Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কংসাবতীর তীরে – কোয়েল তালুকদার

    কোয়েল তালুকদার এক পাতা গল্প138 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. ধলেশ্বরী বহমান

    তখনও মাস্টার্স পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়নি। কিন্তু মেঘ না চাইতেই জল পাওয়ার মতো প্রাপ্তি। চাকুরির আবেদন পাঠাতে না পাঠাতেই একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ পদে আমার চাকুরি হয়ে যায়।

    মতিঝিলে অফিস। নতুন চাকুরিস্থলে ভালই লাগছে আমার। সবাই আমাকে খুব সহযোগিতা করছে। সবাই আমাকে ভালোবাসে।

    একদিন এক সিনিয়র সহকর্মীর সাথে আমি পুরনো ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার ও ইসলামপুরে গিয়েছিলাম ওখানকার কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে। আমরা মতিঝিল থেকে একটি রিকশা নিয়ে প্রথমে চানখাঁর পুল গিয়ে নামি। ওখান থেকে হেঁটে নাজিমুদ্দিন রোড ধরে সেন্ট্রাল জেল পর্যন্ত যেতেই আমার সিনিয়র সহকর্মী মাহবুব ভাই বললেন — বেগমবাজারে আমার এক মামাত ভাই থাকেন। শুনেছি দীর্ঘদিন ধরে উনি বেশ অসুস্থ। এদিকে যেহেতু আসলামই। ওনাকে একটু দেখে তারপর আমাদের কাজ শুরু করব।’

    আমরা হেঁটে হেঁটেই বেচারাম দেউরি পার হয়ে একটি সরু গলিতে ঢুকি। গলির একদম শেষ মাথায় অনেক পুরানো একটি আধাপাকা টিনসেড বাড়ি। সেই বাড়িতে ওনারা থাকেন। বাড়িটার বাইরে পলেস্তারা খসে পড়ে গেছে। ফাটলের ফাঁক দিয়ে প্রচুর লতাগুল্ম জন্মেছে। গলির সাথে সদর দরজা। এই দরজা দিয়েই সরাসরি রুমে ঢুকতে হয়।

    মাহবুব ভাই দরজায় কড়া নাড়তেই একজন পয়ত্রিশ-উর্ধ্ব বয়সী লোক দরজা খুলে দেন। বুঝতে পারলাম, ইনিই আমার সহকর্মী মাহবুব ভাইয়ের আত্মীয়।

    ঘরখানা দেখে মনে হলো- দুটো রুম এখানে। পাশে একটা ছোট বারান্দার মতো আছে , সেটাও রুমের মতোই, রান্নাঘর হবে। আমরা প্রথম রুমটাতেই বসলাম। ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস সামগ্রী দেখে মনে হলো, এরা হতদরিদ্র।

    মাহবুব ভাই, লোকটির সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ওনার নাম জাকির হোসেন মন্টু। উনি একজন ভালো হারমোনিয়াম ও তবলাবাদক। গানও গান। গানের শিক্ষকও তিনি। পুরনো ঢাকার একটি গানের স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। ওনাকে দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। কেমন রোগক্লিষ্ট। শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে গেছে। গায়ের রং ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। কিন্তু চেহারা দেখে মনে হলো, উনি একসময় সুদর্শন ছিলেন। চোখ কোটরে গেলেও চোখদুটো দেখতে বেশ টানা টানা। লম্বা দেহগড়ন, কণ্ঠস্বর অপূর্ব মাধুর্যময়। পুরুষও এত সুন্দর হয়!

    ওনার সাথে আলাপচারিতার মধ্যেই উনি পরপর দুটি সিগারেট খেয়ে ফেললেন। আমি অবাক হলাম, এমন একজন রোগা মানুষ এত সিগারেট খায়? ওনাকে বললাম – ভাই আপনি এত সিগারেট খান কেন? আপনার শরীরের যে অবস্থা, এত সিগারেট খাওয়া ঠিক নয়।’ উনি ম্লান হেসে বললেন — ‘আমি সব ছেড়ে দিতে পারি- আমার গান, হারমোনিয়ামের সুর, তবলার ঝংকার, ঘর, সংসার, স্ত্রী, স্বজন সব। কিন্তু সিগারেট ছাড়তে পারব না। সিগারেট ছাড়া আমি বাঁচতে পারব

    না।’

    — আপনি তো সিগারেট খেতে খেতে মরে যাবেন।

    — মরে গেলে মরে যাব। তবুও।

    জীবনে অনেক সিগারেটখোর মানুষ দেখেছি। কিন্তু এমন মৃত্যুর সাথে জুয়া ধরে সিগারেট খেতে কাউকে দেখিনি। লোকটিকে দেখে রাগও হলো, আবার মায়াও হলো। জানিনা, জীবনের কোন্ পরাজয়ে তার এই অধপতন!

    আমরা যখন কথা বলছিলাম — তখন পাশের রুম থেকে আধো ঘোমটা দিয়ে একজন স্ত্রীলোক চলে আসেন আমাদের বসার ঘরে। গায়ের রং ফর্সা তার, কালো চুল, মায়া জড়ানো দুটো চোখ, হ্যাংলা পাতলা দেহগড়ন, বয়স কতই হবে- সাতাশ আটাশ। কী অপূর্ব সুন্দর সে দেখতে। একদম ছবির মতোন!

    মাহবুব ভাই পরিচয় করে দিলেন ইনি আমাদের রোজী ভাবী। আমাকে দেখিয়ে বললেন — ও আমার জুনিয়র কলিগ – আরিফ রহমান। মাহবুব ভাই ওনাকে রসিকতা করে বললেন, ভাবী, তুমি ওকে দেবরও ভাবতে পারো, ছোট ভাইও মনে করতে পারো। খুব ভালো ছেলে। একদম সহজ সরল।

    মনে মনে কামনা করছিলাম, আমি এই অপূর্ব সুন্দর মেয়েটির দেবর হতে চাই না। ছোট ভাই হতে চাই। কেমন যেন দিদি দিদি সরল মুখোয়ব তার। কিন্তু উনি আমার এই আশাকে হতাশ করে দিয়ে সহাস্যে বললেন — ‘ এ আমার নবীন দেবর’।

    মন্টু ভাই ওনাকে বললেন, ‘ রোজী, তা তোমার এই দেবরদ্বয়কে নাস্তাপানি কিছু খেতে দাও।’ এ কথা শুনে রোজী ভাবীর মুখটা মলিন হয়ে যায়। বুঝতে পারলাম, খেতে দেওয়ার মতো ঘরে হয়তো তেমন কিছু নেই। মন্টু ভাইও বুঝতে পেরে বললেন – ‘বাইরে থেকে কিছু কিনে নিয়ে আসো’। এবারও ভাবীর মুখটা আরও বিষাদগ্রস্ত হয়ে গেল। বুজতে পারলাম, ঘরে হয়তো টাকাও নেই।

    ভাবী চলে গেলেন।

    এরই ফাঁকে অনেক কথাই হচ্ছিল মন্টু ভাইয়ের সাথে। একসময় তিনি রেডিওতে তবলা ও হারমোনিয়াম বাজাতেন। বড়ো বড়ো গানের অনুষ্ঠানে যেতেন যন্ত্রীদলের সাথে। অসুখের কারণে এখন আর যেতে পারেন না।

    আলাপের মাঝেই মন্টু ভাই আরও দুটো সিগারেট খেয়ে ফেললেন। কথায় কথায় জানতে পারলাম, ওনার নানাবিধ রোগ। ডায়বেটিস, ফুসফুসে ইনফেকশন। লিভার ও কিডনির অবস্থাও ভালো নেই। রোগগুলো ক্রনিক হয়ে গেছে। কয়েকটি গানের টিউশনি করত। অসুখের জন্য তা কমিয়ে দু-তিনটি করে এখন। গানের স্কুলেও যেতে পারে না। হঠাৎ করেই যে কোনো সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। নেবুলাইজার নিতে হয়। শ্বাস কষ্টের কারণে আগের মতো সুর তুলতে পারে না কণ্ঠে। আঙুলও ঠিক মতো চালাতে পারেন না হারমোনিয়ামের রীডে, তবলায়ও তাল তুলতে পারেনা আগের মতো। হাত কাঁপে।

    একটু পর রোজী ভাবী পুরানো ঢাকার বাকরখানি ও দুধের ছানা খেতে দিলেন। চা বানিয়েও খাওয়ালেন। আমাদের খাওয়া শেষ হলে মাহবুব ভাই বললেন- আমরা আজ আসি। মন্টু ভাই বললো, তোমরা আবার এসো।

    এতক্ষণ রোজী ভাবী আমার সাথে একটি কথাও বলেনি। বিদায়কালীন সময়ে আমার দিকে আনত চোখে চেয়ে বললেন- ‘নবীন দেবর, তুমি ভুলে যেওনা এই ভাবীকে। এসো আবার।’

    আমি মাথা ঝুঁকিয়ে বললাম – আসব।

    এর মধ্যে প্রায় দেড় মাস চলে গেছে, মন্টু ভাই ও রোজী ভাবীকে দেখতে যাওয়া হয়নি। এর কারণও ছিল, ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে পুরনো ঢাকার ঐদিকটায় আর যাওয়া পড়েনি। সবচেয়ে বড়ো কারণ ছিল– মাহবুব ভাই আমাদের অফিস ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে চাকুরি নিয়ে চলে গেছে। তাও ঢাকায় নয়, একেবারে চট্টগ্রামে। উনি থাকলে হয়তো যাওয়া হতো।

    এর মাঝে রোজী ভাবীদের কথা মনে পড়েছে আমার। প্রায়ই ইচ্ছে হতো আমি একাই যেয়ে ওনাদের দেখে আসব। কিন্তু কেমন যেন সংকোচ অনুভব করতাম। আমি ওনাদের তেমন কেউ না। কোনও আত্মীয়ও নই – হঠাৎ এমনি করে চলে যাব? কী মনে করবে তারা? যদি ভাবে রোজী ভাবীর প্রতি আমি দূর্বল। যদি মনে করে কার জন্য এত টান? গায়ে পড়ে কেন দেখতে যেতে চাও? কার জন্য তুমি যেতে চাও?

    রোজী ভাবীর জন্যই আমার যেতে ইচ্ছে করে। ওনার প্রতি কেন জানি আমার মায়া জন্মে গেছে। এই মায়াটা কেন হচ্ছে বুঝতে পারিনা। তারা গরীব! অসহায়! এই জন্য? তাহলে তো করুণা হয়ে গেল। কিন্তু এ যে করুণাও নয়। সেদিনের বিদায়কালীন সময়ে ভাবীর সেই কথা এখনও কানে বাজে — ‘নবীন দেবর, তুমি ভুলে যেওনা এই ভাবীকে। এসো আবার।’

    সব দ্বিধা দূর করে একদিন ছুটির দিনে আমি রোজী ভাবীর বাসায় আবার যাই। ভাবী আমায় দেখে খুশি হলেন। মন্টু ভাই খাটের উপর শুয়ে আছে। শরীরটা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেছে। আমাকে দেখে উনি উঠে বিছানায় বসলেন। এবং বললেন – খুশি হলাম তুমি এসেছ।

    মন্টু ভাই সিগারেট ধরালেন। আজও ওনাকে বললাম –  আপনি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিন মন্টু ভাই।

    ভাবীকে বললাম – আপনি সিগারেট খাওয়া ছাড়াতে পারেননি?

    — পারিনি। ওর আরও অনেক খারাপ অভ্যাস ছিল। যেমন, অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। সুরা পান করা। সময় মতো আহার না করা। বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি করা। এই সবগুলো ছাড়াতে পেরেছি। শুধু সিগারেট খাওয়া বাদ দেওয়াতে পারিনি।

    ভাবী বলছিল – ‘তুমি এসেছ ভালোই করেছ। আমরা এখানে আর বেশি দিন থাকব না। তুমি না এলে তোমাকে আর হয়তো দেখতে পেতাম না।’

    বললাম – কোথায় চলে যাবেন?

    — তোমার মন্টু ভাইয়ের গ্রামের বাড়ি নাগরপুরে।

    ভাবী আরও বললেন — এখানে আমরা আর থাকতে পারছি না। তোমার মন্টু ভাইয়ের আয় রোজগার আর নেই বললেই চলে। মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দিতে পারিনা।  দেশের বাড়িতে কিছু জমিজমা আছে, তাই থেকে জীবন চলবে। ওখানে কুমুদিনী হাসপাতালে তোমার ভাইয়ের চিকিৎসাও করানো যাবে।

    মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। এরা আমার আপন ভাই ভাবী নয়, তাই বলে কী এদের জন্য আমি কিছু করতে পারি না? কিন্তু কতটুকুই বা করতে পারব? সাময়িক দানে এদের কী চিরদিনের করে ঢাকায় রাখতে পারব? আর আমার দান ওনারা গ্রহণও করবে না।

    সেদিন রোজী ভাবীর ওখান থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় ভাবীর হাতে জোর করে কিছু টাকা দিয়ে বলেছিলাম — ‘মন্টু ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য রাখেন।’ রোজী ভাবী গ্রহণ করতে চাননি। আমি বললাম- ‘আপনি না আমাকে দেবর ডেকেছেন। আমি মন্টু ভাইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো।’  দেখলাম, ভাবীর চোখদুটো জলে ছলছল করে উঠেছে।

    অফিসের কাজের চাপে বেশ কিছুদিন রোজী ভাবীর ওখানে  যাওয়া হয়নি। সেদিন অফিস থেকে একটু আগেই বের হই। একটি রিকশা নিয়ে চলে যাই জেলখানা পর্যন্ত। ওখান থেকে হেঁটে ভাবীর বাসায়। গিয়ে দেখি, সব জিনিসপত্র তারা গুছিয়ে বেঁধে রেখেছে। ভাবী নিজ থেকেই বললো – কাল সকালে চলে যাচ্ছি গ্রামের বাড়ি। তুমি একবার নাগরপুরে চলে এসো আমাদের দেখতে। ভুলে যাবে না।

    ভাবীকে বললাম – ভুলব না।

    মন্টু ভাইয়ের হারমোনিয়ামটা দেখলাম বিছানার উপরে পড়ে আছে। তবলা দুটোও আছে একপাশে। মনটা এত খারাপ লাগছিল যে কান্না পাচ্ছিল খুব। মন্টু ভাইকে বললাম, মন্টু ভাই একটা গান গেয়ে শোনান না!

    মন্টু ভাই সিগারেট ধরালেন, বললেন- আমার কণ্ঠ নষ্ট হয়ে গেছে, গাইতে পারি না। তোমার ভাবীও গান জানে। সেই শোনাক তোমাকে গান।

    মন্টু ভাই ভাবীকে বললো – তুমি আরিফকে একটা গান গেয়ে শোনাও।

    মন্টু ভাই বলছিল, জানো আরিফ, আমার গান শুনেই তোমার ভাবী আমাকে ভালবেসেছিল। আর আমিও তোমার ভাবীর গান শুনে তাকে ভালবেসেছিলাম। দুজন একসাথে বসে কত রাঙা ভোরে হারমোনিয়ামে কণ্ঠ সেধেছি। কত বৃষ্টির দিনে গেয়েছি বর্ষার গান। কত হেমন্ত রাত্রি নিদ্রাহীন করে কাটিয়ে দিয়েছি গুনগুন করে গানে গানে। গেয়েছি দুজন যুগল কণ্ঠে –

    আমরা এমনি এসে ভেসে যাই

    আলোর মতন, হাসির মতন

    কুসুমগন্ধ রাশির মতন

    হাওয়ার মতন, নেশার মতন

    ঢেউয়ের মতন ভেসে যাই।

    আমি জানতাম না রোজী ভাবীও গান গাইতে পারে। আমিও ওনাকে বললাম, গেয়ে শোনান না ভাবী একটি গান। ভাবী নিজেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইলেন-

    প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে

    মোরে   আরো আরো আরো দাও প্রাণ।

    তব ভুবনে তব ভবনে

    মোরে   আরো আরো আরো দাও স্থান ॥

    আরো আলো আরো আলো

    এই      নয়নে, প্রভু, ঢালো।

    সুরে সুরে বাঁশি পুরে

    তুমি    আরো আরো আরো দাও তান ॥

    ভাবী এমন করে গানটি গাইলেন যেন সহসা বেগম বাজারের একটি সরু গলির জীর্ণ পলেস্তারা খসে পড়া একটি কক্ষ বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে উঠল। মন্টু ভাই তবলায় তাল দিচ্ছিল, তার হাতটাও তবলার উপর হিম হয়ে থেমে গেল। গান শেষে রোজী ভাবীর চোখ কেমন আদ্র হয়ে উঠল। তার সেই  নিমীলিত চোখের তারায় জগতের অনেক অশ্রু যেন টলমল করছে। ঘরের ভিতরকার স্বল্প আলোয় তা সে লুকাতে পারল না।

    সেদিনের সেই স্তব্ধবাকের  বিকালে একটা কথাই ভাবছিলাম, মানুষের কত অজানা বিস্ময় অজানা থাকে অন্য কারোর কাছে। এমন কত জীর্ণ কুটিরে কত বিস্ময়কর প্রতিভা আলোহীন হয়ে পড়ে থাকে নিবিড় আঁধারে। কেউ তাকে হাত ধরে আলোতে নিয়ে আসেনা।

    ভাবী ক্ষীণ কণ্ঠে আঁধার নেমে আসা সেই সন্ধ্যায়  বলেছিল– ‘এসো ভাই তুমি আমাদের বাড়ি। এসো তুমি। ধলেশ্বরীর তীরে ঘুরতে ঘুরতে তোমাকে শোনাব আরও গান। নৌকায় ভেসে ভেসে চলে যাব দূর বালুচরে। ওখানে ফুটে থাকে অজস্র কাশফুল। উড়ে সেখানে ধবল বক, পানকৌড়ি। দেখব আকাশ জুড়ে শরতের শুভ্র মেঘমালা।’

    আমি রোজী ভাবীর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে সরু গলি ধরে হাঁটতে থাকি। পা চলছিল না মোটেই। পিছনে ফিরিয়ে দেখার কিছু নেই। খালি মনে হতে লাগল – কেউ মনে হয় গোপনে টপটপ করে চোখের জল ফেলছে। ল্যাম্পপোস্টে একটি বাতিও তখন জ্বলেনি। কেমন আঁধার হয়ে আছে গলিটা। নেড়ি কুকুর ভুগ ভুগ করছিল অপরিচিত আমাকে দেখে। বেগম বাজারের মোড়ে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে কতকগুলো ছেলে বলছে — ” নীল ছবি, নীল ছবি, ব্লু, ব্লু, সুইডিশ-সুইডিশ, ইতালিয়ান- ইতালিয়ান।” বুঝতে পারলাম এখানে বিভিন্ন বাড়িতে ভিসিআরে  নীল ছবি দেখানো হয়। আমি ওদিকে কান দিলাম না। একটি টং দোকান থেকে একটি সিগারেট কিনে ধরাই। কোথাও না দাঁড়িয়ে সিগারেটটি টানতে টানতে হেঁটে চলে আসি চানখাঁর পুল। ওখান থেকে রিকশায় আমার মেসে।

    কদিন খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। কী এক যাতনা হতো বুকের ভিতর। অফিসে মনমরা হয়ে থাকতাম। লেখার সময় কলম চলত না। খিদে পেলেও খেতে মন চাইত না। মানুষ তার বর্তমান দুঃখকেই মনে হয় বড় করে দেখে। আমিও তাই দেখতাম। এমনি এমনি চোখ থেকে জল ঝরে পড়ত।

    তারপর আস্তে আস্তে সব ভুলে যাই। সময় বহিয়া যায়। অতীতের স্মৃতি চাপা পড়তে থাকে মধুময় বড়ো কোনো প্রাপ্তিতে। কর্মক্ষেত্রে সুনাম বাড়তে থাকে আমার। ভালো জায়গায় ভালো অফারে নতুন চাকুরি নিলাম। অনেক বড়ো কর্তাব্যক্তি হয়ে উঠলাম। ঘরে অসম্ভব সুন্দরী মায়াবতী বউ এল। সন্তান এল। কবেকার এক মন্টু ভাই ও একজন রোজী ভাবী মনের অতল গহীনে চাপা পড়ে গেল। যে রোজী ভাবী একসময় আমার মনকে এমন করে আলোড়িত করেছিল, সময়ের বিবর্তনে তাকে কী নিমিষেই ভুলে গেলাম। যদিও মাঝে মাঝে মনে হতো – একবার চলে যাই ধলেশ্বরীর তীরে, খুঁজে দেখে আসি হতভাগী রোজী ভাবীকে। যখনই ভাবতাম এইসব কথা, তখনই ছায়ার মতো সামনে এসে দাঁড়াত আমার মায়াবতী স্ত্রী। তার মুখের ঔজ্জ্বল্যের কাছে রোজী ভাবীর মুখখানি নিষ্প্রভ হয়ে যেত। নিমগ্ন আঁধারে হারিয়ে যেত রোজী ভাবীর ধূসর মুখ।

    বছর সাতেক পরের কথা। একবার বাসে করে সিরাজগঞ্জে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। বাসটি একসময় মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে থামে। আমি জানালার কাছের সিটে বসা ছিলাম। বাইরে পথের উপর তাকিয়ে দেখি, একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে তার সাদা সুতি শাড়ি। অনাড়ম্বর তার বেশভূষা। মুখে কোনো প্রসাধনী মাখা নেই। আমি ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম মেয়েটিকে। চিনতে পারলাম তাকে। এ যে আমার রোজী ভাবী। আমি বাস থেকে নেমে পড়ি। কাছে গিয়ে ডাক দেই – ‘ভাবী’।

    রোজী ভাবী আমাকে চিনতে পারে। সে বললো – তুমি এখানে!

    – বাসে বাড়িতে যাচ্ছিলাম, আপনাকে দেখে নেমে পড়ি। তা আপনি এখানে?

    – হ্যাঁ, আমি এখানে আসি প্রতি বছর এইদিনে।

    কুমুদিনী হাসপাতালটি দেখিয়ে রোজী ভাবী বললেন– আজ থেকে ছয় বছর আগে এই হাসপাতালের একটি বেডে তোমার মন্টু ভাইয়ের প্রাণ চিরতরে নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি আসি এখানে এইদিনে। হাসপাতালের একটি প্রকোষ্ঠে সেই বেডটির কাছে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পাই তোমার মন্টু ভাইকে। দেখি, কী সুন্দর করে সে ঘুমিয়ে আছে। আমি তাকে ছুঁয়ে দেখি। তার হিম হয়ে যাওয়া শরীরের স্পর্শ অনুভব করি। আমি কান পেতে শুনি তার আত্মার স্পন্দন!

    — খুব খারাপ লাগছে মন্টু ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে। আল্লাহ ওনাকে বেহেশতে রাখুন।’ ভাবীকে বললাম – আপনি এখন কোথায় থাকেন?

    — নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ছায়া ঘেরা একটি গ্রামে। তোমার মন্টু ভাইয়ের সমাধি সেখানে। ওখানেই আমি থাকি। ওখানকার একটি স্কুলে ছোট ছোট বাচ্চাদের গান শিখাই। সময় কেটে যায়। প্রথম প্রথম খুব একাকী লাগত। তোমার কথা খুব মনে হয়েছে।  তা তুমি বিয়ে করেছ নিশ্চয়ই।

    —  জ্বী।

    —  বউ দেখতে কেমন?

    —  আপনার মতো। ওর মুখে আপনার ছায়া দেখতে পাই।

    — নাম কী?

    — মহুয়া।

    — বাচ্চা হয়েছে?

    — জ্বী। একটা মেয়ে ।

    — কার মতো দেখতে হয়েছে ?

    — মায়ের মতো।

    — নাম কী?

    –  রোজ।

    –  খুশি হলাম।

    আমি রোজী ভাবীকে বললাম — ‘ঢাকায় আর স্থায়ী হবেন না কখনও ? আসবেন না?

    — না। এখানেই ভালো লাগে। মনখারাপ হলে চলে যাই ধলেশ্বরীর তীরে। কী অপরূপ রূপে ধলেশ্বরী বহমান।  শীতল বাতাস বয়ে আসে চরাচরের কাশফুলের সুবাস মেখে। সে বাতাস এসে লাগে আমার গায়ে। দেখি, দিগন্ত জুড়ে খোলা আকাশ। কী যে ভালো লাগে তখন। ভুলে যাই সব বঞ্চনার কথা।

    বাসটি এতক্ষণ অতিরিক্ত বেশ কয়েক মিনিট দাঁড়িয়েছিল আমার জন্য। চালক ভেঁপু বাজাচ্ছিল বারবার। রোজী ভাবীকে বললাম –  যেতে হবে। আসি ভাবী।

    — এসো।

    আমি দ্রুত এসে বাসে উঠি। জানালার কাছে সিটে বসতে না বসতে বাসটি অনেকদূর চলে আসে। জানালা দিয়ে তাকাই বাইরের দিকে। কিন্তু রোজী ভাবীকে আর দেখতে পেলাম না। ততক্ষণে সে আড়াল হয়ে গেছে।

    ***

    ডিসক্লেইমার —

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামি’ গল্পটি পড়ে  অনুপ্রাণিত হয়ে এই লেখাটা লিখেছি  ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার
    Next Article এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    কোয়েল তালুকদার

    মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    দাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার

    January 6, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    মাধবীরা কেউ নেই – কোয়েল তালুকদার

    January 5, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    শুক্লপক্ষের তারা – কোয়েল তালুকদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }