Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    শ্রীপারাবত এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কিতাগড় – ৫

    ৫

    আবার আনন্দের জোয়ার আসে বাটালুকায়—জোয়ার আসে সমস্ত সতেরখানি তরফে।

    রাজা ত্রিভন সিং ভুঁইয়ার বিবাহ।

    পারাউ সর্দারের ছোট্ট কুঁড়েঘর কোন্ সুদূর অতীত থেকে ম্লান হয়ে পড়েছিল এক কোণে। মৃত্যুর বিভীষিকা এতদিন যেখানে ছিল পরিব্যাপ্ত—আজ আবার সেখানে নতুন জীবনের রঙ ধরল।

    বুধকিস্‌কু আর সারিমুর্মু বলেছিল যে বিয়ে হওয়া উচিত কিতাগড়ে। ত্রিভন শোনেনি। সে যে সতেরখানির শত শত অধিবাসীরই একজন। সে প্রবীণ সর্দারদের কথা মানবে কেন? ওরা পুরোনো রীতিতেই অভ্যস্ত। তাই বাঘরায়ের মতামত জানতে চেয়েছিল সে।

    বাঘরায় ঘাবড়ে গিয়ে বলেছিল-আমাকে তাহলে আর একজনের কাছ থেকে জানতে হয় রাজা।

    —কে?

    —ছুট্‌কী। সংকোচে বলেছিল বাঘরায়।

    —ঠিক। শুনে এসো। ত্রিভন হেসে উঠেছিল।

    শুনতে বেশী সময় লাগেনি বাঘরায়ের। কিছুক্ষণ পরেই ছুটে এসে জানিয়েছিল ছুটকীর মতামত। পারাউ সর্দারের ঘরেই বিয়ে হওয়া উচিত। সবাই আসবে—সব কিছু দেখবে—তবে তো আনন্দ।

    পারাউ-এর আনন্দের সীমা নেই। বিষপাত্রের তলানিটুকু যে অমৃত, তা কি জানত সে? হে কিতাপাট। অনেক সন্দেহ করেছি তোমায়। ক্ষমা করো। ক্ষমা করো।

    অবিরল ধারায় জল গড়িয়ে পড়ে বৃদ্ধের চোখ দিয়ে। মনে পড়ে তার খাঁড়িপাথরের কথা, সামনে ভাসে যুঝার সিং আর হেমৎ সিং-এর মুখ। স্পষ্ট দেখতে পায় একমাত্র ছেলে রাজু আর নাতনি সাওনার সুঠাম চেহারা। ‘হাওয়া-ছকে’ যন্ত্রণাকাতর লিপুরের মায়ের মুখচ্ছবিও ভেসে ওঠে। অভাগী জানত না সে রাণীর মা।

    হে কিতাপাট! এত আনন্দ শুধু আমার জন্যেই তুলে রেখেছিলে? তাদের তো কিছুই দিলে না। আমাকে আগে-ভাগে টেনে নিয়ে যদি তাদের রাখতে তাহলে ওপর থেকে দেখে যে আরও আনন্দ পেতাম।

    দেখ্‌ রাজু দেখ, তোরই সাওনার মেয়ে। সবই তো দেখতে পাচ্ছিস্। দেখ্‌ সাওনা—তোর যে আজ কত আনন্দ তা কি জানিনে রে দাদু। দেখো গো লিপুরের মা, সব বিষটুকু গিলে লিপুরের জন্যে কী রেখে গিয়েছ। দেখো, ভালো করে দেখো দেখে তোমাদের মন জুড়োক—চোখ জুড়োক।

    পরাউ ডুকরে কেঁদে ওঠে।

    শুকোল কোথা থেকে ছুটে এসে সর্দারকে কাঁদতে দেখে বলে—ও কি গো সর্দার, কাঁদো কেন?

    —কাঁধি কি আর সাধে রে।

    শুকোল গম্ভীর হয়। সর্দারের চিন্তা যেন তার মধ্যেও সংক্রামিত হয়। সে তো সবই জানে। তারা যে সর্দারের চার পুরুষের প্রতিবেশী।

    —তবু কেঁদো না। অমঙ্গল হয়।

    —না না, আর কাঁদব না। চোখের জল মুছে ফেলে পারাউ।

    .

    বাইরে হৈ হৈ শুনে তারা বেরিয়ে আসে।

    একদল লোক এসেছে সঙ্গে হাণ্ডি আর ফুল। এই দুটোই তাদের সব চাইতে প্রিয় জিনিস। রাজা-রাণীকে উপহার দেবে। ঘাড়ে করে বয়ে এনেছে মাদল—এনেছে বাঁশী।

    শুকোল হাসতে হাসতে চিৎকার করে-এ যা, কোড়াকো আপে দ তুমদাঃ টামাক রুইপে।

    মাদল বেজে ওঠে।

    —না না। এখন মাদল বাজাবে কি? পারাউ ইতস্তত করে। রাজাই আসেননি তো এখনো।

    —আর রাখো সর্দার। আনন্দ করতে এসেছে—চুপ করে বসে থাকবে?

    —তা ঠিক, তা ঠিক। যা ভালো বুঝিস কর তোরা। এ তো তোদেরই উৎসব। শুকোল চিৎকার করে-তিরিও অরং পে।

    মাদলের সাথে বাঁশীও সুর ধরে সঙ্গে সঙ্গে।

    শুকোল উৎসাহে আরও উত্তেজিত হয়। কতকগুলি মেয়ে খোঁপায় ফুল গুঁজে হাসছিল আর ভঙ্গী করছিল। শুকোল তাদের দিকে চেয়ে বলে—কুড়ি কো এনেঃ মা।

    কিন্তু মেয়েরা নাচতে দ্বিধা বোধ করে। গলায় হাণ্ডি না ঢাললে মনে উৎসাহ আসে না, পায়ে বলও পাওয়া যায় না। সংকোচ থেকে যায়।

    —হাণ্ডি খাই তবে? একজন মেয়ে বলে বসে।

    —না না। আগে থেকে মাতাল হয়ে পড়িস না। তো দেখছি সব তাতেই বাড়াবাড়ি করিস্। একগাদা মাতালের মধ্যে কি শেষে রাজার বিয়ে হবে?

    .

    সারারাত্রি হৈ চৈ করে আর হাণ্ডি খেয়ে মেয়ে পুরুষ সবাই ঢুলে পড়ে। পারাউ সর্দার অবসন্ন হয়ে একপাশে শুয়ে থাকে।

    স্তূপীকৃত বন্যফুলের মধ্যে জেগে থাকে শুধু রাজা আর রাণী—ত্রিভন আর ধারতি। এতদিন পরে পরিপূর্ণ পরিতৃপ্তির হাসি উভয়ের মুখে।

    —কিতাগড়ে এমন চাঁদের আলো পাওয়া যেত না ধারতি।

    —বাঁশী বাজাবে?

    —সে কি, আমি না রাজা?

    —আমার রাখাল রাজা। নরহরি ঠাকুরের মুখে রাখালরাজার কথা শুনেছি।

    —অত কালো আমি?

    —জানি না। ঠিক সেই রকম।

    —বেশ। তবে তাই। ত্রিভন হাসে।

    —বাজাও না?

    —বাঁশী কোথায়?

    —আছে।

    —তুমি কোথায় পেলে!

    —তোমারই। ফেলে রেখেছিলে পাথরের ওপর। চুরি করে এনেছি।

    —দেখি।

    —ফুলের স্তূপের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে আস্তে আস্তে বার করে দেয় ধারতি।

    —বাজাবো?

    —সত্যি!

    —হুঁ।

    ত্রিভন ধীরে ধীরে বাজায়। সে সুর রাত্রির নিস্তব্ধতার মধ্যে ভাসতে ভাসতে মহুয়া গাছ ছাড়িয়ে কাঁটারাঞ্জার শালবনের পাতা ছুঁয়ে দিগন্তে গিয়ে মেশে

    বাইরে বাঘরায় সজাগ প্রহরী-তার সঙ্গে সাদিয়াল আর চোয়াড়রা। তারা শোনে। ত্রিভনের খেয়াল ছিল না এসব। সে অনুভব করে পৃথিবীতে শুধু সে আর ধারতিই জেগে।

    ছুট্‌কীর কথা মনে হয় বাঘরায়ের। সে ঘরে ফিরে গিয়েছে।

    বহুদিন পরে বন্ধু ডুইঃ-এর কথা মনে হয়। সে যদি থাকত আজ তাদের মধ্যে। চোখের কোণা আঙুল দিয়ে মুছে ফেলে বাঘরায়।

    .

    পরদিন সকালে স্ত্রী-পুরুষ পরিবেষ্টিত হয়ে রাজা-রাণী চলে নিকটের জলাশয়ে। ত্রিভনের হাতে তীর ধনুক—ধারতির মাথায় কলসী। বিয়ের পরদিন এই আচার পালন করে তরফের সাধারণ অধিবাসীরা। ত্রিভনও আপত্তি করে না।

    জলাশয় থেকে ফেরার পথে ধারতি আগে আগে চলে জলপূর্ণ কলসী মাথায় নিয়ে। ত্ৰিভন অনুসরণ করে তাকে। সে তার ধনুক থেকে একটি একটি করে তীর নিক্ষেপ করে সামনের দিকে। ধারতি কলসী-মাথায় সেই তীর কুড়িয়ে নিয়ে ত্রিভনের হাতে ফিরিয়ে দেয়

    বৃদ্ধ পারাউ সর্দার লাঠিতে ভর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলছিল।

    সে গম্ভীর স্বরে বলে—এই আমাদের ব্রত রাজা। অস্ত্রবিদ্যায় নৈপুণ্য শ্রেষ্ঠ পুরুষের লক্ষণ। যুদ্ধের জাত আমরা—যুদ্ধ ছাড়া বাঁচতে পারি না। পুরুষরা যদি যুদ্ধে নিপুণ না হয় তাহলে কি অমাদের অস্তিত্ব থাকবে? তাই এই অনুষ্ঠান—এই তীর নিক্ষেপ

    বৃদ্ধ একটু থামে। চলতে চলতে কথা ব’লে সে হাঁপিয়ে পড়ে। তাই একটু দম নিয়ে আবার সুরু করে,—কিন্তু পুরুষেরা নিপুণ হলেই তো শুধু চলবে না রাজা। পেছনে চাই প্রেরণা! কোথায় তার প্রেরণা?

    ধারতির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,—ওই তো প্রেরণা। পুরুষের সব কাজে ওরা সাহায্য করে। ভেঙে পড়লে সান্ত্বনা দেয়। তবেই তো পুরুষেরা হবে দুর্জয়—দুঃসাহসী। যে তীর ছুঁড়ছেন আপনি, সেই তীর কুড়িয়ে দিয়ে ধারতি আপনাকে সাহায্য করছে, প্রেরণা দিচ্ছে। সুখে দুঃখে বিপদে আপদে সব সময়েই আপনার পাশে থাকবে ও। কখনো একা ফেলে রেখে সরে দাঁড়াবে না।

    বিস্মিত ত্রিভন সশ্রদ্ধ দৃষ্টিতে সর্দারের দিকে চেয়ে থাকে। শেষে বলে—আজ আমার একটা কথা রাখতে হবে সর্দার।

    —বলুন।

    —ধারতির গুরুজন তুমি—আমারও গুরুজন। পদধূলি দাও।

    পারাউ যেন দশহাত পেছিয়ে যেতে পারলে বাঁচে। কিন্তু সে স্থবির, সে অক্ষম। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলে—ছি ছি—রাজা। তা হয় না। ত্রিভন বলে,—খাঁড়েপাথরের শক্তি তুমি। বুদ্ধি তুমি। তাই আজ আমি রাজা। বাধা দিও না। এ সুযোগ আর পাব না।

    সবার চোখে আনন্দাশ্রু। পারাউ-এর চোখেও।

    সতেরখানির অধিবাসীদের সামনে ত্রিভন পদধূলি নেয় সাধারণ এক সর্দারের।

    নিশ্ছিদ্র মেঘ বাটালুকার ওপর। দূরের খাঁড়েপাহাড়ি চোখে পড়ে না। কাঁটারাঞ্জাও ঝাপসা। কিতাডুংরির ওপর বৃষ্টি ধারা নেমেছে। সতেজ শাল-বনের পাতায় অবিশ্রান্ত শব্দ। ব্যাঙ ডাকছে—ঝিঁঝিঁ ডাকছে। সাপ ছুটে চলেছে পাহাড়ী পথ ডিঙিয়ে উঁচু আশ্রয়ের খোঁজে।

    সাঁওতাল মুণ্ডাদের কুঁড়ে ঘরে শিশুরা চেঁচাচ্ছে ক্রমাগত। পাতায় ছাওয়া ছাদের ফুটো দিয়ে জল এসে পড়ছে তাদের গায়ে। শুকনো জায়গা সেই ঘরের কোথাও।

    শুয়োরের পাল গড়াগড়ি দিচ্ছে বৃষ্টির মধ্যে। বাছুর ডেকে চলেছে উঠোনে দাঁড়িয়ে-মা তার বাইরে গিয়েছে পেট ভরাতে। মোষের দল ডোবার মধ্যে গা চুবিয়ে মাথা উঁচিয়ে সুখের দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। অসংখ্য জোঁক যে তাদের পা কামড়ে ধরে রক্ত চুষে খাচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই।

    শ্রাবণ মাস। এমন বর্ষা বহুদিন হয়নি। বুড়োরা বলে যুঝার সিং-এর আমলে নাকি একবার হয়েছিল।

    ছুট্‌কী তার ঘরে বসে কাঁথা সেলাই করে। গর্ভবতী সে। বৃষ্টির একঘেঁয়ে শব্দ মাঝে মাঝে তাকে অন্যমনস্ক করে দেয়। হাতের কাজ থেমে যায়। সামনের পলাশ গাছের দিকে চেয়ে সে অস্ফুট স্বরে এক কলি গান গেয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতরটাও কেমন যেন মোচড় দেয়। এমনি এক শ্রাবণের দুপুরেই সে গানখানি প্রথম শুনেছিল। সেদিন মনের ভেতরে গেঁথে গিয়েছিল এর সুর-এর প্রতিটি কথা। এখনো তাই অন্যমনস্ক হলেই গেয়ে ওঠে মাঝে মাঝে মনে হয় যেন নিজে গাইছে না। সেদিনের সেই মিষ্টি গলাই যেন ভাবে বিভোর হয়ে তার কানে ঢেলে দিচ্ছে এক স্বর্গীয় সুধা। ডুইঃ-এর উদার করুণ মুখখানা তার ঝাপসা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। শ্রাবণের ধারার সঙ্গে ধারা মিলিয়ে দুফোঁটা অতিরিক্ত জল বাটালুকার মাটিতে মেশে।

    আঙিনায় ছলাৎ ছলাৎ শব্দ হয়। গরু নয়। কোনো মানুষ আসছে, জলের মধ্যে দিয়ে। বাঘরায়ের আসার সময় হয়েছে।

    সে-ই।

    ছুটকী কাঁথা গুটিয়ে উঠে দাঁড়ায়।

    —কি হল? মুখখানা সে আকাশের মতোই। বাঘরায় বলে।

    ম্লান হাসে ছুট্‌কী।

    —উঁহু। শুধু হাসলে তো চলবে না। দস্তুরমতো কথা বলতে হবে। বাঘরায় জড়িয়ে ধরে ছুট্‌কীকে।

    —এখনো পাগলামী গেল না। .

    —স্বভাব কি না-মরলে যায়? বল তো মরি।

    ছুটকীর মুখ গম্ভীর হয়।

    —রাগ হলো! বেশ, কিছু বলব না।

    ছুট্‌কীকে হাসতে হয়। বলে-এবারে কি কিতাডুংরির উৎসব হবে না? শ্রাবণ আসতেই যা বৃষ্টি!

    —সেই তো ভাবনা সবার।

    —রাজা কি বলেন?

    —তিনি বলেন উৎসব কখনো বন্ধ হয় না। হবেই।

    —ঠিক। তাছাড়া এবার রাজারাণী একসঙ্গে যাবেন।

    —হ্যাঁ। কিন্তু এরকম বাদল চললে?

    —তবু হবে। এই একটাই তো উৎসব। একি বন্ধ করা চলে?

    —লোক হবে না। দূরের কেউ-ই আসতে পারবে না।

    —ঠিক আসবে। কিতাপাটের ইচ্ছে হলে কাল সকালেই সূর্য উঠবে।

    —জানাব রাজাকে।

    —কি?

    —তোমার কথা। তিনি তো তোমার কথার খুব মূল্য দেন

    —যাও, কি যে বল।

    —সত্যি।

    —আর রাণীর কথার?

    —তা জানি না। সেকথা রাজাই ভালো জানেন। বাঘরায় হাসে।

    —বাবা এসেছিল আজকে।

    —কেন?

    —এমনি। আমাকে দেখতে। গোঁয়ার-গোবিন্দর হাতে দিয়ে কি নিশ্চিন্ত থাকতে পারে?

    —ও, তাই বুঝি?

    —বাবা নাকি অবসর নেবে। রাজাকে তাই জানিয়েছে।

    —আমি জানি। কিন্তু চাইলেই কি অবসর পাওয়া যায়? তেমন লোক কোথায় সর্দার হবার?

    —সতেরখানিতে কে-উ নেই?

    —চোখে পড়ে না। ডুইঃ সেই কবে ছেড়ে গিয়েছে আমাদের, তার জায়গায় কেউ এল না এতদিনে। অবিশ্যি ডুইঃ-এর মতো সর্দার আর আসবেও না।

    ছুটকী আবার অন্যমনস্ক হয়। বাইরের মেঘে-ঢাকা সূর্যের আলো আরও কমে এসেছে। শালগাছের ছায়া দুপুরেই সন্ধ্যার আঁধার সৃষ্টি করেছে।

    খুব আস্তে আস্তে বাঘরায়কে বলে ছুট্‌কী—নিয়ে গেলে না তো?

    বাঘরায় জানে কিসের কথা বলছে ছুট্‌কী। ডুইঃ-এর মৃত্যুর পর অনেকবারই একথা বলেছে ছুট্‌কী, ডুইঃ-এর প্রসঙ্গ তুললে একবার অন্ততঃ বলবেই। তাই আজকাল বাঘরায় এড়িয়ে যায় এসব কথা। তবু বন্ধুকে ভুলতে পারে না বাঘরায়—ভুলতে পারে না তার জীবনের শেষ মুহূর্তটুকু। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাই এক এক সময়ে বলে ফেলে। তখনই ছুট্‌কীর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

    ছুট্‌কী চায় একবার আমদাপাহাড়িতে যেতে। দেখতে চায় সেই টিলা, যেখানে নাগা সন্ন্যাসীদের বিধ্বস্ত করা হয়েছিল। বিশেষ করে দেখতে চায় সেই জায়গাটি যেখানে ডুইঃ তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিল।

    শোকের মুখে বাঘরায় কথা দিয়ে ফেলেছিল, নিয়ে যাবে ছুট্‌কীকে সেখানে। সে সদিচ্ছাও তখন ছিল তার। কিন্তু কাজের চাপে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

    আজকাল ছুট্‌কী যাওয়ার কথা বললেই বুকের ভেতরটা যেন কেমন করে ওঠে। একটা চাপা ব্যথা অনুভব করে সে। প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হল—মারাও গেল। দ্বিতীয় সন্তান ছুট্‌কীর গর্ভে। এখনো কেন সে ওকথা বলে? কেন সে ভুলতে পারে না ডুইঃকে? ডুইঃ তো ছুট্‌কীর বন্ধু ছিল না।

    ছুটকীর কথার জবাবে বাঘরায় তাড়াতাড়ি বলে ওঠে—যাব, নিশ্চয়ই যাব। ব্যস্ত হচ্ছ কেন?

    —কতদিন হয়ে গেল।

    —সেই টিলা এখনো অক্ষয়ই আছে। ঝড় জল বৃষ্টিতেও ক্ষয়ে যাবে না।

    —ও। ছুট্‌কী স্তব্ধ হয়। বাঘরায়ের কথায় উষ্ণতা। এমনভাবে তো সে কোনোদিনও কথা বলেনি। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ছুট্‌কী, আর কখনো ভুলেও এ অনুরোধ করবে না। মরে গেলেও নয়।

    মনের ভেতরে পরিচিত এক সুর আবার গুনগুনিয়ে ওঠে—সে সুর শ্রাবণের –সে সুর বিষাদের।

    .

    পারাউ মুর্মুর মৃত্যু হল এতদিনে।

    বংশের শেষ বাতিটিকে ঝড়-জলের ঝাপ্‌টা থেকে বাঁচিয়ে সুরক্ষিত স্থানে স্থাপন করে সে নিশ্চিন্ত মনে তার কিতাপাটের চরণে ঠাঁই নিল।

    ধারতি কাঁদল খুব। পৃথিবীতে তার আপনজন বলতে রইল শুধু ত্রিভন। কুঁড়েঘরটির মায়ায় সে আচ্ছন্ন হল। কত পুরুষের বাস ছিল এখানে। পারাউ-এর মুখে শুনেছে খাঁড়েপাথর আসার বহু আগে ওখানে এসে ঘর তৈরী করেছিল তাদের পূর্বপুরুষরা। তখন বাটালুকা গ্রামের চিহ্ন ছিল না। কিতাগড়ের অস্তিত্ব ছিল না কোনো। শ্বাপদসংকুল গভীর বনের মধ্যে ছিল ইতস্ততঃ দুচার ঘর সাঁওতাল আর মুণ্ডা। দিনরাত যুদ্ধ করতে হত তখন—যুদ্ধ করতে হত হিংস্র জন্তুর সঙ্গে অধিকার ছিনিয়ে নিতে। তখন নাকি কিতাপাট ছিলেন না—ছিলেন শুধু মারাংবুরু।

    পারাউ-এর ভিটে সেই সময়কার। কতবার ঘর ভেঙে পড়েছে,– আবার নতুন করে ঘর উঠেছে। কিন্তু ভিটে ছাড়েনি কেউ। এমনকি যুঝার সিং বারবার অনুরোধ করেও পারাউকে কিতাগড়ের কাছে আনতে পারেনি।

    শেষবারের মতো ধারতি গিয়ে কুঁড়েঘরখানাকে ঘুরে দেখে। রাণী হয়ে বার বার আসা সম্ভব হবে না এখানে। আঙিনায় একটা খুঁটি পোঁতা রয়েছে।

    কুঙ্‌কী বাঁধা থাকত সেখানে। সেও মারা গিয়েছে পারাউ-এর আগেই। ধারতি চেয়ে চেয়ে দেখে আর কাঁদে। কত পরিচিত—কত আপন।

    —সর্দারের অস্থি কিতাগড়ে নিয়ে যাওয়া হবে ধারতি। ত্রিভন বলে।

    —কোথায় রাখবে সেখানে? চোখের জল মুছে বলে সে।

    —আমাদেরই পরিবারের অস্থিশালায়।

    ধারতি যেন বিশ্বাস করতে পারে না। রাজপরিবারের অস্থিশালায় অন্য অস্থি স্থান পায় না। ত্রিভনের দিকে চেয়ে থাকে সে।

    —সতেরখানির রাজাদের মতো পারাউসর্দারও সম্মানীয়। আর একজন লোক অবশ্য ছিল।

    —কে?

    —ডুইঃ টুডু।

    —হ্যাঁ, ডুইঃ টুডু। ধারতির মনে কোনো সংশয় নেই।

    —বাঘরায় নিয়ে এসেছিল তার অস্থি। কিন্তু তার ঘর থেকে সেটা হারিয়ে যায়। কি করে হারাল বুঝতে পারি না। বাঘরায় নিজেই অবাক হয়েছিল।

    —বোধহয় খুব যত্ন করে রেখেছিল।

    —যত্ন করে রাখলে হারায়?

    —যত্নের জিনিসই তো হারায় রাজা।

    অন্য সময় হলে ত্রিভন ভাবত ধারতি রসিকতা করছে। কিন্তু এখন সে কথা কষ্ট করেও ভাবা যায় না। ধারতির বিমর্ষ কণ্ঠস্বরে বিশ্বাসের গভীরতা।

    .

    পারাউ-এর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই আর একটি সংবাদ আসে অভাবনীয় ভাবে। স্তম্ভিত হয় ত্ৰিভন।

    এক সন্ধ্যায় কিতাগড়ে এসে উপস্থিত হয় রান্‌কো কিস্‌কু। দেখেই চিনতে পারে সবাই। ত্রিভনও চেনে! তার প্রথম বিচারের বলি এই রান্‌কো—তার প্রথম যুদ্ধের বিশ্বকর্মা। রান্‌কোর কাছে মনে মনে লজ্জিত ত্রিভন। নাগা-যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যখন শুনল রান্‌কো নেই—তখন থেকে নিজেকে অপরাধী বলে ভাবে। সেদিন থেকে তার উপকার করার সুযোগ খুঁজছে ত্ৰিভন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। সতেরখানির কোথাও তার খবর মেলেনি—ঢাউরা দিয়েও নয়।

    এতদিন পরে রান্‌কোকে আসতে দেখে ত্রিভন তাই তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে তার হাত চেপে ধরে।

    —তোমার জন্য আমার শান্তি নেই রান্‌কো।

    —কেন রাজা?

    —কিতাডুংরির ঘটনা ভুলতে পারি না।

    ম্লান হাসে রান্‌কো। বলে—সেজন্যে দুঃখিত হবেন না রাজা। বিচারের সময় তো হাত-পা বাঁধা থাকে।

    —সে না হয় তুমি বুঝলে। কিন্তু তোমার মন? মন তো মেনে নিতে পারেনি।

    —কি করে জানলেন?

    —তোমার হাবভাবে। নাগা-যুদ্ধের আগে তোমার চেহারা দেখে তো আমি চমকে উঠেছিলাম। তাছাড়া ডুইঃও আমাকে সব বলেছিল।

    একটু যেন কেঁপে ওঠে রান্‌কো। মুখের রক্ত সরে যায় সাময়িকভাবে। শেষে বলে—কিন্তু উপায় কি?

    —আমি জানি না কী উপায়। তবে প্রার্থনা করি, তুমি যেন শক্তি পাও।

    —শক্তি আমি পেয়েছি রাজা। তাই আবার ফিরে এলাম। বাটালুকায় থাকব বলেই ফিরে এলাম। কিন্তু এবারে আপনার শক্ত হবার পালা।

    —কেন?

    —দুঃসংবাদ এনেছি।

    —নাগা সন্ন্যাসী এসেছে?

    —না।

    —বরাহভূমের মহারাজ—

    —তাও নয়। এ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

    —আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার? ত্রিভন টেনে টেনে বলে।

    —রাণীমাকে আপনি যেদিন সতেরখানির সীমান্তে পৌঁছে দিয়ে এলেন সেদিন আমি সেখানেই ছিলাম।

    —চিনতে পারিনি।

    —কেউ-ই চিনতে পারত না। নাগাযুদ্ধের সময় যে চেহারা দেখেছিলেন আমার, তখন তাও অবশিষ্ট ছিল না। তাছাড়া আমি ছিলাম সন্ন্যাসীর বেশে।

    —তুমি সন্ন্যাসী হয়েছিলে?

    —ভেবেছিলাম হবো। কিন্তু হইনি। শক্ত হয়েছি।

    —বল, এবারে কি দুঃসংবাদ।

    —রাণীমা শ্রীক্ষেত্রে যাবেন শুনে আমি তাঁর সঙ্গী হলাম। কিন্তু তীর্থক্ষেত্রে যাওয়া তাঁর ভাগ্যে হয়নি।

    —মা যাননি শ্রীক্ষেত্রে?

    —না।

    —কোথায় তিনি?

    রান্‌কো কিস্‌কু হাত তুলে আকাশের দিকে দেখায়।

    —মা নেই? ত্রিভন কেঁপে ওঠে।

    —না।

    —আর সবাই?

    —তারাও নেই।

    —ঠগী—ঠগী দস্যুরা হানা দিয়েছিল?

    —না রাজা। হাওয়া ছক্।

    দিনান্তে এক জলাশয়ের ধারে উপস্থিত হয়েছিল রাণীমার দল। পিপাসার্ত হয়ে সবাই পান করেছিল জলাশয়ের জল। কেউ জানত না যে—ওলাউঠার মহামারী শেষ করে এনেছে সে অঞ্চলকে। একে একে মরল সবাই—সেই রাত্রেই। বাকী রইল দুজন—রান্‌কো আর নরহরি কেন যে তারাও আক্রান্ত হলো না সে এক বিস্ময়।

    —নরহরি কোথায়? ত্রিভন নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে প্রশ্ন করে।

    —পালিয়েছে। রাণীমার আর্তনাদ শুনেও দাঁড়াননি এক মুহূর্ত।

    —ভণ্ড।

    —থাকতে বলেছিলাম তাকে। বলেছিলাম, দুজনাই ফিরে আসব বাটালুকায়। তিনি রাজী হলেন না। বললেন, এখানে নাকি স্থান নেই তার। বরাহভূমে চলে গেলেন।

    —ভালোই করেছেন।

    রাণীমাকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করলাম রাজা। পারলাম না।

    —তোমার কাছে আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবো। ত্রিভনের চোখ সজল হয়ে ওঠে। ধারতির মতো তারও পৃথিবীতে আর কেউ থাকল না।

    কোমর থেকে একটা ছোট্ট কৌটো বার করে রান্‌কো ত্রিভনের হাতে দেয়।

    —কি এতে?

    —রাণীমার অস্থি।

    —তুমি সৎকার করেছ রান্‌কো? সত্যি বলছ?

    —শুধু রাণীমার নয় রাজা—সবারই সৎকার করেছি। তারা যে আমার সতেরখানির লোক। ত্রিভনের গলার স্বর কেঁপে ওঠে—সতেরখানি সত্যিই তোমার। এমন ভাবে আমি তো কখনো দেখিনি সতেরখানিকে?

    —আমিও না। জানতাম না সতেরখানি আমার কত আপন। সেদিন প্রথম বুঝলাম। আপনিও একে ভালোবাসেন রাজা। শুধু সে ভালোবাসার যাচাই হয়নি এখনো।

    ত্রিভন চিন্তামগ্ন হয়। তার ভাগ্যে দুঃখ আর আনন্দ এইভাবে পাশাপাশিই চলেছে চিরকাল। শুধু দুঃখ কিংবা শুধু আনন্দের স্বাদ পেল না কখনো।

    —আমি বাটালুকায় থাকতে চাই রাজা।

    —আমিও তোমাকে রাখতে চাই।

    —চোয়াড়ের দলে ঢুকিয়ে নিন আমাকে।

    —হ্যাঁ। তবে সাধারণ চোয়াড় নয়। আজ থেকে তুমি সর্দার।

    —অতবড় দায়িত্ব কি আমি বইতে পারব?

    —ওর চেয়ে বড় দায়িত্ব যদি থাকত, তাই দিতাম তোমাকে। ডুইঃ-এর জায়গা খালি পড়ে আছে অনেকদিন। সারিমুর্মুর বয়স হয়েছে। অবসর নিতে চায়।

    —ঘরদোর কিছুই নেই আমার।

    ত্রিভন একটু ভেবে বলে—ঘর আছে। থাকবে সেখানে?

    —কোথায় রাজা?

    —পারাউ মুর্মুর বাড়ী।

    —সে তো তীর্থস্থান। এ আমার সৌভাগ্য। আশীর্বাদ করুন, যেন তাঁর মতো সর্দার হতে পারি।

    রান্‌কো চলে যায় কিছুক্ষণ পরে। ত্রিভন হাতের কৌটোটার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে থাকে। এত কথার মধ্যেও তার বারবার মনে পড়ছে—মাকেই। মায়ের স্নেহ কাকে বলে, ঠিক জানে না সে। তবু তারই মা—রাজা হিমৎ সিং-এর স্ত্রী—তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি যে এভাবে ঘটবে কেউ তা কল্পনা করেনি।

    নরহরিকে কোনোদিনই মহাপুরুষ বলে ভাবেনি সে। সাধারণ বোষ্টম বলেই মনে করত। কিন্তু ধর্মের আড়ালে যে এতখানি মনুষ্যত্বহীনতা লুকিয়ে ছিল কে জানত! শেষ সময়ে মা নিশ্চয় তাঁর মহাপুরুষটির পরিচয় পেয়ে গিয়েছেন।

    ত্রিভন অন্দরে যায়। রাজা হেমৎ‍ সিং ভুঁইয়ার অস্থির পাশে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট পাথরের নীচে আর একটি অস্থি রক্ষিত হবে আজ।

    ধারতি ফুলের মালা গাঁথছিল তখন। কিতাগড়ে আসার পর থেকে তার কাজ হয়েছে দিনে একটা করে মালা গেঁথে ত্রিভনের গলায় পরিয়ে দেওয়া।

    ত্রিভনকে দেখে সে বলে ওঠে—একি, এখনি এলে যে? আধ্যেকও তো গাঁথিনি।

    ভিন কথা বলে না।

    —কথা বলছ না কেন? হাসছ না—মুখ গম্ভীর! কি হয়েছে বল।

    ত্রিভন হাতের কৌটো এগিয়ে দেয়।

    —কি এটা?

    —মায়ের অস্থি।

    —মা? রাণীমা?

    —হ্যাঁ।

    —কি করে হলো। মালা রেখে ধারতি উঠে দাঁড়ায়।

    ত্রিভন একে একে সব বলে।

    —নরহরি ঠাকুর এমন লোক?

    —আজ আমারও, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই ধারতি।

    ধারতি দুই হাত রাজার কাঁধের ওপর রেখে চোখের জল ফেলে।

    .

    বরাহভূমরাজ দরবার থেকে লোক আসে বাটালুকায়। এমন সাধারণতঃ হয় না। পঞ্চখুঁটের রাজারাই সাধারণতঃ যায় বরাহভূমে!

    বিস্মিত সর্দারদের অতিক্রম ক’রে লোকটি রাজার সম্মুখে এসে নত হয়।

    ত্রিভনও কম অবাক হয়নি। খাঁড়েপাথরের সময়ে বরাহভূমরাজ নিজে এসেছিলেন একবার। তারপরে এপর্যন্ত আর কোনো লোক আসেনি দরবার থেকে। ত্রিভন অনুমান করে, হয়তো কোনো বিপদ আসন্ন জঙ্গলভূমির। মুসলমানরা এ-অঞ্চলের দিকে নজর না দিলেও ইংরেজদের বিশ্বাস নেই। হা-ঘরে ওরা। পাথর থেকেও নাকি রস বার করতে ছাড়ে না। যুদ্ধ বিগ্রহ বাধাবার ফন্দী আঁটছে কিনা কে জানে।

    বরাহভূমের অধীনে চার তরফ—ধাকা, তিন সওয়া, পঞ্চসর্দারী ও সতেরখানি। এই চার রাজ্যের রাজা আর মহারাজকে বলা হয় জঙ্গল মহলের পঞ্চখুঁট। দেশের কোনো জরুরী অবস্থায় পঞ্চখুঁট একত্রিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসার একটা প্রথা রয়েছে। কিন্তু বহুদিন তার প্রয়োজন হয়নি। হিংস্রজন্তু পরিপূর্ণ এই দরিদ্র অরণ্যের রাজ্যে বিলাসী মুসলমানেরা আসতে চায়নি কোনোদিনও। যে-কষ্ট এখানে এসে ভোগ করতে হয়, সেই অনুযায়ী ফললাভ সম্ভব নয়। লুঠপাটের বাসনা থাকলেও দারিদ্র্যের নগ্ন চেহারা দেখে আতঙ্কে হাত আপনি থেমে যায়। ত্রিভন ভাবে, ইংরেজদের সে অভিজ্ঞতা এখনো হয়নি। মুর্শিদাবাদে জয় করে রাজ্য বিস্তারের নেশা পেয়ে বসেছে তাদের। তাই জঙ্গলের দিকেও হাত বাড়িয়েছে। জানে না, সাপের ছোবলের ভয় রয়েছে এখানে।

    তৈরী হতে হবে। যেতেই হবে বরাহভূমে! মনে মনে প্রস্তুত হয় ত্ৰিভন।

    কিন্তু দরবারের লোকটির কথা শুনে তার সব চিন্তা কল্পনা ধুয়ে মুছে কোথায় মিলিয়ে যায়। নির্বাক হয়ে লোকটির মুখের দিকে চেয়ে থাকে।

    লোকটি বলে,—মহারাজ বলেছেন, এতদিন যে দুইশ’ পঁয়তাল্লিশ টাকা বার্ষিক কর দিয়ে এসেছে সতেরখানি তরফ, তাতে চলবে না, অন্ততঃ তার দ্বিগুণ চাই।

    —পত্র আছে? ভ্রূ কুঁচকে ত্রিভন প্রশ্ন করে।

    —হ্যাঁ। পত্র বার করে লোকটি এগিয়ে দেয়।

    ত্রিভন আগাগোড়া পড়ে সেটি। একবার নয়, দুবার নয়—বহুবার। প্রতিটি অক্ষরের মধ্যে শাসানি। মহারাজের কাছ থেকে এমন ব্যবহার সে কখনো আশা করেনি।

    বিরক্তিতে পত্রটা ছুঁড়ে ফেলে দেয় ত্রিভন।

    লোকটি বিদ্রূপের স্বরে বলে ওঠে—ওটি মহারাজের নিজের হাতে লেখা, যাকে আপনি কর দেন।

    —দূত অবধ্য বলে একটা কথা আছে জান?

    —নিশ্চয়ই জানি।

    —কেন, তা জান? কারণ দূত শুধু সংবাদই বহন করে। তার ব্যক্তিগত কথাবার্তায়, আচার ব্যবহারে কোনো রকম অভদ্রতা প্রকাশ পায় না। শত্রু পক্ষকেও যথাযথ সম্মান দিতে তারা জানে। সে-শিক্ষা তাদের দেওয়া হয়।

    —এ সব কথা কেন বলছেন?

    —তোমার ভদ্রতার অভাবের জন্যে। তুমি একটা সংবাদ নিয়ে এসেছ মাত্র। এই সংবাদ আনা আর তার জবাব নিয়ে যাওয়াই শুধু তোমার কাজ। তুমি এমন ব্যবহার করছ যা স্বয়ং মহারাজও করতে পারতেন না।

    —কিন্তু তাঁর পত্রটির ভাষা খুব মধুর!

    —সাবধান। আর এক পা বাড়ালে, বরাহভূমে ফিরে যেতে হবে না তোমাকে।

    —আমাকে হত্যা করবেন?

    —সেটা খুবই সহজ। জান না, রক্ত না দেখলে আমাদের দিন কাটে না? মানুষ কিংবা অন্য প্রাণী আমাদের মারতেই হয় রোজ। এ তোমাদের বরাহভূম নয়—অত সভ্য আমরা নই।

    লোকটি কাঁপতে থাকে। এমন সহজভাবে যে হত্যার কথা বলতে পারে, সে তা কার্যেও পরিণত করতে পারে। এতটা আশঙ্কা করেনি। ভেবেছিল, মহারাজ যখন তার সহায়, তখন সামান্য এক তরফের রাজা তার কথা শুনে ভয় পাবে। সম্মান দেখিয়ে তো এদের রাজা বলা হয়—আসলে সর্দার

    —আমাকে ক্ষমা করুন রাজা।

    —ক্ষমার প্রশ্ন ওঠে না। তবে মারব না। কারণ পত্রের জবাবটা তোমাকে মুখে মুখেই নিয়ে যেতে হবে। লিখে জানাতে আমার ঘৃণা হচ্ছে।

    সর্দারদের দিকে চেয়ে ত্রিভন বলে—মহারাজ বেশী করে চেয়েছেন, কিন্তু কেন চেয়েছেন জান? কোনো বিপদের সম্ভাবনার জন্যে নয়। এমনি তাঁর ইচ্ছে হয়েছে—খেয়াল হয়েছে; তবু এই খেয়াল যাতে অপূর্ণ না থাকে সে চেষ্টা আমি করতাম, যদি তাঁর পত্রটি তেমন হত। কিন্তু পত্র পড়ে আমার ধারণা হয়েছে, ভয় দেখিয়ে তিনি টাকা নিতে চান। ইচ্ছে করে বিরোধ বাধাতে চান। তোমরা কি বল? জবাব লিখব!

    বাঘরায় এতক্ষণ জ্বলছিল। সে বলে—না রাজা, কোনো প্রয়োজন নেই। আর এই বাচালকে আমার হাতে দিন, আমি ব্যবস্থা করব।

    —না, না। ও ফিরে যাক্ সর্দার। বরাহভূম ইতর হলেও সতেরখানি তা হতে পারে না।

    —কিন্তু এতক্ষণ ওর কাণ্ড দেখে হাড়পিত্তি জ্বলছিল রাজা।

    —সেটা অন্যায় নয়, তবু ওর মুখেই আমার বক্তব্যটা শোনাতে চাই মহারাজকে।

    রান্‌কো বলে—জবাবটা ভদ্রভাবে দিতে হবে রাজা। বলে দিন, আসছে দুবছর বোধ হয় কর দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। দেশের আকাল চলছে। অতি বৃষ্টিতে অনেক কিছু নষ্ট হয়েছে এবার।

    ত্রিভন লোকটির দিকে চেয়ে বলে—ঠিক এই কথাই মহারাজকে বলবে। মুখস্থ করে নাও।

    বাঘরায় বলে—শোনাও তো কি বলবে?

    লোকটি রান্‌কোর কথার আবৃত্তি করে।

    বাঘরায় বলে—ঠিক। যাও, দূর হও।

    রাজাকে কোনোরকমে প্রণাম করে সে ছোটে। সতেরখানির সীমানা ছাড়াতে পারলে সে বাঁচে।

    .

    কিছুদিনের মধ্যে খবর আসে বরাহভূমের সৈন্য সীমান্তের দু-একখানি গ্রাম লুঠপাট করেছে। শুয়োর মোষ মেরে—দুচার জনকে বেঁধে নিয়ে গিয়েছে।

    ত্রিভন এতটা আশা করেনি। হাজার হলেও সতেরখানি তরফ বরাহভূমেরই অন্তর্গত। চিরকাল নিয়মিত কর দিয়ে এসেছে। মহারাজের উগ্র পত্র আর পত্রবাহীর অসভ্য ব্যবহারের জন্যে হয়তো মহারাজকে পুরোপুরি সম্মান দেখান সম্ভব হয়নি। কিন্তু তার জন্যে সৈন্য পাঠিয়ে হামলা করার কথা কল্পনা করা যায় না। এ এক অদ্ভুত আচরণ।

    কেউ বোধহয় বরাহভূমরাজকে বুঝিয়েছে, কর দিতে অস্বীকার করার অপর অর্থ স্বাধীনতা ঘোষণা করা। কিন্তু একেবারে অস্বীকার তো করা হয়নি। বলা হয়েছিল দেশের দুরবস্থার জন্য আগামী দু’বছর কর দেওয়া সম্ভব হবে না। তাও জানানো হয়েছিল মৌখিক ভাবে। স্বাধীনতা ঘোষণা করারও তো একটা নিয়ম আছে। লিখিতভাবে জানাতে হয়। বরাহভূমরাজের সে ব্যাপারে ওয়াকেফ্ হাল থাকা উচিত।

    রাগের চেয়ে দুঃখই বেশী হয় ত্রিভনের। দুঃখ হয় এই জন্যে যে স্বাধীন ভাবে থাকা পঞ্চখুঁটের কোনো খুঁটের পক্ষেই সম্ভব নয়—একথা জেনেও সতেরখানি তরফের মধ্যে হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন রাজা তাঁর সৈন্যদের। এ যেন নিজেরই এক অঙ্গ দিয়ে আর এক অঙ্গকে আঘাত করা। এতদিনের এক দলবদ্ধ গোষ্ঠীতে ভাঙন ধরালেন মহারাজা।

    রাজদরবারে লোক পাঠান প্রয়োজন। রান্‌কো কিস্‌কুকে মনোনীত করা হয়। সে চতুর। কথাবার্তা বলা ছাড়াও রাজার মনোভাব ও রাজ্যের হাবভাব জানতে পারবে। এর পরেও যদি বোঝা যায় যে রাজা নরম হবেন না, তখন স্বাধীনতাই ঘোষণা করতে হবে। অন্য পথ নেই। কারণ যেটুকু ব্যবসা বাণিজ্য এ রাজ্যের রয়েছে তার সব কিছু বরাহভূম আর তার আশেপাশের রাজ্যের মাধ্যমে। বরাহভূমরাজ যদি বিপক্ষে যান তাহলে সুদূর ধলভূম, অম্বিকানগর পরে শ্যামসুন্দরপুরও ছেড়ে কথা বলবে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হবে।

    শ্রীশ্রীকালাচাঁদ জিউএর মন্দিরে প্রণাম করে রান্‌কো যাত্রা করে বরাহভূমে। মন তার আনন্দে ভরপুর। রাজা তার ওপর কতখানি নির্ভর করেন।

    মনে পড়ে যায় কয়েক বছর আগের কিতাডুংরির কথা। সর্দারদের হুমকি আর রাজার বিচার সেদিন মনে হয়েছিল, এদের মতো নিষ্ঠুর লোক পৃথিবীতে নেই। বৃদ্ধ সারিমুর্মু ও বুধকিস্‌কুকে দেখলে মায়া হয়। বাঘরায়ের মতো সরল মানুষটিকে ভালো না বেসে পারা যায় না। আর ডুইঃ টুডু? সে-ই তা তার সর্দার হবার পথ সহজ করে দিয়ে গেছে। পথ থেকে কুড়িয়ে এনে মর্যাদা দিয়েছে—চিনিয়ে দিয়েছে রাজাকে। আসলে মানুষের পদবী আর তার একটি ব্যবহারেই লোককে চিনে ফেলা যায় না। চিনতে হলে গভীরভাবে মিশতে হয়।

    কিছুদূর গিয়েই পথের ধারে একজন স্ত্রীলোককে দেখে রান্‌কো চমকে ওঠে।

    ঝাঁপনী।

    রাজার বিচারের পরদিনই ওর বিয়ে হয়ে যায়—সাল্হাই হাঁসদার সঙ্গে। লোকটির বাড়ী ছিল দূর গ্রামে। বিয়ের পরেই একেবারে বাটালুকায় এসে ঘরবাড়ী তৈরী করে জমাট হয়ে বসেছে। সাল্হাই-এর মনোবাসনা ছিল সর্দার হবার। তাই রাজা যখন বিচার করে অন্যের সঙ্গে ঝাঁপনীর বিয়ের আদেশ দিলেন তখন সাল্হাই গিয়ে গ্রামের মোড়লের হাতে পায়ে ধরে বিয়ে করে ফেলে তাকে। আশা ছিল এভাবে রাজার নজরে পড়ে নিজের কাজ গুছিয়ে নেবে।

    শেষ পর্যন্ত কিন্তু পারেনি সে। ভেতরে পদার্থ বলতে কিছু নেই তার। তাই হতাশ হয়ে এখন চাষবাসে মন দিয়েছে। রাজাই তার জমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

    ঝাঁপনী ঘরে বসে ছেলে মানুষ করে, ঘুঁটে দেয়, শুয়োর দেখে। মাঝে মাঝে জ্বালানি কাঠ কুড়োতে বার হয় শালবনে।

    আজও কাঠ কুড়োতে এসেছিল। রান্‌কোকে দেখে সে চিনতে পারে। দূর থেকেই চিনেছিল তার চলন দেখে। কোমরে একগাদা কাঠ নিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল সে। রান্‌কো কাছে এলে কাঠের গাদা মাটিতে পেলে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

    রান্‌কো ভেবেছিল সে খুব শক্ত হয়েছে। কিন্তু ঝাঁপনীর অতি পরিচিত দাঁড়াবার ভঙ্গী দেখে তার বুকের ভেতরটা যেন কেমন করে ওঠে। কথা না বলে তাড়াতাড়ি পাশ কাটাতে চায় সে।

    ঝাঁপনী ম্লান হেসে বলে—ওকারে।

    রান্‌কো থতমত খায়। ভাবতে পারেনি যে ঝািপনী তার সঙ্গে ডেকে কথা বলবে। কোনোরকমে সে বলে—আডি সাঞি।

    —এন্‌হ তিনাঃ সাঙিঞ।

    —বরাহভূম।

    ঝাঁপনী অবাক হয়। অনেকদূর মানে অতদূর? হবেই বা না কেন। সে তো সালহাই হাঁসদা নয়—সে রান্‌কো কিসকু। সর্দার।

    —তোমার ভেতরে এত গুণ ছিল সর্দার? আগে বলনি তো!

    —কেন?

    —বললে, কিতাডুংরির বিচারের পর তোমার সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালাতাম।

    —সালহাই সর্দার হয় যদি?

    —ও আর হয়েছে।

    —হতেও তো পারে।

    —তবে আমার বরাত খুলবে।

    রান্‌কোর দীর্ঘশ্বাস বার হয়ে আসছিল আর একটু হলে। কিন্তু সে এখন শক্ত হয়েছে। অনেক আঘাতই অবিচলভাবে বুক পেতে নিতে পারে। সাধারণ এই সব মেয়েদের জন্যে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। এরা চায় শুধু নিজের সুখ।

    —চলি ঝাঁপনী।

    —এসো। আবার একটা হয়েছে, খবর রাখো? বেশ মোটাসোটা।

    —কী, শূয়োরের বাচ্চা?

    —যাঃ, তা কেন? ছেলে।

    —একটার খবরও রাখিনে।

    —প্রত্যেক বছরই হচ্ছে—শূয়োরের মতনই। খিল্‌ খিল্‌ করে হেসে ওঠে ঝাঁপনী।

    —আসছে বছর?

    —হবে হবে, ঠিক হবে। কাঠের গাদা মাথায় তুলে নেয় সে।

    ঝাঁপনীর কথা ভাবতে ভাবতে রান্‌কো অনেকটা পথ চলে যায়। সে ঝাঁপনী আর নেই আজ যার সঙ্গে দেখা হল তার মন বড় স্থূল—সহজেই নাগাল পাওয়া যায়। আগের ঝাঁপনীর মন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। আভাস পাওয়া যেত শুধু। এখনকার ঝাঁপনীর মন ধুলোকাদায় মাখামাখি।

    কষ্টে ভরে যায় রান্‌কোর বুক। ওর সঙ্গে দেখা না হলেই ভালো হত। দেখা হয়ে পৃথিবীর আকর্ষণ যেন অনেকটা কমে গেল।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    Related Articles

    শ্রীপারাবত

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    শ্রীপারাবত

    রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত

    July 27, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Our Picks

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }