Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প99 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উপহার – ওবায়েদ হক

    উপহার

    সন্তান হওয়ার পর মায়ের প্রথম অপেক্ষা থাকে ‘মা’ ডাক শোনার জন্য। সাধারণত দুই বছরের মধ্যেই তাদের সে অপেক্ষার অবসান ঘটে, কিন্তু সেলিনা বেগমের মা ডাক শুনতে পনেরো বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু তার ছেলে এখনো ‘বাবা’ ডাকতে পারে না। এটা নিয়ে কালাম মিয়ার আফসোসের সীমা নেই। তবে তারচেয়েও বড় আফসোস ছেলে ‘আব্বা’ বলার আগেই ‘আক্কা’ বলা শিখেছে।

    বিছানা ময়লা করে সে চ্যাঁচাতে থাকে, ‘মা, আক্কা! মা, আক্কা!’ তার সে ‘আক্কা’ পরিষ্কারে সেলিনার কোনো ক্লান্তি নেই। গত প্রায় আঠারো বছর ধরে ‘সেলিনা বেগম’ কিংবা ‘কালামের বউ’ পরিচয়টা হারিয়ে গেছে। ‘আলালের মা’ এখন তার প্রধান পরিচয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের সতেরো তারিখে আলালের বয়স আর দুলালের মৃত্যুর আঠারো বছর পূর্ণ হবে। দুলাল আলালের ছোট ভাই, সে জন্মের পর সাড়ে চার মিনিটেই পৃথিবীর ওপর রুষ্ট হয়ে বিদায় নিয়ে চলে যায়। কিন্তু আলাল বেঁচে যায় তার মায়ের আদর একাই দখল করার জন্য। সেলিনা আর কালামের সংসারে সবকিছুর অভাব আছে, শুধু আদরের অভাব নেই এবং সেই আদরের একমাত্র ভোক্তা আলাল।

    জন্মের দুই বছর পরেও যখন আলাল বিছানা আর মায়ের কোল ছাড়া অচল হয়ে থাকল তখন কালাম মিয়ার মনে হলো কোনো সমস্যা আছে। নিজেদের জমানো টাকা নিয়ে গেল ডাক্তারের কাছে, ডাক্তার আলালকে টেনেটুনে যা বললেন তা কালাম মিয়া কিংবা সেলিনা কিছুই বুঝল না, শুধু বুঝল তাদের আলাল সাধারণ না। এই আঠারো বছর বয়সে এখনো বিছানায় ‘আক্কা’ করে আলাল প্রতিনিয়ত তার অসাধারণত্ব প্রকাশ করে যাচ্ছে।

    যখন সন্তান অসাধারণ হয় তখন মাকেও অসাধারণ হতে হয়, সেলিনা বেগম অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু। ছেলের অথর্বতায় তার মাতৃত্বে বিন্দু পরিমাণ টান পড়েনি। পাশের বাসার বিউটি যখন তার দুই বছরের ছেলের কাণ্ডকারখানা নিয়ে গর্ব করে তখন সেলিনাও গর্ব করে বলেন তার ছেলে আজ স্পষ্ট করে ‘মা, আক্কা’ বলেছে। গত তিন বছর ধরে সে নিজের ছেলের এই একমাত্র কৃতিত্বটি ক্লান্তিহীনভাবে প্রচার করে যাচ্ছে।

    সেলিনা কোনোদিন তার এবং তার আলালের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেনি, কিন্তু একসময় চিন্তা করতে বাধ্য হলো। একদিন তাদের ভাঙা ঘরে বস্তির প্রধানমন্ত্রী এলো। তার নাম কাদের সরকার, এলাকায় তার অনেক খ্যাতি, অবশ্য সে খ্যাতিকে সুখ্যাতি বলা যাবে না। এই এলাকার কাউন্সিলরের আশেপাশে যে কয়জন লোক দেখা যায় তাদের মধ্যে সে একজন। তো এই কাদেরকে নিজেদের ঘরে দেখে কালাম মিয়া আর সেলিনা খুব অবাক এবং ভীত হয়েছিল, কারণ সামনে কোনো নির্বাচন নেই। নির্বাচন ছাড়া এদের উপস্থিতি সবসময় সুখকর হয় না। তবুও হাসিমুখে তাদের ঘরের একমাত্র নড়বড়ে চেয়ারটিতে বসতে দিলো। কিন্তু কাদের সরকার চেয়ারে বসার রিস্ক না নিয়ে আলালের ময়লা বিছানায় বসে পড়ল। সে তার পানের কৌটা থেকে এক খিলি পান মুখে পুরে দিয়ে চাবাতে চাবাতে বলল, ‘কালাম মিয়া, তোমারে তো মিয়া দেখাই যায় না, বিপদে-আপদে তো যাইতে পারো নাকি?’

    কালাম কৃত্রিম হাসি দিয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল, ‘না মানে, হারাদিন গারমেন্টে থাহি তো…’

    কাদের ঘরের চারদিকে নজর বুলিয়ে তাদের অভাবের প্রাচুর্য দেখে মুখটা করুণ করে বলল, ‘আহা রে, তোমাগো অভাব তো আমি বুঝি, ট্যাকা-পয়সার সমইস্যা হইলেও তো কইতে পারো।’

    ‘আপনের মেহেরবানি, তেমন কুনো সমইস্যা নাই।’

    ‘থাকলেও কী কইবা! আমাগো তো আর আপন ভাবো না।’

    ‘কী যে কন!’

    কাদের সরকার এবার ঠিক বিছানার পাশেই পানের পিক ফেলে মেঝেটা লাল করে দিয়ে বলল, ‘আইচ্ছা, ভালো। এখন কুনো সমইস্যা নাই। বয়স আছে, গায়ে-গতরে খাটতে পারো। কিন্তুক বুইড়া হইলে কী করবা?’

    তারপর আলালের দিকে তাকিয়ে আবার বলল, ‘তোমাগো তো আর পুলা নাই যে কামাই কইরা খাওয়াইবো।’

    কালাম মিয়া নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, নিস্তব্ধতা ছাড়া তার প্রতিবাদের আর কোনো ভাষা নেই। সেলিনা বেগম পাশে আঁচলে মুখ ঢেকে সব শুনছিল, তার আলালের অথর্বতার কথা মনে করিয়ে দেওয়াতে তার মনটা বিষিয়ে ওঠে।

    কাদের সরকার কালাম মিয়ার নিস্তব্ধতা দেখে ঠোঁটে একটা মুচকি হাসি ঝুলিয়ে বলল, ‘শোনো, তোমাগো কতা ভাবি বইলাই আসছি, আমি থাকতে এত চিন্তা করো ক্যান! তোমাগো এই পোলাই তোমাগো কামাই কইরা খাওয়াইবো।’

    কালাম মিয়া অবাক হয়ে কাদের সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে, কাদের সরকার মাথা ঝুঁকিয়ে গলাটা একটু নিচু করে বলল, ‘কাউন্সিলর সাবের লগে আমার ভালো খাতির আছে, আমারে ছাড়া একবেলা ভাতও খায় না। আমি হেরে কইয়া ফার্মগেট ব্রিজে একটা জায়গা বুকিং কইরা দিমু নে আলালের লাইগা। সারাদিনের কামাইয়ের অর্ধেক পাইবা।’

    সেলিনা আঁতকে উঠল, কালাম মিয়া কাদের সরকারের দিকে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, ‘জ্বী?’

    ‘আরে মিয়া, ভালা কামাই হইবো, আলালের থেইক্যা কতো ভালা মানুষ হাজার ট্যাকা কামাই করতাছে, নিজের হাত-পাও কাইট্যাও ব্যাবসায় নামতাছে আর আলালের তো মাশাল্লাহ এমনেই হাত-পাও চলে না, ঈমানে কইলাম, ভালা ট্যাকা কামাইবা।’

    কালাম মিয়া লক্ষ করল সেলিনা আঁচল দিয়ে চোখ মুছছে, সে ভালোকরেই জানে তার বউ যখন রেগে যায় তখন তার চোখে পানি চলে আসে। কালাম মিয়া নিজের চোয়াল শক্ত করে কাদের সরকারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কাদের ভাই, আমি যতদিন বাঁইচ্চা আছি, আমার পোলারে আমি খাওয়ামু, রক্ত বেইচ্চা পোলা পালমু, কিন্তুক আমার পোলারে দিয়া ভিক্কা করামু না।’

    কাদের তার ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়েই বলল, ‘তোমাগো কতা চিন্তা করি দেইখাই কইলাম, ভাইবা দেইখো।’

    কাদের সরকারের ঠোঁটগুলো পানের রসে লাল টকটকে হয়ে আছে, কোনো শিকারি পশুর রক্তমাখা মুখের মতো।

    সেদিন থেকে সেলিনা ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে লাগল, নিজেদের জন্য নয়, আলালের জন্য। কালাম মিয়া আর সেলিনা বেগম ঠিক করল তারা দুজনেই কাজ করবে, এমনিতে আলালকে খাওয়ানো আর পরিষ্কার করা ছাড়া ঘরে আর কোনো কাজ থাকে না সেলিনার। অনেক তদবিরের পর কালাম মিয়ার কারখানাতেই কাজ মিলল সেলিনার। ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে তারা একই শিফটে কাজ করত, তাই আলালের দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না। সেলিনা সারাদিন অন্যমনস্ক হয়ে কাজ করে, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে না, গলায় কোথাও কিছু একটা আটকে থাকে। এই নয়টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সুইং মেশিনের শব্দ ছাপিয়ে তার কানে দুটি শব্দই বাজতে থাকে ‘মা, আক্কা’। কারখানার সবাই কাজে আসার সময় ছোট ছোট টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে আসে, কিন্তু সেলিনা কিছু আনে না।

    প্রথম প্রথম খালি পেটে বিকেলবেলা হাত-পা কাঁপত, আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেছে। সন্ধ্যার আগের সময়টা সবচেয়ে বিষণ্ণ সময়, কিন্তু সেলিনার কাছে সেই সময়টাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আনন্দের। এক প্লেটে ভাত নিয়ে ছেলেকে খাওয়ায় আর নিজেও খায়। আনন্দ আর ভাত ভাগাভাগির এই সুখের দৃশ্য দেখার জন্য একজনই দর্শক থাকে এবং সেই ভাগ্যবান দর্শক হয়ে কালাম মিয়ার মনটাও সুখে ভরে যায়।

    বিন্দু বিন্দু করে আধাপেটে থেকে কয়েক বছরে প্রায় লাখ টাকা জমিয়ে ফেলল সেলিনা বেগম আর কালাম মিয়া। কেউ জানল না তাদের বস্তিতে এক লাখপতি দম্পতি বাস করছে। বুঝবেই বা কীভাবে, সেই যে রোজার ঈদে একটা সাড়ে তিনশ টাকার শাড়ি কিনেছে সেলিনা, সেটাই তার একমাত্র অক্ষত শাড়ি। কালাম মিয়ার লুঙ্গি আর কাজে যাওয়ার প্যান্টেও সুঁই-সুতা লেগেছে। কিন্তু তাদের কোনো আফসোস নেই, সারাদিন কারখানায় শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি স্বপ্নও বুনে তারা। কালাম মিয়া বানানো শার্ট আয়রন করে, কাপড়ের ভাঁজ মেটাতে মেটাতে তার কপালের ভাঁজও মিটে যায় সুখস্বপনে। আরো কিছু টাকা জমিয়ে গ্রামে চলে যাবে তারা। একটা গাভী কিনবে, সেটা পালবে তার বউ, সে গরুর পেছনে সময় দিতে পারবে না। সে গরু নিয়ে ব্যস্ত থাকলে গঞ্জে দোকান সামলাবে কে? হ্যাঁ, গঞ্জে একটা দোকানও দিবে সে। সেই দোকানে আদা দিয়ে রং চা আর তাদের গাভীর দুধের চা বেচবে। লজেন্স, কলা, পাউরুটি, বিস্কুটও থাকবে তার দোকানে। গ্রামের মানুষ অবশ্য বাকি চাইবে, প্রথম প্রথম বাকি দিবে সে, কাস্টমার ধরতে হবে না! একবার কাস্টমার ধরতে পারলে আস্তে আস্তে জিনিসপত্র বাড়াবে। আলাল থাকবে নবাবের মতো, শুয়ে থাকা নবাব।

    হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে কল্পনার চায়ের দোকান থেকে বাস্তবের আয়রন রুমে ফিরে এলো কালাম মিয়া। সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে, সে বুঝতে পারছে না, আগুন লেগেছে নাকি? ভূমিকম্প হচ্ছে হয়তো, বিল্ডিংটা কাঁপছে। সেও দৌড় দিলো সিঁড়ির দিকে, সেলিনাকে দেখতে পেল তার দিকে হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে, তারপরই সব অন্ধকার।

    কালাম মিয়া ধীরে ধীরে চোখ খুলল, কিন্তু চোখ খোলার পরেও সব অন্ধকারই লাগছে। সে নড়াচড়া করতে পারছে না, মনে মনে ভাবছে সে বুঝি মারা গেছে। কবরে আছে, এখনই মুনকার-নাকির আসবে তিনটা প্রশ্ন করতে। মনে মনে তিনটি প্রশ্নের উত্তর আওড়ে নিলো, একটু ভালো লাগছে, তিনটা প্রশ্নের উত্তরই সে মনে রাখতে পেরেছে। একটু পরই সে অল্প অল্প শব্দ শুনতে পেল, তাকে কেউ ডাকছে। যে ডাকছে সে যে মুনকার কিংবা নাকিরের মধ্যে কেউ না সেটা সে ভালোই বুঝতে পারছে।

    শব্দটা এবার স্পষ্ট শুনতে পেল কালাম মিয়া, ‘আলালের বাপ! আলালের বাপ!’

    এটা তো আলালের মায়ের গলা, তাহলে কি সেও মরে গেছে? নাকি দুজনেই বেঁচে আছে? সেও ডাকতে চেষ্টা করল সেলিনাকে, কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলো না। একটু থেমে আবার ক্ষীণভাবে ডাকল, ‘আলালের মা!’

    সেলিনা স্বামীর কণ্ঠ শুনতে পেল, তার মনে একটু বল ফিরে এলো, সে উচ্ছ্বাস ভরা কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল, ‘আলালের বাপ, তুমি আছো? কী হইছে এইখানে?’

    আলালের বাপও কিছুই বুঝতে পারছে না, কিন্তু এতটুকু বুঝতে পারছে তারা মরেনি, কারণ এখন সে চারপাশ থেকে গোঙানির মতো শব্দ পাচ্ছে। মাঝে মাঝে ক্ষীণ স্বরে কিছু আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।

    আলালের বাপ ঘোলা ঘোলা কণ্ঠে জবাব দিলো, ‘জানি না।’

    সেলিনা নিজের শরীরটা নাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। তার বাঁ হাতটাতে তীব্র একটা ব্যথার অনুভূতি ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল। ব্যথাটা সহ্য করতে না পেরে গুঙিয়ে উঠল সে। উপুড় হয়ে আছে সে, ঘাড় ছাড়া আর কিছুই নাড়াতে পারছে না। ব্যথাটা বাড়ার সাথে সাথে তার গোঙানিটা আর্তনাদে রূপ নিচ্ছে।

    কালাম মিয়া সেলিনার আর্তনাদ শুনে উঠে পড়ার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। সে চিৎ হয়ে আছে, মাথাটা ওপরের দিকে ওঠাতেই একটা দেয়ালে আঘাত লাগল। তার ওপরে একটা দেয়াল আছে, তাই সে পাশে নিজের শরীরটা ঠেলতে লাগল, কিন্তু পাশেও কংক্রিটের কিছু একটা আছে, সম্ভবত পিলার হবে। পিলারটার ওপরেই দেয়ালটা পড়েছে, তাই তার তেমন কোনো আঘাত লাগেনি। কিন্তু তার পক্ষে দেয়াল আর পিলার সরিয়ে বের হওয়া অসম্ভব। অনেকক্ষণ এদিক-সেদিক ঠেলাঠেলি করে কালাম মিয়া বের হতে না পেরে অসহায়ভাবে চিৎকার করতে লাগল, ‘কেউ আমরারে বাঁচান, বাঁচান কেউ।’

    তার নিজের চিৎকার তার কানে এসে বিঁধল, কেউ শুনছে বলে মনে হয় না।

    সেলিনা আর্তনাদ করতে করতে মূর্ছা গেল। কালাম মিয়া আবার ডাকল সেলিনা বেগমকে, ‘আলালের মা! আলালের মা!’

    কিন্তু কোনো সাড়া পেল না, কালামের মনে এবার প্রচণ্ড ভয় আঘাত করল, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে আবার ডাকল, ‘আলালের মা, তোমার কী হইছে?’

    কিন্তু আশেপাশের গোঙানির শব্দই শুধু শোনা যাচ্ছে, আলালের মার গলা শোনা যাচ্ছে না। কালাম মিয়া আবার সেই কংক্রিটের কবর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু মুহূর্তেই সে তার শক্তির অপ্রতুলতা টের পেল। নিষ্ফল চেষ্টা শেষে তার চোখ ছাপিয়ে অশ্রু এলো, সে অশ্রু তার কানে গড়িয়ে পড়তে লাগল।

    কালাম মিয়ার চোখে যখনই পানি আসে, সে কোনো না কোনোভাবে তা লুকানোর চেষ্টা করে। তার বিয়ের দিন যখন সেলিনা তার সইয়ের গলা জড়িয়ে কাঁদছিল তখন তার চোখেও পানি চলে এসেছিল, লুকানোর অনেক চেষ্টা করেছিল সে, কিন্তু তার চাচা দেখে ফেলেছিল। সেদিনই তিনি তার মাকে দুঃসংবাদ দিলেন যে তার ছেলে হাতছাড়া হয়ে গেছে, সে সারাজীবন বউয়ের গোলাম হয়ে থাকবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করলেন।

    সিনেমায় নায়ক-নায়িকার কষ্টেও কালাম মিয়ার চোখে পানি চলে আসে, অন্ধকার সিনেমা হলে সেলিনার চক্ষু এড়িয়ে নিজের চোখ মুছত সে, সেলিনা ঠিকই দেখতে পেত, কিন্তু কখনো বুঝতে দিত না।

    আলালের জন্মের পরও কালাম মিয়া কেঁদেছে, দুলালের মৃত্যুতে কেঁদেছে নাকি আলালের বেঁচে যাওয়াতে কেঁদেছে তা জানা যায়নি। তবে ঘরের দরজার সামনে কাঁপা কাঁপা গলার আজান শুনেই সেলিনা বেগম বুঝেছিল তার স্বামী কাঁদতে কাঁদতে আজান দিচ্ছে।

    আজ কালাম নিজের অশ্রু লুকাবার কোনো চেষ্টাই করছে না, সে চাইছে সেলিনা তার কান্না দেখুক।

    কালাম মিয়ার পাশের পিলারটির নিচে কয়েক ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা আছে, সে বহু চেষ্টা করে নিজের শরীরটাকে মুচড়ে তার বাম হাতটা সেই ফাঁকা জায়গা দিয়ে বের করল। এত ছোট ফাঁক দিয়ে হাতটা বের করতে গিয়ে হাতের বিভিন্ন জায়গায় ছিলে গেল, মেঝের ধুলোগুলো লাগার পর প্রচণ্ড জ্বালা করছে হাতে। হাতটাকে প্রসারিত করতেই কারো চুলে হাত লাগল তার, চুল হাতড়ে হাতটা মুখের কাছে আনতেই সে টের পেল এ মুখ সে এর আগে বহুবার স্পর্শ করেছে।

    কালাম মিয়ার হাতের স্পর্শ লাগার পর আবার জ্ঞান ফিরে এলো সেলিনার। অতি পরিচিত হাতের অপরিচিত স্পর্শ পেয়ে সেলিনা যেন অকূল পাথারে ডুবতে ডুবতে পায়ে ডাঙার ছোঁয়া পেল। কালাম মিয়া সেই পরিচিত মুখটার নড়াচড়া অনুভব করল। তার চোখ বেয়ে আরো জল অবিরাম তার কানে যাচ্ছিল; এটা সুখের কান্না।

    কালাম মিয়া এক মুহূর্তের জন্যও তার হাতটা সেলিনার মুখ থেকে সরাল না। এখানে আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে, বাতাসের সাথে ধূলি মিশে আছে। গলা শুকিয়ে খড় খড় করছে সেলিনা আর কালামের। সময়ের সাথে সাথে আর্তনাদ, গোঙানি, আকুতি সবকিছুই কমে আসছে। আস্তে আস্তে কবরের নিস্তব্ধতা নেমে আসছে চারদিকে।

    সেলিনা ব্যথাটাতে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে, ঘুম কিংবা অচেতন হওয়ার মাঝের সময়টা সে শুধু আলালের কথাই ভাবছে। ছেলেটা কি এখনো না খেয়ে আছে? নিশ্চয়ই মাকে ডাকছে, ডেকে ডেকে তার গলাও হয়তো এমন শুকিয়ে আছে, কেউ কি একটু পানি খাওয়াচ্ছে তাকে? সে তো তার তৃষ্ণার কথা কাউকে জানাতেও পারে না। এসব ভাবতেই বুকের ভেতর হু হু করে ওঠা ব্যথা গলায় এসে দলা পাকিয়ে আটকে যাচ্ছে। সে ব্যথাটা তার হাতের ব্যথার চেয়েও অনেক বেশি।

    আলালের বাপকে ডেকে অনেক কষ্টে বলল, ‘আলালের বাপ, বিউটি ভাবি আমাগো আলালরে খাওয়াইবো না কও?’

    ‘হ খাওয়াইবো।’

    ‘হ, একবার যে দেরি অইয়া গেছিল, হেদিন তো হে আলালরে গিয়া কলা আর পানি খাওয়াইছিল।’

    ‘কয়দিন খাওয়াইবো, আমরা তো মইরাই যামু, হেরপর কাদের-’

    কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারল না কালাম মিয়া। এমনিতে কথা বলতে খুব কষ্ট হয়, কথা বললে তৃষ্ণা আরো বাড়ে, যদি কষ্ট না-ও হতো তবুও এই কথাটা সে শেষ করতে পারত না।

    সেলিনা বেগমের বুকের ভেতর দলা পাকানো ব্যথাটা যেন বহুগুণে বেড়ে গেল। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘আলালের উপ্রে আল্লা এত জুলুম করব না, আমাগো বাঁচাইতে লোক পাড়াইবো আল্লায়।’

    কালাম মিয়া মৃদুভাবে ‘হু’ করে একটা শব্দ করল, কথা বলে নিজের বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিটা ক্ষয় করতে চায় না সে। তারপর তারা অপেক্ষা করতে লাগল, একটু আলোর অপেক্ষা।

    মনে হচ্ছে অনন্তকাল পেরিয়ে গেছে, অধিকাংশ সময় তারা অচেতন ছিল, তাই সময়ের কোনো আন্দাজ নেই। চারদিকে উৎকট পচা গন্ধ ভাসছে, নিঃশ্বাস নেওয়া আগের চেয়ে বহু কঠিন হয়ে গেছে। আলালের চিন্তা না থাকলে মৃত্যুপ্রার্থনা করত সেলিনা। বাঁচার তীব্র আশা না থাকলে সেলিনা বেগম হয়তো এতক্ষণে মারা যেত, নিজের অসাড় শরীরটার ভেতরে নিঃশ্বাসের প্রবাহ বজায় রাখার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক সহজ মনে হচ্ছে তার। ক্ষুধা নিয়ে থাকার অভ্যাস সেলিনার আছে, কিন্তু পানির তেষ্টাটাকে কোনোভাবেই দমাতে পারছে না, মৃত্যুর আগে নাকি খুব তেষ্টা পায়।

    কালাম মিয়াও এখন অধিকাংশ সময় অচেতন হয়ে থাকে, জ্ঞান থাকলেই কষ্টটা বাড়ে। তার পানির তৃষ্ণা এতটাই যে নিজের প্রস্রাবও খাওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। এখন তো প্রস্রাবও হচ্ছে না।

    সেলিনা বেগম বুঝতে পারছে তার আয়ু ফুরিয়ে এসেছে, এই ঘন অন্ধকারের মধ্যেও সে আজরাইলের প্রতিরূপ দেখতে পাচ্ছে। কালামকে ডেকে অবশিষ্ট শক্তিটুকু দিয়ে মৃদু স্বরে বলল, ‘আলালের বাপ, আমি মনে অয় মইরা যাইতাছি, হুমাস (নিঃশ্বাস) নিতে পারতাছি না।’

    আলালের বাপ কোনো আশার বাণী শোনাতে পারল না, শোনালেও সেটা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তাই সে চুপ করে রইল।

    মুখ হা করে সেলিনা বেগম আবার জোরে লাশের পচা গন্ধযুক্ত কিছু বাতাস বুকে ঢুকিয়ে কোঁকাতে কোঁকাতে বলল, ‘তুমি বাঁইচ্যা গেলে আমার আলালের খেয়াল রাইখো।’

    কথা বলার সময় বুক ফেটে কান্না এলো, কিন্তু কাঁদতে পারল না, সে শক্তি তার নেই। কথা বলার সময় শুকনা জিহ্বার সাথে মুখের বিভিন্ন অংশ লেগে মুখের ভেতর জ্বালা করে, তবুও সে বলতে লাগল, ‘আলাল শক্ত ভাত খাইতে পারে না, তুমি এক্কেরে নরম কইরা ভাত মাইখ্যা খাওয়াইও। বিছনার নিচে পলিথিন দিয়া শোয়াইও আর ও মুইছ্যা পাউডার দিয়ো নাইলে ঘাও অইয়া যায়। রাইতে হাত দিয়া বুক ঘইস্যা দিলেই ঘুমাইয়া যাইবো, আর কুনু কিচ্ছু অইলেই তো খালি মা আক্কা কইয়া চিল্লায়, মা তো তহন থাকবো না, তুমি দেইখো।’

    সেলিনা বেগম আর পারছে না, কালাম মিয়াও হয়তো আর শুনতে পারত না। মা ছাড়া আলালকে সে চিন্তাই করতে পারে না। আলালের কথা মনে হলেই তার শুধু একটা দৃশ্যই চোখে ভাসে, আলালের মা ভাত মেখে তার ছেলেকে খাওয়াচ্ছে। আলালের জন্য হলেও আলালের মায়ের বাঁচা বেশি দরকার, মা ছাড়া আলাল হয়তো এমনিতেও বাঁচবে না।

    কালাম মিয়া আলালের মায়ের মুখে আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দিলো, মুখটা হা হয়ে আছে, কিন্তু মুখটা এখনো উষ্ণ, মনে হয় কথা বলতে বলতে অচেতন হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারল, পানি না পেলে কিছুক্ষণের মধ্যে আলালের মা মারা যাবে। তার মাথা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, কিছুই ঠিকমতো ভাবতে পারছে না, চিন্তাগুলো লাগামহীন ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে। তার চিন্তার ঘোড়া হঠাৎ করে থামল, নিজের চোয়াল শক্ত করে নিলো সে। ধারালো কিছু হাতড়ে বেড়াচ্ছে সে, সেলিনার মাথার ওপর দিকে হাত দিতেই একটা পিলারের থেকে বেরিয়ে থাকা রড হাতে লাগল তার। পিলারের রড এত চিকন হয় না, কিন্তু এটা চিকন আর আগাটা ভেঙে সুচালো হয়ে আছে। কালাম মিয়া বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে রডটার মাথা ধরে নিজের গায়ের অবশিষ্ট শক্তি দিয়ে টান দিলো। রডটা নিজের জায়গায় অক্ষত অবস্থায় রইল, কিন্তু তার আঙুল কেটে গেল। সে হয়তো এটাই চাইছিল। কালাম মিয়ার আঙুল থেকে রক্ত বেয়ে পড়ছে, সে দেরি না করে আঙুলটা সেলিনার হা করা মুখে ঢুকিয়ে দিলো। মুখে গরম নোনতা তরল প্রবাহে সেলিনা জ্ঞান ফিরে পেল, কিছু না ভেবেই সে নিজের অজান্তেই আঙুলটা চুষে পিপাসা মেটাতে থাকল। কালাম মিয়া বুঝল সেলিনা জ্ঞান ফিরে পেয়েছে, শরীরটা দুর্বল লাগলেও মনে মনে সে কোথায় যেন প্রচণ্ড শক্তি অনুভব করল।

    সেলিনার অনেকক্ষণ লাগল বুঝতে যে সে কালাম মিয়ার রক্ত চুষে খাচ্ছে। তার পিপাসা না মেটা সত্ত্বেও সে আঙুলটা মুখ থেকে বের করে দিলো, তখনো আঙুল বেয়ে রক্ত চুইয়ে পড়ছে। সেলিনা এখনো অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় আছে, আঠালো রক্তে গলাটা চট চট করছে। মনে খানিকটা অপরাধবোধও হচ্ছে তার, দুর্বল কণ্ঠে বলল, ‘এইডা তুমি কী করলা, আলালের বাপ?’

    কালাম মিয়া সেলিনার কণ্ঠ শুনে খুব আশ্বস্ত হলো, মুখ দিয়ে গভীর একটা নিঃশ্বাস টেনে গলায় যথা সম্ভব জোর দিয়ে বলল, ‘কিছু অইত না আমার, আমি আবাজ (আওয়াজ) পাইছি, আরেকটু কষ্ট কইরা থাকো, লোকজন আইবো। তোমার গলা হুকায়া গেলে আঙুলে চোষণ দিয়ো, এদ্দুর রক্ত গেলে আমার কিচ্ছু অইতো না।’

    সেলিনা চুপ করে গেল, মনটা তার স্বামীর জন্য গভীর মমতায় ভরে গেল। এক বুক ব্যথা আর মমতা নিয়ে সেলিনা ঘুমে ঢলে পড়ল। মাঝে মাঝে সেলিনা বেগমও শব্দ শুনতে পেয়েছে, কিন্তু সেটা বাস্তব না কল্পনা সে বুঝতে পারছে না, এর মধ্যে কয়বার যে সে কালাম মিয়ার আঙুল মুখে পুরেছে সেটা তার মনে নেই। প্রতিবার মনে অপরাধবোধ জেগেছে, কিন্তু নিজেকে আটকাতে পারেনি।

    উৎকট গন্ধটা ধীরে ধীরে তীব্র হচ্ছে। সেলিনার মনে আছে, ছোটবেলায় তাদের বাড়ির পাশে খালে একবার একটা মরা গরু ভেসে এসেছিল, তিন দিন ভাত খেতে পারেনি সে, সেই গন্ধটা এখনো মনে আছে, কিন্তু এই গন্ধটা সেই মরা গরুর গন্ধ থেকেও মনে হয় একশ গুণ বেশি। আলালও গন্ধ সহ্য করতে পারে না, বিছানায় প্রস্রাব করলেও নাক কুঁচকে মাকে ডাকে, ‘মা আক্কা।’

    আলালের কথা মনে হতেই, গভীর নিঃশ্বাসগুলো আরো গভীর হয়ে গেল, গলাটা আবার শুকিয়ে গেছে। প্রয়োজন কোনো বাধা মানে না, কোনো সংকোচ মানে না, তাই সেলিনা আবার তার স্বামীর আঙুল মুখে নিয়ে চুষতে লাগল। কিন্তু একখণ্ড জমাটবাঁধা রক্ত তার গলায় গিয়ে আটকে থাকল আর কিছু বের হলো না।

    সেলিনা আরো জোরে চুষতে লাগল, কিন্তু কোনো উষ্ণপ্রবাহ নেই, হাতটাও অতিরিক্ত রকম ঠাণ্ডা। সেলিনার ভেতরটা নাড়াচাড়া দিয়ে উঠল, রক্তখণ্ডটি গিলে, কাঁপা কাঁপা গলায় ডাকতে লাগল, ‘আলালের বাপ! আলালের বাপ!’

    কিন্তু কোনো সাড়া পেল না, ঠান্ডা হাতটাই প্রমাণ দিচ্ছে তার আশঙ্কাটা সত্য। কালাম মিয়া মারা গেছে। স্বামীর মৃত্যুতে দুঃখ্যাপন করার মতো অবস্থাও নেই সেলিনার, এখনো কালাম মিয়ার হাতটা তার গাল ছুঁয়ে আছে, একটা শীতল অনুভূতিহীন স্পর্শ। সেলিনা আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ল।

    ফার্মগেটের ওভারব্রিজের ওপর ভিখারিদের সারি, সবার মাথাতেই টুপি, কারো হাত নেই, কারো পা নেই, কারো দুটোই নেই। একজনের সবকিছুই আছে, কিন্তু পুরোপুরি অক্ষম। তার অক্ষমতা মানুষজন বুঝছে না, ভাবছে সুস্থ মানুষ শুয়ে আছে। তাকে কেউ ভিক্ষা দিচ্ছে না। প্রচণ্ড রোদে সে সূর্যের দিকে মুখ করে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে, দরদর করে ঘামছে আর তার নিচের লুঙ্গি দিয়ে বানানো বিছানাটা একেবারে ভিজে গেছে। সে ভিক্ষা চাইতেও জানে না, শুধু চেঁচায়, ‘মা, আক্কা! মা, আক্কা!’

    লোকজন তার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না, কেউ কেউ তার হাতের ওপর পা দিয়ে মাড়িয়ে চলে যাচ্ছে, সে ব্যথা পেয়ে যত জোরেই চ্যাঁচাক, কেউ শুনছে না। হঠাৎ সে আর্তনাদ করে উঠল, ‘কেউ আছেন? কেউ আছেন?’

    ঠিক তখনই সেলিনার ঘুম ভেঙে গেল, ঘুম ভাঙার পরেও সে শুনতে পেল শব্দটা, ‘কেউ আছেন? কেউ আছেন?’

    একটু পরে মনে হলো কেউ যেন একটা জ্বলন্ত সূর্য তার চোখের সামনে ধরল, এত আলো সে আগে কখনো দেখেনি। চোখ খোলার চেষ্টা করছিল, কিন্তু পারছিল না। কেউ যেন বলে উঠল, ‘এইদিকে এইদিকে, একজন বাঁইচ্চা আছে।’

    লোকগুলো যখন সেলিনাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সেলিনার মনপ্রাণ জুড়ে আলালের চিন্তা। সে সবসময় ভাবত আলালকে সে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, কিন্তু আজ তার ভুল ভাঙল। কালাম মিয়া একবার কাদের সরকারকে বুক ফুলিয়ে বলেছিল, রক্ত দিয়ে হলেও তার ছেলেকে ভিক্ষা করতে দিবে না। সে আসলেই রক্ত দিয়ে তার ছেলেকে রক্ষা করল। সেলিনা বেগম ভাবল, কেউ জানবে না তার স্বামী তার ছেলের জন্য কী উপহার দিয়ে গেল। এত দামি উপহার বোধ হয় আর কেউ কোনোদিন দিয়ে যেতে পারেনি কাউকে। নিজের জীবন দিয়ে কালাম মিয়া তার ছেলেকে ‘মা’ উপহার দিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    ওবায়েদ হক

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026
    Our Picks

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }