Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    শ্রীপারাবত এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কিতাগড় – ৯

    ৯

    লালসিং হাঁটতে শিখছে। কিতাগড়ের অন্তঃপুর তোলপাড় করে ঘুরে বেড়ায়। কথায় কথায় হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। মুৎনী প্রথম প্রথম ছুটে এসে ধরে ফেলত। এখন আর ধরে না। রাণীর হুকুম। লালসিং পড়ে যাক্, মুখ কাটুক, মাথা ভাটুক—ধরতে পারবে না মুৎনী। অত আগলে রাখলে কষ্টসহিষ্ণু হতে পারবে না। কষ্টসহিষ্ণু না হলে, বরাহভূম, ধলভূম আর সুপুরের রাজা হওয়া যায়—সতেরখানির নয়। রাজার ছেলে হয়ে জন্মালেই রাজা হওয়া যায় না এখানে। পরীক্ষা দিতে হয়—কঠোর পরীক্ষা।

    প্রথম প্রথমে পড়ে গিয়ে কাঁদত লালসিং। এখন আর কাঁদে না। শিশুমনেও বোধহয় উপলব্ধি জেগেছে যে, হাঁটতে গেলে পড়তে হয়। আর পড়ে গেলে ব্যথাও পেতে হয়। কিন্তু তার জন্যে আকুল হবার কিছু নেই। ব্যথা আপনা থেকেই সেরে যায়।

    ডান হাতের আঙুল কেটে ফেলেছিল লালসিং একদিন। বাবার অসাবধানে রাখা তরবারি নিয়ে খেলা করতে গিয়ে। রক্ত দেখে চমকে উঠেছিল মুৎনী। ছুটে গিয়ে রাণীকে ডেকে এনেছিল। কোথায় কেটেছে প্রশ্ন করা হলে যে ডান হাতখানা পেছনে লুকিয়ে রেখে ভালো মানুষের মতো বাঁ হাতখানা বাড়িয়ে দিয়েছিল মায়ের দিকে। আনন্দে ভরে উঠেছিল মায়ের বুক। জড়িয়ে ধরেছিল লালসিংকে।

    কিন্তু সে ঘটনার পর বেশ কিছুদিন চলে গিয়েছে। প্রায় দুমাস হতে চলল। এই দুমাস অনেক পরিবর্তন হয়েছে ধারতির। পরিবর্তন হয়েছে সতেরখানির। এখন আর লালসিংএর দিকে চাইবার সময় নেই ধারতির। তার মাথায় অনেক চিন্তা। শত্রুরা এক নতুন কৌশল সুরু করেছে। খণ্ড খণ্ড দলে এসে মাঝে মাঝে সীমান্তে হানা দিচ্ছে। বুধকিস্‌কু অনেকদিন একা ঠেকিয়েছে। কিন্তু এখন সে অক্ষম। দিনের পর দিন না খেয়ে না ঘুমিয়ে স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে তার। ফিরে এসেছে বাটালুকায়। না আসতেই চেয়েছিল সে। বাঘরায়ের মতো সে-ও খড়ের বিছানা বিছিয়ে নিয়েছিল এক পাহাড়ের গুহায়। ত্রিভন জোর করে ধরে এনেছে তাকে—তিরস্কারও করেছে। বিপদ যতই এগিয়ে আসছে ততই বজ্রকঠিন হয়ে উঠছে ত্রিভন। ভাবাবেগকে সে পছন্দ করত এককালে—এখন আর বরদাস্ত করতে পারে না। প্রৌঢ় বুধকিস্‌কু জীবনে অনেক আঘাতই হয়তো পেয়েছে, তবু ভাবাবেগকে কেন যে মনে স্থান দিল বুঝতে চেষ্টা করেনি ত্রিভন। সে শুধু বুঝেছিল সতেরখানির জনবল নগণ্য। বুধকিস্‌কু বাটালুকায় ফিরে এসে বিশ্রাম নিলে, স্বাস্থ্য তার ফিরে পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সে সুস্থ হলে চরমতম দিনে যথেষ্ট সাহায্য পাওয়া যাবে তার কাছ থেকে। তাই উগ্র ভাষা প্রয়োগ করেছিল সে বুধ-এর ছেলেমানুষীতে।

    শত্রুদের কৌশল ব্যর্থ হয়নি। লোক কমে আসছে সতেরখানি তরফের। প্রতিদিন সীমান্তের দিকে পাড়ি দিচ্ছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চোয়াড়ের দল, আর প্রতিদিনই এ-বাড়ী ও-বাড়ী থেকে হাহাকার উঠছে। কান্নার আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয় সব কয়টি পাহাড়ে।

    ত্রিভনের বুকে চাপা ব্যথার গুমড়ানি। সে ব্যথা সঞ্চায়িত হয়েছে ধারতির বুকেও। লালসিংকে দেখার সময় কোথায় তার?

    —ভুলই করেছি ধারতি। ত্রিভন একদিন সীমান্ত থেকে ফিরে এসে বলে। এখন সে সীমান্তে ই থাকে। মাঝে মাঝে সময় করে কয়েকদণ্ডের জন্যে ফিরে আসে বাটালুকায়।

    —না।

    —রাজ্য জনশূন্য হতে চলল।

    —হোক্‌।

    —লিপুর!

    —আমি রাণী, রাজা।

    —হাঁ, রাণী। রাণী কি ভেবেচিন্তে আমার কথার জবাব দিচ্ছ? না, লিপুরের মতো খেয়ালের বশে কথা বলে চলেছ?

    —রাণী আর লিপুরের তফাৎ আছে রাজা। কিন্তু মন তাদের একই। দুজনেই বাটালুকার মেয়ে—দুজনেই ভালোবাসে সতেরখানিকে।

    —সে ভালোবাসা কি শুধু এখানকার বন-জঙ্গল পাহাড় আর মাটির জন্যে?

    —না, রাজা। মানুষদেরই ভালোবাসি আমি। জানি, এ-যুদ্ধে সব সংসারেই বিধবা আর অনাথের সংখ্যা বাড়বে-না খেয়ে মরবে কত, তবু তুমি ভুল করনি।

    —রাণী।

    —শুধু বেঁচে থাকাটাই কি সব রাজা? আমি জানি, তুমি সব বোঝ। তবু এমন দুর্বল হয়ে পড় কেন মাঝে মাঝে? ধারতি কয়েক পা এগিয়ে এসে ত্রিভনের গলা বেষ্টন করে দুহাতে।

    —একি! নিজের হাতের দিকে চেয়ে চমকে ওঠে ধারতি।

    —রক্ত।

    —কোথা থেকে লাগল?

    —গলা থেকে। তীরটা গলার চামড়া উঠিয়ে নিয়ে চলে গেল। বুকেও লাগতে পারত। আমি হলে ঠিক লাগাতে পারতাম।

    —ও। আহত স্থানটি এক ঝলক দেখে নেয় ধারতি। মুখে তার হাসি ফোটে। সতেরখানির বীর রাজা। তবু একান্তভাবে তারই। যুদ্ধের সাজে এখন আর সাজিয়ে দিতে পারে না সে। সময় থাকে না।

    এমনিভাবে ধূমকেতুর মতো এসে বিদায় নিয়ে আর হয়তো ফিরবে না ত্রিভন। ভাবতে গিয়ে শিউরে ওঠে ধারতি—অথচ কতবার ভেবেছে একথা।

    যদি সত্যিই ত্রিভন না ফেরে একদিন—মনকে ভাবাবেগবর্জিত করে ভাবতে চেষ্টা করে ধারতি। তেমন দিন আসতে পারে বৈকি। তেমন দিন এলে নিজের জন্যে ব্যস্ত হবার বিশেষ কারণ নেই। শত্রুর সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে করতে সে মরতে পারবে। কিংবা আত্মহত্যা।

    কিন্তু লালসিং? সে কোথায় যাবে?

    ত্রিভন একদৃষ্টে চেয়ে ছিল ধারতির মুখের দিকে। ধারতির চোখের পাতায় আর মুখের রেখায় বোধহয় স্পন্দিত হচ্ছিল তার চিন্তাধারা। অনুমান করতে পারে ত্রিভন।

    —আমি মরলেও তোমার মরা চলবে না রাণী।

    কেঁপে ওঠে ধারতি,—কেন?

    —লালসিং-এর জন্যেই তোমার বাঁচতে হবে। তোমার তত্ত্বাবধানে থাকলে একদিন সে সতেরখানি তরফের উপযুক্ত রাজা হয়ে উঠবে—এ আমি জানি। সব শিখিও তাকে।

    ধারতি স্তব্ধ!

    —পারবে তো রাণী?

    অনেক চেষ্টার পর রাণী মুখ খোলে,—পারব রাজা। সাধ্যমতো চেষ্টা করব তোমার কথা মেনে চলতে।

    কেঁদে ফেলে রাণী। কাঁটারাঞ্জার কালো পাথরের পাশে সেদিনের লিপুর একবার যেমন কেঁদেছিল ঠিক তেমনি।

    ত্রিভন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। একটুও নড়ে না। সে শুধু ভাবে। কতখানি শক্তির অধিকারিণী হতে পারলে অনাগত সত্যকে এভাবে মেনে নিতে পারে মেয়েরা।

    —আর একটা কথা। লালসিং-এর জীবনের জন্যে হয়তো তোমাকে সবার অলক্ষ্যে চোরের মতো পালিয়ে যেতে হবে।

    —না। চোরের মতো পালাতে আমি পারব না।

    —অবুঝ হয়ো না রাণী। সকলের সামনে দিয়ে রাণীর সম্মান নিয়ে চলে যাবার সুযোগ তোমার নাও আসতে পারে।

    —তাই বলে চোরের মতো?

    —হাঁ। ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে দিয়ে, শালবনের অন্ধকার ভেদ করে, পাহাড় পেরিয়ে যাবে তুমি। কোলে থাকবে লালসিং–তোমার আর আমার লালসিং। তোমার শিক্ষায় আমাদের লালসিং একদিন হয়ে উঠবে সারা সতেরখানির লালসিং।

    —রাজা। আর্তনাদ করে ওঠে ধারতি।

    —রাণী।

    —বল, তোমার কি হয়েছে।

    —কিছু নয় তো।

    —তবে আসল ঘটনা খুলে বল। লুকিও না রাজা। তুমি যা বলবে অক্ষরে অক্ষরে মেনে নেব। শুধু সত্যি কথা আমাকে খুলে বল। সে-দিন কি খুবই কাছে যার জন্যে আজই তোমাকে এত কথা বলতে হচ্ছে?

    —হাঁ লিপুর। আমার কাঁটারাঞ্জার কালো পাথরের লিপুরের কাছ থেকে বিদায় নেবার সময় হয়ে এসেছে। এগিয়ে আসছে তারা। দল বেঁধে এগিয়ে আসছে। সাধ্য নেই যে ঠেকিয়ে রাখি। জনবল নেই, ওদের সিকিও যদি থাকত আমার, প্রচণ্ড আঘাত দিয়ে ফিরিয়ে দিতে পারতাম।

    —আমি লুকিয়েই যাব রাজা। তুমি নিশ্চিন্ত হও। তোমার লালসিংকে সার্থক করে গড়ে তুলব। সে প্রতিশোধ নেবে—দারুণ প্রতিশোধ। তার জন্যে সতেরখানির শেষ পুরুষটি ও যদি প্রাণ দেয়, পেছপা হবে না সে। আমি প্রতিজ্ঞা করছি রাজা, এইভাবেই তাকে গড়ে তুলব।

    একটু থেমে কি যেন ভাবে রাণী। তার চোখের দৃষ্টি স্থির, ওষ্ঠ দৃঢ়। শেষে বলে,—আর যদি দেখি, তেমন করে তুলতে পারলাম না তাকে, যদি সে অন্যরকম হয়ে ওঠে, তবে নিজের হাতে বিষ দেব তোমার লালসিংকে।

    ত্রিভন চেয়ে থাকে। এই রাণীকে সে চেনে না—যেন নতুন দেখছে। কিতাপাটকে নিঃস্ব করে দিয়ে সমস্ত শক্তিটুকু যেন মূর্তি ধরে এসে দাঁড়িয়েছে তার সামনে।

    —বিজলী আজ নেই ধারতি। সে থাকলে ভাবতে হতো না। নিরাপদে তোমাদের পৌঁছে দিত সারিগ্রামে।

    —সারিগ্রাম?

    —হাঁ। রান্‌কো তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করে রেখেছে সেখানে। শত্রুদের দৃষ্টি অতদূর যাবে না। লালসিংকে খুঁজে পাবে না তারা।

    —এতদূর এগিয়েছ, অথচ আমাকে জানাওনি রাজা।

    —খুবই তাড়াতাড়ি সব হ’য়েছে। সীমান্ত থেকেই রান্‌কোকে পাঠিয়েছিলাম। তাছাড়া তোমাকে সত্যিই এতদিন চিনতে পারিনি। আমার লিপুর যে এতবড় তা জানতাম না।

    ত্রিভন কথা শেষ করে হাসে। ধারতির মুখেও হাসি। সব বিপদের কথা ভুলে যায় তারা। মুগ্ধ নেত্রে চেয়ে থাকে উভয়ে উভয়ের দিকে।

    .

    যে রাতে কিতাগড় থেকে বাঁশের বাঁশীর বিষাদ সুর ভেসে বেড়িয়ে বাটালুকার আকাশবাতাসকে অভিভূত করে। আশেপাশের প্রতিটি কুঁড়েঘরের বিরহিণী সে সুরের মূর্ছনায় পাগল হয়ে ওঠে। তাদের চোখ দিয়ে তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল বাহুল্যহীন শয্যায়। শয্যার ওপর ঘুমন্ত শিশুদের কথা ভুলে যায় তারা।

    ঝাঁপনী সাল্হাই হাঁসদার ডানহাতখানা শরীরের ওপর থেকে সরিয়ে দিয়ে উঠে বসে। দেহ ক্লান্ত তার—অথচ মন বুভুক্ষু। শয্যা ছেড়ে মাটিতে নামে সে। অনেকটা দূর হলেও বাঁশীর সুর তার কানেও পৌঁছেছে।

    —কোথায় যাচ্ছ? সাল্হাই জেগে উঠেছে। এটা তার নিয়মের ঘোরতর ব্যতিক্রম। ঝাঁপনী পাশে শুলে, একটা নিযমিত সময়ের পরেই তার আর জ্ঞান থাকে না। গভীর ঘুমে অচেতন হয় সে। ঘুম ভাঙে একেবারে ভোর বেলা। কিন্তু দুচারদিন থেকে সে আর ঠিকমতো ঘুমোতে পারছে না। মাঝে মাঝে এইভাবে জেগে ওঠে। সীমান্তের ঘটনা তাকে আতঙ্কিত করেছে। রাজার লোক হয়তো বাড়ীতে এসে হানা দেবে—তার সাহায্য চাইবে। সে ভালো রকম জানে, এই রাতে দু’চারজন বৃদ্ধ আর অক্ষম পুরুষ ছাড়া খুব কম লোকই ঘরে রয়েছে। সবাই জড়ো হয়েছে সীমান্তে আর কিতাগড়ে। কিতাগড়ের পাশে চোয়াড়দের আস্তানা উঠেছে—সারিমুর্মু তাদের সর্দার। সীমান্তের সর্দার রাজা নিজে আর রান্‌কো। অদ্ভুত কৌশলে রাজা নাকি এগিয়ে আসা শত্রুদের থামিয়ে দিয়েছেন কয়েকদিনের জন্যে। কি সে কৌশল সাল্হাই জানে না। যে চোয়াড় খবর পেয়েছিল সেও বলতে পারেনি। তবে রাজার এই কৌশল ক্ষণস্থায়ী। দুদিন পরেই আবার এগোতে সুরু করবে তারা। ভাবতেও গায়ে কাঁটা দেয় সাল্হাইএর।

    ঝাঁপনী সাল্হাইএর দিকে হিংস্রদৃষ্টিতে চেয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। –বললে না কোথায় যাচ্ছো? সাল্হাই তাড়াতাড়ি উঠে বসে।

    —বাইরে। ঝাঁপনী দরজা খোলে।

    —এই রাতে? পাগল হয়েছ নাকি?

    ঝাঁপনী কথা বলে না। বাইরে পা বাড়ায় সে।

    —আরে! সত্যিই যাচ্ছো? ভালুকের ভয় নেই।

    —না।

    —ঝাঁপনী! চাটাই ছেড়ে ছুটে আসে সাল্হাই দরজার দিকে।

    উন্মত্তের মতো ছুটে চলে ঝাঁপনী। মুহূর্তের মধ্যে রাশি রাশি অন্ধকার গ্রাস করে তাকে। সাল্হাই ঘরের বাইরে কিছুক্ষণ থ’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শেষে ভালুকের কথা মনে পড়তেই কাঁপতে কাঁপতে এসে দরজায় খিল লাগায়। মনকে সান্ত্বনা দেয়, পাগলের পেছনে ছুটে প্রাণ হারিয়ে লাভ নেই। সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না। এভাবে বাইরে ছুটে যাবার কি কারণ থাকতে পারে ঝাঁপনীর

    অনেকটা পথ দৌড়ে এসে এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়ায় ঝাঁপনী। নানান্ ফুলের মেশানো গন্ধ নাকে এসে লাগে। সে বুক ভরে টেনে নেয়।

    বাঁশীর সুর তখনো কেঁপে কেঁপে বেজে চলেছে। ঝাঁপনী জানে কে ওই বাঁশীওলা! সবাই না জানলেও অনেকেই জানে।

    কিতাগড়ের একটু দূরে চোয়াড়দের আস্তানা। সর্দার সারিমুর্মুর হুকুমে এদের নড়া বসা। রাজা ত্রিভনেরও এদের ব্যাপারে কিছু বলার নেই।

    ঝাঁপনী অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে আস্তানার দিকে চেয়ে। মনে ক্ষীণ দুরাশা রান্‌কোকে হয়তো দেখতে পাবে এখানে। সে-ও তো এক সর্দার।

    একটি মশালও জ্বলছে না চোয়াড়দের আড্ডায় একটি লোকও জেগে আছে বলে মনে হয় না! বৃদ্ধ সারিমুর্মুর কথা ভেবে মনে মনে হাসে ঝাঁপনী। বয়স যখন নেই, রাজার কাছে নিজেকে ওভাবে জাহির না করলেই ভালো করত সর্দার। নিজে অক্ষম হয়ে পড়লে দলের ওপরও দখল রাখা যায় না। শত্রুরা এই রাতের অন্ধকারে যদি এগিয়ে আসে বিনা বাধায় প্রবেশ করবে তারা কিতাগড়ে। সর্দারের ওপর নির্ভর করার ফল হাতে-নাতে পাবেন রাজা। অমন মন-কাঁদানো বাঁশী মুহূর্তে স্তব্ধ হবে।

    ঝাঁপনী লক্ষ্য করেছে রান্‌কোরও অগাধ বিশ্বাস এই বৃদ্ধের ওপর। তার থেকেই তো সব শোনা। নইলে কিতাগড়ের এত সব খবর সতেরখানির এক কাপুরুষের স্ত্রীর কাছে এসে পৌঁছবে কি ভাবে?

    নাঃ। রান্‌কো এখানে থাকতে পারে না। তার কাজ সীমান্তে। নিরাশ হয় ঝাঁপনী। ভাবে, বাঁশীর সুর শুনে এভাবে ছুটে আসা ঠিক হয়নি। সাল্হাইকে একটা ভালো রকম কৈফিয়ৎ দিতে না পারলে ঝঞ্ঝাট বাড়বে।

    তবু, একবার যখন ঘর ছেড়েছে, শেষ দেখে যাবে। কাঁটারাঞ্জার যাবে সে-পারাউমুর্মুর বাড়ী। হয়তো আজই রান্‌কো রয়েছে সেখানে। অসম্ভবও তো সম্ভব হয় কখনো কখনো

    পেছন ফিরতে গিয়ে আর্তনাদ করে ওঠে ঝাঁপনী। দুজন পুরুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে তার দুই পাশে।

    —ভয় নেই।

    —কে তোমরা?

    —চোয়াড়। কিতাগড়ের রক্ষী। এখানে কেন এসেছ?

    —তোমরা কোথায় ছিলে? আগে তো দেখিনি।

    —সব জায়গাতেই আছি আমরা। একটা ছুঁচোও আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে কিতাগড়ের দিকে যেতে পারবে না।

    সারিমুর্মুর কাছে মনে মনে ক্ষমা প্রার্থনা করে ঝাঁপনী। যাকে সে চেনে না, নিজের কাঁচা বুদ্ধি নিয়ে তার সম্বন্ধে মনে অশ্রদ্ধা পোষণ করা উচিত নয়। সেটা ধৃষ্টতা।

    চোয়াড় দুজন একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছে। সন্তোষজনক জবাব চায় তারা। এত রাত্রে একজন নারীর কিতাগড়ের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানোকে তারা সহজ চোখে দেখেনি।

    ঝাঁপনী বুঝতে পারে, এরা বাটালুকার লোক নয়। তাই চেনে না তাকে। আশেপাশের গ্রামেরও নয়, তাহলে কিতাডুংরির উৎসবে অন্ততঃ একবার দেখা হত। জবাব এদের দিতেই হবে।

    —রান্‌কো সর্দার নেই?

    —সে এখানে থাকবে কেন? আমরা সারিমুর্মুর লোক।

    —তা তো আমি জানি না। অত বুঝিও না। কিতাপাটের প্রসাদ রয়েছে। তাকে দেবো।

    —সেখান থেকেই আসছো?

    —হ্যাঁ।

    —মিথ্যে কথা। দৃঢ় স্বর ঝংকৃত হয় একজন পুরুষের।

    ঝাঁপনী কেঁপে ওঠে। শেষে প্রায় সত্যি কথাই বলতে হয় তাকে। সে স্বীকার করে যে, সে সাল্হাই হাঁসদার স্ত্রী। রাজার বাঁশী শুনে উঠে এসেছে। কেন এসেছে সে নিজেই জানে না।

    —চল বাড়ী পৌঁছে দিয়ে আসি।

    —না। বাড়ী যাব না।

    —তবে চল সর্দার সারিমুর্মুর কাছে।

    ঝাঁপনী বুঝতে পারে, এরা বোকা নয়। ছলনাতেও ভোলানো যাবে না এদের। মরিয়া হ’য়ে সে বলে—পারাউমুর্মুর বাড়ী পৌঁছে দাও।

    —সেখানে কি করবে?

    —তাতে তোমাদের দরকার নেই।

    —সেখানে কেউ থাকে না।

    —তোমাদের চেয়ে তা আমি ভালোভাবে জানি। যদি পৌঁছে দিতে হয়—সেখানে নিয়ে চল। নইলে আমাকে যেতে দাও। তোমাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় নেই আমার। আমারও কাজ আছে।

    পুরুষ দু’জন অনেকক্ষণ চেয়ে থাকে ঝাঁপনীর মুখের দিকে। অন্ধকারের মধ্যেও তন্নতন্ন করে খোঁজে তার মনের অভিসন্ধিকে। শেষে বিশ্বাস করে। যেতে দেয় তাকে।

    অন্ধকারে কাঁটারাঞ্জার দিকে এগিয়ে যায় ঝাঁপনী। শেষ চেষ্টা।

    .

    হাণ্ডির হাঁড়িটা নিয়ে বসতেই দরজায় ধাক্কা শুনতে পায় রান্‌কো। এত রাত্রে এভাবে লোক আসা কাঁটারাঞ্জার মতন জায়গায় একটু অস্বাভাবিক। মুহূর্তের মধ্যে তার মস্তিষ্ক সবটুকু কাজ‍ই করল, অথচ কোনো মীমাংসায় আসতে পারে না সে। হয়ত রাজাই লোক পাঠিয়েছেন অনুমানের ওপর নির্ভর করে। সীমান্ত থেকে ত্রিভন চলে আসার কিছুক্ষণ পরে সেও চলে এসেছিল। এসে রাজার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। বড় পরিশ্রান্ত বোধ করছিল।

    শত্রুরা দুদিন আর এগোবে না। রাজার চমকপ্রদ কৌশলের জন্যে তারা বিপর্যস্ত। অবশ্য এই কৌশলের জন্য পাঁচ জল লোক জখম হয়েছে। চোয়াড়দের হাণ্ডির ভাঁড়গুলো নিয়ে একদল অসমসাহসী লোক শত্রুসেনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুরা। সেই প্রথম চোটেই পাঁচ জন জখম হয়। বাকী বিশ জন হাত জোড় করে বলে, তারা নিরীহ মানুষ। ত্রিভন সিংএর চোয়াড়দের জন্যে হাণ্ডি নিয়ে যাচ্ছিল। পথ ভুল করেছে।

    শত্রুদের উল্লাসের বাঁধ ভেঙেছিল। তাদের অধিকাংশই হাণ্ডির পাত্র থেকে চুমুক দিয়ে কিছু না কিছু খেয়েছে। জানত না অমৃতের মধ্যেও কালকুট থাকে। ফলে মরেছে অনেক, অসুস্থ হয়েছে তার চেয়েও বেশী। এই সব অক্ষম সৈন্যদের ব্যবস্থা করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে আসতে সময় লাগবে ওদের। সেই অবসরে নিজেদের হাণ্ডির সংগ্রহ করতে হবে আবার। নইলে চোয়াড়দের মনোবল নষ্ট হবে। খালি পেটে তারা দিন কাটাতে পারে। হাণ্ডি ছাড়া নয়। একদিনেই অনেকে যেন ঝিমিয়ে পড়েছে বলে বোধ হল। তাই রাজা চলে আসার পরই নিজের দায়িত্বে দশজন লোক নিয়ে ফিরে এসেছে রান্‌কো বাটালুকায়—আরও দশজনকে পাঠিয়েছে তরফের অন্যান্য দিকে। তারা কতদূর সফল হবে জানে না সে। তবে বাটালুকা থেকে বেশ কিছু পাওয়া যাবে এবিষয়ে সে নিশ্চিন্ত। কারণ শুকোলদের মতো অনেকেই রয়েছে এখানে, যাদের হাণ্ডি তৈরী করা ব্যবসা।

    শুকোলদের বাড়ীতে দশ হাঁড়ি পাওয়া গিয়েছে। তার থেকে নিজের জন্য চেয়ে নিয়েছে সে। তারও প্রয়োজন রয়েছে হাণ্ডিতে। সে-ও ক্লান্ত। প্রথম প্রহরেই খেত সে। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়েছিল হঠাৎ। ঘুম ভাঙতেই হাণ্ডি নিয়ে বসেছে। ও-জিনিষ পেটে না পড়লে ভোর রাতে তার পক্ষে পথ চলাই হয়তো মুশকিল হবে। পেট খালি রেখে কতদিন আর শরীরকে মজবুত রাখা সম্ভব।

    সঙ্গে যারা এসেছে হাণ্ডি নিতে, তাদেরই কারও কাছ থেকে বোধ হয় খবর পৌঁছেছে রাজার কাছে। তাই মাঝরাতে এই তলব।

    দরজাটা আবার ঝঝন্ করে ওঠে। মরিয়া হয়ে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে। হয়তো এর মধ্যেই কোনো বিপদ ঘটেছে। রান্‌কো ছুটে গিয়ে খুলে দেয়।

    এক ঝলক আগুন যেন এসে গায়ের ওপর পড়ে। না না, অমৃত। রান্‌কো ঠিক বুঝতে পারে না। শুধু সে ঝাঁপনীর মুদিত চোখ দুটির দিকে চেয়ে থাকে। মাটিতে ঝরে পড়া মহুয়া ফুল। গন্ধে ভরপুর—অথচ শুকিয়ে যাবে।

    কোনো কথাই বলে না তারা। শুধু দুজনের বুকের ধুকধুকানি অনুভব করে দু’জনে—আনন্দের, উত্তেজনার, বিষাদের। সারিগ্রাম থেকে যেদিন প্রথম ঝাঁপনীকে নিয়ে আসে রান্‌কো সে-রাতে এমনিই অনুভব করেছিল। শত চেষ্টাতেও বহুক্ষণ কথা বলতে পারেনি।

    এক হাতে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে রান্‌কো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,—বল ঝাঁপনী।

    —তুমি বল।

    —আজ আমি শুনব।

    —রোজই তো তুমি শোনো।

    —তোমার আর আমার মধ্যে এটাই বোধ হয় নিয়ম।

    —আমাকে নিয়ে চল।

    —কোথায়?

    —তোমার সঙ্গে।

    —আর একবার এই কথা বলেছিল। মনে আছে?

    —হুঁ।

    —বল তো কোথায়?

    —কিতাডুংরিতে।

    —তবু বলছ?

    —বলব- চিরকাল বলব। না বলে যে পারি না গো।

    ঝরঝর করে জল গড়িয়ে পড়ে ঝাঁপনীর দু’চোখ বেয়ে।

    —চিরকালেরও শেষ আছে ঝাঁপনী।

    —জানি। খুব তাড়াতাড়ি।

    —কে বলল তোমাকে? রান্‌কো অবাক হয়!

    —কিতাগড়ের পাশে রাতের অন্ধকারে চোয়াড়েরা বেড়াচ্ছে। তবু বুঝব না?

    —তুমি বুদ্ধিমতী।

    —তোমার জন্যে। এত সব ভাবি, শুধু তোমার কথা ভেবেই। নইলে সাল্হাই হাঁসদার বউএর দরকার ছিল না কোনো এতে কোনো মাথা ঘামানোর।

    দমকা হাওয়ায় ভেজানো দরজা খুলে যায়।

    —রাত ভোর হতে দেরী নেই ঝাঁপনী। ভোরেই রওনা হব আমি।

    ফ্যাকাসে হয়ে যায় ঝাঁপনীর মুখ। সে কোনো জবাব দিতে পারে না। শুধু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রান্‌কোকে।

    এসো ঝাঁপনী। আজকের মতো আনন্দ করে নিই। হাণ্ডি রয়েছে ঘরে। দুঃখের দিনের কথা ভেবে লাভ কি?

    —রাজাও বুঝি সেইজন্যেই বাঁশ বাজাচ্ছেন?

    —রাজা বাঁশী বাজাচ্ছেন?

    —হ্যাঁ। সেই বাঁশীর সুর স্বপ্নের মধ্যে আমাকে জাগিয়ে দিল। তোমাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠলাম। অসম্ভব জেনেও ঘর থেকে বাইরে এলাম। কিন্তু বাধ দিল ও।

    —কে?

    —তোমাদের সাল্হাই হাঁসদা।

    —সে তোমার পেছনে ছোটেনি তো?

    —না। বড্ড ভীতু। ভালুকের ভয়। ওর ঠাকুর্দাকে ভালুকে মেরেছিল। রান্‌কো হেসে ওঠে।

    ঝাঁপনী বলে—রাজার বাঁশীর সুরে অত দুঃখ কেন?

    —সতেরখানির দুঃখ ঝরছে ওতে। অনেক স্বপ্ন দেখতেন রাজা। এখনো দেখেন। কিন্তু স্বপ্ন সত্যি হওয়া বড় কঠিন। তাই স্বপ্ন ভাঙার দুঃখ তার বাঁশীর সুরে।

    হাণ্ডি খেয়ে দুজন নাচতে শুরু করে। কিতাডুংরির নাচের মতো উদ্দাম। রান্‌কোর নিজের বাড়ীতেও এমন নাচত তারা। পাড়ার বুড়োরা এসে গালাগালি দিত কত। নাচতে কেউ-ই মানা করে না। কিন্তু এদের সময়ের জ্ঞান ছিল কম। রাত বে-রাতে খেয়াল মতো হাণ্ডি খেয়ে নাচতে শুরু করত।

    আজও তেমনি নেচে চলে।

    শেষে এক সময় ভোরের পাখী ডেকে ওঠে। বাতাসে শিশির ভেজা লতাপাতার গন্ধ। খেয়াল হয় রান্‌কোর। নাচ থামায় সে। অবসন্ন ঝাঁপনী এলিয়ে পড়ে তার বুকের ওপর অনেক আগের পরিচিত বুক। ঠিক কোনখানে মাথা রাখলে আরাম হয়, সে জানে। সাল্হাই-এর বুক অমন নয়।

    —এখনি ওরা আসবে ঝাঁপনী।

    —কারা?

    —সীমান্তে হাণ্ডি বয়ে নিয়ে যাবার জন দশজন লোক এসেছে আমার সঙ্গে।

    —তবে সে হলো না। উতলা হল ঝাঁপনী।

    —কি হলো না?

    চুপ করে থাকে ঝাঁপনী।

    —বল ঝাঁপনী।

    তবু কথা বলে না সে। হাণ্ডির গুণে—তার অনেক লজ্জা খসে গিয়েছে। কিন্তু চরম জিনিস কি অত সহজে বলা যায়? সে যে মেয়ে। রান্‌কোকে সে চেনে—ভালোভাবেই চেনে। দেহে ও মনে। তবু কতদিন হয়ে গিয়েছে—অনেকদূরে সরে গিয়েছে রান্‌কো। দেহের দিক থেকেই সাল্হাই তার কাছে অনেক বেশী পরিচিত। রান্‌কো নতুনই—বহুদিনের অব্যবহার্য জিনিস এমন নতুন বলেই মনে হয়

    —বলবে না ঝাঁপনী?

    —হ্যাঁ বলব! বলবই তো। কতদিন আর মনের মধ্যে পুষে রাখব? ঝাঁপনী আবার থামে তার মন মাথা ঠোকে কথাটা বলে ফেলার জন্যে।

    শেষে ভাষা খুঁজে পায়। বলে,—এত যে বাচ্চা হল আমার, সবাই হবে বাপের মতো ভীতু! ঝাঁপনী চুপ করে। সে রান্‌কোর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চায়।

    —বল ঝাঁপনী। থামলে কেন?

    —একজনও কি তোমার মতো হবে না?

    —হবে হয় তো।

    —না। দৃঢ় স্বর ঝাঁপনীর

    —এখন কি করে বুঝবে?

    —বুঝতে পারি আমি।

    —তবে, সে তোমার ভাগ্য।

    —মানব কেন ভাগ্য? তোমার মতো ছেলে আমার চাই-ই। কি নিয়ে বাঁচব?

    —কি করে সম্ভব?

    —তুমি দেবে।

    চমকে ওঠে রান্‌কো

    —বল, দেবে আমাকে?

    —বড় দেরীতে বললে ঝাঁপনী।

    —না দেরি হয়নি।

    —কি করে বুঝলে?

    —এতগুলোর মা হলাম, আমি বুঝিনে?

    —কিন্তু —!

    —কিন্তু নয়।

    —আমার একবিন্দু অবসর বোধহয় মিলবে না আর। হয়তো আর দেখাই হবে না।

    —আমিও জানি তুমি আর ফিরবে না। কয়েক দিন থেকে যাও।

    —অসম্ভব। এখনি ওরা আসবে। বাটালুকা ছাড়তেই হবে আমাকে। চোয়াড়রা ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্যে—হাণ্ডির জন্যে।

    রান্‌কো ভেবে পায় না ঝাঁপনী কি করে বুঝল যে সে আর ফিরবে না। মরতে তাকে হবেই। রাজাও বাঁচবেন না। সম্মানের জন্যে যেখানে যুদ্ধ সেখানে রাজা আর সর্দারেরা যুদ্ধের পরে বেঁচে থাকতে পারে না। বাঁচতে হলেও শত শত পিতৃহীন অনাথ আর বিধবাদের ফেলে রেখে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যেতে হয়—যা এক্ষেত্রে অসম্ভব

    রান্‌কোর চোখদুটো ভিজে ওঠে, কিতাডুংরির পাহাড়ের বিচারের দিনে কাঁদতে গিয়ে সর্দারের ধমক খেয়ে সে চোখের জল মুছে ফেলেছিল। তারপর এই প্রথম।

    ঠিক সেই সময়ে ওরা এসে পড়ে। বাইরে থেকে ডাক দেয় রান্‌কোকে। অনেক হাণ্ডি সংগ্রহ করেছে, সারা রাত ঘুরে। শুকোলদের বাড়ী থেকে বাকীটুকু নিয়ে যাবে।

    ঝাঁপনী আছড়ে পড়ে রান্‌কোর পায়ের ওপর,—কি নিয়ে থাকব বল। বলে যাও কি নিয়ে থাকব।

    —তোমাকে একটু লুকোতে হবে ঝাঁপনী। ওরা দেখলে ফল খুব ভালো হবে না। –কি নিয়ে থাকব আমি?

    —স্মৃতি! পথে ঘাটে অনেক মেয়েই দেখতে পাবে তখন। তাদেরও ছেলেপুলে নেই। নতুন বিয়ের পর স্বামীকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিল। স্মৃতি নিয়ে তারাও বাঁচবে। বাঁচতে হবে। নতুন করে ঘর গড়া সম্ভব হবে না সকলের পক্ষে! পুরুষ কমে যাবে সতেরখানির। তোমার তবু কাজ আছে। তাদের কিছুই নেই।

    ঝাঁপনী স্তব্ধ হয়ে যায়।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    Related Articles

    শ্রীপারাবত

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    শ্রীপারাবত

    রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত

    July 27, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Our Picks

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }