্য কম্পার্টমেন্টে ছিলেন? এইটুকু মেয়েকে একা একা ছেড়ে দিয়েছেন?

    -আজ্ঞে না, আমি ঐ ট্রেনেই আসিনি। এখানেই এতক্ষণ বসে আছি।

    -কেন বসে আছেন?

    —সেটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। কলকাতার ট্রেন কেন আসছে না, তা আমি কী করে বলব বলুন!

    –ও, আপনি কলকাতায় যাবেন। আর এই মেয়েটি কলকাতা থেকে বিনা টিকিটে আসছে—

    মুমু বাধা দিয়ে বলল, আমি টিকিট কেটেছিলুম। সাম হাউ ইট ইজ লস্ট! আমাকে ঢুকতে দেখে আরও কিছু কৌতূহলী লোক ঢুকে পড়েছে স্টেশন মাস্টারের ঘরের মধ্যে। ঠেলাঠেলি শুরু হয়ে গেছে।

    স্টেশন মাস্টারমশাই রেগে উঠে বললেন, এ কী, এ কী! নো ক্রাউডিং! নো ক্রাউডিং! সব বাইরে যান! প্লিজ ক্লিয়ার আউট!

    পাছে আমাকেও তিনি বার করে দেন তাই আমি টেবিলের উল্টোদিকে ঘুরে চলে এলুম।

    দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে এসে তিনি আর একটা পান মুখে পুরলেন। টিকিট চেকারটিও আর একটা সিগারেট ঠোঁটে লাগিয়ে আমার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে রইলেন।

    স্টেশন মাস্টারমশাই মুমুকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি মা এই ভদ্রলোককে চেনো?

    মুমু আমার মুখের দিকে বেশ কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে বলল, একটু একটু!

    ওঃ, কী এচোড়ে পাকা মেয়ে! সাধে কি আমি এই ঝঞ্ঝাটে জড়াতে ভয় পেয়েছিলুম! কোথায় মুমু কাঁদো কাঁদো মুখ করে দৌড়ে এসে আমার হাত চেপে ধরে বলবে, নীলকাকা, ব্লুকাকা, দ্যাখো না, এই লোকগুলো আমায় বকছে!

    তা নয়, মিটিমিটি হেসে বলে কিনা, একটু একটু!

    যদি বলত চিনি না, তাহলে নির্ঘাত এই লোকগুলো আমায় মেয়ে-চোর বলে সন্দেহ করত! মেয়ে-চোরদের লোকে পুলিশেও দেয় না, পিটিয়ে মেরে ফেলে! স্টেশন মাস্টারমশাইও মুমুর উত্তরটা ঠিক বুঝতে না পেরে সন্দেহের চোখে তাকালেন টিকিট চেকারের দিকে।

    ওরা আর কিছু বলার আগেই আমি মুমুকে জিজ্ঞেস করলুম, তুই ট্রেনে করে কোথায় যাচ্ছিলি?

    মুমু বলল, বাবার কাছে।

    আমি অবাক হয়ে বললুম, বাবার কাছে মানে? বাবা কোথায়? ম্যাড্রাসে? মুমু বলল, না। ছোটপাহাড়ীতে। ট্রান্সফার হয়ে এসেছে বাবা, দু’ মাস আগে। এই স্টেশন থেকেই মাইল দশেক দূরে ছোটপাহাড়ী। বাসে যেতে হয়। চন্দনদা এখানে ট্রান্সফার হয়ে এসেছেন, জানতুমই না আমি। এখানে আমি দুটো দিন কাটালুম, অনায়াসে চন্দনদার সঙ্গে আড্ডা মেরে আসা যেত!

    স্টেশন মাস্টারমশাই বললেন, ছোটপাহাড়ীতে ওর বাবা থাকে? সে কথা এতক্ষণ বলেনি কেন? দেখুন মশাই, ওর ভালোর জন্যই তো ওকে আটকে রেখেছিলুম, ঐটুকু মেয়ে, একা একা বেরিয়েছে, কোনো বদলোকের পাল্লায়ও তো পড়ে যেতে পারে।

    টিকিট চেকারটি এমনভাবে আমার দিকে তাকাল যেন সে বলতে চায়, এখনো যে কোনো বদলোকের পাল্লাতেই পড়েনি, তারও কি কিছু ঠিক আছে?

    স্টেশন মাস্টারটি একটু উদার প্রকৃতির। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ওকে ওর বাবার কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন?

    কিছু না ভেবেই আমাকে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতে হলো।

    স্টেশন মাস্টারমশাই টিকিট চেকারবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, তা হলে, চক্রবর্তী, আর কী, ছেড়ে দেওয়া যাক!

    চক্রবর্তী বলল, বিনা টিকিটে এসেছে—

    মুমু আবার জোর দিয়ে বলল, আমি টিকিট কেটেছি। জানলা দিয়ে উড়ে গেছে।

    চক্রবর্তী মুমুর কথা অগ্রাহ্য করে আমাকে বলল, টিকিটের দাম আর আড়াইশো টাকা ফাইন না নিয়ে তো আমরা ছাড়তে পারি না। আইন হচ্ছে আইন!

    স্টেশন মাস্টারমশাই বললেন, মেয়েটার কাছে মোট পাঁচ টাকা আছে বলছে যে!

    চক্রবর্তী থুতনিটা আমার দিকে তুলে বলল, তাহলে এনাকে নিজের পকেট থেকে দিয়ে দিতে বলুন! ইনি যখন মেয়েটির গার্জেন!

    টিকিট চেকারটিকে আড়াইশো টাকা আর টিকিটের দাম না দেবার অন্তত সাতখানা যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে, তার মধ্যে তৃতীয় কারণটি এই যে, আমার পকেটে আড়াইশো টাকা নেই। এমন কি একশো টাকাও নেই!

    আমি বললুম, দেখুন, ও যখন বলছে, টিকিট কিনেছিল, তাহলে সেটা মিথ্যে নয়। এই বয়েসের মেয়েরা এতটা মিথ্যে কথা বলে না।

    টিকিট চেকারটি চোখ প্রায় কপালে তুলে বলল, আপনি আমাকে মেয়েদের চরিত্র শেখাবেন? আমার নিজের মেয়ে, ওরই সমান হবে, গাদা গাদা মিথ্যে কথা বলে আমার মাথা ঘুরিয়ে দেয়।

    স্টেশন মাস্টারমশাই বললেন, থাকগে থাক, যেতে দাও!

    টিকিট চেকার বলল, আমি স্যার, এভাবে ছেড়ে দিতে পারি না! টিকিট উড়ে গেছে বলে আমরা কি হাওয়ার পেছনে ছুটব?

    মুমু বলল, বাবার কাছে টাকা চেয়ে কালকে তাহলে দিয়ে যাব!

    টিকিট চেকারটি মুমুর বদলে আমাকেই সব কথা শোনাবে ঠিক করেছে। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, রেল কোম্পানি কি মুদির দোকান? এখানে ওসব ধারটার চলে না।

    আমিও টিকিট চেকারের বদলে স্টেশন মাস্টারমশাইয়ের সহৃদয়তার কাছে আবেদন জানিয়ে বললুম, লালবাহাদুর শাস্ত্রী কী বলেছিলেন জানেন? তিনি একবার বলেছিলেন, ভারতে যত লোক ট্রেনে চাপে, তাদের সকলের কাছ থেকে যদি ঠিক ঠিক ভাড়ার টাকা আদায় হতো, তাহলে এদেশে সোনার রেল লাইন হতো! তা এই একটা ছোট মেয়ের কাছ থেকে জোর করে দু’বার ভাড়া আদায় করে সেই সোনার রেল লাইন কি তৈরি করতেই হবে! তাছাড়া ভেবে দেখুন, সোনার রেল লাইন তৈরি করলে আপনাদের আবার সেটা পাহারা দেবার ঝামেলা কত বাড়বে! কম্পার্টমেন্টগুলোর পাখা, আলো, এই সবই পাহারা দেওয়া যায় না!

    স্টেশন মাস্টারমশাই বললেন, তা ঠিক, তা ঠিক!

    টিকিট চেকারটি বলল, ভাড়া না নিয়ে ছেড়ে দেওয়াটাও স্যার, বেআইনী!

    স্টেশন মাস্টারমশাই বললেন, তা ঠিক, তা ঠিক!

    আমি তাঁর টেবিলে ঝুঁকে পড়ে বললুম, রবীন্দ্রনাথ একবার কী করেছিলেন জানেন?

    রবীন্দ্রনাথ খেতে বসেছেন, তাঁর হাতে একজন নতুন কবির কবিতার বই। সামনে মিষ্টি দইয়ের প্লেট। রবীন্দ্রনাথ কবিতার বইটি পড়তে পড়তে মিষ্টি দই খাচ্ছেন আর বলছেন, বেশ ভালো, বেশ ভালো! তাঁর সেক্রেটারি অমনি দুখানা  সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দিলেন, একখানা তরুণ কবিকে, কবিতার বইটি বেশ ভালো। আর একটা দইয়ের দোকানে, মিষ্টি দই বেশ ভালো! আপনিও কি স্যার সেই স্টাইলে কথা বলছেন?

    স্টেশন মাস্টারমশাইটি তাঁর অদৃশ্য দাড়ি চুলকে হেসে উঠলেন।

    আমি পকেট থেকে আমার টিকিটটা বার করে টিকিট চেকারকে বললুম, এটা কলকাতায় যাবার। এই মেয়েটির কলকাতা থেকে আসা আর আমার কলকাতা যাওয়ার ভাড়া নিশ্চয়ই এক। তাহলে এই টিকিটটা আপনাকে জমা দিলুম। সব শোধবোধ কাটাকাটি হয়ে গেল? আপনি এবার বুঝে নিন!

    তারপর মুমুর হাত ধরে বললুম, চল রে, মুমু!

    ওঁদের আর কথা বলার একটুও সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে এলুম দরজা খুলে একদল লোক তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, তারা জিজ্ঞেস করল, কী হলো? কী হলো?

    ওদের সঙ্গেও কোনো কথা নয়। পরিত্রাতার ভূমিকায় আমি গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে হাঁটা দিলুম বাসস্ট্যাণ্ডের দিকে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }