Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    মাসরুর আরেফিন এক পাতা গল্প663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আগস্ট আবছায়া – ৪.১

    ৪.১

    সকাল দশটা বাজে। পনেরোই আগস্ট। শব্দটা হওয়ার পরে আমাদের সবার নির্ঘুম কেটে গেছে প্রায় দশ ঘণ্টা। আমি গত রাতের বাকি পুরোটা সময় সব বিশ্রাম, সব নাওয়া-খাওয়া ফেলে ওই শব্দের আকার ও উৎসের পেছনে পার করেছি; পার করেছি অন্ধকার রাত, আলো ফোটা ভোর ও বিষণ্ণ সকাল; এবং এলাকার যার সঙ্গেই কথা বলেছি, সে-ই শব্দটাকে দিয়েছে নতুন নতুন চেহারা। কিসের শব্দ ছিল ওটা, সেই ব্যাখ্যা দেখেছি সংখ্যায় যত কম, কেমন শব্দ ছিল ওটা, সে বিবরণ ততই বেশি। অনেকগুলো, আক্ষরিক অর্থেই অনেকগুলো, বিবরণ পাশাপাশি বসিয়ে আবার দেখেছি যে ঘুরেফিরে তিন ধরনের শব্দের কথাই বলা হচ্ছে বারবার : ওটা ছিল ভোঁতা কিন্তু ধাতব এক আওয়াজ; কোনোভাবেই আওয়াজটা ধাতব ছিল না, ছিল পৃথিবীর সমান সাইজের এক পর্দা ফেড়ে ফেলার ভ্রাত; বিস্ফোরণের বুম বলা যাবে না ওটাকে, বরং বলা যেতে পারে দুটো মহাদেশ আকারের পাথরের একটার সঙ্গে আরেকটার প্রচণ্ড বাড়ি খাওয়ার ঠা-ডা।

    শব্দের স্থায়িত্বকাল নিয়ে বেশি একটা বিতর্ক আমি লক্ষ করিনি কোথায়ও। কারণ সবাই—চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, মসজিদের ইমাম, ঘরের বউ-ছেলে-মেয়ে সবাই—একমত যে খুব বেশি হলে মাত্র তিন-চার সেকেন্ড শোনা গিয়েছিল ওই ঠা-ডা, ওই ভ্রাত, ওই দ্রিম।

    আর শব্দটার উৎসসংক্রান্ত ব্যাখ্যা ঘুরেফিরে এ কথাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে খেয়াল করলাম : নিঃসন্দেহে ওটা আকাশে আমেরিকান কোনো স্যাটেলাইটের দুই প্লেটে বাড়ি খাওয়ার শব্দ ছিল, যেমন নাকি অনেকেই শুনেছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ২০০০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবার আগের দিনে (পত্রিকায়ও তখন সে কথা লেখা হয়েছিল বলে মনে করতে পেরেছেন অনেকে); নিঃসন্দেহে ওটা ছিল এই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকারই কোনো (আকাশের নয়) গোপন প্রজেক্টে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো অব্যাখ্যেয় দুর্ঘটনা; আর ‘জানি না,’ ‘বলতে পারব না,’ ‘ইউএফও হতে পারে, কিন্তু ইউএফও বলে তো কিছু নেই,’ ‘আল্লাহই জানেন, শুধু দোয়া করি এই জীবনে যেন আর কোনো দিন শুনতে না হয় ওই শব্দ’—এসব।

    আমি সবার সব কথা শুনি, কিন্তু শুধু বারবার ফিরে যাই গত রাতের সেই মুহূর্তটায়, যখন আমার জীবনকালে দেখা ও শোনা প্রকৃতির সব সিমেট্রি ওই একবারই এত ভয়াবহ ও লজ্জাজনকভাবে ভেঙে পড়তে দেখেছি। এ পৃথিবীতে কোনো অর্থই হতে পারে না অমন এক আকস্মিক বিকট আওয়াজের, কোনোভাবেই তা খাপ খায় না পৃথিবীর ভোর, পৃথিবীর দুপুর, পৃথিবীর অন্ধকার (বা তারাভরা উজ্জ্বল) রাতের সঙ্গে, এর ঐশ্বর্যশালী বায়ু, এর হিতৈষী সাগরের ঢেউ, এর অভিভাবকসুলভ স্নেহভরা জল ও অগ্নি এবং এর কর্মকুশল ঋতুবদলের সঙ্গে। বরিশালে ছোটবেলায় মাদ্রাসার হুজুরেরা আমাদের তিন ভাইকে মন্ত্রপাঠের মতো শেখাতেন ‘খোদা সর্বশক্তিমান’, ‘খোদা সর্বশক্তিমান’। আমি সেই বাচ্চা বয়স থেকেই বুঝতাম এ-কথার মাধ্যমে তারা এটাই শিশু-কিশোরদের বোঝাতেন যে যা কিছু সম্ভব খোদা তার সবই করতে পারেন। কিন্তু আমরা বাচ্চারা ব্যাপারটা নিয়ে শব্দ ও ভাষার এক অদ্ভুত খেলা খেলতাম মনে আছে। সেই উঠতি বয়সে আমরা তখন একে অন্যকে বলতাম যে, হায়, খোদা তো আর চতুর্ভুজাকার কোনো ত্রিভুজ বানাতে পারেন না; খোদা সব জানেন বটে, যা কিছু জানার যোগ্য, জানার পক্ষে সম্ভব, তিনি তার সবই জানেন, কিন্তু তিনি কি কোনো বন্ধ্যা নারীর সন্তানের নাম জানেন? ‘বাঁজা মাইয়ার পোলাপাইনের নাম জানেন আল্লায়?”, বলত আর হাসত আমাদের নিউ ভাটিখানা রোডের দুষ্টু বড়রা, আমাদের মতো ছোটদের সামনে তাদের স্মার্টনেস-দেখাতে-চাওয়া মুহূর্তগুলোতে। পশ্চিমা মানুষদের ধর্মতত্ত্ব নামের মূলত অবিশ্বাসী চিন্তায় ভরা লঘু ধাঁচের বইগুলোতে বড় হওয়ার পরে পড়া উদ্ভট লজিকের চটুল এই ‘সম্ভাবনাগুলোর কথা তখন আমি ভাবছি বসুন্ধরা এফ ব্লকের এক কোনায় ছোট এক চায়ের দোকানে চায়ের গরম কাপে মুখ দিয়ে; এবং দ্রুত কয়েক চুমুকে চা খাওয়া শেষ হতে বুঝেছি যে, ‘সম্ভাবনা’ কাল ও স্থানের হাতে বন্দী, ‘সম্ভাবনা’ আমাদের সাময়িক অজ্ঞতারই অন্য নাম, আমরা ‘সম্ভাবনা’র কথা বলে এই অপেক্ষাই করছি যে সময়ের সঙ্গে নিশ্চয়তা এসে সম্ভাবনাকে মুছে দেবে, কোনো সর্বজ্ঞ কিছু বা কিছু না এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব বর্তমান ও সেই বর্তমানে গতিশীল সকল অ্যাটমকে এত ভালোভাবে একদিন জানবে যে পুরো ভবিষ্যৎ তখন আয়নায় তাকালেই স্পষ্ট দেখা যাবে। যেমন আজ আয়নায় তাকালে আমি আমার উল্টো এক প্রতিরূপ দেখি, তেমন একদিন নিশ্চয় আয়নায় আমি দেখতে পাব আমার পঞ্চাশ বায়ান্ন-বাষট্টি বছর বয়স, সব বয়স, সব পরিস্থিতিতে আমার সব চেহারা।

    দোকানদার আমার চায়ের দাম নিলেন না। মধ্যবয়স্ক রোদে পোড়া এই মানুষটা-তাঁর নাম আমি জানি না, কারণ, এর আগে কখনো এ কোনাটায় আসিনি—বললেন, ‘পয়সা নিয়া কী হব, স্যার? পৃথিবীই তো আর টিকতেছে না। কোরআন-হাদিসে কেয়ামতের আগে এই সব আজব কাণ্ডকারখানার কথা লেখা আছে।’ আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে তাঁর কী মনে হয়, কতটুকু সম্ভাবনা যে এই শব্দ মানুষের সৃষ্টি আর কতটা সম্ভাবনা যে এর পেছনে আছে কোনো দৈবশক্তি। ‘দৈবশক্তি’ শব্দটাকে ব্যাখ্যা করে বলতে হলো আমার। তিনি চায়ের কেটলি ধুয়ে ফেলছেন, স্টোভের আগুন নিভিয়ে ফেলেছেন, পিরিচের ওপরে জমা টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়ো ঝেড়ে ফেলেছেন। আমাকে তিনি বললেন, ‘ভালো লাগতেছে না, স্যার। বাড়ি যামু। আমার বাড়ি কুমিল্লা। বসুন্ধরায় আল্লাহর গজব পড়ছে। এখানে থাকা যাইত না।’ তার মানে এটাই সত্য সম্ভাবনা যে খোদা তাঁর ক্ষমাহীনতার রূপ ধরে পৃথিবীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পনেরোই আগস্ট তারিখটাকে বেছে নিয়েছেন? খোদার এতটা সুবিচারের প্রশংসায় আমার মন মাত্র আর্দ্র হয়ে উঠেছে, দেখলাম পাশের দালানে মিলাদমতো কিছু একটা শেষ হলো, এক দল মাদ্রাসার সাদা পোশাক পরা ছাত্র হাতে ছোট ছোট মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে বের হলেন ওই দালান থেকে। আমি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলাম তাঁরা সরফরাজ নওয়াজ সাহেবকে চেনেন কি না। তাঁরা সবাই সমস্বরে হ্যাঁ বললেন, আমি ধরে নিলাম তাঁরা এখানে এসেছেন এই শব্দে প্রচণ্ড ভীত ও ধর্মপরায়ণ কোনো বসুন্ধরাবাসীর কোরআন তেলাওয়াতের আহ্বানে, তাঁরা এসেছেন সরফরাজ নওয়াজ সাহেব যে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির প্রধান, সেখান থেকে।

    সামনের দালানে আমার না-দেখা ওই ভীত মানুষটার মতো, ওই চা-বিক্রেতার মতো আমিও বিকট শব্দটার মধ্যে খোদার সন্ধান করছি, ওই শব্দের কারণ ও উৎস অনুসন্ধানে নেমে আমি আসলে রয়েছি ধর্মীয় এক তীর্থযাত্রায়, আমাকে নিয়ে এতখানি আশাব্যঞ্জক কথা কেউ ভাববে না, সেটাই আমার আশা। বিশ্বাসীরা খোদার কাছে কথা বলে, আর অবিশ্বাসীরা খোদাকে নিয়ে কথা বলে। এই এতগুলো ঘণ্টা—শব্দটার বিকটত্ব ও রহস্যময়তার কাছে ধরা খেয়ে—বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মানুষেরা খোদাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছে, যেমন আমি বললাম একটু আগে, কিন্তু তাঁরা খোদার সঙ্গে এ বিষয়ে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে বা বারান্দায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী বলেছে, সে সাক্ষ্য দেওয়ার আমি কেউ নই। আমি শুধু এটুকু জানি যে আমি শব্দটার আকৃতি-প্রকৃতি-স্থায়িত্ব ও এর পরিণাম (অসংখ্য বাড়ির ভাঙা কাচ, রাস্তাগুলো জুড়ে অসংখ্য গাড়ির কাচ টুকরো হয়ে ছড়িয়ে যাওয়া, রাত থেকেই অসংখ্য শিশুর অসুস্থতা, ভয়ে তাদের মায়ের বুকের দুধও খেতে না পারা, অসংখ্য হঠাৎ গর্ভপাত ইত্যাদি) নিয়ে চিন্তা করে করে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে বহুবার খোদার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি যে, আল্লাহ, জানি তোমার চেয়ে বড় কেউ নেই, তেমন এটা যেন ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মগুলোকে জানতে না হয় যে, সেই এক পনেরোই আগস্টের রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অব্যাখ্যেয় শব্দটার চাইতে বড় কিছু কোনো দিন ছিল না; আর তুমি যেমন অজানা, অজ্ঞেয় (ফলে তোমাকে আমরা যতভাবে জানতে চাই না কেন, তোমাকে জানা নিয়ে যত রকম হ্যাঁ-বোধক কথাই বলি না কেন, সবই আমাদের বদলাতে হয়, সব ভাষ্যই আবার ফেলে দিয়ে নতুন করে শুরু করতে হয়, কারণ, তোমাকে জানা নিয়ে যা বলি, তাতেই ঘাটতি থেকে যায়), এই শব্দও যেন কোনো দিন তেমন সম্মানের আসন না পেয়ে বসে।

    এ রকম কিছুটা আধ্যাত্মিক (জীবনের মূল অর্থ যদি কিছু থেকে থাকে, তা এই বিকট শব্দে আসমানের খোদা এবং নিচের মাটিতে তাঁর সৃষ্টিসহ নড়ে যাওয়া অর্থে), কিছুটা রাজনৈতিক (পনেরোই আগস্ট রাতেই এই শব্দ হলো অর্থে), আর মূলত এক সামাজিক (মানুষের জন্য মায়া অর্থে) কারণ থেকে আমি নিজের সঙ্গে নিজেই চ্যালেঞ্জ নিলাম যে, এ শব্দের উৎস ও কারণ আমি খুঁজে বের করবই, তাতে যদি আমার জীবনের পুরোটা লেগে যায়, তা-ও।

    প্লেটো বলেছিলেন, ‘সবকিছুই হওয়ার মধ্যে রয়েছে-হওয়ার এবং অদৃশ্য বা ক্ষয় হওয়ার; কোনো কিছুই সত্যিকারের কখনো হয়ে নেই।’ সেটাই আমার অনুসন্ধানের প্রধান দার্শনিক ভরসা ও ভিত্তি, আমার আশা। শব্দটা তিন সেকেন্ডে মরে যায়নি, সে এখনো বর্তমান আছে—আমার স্মৃতিতে, আমার কানের মধ্যে। খোদাকে বুঝতে হলে খোদাকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে, সেটা যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা থেকেই; আর ওই সংজ্ঞায় বলতে হবে যে, খোদা স্থান ও কালের সীমানার ঊর্ধ্বে, যেন দুষ্টু লোকেরা ও অবিশ্বাসীরা খোদাকে এই ব্রহ্মাণ্ডের বাকি অসংখ্য বস্তুর সঙ্গে একই কাতারে ফেলে আরেকটা বস্তু বা সত্তা বানিয়ে খাটো করে ফেলতে না পারে। এই শব্দটাও, আমার ক্ষুদ্র বিচারে, তেমন — স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে এর অবস্থান এবং এর সত্তা এখনো আমার ও আমাদের অনেকেরই আতঙ্কগ্রস্ত মাথায় নির্মীয়মাণ। সন্দেহবাদীদের ষড়যন্ত্রে আমরা একে অতীত হতে দেব না, আমি একে ইতিহাস হয়ে যেতে দেব না।

    সে যে এখনো বর্তমান, সে যে এখনো ‘হচ্ছে’, এ রকম এক দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই আমি মেহেরনাজের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তাকে বললাম আমার সঙ্গে জলদি দেখা করতে এবং এই মিশনে আমাদের অতীতের সব রাগ-ক্ষোভ, ভুল-বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে—আমার সঙ্গী হতে। মেহেরনাজ জানাল, গত রাতে তার এক মিনিটও ঘুম হয়নি এবং আশ্চর্যের ব্যাপার যে সে-ও আমার মতোই এখন বসুন্ধরা আবাসিকের রাস্তা থেকে রাস্তায় ব্যস্ত এ শব্দের পেছনের ‘ষড়যন্ত্র’ (তার হিসাবে এটা একটা ‘ষড়যন্ত্র’, যেমন আমি জানি সুরভির হিসাবে কাঠমান্ডুর সাম্প্রতিক বিশাল ভূমিকম্প একটা ‘ষড়যন্ত্র’) ও এই শব্দ সংঘটনের তলটা খুঁজে পেতে। মেহেরনাজ আমাকে জানাল, কাজ শেষ করে বা কাজ ঠিকভাবে শুরু করে সে দুপুরের পরে কিংবা বিকেলে আমার সঙ্গে দেখা করবে। আমি বললাম, “ওকে’ এবং রওনা হলাম অ্যাপোলো হাসপাতালের দিকে।

    অ্যাপোলোর কাছে যেতে যেতে দেখলাম এক রাতের মধ্যে বসুন্ধরার কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই—সব বদলে গেছে, সব ওলটপালট হয়ে গেছে। হাসপাতালের ইমার্জেন্সির সামনে লম্বা লাইন, এতই লম্বা যে তার শেষ মাথা এসে ঠেকেছে তামান্না ফার্মেসির কাছ পর্যন্ত, অনেক বাচ্চা অনেক মায়ের কোলে, অনেক প্রবীণ ও বৃদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে লাঠিতে বা নাতি-নাতনিদের কাঁধে ভর দিয়ে, আর যেদিকেই চোখ যায়, সাংবাদিকদের গাড়ি, যাঁরা গত রাত থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্য ফেসবুক পোস্ট, ফোন কল ও এসএমএসের কল্যাণে আজ সকাল থেকে ভিড়ের বাঁধ ভেঙে আছড়ে পড়েছেন এই এলাকায়।

    বিকেল নামেনি। এখনো কড়া দুপুর। এরই মধ্যে দেখলাম তিনটে দৈনিক পত্রিকার সংক্ষিপ্ত ‘বিশেষ সংস্করণ’ বা ‘অপরাহ্ণ সংস্করণ’ বিক্রি হচ্ছে রাস্তাগুলোর মোড়ে মোড়ে। পত্রিকা তিনটেই বসুন্ধরা এলাকায় ছাপা ও মুদ্রণ হওয়া কাগজ—দৈনিক কালের কণ্ঠ, যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন।

    কালের কণ্ঠর প্রথম পাতার লাল ব্যানার হেডিং: ‘রহস্যময় শব্দে কেঁপে উঠল বসুন্ধরা’। তারা বসুন্ধরা শব্দের পরে ‘আবাসিক এলাকা’ কথাটা না লিখে খবরের ব্যাপ্তি ও বিশালত্ব বেশ কায়দা করে বাড়িয়ে দিয়েছে, পড়ে মনে হচ্ছে তাদের শিরোনামের ‘বসুন্ধরা’ মানে তারা যা বোঝাতে চেয়েছে, তা-ই, মানে পুরো পৃথিবী, যা কিনা বসুন্ধরা শব্দের আক্ষরিক অর্থ। তারপর তারা পুরো দুই পাতা জুড়ে প্রায় কুড়ি-পঁচিশটা ছবি ছেপেছে উইন্ডশিল্ড ভাঙা গাড়ির মিছিলের, অসংখ্য বাড়ির জানালার ফ্রেমের, যাতে একটাও কাচ টিকে নেই আর, ভয়ার্ত শিশুদের ক্রন্দনরত চেহারার, রাস্তা বন্ধ করে জামাতে দাঁড়ানো প্রার্থনারত মানুষের। একটা ছবিতে স্রেফ একটা কুকুর, তার চেহারায় অপার জিজ্ঞাসা এবং তার গালের এক পাশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। আমি ধারণা করে নিলাম, কোনো না কোনো ছুটন্ত কাচের আঘাতে কেটে গেছে কুকুরটার গাল। কালের কণ্ঠর প্রতিবেদনটা পরে পড়ব বলে রেখে দিলাম হাতের মুঠোয় ভাঁজ করে।

    এরপর চোখের সামনে মেলে ধরলাম দৈনিক যুগান্তর। খুব কাব্যিক এক শিরোনাম করেছে তারা প্রথম পাতার পুরো আট কলামজুড়ে : ‘স্তব্ধ বসুন্ধরা : তিন সেকেন্ডের শব্দ এবং অনন্ত নীরবতা’। এই শিরোনামেও করা হয়েছে একই কাজ, বসুন্ধরা শব্দকে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাফরিক অর্থে, এবং শব্দ-পরবর্তী নীরবতার কথা এভাবে লিখে সম্ভবত পৃথিবীর শেষ হয়ে যাওয়ার গা-ছমছমে ইঙ্গিত রাখা হয়েছে এতে। দৈনিক যুগান্তর-এ ছবি কম, লেখা বেশি। লেখাগুলো পড়ার সময় নেই এখন আমার হাতে। শুধু একটা ছবি দেখলাম সরফরাজ নওয়াজ সাহেবের। তাঁর মন্তব্যে চোখ বোলানোরও সময় নেই আমার; তা ছাড়া কীই-বা আর বলবেন তিনি আল্লাহর গজবের কথা বলা ছাড়া? এটাও কিনলাম, কালের কণ্ঠর ভাঁজের মধ্যে ভাঁজ করে রাখলাম।

    এবার বাংলাদেশ প্রতিদিন। তারাই সম্ভবত এ তিনটে পত্রিকার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর কাজটা করেছে। তাদের পত্রিকার প্রথম পাতার মাথায় দেখলাম রক্তলাল রঙে শুধু এ কথাটুকুই লেখা পরপর দু লাইনের ব্যানারে : ‘ডেটলাইন রাত ১২টা ৭ মিনিট পনেরোই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের প্রথম প্রহরে এ কিসের আওয়াজ?’ আর নিচে বাকি পাতার পুরোটাই ফাঁকা।

    তিনটে পত্রিকাই আমার হাতে। দেখলাম অন্য সব জাতীয় দৈনিক এ খবরটা ছাপানোর মতো সময় করে উঠতে পারেনি। খুব স্বাভাবিক, কারণ, রাত বারোটা নাগাদ তো পরের দিনের পত্রিকা অবশ্যই বেরিয়ে যায়। আমি ভিড় ঠেলে অ্যাপোলো হাসপাতালের নিচতলায় গিয়ে দাঁড়ালাম। কী করব, কোন দিকে যাব, এখানে আমার কাজ কী, তা বুঝে উঠতে পারলাম না। কাস্টমার সার্ভিসের গোলমতো জায়গার পাশে যে টিভিগুলো চলছে, তাদের পর্দায় তাকালাম অন্য আরও কয়েক ডজন দর্শকের মতোই। ওখানে চারটে টিভি পরপর অর্ধবৃত্তাকারে রাখা, একটা থেকে আরেকটা যথেষ্ট দূরে দূরে। প্রথমটাতে দেখলাম বাংলাদেশের এক চ্যানেলে ওই একটাই খবর দেখাচ্ছে, মনে হলো তারা আমাদের বিল্ডিংটাও দেখাল যেন, এ মুহূর্তে এক শিক্ষিত গৃহবধূ কথা বলছেন ইংরেজির ফাঁকে ফাঁকে বাংলা মিশিয়ে : ‘ইটস লাইক, হরিবল, দিস অ্যান্টিসিপেশন অব থিংস কামিং টু এন এন্ড ইজ লাইক, বলে বোঝানো যাবে না।’

    পরের টিভিতে ভারতের বিখ্যাত একটা চ্যানেল, তাতে গান গাইছেন কুমার শানু, এবং পর্দার নিচের পুরোটাজুড়ে স্কুলে দেখানো হচ্ছে একটাই কথা : ‘DHAKA BANGLADESH RESIDENTIAL DISTRICT SHUDDERS AT A MYSTERIOUS SOUND-13 KILLED – HUNDREDS INJURED’।

    এমন সময় সুরভির ফোন এল কাঠমান্ডু থেকে। বহুদিন পর আমার কথা হচ্ছে তার সঙ্গে। তার কণ্ঠস্বর রীতিমতো কাঁপছে, সে আমাকে আমি কেমন আছি, ভালো আছি কি না, জিজ্ঞাসা করেই বলল সিএনএন চ্যানেলে চোখ রাখতে, এক্ষুনি। আমি তাকে বললাম যে আমি টিভি পর্দারই সামনে এবং একটা টিভিতে সিএনএন না, বিবিসি চলছে, আর সে যে খবরের কথা বলছে, তা তো দেখাচ্ছে বিবিসি চ্যানেলেও। সে আমাকে জোর করতে লাগল সিএনএন ছাড়ার জন্য। আমি তাকে বললাম যে আমার সে উপায় নেই, কারণ, আমি একটা পাবলিক প্লেসে দাঁড়িয়ে টিভি দেখছি, টিভির রিমোট আমার কাছে নেই। সুরভি তখন বলল, ‘সিএনএন বলছে যে ঢাকার এই অদ্ভুতুড়ে বিকট শব্দের পেছনে এরই মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে এই অনুমান রাখছে যে, এটা আইএসের কাজ।’ সুরভি আমাকে আরও জিজ্ঞাসা করল, নিশ্চিত হবার স্বার্থেই যে আমার বাসা তো ওই বসুন্ধরা আবাসিকেই, নাকি? আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। সে জানতে চাইল আমি শব্দটা শুনেছি কি না? আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। সুরভি তখন বারবার বলতে লাগল, ‘সাবধানে থেকো, সাবধানে থেকো, ফ্রি হলে আমাকে কল দিয়ো, জরুরি কথা আছে।’ সুরভির ফোন রেখে আমি চার নম্বর টিভির দিকে তাকালাম। আল-জাজিরা চলছে। দোহা শহরের উঁচু উঁচু দালানের সামনে বিরাট ঐতিহ্যবাহী এক নৌকার স্থাপত্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখানো একটা বিজ্ঞাপনের শেষে তারা ব্রেকিং নিউজ দিল, বাংলাদেশের ঢাকায় ঘটে গেছে এক মহাকাণ্ড। জাতীয় শোক দিবসের গাম্ভীর্যকে খান খান করে দিয়ে সেখানে এমন এক গায়েবি আওয়াজ শোনা গেছে, যা কিনা ব্যাপ্তি ও প্রচণ্ডতার বিচারে আধুনিক পৃথিবীতে এই প্রথম। তারা এ শব্দের সঙ্গে তুলনায় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমায় আণবিক বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ও মিত্রবাহিনীর ড্রেসডেন এয়ার অ্যাটাকের শব্দকেও পিছিয়ে রাখছে ‘আনসার্টেইনটি ফ্যাক্টর’ বা ‘অনিশ্চয়তা’র সাপেক্ষে বিচার করে।

    আমি বিবিসির খবর, আল-জাজিরার ব্রেকিং নিউজ ও সুরভির মুখে সিএনএনের কথা শুনে হঠাৎই বুঝে গেলাম, এ মুহূর্তে এই পৃথিবীর অন্যতম প্রধান খবর আমাদের এখানকার এই বিকট শব্দ। বাংলাদেশের চ্যানেলে দেখলাম বলা হচ্ছে দেশের প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় দোয়া মাহফিল, মোনাজাত এবং তাঁর পিতার কবরে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আজ বিকেলে ঢাকায় নেমে সোজা বসুন্ধরায় আসবেন। আমার ভয় হলো বঙ্গবন্ধুকন্যার এ কাজটা করা নিরাপত্তার দিক থেকে ঠিক হচ্ছে কি না, সেটা ভেবে। এমন কি হতে পারে না যে তাঁর পিতা-মাতা-পরিবার-পরিজনের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ দিবসে এই শব্দের ফাঁদ ফেলে তাঁকে বসুন্ধরায় টেনে আনা হচ্ছে ভয়াবহ বিপদে ফেলবার জন্য? যদিও এখন আর ১৯৭৫ সালের মতো দুর্বল ও অর্থহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই, যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন বিশ্বমানের, সত্য, তবু আমার যেমন একদিকে ভয় হতে লাগল যে অন্ধকারের শত্রুরা, যারা এত বড় দুনিয়াকাঁপানো এক শব্দের খবরের জন্ম দিতে পারে, তারা নিশ্চয় ওই নিরাপত্তাবলয়ও ভাঙতে পারবে, অন্যদিকে তেমনই মনে হলো যে এসএফএফ, এনএসআই, ডিজিএফআইকে ধোঁকা দিয়ে কেউ এখানে দিনের বেলায় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিপদে ফেলবে, সে ভয় আসলে অমূলক। আমি সুরভির বলা জরুরি কথাটা কী, তা জানার নিদারুণ আগ্রহ থেকে (অন্য কোনো সময়ে এই আধা পাগল মেয়েটা এটা বললে আমি এর কোনো তোয়াক্কা করতাম না অবশ্য) অ্যাপোলো হাসপাতালের সীমানাদেয়ালের বাইরে বের হয়ে পেছন দিকের নির্জন কোনো রাস্তার খোঁজে পা বাড়ালাম।

    নির্জন রাস্তা পেয়েও গেলাম একটা। সুরভিকে ফোন করব, তখনই দেখলাম পাঁচ আফ্রিকান যুবক রাস্তার ওপরে এসে পড়েছে ফুটবল নিয়ে। আমি ওদের পেশির টান টান ভাব ও কালো চামড়ায় সূর্যের আলোর চিকচিক দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম ওদের একদম কাছে। দলের মধ্যে যে একটু বেশি বয়স্কমতো, সে তার মুক্তোর মতো সাদা দাঁত বের করে বলল, ‘হোয়াট?’ আমি বললাম, ‘নাথিং।’ আবার বললাম, ‘হোয়ার আর ইউ ফ্রম?’ সে উত্তরে বলল, ‘হোয়াট ডাজ দ্যাট ম্যাটার?’ তখন তার পায়ে বল, সে বলে লাথি মারার সময়ে ‘ম্যাটার’ শব্দটা বলেছে বলে কণ্ঠের বিশেষ ইনফ্লেকশনে ওটা শোনাল ‘মাটার’ বা ‘মাদার’-এর মতো। বাকি চারজন আমাকে জলদি জলদি বিদায় করার প্রয়োজন থেকেই যেন বলল, ‘জানজিবার,’ ‘জানজিবার’।

    আমি জানতাম না জানজিবারের ফুটবল খেলোয়াড়েরাও এখন ঢাকার ক্লাবে খেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘জানজিবার, মানে তানজানিয়ার জানজিবার?’

    তারা একসঙ্গে পুতুলনাচের পুতুলদের মতো আমাকে ঘিরে দৌড়াল, বল নিয়ে ড্রিবলিং করল এবং বলতে লাগল, ‘ইয়েস ইয়েস ইয়েস ইয়েস ইয়েস।’

    আমি কল্পনা করতে লাগলাম জানজিবারের বাওবাব গাছ, তার উপকূলজুড়ে ভারত মহাসাগরের পানির ভেঙে পড়া, ওমান সাম্রাজ্যের আমলে তার ক্রীতদাস বিক্রির হাট, তার দূর গ্রামে আমাদের ব্র্যাক এনজিওর অফিস, তার বড় জাহাজের খোলের মধ্যে বসা হাজার হাজার ক্রীতদাস, যারা বমি করছে, মারা যাচ্ছে, পায়খানা করে দিয়ে তার মধ্যে বসে রয়েছে এবং ভাবছে যে যেন জাহাজ ইংল্যান্ড-আমেরিকা পৌঁছানোর আগেই তাদের সমুদ্রমৃত্যু হয়। আমি জানজিবারের পাঁচ খেলোয়াড়ের টান টান শরীর ও ইয়েস বলার শশশ ধ্বনি খেয়াল করে বুঝলাম, কাল রাতের ওই বিকট শব্দকে তারা দেখছে আমাদের চেয়ে অন্যভাবে, আফ্রিকান হিসেবে এবং সে কারণে—মৃত্যুভয় তাদের কাছে ডালভাত বলেই-তারা এ রকম ফুটবল খেলে যেতে পারছে বিকারহীন পায়ে।

    সুরভি ফোন ধরে বলল, ‘তাহলে আমাকে ফোন করলে শেষমেশ? আমার ই-মেইলগুলো পাওনি? আমার এত দিনের ফোনগুলো পাওনি? একবার মনে হয়নি দ্বিতীয় ভূমিকম্পটার পরে আমি বেঁচে আছি কি না? হোয়াই আর ইউ লাইক সাচ আ বিগ ব্রুটাল অ্যানিম্যাল? হোয়াই?’

    আমি চুপ। সুরভি কাঁদছে। আমি বুঝতে পারলাম আমি তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, আমার উচিত ছিল ১২ মেতে কাঠমান্ডুর দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্পের পরে অন্তত একবার হলেও তার খোঁজ নেওয়া। আমি তাকে ‘সরি’ বললাম, বললাম যে, আমার ভুল হয়ে গেছে। সে কথা শুনে একনিমেষে ঠিক হয়ে গেল সুরভি, সে ঝলমল করে উঠল, অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল আমাকে নিয়ে, বলল যে আমি জানোয়ার ধরনের মানুষ হলেও, মেয়েদের এক্সপ্লয়েট করা আমার প্যাশন হলেও, মানুষ আমি অত খারাপ নই, তবে আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা আমি কনফিউজড, এই পৃথিবীতে আমার পায়ের তলার মাটি এবং হাত দিয়ে ধরা কোনো দেয়াল-লাঠি-ফার্নিচার ইত্যাদির সাপোর্ট সিস্টেম নিয়ে কনফিউজড।

    এবার সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘মেহেরনাজ কেমন আছে? নাকি ইউ আর ডেটিং সাম আদার ফিমেল স্টুডেন্ট অব ইওরস, ইউ ফাকার?’ তারপর তার হা হা হাসি, যার গভীরে আমি টের পাচ্ছি বিরাট বেদনার ছাপ। সে আমাকে আচমকা বলল, সে একটা ভাইব্রেটর কিনেছে, টুকটুকে লাল রঙের, লেংথ মাইক্রোপেনিসের’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘মাইক্রোপেনিস কী জিনিস?’ সুরভি হা-হা করে হাসল, বলল, “ইউ ডোন্ট নো অ্যানিথিং। ইটস টু পয়েন্ট এইট ইঞ্চেস ইন লেংথ অ্যান্ড ফোর পয়েন্ট সেভেন ইন সারকামফেরেন্স। গট ইট?’

    তারপর আমরা আরও দুই মিনিট একধরনের সেমি ফোনসেক্স করলাম এই ভরদুপুর ও প্রায় বিকেলে—আমি রাস্তায় হাঁটছি, আমার বাম পাশে আতাফল, নারকেল ও আমগাছ, আমটাকে জড়িয়ে ধরে আছে শেফালি, শেফালির পাতা ছুঁয়ে আছে অনেকগুলো হেলিকোনিয়াকে, যাদের তলার দিকে আবার লাল সোনালু। জানলাম সুরভি তার বেডরুমে—একা। সে স্পষ্ট গোঙানির শব্দ করল। আমি বললাম, ‘থামো।’

    সুরভি থামল এবং মিলিসেকেন্ডের বিরতি না দিয়ে গড়গড় করে বলে গেল যে সে জানে আমি ঢাকার বসুন্ধরা নামের এলাকাটায় থাকি, আজ সকালে প্রথম বিবিসিতে খবরটা দেখে সে ঘাবড়ে গিয়েছিল, আবার গত রাতে সে আমাকে স্পেশালি মনে করছিল, কারণ আজ পনেরোই আগস্ট শুরু হচ্ছে, মানে আমার চির-অসুখের দিন, তারপর সকালে টিভিতে এই নিউজ, তখন তার একমুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল যে যেহেতু পনেরোই আগস্ট আমার কাছে বিরাট এক ব্যাপার, তাই এ তারিখেই ঘটা এই শব্দ আমাকে কেন্দ্র করেই এবং আমি নিশ্চয় শব্দের তরঙ্গধাক্কায় টুকরো টুকরো হয়ে মারা গেছি। তারপর সে আমাকে ফোন করে করে না পেয়ে, উপায়ান্তর না দেখে মেহেরনাজকে ফোন করে জেনেছে যে আমি বেঁচে আছি। তারই একটু পরে টিভিতে যখন দীর্ঘক্ষণ ধরে বসুন্ধরার রাস্তাঘাটে নেমে আসা আতঙ্কগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেখাচ্ছিল, তখন তার ধারণায়, একঝলকের জন্য হলেও আমাকে সে দেখতে পেয়েছে একটা বড় বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়ানো চার-পাঁচটা লালরং অ্যাম্বুলেন্সের পাশে, আমার গায়ে ছিল কালোরং টি-শার্ট। আমি তাকে বললাম, আসলেই আমি আজ সকালে অ্যাপোলো হাসপাতালের কাছে গিয়েছিলাম এবং সত্যি দু-তিনটে অ্যাম্বুলেন্সের মাঝখানের এক একটু চুপচাপ জায়গায় দাঁড়িয়ে আল-জাজিরা চ্যানেলে ছোট মন্তব্য বা সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলাম, তবে আমার গায়ে তো কোনো কালো টি-শার্ট ছিল না, ছিল নীল এক হাফহাতা জামা।

    সুরভি জানতে চাইল, আল-জাজিরা কেন আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং তা টিভিতে কখন দেখাবে?

    আমি তাকে বললাম, ‘আল-জাজিরা এবং অন্য অনেক চ্যানেল বসুন্ধরার অনেক মানুষের কাছেই তাদের প্রতিক্রিয়া কী, এসব জানতে চাইছে; আমি জানি না কখন তারা আমাকে দেখাবে।

    সুরভি বলল, ‘কাজটা তুমি ভালো করোনি, বোকার মতো কাজ করেছ। ডোন্ট বি হাই প্রোফাইল ইন দিস সিচুয়েশেন। মেইটেইন আ ভেরি লো প্রোফাইল। ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং। ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া হাউ অল দিস আর কানেক্টেড ট ইচ আদার—দিস স্ট্রেঞ্জ সাউন্ড ইন ঢাকা অ্যান্ড দিজ আর্থকোয়েকস ইন নেপাল অ্যান্ড মেনি আদার থিংস।’

    আমি বুঝতে পারলাম সে তার ই-মেইলে বলা ‘ষড়যন্ত্রে’র দিকে ইঙ্গিত করছে।

    আমি তাকে বললাম, “খুলে বলো। ই-মেইলে কী বলছিলে? কিসের ষড়যন্ত্র?’

    সুরভি জানাল, ‘ইমপসিবল। এগুলো ফোনে বলা যাবে না। সব ফোন প্রোব্যাবলি ট্যাপ করা হচ্ছে। আমার তো মনে হয় আমি আন্ডার সারভেইল্যানস।’

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তাহলে কীভাবে বলবা?”

    সুরভি বলল, ‘দেখি, ই-মেইলে লিখব কিংবা ঢাকা চলে আসতে পারি। ডোন্ট টেল মি ইউ লিভ উইথ মেহেরনাজ ইন দ্য সেম হাউস। অবশ্য আমি ঢাকায় এলে ওয়াসফিয়াদের বাসায় থাকব।’

    আমি বললাম, “আচ্ছা। বাট আই ডোন্ট লিভ উইথ মেহের। মাই ফুট।’

    সুরভি হাসল। তারপরে বলল, ‘মেহেরনাজ একটা ভালো মেয়ে, অলওয়েজ বিজি, কিন্তু ভালো।’ তবে মেহেরনাজ আজ তাকে নাকি আজব একটা কথা বলেছে। আমি জানতে চাইলাম, কী কথা।

    সুরভি বলল, মেহেরনাজকে সে যখন পীড়াপীড়ি করছিল আমার একটু খোঁজ নিয়ে তাকে জানাতে যে আমি ভালো আছি কি না, সুস্থ আছি কি না, তখন নাকি একপর্যায়ে মেহেরনাজ বলেছে, ‘অনেস্টলি স্পিকিং, আই অ্যাকচুয়ালি ডোন্ট কেয়ার ইফ হি ইজ অ্যালাইভ অর ইজ ডেড।’

    মেহেরনাজ এমন একটা কথা বলেছে জেনে আমি প্রথমে চুপ হয়ে পরে হেসে ফেললাম। সুরভি বলল, ‘হাসছ কেন? মেহেরনাজের সঙ্গে তোমার ঝগড়া চলছে? কী নিয়ে? ইউ আর নট ফাকিং হার এনাফ? একটা জিনিস খেয়াল করো, আমার সঙ্গে তোমার ঝগড়া চলছে, মেহেরনাজের সঙ্গেও তোমার ঝগড়া চলছে। আমি অ্যাকচুয়ালি তোমাকে হেইট করি, মেহেরনাজেরও যেহেতু তুমি বাঁচো কি মরো তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নাই, তাই বোঝা যায়, সে-ও তোমাকে হেইট করে। তার মানে, জীবনে তোমার কেউ নেই। তার মানে, তোমার সঙ্গে কেউ থাকবে না, কেউ যেমন ছিলও না কোনো দিন। ইটস অল অ্যাবাউট জাস্ট সেক্স উইথ ইউ। ইউ আর লস্ট, ইউ আর ম্যানিপুলেটিভ, অ্যান্ড ইউ আর বেসিক্যালি অ্যান অ্যানিম্যাল।’

    আমি সুরভির কথা শেষ হলে বললাম, ‘আর কিছু? রাখি এখন। ঢাকা কবে আসবা জানাবা। আই উইল রিসিভ ইউ এট দ্য এয়ারপোর্ট। আর শোনো, ওয়াসফিয়ার বাসায় উঠতে হবে না। আমার বাসায় উঠবা।’

    সুরভি চুপ। একটা প্লেন চলে গেল আমার মাথার ওপর দিয়ে। প্লেনের বিরাট আওয়াজ শেষ হলে আমি বুঝতে পারলাম সুরভি আবার কাঁদছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হলো? হোয়াই আর ইউ ক্রায়িং? কী বললাম আমি?’

    সুরভি, সম্ভবত নাক মুছতে মুছতে, জানাল, ‘কিছু না। সো স্ট্রেঞ্জ। ইফ ইউ শো ইভেন আ টাইনি বিট অব অ্যাফেকশন ফর মি, ইভেন আ লিটল বিট অব লাভ ফর মি, আই জাস্ট মেল্ট, আই ক্রাই। সো মাচ আই লাভ ইউ। ইউ উইল নেভার আন্ডারস্ট্যান্ড। ইউ ডোন্ট হ্যাভ দ্য নেসেসারি হার্ট টু আন্ডারস্ট্যান্ড।’

    আমি তাকে বললাম, ‘আমার সমালোচনা না করলে হয় না?’

    সে বলল, ‘যাও, করব না। বাট টেল মি দ্যাট ইউ লাভ মি। টেল মি দ্যাট ইউ আর সরি ফর নট বিয়িং ইন টাচ ওভার লাস্ট ফিউ মান্থস।’

    আমি তাকে ভালোবাসি বললাম, সরি বললাম, বললাম যে আমি চাচ্ছিলাম, আমি সব সময়েই চাই তাকে ফোন করব, এমনকি কাঠমান্ডু যাওয়ারও প্ল্যান করছিলাম এই কয় দিন আগে।

    সুরভি জিজ্ঞেস করল, ‘সিরিয়াস?’

    আমি বললাম, ‘সিরিয়াস’।

    সুরভি বলল, “বাট ইউ লাই। আই ডোন্ট ট্রাস্ট ইউ।’

    আমি বললাম, ‘আই অ্যাম নট লায়িং নাউ।

    সুরভি ফোনের মধ্যেই আমার গায়ের দিকে ঘেঁষে এল, আমি তার শরীরের উষ্ণতা, তার চুলের এলোমেলো ছোঁয়ায় আমার গা ঝিমঝিম করে ওঠা, সব টের পাচ্ছি।

    দূরে, এখান থেকে অদৃশ্য এক রাস্তায়, গাঢ় আফ্রিকান উচ্চারণে জানজিবারের একটা ছেলে অন্য কাউকে ডাকছে ‘তাবিথ, তাবিথ,’ বা ‘থাবিথ, থাবিথ’ বলে, কে যেন কোথায় পড়ে গেল ধুম করে, সম্ভবত কোনো বিড়াল কোনো বাড়ির ওপরের ফ্লোর থেকে পড়েছে বাড়ির সামনে বাগানের ঝাড়ের ওপর, আমি সুরভির কান্না শুনছি তো শুনছিই, তাকে বলছি, ‘ডোন্ট ক্রাই,’ সে আমাকে জিজ্ঞেস করছে, তার কাছ থেকে আবার হারিয়ে যাব কি না; আমি বলছি ‘না’; সুরভি জানতে চাইছে কাকে আমি সত্যি ভালোবাসি তাকে, নাকি মেহেরনাজকে? সুরভি জানতে চাইছে কে আমার কাছে বেশি সুন্দর—সে নাকি মেহেরনাজ? সুরভি আরও জানতে চাইছে কে বিছানায় বেশি ভালো পারে-সে, নাকি মেহেরনাজ? আমি একটা প্রশ্নেরও উত্তর না দিয়ে তাকে বলছি, ‘কী সব আজব প্রশ্ন এগুলো, হোয়াই ডু ইউ আস্ক?’ সে বলছে, ‘বিকজ আই অ্যাম বেটার অ্যান্ড আই লাভ ইউ মোর অ্যান্ড আই ওয়ান্ট টু ম্যারি ইউ অ্যান্ড মেহেরনাজ নেভার ওয়ান্টস টু ম্যারি, ইউ টোল্ড মি, ইভেন মেহেরনাজ টোল্ড মি সো।’

    আমি একটু থামলাম। গুছিয়ে নিলাম যে কী বলতে চাই। তারপর তাকে বললাম, ‘মেহেরনাজের সবকিছু বাস্তবে উল্টো। দেখতে-শুনতে যা মনে হয়, তার উল্টো। যা সে বলে, বাস্তব তার উল্টো। যদি একটা মেয়েও চুপচাপ বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে নিরিবিলি সংসার করতে চায় তো সেটা মেহেরনাজ। সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা কাজ, তখন এক মেহেরনাজ। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল আটটা সংসার, তখন আরেক মেহেরনাজ। প্রোব্যাবলি দ্য বেস্ট কাইন্ড অব ওয়াইফ ওয়ান কুড ইমাজিন।’

    সুরভি আমার কথা শুনে আহত হলো, স্তব্ধ হলো, মুখে বলল, ‘মেহেরনাজের এত প্রশংসা করলে? তা-ও আমার কাছে? দরকার ছিল?’

    আমি বললাম যে আমি যা ফিল করেছি, তা-ই বলেছি, যেহেতু সে কথা বলছিল মেহেরনাজের বিয়ে করা বা না-করা প্রসঙ্গে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ডু ইউ গাইজ রেগুলারলি টক?’

    সুরভি জানাল, ‘মাঝেমধ্যে। যখন তোমার খোঁজ নিতে ইচ্ছা করে। ওই ইচ্ছা অবশ্য আমার প্রতিদিনই করে। বাট ইউ সেইড এনাফ অ্যাবাউট মেহেরনাজ। নাউ টেল মি অ্যাবাউট মি।’

    আমি সমস্যায় পড়ে গেলাম। বললাম, ‘মেহেরনাজেরটা বলেছি তোমার কাছে। তোমারটা বলব মেহেরনাজের কাছে। তোমাকে বলব না।’ সুরভি আমার কথা শুনে হাসল। আমি বললাম, ‘স্টপ।’

    রাস্তা দিয়ে একদল হুজুর যাচ্ছেন সুরা পড়তে পড়তে। আমি বললাম, ‘সাইলেন্স।’ সুরভি চুপ করল। আমার পাশ দিয়ে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা একটা দশ-বারোজন হুজুরের দল চলে গেল, তারা আরবিতে কী একটা দোয়া বা সুরা পড়ছে, আমি শুধু সেটার একটা লাইন ধরতে পারলাম, লাইনের একটা কোনো অংশ : ওয়া আসিরু কওলাকুম আওয়িঝারু বিহি ইন্নাহু আলিমুম বিজাতিস ছুদুর।’ এ রকম, এ রকম কিছু। হঠাৎ চোখে পড়ল আমাদের বাসার কেয়ারটেকার মান্নান সেখানে। মান্নানের হাত ধরে আমি টান দিলাম। সে আমাকে দেখল, আমি তাকে দেখলাম। তার দুচোখে না ঘুমানোর লাল, তার চেহারায় সব হারিয়ে ফেলার ভয়, তার দুই ঠোঁটের কোনায় সাদা থুতু। আমি সুরভিকে বললাম,

    ‘রাখি, পরে করছি।’ সুরভি বলল, ‘অসুবিধা নেই, লাইনে থাকি। প্লিজ।’ আমি লাইন কাটলাম না। আমি ভাবছি মান্নান আবার কখন এ রকম সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে হুজুর হয়েছে? মান্নান আমাকে বলল, ‘স্যার, কেয়ামত আসতেছে। পাপের পথ থিকা সইরা আসেন।’

    আমি বললাম, ‘মান্নান, কী পড়ছ? জানো তুমি কী পড়ছ?’

    মান্নান হুজুরদের হেঁটে চলে যেতে থাকা দলটার দিকে তাকাচ্ছে, আবার আমার না কেটে ফেলা ফোনের দিকেও চোখের কোণ দিয়ে দৃষ্টি রাখছে। সে বলল, ‘সুরা আল মুল্ক।’

    আমি বললাম, ‘ভালো। কী বলছে এই সুরায়?’

    মান্নান চলে যাওয়ার জন্য অধৈর্য। সে কোনোমতে আমাকে, আমার হাত থেকে তার নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে নিতে জানাল, ‘বলছে, যিনি আসমানে আছেন, তিনি আমাদেরে মাটির মধ্যে ধসায়ে দেবেন, হঠাৎ দুনিয়া জোরে ঝাঁকি খাইতে থাকবে, আমরা সেই ভয়টা পাচ্ছি না কেন? যিনি আসমানে আছেন, তিনি আমাদের দিকে পাথরের বৃষ্টিওয়ালা বাতাস পাঠাবেন। আমরা কেউ ভয়টা পাচ্ছি না কেন? বলছে, তখন আমরা জানতে পারব খোদার সাবধানবাণী কেমন।’

    আমি মান্নানের পড়াশোনার গভীরতা ও স্পষ্টতা দেখে বিমুগ্ধ হয়ে তার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রয়েছি, সুরভি ফোনের ওপাশ থেকে বলছে, ‘হ্যালো’, আমি দেখছি মান্নান সামান্য একটু পথ গিয়ে দৌড়ে ফেরত আসছে আমার দিকে। আমার কানের কাছে এসে সে বলল, “স্যার, মেহের আপা আইসা অনেকক্ষণ নিচে দাঁড়াইয়া ছিল, উপরে যায় নাই।’

    মান্নান চলে গেল। দূরে আমি দেখলাম সে মিলে যাচ্ছে আরও অনেক সাদা পোশাকের মধ্যে, আর ওদিকে সুরভি জিজ্ঞাসা করল, ‘মেহেরনাজ নিয়ে কে তোমাকে কী বলল?’ আমি সুরভিকে জানালাম, আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকার। সে বলেছে মেহেরনাজ বাসার নিচে এসে দাঁড়িয়ে ছিল আমার খোঁজে। আমি এখন বসুন্ধরার অন্য জায়গায়। সুরভি বলল, “আমার ফোন রেখে তুমি মেহেরনাজকে ফোন দাও। ডু দিস। মে বি শি ইজ ইন সাম ডেঞ্জার। তোমাদের ওখানে তো সবাই এখন বিপদে আছে।’

    আমি সুরভির কাছে জানতে চাইলাম যে কী বিপদে আছি আমরা? কী হয়েছে? সুরভি জানাল, সে সকাল থেকে টিভি নিউজগুলো এবং ইন্টারনেট দেখছে। সে লক্ষ করেছে, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বলছে ঢাকার ওই শব্দটা ছিল মুখ চেপে ধরা এক গোঙানির মতো, এর স্থায়িত্বকাল ছিল পাঁচ সেকেন্ড, এটা প্রচণ্ডতায় ছিল আণবিক বোমার বিস্ফোরণে হওয়া শব্দের কাছাকাছি, ঢাকার ওই এলাকায় কমপক্ষে কয়েক হাজার বাড়ির কাচ ভেঙেছে, শত শত গাড়ি চলার অযোগ্য হয়ে গেছে, কারণ, তাদের চারপাশে কোনো কাচ নেই, পুরো বসুন্ধরা এলাকায় এখন একটা পাখিও নেই, পাখির ডাকও নেই, কমপক্ষে তিন শ বাচ্চা ভয় থেকে উৎপন্ন জ্বরে ভুগছে, বড় অনেকেরও ট্রমা থেকে জ্বর এসেছে, সংবাদমাধ্যমগুলো আরও বলছে যে, আশ্চর্যের বিষয়, এই শব্দ ঢাকার অন্য কোথায়ও শোনা যায়নি। এর অর্থ কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচকেরা অনেক অনুমান রাখছেন, তবে সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বসুন্ধরা যেহেতু ইউএস এমবাসির খুব কাছে, তাই এমবাসিকে এড়ানোর জন্যই সুচিন্তিত এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্ভব করা হয়েছে এই অসম্ভব, শব্দের ব্যাপ্তি একটা নির্দিষ্ট ভূগোলের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে, ‘যারা সেই দাগের ধরো এক ইঞ্চি বা এক হাত বাইরে, তারাও শোনেনি কিছুই। এখন পর্যন্ত তোমাদের ওখানে মৃত্যুর সংখ্যা পনেরো’, সুরভি এ কথাটা বলল যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে। সে আবার বলতে লাগল, মৃত্যুসংবাদের কথা বলার পরের অনুমিত বিরতির শেষে যে, টিভিতে বারবার দেখাচ্ছে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে এক বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনে ওই সেন্টার ত্যাগ করবার ঠিক আগে এ শব্দের ধাক্কায় কনেটি মাত্র ২৭ বছর বয়সে মারা গেছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে, এবং ‘মৃত মোট পাঁচজন তোমাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউর রোগী ছিলেন, তাঁরা এমনিতেই মৃত্যুপথযাত্রী ছিলেন, এই শব্দ তাঁদের মৃত্যুকে শুধু ত্বরান্বিত করেছে হিংসাত্মকভাবে।

    সুরভির কথা শেষ হলে আমি তার কাছে জানতে চাইলাম কাঠমান্ডু শহরের পুনর্নির্মাণ প্রজেক্টগুলো সব ঠিকমতো চলছে কি না। সুরভি হেসে বলল, ওই বিশাল দুই ভূমিকম্পে কীভাবে পুরো কাঠমান্ডু শহর তার চরিত্র হারিয়েছে, তা বুঝতে হলে আমাকে কাঠমান্ডু যেতে হবে, এভাবে ফোনে সব শুনে ফেলার চেষ্টা করলে হবে না। আমি তার কথার অশ্লীল ইঙ্গিতটা ধরতে পারলাম, একটু হাসলাম এবং তাকে জানালাম যে আমাদের এখানকার এই শব্দরহস্য বের করার আমি দৃঢ়সংকল্প নিয়েছি, সেটার কিছুটা সমাধান হয়ে যেতেই আমি সেই ‘চরিত্রহীনা’ কাঠমান্ডুতে বেড়াতে আসব।

    সুরভি আবার আমাকে বলল, আমি এমন কিছু কথা বলছি যা ফোনে বলা ঠিক না, আমার নাকি ধারণায়ও নেই যে কত গভীর এক ষড়যন্ত্র চলছে। আমি তাকে এবার জিজ্ঞাসা করলাম যে আন্তর্জাতিক টিভিগুলোয় বাংলাদেশের পনেরোই আগস্ট বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে কি না। সুরভি হাসল, বলল যে সে শুধু দুটো চ্যানেলে শুনেছে এ-সংক্রান্ত কথা, খবরের শুরুর দিকে, যখন বলা হয়েছে রাফলি যে, ‘অ্যাট দ্য স্টার্ট অব দ্য ডে অব মোর্নিং ফর দেয়ার ফাদার অব দ্য নেশন শেখ মুজিবুর রহমান অ্যান্ড হিজ ফ্যামিলি মেম্বারস হু ওয়্যার কিলড এট দ্য আর্লি আওয়ারস অব ফিফটিন্থ অব আগস্ট ইন নাইনটিন সেভেনটি ফাইভ, আ লার্জ ডিস্ট্রিক্ট অব ঢাকা সিটি কলড বাসুনডারা, ব্লাহ্ ব্লাহ ব্লাহ।’

    আমি বললাম, ‘ওকে সুরভি, আবার কথা হবে, এখন ফোন রাখি।’

    সুরভি আমাকে ফোনের মধ্যে কয়েকটা চুমু দিয়ে চলে গেল তার সাহিত্যিক মোড়ে, গলার স্বর পাল্টে গলা গম্ভীর করে কবিতাপাঠের ধরনে বলল, ‘কোনো বিধ্বস্ত নগরীতে-যেমন ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কাঠমান্ডু, শব্দের পীড়নে বিধ্বস্ত বসুন্ধরা—সেখানকার অধিবাসীদের মনে পাঁচটা জিনিস সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে।’

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী সেগুলো?’

    সুরভি বলতে লাগল : ‘এক. হারিয়ে ফেলা কনফিউশনগুলোর জন্য স্মৃতিকাতরতা। দুই. পরিপূর্ণতা না পাওয়া প্রেমগুলোর জন্য দুঃখ। তিন. জীবনে সামান্য স্বাদ পাওয়া সুখ, যার মূল স্বাদের কাছে এখন আর ওখানকার অধিবাসীদের পৌঁছানোর সুযোগ হবে না। চার. প্রকৃতির অন্যায়ের ওপরে ক্ষোভ। এবং পাঁচ. ইউলিসিসের মতো দীর্ঘ নতুন যাত্রা শুরু করার তাড়না।’

    আমি তার এক থেকে পাঁচ শুনে ও হৃদয়ঙ্গম করে ভাবলাম, সুন্দর। বললাম, ‘সুন্দর। রাখি সুরভি।’

    সুরভি বলল, ‘রাখবাই তো। কিন্তু বলো তোমার নিজেকে আজ ইউলিসিস বলে মনে হচ্ছে কি না?’

    আমি বললাম, ‘ওই শব্দের রহস্য উদ্ঘাটনে যে যাত্রা আমি শুরু করতে যাচ্ছি, তার গরিমা ও তাৎপর্যের বিচারে আমার নিজেকে ইউলিসিস বলেই মনে হচ্ছে।’ বুঝলাম আমার কথাটা বেশি অফিশিয়াল, অতএব কিছুটা কমিক্যাল হয়ে গেছে। কিন্তু আমার তাতে কিছু করার নেই।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক
    Next Article ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Our Picks

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }