Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হেমন্ত বেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প826 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাইকেল

    তুমুল বর্ষা। চারা রুইবার সময় আসতে-না-আসতেই যেন ভাদ্রর শেষের মতো একহাঁটু জল মাঠে। গত বছর খরা গেল। এবারে অতিবর্ষণ। মানুষকে আর বাঁচতে দেবে না।

    শালোপাড়া গ্রামটা ছোটোই। বেশ বেশিই ছোটো। কাছেই অবশ্য আছে হুকলিঝাড়। বিরাট ব্যাপার সেখানে। বড়ো বড়ো আড়তদার। চারদিকে শয়ে শয়ে মাইল ধানখেত আর রাইস মিল। এফ.সি.আই.-এর গোডাউন। ট্রেনের স্টেশন। ওই হুকলিঝাড়ের সঙ্গেই শালোপাড়ার নাড়ি বাঁধা। এখানে লাউটা, কুমড়োটা, মাগুরটা-শিঙিটা, সেই সবই গিয়ে জড়ো হয় শনিবারের হুকলিঝাড়ের হাটে। বর্ধমানের বড়োমানষিরা ছুটিছাটার দিন হলেই গাড়ি নে চলে আসে ফিসটি করতে, ঘুরতে-ফিরতে, মালোপাড়ার নির্জনে। এঁটেল মাটির বর্ডার দেওয়া পিচ-এর রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে সন্ধের মুখে জোড়ায়-জোড়ায় বসে থাকে বড়োলোকের ব্যাটা-বিটিরা, ছিন-ছিনারি দেকে। কেউ কেউ বোতল খুলে ঢুকুঢুকু খায়।

    রাত আটটা হয়ে গেল। এখনও যমুনা ঘরে এল না।

    কেতো বালিশের তলাতে রাখা ঘড়িটা দেখল। তার বিয়ের সময় সেনবাবুদের খামারের ম্যানেজারবাবু এটা দেছলেন। এইচ.এম.টি. ঘড়ি একটা। কেতোর জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পত্তি। যখের ধনের মতো আগলে রাখে ও সবসময় এই ঘড়িটাকে।

    যমুনা গেসল তার বাপের বাড়িতে নবীনপুরে। গেসল, পরশু! আজ বিকেল বিকেল যমুনার দাদা তাকে পৌঁছে দে গেছে। এতক্ষণে তো কাজকম্মি সেরে খাওয়াদাওয়া করে ঘরে আসা উচিত। বাইশ বছরের কেতোর ধৈর্য ধরে না। বিছানায় শুয়ে ছটফট ছটফট করে। নতুন জল-পাওয়া মাঠে ব্যাং ডাকে ঘ্যাঙর ঘ্যাং। গাছে গাছে সবুজ তারার টায়রার মতো জোনাকির ফুল দোলে। মাটির ঘরের ছোট্ট জানলা দিয়ে এসব দেকে-টেকে সময় কাটাবার উপায় খোঁজে কেতো। দুস শালা! তবু, সময় কি কাটে? নতুন বউকে দিয়ে এত কী কাজ করায় বাবা আর পুঁটিদি তা তারাই জানে! মোটে ছ-মাস বিয়ে হয়েছে কেতোর।

     

     

    কেতোর মনে পড়ে, হাবা বলেছিল একদিন। পাঠাশালা তো আজকাল নেই। প্রাইমারি স্কুলে যখন পড়ত ওরা, তখন হাবাকে একদিন মাস্টের জিজ্ঞেস করেছিল, বল তো বাবা হাবা, ‘বিহ্বলতা’ শব্দের মানেটা কী?

    হাবা অনেকক্ষণ হাবা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পরই মাস্টের বলেছিল ‘যা: বাবা। এ যে দেখছি বিবিই পালিয়ে যাবে! গা গরম করতে করতে, বিবিই পালাবে।’

    বিহ্বলতা-টিহ্বলতা শেখবার জন্যে হাবা-কেতোরা স্কুলে যায়নি। আমন-বোরোর সোজা হিসেব। তাই-চুং, আই. আর. এইট-এর কিলো কষা। ফলিডল, ইউরিয়া, খোল এসব কিছুর হিসেব-নিকেশ করতে পারা। পাইকার যাতে না ঠকিয়ে দেয় তাই গুন-ভাগ-যোগ-বিয়োগটা জানা। স্কুলে আসলে যাওয়া; নিজের নামটা ভালো করে সই করতে জানতে। পঞ্চায়েতে গিয়ে খবরের কাগজও পড়ে আসতে পারে। আজকাল অবশ্যি রেডিয়োর খপর শুনলেই সব জানা যায়। ঘরে ঘরে টানজিস্টার, তবু টি ভিও হোয়েছে হেথা-হোথা। কেতো তো পারেই, শ্রীবাবু কার্তিকচন্দ্র পোড়েল বলে নাম সই করতে। এমনকী হাবাও পারে। শ্রীল শ্রীযুক্ত হাবা সাপুই। হাবা তো যেখানেই পারে, সেখানেই একটা করে সই মেরে দেয়। ডিসটিক্ট বোর্ডের কাঁচা রাস্তায়, পদ্মদিঘির জলে, এমনকী সনাতন মাঝির বাড়ির উঠোন যখন পাকা করতেছিল বদ্দমানের রাজমিস্তিরিরা তখন সেই থকথকে সিমেন্টের মধ্যেও আঙুল চালিয়ে লিকে রেকেচিল শ্রীল শ্রীযুক্ত হাবা সাপুই। সিমেন্ট জমাট বেঁধে যেতেই চিত্তির! সনাতন মাঝির মাথায় হাত! উঠোনে ঢুকতেই বড়ো বড়ো করে সিমেন্টের মধ্যে লেখা শ্রীল শ্রীযুক্ত হাবা সাপুই। সনাতন মাঝি রেগে গিয়ে বলেছিল, শালা! এই ছোটোলোক ইনইডুকেটিডদের গেরামে আর লয়! জান কইলা হয়ে গেল গো!

     

     

    এমন সময় ঝুনঝুন করে চুড়ির শব্দ হল। সোনার নয়। লোহা, শাঁখা আর গিলটি করা কেমিক্যাল গয়না তার বউ-এর গায়ে। যমুনার বাবা-মা নেই। দাদা-বউদি যা না-দিয়ে পারেনি তাই-ই দিয়েছে। আর কেতোর বাবা হাড় কেপ্পন। তিনিও কিছুই দেননি। খাইয়েছিলেন পঁচিশ-জনাকে। তাও অতিসাদামাটা!

    কেতো উঠে বসল বিছানাতে। যমুনা একটা কালো আর হলুদ ডুরে শাড়ি পরেছে। এইটেই তার সবচেয়ে ভালোবাসার শাড়ি। আর যা আছে, সবই আটপৌরে। আজ বাপের বাড়ি গেসল বলে শায়া আর বেলাউজও পরে গেসিল। অন্যদিন শুধু গায়েই শাড়ি জড়িয়ে থাকে। ঘরে ঢুকেই তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করল। হ্যারিক্যানের আলোটা পড়েছে যমুনার কুচকুচে কালো মস্তবড়ো খোঁপাটাতে আর শাড়ির পেছনে। ছ-মাসের পুরোনো বউ, তবু শালা যেন রোজ রাতেই মনে হয় আনকোরা নতুন। যমুনার গায়ে পদ্মদিঘির শাপলার গন্ধ। তার বুকের মধ্যে যখন ওর নিজের ঠোঁট চেপে ধরে কেতো, তখন মনে হয় ডাগর ডাগর পদ্ম দুটির মধ্যে থেকে পদ্মবীজই কুড়িয়ে খাচ্ছে যেন। কত সব গন্ধ, দৃশ্য; বার বার দেকে-শুঁকেও ফুরোয় না। আলো জ্বালায়ে দেকেছে, আলো নিভায়ে দেকেছে, দিনের আলোয়, চাঁদের আলোয়, কনে-দেখা আলোয় সবরকম করে দেকেও দেকা ফুরোয়নি কেতোর। আশা মেটেনি। কে জানে! নতুন বউ পুরোনো হতে কতদিন লাগে? যমুনাকে বড়ো ভালোবাসে কেতো। যমুনা ছাড়া তার আর কেউই নেই। কেউই তাকে এত ভালোবাসেনি।

     

     

    যমুনাকে কি? নাকি যমুনার শরীরটাকেই? ওই হল! অতশত ভাবে না কেতো। ভাবার সময় কুথায়?

    যমুনা ঘুরে দাঁড়াল। দরজাতে পিঠ দিয়ে।

    —কী? হল কেমন? বাপেরবাড়ি গিয়ে মন ভরল?

    উত্তর না দিয়ে যমুনা বলল, গলা নামিয়ে; বাতিটা নিবোবে? শাড়ি জামা ছাড়তাম।

    না না। ধমক দিয়ে বলল কেতো, চিতি সাপ আছে গো! কাল তুই ছিলি না যমুনে, ঘরে ঢুকেই দেখি, চিতি সাপ! চেঁদো দাদাকে সঙ্গে সঙ্গে ডেকে নে দু-জনে মিলে তাকে মারি।

    —সত্যি? ঘরের মধ্যেই চিতি! বলো কী গো?

    আবিশ্বাসী গলায় ষোলো বছরের যমুনা বলল, কালো ভ্রমরের মতো দুটি উজ্জ্বল চোখ তুলে।

    —না তো কী? আমি কি তোর ইয়ার্কির পাত্র?

     

     

    মুখ নামিয়ে যমুনা বলল, না। তুমি আমার পতিদেব। আমার দেবতা, সর্বস্ব আমার।

    —খোল শাড়ি জামা। আলো আরও তুলে ধরছি আমি। দেখব। দেখে দেখে আশা মেটে না। কী দিয়ে গড়েছে তোকে রে বিধি? আমি ভাবি।

    লজ্জা পেয়ে যমুনা বলল, কেন? না আলো নামাও।

    —না।

    —না, না। লঞ্জী, নামাও।

    —না কেন রে? কেন না?

    কেতো বলল, তোকে দেখব। ভালো করে দেখব। আজ তোকে শাড়ি জামা জড়ির ফিতে বেণিতে জড়িয়েই এত ভালো দেখাচ্ছে, সব ছেড়ে ফেললে না জানি আরও কত ভালো দেখাবে। না রে!

     

     

    —ধ্যাত..।

    লজ্জা পেয়ে বলল যমুনা।

    বলেই, যমুনা ঘরের এক কোনাতে, যেখানে দুটি ছেঁড়া শাড়ির পাড়ের চাদর-ঢাকা তোরঙ্গ পর পর সাজানো আছে, সেখানের আবছা অন্ধকারে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে চকিতে অনাবৃত করেই বাড়িতে পরার চাঁপারঙা একটা শাড়ি গায়ে জড়িয়ে নিল। উদলা গায়ে। বাদলা-রাতে গা-শিরশির করে উঠল ওর। শিরশির করে নানা কারণে।

    কেতো মনে মনে বলল, বা: রে। এ যে দেখি বহুরূপী। কালো আর হলুদ শাড়িতে ছিল বসন্তবৌরি আর এখন হয়ে গেল সাঁঝবেলাকার ফিনফিনে চাঁপারঙা জলফড়িং। মস্ত ফড়িং। যা: মাইরি।

    যমুনা খাটে আসতে গড়িমসি করছিল। বিনুনি থেকে রুপোলি জরির ফিতে খুলছিল। আস্তে আস্তে। ডানদিকের বেণি থেকে খোলা হয়েছে সবে, কেতো একলাফে খাট থেকে নেমে ঝড়ের মতো গিয়ে পড়ল তার ওপর। পাঁজাকোলা করে যমুনাকে তুলে নে এসে খাটের ওপর ফেলল দড়াম করে। মাটির ঘর কেঁপে উঠল যেন।

     

     

    তারপর? তারপর, যা হয় তাই…

    মাটির ঘর সোহাগে কাঁপতে লাগল।

    বাইরে আবারও মুশলধারে বৃষ্টি নামল। এখন ওরা পাশাপাশি শুয়ে আছে। কাত হয়ে, যমুনাকে জড়িয়ে আছে কেতো, পেছন থেকে।

    কেতো বলল, সাইকেল? কথা হল কি কিছু?

    —উঁ?

    —সাইকেলটার কথা তোর বড়োদাদা কী বলল?

    —জানি না।

    —তার মানে, ‘না’ বলেছে কি?

     

     

    —ঠিক তাও না। ঝুলিয়ে রেখেছে। বুঝছে না আমার ভাগ্য, আমার সুখ, সব ঝুলছে সেইসঙ্গে। জোর তো নেই। সৎ দাদা।

    —না তো কী? গত ছ-মাস ধরে এমনই ঘুরোচ্ছে তারা। এদিকে বাবা কিন্তু রেগে যাচ্ছে রোজ রোজ। একদিন সত্যি করে চটে উঠলেই, কম্মো শেষ।

    যমুনার ডান বুকের ওপর ডান হাত কেতোর। চাষার হাত। রুক্ষ, কর্কশ, মোটা চামড়ার তেলো। কিন্তু যমুনার শরীরে তো এর আগে অন্য কেউই হাত দেয়নি। যমুনার এই-ই খুব ভালো লাগে। কেতো তাকে খুব ভালোবাসে। অন্তত তার শরীরটাকে। ওই হল! ওতেই খুব খুশি যমুনা। ছোটোবেলায় মা-বাবা মরা মেয়ে আদর কাকে বলে তাই-ই জানেনি কখনো। কোনোরকম আদরই নয়। তার কাছে শরীরের আদরও অনেক আদর। কাজকর্ম খাটাখাটুনির মধ্যে ডুবে গিয়ে কখন কেতোর সোহাগ খাবে ঘরে, সেই আশায় প্রদীপের সলতের মতো কাঁপে যমুনা।

    মাঝে মাঝেই কেতো তাকে ভয় দেখায়। ‘বাবা যেদিন সত্যিকারের চটে উঠবে’ সেদিনই ‘কম্মো শেষ’ বলতে ঠিক কী যে বোঝায় কেতো, তা জানে না যমুনা। কিন্তু কেতোর বাবার মিথ্যা রাগ দেখেই, তার গলার আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায় ভয়ে। পাখির মতো ঢিপঢিপ করে তার বুক। জানে না, সত্যিকারের রাগের দিন কী হবে?

     

     

    —আজ বাবা কি কিছু বলল তোমার দাদাকে? এসেছিল কোন দাদা? মেজদা? আমি তো ছিলাম না। যত্ন-আত্তি করা হল কি কিছু?

    —যত্ন-আত্তির কথা ছাড়ো। গরিব বউ-এর বাড়ির লোককে কে যত্ন-আত্তি করে? তবে বাবা মেজদাকে বললেন, যা বলেন। বিয়ের দিন থেকেই যা বলছেন। কথার খেলাপ তো হয়েইছে। তোমাকে সাইকেল দেবে বলেছিল, দিতে পারেনি।

    —ছাড়ো তো! আমার লাগবে না। আরে পাম্পটা বসুকই-না, তিন-চার বছরের মধ্যে ধান করে, গম করে, এমনকী আলুও করে আমি নিজেই একটা ভটভটি কিনে নেব।

    —সত্যি? ভটভটি সাইকেল? হলুদ কালো ডোরা ডোরা।

    বিছানাতে উঠে বসার চেষ্টা করল যমুনা, উত্তেজনায়।

    কেতো তাকে কোলবালিশ করে ঊরু দিয়ে চেপে বলল, শোনোই-না।

     

     

    —কী রঙের? হলুদ-কালো তো?

    —যে রঙের চাইবি। কেনার আগে তোকে শুধিয়ে নেব।

    —পেচনে আমি বসতে পারব? কী গো? ছিট থাকবে তো?

    —নিশ্চয়ই!

    —আমাকে পেচনে বসিয়ে আমাদের গেরামে যেতে পারবে?

    —নিশ্চয়ই। পারব না কেন? কত জায়গায় যাব। তোকে ডি.ভি.সি.-র ক্যানাল দেখিয়ে আনব। দুগ্গাপুর। কত বড়ো শহর গো! আগে যেইতে পথে মস্তবড়ো বন পড়ত। ডাকাইতি হত সিখানে। কেঁদো বাঘ ছেল। দাদুর কাছে শুনেছি।

    আচ্ছা! যমুনা ফিসফিস করে বলল, একটা কথা বলব, রাগ করবে না বলো?

    —কী?

     

     

    —তোমার দাদু কি ওই দুগ্গাপুরের বনে ডাকাতি কইরেই সব জমিজমা ডাল-ভাঙাই কল, ইসব কইরেছেন?

    —তোকে কে বইলেচে?

    —আমাদের গেরামের লোকেরা বলে। আরও বলে, তোমার বাবা নাকি এখন চাষবাস ছেইড়ে দে ওয়াগন ভাঙাদের দলে নাম নিকিয়েছে। খুব নাকি লাভ সিখানে। কাঁচা টাকা। ইসব কাজ কারবার নাকি খুবই ডিঞ্জারাস সবাই বলে, সত্যি?

    এমন সময়ে হঠাৎ ওদের মাথার কাছের জানলার একেবারে পাশেই শব্দ হল একটা।

    কে রে?

    বলেই উঠল কেতো। খাট ছেড়ে, বউ-এর গায়ের গন্ধ ছেড়ে দরজার খিল খুলল, হাতে বর্শাটা তুলে নিয়েই। যমুনাও দৌড়ে গেছিল পেছন পেছন। তারপরই সে উদোম একথা মনে পড়াতেই খাটের বাজুতে ঝুলিয়ে রাখা শাড়িটা জড়িয়ে নিয়ে বলল কেতোকে জড়িয়ে ধরে, তুমি যিয়ো না গো।

     

     

    —একটা টর্চ থাকলি।

    —এটাই লাও।

    বলেই, যমুনা তাড়াতাড়ি তার ঝুলি থেকে টর্চটা দিল।

    দরজা খুলে চারধারে আলো ফেলে কাউকেই দেখতে পেল না কেতো। শুধু দেখল, দু-বার কেশে তার বাবা উঠোন থেকে ঘরের দিকে যাচ্ছেন খুব আস্তে আস্তে। কেতোর মনে হল, একটা মস্ত খরিশ গোখরো যেন ঢুকছে তার গর্তে গিয়ে।

    দরজা খোলার শব্দ হাওয়াতে ও পিঠে আলো পড়াতে ঘুরে দাঁড়িয়ে কেতোর বাপ গণশা পোড়েল বলল, কে? ও কেতো! কী হল? এত রাতে? বউমার শরীর কি খারাপ?

    —না:।

    কেতো বলল। শব্দ হয়েছিল একটা।

    —তুই কি শহুরে হয়ে গেলি বাপ? গ্রামের রাতে কত শব্দই তো হয়। শব্দ হলেই রাতবিরেতে ছেলেমানুষ জোয়ান বউকে একা ঘরে ফেলে কেউ এমন বেরোয় রাতে? তুই কী রে? তোর কি আক্কেল হবে না? কোন দিন ফিরে দেখবি বউই তুলে নিয়ে গেছে ডাকাতে! তোর বয়স হল দেদার, বুদ্ধি হল না এক ফোঁটা।

    —না। শব্দ শুনলাম একেবারে জানলার পাশেই! তাই।

    —শ্যাল-ট্যাল হবে।

    —না:। শ্যাল না।

    —তবে?

    —তবে…

    —তবে কি বাঘ?

    —বাঘ!

    —হ্যাঁ শ্যাল না হলে নিশ্চয়ই বাঘ। এত ভয় যখন পেয়েছিস।

    কেতো কোনো জবাব দিতে পারল না। চুপ করে রইল।

    ফিরে আসছিল, এমন সময়ে বাপ গণশা বলল, কাল বদ্দমান যেতে হবে। মনে আছে তো?

    —হ্যাঁ।

    সকালে দুটি খেয়েই বেরিয়ে যাস। এস.ডি.ও. সায়েবের জন্যে একহাঁড়ি বড়ো কই মাছ রেখে দিচি। মালোকে বলেছিলাম দে যেতে। নে যাস, যাবার সময়।

    —ঠিক আচে।

    বলল, কেতো।

    ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করেই খাটে এল। যমুনা উঠে বসেছিল। বলল, আমার ভয় করে। খুব ভয় করে গো।

    —আমারও।

    কেতো বলল।

    —তোমারও? কেন? বাঘ-এর জন্যে?

    —না।

    —শ্যালকে ভয়?

    —না:।

    —তবে?

    —আছে।

    —আমার ভয় করে গো।

    —সাবধানে থেকো। কাল আমার বদ্দমানে যেতে হবে। বাবার অডডার।

    পরদিন ভোরে উঠে কেতোকে ডেকে গণশা বলল, সাইকেল-এর কথা কিছু জানিস?

    চমকে উঠল কেতো। বলল কেন? যমুনার দাদা কিছু বলেনি?

    সে তো গত ছ-মাস ধরে যা বলার বলেই চলেছে। কথাতে তো আর চিঁড়ে ভিজবে না। যমুনের বড়োদাদা শুনেছি খুব ফেরেলবাজ নোক। গণশা পোড়েল-এর ছেলের বে কি ওই হাভাতে ঘর ছাড়া আমি দিতে পারতাম না? দ্যাখ কেতো, আমার এবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটার উপক্কেরম হতিচে। ইর পর, কিছু হলে আমাদিগের দোষ লাই। কোনো দোষই লাই।

    তারপরই বলল, তোর সোজা আর বদ্দমান যেয়ে কাজ লাই। তুই যমুনের বাপের বাড়ি যা আগে তার চে। সিখান থেকে বদ্দমানে চইলে যাস বাসে। একটো চিঠি দে দেব। ছোটোদারোগার বাড়িতে ওলাচন্ডিপুরে রাতটা থেকে দু-জনে একই সঙ্গে ভোর ভোর চইলে আসিস। ছোটোদারোগার তো ভটভটিও আছে। হাওয়ার মতো পৌঁছে যাবি।

    কেতো ব্যাপার কিছুই বুঝল না। তবে কোনো একটা ব্যাপার যে ঘটতে যাচ্ছে, তা অনুমান করতে পারল। তার মায়ের মৃত্যুর আগের দিন এমন নানা রহস্য ঘটিয়েছিল তার বাবা। এই শালা বাবাকে ভক্তি ছেরেদ্দা তো করেই না, ঘেন্না করে কেতো। পেচন্ড ঘেন্না। মাকে খুন করেছিল বাপ।

    যমুনা গত সপ্তাহে একদিন বলেছিল, পুঁটিদিটা না থাকলে, এবাড়িতে থাকাই যেত না। তোমার বাবার স্বভাব-চরিত্তর যেন কীরকম।

    কেতো জানে সবই। তবু মুখে অবাক হওয়ার ভান করে বলেছিল হেসে, পাগল নাকি! বউ হয়ে শ্বশুরের চরিত্তর খুঁত ধরছিস? হয়েছেটা কী? তোর সাহস তো কম নয়!

    —না গো! হয়নি কিছুই। কিন্তু হতে পারে।

    —কী?

    —কিছু। যকন-তকন হতে পারে।

    সাইকেল বাবা নিজে চড়ে না। আসলে ঝিলের পাশে যে বাগদি দিদির ঘর আছে সেইখানেই যাবে এ সাইকেল। পণের সাইকেল। ঝুমকি বাগদির বড়োছেলে চড়বে সে সাইকেলে। কানাঘুসোয় শুনেছে কেতো যে, সেই ছেলে নাকি তারই বাপের ছেলে তার নাম লালচাঁদ।

    শোনে। এককান দিয়ে শুনে অন্যকান দিয়ে বার করে দেয়। এখনও স্বাবলম্বী হয়নি কেতো। বাবা যদি সত্যিকারের রেগে ওঠে, তখন কেস কেচাইন হয়ে যাবে! কী করবে? কেতো নিরুপায়। বাপের বেগার খাটা দিনমজুর। দু-টি খেতে পায়, মাথায় ছাদ আছে; এই-ই যা।

    যমুনা কাতর গলায় বলল, আমাকেও নিয়ে চলো তোমার সঙ্গে।

    —কী করে? বাবা যদি ‘সত্যিকারের রেগে যায়’? থাক তুই। তা ছাড়া আমি কত কত জায়গায় যাব। রাতে কোতা থাকব তারই ঠিক লাই।

    যমুনার চোখে ভীষণ ভয় দেখল কেতো।

    —একা ঘরে শুতে পারবি?

    —ভাবছি, পুঁটিদিদিকে ডেকে নেব।

    বাবা বলছিল, তোর একা হয়তো ভয় করতে পারে, রাতটা তুই বাবার ঘরেই কাটাস। মস্ত ঘর, মস্ত বিছানা। নইলে বাবাও এসে থাকতে পারে তোর ঘরে। বাবার কাছে যন্তর আছে।

    —কী যন্তর?

    চোখ বড়ো বড়ো করে যমুনা শুধোয়।

    —যন্তর! হি:। হি:। কোমরে গোঁজা থাকে। তবে লাইসেন্স লাই। আর কেউই জানে না। আমি একদিন দেখে ফেলেছিলাম। যখনই বদ্দমান যায়, সঙ্গে নিয়ে যায় বাপ আমার।

    —আমি শোব না।

    —কোথায়?

    —তোমার বাবার ঘরে।

    —তাহলে, বাবাই আসবে তোর ঘরে।

    —একদম না। মানা করে দিয়ে যাও।

    —কেন? সে কী?

    —না, বলেছি না। তোমার বয়স হয়েছে, বুদ্ধি হয়নি।

    —হুঁ। আমাকে অমন বউয়ের আঁচল ধরা মরদ পাওনি যে বউ যা বলবে, তাই-ই শুনব। আমি নিজের বুদ্ধিতে চলি। হুঁ।

    কথাটা, তার বাবা গণশা পোড়েল মাকে উঠতে-বসতে শোনাত। এই বাড়িতে মেয়েরা খেজুরের রস, জিয়োনো মাগুর অথবা তালক্ষীরেরই মতো এক ধরনের খাদ্য-পানীয়-ভোগ্য ব্যাপার ছিল। ছোটোবেলা থেকেই দেকেছে। মেয়েদের কতা শুনে চলা, এবাড়িতে পুরুষত্বহীনতারই শামিল।

    যমুনা কিছু না বলে, চেয়ে থাকল অনেকক্ষণ কেতোর মুখে।

    বিড়বিড় করে বলল, আমার চেয়ে একটা সাইকেলের দাম বেশি হল?

    কেতো বিজ্ঞের মতো বলল, সে কতা নয়! ব্যাপারটা হচ্ছে কতার খেলাপ। তোর বড়োদাদা সব জেনেশুনেই, আমার বাবা লোক খারাপ জেনেও তার সঙ্গে মিথ্যাচার কেন করতে গেল, বল তো? এতে তোর বা আমার কোনো উপগারটা হল? গণশা পোড়েল এককথার নোক। সে যদি বলে কোথাও যাবে, তাহলে সে না যেতে পারলে তার ডেডবডিও সেখানে যাবে। অন্যায় তার তো নয়। তোর বড়োদাদা এমন কতা দিয়ে আজ ছ-মাস ঘোরাচ্ছে কেন? মনে হচ্ছে বাবার জিদ চেপে গেছে। কালও যদি সাইকেল না আসে তো বাবা সত্যিকারের নেগে যাবে। বড়ো জিদ্দি লোক সে। আর অত্যিকারের নেগে…

    —কাল কেন, কোনোদিনও সাইকেল দেবে না বড়দা।

    মুখ নীচু করে যমুনা বলল।

    —সে কী? কত্ত কথা আমার সঙ্গে। কোনটা নেবে বলো কেতোবাবু? হিরো, না হারকুলিস? এইমতো ব্যবহার ভদ্রমানুষের? ছি ছি।

    —দাদা দেবে কেন? বোনকে যখন তোমাদের গছিয়ে দিয়েছে তখন আর খরচ কেউ করে? বউদিরা তোমাকে একদিন খাওয়াল না পর্যন্ত বিয়ের পর। তুমি কী ভাবো আমি অন্ধ? সাইকেল ওরা দেবে না। তুমি মিছিমিছি যেয়ো না। তোমাকে অপমান করলে, আমারই অপমান।

    —তুই বকিস না যমুনা। সারাগাঁয়ের সকলে জানে যে, আমার বিয়েতে আমি সাইকেল পাব। বাপ আমার চন্ডীমন্ডপে, পঞ্চায়েতে, সব জায়গায় বলেছে বড়োমুখ করে। আমার মনে হয়, দশজনে দশ কথা বলছে। বাপের দিকটাও ভাব। তার ইজ্জত!

    —তুমি আমাকে মেরে ফেলে দাও। আবার একটা বিয়ে করো। এবার সাইকেল আগে হাতে পেয়ে তারপর বউ আনবে ঘরে। এমন ভুল দ্বিতীয়বার কোরো না। হ্যাঁ গো! পেটে যে এসেছে, তার তো এখনও সাত মাস দেরি আছে আলো দেখতে। এইবেলা আমাকে তোমরা শেষ করে দাও বাপ-ব্যাটাতে মিলে। তোমাদের ইজ্জত কত বড়ো! ছি ছি, দাদার কথাও ভাবি। মানুষ এত ছোটোও করে নিজেকে? আমাকে বললে, আমি ফলিডল খেয়ে মরে যেতাম, বিয়ে দিতে হত না গিলটি করা গয়না আর শাঁখা দিয়ে।

    কেতো ঘাবড়ে গেল যমুনাকে দেখে। এ যমুনাকে সে চেনে না।

    তাড়াতাড়ি তার ভেজা চোখের নীচে আঙুল ছুঁইয়ে বলল, দেখো বাবা। এখানে ওসব কিছু কোরো না। আমাদের বদনাম হবে। বাবার ইজ্জত-এর কথাটাও ভেবো। এ গেরামে আমাদের সকলে ছেরেদ্দা করে।

    দুই

    ওলাচন্ডীপুরে ছোটোদারোগার বাড়ির বাইরের ঘরের তক্তাপোশে শুয়েছিল রাতে কেতো। ছারপোকা ছিল খুব। ঘুম হয়নি। তার ওপর সারারাত বেড়াল কেঁদেছে। তবে, ছোটোদারোগা, রাতে খেতে দিয়েছিল ভালোই। কচি পাঁঠার ঝোল আর রূপশালি ধানের ভাত। তালক্ষীরও।

    ছোটোদারোগা বলেছিল, ভোর ভোর রওয়ানা হব হে কেতো। আমার আবার ফিরতে হবে তোমার বাপকে নিয়ে। জরুরি কাজ আছে বর্ধমানে।

    অন্ধকার থাকতে থাকতেই তৈরি হয়ে ছোটোদারোগার লাল মোটরবাইকের পেছনে বসে পড়েছিল কেতো। তারপর লাফাতে লাফাতে এবেড়ো খেবড়ো পথে কিছুটা এসে পিচরাস্তাতে পড়েছিল। তাদের গ্রামের কাছে এসে আবার ছ-মাইল কাঁচা রাস্তা। গোরু-বাছুর চলে। কাদা শুকিয়ে এমনই হয়ে আছে যে, হাঁটলেই গোড়ালি আর পায়ের পাতা ভেঙে যাবে বলে মনে হয়, যেকোনো সময়ই।

    মনটা ভালো ছিল না কেতোর। বাপ একটা পত্র দেছিল ছোটোদারোগাকে। সেই মোতাবেকই তিনি চলেচেন। দারোগার সঙ্গে কী মামলাতে যেতে হবে তার বাপকে বদ্দমান? এসব ওর ভালো লাগে না। যমুনা বলেছিল, ই সব ডেঞ্জারাস। কানাঘুসো। যা খেত-জমি আছে তাতেই সৎভাবে চাষবাস করলে তো খাওয়া-পরা চলে যায় বাবুয়ানি করে। এইসব ঘোঁত—ঘাঁত-এর পথের বড়োলোক হতে যাওয়াই বা কেন? কেতো ভাবে, তার ডাকাত দাদুর রক্ত বোধ হয় বইছে তার বাপের শরীরে। বাগদির মেয়ে ছাড়া শুয়ে আরাম পায় না, ডাকাতি না করলে ভাত মিঠে লাগে না। এ কেমন রোগ হে!

    শেষরাতে একটা স্বপ্ন দেখেছিল কেতো। সবে যখন দু-চোখের পাতা বুজে এল ঠিক তখনই। দেখেছিল, যমুনা ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুব হাসছে। আর বলছে, তোমার বউ দেখতে নিয়ে যাবে তো আমায়? আমি কিন্তু বরযাত্রী যাব। যাব্বোই। ফেলে যেয়ো না যেন!

    ঠিক সেই সময়ই স্বপ্নটা ভেঙে গেল। ছোটোদারোগার চাকর গঙ্গা একধাক্কা দিয়ে তুলেও দিল কেতোকে।

    পিচরাস্তা ছেড়ে কাঁচা রাস্তাতে এসে পড়তেই মোটরবাইক সাংঘাতিক লাফাতে লাগল। আর প্রায় তারই সঙ্গে সঙ্গে লাফাতে লাফাতে সূর্যটাও উঠল মালোডাঙার জল-ভরা মাঠ লাল করে। বানের জল এখনও নামেনি মাঠ থেকে। পশ্চিমাকাশে মেঘ করে আছে কালো করে। শালিখ আর চড়াই ডাকছে ক্রমাগত। পথের পাশে আকন্দর ঝাড়ে রোদ লেগেছে। কণ্টিকারি, কয়েতবেলের গাছ। বুড়ো ছাতিমের গোল গোল পাতাকে ছোটো ছোটো হাতের পাতার মতো দেখাচ্ছে। রোদ লেগে মনে হচ্ছে লাল লাল ফুল ধরেছে ছাতার তলায়। বাঁ-দিকে একজোড়া শামুকখোল বসে আছে মাঠে। এক-পা এক-পা গুনে গুনে ফেলছে পা। অতিসাবধানে।

    আর একটু গেলেই ওদের গেরাম। মোড়ের বুড়ো বট গাছটার কাছে ডানদিকে ঘুরলেই কেতোদের বাড়িও দেখা যায়। যমুনা কী করছে কে জানে? বাবা কি তাকে রাতে পাহারা দিয়েছিল? সত্যিই? না ওই-ই গেছিল বাবার ঘরে শুতে। বাচ্চা মেয়ে তো। ভয় পায় বড়ো।

    মোড়টাতে এসেই গতি কমল মোটরবাইকের। ডানদিকে মোড় নিল একটা বিরাট ঝাঁকুনি দিয়ে। এবং মোড় নিতেই, কেতোর গলার মধ্যে কীসের একটা শক্ত দলা উঠল। টাকরা শুকিয়ে গেল।

    কেতো দেখল, ওদের শোবার ঘরের পেছনের আমড়া গাছটা থেকে হলুদ আর কালো ডুরে শাড়িতে ফাঁস লাগানো যমুনা ঝুলছে।

    ছোটোদারোগাও দেকেচে।

    দেকে মোটরসাইকেল থামিয়ে ওদিকে তাকিয়ে বলল, এ কী অঘটন হে! হায় হায়। এ কে?

    —আমর বউ।

    কেতোর গভীর থেকে কেউ বলে উঠল।

    ছোটোদারোগা বলল, ‘তাহলে, ভগমানই আমাকে এখানে পাইটেচেন! আমি না এইলে কী বিপদেই-না পড়তে বলো তোমরা! লাশ-কাটা ঘরে কতদিন পড়ে থাকতে হত মেয়েটাকে। ভগমন যাই-ই করেন, তাই-ই মঙ্গলের জন্যে।’

    কেতোর কানে এতসব কথা ঢুকছিল না। কেতো আবারও তাকাল উপরে। বর্ষার জল পাওয়াতে অনেকই সবুজ পুরুষ্ট সব পাতা ছেড়েছে আমড়াটা। নরম নরম পাতার মধ্যে নরম যমুনা দুলছে অল্প অল্প, পশ্চিমের হাওয়া লাগা ডালের দোলায়। শাড়িটা তার দু-পায়ের মধ্যে এমন আশ্চর্যভাবে জড়িয়ে গেছে যে তার লজ্জাস্থান ঢেকে রয়েছে তা। তার দু-পায়ের দু-পাশে শাড়ির প্রান্ত ফুলে ফুলে উঠছে ভোরের ভেজা হাওয়ায়।

    যমুনা যেন হলুদ-কালো একটা সাইকেল চালিয়ে চলে যাচ্ছে চাপ চাপ নরম মেঘের ঘাসের মাঠ পেরিয়ে। দূরে, দূরের কোনো দেশে— যে দেশে মেয়েরা জিয়োনো মাগুর বা খেজুরের রস; বা তালক্ষীর নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article হাজারদুয়ারি – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }