Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প99 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুখের মণি – ওবায়েদ হক

    সুখের মণি

    ভ্যাপসা গরমে নুরুল হক বিছানায় শুয়ে থাকতে পারছে না, ঘামে বিছানা জবজব করছে। ঘরে হারিকেনের মৃদু আলোয় সবকিছু আবছা দেখা যাচ্ছে। পাশেই তার পাঁচ বছরের ছেলে আমির হোসেন আর বউ লুৎফা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ছেলে আর বউকে ঘুমাতে দেখে নুরুল হকের খুব মায়া লাগল। লুৎফার শিথিল হাত থেকে পাখাটা নিয়ে বাতাস করতে লাগল। এই কাজটা সে প্রায়ই করে, ঘুম ভেঙে গেলে উঠে ছেলে আর বউকে বাতাস করে। লুৎফা জেগে থাকলে এই কাজটা কখনোই করতে পারত না সে। পুরুষের মায়া লুকিয়ে রাখার জিনিস, মেয়েরা তা দেখলেই সর্বনাশ, বিয়ের আগে থেকেই আশেপাশের মানুষ এই দীক্ষা দিয়ে আসছে তাকে।

    নুরুল হকের বিয়েতে তার মায়ের মত ছিল না। বলেছিল, ‘এত ধলা মাইয়া আনলে পোলার মাথা খাইবো।’

    কিন্তু নুরুল হক কানে কানে তার দুলাভাইকে বলেছিল, ‘এই মাইয়া ছাড়া আমি বিয়া করুম না।’

    গ্রামের বউ-ঝিরা নতুন বউ দেখতে আসে তার খুঁত বের করার জন্য। নুরুলের বউকে দেখে তারা খুব হতাশ হলো, কী সুন্দর গায়ের রং, টানা টানা চোখ, হাঁটাচলাতেও কোনো সমস্যা নেই। তাই তখন তারা ভবিষ্যদ্বাণী করল, ‘নুরুল সব সময় তার বউয়ের আঁচলের নিচেই থাকবে।’ সবাই মাথা নেড়ে এই কথায় সায় দিলো আর নুরুল হকের মায়ের মন নতুন বউয়ের প্রতি বিষিয়ে উঠল।

    নুরুল মায়ের ভর্ৎসনার ভয়ে কোনো সময়ই বউয়ের সাথে মিষ্টি করে কথা বলে না। সবসময়ই তার কথায় ধমকের সুর থাকে, কিন্তু লুৎফা তার স্বামীর এই কাঁচা অভিনয় খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে আর মনে মনে হাসে।

    প্রথম প্রথম গঞ্জে গেলে প্রায়ই নুরুল লুৎফার জন্য চুলের ফিতা, কপালের টিপ, আলতা, পাউডার—এসব নিয়ে আসত। রাতের বেলা নুরুলের মা ঘুমিয়ে গেলে বের করে লুৎফার কাছে দিয়ে বলত, ‘গঞ্জে গেছিলাম, ছাদেক ভাইয়ের দোকানের সামনে দিয়া যাইতেছিলাম, জোর কইরা দিয়া দিলো।’

    লুৎফা আঁচলে মুখ ঢেকে হাসত আর বলত, ‘ছাদেক ভাই এমনেই দিয়া দিলো?’

    নুরুল বিরক্তির ভাব ধরে বলল, ‘কেমনে দিয়া দিলো সেইটা তোমার জানোনের কাম নাই, অহন যাও চুলে ফিতাটা পইরা আসো দেখি।’

    লুৎফা আঁচলের কোনাটা ঠোঁট দিয়ে কামড়ে মাথা নেড়ে অস্বীকৃতি জানায়। বউয়ের এই ধৃষ্টতায় নুরুলের খুব রেগে ওঠা উচিত ছিল, কিন্তু সে রাগতে পারে না, তার বউয়ের ওপর তো একেবারে না।

    গলার স্বর একটু নামিয়ে একটু অনুরোধের সুরে বলে, ‘পরো না!’

    লুৎফা আবার মাথা নাড়ায়, নুরুল হতাশ হয়ে বসে থাকে। কিন্তু একটু পরে লুৎফা চোখে কাজল লাগিয়ে, নতুন লাল শাড়ি পরে, মাথায় রঙিন ফিতা বেঁধে নুরুলের সামনে আসে। নুরুলের বুকটা ধ্বক করে ওঠে, মায়ায় বুকটা ভরে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সে মায়া লুকাতে পারে না। আবেগে বলে ওঠে, ‘বউ, আমার কাছে আইসা বসো।’

    লুৎফা আবার মুখে আঁচল দিয়ে মাথা নাড়ায়।

    সংসারের ভারে আর অযত্নের কারণে লুৎফার গায়ের রং এখন একটু মলিন। কিন্তু কারো প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শাশুড়ি মারা যাওয়ার আগে দুই বছর শয্যাশায়ী ছিল, লুৎফা এই দুই বছর অমানুষিক পরিশ্রম করেছে, কিন্তু শাশুড়ির যত্নে কোনো অবহেলা করেনি। নুরুলের মা মারা যাওয়ার আগে নুরুলকে ডাকেননি, ডেকেছেন লুৎফাকে। লুৎফার হাত ধরে বেশি কিছু বলতে পারেননি, চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল আর মুখে শুধু ‘মা মা’ বলে ডেকেছেন।

    নুরুলের মনটা বিষাদে ছেয়ে যায়, তার এত ভালো বউয়ের জন্য সে একটা নতুন শাড়িও কিনে আনতে পারে না। গত বছর সব ফসল ভেসে গেল বন্যায়, উত্তর দিকের বিলের জমিটা মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে সুলায়মান মিয়ার কাছে। সে টাকা থেকে ফসল করার টাকা আলাদা করে সারা বছরের খোরাকি চালাতে হয়েছে। এই বছর জমি একটা কম তাই ফসলও কম আসবে। সারা বছরের যথেষ্ট খোরাকি হবে কি-না সন্দেহ আছে।

    আমির হোসেনকে স্কুলে ভর্তি করাতে চায় লুৎফা, কিন্তু কীভাবে? যেখানে দুই বেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নাই সেখানে স্কুলে পড়ানোর মতো বিলাসিতা তারা কীভাবে করবে? লুৎফা সন্ধ্যার পরেই আমিরকে নিয়ে হারিকেন জ্বালিয়ে আদর্শলিপি খুলে বসে। আমির মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আঙুল আদর্শলিপিতে ঠেকিয়ে সুর করে পড়ে, ‘অ, আ’। মা-ছেলের এই ছোট্ট স্কুলের কার্যক্রম দেখে নুরুলের চোখে পানি চলে আসে। সেই আবেগের অশ্রু ঢেকে রাখতেই সে একটু অন্ধকারে বসে।

    লুৎফা জানে না, কিন্তু নুরুল আমিরের পড়ার জন্য আলাদা করে টাকা জমাচ্ছে। নিজের জমির কাজ শেষ করে সে সুলায়মান মিয়ার জমিতে কামলা খাটছে। অসম্ভব ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে সে। সন্ধ্যায় হারিকেনের কাঁপা কাঁপা আলোয় ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়া বউ যখন তার ছেলের শিক্ষিকা হয়ে যায় তখন নুরুল হক হলুদাভ আলোয় উদ্ভাসিত ছাত্র-শিক্ষিকার মুখের দিকে তৃপ্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকে। তার চোখগুলোও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সব ক্লান্তি নিমিষেই নিঃশেষ হয়ে যায়।

    কেরোসিনের অভাবে নিভু নিভু হারিকেনটা আস্তে আস্তে মিইয়ে গিয়ে একসময় বন্ধ হয়ে গেল। সাথে সাথে বাঁশের বেড়ার ফাঁক গলে হুড়মুড় করে জ্যোৎস্না ঘরে ঢুকল। নুরুল হকের আজ আর ঘুম আসবে না। আলতো করে সে খাট থেকে নামল, তবুও নড়বড়ে খাটে ক্যাঁচ করে শব্দ করে উঠল। বিয়ের প্রথম প্রথম এই নড়বড়ে খাটের জন্য খুব লজ্জা পেতে হতো তাদের।

    আজ পূর্ণিমার রাত নয়, তবুও বাইরে রুপালি আলোর বন্যা হয়েছে। নুরুল সাবধানে কোনো শব্দ না করে দরজা খুলে বাহিরে এসে নিজের ঘরের দিকে তাকাল, চাঁদের আলোয় নিজের ঘরটাকে জবুথবু হয়ে বসে থাকা কোনো বৃদ্ধের মতো দেখাচ্ছে। বর্ষাকালের আগেই ঘরটা নতুন করে বাঁধার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এ বছর আর সম্ভব না। এমন করে কত বছর কেটে গেল, কোনো বছরেই আর ঘর ঠিক করা হয় না। বৃষ্টি শুরু হলে লুৎফা হাঁড়িপাতিল নিয়ে টানাটানি শুরু করে, ঘরের চাল গড়িয়ে টুপ টুপ করে পানি পড়ে হাঁড়িতে।

    বাহিরে এসেও যেন গরম কমছে না নুরুলের, খুব হাঁসফাঁস লাগছে। তার যেদিন মনখারাপ থাকে সেদিন এরকম লাগে। আজ তার খুব মনখারাপ।

    ঘরের উত্তরদিকে একটা বড় আমগাছ আছে, চাঁদের আলোতে সেটাকে বিশাল কোনো দানবের মতো দেখাচ্ছে। সেই গাছের পিছনে ঝোপঝাড়ে ভরতি, দিনের বেলাও সেখানে কেউ যায় না, সাপখোপের আড্ডাখানা জায়গাটা। কিন্তু সেই গাছের নিচে মৃদু বাতাস সবসময়ই থাকে। নুরুল হক আমগাছের নিচে গিয়ে বসল। গাছে আম ছিল, কিন্তু গ্রামের ছেলেদের কল্যাণে আমগুলো দীর্ঘায়ু পায় না, একেবারে সাফ করে দিয়ে গেছে। কালেভদ্রে দুই-একটা আম পাকার সুযোগ পায়। নুরুল হকের গায়ে একটা গামছা। সে গামছাটা কাঁধে অবহেলায় ফেলে রাখল আর সাথে সাথেই ঠান্ডা বাতাস গায়ে শীতল স্পর্শ দিয়ে গেল, সাথে পাকা আমের মিষ্টি সুবাসও পেল।

    হঠাৎ উজ্জ্বল কিছু চোখে পড়ল তার। ঝোপঝাড়ের পাশে গোলমতন কিছু একটা আলো ছড়াচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখতে গিয়েও গেল না। বুকটা কেঁপে উঠল তার, তাহলে এটাই কি সেই জিনিস? এটাই কি সেই সাত রাজার ধন, সাপের মাথার মণি?

    অনেকক্ষণ হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে, কী করবে কিছু ভেবে পাচ্ছে না। মণিটা তুলে দৌড় দিবে কি-না ভাবছে। আস্তে আস্তে মাথা ঠান্ডা করল সে। মাথা ঠান্ডা না করার কারণেই তার দাদা নিজের জীবন দিয়েছিল। দাদির মুখে বহুবার শুনেছে, দাদি প্রতিদিন সন্ধ্যায় কুপি জ্বালিয়ে উঠানে বসে একবার হলেও এই গল্প করত। মাথায় ঘোমটা টেনে বলত, ‘গঞ্জে ডুলা বেইচ্যা লোকটা গেরামে আইতাছিল। সবাই ঘুইরা ক্ষেতের ওপর দিয়া গেল, কিন্তু তোর দাদায় আইলো ঘোষ বাড়ির তেঁতুলগাছের নিচ দিয়া। গেরামের কেউ রাইতের বেলায় হেই তেঁতুলগাছের নিচ দিয়া আওনের সাহস করে না, কিন্তু তিনার আবার সাহস বেশি, ডরভয় নাই। একবার রাইতের বেলা কবরস্থানের তুলা গাছ থেইকা ফুল পাইড়া আনল। আমি কিরা খাওয়াইলাম রাইতের বেলা আর ওইখানে যাইবেন না, হেরপর থেইকা আর যায় নাই। তো হেই তেঁতুলগাছের নিচে দিয়া আওনের সময় দেখল কী জানি চকমক করতাছে, কাছে গিয়া দেখে সাপের মণি। লোকটা কিছু না ভাইবা মণি হাতে তুইলা দিছে দৌড়, আর দুই দিক দিয়া দুই কালা সাপ দিলো ঠ্যাঙে কামড়। বেশি দূর আইতে পারে নাই, ওইখানেই শেষ।’

    নুরুল হক প্রতিবার এই গল্প হাঁ হয়ে শুনত, তার আগ্রহ দেখে তার দাদি খুব খুশি হতো। তারপর বলত, ‘সাপের মণি পাইলে দৌড় দিতে নাই, রাইতের বেলা এই মণি আনন যাইতো না, তাইলেই মরণ। মণিঅলা সাপ হইতাছে রাজসাপ, এরা রাইতের বেলা মণি রাইখা খেলাদুলা করে আর ফজরের আজান দিলে মণি লইয়া গর্তে ঢুইকা যায়। ফজরের আজান পর্যন্ত মণি পাহারা দিতে পারলেই আর চিন্তা নাই।’

    নুরুল বড় বড় নিঃশ্বাস ছেড়ে আশেপাশে ভালো করে দেখল, কোনো সাপ নজরে পড়ল না। সে নিজের কাঁধের ময়লা গামছাটাকে মণিটার ওপর ছড়িয়ে দিলো, তারপর একটু ফাঁকা জায়গায় বসল। যাতে সাপ এলে আগে থেকেই দেখতে পায়। আমগাছের একটা মরা ডাল হাতে নিয়ে সে ফজরের আজানের অপেক্ষা করতে লাগল। ডালটা হাতে নিয়েছে নিজে বাঁচার জন্য, সাপ মারার ইচ্ছে তার নেই।

    সেই ছোটবেলায় একবার সাপ পিটিয়ে মেরেছিল সে। সুলায়মানকে কামড়াতে যাচ্ছিল সাপটি, তার আগেই সে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে মেরেছে। সুলায়মান ভয়ে ‘ও বাবাগো’ বলে চিৎকার করছিল।

    আজ বিশেষ করে সুলায়মানের সে ভয়ের চিৎকার খুব মনে পড়ছে নুরুলের। আজ সুলায়মান তাকে আড়ালে ডেকে বলেছিল, ‘শোন, ছুডোবেলায় তোর লগে খেলতাম বইলা তুই আমারে তুইতুকারি করছস, এখন তো আর হেই দিন নাই। তুই আমার ক্ষেতে কাম করছস, আমার কামলারা তোর লগে তুই-তুকারি করে, তুইও যদি আমারে তারার সামনে তুই কইরা কস, কয়দিন পরে তো আমার কামলারাও আমারে তুই কওয়া শুরু করব। তুই এখন থেইকা আমারে আপনে কইরা কবি, না পারলে কতা কওনের দরকার নাই। অন্য ক্ষেতে কাম করিছ।’

    নুরুল চোয়াল শক্ত করে শুনেছে। ঘাড় শক্ত করার মুরোদ তার নেই।

    আদম ব্যবসা করে সুলায়মান মিয়া, কিছু মানুষকে বিদেশ পাঠিয়েছে আর অনেক মানুষকে নিঃস্ব করে ছেড়েছে। যারা টাকা ফেরত পায়নি তারা প্রায়ই এসে হম্বিতম্বি করত। একবার জনা বিশেক লোক লাঠি নিয়ে তার বাড়ি এলো। এতজন অনাহুত অতিথি দেখে সুলায়মান পালিয়ে নুরুল হকের ঘরে আশ্রয় নিতে এসেছিল। কাকুতি করে বলেছিল, ‘ভাই নুরুল, তুই আমার ধর্মের ভাই, আমারে একটু লুকানের জায়গা দে। আমারে পাইলে ওই জানোয়ারেরা জানে মাইরা ফালাইবো।’

    নুরুলের সেই ধর্মের ভাই তার সামনে চেয়ারে বসে টাকা গুনে তার হাতে দিয়ে বলল, ‘দশ ট্যাকা বেশি দিলাম, তোর পোলাটারে কিছু কিন্যা খাওয়াইছ। নাম কী রাখছোস পোলার?’

    নুরুল নিতান্ত অনিচ্ছায় কোনোমতে বলল, ‘আমির।’

    সুলায়মান মিয়া হেসে উঠল। বলল, ‘নাম জিনিসটা আসলেই আজব। নিশিন্দাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাব বিরাট বড়লোক মানুষ। তিনটা পাকা বাড়ি, একটা রাইস মিল আছে, হের পোলার নাম গরীব উদ্দীন। আর তোর পোলার নাম আমির।’

    বলেই আবার গা কাঁপিয়ে হেসে উঠল।

    নুরুল হকের শরীরটা জ্বলে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত দশ টাকাসহ পুরো টাকাটা সুলায়মানের মুখে ছুড়ে মারে। কিন্তু তার দারিদ্র্য তাকে সে ক্ষমতা দেয়নি।

    গামছা দিয়ে ঢাকার পরও গামছা ভেদ করে আলো ঠিকরে মণিটা চকচক করছে। সেই সাথে নুরুলের চোখগুলোও উজ্জ্বল হয়ে উঠল, রাত শেষ হতে আর দেরি নেই। তার বউয়ের তালি দেওয়া শাড়ি, তার ভাঙা ঘর, ছেলের নাম শুনে মানুষের উপহাস—সব অতীত হয়ে যাবে ফজরের আজানের সাথে সাথেই। বেশ কিছু টাকা সুলায়মানের মুখে ছুড়ে দিয়ে বলবে, ‘তোর পোলারে কিছু কিন্যা খাওয়াইছ।’

    একটা টেলিভিশন অবশ্যই কিনবে নুরুল। গত শীতে আলীম ব্যাপারির শহরে থাকা ছেলেটা গ্রামে এলো, সাথে নিয়ে এলো টেলিভিশন। রত্নাবতী বাজার থেকে দুইটা ব্যাটারি এনে চার কোনা কিছু একটা ঢুকিয়ে দিলো একটা চ্যাপ্টা বাক্সে। কী আজব বাক্স, মানুষের ছবি দেখা যায়, তারা নাচে, গায়, কথা বলে আবার কাঁদেও। আলীম ব্যাপারি ছেলেমেয়ে নিয়ে একেবারে সামনে চেয়ার পেতে বসেছিলেন, তাদের পেছনে মহিলা আর বাচ্চাদের জন্য চাটাই পেতে দেওয়া হয়েছিল আর পুরুষেরা বসেছে খড় পেতে একেবারে পিছনে। সামনের চেয়ারওয়ালাদের জন্য ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না কিছুই, নায়িকার মাথা দেখা গেলে পা দেখা যায় না। তবুও খুব ভালো লেগেছিল নুরুলের। আমির সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল, বসে বসে দেখতে পাচ্ছিল না। নুরুল টেলিভিশন কিনে চেয়ার পেতে বসবে, আমির আর লুৎফার জন্যও চেয়ার থাকবে। আর বাচ্চাদের বসার জায়গা করে দিবে সামনে, যাতে তাদের দাঁড়িয়ে দেখতে না হয়, আর হাত-পা-সহ পুরো নায়িকাকেই যাতে দেখতে পায়।

    ঘরটাও ঠিক করতে হবে, দোতলা ঘর বানাবে সে। এই তল্লাটে কারো দোতলা ঘর নেই। টাকাপয়সার তো আর অভাব নেই। বড় একটা পালঙ্কখাট কিনবে, নতুন শাড়ি পরে লুৎফা সুপারি কাটবে খাটে বসে।

    কিন্তু খালি খরচ করলেই তো হবে না, বসে বসে খেলে নাকি রাজার ভাণ্ডারও ফুরিয়ে যায়। সাত রাজার ধনও ফুরিয়ে যেতে পারে। কী করা যায়? চিন্তার ভাঁজ পড়ল নুরুলের কপালে। অনেক অনেক জমি কিনবে সে, রাইস মিল দিবে। কিন্তু এত কিছু সামলাবে কী করে! আমির একটু বড় হলে সেও সাহায্য করতে পারবে। স্কুলে যাওয়ার আর কী দরকার? বাপের টাকার তো আর অভাব নেই।

    আচ্ছা, এত কিছু ভাবছে সে, কিন্তু এই মণি বিক্রি করবে কার কাছে? তাদের রত্নাবতী বাজারে এই মণি কেনার ক্ষমতা কারো নেই। বাজারে দুইজন স্বর্ণকার আছে। যতীন আর কেষ্ট। কেষ্ট লোক ভালো না, একবার বিপদে পড়ে লুৎফার নাকফুল বিক্রি করতে গিয়েছিল। কেষ্ট দেখেই বলল, ‘এইটা তো ইমিটেশন, পাঁচ ট্যাকা পাইবা।’

    নুরুল হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসার সময় ডেকে বলল, ‘তুই গরিব মানুষ, হের লাইগা পাঁচ ট্যাহা বাড়াইয়া দিমু। দিয়া যা।’

    ইমিটিশনের নাকফুলের জন্য দশ টাকা! নুরুলের সন্দেহ হলো। সে যতীনকে দেখাল। যতীন বলল, ‘ভালো জিনিস, নাকফুল হইলেও ওজন আছে। একশো পঞ্চাশ ট্যাকার বেশি দিতে পারুম না।’

    যতীনকে দিয়েই শহরে গিয়ে মণি বিক্রি করবে, নুরুল মনে মনে ঠিক করে ফেলে।

    একটা চিন্তা থেকে মুক্তি পেতেই আরেকটা চিন্তা গ্রাস করে তাকে। এত সম্পত্তি হঠাৎ করে হলে লোকে সন্দেহ করবে, কত শত্রু হবে! পাশের গ্রাম সর্দারকান্দিতে আলীম ব্যাপারির ফুপাতো ভাই থাকত, অনেক টাকাপয়সা, অর্থসম্পত্তির মালিক ছিল। তিনবার হজ করেছে। কিন্তু বর্ষাকালে তার বাড়িতে ডাকাত পড়ল, সোনাদানা সব নিলো, সাথে সবাইকে কেটে রেখে গেল। এক রাতে নির্বংশ হয়ে গেল লোকটা।

    ভাবতেই গলা শুকিয়ে যায় নুরুলের। না মানুষকে বুঝতে দেওয়া যাবে না, যা করতে হবে গোপনে করতে হবে। কিন্তু লুৎফা মেয়েমানুষ, সে তো পেটের ভেতর কথা রাখতে পারবে না। এখনই তার কথা শোনে না, তখন কি শুনবে? টাকাপয়সা হাতে আসলে মেয়েমানুষের রূপ পাল্টে যায়। শোয়ার সময় কি আর বাতাস করবে? নাকি খালি পালঙ্কে বসে পান-সুপারিই খাবে। মনে মনে লুৎফার প্রতি অকারণেই বিরক্তি বোধ করে নুরুল। ভাবে, নবাবের বেটির নবাবি ছুটামু আমি, যখন আরেকটা বউ আনমু তখন ঠ্যালা বুঝবো, আমার ট্যাকাপইসার অভাব নাই, বিয়া ইচ্ছা করলে দশটা করুম। বইয়া বইয়া পান-সুপারি খাওন ট্যার পাইবো। তেড়িবেড়ি করলে লাথি দিয়া ঘর থেইকা বাইর কইরা দিমু।

    রাগে, দুঃশ্চিন্তায় নুরুল কাঁপতে থাকে। নিজের মাথাটার ওজন অনেক বেশি মনে হয় তার, বিশাল বড় ধানের বোঝা মাথায় নিলে যত ওজন হয়, তারচেয়েও বেশি। এমন সময় হঠাৎ মসজিদ থেকে ইমাম সাহেবের গলা শুনতে পেল, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।’ চারদিকে তাকিয়ে দেখল, দিনের আলো ফুটতে শুরু করেছে। চারপাশে ভালো করে দেখল, কোনো সাপ নেই। নুরুল হক তার সাহসের সবটুকু প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে গামছাটা সরাল। আর কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল।

    কোথায় মণি! নির্ঘুম রাতের সব স্বপ্ন ভেসে উদ্ভাসিত হলো টিনের কৌটার মুখ। রাতে চাঁদের আলোতে এটাই চকচক করছিল। মুহূর্তেই কল্পনার হিংসা, ভয় আর অবিশ্বাসের কঠিন জগৎ থেকে সে তার লুৎফা আর আমিরের সরল-স্বাভাবিক বাস্তবজীবনে ফিরে এলো।

    নুরুল হকের মনে হলো, মাথা থেকে একটা বড় বোঝা নেমে গেল। নিজেকে খুব নির্ভার, হালকা মনে হচ্ছে। সাত রাজার ধন না পেয়েও সে খুব খুশি। নিজের চিন্তাগুলোকে দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে এখন।

    ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে এসে দেখল, লুৎফা হাঁসগুলোকে খাবার খাওয়াচ্ছে। লুৎফার সামনে নুরুলের নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। কিন্তু সেই ভাবটা গোপন করে বলল, ‘বউ, ভাত দেও, ক্ষেতে যামু।’

    লুৎফা স্বামীকে ভাত দিতে যাচ্ছিল, নুরুল হক ডেকে আদুরে ভঙ্গিতে বলল, ‘একটু চ্যাপা শুঁটকি বানাইবা? তোমার হাতের চ্যাপা শুঁটকি খাইলে দিনডা ভালা যায়।’

    লুৎফা আঁচলটা ঠোঁট দিয়ে কামড়িয়ে মাথা নাড়িয়ে মুচকি হেসে বলল, ‘পারুম না।’

    নুরুল জানে লুৎফা একটু পরেই তার পাতে চ্যাপা শুঁটকি তুলে দিবে। চ্যাপা শুঁটকি দিয়ে ভাত খাবে ভেবেই মনটা ভালো হয়ে গেল তার। সাপের মণি দরকার নেই, তার কাছে সুখের মণি আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    ওবায়েদ হক

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026
    Our Picks

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }