Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    মাসরুর আরেফিন এক পাতা গল্প663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আগস্ট আবছায়া – ২.৪

    ২.৪

    আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় যাবা?’ মেয়ের মা আমার মুখের দিকে তাকালেন, আমাকে বিশ্বাস করতে পারলেন না, মেয়েকে টেনে নিয়ে গেলেন আমার কাছ থেকে। জোরে হাঁটতে লাগলেন, প্রায় দৌড়ের গতিতে, ফার্মগেটের দিকে, তারপর অল্প সামনে, আমি তখন তাদের দেখছি পেছন দিক থেকে, খানিক থেমে ইতস্তত করতে করতে ঢুকে গেলেন বাঁয়ের এক গলিতে। কারা এরা? কোথায় যাচ্ছে? কী খুঁজছে? কিসের বিপদের ছোঁয়া তাদের চোখে-মুখে? কেউ অসুস্থ? কারও মৃত্যুসংবাদ? কেউ হারিয়ে গেছে? টাকা ধার চাইতে যাচ্ছে তারা কোনো আত্মীয়ের কাছে? বাসায় কি রাতে খাওয়ার মতো চাল-ডাল-আলু নেই তাদের? বাড়িওয়ালা বলেছে বাসা থেকে উঠে যেতে? মহিলার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্তর্হিত হয়েছেন? এই মেয়ে কি মাকে সঙ্গে নিয়ে খুঁজছে তার পালিয়ে যাওয়া বাবাকে, কারণ মায়ের চেয়েও বাবার ওপরে তার দাবি বেশি, তাই? কিন্তু মেয়েটার চোখ দেখে আমার মনে হলো না সে অতটা আত্মবিশ্বাসী ও অধিকার আদায়ে দৃঢ়প্রবণ। বরং আমি দেখেছি এক জোড়া ভয়ার্ত চোখ, সেখানে কোনো প্রশ্ন নেই, আশার ও বিশ্বাসের ঝলকও নেই কোনো। আবার আমার মনে পড়ল দুর্গার মৃত্যুতে অপুর অসহায়ত্বের কথা।

    চড়কটা যেন এবার কেমন ফাঁকা ঠেকিতে লাগিল। আর-বছরও চড়কের বাজারে দিদি নতুন পট কিনিয়া কত আনন্দ করিয়াছে। মনে আছে সেদিন সকালে দিদির সহিত তাহার ঝগড়া হইয়াছিল। বৈকালে তাহার দিদি বলিল—পয়সা দেবো অপু, একখানা সীতাহরণের পট দেখি যদি মেলায় পাস? অপু প্রতিশোধ লইবার জন্য বলিল—যত সব পানসে পুতু পুতু পট, তাই তোর কিনতে হবে, আমি পারবো না যা…

    তাহাদের বেড়ার গায়ে রাংচিতা ফুল লাল হইয়া ফুটিলে তাহার মুখ মনে পড়ে, পাখির ডাকে, সদ্যফোটা ওড়কলমির ফুলের দুলুনিতে—দিদির জন্য মন কেমন করে। মনে হয় যাহার কাছে ছুটিয়া গিয়া বলিলে খুশি হইত, সে কোথায় চলিয়া গিয়াছে—কতদূর!…আর কখনো, কখনো—সে এসব লইয়া খেলা করিতে আসিবে না।…

    আমার দুচোখ হালকা ভিজে উঠল টাইফয়েডে সদ্যমৃত নাজমা, নিশ্চিন্দিপুরের গ্রামে ম্যালেরিয়ার মৃত দুর্গা, ক্যানসারে আজ সকালে মৃত বন্ধু মাসুম হায়াত, নিজের ছায়ার সঙ্গে ডুয়েল লড়ে আত্মহত্যার মর্মঘাতী পরিকল্পনা করা বন্ধু ইবরাহিম এবং চা-বাগানে বৃষ্টির মধ্যে নিজেরই শ্রমিকদের দায়ের কোপে নুয়ে পড়া লুনার বাবা—এদের মনে করে। মনে করার আছে আরও কত এ রকম নাম—সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করা আমার পুরোনো বন্ধু আলমগীর, মুম্বাইয়ে নিঃসহায় ছন্নছাড়া জীবনের কাছে মাথা গুঁজে দেওয়া আইয়ার, কাল রাতে হাসপাতালে যাওয়া কাউছারের ছোট ছেলে মজনু, যার কথা আমি আর কোনো দিন ভাবব না বলে মনস্থ করেছি, বাড়ির নিচতলায় গার্ডরুমে গুলিতে মৃত শেখ কামাল, কোন দূরদেশের কোন জঙ্গলে দুটো পাইনগাছের নিচে শুয়ে থাকা লেনস্কি, রোমের বিদেশি কবরস্থানে চিরদিনের জন্য মাটিতে মিশে যাওয়া জন কিটস ও বন্ধু সেভেরন-নাহ্, রীতিমতো দৌড়ে ফার্মগেটের বিশাল এলাকা পার হলাম আমি, হালকা হাত রেখে দিলাম কোমরের পিস্তলের ওপরে যাতে করে দৌড়াতে গিয়ে ওটা রাস্তায় পড়ে না যায় এবং রাস্তায় ও রকম ঈর্ষণীয় নীল রঙের পিস্তল ঠাং করে পড়ার শব্দ শুনে, ওটার গায়ে ঝলকানো লাইটপোস্টের আলোয় জীবনের হ্রস্বজীবিতাকে প্রত্যক্ষ করে, এতগুলো ব্যস্ত পথিক যেন ভয়ে হাউমাউ করে চিৎকার না দিয়ে ওঠে।

    দূরে দেখা যাচ্ছে বিজয় সরণির মোড়। এভাবে কীভাবে রাত নামল এত ঘন হয়ে? ইবরাহিম তার চোঙা দালানে কী করছে এখন? সে কি মেঝেতে কোনো গোপন গর্ত বানিয়েছে, যখন মন চায় তার ভেতরে ঢুকে লুকাবার জন্য? আমি ইবরাহিমকে ডুয়েলের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম পনেরোই আগস্ট নিয়ে ওর ব্যাখ্যা সহ্য করতে না পেরে, ওকে শাস্তি দিতে চেয়ে। ইবরাহিম জানে আমার সঙ্গে ডুয়েলে সে পারবে না, তার এই ভাঙাচোরা স্বাস্থ্যে তো নয়ই, তাই সে এড়িয়ে গেল আমার চ্যালেঞ্জ, আমাকে বলল সে নকল পুশকিনের নকল ইবরাহিম না। কী মানে তার এই কথার?

    পুশকিনের ইবরাহিমের গল্প আমি বন্ধুদের শুনিয়েছিলাম কয়েকবার, আগে। এখন ঠিকমতো মনেও নেই কিছু, শুধু ভাসা-ভাসা এই এটুকু ছাড়া যে পুশকিন তাঁর সম্রাট পিটার দ্য গ্রেটের মুর উপন্যাসটা শেষ করেননি।

    ওই মুর ছিল এক নিগ্রো, স্পেনের মুসলিম ইবরাহিম, সে ছিল রাশিয়ান সম্রাটের পালিত পুত্র। সম্রাট এই ইবরাহিমকে বিদেশে পাঠালেন, ফ্রান্সে, ভবিষ্যতে ইবরাহিম নতুন রাশিয়াকে গড়তে কাজে আসবে বলে। প্যারিসের মিলিটারি স্কুলে পড়াশোনা করল ইবরাহিম, ক্যাপ্টেন হলো আর্মির, স্প্যানিশ যুদ্ধে লড়ল, নামডাক হলো তার। সম্রাট কখনোই ভুললেন না তাঁর এই পালিত পুত্রের কথা। ইবরাহিমের গড়ে ওঠায় অনেক খুশি হয়ে সম্রাট তাকে মিনতি জানাতে লাগলেন রাশিয়া ঘুরে যেতে, কিন্তু ইবরাহিমের তাতে কোনো তাড়া নেই, নানা অজুহাতে সে পেছাতে লাগল তার রাশিয়ায় ফেরা। সম্রাটকে মানতে হলো ইবরাহিমের কথা, তিনি এবার তাকে অনুনয় করে বলতে লাগলেন, ঠিক আছে, তাহলে তোমার স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ো। আর ওদিকে প্যারিসে ঝড় উঠে গেছে নারীমহলে, জারের নিগ্রোকে নিয়ে ওখানকার হাই সোসাইটির নারী-পুরুষ কারোরই আগ্রহের কমতি নেই। তার চেহারা, তার শিক্ষা, তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা—সব ইবরাহিমকে টেনে নিয়ে গেছে ওই সমাজের প্রতিটা বলনাচ উৎসবে, প্রতিটা অপেরার উদ্বোধনী শোতে, প্রতিটা মেলায়। এক কাউন্টের (নাম কাউন্ট ডি…) স্ত্রী, কাউন্টেস, নাম লেওনোর, প্রেমে পড়ল এই নিগ্রো ইবরাহিমের। ইবরাহিমও প্রেমে পড়ল এই বিবাহিতার। প্যারিসের সমাজ ব্যস্ত হয়ে পড়ল গুঞ্জন ও গুজব রটনায়—কী ভয়ংকর কথা! কাউন্টেসের সঙ্গে স্প্যানিশ-আফ্রিকান কালো ইবরাহিমের প্রেম! একসময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ল কাউন্টেস লেওনোর। সেই ভয়ংকর দিনও সমাগত হলো একদিন। ইবরাহিম, গোপনে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়, হঠাৎ ঘরে ঢুকে নিজের কালো শিশুপুত্রকে দেখলও একনজর, কিন্তু সমাজ দেখল অন্য কিছু—কাউন্টেসের শুভাকাঙ্ক্ষীরা, প্যারিস শহরকে এত বড় লজ্জা থেকে বাঁচানোর স্বেচ্ছাসেবকেরা বাচ্চা বদল করল আরেক সাদা বাচ্চার সঙ্গে। কাউন্ট যখন এলেন, তখন তিনি স্ত্রীর ডেলিভারি ভালোভাবে হয়েছে দেখে খুশি। ইবরাহিম বুঝল এভাবে চলতে পারে না। বুঝল যে নিজের সন্তানকে এভাবে ছুড়ে ফেলার গ্লানি থেকে লেওনোর শিগগির একদিন তাকে, সন্তানের আসল বাবাকে, ঘৃণা করা শুরু করবে।

    আমার মনে পড়ল না এর পরের খুঁটিনাটি। ভুলে গেছি। শুধু মনে আছে ইবরাহিম এবার প্যারিস ছাড়ার পরিকল্পনা করে ফেলল, রাশিয়া ফেরার প্রস্তুতি নিল মনে মনে। কিন্তু এভাবে, নিজের প্রেমিকাকে এভাবে বিদেশে ফেলে আধা বর্বর রাশিয়াতে পৌঁছে ইবরাহিমের বুক ভেঙে গেল লেওনোরের জন্য বেদনায়। সে লেওনোরকে একটা চিঠি লিখল, যার বাক্যগুলো ছিল মোটামুটি এ রকম: বিদায়, লেওনোর, বিদায়, প্রিয়া আমার, একমাত্র বন্ধু আমার। তোমাকে ছেড়ে এসে আমি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ খুশিকেই ছেড়ে এলাম। দুঃখী রাশিয়ায় ফিরে এসেছি আমি, এখানে এক সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গতাই আমার সঙ্গী। এরকম কিছু লিখেছিল ইবরাহিম।

    না, পুশকিনের ইবরাহিমের এই কাহিনি কষ্ট করে আর মনে করতে চাই না। এখন এর কোনোই মানে হয় না। আমার মনে হলো বিরাট এক শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি—গরমে, ঘামে, খিদে ও পিপাসায় প্রায় নিশ্চেতন, প্রায় মূর্ছিত অবস্থা। কোনো ভালো ডাক্তার আমাকে এখন দেখলে বলতেন, “ইউ সিম টু বি ব্রোকেন ইন ফিজিক্যালি অ্যান্ড ব্রোকেন ডাউন স্পিরিচুয়ালি, সমস্যা কী আপনার?’

    রাস্তার পাশে একটা মসজিদ, তার একটু উঁচু এক থামের গোল কিনারের সামান্য বেরিয়ে আসা অংশের ওপর আমি বসলাম। ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে কারও সুরা পড়বার। বাইরে এক টিনের বালতি টেনে আমার দিকে আনছে এক যুবক, তার জামার রং লাল, যা আলো-অন্ধকারে দেখাচ্ছে পুড়ে যাওয়া তামাক পাতার মতো, আর তাতেই স্পষ্ট যে এই যুবকের জন্মের কোনো ঠিক নেই, সম্ভবত বেজন্মা সে, ব্রঙ্কাইটিসে ভোগা অসংখ্য ফুঁপিয়ে কাঁদা এতিমদের একজন। তারই পাশ দিয়ে হনহন করে ফার্মগেটের দিকে চলে গেল এক পেট-মোটা প্রবীণ, তার হাতে ময়ূরের পাখনা একখানা, সেটা দিয়ে কান চুলকাচ্ছেন তিনি। আমার নাকে এল বেকারিতে ময়দা পোড়ানোর গন্ধ, সম্ভবত অগ্নিমেশিন বিগড়ে গেছে; কোথাও ড্রাম বেজে উঠল একটা, হতে পারে রান্নার হাঁড়িতে কোনো শিশুর বাড়ি মারার শব্দ। আমি রান্নাঘরটাকে রাস্তার এ পাশে, আমার ডানে ও বামে, খুঁজে পাওয়ার জন্য তাকালাম। উল্টো দিকে তাকিয়ে লাভ নেই, রাস্তার পুরোটা বাস ও মোটরসাইকেল দিয়ে ভর্তি, এ রাস্তার ওপাশ বলে কিছু নেই সেই অর্থে। একটা বাসের জানালায় দেখলাম এক মহিলা তার সেলফোনের দিকে তাকিয়ে হাসছেন, তিনি বমি ও করলেন খানিকটা, তাঁর বমির মধ্যে খেয়াল করলাম দুটো পাটশাকের টুকরো, তারা ঝুলে থাকল বাসের গায়ে, বাস দাঁড়িয়ে গেছে জ্যামে। একটা রেডিও বেজে উঠল জোরে, তাতে শোনা যেতে লাগল সৈনিক ভাইদের গান—’দুর্বার’, আমার চেনা গান, চেনা সুর, কিন্তু যে লোক গান গাইছে, তার নীচতা ও হীনমন, তার দাস মনোবৃত্তি তার কণ্ঠের মধ্যেই স্পষ্ট বেকারির জানালা দিয়ে—মসজিদের পাশ ঘেঁষে ওই জানালা -সরু ধোঁয়া বেরোনো শুরু হলো আর তক্ষুনি একটা পুরো বাসভর্তি লোক দুদ্দাড় করে নামল বাস থেকে। ‘ইঞ্জিন বিগড়াইছে’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠল বাসের কন্ডাক্টর, চিৎকার দিয়েই সে নেমে গেল রাস্তায়, বাসের চারপাশে চক্কর খেতে লাগল আমার শৈশবে বরিশালে দেখা ‘লক্ষ্মণ দাশ সার্কাস’-এর বামন গোলামের মতো করে-গোলাম ছিল তার নাম, তার সঙ্গে কিছুদিনের জন্য, এক সার্কাস মৌসুমের জন্য, বন্ধুত্ব হয়েছিল আমার। মনে পড়ল—কন্ডাক্টরকে বাস ঘিরে নাচতে দেখে—গোলামকে বেতফল কিনে দেওয়ার কথা, সে বেতফল হাতে পেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল : ‘চাখারের?’ তার সে কথার কোনো মানেই বুঝিনি আমি, না-বুঝে হইহই করে বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ চাখারের, ইয়েস চাখারের, হ্যাঁ চাখারের, না চাখারের।’ আজও স্পষ্ট মনে পড়ে গোলামের মুখ, তার বয়স ছিল তখন কুড়ি-বাইশ, কিন্তু উচ্চতা মাত্র তিন-সাড়ে তিন ফুট, হতে পারে বেশি, হতে পারে কম, তবে সে যে বামনই ছিল তাতে সন্দেহ নেই। আমি বেকারির ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে, বাস ভরা লোকের আমার ফুটপাত দখল করে নেওয়াটা অগ্রাহ্য করে, ইবরাহিমের ভেতরকার সব বকধার্মিকতাকে এক মুহূর্তের মধ্যে বুঝে ফেললাম-সে একদিন মাথার চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে নিজের কপালে পিস্তল ঠেকাবে?

    অবিশ্বাস্য। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পিস্তল উঁচুতে তুলে ধরে এই মুহূর্তে গুলি করতে উদ্যত হবে সে আয়নার ইবরাহিমের দিকে, আর পরক্ষণে পিস্তলের বাঁট ঘুরিয়ে সেটা নিশানা করবে নিজের মাথা বরাবর? অবিশ্বাস্য। বন্ধু বলেছে বলেই বিয়ে করার ধোঁকাটা বুঝে ফেলে এবং ফ্রান্সে রেখে আসা প্রেমিকা কাউন্টেস লেওনোরের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ইবরাহিম ‘না’ বলে দেবে নাতাশাদের মতো উঁচু পরিবারে বিয়ে করে পিটার্সবার্গে জাতে ওঠার আকস্মিক সুযোগটাকেও? অবিশ্বাস্য।

    কত ভুল বোঝে মানুষ সবকিছুকে। নবোকভের মতো জ্ঞানী লোক, চার খণ্ডে ইভগেনি আনেগিন অনুবাদের মতো অসম্ভব শ্রমসাধ্য কাজ শেষ করার পরেও কিনা আসল জিনিসটাই ধরে উঠতে ব্যর্থ হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন না আনেগিনের মতো একজন মানুষ কীভাবে হঠাৎ তার স্বভাবের বাইরে চলে গেল। হাহ্। নবোকভের মতে, এই যে আনেগিন বলনাচের অনুষ্ঠানে লেনস্কির প্রেমিকা ওলগার সঙ্গে আপত্তিজনক মাখামাখি করে বন্ধুকে কষ্ট দিল, তারপর বন্ধু লেনস্কি ক্ষোভের বশে তাকে ডুয়েল লড়বার চ্যালেঞ্জ জানালে আনেগিন বিষয়টার মিটমাট করে ফেলার বদলে বরং ডুয়েলের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করল এবং ডুয়েলের শুরুতেই প্রথম গুলি চালিয়ে বন্ধুকে মেরেই ফেলল, নবোকভ বলেছেন এটা নাকি আনেগিনের ‘পুরো স্বভাববিরুদ্ধ কাজ।’ নবোকভ বুঝে উঠতে পারলেন না যে আনেগিন আসলে কোনো ভালো লোক নয়, সে আদতে নোংরা, বাজে। উপন্যাসের প্রথম স্তবকেই তো তা স্পষ্ট—আনেগিন বিরক্ত তার চাচা ধীরে মরছেন বলে, সে জিজ্ঞাসা করছে, ‘শয়তান তোমাকে কবে তুলে নেবে, বুড়ো?’ ভয়ংকর। ওটাই আনেগিনের স্বভাব। বন্ধুর বাগদত্তার দিকে হাত বাড়ানোর সময় আমরা দেখি আনেগিন ‘গোপনে হাসছে’, দেখি যে সে ‘এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিশোধ তুলবার মুহূর্তের দিকে’। কিসের প্রতিশোধ? আনেগিন সহ্য করতে পারে না যে জার্মান রোমান্টিক সাহিত্য পড়া লেনস্কির জীবনে এত আলো, এত আনন্দ, এত বিশ্বাসী আবেগের আগুন ইত্যাদি থাকুক। তাই ধীরে, না থেমে, ওই আগুনটুকু নিভিয়ে দেওয়ার প্রতিহিংসাপরায়ণ বাসনা থেকে, আগেই পিস্তল উঁচুতে তুলে-যখন এর পরে আরও পাঁচ কদম সামনে এগিয়ে এসেছে তারা, যখন এর পরে লেনস্কি তার বাঁ চোখ সরু করে মাত্র তার নিশানা ঠিক করা শুরু করেছে—তখনই, আগে থেকে পিস্তল উঁচুতে তোলার অন্যায় সুবিধাটুকু নিয়ে, আনেগিন গুলি করল। কোনো কিছুই এখানে আনেগিনের ‘স্বভাববিরুদ্ধ কাজ’ হয়নি। আনেগিন আনেগিনের মতোই কাজ করেছে প্রতিবার। এই লেখায় শয়তানের স্বভাববিরুদ্ধ ভালোমানুষি এবং ভালোমানুষের স্বভাববিরুদ্ধ শয়তানি কোথায়ও নেই।

    হায়, ভাবলাম আমি, নবোকভ ধরতে পারেননি মূল সত্যটা। ওদিকে আমি, প্রায় আকস্মিক, ফার্মগেট ও বিজয় সরণির মাঝখানে মসজিদের সামনের থামে শরীর ঠেকিয়ে বসে নিচের যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া মানুষ, ধোঁয়ার গন্ধ, বাসের গায়ের ছলচাতুরীপূর্ণ রং, মসজিদের ভেতর থেকে আসা আমাদের প্রতিপালনকারীর কাছে ক্ষমা চেয়ে উচ্চারিত সব সুমধুর আয়াত, এই সব শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে ধরে ফেললাম মূল বিষয়। বুঝে ফেললাম যে অন্যায় হয়েছে লেনস্কির প্রতি, অন্যায় হয়েছে পরে পুশকিনের প্রতিও, অন্যায় হয়েছে আকাশে গুলি ছুড়তে মনস্থ করা লেরমন্তভের প্রতি, আর অন্যায় হয়েছে বঙ্গবন্ধুর এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের প্রতিও—বিরাট অন্যায়।

    শয়তান হঠাৎ ভালো কাজ করতে গিয়ে কিছু করে বসেনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ৬৭৭ নম্বর বাসায় কিংবা ক্যান্টনমেন্টে বা কোনো দূতাবাসে বসে। শয়তান শয়তানের কাজই করেছে। হুহ্।

    আমি উঠলাম। হেঁটে পৌঁছালাম বিজয় সরণির মোড়ে, দেখলাম আমার ডানে রাস্তায় ভিড় কমে গেছে, দেখলাম দুটো গাড়ি, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের গাড়ি, তাতে বিদেশি লোকজন ভরা, যাচ্ছে আমার উল্টো দিকে হোটেলের উদ্দেশে, দেখলাম আকাশে যত্রতত্র তুলো তুলো মেঘ এবং সেগুলোর শেপ ও সাইজ এই রাত প্রায় আটটার অন্ধকার আকাশেও প্রায় পরিষ্কার দৃশ্যমান, প্রায় বোঝার যোগ্য রকমের স্পষ্ট—আমি মেঘেদের ওই আকার ও ডিজাইনের মধ্যে তিনটে মহিষের মাথা প্রত্যক্ষ করলাম বিদ্যুল্লতার মতো কাঁপছে থিরথির করে, নিচে থেকে তাদের গায়ে প্রতিফলিত পৃথিবীর ম্লান আলোয়, নিরন্তর ঘাড় বেঁকানো মুখে সাদা ফেনা ওঠানো মহিষ ওরা, এ মুহূর্তে যদিও ওদের মুখের ফেনা দেখা যাচ্ছে না, মেঘের গায়ে মহিষ তিনটের আউটলাইনই কেবল থাকা সম্ভব, ডিটেল নয়, তবে স্রেফ সেই নিরালোক আউটলাইনের মধ্যেও এটুকু সুবোধ্য যে মহিষগুলোর মাথা কুঁচকানো ব্যথায়, তারা অনিয়ন্ত্রণযোগ্য জড়তা ও জাড্য নিয়ে আছড়ে পড়ে আঘাত করতে চাইছে নিচের মানুষ ও মানুষের জীবনের বন্দোবস্তকে।

    আমি মেঘের ওই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। সুরভি আমাকে জুলিয়ান কাসাব্লাংকাসের একটা গানের লিরিক ও লিঙ্ক পাঠিয়েছিল মাত্র কিছুদিন আগে। সেই গানের কথাগুলো, সুরসহ, মাথায় এল আমার :

    I feel like a tourist out in the country
    Once this whole world was all countryside
    Feel like a tourist in the big city
    Soon I will simply evaporate.

    কীভাবে ইভাপোরেটেড হব আমি? মহিষদের হাতে, তাদের গুঁতোয়, তাদের পা মাড়ানোয়?

    আরেকটা বিদেশিদের গাড়ি গেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উদ্দেশে। এত বিদেশি কেন ঢাকা শহরে আজ রাতে? আমি জোরে দৌড়ে মোড়টা পার হতে চাইলাম কিন্তু মাত্রাজ্ঞানহীন দৌড়ের হেতু ধাক্কা দিয়ে বসলাম এক চলন্ত মোটরসাইকেলের গায়ে, মোটরসাইকেলটা ছটফট করে নড়ে উঠে পড়ে গেল রাস্তার পাশে, আরোহী তরুণ ওখানেই বসে পড়ল তার ডান পা দুহাতে চেপে ধরে, লোকজন কোত্থেকে ছুটে এল আমার চারপাশে, তারা চিৎকার করে আমাকে অভিযুক্ত করছে এই দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য, একজন আমার বুকের কাছের ভেজা জামা খামচে ধরে বলছে–চোখে দ্যাখেন না, উজবুক। সবাই আমাকে বলছে উজবুক আর ভিড়ের মধ্যে থেকে আমি দেখলাম ভিড়ের ঠিক ওপাশ থেকে দেখলাম আমাকে আমার নাম ধরে ডাকছে পথের পাঁচালীর অপু, সে এখানে এল কোত্থেকে? আমি ভাবলাম, মানুষের অসহনশীল আচরণ উপেক্ষা করে অপুর দিকে এগোনোর জন্য পা বাড়ালাম, কিন্তু আমাকে শোকাচ্ছন্ন করে ভিড়ের মধ্যে কোথায় হারিয়ে গেল অপু, একটা লোক হঠাৎ ‘পনেরোই আগস্ট, পনেরোই আগস্ট, সরে যান, সরে যান’ বলে আর্তচিৎকার দিয়ে দৌড়ে চলে গেল আমাদের দিকে তাকিয়ে বিজয় সরণির মোড় থেকে ক্যান্টনমেন্টের দিকে, আমাকে ঘিরে থাকা লোকগুলো সরে গেল, উধাও হয়ে গেল কোথায়, আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একা, দেখলাম ১৭-১৮টা কামান এবং ত্রিশটার মতো T-54 ট্যাংক ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হলো দীর্ঘ ড্রাগনের শরীরের, লেজের আকৃতি নিয়ে, ওগুলো যেতে লাগল ক্যান্টনমেন্টের উত্তর প্রান্তে নতুন বিমানবন্দরের বিরান মাঠের দিকে—অনেকগুলো যুদ্ধ মেশিন, অনেক মানুষ এবং তাদের আপাত-মিষ্টভাষী চেহারায় বিদ্রূপাত্মক তর্জনগর্জনের আবছায়া।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক
    Next Article ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Our Picks

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }